Saturday, June 3, 2017

এক মেয়ে আইএস ডেরায় মরতে চাইতেন, অন্য জন গিয়েছেন মারতে

কেউ গ্ল্যামারের র‌্যাম্প ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছেন বন্দুক, কেউ চালিয়ে যাচ্ছেন আইনি লড়াই। লক্ষ্য একটাই। গুঁড়িয়ে দিতে হবে ইসলামিক স্টেটকে। একজন সরাসরি ভুক্তভোগী, অন্য জন সুদূর কানাডায় বসে শুধুই আইএস বিরোধী। ইয়াজিদি বন্দি আর কানাডার মডেল। এই দু’জনকে মিলিয়ে দিয়েছে লড়াই। খতম করতে হবে আইএস।
‘‘কোজোর স্কুলে জঙ্গিরা যখন পুরুষ আর মহিলাদের আলাদা আলাদা করে দাঁড় করিয়েছিল, ভাবছিলাম আমাদেরও যেন পুরুষদের মতোই মেরে ফেলা হয়। প্রতি দিন সিরিয়ান, ইরাকি, তিউনিশিয়ান, ইউরোপিয়ানদের হাতে বিক্রি, ধর্ষিতা হওয়ার থেকে প্রাণে মরে যাওয়া অনেক ভাল।’’ কথাগুলো বলার সময়ও আতঙ্কে গলা কাঁপছিল আইএস-এর ডেরা থেকে পালিয়ে আসা নাদিয়া মুরাদের।
তিন বছর আগে ২০১৪ সালের গ্রীষ্মকালে তাঁকে অপহরণ করে মোসুলে নিয়ে গিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। সেই বছরই নভেম্বর মাসে পালিয়ে আসেন মুরাদ। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের কাহিনি শোনান মুরাদ। এর পর থেকেই নিজের গোষ্ঠী ইয়াজিদির মহিলা ও উদ্বাস্তুদের জন্য আইনি লড়াই লড়ছেন ২৪ বছরের মুরাদ। পেয়েছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের শাকারভ পুরস্কারও। তাঁর সঙ্গেই এই পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন আরেক ইয়াজিদি মহিলা লামিয়া আজি বাশার।
মুরাদের সঙ্গেই অপহৃত হয়েছিলেন ১৯ বছরের বাশার। যৌনদাসীর জীবন থেকে পালিয়ে আসার সময় ল্যান্ডমাইন ফেটে এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়। বাশার বা মুরাদ পালিয়ে এলেও এখনও আইএস-এর হাতে বন্দি ৩,০০০ মহিলা।আর এই সব বন্দি মেয়েদের উদ্ধারের লক্ষ্যে আর এক মেয়ে বন্দুক হাতে নেমেছেন গ্ল্যামার জগতের হাতছানি ভুলে। অ্যানা টাইগার বি-ম্যান। কানাডিয়ান এই মডেল যোগ দিয়েছেন কুর্দিশ অল-ফিমেল মিলিটারি ইউনিটে। বললেন, ‘‘মডেল থাকাকালীনই আমি ভিতর থেকে অনুভব করছিলাম কিছু একটা করতে হবে। তবে লড়াইটা শুধু আইএস-এর বিরুদ্ধে নয়। লড়াইটা মহিলাদের অধিকার, সম্মানের জন্য। আইএস নির্মূল হয়ে যাওয়ার পরও এই লড়াই চলতে থাকবে। আইএস ওঁদের যৌনদাসী করে রেখেছে। জোর করে বিয়ে করছে। সন্তান উত্পাদনের যন্ত্র ছাড়া মেয়েরা কিছুই নয় ওদের কাছে। মডেলিংও মাঝে মাঝে আমার খুব সেক্সিস্ট মনে হতো। জানতাম আমি যা করতে চাইছি তা কানাডায় বসে হবে না। আমি অস্ত্রচালনা করতে আগেই জানতাম। শিকারে গিয়েছি অনেক বার। কিন্তু মানুষকে তাক করে গুলি চালাতে হাত কাঁপতো। নিজেকে বুঝিয়েছি, ওরা মানুষ নয়। আমি মধ্য এশিয়ার মানুষদের বাঁচাতে চাই তাই এখানে এসেছি। আমি নিজের মধ্যে সেই পরিবর্তনটা এনেছি যা পৃথিবীতে দেখতে চেয়েছি। জানি আমার মৃত্যু হতে পারে এ ভাবে। কিন্তু বয়স হয়ে গিয়ে ওষুধ খেয়ে বেঁচে থাকার থেকে এ রকম কিছুর জন্য প্রাণ দেওয়া আমার কাছে অনেক গ্রহণযোগ্য।’’
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

