Friday, July 25, 2014
বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ -বিবিসিকে সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী

বিবিসি: ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর বৃটিশ সরকার, মার্কিন সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারা এটা নিয়ে আপত্তি করেছে। তারা বলেছে- এটা ভাল ইলেকশন হয় নি। এতে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করে নি। ১৫৩টা আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একটি আলোচনা হওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে সেটার একটা রূপরেখা তৈরি করা উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক হয়। সেই ইলেকশনের পরে আপনার ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। আলোচনার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কেন?
প্রধানমন্ত্রী: আমি একটা জিনিস বুঝি না যে, সবাই আলোচনা আলোচনা নিয়ে এত ব্যস্ত কেন। কারণ আমি বলি- আলোচনার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নিজে টেলিফোন করেছিলাম এবং সেই টেলিফোন করার পর যেটা হয়েছে সেটা সবাই জানে। এখন কোন একটা দল যদি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে ভুল করে তার দায়দায়িত্ব কার? ইলেকশন হবে। সংবিধানে সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ। মেয়াদ শেষে নির্বাচন হবে সবাই জানে। এখন সেই নির্বাচন ঠেকাবার জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা, বাস-ট্রেন, সিএনজি, রিকশা পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করা। প্রায় ৫৮০টার মতো স্কুল পুড়িয়ে দিলো। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করলো। কেন? নির্বাচনে না এসে অর্থাৎ গণতন্ত্রের পথে না থেকে অগণতান্ত্রিক পথ করে দেয়ার রাস্তা করে দেয়ার রাস্তাটা- এটা কি একটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সেটা করলো। করলো কেন? জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন করতে পারবে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে সেটা তারা পূরণ করতে পারে নি। নিবন্ধিত দল না হলে ইলেকশন করতে পারবে না। যেহেতু জামায়াত ইলেকশন করবে না, সেহেতু বিএনপি ইলেকশন করবে না, করে নি। এখন এই দায়িত্বটা কে নেবে?
বিবিসি: এটা তো ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন। আমরা বলতে চাইছি আগামী নির্বাচনের কথা?
প্রধানমন্ত্রী: আমি আসছি সেখানে। জামায়াত তো এখনও নিবন্ধন পায় নি। তারা নিবন্ধিত হয় নি। যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াত না হবে ততদিন বিএনপি জামায়াত ছাড়া ইলেকশন করবেই না। ইলেকশন হয়ে গেছে তারা পার্লামেন্টেও নেই। কিন্তু একটা কথা তো স্বীকার করতে হবে যে, বহু বছর পরে পার্লামেন্টে এখন যে অপজিশন আছে, অন্ততপক্ষে তারা পার্লামেন্টে থাকে। আর পার্লামেন্টে এখন গালমন্দ, অকথ্য ভাষায় কথা বলা এই সব অসভ্যতা এখন আর পার্লামেন্টে নেই। এ সময় বিবিসি বলে, জাতীয় পার্টি তো আর বিরোধী দল নয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই। এ এক্সাম্পল আমরা সৃষ্টি করেছি। পৃথিবীর বহু দেশে আছে। হ্যাঁ আমি চেয়েছি যে, অপজিশন বা অন্য দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন করেছি। কেন করেছি? আমার একটাই উদ্দেশ্য। দেশে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। পার্লামেন্টটা ভালভাবে কার্যকর থাকবে। এখন আমরা দেশের অর্থনেতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারবো সকলের সহযোগিতাটা নিয়ে। বিএনপি পার্লামেন্টে থাক আর না থাক এতে কিছু আসে যায় না। কারণ, তারা তো পার্লামেন্টে থাকেই নাই। লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে খালেদা জিয়া, উনি যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, উনি পার্লামেন্টে কতদিন ছিলেন। ৪১৮টা কার্যদিবস ছিল। উনি মাত্র ১০ দিন পার্লামেন্টে ছিলেন। মাত্র ১০ দিন। তো তার জন্য এত আহাজারি কেন? ওরা ইলেকশন করলেতো পার্লামেন্টের সময় পার্লামেন্টই থাকবে না। তো তাদের জন্য এত হাহাকার কেন। আরেকটা প্রশ্ন আমার- বিএনপি সরকারের দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ প্রীতি, গ্রেনেড মেরে আমাকেও হত্যার চেষ্টা আমাদের সংসদ সদস্য, আমাদের অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা- এই যে ঘটনাগুলি তারা...।
বিবিসি: এসব ঘটনায় আপনার পরিকল্পনা কি?
প্রধানমন্ত্রী: নো নো। আমাকে শেষ করতে দিতে হবে। প্রশ্ন যখন এসেছে আমি উত্তরটা দিতে চাই।
বিবিসি: উত্তর তো আপনি দিচ্ছেন না।
প্রধানমন্ত্রী: নো। উত্তর তো আমি দিচ্ছি।
বিবিসি: আপনি পুরনো ইতিহাস বলছেন।
প্রধানমন্ত্রী: নো। পুরনো ইতিহাস বলছি না।
বিবিসি: প্রশ্ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী: নো। আমি পুরনো ইতিহাস বলছি না। আমি যেটা বলছি প্রাকটিক্যাল বলছি। বাস্তবসম্মত বলছি। এই যে ঘটনাগুলি যারা ঘটিয়েছে তারা ইলেকশনে আসলো না। তার জন্য সকলের এত কান্নাকাটি কেন এটা তো আমার কাছে বোধগম্য নয়। একটা রাজনৈতিক দল যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে সেটা তার ভুল। সে ভুলের মাশুল তো তাদেরই দিতে হবে। আমরা ইলেকশন করেছি, সরকার গঠন করেছি, পার্লামেন্ট চলছে, এখনকার পার্লামেন্টে অপজিশন আছে। কথা বলছে। তারা বিরোধী দল হিসেবে যেভাবে কথা বলা উচিত তাও তারা বলছে। সরকারে থাকলেও তারা সেটা পালন করে যাচ্ছে। একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, জামায়াতে ইসলামের অধিকাংশ নেতা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হচ্ছে এখন। সেই জামায়াতের নেতাদের বাঁচাবার জন্য মানুষ হত্যা করছে। এখন তাদের আনার জন্য আমাদেরকে যেয়ে তাদেরকে একেবারে আহ্বান করতে হবে, আমন্ত্রণ জানাতে হবে- কেন এ প্রশ্ন আসে বার বার? কেন? তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার নেই, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার নাই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার নাই। যারা এগুলো করবে তারাই ইমপর্টেন্ট পার্টি।
বিবিসি: তাহলে আপনি বলছেন যে, আগামী নির্বাচন, যে পদ্ধতিতে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, আগামী নির্বাচন সেই পদ্ধতিতেই হবে? এবং এখানে আপনি কোন আলোচনার দিকে যাবেন না?
প্রধানমন্ত্রী: এখানে পদ্ধতির সমস্যাটা কোথায়! একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইলেকশনটা হচ্ছে। তাহলে কি আবার মিলিটারি ডিকটেটর আসতে হবে? আবার অগণতান্ত্রিক সরকার আসতে হবে? অসাংবিধানিক সরকার আসতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ তা চায় না। একটা শ্রেণী ওই মারামারি, কাটাকাটি, ওই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস, বাংলাভাই- এগুলো যারা করেছে তাদের জন্য কেঁদে মরে যাচ্ছে। কেন?
বিবিসি: বিএনপির অভিযোগ হচ্ছে যে, আপনি বিএনপি দলটাকে কোণঠাসা করে দিয়ে দেশে এক ধরনের একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চাচ্ছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন মতবাদ এক্সিস্ট করবে না। আপনি এ অভিযোগের কি জবাব দেবেন?
