Saturday, May 6, 2017

নয়াদিল্লীতে গ্যাস লিকের কারণে ৪০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর একটি সরকারি বিদ্যালয়ের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের কাছের একটি স্থানে রাখা কন্টেইনার ছিদ্র হয়ে গ্যাস নির্গত হওয়ার পর এসব শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা একথা জানান। খবর সিনহুয়ার। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং শরীর চুলকাচ্ছে শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তৎপর হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘এখানে সকলে নিরাপদে আছে। আমরা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা চোখ ও গলা চুলকানোর কথা জানায়। স্কুলের কাছের একটি কন্টেইনার থেকে গ্যাস নির্গত হওয়ায় এটি ঘটতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। কর্তৃপক্ষ গ্যাস নির্গত হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যদের পাঠিয়েছে।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জনগণের উন্নতি সহযোগিতার নানাক্ষেত্রে দেশগুলোর সফলভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় গণভবন থেকে দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত যৌথ ভিডিও কনফারেন্সের বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও ভারতের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা এই ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুষ্ঠানে সূচনা ও সমাপনী বক্তৃতা প্রদান করেন। আরো বক্তৃতা করেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গণি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থেসারিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুম, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল এবং শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা শ্রীসেনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে আমরা সুপ্রতিবেশীর মতই বসবাস করে আমাদের জনগণের জন্য গঠনমূলক নীতির বাস্তবায়ন করতে পারি, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর দৃশ্যপট বদলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে স্থল, জল এবং আকাশপথ ছাড়িয়ে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত করলো। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত মহাশূন্যে এই সহযোগিতা আমাদের এই অঞ্চলের স্বার্থে আমাদেরকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উচ্চাকাক্সিক্ষ পথে নিয়ে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জিস্যাট-৯ (জিএসএটি) বা দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইটটি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্য উপহার হিসেবে ২৩৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ভারত সরকার তৈরী করেছে। জিএসএলভি-এফ০৯ শ্রেণীভুক্ত এই উপগ্রহটি ভারতীয় সময় বিকেল ৫টায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ভারতের আইএসআরও’র (ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্স অর্গানাইজেশন) তত্ত্বাবধানে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উপগ্রহটির সফল মহাকাশ যাত্রার ভিডিও ক্লিপও প্রদর্শন করা হয়। প্রায় তিন বছর সময় নিয়ে আইএসআরও নির্মিত উপগ্রহটির নিক্ষেপণ যন্ত্রসহ এর ওজন দুই হাজার ২৩০ কেজি। এই উপগ্রহের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যোগাযোগ, দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, দেশগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ম্যাপিং, টেলি মেডিসিন, টেলি কমিউনিকেশ, টেলি এডুকেশন,তথ্য প্রযুক্তি সহ এক দেশের সাথে অন্যদেশের জনগণের যোগাযোগ এবং দুর্যোগকালীন তথ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হবে। এই উপগ্রহটির মাধ্যমে ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর আরো কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসবে বলেই আইএসআরও’র অভিমত। এই উপগ্রহটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দারিদ্র্য ও অশিক্ষা দূরীকরণসহ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে এবং আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়ে সহযোগিতা করবে। এজন্য উপগ্রহের সাথে সংযুক্ত দেশগুলোর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে উপগ্রহটি থেকে ১২ কেইউ-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে সরবরাহকৃত ডাটা গৃহীত হবে। এ সময় গণভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডাক ও টেলিয়োগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ আমন্ত্রিত অতিথি এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা তার বক্তৃতার শুরুতেই সফল উপগ্রহ উৎক্ষেপণ এবং তার সাম্প্রতিক ভারত সফরে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভারত সরকার এবং সেদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীজি আমি আপনার সাথে আবারো কথা বলার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। একই সাথে আজকে এই প্লাটফর্মটি আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলংকার আমার অন্যান্য সন্মানিত সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করতে পেরেও আনন্দিত।’ তিনি বলেন, এই সুযোগে গত এপ্রিল মাসের ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফরকালে আমাকে এবং আমার সফরসঙ্গীদের উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ভারত সফরকালে আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক আমাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং বহুমাত্রিকতার পরিচয় বহন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই মহতি অনুষ্ঠানে আমি আপনাকে ও ভারত সরকারকে দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি খুবই আনন্দিত যে, মাত্র ক’দিন আগেই আমরা দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইটে সহযোগিতার বিষয়ে ‘অর্বিটাল ফ্রিকোয়েন্সী ’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে আগামীতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো উত্তোরত্তর বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করে সকল দেশ ও জনগণের সুখ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সমঅনুভূতির বার্তাই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট এটা প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আকাশ পর্যন্তই নয়, আরো বহুদূর বিস্তৃত। মোদী হিন্দিতে বলেন, ‘সাবকা সাথ সাবকা ভিকাস’ (সকলের সাথে সহযোগিতা এবং সবার সাথেই উন্নয়ন)। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার পথ নির্দেশক এবং ভারত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হওয়ার জন্য সবার সাথে সহযোগিতার নীতিতেই বিশ্বাসী। তিনি তার ভিশনকে সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সব সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, নেপালের কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব উদ্যোগে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান ভারতের স্যাটেলাইটে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় এর নাম পরিবর্তন করে সার্ক স্যাটেলাইটের পরিবর্তে সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট নামকরণ করা হয়। এ স্যাটেলাইট মিশনের মেয়াদ হচ্ছে ১২ বছর।

কৃষ্ণ সাগরে ঢুকে পড়েছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার অস্কার অস্টিন কৃষ্ণ সাগরে ঢুকেছে। মার্কিন আঞ্চলিক মিত্র এবং অংশীদারদের সাথে পারস্পরিক তৎপরতা জোরদার করতে এটি কৃষ্ণ সাগরে গেছে বলে মার্কিন নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, গতকাল এটি কৃষ্ণ সাগরে ঢুকেছে।
ন্যাটো মিত্রদের সমর্থনে পূর্ব ইউরোপের সাগরে তৎপরতা চালাবে অস্কার অস্টিন। অপারেশন আটলান্টিক রিজলভের অংশ হিসেবে এ তৎপরতা চালান হবে। মার্কিন ৬ষ্ঠ নৌ বহরের তৎপরতার অংশ হলো কৃষ্ণ সাগর। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী তৎপরতা চালায় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কাছে বিরোধীদের বিক্ষোভের সময় ২০ বছর বয়সী এক যুবক প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৭ জনে। খবর সিনহুয়ার। প্রসিকিউটর-জেনারেল অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চলীয় ক্যারাবোবো রাজ্যের সান ডিয়েগোতে বিক্ষোভের সময় হেকডার লুগো গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত লুগোকে ভেলি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলায় এপ্রিলের প্রথমদিক থেকে সরকারি বিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক চমৎকার’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সফররত ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে আধঘণ্টার বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তপ্ত ফোনালাপের পর দুই নেতার এটাই প্রথম সামনাসামনি সাক্ষাৎ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বনিবনা ছিল চমৎকার। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে।
আমি অস্ট্রেলিয়াকে ভালোবাসি। সব সময়ই ভালোবেসেছি।’ অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী ১ হাজার ২০০ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে বারাক ওবামা সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ট্রাম্প মানতে অস্বীকৃতি জানালে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিতে রাজি হয়। বৃহস্পতিবার দুই নেতা অভিবাসন, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় সামরিক শক্তি বাড়াতে হবে

