Tuesday, September 16, 2025
বিএনপি’র প্রতিপক্ষ বিএনপি by কিরণ শেখ
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের পাঁচ নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিন সারা দেশে কোথাও না কোথাও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দ্বারা দখল এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে যেগুলো প্রকাশ্যে আসছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাকিগুলোর বিষয়ে কেউ কিছু জানছে না। কিন্তু ভুক্তভোগী এবং আশপাশের মানুষগুলো এই ঘটনা দেখছে। যারা দেখছে বা জানছে তারা তো আর বিএনপি’র প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে পারছে না। যদিও বিএনপি’র হাইকমান্ড বারবার নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরতে এবং জনগণের সঙ্গে থাকতে বলেছেন। এরপরও কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আমরা তো সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেখানে যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, সেটা আমাদের দল থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ী কাউকে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছি। এটা তো বিএনপি’র একার ব্যাপার না। এটা হলো সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপার। যদি সরকার মনে করে, চাঁদাবাজি হচ্ছে, সরাসরি তাকে আইনের আওতায় নিয়ে নেবে। এটা তো সরকারের করা দরকার। আর একটা বড় দলের প্রার্থী তো অনেক থাকবে। এটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে যতটুকু ঠিক করা যায়, সেই চেষ্টা আমরা করছি।
ওদিকে, ৩রা সেপ্টেম্বর ফেনীর পরশুরামে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ৪ঠা সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দখল করে চাঁদাবাজি, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। ১১ই আগস্ট মাগুরা সদর উপজেলা চাউলিয়া ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালখালী মধ্যপাড়া এলাকায় বিএনপি’র ওয়ার্ড নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ১২ই আগস্ট ওয়ার্ড নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৪ই আগস্ট ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপি’র কর্মিসভায় দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৭ই আগস্ট নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধ হন। গত ১৩ই মে খুলনার দাকোপে খালের ইজারাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গত ১৬ই জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৭ই জুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সার্চ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এসব ঘটনার বাইরেও সারা দেশে বিএনপি’র কিছু নেতাকর্মীদের দ্বারা দখল, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক দল। এখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মেলন ঘটে। আমাদের দলের মধ্যেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই রকম কিছু ব্যক্তির সমাগম ঘটেছে। সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাছ-বিচার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যতটুকু আমরা পারি সতর্কতা অবলম্বন করে থাকি। আর গত একবছরে কিছু কিছু ব্যক্তি অসৎ উপায়ে দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে দল তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই সংখ্যা এখন অনেক কমে এসেছে। আর দলের কমিটি গঠন নিয়ে যে বিবাদ, এটা গণতান্ত্রিক একটা দলের মধ্যে হতেই পারে। সেটা যেন সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যদিয়ে সমাধান করা যায়, সেজন্য আমরা কাজ করছি।
অন্যদিকে, সম্প্রতি দখলদারি ও নির্বাচনী মনোনয়ন ঘিরে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং পাল্টাপাল্টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। কমিটি ও পদ স্থগিত করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের বড় দল। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিযোগিতা থাকবে। তারপরেও স্থায়ী কমিটি হচ্ছে মনোনয়ন বোর্ড। এই বোর্ড বসে যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে। যে প্রার্থী যোগ্য, ত্যাগী, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে এবং এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে- এসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা মনোনয়ন দেবো। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। প্রতিযোগিতা হবেই। না হলে গণতন্ত্র কীভাবে হবে? আমাদের দলের অভ্যন্তরেও প্রতিযোগিতা হবে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে অন্য দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয়। এটাই তো গণতন্ত্রের নিয়ম। দখল এবং চাঁদাবাজি নিয়ে অপপ্রচার বেশি হচ্ছে বলেও মনে করেন বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য।

Saturday, August 30, 2025
জুলাই সনদ: যেসব ইস্যুতে আর ছাড় দেবে না বিএনপি ও সমমনারা by কিরণ শেখ
গত বুধবার জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে লিখিত মতামত জমা দিয়েছে বিএনপি। এর আগে জুলাই সনদ নিয়ে গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। নেতারা বলেন, বিএনপি যেসব মৌলিক প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলোতে ছাড় দেবে না। বিএনপি এখানে তাদের আগের অবস্থানেই থাকতে চায়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একইসঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন অন্যতম।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণীত হবে, স্বাক্ষরিত হবে এবং বাস্তবায়িত হবে। অঙ্গীকারনামায় যে প্রস্তাবগুলো রাখা হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার এই দলিলকে সংবিধানের উপরে রাখা এবং কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না? এসব বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য নয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কাছাকাছি আসার। আর নিজেদের মধ্যে আরও বোঝাপড়া বাড়াতে চাচ্ছি।
অন্যদিকে, জুলাই সনদ নিয়ে গত মঙ্গলবার যুগপৎ আন্দোলনের দল জোটদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি। এদিন রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠক করে দলটি। সেখানে অভিন্ন কিংবা কাছাকাছি মতামত দেয়ার পরামর্শ দেয় বিএনপি।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে নেতারা বলেন- জুলাই সনদে অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছতা রয়েছে। যেসব প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গঠন হবে, সেসব এখন শুধু বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বাকি সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি বলেছে অঙ্গীকারনামায় জুলাই সনদকে সংবিধান ও আদালতের উপরে রাখা হয়েছে। এটা তারা আপত্তি করবে। আমরা বলেছি, এটা তো ঠিক হতে পারে না। আর জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির যে প্রশ্ন তুলছে, আমরা মনে করি- আমরা যে মুখে মুখে অঙ্গীকার করছি এটাই যথেষ্ট।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জুলাই সনদকে সংবিধানের উপরে এবং আইনের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কারণ এটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। কখনোই সংবিধানের উপরে স্থান পেতে পারে না।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বেশ কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসে নাই। অবজারভেশন ছিল- অপ্রচলিত শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কঠিন করে ফেলেছে। সেগুলো প্রচলিত শব্দের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বাক্য গঠন ঠিক হয়নি। নোট অব ডিসেন্টের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। কিন্ত অনেক প্রস্তাবে যারা দ্বিমত হয়েছে, তাদের নাম কেন লিখলেন না? যারা একমত হয়েছে এবং যারা দ্বিমত হয়েছে- তাদের নাম জাতি জানুক। শুধুমাত্র নোট অব ডিসেন্টে বিএনপি, এলডিপি এবং ১২ দলীয় জোটসহ যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদেরকে ১৬৬টি সুপারিশমালা দেয়া হয়েছিল। কমিশন সনদে ৮৪টি সুপারিশমালা লিখেছেন। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০টি কমিশনে আলোচনা হয়নি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আনা হয়েছে?

Friday, March 21, 2025
সরগরম ইফতার রাজনীতি by কিরণ শেখ
রমজান মাসের শুরু থেকেই ইফতার মাহফিল আয়োজন করে আসছে বিএনপি, জামায়াত, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে রমজান মাসকে তারা গণসংযোগের মাস হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইফতার মাহফিল ঘিরে মাঠে সরব ইসলামী দলগুলো। ইফতার আয়োজন যেন হয়ে উঠছে নেতাদের মিলনমেলা। ওদিকে সামনে জাতীয় নির্বাচন। যদিও নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। এরপরও নির্বাচনের প্রস্তুতি রাখতে চাইছে দলগুলো। এজন্য রমজান মাসেও ইফতার মাহফিলের মধ্যদিয়ে গণসংযোগ করছে নেতারা। রাজনৈতিক দলগুলো ঢাকায় ইফতার মাহফিলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লায় ইফতার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ইফতার মাহফিলগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নানা ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতের মিল এবং অমিলের বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে দল দু’টির নেতাদের বক্তৃতা এবং বিবৃতিতে। এরপরও বিএনপি’র ইফতারে জামায়াতের নেতাদের এবং জামায়াতের ইফতারে বিএনপি’র নেতাদের দেখা যাচ্ছে। একই টেবিলে বসে ইফতার করেন নেতারা। চলে কুশল বিনিময় ও রাজনৈতিক কথোপকথন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব আয়োজনে নেতারা দিচ্ছেন ঐক্যের ডাক। পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের বার্তাও দেয়া হচ্ছে।
গত ৩রা মার্চ রমজানে ইফতার মাহফিল আয়োজনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, রমজান মাসে দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল স্তর থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী, বাহুল্য পরিত্যাগ করে অনাড়ম্বরপূর্ণভাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান করতে হবে, এক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে মসজিদ কিংবা বাজার সংলগ্ন খোলা জায়গায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে, ব্যানারে শুধুমাত্র ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ লেখা থাকবে। ২০ রমজানের মধ্যে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করারও নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিএনপি: প্রথম রোজায় রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে এতিম-ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে ইফতার করে বিএনপি। এরপরে গত ৬ই মার্চ হোটেল ওয়েস্টিনে ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে ইফতার করে বিএনপি। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবতা সমুন্নত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য কেবল তার জনগণই নির্ধারণ করবে। সামনের পথ স্পষ্ট, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে দ্রুত প্রত্যাবর্তন।
ওদিকে গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে রাজনীতিবিদদের নিয়ে ইফতার করে বিএনপি। আগামীকাল পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করবে দলটি। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা মহানগরের বিএনপি বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সারা দেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এবং থানায়ও ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি থেকে বিএনপি’র রাজনীতি জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তাও দিচ্ছে দলটি।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মানবজমিনকে বলেন, দলকে সংগঠিত করা, দাবি, সজাগ থাকা এবং গণতন্ত্রের প্রতি যাতে নিবেদিত হয়, এই বার্তাগুলো ইফতার মাহফিলে নেতাকর্মীদের দেয়া হচ্ছে।
জামায়াত: দীর্ঘ এক দশক পর গত ৯ই মার্চ গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের নিয়ে ইফতার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর ১৫ই মার্চ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক, ডাক্তার, সাংবাদিক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিকে নিয়ে ইফতার করে জামায়াত। এ ছাড়া দলটি প্রতিদিনই ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও থানায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছে। এসব কর্মসূচিতে দলটি নির্বাচনের বার্তা দিচ্ছে। বলছে, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এরপরে জাতীয় নির্বাচন করা উচিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করে সব রাজনৈতিক দলের নেতারা বসে আলোচনার মধ্যদিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলেও মনে করছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মানবজমিনকে বলেন, রমজানের শিক্ষা, গুরুত্ব, শবে বরাত সম্পর্কে এবং সম-সাময়িক ইস্যুতে আমাদের কথা জনগণকে জানানো হচ্ছে।
ওদিকে গত ১১ই মার্চ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক, ছাত্র-শ্রমিক, ওলামায়ে কেরাম এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। এতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলামসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। এছাড়া এবি পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। মূলত তার কথা, কিছু উদ্দেশ্যে এসব ইফতার মাহফিলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলগুলো। এর মধ্যদিয়ে নেতা-কর্মীদের চাঙা ও সমবেত করা এবং সাধারণ মানুষ যারা ইফতারে আসবেন তাদেরকে নির্বাচনের বার্তা দেয়া।

