Sunday, September 4, 2016

হিলারি ‘অসতর্ক আচরণ’ করেছেন

হিলারি ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় রাষ্ট্রীয় কাজে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে করা তদন্তের নথি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই বিষয়ে হিলারিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন, সেই মুহূর্তেই তদন্ত নথি প্রকাশ করল এফবিআই। হিলারির নির্বাচনী শিবির থেকে নথি প্রকাশের ঘটনায় ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করে স্বীকার করা হয়েছে, তখন হিলারির পদক্ষেপ ছিল ভুল। অবশ্য ট্রাম্প ও তাঁর নির্বাচনী শিবির হিলারির বিরুদ্ধে আরও চড়াও হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, হিলারির বক্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অবিশ্বাস্য’। হিলারি ‘চরম অসতর্ক ছিলেন’ উল্লেখ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে সুপারিশ করেননি এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমে। ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে এক বছর ধরে তদন্ত করেছে এফবিআই। গত জুলাইয়ে তদন্ত শেষ হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ৫৮ পাতার নথিতে হিলারির সাক্ষাৎকারসহ নিউইয়র্কে তাঁর বাসভবনের ব্যক্তিগত সার্ভার সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য আছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমে বলেছেন, গোপনীয় তথ্যের বিষয়ে হিলারি ও তাঁর কর্মীরা ‘অসতর্ক’ আচরণ করেছেন এটা নিশ্চিত। তবে তাঁরা জেনেশুনে এ কাজ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোমে জানিয়েছেন, গোপনীয় তথ্য কীভাবে সামলাতে হয় সে বিষয়ে ‘বুদ্ধিমত্তা’ প্রদর্শন করতে পারেননি হিলারি। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা গোপনীয় তথ্য সামলানোর বিষয়ে ‘অত্যন্ত অসতর্ক’ ছিলেন। এক বার্তায় এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তে জানা গেছে, বহির্বিশ্ব থেকে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইলে প্রবেশ করা হয়েছে এবং তাঁর ও তিনি যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তাঁদের ই-মেইলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের নথিতে দেখা যায়, তদন্তকারীদের হিলারি বলেছেন, শুরুতে ‘সি’ চিহ্ন যুক্ত ই-মেইলগুলো যে গোপনীয় তা তিনি বুঝতে পারেননি তখন। তিনি মনে করেছিলেন, তা বর্ণ-ক্রমিক হয়ে আসা ই-মেইল। হিলারি গোয়েন্দাদের বলেন, তিনি গোপনীয় বিষয়গুলোর শ্রেণিবিন্যাসের দিকে না দিয়ে সব গোপনীয় নথিই ‘গুরুত্বের’ সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নথি প্রমাণ করে হিলারি প্রচণ্ড অসৎ এবং বিবেচনাবোধহীন ব্যক্তি। তিনি বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি এটা দেখে যে মার্কিন জনগণকে হিলারি যা বলেছিলেন এবং এফবিআইকে যা বলেছেন, তা পুরো সাংঘর্ষিক। নথি পড়ার পর আমি বুঝতে পারছি না তিনি কীভাবে বিচার এড়িয়ে যান।’

আজ সন্ত হচ্ছেন মাদার তেরেসা

মাদার তেরেসা
আর্তমানবতার সেবক প্রয়াত মাদার তেরেসাকে আজ রোববার সন্ত (সেইন্ট) হিসেবে ঘোষণা দেবে ভ্যাটিকানের রোমান ক্যাথলিক চার্চ। বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সন্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। এর মধ্য দিয়ে এই খেতাব পাওয়া ১০ হাজারের বেশি পুণ্যবান মানুষের দলে যুক্ত হবে তেরেসার নাম। ক্যাথলিক ধর্মমতে, সন্ত হওয়ার জন্য দুটি অলৌকিক ঘটনা অপরিহার্য, যা মাদার তেরেসা ইতিমধ্যে পূরণ করেছেন। মনিকা বেশরা নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালি নারী বলেছেন, মাদার তেরেসার সান্নিধ্যে যাওয়ার পর তাঁর পেটের টিউমার সেরে গিয়েছিল। বেশরার দাবি, একদিন তিনি তেরেসার ছবির দিকে তাকানোর পর ছবি থেকে একধরনের জ্যোতি তাঁর দিকে আসে। এতে তিনি ভালো হয়ে যান। একইভাবে ব্রাজিলের এক ব্যক্তির দাবি,
তাঁর মস্তিষ্কের টিউমারও মাদার তেরেসা অলৌকিকভাবে নিরাময় করেছেন। এই দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়ার পর তাঁদের বক্তব্যকে ভ্যাটিকান সত্য বলে গ্রহণ করে। এরপরই তেরেসার সন্তর মর্যাদা লাভের পথ উন্মুক্ত হয়। ১৯১০ সালের ২৯ আগস্ট আলবেনিয়ায় (বর্তমানে মেসিডোনিয়া) জন্ম নেন মাদার তেরেসা। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় অ্যাগনেস গোনশা বোজাশিউ। ১৯২৮ সালে তিনি ‘নান’ হলে পরিচিত হন সিস্টার তেরেসা হিসেবে। ১৯৩৭ সালের ২৪ মে পান ‘মাদার’ পদবি। আজ সন্তদের তালিকায় তাঁর নাম যোগ হবে। এখন থেকে ছবিতে তাঁর মাথার পেছনে জ্যোতির্বলয় থাকতে পারবে।

