Monday, March 30, 2015

লাঙ্গলবন্দ ট্রাজেডি- তদন্ত কমিটির কাজ শুরু by বিল্লাল হোসেন রবিন

লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী স্নানোৎসবে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজকদের দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখ লাখ মানুষের এ উৎসবে যতটুকু প্রশস্ত সড়ক থাকা প্রয়োজন সেটা না থাকার কারণেই এ দুর্ঘটনা। তাছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের ১৬টি ঘাটে এবার যে পরিমাণ কচুরিপানা ছিল তাতে স্নান করার মতো উপযোগী ছিল না। এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীরা স্নান উদযাপন কমিটিকে দায়ী করলেও কমিটির লোকজন পুরো বিষয়টি প্রশাসনের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আর প্রশাসন প্রকৃত কারণ বের করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসক বলেছেন, দখলের কারণেই রাস্তা সরু হয়েছে। আর সরু রাস্তার কারণেই এ দুর্ঘটনা। অচিরেই তদন্ত প্রতিবেদনের পর সরু রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। তবে পুণ্যার্থীদের অভিযোগ- এ সমস্যা কেন আগে চিহ্নিত করা হয়নি। এদিকে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ ও ধর্মীয় স্থানের উন্নয়নে আমব্রেলা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু এ প্রজেক্ট আলোর মুখ না দেখার কারণেও পুণ্যার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, অভিযোগ উদযাপন পরিষদের। লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের সাবেক কয়েকজন সদস্য বলেছেন, আগে লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদ উৎসবের একমাস আগে থেকেই আয়োজন ও প্রস্তুতি নিতেন। ওই সময় তারা এক মাস আগে থেকে লাঙ্গলবন্দে অবস্থান করে সমস্যা চিহ্নিত করে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু বর্তমান কমিটির নেতারা বছরজুড়ে তাদের কার্যক্রম শুধু আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। স্নান উৎসবের মাত্র দুদিন আগে ওনারা সেখানে গিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ফলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। উদযাপন কমিটির সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা অবশ্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন না। তিনি বলেন, মূলত ঘটনাটি ঘটেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা কেন্দ্র করে। একটি ছিনতাইচক্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশে বেইলি ব্রিজের কাছে গিয়ে ব্রিজ ভেঙে পড়ছে বলে আওয়াজ তুললে হুড়োহুড়ি শুরু হলে এ ঘটনা ঘটে।
রাস্ত সরু, অবৈধ দখলদার, নদে কচুরিপানাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিভিন্ন সভায় লাঙ্গলবন্দের সমস্যার ব্যাপারে স্নান পরিচালনা কমিটিকে জানিয়েছি। লিখিতভাবেও তাদের জানিয়ে সেই কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যদি লাঙ্গলবন্দে আমব্রেলা প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করা হতো তাহলে এমন ঘটনা কখনই ঘটতো না।
তদন্ত কমিটির কাজ শুরু
এদিকে পদদলিত হয়ে ১০ নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল দুপুরে কমিটির সদস্যরা বন্দরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর আগে কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইসরাত হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, তাদের কমিটি গতকাল দুপুরে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুরো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কিছু বলা যাবে না।
এর আগে শনিবার তদন্ত কমিটির পুনর্গঠন করে ৭ সদস্য করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদুর রহমান হাবিব, ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিজানুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-পরিচালক, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং সড়ক ও জনপথের প্রতিনিধি। এ কমিটিকে ৫ কার্যদিবসে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে বন্দরের লাঙ্গলবন্দ বাজারে রাজঘাট এলাকায় প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে ৭ নারীসহ ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। আহত কমপক্ষে ৩০ জন। লাঙ্গলবন্দের স্নানের ইতিহাসে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম।

সেই দাদাগিরি ভারত করবে কেন? -আনন্দবাজারের রিপোর্ট

আইসিসি-র সমস্ত অভ্যাগত, বিশেষ অতিথি সবাই বসলেন এমসিজি মাঠের তিন নম্বর গেটের চার তলায়। ওখানে আইসিসি-র ভিভিআইপি বক্স। আর তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট কিনা বসলেন ছয় নম্বর গেটে একা একটা বক্সে। তিন নম্বর গেটটাকে যদি ক্লাব হাউস কল্পনা করা যায়, তিনি মুস্তাফা কামাল বসেছিলেন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের দিকের গেটে। তার পর সরে এলেন আইসিসি বক্সের নীচের গ্যালারিতে। ওখানে বসেই দেখলেন পুরস্কার বিতরণ শুরু হচ্ছে। নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হাতে ওয়ার্ল্ড কাপ তুলে দেওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি অবশ্য আর অপেক্ষা করেননি। অপমানে আগেই বেরিয়ে যান। জানা হল না গোটা এমসিজি যখন শ্রীনিবাসনের নাম ঘোষণা হতেই বিদ্রুপে ফেটে পড়ল, তখন তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট কোথায় ছিলেন?
বাংলাদেশ ক্রিকেটমহল তাদের দেশের আইসিসি প্রেসিডেন্টকে পুরস্কার বিতরণ থেকে কার্যত সাসপেন্ড করায় অত্যন্ত উত্তেজিত। কারণ আইসিসি-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার কথা কামালের। আইসিসি প্রেসিডেন্টের।
এটা ওরা করতে পারে না। কতগুলো বাজে লোক জুটে এটা করল যা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ, রোববার একলা বসে বললেন কামাল। এদের সঙ্গে কী করে এক বক্সে বসব, তাই আলাদা বসে রয়েছি, বললেন তিনি। শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি পেলে এ নিয়ে আইসিসির কাছে বাংলাদেশ সরকারও অভিযোগ জানাতে পারে। চূড়ান্ত ছবিটা বোঝা যাবে সোমবার যে, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।
আনন্দবাজারের রোববারের খেলার পাতায় পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল বিশ্বকাপ দেওয়া নিয়ে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু বোঝা যায়নি সেটা এই পর্যায়ে নামতে পারে। জানা গেল শনিবার রাত্রে আইসিসি-র জনা কয়েক সদস্যকে নিয়ে বেসরকারি বৈঠক করেন শ্রীনিবাসন। সেখানেই বলে দেন কামালকে যে, আইসিসি-র কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙার অভিযোগে আপনাকে আমরা ট্রফিটা দিতে দেব না।
কামাল অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, মিস্টার শ্রীনিবাসন, আজকের দিনে আইসিসি প্রেসিডেন্ট কে? শ্রীনি বলেন, আপনি। কালকে আইসিসি প্রেসিডেন্ট কে থাকবে? শ্রীনি বলেন আপনি।
তাই যদি হয় তা হলে আমি বিশ্বকাপ তুলে দেব না কেন? শ্রীনি তখন বলেন, উত্তরটা আপনাকে আগেই দেওয়া আছে। এই সময় নাকি তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। শ্রীনি এই বিতর্ক নিয়ে এবিপিতে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। বলেন,এটা থাক। বাংলাদেশ ম্যাচে কী হয়েছিল আপনারা সবাই খেলা দেখেছেন। আমি এর মধ্যে ঢুকব না।
শোনা যাচ্ছে, মুস্তাফা কামাল মোটেও সহজে হার মানেননি।তর্কাতর্কির মধ্যে আইসিসি প্রেসিডেন্ট রীতিমতো আইসিসি চেয়ারম্যানকে শাসান। আপনি এমন কোনও বেআইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তা হলে আইসিসি-র গঠনতন্ত্র বদলাতে হবে। শ্রীনি তাতেও প্রভাবিত নন দেখে তাঁকে বলা হয়,এতে কিন্তু আগুন জ্বলে যাবে। আপনি বুঝতে পারছেন না কী করতে যাচ্ছেন!
কিছু পরে বাংলাদেশ বোর্ড প্রেসিডেন্টও শ্রীনির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের তীব্র আপত্তির কথা জানান। বাংলাদেশের তরফে বলা হয় আইসিসি-কে আড়ালে আবডালে বলা হয় ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। আজকের পর থেকে তো আরওই বলবে। শ্রীনি তাতেও কর্ণপাত করেননি। তাঁর সঙ্গে আইসিসি-র অন্য কর্তারাও না। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের পর আইসিসি প্রধানের আম্পায়ারিং নিয়ে তীব্র কটূক্তি ডেভ রিচার্ডসন-সহ আইসিসি কর্তারা কেউ ভুলতে পারছেন না। তাঁরা মনে করেন, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার অবমাননা হয়েছে।
আইসিসি প্রেসিডেন্টের পাল্টা বক্তব্য, কেন তিনি কী বলেছেন তা তো আগে তাঁকে জবাবদিহি করে তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে। এক্সিকিউটিভ বোর্ড তাঁর বক্তব্য খতিয়ে বিচার করে গঠনতন্ত্র বদলাবে, তবে তো তাঁকে সরানোর প্রশ্ন। রাতে দেখা হতে বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলব। ঢাকা ফিরে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব, তার পর দেখছি। শোনা গেল প্রয়োজনে আইসিসি-র বিরুদ্ধে তিনি মামলা করতে পারেন।
কিন্তু এত অপমানিত যখন, মাঠে এলেন কেন? বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বললেন, আসাটা আইনজীবীর পরামর্শে যে, আমি তখন সশরীরে মাঠে অথচ আমাকে প্রাইজ দিতে ডাকেনি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে তাদের লোককে গা-জোয়ারি করে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সরিয়ে রাখছে। এতে ক্রিকেট মহলের ভারত-বিরোধী অসন্তোষ আরও বাড়ার কথা।
মুস্তাফা কামালের আম্পায়ারিং নিয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত অসমীচীন হয়েছে এটা যাঁরা মনে করেন তাঁদেরও বক্তব্য, আইসিসি কেন তা হলে ওঁকে শো কজ করল না? বেসরকারি বৈঠক করে এ ভাবে বাদ দেওয়াটা তো বেআইনি? সেই দাদাগিরি ভারত করবে কেন? আর তাদের করতে দেওয়াই বা হবে কেন?
বিশ্বকাপ ফাইনাল যেমন একতরফা হল, এই ম্যাচটা তত সহজে নিষ্পত্তি হবে বলে মনে হয় না। ভারতের বাংলাদেশ সফর করার কথা আগামী জুনে। কিন্তু দুদেশের ক্রিকেট প্রশাসনিক সম্পর্ক যেমন তিক্ততার স্তরে পৌঁছেছে, তাতে সফরটা হবে কি না এই মুহূর্তে ঘোরতর অনিশ্চিত।

