Thursday, February 11, 2010

সবার ওপরে ওঁরা তিনজন by বদিউজ্জামান

ব্যাপারটা নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। ১৯৮৪ সালে কাঠমান্ডু থেকে শুরু। প্রতিবার দক্ষিণ এশীয় গেমস শেষেই একই চিত্র—পদক তালিকায় সবার ওপরে ভারত। এবারও ৯০টি সোনা জিতে তারাই এসএ গেমস সেরা। কি ব্যক্তিগত, কি দলগত সব জায়গাতেই ভারতের দাপট। ব্যক্তিগত সাফল্যেও যে এই দেশটার খেলোয়াড়েরাই উদ্ভাসিত হবেন, এ আর নতুন কি?
১৫৮টি সোনার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি সোনা কে জিতলেন? অবশ্যই ভারতের খেলোয়াড়। তবে একজন নয়, একাধিক খেলোয়াড় জিতেছেন সবচেয়ে বেশি সোনা। ৪টি করে সোনা জিতেছেন ভারতের শ্যুটার ওমপ্রকাশ, সুরেন্দ্র সিং রাঠোর ও টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মাধুরিকা সুহাস পাটকার।
৫০ মিটার পিস্তলে ব্যক্তিগত ও দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেছেন ওমপ্রকাশ, সোনা জিতেছেন ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ব্যক্তিগত ও দলগত দুটোতেও। সুরেন্দ্র সিং রাঠোর প্রথমে সোনা জেতেন ৫০ মিটার রাইফেলের প্রোনের ব্যক্তিগত ইভেন্টে, এরপর সোনা জেতেন দলগতভাবেও। ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনের দলগত ও ব্যক্তিগত সোনা জিতেছেন রাঠোর। টেবিল টেনিসে মেয়েদের একক, মেয়েদের দ্বৈত, মিশ্র দ্বৈত ও দলগত সোনা জিতেছেন মাধুরিকা সুহাস পাটকার।
আগামী অক্টোবরেই দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস। এরপর শুটিংয়ের বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। এসবের আগে এসএ গেমসে নিজেদের ঝালাই করে নেওয়ার দারুণ একটা উপলক্ষই পেলেন ভারতের শ্যুটাররা। প্রস্তুতিটা কেমন হলো, পদক তালিকা দেখলেই বোঝা যায় সেটা। শুটিং থেকে ভারত জিতেছে মোট ৩৩টা পদক। এর মধ্যে সোনা ১৯টি। সবচেয়ে বেশি পদক জিতে বেশ তৃপ্ত গুজরাটের ছেলে সুরেন্দর সিং রাঠোর, ‘৪টা সোনা জিততে পেরে খুবই ভালো লাগছে। সামনেই কমনওয়েলথ গেমস। সেটির জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি হলো এখানে।’ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন সুরেন্দর। শ্যুটিংয়ের জন্য সারা বছরই রাজস্থানের মাউয়ের ক্যাম্পে থাকতে হয়। সেখান থেকেই উঠে এসেছেন ভারতের অলিম্পিক রুপাজয়ী শ্যুটার রাজ্য বর্ধন সিং রাঠোর।
সুরেন্দর সিংয়ের চোখ অলিম্পিক সোনাতে। সেই লক্ষ্যেই চলছে তার নিরলস প্রস্তুতি। অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিয়ে এসএ গেমসের মতো আসরে বড় কিছু আশা করাই যায়। সুরেন্দরও যেন আগেই বুঝতে পেরেছিলেন সে রকম কিছুই হবে, ‘আমি যে রকম কঠোর পরিশ্রম করেছি, তাতে আশাবাদী ছিলাম একাধিক সোনা জিতব। আমার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।’ সুরেন্দর সিংয়ের মতো সেনাবাহিনীতে চাকরি করছেন আরেক ভারতীয় শ্যুটার ওমপ্রকাশ। এসএ গেমসে পাওয়া সাফল্যকে পরিশ্রমের ফল বলছেন তিনিও, ‘যে রকম অখণ্ড মনোযোগে অনুশীলন করেছি তাতে চারটা সোনা আমার প্রাপ্যই ছিল। আশা করি কমনওয়েলথেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’ ভারতীয় শ্যুটিং দলের কোচ তেজিন্দর সিং ঢিল্লোন দলের এমন পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি, ‘এখানে আমাদের সেরা দলটি নিয়ে আসিনি। দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও যে ফলাফল করলাম তাতে আমি দারুণ খুশি।’
টেবিল টেনিসে ভারতের উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবেই ধরা যায় টিনএজ মাধুরিকা সুহাস পাটকারকে। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশীয় গেমসে খেলতে এসেই বাজিমাত করলেন মহারাষ্ট্রের এই তরুণী। এতটা ভালো ফল করবেন নিজেও নাকি ভাবেননি, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের প্রথম এসএ গেমস। প্রথমবারেই যে ৪টি সোনা জিতব সেটা আমি কল্পনাও করিনি। আমার মনে হচ্ছে, ভারতের জন্য আমি অনেক কিছু করতে পেরেছি। সামনেই কমনওয়েলথ গেমস। আশা করি এই সাফল্য সেখানেও ধরে রাখতে পারব।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কি অবদান রাখতে পারে by রিজওয়ানুল ইসলাম