Friday, March 14, 2025
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ: জবাব দিতে সময় চেয়েছে বেশির ভাগ দল by কিরণ শেখ
এ ছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চও কয়েকদিন সময় চেয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে। মঞ্চও টিক চিহ্ন দেয়ার বিরোধিতা করেছে। বলছে, শুধুমাত্র টিক চিহ্ন চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবমাননা করা হয়েছে।
গত ১০ই মার্চ মতামত চেয়ে ৩৭টি রাজনৈতিক দলের কাছে ‘স্প্রেড শিট’ পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই সুপারিশের বিষয়ে ১৩ই মার্চের মধ্যে রাজনৈতিক দল ও জোটকে মতামত জানাতে বলা হয়েছিল। এরমধ্যে বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে ফোনে কথা বলে কয়েকদিন সময় চেয়েছে। জামায়াতও সময় চেয়েছে। ওদিকে গণতন্ত্র মঞ্চ কয়েকদিন সময় চেয়ে গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। এই মতামত পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা শুরু করবে কমিশন।
গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাতটি রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মতামত দিয়েছে। ১৬টি রাজনৈতিক দল পূর্ণাঙ্গ মতামত দিতে আরও কয়েকদিন সময় চেয়েছে। বাকি ১৪টি দলের সঙ্গে কমিশন আবার যোগাযোগ করছে। গতকাল বিকাল ৪টার মধ্যে মতামত দেয়া সাতটি দল হলো-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ও ‘আমজনতার দল’।
এ দলগুলোকে নিয়ে আগামী মঙ্গল ও বুধবার নাগাদ আলোচনা শুরু করা হতে পারে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনে দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সংবিধানসহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে ছয়টি কমিশন করেছে, তার আলোকে ছায়া কমিটি করেছে বিএনপিও। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব সুপারিশ চেয়েছে, সেসব নিয়ে এই ছয় কমিশন কাজ করছে। পূর্ণাঙ্গ মতামত তৈরি হতে আরও কিছু সময় লাগবে। রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পর দলটি যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটের সঙ্গে কথা বলবে। এরপরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। আর টিক চিহ্ন বিষয়ে দলটি অনীহা প্রকাশ করেছে। এটাকে দলটি সংক্ষিপ্ত মনে করছে। কারণ দলটি সংবিধানের সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাব তৈরি করেছে তার ইতিমধ্যে ১ হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে। তারা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার জন্য আমরা কাজ করছি। রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পর যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার পরে আমরা জমা দেবো।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ মানবজমিনকে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে মতামত দেয়ার জন্য আমরা সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। আমরা পূর্ণাঙ্গ মতামত দেবো। তবে যেসব বিষয়ে একমত, সেখানে টিক চিহ্ন দেবো।
ওদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো চিঠির সঙ্গে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর সারসংক্ষেপ স্প্রেডশিটে ছক আকারে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি সুপারিশের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমটি হলো, সংশ্লিষ্ট সুপারিশের বিষয়ে একমত কি না। এতে তিনটি বিকল্প রাখা হয়েছে, সেগুলো হলো-একমত, একমত নই এবং আংশিকভাবে একমত। এরমধ্যে যেকোনো একটিতে টিক চিহ্ন দিয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়তটি হলো, প্রতিটি সুপারিশের বিষয়ে সংস্কারের সময়কাল ও বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এজন্য ছয়টি ঘর রয়েছে, সেগুলো হলো: সংস্কারের সময়কাল ও বাস্তবায়ন- নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের আগে গণভোটের মাধ্যমে, নির্বাচনের সময় গণভোটের মাধ্যমে, ‘গণপরিষদের মাধ্যমে’ ‘নির্বাচনের পরে সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে’ এবং গণপরিষদ ও আইনসভা হিসেবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে। এসব ঘরের যেকোনো একটিতে টিক চিহ্ন দিয়ে মতামত দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি সুপারিশের পাশে দলগুলোর মন্তব্য দেয়ার একটি জায়গা রাখা হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, আমরা এখনো মতামত দেইনি। বৃহস্পতিবার সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আর টিক চিহ্ন চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবমাননা করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত মতামত দেবো। আর যেখানে আমাদের মতামতের সঙ্গে মিল রয়েছে, সেখানে টিক চিহ্ন দেবো।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমরা কমিশনের কাছে সময় চেয়েছি। এখন রমজান মাস বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ইফতার মাহফিল থাকে। অনেকে ওমরাহ’য় গিয়েছেন, কেউ কেউ গ্রামে রয়েছেন। যার কারণে আমরা সবাই একসঙ্গে বসতে পারছি না। এজন্য সময় চেয়েছি কমিশনের কাছে। ঈদের পর দিতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

Friday, February 28, 2025
ত্যাগীদের মূল্যায়ন দাবি ঐক্যের বার্তা কেন্দ্রের by কিরণ শেখ ও নাজমুল হুদা
সকাল ১১টায় ‘সুদৃঢ় ঐক্য রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র’ স্লোগান নিয়ে এই বর্ধিত সভা উদ্বোধন করা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সূচনা বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য শোনেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা তাদের বক্তব্যে হাইব্রিডদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের পদ-পদবি দেয়ার জন্য হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেন। ৫ই আগস্টের পর নব্য নেতাকর্মীদের কারণে বিএনপি’র ত্যাগীরা ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। তারা বলেন, এদের কারণে বিএনপি’র ভেতরে এখন বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কিছু সুবিধাবাদীদের দেখা যাচ্ছে। এই সুবিধাবাদীরা ত্যাগীদের বিতাড়িত করতে চাইছে। প্রত্যেক জায়গায় হাইব্রিড ও গ্রুপিং রয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো কোনো জায়গায় বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। জামায়াত নিয়েও কথা বলেন কয়েকজন নেতা। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায়ে দলকে শক্ত অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেন কেউ কেউ। এজন্য বিভাগীয় সম্মেলন করার জন্য দলীয় হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেন তারা।
সভায় নেতারা বলেন, মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো কোনো জায়গায় বিভক্তি আছে। যারা সুবিধাবাদী তারা যেন মনোনয়ন না পান সে বিষয়ে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। বলেন, ১৭ বছর যারা ছিলেন না তাদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। একইসঙ্গে নেতারা যোগ্য ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার জন্য পরামর্শ দেন। তাদের নিয়ে কমিটি করার জন্য হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অন্যথায় দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তৃণমূলের নেতারা। পাশাপাশি বর্ধিত সভার মতো করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও সভা করার পরামর্শ দেন তারা।
হবিগঞ্জের এক নেতা বলেন, বিগত দিনে যারা গর্তে লুকিয়ে ছিল, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল তাদের এখন আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। এই সুবিধাভোগীদের কাছে ত্যাগীরা হারিয়ে গেলে পুরো বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলের দুর্দিনে তৃণমূল বেঈমানি করেনি। যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। অথচ একশ্রেণির মৌসুমি নেতা সুবিধা নিয়ে মোটাতাজা হয়েছে। আর ত্যাগীরা হয়েছেন স্বাস্থ্যহীন। এই ত্যাগীরা দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে।
সৈয়দপুরের আলমগীর মাতুব্বর বলেন, যারা আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। তারাই আজ বিএনপি’র প্রথম কাতারে। এই হাইব্রিড যেন বিএনপিতে না ঢুকে। তাহলে সৈয়দপুরের তিনটি আসনই বিএনপিকে আমরা উপহার দেবো।
যশোরের আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, প্রত্যেক জায়গায় হাইব্রিড ও গ্রুপিং রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রুপিং দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে হবে।
দিনাজপুরের আব্দুস সালাম মিলন বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। ৫ই আগস্টের পরে বিএনপি’র ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ত্যাগীদের কোণঠাসা ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। পদ স্থগিত করা হচ্ছে। তাদের পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃণমূলকে জাগাতে হবে, হাইব্রিডদের ঠেকাতে হবে।
নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকার রবিউল আলম বলেন, আমরা আন্দোলন করে দলকে সংগঠিত করেছি। এখন সেটা এককভাবে দাবি করা হচ্ছে! সেটা আমরা মেনে নিতে চাই না। আর আমরা সেই নেতৃত্ব দেখতে চাই না, যারা আন্দোলন দেখলেই পালিয়ে যেতে চায়।
টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকার জাকির হোসেন সরকার বলেন, যারা গত ১৫ বছর ছিল না তারা এখন আমাদের ঘরে ঢুকে ঐক্য বিনষ্ট করতে চাচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে।
পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক খায়রুন নাহার খানম বলেন, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে কিনা, আমাদের প্রতিপক্ষ যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেটা রোধ করার ওপর নির্ভর করছে। প্রতিপক্ষ মসজিদে বসে রাজনীতি করবে, আর আমরা অফিস ভাড়া করে রাজনীতি করবো। সুতরাং মসজিদে বসে রাজনীতি চলবে কি চলবে না- তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার হুমায়ুন কবির বলেন, জামায়াতকে মোকাবিলায় সকালে মসজিদে নামাজ পড়তে হবে। দলকে এগিয়ে নিতে হলে ত্যাগীরা পিছিয়ে থাকবে না, মৌসুমি নেতারা এগিয়ে যাবে না- এমন কৌশলে এগোতে হবে।
ভোলার মো. মফিজুর রহমান মিলন বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর বিএনপিতে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। বিএনপি যাতে আওয়ামী লীগের দোসরদের জায়গা না হয়।
জামালপুরের আতিকুর রহমান সাজু বলেন, জুলাই-আগস্টে যারা আন্দোলন করেছেন তারা আমাদেরই সন্তান। তারা আওয়ামী লীগের দোসরদের কেউ নয়। তাই ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে যাওয়া উচিত। আর দেশে এখন ষড়যন্ত্র চলছে। এজন্য বিএনপি’র কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনকে চাঙ্গা করতে হবে। যেসব জায়গায় অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি নেই, সেসব জায়গায় কমিটি দিতে হবে। যেসব জায়গায় বিএনপি’র কমিটি নেই, সেসব জায়গায় বিএনপির কমিটি দিতে হবে।
জামালপুরের জহিরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, ৫ই আগস্টের পর নব্য বিএনপি হয়েছে। তাদের জন্যই বিএনপি’র এই বেহাল দশা। আর মসজিদ ও মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে ঝগড়া হয়, এগুলো থেকে সরে আসতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, দেশে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। সুতরাং আপনি (বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান) নিজস্ব সেল ও জরিপের মাধ্যমে মনোনয়ন দেবেন। তাকেই মনোনয়ন দেবেন যার অবস্থান সবচেয়ে ভালো হবে। আর যারা দলের ক্ষতি করবে গোপন সেল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নিন।
নোয়াখালীর দেওয়ান শামসুল আরেফিন শামীম বলেন, বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ডেকে পাইনি, তাদেরকে দলে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে দায়িত্ব দিলে তারা দলের সঙ্গে বেঈমানি করবেন।
কুষ্টিয়ার জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমরা অনেক মামলা-হামলার স্বীকার হয়েছি। দলের দুঃসময়ে যারা ছিলেন না, সেসব সুবিধাবাদীরা এখন বিএনপিতে ভালো জায়গায় আছেন।
নীলফামারীর মাসুদ চৌধুরী বলেন, দলের ভেতরে এখন বিশৃঙ্খলা দেখতে পাচ্ছি। কিছু সুবিধাবাদী দেখতে পাচ্ছি। এসব সুবিধাবাদীরা ত্যাগীদের বিতাড়িত করতে চায়। দলের অনেক নেতা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই ত্যাগীদের কথা যাতে আমরা ভুলে না যাই।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৪ঠা ফেব্রয়ারি রাজধানীর ‘লা মেরিডিয়ানে’ বিএনপি’র বর্ধিত সভা হয়। যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন। এর ৪ দিন পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠায় আওয়ামী লীগ সরকার।

