Sunday, September 6, 2015
দেশে এখন অন্ধকার যুগ চলছে : এরশাদ
আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার ঐতিহাসিক বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনে (টাউন হল) কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে এরশাদ বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ছাড়া ভবিষ্যতে আর কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি গঠনের পর থেকে তার শাসনামলে স্বল্প বাজেট দিয়ে দেশে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ও ৮শ’ ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন শেষ করা হবে বলেও এরশাদ জানান।
সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতী, অধ্যক্ষ রওশন আরা এমপি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এইচ.এন.এম শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরু, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা জাপার সভাপতি লুৎফুর রেজা খোকন, দক্ষিণ জেলা জাপার সদস্য সচিব ওবায়দুল কবির মোহনসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় জাপা, যুবসংহতি, কৃষক পার্টি, ছাত্র সমাজের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সম্মেলনে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন এমপিকে সভাপতি এবং এইচ.এন.এম শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা জাপার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজধানীতে বাড়ছে লিভটুগেদার
সুতপা ও অর্ণব (ছদ্মনাম)। সুতপা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরিও করছেন। অর্ণবও সম্প্রতি পড়াশুনা শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের পরিচয়। খোলামেলা আলোচনা করতে করতেই তারা সিদ্ধান্ত নেন লিভটুগেদার করার। সুতপার পরিবারে বাবা নেই, তাই নিজের পড়াশুনার পাশপাশি পরিবারকেও আর্থিক সহযোগিতা করতে হয়। বিয়ে করলে সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিয়েতে আগ্রহী নন তিনি। আর অর্ণব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বিয়ে করতে নারাজ। সাদিয়া-ইমন বা সুতপা-অর্ণবের মতো ঢাকায় অনেকে একসঙ্গে থাকছেন বোঝাপড়া করে। বাড়ছে লিভটুগেদার।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক পটপরিবর্তন ও অর্থনৈতিক কারণে বাড়ছে এমন ঘটনা। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের ফল। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন ধর্মীয় নিয়ম এর তোয়াক্কা না করে এ ধরনের কাজের পরিণতি ভাল হয় না কখনও। কারণ কোন সমাজ যদি শৃঙ্খলাহীন হয়ে যায় তাহলে সেই সমাজ বেশিদিন টেকে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিভটুগেদার এখন শুধু আধুনিক বা উচ্চবিত্ত পরিবারের মধ্যেই আটকে নেই। এটা এখন মধ্যবিত্ত ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে নিম্নবিত্তদের মাঝেও। রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের শহরে নিম্নবিত্ত, এমনকি গার্মেন্টকর্মীদের কেউ কেউ লিভটুগেদার করে থাকেন। নানারকম ঝামেলা এড়াতেই তারা পরিচিত কোন সহকর্মীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকেন। প্রতিবেশীদের কাছে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেন ঠিকই, কিন্তু ধর্মীয় ও আইনগতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চান না। রাজধানী ঢাকার গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার বাইরে সাধারণ এলাকাতেও অনেকেই লিভটুগেদার করছেন। লিভটুগেদারকারীরা ঝামেলা এড়াতে বাসা ভাড়া নিতে একটু সতর্কতা অবলম্বন করেন। আবাসিক এলাকা কিংবা ফ্ল্যাট বাড়িতে লিভটুগেদার করলে ঝামেলা হয় না বলে তাদের উত্তরা, রামপুরা বা মোহাম্মদপুর এলাকা বেশি পছন্দ। আর এখন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবীরাও লিভটুগেদার করছেন। বিশেষ করে শো’বিজ মিডিয়ার অনেকেই লিভটুগেদারে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক লিভটুগেদার করেন। এছাড়া উচ্চবিত্ত বা মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেকেই লিভটুগেদার করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. নেহাল করিম বলেন, যে যেভাবে দেখুক লিভটুগেদারের পরিণতি আসলে ভাল নয়। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের এই শিক্ষক বলেন, দিন পরিবর্তন হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনও পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পশ্চিমা সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। তাই পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে লিভটুগেদারও আমাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এটা মেনে না নেয়ার কোনও কারণ নেই। এখনকার তরুণ-তরুণীরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় না। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চাইতে সমাজে লিভটুগেদার বেড়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। আধুনিক ও শিক্ষিত অনেক তরুণ-তরুণীই এখন মনে করেন বিয়ে মানে পরিবার ও সামাজিকভাবে চাপিয়ে দেয়া বিষয়। হয়তো কোন তরুণ কিংবা তরুণী বিয়ের পর বুঝতে পারলেন, তার সঙ্গীটি ঠিক তার বিপরীতধর্মী মানসিকতার। এ নিয়ে বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হয় নিজেদের মধ্যে। পরিবার ও সামাজিকতার ভয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে যেতেও ভয় পান বেশির ভাগ লোকজন। ভেতরে ভেতরে চাপা অস্বস্তি নিয়ে একই ছাদের নিচে বাস করতে বাধ্য হতে হয় তাদের। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে তরুণ-তরুণীদের কাছে লিভটুগেদার করা ঝক্কি-ঝামেলাহীন জীবন মনে হলেও এর খারাপ কিছুদিক রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুশাসনের দিক দিয়ে বিচার করলে এটি পুরোপুরি অবৈধ। আর আইনগতভাবেও এর কোন ভিত্তি নেই। কেউ কারো সঙ্গে প্রতারণা করলে আইনগত মোকাবেলা করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলা বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে বৃদ্ধ হলে সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া যায়। লিভটুগেদারে সেই সুযোগ নেই। পশ্চিমা বিশ্বে লিভটুগেদারের অধিক প্রচলন রয়েছে ঠিক। সেখানে বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান নিলে কোনও সমস্যা হয় না। আমাদের সমাজ বিবাহবর্হিভূত সন্তান কখনোই মেনে নেয় না। পশ্চিমা বিশ্বে বৃদ্ধরা অনেকেই বৃদ্ধাশ্রমে বাস করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কর্পোরেট চাকরি করেন এমন অনেকে সংসার জীবনের ঝামেলায় যেতে যান না। সমঝোতার ভিত্তিতে একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী ঠিক করে নেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বসবাস করায় তাদের জীবনাচার নিয়ে কেউ প্রশ্নও তুলে না। এছাড়া যারা এভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে থাকছেন তারা আর্থিক বিষয়ও নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জার্মানি–অস্ট্রিয়ামুখী শরণার্থীর ঢল
অভিবাসন-প্রত্যাশীরা ইউরোপে ঢোকার প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করছে হাঙ্গেরিকে। সেই হাঙ্গেরি থেকে গতকাল সাড়ে ছয় হাজার অভিবাসী অস্ট্রিয়ায় পৌঁছায়। হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট থেকে অস্ট্রিয়ার পথেও আছে শত শত শরণার্থী। সাগর পাড়ি দিয়ে হাঙ্গেরিতে ঢুকতে থাকা অভিবাসন-প্রত্যাশীর ঢলও কমেনি। তাই ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে হাঙ্গেরি সরকার। খবর এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের।