কিছুদিন আগে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লাভ দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে আপত্তি করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে তা থেকে প্রাপ্ত লাভ বিদেশে চলে গেলেও এ ধরনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো উচিত। আসলে বাংলাদেশের মতো দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কি অবদান রাখতে পারে?
বাংলাদেশসহ অনেক অনুন্নত দেশেই পুঁজির সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম। এর প্রধান কারণ এই যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন, জাতীয় সঞ্চয় তার তুলনায় কম। বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যকার এই ব্যবধান পূরণের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে বিদেশি পুঁজি। বিদেশ থেকে পুঁজি বিভিন্ন উপায়ে একটি দেশে প্রবেশ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ঋণ এবং পুুঁজিবাজারের কথা উল্লেখ করতে পারে। তবে অনুন্নত দেশগুলোর পক্ষে ব্যক্তিপর্যায়ে বিদেশ থেকে ঋণ সংগ্রহ করা সহজ নয়। এ ধরনের দেশের পুঁজিবাজারেও বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ নয়। আর সম্ভব হলেও এ ধরনের পুঁজির অনেক সমস্যা রয়েছে—যা সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট এবং ১৯৯৭-৯৮-এর এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেশ প্রকটভাবে ধরা পড়েছিল। এসব কারণে বিদেশি পুঁজির জন্য সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকেই তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে করা হয়। এ ধরনের বিনিয়োগ শুধু যে সঞ্চয় ও পুঁজির স্বল্পতা মেটাতে সহায়তা করে তা-ই নয়, পুঁজির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উন্নতমানের ব্যবস্থাপনা চালু করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তবে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসব ভূমিকা কতটা পালন করতে পারে সেটা পর্যালোচনার বিষয়।
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তত্ত্বগত দিক থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়। প্রথম কারণটি হচ্ছে ব্যয়সাশ্রয়ী (cost-effective) হয়ে ব্যবসায়ে দক্ষতা বাড়ানো। যদি কোনো শিল্পে শ্রমের প্রয়োজন বেশি হয়, তবে শ্রমের সরবরাহ বেশি এবং মজুরি কম এমন দেশে সেই শিল্প স্থাপন করা যুক্তিযুক্ত। এ কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশে পোশাক, জুতা, খেলনা—এসব শিল্পে বিনিয়োগ করতে উত্সাহী হয়।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে সম্পদের আকর্ষণ। প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ও অন্যান্য খনিজসম্পদ এ ধরনের সম্পদের উদাহরণ। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তির অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজেরা এসব সম্পদ আহরণ ও ব্যবহার করতে সক্ষম হয় না। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি উত্তোলনের জন্য অনেকাংশে বহুজাতিক কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল।
তৃতীয় কারণটি হচ্ছে বাজারের আকর্ষণ। অনেক উন্নয়নশীল দেশেই আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের (যেমন মোটরগাড়ি, অন্যান্য টেকসই ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত পণ্য ইত্যাদি) বাজার গড়ে উঠছে। পরিবহন-ব্যয়, আমদানি-শুল্ক, ইত্যাদি কারণে পণ্য রপ্তানি করে এই নতুন বাজারের সুযোগ গ্রহণ করার চেয়ে বাজারের কাছে উত্পাদন করা এবং সেই লক্ষ্যে বিনিয়োগ করা অনেক সময় বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। চীন ও ভারতের মতো দেশে জনসংখ্যা ও আয়বৃদ্ধির কারণে বাজারের আয়তন বেড়েছে, তার ফলে দুটি দেশই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশি সফল হচ্ছে।
সারা বিশ্বের মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের দিকে তাকালে দেখা যায়, আশির দশকের তুলনায় পরের দুই দশকে পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এর প্রধান কারণ, নব্বইয়ের দশকে অনেক বেশি সংখ্যক দেশে উদারনীতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এমন কোনো দেশ প্রায় নেই, যেখানে এ ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে না। তবে প্রশ্ন হলো সব দেশ কি এর সুফল পাচ্ছে? বস্তুত, বিদেশি বিনিয়োগের সিংহ ভাগ যায় মাত্র এক ডজনের মতো দেশে—চীন, ব্রাজিল, মেক্সিকো, হংকং, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, মালয়েশিয়া, বারমুডা, চিলি, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলায়।
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। গত নব্বইয়ের দশকেও বাংলাদেশে এ ধরনের বিনিয়োগ ছিল সামান্য। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। কিন্তু এই বিনিয়োগের ধারায় কোনো স্থিতিশীলতা লক্ষ করা যায় না। বর্তমান শতকের প্রথম দশকের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখা যায়; ২০০৮ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এই অর্জন এমন কিছু উল্লেখযোগ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তানে এই বিনিয়োগ ২০০৪ সালেই ১০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছিল; তারপর ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০০৮ সালে ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সুতরাং মাথাপিছু পরিমাণ হিসাব করলে পাকিস্তানে বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ যাচ্ছে বলে মনে হয়। শ্রীলঙ্কায়ও মাথাপিছু হিসেবে বাংলাদেশের চাইতে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে।
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এর ফলে দেশ কতটা লাভবান হচ্ছে। এর সম্ভাব্য উপকারিতার কথা আগেই বলা হয়েছে। দেশজ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের স্বল্পতা কাটাতে বিদেশি বিনিয়োগ কতটা সহায়ক তা নির্ভর করে বিদেশি বিনিয়োগ দেশজ বিনিয়োগকে সরিয়ে নিজের স্থান সৃষ্টি করে, নাকি দেশজ বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, অবকাঠামো খাতে (যেমন রাস্তাঘাট নির্মাণ, শক্তি উত্পাদন ইত্যাদি) বিদেশি বিনিয়োগের ফলে সে খাতে উন্নতি হলে তা আরও বাড়তি (দেশজ এবং বিদেশি উভয়ই) বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতে পারে। তেমনি কোনো যন্ত্রপাতি বা মোটরগাড়ির শিল্প স্থাপিত হলে যন্ত্রাংশের চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে এবং সে খাতে দেশজ বিনিয়োগ উত্সাহিত হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো সময় এর উল্টোটাও ঘটতে পারে। যেমন বিদেশি বিনিয়োগের ফলে সৃষ্ট শিল্প (বা ব্যবসা) যদি দেশজ কোনো শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এবং তার ফলে সেটি টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায় অথবা প্রতিযোগিতার মুখে দেশজ বিনিয়োগ কমে যায়, তাহলে সেই প্রভাবকে ‘সরানো’র প্রভাব বলা যাবে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নিট ফল নির্ভর করবে উপরিউক্ত দুই ধরনের প্রভাবের (অর্থাত্ বাড়ানো এবং সরানো) মধ্যে কোনটি বেশি শক্তিশালী, এবং মোট বিনিয়োগের ওপর ফল কী হচ্ছে তার ওপর।
বাস্তব উপাত্তভিত্তিক গবেষণা থেকে উপরিউক্ত প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যায় না। কোনো কোনো সমীক্ষায় ইতিবাচক প্রভাবই বেশি শক্তিশালী মনে হয়, আবার এমন সমীক্ষাও আছে যেখানে নেতিবাচক প্রভাব বেশি শক্তিশালী দেখা যায়। তবে ২০০৪ সালে ৩৭টি উন্নয়নশীল দেশের উপাত্তের ভিত্তিতে পরিচালিত আইএলওর একটি গবেষণায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।
শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি নয়, বর্ধিত বিনিয়োগ থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর (ও আয়ের) জনগোষ্ঠী কীভাবে উপকৃত হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠী সুফল পাচ্ছে কি না সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর সেই প্রসঙ্গে এসে যায় কর্মসংস্থান ও মজুরির ওপর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রভাব কী ধরনের সেই প্রশ্ন। এ বিষয়ে অবশ্য গবেষণা খুব বেশি হয়নি। তবে সাধারণভাবে বলা যায় যে বিষয়টি নির্ভর করে বিনিয়োগের প্রকার এবং খাতের ওপর। এ প্রসঙ্গে এসে যায় আরও একটি বিষয়: বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে (যাকে বলা হয় গ্রিনফিল্ড ইনভেস্টমেন্ট) হচ্ছে, নাকি বর্তমানে বিদ্যমান কোনো উদ্যোগে (যাকে বলা হয় ব্রাউনফিল্ড ইনভেস্টমেন্ট) হচ্ছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হা-জুন চ্যাং (Ha-Joon Chang) বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে মোট বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে দ্বিতীয় ধরনের উদ্যোগে। এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি কর্মসংস্থান আশা করা যায় না। বহুজাতিক সংস্থার দৃষ্টি বেশি থাকে উত্পাদিকা শক্তি ও মুনাফার দিকে, ফলে তাদের চেষ্টা থাকে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা কমানোর দিকে।
কর্মসংস্থানের দৃষ্টি থেকে বিনিয়োগের খাতও গুরুত্বপূর্ণ। খনি, জ্বালানি, এসব খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান কমই সৃষ্টি হয়। সুতরাং এসব খাতে বিনিয়োগ হলেও খুব বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকে না। অবশ্য অবকাঠামো উন্নত হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে। কিন্তু খনির ক্ষেত্রে তাও বলা যায় না। শিল্পখাতে বিনিয়োগও সব সময় কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক হয় না। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর এক তুলনামূলক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোটরগাড়ির ক্ষেত্রে শুধু মেক্সিকোতেই কর্মসংস্থান বেড়েছে, আর খাদ্য ও পানীয় শিল্পে বেড়েছে শুধু আর্জেন্টিনায়।
অনেক সময়ই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত এলাকা তৈরি করে সেখানে অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা সৃষ্টি করা হয়। তার ফলে সে ধরনের এলাকায় হয়তো বিদেশি বিনিয়োগ আসে এবং কিছু কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়। কিন্তু সে ধরনের বিনিয়োগ অনেক সময়ই দেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠে না। ফলে এসব বিশেষ এলাকা অনেকটা বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের মতো গড়ে ওঠে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশেই এ রকম বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, তা একটি দেশের মোট শ্রমশক্তির তুলনায় (বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে) কত, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের আটটি ইপিজেডে মোট শ্রমিকের সংখ্যা দুই লাখ ১৮ হাজার ২৯৯, যা শিল্পখাতে নিয়োজিত মোট শ্রমিকের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ।
ওপরের আলোচনা থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অবদান সম্পর্কে কী বলা যায়? তাত্ত্বিক (বা নীতির) দিক থেকে অবশ্যই এ ধরনের বিনিয়োগ উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কী ঘটে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়া যায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ফল দেখা যায়। এ রকম অবস্থায় এ বিষয়ে সরকারের কী ধরনের অবস্থান নেওয়া উচিত? যেহেতু এর সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক রয়েছে এবং সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেহেতু এর জন্য দ্বার উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে এবং আরও অধিক মাত্রায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য প্রণোদনাও রাখা যেতে পারে। কিন্তু একে নির্বিচারে আমন্ত্রণ না জানিয়ে কীভাবে এর সম্ভাব্য সুফলগুলো বাস্তবে পরিণত করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কথাও ভাবা যেতে পারে। আজ যারা উন্নত দেশ তারাও কিন্তু তাদের উন্নয়নের সময় এ ধরনের নীতি গ্রহণ করেছিল।
নিজের দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য যে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা (শ্রম এবং ব্যবস্থাপনা—উভয়েরই) বৃদ্ধির ব্যবস্থা। তবে তারও আগে দেখতে হবে, যে বহুজাতিক সংস্থা বিনিয়োগ নিয়ে আসছে, সে কতটা বিনিয়োগ দেশের বাইরে থেকে আনছে এবং কতটা লাভ দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এমন খাতে বিনিয়োগ উত্সাহিত করা, যার ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। অবকাঠামো, বিদ্যুত্—এসব খাতে বিনিয়োগের প্রভাবে দেশজ বিনিয়োগ বাড়তে পারে। তদুপরি, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যৌথ মালিকানা উত্সাহিত করা যায় কি না এবং কাঁচামাল ব্যবহারে দেশজ পণ্যের অংশ বাড়ানো যায় কি না, এসব বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া উচিত।
রিজওয়ানুল ইসলাম: সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জেনেভা।