Sunday, January 12, 2025
২৫ সালের ভেতরেই নির্বাচন দিতে হবে: মানবজমিনকে ডা. তাহের by কিরণ শেখ
দ্রুত নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের মতবিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বলেন, বিএনপি কখনো বলে নাই যে, সংস্কার প্রয়োজন নেই। আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) নির্বাচন দিয়ে দেন। আর আমরাও কখনো বলি নাই, সব সংস্কার শেষে নির্বাচন দেন। তারা বলছে, সংস্কার করেন জরুরিগুলো। আমাদের কথা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেন। আগে সংস্কার না কী নির্বাচন প্রয়োজন, এ নিয়ে কিছুটা প্রার্থক্য রয়েছে। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তাদের তো ক্ষমতায় থাকার কোনো এজেন্ডা থাকা উচিত না। আমরা খুব পরিষ্কার বলেছি, ২০২৫ সালের ভেতরেই নির্বাচন দিতে হবে।
জামায়াতও আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরপরে স্থানীয় সর্কার নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। কোনটা আগে, কোনটা পরে- এটা তারা স্পষ্ট করেন নাই। আমি মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনটাই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। আমার মত হচ্ছে, যতদ্রুত সম্ভব আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তারপরে স্থানীয় নির্বাচন।
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরী হয়নি বলে দাবি করেন মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, আগে আমরা (বিএনপি-জামায়াত) জোটবদ্ধ ছিলাম। সে কারণে যেকোনো ইস্যুতে জোট থেকে একই ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন আর জোট নাই। না থাকার কারণে প্রত্যেকে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজস্ব কথা বলছে। এক্ষেত্রে কিছুটা মতানৈক্য থাকতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমি মনে করি, এটা মতবিরোধে পরিণত হয় নাই। মতবিরোধ হবে বলেও আমি মনে করি না।
বিএনপি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে একথা জামায়াত বলেনি বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, জামায়াত কখনই বলে নাই যে, বিএনপি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। আমরা যেটা বলেছি, এখনো চাঁদাবাজি ও জুলুম চলছে। মানুষ যদি বলে চাঁদাবাজি ও জুলুম নাই তাহলে আমরা খুশি। আমরা তো এমনই একটি দেশ চাই। আর যদি চাঁদাবাজি চলে তাহলে তো এ ব্যাপারে কথা হওয়া উচিত এবং তা বন্ধ হওয়া উচিত।
একাত্তরের জামায়াতের ভূমিকার বিষয়ে বিএনপি’র দুই-একজন নেতার বক্তব্যকে তাদের ব্যক্তিগত বলে মনে করছেন মোহাম্মদ তাহের। বলেন, বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন এদেশের রাজনীতিতে পরস্পর সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করেছে। ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময় দেশে একটি গুণগত পরবির্তনের যে সুযোগ এসেছে, এটা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন কতিপয় বিষয়ে একটি জাতীয় ঐক্য। যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। এসব বিষয়ে সকলকেই ঐকমত্য পোষণ করা উচিত। ঐক্যবদ্ধতা এদেশকে রক্ষা করতে পারবে। সে কারণে কারও এমন কোনো বক্তব্যে ও মন্তব্য করা উচিত নয়, যেটা জাতীয় ঐক্য তৈরীর ক্ষেত্রে সংশয় ও বাধা হতে পারে। বিএনপির দুই-একজন নেতা যে সমস্ত কথা বলছেন, আমি মনে করি, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। এটা তাদের ব্যক্তিগত মন্তব্য। এজন্য আমরা বিএনপি’র সঙ্গে কোনো তর্ক-বিতর্কে জড়িত হতে চাই না।
৭১ এখন জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছে খুব প্রাসঙ্গিক না বলে জানান তিনি। বলেন, আমরা এখন যারা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আছি এবং যারা জামায়াতে ইসলামী করছি, এরা প্রায় সকলেই বাংলাদেশের প্রোডাক্ট। সুতরাং একাত্তর সালটা এখন আমাদের দলীয় লোকদের কাছে খুব প্রাসঙ্গিক না। যেহেতু আমরা বাংলাদেশ দিয়েই শুরু করেছি। আমার ছেলে ব্যারিস্টার, ও জন্মগ্রহণ করেছে ১৯৯৩ সালে। সে তো বাংলাদেশি। সুতরাং তার কাছে তো পাকিস্তান ঠিক সৌদি আরবের মতো। সেই কারণে বলছি, আমরা এখন পুরোপুরি বাংলাদেশর প্রোডাক্ট। বাংলাদেশ আমার দেশ, দেশকে স্বাধীন রাখাই এখন আমার কর্তব্য এবং বাংলাদেশের ওপর যদি কোনো স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের আঘাত হানে, সেটা মোকাবিলা করার জন্য সবচেয়ে প্রথম যে দলটি এগিয়ে আসবে, সেটা জামায়াতে ইসলামী। কারণ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ, এটি আমাদের বিশ্বাসের একটি অংশ।