বিকল্প হতে পারে ‘বেলজিয়ান ব্লু’ by শাইখ সিরাজ

বিশ্বের অন্যতম গরু উৎপাদনকারী দেশ বেলজিয়ামে গিয়েছিলাম এ বছরই। দেশটির অন্যতম বা বিখ্যাত গরুর জাতের নাম হচ্ছে ‘বেলজিয়ান ব্লু’ বা ‘নীল গরু’। নানা নামেই ডাকা হয় এই গরুকে। যেমন ‘হোয়াইট ব্লু’, ‘ব্লু হোয়াইট’, ‘হোয়াইট ব্লু পাইড’সহ আরও নানা নামে। গরুটির নাম আসলে গরুর গায়ের রঙের ওপর নির্ভর করে। গরুতে সাদা রঙের আধিক্য বেশি হলে নাম হয় হোয়াইট ব্লু কাউ। নীল রঙের আধিক্য হলে নাম হয় ব্লু ব্ল্যাক। বেলজিয়ান ব্লু গরুর ওজন হয় গড়ে কমপক্ষে ৮০০ কেজি। বাংলাদেশি জাতের গরুগুলোর চেয়ে বেলজিয়ান ব্লুর ওজন গড়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি। আর বেলজিয়ান ব্লু ষাঁড়ের ওজন হয় গড়ে কমপক্ষে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ কেজি পর্যন্ত। বেলজিয়ামের পশ্চিম ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের একটি গ্রাম আভোলেগম। এই গ্রামেই দেখতে গিয়েছিলাম বেলজিয়ামের বিখ্যাত গরু বেলজিয়ান ব্লু। গের্থ নামের একজন খামারি অপেক্ষা করছিলেন আমাদের জন্য। স্বাগত জানিয়ে নিয়ে গেলেন খামারের ভেতরে। কিছু দূর এগিয়ে যেতেই দেখলাম গরুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাত বেলজিয়ান ব্লু বা নীল গরু, যা দেখেই মনে হলো পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য দেখছি। কী বিশালাকার প্রাণী!
বেলজিয়ান ব্লু জাতটি ষাটের দশকে মধ্য বেলজিয়াম ও বেলজিয়ামের ওপরের দিককার অঞ্চলে প্রথম বিকাশ লাভ করে। ডাবল মাসলিং বৈশিষ্ট্যের জন্য দ্রুতই বিখ্যাত হয়ে ওঠে এই জাত। এই বিশাল গরুতে রয়েছে থরে থরে মাংসপেশি। এর পিঠে কুঁজ নেই। একদম সমান। জন্মের তিন বছরের ভেতর এর ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫০ কেজি। খামারের সব বাছুরই সিজারিয়ান। আর একটি প্রাপ্তবয়স্ক মা–গরু মোট ছয়বার সিজারিয়ান প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। ভাবতে অবাক লাগে, মাত্র এক দিন বয়সী বাছুরের ওজন হয় ৬৫ কেজি, যা প্রতিদিন পাঁচ লিটার পাউডার দুধ খায়। খামারি গের্থ বলছিলেন, তিন মাস বয়স থেকে বাছুরগুলোকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয় দানাদার খাদ্য। অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে এরা। এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবাদিপশু লালন-পালন ইউনিটের কথা। সেখানে দেখেছি, বাছুর থেকে একটি প্রাপ্তবয়স্ক গরু হিসেবে বেড়ে উঠতে বিভিন্ন পর্যায়ে দুধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে দানাদার ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হয় খামারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ডো মার্কে’ নামের এক খামারে এই চিত্র দেখেছি। একই রকম দেখেছি গণচীনের শ্যাংডং প্রদেশের এক খামারে।
যে কেউ প্রথমবার গরুটিকে দেখলে চমকে উঠবে। কিন্তু কীভাবে এত বড় হয় এই গরু? খামারের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে জানলাম, এই গরুতে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় না। বেলজিয়ান ব্লুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিই এ রকম। মিয়োস্ট্যাটিন জিনের মিউটেশনের জন্য এ রকম বৃদ্ধি হয়ে থাকে। গবেষণা বলছে, বেলজিয়ান ব্লু জাতটির শরীরে আছে দুই ধরনের মিয়োস্ট্যাটিন জিন, যেটি আরেক আশ্চর্য ঘটনা। ডাবল মাসলিং বৈশিষ্ট্যের এই জাত বিশ্বের যেকোনো মাংসের গরুর থেকে বেশি মাংস দিয়ে থাকে। কি শীত কি গ্রীষ্ম, যেকোনো আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে পারে জাতটি। যে কারণে এটি এক অনন্য জাত। প্রিয় পাঠক, পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক হিসাবে দেখা যায়, এবার দেশে কোরবানির উপযোগী গরু আছে ৪৪ লাখ ২০ হাজার। ছাগল আর ভেড়া আছে ৭০ লাখ ৫০ হাজার। কিন্তু এরপরও প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আসছে। গরুর প্রশ্নে আমাদের পরনির্ভরতা রয়েই গেছে। একটি হিসাব করে দেখা যায়, আমাদের দেশি গরুর গড়ে মাংস হয় ২০০ কেজি বা ৫ মণ। বিশেষ ব্যবস্থায় লালন-পালনের মধ্য দিয়ে দেড় থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে আট বা নয় মণের মধ্যে ওঠানামা করে একটি গরু থেকে প্রাপ্ত মাংসের পরিমাণ। ঠিক এর বিপরীতে প্রাকৃতিকভাবেই বেলজিয়ান ব্লু জাতটির মাংস আসে গড়ে ৮০০ কেজি বা ২০ মণ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত। এই পরিমাণ মাংস পৃথিবীর আর কোনো গরু থেকে আসে না।
যে কারণে সংখ্যা যা-ই হোক, মাংসের চাহিদার প্রশ্নে আমাদের দেশে উৎপাদিত গরু কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেলজিয়ান ব্লু জাতটিকে যদি দেশে এনে প্রয়োজনীয় গবেষণা সম্পন্ন করে তা খামার পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে সহজেই পূরণ করা যেতে পারে দেশের মাংসের চাহিদা। ইতিমধ্যে এই জাত ইউরোপ, ব্রাজিল, আমেরিকা, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে ব্যাপকভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে। মাংসের গুণগত মান ভালো বলে এটির জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, দেশে মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গত ২০০৮-১০ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় খামার পর্যায়ে লালন-পালন শুরু হয়েছে বিখ্যাত একটি আমেরিকান জাত ‘ব্রাহমান’-এর। ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি উপজেলার খামারে চলছে এই জাতের গরুর লালন-পালন, যার ফলাফল এখন পর্যন্ত যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামার পর্যায়ে লালন-পালন করে ‘ব্রাহমান’ ও ‘বেলজিয়ান ব্লু’ এই দুই জাতের ভেতর একটি তুলনামূলক গবেষণা চালাতে পারে। যে গরুর মাংসের মান ও পরিমাণ যথাক্রমে ভালো এবং বেশি হবে, সে গরুটি বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক গবেষণা, মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি, গভীর উপলব্ধি। এই তিনের সমন্বয়ে গরুর মাংসের চাহিদা দেশেই মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ হয়তো মাংস–বিপ্লব দেখতে পারবে অদূর ভবিষ্যতে।
শাইখ সিরাজ: গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
shykhs@gmail.com