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত দেশটির কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছে না। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির নাম উল্লেখ না করে রাওয়াত বলেন, পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তের প্রতিবেশীদের মোকাবিলার জন্য ভারতকে নতুন নতুন বন্ধু ও সহযোগীর সন্ধান করতে হবে। প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের উদাহরণ টেনে জেনারেল রাওয়াত বলেন, ভারতের সত্যিকারের সামর্থ্য তখনই বোঝা যাবে,
যখন একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামরিক শক্তি হাতে হাত রেখে এগোবে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারতের সামরিক বাহিনী উপযুক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে চীনের কাছ থেকে শেখার আছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ২ .৭৪ লাখ কোটি রুপি , যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর ২০১৭ সালে চীনের সামরিক ব্যয় ১৫ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা দেশটির জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ এবং ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

এবার পশ্চিমবঙ্গে আত্রেয়ী বাঁচাও আন্দোলন

ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের আত্রেয়ী নদীর বাঁধ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি দেওয়াতেও রয়েছে তাঁর আপত্তি। মমতার এই দাবির পর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরে শুরু হয়েছে ‘আত্রেয়ী বাঁচাও আন্দোলন’। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিস্তা নদীর পাল্টা আন্দোলন হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুরে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।
দুই দিন আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মমতা আত্রেয়ী নদীর বাঁধ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসককে আত্রেয়ীর পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা। তাঁর ঘোষণার পর নতুন করে আত্রেয়ী আন্দোলন গতিশীল হয়। গত মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আত্রেয়ী নদীকে বাঁচানোর দাবিতে স্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছে।

স্বামীকে তিনবার গুলি করলেন স্ত্রী

বেঙ্গালুরুর হোসুর এলাকায় মারামারির পর গাড়ির ভেতর স্বামীকে পরপর তিনবার গুলি করেছেন স্ত্রী। স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ নাটকীয় ঘটনা ঘটে। স্বামীর নাম সাইরাম (৫৩) এবং স্ত্রীর নাম হামসা (৪৮)। স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই ঝগড়াবিবাদ ছিল। পুলিশ বলছে, আনেকাল এলাকায় মধ্যাহ্নভোজের জন্য নামার পর দুজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। সাইরামকে গুলি করেন হামসা।
স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও সাইরাম গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের একটি বাসে উঠে যান। কিন্তু হামসা স্বামীর পিছু ছাড়েননি। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাসের সামনে চলে আসেন। এরপর বাসকে থামান। বাসে উঠে সাইরামের ওপর আবার গুলি ছোড়েন। বাসের যাত্রীরা হামসাকে থামান। তাঁরাই পুলিশ ডাকেন। হামসা ও সাইরামকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হামসার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামসা স্বামীকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ বলছে, স্বামী-স্ত্রী দুজনই নিরাপত্তা সংস্থা পরিচালনা করেন।

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতাকে ছিনিয়ে নিল সহযোগীরা

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা শ্রমিক লীগের এক নেতাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের আমিন জুট এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়িতে আরও অস্ত্রের মজুত রয়েছে এমন তথ্য তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান। তাঁর নাম মো. সাইফুদ্দিন ওরফে বাপ্পী। পরে রাতেই তাঁকে নিয়ে বোয়ালখালীতে অভিযানে যায় পুলিশ। বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার শেষ করার পরই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় শ্রমিকনেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ গ্রামের চেয়ারম্যান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আসামি সাইফুদ্দিন বোয়ালখালী উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি। তাঁর বড় ভাই বেলাল হোসেন সারোয়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম এরশাদ উল্লাহ, আইয়ুব উদ্দিন ও সঞ্জয় পাল এবং চান্দগাঁও থানার এসআই মফিজ উদ্দিন। তাঁরা চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ অঞ্চল) এস এম মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর ও আতুরার ডিপো এলাকায় গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা অস্ত্রের জোগানদাতা হিসেবে সাইফুদ্দিনের নাম জানান।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর-হাটহাজারী সড়কের আমিন জুট এলাকা থেকে সাইফুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুদ্দিন পুলিশকে জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীর সারোয়াতলীতে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে। তাঁর দেওয়া ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে নিয়ে বোয়ালখালীতে যায়। সেখানে সাইফুদ্দিনের খাটের নিচ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি শাটারগান, একটি এয়ারগান, একটি চায়নিজ কুড়াল, চারটি বিভিন্ন সাইজের ধামা, ১৬টি বিভিন্ন আকৃতির ছুরি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সাইফুদ্দিনের বড় ভাই সারোয়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই সাইফুদ্দিনকে সাদাপোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা ধরে নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী বাধা দেন। সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগের তিনটি অস্ত্র মামলা সম্পর্কে তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে মামলাগুলো করা হয়েছিল। তবে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার বলেন, অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে ফেরার সময় বাড়ির আঙিনাতেই সাইফুদ্দিনের ছোট ভাই সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

শুরু হলো প্রথম আলো নাফিয়া গাজী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘প্রথম আলো ১২তম নাফিয়া গাজী আন্তবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৭’। প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদ (ডিইউডিএস)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী নাফিয়া গাজী ১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি একজন বিতার্কিক ছিলেন। তাঁর স্মরণে ডিইউডিএস নাফিয়া গাজী বিতর্ক প্রতিযোগিতা চালু করে। প্রতি দুবছর পরপর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ১২তম আসরে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রথম আলো।
গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিইউডিএসের মডারেটর অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা নাফিয়া গাজীর মতো একজন মেধাবী বিতার্কিককে হারিয়েছি। যে কতিপয় বিতার্কিক বিতর্ককে ভালোবেসে এর চর্চায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নাফিয়া গাজী একজন।’ প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারলে আনন্দিত বোধ করব।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইউডিএসের সভাপতি রায়হান শানন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল কবির। গতকাল বিতর্কের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। ১১ ও ১২ মে পরবর্তী পর্বগুলো হবে।

বোয়িংয়ে চড়ে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার বোয়িংয়ে চড়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার গেলেন। ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ‘মেঘদূত’। কক্সবাজারের সম্প্রসারিত রানওয়ে ব্যবহার করে নামার পর বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেন।
এ ছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উদ্বোধন, দুটি এলএনজি টার্মিনালের ভিত্তিফলক উন্মোচনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন তিনি। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে একই উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি করে ব্রিটিশরা। কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমানসহ দেশের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা ছোট আকৃতির উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। বিমানবন্দরটির রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হয়েছে। এ ছাড়া রানওয়ের প্রস্থ ১৫০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২০০ ফুট করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের ৩ জেলায় বোরো ধানে চিটা