জার্মান পুলিশ বলছে, শনিবার এক দিনেই ৪৫০ জন শরণার্থী জার্মানিতে পৌঁছায়। অস্ট্রিয়া থেকে বিশেষ ট্রেনে চড়ে জার্মানির মিউনিখে পৌঁছায় তারা। জার্মানি চলতি বছরে অন্তত আট লাখ অভিবাসী গ্রহণ করবে বলে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। জার্মানি জানিয়েছে, শরণার্থীরা সবাই জার্মানিতে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ পাবে।
অভিবাসীদের ব্যাপারে গতকাল কিছুটা নমনীয় ছিল হাঙ্গেরি। দেশটি গত বৃহস্পতিবার কয়েক শ অভিবাসীকে ট্রেনে তুলে নিয়ে বুদাপেস্ট থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে একটি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেখান থেকে অভিবাসীদের একটি আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হাঙ্গেরির পুলিশ। তবে পরে ওই অবস্থান থেকে সরে আসে দেশটি। গতকাল হাঙ্গেরি সরকারের দেওয়া প্রায় ৯০টি বাসে করে অভিবাসীরা অস্ট্রিয়া সীমান্তে পৌঁছায়। সেখানে নেমে হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে অস্ট্রিয়ায় ঢোকে অভিবাসীরা। তবে হাঙ্গেরির পুলিশ গতকাল জানিয়েছে, অভিবাসীদের জন্য আর কোনো বাস তারা দেবে না।
অস্ট্রিয়ার সরকার সীমান্ত থেকে বাস-ট্রেনযোগে অভিবাসীদের ভিয়েনা ও স্লজবার্গে নিচ্ছে। ওই দুটি শহর থেকে ট্রেন বদল করে তারা জার্মানিতে যেতে পারবে। অধিকাংশ অভিবাসীরই লক্ষ্য জার্মানিতে পৌঁছানো। ভিয়েনায় পৌঁছে ওমর নামের একজন অভিবাসী বলেন, হাঙ্গেরিতে অভিবাসীদের অবস্থা ভয়াবহ। তাঁদের বুদাপেস্টে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘হাঙ্গেরি অভিবাসীদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে, তাতে দেশটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে দেওয়া উচিত।’
গতকাল হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় ঢুকতে যাওয়া অভিবাসীদের বৃষ্টিতে ভিজে জড়সড় হয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কারও কারও কোলে ছিল ঘুমন্ত শিশু। পিঠে ছিল ছোট ছোট ব্যাগ। পথে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার কর্মীরা তাদের ফল ও পানীয় সরবরাহ করেন। ভিয়েনায় সিরিয়ার নাগরিক মোহাম্মদ জানান, ‘আমি খুশি। অবশেষে জার্মানি যেতে পারব।’
দুই হাজার অভিবাসী নেবে পোল্যান্ড: পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়া কোপ্যাক্জ বলেছেন, তাঁর দেশ দুই হাজার অভিবাসী নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
নিজের বাসা দেবেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী: ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জুহা সিপিলা গতকাল বলেছেন, তিনি দেশটির উত্তরাঞ্চলের কেমপেলে নিজের বাড়ি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। তিনি মূলত রাজধানী হেলসিংকিতে থাকেন।
চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে এ পর্যন্ত ইইউভুক্ত ২৮ দেশের সীমান্তে এসেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শরণার্থী ও অভিবাসী। হাঙ্গেরি গতকাল জানিয়েছে, এ বছর দেশটিতে ঢুকে ১ লাখ ৬৫ হাজার অভিবাসী নিবন্ধন করেছে। নিবন্ধন ছাড়াও আছে অসংখ্য অভিবাসী।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইউরোপে যেতে বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে আড়াই হাজার মানুষ। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মানুষ গ্রিসের উপকূলে পৌঁছায়। ইতালিতে গেছে আরও ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। আর গত বছর সব মিলিয়ে ওই পথে ইউরোপে গিয়েছিল ২ লাখ ১৯ হাজার আশ্রয়প্রার্থী।
কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার দাবি: টরন্টো (কানাডা) থেকে সুব্রত নন্দী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় টরন্টোর কেন্দ্রস্থলে প্রায় এক হাজার মানুষ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার শরণার্থীদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সিরীয় শিশু আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দির রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের আবেদন কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছিল উল্লেখ করে শুক্রবার কানাডার সংবাদমাধ্যমে এর ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কর্তৃপক্ষ বলেছে, আবদুল্লাহর আবেদনটি রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। এদিকে অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন, কানাডা সিরীয় শরণার্থীদের গ্রহণ করবে।
সিরিয়ায় তিন বছরে নিহত ২৩২ শিশু: তুর্কি সৈকতে পড়ে থাকা তিন বছর বয়সী সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির লাশের ছবি সারা বিশ্বকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ইউরোপে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে নির্বিকার নেতাদের অনেকে এখন মনোভাব পাল্টেছেন। তবে আয়লানের সমবয়সী আরও অনেক শিশুর মৃত্যু কেবল পরিসংখ্যান হয়েই রয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়ায় ২০১১ সালে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় তিন বছর বয়সী অন্তত ২৩২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিরিয়ান রেভল্যুশন মার্টিয়ার ডেটাবেস জানায়, ২৩২টি সিরীয় শিশুর মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাবা মরে যেও না, শেষ আকুতি আয়লানের
আয়লানের এক পিসি, কানাডার টরন্টোর বাসিন্দা ফতিমা কুর্দি এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চিরতরে চলে যাওয়ার আগে এই ছিল আয়লানের শেষ কথা। কান্না ভেজা গলায় ফতিমা বলেছেন, ‘‘আবদুল্লা বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছিল। এক দিকে দুই ছেলে ও স্ত্রী। আর অন্য দিকে, নিজেকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। এই দুইয়ের মধ্যে প়ড়ে যখন হাঁসফাঁস করছিল আবদুল্লা, সে সময়ই আয়লান বাবাকে বাঁচানোর জন্য চেঁচিয়ে ওঠে।’’
![]() |
| বড়ভাইয়ের সাথে আয়লান, ডানে মৃত্যুর পর আয়লান |
ফতিমার আক্ষেপ, ‘‘দুর্ঘটনার মাত্র দু’সপ্তাহ আগেই আমার সঙ্গে দুই ভাইপোর ফোনে কথা হয়েছিল। ইউরোপ পৌঁছে গালিপকে একটা সাইকেল কিনে দেবে বলেছিল আবদুল্লা। কিন্তু তা আর হলো না।’’ ফতিমা জানিয়েছেন, গ্রিস পর্যন্ত আসার খরচ আবদুল্লাকে দিয়েছিলেন তিনি। ফতিমার আক্ষেপ, ‘‘আমি যদি ওঁদের ওই সাহায্য না পাঠাতাম, তা হলে হয় তো এই দুর্ঘটনা ঘটত না।’’
![]() |
| আয়লানের বাবা আবদুল্লা |
"& still even today I hear the mournful tune of the Sanai"Say,Valiant,High is my head!I am the rebel,the rebel son of mother-earth!Ever-high is my head.O travellers on the road of destruction,Hold fast Ur hammer,pick up Ur shovel,Sing in unison & advance.We created in the joy of our arms.We shall now destory at the pleasure of our feet.‘O Lord,For eight years have I lived & never did I say my prayers & yet,did U ever refuse me my meals for thet?Ur mosques & temples are not meant for men,Men heve no right in them.The mollahs & the Priests Heve closed their doors under locks & keys.’Comrades, Hammer away at the closed doors Of those mosques & temples,& hit with Ur shovel mightily.For,climbing on their minarets,The cheats are today glorifying Selfishness & hypocrisy.& creatr a new universe of joy & peace.Weary of struggles,I,the great rebel,Shall rest in quiet only when I find The sky & the air free of the piteous groans of the oppressef.Only when the dattlefields are cleared of jingling bloody sabres Shall I,weary of struggles,rest in quiet,I,the great rebel.I am the rebel-eternal,I raise my head beyond this world,High,ever-erect & alone!