আইনি জটিলতায় রমেক হিমঘরে ৪ বছর ধরে ৪ লাশ by জাভেদ ইকবাল

রংপুর মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে ৪ বছর ধরে পড়ে থাকা নিপা রানীসহ চার লাশের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালসহ প্রশাসন মহলে সর্বত্রই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনগত জটিলতার কারণে বছরকে বছর ধরে লাশ পড়ে থাকায় এখন সেটি কংকালে পরিণত হয়েছে। যা দেখে চেনার উপায়ও নেই। এদিকে রমেক হাসপাতালে মৃত নিপা রানীর ফাইল কোথায় তা কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। হাসপাতালের পরিচালক ওয়ার্ড মাস্টারকে দায়ী করলেও ওয়ার্ড মাস্টার হাসপাতালের প্রশাসনকে দায়ী করছে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ। সরজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামনিয়া এলাকার অক্ষয় কুমারের মেয়ে নিপা রানী।
নিপা পার্শ্ববর্তী বোরাগাড়ি গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবীর রাজুর প্র্রেমে পড়ে গত ২০১৩ সালে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করে। এ বিয়ের বিষয়টি মেনে নেননি নিপার বাবা অক্ষয় কুমার। তিনি এ ঘটনায় রাজুকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ রাজুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালে নিপার বাবা জোর করে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পায় রাজু। ওদিকে নিপার পিতা তার মেয়ের ওপর শুরু করে নির্যাতন। একপর্যায়ে নিপা বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রেমিকার মৃত্যু খবর শুনে রাজুও বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। শুরু হয় নিপার লাশ নিয়ে টানাটানি। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে দ্বন্দ্ব লেগে যায়। লাশের দুইজন দাবিদার হওয়ায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। মেয়ের লাশ নিয়ে সৎকার করতে চেয়েছেন হিন্দু সমপ্রদায়ের বাবা, অপরদিকে পুত্রবধূর লাশ নিয়ে দাফন করতে চেয়েছেন মুসলিম শ্বশুর। নিপা রানীর বাবা অক্ষয় কুমার তার মেয়ের লাশ দাবি করে আদালতে মামলা করেন। অন্যদিকে তার স্বামী রাজুর বাবা জহুরুল ইসলামও পুত্র বধূর লাশ দাবি করেন। ফলে মামলার নিষপত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাশ কার জিম্মায় দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে জানান আদালত। সেই থেকে নিপার লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেথ হাউজে রাখা হয়। এ মামলা এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, নীপার বাবা ও রাজুর বাবা দুজনেই লাশ দাবি করছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকেই লাশ দেয়া যাবে না। এদিকে ডেড হাউজের সব ফ্রিজ নষ্ট থাকায় লাশগুলো কংকাল হয়ে গেছে। এখন লাশগুলো শনাক্ত করার উপায় নেই। ওদিকে আরো দেখা যায়, হাসপাতালের ডেথ হাউজ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাখা ৩টি বেওয়ারিশ লাশের মধ্যে একজন নারী ও দুই জন পুরুষ। এর মধ্যে গত ৩০শে এপ্রিল ২০১৫ সালে এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৩রা মে ২০১৫ ইং তারিখে তিনি মারা যান। ওই ব্যক্তির কোনো নাম ঠিকানা না থাকায় হাসপাতালের ডেড হাউজে তার লাশ রেখে দেয় হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ২০১৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার লাশও বেওয়ারিশ হিসেবে ডেথ হাউজে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্য লাশটি কবে থেকে ডেথ হাউজে পড়ে আছে তার দিন তারিখ সাল কিছুই বলতে পারেনি হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ সর্দ্দার অফিস। ছেলের পিতা জহুরুল ইসলাম জানান, নীলফামারী আদালতে নিপা এফিডেভিট করে মুসলিম হয়ে তার ছেলেকে বিয়ে করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তারা দুইজনই মারা গেছে। তিনি তার পুত্রবধূর লাশ দ্রুত দাফনের অনুমতি চান। ডোমার উপজেলার বামনিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম তিতাস ও গোদাগাড়ী ইউপি সদস্য রাশেদুজ্জামান জানান, আইনি জটিলতায় প্রায় ৪ বছর লাশ হিমঘরে পড়ে থাকাটা দুঃখজনক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মউদুদ হোসেন জানান, এ মাসেই এখানে যোগদান করেছেন। লাশগুলো কেন দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। কাগজ পত্র দেখে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দারুণ বুদ্ধি অর্থমন্ত্রীর by শামীমুল হক