প্রধানমন্ত্রী: জবাবে এটাই বলবো এই বিবিসিতে যখন বিএনপির কোন নেতা কথা বলেন আমরা এসে কি তার গলা টিপে ধরি? বা টেলিভিশনে, আমি তো বেসরকারি খাতে টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছি, এখন ২৭টা বেসরকারি টেলিভিশন চলছে। প্রতি রাতে বিএনপির নেতারা সেখানে গিয়ে কথা বলছেন। তাদের কাজই হচ্ছে মাইক একটা লাগিয়ে সারাক্ষণ টেলিভিশনের সামনে বসে থাকে। দৈনিক অন্তত ৫ জন তারা কথা বলে যাচ্ছেন এবং সরকারকেই গালি দিচ্ছেন। আমাকে গালি দিচ্ছেন। দিয়েই যাচ্ছেন। দিয়েই যাচ্ছেন। আমরা কি তাদের মুখটা বন্ধ করে দিয়েছি স্কচ টেপ মেরে। তাতো দিইনি। তারা তো বলেই যাচ্ছেন। তারা কথা বলেই বলবে আমাদেরকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। এটা কোন ধরনের কথা।
বিবিসি: বাক স্বাধীনতা নিয়ে একটা সঙ্কট তৈরি হয়েছে- এটা অস্বীকার করা যায় না। কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম খুলনায় একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, তার নামে অভিযোগ করা হলো যে, তিনি আপনার নামে কটূক্তি করেছেন। রাষ্ট্রপতির নামে কটূক্তি করেছেন এবং তাকে ৭ দিন জেলে থাকতে হয়েছে। পরে পুলিশ দেখলো যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু একটা কথা বলার জন্য একজন শিক্ষককে কেন ৭ দিন জেলে থাকতে হবে?
প্রধানমন্ত্রী: কেউ যদি মামলা করে তাহলে আইন তার আপন গতিতে চলতে হয়। তার গতিতে চলবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে কিনা তারও পরে সেটা দেখা যাবে। কাউকে গালি দেয়াটা কি বাক স্বাধীনতা? খারাপ কথা বললে, নোংরা কথা বললে, ফিলদি কথা বললে- এটা হলো বাক স্বাধীনতা। খুব ভাল!
বিবিসি: সামাজিকভাবে ওইটা নিরুৎসাহিত করা এক জিনিস। আর একজনকে ৭ দিন জেলে ভরা এটা আরেক জিনিস। একজনকে জেলে যেতে হবে কেন?
প্রধানমন্ত্রী: জেলে যেতে হবে যদি সে অন্যায় করে তাহলে তো তাকে জেলে যেতে হবে।
বিবিসি: তার তো বিচারই হয়নি তার আগে তাকে জেলে যেতে হয়েছে। ৭ দিন জেল খেটেছে।
প্রধানমন্ত্রী: কেস হলে সব সময় এরেস্ট হয়। এখানে আমাদের কি করার আছে।
বিবিসি: জামায়াত প্রসঙ্গে আসি। আপনি বলছিলেন, নির্বাচনের পরে আপনি যে প্রেস কনফারেন্স করেছিলেন সেখানে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার জন্য। জামায়াতের প্রতি আপনার সরকারের মনোভাব কি? কোন কোন মন্ত্রী বলেন যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু নিষিদ্ধকরণের কোন প্রক্রিয়া নেই। জামায়াতকে নিয়ে আপনি কি করতে চান? এ বিষয়ে আপনার মনোভাবটা কি?
প্রধানমন্ত্রী: আপনি জানেন যে কোর্টে কেস পেন্ডিং আছে। কোর্ট ভারডিক্ট না দেয়া পর্যন্ত এখানে আমাদের কিছু করার আছে বলে আমি মনে করি না। আমি তো আগেই বললাম যে, যুদ্ধাপরধী হিসেবে তাদের বিচার হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সারা বাংলাদেশীর যে মনোভাব আমারও সেই মনোভাব। যেসব অপকর্ম তারা করে গেছে তার বিচার, এটা তো দেশের জনগণের দাবি। সেই বিচার হচ্ছে। বিচার চলছে বিচার চলবে। বিচারের রায়ও আমরা দিতে শুরু করেছি। এখানে আমার মনোভাব নতুন করে বলার তো কিছু থাকে না।
বিবিসি: জামায়াত নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে আপনার কোন...।
প্রধানমন্ত্রী: হাইকোর্টে কেস আছে। কেসের ভারডিক্ট না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিবিসি: যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও অনেকের মনে শঙ্কা জেগেছে। কারণ, ২০১৩ সালে আমরা দেখলাম যে, অনেক কেস সম্পন্ন হলো। দোষী সাব্যস্ত হলো। এক জনের ফাঁসিও হলো। কিন্তু গত ৬ মাসে এরকম কোন কিছু হয়নি এবং অন্তত একটি মামলার রায় চার মাস ধরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার রায় বেশ কিছুদিন হলো অপেক্ষমাণ রয়েছে। তো অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের যে আগ্রহ ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩ সালে দেখা গিয়েছিল, সেই আগ্রহে একটা ভাটা পড়েছে। আপনি এ অভিযোগের কি জবাব দেবেন?
প্রধানমন্ত্রী: কেস যখন কোর্টে চলে যায় তখন সরকারের কিছু করার থাকে না। এটা সম্পূর্ণ কোর্টের এক্তিয়ার। আমরা যখন মামলার রায় কার্যকর করতে শুরু করি, মামলার রায় পেলেই কার্যকর করার দায়িত্বটা আসে।
বিবিসি: তাহলে আপনার সরকারের যে কমিটমেন্ট এই বিচার...।
প্রধানমন্ত্রী: আমরা করছি, করবো।
বিবিসি: বিচার প্রক্রিয়াটাকে চালিয়ে যাওয়ার। এরকম কোন কমিটমেন্টের কোন হেরফের হচ্ছে না?
প্রধানমন্ত্রী: প্রশ্নই ওঠে না। আমি যদি আবার ক্ষমতায় ফিরে না আসতাম বা আমি যদি সরকারে না থাকতাম- আমাকে বলেন, বাংলাদেশে কার সাহস ছিল এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এবং তাদের শাস্তি দেয়। কেউ পারতো? কেউ পারবে? ভবিষ্যতে পারবে? আসেন দেখান! কারও সেই সাহস হয় কিনা। আমি এটা জোর গলায় বলতে পারি। করলে আমিই করবো। আমাদের গভর্নমেন্টই করবে। আর কেউ পারবে না। করে নাই। কে করেছে?
বিবিসি: আরেক পার্টি নিয়ে আলাপ করা দরকার। সেটা হচ্ছে, ঠিক রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা সামহাউ যুক্ত হয়ে গিয়েছিল তারা গত বছর। তারা হলো হেফাজতে ইসলাম। এমনকি তারা সরকার উৎখাতেরও হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু এখন আপনার দল বা আপনার সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সম্পর্কটা কি রকম?
প্রধানমন্ত্রী: আমাদের সঙ্গে সবার ভাল সম্পর্ক। যদি বিএনপির সঙ্গেই কথা বলতে পারি তাহলে আর কার সঙ্গে খারাপ থাকবে? কারও সঙ্গে খারাপ নেই। হেফাজতে এসেছিল বিএনপির সঙ্গে, বিএনপির মদতে।
বিবিসি: কিন্তু আপনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কটা কি?
প্রধানমন্ত্রী: বিএনপি নেত্রীতো সেই স্টেজে গিয়ে কথা বলে আসলো। তারপর বায়তুল মোকাররমে যে আগুন দিল শিবিরের লোক। তাদের ক্যাডাররা। বিএনপির ক্যাডাররা। তারাই তো এসব করেছে। আমাদের সঙ্গে সবার ভাল সম্পর্ক। কারও সঙ্গে আমাদের খারাপ সম্পর্ক নেই।
বিবিসি: হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক!