আনন্দ মোহনের ঘটনা

৩০ জানুয়ারি ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শতবর্ষপূর্তি উৎসবে বিশৃঙ্খলা ও মেয়েদের লাঞ্ছিত করার যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তা এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। ঘটনার পর কোনো সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো সত্য প্রকাশ। কিন্তু সেদিনের ঘটনাটি কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। সেখানকার স্থানীয় পত্রপত্রিকার কোনো স্থানীয় সাংবাদিক বিষয়টি জানতে পারেননি, তা হতে পারে না। যদি তাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খবরটি চেপে গিয়ে থাকেন, তবে তা অন্যায় হয়েছে এবং এতে তাঁদের অপেশাদারি মনোভাবেরও পরিচয় মিলেছে।
ঘটনার খবর প্রকাশ না করার অর্থ হচ্ছে সন্ত্রাসী ও লাঞ্ছনাকারীদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করা। পরে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তাতে লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যারা পেশি ও পশুশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, তাদের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। বলা হয়েছে, আক্রমণকারীরা কলেজের ছাত্র নয়, বহিরাগত সন্ত্রাসী। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কীভাবে কলেজের অনুষ্ঠানে গেল, সে প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিতে হবে।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গাফিলতিও অমার্জনীয়। কেউ অভিযোগ করেনি বলে তাঁরা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। পুলিশের সামনে ডাকাত কোনো মানুষকে মেরে ফেললেও কি তাঁরা একই অজুহাত দেখিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন? আক্রমণের শিকার ব্যক্তির পক্ষে সব সময় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। তাই বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।
আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না, ছিল রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণে। সেই রাজনৈতিক শক্তির উৎসও কারও অজানা নয়। ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় তারা বেড়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও একশ্রেণীর সংবাদকর্মীর দহরম-মহরম থাকাও অস্বাভাবিক নয়। তবে অপরাধীরা যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার বিকল্প নেই। আনন্দ মোহন কলেজের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার

মিসরীয় কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার বিরোধী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় ১৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে সংগঠনের উপপ্রধান মাহমুদ ইজ্জাত, প্রবীণ সদস্য ইসাম ইরিয়ান ও আবদেল রেহমান এল-বেরও রয়েছে। সংগঠনের আইনজীবী আবদেল মোনিম আবদেল মাকসুদ ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
আবদেল মাকসুদ বিবৃতিতে আরও জানান, মিসরের অন্যান্য স্থান থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের আরও ১০ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে সরকারিভাবে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২০ হাজার অভিবাসন আবেদন বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া

যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর গতকাল সোমবার ২০ হাজার অভিবাসন আবেদন বাতিল করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রন্ধন ও কেশবিন্যাসের মতো কোর্সে ভর্তির মাধ্যমে বিদেশি ছাত্রদের স্থায়ী অভিবাসন বন্ধের লক্ষ্যে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী ক্রিস ইভান্স বলেন, উচ্চতর দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় ছাত্রদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনার পর ওই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
অভিবাসনমন্ত্রী বলেন, ২০ হাজার বিদেশি আবেদনকারীর প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফি ফেরত দেওয়া হবে। নতুন আইনে ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে। এ ছাড়া নতুন অভিবাসন আইনে ‘সবচেয়ে ভালো ও সম্ভাবনাময়’ অভিবাসন প্রত্যাশীদের লক্ষ করা হয়েছে।
সরকারের ওই পদক্ষেপের ফলে চাপের মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাত। সফলভাবে এশিয়ার ছাত্রদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম খাতে পরিণত হয়েছে শিক্ষা খাত।
সম্প্রতি অভিবাসন এজেন্টগুলোর বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতিসহ বিস্তর অভিযোগ ওঠে। নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার গোপন বাহিনী!

উত্তর কোরীয় সরকারের পতনের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় পিয়ংইয়ংয়ের তাত্ক্ষণিকভাবে আক্রমণক্ষম একটি গোপন বাহিনী রয়েছে। গতকাল সোমবার উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দাবি করে থাকে, দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল সরকার পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের দাবি, এ ধরনের চেষ্টা সম্প্রতি বিপত্সীমা অতিক্রম করে গেছে।
উত্তর কোরিয়ার জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বিতর্কিত পীত সাগর সীমান্ত রক্ষায় দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীর চেষ্টারও সমালোচনা করা হয়। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা বিবৃতিটি প্রচার করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের বিশ্বমানের অত্যাধুনিক তাত্ক্ষণিক আক্রমণক্ষম গোপন বাহিনী রয়েছে; যারা নিরাপত্তা রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ। এর আগে কখনোই ওই বাহিনীর কথা উল্লেখ করা হয়নি কিংবা তাদের জনসমক্ষেও আনা হয়নি। বিবৃতিতে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবারের ওই বিবৃতিতে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রচারপত্র ছড়ানোর বিষয়েও অভিযোগ তোলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ওই সব প্রচারপত্র এখন দেশের অনেক ভেতরে ছড়ানো হচ্ছে।

অপারেশন গ্রিন হান্টের প্রতিবাদে মাওবাদীদের ৭২ ঘণ্টার বন্ধ্

মাওবাদী দমনের জন্য এবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’-এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে মাওবাদীরা। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার থেকে ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, বিহার, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গে শুরু করেছে ৭২ ঘণ্টার বন্ধ্।
অভিযান শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার কলকাতায় বসছে ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠক। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
জানা গেছে, ওই চার রাজ্যের সঙ্গে আরও দুটি রাজ্য ছত্তিশগড় ও মহারাষ্ট্রকে যুক্ত করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে ওই অভিযান। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে বসছে ওই বৈঠক।
ওই অভিযান বন্ধের দাবিতে পাঁচ রাজ্যে ডাকা ৭২ ঘণ্টার বনেধ মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় মোটামুটি সাড়া ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী প্রভাবিত পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ওই বন্ধ চলছে। তবে রাজ্যের অন্যত্র এর প্রভাব পড়েনি।
বনেধর প্রভাব পড়ছে ঝাড়খন্ড, বিহার ও ওড়িশার মাওবাদী এলাকাতেও। মাওবাদীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই তিনটি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় বিহারের নরগঞ্জে একজন রেল তত্ত্বাবধায়ক নিহত হয়েছেন। মাওবাদীরা গতকাল ওড়িশা-ঝাড়খন্ড সীমান্তের সুন্দরগড়ের ভালুলতা স্টেশনে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রেনেও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে। এতে ওই লাইনে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল ওড়িশার মালকানগিরি জেলার মতু ও কালিমেলা অঞ্চলে মাওবাদীরা গাছ ফেলে পথ অবরোধ করে। রোববার বিহারের ঝাঝা-জসিডির মাঝামাঝি রাজলা স্টেশনের রেললাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। এখানেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা ৫

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের মিডলটাউনে নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত রোববার বিস্ফোরণে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। মিডলটাউনের মেয়র এ কথা জানান।
অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ক্লিন এনার্জি সিস্টেমস এলএলসির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। রোববার সেখানে পরীক্ষা চালানোর সময় গ্যাসলাইন ফুটো হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়।
মিডলটাউনের মেয়র সেবাসটিয়াল জিউলিয়ানো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিস্ফোরণের সময় সেখানে প্রায় ২০০ জন কর্মী ছিলেন। ঠিকাদারেরা কর্মীদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা বলা সম্ভব হবে না। উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার ভোরে এই বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা দেখা যায় এবং কালো ধোঁয়া দেখা যায়।
অনেকে বলেছে, বিস্ফোরণে অনেক ভবনের জানালা উড়ে যায় এবং প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে ইস্ট হ্যাভেনেও বিস্ফোরণজনিত কম্পন অনুভূত হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই বিভিন্ন স্থান থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও কয়েকটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আহত ব্যক্তিদের অনেককে মিডলটাউনের কাচে মিডলসেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হছে।

ধৈর্য হারিয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতির মুখে আমরা by মনজুরুল হক,