Saturday, December 28, 2024
ড্রাইভিং সিটে বসেও বিএনপি’র উদ্বেগের নেপথ্যে কী? by সাজেদুল হক ও কিরণ শেখ
৫ই আগস্ট হাসিনার পলায়নের পর বিএনপি তার দুঃসময় অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। রাজপথ থেকে প্রশাসন সর্বত্র দলটির কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তারপরও বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কথায় একধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্তত বক্তৃতা-বিবৃতিতে তারা দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের একধরনের রোডম্যাপ দিলেও বিএনপি তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটের অধিকারের দাবিতে রাজপথে নামার কথাও বলছেন। বিএনপিতে কেন এ ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। দলটির ভেতরে-বাইরে কথা বলে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
বেশির ভাগ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এখন দেশে নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভ করবে। স্বাভাবিকভাবেই এ কারণে বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছে। এটি রাজনীতির সবচেয়ে সহজ হিসাব।
বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়বে। ভারত বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও তারা এসব বিষয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছে। পণ্য সরবরাহসহ নানা ইস্যুতে পতিত সরকারের সহযোগীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করবে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। অন্য কোনো শক্তি যার সুযোগ নিতে পারে।
এমন একটি ধারণাও বিএনপি’র কারও মধ্যে রয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ যতটা সম্ভব নির্বাচন বিলম্ব করতে চায়। তারা দ্রুত নির্বাচন দিতে চায় না। এক্ষেত্রে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হলে তাদের জন্য সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ তবে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১৮ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দলটির নেতাকর্মীরা গুম, খুন, মামলা, কারাভোগসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছেন। ঘরছাড়া ছিলেন হাজার হাজার নেতাকর্র্মী। পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তারা এলাকায় ফিরেছেন। অনেকে তাদের দখল হওয়া জমি, সম্পদ উদ্ধার করেছেন। আবার অনেকে জড়িয়েছেন দখল ও চাঁদাবাজিতে। এ রিপোর্টারের কাছেও দখলের এমন কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গাতেই হাতবদল হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিএনপি’র বিরুদ্ধেও জনগণ ক্ষুব্ধ হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্য এবার শুরু থেকেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অভিযুক্তদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের বারবার সতর্ক করছেন।
কী বলছেন বিএনপি নেতারা?
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বুঝতে হবে, কেন ছাত্রদের গণআন্দোলন হয়েছে? বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য এই আন্দোলন হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এবিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য আমরা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। আর আমরা উদ্বিগ্ন না। আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি, জনগণ নির্বাচনমুখী হলে যে ছোটখাটো সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা তারা নিজেরাই মোকাবিলা করবে। যেটা এই সরকারের জন্য প্রয়োজন।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম করছে। জুলুম নির্যাতন সহ্য করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬০ হাজার মামলা হয়েছে। ৬২ লাখ নেতাকর্মী আসামি হয়েছেন। আমরা এই আন্দোলন কেন করেছি? এ আন্দোলন আমরা করেছি জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য। জনগণ তো এখনো সে অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গণতান্ত্রিক সরকার মানে হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত সরকার। জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার জন্যই দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। দ্রুত নির্বাচন মানে এই নয় যে, আমরা দুই মাসের মধ্যেই নির্বাচন চাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টা একটা টাইমলাইন বলেছেন। আগামী বছর ডিসেম্বর অথবা পরের বছর শুরুর দিকে। এখন আলোচনা করে একটি ডেট দিলেই হয়। বর্তমান সরকারের প্রতি বিএনপি’র সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি কেবল নির্বাচিত সরকারের দ্বারাই সম্ভব। জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গঠিত কোনো দলকে হুমকি বলে মনে করেন না বলে জানান তিনি। বলেন, দল করার অধিকার সবারই রয়েছে। জনগণ যাদের ভোট দেয় তারাই সরকার গঠন করবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা ১৬ বছর ধরে ভালো নির্বাচনের কথা বলছি। হাসিনার আমলে তামাশা, ভোট চুরি ও ডাকাতির নির্বাচন হয়েছে। আর এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন বন্ধ করতে চায়। তাদের গায়ে জ্বালা করছে। তারা বলছেন, ‘৫৩ বছরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কী করেছেন! আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন চাচ্ছি। আমরা আতঙ্কিত হচ্ছি একারণে যে, নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ নাই।’ বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেয়া উচিত। কেননা, অনির্বাচিত সরকার বহু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি ঢাকা এবং অন্যান্য শহরে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করেন। যেসব বিক্ষোভের মধ্যে অটোরিকশা চালকদের আন্দোলনও ছিল।
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলছেন, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দিয়ে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য আসছে বলেই জনমনে বিভ্রান্তি কিংবা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ কখন ভোট দিয়ে তাদের পছন্দনীয় সরকার গঠন করতে পারবে সেটা স্পষ্ট করা দরকার দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে। সরকার অন্য যাই বলুক, এই ভোটের সময়টা না পাওয়াতেই জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিএনপি সেটিই তুলে ধরছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মোটামুটি একটি সময়ের কথা বললেও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণায় যে সরকারের প্রবল অনীহা- তা কিন্তু দৃশ্যমান। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা একদিকে একটি সময় বলেছেন, আবার অন্যদিকে বলেছেন তার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এসব বিষয় চূড়ান্ত করবে। আবার উপদেষ্টারা কেউ কেউ বলছেন সংস্কারের পর নির্বাচন। ফলে নির্বাচনের তারিখ বলার ক্ষেত্রে একটি অনিশ্চয়তা তো জনমনে আছে। সে কারণেই বিএনপি’র মধ্যেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এ পরিস্থিতিতে সেটাই স্বাভাবিক।
শেষ কথা: একধরনের বৈপরীত্য নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতি। একদিকে ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান। অন্যদিকে অনিশ্চয়তা। রাজনীতিতে যদিও এটা কোনো অভিনব দৃশ্যপট নয়। ঢাকার একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘হাজার হাজার বছর ধরেই এটা চলে আসছে। মসনদে বসা কোনো সহজ খেলা নয়।’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের সঙ্গে একধরনের দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি হয়েছে বিএনপি’র। এটাকেও সব বিশ্লেষক নেতিবাচক মনে করেন না। তারা স্মরণ করেন, বন্ধুত্ব ক্ষণকালের। দ্বন্দ্ব চিরদিনের। তবে শত্রুতা না এলেই হলো।

Sunday, November 24, 2024
জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি বাড়াচ্ছে সতর্ক বিএনপি by কিরণ শেখ
বিএনপি’র পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলও সারা দেশে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সামনে যাতে কেউ দলের কোনো ধরনের অপকর্মে জড়াতে না পারে সেজন্য কঠোর বার্তা দেয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ বা বিতর্কে জড়াতে চান না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এজন্য সিনিয়র নেতাদের বার্তাও দেয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো বিরোধে না জড়ানো, অন্যান্য দলের সঙ্গে কোনো ধরনের দূরত্ব তৈরি না করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন নেতারা।
৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিএনপি বলছে, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। তারা এখন নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে চাচ্ছে। এই বার্তা সাধারণ মানুষকে দেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে সফরকালে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল বহর ও কারসহ অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রং-বেরংয়ের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। দলের এই নির্দেশনায় দেয়াল থেকে ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করছেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান মানবজমিনকে বলেন, ১৫ বছর দেশে দুঃশাসন চলেছে। ওই দুঃশাসনের কারণে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারি নাই। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জনগণ বিএনপির মূলশক্তি। তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেই বিএনপি রাজনীতি করে। সেই সম্পৃক্ততা জনগণের মাঝে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতেই এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মানবজমিনকে বলেন, ৩১ দফা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমরা যাচ্ছি এবং তাদের বোঝাচ্ছি। এটা সাংগঠনিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রশাসনে এবং চাঁদাবাজিতে নেতাকর্মীরা যাতে প্রলুব্ধ হয়ে অন্ধকার পথে যাতে হাতছানি না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজির অভিযোগ ওঠে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের শেল্টার দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায় বিএনপির হাই-কমান্ড। বহিষ্কার, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পদ স্থগিতসহ নানা শাস্তি দেয়া হয় নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন সেমিনার এবং সমাবেশেও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন।
ওদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হোক তা চায় না বিএনপি। তাদের সঙ্গে দূরত্বও সৃষ্টি করতে চায় না; বরং দলটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা সমর্থন দিচ্ছে। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না। কিন্তু যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে। এটা না হলে রাজপথে কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সরকারের ওপর চাপও তৈরি করা হবে। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি’র দূরত্ব সৃষ্টির আলোচনার বিষয়টি সামনে আসে। যদিও সম্প্রতি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তারা সরকার এবং জামায়াতের সঙ্গে বিরোধে জড়াবে না।
সেলিমা রহমান বলেন, আমরা কোনো দলের সঙ্গে দূরত রাখি নাই। রাখতেও চাই না এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাখবো না। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মানবজমিনকে বলেন, আমরা সাংগঠনিক কর্মসূচি করছি। এখানে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছি না। আর সরকারকে চাপ সৃষ্টির প্রশ্নই আসে না।
এ ছাড়া সরকার যেসব সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে তাতে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে যাবে। তবে এসব সংস্কারের কারণে যাতে নির্বাচন দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্যও চাপ তৈরি করবে। দলটির নেতারা মনে করেন, অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন থাকলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। এতে দেশ এবং মানুষের ক্ষতি হতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি সরকারকে মতামত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় ফোরামে এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনে জমা দেয়া হবে।

Sunday, November 3, 2024
আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচনী ছক বিএনপি’র by কিরণ শেখ
যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটের শীর্ষ ৫ জন নেতার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিনের। তারা জানান, বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোট নির্বাচনে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন, তারা চাইলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করতে পারবেন। আর যেসব দলের নিবন্ধন রয়েছে, তারা চাইলে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এক্ষেত্রে বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ সমর্থন দেবে। আর এবার তরুণ প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। বিএনপি’র একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নির্বাচনে জামায়াত কি অবস্থানে থাকবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর তা নির্ভর করবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপ দিচ্ছি। এজন্য অতিদ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপেরও দাবি জানাচ্ছি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যুগপৎভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি। কিন্তু নির্বাচন কবে হবে, কাঠামো কী হবে- তা এখনো ঠিক হয়নি। আর আমাদের দল ও গণতন্ত্র মঞ্চেরও আলাপ-আলোচনার বিষয় রয়েছে, সময় আসলে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে ঐক্য বিভক্ত হোক, তা আমরা চাই না।
ওদিকে ২২শে অক্টোবর সমমনা শরিক জোটের ৬ নেতাকে নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগে সহযোগিতা করার জন্য দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অতীব জরুরি নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এই ৬ নেতা হলেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-৪), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি (ঢাকা-১২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩) ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-২) এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫)। এই চিঠি দেয়ার পরেই বিএনপি এবং শরিক দল ও জোটের মধ্যে বিভ্রান্ত শুরু হয়। এটা কী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন, নাকি নির্বাচনী কৌশল? যদিও পরবর্তীতে বিভ্রান্ত দূর করতে নতুন করে ৬৪ জেলায় বিএনপি চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এই চিঠি দেয়ার পরে শরিক দলের নেতারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোট নেতারা তাদের এলাকায় প্রচারণা করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। এজন্য তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচনী আসনের কোনো বিষয় নেই। যেসব দল ও জোট নিজ শক্তিতে প্রচারণা করছেন তারা চিঠি দেয়নি। এজন্য তাদের নামে চিঠি দেয়া হয়নি।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা চাই জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে। এজন্য আলাপ-আলোচনা চলছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা মানবজমিনকে বলেন, জোটগতভাবে আমরা নির্বাচনে যাবো কিনা, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি মাঠ গোছাচ্ছি। আর আমরা চাচ্ছি বিএনপি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।
ওদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার ছোট পুস্তিকা, দফাভিত্তিক প্রচার কার্ড এবং ছাত্রদলের গৌরবোজ্জ্বল অতীত, সংগ্রামী বর্তমান ও আগামী প্রতিশ্রুতির বুকলেট আকারে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মতামত। যাওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছেও। এরই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা সম্পর্কে ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছে বিএনপি। ৩১ দফা নিয়ে প্রচারাভিযানে নামার চিন্তা থেকেই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে ৩১ দফা পৌঁছাতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ হিসেবেই এ প্রচার কর্মসূচি হচ্ছে। এরআগে ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে ‘আমরা যদি থাকি সৎ, দেশ সংস্কার সম্ভব’ এই স্লোগানে দেশ সংস্কারের বার্তা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে দেশব্যাপী যৌথ কর্মিসভা করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে বিএনপি’র এই তিন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মানবজমিনকে বলেন, ছাত্রদলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং সাম্য শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। সংগঠনের আদর্শিক দিকও তুলে ধরা হচ্ছে। দেয়া হবে বুকলেট। পাশাপাশি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী কী করবে, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি চলছে। এরমধ্যে মাদ্রাসা, মেডিকেল এবং নারী শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

