Showing posts with label সুইডেন. Show all posts
Showing posts with label সুইডেন. Show all posts

Tuesday, August 26, 2025

শত বছরের পুরোনো বিশাল আস্ত গির্জা চলে যাচ্ছে অন্য শহরে

মাটিধসে ঝুঁকিতে পড়া ১১৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক একটি গির্জাকে না ভেঙে পুরোপুরি স্থানান্তর করা হচ্ছে। সুইডেনের উত্তরাঞ্চলের একটি সড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গির্জাটিকে।

সুইডেনের কিরুনায় ১৯১২ সালে নির্মিত লাল কাঠের বিশাল এই গির্জাকে বড় একটি ট্রেলারের ওপর তোলা হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে নতুন শহরের পথে যাত্রা করছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার গতিতে চলা এই যাত্রা শেষ হতে দুই দিন লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে লৌহ আকরিক খনির খননকাজের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও ফাটলের ঝুঁকিতে আছে পুরোনো শহরের কেন্দ্রস্থল। কিরুনার ভবনগুলোর স্থানান্তরের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে গির্জার স্থানান্তর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা। শহরটি আর্কটিক সার্কেলের ১৪৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

গির্জার ভিকার লেনা জার্নবার্গ ও লুলেয়ো ডায়োসিসের বিশপ আশা নাইস্ট্রোমের আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গির্জা স্থানান্তরের যাত্রা শুরু হয়। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রেলারের ইঞ্জিন চালু হয়ে বিশাল কাঠের গির্জাটিকে নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগোতে শুরু করে। প্রথম ঘণ্টায় এটি মাত্র ৩০ মিটার অগ্রসর হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই ব্যতিক্রমী ঘটনা প্রত্যক্ষ করছেন।

সুইডেনের সাংস্কৃতিক কৌশলবিদ সোফিয়া লাগারলোফ মাত্তা বলেন, ‘এটা বিশাল জনসমাগম। শুধু কিরুনা বা সুইডেনের বিভিন্ন জায়গা থেকেই নয়, নানা ভাষার মানুষ এখানে এসেছেন। মনে হচ্ছে, যেন চোখের সামনে ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।’

স্থানান্তরের কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টেফান হোমব্লাড জোহানসন বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বিশাল ও জটিল কাজ এবং এখানে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।’

২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে কিরুনার অন্যান্য ভবন নিরাপদ এলাকায় সরানো শুরু হয়। বেশির ভাগ ভবন ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, তবে কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা হুবহু অক্ষত সরানো হয়েছে।

এর মধ্যে আছে ইয়ালমার লুন্ডবোমসগার্ডেনের হলুদ সারির তিনটি পুরোনো কাঠের বাড়ি ও খনির ব্যবস্থাপক ইয়ালমার লুন্ডবোমের বাসা। এগুলো তিন ভাগে কেটে সরানো হয়েছিল। পুরোনো সিটি হলের ছাদের ক্লক টাওয়ারটিও সরিয়ে নতুন সিটি হলের পাশে বসানো হয়েছে।

সুইডিশ আইনে কোনো ভবনের নিচে খননকাজ করার অনুমতি নেই। কিরুনার একটি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রবার্ট ইলিতালো বলেন, ‘মানুষ হঠাৎ ফাটলের মধ্যে পড়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। সময়ের সঙ্গে ফাটলগুলো পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অবকাঠামো ধসে পড়ার আগে মানুষকে সরিয়ে আনতে হবে।’

লৌহ আকরিক খনির অপারেটর ও কিরুনার সবচেয়ে বড় নিয়োগদাতা এলকেএবি পুরো শহর স্থানান্তরের খরচ বহন করছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা ৭৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড)।

কিরুনা গির্জার উচ্চতা ৩৫ মিটার (১১৫ ফুট), প্রস্থ ৪০ মিটার ও ওজন ৬৭২ টন। এটি একসময় সুইডেনে ১৯৫০ সালের আগের সবচেয়ে সুন্দর ভবন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