প্রধানমন্ত্রী: সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক। কারণ আমি সরকারে আছি সবাইকে সমানভাবে দেখতে হয়। দেখছি।
বিবিসি: হেফাজতে ইসলাম যে গত বছর ৫ই মে পুলিশের গুলিতে তাদের অনেক মানুষ নিহত হয়েছিল, কিন্তু সেই ঘটনার কোন সরকারি তদন্ত বা নিরপেক্ষ তদন্ত এখনও তারা পায় নি।
প্রধানমন্ত্রী: আমাদের দেশে যে কিছু কিছু লোক তো আছেই, হিসাব একটা দিয়ে দিল। তারপর গুনে দেখা গেল কি মারা গেল হাজারে হাজার। গুনে পেল কত? ৬০ জন। তার মধ্যেও ওখানে গুলি খেয়ে মরা লোক নেই। কোথায় কোথায়, বাংলাদেশের কোন স্থানে মারা গেছে সেটা, ওখানে মারা গেছে পুলিশ আর ৪-৫ জন।
বিবিসি: শাপলা চত্বরের কথা বলছি না। আমি সারাদিনের ঘটনার কথা বলছি।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ। আমি সারাদিনের ঘটনার কথাই বলছি যে, তাদের হাতে কিছু লোক মারা গেছে। পুলিশ মারা গেছে এবং অন্য লোক। ১৭ জন পুলিশকে এরা হত্যা করেছে। সেদিন পুলিশ ওখানে মারা গিয়েছে। যারা এই হিসাবটা করলো হাজার হাজার। ইন্টারন্যাশনালভাবে হিসাব পাঠায়ে দিল আড়াই হাজার লোক মারা গেছে। আমরা তো তন্ন তন্ন করে নাম চাইলাম। কিন্তু তারা দিতে পারল না। তারা যাদের নাম দিল তাদের অনেকেই বেঁচে আছে অথবা নাম দু’তিনবার লেখা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিহালের সোনালী কেশ ও বন্য ফুল
আবু মুহাম্মাদ তার বাস চালিয়ে নিয়ে চলেছেন পশ্চিম বৈরুতের উপকণ্ঠে, সরু রাস্তা বুর্জ আলবারাজ্নাহ, হারেত হেরিক এবং হায়াহ ইসিলাম হয়ে। প্রত্যেক স্টপেজ থেকে পনের-ষোল বছরের বালক-বালিকা গাড়িতে উঠছে। যাত্রা শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাসটা পূর্ণ হয়ে গেল এবং শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলল সিবলিনের ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট অভিমুখে। আর কয়েকটা মাস, তাহলেই নিহাল ডিপ্লোমা-ইন-অ্যাডুকেশন ডিগ্রি লাভ করবে। সেটা এমন একটা জীবন যার কথা সে স্বপ্নেও ভাবেনি, এটা হচ্ছে হাতের কাছের সবচেয়ে ভালো ডিগ্রি। তার পিতা সম্পদশালী হলে সে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পারত ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য... যদি তার পিতা সারাটা জীবন না কাটিয়ে দিতেন তার জনগণের জন্য, রক্ষণশীল সংকীর্ণমনা গ্রামবাসীর সেবায়, তাহলে সে এতদিনে সিনেমার স্টার বনে যেতে পারত। তার সৌন্দর্য সবচেয়ে সুন্দরীদের চেয়েও বেশি। সেরকমই বলেন তার মা, রাবাব খালা আর সব প্রিয় প্রতিবেশী।
এই বার্তাই সে পায় যখন বয়স্করাও তার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে, তরুণদের কথা তো বলাই বাহুল্য। যাই হোক, শিক্ষকতা খারাপ চাকরি নয়। কে জানে আল্লাহ হয়তো কোনো একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবেন যে হবে তার ভালো স্বামী, আর এইভাবে হয়তো তার বুর্জোয়া স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
বাসে সবশেষে উঠল আহমদ। সে যাত্রীদের সালাম জানাল, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে। শিগগিরই সে তাদের পেছনে লাগল।
‘আমি অবাক হয়ে ভাবি কেন এইসব মেয়েরা আজকাল এমন কঠিন পথ বেছে নেয়। আমি কসম খেয়ে বলছি, আমি মেয়ে হলে প্রতিদিন ভোরে ওঠা, স্কুল বাস ধরার জন্য উন্মাদের মতো ছোটা, একটা ডিগ্রির জন্য বছরের পর বছর ক্লাসরুমে বন্দি হয়ে থাকা, এইসবের ধার ধারতাম না... এই যে মেয়েরা! কিসের জন্য তোমরা ডিগ্রির পেছনে ছুটছ? সামনের কোনো একদিন কোনো একজন প্রিয় মানুষ এসে তোমাকে তার বাসায় নিয়ে যাবে, তখন তোমার ডিগ্রিগুলো রান্না-বান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর বাচ্চা মানুষ করতে করতে হারিয়ে যাবে।’
‘তোমার নির্বোধ পরামর্শ থেকে আমাদের রেহাই দাও,’ নিহাল বলল।
‘বিশেষভাবে তুমি, তোমার সোনালী চুলই যথেষ্ট যার জন্য শত শত পুরুষ তোমাকে বিয়ে করার জন্য মরতে ছুটবে।’
‘হেই... চুপ করো!’
‘...’ ‘ধরো, ওহে মূর্খ, যে, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম, তারপর কয়েক বছর পর একটা অন্ধ বোমা বা ইসরাইলি বোমাহামলা বা স্থানীয় দুটি দলের খণ্ডযুদ্ধ তোমাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল... তখন আমার এবং আমার সন্তানদের কী অবস্থা হবে? আমরা কি তখন মসজিদের দ্বারে দ্বারে ভিখ মেঙ্গে বেড়াব? নাকি আমার সন্তানদের জীবন ধারণের জন্য পথে পথে চিরুনি আর চুইংগাম বিক্রি করতে পাঠাব?’
‘তুমি উদ্ধত, অযৌক্তিক প্রকৃতির মেয়ে। তুমি তোমার এই সংসারাভিজ্ঞ মন আর নাম উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছ। নিহাল! খোদার কসম, তোমার এই অদ্ভূত নাম তারা কোথা থেকে পেয়েছে?’
‘অদ্ভূত, আঁ? তুমি, মিস্টার মূর্খ, তোমার জানা উচিত যে এটা একটা মৌলিক, শিল্পিত নাম, সঙ্গীতময়, যা হৃদয় ও কানে একটা প্রভাব রেখে যায়। তোমাদের মতো না! ...মহাদেশের অর্ধেক লোকেরই এই নাম রয়েছে।’
‘...’
সে আবার তার নিজের স্বপ্নে বিভোর হল। শান্ত নিদ্রাচ্ছন্ন সমুদ্র ও তার অলস ঢেউ লক্ষ্য করে কয়েকদিন আগে টিভিতে দেখা একটা আমেরিকান মুভির কথা মনে পড়ল তার। নায়িকাটা তার বয়সের, তাকে ঈর্ষা হয় তার।
‘এরকম কেন হয় যে তার জন্য যা অনুমোদিত আমার জন্য তা অনুমোদন করা হয় না? ভবিষ্যতে আমার স্বামী হতে সম্মত এমন একজন পুরুষের সঙ্গে যেতে আমাকে অনুমতি দেয়া হবে না কেন? কোনো তরুণ যখন আমার ঠোঁটে চুরি করে চুমু দেয় তখন কেন আমাকে রাগের ভান করতে হবে? অথচ ভেতরে ভেতরে আমি সেটাই চাই এবং এমনকি তার পরিকল্পনা করি? আমি কেন খোদার দেয়া এই সৌন্দর্য নিয়ে গর্ব করতে পারব না? এই সৌন্দর্য যদি কোনো মূর্খকে উত্তেজিত করেই থাকে তাতে আমার কী দোষ? কেন এমন হবে যে যখনই আমি আমার উলঙ্গ শরীরের প্রশংসা করব তখন আমার পাপ বোধ হবে? দশ মিটারেরও বেশি দূর থেকে কোনো অসুস্থ মনের মানুষ বাইনোকুলার দিয়ে আমার ঘরে উঁকি দিবে বলে আমাকে কেন আমার ঘরের জানালা বন্ধ করে রাখতে হবে? কেন...কেন...কেন...’
সামনের সিটে বসা রান্দা তার মায়ের পরিচ্ছন্নতার বাতিক নিয়ে অভিযোগ করছিল। সে তাকে প্রত্যেক সপ্তাহের শেষে জানালা, মেঝে, টাইল্স, এমনকি দেওয়াল ধোয়া-মোছা করতে পর্যন্ত বাধ্য করে। সুদীর্ঘকাল শরণার্থী শিবিরে একটা কক্ষের মতো একটা তাঁবুতে বসবাস করেছে সে, তারপর সে ‘সত্যিকারের’ দেওয়াল এবং টাইল্সওয়ালা একটা ছোট্ট বাড়ির মালিক হয়েছে। সে এটাকে সাংঘাতিক ভালোবাসে। সে এটাকে আমাদের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।’
‘ওহ খোদা! বখে-যাওয়া মেয়েদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো,’ আহমদ বলল। ‘ধরো তোমাদের নিজ দেশের গ্রাম ‘সাসা’ থেকে তোমরা বিতাড়িত হওনি, তাহলে ভোরে জাগার আগে কী করতে? ডুমুর তোলা, বা গরুকে খাওয়ানো, বা মাঠ থেকে গম সংগ্রহ করে আনা, সূর্যোদয়ের আগেই এসব করতে হতো।’
‘এই যে ছিদ্রান্বেষণকারী জীব, শান্তি বজায় রাখো! তোমার পরামর্শ কেউ শুনতে চায় না।’
লায়লা তার প্রেমিক সম্পর্কে অভিযোগ করছিল যে, এইবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সে আবুধাবি থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল করল।
‘সে আর ফিরছে! ওরে চালাক মেয়ে, সে তোমাকে ছেড়ে পালিয়েছে।’ আহমদ বলল। সবাই হো-হো করে হেসে উঠল।
‘দুঃখ কোরো না প্রিয়ে! তোমার জন্য আমার কাছে আরও ভালো পাত্র আছে।’
‘তোমার নিজের চরকায় তেল দাও গে হে চতুর গাধা।’
মালুফ সাহেব ক্লাসে যেরকম উৎসাহ নিয়ে সর্বসাম্প্রতিক আধুনিক তত্ত্ব বর্ণনা করেন তার অনুকরণ করল সুকাইনা- ‘মহারাজ ভাবেন আমরা প্যারিসে বাস করি। তিনি চান আমরা সেইসব তত্ত্বগুলো বাস্তবায়ন করি যেগুলো উপযুক্ত ওইসব ছাত্রদের জন্য যারা উন্নয়নের শত-সহস্র ধাপ এগিয়ে রয়েছে, যারা শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুমে যায়, যাদের পেছনে রয়েছে মুভি ও থিয়েটার, যেখানে একটা ক্লাসে ১৫ জনের বেশি ছাত্র নেই, যেখানকার শিক্ষকরা এক সপ্তাহে আয় করে আমাদের এক বছরের চেয়েও বেশি। কী স্বপ্নদ্রষ্টা রে আমার!’
