Friday, February 16, 2018

এটাই কি বাংলাদেশে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার ইতি? by কে এস ভেঙ্কটাচালম

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সন্ধিক্ষণে। সম্প্রতি দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির চেয়ারপারসন ও দুবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
তার গ্রেপ্তার দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন ঘোষণার এক সপ্তাহ পরই রায়টি দেয়া হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মতো একমাত্র বিকল্প হলো খালেদার দল।
এই দণ্ডাদেশের পর ব্যাপক প্রতিবাদ হচ্ছে।
বিএনপি ক্যাডার ও সমর্থকরা ঢাকার রাজপথে নেমেছেন। নেত্রীকে মুক্তি না দিলে ডিসেম্বরের নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছেন বিএনপির সমর্থকেরা। ২০১৪’র জানুয়ারিতে হওয়া সর্বশেষ নির্বাচনও বর্জন করেছিল বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো। তারা এমনও অভিযোগ করছেন যে, ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকার খালেদার বিরুদ্ধের বানোয়াট মামলা দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।
এখন খালেদা জিয়ার দলের সামনে করণীয় আছে সামান্যই। ডিসেম্বরের নির্বাচনে যদি তারা অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে দলের নিবন্ধন বাতিল হবে। শেখ হাসিনার জন্য টানা তৃতীয় মেয়াদের পথ সুগম হবে। অন্যদিকে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে এমনটা যদি ধরে নেই, তাহলে খালেদার অনুপস্থিতি নির্বাচন জয়ে দলের সম্ভাবনার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। খালেদা জিয়া, তার পুত্র তারেক রহমানকে পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে ধরে রেখেছেন। কিন্তু তিনি বর্তমানে গ্রেপ্তার এড়াতে নির্বাসনে রয়েছেন। তার মায়ের একই মামলায় আদালত তারেককেও গরহাজির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশে দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আধিপত্য। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে অখ্যাত কোন তৃতীয় দলের চ্যালেঞ্জ করাটা কার্যত অসম্ভব। খালেদার দ-কে কেন্দ্র করে যদি বিএনপির সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়, তাহলে বাংলাদেশ ডি-ফ্যাক্টো এক-দলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
তবে, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কুশাসনের কারণে বর্তমান এই ঘোলাটে পরিস্থিতির দায় বিএনপির ঘাড়েও আছে।
দুর্নীতিবিরোধী ওয়াচডগ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০০৫ সালে খালেদার শাসনামলে বাংলাদেশকে সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। (উল্লেখ্য, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৬ করাপশন পারসেপশন ইনডেক্সে অন্যতম দূর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।) দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পর হামলা চালাতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে খালেদার বিরুদ্ধে।
তার ছেলে ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিনিয়র দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও দুই ডজন মানুষ নিহত ও ৩ শতাধিক আহত হওয়া গ্রেনেড হামলার মামলাতেও তারা আসামী। ওই হামলায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা কোনমতে প্রাণে বেঁচে যান।
খালেদার শাসনামলের ইতি ঘটেছিল নাটকীয়ভাবে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হলে, নির্বাচন তদারকিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে ব্যর্থ হয়। এ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। তাদের সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল দু’বছর, যাদের কিনা দায়িত্বে থাকার কথা মাত্র ৯০ দিনের জন্য। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল- হাসিনা নয়।
[কে.এস ভেঙ্কটাচালম একজন কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ওপরের লেখাটি দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত তার কলাম ‘ইজ দিস দ্য এন্ড অব দ্য টু পার্টি সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ এর অনুবাদ ]