এত বড় ভবন স্থানান্তর একটি জটিল বিষয়। তবে ভবনটিকে না ভেঙে প্রকৌশলীরা পুরো ভবনটি একসঙ্গে অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নিচ্ছেন। এটি সরানো হচ্ছে ইস্পাত বিমের ওপর ভর করে স্বচালিত মডুলার ট্রান্সপোর্টারের মাধ্যমে।

জোহানসন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাস্তা প্রস্তুত করা, যাতে এত বড় ভবন পার হতে পারে। আমরা রাস্তা ২৪ মিটার (৭৯ ফুট) প্রশস্ত করেছি। রাস্তা থেকে ল্যাম্পপোস্ট, ট্রাফিক লাইট সরানো হয়েছে, এমনকি একটি সেতু ভেঙে ফেলা হয়েছে।’

গির্জা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দেখতে গোথেনবার্গ থেকে গাড়ি চালিয়ে সেখানে গেছেন লেনা এডকভিস্ট ও তাঁর স্বামী। লেনা বলেন, ‘আমি বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া গির্জায় যাই না। তবে এটি আমার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। ওরা না ভেঙে গির্জাটি পুরোপুরি সরাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গৌরবের।’

ভেইডেক্কে নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কিয়েল ওলভসন বলেন, ‘বছরের পর বছর প্রস্তুতির পর অবশেষে আমরা এগোতে শুরু করেছি। আমি আনন্দিত এবং মুহূর্তটা উপভোগ করছি। আবহাওয়া ভালো, আর আমি নিশ্চিত সবকিছু নির্বিঘ্নে চলবে।’

অক্ষত অবস্থায় গির্জা স্থানান্তরে সবচেয়ে সংবেদনশীল কাজগুলোর একটি হলো, গির্জার ভেতরের ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষা করা, বিশেষ করে সুইডিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স ইউজেনের আঁকা বিশাল বেদিচিত্র।

স্থানান্তরের কাজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জোহানসন বলেন, ‘এটা এমন কিছু নয়, যেটা হুক থেকে নামিয়ে নেওয়া যায়। এটা সরাসরি ইটের দেয়ালে আটকানো, তাই ক্ষতি ছাড়া সরানো যেত না। এ জন্য স্থানান্তরের সময় ছবিটি গির্জার ভেতরেই ঢাকা থাকবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই স্থানান্তর বিস্ময়ের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি গভীর আবেগঘন মুহূর্ত। সোফিয়া লাগারলোফ মাত্তা বলেন, ছোটবেলায় তিনি দাদির হাত ধরে প্রথমবারের মতো গির্জায় গিয়েছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গির্জাটি ছিল আত্মিক কেন্দ্র ও মিলনস্থল।

মাত্তা আরও বলেন, ‘এই স্থানান্তর আমাদের আনন্দ ও বেদনার স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে এনেছে। আর আমরা সেই স্মৃতিগুলো সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি অন্য শহরে।’

স্থানান্তরের কাজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জোহানসন একজন প্রকৌশলী। তিনি গির্জার গসপেল সংগীত দলেরও সদস্য। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটি একেবারেই বিশেষ কাজ। ১০০ বছর আগে গির্জাটি এলকেএবি পৌরসভার জন্য তৈরি করেছিল। এখন আমরা এটিকে নতুন শহরে সরিয়ে নিচ্ছি। আর কোনো বিকল্প ছিল না।’

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে গির্জাটি নতুন শহরের কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার কথা।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-21%2Fi2n2qw8r%2FKiruna-Church-3.jpg?rect=0%2C0%2C5460%2C3640&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
৬৭২ টন ওজনের বিশাল এই গির্জাকে বড় একটি ট্রেলারের ওপর তোলা হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে নতুন শহরের পথে যাত্রা করছে। ১৯ আগস্ট। ছবি: এএফপি

Friday, January 31, 2025

মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানো যুবককে গুলি করে হত্যা সুইডেনে