Tuesday, October 15, 2024
তিন মাস পর্যবেক্ষণ এরপর কৌশল নির্ধারণ বিএনপি’র by কিরণ শেখ
সময় বেঁধে না দিলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ হোক- তা চায় না দলটি। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দু’মাস অতিবাহিত হয়েছে। আরও তিন মাস এই সরকারের পারফরমেন্স দেখতে চায় তারা। এরমধ্যে সরকারের কাজ সন্তোষজনক না হলে এবং নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হলে সরকারের উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে দলটি।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বিএনপি নেতাদের মাঝে। তারা মনে করছেন সরকারকে আরও তৎপর হওয়া দরকার। নির্বাচনসহ আরও কিছু বিষয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত। এটি করা হলে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হবে। দলগুলো নির্বাচন নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে।
সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটিও মনে করছেন নেতারা। এসব ষড়যন্ত্রের কারণে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপি বা গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব দল ও মানুষ ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি’র নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন শীর্ষ নেতা মানবজমিনকে জানান, এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দ্রব্যমূল্যের দাম এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, প্রশাসনে পুরো শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি। জুলাই-আগস্টে শহীদ ও আহতদের পুরো তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি। সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই এবং কী পরিবর্তন করবে-সে বিষয়টিও অস্পষ্ট। এসব বিষয়সহ জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং নির্বাচনের পথ সুগম করতে সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চায় বিএনপি। তবে সময়টা দীর্ঘ হলে নানা প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান মানবজমিনকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই মাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যে কথাটি সর্বাগ্রে উল্লেখ করতে হবে- সেটি হচ্ছে এই যে, এ সরকারের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো আকাশচুম্বী। এ কারণেই দেশের জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে। কখন তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশে একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে। যে ভোটের অধিকার থেকে তারা দীর্ঘ ১৭ বছর বঞ্চিত ছিল। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই সরকারের উচিত দেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব উপলব্ধি করে যত দ্রুত সম্ভব অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারগুলো সম্পন্নপূর্বক একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া। এখানে উল্লেখ্য যে, কোনো কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এই সত্য বিস্মৃত হয় তাহলে সেটা যে শুধু এ সরকারের জন্য বিপজ্জনক হবে তা নয়, সেটা দেশে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে যা পুরো দেশ ও জাতির জন্য এক মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কাজ করছি এবং সরকারকেও সহযোগিতা করছি। ঐকমত্য হতে হবে এবং নির্বাচনী সংস্কার শেষে গণতন্ত্রের পথে চলতে হবে। সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করে। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা বিশেষ প্রেক্ষাপটে এসেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে কিছু সময় লাগবে। এ জন্য সরকারকে বিএনপি যৌক্তিক সময় দিয়েছে। এর মানে এই নয় যে, দুই থেকে তিন বছর তারা থাকবে। এটা হতে পারে ৬ মাস কিংবা ১২ মাস। এর বেশি নয়। এ জন্য আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবকিছু ঠিক না করলে তাদের চাপ দেবে বিএনপি। যাতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। আর বিএনপি’র কৌশল কী হবে, তা বিএনপি’র নিজস্ব ব্যাপার।
যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। মাত্র দু’মাস হয়েছে। এখনই মূল্যায়ন করার সময় হয়নি। কিন্তু যে গতিতে পরিস্থিতি উত্তরণে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা দেখছি না! প্রশাসনে এখনো আওয়ামী লীগের দোসররা আছে। তারা ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু তাদের প্রমোশন দেয়া হচ্ছে! এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই এবং জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার চাই।
ওদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করা এবং সামনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন দলটির নেতারা। এমনকি বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর বাইরে থাকা বাম দলের নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি নেতারা আলোচনা করেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামীতে ভোটের মাধ্যমে যে সরকার হবে তা যেন অংশগ্রহণমূলক হয় তা নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে জাতীয় স্বার্থে কিছু বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরিরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অন্যান্য দলের সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ায় এখন আপাতত এই দলের বিষয়ে বিএনপিতে কোনো চিন্তা নেই। তবে দলটির এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতির মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যদিও বিএনপি নেতারা জামায়াত নিয়ে এখন প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। জামায়াত যে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেটাকে রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনের দিনে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলে নতুন দৃশ্যপট হতে পারে- এমনটাও মনে করছেন বিএনপি’র কোনো কোনো নেতা।

Thursday, October 10, 2024
গণহত্যাসহ নানা অভিযোগে বিএনপি’র ১২৩ মামলা by কিরণ শেখ
বিএনপি’র মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে ৫ই অক্টোবর রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. শরীফুল ইসলাম। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর বিএনপি’র মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, একেএম শহীদুল হকসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপি’র মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে মামলা করা হচ্ছে। এসব মামলা বিএনপি’র এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং ভুক্তভোগীরা করছেন। আর এ পর্যন্ত সারা দেশে ১২৩টি মামলা করা হয়েছে।
ওদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এবং দুই বছর আগে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের নামে লুটপাট ও ডাকাতির অভিযোগে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিএমপি’র সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ ৩০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৪ই সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় দুটি অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন খান অভিযোগ দু’টি দায়ের করেন। একটি মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৮ই ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। ডাকাতি করা মালামালের দাম ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ক্ষতির পরিমাণ তিন লাখ ৫২ হাজার ৫শ’ টাকা। এ মামলায় পুলিশ প্রধানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলায় বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ই জুলাই ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশ নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে এবং বাইরে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্র-গোলাবারুদ, বাঁশের লাঠিসোটা, রড, পিস্তল নিয়ে মহড়া দেয়। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয় তছনছ করে এবং অবৈধ অস্ত্র রেখে দেয় ভেতরে। তারা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ মহানগর নেতৃবৃন্দকে আসামি করে মিথ্যা মামলা করে। এ মামলায় হারুন অর রশীদ ছাড়াও ডিএমপি’র ১৬ জন কর্মকর্তার নাম দেয়া হয়েছে।
যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে ১৩ই সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন মিজানুরের বাবা আলহাজ আইনাল হক। মামলায় বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৭ই আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতারা পুলিশসহ বেআইনিভাবে দলবল নিয়ে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলে বাধা দেয়া হয়। কিন্তু বাধাকে উপেক্ষা করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে জোরপূর্বক মিজানুর রহমানকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১৮ই সেপ্টেম্বর সকালে গ্রামের লোকজন থানায় গিয়ে মিজানুর রহমান কোথায় আছে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রমজান আলী প্রকাশ করে যে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান পিপিএম রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেনের অফিসে নিয়ে গিয়েছেন। বলা হয়, ২০ লাখ ঢাকা চাঁদা দিলে মিজানুর রহমানকে ফেরত দিবে। এতে আরও বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশও গুম করে ফেলবে। কিন্তু মিজানুরকে হত্যা করে গোপন রাখা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মিজানুরের ভাই রেজাউল এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামাদের নাম দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতা কুদরত আলীকে হত্যার অভিযোগে ২রা অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেন মো. ফেরদৌস। এজাহারে বলা হয়, কুদরত আলীকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও কিছু সুবিধাভোগী পুলিশ মিথ্যা মামলায় আটক ও হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০২০ সালের ২৩শে জুলাই রাতে তারা বাড়িতে আসে এবং দরজার প্রাচীর টপকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৫শে জুলাই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বুকের ডান দিকে ও বামদিকে দু’টি গুলির চিহ্ন, দুই হাতে, পিঠে, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার নাম দেয়া হয়েছে।
বিএনপি’র আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মানবজমিনকে বলেন, আগে মামলা করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট রেজিম যখন ক্ষমতায় থাকে এবং রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা বহুবার আদালতে এবং থানায় গিয়েছি। আমাদের মামলা করতে দেয়া হয়নি। আদালতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকেও আমাদের মামলা খারিজ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এদেশে এখন আইনের শাসন কায়েম হয়েছে কিংবা হচ্ছে। যেকারণে শুধুমাত্র বিএনপি না যেকোনো রাজনৈতিক দলের আইনি আশ্রয়ের অধিকার আছে। যেকোনো নাগরিকের আইনি লাভের অধিকার আছে। সেজন্য এখন আমরা আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য শরণাপন্ন হচ্ছি। সেটা আদালতেও যাওয়া হচ্ছে এবং থানায়ও যাওয়া হচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় বহুবার তছনছ ও ভাঙা হয়েছে। যেসব পুলিশ এসব করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তখন আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারি নাই। এখন আমরা আইনের আশ্রয় নিচ্ছি। যেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।