‘যে যেখানে পারছে লুণ্ঠন করছে’ -আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

দেশের প্রতিটি স্তরে আগ্রাসীভাবে দুর্নীতি বিরাজ করছে উল্লেখ করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, যে যেখানে পারছে সেভাবেই লুণ্ঠন করছে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে ‘শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের  আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি অফিসে প্রতিটি স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক পর্যন্ত লুণ্ঠন করছে।  আমরা এখন সারাটা জাতিকে দস্যুতে পরিণত করে ফেলেছি। যে যেখানে পারছে সেভাবেই লুণ্ঠন করছে। আর এ লুণ্ঠনের আরেক নাম হচ্ছে দুর্নীতি। তিনি বলেন, এখন বলা যায় দুর্নীতির অবস্থা আমাদের দেশে খুবই আশঙ্কাজনক। দুর্নীতি যতো চলবে সমাজ ততো দরিদ্র্য হবে। দুদকের উদ্দেশে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, সত্যিকারের শক্তির প্রয়োগ না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধের স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। দুদকেরও প্রমাণের বিষয় আছে। এ প্রতিষ্ঠানকেও একটি ভূমিকা পালন করতে হবে।  প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দুদক যে দুর্নীতি দমনের কথা বলছে, তারা কী দুর্নীতিমুক্ত? দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধের আগে তাদেরই দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

‘ভারতের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়’ -বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা এখন শূন্যেও কোঠায় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের কাছে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা হিমালয়ের চেয়েও উঁচুতে গিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে তাদের কর্মকান্ডে ভারতবিরোধী মনোভাব প্রবল হয়েছে। বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটারবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে তারা যেভাবে সরকারকে সমর্থন দিয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। দেশের চলমান  সঙ্কট উত্তরণে উদ্যোগ নেয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির ৬২তম দিনে গতকাল এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রতি মানুষের মনোভাব কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে তা ভারত-অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনাল খেলার দিনে স্পষ্ট হয়েছে। ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিজয়ে এদেশের মানুষ যে বিজয়োল্লাস করেছে তা গিনেসবুকে স্থান পাওয়ার মতো। অথচ অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশের কোথাও একটা পটকাও ফোটেনি।

জোটগত নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলে অনৈক্য

আগারগাঁওয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল
করেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক (বাঁ থেকে), বিএনপির
নেতা আবদুল আউয়ালের পক্ষে তাঁর ছেলে তাফসির আউয়াল এবং আওয়ামী
লীগের সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী l ছবি: প্রথম আলো
গুলিস্তান এলাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গতকাল
মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন,
বিএনপির নেতা আবদুস সালামের পক্ষে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সালাম এবং বিএনপির
নেতা মির্জা আব্বাসের পক্ষে তাঁর আইনজীবী মো. শাহজাহান l ছবি: প্রথম আলো
জোটগতভাবে নির্বাচন করা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে অনৈক্য দেখা দিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে আসায় জোটগত প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন জোট। ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়র পদে ১৪ দলের একক প্রার্থী দেওয়া হবে। ১৪ দলের আগামীকালের বৈঠক থেকে এ ঘোষণা আসবে। জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ মেয়র পদে জোটগত প্রার্থী দিতে চাইলেও অন্য শরিক জাসদ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চায়। জাসদের পক্ষে ঢাকা দক্ষিণে নাদের চৌধুরী এবং উত্তরে শহীদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জানতে চাইলে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের কাছে কখনো সমর্থন চায়নি। তা ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন সব সময় উন্মুক্ত হয়। এ নির্বাচনে জাসদ-সমর্থিত প্রার্থী থাকবে।’ ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাসদ ছাড়া অন্য দলগুলো আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে। তবে তারা কয়েকটি কাউন্সিলর পদ চাইতে পারে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জোটগতভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন করব। তবে আমরা কিছু কাউন্সিলর পদ চাইব।’ একইভাবে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, তাঁরা একটি কাউন্সিলর পদ চাইবেন। আর মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের অস্বস্তি: ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সমর্থন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে অস্বস্তি কাটেনি। তবে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নিয়ে দৃশ্যমান কোন্দল নেই। সব পক্ষ প্রকাশ্যেই দল-সমর্থিত প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের ১০-১২ জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই সিটিতে প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তির মূল কারণ হচ্ছে, দল-সমর্থিত দুই প্রার্থীর কেউই মহানগরের নেতা-কর্মীদের এখনো সেভাবে আস্থায় নিতে পারেননি। উত্তরের প্রার্থী আনিসুল হক সব নেতাকে চেনেনও না। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর তেমন যোগাযোগ নেই। আর সাঈদ খোকন সবাইকে কাছে টানার চেষ্টায় এখনো সফল হননি। মহানগরের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের প্রতি আস্থাশীল। সাঈদ খোকন গত শনিবার মোফাজ্জল হোসেনের বাসভবনে গিয়ে তাঁর দোয়া চেয়েছেন। দলীয় নির্দেশে ঢাকা উত্তরে কামাল মজুমদার প্রার্থী না হলেও আনিসুল হক তাঁর সমর্থন এখনো আদায় করতে পারেননি।

সিটি নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান সুজনের

দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব:
চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সুজন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অর্থ ও অন্য কিছুর বিনিময়ে ভোট কেনা থেকে প্রার্থীদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন। একইসঙ্গে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া থেকেও বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
অন্যথায় এই ব্যাপারে সঠিক সময়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনকে দেরি না করার পরামর্শ দেন। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এই সময় তিনি উল্লেখ করেন, আমরা মনে করি, এই নির্বাচন ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা সিটি করপোরেশন দুটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিকরা বিভিন্ন সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে শিগগিরই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। জুলাই মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় (চট্টগ্রাম) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটিতে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। পুরুষ ভোটার নয় লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ জন এবং নারী ভোটার আট লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। সাধারণ ওয়ার্ডের সংখ্যা ৪১ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪। এই নির্বাচনে ৭১৯টি কেন্দ্রে চার হাজার ৯০৬টি বুথ থাকবে। নির্বাচনে ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার এক লাখ ২৩ হাজার ৯৭ জন। ২০১০ সালের জুনে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৮ জন।
আশার কথা যে, নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর পক্ষ থেকে আশা করি, এ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে, যার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্ব্বাগত জানালেও এ নির্বাচন নিয়ে রয়েছে আমাদের কিছু উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
বর্তমানে সারা দেশে পেট্রলবোমা হামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংসতা ঘটছে। মূলত ৫ই জানুয়ারির পর থেকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে সরকার এ আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ক্রমাগতভাবে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে, বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের নামে বহু মামলা দায়ের করেছে, লাখ লাখ ব্যক্তিকে আসামি করেছে এবং অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে।
এর ফলে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীই মামলার কারণে কারারুদ্ধ বা পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি তথা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন এবং এসব নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের কোন সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ আরও অনেক দলই ইতিমধ্যে  তাদের মেয়র পদপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তারা অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখছে। নিঃসন্দেহে এতে প্রচলিত বিধি-বিধানই শুধু উপেক্ষিত হচ্ছে না, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, নির্দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ভোটারদের জন্য অনেক বেশি ‘চয়েস’ থাকে। ফলে তাদের পক্ষে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার বেশি সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুণগত মানে পরিবর্তন সাধনে সহায়তা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামসহ তিন সিটিতেই অসংখ্য বিলবোর্ড স্থাপন ও দেয়ালে পোস্টার সাঁটার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ ধরনের প্রচারণার সুযোগে ধনাঢ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত ব্যয়সীমার বাইরে ভোটারদেরকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক পরিমাণের অর্থ ব্যয় করতে পারেন, যা নির্বাচনী ক্ষেত্রকে অসমতল করে তোলে। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে ছিল সম্পূর্ণ নির্বাক।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ ধাকবে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা পালন করুন। প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন সকল আগ্রহী ব্যক্তিরা যাতে দ্রুত সংগ্রহ করতে পারে সে ব্যবস্থা করুন। এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখুন এবং দ্রুততার সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রচার করন। কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করুন। কেউ নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্রয়োজনে নির্বাচনের পূর্বেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ সিকান্দার খান ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী।