‘ওষুদ যা দিবার কওছে তাই তো দিচ্ছি। কিন্তুক কাজ হওছে না’—বললেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নান্দাইলদীঘি পাথারে বোরো ধানচাষি আবদুল মান্নান। তিনি চার বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো চাষ করেছেন। এর অর্ধেক জমিতে ধানের ছড়া পুষ্ট হচ্ছে না। পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। গত বুধবার জমিতে কথা হচ্ছিল আবদুল মান্নানের সঙ্গে। নান্দাইলদীঘি পাথারে বিঘার পর বিঘা জমিতে এই সমস্যা। ধানের চমৎকার ছড়া বের হলেও পুষ্ট হচ্ছে না, চিটা হয়ে যাচ্ছে। ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারদের পরামর্শে কৃষকেরা ওষুধ দিলেও বিশেষ কাজ হচ্ছে না। নান্দাইলের আকলিমা বেগমের সাড়ে তিন বিঘায়, আবদুস সালামের এক বিঘায়—এমন করে সবার জমিতে এই রোগ দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এর নাম ‘ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতামরা’ সংক্ষেপে ‘বিএলবি’। পাশাপাশি ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁয়। সরেজমিনে এই তিন জেলায় দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠের বোরো জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলে ধান চাষের অন্যতম প্রধান উৎস এই তিন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে এবার ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও স্থানীয় উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো চাষ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা, শিবগঞ্জ, দুপচাঁচিয়া; জয়পুরহাটের কালাই, ক্ষেতলাল এবং সদর উপজেলায় ব্লাস্ট ও বিএলবির প্রকোপ দেখা গেছে বেশি। নওগাঁয় প্রকোপ কম হলেও অতিবর্ষণে নিম্নাঞ্চলের জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি। জয়পুরহাটে বোরো চাষ হয়েছে ৭২ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে। জয়পুরহাটের চাষিরা বললেন, তিন ফসলি জমিতে আমন কাটার পর আলুর চাষ হয়। আলু উঠলে ফাল্গুনের শেষে বোরো রোপণ হয়। আলুর জমিতে বোরো চাষ করায় এই জেলায় ব্লাস্ট ও পাতামরা রোগের প্রকোপ বেশি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিংসহ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু রোগের প্রকোপ কমছে না।
কৃষকেরা বলছেন, বোরোতে এখানে বিঘাপ্রতি ন্যূনতম ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। এক বিঘায় খরচ পড়ে গড়ে আট হাজার টাকা। এর মধ্যে বীজ ৫০০ টাকা, চাষ ২০০ টাকা ও বপন ৫০০ টাকা, সার ও পানি ৪ হাজার ৫০০ টাকা, কাটা ২ হাজার টাকা ও মাড়াই ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে জমি যদি পত্তন নিতে হয়, তার খরচ আছে। নিজের শ্রমের মজুরি আছে। এবার ধানের সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি মণ ৯৬০ টাকা। সে অনুযায়ী ২০ মণের দাম আসে ১৯ হাজার ২০০ টাকা। খরচ বাদে হাতে থাকার কথা ১০-১১ হাজার টাকা। কিন্তু যেসব জমিতে রোগ দেখা দিয়েছে, তাতে বিঘায় পাঁচ মণ ধানও পাওয়া যাবে না। অনেকের পুরো জমির ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। আলুর ফলনে যে সুখ, স্বস্তি ছিল, তা বিনষ্ট করেছে বোরোর রোগবালাই। কালাইয়ের পুনট, নান্দাইল, সরাইল, বানিহারা, হাজিপাড়া; ক্ষেতলালের নিশ্চিন্তা, শিশি, শালবন, ক্ষেতলাল ও জয়পুরহাট সদরের বিলতুলসী, সোটাহার, কমরগ্রাম, বানিয়াপাড়ায় দেখা গেছে, বিঘার পর বিঘা খেতের ধানের পাতা শুকিয়ে গেছে কিংবা ধানের ছড়া অপুষ্ট ও ফ্যাকাশে সবুজ। নিশ্চিন্তার কৃষক আবু হেনা বলেছেন, ওষুধ দিয়ে কোনো ফল পাচ্ছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলাতেই ব্লাস্ট ও পাতামরা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে তা খুব আশঙ্কাজনক নয়। তাঁরা রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট রয়েছেন। ব্লক সুপারভাইজাররা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, প্রচারপত্র বিতরণ করেছেন। বগুড়ায় ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটার জন্য মাইকিং বগুড়ায় বোরো চাষ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৫০ হেক্টরে। ব্লাস্ট ও পাতামরা রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাইকিং করে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই খেত থেকে কেটে নিতে বলেছে। শতভাগ পাকার অপেক্ষা না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ১২ বিঘায় বোরো চাষ করেছেন। বিআর-২৮ জাতের তিন বিঘার ধান কেটেছেন। ‘ব্লাস্ট’ রোগে প্রায় সব ধান চিটা হয়ে গেছে। তিন বিঘায় ফলন পেয়েছেন মাত্র তিন মণ। দীঘলকান্দির শাজাহান আলীর ফসল নষ্ট হয়েছে সাত বিঘার। হাট করমজা গ্রামের কৃষক বাবু মিয়ার তিন বিঘা খেত ব্লাস্ট আক্রান্ত। সোনাতলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ্ উদ্দিন সরদার বলেন, উপজেলায় ১০ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হেক্টর জমির ধান ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাইকিং, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের সাতআনী মাঠে বোরো খেতে ‘ব্লাস্ট’ ছড়িয়ে পড়েছে। দুপচাঁচিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে পাতামরা রোগ।
দুপচাঁচিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, উপজেলায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ হেক্টরে পাতামরা রোগ দেখা দিয়েছে। ধান কাটার জন্য মাইকিং করা ছাড়াও আক্রান্ত খেতে আটকে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং পটাশ সার স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ২৭ হেক্টর জমির ব্লাস্ট রোগ দমন করা হয়েছে। ১২ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। নওগাঁয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় নওগাঁয় বোরো চাষ হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, ৪৫৩ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে নিয়ামতপুর, মান্দা, আত্রাই ও সদর উপজেলার বিল এলাকার জমি অতিবর্ষণে ডুবে গেছে। এ ছাড়া ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হেক্টর। ফলে জেলায় বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মাঠে আর ধান থাকবে না। ক্ষতি জানা যাচ্ছে না ব্লাস্ট ও পাতামরা রোগে ক্ষতির পরিমাণ কত, এখনো তা জানা যাচ্ছে না। বগুড়া ও জয়পুরহাটে ব্লাস্ট ও পাতামরা রোগে আক্রান্ত জমি কত, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চূড়ান্ত হিসাব করা হয়নি। বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, উৎপাদন যদি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বলা যাবে। কিন্তু তেমন ক্ষতি হবে না। অতিবৃষ্টির জন্য পাতামরা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতগুলো অনুমোদিত নয়। এ ধরনের জাত থেকেই এসব রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে আগামী মৌসুমে যদি জাত পরিবর্তন না করে চাষাবাদ করা হয়, তবে বড় রকম ক্ষতি হতে পারে।