About: Dhumketo
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী: তাই সংশয় প্রধান বিচারপতির
এবারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি যেহেতু ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী তাই রায় না লিখে বিদেশে চলে গেলে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে জনগণের ভোগান্তি আরো বাড়বে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাকির হোসেনের সই করা ২ সেপ্টেম্বরের চিঠিটির বিষয়: বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত দীর্ঘদিন যাবৎ অপেক্ষমান মামলার রায় প্রস্তুতকরণ এবং খসড়া সম্পর্কে সম্মতি প্রদান ও রায় স্বাক্ষরকরণ সংক্রান্ত।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর উদ্দেশে চিঠিতে লেখা হয়েছে ‘উপর্যুক্ত বিষয়ে বাংলাদেশের মাননীয় বিচারপতি মহোদয় কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ইতোপূর্বে ১৮/০৮/২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে স্মারক নং ১৭৫১৪ জি.মূলে প্রেরিত পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত যে সকল মামলাসমূহের Author Judge হিসেবে রায় প্রস্তুতের জন্য এবং আপীল বিভাগের অন্যান্য মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত রায় এবং আদেশে কেবল স্বাক্ষরের জন্য মহোদয়ের নিকট অপেক্ষমাণ রয়েছে; সেগুলো দ্রুত রায় প্রস্তুতকরণ ও স্বাক্ষরিত হওয়া প্রয়োজন। তৎমধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের পেন্ডিং মামলাসমূহ রায় ইতোমধ্যে লেখা ও স্বাক্ষরিত হয়েছে মর্মে মাননীয় বিচারপতি অবহিত হয়েছেন। তবে যেসবকল মামলাগুলো কেবল স্বাক্ষর প্রদানের জন্য মহোদয়ের নিকট পেন্ডিং রয়েছে সেগুলো দ্রুত স্বাক্ষর করে Author Judge মহোদয়ের নিকট প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে বিনীত অনুরোধ করা হলো।
প্রধান বিচারপতির এমন নির্দেশের কারণ ব্যাখ্যা করে চিঠিতে বলা হয়েছে: মহোদয় আগামী ০১/১০/২০১৫ খ্রি: তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন। যেহেতু মহোদয় ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী, সেহেতু অবসর গ্রহণের পর পেন্ডিং রায়গুলো না লিখে যদি বিদেশ গমন করেন, তাহলে পেন্ডিং মামলাসমূহের রায় লেখার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হবে। ফলশ্রুতিতে, বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি আরো বৃদ্ধি পাবে মর্মে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তা না হলে বিকল্প পথের কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে: এমতাবস্থায়, অবসরগ্রহণের তারিখের পূর্বে যদি মহোদয়ের নিকট পেন্ডিং মামলাসমূহের রায় লেখা সম্ভব না হয়, তাহলে উক্ত রায়ের নথিগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। মহোদয়ের ১২ মাসের নগদায়ন ও অনুতোষিক সংক্রান্ত আবেদন যথারীতি প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এর আগের একটি চিঠিতে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে জানান, তার পেনশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে অবসরের আগেই তাকে সব রায়ে সই করে যেতে হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর জবাবি চিঠি দেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। তাতে তিনি জানান, হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে তিনি সকল রায়ে সই করেছেন। আর যেহেতু একজন বিচারপতি অবসরে যাওয়ার দিনও রায় দেন তাই সকল বিচারপতিই অবসরে যাওয়ার পর অনেক রায়ে সই করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকাকে বাঁচাতে চাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার
![]() |
| প্রথম আলো কার্যালয়ে গতকাল গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। পাশে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম |
গতকাল শনিবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘জলজট-যানজটে বিপন্ন ঢাকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই অভিমত দিয়েছেন আলোচকেরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এই আলোচনায় অংশ নেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বুয়েটের অধ্যাপক ও হাতিরঝিল প্রকল্পের পরামর্শক মো. মুজিবুর রহমান, বেলার নির্বাহী পরিচালক পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ জামান। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।
ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির পানি নর্দমা দিয়ে খালে পড়বে। সেখান থেকে নদীতে যাবে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সিটি করপোরেশন সব নর্দমার মালিক নয়। ওয়াসার নিয়ন্ত্রণে ৬০০ কিলোমিটার নর্দমা। লেকগুলোর মালিক জেলা প্রশাসন। সেখানে সিটি করপোরেশনের কিছু করার নেই। আমি নিজে ঘুরে দেখেছি, ডিএনসিসির মধ্যে রূপনগর খাল, কল্যাণপুর খাল কিছুদূর যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ভরাট। তুরাগ নদ, বালু নদে চলছে দখল। নর্দমা ভরাট করে স্থাপনা। ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন সংস্থা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয়। তারা আমাদের কথা কেন শুনবে? একটি ছাতার আওতায় সংশ্লিষ্ট সবগুলো সংস্থাকে এনে সমন্বিত তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি নেওয়া ছাড়া স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সমাধান সম্ভব নয়।’
আনিসুল হক বলেন, ‘এরপরও আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে জলজট ও যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছি। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’ দুই বছরের মধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি নগরবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রতিও জোর দেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার প্রতি নগরবাসীকে সচেতন করে তুলতে হবে। নর্দমার প্রবাহ বন্ধের একটি বড় কারণ পথের আবর্জনা। নর্দমাগুলোও ঢেকে দিতে হবে, ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি বন্ধের জন্য তিনি ফেরো সিমেন্টে তৈরি ঢাকনা ব্যবহারের সুপারিশ করেন।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতপক্ষে ঢাকার কোনো অভিভাবক নেই। প্রথমত, এটা দরকার। এরপর বিষয়ভিত্তিক এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আলাদা টাস্কফোর্স করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে সরকার যে গুরুত্ব দিয়েছে, ঢাকাকে রক্ষার বিষয়টিও একই রকম গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তবে তার আগে এলাকার বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ছোট ছোট কমিটি করে কাজ শুরু করার জন্য তিনি মেয়রদের পরামর্শ দেন। তিনি মেয়রের নেতৃত্বে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত আলোচনার মধ্য দিয়ে তাঁদের কারিগরি বিষয়ে অবহিত করে তোলারও পরামর্শ দেন।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন গুরুত্ব দিয়েছেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব। তবে তার আগে আইন প্রয়োগের ব্যাপারে দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে। ড্যাপকে পাশ কাটিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূমি উন্নয়নের অনুমোদন দেওয়া হলো। রাজউক নিজেই খাল-নালা, বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ভরাট করে প্লট বিক্রি করছে। আবাসনের ব্যবস্থা করাই যদি তাদের লক্ষ্য হয়, তাহলে প্লট বিক্রি না করে তারা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারত। সেটাই যুক্তিসংগত হতো। এখন টাস্কফোর্স করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই টাস্কফোর্সকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। সেখানে জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাহলে তাঁরা জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন। না হলে কোনো কাজ হবে না।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর আমাদের শুনতে হচ্ছে ঢাকা ওয়াসা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় মাত্র ২২ শতাংশ সেবা দিতে পারে। তাহলে প্রশ্ন আসে, এই দায়িত্বে তাঁদের থাকার যৌক্তিকতা কোথায়? চার দশকে যদি শতকরা অন্তত ৫০ ভাগের কথাও তাঁরা বলতেন, তাহলে তাঁদের ভূমিকার একটি যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যেত। এদিকে ভূমি উন্নয়নকারীরা ড্যাপকে পাশ কাটিয়ে একের পর এক খাল-নদী, জলাভূমি ভরাট করে যাচ্ছে। আমরা বহু কথা বলেছি এসব নিয়ে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরিকল্পনা যা-ই করা হোক, আগে একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। প্রয়োজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।’
আসিফ মোহাম্মদ জামান বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের অবস্থা এখন একটি জটিল রোগীর মতো। তার হার্টে ব্লক হয়েছে। আমরা সার্ফেস ড্রেনেজ লাইন কাটাকুটির মধ্য দিয়ে রিং লাগিয়েছি। ফ্লাইওভার করে বাইপাস করেছি। আবার বালি ফেলে নদী-খাল ভরাট করছি। এভাবে কিন্তু বেশি দিন টেকানো যাবে না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে খবর আছে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাথার চুল কদম ফুল কোথায় হল গণ্ডগোল? by ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান
তবে এই ঘটনাটি হঠাৎ করেই ঘটেছে এটা বলা যাবে না। সবাই জানি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাটি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। আর সমস্যাটি কিন্তু শিক্ষাকার্যক্রম কিংবা শিক্ষা-গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে নয়, স্রেফ ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক শিক্ষকদের দুগ্রুপের আধিপত্য বিস্তার তথা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে। গেল এপ্রিল মাসেও এ সঙ্কট চরম আকার ধারণ করলে ভিসি আমিনুল হক ভুঁইয়া দুই মাসের ছুটিতে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলেন।
যতদূর জানি তাতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ভিসির বিরুদ্ধে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ ও প্রশাসন পরিচালনায় ‘অযোগ্যতার’ পাশাপাশি নিয়োগে ‘অনিয়ম’ ও আর্থিক ‘অস্বচ্ছতার’ অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ২০শে এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি প্রশাসনিক পদ ছাড়েন ৩৫ জন শিক্ষক, যাদের মধ্যে অধ্যাপক জাফর ইকবাল এবং স্ত্রীও ছিলেন। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভিসি ২৩শে এপ্রিল জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে দুই মাসের ছুটিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত ভিসি ট্রেজারার ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসের অধীনে সেই ৩৫ জন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ভিসি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরলে এই সঙ্কট ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আর গেল রোববার ভিসি আন্দোলনরত শিক্ষকদের বাধার মুখে ছাত্রলীগের ক্যাডারসহ নিজদপ্তরে প্রবেশ করতে গেলে এ লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। এসময় বেশ ক’জন শিক্ষককে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা- এ সংবাদ এখন সব গণমাধ্যমের শিরোনাম!