১৪টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ

শূন্য ভিটায় নির্বাক শেফালি রানী। বরগুনার তালতলী উপজেলার
চন্দনতলা গ্রামের শেফালিসহ পাশাপাশি আরও​ কয়েকজনের ঘরবাড়ি
উচ্ছেদ করেছে সন্ত্রাসীরা। তাঁরা বাড়িহারা হওয়ার পর পাহারা দিচ্ছেন
দফাদার ও চৌকিদার। গত শনিবার দুপুরে তোলা ছবি l প্রথম আলো
বরগুনার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের ১৪টি হিন্দু পরিবারকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যুবলীগের এক নেতা ও তাঁর বড় ভাই সন্ত্রাসীদের দিয়ে এসব পরিবারকে উচ্ছেদ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তাব্যক্তিরা হলেন চন্দনতলা গ্রামের হরেন কান্ত, নিলা রানী সরকার, যাদব চন্দ্র সরকার, ধীরেন সরকার, মাধব সরকার, সুভাষ চন্দ্র সরকার, রমেশ চন্দ্র সরকার, বাবুল চন্দ্র সরকার, কার্তিক সরকার, রিপন সরকার, জিতেন্দ্র সরকার, সুমন্ত সরকার, রণজিৎ সরকার ও শ্যামল সরকার। পেশায় তাঁরা কৃষক ও ক্ষুদ্রব্যবসায়ী। একই স্থানে পাশাপাশি বসবাসকারী এসব পরিবারের বাড়ির জমিসহ প্রায় ৪০ একর কৃষি জমি রয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালের শুরুতে সুমন্ত সরকার, রণজিৎ সরকার ও শ্যামল সরকার ভিটা ছেড়ে বরগুনা শহরে আশ্রয় নেন। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে জিতেন সরকার ও বাবুল রায়ের পরিবার ভিটাছাড়া হয়। গত ১২ মার্চ গ্রামের অন্য নয়জনের পরিবারও এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এর মধ্যে সাতটি পরিবার বরগুনা শহরে ও দুটি পরিবার তালতলীর ছোটবগি আবাসন প্রকল্পে আশ্রয় নিয়েছে। ১৩ মার্চ নয়টি পরিবারের ঘরদোর গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল ও গাছপালা লুট করা হয়। ২৩ মার্চ এ ঘটনায় যাদব চন্দ্র সরকার আবদুর রশিদ আকনকে প্রধান আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে তালতলী থানায় একটি মামলা করেন। ওই দিনই রশিদ আকনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ১২ মার্চ রাতে নয়টি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার পর ১৩ মার্চ সকালে আবদুর রশিদ, যুবলীগের নেতা জাকির হোসেন সরদার ও তাঁর ভাই আবদুস সালাম সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পরিবারগুলোর বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয় এবং সব মালামাল লুট করে। সন্ত্রাসীরা বাড়ির বড় বড় গাছও কেটে নিয়ে যায়।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পাশাপাশি বসবাসকারী ১৪টি হিন্দু পরিবারের বসতভিটা শূন্য পড়ে আছে। শূন্য ভিটার ওপর মাটির তৈজসপত্র, রান্নার চুলা ও কিছু মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
ভুক্তভোগী শেফালী রানী (৫০) বলেন, ‘ওরা আমাগো সব কাইড়্যা নিয়া নিঃস্ব করছে। এহন খালি মোগো জীবনটা ছাড়া কিছু নাই। এমন জীবন দিয়া আমরা কি করমু।’
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ বরগুনা জেলা যুবলীগের সহসভাপতি পরিচয়দানকারী জাকির হোসেন ও আবদুস সালাম এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আবদুর রশিদ ও তার বাহিনীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব হিন্দু পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন।
জানতে চাইলে বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান মহারাজ প্রথম আলোকে বলেন, জাকির হোসেন আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও জেলা যুবলীগের কমিটির কেউ নন। পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম পাটোয়ারি বলেন, ‘জাকির সরদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন সন্ত্রাসী। জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। ওই নেতাদের সম্মানার্থেই জাকিরকে সংগঠনের সদস্য পদ দিয়েছিলাম।’
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘পুরো বিষয়টিতে আমরা মর্মাহত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের মূল দরজা তালাবদ্ধ। আবদুস সালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুসজ্জিত দোতলা পাকা বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুঁলছে। প্রতিবেশীরা জানান, ২৩ মার্চের পর থেকে তাঁরা ঘরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। মুঠোফোনে জাকির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আবদুর রশিদের কোনো দোষ নাই। কারণ, হিন্দুরা নিজেরাই ঘরবাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে।’
পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার মূল হোতাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এর পেছনে আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, হিন্দু পরিবারগুলোকে তাদের নিজ ভিটায় ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইয়েমেন সংকট: আরব লিগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত : হামলায় বিধ্বস্ত সানা বিমানবন্দর, সমন্বিত আরব সামরিক বাহিনী গড়া হবে

আরব লিগের শীর্ষ বৈঠক শেষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে
বক্তব্য দেন জোটের মহাসচিব নাবিল এলারাবি (বাঁয়ে)।
তাঁর পাশে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি l ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেন সংকটের প্রেক্ষাপটে মিসরের শীর্ষ বৈঠকে আরব অঞ্চলে একটি যৌথ সেনাবাহিনী তৈরির ঘোষণা দিল আরব লিগ। এই বাহিনী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হতে পারে। এদিকে ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব বাহিনী চতুর্থ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এ হামলায়। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। গতকাল মিসরের শারম আল-শেখে আরব লিগের শীর্ষ বৈঠকে বৃহত্তর আরব অঞ্চলে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে একমত হয়েছেন আঞ্চলিক নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ দুই শক্তি সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ইয়েমেন নিয়ে ছায়াযুদ্ধ তুঙ্গে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই বাহিনী গঠনের ঘোষণা এল।
সম্মেলনে সমন্বিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাবটি দেন স্বাগতিক মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এ রকম একটি বাহিনী গড়তে আগেও চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিভক্ত আরবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
আরব লিগের সম্মেলনে যোগ দেওয়া ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবেদরাব্বো মানসুর হাদি হুতি বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে যেতে আরব মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হুতিদের আক্রমণের মুখে সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়া মানসুর হাদি হুতিদের ইরানের ‘হাতের পুতুল’ আখ্যায়িত করেন।
সানা বিমানবন্দর বিধ্বস্ত: এদিকে শনিবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত চতুর্থ দফায় হুতি মিলিশিয়া এবং তাদের সমর্থক ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের অনুগত বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। এই হামলায় সানা বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানবন্দরের রানওয়েতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে হুতিবিরোধী আন্তর্জাতিক বাহিনী। বিমানবন্দর এবং ইয়েমেনের অন্যত্র চালানো হামলায় ১৫ জন হুতি বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, এই প্রথম এ বিমানবন্দরের রানওয়ে বিধ্বস্ত হলো। বিমানবন্দরটি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সানা বিমানবন্দরে তিনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ তাঁরা পেয়েছেন। বড় আগুনের কুণ্ডলীও দেখেছেন। বিমানবন্দর ছাড়াও রাতব্যাপী বিমান হামলার আরেক লক্ষ্যবস্তু ছিল বিদ্রোহী রিপাবলিকান গার্ডের সদর দপ্তর আল সুবাহা ঘাঁটি। স্থানীয় একটি সামরিক হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেছেন, তিনি ১২টি মৃতদেহ পেয়েছেন।
হুতি বিদ্রোহীদের বিমান হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে জোট বাহিনী বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত পশ্চিম ইয়েমেনের হুদাইদা বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালায়। সেখানে বেশ ক্ষতি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
উদ্ধার তৎপরতা: চীনের কর্মী এবং কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনতে দেশটির একটি যুদ্ধজাহাজ গতকাল এডেন বন্দরে পৌঁছেছে। এদিকে পাকিস্তানও ইয়েমেনে থাকা কূটনীতিক এবং কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে যুদ্ধজাহাজ এবং উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে। গত শনিবার জাতিসংঘ, বিভিন্ন দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার দুই শতাধিক কর্মকর্তা ইয়েমেন ত্যাগ করেন।