দৌড়ের ওপর আছি

অতঃপর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরা দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হলো। মঙ্গলবার খুব ভোরের দিকে মুঠোফোনের খুদে বার্তার শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে গেল। তুরস্কে সাংবাদিকদের যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপারটা একদম সাধারণ হয়ে গেছে। বার্তাটি পাঠিয়েছিল ইস্তাম্বুলে আমার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের দারোয়ান: ‘জনাব ইয়াভুজ, কিছুক্ষণ আগে পুলিশ এক চাবিওয়ালাকে নিয়ে আপনার ফ্ল্যাটে ঢুকেছে। তারা তল্লাশির সময় জিিনসপত্র নষ্ট করেনি বা কিছু নিয়েও যায়নি। তারা আমাদের বলেছে, আপনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।’ যাক, শেষমেশ পুলিশ সঠিক নিয়মেই তল্লাশি চালিয়েছে, এ কথা ভেবে আশ্বস্ত বোধ করলাম। আমার স্ত্রী তখন ইজিয়ান সাগরের উপকূলে ছিলেন। আমি তাঁকে ফোন করলাম। একবার ভেবে দেখুন, আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এভাবে তছনছ করার ঘটনায় তিনি কতটা ধাক্কা খেতে পারেন। তবে আমার কিছু হয়নি। আমি ব্যাপারটা ভালোভাবেই জানি। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিণতি হচ্ছে, তুরস্কে যতটুকু মর্যাদা নিয়ে সাংবাদিকতা করা যেত, সেটাও আর করা যাবে না। এর আগে ৭২ বছর বয়সী তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী, সৎ ও উদার কলামিস্ট শাহিন আলপাই ও বর্ষীয়ান প্রতিবেদক লালে কামালকে গ্রেপ্তারের পর আমি জানতাম, একদিন আমার দিনও আসবে। এই ধরপাকড় শুরু হওয়ার আগেই আমাদের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের ওপর হামলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। ক্রমেই তা বাড়ছিল। কুর্দিপন্থী সংবাদপত্র ওজগুর গুনদেম বন্ধ করে দেওয়া ও আসলি এরদোয়ানের মতো লেখককে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ আরেক কুর্দি সংবাদপত্র আলাদিয়া বেলাত-এ অভিযান চালায়।
দিয়ারবাকিরের এই পত্রিকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৭ জন কুর্দি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটির ৩৬ জন কর্মীকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহটা আমরা শুরু করেছিলাম প্রচণ্ড চাপ নিয়ে, সহকর্মীদের কাছে আমরা খুদে বার্তা পাঠাতাম: ‘সতর্ক থাকবেন।’ এ ছাড়া আমরা আর কী করতে পারতাম? আমরা একদিকে দুর্বল, অন্যদিকে ইউরোপীয় রাজনীতিকেরা আমাদের পরিত্যাগ করেছে। মঙ্গলবার সকালে জানলাম, মুরাত আকসয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক গণতন্ত্রী মুরাত শুধু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে মন্তব্য কলামই লেখেন না, তিনি সম্প্রতি সিএইচপি নেতা কেমাল কোদুসকাগোলুর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেদিন সকালে আরও জানলাম, আমার বাসার কাছে আলি ইয়ুরতাগিলের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। আলি আমার মতোই ইংরেজি পত্রিকা টুডেস জামান-এর কলামিস্ট ছিলেন। এ বছরের শুরুর দিকে তুর্কি সরকার জোরপূর্বক পত্রিকাটি দখল করার আগ পর্যন্ত তিনি এতে কাজ করতেন। তিনি অনেক দিন ধরেই ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের তুরস্কবিষয়ক উপদেষ্টা। অনেক সম্মানের সঙ্গে তিনি এ কাজ করছেন। এরপরই আরেক দফা ধরপাকড়ের খবর পেলাম। সেদিন ৩৫ জন সাংবাদিককে খোঁজা হয়েছে। ‘গণশত্রুদের’ নতুন তালিকা দেওয়া হয়েছে। এতে আমার নামও রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতের মধ্যে জানতে পারলাম, ওই তালিকার অন্তত নয়জনকে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের ৩০ দিন পর্যন্ত বিনা বিচারে বন্দী করে রাখা হতে পারে, জরুরি আইনে এমন বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব কেন হচ্ছে? সেদিন আইনজীবীকে দিয়ে যত চেষ্টা করিয়েছিলাম, সন্ধ্যা নাগাদ তার কোনোটাই আলোর মুখ দেখল না। এই কলাম লেখার সময়ও আমি আসলে জানি না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী? কারণ, আমার আইনজীবী বলেছেন, ‘এই ধরপাকড়-সংক্রান্ত সব ফাইল গোপনীয়।’ পাঠকের কাছে ব্যাপারটা ধাঁধার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, সাংবাদিকদের এ রকম ধ্বংসাত্মক পন্থায় টার্গেট করার মানে কী। সেই গেজি পার্কের সামনে আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় থেকেই এটা একরকম স্পষ্ট। ধরপাকড়ের যুক্তিটা খুব সাদামাটা ও সোজাসাপ্টা। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কড়া শাসনের আমলে তুর্কি সরকার ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ দিয়ে অ্যাজেন্ডা ভরে ফেলতে চাচ্ছে, যাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়। তুর্কি গণমাধ্যমের বড় একটি অংশকে এভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। কারণ, তাদের গায়ে ছাপ মারা হয়েছে, তারা গুলেনের আন্দোলনের অংশীদার। আর সব কুর্দি গণমাধ্যম যেন পিকেকের হয়ে কাজ করছে। কথা হচ্ছে,
আপনি কী সংবাদ প্রতিবেদন লিখলেন বা মন্তব্য করলেন, সেটা সমস্যা নয়। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেটাই আসল কথা। আপনি যতক্ষণ এরদোয়ানের ব্যাপারে সমালোচনামুখর ও প্রশ্নশীল থাকবেন, ততক্ষণ আপনি অবাঞ্ছিত। এ পর্যন্ত থাকলে আপনার হয়তো চাকরি চলে যাবে। কিন্তু আপনি যদি স্বাধীন সাংবাদিকতার ব্যাপারে গোঁ ধরে থাকেন, তাহলে আপনাকে গ্রেপ্তার হতে হবে। গতকাল শনিবারের আগের শনিবার প্ল্যাটফর্ম ফর ইনডিপেনডেন্ট জার্নালিজম (পি ২৪) জানিয়েছিল, ১০৮ জন সাংবাদিক কারাগারে। আর নতুন ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে সংখ্যাটা নিশ্চিতভাবে ১৫০ ছোঁবে। এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতাসীন একেপি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সাংবাদিকতার শত্রুর তালিকায় ওপরের দিকে থাকবেন। অন্য কয়েকটি একনায়কতন্ত্রের সম্মিলিত অবস্থানের চেয়েও তাঁরা ওপরের দিকে থাকবেন। তা সত্ত্বেও মনে হয়, পাশ্চাত্যের অনেকেই বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকদের এই দুরবস্থা আসলে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা-পরবর্তী ‘গণতন্ত্রের উদ্যাপনের’ অংশ মাত্র। আমি নির্বাক। অনুভূতিহীন। আমার মনটা খুবই তেতো হয়ে আছে, কারণ আমাকে ক্রন্দনরত প্রিয় মাতৃভূমি থেকে দূরে ইউরোপের একটা জায়গায় স্বেচ্ছানির্বাসনে আসতে হয়েছে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া।
ইয়াভুজ বাইডার: স্বেচ্ছানির্বাসিত তুর্কি সাংবাদিক।