ভাষা নিয়ে দিনভর হইহই উৎসব

উৎসব শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল নয়টার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে শিক্ষার্থীদের ভিড়। দিনভর ভাষা উৎসবে পরীক্ষা, প্রশ্নোত্তর, বানান প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ছিল শিক্ষার্থীরা। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগ ২০১৭-এর ঢাকা আঞ্চলিক উৎসব। সহযোগিতায় ছিল গণসাক্ষরতা অভিযান। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল মান্নান ভূঁইয়া উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আর ভাষা প্রতিযোগের পতাকা তোলেন উৎসবের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেকে যখন মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়, তখন হতাশ হই। প্রথম আলোর বর্ণমালা, ভাষা প্রতিযোগের মতো আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুপথে, প্রগতির পথে, সংস্কৃতির পথে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। এটা দেখে আনন্দ পাই।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘গোল্ডেন প্লাস আর প্লাটিনাম প্লাস যা-ই পাও না কেন, ভালো মানুষ না হলে কোনো কিছুই কাজে আসবে না। ভালো মানুষ প্রগতির পথে যায়, সংস্কৃতিমান হয়।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ, এইচএসবিসির হেড অব লিগ্যাল ও রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স সাউলী কামাল খান, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কবি সাজ্জাদ শরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পর্বটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ও ভাষা প্রতিযোগ ২০১৭-এর সমন্বয়ক অরুণ বসু। উদ্বোধনের পরই শুরু হয় পরীক্ষার পালা। প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে খুদে ভাষাবিদেরা ভাষার লড়াইয়ে মেতে ওঠে। আর প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে অতিথিদের। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খালেদ হোসাইন, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা বেগম, কবি সাজ্জাদ শরিফ, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, মামুন-অর-রশিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রাহেল রাজীব। এই পর্ব সঞ্চালনা করেন শ্রীনগর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কুদরত-ই-হুদা। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ও শিশুশ্রম বন্ধ করতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। কবির বকুলের লেখা এবং হৃদয় খানের সুরে গাওয়া ভাষা প্রতিযোগের মর্ম সংগীত (থিম সং) বাজানো হয়। গানটি গেয়েছেন হৃদয় খান, ঐশী, মেহেদি ও লুই পা। প্রশ্নোত্তর পর্বের বিরতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, ভাষা একটি চলমান বিষয়। ভাষার জানালা-দরজা খোলা রাখতে হবে।
একটি ভাষার মধ্যে নানা ভাষার শব্দ যুক্ত হয়ে সেই ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। ভাষার প্রশ্নে রক্ষণশীল মনোভাব বর্জন করতে হবে। এইচএসবিসি আর প্রথম আলোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটা চালু রাখতে হবে। দুপুরের বিরতির পর শুরু হয় ‘বানানবীর’ নামের মজার প্রতিযোগিতা। এটি পরিচালনা করেন মামুন-অর-রশিদ। এ প্রতিযোগিতায় ‘বানানবীর’ হয়েছে হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়া তাবাসসুম। এই পর্বের প্রথম পাঁচজনের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। এরপর মঞ্চে আসেন উপস্থাপক ও আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। অভিনয়, উপস্থাপনা নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। নাবিলা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হতে বলেন। বিকেলে মঞ্চে গান পরিবেশন করেন তিন ভাইবোন—স্বাগতা, সন্ধি ও সভ্যতা। দিনভর উৎসবের শেষে ছিল পুরস্কার দেওয়ার পালা। চার গ্রুপের ৮৪ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। আঞ্চলিক এই প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হয়েছে নটর ডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল মুকিত। এই পর্বের সঞ্চালক ছিলেন প্রথমা প্রকাশনের ব্যবস্থাপক কবি জাফর আহমদ রাশেদ। আঞ্চলিক উৎসবে ঢাকা নগর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আঞ্চলিক পর্যায়ের বিজয়ীরা এ মাসের ১৯ তারিখে অনুষ্ঠেয় ভাষা প্রতিযোগের জাতীয় পর্যায়ের উৎসবে অংশ নেবে।

মেয়েরা তো শাড়ি কম পরে, ব্যবসা চলবে কেমনে?

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির ব্যবসা এখন খারাপ। আর সব ব্যবসায়ীর অনুযোগ—নারীরা এখন শাড়ি কম পরেন। সেখানকার একাধিক ব্যবসায়ী হতাশার সুরে বললেন, ব্যবসা আর কেমনে চলবে? মেয়েরা তো শাড়ি কম পরে। কয়টা মেয়ে এখন শাড়ি পরে? বাসা, অফিস, আদালত—সব জায়গায় তো সালোয়ার-কামিজই পরছেন নারীরা। বয়স্করা আর কয়টা শাড়ি পরবেন? বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবেও টাঙ্গাইল শাড়ির চেয়ে ভারত থেকে আসা ঝলমলে শাড়িই জায়গা দখল করে আছে। তবে ঈদ, পয়লা বৈশাখ ও পূজায় অন্যান্য শাড়ির সঙ্গে টাঙ্গাইল শাড়ির বিক্রিও বাড়ে। গত ২৪ এপ্রিল বিকেলের দিকে কথা হয় টাঙ্গাইলের পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে। ব্যবসা খারাপের কারণ নিয়ে তাঁদের নানা ব্যাখ্যা আছে। তবে ঘুরেফিরে একবার হলেও সব ব্যবসায়ী বলছেন, নারীরা শাড়ি পরছেন না। এই প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে একজন ব্যবসায়ী বললেন, ‘এই যে আপনি আমাদের খবর নিতে আসছেন, আপনিও কিন্তু সালোয়ার-কামিজই পরেছেন, শাড়ি পরেন নাই।’ টাঙ্গাইলে এখন চলে তিন ধরনের তাঁত। এগুলো হলো পিটলুম, সেমি অটো তাঁত (চিত্তরঞ্জন তাঁত) আর বিদ্যুচ্চালিত তাঁত (পাওয়ার লুম)। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য হচ্ছে পিটলুম বা হাতে তৈরি তাঁতের শাড়ি। এর উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তবে আগের চেয়ে বেড়েছে চিত্তরঞ্জন তাঁত ও পাওয়ার লুম তাঁতের শাড়ি। টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের স্বত্বাধিকারী মনিরা এমদাদ প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েদের শাড়ি পরা কমছে, এটা তো ঠিকই। টাঙ্গাইল শাড়ির বাজারও কমছে। বংশপরম্পরায় এই পেশায় আসার পরিমাণও কমছে। তা ছাড়া মানসম্পন্ন শাড়িও তৈরি কম হচ্ছে। তিনি বলেন, হাতে তৈরি টাঙ্গাইল শাড়ির ব্যবহার তো অনেক কমেছে। এর কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো চিত্র পাওয়ার মতো কোনো জরিপ নেই। কিন্তু যাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে আছেন, তাঁদের শাড়ির বিক্রি কমেছে। তাঁর নিজের দোকানের বিক্রিও কমেছে। টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গ্রামে বেশ কয়েকটি বড় দোতলা দালান। দালানের নিচে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শোরুম। কোনো কোনো শোরুমের পাশেই তাঁতে বসে কারিগরেরা মাকু দিয়ে শাড়ি বুনছেন। এখানে মূলত শাড়ি পাইকারি বিক্রি হয়। পরিচিতজন বা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ ফিরতি পথে শাড়ি কেনার জন্য এখানে আসেন। ৩০ বছর বয়সী স্বপন পাল ছোটবেলা থেকে টাঙ্গাইলের শাড়ি বোনেন। শাড়ি বানিয়ে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকার মতো পান। কোনো কোনো সময় একেকটি শাড়ির পেছনেই চলে যায় ছয় থেকে সাত দিন। মাকু চালাতে চালাতেই তিনি জানালেন, বাজারে অনেক পোশাকের ভিড়ে শাড়ির চাহিদা কমে গেছে। কারিগরেরাও অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। স্বপন পাল যেখানে বসে কাজ করছিলেন, সেখানে সাতটি তাঁতের মধ্যে দুটিই বন্ধ।
সরকারি তথ্য বাতায়নেই আছে, টাঙ্গাইলে হাতে তৈরি শাড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২০ হাজারের কম। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁদের একটি বড় অংশই এখন সব সময় শাড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। হরিপদ বসাক অ্যান্ড সন্সের মালিক কালা চাঁদ বসাক ও উত্তম বসাক। তাঁরা দুই ভাই। কালা চাঁদ বসাক বললেন, আজকালকার মেয়েরা শাড়ি পরে না। বিভিন্ন উৎসবে শাড়ি পরলেও তা ভারত থেকে আনা শাড়ি বা অন্য শাড়ি পরে। অবশ্য কালা চাঁদ বসাকের স্ত্রী চায়না রানী বিশ্বাস জানালেন, তিনি সব সময় টাঙ্গাইলের শাড়ি পরেন। পাশেই দাঁড়ানো আরেক গৃহিণী মিনতি বসাক যোগ করলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ির মান ভালো। হাতে, বহরে ঠিক হয়। তাই হঠাৎ অন্য শাড়ি পরলে তখন আর ভালো লাগে না। অবশ্য যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানির তরুণ মালিক খোকন বসাক বললেন, ‘আমার বাড়িরও মেয়েরাও শাড়িবিমুখ। বয়স্ক যাঁরা, তাঁরাই টাঙ্গাইলের শাড়ি পরছেন। কিন্তু তাঁরা আর কয়টা পরবেন? এখন যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে শাড়ির পাশাপাশি তাঁতের বিভিন্ন সালোয়ার-কামিজ তৈরি করছি।’ টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রঘুনাথ বসাক প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬ সালে ৮ মিলিয়ন ডলারের শাড়ি রপ্তানি হয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও ১৮ মিলিয়ন ডলারের শাড়ি রপ্তানি হয়েছে। দেশের বাজারেও বিক্রি একইভাবে কমছে। কিন্তু এর হিসাব আলাদাভাবে বের করা হয়নি। বসাকের ছেলেরাও এ পেশার প্রতি বিমুখ সরকারের টাঙ্গাইল জেলার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের হিন্দু তাঁতিদের মৌলিক উপাধি বসাক। বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিরাই হচ্ছে টাঙ্গাইলের আদি তাঁতি অর্থাৎ আদিকাল থেকেই তাঁরা তন্তুবায়ী গোত্রের লোক। টাঙ্গাইলে বংশানুক্রমে যুগের পর যুগ তাঁরা তাঁত বুনে আসছেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর অনেক বসাক তাঁতি ভারতে চলে যান। যাঁরা টিকে আছেন, ব্যবসা খারাপের জন্য তাঁরা নিজেরাই পিছিয়ে যাচ্ছেন। যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানির মালিক রঘুনাথ বসাকের পাশাপাশি ব্যবসায় হাল ধরেছেন তাঁর একমাত্র ছেলে খোকন বসাক। তিনি এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রঘুনাথ বসাকের ভাই রতন বসাকের ছেলে রাজীব বসাক বস্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে হাল ধরেছেন নিউ যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানির। তবে রঘুনাথ বসাক বললেন, আস্তে আস্তে বেশির ভাগ বসাক পরিবারের ছেলেরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। কালা চাঁদ বসাকের স্ত্রী চায়না রানী বিশ্বাস জানালেন, তাঁদের তিন ছেলের মধ্যে এক ছেলেও এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়নি। গোবিন্দ বসাক অ্যান্ড সন্সের মালিক ধনঞ্জয় বসাকের ছেলের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। বললেন, ‘আমি আমার ছেলেকে এ পেশায় আনব না। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। লাখ লাখ টাকা বাকিতে দিতে হয়। তা আর তোলা যায় না। সুতার রং, শ্রমিক—সবকিছুর দাম বেশি। পাবনার শাড়িসহ নানান শাড়িও ব্যবসায়ীরা টাঙ্গাইলের শাড়ি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা কবিতা বসাক মেয়েদের জন্য তাঁতের সালোয়ার-কামিজ কিনতে এসেছিলেন একটি শোরুমে। তিনি জানালেন, তাঁদের পাঁচটি তাঁত আছে। একমাত্র ছেলে যদি পড়াশোনায় ভালো না হয়, শুধু তখনই ছেলেকে এ পেশায় আনবেন। টাঙ্গাইল ব্যবসায়ী সমিতি এবং টাঙ্গাইল বসাক সম্মিলনী লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত রঘুনাথ বসাক বললেন, টাঙ্গাইল শাড়ি বা ব্যবসায়ীদের অবস্থা নিয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত দেওয়া সম্ভব নয়। বসাকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে জরিপ করা হয়েছিল, সেটাও ২০০১ সালের। বসাকদের পুনর্বাসনে একটি সংস্থা করা হয়েছিল, তা-ও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, ‘টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারেরও কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছি বলে চলছে।’ পাথরাইলের নিউ রাধাবল্লভ অ্যান্ড কোং, এম বি অ্যান্ড সন্স, রাধেশ্যাম নীলকমল বসাক, মনমোহন বসাক অ্যান্ড সন্স নামের ঝকঝকে শোরুমগুলো কত দিন টিকে থাকবে, তা কে জানে।