এ ঘটনায় শিক্ষকদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার প্রতীকী অনশন শেষে রোববার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। এছাড়া ভিসি না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও হুশিয়ারি দেন। অবশ্য এর আগেও আন্দোলনকারী শিক্ষকরা একই দাবিতে অনশন করেছিলেন। তবে শিক্ষকদের সঙ্গে এবার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ, তারা ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছে। অন্যদিকে ভিসি ‘লাঞ্ছনাকারী’ শিক্ষকদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের একাংশ। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বলা যাচ্ছে না পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এবং শেষ গোলটা কোনপক্ষে যায়।
এসব বিষয় কিন্তু সরকারের উপর মহলের একেবারে অজানা নয়। এরপরও কোন সুরাহা না করে সরকারের হর্তাকর্তারা নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন। সবার ভাবখানা এমন যে- এ বিষয়ে কেউ যেন কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। ফলে আজ লেখার শুরুতেই আমার মনে পড়ে গেলে বহুল আলোচিত সেই ‘কদম ফুলের’ গল্পের কথা- মাথার চুল কদম ফুল কোথায় হল গণ্ডগোল? আমার মনে হয় এই গল্পের কাহিনী সবারই জানা, তাই এখানে তা উল্লেখ করে পাঠকদের বিরুক্তি ঘটাতে চাই না।
এবার আসি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমস্যার পেছনের কথা নিয়ে। প্রসঙ্গত, গেল কয়েকদিনে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনেকের নিবন্ধ পড়ে কেন জানি আমার মনে হয়েছে তারা সঙ্কটের জন্য ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভুঁইয়াকেই তুলোধূনা করার চেষ্টা করেছেন। তাদের মনোভাব অনেকটাই একপেশে পরিলক্ষিত হয়েছে। এতে আমার যা মনে হয়েছে, তাতে একই মতাদর্শে বিশ্বাসী লেখক-সাংবাদিকরা সরকারের মহলের ভুমিকা এবং অধ্যাপক জাফর ইকবাল একজন জনপ্রিয় লেখক, সমাজের প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই হয়তোবা তাদের ভূমিকাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে একজন নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৃত সমস্যাগুলোর কিছুটা জনসম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমার অবস্থান কারও পক্ষে কিংবা বিপক্ষে নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও জাফর ইকবাল স্যারের লেখার ভক্ত, ইতোপূর্বে একজন সাংসদ যখন তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন তখন ‘জাফর ইকবাল ও একের ভেতর চার’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। তাকে এবং তার লেখা পছন্দ করি সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়, আমার এই লেখায় সেটার কোন প্রভাব থাকবে বলে মনে করছি না, থাকা সমীচীনও নয়।
থাক এসব কথা, ফিরে আসি মূল বিষয়ের দিকে। এখানকার সমস্যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার সাথে কিছুটা মিল থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই বেশ অমিল ও বৈচিত্র্যময় । পত্রপত্রিকা পাঠে ও ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ক’জনের সাথে কথা বলে যা জানতে পেলাম তাতে সমস্যাটির শেকড় অনেক গভীরে। ফলে যে সব বিষয় এখানে সঙ্কটের মুখ্য হিসেবে কাজ করছে তা নিয়ে আমার কিছু ভাবনা পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।
এক. পত্রপত্রিকা পাঠে ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট আমার পরিচিত ক’জনের সাথে কথা বলে যা জানতে পেলাম তাতে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্কটে সরকারের উপর মহলের লোকজন চলমান বিরোধে ঘি ঢালছেন। চলমান সঙ্কটে বিবাদমান পক্ষগুলো নিজেদের মতাদর্শের লোক বলে তারা কোনো পক্ষকেই চটাতে চাচ্ছেন না, সবাইকে ভালবাসছেন সমানতালে। ফলে এমপি-মন্ত্রীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পক্ষগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এমন হুলি খেলায় মেতে উঠেছেন। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এখানে দুটি পক্ষ সুস্পষ্ট- একদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভুঁইয়ার পক্ষে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসের আওয়ামী-বাম সমর্থিত শিক্ষকদের বড় অংশ প্রফেসর জাফর ইকবালের পক্ষে ভুমিকা রাখছেন। নেতাদের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও মনে করেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ কিছুসংখ্যক শিক্ষক অতি বাড়াবাড়ি করছেন। এতে সরকার চাচ্ছে না বর্তমান ভিসিকে সহজেই সরাতে। আবার জাফর ইকবালকেও সরাসরি চটাতে চাচ্ছে না। ফলে সরকার এখানে অনেকটাই কৌশলী ভুমিকায় রয়েছে।
দুই. ২০১৩ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিদায়ী ভিসি সালেহউদ্দিন আহমেদের মেয়াদ শেষ হবার প্রায় ছয়মাস পর জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া । তবে নিজেদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগের দাবি করে আসছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু তাদের সে দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রথম থেকেই তারা আমিনুল হক ভূঁইয়াকে মেনে নিতে পারেননি। ফলে প্রথম থেকেই সেখানকার আওয়ামী-বামপন্থী শিক্ষকরা অসহযোগিতা করে আসছে বলে ভিসিপন্থীদের ভাষ্য।
তিন. ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেরই মনোভাব হলো- এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কটের পেছনে যতটা না ভিসি দায়ী, তার চেয়েও বড় সমস্যা অধ্যাপক জাফর ইকবাল। এখানে যে কোন ব্যক্তি ভিসি হয়ে আসুক না কেন, তার (জাফর ইকবাল) কথা শুনতেই হবে, অন্যথায় শান্তিতে একদিনও থাকার সুযোগ নেই, সর্বদা এমনই মনোভাব পোষণ করেন তিনি। বিগত দিনেও সব ভিসিকেই কমবেশি তোয়াজ করতে হয়েছে তাকে। অন্যথা তার কথা যারা শোনেননি তাদেরকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জাফর ইকবাল পক্ষের শিক্ষকরা দাবি করে আসছেন । এক্ষেত্রে উপাচার্যপন্থীরা সাম্প্রতিককালে জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমীন হকের ভুমিকা-বক্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এছাড়া মার্চ-এপ্রিল মাসের পুরো সময়টা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী। বর্তমানেও অধ্যাপক ইয়াসমীন হক আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন। অবশ্য তাদের আন্দোলনের পেছনে যৌক্তিক কিছু কারণও রয়েছে। তবে আন্দোলনের ছক ও কৌশল পুরোটাই জাফর ইকবালের এমন দাবি ভিসিপন্থীদের।
চার. এখানে শিক্ষকদের দলবাজি আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক গ্রুপ পলিটিক্সও অন্যতম সমস্যা। আমরা কী দেখলাম! ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী দলবেধে শিক্ষকদের পিটিয়ে আহত করেছে। উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের ঘটনার পর জাতির অবক্ষয়ের আর বাকি থাকে কী? জাতিকে লজ্জায় ডুবিয়েছে ছাত্র নামধারী এই ক্যাডাররা। যদিও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সে দায় নিতে নারাজ। ইতোমধ্যে তারা ৩জনকে বহিষ্কারও করেছে। আক্রান্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, ভিসির উসকানিতেই সরকারি দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনটির কিছু নেতাকর্মী শিক্ষকদের আক্রমণ করে। অবশ্য ভিসিও এ দায় নিতে অস্বীকার করেছেন। ফলে প্রশাসনও সংশ্লিষ্ট ৪জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। একজন ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক, তিনি কেন শিক্ষকদের ওপর ছাত্রদের লেলিয়ে দেবেন-এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু যে শিক্ষকরা এই ভিসি অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন, তারা আক্রান্ত হওয়াতেই প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও চিত্রেও প্রমাণ মিলেছে। এতে বলা যায়, ব্যক্তিকেন্দ্রিক গ্রুপগুলো ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও ব্যবহার করছে শিক্ষকরা। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য এক অশুভ ইঙ্গিত।