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তিন দিনের সফরে এখন জাপানে। হিরোশিমায় আণবিক বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে গত রোববার তাঁর জাপান সফর শুরু হয়।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউকিয়ো হাতোইয়ামার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন মাহমুদ আব্বাস। বৈঠকে জাপানি প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে তাঁর দেশের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা ছাড়াও ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের সাহায্য অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গতকাল বিকেলে টোকিওর ফরেন প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অঙ্গীকার সত্ত্বেও ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কোনো রকম অগ্রগতি না হওয়ায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আগ্রাসী নীতি বন্ধে রাজি করাতে ব্যর্থ হওয়ায় ধরে নেওয়া যায় বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রের পক্ষেই এখন শান্তিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা থেকে ইসরায়েলকে বিরত রাখা সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের জনগণকে এখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রিয়াদ মালকি বলেন, হতাশাজনক সেই অবস্থায় ফিলিস্তিনের প্রশাসন এখন শেষ ভরসা হিসেবে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হচ্ছে, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রেরই তাদের প্রতি সমর্থন রয়েছে।
রিয়াদ মালকি বলেন, গত ৬০ বছরে বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনের জনগণকে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার কোনোটি এখনো পর্যন্ত রক্ষা করা হয়নি। যদিও প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য ফিলিস্তিনিদের যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা তার সবটাই পূরণ করেছেন।

কোস্টারিকায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলেন লরা

কোস্টারিকায় নির্বাচনে লরা চিনচিলা প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে গত রোববার এ তথ্য জানা গেছে। বিজয়ী হওয়ার লরা হলেন লাতিন আমেরিকায় পঞ্চম ও দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির প্রার্থী লরা চিনচিলা পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি ২০ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন। ফলে এখন আর তাঁকে দ্বিতীয় দফার ভোটে লড়তে হবে না। কারণ সেটি এড়াতে তাঁর ৪০ শতাংশের বেশি ভোট দরকার ছিল। ওই পরিমাণ ভোট তিনি পেয়েছেন।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় লরা চিনচিলা বলেন, ‘আজ আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করলাম। কোস্টারিকার মানুষ আমাকে তাদের সেই দৃঢ়বিশ্বাস দিয়েছে এবং আমি সে বিশ্বাস ভঙ্গ করব না।’
৫০ বছর বয়সী লরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অস্কার অ্যারিয়াসের নীতির একজন বড় অনুসারী। সমালোচকেরা বলছেন, এবার লরার পুতুল সরকার হবে। কারণ সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেই অ্যারিয়াসের হাতেই।
বিরোধী দলের মধ্য বামপন্থী প্রার্থী অটন সলিজ গণনা করা ভোটের মধ্যে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ডানপন্থী আইনজীবী অটো গুয়েভারা পেয়েছেন ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট।
সলিজ ইতিমধ্যে পরাজয় মেনে নিয়ে লরাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছি এবং বাস্তবতা মেনে নিচ্ছি।’ নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম ও গোলযোগের আশঙ্কা ছিল। এর পরও লাতিন আমেরিকার ওই দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতির হার ছিল ৩৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ।

কাসাবের উপস্থিতি মুম্বাইয়ের মনোরেল পরিকল্পনা পরিবর্তনে বাধ্য করছে by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

মুম্বাই হামলায় অংশ নেওয়া একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল আমির কাসাব ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীর জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করেছেন। তাঁর কারণে এখন শহরে মনোরেল স্থাপন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের কারাগারে আটক রয়েছেন কাসাব। মূলত তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মনোরেল স্থাপন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে এ প্রকল্পের ব্যয়ও অনেকখানি বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মুম্বাইয়ে মনোরেল স্থাপন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত একজন প্রকৌশলী বলেন, অতিরিক্ত ৭২০ মিটার দীর্ঘ রেলপথ স্থাপন করতে হলে প্রকল্পের ব্যয় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এক কিলোমিটার মনোরেললাইন বসাতে ১২৩ কোটি রুপি খরচ হয়। ওই হিসাবে ৭২০ মিটারের জন্য ৮৮ কোটি রুপির বেশি খরচ পড়বে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, আর্থার রোডের কারাগার থেকে রেলপথ দূরে সরাতে অতিরিক্ত ৩৯ থেকে ৪৪ কোটি রুপি খরচ হতে পারে।
কর্মকর্তারা জানান, শহরের আর্থার রোড পুলিশ চৌকি থেকে জ্ঞানাচার্য স্কয়ার পর্যন্ত মনোরেলপথের নকশা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন সেবা সরবরাহ লাইন এবং ওই এলাকার সড়কব্যবস্থাও প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। তবে মূল কারণটি হলো কাসাবের নিরাপত্তা। মনোরেলপথটি কারাগার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে যাত্রীরা ট্রেন থেকে কারা প্রাঙ্গণ দেখতে না পায় বা সেখানে কোনো কিছু ছুড়ে ফেলতে না পারে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কাসাবের মুখ চিরতরে বন্ধ করতে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে সন্ত্রাসীরা। তাই মনোরেলপথের উচ্চতাও কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাধারণত আট মিটার উঁচুতে রেলপথ স্থাপন করা হলেও সেখানে পৌনে সাত মিটার উচ্চতায় ওই রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মুম্বাই মেট্রোপলিটন রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমএমআরডিএ) যুগ্ম কমিশনার অশ্বিনী ভিদে বলেন, আর্থার রোড কারাগার এলাকায় রেলপথের নকশা পরিবর্তনের মূল কারণ নিরাপত্তার শঙ্কা। এই পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় কী পরিমাণ বাড়বে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে হিসাব করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানান, নকশা চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পুরো রেলপথটির উচ্চতায়ও পরিবর্তন আনা হতে পারে। সম্প্রতি দায়িত্বে আসা মুম্বাই পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নাভাল বাজাজ জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না।
মুম্বাই শহরে একটি ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মনোরেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ভারতের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহরটির আড়াই লাখ বাসিন্দা এর সুবিধা পাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রেলপথে ১৮টি স্টেশন থাকবে এবং দিনে ১৫টি ট্রেন চলবে।

নতুন ১০টি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ইরানের

আগামী ইরানি বছরে ১০টি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইরান। গত রোববার সন্ধ্যায় ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি এ কথা বলেছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২১ মার্চ ইরানি বছর শুরু হয়।
গত রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তেহরানের একটি পারমাণবিক চুল্লির জন্য ভালো মানের পরমাণুজ্বালানি তৈরির কাজ শুরু করতে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থাকে নির্দেশনা দেন। প্রেসিডেন্টের ওই বক্তব্যের পর গত রোববার আলী আকবর সালেহি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
ইরানের এই ঘোষণার ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তাদের বিরোধের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আহমাদিনেজাদ বলেন, পরমাণুজ্বালানি বিনিময় নিয়ে সংলাপ এখনো সম্ভব।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান সালেহি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের উপস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, ওই পদক্ষেপ সম্পর্কে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘ সংস্থা আইএইএকে অবহিত করবে তেহরান। ইরানের আরবি ভাষার টেলিভিশন আল-আলম এ কথা জানায়। এর আগে সালেহি বলেন, নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে ওই উত্পাদনের কাজ চলবে।
সালেহি বলেন, ইরানকে যদি বিদেশ থেকে ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি দেওয়া হয় তাহলে উত্পাদনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরান বলেছে, ভালো মানের জ্বালানির জন্য নিজেদের স্বল্পসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে তারা প্রস্তুত। তবে জাতিসংঘ প্রণীত পরিকল্পনার সংশোধনী চেয়েছে তেহরান।
গত নভেম্বরে ১০টি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু তখন কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে বোমা তৈরি। কিন্তু ইরান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সালেহিকে উদ্ধৃত করে আল-আলম টেলিভিশন জানায়, আগামী বছর ইরান ১০টি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করবে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি হিসেবে পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে ব্যবহূত হয়। যদি সেটা আরও শোধিত করা হয় তাহলে বোমা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ইরান বর্তমানে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৮০ শতাংশ বা এর চেয়েও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন।

কাশ্মীরে তুষারঝড়ে ১৩ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

কাশ্মীরে শীতকালীন সেনা মহড়ার সময় তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে একজন সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বরফের নিচে আরও সেনা আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জি এস ব্রার।
ব্রার জানান, কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে খেলেনমার্গ পর্বতচূড়ায় এ মহড়া চলছে। গতকাল সোমবার হঠাত্ তুষারঝড় শুরু হয়। এতে সেনাসদস্যদের থাকার তাঁবু তুষারে ঢেকে যায়। তুষারের স্তূপ থেকে গতকাল ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ। নিহতদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট রয়েছেন। তাঁর নাম প্রতীক। আহতদের গুলমার্গের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জ্যোতি বসুকে নিয়ে তৈরি হবে যাত্রাপালা