Friday, October 4, 2024
গোপনে যে কাজ করে যাচ্ছেন তারেক রহমান by কিরণ শেখ
প্রথমে বৃদ্ধ এবং এতিম এমন ২৫টি পরিবারের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে।
সাহায্যপ্রাপ্ত একটি পরিবার বগুড়ার গাবতলীতে থাকে। পরিবারের কর্তা পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। তিনি হার্টঅ্যাটাকে মারা যান এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে। বিষয়টি জানার পর তারেক রহমান নিজেই তাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। এমন প্রায় দেড়শ’র মতো মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়া শিক্ষার্থীদের ১৪ জনের মতো চিকিৎসক হয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ছেন আরও কয়েকজন। সেনাবাহিনীতে দু’জন চাকরি পেয়েছেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে এই দু’জনের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ বহন করেছেন তারেক রহমান। তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েছিলেন এমন সাত থেকে আটজন প্রকৌশলী হয়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান এসব শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলেও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সেভাবে জানতে পারেন না।
বগুড়ার গাবতলী থানায় লাঠিগঞ্জের তিন মাথার মোড়ে এতিমদের জন্য একটি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এই মাদ্রাসায় পড়া প্রায় সব শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি নেই বা আংশিক আছে। এই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকও অন্ধ। তার উদ্যোগেই এই মাদ্রাসা করা হয়। ২০১১ সালের দিকে এই মাদ্রাসার তথ্য জানতে পারেন তারেক রহমান। তিনি সবকিছু খোঁজখবর নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ওই মাদ্রাসা চালাচ্ছেন। ২০১৭ সালের দিকে মাদ্রাসার একটি চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল।
তখন পরীক্ষায় দেখা যায় কিছু শিক্ষার্থী চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠবেন। পরে তাদের চিকিৎসা শুরুর নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। চিকিৎসা পেয়ে তাদের সাত জন শিক্ষার্থী এখন চোখে দেখতে পান।
বগুড়ার এই এতিমখানার মতো সারা দেশে আরও ৫টি এতিমখানার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
গাবতলীর লাঠিগঞ্জ হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা- সেখানে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সবাই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করেন বিনা খরচে।
সারা দেশে ১৪৪ পরিবারকে প্রতি মাসে ভাতা দিচ্ছেন তারেক রহমান। দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত এসব পরিবারকে অর্থ দেয়া হয় তার পক্ষ থেকে। ২০১৪ সাল থেকে এই ভাতা দেয়া শুরু করেন তিনি। এ ছাড়া গুম, খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মধ্যে তিনজনের বিয়ের আয়োজন করেন তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে। ফেনী, বগুড়া ও সাতক্ষীরায় এই তিন বিয়ের আয়োজন হয়।
অসহায় পরিবারকে নিজের উদ্যোগে ৫টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। এরমধ্যে ৩টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুটি ঘরের কাজ চলছে। এরমধ্যে বগুড়াতে দুটি, লক্ষ্মীপুর এবং রাজবাড়ীতে একটি করে। বাকি দুটির একটি লালমনিরহাটে এবং আরেকটি ফেনীতে। কুষ্টিয়ায় দুইজন রিকশাচালককে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বাড়ি নির্মাণ বাবদ ৩ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে তাদের। তারেক রহমান এসব কাজের অর্থের ব্যবস্থা করে দিলেও স্থানীয় বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের নেতারা তা বাস্তবায়ন করেন।
সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১২ জনের কৃত্রিম হাত-পা সংযোজনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারেক রহমান। তারা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা পুলিশের নির্যাতনে হাত-পা হারান।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের এ পর্যন্ত ১৫০ জনকে সহযোগিতা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সূত্রমতে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে যুবদল নেতা ফেরদৌসকে পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করার ১৫ দিন পর কারাগারে মারা যান তিনি। নিহত এই যুবদল নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। উপহার হিসেবে একখণ্ড জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। ঘর ও জমি পেয়ে খুশি নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও দুই সন্তানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৬ নং চরজাঙ্গালিয়া ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন ফেরদৌস আলম। পরে পুলিশ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে বর্বর নির্যাতন চালায়। চিকিৎসা না দিয়ে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে ১৫ দিন পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ফেরদৌস আলম। এ ঘটনায় মামলা বা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে দেয়নি পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একখণ্ড জমি কিনে ঘর করে দেন। এতে করে সন্তানদের নিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়।
কমলনগর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা পাটওয়ারী মানবজমিনকে বলেন, ফেরদৌস আলম ছিলেন ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা মো. আশরাফ উদ্দিন নিজান মানবজমিনকে বলেন, শুধু ফেরদৌস আলমই নয়, এভাবে বহু বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ফেরদৌসের মতো নির্যাতিত প্রত্যেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ওদিকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত ময়মনসিংহের শহীদ হাফেজ মো. সাদেকের পরিবারকে একটি দোকান করে দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আমরা বিএনপি পরিবারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান। সাদেকের পরিবারকে এই দোকান বুঝিয়ে দেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সাদেকের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ১ নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালিকা বাড়িতে। এ ছাড়া বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষ ও দলের সমস্যাপীড়িত নেতাকর্মীদের সহায়তা করে আসছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়- অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজে সরাসরি সহায়তা করেন আর না হয় দলের বিত্তবান নেতাকর্মীদের সহায়তা করতে নির্দেশনা দেন।
প্রকৃতি এবং প্রাণী নিয়ে চিন্তা করেন তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ে শুধু ঢাকাতেই এক লাখ নিম গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। বগুড়া খোকন পার্কে (পার্ক নির্মাণের সময়) ১০০ বছরের পুরনো একটি জয়তুন গাছ ছিল। সেই গাছটি কাটার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তখন। সেটি জানার পর তারেক রহমান গাছটি রেখেই পার্ক নির্মাণের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন গাছটির রক্ষা হলেও কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পার্কটি নতুন করে করার নামে গাছটি কেটে ফেলেছেন। বগুড়ায় রাস্তায় ডিভাইডার করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তিনি নিজের হাতে কিছু গাছ লাগিয়েছিলেন সেখানে।
আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অনেক মানবিক কাজ করে আসছেন। তিনি চান না এসব প্রকাশ্যে আসুক। গোপনে, নীরবে তিনি এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যারা সাহায্য বা সহযোগিতা পাচ্ছে তারাও জানতে পারেন না এটি তারেক রহমান করছেন। তারা মনে করেন বিএনপি বা নেতাকর্মীরা তাকে সহযোগিতা করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এসব কর্মকাণ্ড আমাদেরও উৎসাহিত করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