জলবায়ু চুক্তি অনুমোদন

হাংঝুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শনিবার
করমর্দন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা -এএফপি
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্যারিস চুক্তি অনুমোদন করেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দুই দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার চীনের হাংঝু শহরে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক যৌথ ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বারাক ওবামা বলেন, ‘ধরিত্রী রক্ষায় অবশেষে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ খবর এএফপির। প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে সম্ভব হলে প্রাক-শিল্পায়নের পর্যায়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রিতে আনার কথা বলা হয়। জি-২০ সম্মেলনের আগ মুহূর্তে চীনের শীর্ষ আইন পরিষদ প্যারিস জলবায়ু চুক্তিটির পক্ষে অনুমোদন দেয়। আর সম্মেলনে এ বিষয়ে যৌথ ঘোষণা দেন ওবামা ও জিনপিং। এরপর চুক্তির অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের হাতে তুলে দেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। এসময় বান কি মুন আশা করেন, চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা যাবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু দূষণকারী দেশ চীন এককভাবে প্রায় ২৫ শতাংশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী।
এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দ্বিতীয়। তারা প্রায় ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুমোদন চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিরাট পদক্ষেপ। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, জাতীয় গণকংগ্রেস আইনসভা প্যারিস চুক্তি পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যাপারে প্রস্তাব গ্রহণের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিশ্বের কমপক্ষে ৫৫টি দেশ অনুমোদন দেয়ার ৩০ দিন পর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। আর এ দেশগুলো ৫৫ শতাংশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী। বিশ্বের ১৭৫টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও শনিবার পর্যন্ত মাত্র ২৩টি দেশ এটির অনুমোদন দিয়েছে। ফ্রান্স ও বিভিন্ন দ্বীপ রাষ্ট্র এগুলোর মধ্যে রয়েছে। আর এসব দেশ সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এ ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করার পর কার্বন নিঃসরণ ৪০ শতাংশ কমে আসবে। চীনের আগে যেসব দেশ কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে, তাতে মোট কার্বন নিঃসরণ কমেছে ১ শতাংশ। কারণ শিল্পে অনুন্নত এসব দেশ কার্বন নিঃসরণ করে খুবই সামান্য।
গেল বছরের ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিুে রাখতে দেশগুলো কার্বন নির্গমন কমানোয় একমত হয়। প্যারিস চুক্তি হল- বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রথম সমন্বিত চুক্তি। তবে এটি তখনই কার্যকর হবে যখন মোট কার্বন নির্গমনের ৫৫ শতাংশের জন্য দায়ী দেশগুলো চুক্তিকে সমর্থন এ চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলায় উচ্চাকাক্সক্ষামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোকে কোটি কোটি ডলার সহযোগিতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। চীনের হাংঝু এখন ভুতুড়ে নগরী বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলোর বার্ষিক ‘জি-২০’ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নিরব হয়ে গেছে চীনের ব্যস্ততম হাংঝু নগরী। এএফপি জানায়, ৯০ লাখ মানুষের কোলাহলমুখর শহরটি যেন রাতারাতি স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখানে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুসারে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শহরের সব মার্কেট, রাস্তার দোকানপাট, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং নাগরিকদের অবাধ চলাফেরা।

ফিলিপাইনে ‘অরাজক অবস্থা’ ঘোষণা

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের নিজ শহরে একটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৬৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী দাভাওয়ের একটি জনাকীর্ণ মার্কেটে শুক্রবার রাত ১১টায় এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ক্ষুদ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আবু সায়াফ এ হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছেন ফিলিপাইনের সরকারি কর্মকর্তারা। খবর এএফপির। বিস্ফোরণের পর ফিলিপাইনে অরাজক অবস্থা ঘোষণা করেন দুতের্তে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমাকে দেশে ‘অরাজক অবস্থা’ ঘোষণা করতে হচ্ছে, এটি মার্শাল ল’ নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত মার্শাল ল’ নয়, যতক্ষণ না এই পরিস্থিতি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য হুমকি আকারে দেখা দেয়। দুতের্তে আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নগরীগুলোতে সৈন্য মোতায়েন করা যাবে এবং তারা চেকপয়েন্টে পুলিশকে সহায়তা করতে পারবে।
এদিকে, স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা খুবই আশংকাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি মর্টার চালিত বিস্ফোরকের (আইইডি) অংশ পেয়েছেন। রাজধানী ম্যানিলায় এ ভয়াবহ হামলার পর পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মাক্রো পোলো হোটেলের বাইরে এ হামলাটি চালানো হয়। ওই এলাকায় প্রেসিডেন্ট দুতের্তে প্রায়ই যাতায়াত করেন। তিনি বিস্ফোরণের সময় দাভাওয়ে থাকলেও আহত হননি। এ ঘটনার পেছনে হোতা হিসেবে আবু সায়াফকে দোষারোপ করলেও এই হামলার পেছনে মাদক চক্রের হাতও থাকতে পারে বলে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবু সায়েফ গ্র“পের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের কারণে ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা বলবৎ রয়েছে। মে মাসে দুতের্তে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই দেশটির সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা।
এদিকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে ব্রুনাইয়ে তার প্রথম বিদেশ সফর বাতিল করেছেন। তার নিজ শহরে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার পর শনিবার তিনি এ সফর বাতিল করেন। প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ সচিব মার্টিন আন্দানার এএফপিকে বলেন, রোববার প্রেসিডেন্টের ব্র“নাই সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মাত্র দু’মাস আগে দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করা দুতের্তের প্রতিবেশী দেশগুলোতে উদ্বোধনী সফরের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বন্দর সেরি বেগাওয়ান সফরের কর্মসূচি ছিল। আন্দার জানান, একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের জন্য মঙ্গলবার দুতের্তের লাওসে এবং সেখান থেকে বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল।