সুইডেনে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানো যুবক সালওয়ান মোমিকা’কে (৩৮) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থে আগুন দিয়ে সহিংস প্রতিবাদ বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছিল সে। তার কর্মকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ইরাকের সঙ্গে সুইডেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে দেখা দেয় উত্তেজনা। এক পর্যায়ে বাগদাদ থেকে বহিষ্কার করা হয় সুইডেনের রাষ্ট্রদূতকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যায় স্টকহোমের সোদারটালজে’তে একটি এপার্টমেন্টে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে স্কটহোম সেন্ট্রাল মসজিদের বাইরে মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থে অগ্নিসংযোগ করে মোমিকা। এর ফলে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হত্যার পর বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে ৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। উল্লেখ্য, সালওয়ান মোমিকা একজন ইরাকি। সে বসবাস করে সুইডেনে। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে চারটি ঘটনায় একটি জাতিগত গ্রুপের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়। এ কারণে অন্য একজনের সঙ্গে অভিযুক্ত হয় সে। এই ঘটনার রায় দেয়ার কথা আজ বৃহস্পতিবার। কিন্তু স্টকহোম ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট বলেছে, দুই আসামীর মধ্যে একজন নিহত হওয়ার ফলে রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, সালওয়ান মোমিকা ইসলামবিরোধী ধারাবাহিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। এতে বহু মুসলিমের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বিক্ষোভ। বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে দু’বার প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরাকের সঙ্গে সুইডেনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফলে বাগদাদ থেকে বহিষ্কার করা হয় সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে।

এখানে উল্লেখ্য, যে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সালওয়ান মোমিকা মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থে অগ্নিসংযোগ করেছে, তার অনুমতি দিয়েছিল সুইডিশ সরকার। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই অনুমতি দেয়া হয়েছিল। পরে তারা কোনো ধর্মীয় পুস্তক পোড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিবাদবিক্ষোভের বিষয়ে আইন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

mzamin

Wednesday, November 13, 2019

সুইডেন: যে দেশে এমপিদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা না পাওয়াটাই রীতি