প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে নিয়ে কলকাতার একটি যাত্রাদল যাত্রাপালা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ওই যাত্রাপালায় তুলে ধরা হবে জ্যোতি বসুর জীবনের নানা দিক। যাত্রাপালাটির নাম দেওয়া হয়েছে আলোর শিখা অমরজ্যোতি।
জ্যোতি বসুর ভূমিকায় অভিনয় করবেন চলচ্চিত্র অভিনেতা গৌরীশংকর পান্ডা। তবে যাত্রাদল এখনই তাদের দলের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না। ওই দলের পরিচালক বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন সারাহ পেলিন

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর এবং ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পেলিন বলেছেন যে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সারাহ পেলিন বলেন, দেশকে সাহায্য করার কোনো সুযোগ বিবেচনা না করা অযৌক্তিক হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তাঁর জন্য যে দরজা খোলার সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি সেই দরজা বন্ধ করে দিতে পারেন না।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতার দৌড়ে পিছিয়ে আছেন পেলিন। ওই জরিপের ফলাফল নাকচ করে দিয়েছেন সাবেক ওই গভর্নর।
আফগানিস্তানে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন সারাহ পেলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক আদালতে কয়েকজন সন্দেহভাজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিচারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
২০০৮ সালে তিনি যখন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর রানিং মেট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তখনকার চেয়ে এখন কি তিনি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে অনেক বেশি জ্ঞান রাখেন? এ প্রশ্নের জবাবে সারাহ পেলিন বলেন, তিনি তা-ই মনে করেন।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফনসেকা গ্রেপ্তার

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শরৎ ফনসেকাকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের মিলিটারি পুলিশ। ফনসেকার দল এ কথা জানিয়েছে।
গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপক্ষের কাছে পরাজিত হন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক সেনাপ্রধান ফনসেকা। কিন্তু ফনসেকা নির্বাচনের এ ফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ফনসেকার স্ত্রী বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, ফনসেকার কার্যালয় থেকে গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফনসেকা তাঁর কার্যালয়ে বসে কয়েকজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় মিলিটারি পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বলেছে, ফনসেকাকে গ্রেপ্তারের সময় সেনারা প্রধান বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙচুর করে। দলটির মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ফনসেকা তাঁর কার্যালয়ে বিরোধী দলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় সেনারা সেখানে গিয়ে জোর করে ফনসেকাকে ধরে নিয়ে যায়।’
মুসলিম কংগ্রেস নেতা রউফ হাকিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ফনসেকাকে টানাহেঁচড়া করে খুবই অসম্মানের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে যৌথ সভার ডাক দিলেন বারাক ওবামা by ইব্রাহীম চৌধুরী,

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের নিয়ে যৌথ সভার ডাক দিয়েছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এ সভাটি সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে। মার্কিন জনগণের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু নিয়ে উন্মুক্ত রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে এ সভায়। ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির নেতারা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাঁদের ধারণা ও প্রস্তাব সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরবেন এ বৈঠকে।
ওবামা রোববার সিবিএস টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে উন্মুক্ত এ আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি রিপাবলিকানদের ধারণা জানতে চান। সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা বাস্তবায়নে রিপাবলিকান পার্টির ব্যয় সংকোচন প্রস্তাবটিও তিনি যাচাই করে দেখতে চান।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা আইন প্রণয়ন নিয়ে মার্কিনসমাজে টানা বিতর্ক চলছে বছরব্যাপী। এ নিয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মার্কিনসমাজে বিভক্তি এখন চরমে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা নেওয়ার পরই এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এর পরই স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা মহলের স্বার্থের সংঘাত শুরু হয়। নানা পক্ষের সমঝোতা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে ওবামাকে।
গত ডিসেম্বরে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা-সংক্রান্ত একটি আইন প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর আগে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পৃথক একটি আইন প্রস্তাবও গৃহীত হয়। উভয় প্রস্তাবেরই তীব্র বিরোধিতা করে রিপাবলিকান পার্টি। প্রস্তাবিত আইনে উদার নৈতিক মহলের সব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ওবামার সমর্থকেরাও। অপর দিকে স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরূপ প্রচারণা অব্যাহত থাকে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা প্রণীত হলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে জোর সমালোচনা শুরু করে রিপাবলিকান পার্টি। করদাতাদের ওপর করের বোঝা বাড়বে এবং সব ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রচারণা অব্যাহত থাকে। টি-পার্টি নামে রক্ষণশীল ব্যক্তিদের একটি তৃণমূল সংগঠন কৌশলী প্রচারণায় নামে দেশজুড়ে। বড় বড় ওষুধ কোম্পানি, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলগুলো সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমার বিরুদ্ধে প্রচারণায় নেমে পড়ে।
এর মধ্যে গত মাসে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে সিনেটের একটি আসনের উপনির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। এর আগে নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায় গভর্নর নির্বাচনে হেরে যান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত প্রয়াত সিনেটর টেড কেনেডির শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিজয়ে পাল্টে যায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আইন প্রণয়ন এখন জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি নিয়ে এখনো ব্যর্থতার দায় বহন করতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ওবামা। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ওবামা বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরেই জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। সাক্ষাত্কারে ওবামা বলেছেন, জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন করে বিতর্ক শুরু না করে কংগ্রেসে গৃহীত প্রস্তাবের আলোকেই স্বাস্থ্যবিমা আইন প্রণয়নে এখনো আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ওবামা। তবে রিপাবলিকানরা বিতর্ক নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছুক। এ ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করাই রিপাবলিকানদের আসল উদ্দেশ্য বলে ডেমোক্র্যাটদের ধারণা।
স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার সর্বশেষ আলোচনা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। সিনেটে রিপাবলিকান দলীয় নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যৌথ আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, কংগ্রেসে পাস হওয়া এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাতিল করলে সমঝোতার পথ সুগম হবে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, কংগ্রেসে গৃহীত প্রস্তাব বাদ দিলেই প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যৌথ আলোচনায় সত্যিকার অথ্যে আগ্রহী বলে মনে করা হবে।

ডেলটা লাইফের ব্রেইল প্রিন্টার অনুদান

ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড তার করপোরেট সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনকে (বার্ডো) একটি ব্রেইল প্রিন্টার অনুদান দিয়েছে। অন্ধ মানুষের সুবিধার্থে এ প্রিন্টার দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বোর্ড রুমে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বার্ডোর পরিচালক সাইদুল হকের কাছে প্রিন্টারটির মূল্য বাবদ চার লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন।
অনুষ্ঠানে ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান এম রওশন আলী, সদস্য নুরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাস দেব প্রসাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চীনে গুঁড়ো দুধে আবার মেলামিন

চীনে গুঁড়ো দুধে আবার মেলামিন পাওয়ায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুগ্ধ খামারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন খামার থেকে মেলামিনযুক্ত প্রায় ৭২ টন গুঁড়ো দুধ আটক করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার চীনের একটি দৈনিক পত্রিকায় দুগ্ধ খামারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, এখনো মেলামিনযুক্ত প্রায় ১০০ টন গুঁড়ো দুধ বাজারে রয়েছে।
চীনে ২০০৮ সালে বিষাক্ত মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ খেয়ে কমপক্ষে ছয়জন শিশু মারা যায়। কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় তিন লাখ শিশু।
মেলামিন একটি রাসায়নিক যৌগ, যা প্লাস্টিকের বিকল্প শিল্প-কারখানায় বা সার হিসেবে ব্যবহূত হয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রোটিনের উচ্চমাত্রা দেখানোর জন্য খাদ্যদ্রব্যে মেলামিন মেশানো হয়।
চীনে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার গুঁড়ো দুধে মেলামিন পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে পুরোনো দুধের কিছু নমুনা ছিল। গুঁড়ো দুধে মেলামিন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও পুরোনো দুধ ধ্বংস করা হয়নি।
নিংজিয়া প্রদেশের স্থানীয় সরকারের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এ প্রদেশের তিয়ানতিয়ান ডেইরি কোম্পানি লিমিটেড মেলামিনযুক্ত ১৭০ টন গুঁড়ো দুধ প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ে।

বিআইবিএমে কাজের মেলা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) ক্যাম্পাসে সম্প্রতি এক ‘জব ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এমবিএম ১২তম ব্যাচ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএম দ্বিতীয় ব্যাচের মোট ৮৭ জন ছাত্রছাত্রী এতে অংশ নেন।
এর আগে ‘বিআইবিএম সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জব ফেয়ারের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। এ মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ।
এ মেলায় প্রিমিয়ার ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন ও উত্তরা ব্যাংক অংশগ্রহণ করে। এসব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করে নিয়োগ প্রদান করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সাল থেকে বিআইবিএম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে এমবিএম ডিগ্রি ও ২০০৬ সাল থেকে সান্ধ্যকালীন এমবিএম ডিগ্রি প্রদান করে আসছে। প্রতিবছরই বিআইবিএম ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।