পাঁচ. আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি জাফর ইকবারের মতো একজন জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির ভুমিকায়। জাফর ইকবাল নামটি নতুন প্রজন্মের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। জাফর ইকবাল মানে একটি সাহসী ও প্রতিবাদী কণ্ঠ। তার লেখায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, স্বাধীনতার কথা বলেন, গণতন্ত্র ও গণমানুষের কথা বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেন। এ কারণে সবার প্রত্যাশা ছিল অন্তত: তিনি অন্যায়ের কাছে কোনোদিন নতি স্বীকার করবেন না, অন্যায়-অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দিবেন না। কিন্তু আমরা কী লক্ষ্য করলাম-
গেল রোববার ঘটনার পরপরই দেশবরেণ্য এই লেখক বললেন, এখানে যে ছাত্ররা ‘জয় বাংলা বলে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা আমার ছাত্র হয়ে থাকলে এই দৃশ্য দেখার আগেই শিক্ষক হিসেবে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাওয়া উচিত। সেদিন ঘটনাটি ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে সারাবিশ্বে। অধ্যাপক ইকবালের প্রতি সহমর্মিতায় সবাই যখন সরব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমবেদনা আর সহানুভূতির ঝড়, প্রতিবাদে লেখনির ঝড় । তখন একদিন পরই তিনি এবং তার স্ত্রী ভোল পাল্টে ফেললেন। ফলে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ইউটার্ন করেছে, যেভাবে করেছেন জাফর স্যার। ছাত্রলীগের ছেলেদের দায়মুক্তি দিয়ে এই ফিকশন লেখক জানালেন, কে হামলা করেছে? ছাত্রলীগ! ছাত্রলীগের ছেলেরা বাচ্চা, ওরা হামলা করতে পারে না। ওদের শাস্তি দেওয়াটা অন্যায়।’এর আগে অবশ্য ঘটনার দিন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্জনার শিকার তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমীন হকও সংগঠনটির কাছে নতি স্বীকার করে বলেন, ‘ওইদিনের ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো দোষ নেই’। এরপর একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সচিত্র সংবাদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ছবিসহ একটি বিবৃতিও দিয়েছেন স্বামীর ফেসবুকের মাধ্যমে ইয়াসমীন হক।
তবে এসবেও থামেনি সমালোচনা। ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের প্রতি এই শিক্ষক দম্পতির অবস্থানে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শিক্ষক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে আইনজীবী- সবাই ছাত্রলীগের প্রতি তাদের দায়মুক্তি ও অকৃত্রিম ভালবাসার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইমরান বসুনিয়া সোহাগ নামে এক যুবক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ছাত্রলীগ শিক্ষক পিটাইলো আর আপনি (জাফর ইকবাল) প্রতিবাদের নামে বৃষ্টি উপভোগ করলেন। আবার সেই আপনিই বললেন, ছাত্রলীগকে শাস্তি দিলে অন্যায় হবে। শাস্তি চাইলেন ভিসির। বহুরুপী মানুষ আপনি, যারে এক কথায় কয় সুবিধাবাদী।
মুহাম্মদ আনিসুর রহমানের মন্তব্য, ‘স্যার, এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিন পর পাবনায় সিট বুকিং দিতে হবে যে...’
সাংবাদিক হোসাইন ইমাম সোহেল লিখেছেন, তাহলে কী এই দেশের মানুষ ধরে নেবে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা করলেও ছাত্রলীগ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য! ক্ষোভে দুঃখে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে ইচ্ছা প্রকাশ করা শুধুই ফাঁকা বুলি। আর বৃষ্টিতে ভিজে ছবি তোলার পোজ দেয়া শুধুই ‘বৃষ্টিবিলাস’। আপনার ডাবলস্ট্যান্ড দেখে শুধু ঘৃণাই উগরে বের হতে চাইছে। আর কত দুর্গন্ধ ছড়াবেন আপনি?’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুহিন মালিক জাফর ইকবালের বক্তব্যে ‘ছাত্রলীগের’ জায়গায় ‘ছাত্রশিবির’ শব্দ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, একজন শিক্ষক তার সন্তানতুল্য ছাত্রদের প্রতি উদারতা দেখাতেই পারেন, তবে ভবিষ্যতে সেই শিক্ষক অন্যান্য ছাত্রদের জন্যও যদি এ রকম উদারতা দেখান কেমন লাগবে তখন? নিছক সেই অনুভূতিটা কল্পনা করতেই একটি শব্দ পরিবতর্ন করতে হলো বলে দুঃখিত।
অধ্যাপক ইয়াসমীন হকের বক্তব্যেও পাঠকেরা বিরুপ মন্তব্য করেছেন। রিদাওনুল কাদির লিখেছেন, প্রথম আলো বনাম জাফর ইকবাল, খেলাটা খুবই উপভোগ্য হচ্ছে। ধন্যবাদ সোনার ছেলেদের (ছাত্রলীগ) এমন একটি চমৎকার দৃশ্য তৈরিতে তারাই তো মূল কারিগর! এ ধরনের সৃজনশীল কাজে তোমাদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি!
এ ঘটনা আজ গোটাজাতি যে কতটা মর্মবেদনায় ভুগছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু শিক্ষক নন, দেশের যেকোনো অনুভূতিশীল মানুষের জন্যই রোববারের ঘটনাটি মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই একটি ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম কোন দিকে যাচ্ছে, নষ্ট রাজনীতি ও ক্ষমতার লোভ কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের। কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেই প্রজন্ম, যাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। সমাজ কি এভাবেই নষ্টদের অধিকারে যাবে? শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদেরও নেই। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি হওয়ার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এভাবে দল বেঁধে শিক্ষকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, আক্রমণ করতে পারে, এটা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এরপরও যখন দেখি জাফর ইকবাল স্যারদের মতো ব্যক্তি ওইসব বেয়াদব ছেলেদের পক্ষে কথা বলেন তখন আমাদের মনো:কষ্ট আরো বেড়ে যায়। যা এমনটি না করলেও পারতেন জাফর ইকবাল স্যার।
জাতির ঘাড়ে কালিমা লেপনের এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা যেভাবেই ঘটুক না কেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন ও শিক্ষকরা কোনভাবেই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। যে ছাত্ররা আজ এই ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িত ছিল তাদের যেমন উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত, ঠিক তেমনি তাদের পক্ষে যারা সাফাই গাইছেন, যারা এই কাজে উস্কে দিচ্ছেন তাদেরও আইনের আওয়তায় আনা উচিত। সেই সাথে উপার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তাও তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যথা এই স্বার্থবাজ শিক্ষক-ছাত্ররা মিলেই বিশ্ববিদ্যালয়টির ধ্বংস ডেকে আনবে। তাই সরকারের প্রতি আহবান, আর নীরবতা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে হলেও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও সমস্যার নিষ্পত্তি করুন।
লেখক: গবেষক
ই-মেইল: sarderanis@gmail.com
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খাটে শুয়ে মানিক মিয়া বলতেন আর আমি লিখতাম by কাজী সুমন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেঁদেই জার্মানিতে থাকার অনুমতি নিল ফিলিস্তিন কিশোরী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন পরবাসে সর্বহারার দল?