মানসম্মত শিক্ষাই হোক অঙ্গীকার

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর। বিশ্বনেতারা একসঙ্গে বসে আত্মতুষ্টিতে আলাপ জুড়েছেন, কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও যতটুকু অগ্রগতি তা আশা জুগিয়েছে নেতাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭টি ধারা সংবলিত একগুচ্ছ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল। আর এ নতুন লক্ষ্যমাত্রাটি মূলত এমডিজিরই বর্ধিত সংস্করণ। ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগাম বা ইউএনডিপির কর্তারা খেটেখুটে, পৃথিবী ঘুরে, নানা সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা সাজিয়েছেন, যাকে আমরা বলছি এসডিজি বা সাসটেইনেবল ডেভেলেপমেন্ট গোলস বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। এ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চার নম্বর ধারাটি হল অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাপূর্ণ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি। বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, অর্থাৎ এমডিজিতে শুধু সংখ্যার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল, যেমন বিদ্যালয়ে ভর্তির হার, পাসের হার ইত্যাদি। অন্যদিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমান সুযোগের মানসম্মত শিক্ষার কথা। জীবনব্যাপী শিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে, অর্থাৎ প্রথাগত শিক্ষা শেষ হয়ে গেলেও যেন শিক্ষার দ্বার বন্ধ হয়ে না যায়। সারা জীবনের জন্য শিক্ষার বন্দোবস্ত করা গেলে সত্যিকার অর্থেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তবে এর আগে কিছু পূর্বশর্ত তো রয়েছেই। একটি দেশের জনগোষ্ঠীকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যের মধ্যে রেখে নিশ্চয়ই এ জীবনব্যাপী কিংবা মানসম্মত শিক্ষার বন্দোবস্ত সম্ভব নয়।
এখনও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সঙ্গে নিত্যদিন লড়াই করছে। সাম্প্রতিক সময়ে হয়তো গড় মাথাপিছু আয় কিছুটা বেড়েছে; কিন্তু সেই আয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সব মানুষের ক্ষেত্রে এখনও সমান নয়, তার চেয়েও দুঃখজনক বিষয় হল, অদূর ভবিষ্যতে সমান হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখতে পাই না। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে শহরের অসংখ্য বস্তিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এখনও বিদ্যালয়ে নাম লেখাতে পারে না, সরকারি হিসাবে যত সংখ্যক শিশু বিদ্যালয়ে নাম লেখায়, তাদের মধ্যে এখনও ২১ শতাংশ শিশু প্রাথমিকের পাঠ শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে। মানুষের মুখে আহার নেই, শরীরে পুষ্টিহীনতা ও রোগ-শোক, চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ, বস্তিগুলোতে লাখো পরিবারের বসবাস, অথচ নেই বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক ব্যবস্থাও। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সব সূচকে এ দুরবস্থা বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। একটি পরিবারের পার ক্যাপিটাল ইনকাম ও চাহিদার ফারাক হিসাব করলেই আমাদের সমাজের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের করুণ চেহারাটা প্রকাশ পায়। তুলনামূলক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকের অবস্থা যখন তলানিতে, প্রথাগত পড়ালেখার যে ভিত্তি প্রাথমিক পর্যায় সেই প্রাথমিকেরই যখন করুণ অবস্থা, তখন কোথায় রয়েছে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং আমাদের উচ্চশিক্ষা, তা সহজেই অনুমেয়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গেলে কিছু কাজ পূর্বশর্ত হিসেবে সমাধা করতে হয়। ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট জনপদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতির হার কম, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সেখানে দারিদ্র্যের মাত্রা প্রকট,
তাদের ক্ষুধার যন্ত্রণা মেটাতেই অনেক সময় ব্যয় করতে হয়, নয়তো পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে অন্ন সংস্থানে যেতে হয়। উদাহরণ হিসেবে আমরা হাওর অঞ্চলের কথা বলতে পারি। সেখানকার শিশুরা বর্ষাকালে তুলনামূলক বেশি বিদ্যালয়বিমুখ থাকে। এমনিতেই তো যাতায়াতে সমস্যা, তার ওপর ঘরে খাদ্য সংকট, এহেন পরিস্থিতিতে তাদের নেমে পড়তে হয় মাছ ধরার কাজে। অতএব ক্ষুধার সমস্যা সমাধান না করা গেলে শিক্ষায় কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অসম্ভব। অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের মানোন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ওই নির্দিষ্ট জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়নও কম জরুরি নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থাই যেন বেশি অবহেলার শিকার হচ্ছে, অথচ প্রাথমিক শিক্ষার শক্তিবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি জরুরি। অবহেলাপূর্ণ, পরিত্যক্ত কিংবা প্রায় পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ে শিশুদের কাক্সিক্ষত বিকাশ আশা করা যায় না। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য বিশেষ বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার মানবৃদ্ধিতে আপাতত সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতেই হবে। শিক্ষাকে মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি। মূল প্রবৃদ্ধির অন্তত ছয় শতাংশ না হলে শিক্ষার সুফল ঘরে আনা কষ্টসাধ্য কাজ। আমরা শিক্ষার জন্য উচ্ছিষ্ট অংশটুকু রেখে দিয়ে ভালো ফল আশা করব এটি নিঃসন্দেহে বোকার স্বর্গে বসবাসের শামিল। ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার দীপশিখা কিছুটা শানিত হতে পারে,