‘লাইক’ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?

ফেসবুকে কোনো পোস্ট দেওয়ার পর এতে কত ‘লাইক’ পড়ল, তা দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। লাইক দেখার জন্য ঘন ঘন ফেসবুকে ঢোকেন। কিন্তু ফেসবুকের এই ‘লাইক’ কি সবকিছু? সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ফেসবুক পোস্টে লাইক পাওয়ার বিষয়টি মানুষকে তাঁদের নিজের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা দেয় না বা তাঁদের মেজাজ ভালো করতে পারে না। যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণার ফল জানানো হয়। টুইটার ও ফেসবুক থেকে বাছাই করা ৩৪০ জনকে নিয়ে ব্যক্তিত্বসংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এ গবেষণা করা হয়। তাঁদের ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাড়া পেলে আমার ভালো বোধ হয়’ বা ‘ফেসবুকের লাইকের ভিত্তিতে কাউকে জনপ্রিয় বলে বিবেচনা করি’—এ ধরনের ২৫টি বিবৃতি সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের সাউথ ওলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মার্টিন গ্রাফ বলেন,
‘সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ক্রমেই বৃদ্ধি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলার বিষয়ে সাধারণ উদ্বেগ তৈরি করছে। গবেষণার পরিসর সীমিত হলেও ফলাফলে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই, এতে আমাদের অনুভূতির ওপর প্রভাব পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক নয়।’ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যাঁরা বেশি লাইক পাওয়ার আশায় অন্যদের অনুরোধ করেন বা লাইক চেয়ে বেড়ান, তাঁরা নিজের আস্থাহীনতার পাশাপাশি কম আত্মমর্যাদা বোধ করেন। যাঁরা পোস্ট মুছে দেওয়া বা লাইকের ভিত্তিতে প্রোফাইলের ছবি নির্ধারণ করেন, তাঁদের বেলায়ও একই কথা খাটে। বেশি লাইক পেলে নিজের সম্পর্কে ভালো বোধ হওয়া বা মন ভালো করার ক্ষেত্রেও তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায় না। তথ্যসূত্র: পিটিআই।