সংলাপে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেবে বিএনপি, সংস্কার বিষয়ে পরে জানাবে by কিরণ শেখ
রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি’র প্রস্তাবের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির ছয়জন স্থায়ী কমিটির সদস্যের সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন-এর। তারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডেকেছে। সেখানে বিএনপি’র একটি প্রতিনিধিদল যাবেন। তারা কী বলেন- তা প্রতিনিধিদল শুনবেন। এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেবে বিএনপি। এ নিয়ে দু’টি মিটিং হয়েছে। সামনে আরও একটি মিটিং হবে। এরপর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, প্রথমে জানতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী করবে। এরপরে আমরা প্রস্তাব দেবো। আমাদের ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা আছে। সেখানে বলা আছে আমরা সরকারের গেলে কী করবো। কিন্তু এই সরকারের কাছে জনগণ আশা করে, তারা যতদ্রুত সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে- যে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা করবে। এটা যতদ্রুত সম্ভব হবে তা দেশ ও আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান মানবজমিনকে বলেন, শনিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা আমরা শুনবো। এরপরে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সংস্কার প্রস্তাব ঠিক করবো। সেজন্য বিষয়টি এখনো বলা যাচ্ছে না।
ওদিকে রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারকে সহযোগিতা করতে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এসব কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয় কমিশনের সঙ্গে মিল রেখেই করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- রাষ্ট্র সংস্কার, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, নির্বাচন কমিশন এবং ব্যাংকিং ও বাণিজ্য সংস্কার। মঙ্গলবার দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কমিটি গঠন করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। কমিটিরগুলো আহ্বায়ক ও সদস্যরা হলেন- সংবিধান পুনর্গঠন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। সদস্য হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, প্রফেসর বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক সুপন ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুজ জামান ভূঁইয়া ইমন। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে। সদস্য হলেন- এডভোকেট জয়নাল আবদিন, বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি মোহাম্মদ রইস উদ্দিন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিচারক ইকতেদার হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিম। পুলিশ বিভাগ সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। সদস্য হচ্ছেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জহিরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি আবদুল কাইউম, সাবেক ডিআইজি খোদা বক্স ও সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান।
এছাড়া প্রশাসন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। সদস্যরা হলেন- সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক সচিব মনিরুজ্জামান খান। দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি শরফুদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমানের নাম রয়েছে। সদস্য হচ্ছেন- ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল ও সাবেক সচিব আবদুর রশিদ। নির্বাচন কমিশন বিষয়ক সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে। সদস্য হচ্ছেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক সচিব আবদুর রশিদ।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান মানবজমিনকে বলেন, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, সংস্কার প্রস্তাব এখনো ঠিক হয়নি। এজন্য কমিশন প্রণয়ন করা হয়েছে। তারা কাজ করছেন। আরও কয়েকদিন লাগবে কাজ শেষ হতে। এরপরে বলা যাবে।
এদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছয়টি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব কমিশন ১লা অক্টোবর থেকে কাজ শুরুর কথা ছিল। যদিও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৃতীয় দফায় সংলাপে বসবে আগামীকাল শনিবার। এদিন বেলা আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে বসবেন বিএনপি’র একটি প্রতিনিধিদল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিনদিন পর শপথ নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে দু’দফা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
Wednesday, October 2, 2024
জামায়াত তাদের রাজনীতি করবে কৌশলও আলাদা -গয়েশ্বর চন্দ্র রায় by কিরণ শেখ
নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণ যে আন্দোলন করেছে তার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারকে উপলদ্ধি করতে হবে জনগণ কেন রক্ত দিলো। কেন গুম হলো, মারা গেল, কেন এতো নির্যাতিত হলো, কেন এতো জেল-জুলুমের শিকার হলো- আসলে তারা কী চায়। সেই জনআকাঙ্ক্ষাকেই কিন্তু বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে হবে। একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই কিন্তু আগামীদিনের পথ চলাটাকে আমাদের সুগম করতে হবে।
বিএনপি নির্বাচন-বিমুখ না উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গত নির্বাচনের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের আগামী নির্বাচনে বাইরে রেখে নতুন করে সবকিছু তৈরি করলে এবং আস্থা আনলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে, কারও অপেক্ষায় তারা থাকবে না। আর আমরা তো নির্বাচনের জন্যই আন্দোলন করছি, একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি কতো আসন পেতে পারে এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়টি ভোটারদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালে বলেছিলেন- বিএনপি ১০টি আসনও পাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কপালে কী জুটেছে। সুতরাং জনগণ কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা সাধারণ জনগণের ব্যাপার। আমি কয়টা আসন পাবো, আমি তো সব আসন পেতে চেষ্টা করবো। কয়টা আসন পাবো, সেটা সাধারণ জনগণ চিন্তা করবে যে, কাকে আমি ভোট দিবো।
জামায়াত কৌশলগতভাবে এই মুহূর্তে নির্বাচন চাচ্ছে না, তারা মনে করছে দেরিতে নির্বাচন হলে তাদের লাভ এমনটা অনেকে বলছেন, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট ছোট যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, আন্দোলন ও সংগ্রামে তাদের যে ভূমিকাটা আছে- সেজন্য আমরা তাদেরকে সম্মান করি। কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে কে নির্বাচন আগে চায় এবং পরে চায়- এটা যার যার বিষয়। কিন্তু কোন কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে মনে হয় যে, এটা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০০ রাজনৈতিক দল আছে, নিবন্ধন আছে বেশ কয়েকটি দলের। এই নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অনেক দলে সভাপতি আছে কিন্তু সাধারণ সম্পাদক নাই। এখন তৎপর যারা, ক্ষমতায় ছিল এবং ক্ষমতায় আসতে পারে- এই দল, যাদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে, সাংগঠনিক শক্তিসহ সবকিছু আছে, তাদের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা মানে মানুষের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা। আর এখানে ভোটের রাজনীতি কিন্তু অন্যরকম। জামায়াতের রাজনীতি জামায়াত করবে, আর তাদের কৌশলও তাদের।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারেক রহমান যেকোনো মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারেন। ১/১১’তে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। এই ষড়যন্ত্রটা যে থেমে গেছে, এটা তো মনে করি না। উনি আমাদের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। উনি মাঠের আন্দোলনটা কীভাবে চাঙ্গা করেছেন, তার যে দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা- এটা তিনি প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে তো ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে। সুতরাং তাকে (তারেক রহমান) যদি আমরা দেশে নিরাপদবোধ মনে না করি, আমরা উনাকে আসতে বলবো না। আমরা আগে তার নিরাপত্তাটা ঠিক করি, রাজনৈতিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করি। আর উনি তো আছেন। উনি তো আমাদের দূর থেকেই চালাতে পারছেন। আজকেই তাকে ঢাকায় লাগবে- এমন তো না। দ্বিতীয় হলো, দেশে থাকলে হয়তো আমরা আরও বেশি চাঙ্গা হবো। কিন্তু দূর থেকেও উনি আমাদের কাছে আছেন। প্রতিনিয়তই কথা বলছেন। সুতরাং জাতীয় রাজনীতির অনেক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই এবং জটিল বিষয়গুলো সহজ করেই আমাদের চিন্তা করতে হবে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উপস্থিত রেখেই দলের জাতীয় কাউন্সিল করা হবে বলেও জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছুতেই একটা চলমান প্রক্রিয়া। আজকে যে সংস্কারটা প্রযোজ্য, আগামীতে সেই সংস্কারটার পরিবর্তে নতুন কিছুর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। দেশ এবং জাতির প্রয়োজনে সংস্কার অনিবার্য। আজকে যে সংস্কার দেশ ও জাতির জন্য হচ্ছে, হয়তো একবছর কিংবা দুই বছর পর দেখা দিবে যে, ওটাকে আবার সংস্কার করতে হবে। আর সংস্কার এক জায়গায় থেমে থাকে না। সংস্কার শব্দটি রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনে, ব্যক্তি জীবনে এটি চলমান প্রক্রিয়া।
১/ ১১’তে যে সংস্কারের কথা বলা হলো সেটাকে তো পরে কুসংস্কারে পরিণত করা হয়। একটা বিরাজনীতিকরণ, যেটা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। যেটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হেয় করা হয়েছে, যেটা কাম্য ছিল না। যার ফলাফলটা নেতিবাচক হয়েছে, ইতিবাচক হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে, এই সংস্কারগুলো যদি রাষ্ট্রীয় হয়, তবে সাংবিধানিকভাবে এই সংস্কারটা আনতে হবে, সেটা না পারা গেলে নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। কারণ যেকোনো রাষ্ট্রীয় কিংবা সংবিধানের সংস্কার সংসদ ছাড়া সম্ভব না। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তারা সংস্কারের প্রস্তাব দিতে পারে, জনগণের মধ্যে একটা উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে- জনগণ এটাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এটাকে কার্যকর করতে গেলে নির্বাচিত সংসদ দরকার। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন এই সরকারের যেটা দরকার, একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্য- নির্বাচনের নিয়ম আছে, আরও বিভিন্ন বিষয়গুলোতে তারা পরিবর্তন আনতে পারে। যেটা জনগণ গ্রহণ করবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটাও তারা করবেন।

Monday, September 30, 2024
দখল-চাঁদাবাজি: দেড় মাসে বিএনপি’র পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মীকে শাস্তি by কিরণ শেখ
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বিলুুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সাইফুল আলম নিরবকে আহ্বায়ক ও আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে গত ৭ই জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আড়াই মাসের ব্যবধানে এ কমিটি ভেঙে দিলো দলটি।
সূত্র মতে, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় সাইফুল আলম নিরবের নেতৃত্বে এবং তার সহযোগী ফখরুল ইসলাম রবিন, আবু সুফিয়ান দুলাল ওরফে ভিপি দুলাল এবং মশিউর রহমান সোহানের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে ও অফিসে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলছে। আর নিরবের অনুসারী শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালামত খান সজীব, যুবদল নেতা আতিকুল ইসলাম অপুসহ আরও বেশকিছু নেতাকর্মী সেচ ভবন, খামারবাড়ি, শিক্ষা ভবন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ ভবন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল এবং ফার্মগেটের বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাথগুলোতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাইফুল আলম নিরবকে পাওয়া যায়নি। ওদিকে চাঁদাবাজি ও দখলের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন স্থানে সাইফুল আলম নিরবের নামে সতর্কতামূলক মাইকিং করতেও দেখা গেছে।
এদিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বিএনপি। এরমধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের মালিকানাধীন গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকা কক্সবাজারের পেকুয়ায় গিয়ে সংবর্ধনা নেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর হওয়ার পর নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে দল থেকে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আরেক বিতর্কিত ডায়মন্ড ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সঙ্গে গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করেন খোকন। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে বিএনপি তার কাছেও ব্যাখ্যা চায়।
ওদিকে ৮ই সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেলের বহর বা অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকেও নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এই নির্দেশনা অমান্য করে সম্প্রতি নোয়াখালীতে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মোটর শোভাযাত্রা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এজন্য তাকেও নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফরিদপুরের নগরকান্দায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের (বাবুল) দলীয় পদ স্থগিত করেছে বিএনপি।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী ও নৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার, পদ স্থগিত ও কমিটি বাতিল করা হয়েছে। আর বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে অনেকে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছেন। আবার জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেলের বহর বা অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকেও নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব নির্দেশ যারা অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৫০০ অধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ নানা শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১১ই আগস্ট বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে, ১৫ই আগস্ট দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবুল হাশিমকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ৩১শে আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বগুড়া জেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম তাজুল ইসলামকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হক এনাম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম মামুন মিয়ার প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. কাউছার তালুকদার এবং একই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনিকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১লা সেপ্টেম্বর সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ত্রাণ তহবিলে তার দেয়া দশ লাখ টাকাও ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে ফেরত দেয়া হয়েছে, ৭ই সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর পল্লবী থানাধীন ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা মাস্টারকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১২ই সেপ্টেম্বর মানুষকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণে পিরোজপুর জেলাধীন মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক রুহুল আমিন দুলালকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে নাটোর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাটোর জেলাধীন সিংড়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদ বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোভাযাত্রা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও টঙ্গিবাড়ী থানাধীন দীঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. শামিম মোল্লা এবং মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন টঙ্গিবাড়ী থানার অন্তর্গত কামারখাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল ব্যাপারীকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল: ৯ই আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মাগুরা জেলাধীন সদর পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১২ই আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে, ২রা সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ২রা সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১৯শে সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লা উত্তর জেলাধীন মুরাদনগর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জয়নাল আবেদীন মোল্লাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
কৃষক দল: ৭ই আগস্ট জাতীয়তাবাদী কৃষক দল মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. তোজাম্মেল হক তোজাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ৭ই আগস্ট কৃষক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) মো. মোস্তফা কামালকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. বদিউল আলম বদরুলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