কারণ ব্যক্তি মিলে সমাজ ও দেশ; কিন্তু এখানে মোটা দাগে সরকারি সহযোগিতা, প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শিক্ষার মান পরিচর্যায় সরকার যদি আগ্রহ না দেখায়, তাহলে ‘পয়সা যার শিক্ষা তার’ নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, শিক্ষা হয়ে উঠবে বাণিজ্যের বড় হাতিয়ার। অন্যদিকে এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী শিক্ষার সুফল থেকে বাইরে ছিটকে পড়বে। কারণ তাদের হাতে তো অঢেল পয়সা নেই। শিক্ষার এ ভয়াবহ বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে শিক্ষা খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। অথচ আমরা দেখছি দিন দিন শিক্ষায় আগ্রহ কমছে সরকারের। শিক্ষার বাজেট ও আনুষঙ্গিক সহায়তা বৃদ্ধির বদলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বনির্ভর করার কথা বলা হচ্ছে, শিক্ষার বাজেটকে আরও দশটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় যে, তাকে ব্যবসা করে মুনাফা লাভ করতে হবে, মুনাফা অর্জিত না হলে পরের বছর তালা ঝুলিয়ে দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে শিক্ষার জন্য, গবেষণার জন্য, নিত্যনতুন জ্ঞান সন্ধানের জন্য। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এগুলো কোনো কঠিন বিষয় নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতার পরিচয় দেয়া। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নেই, শিক্ষক নেই, শিক্ষক থাকলেও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই,
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খবর আরও খারাপ, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার ন্যূনতম মানদণ্ড রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণটা খুবই সহজ- অনেক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা নেই, তবু তারা যা করছেন তাকে অনেকটা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর গল্পের মতো। সরকারি ও অন্যান্য কলেজ, যেখানে অনার্স ডিগ্রি দেয়া হয়, সেখানে কিছুদিন আগেও সেশনজটের পাহাড় ছিল, পাস করে বের হতে হতে আট থেকে নয় বছর লেগে যেত, সেখানে ইদানীং ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, বেশিরভাগ কলেজে ক্লাস-পরীক্ষার কোনো খোঁজ নেই, অথচ সাত থেকে আট মাস কোনোভাবে গেলেই এখন শুরু হয় বার্ষিক পরীক্ষা। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তেলেসমাতির খবর সবাই পত্রপত্রিকার বদৌলতে কম-বেশি জানি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-গবেষণার মন্থরগতি, অন্যদিকে হাতেগোনা কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য। এসব সমস্যা মোকাবেলায় একদিকে যেমন দ্রুত শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে, অন্যদিকে অনিয়ম মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। নয়তো মানসম্মত শিক্ষা সুদূরপরাহত থেকে যাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও কোনো কাজে আসার কথা নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ও পদ্ধতি আমাদের বেশি মানোপীড়ার জন্ম দেয়। এখানে শিক্ষার যে বন্দোবস্ত দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, একজন শিক্ষকই সব বিষয় পাঠ দিচ্ছেন, বাংলা, গণিত থেকে ইংরেজি, বিশেষায়িত শিক্ষক নেই সেখানে, তার ওপর নিত্যনতুন শিক্ষাপদ্ধতি প্রবর্তনের হিড়িক, দফায় দফায় সিলেবাস পরিবর্তন তো আছেই। যেমন, কয়েক বছর আগে সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি নামে যে পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে তার কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিশেষ কোনো কথাবার্তা নেই।
জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিটি শিক্ষকদের নাগালের বাইরেই রয়ে গেল এতদিন ধরে। শিক্ষকদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার তৎপরতার কোনো খবর এখনও আমাদের কাছে নেই, শিক্ষকরা নিজেদের বিচার-বুদ্ধি, মেধা এবং বাজারে প্রচলিত নোটবই অনুসরণ করে শিশুদের জন্য পাঠ তৈরি করছেন। শিশুরাও আগের তুলনায় মূল বইবিমুখ হয়ে ঝুঁকেছে নোটবইয়ের দিকে। অথচ সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি চালু করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের পাঠ্যবইমুখী করা। এখন শিক্ষকদের একটি বড় অংশও নোটবইমুখী। এ হল প্রাথমিক শিক্ষার দুর্দশার একটি দিক, আরও বহু হতাশার চিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। একথা ঠিক, বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে; কিন্তু শিক্ষার মান যে বাড়ছে না একথা মানতে হবে। যাদের পয়সা আছে তারা সন্তানদের বিভিন্ন নামি-দামি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন, নিজের সন্তানের জন্য নিশ্চিত করছেন মানসম্মত শিক্ষা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় সে কথাও আমাদের মাথায় রাখা উচিত। কিন্তু আমরা কিছুতেই সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা ভুলে যেতে পারি না, যারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ নেয়। তাদের জন্য অবশ্যই মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্তাব্যক্তিরা শুধু বড় বড় কথা বলেই খালাস, তারা জাতির সামনে বছরে একবার বই বিতরণ করেন; ঘোষণা করেন, এবার ভর্তির হার যে কোনো বছরের তুলনায় বেশি; কিংবা বলেন, এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু হাজার হাজার বিদ্যালয় যে প্রধান শিক্ষকবিহীন কীভাবে দিনের পর দিন চলছে সে খবর তারা আমাদের জানান না। প্রাথমিক শিক্ষার মান যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, শিক্ষার পরবর্তী ধাপগুলোর মান সংরক্ষণ করাও কঠিন হবে। যতই সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মেয়াদ শেষ হয়ে যাক, যতই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নতুন করে নির্ধারিত হোক না কেন, ইতিবাচক উদ্যোগ না নিলে আমাদের শিক্ষার মান সংরক্ষণ সহজ হবে না। মানসম্মত শিক্ষাই হোক আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের অঙ্গীকার।
ড. মো. শরিফ উদ্দিন : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, গণিত বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেসিডেন্ট, রিসার্চ ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব কমপ্লিট এডুকেশন