ব্যাংকে সরকারি দপ্তরের জমা পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে সরকারি দপ্তরগুলোর আমানতের পরিমাণ এখন পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা। বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানত (এফডিআর), সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে এই টাকা জমা আছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে গত মার্চ মাসে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাব বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। দপ্তরগুলোর আমানতকে ঢাকা ও মফস্বল—এ দুটি ভাগে ভাগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বিবরণীটি তৈরি করেছে। দপ্তরগুলোর মধ্যে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, করপোরেশন, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কত টাকা কোন ব্যাংকে জমা আছে, বিবরণীতে তা তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকায় জমা আছে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। আর ঢাকা ছাড়া সারা দেশে জমা আছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর সবচেয়ে বেশি টাকা জমা আছে সোনালী ব্যাংকে। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এগিয়ে এবি ব্যাংক। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশি আমানত আছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১ লাখ ৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা জমা আছে সরকারি করপোরেশনগুলোর। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জমা টাকার পরিমাণ ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাকি আমানত অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।
বেশি আমানত সোনালী ব্যাংকে
সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল—এই ছয় ব্যাংকে সরকারি দপ্তরগুলোর টাকা জমা আছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ৩২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা জমা আছে সোনালী ব্যাংকে, আর সবচেয়ে কম ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা আছে বিডিবিএলে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সুদের হারের তথ্যে দেখা যায়, এসব আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলো সুদ দেয় ৪ দশমিক ৯১ থেকে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সোনালী ব্যাংক সুদ দেয় ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম বোর্ড থেকে শুরু করে সব শিক্ষা বোর্ডই টাকা জমা রাখে সোনালী ব্যাংকে। তাদের দ্বিতীয় পছন্দের ব্যাংক অগ্রণী ও তৃতীয় পছন্দের ব্যাংক জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা রাখার পছন্দের ব্যাংকও এ তিনটি। বেসিক ব্যাংকেও সরকারি দপ্তরের টাকা জমা আছে ১০ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকে টাকা রাখা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—এনবিআর, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পাট অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইত্যাদি সংস্থা।
শীর্ষ ১০-এ নতুন ব্যাংক!
নতুন ৯টিসহ বেসরকারি ৩৮ ব্যাংকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জমা আছে ৫৫ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ আমানত পাওয়া ব্যাংকের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক। ২০১৩ সাল থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা নতুন নয়টি ব্যাংকে সরকারি দপ্তরগুলোর আমানত জমা রয়েছে ৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক একাই আমানত পেয়েছে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। বেসরকারি সব ব্যাংকের মধ্যে ৭ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আমানত পেয়েছে এবি ব্যাংকে। আর সবচেয়ে কম ২০১ কোটি টাকা আমানত পেয়েছে সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। অন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ৬ হাজার ৩৯৩ কোটি, ইউসিবিএল ৪ হাজার ৫০৪ কোটি এবং আইএফআইসি ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা আমানত পেয়েছে।
বিদেশি ব্যাংকে আমানত কম
বিদেশি ৯টি ব্যাংকে ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা সরকারি দপ্তরগুলোর আমানত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা আমানত রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে, যা সব বিদেশি ব্যাংকের অর্ধেকেরও বেশি। ওরি ব্যাংকে সরকারি দপ্তরের কোনো আমানত নেই। আর সবচেয়ে কম ৩ কোটি টাকা আমানত রয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায়। আমানতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সুদের হার বরাবরই কম। যেমন: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সুদ দেয় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। সিটিব্যাংক এনএ সুদ দেয় নামমাত্র শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে সরকারি দপ্তরগুলোর জমা আছে ৯ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে (বিকেবি) আছে ৭ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব)।

জনগণের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ

প্রথম আলো: নতুন মূসক আইন নিয়ে ব্যবসায়ী ও এনবিআর মুখোমুখি অবস্থানে। ব্যবসায়ীরা চান মূসক হার কমাতে; এনবিআর অনড়। মূসক হার বেশি?
মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: নতুন আইনে অভিন্ন হারে ১৫ শতাংশ মূসক বসবে। যা আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় একটু বেশি। ১৫ শতাংশ হার বেশি মনে হচ্ছে। কারণ, এ দেশে মূসকের ভিত্তিটা ছোট। মূসক নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে যা হবে সেটা হলো, ব্যবসায়ীরা পণ্য ও সেবার বর্তমান দামের সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূসক বসিয়ে বিক্রি করবেন। এটাই ব্যবসায়ীদের সংস্কৃতি। অথচ এখন যে দামে পণ্য বিক্রি হয়, এর মধ্যেই মূসক আছে। এর ফলে ভোক্তার ওপর মূসক আপতন হবে গড়ে ১৮ শতাংশের মতো। আবার এনবিআর ও ব্যবসায়ীরা কীভাবে হিসাব করবেন, সেই পদ্ধতি খোলাসা করছেন না। এ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, পণ্যের দাম বাড়বে। ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে।
এই অবস্থার নিরসনে সহজ উপায় হচ্ছে মূসক হার কমিয়ে দেওয়া। মূসক কমানোর ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে, মূসক আপতন যাতে ভোক্তার ওপর আগের মতোই থাকে এবং বিক্রেতারা যাতে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখাতে না পারেন। আমি মনে করি, এসব বিষয় বিবেচনা করে মূসক হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রাখা যেতে পারে।
প্রথম আলো: হিসাবনির্ভর মূসক দেওয়ার জন্য এ দেশের ব্যবসায়ীরা কতটা প্রস্তুত? হিসাব না রাখতে পারলে রেয়াতও নিতে পারবে না। এতে পণ্যমূল্য বেড়ে যেতে পারে।
আবদুল মজিদ: এ ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই যুক্তি খাটে। কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়া খুব বেশি কঠিন নয়। ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রারে (ইসিআর) কত টাকায় পণ্য বিক্রি করেছে, সেই সংখ্যা ইসিআরে লিখে রাখলেই হবে। কত মূসক হলো, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এটা কঠিন কোনো কাজ নয়। এ জন্য মানসিক প্রস্তুতি দরকার। একজন দোকানদার মোবাইল ফোন চালাতে পারলে ইসিআর কেন চালাতে পারবেন না?
তবে এনবিআরকে এই বিষয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। কারণ, জনগণই মূসক দেয়। ব্যবসায়ীরা এই প্রক্রিয়ায় মধ্যবর্তী লোক। ভোক্তা যদি মূসক রসিদ চাইতে শুরু করে; তবে ব্যবসায়ীরা রসিদ না দিয়ে পারবেন না। যেহেতু ভোক্তা মূসক দিচ্ছেন; তাঁর অধিকার আছে রসিদ চাওয়ার। এখনো ভোক্তা মূসকের টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা মেরে দিচ্ছেন। এখন মূসক বিষয়ে যত আলোচনা হচ্ছে তা ব্যবসায়ী তথা মধ্যবর্তী লোকদের নিয়ে। ভোক্তার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে না।
প্রথম আলো: আন্দোলনের হুমকি দমনে পাল্টা হুমকি—এই চলছে। পুরো বিষয়টি কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়?
আবদুল মজিদ: শুধু মূসক কেন; যেকোনো বিষয় অংশীজনদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনা, সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। ব্যবসায়ীদের যেমন যুক্তি দিয়ে যেকোনো বিষয়ে দাবি করতে হবে, আবার এনবিআর তা না মানলে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে হুমকি-পাল্টা হুমকি দিলে কোনো কাজ হবে না। সম্প্রতি পরামর্শক সভায় যে হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে, তাতে নতুন আইনটি বাস্তবায়নে একধরনের নিশ্চয়তা তৈরি হলো।
প্রথম আলো: নতুন মূসক আইনটি বাস্তবায়ন করতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি বিবেচনা করা উচিত?
আবদুল মজিদ: যেকোনো আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ওপর এর প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখতে হয়। কেননা জনগণই ভোটার। সাধারণত যেকোনো সরকারের মেয়াদের প্রারম্ভিক বছরে আইন বাস্তবায়ন করলে সুবিধা হয়। আর কর সব সময়ই অজনপ্রিয় বিষয়। তাই নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নে জনগণের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম আলো: করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। আপনি কি মনে করেন, এটা বৃদ্ধি করা উচিত?
আবদুল মজিদ: অবশ্যই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা উচিত। মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতি, আয় বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করলে আড়াই লাখ টাকা খুব বেশি নয়। আড়াই লাখ টাকায় দীর্ঘদিন স্থির রাখলে বহু লোক করজালে ঢুকে যাবেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক করদাতাকে করবিষয়ক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। কর প্রশাসনের সেই দক্ষতা এখনো আসেনি।
প্রথম আলো: করপোরেট কর কি কমানো উচিত?
আবদুল মজিদ: নীতিগতভাবে সবাই স্বীকার করছেন, বর্তমান করপোরেট কর হার একটু বেশি। এর কারণ, করপোরেট করের ভিত্তি ছোট। এই ভিত্তি বড় হলে, মাসে বেশি প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা গেলে কর হার কম হলেও সমস্যা হবে না। করপোরেট কমানো হলে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন উদ্যোক্তারা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাহাঙ্গীর শাহ