গ্রাহকদের নিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে আলোচনা সভা

মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড গ্রাহকদের নিয়ে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে ব্যাসেল-২ এর আলোকে ঋণগ্রহীতাদের রেটিংয়ের ওপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী দেওয়ান মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং ক্রেডিট ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাফফর আহমেদ।
এ ছাড়াও সভায় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শহীদুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জলিল চৌধুরী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মনীন্দ্র কুমার নাথ এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলফা এগ্রো কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে

আলফা এগ্রো লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নীলফামারীতে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ভাইরাসমুক্ত আলুবীজ উত্পাদন করছে। এখন তারা নীলফামারীতে আলুবীজ সংরক্ষণে একটি হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করতে চায়।
নীলফামারী প্রেসক্লাবে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আলফা এগ্রো লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক এ এফ এম বদিউজ্জামান তাঁদের এ পরিকল্পনার কথা জানান।
এদিন সাংবাদিকদের জেলার ডোমার উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া ও দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা গ্রামে বিভিন্ন জাতের আলুবীজ ও টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে জালের ভেতর জীবাণুমুক্ত আলুবীজ উত্পাদন প্রকল্প দেখানোর পরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে তাঁরা ডোমার উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া ও দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা গ্রামে আলফা এগ্রোর প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুবীজ এবং প্রায় তিন একর জমিতে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে আলুবীজ উত্পাদন করছেন।
এদিকে আলফা এগ্রোর দেখাদেখি ও তাদের পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক মানুষও এখন আলুর আবাদ করছেন।
আলফা এগ্রোর কর্মকর্তারা এবং ডাঙ্গাপাড়া ও দেবীডুবা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিতে পানি ধারণের ক্ষমতা কম থাকায় এত দিন সেখানে চাষাবাদ কম হতো। সেখানকার কৃষকেরা পাট ও আমন ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও আশানুরূপ ফলন পেতেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় চার বছর আগে আলফা এগ্রো সেখানে আলুবীজ উত্পাদন শুরু করে। এতে একদিকে যেমন জমির লিজমূল্য বেড়েছে, অন্যদিকে এলাকার জনগণেরও কাজের সংস্থান হয়েছে।
দেবীডুবা গ্রামের কৃষক দুর্লভ চন্দ্র জানান, তাঁর ২০ বিঘা জমি আলফা এগ্রোর কাছে এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছেন। আগে যেখানে এক বিঘা জমি বছরে মাত্র ৫০০ টাকাতেও কেউ লিজ নিতে চাইত না, সেখানে এখন তা পাঁচ হাজার টাকায় উঠেছে। এভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই।
আলফা এগ্রোর এ প্রকল্পের কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, জীবাণুমুক্ত আলুবীজ উত্পাদনের জন্য নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার আবহাওয়া খুবই উপযোগী।
বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা মঞ্জু আলম সরকার জানান, আলফা এগ্রো এখন পর্যন্ত তাদের ছত্রাকনাশক ও মাঠের যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার তা তারা পালন করছে। তবে একটি গাছেও যদি ভাইরাস পাওয়া যায় তাহলে ওই বীজের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক কে এম নাসিরউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত আলুবীজ পাওয়া যায়। এজন্য এ অঞ্চলটি দেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী।

গ্রামীণফোনের শেয়ার কিনতে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বন্ধ

গ্রামীণফোনের শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বা নিটিং ফ্যাসিলিটিস দেওয়া হবে না। অর্থাত্ বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়ার আগে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে গ্রামীণফোনের শেয়ার কিনতে পারবেন না। তবে গ্রামীণফোনের শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়ার আগে অন্য কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সই করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ধারা ২০-এর ক্ষমতাবলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনের বিপরীতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আর্থিক সমন্বয় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি হতে শ্রেণীভেদে সর্বোচ্চ চার থেকে ১০ দিন সময় লাগে। সাধারণত কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা হলে বিক্রিলব্ধ টাকা গ্রাহকের হিসাবে আসতে এ পরিমাণ সময় লেগে যায়। কিন্তু লেনদেনের সুবিধার্থে বর্তমানে গ্রাহকেরা শেয়ার বিক্রির টাকা তাঁদের হিসাবে আসার আগেই সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ সুযোগকেই শেয়ারবাজারের পরিভাষায় আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বা নেটিং নামে পরিচিত। গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এসইসি এ সুবিধাই বাতিল করেছে।
যোগাযোগ করা হলে জিয়াউল হক খোন্দকার বলেন, ‘গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম এক টাকা বাড়লে সূচক বাড়ে প্রায় তিন দশমিক ৮০ পয়েন্টের মতো। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম একটু বেশি বাড়লেই পুরো বাজারের সূচক প্রভাবিত হয়। তাই বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি টেলিযোগাযোগ খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারের লেনদেনের পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে এসইসি। ওই কমিটি শেয়ারটির লেনদেনে বেশ কিছু সন্দেহজনক উপাদানের সন্ধান পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে এসইসির সদস্য মনসুর আলম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু সন্দেহজনক বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। সেগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ারের গত রোববারের সমাপনী মূল্য ছিল ২৯২ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু গতকাল তা সর্বোচ্চ প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ৩১২ টাকা পর্যন্ত ওঠে। অবশ্য দিনশেষে আগের দিনের চেয়ে ১৮ টাকা বেড়ে লেনদেনের সমাপ্তি ঘটে। এ কারণে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়েছে ৬৩ পয়েন্টের বেশি। গতকাল গ্রামীণফোনের ১৬৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশের মতো।

ব্রেট লির শঙ্কা

ইনজুরি যেভাবে ভোগাচ্ছে, তাতে বল হাতে মাঠে আর না-ও দেখা যেতে পারে ব্রেট লিকে! লির ভবিষ্যত্ শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটেই—অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের কোচ টিম নিলসেনের এই মন্তব্যের পরই ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন টেস্টে ৩১০ ও ওয়ানডেতে ৩২৪ উইকেটের মালিক লিও, ‘আমার ক্রিকেট যেভাবে চলছে তাতে সবকিছুই সম্ভব। হয়তো আমি ওয়ানডে খেলব অথবা কোনো ক্রিকেটই খেলব না।’ ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে ১২ বার ইনজুরিতে পড়েছেন ব্রেট লি।

জয় দিয়ে ফিরলেন রবিনহো

দারুণ এক গোল আর জয় দিয়েই সান্তোসে ফেরাটা উদ্যাপন করলেন রবিনহো। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ছয় মাসের ধারে আসা ব্রাজিলীয় এই স্ট্রাইকারের গোলেই পলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপে পরশু সান্তোস ২-১ গোলে জিতেছে সাও পাওলোর বিপক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা রবিনহো ম্যাচ শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে ব্যাক হিলে করেন জয়সূচক গোল। ‘দল জিতেছে আর আমি গোল করেছি—শুরুটা ভালোই হয়েছে’—সান্তোসে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্সে খুশি রবিনহো।

মালিকই অধিনায়ক, আকমল বাদ

এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে, তা অনুমিতই ছিল। উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে রান পাচ্ছেন না, পেছনে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ছাড়ছেন সমানে। অস্ট্রেলিয়া সফরে উইকেটের সামনে-পেছনে জঘন্য পারফরম্যান্সের মাশুল দিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন কামরান আকমল। আর শহিদ আফ্রিদি দলে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া শোয়েব মালিককেই রেখে দেওয়া হয়েছে অধিনায়ক। দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না কোচ ইন্তিখাব আলমও, তবে বরখাস্ত বা সরিয়ে দেওয়া হয়নি তাঁকে। অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতায় গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য পাকিস্তানেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে দুবাইয়ে