সুকাইনা তার শিক্ষকের অনুকরণে মুখ বাঁকিয়ে বলে চলে- ‘শিক্ষকদের ক্রমিক মুছে দাও। শাস্তি এবং পুরস্কার তুলে দাও। ছাত্রদেরই সিদ্ধান্ত নিতে দাও কখন তারা কী শিখবে’ ...আমি কসম খেয়ে বলতে পারি, এরকম করলে লোকজন আমাদের পাথর ছুঁড়ে মারবে।’
ফাদি তার হাতের তাস থেকে চোখ না সরিয়ে বলল, ‘যীশু বলেছেন, তাদের কথার প্রতি মনোযোগ দাও, কাজের প্রতি নয়। আগে ডিগ্রি নাও, ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়ো না।’
‘দয়া করে শোনো বাছারা! শান্ত হও, আমি খবর শুনতে চাই,’ বললেন আবু মুহাম্মাদ।
‘আবু মুহাম্মাদ চাচা, নিজেকে কষ্ট দিয়েন না, আজকের খবর কালকের মতোই, ঠিক যেমন একইরকম হবে আগামীকালও।’
বিলাল আর ফাদি পেছনের সিটে বসে তাস খেলছিল। একঝলক মৃদু বাতাস সমুদ্র থেকে তাজা সুবাস বয়ে নিয়ে এলো, ফাদি তাস থেকে মাথা তুলে মুখ ডলল, তারপর গভীর শ্বাস টানল। সুবাস তাকে উৎফুল্ল করে তুলল। সে বলল, ‘যদি পাপ না হতো তাহলে পোকামাকড় আর পচা শেকড়ের সঙ্গে নিরানন্দ অন্ধকার মাটির নিচে নয়, আমাকে উদোম শরীরে স্ফূলিঙ্গময় তরঙ্গের ভাঁজের মধ্যে মুক্তা ও মাছেদের সঙ্গে দাফন করতে বলতাম।’
খালদা চেকপয়েন্টে সবাই নীরব হয়ে রইল। কয়েক মিটার দূরে, শারদীয় আবহাওয়ায় প্রভাবিত হয়ে, ফিরোজের একটা গান গাইতে শুরু করল আজ্জা:
‘জানালার নিচে
সেপ্টেম্বরের সোনালী হলুদ পাতারা
তোমার প্রেমের কথা
স্মরণ করিয়ে দেয়...
ওহ! ...সেপ্টেম্বরের সোনালী পাতারা...’
মেয়েরা পরস্পরের চোখের দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষপরায়ণ হাসি হাসল। সবাই জানে আজ্জা যা ভাবছে সেটা একটা গোপন ব্যাপার। সবাই নীরব প্রেমের ব্যাপার নিয়ে ফিসফাস করতে লাগল যেটা তার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ছাত্র হাসানের মধ্যে ডালপালা ছড়াচ্ছে।
হঠাৎ আবু মুহাম্মাদ চেঁচিয়ে উঠলেন : ‘জারজ কোথাকার! আর একটু হলে আমাদের সমুদ্রের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলছিল আরকি!’ একটা গাড়ি তীর বেগে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।
নিহাল ঘড়ির দিকে তাকাল। ‘আবু মুহাম্মাদ চাচা, দয়া করে আরেকটু দ্রুত চালাও।’
‘সেখানে আমার মহামূল্যবান সুন্দরী মেয়ে।’
একটা গাড়ি আরেকটা গাড়িকে ছাড়িয়ে গেলো; দুই চালক পরস্পরকে গালাগাল করতে লাগল। আবু মুহাম্মাদ তার মাথা একবার বামে একবার ডানে নড়াল, সে অবাক হয়ে ভাবে অনর্থক লোক দেখানোর জন্য লোকেরা কেন যে জীবনের ঝুঁকি নেয়। তিনি নিহালের দিকে ঘুরে বললেন, ‘উদ্বিগ্ন হয়ো না সুন্দরী, আমরা ঠিক সময়ে পৌঁছে যাব।’ বাসটা প্রধান সড়ক থেকে একটা পাশপথে নামল, সেটা সিবলিনের ইন্সটিটিউশনের দিকে গেছে। আর মাত্র কয়েক মিনিটের পথ।
অকস্মাৎ একটা বিমান আকাশে বজ পাত ঘটাল।
তারা তার পরিচয় বা প্রকার আন্দাজ করার সময়টুকুও কি পেলো?!...
আমাদের সবার কফি পান প্রায় শেষ, তখন রেডিওতে ঘোষণা এলো : ‘কয়েক মিনিট আগে সাইদার পুবে সমুদ্রতীর বরাবর ইসরাইলি বিমানহামলা হয়েছে, একটা বিমান ছাত্রবহনকারী বাসের ওপর বোমাবর্ষণ করেছে, বাসটা সিবলিনের ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাসের টুকরোগুলো ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে পর্যন্ত ছিটকে পড়ে।’
আমরা নিহালের দেহাবশেষ খুঁজে জড়ো করলাম। তার সোনালী হলুদ কেশরাশি সিবলিনগামী রাস্তার দুইধারে, পাহাড় এবং বন্য ফুলের মধ্যে, বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনি সাহিত্যে কবিতাই প্রাণ by গাস্সান কানাফানি
কানাফানি প্রথমে শিক্ষকতা এবং পরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাগজের সম্পাদক ছিলেন। সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষ হিসেবে তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই লেবাননের বৈরুত শহরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
ফিলিস্তিনি প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের বিকাশে কানাফানির অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তার প্রথম উপন্যাস রিজাল ফিশ্-শামস (মেন ইন দি সান) প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে, বৈরুতে। তার অনেক উপন্যাস ও অন্যান্য রচনা ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি তার সাহিত্যকৃতির জন্য প্যালেস্টাইনসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৬৮ সালে ইরাকের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গাস্সান কানাফানি সম্পাদিত (সুলাফা হিজাভি অনূদিত) পোয়েট্রি অফ রেজিস্ট্যান্স ইন অকুপায়েড প্যালেস্টাইন প্রকাশ করে। অনূদিত প্রবন্ধটি সেই সংকলনের ভূমিকা। উল্লেখ্য, এটি তার বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ রেজিস্ট্যান্স লিটারেচার ইন অকুপায়েড প্যালেস্টাইন (১৯৬৬) গ্রন্থের অংশবিশেষ।]
১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদীদের হাতে ফিলিস্তিনের পতনের ফলে অধিকৃত ফিলিস্তিনে আরব জনগণের সংখ্যা এবং সমাজকাঠামোয় ধ্বংসাÍক পরিবর্তন সাধিত হয়। বিশ লাখ আরবের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের মাতৃভূমিতে থেকে যায়, এরা মূলত কৃষক। শহরগুলো ফাঁকা হয়ে যায় হয় যুদ্ধের সময়েই না হয় তার অব্যবহিত পরে। এর ফলে আরবদের সামাজিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে, কারণ শহরগুলো ছিল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভাবোচ্ছ্বাসের কেন্দ্র।
ইহুদিবাদী দখলদাররা তাদের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিপীড়নমূলক উপায়সমূহ আরোপ করতে শুরু করে, পরিবেশ তাদের জন্য সহায়ক ছিল। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আরব পরিচয়ের ছিটেফোঁটা চিহ্নকেও উপড়ে ফেলা এবং সেখানে নতুন প্রবণতার বীজ বপন করা যা অবশ্যই গড়ে উঠবে ইহুদিবাদী রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক জীবনের ছত্রচ্ছায়ায় এবং তার সঙ্গে সমন্বিত হয়ে।