বাজেট ঘোষণা পর্যন্ত আশা রাখছি

প্রথম আলো: মূসক আইন বাস্তবায়ন হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। আপনাদের দাবির বিষয়টি কি সুরাহা হয়েছে?
আবু মোতালেব: এখনো আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানতে পারিনি। তবে আমরা আশাবাদী, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করে মূসক আইন বাস্তবায়ন করবে। বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা আশা রাখছি। বাজেটে আমাদের দাবি পূরণ করা হবে বলেই আমরা মনে করছি।
প্রথম আলো: এফবিসিসিআই তো বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের কি আলাদা কোনো দাবি আছে?
আবু মোতালেব: ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই এটি নিয়ে কাজ করছে। আমাদের প্রথম সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমরা চাইছি, এক কোটি টাকা লেনদেন পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং পাঁচ কোটি টাকা লেনদেনে ৩ শতাংশ হারে লেনদেন কর আরোপ করা হোক। উৎপাদন পর্যায়েও ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীদের জন্য সহনীয় হারে মূসক আরোপ করা হোক। নইলে ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবেন না।
প্রথম আলো: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ পরামর্শক কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আপনার হুমকি ও পাল্টা হুমকির বিষয়ে কী বলবেন?
আবু মোতালেব: স্রেফ ভুল-বোঝাবুঝি। আমি বলিনি আমরা এখনই আন্দোলনে নামব। আমরা মূসক আইন বাস্তবায়নেরও বিরোধী নই। আমরা শুধু চাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের রক্ষা করে মূসক আইন বাস্তবায়িত হোক। সে ক্ষেত্রে সরকারের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমি বলেছিলাম, দাবি পূরণ না হলে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। সেটা আমি না থাকলেও হবে। এটা আমার একার বিষয় নয়।
প্রথম আলো: অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আপনাকে যুদ্ধের হুমকি প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন? আপনি কি সেটা প্রত্যাহার করবেন?
আবু মোতালেব: আমি যুদ্ধের হুমকি দিইনি। আবারও বলছি, একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং আমরা সরকারের সঙ্গে মূসক আইন বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।
প্রথম আলো: আপনি বলছিলেন, মূসক আইন নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান এর বিরোধিতা করেছিলেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আবু মোতালেব: এনবিআর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনো আওতার বাইরে আছেন। এনবিআর যাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মূসক আইন বিষয়ে জানায়নি।
প্রথম আলো: এখন ৮ লাখ ৬৪ হাজার মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের মাত্র ৩২ হাজার কর দেয়। অর্থমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, আপনারা কতজন কর দেন?
আবু মোতালেব: যারা কর দেয় না, তাদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতিগুলো এনবিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন  রাজীব আহমেদ