ঢাকায় প্রতিহিংসা নাক গলানো উচিত হবে না ভারতের by ভারত ভূষণ

এ বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই সাজা বাতিল না হলে, খালেদাকে ছাড়াই নির্বাচনে যেতে বাধ্য হতে পারে বিএনপি। বাংলাদেশের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা থেকে বিরত রয়েছে ভারত। একে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থন হিসেবে ভাবার সম্ভাবনাই বেশি। ভারত নীরবে ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছে।
বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল। নির্বাচনে ৫০ শতাংশেরও বেশি আসনে (৩০০টির মধ্যে ১৫৪টি) ভোটাভুটিই হয়নি। মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। কিন্তু ভারতের সমর্থনের কারণে ওই নির্বাচন বৈধতা পেয়ে যায়।
শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অনেক কিছুই অর্জিত হয়েছে, যা বিএনপি’র শাসনামলে পারা যেত না। আসন্ন নির্বাচনী বৈতরণী পেরোতে আওয়ামী লীগ যেই আইনি কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, নয়াদিল্লি হয়তো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঊর্ধ্বগামী ধারা বজায় রাখার আশায় তার সঙ্গে তাল মেলাতে প্রলুব্ধ হতে পারে। যদি নয়াদিল্লি সব সঁপে দেয়, তাহলে ভারত একই ভুল করবে, যেই ভুলের কারণে নেপাল ও মালদ্বীপে এত ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। সেই ভুলটি হলো, একটি বিশেষ দল বা নেতাকে সমর্থন দেয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ১৯৯১ সালের। মামলাটি দায়ের হয়েছে ১৮ বছর পর। মামলার বিচারকার্য ত্বরান্বিত করা হয়েছে, যাতে করে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে আগে সাজা নিশ্চিত করে খালেদা জিয়াকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রাখা যায়।
১৯৯১ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে গঠিত একটি এতিমখানায় কুয়েতের আমীর ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলার (৪.৫ কোটি টাকা) দান করেন। ওই অনুদান এসেছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিমখানা তহবিল’-এর নামে। ওই সময়ে এই নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো তহবিলের অস্তিত্বই ছিল না। ১৯৯৩ সালে কুয়েতের ওই অনুদান সুদসমেত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এরপর তা প্রদান করা হয় বগুড়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ ও বাগেরহাটের ‘জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট’ নামে নতুন গঠিত দু’টি বেসরকারি তহবিলকে। প্রথমটি গঠন করেন জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান। দ্বিতীয়টি গঠন করেন বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান। এখন পর্যন্ত এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি যে, এসব তহবিল গঠনে খালেদা জিয়ার কোনো রকম সম্পৃক্ততা ছিল। আইনি জটিলতায় ওই অর্থ আজ পর্যন্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্যাংকে সুদসমেত তা এখন ৬ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
২.৩৩ কোটি টাকার জন্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও আরো চার জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। এই মামলার আইনি হিসাবনিকাশ হয়তো বাংলাদেশের আইনি বিশেষজ্ঞরা করবেন। কিন্তু এই মামলার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
মামলা দায়ের করা হয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ২০০৬-০৮ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল ওই সরকার। তখন দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়কে রাজনীতি থেকে উৎখাতে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। উভয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। খালেদার বিরুদ্ধে চারটি। হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়। অপরদিকে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা রয়ে যায়। উল্টো দায়ের করা হয় নতুন মামলা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৩৬টি। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে ৮ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮ হাজার মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাগুলোর রাজনৈতিক চরিত্র পুরোপুরি দৃশ্যমান।
খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একটি হতে পারে যে, ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশ না নেয়। অথবা, দলটি খণ্ডিত হয়ে যায়। অথবা, এটি নিশ্চিত করা যে, দলের তারকা প্রচারকারীকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে যাক। ইতিমধ্যে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিএনপি এবারের নির্বাচন বয়কট করবে না। তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটি। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে ধরে নিয়ে বিএনপি আরো খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এটি মনে হতে পারে যে, এ থেকে লাভবান হচ্ছেন শেখ হাসিনা। ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা এখন অনেক উঁচুতে। তার শাসনামলে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের উপরে। মানুষের ব্যয় ও আয়ের মাত্রা বেড়েছে। মানব উন্নয়ন সূচকে গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে।
তারপরও বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ (সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতিকে দুর্নীতির বানোয়াট অভিযোগে দেশছাড়া করা হয়েছে), দেশ শাসনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাবের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, সুশীল সমাজ ও বাক-স্বাধীনতার ওপর হুমকি, ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম ইত্যাদি কারণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কী ফলাফল আসতে পারে, তা কিন্তু অনিশ্চিত।
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর। ভারত হয়তো চায় আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসুক। বিএনপির প্রতি ভারতের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত দলটির অতীত ইতিহাসের কারণে। অতীতে, বিএনপি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়েছে। বিএনপি ও দলটির মিত্র জামায়াতে ইসলামীর ওপর পাকিস্তানের প্রভাব রয়েছে বলেও সন্দেহ করে ভারত। এই দুই দলের মৈত্রীকে আদর্শিক ভেবে ভারত উদ্বেগের চোখে দেখে। যদিও বিএনপি প্রতিবাদ করেছে যে, এই মৈত্রী শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী জোট।
বাংলাদেশে কেউ কেউ তা-ই ভাবেন যে, দুর্বল অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে, ভারত স্বস্তিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে অধিক বৈধতা সহকারে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু এ ধরনের অনুমান হয়তো ভুল। এমন সম্ভাবনা কম যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অবনমনে ফের ভূমিকা রাখবে ভারত। আন্তর্জাতিক সমালোচনা ডেকে আনা ও বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন করে তোলা ছাড়া, ভারত ২০১৪ সালের মতো এবার আওয়ামী লীগের কূটকৌশলে সমর্থন দিতে পারবে না। ভারত তাই যেকোনো ধরনের প্রকাশ্য ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে পারে। যদি ভারতের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়, তাহলে দেশটির উচিত হবে শুধু এমন কাজকেই উৎসাহ দেয়া যার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দৃঢ়তা শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, ভারতের উচিত হবে অবাধ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় জনমত যেদিকেই যাক না কেন, তাকে উদ্ভাসিত হতে দেয়া।
(ভারত ভূষণ একজন ভারতীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তার এই নিবন্ধটি ভারতীয় পত্রিকা দ্য এশিয়ান এইজে প্রকাশিত হয়েছে।)

অনলাইনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয় সোমা

মোমেনা সোমা অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। অনলাইনে আইএস ও আল কায়েদাসহ জঙ্গি সংশ্লিষ্ট উপকরণ দেখে তাতে উদ্বুদ্ধ হন। আর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার আগে তার ছোট বোন আসমাউল হুসনা সুমনাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোমেনা সোমা নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ। সে সূত্র ধরে তার মিরপুরের বাসায় আমরা অভিযান চালাই।
সেখানে থাকা তার ছোট বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে নিজেও জঙ্গিবাদে জড়ায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসমাউল হুসনাকে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন ওপেনসোর্স এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। মোমেনা পড়াশোনার জন্য ১লা ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া যান। এর আগে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় পরে অস্ট্রেলিয়া যান। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে সে তার ছোট বোন আসমাউল হুসনাকে বলেছিল, সেখানে গিয়ে একটা অঘটন ঘটাবে। যদি বাংলাদেশের পুলিশ তার বাসায় আসে সেখানেও যেন অন্তত একজন পুলিশকে হত্যা করে সে শহীদ হয়। মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ২০১৫ সালের দিকে মোমেনা সোমা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সে সময় তার মা মারা যান। এরপর থেকে সে নিজেকে একটু গুটিয়ে নেয়। ওই সময় থেকে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমাকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদেশের পুলিশ জানায়, মোমেনা আইএসের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এরপর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সোমার বিষয়ে খোঁজ নিতে গত ১১ই ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর কাজীপাড়ার তার বাসায় যায়। সেখান থেকে আসমাউল হুসনা সুমনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিগগিরই হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিট: এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) শিগগিরই দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার তদন্ত একেবারেই শেষ পর্যায়ে। যেকোনো দিন এই মামলার চার্জশিট দেয়া হতে পারে। মামলার চার্জশিট তৈরি হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।