শিকাগোতে জিয়াউর রহমান ডে প্যারেড

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তীব্র বিরোধিতার মুখে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো সিটিতে উদযাপন করা হয়েছে জিয়াউর রহমান ডে প্যারেড। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিকাগো নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই প্যারেডের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব শিকাগোল্যান্ড। ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত প্যারেডটিতে রোড মার্শাল হিসেবে  নেতৃত্ব দেন শিকাগো সিটির ডেপুটি  মেয়র এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা অলডারম্যান জো মোর। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেন   বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। প্যারেডে অংশগ্রহণকারীরা শতাধিক সুসজ্জিত যানবাহনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ শিকাগোর জিয়াউর রহমান ওয়ে এবং আরও কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ  নেন এই কর্মসূচিতে।
পূর্ব নির্ধারিত এ কর্মসূচি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন শিকাগোর মেয়রকে চিঠি দেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগও এই অনুষ্ঠানের তীব্র বিরোধিতা করে। এমন বিরোধিতার মধ্যেই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিকাগোর ডেপুটি মেয়র ও  ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা অল্ডারম্যান  জো মোর বলেন, গণতন্ত্রের জন্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভূমিকা  রেখেছেন, সংগ্রাম করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। তার প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা এখানে আয়োজনে উপস্থিত হয়েছি। আর এই নীতিমালার ভিত্তিতেই শিকাগো সিটি জিয়াউর রহমান দিবসকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে কোন ব্যক্তির অধিকার রয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষে দাঁড়ানোর। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি বিনষ্টের জন্য সরকার যতো পদক্ষেপই গ্রহণ করুক না কেন, বাংলাদেশ নামক দেশ যতোদিন থাকবে ততোদিন কেউই জিয়াউর রহমানের নাম পৃথিবীর ইতিহাস থেকে মুছে  ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পরই দেশবাসী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটাই প্রকৃত সত্য। বিদেশের মাটিতে জিয়াউর রহমানের স্বীকৃতিতে তাই সরকার ঈর্ষান্বিত হয়ে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।  খোকা বলেন, শিকাগো সিটিতে জিয়াউর রহমান ডে প্যারেড উদযাপনের স্বীকৃতি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক  বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশকারী। যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিল সে আশা-আকাঙ্ক্ষা সরকার হত্যা করেছে। তিনি বলেন, এরা নিজেদের আওয়ামী লীগ বলে পরিচয়  দেয়, আসলে তারা সশরীরে বাকশাল। আজকের এই আন্দোলন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আজকের আন্দোলন একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। জেল-জুলুম যতোই চলুক না কেন এ আন্দোলন চলছে এবং চলবে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম যতোদিন পর্যন্ত আদায় না হবে ততোদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। বাংলাদেশী কমিউনিটি অব শিকাগোল্যান্ড-এর সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টুর সভাপতিত্বে প্যারেড-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা শরাফত হোসেন বাবু, এশিয়ান হিউম্যান সার্ভিসের সভাপতি আশরাফ আলী, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, দেওয়ান আকমল চৌধুরী,  সৈয়দ বদর ইসলাম, শাহ মোসাদ্দেক মিন্টু, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

অবশেষে মুখ খুললেন সালমানের গাড়িচালক

গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে বছরের পর বছর ধরে মামলা ঝুলছে সালমান খানের ওপর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০২ সালে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছেন তিনি। অবশ্য বরাবরই সালমান দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। বছরের পর বছর ধরে চুপ থাকার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন সালমানের গাড়িচালক অশোক। তিনি সালমানের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। অশোকের দাবি, দুর্ঘটনার সময় তিনিই ছিলেন গাড়ির চালকের আসনে। দীর্ঘ ১৩ বছরের পুরোনো মামলায় আজ সোমবার প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন সালমানের গাড়িচালক অশোক। তিনি বলেন, ‘সেদিন আমিই গাড়ি চালাচ্ছিলাম। টায়ার ফেটে যাওয়ায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি আমি।’ এতদিন কেন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি জানতে চাইলে অশোক বলেন, ‘প্রথম দিন পুলিশ আমার কথা শোনেনি। পরবর্তী সময়ে আমি বুঝতে পারিনি, আমার করণীয় কী।’ এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে এনডিটিভি ডটকম। ২০০২ সালে মুম্বাইয়ে গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে মামলা হয় সালমানের বিরুদ্ধে। ওই দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছিলেন ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা আরও চার ব্যক্তি। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই সাক্ষীর দাবি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন সালমান। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির চালকের আসন থেকে নেমে আসেন তিনি। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
সালমানের বিরুদ্ধে গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মার্চ। সেদিন সশরীরে আদালতে হাজির হন খান সাহেব। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন না। গাড়ি চালাচ্ছিলেন তাঁর গাড়িচালক অশোক। মদ্যপ ছিলেন না বলেও দাবি করেন সালমান।
২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে দুর্ঘটনার পরপর সালমানকে গাড়ির চালকের আসন থেকে নামতে দেখেন একাধিক সাক্ষী। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সালমান দাবি করেন, তাঁর গাড়ির বাম পাশের দরজার লক আটকে গিয়েছিল। এ জন্য বাম পাশের দরজা খুলতে পারেননি তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাননি বলেও দাবি করেছেন সালমান। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আমি গাড়ির চালককে দুর্ঘটনার কথা পুলিশকে জানাতে বলেছিলাম। আমি ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় দুর্ঘটনাস্থলে ছিলাম।’
দুর্ঘটনার আগে ভাই সোহেল খানের সঙ্গে পানশালায় ছিলেন বলে স্বীকার করলেও, মদ পান করেননি বলেই দাবি করেছেন সালমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল পানি খেয়েছিলাম।’ মুন্নু নামের একজন সাক্ষী জানিয়েছেন, সেদিন তিনি সালমানকে মদ্যপ অবস্থায় দেখতে পান। সালমান এতটাই মাতাল ছিলেন যে, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এরপর উঠে দাঁড়ালেও, আবার পড়ে যান তিনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে জবাবে সালমান বিষয়টিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

সিঙ্গাপুরের ‘আলোকবর্তিকা’ লি কুয়ান ইউর চিরবিদায়

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত লি কুয়ান ইউকে
শেষবিদায় জানিয়েছে মানুষ। ছবি: এএফপি
শেষকৃত্যের জন্য লি কুয়ান ইউর মরদেহ বৃষ্টির মধ্যে সামরিক
শকটে করে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নিয়ে যাওয়া হয় l এএফপি
‘যে আলো আমাদের এত দিন পথের দিশা দিয়েছে, তা আজ নিভে যাচ্ছে’—বলছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং। যাঁকে উদ্দেশ করে তাঁর এই শোকগাথা, সেই লি কুয়ান ইউ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বাবা। বাবার জন্য সন্তানের এই শোক কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিব্যক্তি নয়। গতকাল রোববার পুরো সিঙ্গাপুরই কেঁদেছে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা সদ্য প্রয়াত লি কুয়ানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লি কুয়ান ইউকে শেষবিদায় জানাতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী লুং। খবর এএফপির।
রাষ্ট্রনায়ক লি কুয়ান ইউ গত সোমবার ৯১ বছর বয়সে মারা যান। কয়েক দিন ধরে জাতীয় পতাকায় মোড়া লি কুয়ানের কফিনে শ্রদ্ধা জানান দেশের লাখো মানুষ। গতকাল মরদেহ পার্লামেন্ট ভবন থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। ১৫ কিলোমিটারের এই শেষযাত্রায় হাজারো মানুষ শরিক হন। অঝোর বৃষ্টি থামাতে পারেনি জনস্রোত। ২১ বার তোপধ্বনি আর চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ‘ফ্লাই পাস্টের’ মাধ্যমে শেষশ্রদ্ধা জানানো হয় প্রয়াত নেতাকে। সিঙ্গাপুরে ২১ বার তোপধ্বনি শুধু দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুতেই দেওয়ার রীতি। দেশের জনক লির ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হলো।
লির কফিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেককেই কাঁদতে দেখা যায়। অনেকেরই হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। কেউ কেউ ফুল ছিটাচ্ছিলেন শববাহী শকটের ওপর। এ রকম হাজারো শোকাতুর মানুষের একজন তান ইয়েন লি। ২৬ বছর বয়সী তান ইয়েন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ নার্স। সাত সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগে ওই হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লি কুয়ান ইউ। তান বললেন, ‘তিনি যেন সিঙ্গাপুরের সব মানুষের পিতা। অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের সব মানুষের পিতা তিনি।’
সিঙ্গাপুরের সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, লি কুয়ানকে গত কয়েক দিনে চিরবিদায় জানান সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ। সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যাই ৩৪ লাখ।
লি কুয়ানকে চিরবিদায় জানাতে হাজির হন বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোসহ অনেকে।
লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিঙ্গাপুরের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ছিলেন ৩১ বছর। তিনি শক্ত হাতে একসময়ের অনগ্রসর ও ক্ষুদ্র এই ব্রিটিশ উপনিবেশকে অত্যাধুনিক নগররাষ্ট্রে পরিণত করেন। অন্যদিকে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় দেশ চালানোর জন্য সমালোচনাও হয়েছে তাঁর।

হেলিকপ্টারে চড়ে খুলনায় ছাত্রলীগের সভাপতি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল রোববার হেলিকপ্টারে চড়ে খুলনার কয়রা উপজেলায় যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান। সেখানে তিনি স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করেন। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতারা। কয়রা থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে কয়রায় পৌঁছান বদিউজ্জামান। বেলা তিনটার দিকে হেলিকপ্টারে করেই তিনি ঢাকায় ফেরেন।
কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি মহারাজপুর ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামে জাকারিয়া শিক্ষানিকেতন নামের একটি বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে সেখানেই তিনি ছাত্রলীগের একটি কর্মিসভায় অংশ নেন।
জানা গেছে, অনুষ্ঠান শেষে বদিউজ্জামান দুপুরের খাওয়াদাওয়া করেন গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের বাড়িতে। তিনি কয়রা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাঁর বড় ভাই মোফাজ্জেল হোসেন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাঁদের আরেক ভাই আবদুল্লাহ আল মাহমুদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মাহমুদ ছাত্রলীগ করতেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক। এ ছাড়া তিনি ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তিনিই তাঁকে ওই অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়েছিলেন। মাহমুদের ভাইদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
হেলিকপ্টারে করে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ‘আমাকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে গেছে বলেই হেলিকপ্টারে গিয়েছি। গাড়িতে নিয়ে গেলে গাড়িতেই যেতাম।’
তবে আবদুল্লাহ আল মাহমুদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মহসীন রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতি করছি। কিন্তু মোফাজ্জেলের ভাই মাহমুদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন কিংবা করেন, এ রকম কখনো শুনিনি।’
মহসীন রেজা বলেন, ‘তিনি (বদিউজ্জামান) হয়তো বলবেন তাঁর এই সফর ব্যক্তিগত। এ জন্য তাঁর এই সফর সম্পর্কে আমাদের তিনি কিছু জানাননি। কিন্তু তিনি যখন তাঁর এই সফরের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগকে যুক্ত করেন, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকে না। সেখানে দলীয় প্রশ্ন এসেই যায়। তাই আমি বলব, এ কাজটি তিনি ঠিক করেননি।’
কয়রা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. মতিউর রহমানও মাহমুদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষের কারও বাড়িতে কিংবা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সভাপতি অংশ নিচ্ছেন, এটা আমরা ভাবতে পারি না।’