এ করুণ পরাজয় পর্যন্ত ফিলিস্তিনি সাহিত্য ছিল আরবি সাহিত্য আন্দোলনের মূলস্রোতের অংশ যা বিকশিত হয় এই শতাব্দীর (বিংশ শতাব্দী-অনুবাদক) প্রথম ভাগ জুড়ে। রসদ মিলেছে তখনকার সাহিত্যিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মিসরীয়, সিরিয়ান ও লেবাননীয় লেখকদের কাছ থেকে, তাদেরই প্রভাবে এটা গতিশীল হয়। এমনকি প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি লেখকরাও তাদের খ্যাতির জন্য বিশেষভাবে ঋণী আরব রাজধানীগুলোর কাছে, যেখান থেকে তারা তাদের সৃষ্টিকর্মের জন্য সংবর্ধনা ও সহায়তা লাভ করেছেন। যে মুহূর্তে রাজনীতি এবং আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ফিলিস্তিন একটা গণনাযোগ্য অবস্থান লাভ করছে সেই মুহূর্তে ফিলিস্তিনি সাহিত্যের মানের নিম্নগামিতার পেছনে অনেক কারণ ছিল।
১৯৪৮ সালের পর ফিলিস্তিনি সাহিত্য একটা নতুন সাহিত্যিক আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয় যাকে ‘ফিলিস্তিনি বা শরণার্থী সাহিত্য’ বলার চেয়ে বরং ‘নির্বাসন সাহিত্য’ বলাই ভালো। কবিতা, এই আন্দোলনের প্রধান উপাদান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎকর্ষ ও আঙ্গিকের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধ-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত নীরবতার পর একটা বিশাল জাগরণ সৃষ্টি হয় এবং জনগণের জাতীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রচুর সংখ্যায় জাতীয় কবিতা রচিত হতে থাকে। এটা আরব এবং বিদেশী প্রবণতার মধ্যে মিথষ্ক্রিয়া ঘটায় এবং ক্রমান্বয়ে আঙিকের ঐতিহ্যবাহী নিয়মগুলো ভাঙতে থাকে, পুরনো আবেগমথিত উচ্ছ্বাস পরিহার করা হয়, এবং উদ্ভূত হয় এমন একটা গভীর দুঃখবোধের অনন্য সাধারণ অনুভূতিসমেত যা বিরাজমান পরিস্থিতির বাস্তবতার সঙ্গে অনেক বেশি সমানুপাতিক।
অপরদিকে, অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভেতরকার প্রতিরোধ সাহিত্যকে নীতিগত মৌলিক পার্থক্যের মোকাবেলা করতে হয়। লেখক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের পুরো একটা প্রজন্মের দেশত্যাগের কারণে অধিকৃত ফিলিস্তিনে আরবি সাহিত্যের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। যারা থেকে গেল তাদের নিয়ে যে সমাজ গঠিত হয় তা প্রধানত গ্রামীণ এবং তারা এমন এক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়নের শিকার যার উদাহরণ বিশ্বের আর কোথাও মিলবে না।
থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের অধিকাংশেরই, তাদের সামাজিক অবস্থার জন্য, সাংস্কৃতিক মান এমন ছিল না যে তারা লেখক এবং শিল্পীর একটা নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
যেসব আরব শহর গ্রাম থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান তরুণদের স্বাগত জানাতে ও উৎসাহ দিতে লাগল সেগুলো শত্র“র নিষেধাজ্ঞার শহরে পরিণত হল।
এখানকার আরব জনগণ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগের উপায় রইল না।
ইহুদিবাদী সামরিক কর্তৃপক্ষ আরব জনগণের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং তাদের সাহিত্যিক নির্মাণের ওপর খবরদারি করতে লাগল।
প্রকাশনা ও বিপণনের উপায়-উপকরণ হয় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল না হয় কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হল।
আরবদের জন্য বিদেশী ভাষা শিক্ষার সুযোগ থাকল না। খুব কম জনই হাইস্কুলে পড়ার অনুমতি পায়, আর প্রায় কাউকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হয় না।
এ নববিকশিত সাহিত্য পাঠের সময় এটা মনে রাখা উচিত যে, এখানকার আরব জনগণ তাদের অস্তিত্বকে দৃঢ় এবং নিজেদের প্রকাশ করার জন্য নিগ্রহ ও অত্যাচারের কালো রাত্রির মধ্যে দিয়ে সংগ্রাম করে চলেছে। এখন তারা তাদের নিজস্ব ভাবপ্রকাশের ভাষা ও কৌশল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যা ঘনীভূত হয়ে স্পন্দমান প্রতিরোধ সাহিত্য তৈরি করেছে।
এটা অনুধাবন করা এখন সহজ যে, এই কঠোর অবরোধের মধ্যে কবিতা কেন প্রতিরোধ আহ্বানের প্রথম অগ্রদূত হল; কারণটি হচ্ছে, কবিতা মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং প্রকাশনা ছাড়াই টিকে থাকতে সক্ষম। এর থেকে এ ব্যাখ্যাও পাওয়া যায় কেন কবিতা প্রারম্ভকালে ঐতিহ্যবাদী আঙিককে আশ্রয় করেছে, কারণ তা মুখস্থ করা অপেক্ষাকৃত সহজ এবং দ্রুত মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রাথমিক জোয়ারের বৈশিষ্ট্য এই যে, সেগুলো ছিল ভালোবাসার গীতিকবিতা, কিন্তু পাশাপাশি ঐতিহ্যবাদী কবিতা এবং জনপ্রিয় মৌখিক কবিতাও রচিত হয় যা প্রতিরোধ অভিব্যক্তির প্রথম বীজ বপন করে। বাস্তবে, জনপ্রিয় কবিতা কুড়ির দশক থেকে ফিলিস্তিনের ইতিহাসে বড় ভূমিকা পালন করে যা গোটা আরব বিশ্বেই খ্যাতি লাভে সক্ষম হয়। নিচের গীতিকবিতাটি প্রায় প্রত্যেক ফিলিস্তিনিরই মুখস্থ, তারা এটা সবসময় আবৃত্তি করে; ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট যে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে ফাঁসি দেয় তিনি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার পূর্বাহ্নে তাৎক্ষণিকভাবে মুখে-মুখে রচনা করেছিলেন এই কবিতাটি:
ওগো রাত, আর একটু দাঁড়াও না, যতক্ষণ না
এই বন্দি তার গান শেষ করতে পারে...
ভোর নাগাদ তার পাখনাগুলো ঝাপটাতে শুরু করবে
আর ফাঁসিতে ঝুলন্ত মানুষটি
বাতাসে দোল খাবে।
ওগো রাত, কমাও তোমার গতিবেগ,
আমাকে তোমার কাছে আমার হৃদয় উজাড় করতে দাও,
তুমি কি ভুলে গেছ আমি কে, আর
আমার সমস্যা কী।
দয়া করো, আমার সময়গুলো
কীভাবেই না পিছলে গেলো তোমার হাত বেয়ে।
ভেব না যে ভয়ে কাঁদব আমি,
আমার অশ্র“ আমার দেশের জন্যে নিবেদিত,
আর বাড়িতে অপেক্ষমাণ
ওইসব ক্ষুধার্ত পিতৃহীন শিশুর জন্য।
আমার পরে তাদের কে দেবে খাবার?
আমার দুই ভাই-ই যে
আমার আগেই ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছে।
আর একাকী অশ্রুতে ভেসে
কীভাবে কাটাবে দিন আমার বিধবা?