মধ্যপ্রাচ্য আখ্যান : ২০১১ সালের কথা। একনায়ক শাসকদের হটিয়ে গণতন্ত্রের সুগন্ধি ছড়ানোর সৌখিনতায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরব বসন্তের ঝড় ওঠে। মার্কিন মদদে প্রখর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে গণতন্ত্রকামীরা। কিন্তু আখেরে সফল হতে ব্যর্থ হয়। জনগণের স্বাধীনতার চেতনা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধের। সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাকসহ কয়েকটি দেশে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা। এ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মারাত্মক শিকার হয় নিরীহ সাধারণ জনগণ। মূলত তখন থেকেই ‘শরণার্থী আখ্যান’ শুরু। সিরিয়া-ইরাক ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয় নেয় তুরস্কসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। আশানুরূপ আশ্রয় মেলেনি উপসাগরীয় দেশগুলোয়। এজন্য সমালোচনায়ও পড়েছে তারা। ২০১১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিরীয় শরণার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানে নতুন আতংক সৃষ্টি হয় এ এলাকায়। এ জঙ্গিগোষ্ঠীর রোষানলে বাস্তুহারা হয় আরও ৩০ লাখ। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান থেকেও এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ৪৩ হাজার শরণার্থী।
আফ্রিকার কালো অধ্যায় : হীরা-জহরত-সোনা-রূপার আকর আফ্রিকা পশ্চিমা গোষ্ঠীর আয়েশী জীবন ব্যবস্থার প্রধান উৎস। বরাবরই অভিযোগ রয়েছে এ অঞ্চলের নির্বোধ জাতিগুলোকে সম্পদ দখলের মরীচিকায় ডুবিয়ে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে অন্তর্কলহ জিইয়ে রাখছে তারা। ভূখণ্ডনাশী এসব কূটচক্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে সোমালিয়া, সুদান, দ. সুদান, লিবিয়া নাইজেরিয়ার মতো অনেক দেশ। অন্যদিকে মার্কিন আশীর্বাদপুষ্ট ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাব, বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হিংস কর্মকাণ্ডে দেশগুলো উত্তাল। জীবন শংকিত নিরীহ মানুষের। অনির্দিষ্টকালের এ অচলাবস্থা আফ্রিকার ১০ লক্ষাধিক মানুষকে ঘরবাড়ি হারা করে রাস্তায় বসিয়েছে। অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে তাদের বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা। মানুষগুলো কোথায় যাচ্ছে : এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা যুদ্ধ-সংঘাত বিদ্রোহের আগুনে তছনছ। দিশেহারা মানুষগুলো একটা নিরাপদ জীবনের হাতছানিতে পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে। যুদ্ধে খাদ্য-বাসস্থানের অভাবে ও জীবন শংকা এড়াতে পালাতে শুরু করে ভিটেমাটি ছেড়ে। কাছাকাছি হওয়ায় প্রথমেই আশ্রয় নেয় তুরস্কে। পরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখান থেকে ইউরোপ, আমেরিকায়ও পাড়ি দেয়া শুরু করে তারা। যেভাবে দেশ ছাড়ছেন : যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেক যুদ্ধের সম্মুখীন হন শরণার্থীরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় অবৈধভাবে ভিনদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করতে হয় তাদের। বৈধ রুটে চলাচল রুদ্ধ হয়ে গেলে বেছে নেয় ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডি : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপমুখী বৃহত্তম শরণার্থী সংকট জন্ম দিয়েছে ভয়াবহ বিয়োগান্তক নাটকের। অবৈধ পথে বাগড়া পাওয়ায় অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগরের বুকচিরে ইতালি, গ্রিস স্পেনসহ উপকূলীয় দেশগুলোয় যেতে চেষ্টা করছেন অসহায় শরণার্থীরা। সুন্দর জীবনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করা এসব মানুষের অনেকেই হারিয়ে গেছে সাগরে।
জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী সাগরে সলিল সমাধি হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এত মানুষ মারা গেলেও একটুও মন গলেনি বিশ্বমোড়লদের। সম্প্রতি সিরীয় শিশু তিন বছরের আয়লান কুর্দির নিথর দেহ গণমাধ্যমে প্রকাশের ফলে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনায় ফেটে পড়ে বিশ্ব। টনক নড়লে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে এখন ব্যতিব্যস্ত তারা। কারা আশ্রয় দিচ্ছে? : মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীদের প্রায় ৩০ লাখ বাস্তুহারাদের আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক। ব্যয় করেছে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি জি২০ সম্মেলনে এ কথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। দেশটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরবর্তী লক্ষ্য স্থল হয় ইউরোপ। এ পর্যন্ত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শরণার্থী গ্রিসে পৌঁছেছে। ইতালিতেও স্থান নিয়েছে ১ লাখ। সমৃদ্ধশালী জার্মানিতে পৌঁছেছে আরও ৭০ হাজার। এছাড়া মানবতাবাদী যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় দিয়েছে মাত্র ১৫০০ সিরীয় শরণার্থীকে। কি জুটছে শরণার্থীদের কপালে? : শরণার্থী সংকটের প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটা। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ন্যাশন হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) ১৯৫১ সালেই বাস্তুহীন মানুষের সুরক্ষা দিতে বিধান তৈরি করেছে। কিন্তু এসব মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে দায়িত্বশীল দেশগুলো। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য। কেউ মরছে সাগরে ডুবে। কেউ মরছে লরিতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। আবার কেউ মরছে খাদ্যাভাবে।
অন্যদিকে অধিকাংশই ধুঁকছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতংকে। ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউবোস্ট্যাট জানিয়েছে ২০১৪ সালে ইউরোপে শরণার্থীর মর্যাদা পেতে আবেদন করেছে ৬ লাখ ৬২ হাজার। চলতি বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। কিন্তু বিপুল এ জনসমষ্টিকে বৈধ প্রটেকশন দিলে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাই এদেরকে শরণার্থী না বলে অবৈধ অভিবাসী বলে আখ্যা দিচ্ছে তারা। সীমান্তে গড়ে তুলছেন ধারালো কাঁটাতারের বেড়া। মজুদ করছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দর কষাকষির বাকযুদ্ধে নেমেছে এ মানুষগুলোর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে। ইউবোস্ট্যাটের মতে ইউরোপে আশ্রয় পেতে আবেদন করেছে প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার। এগুলো কখন কার্যকর হবে তার ঠিক নেই। দুঃখের বিষয় পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১৬ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইতিমধ্যে ১৫শ’ শরণার্থীর নিরাপত্তা দিচ্ছে তারা। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে বাস্তুহারাদের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। কিন্তু এ ভয়াবহ সংকট মোকাবেলায় যে তৎপরতার দরকার সে তুলনায় এসব পদক্ষেপ খুবই অপ্রতুল। এজন্যই অন্ধকারে রাত্রিযাপন, খাদ্যের অভাবে শীর্ণ অবস্থা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যার ক্যামেরা ফ্ল্যাশে চমকে উঠল দুনিয়া!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমি সাঁতার জানি না বিদেশে যেতে চাই না
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অতিবৃষ্টি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রাথমিক ক্ষতি ৬৩৭ কোটি টাকা
এর আগে জেলা ও উপজেলা থেকে তথ্য নিয়ে গত জুন থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিয়ে একটি পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম ও করণীয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস জাতীয় প্লাটটফরমের সভায় এটি উপস্থাপন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তৈরি করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশের গবাদি পশু-পাখি, ফসল, লবণ চাষের জমি, মৎস্য খামার, বন, বৈদ্যুতিক ও টেলিযোগাযোগ স্থাপনা, শিল্প-কারখানা, নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলার থেকে খাতওয়ারী এ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাঁধ ও সড়ক, নলকূপের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান দেয়া হলেও টাকার অঙ্কে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, বান্দরবান, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নওগাঁ জেলার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী বন্যায় মোট ২৩ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৯০৪ জন। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লোক সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৯ জন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত লোক ২৩ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন। বন্যায় ৯৩ হাজার ৪০৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২৫১ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৯০৫ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১১ জেলায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ২৯ হাজার ৫৮০ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এক লাখ ৬১ হাজার ৩৬৮টি। মোট চার হাজার ৬৫৭টি গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মূল্য চার কোটি ৮৯ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস-মুরগী এক লাখ নয় হাজার ৫৯৩টি। এর মূল্য ধরা হয়েছে দুই কোটি ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ৩৮৬ টাকা। বন্যায় লবণচাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫৬ হেক্টর জমির এক লাখ ১২ হাজার টাকার লবণের ক্ষতি হয়েছে। ৬০ হাজার ২৭ হেক্টর চিংড়ি চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১৭ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮২০ টাকা। ২১ হাজার ৯৬২টি মৎস্য খামার পানিতে ভেসে যাওয়ায় ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬১টি, এক হাজার ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে, ৬৬৯টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার ৯৮৫ কি.মি. পাকা ও ছয় হাজার ২৮০ কি.মি. কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪৮ কি.মি. বাঁধ সম্পূর্ণ ও ৩২৬ কি.মি. বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমির পরিমাণ ২৯২ হেক্টর। এতে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১২ কিলোমিটার বিদ্যুৎ স্থাপনার ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। ১০টি শিল্প-কারখানার ক্ষতির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৩ লাখ টাকা। চার হাজার ১৬২টি গভীর, ছয় হাজার ৭৬১টি অগভীর ও দুই হাজার ৯৭১টি হস্তচালিত নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪২৮টি নৌকা ও ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মূল্য ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার। এক হাজার ৪৯৭টি মাছ ধরার জালের ক্ষতি ২ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ বলেন, এটি একটি অসম্পূর্ণ হিসাব। কারণ বর্তমানে দেশের ২৪ জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, জাতীয় প্লাটফরমের সভায় বন্যায় কৃষক ও মৎস্যচাষীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। তারাও বলেছে এ বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা আছে। তিনি জানান, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের বিস্তার রোধে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ত্রাণ সহায়তা দেওয়াসহ বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কথা জাসদ বিশ্বাস করে না by ওয়ালিউল হক
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে খসড়া সংবিধান বিল উত্থাপিত হওয়ার পর জাসদের পক্ষ থেকে ২০ অক্টোবর খসড়া সংবিধানের ব্যাপারে একটি পর্যালোচনামূলক বিবৃতি দেয়া হয়েছিল। আ স ম আবদুর রব ও শাজাহান সিরাজের নামে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণার বিষয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছিল, তা হলো এই যে, ‘প্রস্তাবনায় ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চকে স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ বলে খসড়া সংবিধানে যে কথা লেখা হয়েছে, তার সত্যতা কোথায়?’ অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেনÑ এ কথাকে জাসদের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
গণকণ্ঠের তৎকালীন সাংবাদিক মহিউদ্দীন আহমদের লেখা ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ বই থেকে জানা যায়, জাসদের নেপথ্য নেতা ও প্রধান তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি স্বীকার করতেন না। তবে তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে।’ মহিউদ্দীন আহমদ লিখেছেন, ‘২৫ শে মার্চ সন্ধ্যায় একটি স্বাধীনতার ঘোষণা শেখ মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িতে লেখা হয়েছিল এবং সিরাজুল আলম খান নিজে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। ঘোষণার খসড়াটি তাজউদ্দীন ঠিকঠাক করে দেন। এতে বলা হয়; দি এনিমি হ্যাজ স্ট্রাক। হিট দেম ব্যাক। ভিক্টরি শ্যাল বি আওয়ার্স। ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা’ (শত্রু আঘাত করেছে। তাদের প্রত্যাঘাত করতে হবে। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ)।
সিরাজুল আলম খান ২৫ মার্চ ঢাকার লালবাগ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কামরায় বসে রাত কাটিয়েছিলেন। তিনি ওই কর্মকর্তার টেবিলের ওপর এই ঘোষণার একটি কপি দেখেছিলেন। তার মতে, বঙ্গবন্ধু বিষয়টি অবহিত ছিলেন কিন্তু তিনি নিজে কোন ঘোষণা দিয়ে যাননি (পৃষ্ঠা : ৮৬)।
এরপর ১৯৭২ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাসদের প্রথম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে যে বক্তব্য পেশ করা হয়েছিল, তাতেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বিষয়টিকে অস্বীকার করা হয়েছিল। আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া আ স ম আবদুর রবের ওই বক্তৃতায় বলা হয়েছিল, ‘পঁচিশে মার্চের আগে স্বাধীনতা সম্পর্কে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কী মনোভাব ছিল তা দেশবাসীর সবার জানা। নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদে আরোহণের স্বপ্নে ছিল বিভোর। স্বাধীনতার সপক্ষে কথা বলার জন্য বাংলাদেশের যুবসমাজ বিশেষ করে ছাত্রলীগের কর্মীদের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ চিহ্নিত করেছিল বিদেশী শক্তির এজেন্ট হিসেবে।
পঁচিশ মার্চ রাত্রি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সম্পর্কে জনগণকে কোন নির্দেশ তো দেয়নি বরং পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল। বস্তুত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার জন্য তারা কোন পদ্ধতি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা চিন্তাও করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের সংগ্রামী যুবসমাজকেই গোপনভাবে আওয়ামী লীগের আপসমূলক আলোচনার আড়ালে যৎসামান্য প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলগুলো স্বাধীনতার আন্দোলন সম্পর্কে পোষণ করতো নমনীয় ও আপসকামী মনোভাব। পরিণামে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল জাতিকে সঠিক পথের নির্দেশ দিতে। তাই কোন প্রকার নেতৃত্ব ও নির্দেশ ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের বিপ্লবী জনতা। যুবসমাজের নেতৃত্বে কারখানার শ্রমিক, গ্রামের কৃষক, ছাত্র-জনতা যুদ্ধের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছিল’ (আলতাফ পারভেজ লিখিত ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী : ইতিহাসের পুনর্পাঠ, পৃষ্ঠা : ৪৭৮)।
আ স ম আবদুর রবের ওই বক্তব্য পর্যালোচনা করলে যে তিনটি কথা বেরিয়ে আসে তা হচ্ছে : ১. আওয়ামী লীগ ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিল; ২. বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার জন্য তারা ছাত্রলীগের নেতাদের বিদেশী শক্তির এজেন্ট মনে করতেন; ৩. আওয়ামী লীগ নেতারা একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, তেমনি স্বাধীনতাযুদ্ধ কার নেতৃত্বে, কিভাবে পরিচালিত হবে সে নির্দেশনাও তারা জাতিকে দিতে পারেননি।
জাসদের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব:) এম এ জলিল ও অন্যতম শীর্ষনেতা কাজী আরেফ আহমদের লেখাতেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। মেজর জলিল তার ‘সীমাহীন সমর’ গ্রন্থে স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেছেন। তার মতে, ‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় নৈরাশ্যের অন্ধকারে সমগ্র জাতির দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।’ আবার ২৫ মার্চ আহূত গণপরিষদের বৈঠককে সামনে রেখে ভুট্টো-ইয়াহিয়ার সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনার বিষয়টিকেও তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
ওই বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি যা লিখেছেন তা নিচে তুলে দেয়া হলোÑ ‘রেডিওতে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনলাম। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সেই সঙ্গে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নিজেকে সরকার প্রধান বলে ঘোষণা করলেন। তিনি আরো ঘোষণা করলেন, পাকিস্তান সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয়েছে এবং চলতে থাকবে। এই ঘোষণা ঝিমিয়ে পড়া প্রতিটি মনে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করলো। কারণ, এই রকম ঘোষণা এ-ই প্রথম’ (সীমাহীন সমর, পৃ:- ২২১)।