সুইডেনের এমপি প্রি-অর্নে হাকানসন
রাজনীতিবিদ হিসাবে পেশাটি হয়তো অনেক দেশেই অর্থনৈতিকভাবে বেশ সুবিধাজনক একটি ব্যাপার।
কিন্তু সুইডেনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একেবারে আলাদা।
এই দেশে রাজনীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়, যা তাদের কাছে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে একটি চাকরির মতো।
ফলে খুব ভালো অংকের হাতখরচ আর নানারকম বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাওয়া তো দূরের কথা, বরং জনগণের করের টাকা খরচের ব্যাপারে সুইডেনে অত্যন্ত কড়াকড়ি রয়েছে সংসদ সদস্যের ওপরে।
'সাধারণ নাগরিক'
''আমরা হচ্ছি দেশের সাধারণ নাগরিক'' বলছেন প্রি-অর্নে হাকানসন, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন সংসদ সদস্য।
সুইডেনের একমাত্র রাজনীতিবিদ হিসাবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি পান
''সংসদ সদস্যের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাবার বিষয়টি কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ আমাদের কাজ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, তারা যে অবস্থায় বা যেভাবে বসবাস করছেন, সেটাকেই তুলে ধরা।''
''আমরা শুধু এটা বলতে পারি, আমাদের সুবিধা এটাই যে, আমরা এই কাজটি করতে পারছি আর দেশ পরিচালনায় প্রভাব রাখতে পারছি,'' বলছেন হাকানসন।
সুইডেনের সংসদ সদস্যরা পাবলিক পরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন।
কিন্তু অনেক দেশের মতো তারা নিজের জন্য কোন গাড়ি বা চালক পান না।
এমনকি সুইডেনের পার্লামেন্টের মাত্র তিনটি ভলভো এস-এইটটি আছে, যা শুধুমাত্র সরকারি অনুষ্ঠানের কাজে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট এবং তিনজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।
''আমাদের কোন ট্যাক্সি সার্ভিস নেই,'' ব্যাখ্যা করে বলছেন রেনে পোডকে, পার্লামেন্টের একজন কর্মকর্তা।
''সংসদ সদস্যদের বাড়িতে বা কাজের স্থানে আনা নেয়া করার জন্য এসব গাড়ি নয়।''
আসলে দেশটিতে শুধুমাত্র যে একজন রাজনীতিবিদকে সরকারিভাবে গাড়ি দেয়া হয়েছে, তিনি হচ্ছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী।
অনেক দেশের রাজনীতিবিদের তুলনায় সুইডেনের এমপিরা অনেক কম আয় করেন
মজুরি
সুইডেনের সংসদ সদস্যরা মাসে আয় করেন গড়ে ৬৯০০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের একজন কংগ্রেসম্যানের মাসিক বেতনের অর্ধেক।
সুইডেনের কর্মীদের গড় মাসিক আয় প্রায় ২৮০০ ডলারের মতো।
'অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়'
যেসব সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকা স্টকহোমের বাইরে, তারা 'ট্রাটামেন্ট' নামের একটি বিশেষ ভাতা দাবি করতে পারেন। সেটি হচ্ছে যে কদিন তারা রাজধানীতে থাকবেন, ততদিনের জন্য একটি দৈনিক ভাতা।
কিন্তু সেটা কতো? প্রতিদিনকার জন্য প্রায় ১২ ডলার, যা দিয়ে স্টকহোমে একবেলার জন্যও খুব বিলাসী কোন খাবার কেনা যাবে না।
কফি কেনার জন্যও তাদের নিজেদের খরচ দিতে হয়।
তবে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সুইডেনের সংসদ সদস্যরা কোন মজুরিও পেতেন না। তার বদলে দলের কর্মীরা এই সংসদ সদস্যদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন।
১৯৫৭ সাল থেকে সুইডেনের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা ভাতা পেতে শুরু করেন
পার্লামেন্টের নথিপত্রে দেখা যায়, বেতন দেয়ার বিষয়টি এজন্য চালু করা হয়েছে যাতে কোন নাগরিকের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে না পড়ে। কিন্তু সুইডিশরা এটাও চান না যেন এই বেতন আবার তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বের অনেক দেশের মতো সুইডেনের সংসদ সদস্যরা ভর্তুকি মূল্যের আবাসন পেতে পারেন। তবে শুধুমাত্র তারাই পাবেন, যারা স্টকহোমে থাকেন না।
সিঙ্গেল বেড
আর তাদের সেই থাকার জায়গাটি আহামরি কোন বিলাসবহুল স্থান নয়। প্রি-অর্নে হাকানসন বলছেন, তিনি থাকেন মাত্র ৪৬ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে।
সরকারি পরিচালনার অনেক স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের আকার মাত্র ১৬ বর্গমিটার।
সরকার পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোয় সামান্যই আসবাবপত্র থাকে
আর এসব ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন বা ডিসওয়াশারের মতো আসবাবপত্রও থাকে না। আসবাব বলতে সেখানে শুধুমাত্র একজনের থাকার মতো একটি সিঙ্গেল বেড রয়েছে।
কারণ জনগণের অর্থ শুধুমাত্র একজন সংসদ সদস্যের খরচের জন্য, এসব অ্যাপার্টমেন্ট একরাত থাকতে হলে তার সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের অর্থ দিতে হবে। যদি কোন সংসদ সদস্য যদি তার সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে ভাড়ার অর্ধেক তাকে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
ভাড়ার সীমা
''শুধুমাত্র সংসদ সদস্য ছাড়া আর কাউকে এসব অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ আমরা দেবো না,'' বলছেন পার্লামেন্টের কর্মকর্তা আনা অ্যাস্পেগ্রেন।
সংসদ সদস্যরা চাইলে অন্য কোথাও থাকতে পারেন এবং সেটি ভাড়া নেয়ার জন্য পার্লামেন্টের একটি আবাসন তহবিল থেকে কিছুটা অনুদান নিতে পারেন। কিন্তু তার সীমা রয়েছে, প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৮২০ ডলার, যা স্টকহোমের কেন্দ্রস্থলের ভাড়ার হারের তুলনায় অত্যন্ত কম।
কফি খেতে হলেও এমপিদের খরচ দিতে হয়
১৯৯০ সাল পর্যন্ত আবাসনের চিত্রটি ছিল আরো করুণ। তখন সংসদ সদস্যদের জন্য ভর্তুকি মূল্যের কোন আবাসন ব্যবস্থা ছিল না।
তাদের তখন নিজেদের অফিসে ঘুমাতে হতো, যা ছিল মাত্র ১৫ বর্গমিটারের।
ব্যক্তিগত সহকারী বা উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে সুইডিশ সংসদ সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
বরং যে রাজনৈতিক দল থেকে এমপিরা আসেন, সেই দল একটি বিশেষ ভাতা পায়, যা দিয়ে তারা একটি কর্মী বাহিনী নিয়োগ করতে পারে, যারা সব দলের এমপিদের জন্যই কাজ করবে।
একজন সুইডিশ এমপির কার্যালয়
বিনামূল্যের কাজ
সুইডেনের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এই খরচের কড়াকড়ির ব্যাপারটি আরো কঠিন।
অনেক দলের কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল পেশার পাশাপাশি বলে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কোন বেতন পান না শুধুমাত্র যারা নির্বাহী কমিটিতে কাজ করেন, তারা পার্টটাইম বা ফুল-টাইম হিসাবে ভাতা নিতে পারেন।
ক্রিশ্চিয়ানা এলফোর্স-জোডিন এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, ''এটা একটি স্বেচ্ছামূলক কাজ, যা আমরা আমাদের অতিরিক্ত সময়ে ভালো মতোই করতে পারি।''