মেধা আছে, নেই এর প্রয়োগ

সমাজে কখনও কখনও এমনসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংঘটিত হয়, নানা কারণে সাধারণ দৃষ্টি বা প্রচলিত আইনকানুন দ্বারা এর প্রকৃত স্বরূপ ও রহস্য উদ্ঘাটন এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ কিংবা সম্ভব হয় না। ঘটনাগুলো যত স্পর্শকাতর ও অবাঞ্ছিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনকই হোক না কেন, সংঘটিত হওয়ার পর এ নিয়ে প্রথম প্রথম বেশ হৈচৈ, কৌতূহল ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা, খামখেয়ালিপনা, স্বার্থপরতা, অজ্ঞতা বা সদিচ্ছার অভাবে অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যায়। ফলে আসল রহস্য সাধারণের কাছে অনুদ্ঘাটিতই থেকে যায়। আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। অথচ প্রচলিত বিধিবিধানের বাইরে অন্তর্দৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি প্রয়োগ করেও এমনসব আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পাশাপাশি ব্যক্তির উপস্থিত বুদ্ধি ও সদিচ্ছাটি থাকতেই হবে। দেশে নানা ধরনের আপাত জটিল সংকটের মুখোমুখি হই আমরা। এসব সংকটের সমাধান কঠিন মনে হলেও যথোপযুক্ত প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা থাকলে সেগুলোর সহজ সমাধান সম্ভব। সমস্যা হচ্ছে, আমরা আমাদের মেধা ও ধীশক্তির প্রয়োগ ঘটাতে চাই না। কখনও কখনও উদাসীন থেকে যাই। তাতে সমস্যা আরও জটিলতর হয়। সমাজের সবাই যদি সুবিবেচনা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে সক্ষম হয় তাহলে এ সমাজকে অনেকটাই সমস্যামুক্ত রাখা যেতে পারে। বিচক্ষণতা ও তাৎক্ষণিক বুদ্ধি প্রয়োগ করে যে সত্য উদ্ঘাটন করা যায় তা নিয়ে দুটি গল্প তুলে ধরা যেতে পারে। মা ও সন্তানের বহুল প্রচলিত গল্পটি বোধকরি সবারই জানা।
হাকিমের সামনে এমন এক বিচার এনে উপস্থাপন করা হল যেখানে একটিমাত্র শিশুসন্তানের একই সঙ্গে দাবিদার দু’জন নারী। তারা উভয়ে যার যার গর্ভজাত সন্তান বলে দাবি করছে শিশুটিকে। বিচারক নানাভাবে চেষ্টা করে বুঝে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রায় দিলেন, সন্তানটিকে সমানভাবে মাঝখানে কেটে তাদের দু’জনকেই ভাগ করে দেয়া হবে। রায় শুনে একজন তো মহাখুশি। কখন শিশুটির দেহের অর্ধেক কাটা অংশ তার হাতে আসবে। আর রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের দাবিদার দ্বিতীয়জনের অস্থিরতা বেড়ে গেল- তারা কি সত্যি সত্যিই শিশুটিকে কেটে ফেলবে? ছটফট করতে করতে ওই নারী বলে উঠল, ‘দোহাই ধর্মাবতার, দয়া করে আমার কথা শুনুন। আমি এ শিশুর মা হতে চাই না। ও-ই (অপর নারী) আসলে শিশুটির মা। আমি এতক্ষণ অভিনয় করেছিলাম। দোহাই আপনাদের, শিশুটিকে কাটবেন না।’ স্বনামখ্যাত সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিত বুদ্ধি নিয়ে শোনা একটি গল্পের কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর নবম শ্রেণীর ক্লাসে আমাদের মূরারী স্যার (মূরারী মোহন শীল) গল্পটি বলেছিলেন। গল্পটি অনেকটা এ রকম- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তখন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কলকাতার আশপাশের কোনো মফস্বল শহরে কর্মরত। একদিন তার এজলাসে চুরির এমন একটি নালিশ এলো যাতে বাদী ও বিবাদী উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন। তাদের একজন হলেন গ্রামের কর্তব্যরত চৌকিদার এবং অন্যজন আগন্তুক; ঘটনাসংশ্লিষ্ট বাড়ির একরাতের অতিথি। এমন অদ্ভুত একটি মামলা হাতে পেয়ে বিচারক বঙ্কিমচন্দ্র অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
তিনি আরও হতবিহ্বল হয়ে পড়েন মামলার একমাত্র সাক্ষী একজন বিধবা মহিলার মুখ থেকে ঘটনার আদ্যোপান্ত বিবরণ শুনে। ওই বিধবার বাড়িতে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরেই এ মামলার সূত্রপাত। সংসারে মহিলার কেউ নেই। রাতে তিনি প্রতিদিনের মতো একাই ঘরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেন। এমন সময় জনৈক আগন্তুক এসে অতিথি হিসেবে রাতটি কাটানোর জন্য তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। মহিলা বিপদগ্রস্ত লোকটিকে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর ঘরের বারান্দায় শোবার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে ভেতরে গিয়ে ঘুমান। গভীর রাতে লোকজনের চিৎকার শুনে বিধবার ঘুম ভাঙে। বাইরে এসে দেখেন এক তেলেসমাতি কাণ্ড। অতিথি এবং গ্রামের চৌকিদারের মধ্যে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ বেধে গেছে। অতিথি বলছেন, চৌকিদার ব্যাটাকে ঘরের মালপত্র চুরি করার সময় তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন। আর চৌকিদার পাল্টা অতিথিকে ধরেই ‘চোর ধরেছেন’ বলে চিৎকার শুরু করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় মহিলা তো হতভম্ব। তার বিশ্বাস, অতিথি মানে ‘সাক্ষাৎ নারায়ণ’। তার পক্ষে এ বাড়িতে চুরি করা একেবারেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া চৌকিদারকে নিয়ে চুরির কথা ভাবা যায় কীভাবে? গ্রামবাসীর সুবিধা-অসুবিধা ও নিরাপত্তা বিধানে তিনি তো সদা-সক্রিয়। মামলাটি তার এজলাস পর্যন্ত গড়ালে হাকিম হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেও এ নিয়ে পড়ে যান এক মহাবিড়ম্বনায়। আসলে কে দোষী? শেষ পর্যন্ত তার মাথায় এক বুদ্ধি এলো। সে সময় কলকাতা শহরে সুবিখ্যাত একটি সার্কাস দল ছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে সার্কাস দলের ম্যানেজারের খুবই ভাব। ওই সার্কাস দলে এমন একজন অভিনেতা ছিল, যে কিনা মরার ভান ধরে পড়ে থাকলে সাধারণ কারও পক্ষে তাকে জীবিত ভাবার কোনো অবকাশ থাকত না। বঙ্কিমচন্দ্র যোগাযোগ করলেন ম্যানেজারের সঙ্গে। লোকটি এলে পরিকল্পনা অনুযায়ী মরার ভান করে বেশ দূরের একটি গো-পাটে গিয়ে শুয়ে পড়ে থাকে সে। অভিযুক্ত অতিথি ও চৌকিদারের কাছে হাকিম এ মামলা নিয়ে তার বিড়ম্বনার কথা ব্যক্ত করেন এবং অভিনব শাস্তি হিসেবে দূরের গো-পাট থেকে উভয়কে ‘মরা লাশটি’ বহন করে আনার নির্দেশ দেন।
অনন্যোপায় হয়ে চৌকিদার ও অতিথি তাকে বহন করে এজলাসের দিকে রওনা দেন। এহেন দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা ও দুর্গতি-দুর্দশায় তারা খুবই মর্মাহত। রাগ, ক্ষোভ আর অপমানবোধ তাদের একেবারে বোবা বানিয়ে ফেলেছে। কিছুক্ষণ চলার পর চৌকিদারই প্রথম নীরবতা ভেঙে বলতে শুরু করেন, ‘আমি চৌকিদার। গ্রামের সবাই আমাকে বিশ্বাস করে। সুযোগ বুঝে মাঝে-মধ্যে আমি এটা-ওটা চুরি করেই থাকি। আমাকে কেউ কখনও সন্দেহ করে না। আপনি মশাই ভদ্রলোক, একটি রাতের জন্য এসেছেন। আমাকে ধরে অযথা কেন এ ফ্যাসাদে জড়াতে গেলেন? এবার বুঝুন মজা!’ চৌকিদারের মুখে এসব কথা শুনে বেচারা অতিথির অন্তর্জ্বালা যেন আরও বেড়ে গেল। তিনি বলতে থাকেন, ‘মশাই, এ দেশে যে এমন বিচার তা কি আর আমার জানা ছিল? ভাবলাম, বিপদকালে মাতৃসম মহিলা করুণা ও স্নেহপরবশ হয়ে আশ্রয় দিয়েছেন। ক্ষুধার্ত পেটে রাতে তার ঘরে অন্ন গ্রহণ করেছি। এমন পরোপকারীর ঘরে চুরি হবে আর আমি চুপ করে বসে থাকব- ঈশ্বর আর যাই হোক এমন অধর্ম সহ্য করবেন না। আর এ কারণেই তো আপনাকে চুরি করতে দেখে এভাবে জড়িয়ে ধরে চিৎকার শুরু করি।’ এসব কথা বলতে বলতে অতিথি ও চৌকিদার একসময় এজলাসে গিয়ে উপস্থিত হলেন। হাকিমের আসনে উপবিষ্ট বঙ্কিমচন্দ্র স্বয়ং। তার সামনে ঘর থেকে বোঝাটি নামিয়ে মাটিতে রাখতে না রাখতেই ‘মরদেহটি’ সজীব হয়ে ওঠে এবং খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই সোজা হয়ে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত দু’জনই প্রমাদ গুনেন। তারা উভয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন- ব্যাপারটা আসলে কী, এ কী করে সম্ভব! অতঃপর সার্কাস দলের সুদক্ষ অভিনেতার দেয়া স্টেটমেন্ট অনুযায়ী প্রত্যুৎপন্নমতি বিচারকের পক্ষে মামলাটির রায় ঘোষণা করতে আর কোনো ইতস্তত করতে হয়নি।
বিমল সরকার : সহকারী অধ্যাপক