বেতনের টাকা থেকে সরকারকে আয়কর দিতে হয়। যে বাড়িতে থাকি তার ট্যাক্স দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিল দেবো সেখানেও ভ্যাট দিতে হয়। আপনজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললেও দিতে হচ্ছে কর। অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ফি। আগে যে ডাক্তার ফি নিতেন ৫০০ টাকা। বর্তমানে সেই ডাক্তারকে দিতে হয় হাজার টাকা। রিপোর্ট দেখাতেও দিতে হয় ৫/৬ শ’ টাকা। কারণ ডাক্তারও যে আয়কর দেন। সে আয়করতো উঠাতে হবে রোগীর কাছ থেকেই। ওষুধ কিনতে গেলাম সেখানেও ভ্যাট সংযুক্ত করে সিরাপ, ইনজেকশন, ইনসুলিন, ক্যাপসুল ও  ট্যাবলেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সেভাবেই কিনতে হচ্ছে জীবন বাঁচানোর ওষুধ। কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে ধরিয়ে দিচ্ছে বিল। যেখানে সংযুক্ত করা হচ্ছে ভ্যাট। সেটাও দিতে হয়। কোথাও বেড়াতে যাব। খালি হাতে কিভাবে যাই। মিষ্টির দোকানে গেলাম। এখানেও একই অবস্থা- ভ্যাটসহ দিতে হচ্ছে বিল। শুধু কি তাই? না! যে কোনো প্যাকেটজাত পণ্য কিনতে কোনো স্টোরে গেলে সেখানেও একই অবস্থা। ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা আছে। সেখানেও দিতে হচ্ছে উপরি টাকা। শিশু গুঁড়ো দুধ খায়। ভ্যাট ছাড়া এই দুধ কেনা কার সাধ্য আছে? আজও একটি শার্ট কিনতে গিয়ে দিতে হলো ৪% ভ্যাট। কথা নেই, বার্তা নেই বাড়িওয়ালা এসে হাজির। গ্যাসের দাম ৯৫০ টাকা হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়বে। জুন মাস থেকে ৩০০০ টাকা করে বেশি ভাড়া দিতে হবে। কিছু বললে উত্তর আসে- আপনার মনে চাইলে থাকুন। নাহলে চলে যান। কোথায় যাব? গ্রামে বসবাস করবো? তাতে কি? একটি ঘর থাকলেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাজনার অঙ্ক জানিয়ে দেবে। তা পরিশোধ করতেই হবে। ভাবছি বিদেশ যাবো। বিমানের টিকিট কেনার সময়ই সরকারের কর কেটে নেবে তিন হাজার টাকা। এখনেও খেতে হলো ধাক্কা। গ্রামের জমি বিক্রি করে কিছু টাকা ব্যাংকে রাখা হয়েছিল ফিক্সট ডিপোজিট করে। এখন দেখি আবগারি শুল্ক কেটে বছর গেলে টাকার অঙ্ক কমে যাবে। ব্যাংকে লাভের জন্য রেখে এভাবে আবগারি কর কাটতে কাটতে দেখা যাবে একসময় আসল টাকাই সরকার খেয়ে ফেলেছে। আর আমি শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হবে। দারুণ বুদ্ধি অর্থমন্ত্রীর। একজন মানুষকে এমনভাবে করের নেটওয়ার্কে বেঁধেছেন অর্থমন্ত্রী যার তুলনা হয় না। বাংলাদেশে একজন মানুষ বসবাস করতে তার নিত্যদিন কত টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে? তার হিসাব কষলে মাথা ঘুরে যায়। আয়ের টাকা ভ্যাটের পেছনেই যদি ঢালতে হয়, তাহলে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার উপায় থাকলো কোথায়?