Thursday, July 18, 2019

পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না সুইডেন

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে সুইডেন। গত শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী চুক্তিটি প্রস্তুত নয়।
সুইডেনের মন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম বলেছেন, চুক্তিতে এখনও পারমাণবিক অস্ত্রের পরিষ্কার কোনও সংজ্ঞা নেই। এছাড়া আরও কয়েকটি ইস্যু রয়েছে যেগুলোর উত্তর অবশ্যই পেতে হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মার্গট বলেন, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য নিজে দেশের পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাও তাদের নেই। এতে স্বাক্ষর করতে হলে আরও দুটি দলের সমর্থন পেতে হবে।

সুইডেনের ক্ষমতায় রয়েছে সামাজিক-গণতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকার। জাতিসংঘের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর ইস্যুতে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দেশটির সরকার। কেউ কেউ বলছেন জাতিসংঘের চুক্তি অনুমোদন করলে সরকারি জোটের  সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।  যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে। তবে এই জোটের বিশ্বাস জাতিসংঘের চুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাবে না।

গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের সরকার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ পদক্ষেপ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার কাজ অব্যাহত রাখবে।  তিনি বলেন, সরকারের কাজের লক্ষ্য পরিষ্কার: পরমাণু-মুক্ত বিশ্বের জন্য বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হবে সুইডেন।

সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ বিষয়ক জাতিসংঘের চুক্তি পর্যালোচনা করতে ২০২০ সালে একটি সম্মেলনের প্রয়োজন যেখানে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি দেবে। আর তা যদি না হয় তাহলে নিরাপত্তানীতি বিষয়ক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে সুইডেন। আর বিগত কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রের তৈরি করা হুমকি সবচেয়ে মারাত্মক। বেশ কয়েকটি দেশ তাদের অস্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটিয়েছে আর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের ঘাটতি জরুরি সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ধারণা করা হয়, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৫ হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর পরমাণু হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মূল পরমাণবিক শক্তিধর পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেবে। অন্য দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাবে না। তবে জ্বালানি তৈরির কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা পাবে দেশগুলো।