Friday, September 20, 2024
৩১ দফা নিয়ে মতামত নিচ্ছে বিএনপি by কিরণ শেখ
৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রত্যয় ব্যক্ত নিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে পৃথক ৬টি কমিশনও গঠন করেছে সরকার। এ ছাড়া রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশিষ্টজনরাও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিএনপি বলছে, রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলো নতুন কিছু নয়। গত বছরের জুলাইয়ে বিএনপিসহ সব বিরোধী দল মিলে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল। রাষ্ট্রের যত ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ওই দফাগুলো প্রণয়ন করা হয়। রূপরেখা ঘোষণার পর এর ওপর এক বছর বিভিন্ন সেমিনার এবং ওয়ার্কশপও করেছে দলটি।
বিএনপি’র নেতারা বলছেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখার মধ্যে রাষ্ট্রের প্রায় সব সংস্কারের কথা বলা আছে। এরপরও যদি এখানে দুই-একটা সংযোজন করতে হয়, সেগুলো বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সংযোজন ও বিয়োজন করবে। এজন্য দল থেকে এই ৩১ দফা নিয়ে তৃণমূলের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে জনগণের সঙ্গে কথা বলা হবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় যা আছে, এতে যোগ করার মতো বেশি কিছু নেই। এটা নিয়ে বিএনপি দীর্ঘ ৬ মাস কাজ করেছে। সুশীল সমাজ এবং যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক দলসহ সবার সঙ্গে কথা ও আলোচনার মধ্যদিয়েই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়। সুতরাং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয় নতুন না। এখন যারা সংস্কারের কথা বলছেন তাদের কাছে নতুন হতে পারে। কিন্তু আমাদের কাছে নতুন না। আর ৩১ দফায় কিছু সংযোজন ও বিয়োজন বিষয়ে কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ৩১ দফা সংস্কার চলমান রয়েছে। সবার কাছ থেকে প্রস্তাবও নেয়া হচ্ছে। সেগুলো রেকর্ডও রাখা হচ্ছে। আর সংস্কার করার পর সেমিনার কিংবা ইভেন্টের আয়োজন করে এটা আবারো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, ৩১ দফায় সংযোজন ও বিয়োজনের বিষয়ে কাজ চলছে। এজন্য বিভিন্ন মহলের মতামতও নেয়া হচ্ছে।
ওদিকে সম্প্রতি যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এসব বৈঠকে ৩১ দফা রূপরেখা সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ হয়। সূত্র জানায়, ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নে তৃণমূলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এটা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে দলগুলোর নেতারা। তারা বলছেন, এই ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। যদি ৩১ দফাতে আরও কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়, সেটাও করবে। জনগণ যদি মনে করে আরও কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে- সেটাও তারা জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবে।
গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। ৩১ দফা আমাদের সকলের মতামত। জাতীয় প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ১৩ই জুলাই সংবিধান, রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করে বিএনপি। গণতন্ত্র মঞ্চ এবং বিএনপি এই রূপরেখা একইসঙ্গে ঘোষণা করার কথা ছিল। পরে পৃথক পৃথকভাবে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করে তারা।

Sunday, September 8, 2024
মুক্ত খালেদা জিয়ার দিন কাটছে যেভাবে by কিরণ শেখ
২৫ মাসেরও বেশি সময় সাজানো মামলায় কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কারাগার থেকে বের হলেও মুক্তির স্বাদ পাননি। গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত ছিল চলাফেরার সীমাবদ্ধতা। অবশেষে সেই শুভক্ষণ দেখা দেয় ৬ই আগস্ট। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের পর এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দণ্ড মওকুফ করে মুক্তির আদেশ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সংবাদ পান তিনি। মুক্তির পর দিনই ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপি’র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন বেগম খালেদা জিয়া। এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২১শে আগস্ট গুলশানের বাসায় ফিরেন দুর্নীতির দুই মামলার দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন। মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। যদিও ২৪ ঘণ্টাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এরপরও স্বৈরাচার থেকে দেশ, দেশের মানুষ এবং বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মুক্ত হওয়ার স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া।
পারিবারিক
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো সুস্থ নন। আগে তিনি বন্দি
ছিলেন, এখন মুক্ত। দলের নেতাকর্মীরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের
নির্যাতন, দমন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ
ফিরে এসেছে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া মানসিকভাবে স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
সূত্রটি জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার শরীর কিছুটা ভালো থাকলে উনি বই, পত্রিকা
এবং টেলিভিশন দেখে সময় কাটান। পাশাপাশি দলের অনেকেই দেখা করতে চান।
এক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া চাইলে তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সবাইকে
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বার্তা দেন তিনি। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যরা প্রায়
প্রতিদিনই বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান।
ওদিকে ৪ঠা
সেপ্টেম্বর রাতে স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানের
বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন
কুক। বৃটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও ইউকের সম্পর্কের ব্যাপারে তাদের
চিন্তা-ভাবনা বেগম খালেদা জিয়াকে অবগত করেন। পাশাপাশি দু’দেশের সম্পর্ক
উন্নয়নে তারা কি করতে চায়, সে বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জানান সারাহ
ক্যাথেরিন কুক। এ প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ-ইউকের সম্পর্ক আরও
শক্তিশালী করার জন্য বলেন এবং আগামী দিনে দু’দেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ
প্রত্যেকটা জিনিস যাতে উন্নততর অবস্থায় যেতে পারে, সে বিষয়েও বৃটিশ
হাইকমিশনারকে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। রাত সাড়ে ৮টায় বৃটিশ হাইকমিশনারের
পতাকাবাহী গাড়ি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন। প্রায়
ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া
দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বৃটিশ হাইকমিশনার এবং তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
সাক্ষাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা.
এজেডএম জাহিদ হোসেন, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন
তালুকদার, ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল
উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালে কারাবন্দি এবং মুক্তির পর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে
এই প্রথম বৃটিশ হাইকমিশনার ফিরোজায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ
করলেন।
মেডিকেল বোর্ডের দু’জন সদস্য মানবজমিনকে বলেন, গুলশানে নিজ
বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিকভাবে এখনো তিনি সুস্থ
নন। কারণ মেডিকেল বোর্ড চাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্যে কিংবা
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে। বেশ লম্বা সময় ফ্লাই করার মতো শারীরিক অবস্থা হলে
তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।
খালেদা জিয়ার
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিতে
তার যে দীর্ঘ সময়ের জার্নি সে বিষয়ে তার প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ
করছেন। মেডিকেল বোর্ড বলেছেন, ইউকেতে নেয়া হলে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে,
অথবা ইউএসএ নিতে হলে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার লাগবে, কাজেই শারীরিক
সুস্থতার ফর দিস ফ্লাইং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ইউকে ও ইউএসএ’র হসপিটালের
সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বেগম খালেদা
জিয়ার শারীরিক সুস্থতা ফ্লাইংয়ের মতো হলেই বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখা
হবে।
বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মানবজমিনকে
বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন অসুস্থ। ম্যাডাম গুলশানের বাসভবনে মেডিকেল
বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৭৯ বছর বয়সী
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস,
কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। সবশেষ গত ৮ই জুলাই গভীর রাতে
বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। এর
মাসখানেক আগে গত ২রা মে তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার আগে গত
বছরের ৯ই আগস্ট খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫
মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গত ১১ই জানুয়ারি তিনি বাসায় ফেরেন। মাঝে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে তার রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার
করা হয়। এরপর তার স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের
৮ই ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ আওয়ামী লীগ সরকার
নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল খালেদা
জিয়াকে। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি
করা হচ্ছিল।
জিরো টলারেন্সে বিএনপি’র হাইকমান্ড: অভিযোগ প্রমাণ হলেই মামলা by কিরণ শেখ
৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে হাতবদল হয়েছে। এ সব জায়গায় এখন বিএনপিপন্থিরা দলবল নিয়ে মহড়া ও হুমকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ সব নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনসাধারণের কাছে দলটির ইমেজ ধরে রাখতে কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি’র হাইকমান্ড। চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন’র। তারা বলেন, সম্প্রতি বিভাগীয় পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও তারেক রহমান মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি ও দখলের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যেসব নেতাকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তারেক রহমানের এই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এরই প্রেক্ষাপটে ২রা সেপ্টেম্বর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাদী হয়ে মামলার এজাহার দেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতিপয় ব্যক্তি বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে সবাইকে বারবার সতর্ক করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর তারেক রহমান এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এখন শুধু সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন।
গত ২৭শে আগস্ট ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় এলজি-বাটারফ্লাই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য একটি আবেদনপত্রে সুপারিশ করেন ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। ওই আবেদনে প্রতিষ্ঠানের সাপ্লাই চেইন, পরিবহন এবং ওয়েস্ট ডিজপোজাল কাজ ভালুকা এন্টারপ্রাইজকে দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই কোম্পানিকে দেয়া সুপারিশে বিএনপি নেতা ফখরউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, উল্লিখিত (ভালুকা এন্টারপ্রাইজ) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যবসা পরিচালনার কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হইল। তারপরই বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
তবে শনিবার রাজধানীতে ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিএনপি’র একজন পরীক্ষিত কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করে সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়ে আজকের এ পর্যায়ে এসেছি। এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে নেয়া দলীয় সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিয়েছি। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে নেয়া সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।
সভায় উপস্থিত দু’জন নেতা মানবজমিনকে বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের মধ্যে বিএনপি’র যে জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই জনপ্রিয়তা নিয়েই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে চান বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এটা যেই নষ্ট করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এ সময়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তির বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তারেক রহমান। গত ৮ই আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএনপি’র ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় এবং বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত কোনো স্তরেরই কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যোগদান করানো যাবে না।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বহিষ্কার, পদ স্থগিত এবং মামলাও করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছেন জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
ওদিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংগঠনটি। এর আগে তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন মানবজমিনকে বলেন, অপরাধের প্রমাণ পেলে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও কমিটি ভেঙে দেয়া এবং পদ স্থগিত করা হচ্ছে। তবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ৭ থেকে ৮জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলের অভিযোগে ঢাকায় ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংগঠনটি। এসব অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর প্রায় ২০০ নেতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মানবজমিনকে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে এ পর্যন্ত একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যেসব কাজ করলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে- এমন অপরাধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2005)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...