প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি মিজানুর-রাসিউল

গত গেমসের সোনাজয়ী মিজানুর রহমানকে ঘিরেই আশা ছিল বেশি। তায়কোয়ান্দোতে সেই আশার আলো আরও উজ্জ্বল করেছিলেন শারমিন ফারজানা ও শাম্মী আক্তারের সোনা জয়। অথচ মিজানুরই পারেননি! সোনা তো দূরের কথা, কোনো পদকই এনে দিতে পারেননি তিনি। তবে ৮৭ কেজি ঊর্ধ্ব ওজন শ্রেণীতে রাসেল কবির এবং মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৫৭ কেজি ওজন শ্রেণীতে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছেন শাহারাবুনী বিশ্বাস।
যাঁকে ঘিরে সোনার আশা আবর্তিত হচ্ছিল কাল, সেই মিজানুর বাদ পড়েছেন প্রথম রাউন্ড থেকেই। কেন এমন হলো? ‘আসলে সবার সব দিন সমান যায় না। আজ (গতকাল) দিনটি আমার খুব বাজে গেছে’—বলেছেন মিজানুর। রাসেল কবির যে ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন, পুরুষদের সেই ৮৭ কেজি ঊর্ধ্ব ওজন শ্রেণীতে ভারতের সন্দীপ কুন্ডু জিতেছেন সোনা। আর রুপা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার রবীন্দ্র রাজাপক্ষে, ব্রোঞ্জ পাকিস্তানের শাহ আদিলের।
শাহারাবুনীর ইভেন্টের সোনা গেছে শ্রীলঙ্কার ফাতিমা কেশিয়ার অধিকারে। রুপা পেয়েছেন নেপালের মানিতা শাহি। শাহারাবুনীর সঙ্গে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতের সৃষ্টি সিং।

এক দিনে তিন সেঞ্চুরি

নিজেকে আমি অলরাউন্ডারই ভাবি। কিন্তু এত পরে নামি যে ব্যাটিংয়ের সুযোগ সেভাবে পাই না। কোচ-অধিনায়ক ওপেন করার কথা বলতেই তাই লুফে নিলাম। ভাবলাম এটাই সুযোগ’—সেই সুযোগটা কি দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন সোহরাওয়ার্দী শুভ!
মূলত বাঁহাতি স্পিনার, তবে ব্যাটিংটাও খারাপ করেন না। সোহরাওয়ার্দী শুভকে এভাবেই চেনে সবাই। কিন্তু তিনি নিজেকে ভাবেন অলরাউন্ডার। শুধু ভাবলেই তো হবে না, মাঠে প্রমাণও করতে হবে। সুযোগ পেয়ে সেটাই করে দেখালেন কাল। রাজশাহীর হয়ে ওপেন করতে নেমে ব্যাটিং করলেন সারা দিন, দিন শেষে নামের পাশে অপরাজিত ১৪২! প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। কাল জাতীয় লিগের পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করেছেন আরও দুজন, দুজনই খুলনার ব্যাটসম্যান—তুষার ইমরান ও হাবিবুল বাশার। এই দুই ম্যাচের উল্টো চিত্র ঢাকা-সিলেট ম্যাচে, এক দিনেই উইকেট পড়েছে ১৯টি!
বগুড়ায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেটের প্রথম সাত বাটসম্যানের ছয়জনই দুই অঙ্কে পা দিয়েছেন, কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। সর্বোচ্চ ৩২ অধিনায়ক রাজিন সালেহর, ৪ উইকেট নিয়েছেন ঢাকার বাঁহাতি স্পিনার মোশারফ হোসেন। অবশ্য ১৭২ রান করেও নাসির হোসেন (৫/২৮) ও মাইসুকুর রহমানের (৪/১৮) বোলিংয়ে মোটামুটি বড় লিড নেওয়ার পথে সিলেট। ৬২ রানেই ৯ উইকেট হারিয়েছিল ঢাকা। শেষ উইকেটে ইনিংসের সবচেয়ে বড় অবিচ্ছিন্ন ২৮ রানের জুটি গড়ে দিনটা পার করেছেন মোশারফ ও তালহা। ঢাকার স্কোরবোর্ডে তখন ৯ উইকেটে ৯০ রান।
খুলনায় রাজশাহীও ব্যাটিং পেয়েছিল টস হেরে। জহুরুলের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে সোহরাওয়ার্দী তোলেন ৫৫ রান। মিডল-অর্ডারে কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ১৫৩ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজশাহী। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ধীমান ঘোষের সঙ্গে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন সোহরাওয়ার্দী। ২৫৪ বলের ইনিংসে সোহরাওয়ার্দী মেরেছেন ২০টি চার আর একটি ছক্কা। দিন শেষে রাজশাহীর স্কোর ৬ উইকেটে ২৯৯ রান।
রাজশাহীতে খুলনার ব্যাটিং পাওয়াও টস হেরে। আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, ৪৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল খুলনা। চতুর্থ উইকেটে ১৮৬ রানের জুটি গড়েন তুষার ও হাবিবুল। বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন হাবিবুল, ১০৩ রান করেছেন ১২৯ বলে। তুষারের ১০৯ এসেছে ২৩৩ বলে। ১৯টি করে চার মেরেছেন দুজনেই, তুষারের আছে একটি ছয়। দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩২৩ রান খুলনার।

এক নম্বরে বিধ্বস্ত এক নম্বর

৩.৪-২-১-৫, চা-বিরতির পর ডেল স্টেইনের বোলিং বিশ্লেষণ। আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল পুড়ে ছারখার হয়ে গেল র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলারের আগুনে। ৪ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যাওয়া ভারত অলআউট ২৩৩ রানেই। ফলো অনের পর আবার ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আউট দুই ওপেনার। মুরালি বিজয় ও শচীন টেন্ডুলকারের শেষ বিকেলের দৃঢ়তায় কাল আর কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট হারের শঙ্কা তাতে দূর হয়নি, দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতেই প্রয়োজন এখনো ২৫৯ রান।
মরনে মরকেলের করা দিনের প্রথম বলেই আউট গৌতম গম্ভীর। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার নিজের দ্বিতীয় বলেই গম্ভীরকে আউট করেছেন মরকেল। সারা দিনে মরকেলের তিন বলে শূন্য রান, দুবার আউট গম্ভীর। কাল চা-বিরতির আগে অবশ্য এমন কিছু ভাবাও যায়নি। ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অভিষিক্ত এস বদ্রিনাথকে নিয়ে ১৩৬ রানের জুটি গড়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। কাল শেবাগ ছিলেন অনেক সাবধানী, অফ স্টাম্পের বাইরের বলে লোভ সামলেছেন অনেকবার। ১৩৪ বলে সেঞ্চুরি করার পরপরই অবশ্য আউট হয়েছেন দৃষ্টিকটুভাবে, অফ স্টাম্পের বাইরে প্রায় ওয়াইড একটি বল তাড়া করে। চা-বিরতির পর তো স্টেইনের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে তছনছ ভারতের ইনিংস।

নড়বড়ে মঞ্চই ফেলে দিল সোনা by বদিউজজ্জান

বিকেএসপির লেকের দক্ষিণ পাড়ে উপচে পড়া ভিড়। সবার মনোযোগের কেন্দ্র পানির ওপরে বেলুন দিয়ে সাজানো মঞ্চ। এক কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে মধ্যবয়সী এক মা। চোখে-মুখেও চাপা উত্কণ্ঠা। গতকাল সকালেই ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া থেকে ঢাকায় এসেছেন ছেলের খেলা দেখবেন বলে। কোন খেলা, কিসের খেলা সেসব ততটা বোঝেন না। শুধু বোঝেন, ছেলে তাঁর অনেক ভালো খেলে। সবাই প্রশংসা করে ছেলের। কিন্তু কাল খেলা শেষে সেই ছেলের শুকনো মুখ দেখেই যা বোঝার বুঝে ফেলেন মা। আর্চারিতে পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ বো ইভেন্টের ফাইনালে পারলেন না বাংলাদেশের সজীব শেখ। ভারতের তরুণদীপ রায়ের কাছে মাত্র ২ পয়েন্টে হেরে গেলেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য রুপাই কম কিসে? যেখানে ভারতের রাহুল ব্যানার্জি, মঙ্গল সিং, জয়ন্ত তালুকদারদের মতো শীর্ষ সারির খেলোয়াড়েরা খেলছেন, সেখানে নবম শ্রেণীর ১৬ বছরের এই কিশোর যে লড়াইটা করলেন সেটাই তো অনেক! সজীব একবার এগোন তো, তরুণদীপ আরেকবার। স্কোরবোর্ডই সেই কথা বলছিল—শেষ রাউন্ডে সজীব করেন ৮, ৯ ও ৯। অনেকেই উত্তেজনায় নখ কামড়াচ্ছিল। বাংলাদেশ রাইফেলসের বাদক দল থামিয়ে দিয়েছে ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে...’ বাদ্য। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ৯, ৯ ও ১০ করে শেষ হাসি হাসলেন তরুণদীপ। এমন ফল আশা করেননি সজীব। খেলা শেষে হারের জন্য দোষ দিলেন পানির ওপরে তৈরি ভাসমান কাঠের মঞ্চটাকে। তীরের দিকে নজর দেবেন, নাকি পায়ের নিচে কাঠের নড়াচড়া সামলাবেন?
এক দিন আগে সজীব এই বিকেএসপির মাঠেই স্কোর করেছিলেন ১১০। নিয়মিত এই স্কোর করেছেন প্র্যাকটিসেও। কিন্তু পানির ওপরে করলেন মাত্র ১০৬! খেলা শেষে তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘কী বলব ভাই? পেছন থেকে বারবার হাঁটা-চলা করে মানুষ। ঠিকমতো মনোযোগই দিতে পারছিলাম না।’
ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা হাতছাড়া হলেও দলীয় ইভেন্টে ইমদাদুল হক, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর আলম যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কলকাতায় গ্রাঁ প্রিঁতে সোনা জিতেছেন সাজ্জাদ, বালিতে অনুষ্ঠিত যুব কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছেন ইমদাদও। কিন্তু পানির ওপর তৈরি ওই মঞ্চে তাঁরাও গড়বড় করে ফেললেন। ভারতের কাছে রিকার্ভ বোর দলগত ইভেন্টের ফাইনালেও হারল বাংলাদেশ। ভারতের পয়েন্ট ২১১, বাংলাদেশের ২০৪। সজীবের মতো ইমদাদও রুপা জেতার জন্য দায়ী করলেন নড়বড়ে মঞ্চকেই।
কাল এই দুটি ইভেন্ট ছাড়াও মেয়েদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে রিকার্ভ বোয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশের মাথুই প্রু মারমা। এই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন ভারতের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দোলা ব্যানার্জি। রুপাও গেছে ভারতে, জিতেছেন বোম্বালি দেবী। দীপিকা, বোম্বালি ও রিমিলিদের ভারত সোনা জিতেছে মেয়েদের দলগত ইভেন্টেও