রিকশাযাত্রীদের দিকে অস্ত্র তাক করে হুমকি- প্রাইভেট কারের যাত্রীর বিরুদ্ধে জিডি

অস্ত্র হাতে রিকশাওয়ালাকে শাসান মো. মফিজুল ইসলাম। গতকাল বিকেল
পাঁচটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ছবিটি তুলেছেন আবদুস সালাম
ব্যস্ত সড়কে জনসমক্ষে কয়েকজন রিকশাযাত্রীর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে হুমকি দিয়েছেন প্রাইভেট কারের এক যাত্রী। গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবসংলগ্ন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অস্ত্র তাককারী ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিকশাযাত্রীদের একজন। অস্ত্র তাক করা ব্যক্তির নাম মফিজুল ইসলাম (৫৮)। প্রাইভেট কারটির মালিক তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে প্রেসক্লাবসংলগ্ন মোড়ে পেছন দিক থেকে একটি প্রাইভেট কার একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশার একটি চাকা বেঁকে যায়। তখন কারের পেছনের আসনে থাকা মফিজুল গাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। বের হয়ে আসেন তাঁর চালকও। মফিজুল প্রথমে তাঁর নিজের চালককে কয়েকটি চড় মারেন। এরপর রিকশাওয়ালাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। রিকশাওয়ালা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করেন রিকশার তিন যাত্রী। এ নিয়ে মফিজুলের সঙ্গে রিকশাযাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তখন মফিজুল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র দেখাতে থাকেন। রিকশাযাত্রীরা তাঁকে পাল্টা জবাব দেন, পরিচয়পত্র দেখে তাঁদের লাভ কী। তখন তিনি তাঁদের বলেন, ‘তাইলে তোদের আসল জিনিস দেখাই।’ এই বলে প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে তিনি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে রিকশাযাত্রীদের দিকে তাক করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তখন আশপাশে থাকা পুলিশ ও লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে মফিজুলকে পুলিশ শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত গুলদার জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে অস্ত্র তাককারী মফিজুল থানা থেকে বাসায় চলে গেছেন বলে জানান তিনি। অস্ত্রটি লাইসেন্স করা কি না, জানতে চাইলে সুব্রত বলেন, ‘তা আমি জানি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে ঝরেছে ১৩ লাখ প্রাণ

ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের
নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গবেষণা
করেছে চিকিৎসকদের কয়েকটি সংগঠন। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এক দশকের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ১৩ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।
গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘দেহ গণনা: সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ১০ বছর পর হতাহতের সংখ্যা’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। সংগঠনগুলো হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়ার, ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ও ফিজিশিয়ানস ফর গ্লোবাল সারভাইভাল।
গবেষণা প্রতিবেদনে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে ইরাকে। দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে আফগানিস্তানে। পাকিস্তানে নিহত হয়েছে প্রায় ৮১ হাজার মানুষ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এক দশকের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে ৮১ হাজার ৩২৫ জন থেকে ৮১ হাজার ৮৬০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৫০৪ জন বেসামরিক নাগরিক। পাঁচ হাজার ৪৯৮ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ২৬ হাজার ৮৬২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

যমজ ভাই নিয়ে ধন্দে, ঘোড়ার গাড়ি এনে জরিমানা

ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য এক
মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসায় তাকে জরিমানা করেছেন
নির্বাচন কমিশনের একজন নির্বাহী হাকিম। ছবিটি গতকাল দুপুরে শেরেবাংলা
নগরে অবস্থিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তোলা l আশরাফুল আলম
চেহারা, উচ্চতা, শারীরিক গঠন—দুজনেরই প্রায় এক। ওমর আলী ও নুরুল ইসলাম নামের এ দুজনই আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা একই ব্যক্তি না দুজন, তা নিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তারাও ধন্দে পড়েন। আগারগাঁওয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গতকাল রোববার ওমর আলী ও নুরুল ইসলাম কাছাকাছি সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফলে কর্মকর্তাদের এমন সন্দেহ হয়। পরে অবশ্য জানা গেল, তাঁরা যমজ ভাই। ‘কৌশল’ হিসেবে দুজনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নুরুল ইসলাম বেলা ১১টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। প্রয়োজনীয় কাগজ ঠিক না থাকায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাঁকে তা ঠিক করে আনতে বলেন। তিনি কাগজ আনতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আসেন ওমর আলী। তখন কর্মকর্তারা বলেন, তাঁকে তো কাগজ ঠিক করে আনতে বলা হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওমর আলী বলেন, ‘সমস্যা আমার না, আমার ভাইয়ের।’
খিলক্ষেত, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কুড়িল নিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। ভোটার প্রায় দেড় লাখ। ওমর আলী ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে আসা লোকজন জানান, ওমর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা। দল তাঁকে সমর্থন দিলে নুরুল সরে দাঁড়াবেন। তবে ওমর আলীকে দল সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দিলে নুরুল প্রার্থী থেকে যাবেন। এ জন্যই যমজ দুই ভাই প্রার্থী হয়েছেন। দুজনের প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওমর আলী বলেন, ‘এটাই তো রাজনীতির রহস্য।’
নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে ফোনে বলেন, ‘পরে কাগজ ঠিক করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে খুবই মিল। প্রার্থী হয়েছি কৌশলের অংশ হিসেবে।’
ঘোড়ার গাড়িতে এসে জরিমানা: নিজেকে ‘জনতার প্রার্থী’ দাবি করে ব্যানার টাঙিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এলেন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে। মনোনয়নপত্র জমাও দিলেন। পরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
দুপুরের দিকে আগারগাঁওয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এই জরিমানা গোনেন মোহাম্মদ নাইম হাসান। ঘোড়ার গাড়িটির চারপাশে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার এবং নানা স্লোগানসংবলিত ব্যানারে সাজানো ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘোড়ার গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন।
অবশ্য জরিমানা দিলেও মন খারাপ করেননি নাইম হাসান। নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া নাইম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জরিমানা দিয়েছি এতে কষ্ট নেই, নগরের মানুষকে কিছুটা চমক তো দিতে পেরেছি!’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালায় মহড়া, মিছিল, যানবাহন কিংবা মশাল মিছিল নিয়ে এবং পাঁচজন সমর্থকের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে মহড়া হিসেবে বিবেচনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মিজানুরের সারা দেহে এখনো আঘাতের চিহ্ন

নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক মিজানুর রহমান l ফাইল ছবি
‘আমরা মিজানকে ভালোভাবে দেখেছি। ওর হাত-পা থেকে শুরু করে পুরো শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে করে বিভিন্ন অঙ্গের হাড়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাংসে আঘাতের কারণে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মিজানের দেওয়া বর্ণনায় নির্যাতনের একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এ কারণে মস্তিষ্কেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।’
পুলিশের অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার প্রথম আলোর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এসব তথ্য জানান তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের আহ্বায়ক পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) মো. মনিরুল আহসান। এমন শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে মিজানুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কিডনিসহ রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মিজানুর রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা গতকাল রোববার সকালে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ মার্চ রাতে বাউফল উপজেলার কালাইয়ার ল্যাংড়া মুন্সির পোল এলাকায় কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনায় কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হালিম খান বাদী হয়ে সাংবাদিক মিজানুরের বিরুদ্ধে মারধর ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে বাউফল থানায় একটি সাজানো মামলা করেন। রাতেই মিজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে থানায় নিয়ে রাতভর আটকে নির্যাতন করে একদল পুলিশ।
আদালতের নির্দেশে মিজানুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পটুয়াখালী সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে গত বুধবার চার সদস্যের ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। গতকাল ছিল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিন। সেই অনুযায়ী সকাল ১০টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কারাগার থেকে একটি পিকঅ্যাপ ভ্যানে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পিকঅ্যাপ ভ্যান থেকে নামার সময় তাঁর চোখে-মুখে ছিল তীব্র যন্ত্রণার ছাপ। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনো রকমে হাসপাতালে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দুই ঘণ্টা ধরে চলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিভিল সার্জন এ এম মজিবুল হক জানান, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা মিজানুর রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে গতকাল সুপারিশ করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডের ব্যবস্থাপত্র জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পরদিন ১৮ মার্চ সকালে পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-২ ফাইজুর রহমানের আদালতের মাধ্যমে মিজানকে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ২২ মার্চ পটুয়াখালীর দ্বিতীয় বিচারিক হাকিম এ এস এম তারিক শামসের আদালত মিজানুরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
নিম্ন আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে মিজানুরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদনের ওপর ২৪ মার্চ শুনানি গ্রহণ করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বিমল চন্দ্র সিকদার। তিনি মিজানুর রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষর জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন ও ৩১ মার্চের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া ফের শুনানির জন্য ১ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেছেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ.লীগ সরব, বিএনপি নীরব