মুস্তাফিজ নিক নাইটের বিশ্ব একাদশে

সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার নিক নাইট বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন। কমেন্ট্রি বক্সে বসে দেখেছেন অনেকের খেলা। নিজের পছন্দের বিশ্ব একাদশে তিনি রেখেছেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন মোস্তাফিজুর রহমানকে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসাইন এ সময়ের জনপ্রিয় তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে তার পছন্দের সীমিত ওভারের একাদশ তৈরি করেন। আর এই একাদশের বিপক্ষে খেলার মতো বিশ্ব একাদশ বানাতে গিয়ে নিক নাইট তার পেস আক্রমণের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের ওপর। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ চলাকালেই তারা এ পাল্টাপাল্টি একাদশ গঠন করেন। স্কাই স্পোর্টস নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে সেই একাদশ প্রকাশ করেছে। নাসের হুসাইন তার পছন্দের একাদশের নাম দিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান একাদশ’।
আর নিক নাইট মুস্তাফিজদের নিয়ে বানানো একাদশের নাম দিয়েছেন ‘বিশ্ব একাদশ’। সমসাময়িক ক্রিকেটারদের নিয়ে নাসের হুসাইন সীমিত ওভারের একাদশ সাজান। তার একাদশে একমাত্র ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া থেকে সুযোগ হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথের। নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন ও ট্রেন্ট বোল্টকেও রাখা হয়েছে তার একাদশে। ভারতের সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড় আছেন বলেই হয়তো নাসের তার একাদশের নাম দিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান একাদশ’। ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে রয়েছেন ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের এই স্পিনারের সঙ্গে একাদশে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিন।
পেসার হিসেবে বোল্টের সঙ্গে জায়গা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনের। আর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ার্নারের সঙ্গে রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কককে। নিক নাইট ভারতের কোনো খেলোয়াড়কে তার একাদশে রাখেননি। তার দলে ওপেনার হিসেবে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ। তিন নম্বরে নিক নাইট রেখেছেন স্বদেশী জো রুটকে। চার নম্বরে প্রোটিয়া তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। মিডল অর্ডারে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জর্জ বেইলি ও ইংল্যান্ডের জশ বাটলার। পেস বোলার হিসেবে মুস্তাফিজের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা। স্পিনার হিসেবে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার এবং ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। ওয়েবসাইট।

ঈদের নাটকে নতুন জুটি ইমন-নেহা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে একাধিক নাটকে জুটি হিসেবে অভিনয় করেচেন চিত্রনায়ক ইমন ও নেহা। তাদের জুটি হয়ে অভিনীত নাটকগুলোর অন্যতম হচ্ছে সাদেক সিদ্দিকীর টেলিফিল্ম ‘ভালোবাসায় বসবাস’ এবং বি ইউ শুভ’র নাটক ‘শুভ্রার ওয়্যারড্রব’। যদিও ‘শুভ্রার ওয়্যারড্রব’ নাটকটির নাম প্রথম ‘শুভ্রার আলমারি’ ছিল বলে জানিয়েছেন পরিচলক। পরে বিশেষ কারণে নাম পবিবর্তন করা হয়েছে। নাটকগুলো প্রসঙ্গে ইমন বলেন,‘ নেহার সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করেছি। নতুন হিসেবে নেহা বেশ ভালো অভিনয় করেন। তার সঙ্গে দুটি নাটক কাজ করে নেহার প্রতি আমিও মুগ্ধ। এছাড়াও নাটকগুলোর গল্পও দারুন। মূলত গল্পের প্রয়োজনেই আমাদের একসঙ্গ কাজ করা।’ নেহা বলেন,
‘ ইমন ভাই অনেক ভালো একজন অভিনেতা। সাদেক সিদ্দিকী ভাইয়া এবং শুভ’র কাছে আমি কৃতজ্ঞ তারা আমাকে ইমন ভাইয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। ইমন ভাই খুবই সহযোগিতা পরায়ণ একজন শিল্পী। আমি অভিনয় করে আনন্দিত। দুটি কাজ নিয়েই আমি দারুণ আশাবাদী। ’ এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে একাধিক নাটকে কাজ করছেন ইমন। তার মধ্যে দীর্ঘদিন পর বন্ধু সারিকার সঙ্গে জুটি বেঁধে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। অপরদিকে নেহাও বেশ কিছু ঈদের নাটকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছনে। তার মধ্যে গতকাল থেকে মানিকগঞ্জে গোলাম মুক্তাদীর শানের নির্দেশনায় একটি নাটকে অভিনয় শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।