তার হাতের মণিবন্ধে তার চুড়িও আমি
রেখে যেতে পারলাম না-
গোটা দেশ যে এখন অস্ত্র চেয়ে কাঁদছে।
১৯৪৮ সাল পর্যন্ত, সুরচিত মানসম্পন্ন সাহিত্যের আবির্ভাবের আগে, প্রায় দশ বছর এসব জনপ্রিয় ধারার কবিতা প্রাধান্য বিস্তার করে রাখে। এটাই সেই মাধ্যম যার সাহায্যে পরাজিত জনগণ নিজেদের প্রকাশ করার উপায় খুঁজে পেয়েছিল। তাদের জীবনের সব কিছুই এর মধ্যে জায়গা করে নেয়। ওইসব কবিতার কার্যকারিতার দ্বারা তারা সকালের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, সন্ধ্যার আড্ডা এবং আর-আর সব জনসমাগমকে ভয়ানক বিক্ষোভ সমাবেশে পরিণত করতেন ফায়ারিং স্কোয়াডের তোয়াক্কা না করে। অনেক জনপ্রিয় কবিকে কারাগারে পাঠানো হয় অথবা রাখা হয় কঠোর অবরোধের মধ্যে। আর জনপ্রিয় কবিতা যতই প্রাচুর্যতা পায় ও সম্প্রসারিত হতে থাকে দখলদার শক্তি ততই বিস্তৃত করতে থাকে তাদের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড, কয়েকজন কবিকে তারা হত্যা করে এবং আরবদের সব ধরনের সমাবেশ সংগঠন নিষিদ্ধ করে দেয়। এসব ব্যবস্থা অবশ্য এই প্রতিরোধ প্রবণতাকে নির্মূল করতে পারেনি, তবে প্রবল ক্ষমতা ও প্রাণশক্তি নিয়ে নবরূপে বিস্ফোরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ বছর এটাকে দাবিয়ে রাখতে পেরেছিল। ষাটের দশকের শুরুতে, খুব আশ্চর্যজনকভাবে, সাহিত্যের একটা লক্ষ্যযোগ্য নতুন তরঙ্গস্রোত গতিমান হল। এই নতুন তরঙ্গের বিশ্বাস ও নীতি ছিল দুঃসাহসী, প্রাণশক্তি ও আশাবাদে পূর্ণ এবং লড়াকু তেজে ভীষণভাবে প্রাণিত, একই সময়ের নির্বাসিত কবিদের দুঃখভারাক্রান্ত ও আবেগতাড়িত সাহিত্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এই নতুন জোয়ারের আগের দশককে সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা যায় এই বলে যে, এটা ছিল ব্যক্তিত্ব সমন্বয়ের কাল, সংগ্রামের যুক্তি ও লক্ষ্যর সঙ্গে আরব ব্যক্তিত্বের স্বরূপ উন্মোচন ও সমন্বয়ের কাল।
যে পরাজিত ও অসহায় জনগণ ১৯৪৮-এর অব্যবহিত পরের কয়েক বছর ভালোবাসার কবিতাকে আশ্রয় করেছিল তারাই ষাট দশকের আগমনে উদ্ভব ঘটাল প্রতিরোধের একটা সত্যিকারের শক্তির, যা অদম্য, নির্ভীক ও আশাবাদী।
ভালোবাসার কবিতার জন্ম একাকীত্ব ও বঞ্চনার তিক্ত অনুভূতি থেকে যা ১৯৪৮ সালের পর আরব জনগণকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। তারা একটা পরাজিত সংখ্যালঘিষ্ঠ জাতি এই অনুভূতি কালপরিক্রমায় পরিবর্তিত হতে শুরু করে লড়াকু মনোভাবে এবং তারা তাদের দুঃসহ অবস্থার মুখোমুখি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।
প্রতিরোধ কোনো মতেই সহজ বিকল্প ছিল না; বরং এটা ছিল নিত্যকার যুদ্ধ, এমন এক ভয়ঙ্কর শত্রুর সঙ্গে যারা এটাকে গ্রহণ করেছিল জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হিসেবে। নিপীড়নের মাত্রা যত বিস্তৃত ও ভয়ঙ্কর হতে লাগল প্রতিরোধ ততই সংগঠিত হতে থাকল। নির্বাসনের কবিতার বিপরীতে, প্রতিরোধের কবিতা দুঃখ ও ক্রন্দনবোধ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে উদ্ভূত হল একটা বিস্ময়কর বৈপ্লবিক মনোবল নিয়ে। যথেষ্ট আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আরব বিশ্বের সব রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে এটা দ্রুত তাল মেলাতে সক্ষম হল।
প্রতিরোধের কবিতা যে শুধু মর্ম এবং কাব্যধারণার পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল তা-ই নয়, তার ফর্ম এবং টেকনিকও বদলে গেল। ঐতিহ্যবাদী কাব্যকাঠামো পরিত্যাগ করে গ্রহণ করল আধুনিক টেকনিক, কোনো শক্তি না হারিয়ে। মর্মার্থের দিক থেকে প্রতিরোধের কবিতা প্রকাশের বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করল :
প্রেম
নারীপ্রেমকে সম্পূর্ণরূপে সমন্বিত করা হল দেশপ্রেমের সঙ্গে। নারী ও মাটিকে সম্পূর্ণরূপে আত্মীকৃত করা হল একটা মহান প্রেম হিসেবে এবং সেটাকে রূপান্তরিত করা হলো স্বাধীনতার মহান লক্ষ্য।
ব্যঙ্গ
শত্রু এবং তাদের রাজনৈতিক অনুচরদের উপহাসের পাত্র বানানো হল এবং দমন-পীড়নকে প্রকাশ করা হল তিক্ত বিদ্রুপযুক্ত করে। এ প্রবণতা একটা জীবনমুখী ও অপরাজেয় মনোভাবকে প্রকাশিত করল এবং সব ঘটনাকে বিবেচনা করল ক্ষণস্থায়ী ও পরিবর্তনকালীন অবস্থা হিসেবে যা, আজ হোক বা কাল, পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।
বিদ্রোহ ও মোকাবেলা
শত্র“কে প্রকাশ্যে মুখোমুখি স্থাপন করা হলো যোদ্ধার অবিচল ও নির্ভীক মনোভাব নিয়ে। ফিলিস্তিনিদের জীবনবাস্তবতা থেকেই এর উদ্ভব যাকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা যায় এভাবে : আরব জনগণের অধিকাংশই গ্রামবাসী, ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের আগে যে বিপ্লব ও অভ্যুত্থানগুলো সংঘটিত হয় তার সঙ্গে তারা নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। সে কারণে তাদের ওপর নিপীড়নও ছিল সেরকমই কঠোর। তারা বাস করত খুবই করুণ পরিস্থিতির মধ্যে, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে তাদের যে সংগ্রাম করতে হতো তা ছিল খুবই ভোগান্তিময় ও কষ্টদায়ক। এটা বাস্তব যে, শত্র“র অস্তিত্ব সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী পরিকল্পনার সৃষ্টি এবং তার টিকে থাকাও পুঁজিবাদের জোরে। তাছাড়া, প্রতিরোধের কবিতা হচ্ছে সব ইহুদিবাদী বিশ্বাস ও সংস্কারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। এটা তাদের একটা-একটা করে ধরেছে আর ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত মজবুতভাবে গ্রথিত সাহিত্য যা শুধু আবেগ নয়, যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মোটের ওপর, স্থায়ী আরব বিপ্লবের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসূত্র রয়েছে এবং আরব প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে হাতে হাত ধরে অগ্রসর হয়েছে। সব বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও এটা একটা সত্যিকার সাহিত্য হিসেবে উদ্ভূত ও বিকশিত হতে পেরেছে এবং যোদ্ধা কবির ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
অনুবাদ : ফারজানা আফরোজ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনি সাহিত্য : প্রতিরোধ ও স্বপ্নের রূপকল্প by নাজিব ওয়াদুদ
প্রায় চারশ বছর ধরে ফিলিস্তিন অঞ্চল ছিল বৃহত্তর সিরিয়ার অংশ হিসেবে তুর্কি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন। এখানকার অধিবাসীরা ছিল আরব। ওসমানীয় শাসকরা এখানে উপনিবেশ সৃষ্টি করেননি, বরং তাদের পক্ষে স্থানীয়রাই এখানকার প্রকৃত শাসক ছিল। এক পর্যায়ে, বিশেষত অর্থনৈতিক কারণে, খুবই সীমিত পরিসরে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন অনুমোদন করা হয়। এভাবে, ১৯০৮ সালে, ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের সময়, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার দশ শতাংশে উন্নীত হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফিলিস্তিনিরা অন্য আরবদের মতো ব্রিটিশ সহায়তায় তুর্কিদের বিতাড়িত করে। কিন্তু ১৯১৮ সালে ব্রিটিশরা পুরো ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। দখলদারিত্ব কায়েম রাখতে ব্রিটিশরা ইহুদিদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং ব্যাপক অভিবাসন ঘটাতে থাকে। ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটা আবাসভূমি তৈরি করে দেয়ার অঙ্গীকারও (বালফুর ঘোষণা) করে। ব্রিটিশ শাসকদের প্রশ্রয়ে একের পর এক ইহুদি বসতি গড়ে উঠতে থাকে। শুরু হয় বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে আদিবাসী ফিলিস্তিনিদের সংঘাত। এই সময়ই সচেতন ফিলিস্তিনিরা অনুধাবন করেন যে বিপদ আসন্ন। শুরু হয় ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা সংগ্রাম। একইসঙ্গে তাদের মোকাবিলা করতে হয় ইহুদি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকেও। যদিও ফিলিস্তিনিরা তখনও পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ছিল, তবু মূলত তখন থেকেই ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা ‘ফিলিস্তিনি’ হয়ে উঠতে শুরু করেন, কারণ প্রতিবেশী অন্য আরবদের তুলনায় তাদের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। যে ফিলিস্তিন ভূমিতে আরব-ফিলিস্তিনিরা খুব কম করে হলেও সপ্তম শতাব্দী থেকে বসবাস করে আসছিল, ১৯৪৭ সালে ইউরোপ-আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত জাতিসংঘ সেই ভূমিকে ভাগ করে ইহুদিদের জন্য ইসরাইল এবং আরবদের জন্য ফিলিস্তিন নামে দুটো পৃথক রাষ্ট্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিল। ইসরাইল ১৯৪৮ সালের মে মাসে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, আরবরা তা প্রত্যাখ্যান করে, শুরু হয় যুদ্ধ। ইউরোপ-আমেরিকার মদদপুষ্ট ইসরাইলিদের কাছে আরবরা পরাজিত হয়। ইসরাইল জাতিসংঘ-নির্ধারিত নতুন ‘ফিলিস্তিন’-এর অনেক জায়গা দখল করে নেয়, জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালে সীমান্তে ফেরত যেতে বললেও ইসরাইল তাতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্তত সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে ভিটেছাড়া হতে হয়। তারপর থেকে আরও অনেক যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, এর মধ্যে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এসব যুদ্ধের ফল হয়েছে এই যে, ইসরাইলিরা আরও ফিলিস্তিনি ও আরবভূমি দখল করে নিয়েছে এবং আরও-আরও ফিলিস্তিনিকে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোয় পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে শরণার্থী শিবিরে, আর কখনও নিজ দেশে ফিরতে পারেনি তারা। ১৯৫৮ সালে ইয়াসির আরাফাত ‘ফাতাহ’ সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রাম শুরু করেন। আরব লীগের উদ্যোগে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগ্রামী সংগঠনের সমন্বয়ে ‘ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা’ (প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশন, সংক্ষেপে পিএলও) গঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। এতে ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ মুক্তিসংগ্রাম নতুন মাত্রা পায়। এভাবে ফিলিস্তিনিরা ‘ফিলিস্তিনি’ নামের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনিদের কেবল যে ইসরাইলিদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তা-ই নয়, কখনও জর্দান, কখনও লেবাননের ফালাঞ্জিস্ট খ্রিস্টানদের আক্রমণের শিকারও তাদের হতে হয়েছে। হাজার-হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আর লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে এখান থেকে সেখানে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, পোহাতে হয়েছে নিদারুণ দুর্ভোগ। ওদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলিরা একের পর এক ইহুদি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘর ও জমি-জমা দখল করে নিতে থাকে। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা। ১৯৮৭ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ফিলিস্তিনিরা আন্দোলন (প্রথম ইন্তিফাদা) শুরু করে। ইসরাইলি সৈন্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি তরুণ ও কিশোররা হাতে তুলে নেয় পাথর। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এই প্রথম ইন্তিফাদায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত হয়, গ্রেফতার হয় অন্তত দশ হাজার। এই আন্দোলনের ফলে সারা বিশ্বে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়। ১৯৮৮ সালে পিএলও-র পক্ষে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন ইয়াসির আরাফাত। ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পিএলও এবং ইসরাইলের মধ্যে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে পক্ষ দুটি পরস্পরের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয় এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করে। এর ফলে পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকা এবং গাজা উপত্যকায় ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ’-র শাসন কায়েম হয়। কিন্তু ইসরাইল বারংবার চুক্তি ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসন এবং নতুন নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখে। ২০০০ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের উদ্যোগে পিএলও প্রধান ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের মধ্যে ক্যাম্পডেভিড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলন ব্যর্থ হয়। এরপর আরও অনেক সমঝোতা চেষ্টা চলেছে, কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি। ১৯৮৯ সাল থেকে গাজার ওপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখে ইসরাইল। ২০০১ সাল থেকে অদ্যাবধি সম্পূর্ণরূপে গাজা অবরোধ করে রেখেছে। ২০০৮ সালে ইসরাইল গাজা আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়। ২০১২ সালে আরেকবার ইসরাইলের আগ্রাসনের শিকার হয় গাজা। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহ ধরে ইসরাইল গাজায় সর্বাত্মক হামলা চালাচ্ছে। বর্বর বিমান হামলায় প্রতিদিন শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ শতাধিক নিরস্ত্র মানুষ নিহত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, সবকিছু।
২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর পিএলও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ভেঙে যায়। কর্তৃত্ব নিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রধান দুটি সংগঠন ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্ব মাঝে-মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। ফলে এখন অবস্থা হয়েছে এরকম যে ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের নামে বাস্তবে পশ্চিম তীর শাসন করছে ফাতাহ, আর গাজা শাসিত হচ্ছে হামাস দ্বারা। অসলো চুক্তির পর অনেক ফিলিস্তিনি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসে। কিন্তু লাখ লাখ ফিলিস্তিনি এখনও থেকে গেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকায়। এরা গড়ে তুলেছে ফিলিস্তিনি প্রবাসী (ডায়াস্পোরা) প্রজন্ম। এভাবে ফিলিস্তিনিরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে মোটা দাগের তিনটি দলে- এক. ইসরাইলি শাসনের অধীন দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি, পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসরত ‘স্বাধীন’ ফিলিস্তিনি এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ফিলিস্তিনি। এই তিন শ্রেণীর ফিলিস্তিনির মধ্যে মাতৃভূমি ও স্বাধীনতা প্রশ্নে সমভাবাপন্ন আবেগ-অনুভূতি থাকলেও বাস্তব জীবনাভিজ্ঞতা ভিন্ন রকম। ফলে এদের আশা-আকাক্সক্ষাও ভিন্ন রকম হয়ে উঠেছে। এসব কারণে ফিলিস্তিনি জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উদাহরণহীন অনন্য সত্তা হিসেবে পরিগণিত।
বলা বাহুল্য, ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ ভোগান্তি, বাস্তুচ্যুতি, বঞ্চনা, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংগ্রাম, মৃত্যু, এসব কিছুই প্রতিফলিত হয়েছে তাদের সাহিত্যে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বিশেষ করে শিক্ষা সুবিধার সম্প্রসারণ এবং প্রিন্টিং প্রেসের প্রবর্তন ফিলিস্তিনি সাহিত্যের উত্থানকে উদ্দীপিত করে। গোটা আরব দুনিয়া জুড়ে এ সময় যে-আরবীয় জাতীয়তাবাদের স্ফূরণ ঘটে, জায়নবাদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনে তা একটা বিশেষ ধরনের স্থানীয় রূপ পরিগ্রহ করে। জায়নবাদীরা তখন পাশ্চাত্য শক্তির মদদে ফিলিস্তিনে একটা ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার জন্য সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন চালাচ্ছিল।