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা গতকাল রোববার সরবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোটের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন একেবারেই নীরবে।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া কেউই নিজে উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। স্ত্রী, সন্তান, আইনজীবী বা শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
গতকাল রোববার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে দেখা গেছে, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যতটা উদ্দীপনা ছিল, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঠিক তার উল্টো জড়তা ও ভীতি কাজ করেছে। অবশ্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে কোথাও কোনো বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক-উল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি-সমর্থক প্রার্থীরা হয়তো গ্রেপ্তার এড়াতে এটি একটি কৌশল হিসেবে নিয়েছেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে নিশ্চয়ই তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে পারবেন।
গুলিস্তানে অবস্থিত ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা নেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণের মনোনয়নপত্র। আর উত্তরের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় আগারগাঁওয়ে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) ভবনে। দক্ষিণে মেয়র পদে ২৬ ও উত্তরে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণে ৭০৫ ও উত্তরে ৬২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দক্ষিণের চিত্র: আওয়ামী লীগ-সমর্থক প্রার্থী সাঈদ খোকন মনোনয়নপত্র জমা দিতে এলে হঠাৎ বদলে যায় নাট্যমঞ্চের ভেতর ও বাইরের এলাকা।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও পুরান ঢাকার দিক থেকে কয়েক হাজার মানুষ নাট্যমঞ্চের আশপাশে জড়ো হন। শতাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাঈদ খোকন যখন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছিলেন, তখন ওই কক্ষেই অন্তত আওয়ামী লীগের ৫০ জন নেতা-কর্মী ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খায়। মহানগর নাট্যমঞ্চের মূল ফটকে পুলিশের সঙ্গে সরকারদলীয় কর্মীদের কয়েক দফা বচসা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সাঈদ খোকনের পক্ষে মাঝেমধ্যে কর্মীরা স্লোগান শুরু করলেও নেতারা আচরণবিধির কথা বলে থামিয়ে দেন। নাট্যমঞ্চে সাঈদ খোকন পৌঁছার আগেই সাংসদ আবদুর রাজ্জাক ও ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। সাঈদ খোকন সেখানে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজকে সঙ্গে নিয়ে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছে পাঁচজনকে নিয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। আমি পাঁচজনকেই নিয়ে এসেছি। বাকিরা অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে এসেছেন। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি।’
দক্ষিণে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. সেলিম মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বিএনপির পাঁচ প্রার্থী: দক্ষিণে মেয়র পদে বিএনপির চার নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পক্ষে তাঁর আইনজীবী যুবদলের নেতা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামের পক্ষে স্ত্রী ফাতেমা সালাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন আহমেদ পিন্টুর পক্ষে স্ত্রী নাসরিন আক্তার কল্পনা এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন নিজেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল বাশারও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি।
আসাদুজ্জামান রিপন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ধরপাকড় করছে। প্রার্থীরা গ্রেপ্তার এড়াতে আসেননি। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সমান সুযোগ) সৃষ্টি হলে প্রার্থীরা মাঠে নামবেন। তা ছাড়া এখন তো প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ।
দক্ষিণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাদের বাইরে মেয়র পদে আরও যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সিপিবি-বাসদ সমর্থিত বজলুল রশীদ ফিরোজ প্রমুখ।
উত্তরের চিত্র: ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ৩০ জন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন, বেলা একটা পর্যন্ত জমা দেন মাত্র তিনজন। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন ৮২৩ জন। বেলা একটা পর্যন্ত জমা দেন ১৪০ জন। এঁদের প্রায় সবাই সরকারি দলের সমর্থক।
বেলা দুইটার পর প্রার্থী ও তাঁদের সঙ্গীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বেলা তিনটার দিকে এনআইএলজি ভবন ও আশপাশে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকের ঢল নামে। এ সময় মনোনয়নপত্র জমা দিতে ভবনের ভেতরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়। একজন প্রার্থীর সঙ্গে দুজনের বেশি ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক মনোনয়নপত্র জমা দেন বেলা তিনটার দিকে। এ সময় তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ ও বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটি বড় দলের সমর্থন পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এটা একটা বড় শক্তি।’
বিএনপি-সমর্থক প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে তাঁর দুই ছেলে তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার আউয়াল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তাফসির আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। এটা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। প্রার্থীদের কেউ মাঠে সক্রিয় আছেন, কেউ বা আদালতে ছুটছেন। নির্বাচন কমিশনকে পরিবেশ ঠিক করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
উত্তরে মিন্টুর পাশাপাশি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালও। জানতে চাইলে তাবিথ প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে প্রার্থী হওয়ার কারণ কিছুটা কৌশলগত। কারণ, আগে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে অনেক বাধা সৃষ্টি হয়। আর বাবার প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে তাঁর প্রার্থিতার সরাসরি কোনো যোগ নেই। বাবার মতো তিনি রাজনৈতিক দল-সমর্থিত প্রার্থী হবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কারণে তাঁর বাবা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে না পারলে এর একটা সুবিধা তো তিনি পাবেন।
উত্তরে আরও যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী, বিকল্পধারার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, জাতীয় পার্টি-সমর্থিত বাহাউদ্দিন আহমেদ, সিপিবি-বাসদ-সমর্থিত আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, গণসংহতি আন্দোলন-সমর্থিত জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, এইচ এম এরশাদের সাবেক উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ, সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) শেখ শহিদুজ্জামান প্রমুখ।
ঢাকা উত্তরে কাউন্সিলর পদে মোট ৬২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে ১৩৫ ও সাধারণ আসনে ৪৯৪ জন। বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ৪৮৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণভাবে সব প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই ব্যতিক্রমী ব্যক্তি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলেন। এ ছাড়া কেউ মিছিল, শোভাযাত্রা কিংবা ব্যানার-ফেস্টুন বহন করেননি।
তবে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের অনেককেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রত্যয়নপত্র অনেকেরই ঠিকঠাক ছিল না।
বিকেল পাঁচটার কিছুক্ষণ পর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠুভাবে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী: দক্ষিণে প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য আলতাফ হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছিলেন। তিনি জানালেন, ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ অন্তত সাতজন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একক প্রার্থী থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল থেকে সাংসদদের এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বেলাল হোসেন নামে ওই ওয়ার্ডের এক আওয়ামী লীগ নেতা বললেন, তিনি নিজে দুই প্রার্থীর সঙ্গে এখানে এসেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোট গ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ ও ২ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। ১০ এপ্রিল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বিক্ষোভ: নির্ধারিত সময় পাঁচটার মধ্যে উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৩০-৪০ জনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। এঁদের বেশির ভাগ যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিতে চেয়েছিলেন। তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত মহানগর নাট্যমঞ্চে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে অবস্থান করেন এবং কর্মকর্তা মিহির সারোয়ার মোর্শেদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু মিহির সারোয়ার তাঁদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। তিনি কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানোর অনুরোধ জানান। পরে নারী নেত্রীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পরে গিয়েও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম। তিনি শতাধিক কর্মী নিয়ে মিছিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে যান। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশও তাঁদের বাধা দেয়নি। এ বিষয়ে জানতে মিহির সারোয়ারকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত আসনের কিছু নারী প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের পরে এসে মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করেছিলেন। তবে আইন-কানুন বুঝিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা চলে যান।