কাজী আরেফ তার ‘বাঙ্গালির জাতীয় রাষ্ট্র’ বইয়ে ২৫ মার্চ রাত ও তার পরবর্তী কয়েক দিন তিনি কোথায় ছিলেন, স্বাধীন বাংলা নিউকিয়াসের কার কার সাথে কোথায় বৈঠক করেছেন তার বিশদ বর্ণনা দিলেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি শুনেছেন বা তাকে কেউ বলেছে এমন কোনো কথা বলেননি। তবে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা সংক্ষিপ্তভাবে হলেও লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘২৬-২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান-এর প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান শুনলাম’ (পৃষ্ঠা-১২৮)।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসপাতালেই ১৪ বছর by আব্দুল আলীম
প্রশ্ন হলো কি সেই দুর্ঘটনা- যার জন্য তাকে ১৪ বছর ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ওসমান গনি জানান, ২০০১ সালের কথা। তার বয়স তখন ১২ বছর। চট্টগ্রাম থেকে রেলগাড়ি সবে মাত্র ছেড়েছে। দৌড়ে উঠতে গিয়ে পা আটকে যায় দরজার আংটায়। চাকার ঘষা ও চাকার উপরের লোহার সঙ্গে বাড়ি খেতে থাকে তার দুই পা। মুহূর্তেই দুই পায়ের তালু থেকে হাঁটু পর্যন্ত মাংস উড়ে যায়। কিছুদূর গিয়ে প্যান্ট ছিঁড়ে রেল লাইনে পড়ে যান তিনি। ট্রেন চলে যায়। রেললাইনের পাশের মানুষজন মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ৯ মাস চিকিৎসার পর পায়ে অপারেশন করা হয়। উরুর একাংশ থেকে মাংস কেটে খুবলে যাওয়া অংশে লাগানো হয়। যা এখনও পুরোপুরি ভালো হয়নি। এখনও মাঝে মধ্যে সার্জারি করে বিভিন্ন অংশের মাংস কেটে ক্ষতস্থানে লাগানো হয়। তার দুই পায়ের ব্যান্ডেজবিহীন অংশ লক্ষ্য করে দেখা যায়, হাতের মতো দুটি পা চিকন। কোথাও কোন মাংস নেই। পায়ের তালুতে কোন চামড়া নেই। সরাসরি হাড় দেখা যায়। সার্জারি করে পায়ের এক অংশের মাংস কেটে গোড়ালিতে লাগানো হয়েছে। তবে তা এখনও পুরোপুরি জোড়া লাগেনি।
অভাব অনটনের সংসার। চিকিৎসার খরচ যোগানো কষ্টের। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। সে সময় চিকিৎসকরা তাকে রিলিজ দেয়। বাড়িতে গিয়ে নিজে নিজে ড্রেসিং করার পরামর্শ দেয়। প্রথমবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সার্জারি করে বড়িতে গিয়ে ভালোই কাটছিল। ৩ মাস পর তার ওই ক্ষত স্থানে ইনফেকশন দেখা দেয়। হাসপাতালের শরণাপন্ন হলে অবস্থা খারাপ দেখে আবার সার্জারি করে। এরপর কেটে যায় আরও ৯ মাস। পায়ের উপরের অংশ থেকে চামড়া কেটে গোড়ালির ক্ষতস্থানে আবার স্কিন সার্জারি করে। একসময় আবার তাকে রিলিজ দেয়া হয়। ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ড্রেসিং করতে থাকে। একসময় দেখে ঘঁষতে ঘঁষতে সার্জারি করা চামড়া ওঠে যায়। ডাক্তার দেখানোর পর পরামর্শ দেয় সয়ে সয়ে আবারও ড্রেসিং করতে। তখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল যেন তার বাড়ি হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে হাসপাতালে দারোয়ানি শুরু করে। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত গেটে দাঁড়িয়ে বসে থাকা ছিল তার কাজ। হাসপাতালে থাকে। হাসপাতালের খাবার খায়। সেখানেই দারোয়ানি করে। এখানে আসা রোগীরা সুস্থ হয়ে চলে যাওয়ার সময় যে বকশিশ দিয়ে যায় সেটা দিয়ে চলে যায় তার।
ওসমান গনি বলেন, এভাবে চলতে চলতে আবার পায়ের ঘা বেড়ে যায়। হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে নিজেই ড্রেসিং করতে থাকি। পরে আমার মা চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী মেডিক্যালে নিয়ে যান। সেখানেও একই চিকিৎসা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পায়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। শরীরের রক্ত কমে যায়। রক্ত দেয়া ও পরীক্ষার জন্য ডাক্তার রক্তের গ্রুপ জানতে চায়। তখন রক্তের গ্রুপ বলতে না পারায় আর রক্ত দেয়া হয়নি। ডাক্তাররাও নিজেদের কাছে না রেখে ঢাকা মেডিক্যালে আসার পরামর্শ দেয়। ইতিমধ্যে আমার দুর্ঘটনার ৮ বছর পার হয়ে গেছে। ২০০৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসলে শ্যামলী পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওখানে ছিলাম ৪ মাস। হাসপাতালের খাবার ভালো না। এছাড়া, বাড়িতে দিনে ৩/৪ বার খেতাম। এখানে দুইবার খাবার দেয়া হতো। তাও আবার ঠিক মতো খেতে পারতাম না। হাসপাতালে থেকে না খেয়ে আমার শরীর আরও কমে যায়। তবে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে রক্ত পরীক্ষা করে আমার রোগ ধরা পড়ে। ওই হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন থেলাসিমিয়া হয়েছে। তিনি বলেন, থেলাসিমিয়া কোন খারাপ রোগ না। তবে ২/৩ মাস পর পর রক্ত দিতে হবে। এভাবে চলতে থাকে রক্ত দেয়া। এর পর শরীরের কিছুটা উন্নতি হতে থাকে। এখন ৪/৫ মাস পর পর রক্ত দিতে হয়।
পঙ্গু হাসপাতালে ১ বছর থাকার পর ২০১০ সালে আবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠানো হয়। এখানে এসে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলতে থাকে। আগের মতো ক্ষত স্থানে ড্রেসিং করাই ছিল কাজ। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে প্রথম সার্জারি করে। উরু থেকে চামড়া নিয়ে পায়ের গোড়ালিতে লাগানো হয়। ৫ দিন পর খুলে ভালো দেখে ছুটি দিয়ে দেয়। বাড়ি যাওয়ার ২ সপ্তাহ পর দেখা যায়- যে চামড়া লাগানো হয়েছিল তা ফুটো ফুটো হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আবার হাসপাতালে চলে আসি। এখানকার প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. সুমি ম্যাডামের অধীনে চিকিৎসা নিতে থাকি। এবার ভর্তি হওয়ার পর দেখা যায় ৩ মাস পার হলেও ক্ষতস্থানে লাগানো চামড়া লাল হয় না। তখন পায়ের সার্জারি করা জায়গার চামড়া লাল করার জন্য ব্যাগ মেশিন লাগানো হয়। দুই সপ্তাহ পর চামড়া লাল হয়। পরে ঈদ চলে আসলে দুই সপ্তাহের ছুটিতে বাড়ি যাই। আবার ছুটি শেষে হাসপাতালে আসি। অপারেশনের ডেট হয়। কিন্তু সিরিয়াল পাওয়া যায় না। তাই দেরি হয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে ওমিওপ্রাজল এবং প্যারাসিটামল দেয়া হয়। বাকি ওষুধ কিনে নিতে হয়। ওসমান গনি জানায়, আকিজ গ্রুপের একটা ফান্ড আছে। সেখান থেকে দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করা হয়। এই হাসপাতালের ডা. শাহিনের অধীনে আমি চিকিৎসা নিচ্ছি। তিনি আমাকে আকিজ গ্রুপের অফিসে যেতে বলেন। ৩৭, দিলকুশা আকিজ গ্রুপের অফিসে গিয়ে কাগজ দেখালে সেখান থেকে টাকা দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করা হয়। প্রথমে আমাকে ৪ হাজার টাকা দেয়। পরে কয়েকবার সার্জারির সময় ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা দিয়েছে। এভাবেই চিকিৎসায় চিকিৎসায় কেটে গেছে ১৪টি বছর।
৪ ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওসমান গনি দুই নম্বর। ভাইবোন কারো এখনও বিয়ে হয়নি। বাবা চট্টগ্রাম বন্দরে সরকারি লেবার ছিল। এখন অবসরে আছেন। অভাবের সংসারে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা বাড়ি থেকে ঠিকমতো খবরই নিতে পারে না। এখন ওসমান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কিছুটা হাঁটতে পারে। এভাবেই এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছে গনি। হাসপাতালই এখন লোকমানের ঠিকানা। নিজে যেমন চিকিৎসা নিচ্ছে তেমনি প্লাস্টিক সার্জারি রোগীদের ড্রেসিং, সেলাইনের ক্যানেলা লাগানো থেকে শুরু করে ইনজেক্শন দেয়া সবই এখন নিজেই করতে পারে। মাঝে মধ্যে হাসপাতালে রোগীদের বিশেষ প্রয়োজনে নার্সদের পাওয়া না গেলে সে এসব সেবা দেয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন সুনিতা ও পৈশাচিকতার কাহিনী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছে আপনার শরীরও
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
September
(460)
-
▼
Sep 06
(21)
- দেশে এখন অন্ধকার যুগ চলছে : এরশাদ
- রাজধানীতে বাড়ছে লিভটুগেদার
- জার্মানি–অস্ট্রিয়ামুখী শরণার্থীর ঢল
- বাবা মরে যেও না, শেষ আকুতি আয়লানের
- বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী:...
- ঢাকাকে বাঁচাতে চাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার
- মাথার চুল কদম ফুল কোথায় হল গণ্ডগোল? by ড. সরদার এম...
- খাটে শুয়ে মানিক মিয়া বলতেন আর আমি লিখতাম by কাজী সুমন
- কেঁদেই জার্মানিতে থাকার অনুমতি নিল ফিলিস্তিন কিশোরী
- কেন পরবাসে সর্বহারার দল?
- যার ক্যামেরা ফ্ল্যাশে চমকে উঠল দুনিয়া!
- আমি সাঁতার জানি না বিদেশে যেতে চাই না
- অতিবৃষ্টি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রাথমিক ক্ষতি ৬৩৭ কোট...
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কথা জাসদ বিশ্বাস করে ন...
- হাসপাতালেই ১৪ বছর by আব্দুল আলীম
- একজন সুনিতা ও পৈশাচিকতার কাহিনী
- সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছে আপনার শরীরও
- অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের মূলোৎপাটন করবো: তারানা হা...
- সংখ্যালঘুদের বাড়ি দখলকারীদের ছাড় দেয়া হবে না : সৈয়...
- খুনি কামরুলও কি নূর হোসেন হবে? by সোহরাব হাসান
- হবিগঞ্জে ছাত্রী লাঞ্ছনাঃ রাহুল যা বলল by এম এ মজিদ
-
▼
Sep 06
(21)
-
▼
September
(460)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



