যেখানে শুধুই হাহাকার

এগারোতম দক্ষিণ এশীয় গেমস (এসএ) বাংলাদেশকে অনেক কিছুই দিয়েছে। এই গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সোনার পদক এসেছে এবারই। হয়েছে কিছু ভেন্যুর উন্নয়ন। তবে খেরোখাতা নিয়ে বসলে অ্যাথলেটিকসের ঘরটাতে শুধুই হাহাকারের চিহ্ন। কাল শেষ দিনেও সেখানে কেবলই শূন্যতা ও হতাশার ছবি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল নিষ্পত্তি হয়েছে ৭টি সোনার লড়াই। বাংলাদেশের অর্জন কেবল একটি ব্রোঞ্জ। সেটি মেয়েদের ৪১০০ মিটারে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত গেমসে দ্রুততম মানব হয়েছিলেন বিমল তরফদার। ১৭ বছর পর বাংলাদেশের আরেকটা গেমসের সেরা ইভেন্টটি উচ্ছ্বাসহীন। সবাই আগে থেকেই জানত ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশের কোনো আশা নেই। না মেয়েদের বিভাগে, না ছেলেদেরটায়। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষও হলো চিত্রনাট্য অনুসরণ করে।
কাল সাতটি ইভেন্টের একটিকে ঘিরে আশার সলতে জ্বেলেছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের সেই হাই জাম্পেও হতাশার গল্প। সজীব হোসেন অবশ্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। লাফিয়েছিলেন ক্যারিয়ার-সেরা ২.১০ মিটার। এর পরও তিনি চতুর্থ। এই ইভেন্টে সোনা ও রুপা গেছে ভারতের হরিশঙ্কর রায় (২.১৬ মিটার) ও নিখিল চিতারাশুর অধিকারে (২.১৩ মিটার)। ব্রোঞ্জজয়ী শ্রীলঙ্কার নালিন প্রিয়ান্থা।
হাই জাম্পের মতো আরও দুটি ইভেন্টে চতুর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মেয়েদের লং জাম্প, ছেলেদের ৪১০০ মিটার রিলে। মেয়েদের লং জাম্পের সোনা শ্রীলঙ্কার। ভারত জিতেছে রুপা ও ব্রোঞ্জ। ছেলেদের ৫ হাজার মিটারের সোনা ও রুপা ভারতের। ব্রোঞ্জ শ্রীলঙ্কার। মেয়েদের ৪১০০ রিলের সোনা ও রুপা পেয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আর ছেলেদের ৪১০০ রিলেতে সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান।

হাসিতে রইল প্রতিজ্ঞাও

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জুয়েল আহমেদ সতীর্থদের কাছে বায়না ধরলেন একটা বড়সড় জাতীয় পতাকা এনে দেওয়ার। ওটায় শরীর জড়িয়েই পদকটা নিতে চান। তাই হয় নাকি? আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বলে তো একটা কথা আছে! পতাকাটা ফিরিয়ে দিতে হলো। ওটা বুকের ক্যানভাসে এঁকেই যে একের পর এক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে সোনা জিতেছেন। এতে মন হয়তো দমে গেল। তবে রাজশাহীর শিরোইল কলোনির ছেলেটির আকাঙ্ক্ষাটা অদম্য। সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার জয়াসুন্দারাকে হারানোর পরই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন ফাইনালে নেপালের অজিত গুরুং কিছুতেই পারবে না।
জয়ের পর সতীর্থদের উল্লাস, দর্শকের বাঁধভাঙা আনন্দের মধ্যেও বাবা-মাকে ফোন করেছেন। খবরটা জানানোর ‘দায়িত্ব পর্ব’ সেরে নিয়েছেন রাজশাহীতে থাকা ‘খুব কাছের একজনকে’ ফোন করেও। তাঁর মুখের হাসিতে মিশেছে দেশকে গর্বের একটি মুহূর্ত উপহার দিতে পারার আনন্দ। রাজশাহীর মডার্ন বক্সিং ক্লাবের কোচ শফিউল আজমের হাত ধরে উঠে আসা জুয়েল তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে সোনার পদকটি উত্সর্গ করলেন দেশবাসীকে। গরিব বাবা বাঁশের ব্যবসা করে সংসার চালান। বক্সিং দিয়েই আনসারে চাকরি পেয়েছেন, বেতন মাত্র হাজার পাঁচেক। এখন আশা, এই সাফল্য তাঁর চাকরিতেও উন্নতি আনবে। লেখাপড়া মাত্র অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। এটা একটা বড় দুঃখ। তবে এখন আর দুঃখ নেই। দেশকে গর্বের হাসি উপহার দিতে পেরেছেন। আর যাঁদের অবদানে আজকের এই কীর্তি সেই কোচ কাজী শাহাদাত, আবদুল মান্নান, আতিয়ার রহমানের কাছে তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। থাই কোচ খান তা ওয়ানের অবদানও অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ।
যশোরের নওদা গ্রামের ২২ বছর বয়সী আবদুর রহিমও গরিব ঘরের সন্তান। বাবা লিয়াকত আলী স্বাস্থ্য বিভাগের সামান্য চাকরিজীবী, মা গৃহিণী। তাঁর প্রথম কোচ ঝিনাইদহের আহম্মেদ আল ফারুক বললেন, ‘ও ছিল প্রকৃতি দত্ত প্রতিভা। সেই ছোটবেলা থেকেই জানতাম, সুযোগ পেলে ও একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।’ পাশে দাঁড়ানো রহিমের মুখে তখন একটা অপার্থিব আলো। তাতে একটা চ্যালেঞ্জ জয়েরও আনন্দ, ‘গত জুলাইতে যখন ইতালিতে বিশ্ব বক্সিং শেষে দেশে ফিরে আসি, অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কেন ফিরলাম, এ দেশে বক্সিং করে কী পাব...ইত্যাদি ইত্যাদি। তখনই প্রতিজ্ঞা করি এসএ গেমসে সোনা জিতে দেখাব ভুল করিনি। আমি দেখিয়ে দিয়েছি।’ ওই ইতালি-কাণ্ড বক্সিং ফেডারেশনের জন্যও ছিল লজ্জার। নাদিম হোসেন ‘পথ হারিয়ে ফেলায়’ বেশ কদিন দেরি করে ফিরেছিলেন। দুজন কর্মকর্তা আর ফিরলেনই না। ‘লজ্জা’ ঘুচিয়ে দিলেন জুয়েল ও রহিম। সেনাবাহিনীতে খুব ছোট পদে চাকরি করা রহিম তো করলেন প্রতিজ্ঞা পূরণ। এখন বিস্তৃত স্বপ্নের সীমানায় দাঁড়িয়ে ওঁরা তাই নিজেদের শাণিত করছেন নতুন প্রতিজ্ঞায়, ‘সামনে কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমসেও কিছু করতে চাই।’