অস্ট্রেলিয়ার মধুর সমাপ্তি by কপিল দেব

বাঁধভাঙা উদ্‌যাপন বোধ হয় একেই বলে! জয়সূচক বাউন্ডারি মেরে মাত্রই
দলকে কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন স্টিভ স্মিথ, জনসনরা তাই মাঠে
ছুটলেন সতীর্থকে আলিঙ্গনে বাঁধতে। কাল মেলবোর্নে l প্রথম আলো
চিত্রনাট্য যেন আগেই লেখা ছিল। এমসিজির রাজকীয় পরিবেশে শুধু উন্মুক্ত হলো। অনেক অর্জনে সমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থানটা নিশ্চিত করল দাপুটে পারফরম্যান্সে। ভারতকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা ছিল অদম্য। নিউজিল্যান্ডের শেষটা যেভাবে হলো, সেটি টুর্নামেন্টেরই এক ‘অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্স’।
কেউই অস্ট্রেলিয়াকে দমাতে পারেনি। সব সময়ই তাদের মাঝে চ্যাম্পিয়নের ছায়া ছিল। নিউজিল্যান্ড টুর্নামেন্টজুড়েই অসাধারণ খেললেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব ভেস্তে গেল। দেখা গেল প্রত্যাশার তার উঁচুতে বেঁধে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া মানসিকভাবে থাকে সবচেয়ে শক্তিশালী।
নিউজিল্যান্ড যখন ১৮৩ রানে অলআউট হলো, আমার মনে ফিরে এসেছিল ১৯৮৩ সালের লর্ডস। আমাদের সামনেও ছিল অসাধারণ এক ব্যাটিং লাইনআপ। তবে তাদের সামলানোর মতো বোলার ছিল, কন্ডিশনটাও ছিল সহায়ক। নিউজিল্যান্ডের দ্রুত উইকেট লাগত। অ্যারন ফিঞ্চের উইকেট খানিকটা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সবই বিভ্রম।
তবে অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল নিউজিল্যান্ডের। মুকুট পরার দাবিদার হওয়ার মতোই সুসজ্জিত দল ছিল তারা। তবে মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারটা ম্যাচজুড়েই প্রভাব ফেলেছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালামও অযথা তাড়াহুড়ো করেছে বলে মনে হলো। ম্যাককালামের আক্রমণ ইনিংসে গতি সঞ্চার করে, এমনই হয়ে আসছিল। তবে তার আরেকটু বেশি সময় ক্রিজে থাকতে হতো। স্টার্কের মতো ভালো বোলারদের বিপক্ষে একটু সতর্ক থাকা খারাপ না।
ম্যাককালাম আর গাপটিলের ওপর নির্ভরশীল ছিল নিউজিল্যান্ড। তাদের ব্যর্থতাও তাই দলের হতাশা বাড়িয়েছে। টেলর ও এলিয়ট ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল, তবে অস্ট্রেলিয়া ছাড় দেয়নি। ফকনারের তীক্ষ্ণ একটি স্পেল কিউইদের আশা ভেস্তে দিয়ে ফাইনালের মোড় অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঘুরে দিয়েছে। এদিন নিউজিল্যান্ডের পক্ষে কিছুই কাজ করেনি। তাদের কখনোই এগিয়ে থাকা দল মনে হয়নি। এ জন্য মাঠের আকারই অনেকাংশে দায়ী।
অস্ট্রেলিয়ানরা স্টাম্পের ওপর বল করে চাপ সৃষ্টি করেছে। স্টার্ক বিশ্বকাপে আমার দেখা একমাত্র বোলার, যে লাইন ও লেংথে ভুল করেনি। ভালো বোলারের এটিই লক্ষণ, একটি নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথে বল করে ব্যাটসম্যানকে অস্বস্তিতে ফেলা। ফুল লেংথে দ্রুতগতির বলে ‘মুভমেন্ট’ থাকলে সামলানো কঠিন।
নিউজিল্যান্ডের জন্য এ পরাজয় হতাশাজনক। তবে ব্যক্তিগত চমক ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিতে পারে না। অস্ট্রেলিয়া তাই আগেই শক্তিমত্তা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করেছে। ক্লার্ককে অসাধারণ অধিনায়কত্বের জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে। ম্যাককালামও অসাধারণ, তবে বিদায়ী ম্যাচে চাপ প্রয়োগে ক্লার্কই ছিল এগিয়ে। সে এক ইঞ্চিও ছাড় দেয়নি, নিউজিল্যান্ড চাপটা ভালোই অনুভব করেছে।
অস্ট্রেলিয়া জিতেছে, তবে নিউজিল্যান্ডকে জানাই সমবেদনা। রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের, যদিও ফাইনালে ওঠা কম কৃতিত্বের নয়। বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল অস্ট্রেলিয়াকে আমার টুপিখোলা অভিনন্দন। আয়োজক হিসেবেও মধুর সমাপ্তি হলো অস্ট্রেলিয়ার। (পিচ সলিউশন)

বিশ্বকাপের রং হলুদ! by উৎপল শুভ্র

মাইকেল ক্লার্কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ের উচ্ছ্বাস। এমসিজিতে
৯৩ হাজার দর্শকের সামনে পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছে অস্ট্রেলিয়া
বিশ্বকাপ ট্রফির সোনালি রংটা বদলে এখন সেটিকে হলুদ করে দিলেই হয়!
বিশ্বকাপকে তো হলুদই বানিয়ে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া! কাল এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে কোনো ক্রিকেট ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শকের সামনে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিটা হাতে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
১১টি বিশ্বকাপের ৫টিই তাদের, অন্য কোনো দলের যেখানে দুবারের বেশি বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসল প্রমাণ এখানে নয়। এই ৫টি বিশ্বকাপ এসেছে ক্রিকেট খেলা হয় এমন পাঁচ মহাদেশ থেকেই। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের রং তো আসলেই হলুদ! অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল যেমন হয়, এটাও তেমনই হলো। সেই ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপে শিরোপা পঞ্চকের প্রথমটি জয়ের সময়ই শুধু ফাইনালের শেষ অঙ্কেও কী হয় কী হয় অনিশ্চয়তা ছিল। পরের চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালে একই গল্প। প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপে তা করেছিলেন ব্যাটসম্যানরা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাল অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা দেখা দিলেন অপ্রতিরোধ্য বিধ্বংসী রূপে।
ম্যাচের ৭৯তম ওভারের প্রথম বলে স্টিভ স্মিথের বাউন্ডারিতে ম্যাচটা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো, তবে আসলে তা শেষ হয়ে গেছে আরও অনেক আগেই। অনেকে বলবেন, প্রথম ওভারেই। ফাইনালের সবচেয়ে রোমাঞ্চক লড়াইয়ের নাম ছিল ‘ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বনাম মিচেল স্টার্ক।’ ম্যাককালাম নেমেছিলেন ১৯১.৮১ স্ট্রাইক রেট নিয়ে, স্টার্কের প্রতি ১৬.৭ বলে উইকেট। সেই লড়াই শুরু হওয়ার আগেই যেন শেষ! স্টার্কের প্রথম দুটি বলেই চালিয়েও বেঁচে গেলেন ম্যাককালাম। তৃতীয় বলটিতে আলো জ্বলে উঠল স্টাম্পে।
নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নযাত্রায় শুরুতে ম্যাককালাম-ঝড়ের সবচেয়ে বড় অবদান। সেই ম্যাককালামের শূন্য রানে বিদায়েই লেখা হয়ে গেল একতরফা এক ফাইনালের পাণ্ডুলিপি। স্কোরবোর্ডে ৩৯ রান তুলতেই মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসনেরও ড্রেসিংরুমে ফেরা সারা। ম্যাচ শুরুর আগের ‘ফাইনালটা কে জিতবে’ আলোচনা তখন ‘ফাইনালটা কখন শেষ হবে’ আলোচনায় রূপান্তরিত।
তবে ভাঙাচোরা ইনিংস পুনর্নির্মাণের কঠিন কাজটা তো করেই ফেলেছিলেন রস টেলর ও গ্রান্ট এলিয়ট। ৩৬তম ওভারে যখন ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শুরু হলো, চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১১ রান উঠে গেছে। ২৬০-৭০ তখন একটুও অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। বলে ব্যাট ঠিকমতো লাগাতে পারলে এর চেয়ে বেশিও হয়ে যেতে পারে! ম্যাককালামের আউটেই ম্যাচের মীমাংসা হয়ে গেছে বলে যদি কেউ না-ও মানেন; পরের আট বলেই যে তা হয়ে গেল, এ নিয়ে বোধ হয় কোনো তর্ক নেই।
পাওয়ার প্লের প্রথম বলেই ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে টেলরকে ফেরালেন হাডিন। মাঝখানে এক বল। পরের বলেই কোরি অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করে দিয়ে জেমস ফকনার বুঝিয়ে দিলেন, চোট পাওয়ার পরও কেন তাঁকে বয়ে বেড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া! স্টার্ক ফিরে এসেছেন আক্রমণে, তিনি কি আর বসে থাকবেন! লুক রনকিকে স্লিপে ক্লার্কের ক্যাচ বানালেন। পাওয়ার প্লেতে যেখানে বোলিং আক্রমণের ছত্রখান হয়ে যাওয়ার কথা, উল্টো ধ্বংসস্তূপে পরিণত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং। গ্রান্ট এলিয়ট শুরু থেকেই দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের লেজ শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁকে বাড়তি ঝুঁকি নিতেই হলো। ফকনারের স্লোয়ার বল মৃত্যু লিখে দিল তাঁরও। নিউজিল্যান্ড ১৮৩ রানে অলআউট!
বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো দল প্রথমে ব্যাটিং করে ১৮৩ করলে অবধারিতভাবেই মনে পড়বে ১৯৮৩ বিশ্বকাপের লর্ডস ফাইনাল। আগের দুবারের চ্যাম্পিয়ন প্রমত্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারত ১৮৩ রান করার পর তো ওই ফাইনালও শেষ বলেই ধরে নিয়েছিলেন সবাই। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪০ রানে অলআউট করে দিয়ে লেখা হয়েছিল ভারতীয় রূপকথা!
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কি ওই ফাইনালের গল্পটা জানতেন? ফিল্ডিংয়ে নামার আগে সতীর্থদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সে কথা? কে জানে! তবে এটা খুব সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, ‘অসম্ভব বলে কিছু নেই’ বলে যে মন্ত্রটা এই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নযাত্রার মূলে, সেটি নিশ্চয়ই বলেছেন। হয়তো বলেছেন অকল্যান্ডে দুই দলের ম্যাচটির কথাও। যেটিতে এর চেয়ে কম রান করেও প্রায় জিতে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া! কিন্তু অকল্যান্ড তো আর প্রতিদিন হওয়ার নয়।
এই বিশ্বকাপে ম্যাককালামের অধিনায়কত্ব শুধুই আক্রমণের তারে বাঁধা। কাল তো আক্রমণ না করে কোনো উপায়ই ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বোলিংয়ে চার স্লিপ দাঁড় করিয়ে দিলেন। চতুর্থ বলেই অ্যারন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়া স্টার্ককে আবার ধরেও ফেললেন বোল্ট। বিশ্বকাপে দুজনেরই ২২টি করে উইকেট। এর পর আরও ৯.২ ওভার বোলিং করার পরও বজায় থাকল এই সমতাই। সেটিই আসলে অনিশ্চয়তার শেষ সম্ভাবনাটুকুও মুছে দিল ম্যাচের গা থেকে।
৪৬ বলে ৪৫ করে ডেভিড ওয়ার্নারের আউটটি ম্যাচের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কোনো আঁচড়ই ফেলতে পারেনি। যা পেরেছে তা হলো, মাইকেল ক্লার্কের বিদায়টা রঙিন করে তুলতে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন হঠাৎই ওয়ানডে ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। ক্লার্ক নামার সময় তাই দাঁড়িয়ে গেল এমসিজির ৯৩০১৩ জন দর্শক। আবার যখন উঠে দাঁড়ালেন তাঁরা, অস্ট্রেলিয়ার পুরো দলও বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে। মাইকেল ক্লার্ক যে আউট হয়ে ফিরছেন!
ম্যাচ নিয়ে কোনো আগ্রহই তখন অবশিষ্ট নেই। জয়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব মাত্র ৯ রানের। জয়সূচক রানটা ক্লার্কের ব্যাট থেকে এলে সত্যিকার অর্থেই সেটি রূপকথা হয়ে যেত। সেটি একটু বেশি অবাস্তব হয়ে যায় বলেই কি না, ম্যাট হেনরির বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন ক্লার্ক। এর আগে ৭২ বলে ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংস। যখন নেমেছেন, স্মিথ তখন ১৪ রানে। যখন ফিরছেন, স্মিথ অনেক পেছনে (৪৭)। ভেট্টোরিকে সোজা উড়িয়ে মারা ছক্কাটির পাশে ১০টি চার, যার চারটি সাউদির পরপর চার বলে।
জয়সূচক রানটা যে স্মিথের ব্যাট থেকেই এল, এরও একটা প্রতীকী অর্থ চাইলেই খুঁজে নেওয়া যায়।
হলদে রঙের অস্ট্রেলিয়ায় মাইকেল ক্লার্ক এখন অতীত আর স্টিভ স্মিথ ভবিষ্যৎ!
নিউজিল্যান্ড: ৪৫ ওভারে ১৮৩
অস্ট্রেলিয়া: ৩৩.১ ওভারে ১৮৬/৩
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী

রেকর্ড by তালহা বিন নজরুল

ফের এক পেশে ফাইনাল, অস্ট্রেলিয়াই চ্যাম্পিয়ন। উড়ন্ত নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা আবারও নিজেদের ঘরে ফিরিয়ে এনেছে অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে শিরোপাটা স্বাগতিকদের কাছে থাকা নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মার মার কাট কাট করে ফাইনালে ওঠা অদম্য-অজেয়-অপ্রতিরোধ্য নিউজিল্যান্ডকে পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভারে মাত্র ১৮৩ রান করে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে অস্ট্রেলিয়া (৩৩.১) ১০১ বল আর সাতটি উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।  নতুন কোন চ্যাম্পিয়ন পেলো না ক্রিকেট বিশ্ব। ১১ আসরে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতলো অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন ওয়ান ডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন। কাল বিশ্বকাপ জয়ে তার বিদায়টাও ঐতিহাসিক হয়ে রইলো। রেকর্ড ৯৩ হাজারে বেশি দর্শকের সামনে মাথা উঁচু করে বিদায় নেয়ার চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না। চিত্রটা কি আগের দিনই তার দিব্যদৃষ্টিতে ফুটে উঠেছিল?  অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিংয়ের পাশে ট্রফি হাতে তার ছবিটাও শোভা পাবে এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেয়ালে। ১৯৮৭-তে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শিরোপাজয়ী অধিনায়ক অ্যালান বর্ডার। এরপর ১৯৯৯-এ স্টিভ ওয়াহ এবং ২০০৩ ও ২০০৭-এ রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। এ জয়ে নিজেদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেট দলে পরিণত করলো অস্ট্রেলিয়া। পাঁচটি পৃথক দলকে হারিয়ে পাঁচটি পৃথক মহাদেশ থেকে শিরোপা জিতলো তারা। ১৯৭৫এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ১৯৯৬-তে শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে হেরে যায় অজিরা। হেরেও খুব একটা আফসোস নেই নিউজিল্যান্ড শিবিরে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের চেহারা মলিন দেখালেও কিউই দল দেশে ফিরেছে বীরের বেশেই। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জনই তাদের পূর্বের সব কৃতিত্ব ম্লান করে দেয়। খেলা শেষে বিজয়ী অধিনায়কের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইসিসির চেয়ারম্যান ভারতের এন শ্রীনিবাসন। অলঙ্কারিক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের আ হ ম মুস্তফা কামালকে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেও ডাকা হয়নি। তবে ম্যান অব দ্য ফাইনাল জেমস ফকনার ও ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট মিচেল স্টার্কের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৫-এর বিশেষ দূত ভারতের শচীন টেন্ডুলকার।
ব্যাটসম্যানদের বিশ্বকাপে রানের বন্যার তোড়ের মধ্যেও ফাইনাল ও পুরো আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেন দুই জন বোলার। অস্ট্রেলিয়াতে ১৯৯২ বিশ্বকাপে যেখানে ৮টি সেঞ্চুরি হয়েছিল সেখানে এবার হয়েছে ৩৮টি। তবুও শেষটা হলো বোলারদের দাপটেই। যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৯৩ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড সেখানে কাল তাদের সংগ্রহ অর্ধেকও না। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, মিচের জনসন ও জেমস ফকনার মিলে আট উইকেট নিলেও নিউজিল্যান্ডের দুই আগুনে বোলার ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদি আার ঘুর্ণি বোলার ডেনিয়েল ভেট্টরি অজি ব্যাটসম্যানদের কাবু করতে পারেন নি।  ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ভারত ১৮৩ রানে অলআউট হয়েও শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। তবে কিউই বোলাররা সেরকম কোন সম্ভবনাও জাগাতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের কাছে গ্রুপ পর্বে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া এক জয়ে যেন দুই লক্ষ্য হাসিল করলো।
১৮৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে আঘাত পায়। দলের রান যখন সবে দুই তখন ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে অ্যারন ফিঞ্চ ফিরে গেলে তাসমান সাগরের ওপারে আনন্দের ঢেউ জেগে ওঠে। কিন্তু সে ঢেউ ক্রমেই স্তিমিত হয়ে আসে ওয়ার্নার-স্মিথের প্রতিরোধে। দ্বিতীয় উইকেটে সতর্কতার সঙ্গে এগুতে থাকলেও ওয়ার্নার হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতেই হেনরির শিকার হন। এরপর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে ক্রিজে আসেন বিদায়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। পিঠের ব্যথা নিয়ে তার এ আসরে খেলাটাই অনিশ্চয়তায় ঢাকা ছিল। দলে স্থান পেলেও তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। মাত্র একটি অর্ধশতকই তার সেরা স্কোর। সেই ক্লার্ক যে বিদায় বেলাতে ঔজ্জ্বল্য ছড়াবেন কে জানত। কি ধীরস্থির কিন্তু অবিচল এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হন তিনি। ৭২ বলে ৭৬ রান, ১০টি চার আর একটি ছক্কা। লো স্কোরিং ম্যাচে দুই উইকেট পড়ার পর এর চেয়ে আদর্শ ইনিংস হয় না। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ঠিক এমনভাবেই পাকিস্তানকে উদ্ধার করেছিলেন কিংবদন্তি দুই ক্রিকেটার ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদ। তৃতীয় উইকেটে ১১২ রানের জুটি যখন বিচ্ছিন্ন হয় জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার আর মাত্র ৯ রান। টানা ৫ খেলায় ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলে বাকিটা সেরে নেন ক্লার্কের উত্তরসূরি স্টিভেন স্মিথ। তিনি অপরাজিত থাকেন ৭১ বলে ৫৬ রান করে। মাত্র তিনটি চার মারেন তিনি। ক্রিজে ক্লার্কের সম্মানেই তিনি যেন নিজেকে গুটিয়ে রাখেন কাল। টসে জেতার পর কিউই শিবিরে বেশ স্বস্তির ভাব ফিরে আসে। তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয় যে, তিন শতাধিক রানের টার্গেট দিলে অস্ট্রেলিয়াকে আর কে পায়। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হওয়ার কারণও ছিল অনেক। মার্টিন গাপটিল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম তো এবারের নায়ক। কিন্তু মিচেল স্টার্কের প্রথম স্পেলেই যেন খেলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। ১৪৮ কিলোমিটার বেগের প্রথম বলে রান নয়, দ্বিতীয় বলে গাপটিল এক রান নেয়ার পর তৃতীয় বল মোকাবিলা করেন ম্যাককালাম। তিনি প্রথম বলটি পান ১৫০ কিলোমিটার বেগের। হাঁকাতে গিয়েছিলেন কিন্তু লাইন মিস। বল কোন মতে স্টাম্প ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয় বলেও নার্ভাস। ওভারের পঞ্চম আর নিজের তৃতীয় বলে আর বাঁচতে পারলেন না বোলারদের ত্রাস হয়ে ওঠা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। যার দিকে গোটা বিশ্ব তিনিই ফিরে গেলেন শূন্য হাতে। এরপর ৩ রানের সময় গাপটিল আর ৩৯ রানের মাথায় কেন উইলিয়ামসন বিদায় নিলে খেলা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে যায়। এরপর রস টেইলর ও গ্রান্ট এলিয়ট ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করেন। অনেকটা সফলও হন। কিন্তু ফকনার এক ওভারেই এই দুই খুঁটি উপড়ে দিলে ফের ধস নামে কিউই শিবিরে। ১৫০/৩ থেকে স্কোর দাঁড়ায় ১৫১/৬। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় সব। ২৩ রানের ব্যবধানে ৭টি উইকেট হারিয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়তে ব্যর্থ হয় প্রথম ফাইনালে ওঠা নিউজিল্যান্ড।