ওসমানীয় শাসনের শেষদিকে উদারবাদী সংস্কারের পর ফিলিস্তিনে অনেকগুলো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়, যেমন : ১৯০৮ সালে হাইফা থেকে বের হয় আল কারমেল, ১৯১১-তে জাফা থেকে ফিলিস্তিন, এবং তারপরের বছর জেরুসালেম থেকে আদ্-দস্তুর। জায়নবাদের বিপদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছাপা হতো এসব দৈনিকে। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশদের আগমনের পর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রতি তাদের সমর্থনজ্ঞাপক নীতি ও পদক্ষেপের প্রতিবাদ করত এই পত্রিকাগুলো। ফিলিস্তিনি লেখকরা অন্যান্য আরব দেশের সাময়িকীগুলোতেও নিয়মিত লিখতেন এবং সেই সময় সারা আরব জুড়ে সাধারণভাবে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যের যে-পুনর্জাগরণ চলছিল তাতে তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন। রওভি ইয়াসিন আল-খালিদী (১৮৬৪-১৯১৩), নাজিব নাসার (১৮৬৫-১৯৪৮), মুহাম্মদ ইস’আফ আন্-নাশ্শাশিবি (১৮৮২-১৯৪৮) এবং খলিল আস্-সাকাকিনী (১৮৭৮-১৯৫৩) হচ্ছেন এই সময়কার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সৃজনশীল গদ্যকার। তারা পাঠককে উপহার দেন আধুনিকমনস্ক স্টাইল এবং আইডিয়া। এভাবে, এদের হাতেই, ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব সাহিত্যের উদ্ভব শুরু হয়।
ফিলিস্তিনি সাহিত্য একটি স্পষ্ট বাঁক নেয় ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’র পরে। নাকবা বলতে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইল রাষ্ট্রের উত্থান এবং তার ফল হিসেবে ফিলিস্তিনি সমাজের ধ্বংস ও ছিন্নভিন্ন হওয়াকে বোঝান। গদ্য এবং পদ্য উভয় প্রকরণেই নির্বাসনের নিদারুণ মনস্তাপ প্রতিফলিত হতে থাকে। ১৯৪৮ সালের এই বিপর্যয় সাত লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে ভিটেছাড়া করে। অন্যদিকে, ইসরাইলের দখলদারিত্বে বসবাস করতে থাকে অনেক ফিলিস্তিনি, আÍীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, ইসরাইলি অস্তিত্বের প্রথম আঠারো বছর তাদের বাস করতে হয় সামরিক শাসনের অধীনে। তাদের এই বন্দিত্ব ও পরাধীনতা বোধের কথাও উঠে আসে বিকাশমান সাহিত্যের বিভিন্ন প্রকরণের মধ্য দিয়ে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল নতুন করে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা, মিসরের সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। এই নিষ্ঠুর সামরিক দখলদারিত্বের অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিনি লেখকদের অধিকতর বক্তব্যধর্মী সাহিত্যের দিকে ঠেলে দেয়। ‘প্রতিরোধ সাহিত্য’ নামে নতুন একটি সাহিত্যিক ধারাও গতিমান হয়। এর মূল সুর ছিল একদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামের যথার্থ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও গৌরবগাথা, অন্যদিকে ইসরাইল রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান ও তার বিরোধিতাকে উচ্চকিত করা।
নাকবা-পরবর্তী লেখায় ইসরাইল রাষ্ট্র ও তার সামরিক দখলদারিত্বের মধ্যে বসবাসরত এবং অন্যত্র নির্বাসিত ও শরণার্থী জীবন-যাপনকারীসহ সব শ্রেণীর ফিলিস্তিনির অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। এ সময় আরেকটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্টতর হচ্ছিল। সেটা হল মহিলা লেখকদের উত্থান। মহিলা লেখকরা জাতীয় স্বাধীনতার সঙ্গে নারী স্বাধীনতাকেও সম্পৃক্ত করেন। ১৯৪৮ সালের নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের বেশ আগে থেকেই ফিলিস্তিনি সাহিত্য ফিলিস্তিনি সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। আরবি সাহিত্যের ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনি সাহিত্যেও কবিতা মানোত্তীর্ণ প্রকরণ হিসেবে প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে বহুকাল। মহাবিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনিরা যে-মহাদুর্ভোগ ও ক্ষতির জগতে পতিত হয়, তার ফলে ছোটগল্প ও উপন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় সুলভ ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে ছোটগল্প ও উপন্যাস ফিলিস্তিনিদের স্মৃতি এবং আÍপরিচয়কে তুলে ধরার জন্য দ্রুত সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমে পরিণত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি সাহিত্যের মূল লক্ষ্য ছিল ‘নিপীড়িতদের সাহিত্য’কে উপস্থাপন করার মাধ্যমে হতাশদের মনে আশার সঞ্চার করা। এই বৈশিষ্ট্য তিনটি ধারায় প্রবহমান হয়। প্রথমত, এতে হৃত বাসভূমির অতি-সৌন্দর্যায়ন এবং ‘পুরনো ফিলিস্তিন’কে পৃথিবীর অবিকল্প স্বর্গ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, আর পবিত্র মাতৃভূমির ভাবমর্যাদা উদ্ধার করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মুক্তিসংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা। দ্বিতীয় মাত্রাটি উদ্ভূত হয় প্রথমটি থেকে, সেটা হল- আসল আশীর্বাদপুষ্ট ‘পুরনো ফিলিস্তিন’ তার পবিত্রতাসমেত ফিরে আসবে ভবিষ্যতে এবং অতীতের মতোই সুখী ও সমৃদ্ধ হবে, এই স্বপ্নের ব্যাপ্তি প্রসারিত হয় অনাগত ভবিষ্যতের মধ্যে। তৃতীয় মাত্রাটি উপরের দুটি বিষয়ের যোগফল। এর প্রকাশ দেশত্যাগ এবং আশ্রয়সন্ধানের গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে- এটা দারুণ ক্লেশের একটা অসুস্থ সময় যা ফিলিস্তিনিদের তেজস্বিতার পরীক্ষা নেয় এবং তারপর ঘোষণা করে তার আসন্ন বিজয়। এই পুরো ধারণাটি, যে কেউ বুঝতে পারবেন, সুস্পষ্টরূপে শুরু হয় পতনের সময়। তারপর সময় আসে ক্ষতি এবং ভোগান্তির, যা শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায় নিষ্কৃতি এবং নির্বাসন ও বিচ্ছিন্নতার মোকাবিলার কালে। নির্বাসিত লেখকদের যখন অতিরিক্ত ‘ধর্মীয় আশাবাদে’ আস্থাশীল হতে দেখা যায়, যা তাদের অতীত এবং বর্তমানকে একসূত্রে গাঁথতে সাহায্য করে, তখন ইসরাইলি দখলদারিত্বের মধ্যে বসবাসকারীরা পছন্দ করেন রূঢ় ও কুৎসিত ব্যঙ্গ, যা অতীতের জন্য কাতর কিন্তু একইসঙ্গে ফিসফিস করে বলে, অতীত আর ফিরছে না।
ফিলিস্তিনি সাহিত্যে ইতিহাস, রাজনীতি এবং সাহিত্য এমনভাবে পরস্পর জড়াজড়ি করে থাকে যে তাদের আলাদা করা যায় না। ফিলিস্তিনি লেখকরা মনে করেন তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই, এবং তারা এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন, বাস্তবতাকে তারা সব রূঢ়তাসমেতই উপস্থাপন করেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে বলল মস্কো
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই ঘণ্টা ধরে...
![]() |
| জোসেফ রুডলফ উড |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি বাহিনীতে কাজ করতে ৫০ সদস্যের অনীহা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় শিশুদের প্রথম পাঠ মৃত্যু
ইউরোপে ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভ : টানা তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসে তা সহিংস আকার ধারণ করেছে। খবর ডেইলি মেইলের।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপহরণ, নির্যাতন পরে লাইনে বসিয়ে গুলি!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট ফাওয়াদ মাসুম
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোজার ভুলত্রুটির জন্য ফিতরা
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বাধীনতা হরণ করবেন মন্ত্রী!
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বিপরীতে ব্রিকস ব্যাংক
মইনুল ইসলাম: প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা পরিস্থিতি ভয়াবহ আতঙ্কিত শিশুরা


About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
July
(592)
-
▼
Jul 25
(14)
- বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ -বিবিসিকে সাক্...
- নিহালের সোনালী কেশ ও বন্য ফুল
- ফিলিস্তিনি সাহিত্যে কবিতাই প্রাণ by গাস্সান কানাফানি
- ফিলিস্তিনি সাহিত্য : প্রতিরোধ ও স্বপ্নের রূপকল্প b...
- ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে বলল মস্কো
- দুই ঘণ্টা ধরে...
- ইসরায়েলি বাহিনীতে কাজ করতে ৫০ সদস্যের অনীহা
- গাজায় শিশুদের প্রথম পাঠ মৃত্যু
- অপহরণ, নির্যাতন পরে লাইনে বসিয়ে গুলি!
- ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট ফাওয়াদ মাসুম
- রোজার ভুলত্রুটির জন্য ফিতরা
- স্বাধীনতা হরণ করবেন মন্ত্রী!
- আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বিপরীতে ব্রিকস ব্যাংক
- গাজা পরিস্থিতি ভয়াবহ আতঙ্কিত শিশুরা
-
▼
Jul 25
(14)
-
▼
July
(592)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