হাওরের দুঃখ-কষ্ট এবং হার না-মানা মানুষ

উজান থেকে আসা প্রবল ঢল ও অকালবৃষ্টিতে যখন হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছিল, তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আধিকারিকেরা বিপন্ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনের প্রয়োজন বোধ করেননি। বাঁধ নির্মাণকাজে দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে হাওরে কান্না থামবে না। গত ২৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জে প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে দুজন সাংসদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। তাঁদের মতে, হাওরের দুর্যোগ পুরোপুরি মানবসৃষ্ট। পাউবোর নীতিনির্ধারকেরা দুদকের কাছে স্বীকার করেছেন, তাঁদের কাজে গাফিলতি ছিল। কিন্তু পাউবোর সামান্য গাফিলতি যে হাওরবাসীর জন্য অসামান্য ক্ষতি বয়ে এনেছে, তার জবাব কী।
হাওর বাঁচাও মানুষ বাঁচাও
ব্যক্তিগত আলাপে হাওর বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কীভাবে এটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ? জবাবে তাঁরা যা জানালেন, তার সারমর্ম হলো, এই সমস্যা এক দিনে হয়নি। প্রতিবছর নদী ও হাওরে প্রচুর পলি জমলেও তা খনন বা সরানোর উদ্যোগ নেই। হাওরের সমস্যা সমাধানে সরকারের সমন্বিত প্রয়াস বা জোরদার কর্মসূচি নেই। যখন হাওরের ফসল বানে ভাসিয়ে নেয়, তখন হাওর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কানাডা সফরে ছিলেন উচ্চতর জ্ঞান লাভ করতে। তাঁদের মতে, নদী ও হাওরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ করে রাখতে পারে না। হাওরের আকার অনেকটা গামলামতো। চারদিকটা উঁচু থাকে। নিচটা গভীর, যা বিল নামে পরিচিত। সেখানে সব সময়ই পানি থাকে এবং মাছের চাষ হয়। উপরিভাগে ধানের চাষ। বন্যা রোধে সেখানে ডুবো বা অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়। এই বাঁধের কাজ এপ্রিল-মে মাসে শেষ হয়। অনেক সময় বাঁধের ঠিকাদারেরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন, এবার বৃষ্টিটা যেন পরে আসে। ধান ওঠার পর বৃষ্টি এলে, বাঁধ হয়েছে কি না কেউ খোঁজ নেয় না। বৃষ্টির মধ্যে কিছু মাটি ফেলে বরাদ্দের পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়।
হার না–মানা হাওরবাসী
ওই গোলটেবিল বৈঠকে এমন তিনজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন, যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁধ রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। কেউ দুই সপ্তাহ, কেউ তিন সপ্তাহ বাঁধ টিকিয়ে রেখেছেন। সুনামগঞ্জে যখন একের পর এক হাওর ডুবছিল, তখন স্বেচ্ছাশ্রমে তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চলছিল। টানা ২৪ দিন পানি আটকে রাখার কাজে নেতৃত্ব দেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও জামালগঞ্জ উপজেলার বেহিলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী ওয়ার্ড সদস্য মনেছা বেগম। প্রথম আলোর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি খলিল রহমানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের বাঁধ যখন ঝুঁকির মুখে পড়ে, কৃষকেরা যখন ছুটে যান বাঁধ রক্ষায়, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় লম্বাবাক গ্রামের রজব আলী, উত্তর কামলাবাজ গ্রামের শহীদুল ইসলাম, আবদুল খালেক প্রমুখ। একইভাবে জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের বাঁধ রক্ষায় কয়েক শ কৃষকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন স্থানীয় ফেনারবাক ইউপির প্রবীণ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার, স্থানীয় সংবাদকর্মী আক্তারুজ্জামান, আকবর হোসেন, ওই ইউপির সচিব অজিত কুমার রায়, স্থানীয় বাসিন্দা দিল আহমদ প্রমুখ। দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের বাঁধ যখন ঝুঁকির মুখে পড়ে, কৃষকেরা যখন অস্থির, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ান দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র লন্ডনপ্রবাসী আজিজুর রহমান। তিনি বাঁশ, বস্তা, চাটাই কিনে নিজে এসব নিয়ে যান বাঁধে। সেই সঙ্গে কৃষকদের প্রতিদিন শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া দিরাই ও শাল্লায় একইভাবে কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করছেন প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত। অন্যদিকে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওরে পাহাড়ি ঢল মোকাবিলায় কৃষকদের ‘মানবঢালে’ অংশ নেন কৃষক অমর চাঁদ দাশ। অমর চাঁদ ঐক্য ন্যাপের নেতা। বান ঠেকাতে তাঁরা বাঁশের খুঁটি গেড়ে ঢাল তৈরি করেছিলেন, যাতে পানির তোড়ে কেউ ভেসে না যায়।
নির্বিকার প্রশাসন
আমরা জনপ্রতিনিধদের যতই গালমন্দ করি না কেন, মানুষের বিপদে তাঁরা পাশে দাঁড়ান। পাউবোর কর্তাব্যক্তিদের মতো মওকা খোঁজেন না। গণমাধ্যমে বানের খবর আসার পরও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন নির্বিকার। পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পরও মুঠোফোনে তাঁরা বিভিন্ন এলাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়েছেন। খুব কম সরকারি কর্মকর্তাই এলাকায় গিয়েছেন। একজন নারী সাংসদ আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমি মহিলা মানুষ হয়ে হাওর এলাকায় প্রতি সপ্তাহে একবার করে যাচ্ছি, আর আপনি পুরুষ মানুষ হয়ে এক দিনও যেতে পারলেন না?’ তৃণমূল থেকে পাঠানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসন থেকে সব উপজেলায় এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু সব এলাকায় তো বন্যার মাত্রা ও ক্ষতির পরিমাণ এক নয়। আর বাংলাদেশ যে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাফল্য দেখিয়েছে বলে সরকার বাহ্বা কুড়াচ্ছে, তার মূলে রয়ে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। তারা নিজেরাই বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে নেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও সরকারের ত্রাণনীতি
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের (ডিডিএম) বরাত দিয়ে বণিক বার্তা জানায়, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফসলহানি, মাছ ও প্রাণিসম্পদ, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট এবং কর্মঘণ্টার যে ক্ষতি, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। গত ২৮ মার্চ সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার—এ ছয়টি জেলায় বন্যা শুরু হয় গত ২৮ মার্চ। এতে ৬২ উপজেলার ৫৪১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫১৮টি প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ধান। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ছয় জেলায় পরিবারের সংখ্যা ২৮ লাখ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় নানাভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি বা ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে চিহ্নিত করলেও হাওরবাসী মনে করেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি। সরকার মাসে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার টাকা সহায়তা, খোলাবাজারে চাল বিক্রি, ঋণের কিস্তি স্থগিত ও ঋণ অর্ধেক মওকুফ, বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফির বিষয়ে কিছু বলেনি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বন্ধ করতে হলে বেতন-ফি মওকুফের পাশাপাশি তাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ধরমপাশা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ৩৩ হাজার ১৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৫১৫ জন অংশ নিতে পারেনি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন সমাজসেবার সঙ্গে জড়িত একজন। হাওর এলাকায় অনেক বিবাহযোগ্য ছেলেমেয়ে আছে। বন্যায় ফসল ডুবে যাওয়ায় অভিভাবকেরা এবার ছেলেমেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারবেন না। এ কারণে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাওর এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থায়ী সমাধান চাই
প্রায় প্রতিবছর হাওরে বন্যা হয়। এর হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। পাউবো বা পিআইসির মাধ্যমে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলো অস্থায়ী। হাওরের সব জায়গায় না হলেও কিছু জায়গায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা ঢলের পানি যাতে নদী ও হাওর ধারণ করতে পারে, সে জন্য নদী ও বিল খনন করতে হবে। নদীর নাব্যতা বাড়লে বন্যার প্রকোপ কমে যাবে। বর্তমানে হাওরে যেসব ধান চাষ করা হয়, তা দীর্ঘমেয়াদি। কোনো কোনোটিতে পাঁচ–ছয় মাস পর্যন্ত লেগে যায়। এখন হাওরের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ধান উদ্ভাবন করতে হবে। আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা খুবই মেধাবী। তাঁরা বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণা সহায়তা পেলে হাওরের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খায়, এ রকম ধানও উদ্ভাবন তাঁরা করতে পারবেন। প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা। তবে হাওরের ক্ষতির মাঝে কিছুটা আশার খবর শুনিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ব-দ্বীপ এলাকার মাছ ও ফসল উৎপাদনে বন্যা কেবল ক্ষতিকর নয়, আশীর্বাদ হয়েও আসে। বন্যার কারণে পলি বয়ে আনায় মাটির গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়সহ জলাশয়গুলোতে বন্যার কারণে পানির গুণগত মান ভালো হয়। হাওরে এবার বড় ধরনের পানিদূষণ হলেও আগাম পানি আসায় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পিএইচের মাত্রা এখন ৭ দশমিক ৫। মাছের প্রজনন শুরু হয়ে গেছে। পচে যাওয়া ধানগাছ থেকে গ্লুকোজ কনভারটেড হয়ে মাছের খাবার তৈরি হবে। হাওরে পোনা ছাড়া হলে প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে মাছ সহজেই বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। আগাম বৃষ্টির কারণে অক্টোবর পর্যন্ত মাছ বড় হতে পারবে। শীতের আগে হাওরে পানি কমে গেলে এর সুফল পাওয়া যাবে।
হুয়াং হো বনাম হাওর
প্রাচীন চীনে প্রায়ই হুয়াং হো নদী ছাপিয়ে উঠে সবকিছু বন্যায় ভাসিয়ে দিত বলে এর নাম হয়েছিল ‘চীনের দুঃখ’। ২৬ বার এই নদীর গতিপথ বদল হয়েছে। প্রতিবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা। কিন্তু ১৯৪৯ সালে সেখানে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চীন সরকার হুয়াং হো নদীর উজানের দিকে এবং মধ্য এলাকা বরাবর মৌলিক গুরুত্বসম্পন্ন কতগুলো জল সংরক্ষণ প্রকল্প নির্মাণ করে এবং ভাটির দিকে নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধগুলো আরও মজবুত করে এবং নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা সুরক্ষিত হয়। বাংলাদেশের হাওরের মানুষও শত শত বছর ধরে বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। কিন্তু কোনো সরকারই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। ফল যে হাওর মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান সম্বল, সেই হাওরই তাঁদের দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

ধর্মতন্ত্র, নন্দনতত্ত্ব ও অবরোধবাসিনী

হইচই না ফেলেও দুর্দিন আসতে পারে। প্রতিবেশে, লক্ষণীয় মাত্রায় তার বিস্তার ঘটলে জনমানসে দুশ্চিন্তা ঢেউ তোলে। কারণ, দুর্দিন তখন দৃষ্টিগোচর হয়। শুধু মানুষের শরীরে নয়, প্রাণিজগতের অন্যদের শরীরেও চোখ একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চোখ যা কিছু দেখে, তা মস্তিষ্কে গিয়ে অভিঘাত তৈরি করে, মস্তিষ্ক তখন ভাবতে শুরু করে। মস্তিষ্ক যতটা শিক্ষিত, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত তৈরি হয়, সিদ্ধান্তটি আবার প্রায়োগিক ভূমিকায় নামে। প্রাণিজগতের অন্যরাও সহজাত প্রবৃত্তির মস্তিষ্ক ধারণ করে, মানুষও। কিন্তু মানব মস্তিষ্ক আরও একটি কাজ করে। তার নাম সচেতন ক্রিয়া। বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই আমাদের জানিয়েছে, এই সচেতন ক্রিয়া করার বিশিষ্টতাই মানুষকে অন্য প্রাণীদের কাছ থেকে স্বতন্ত্র করেছে। বিরুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে সচেতন লড়াই করতে না পারার ফলে বিশালাকৃতির ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছে। আর মানুষ চাঁদে পৌঁছেই ক্ষান্ত হয়নি, এখন সে চাইছে মঙ্গল গ্রহে যেতে। এটাই মানুষের ধর্ম। অজানাকে জানতে চাওয়া। জেনে সেই অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি ভাবীকালের জন্য রেখে যাওয়া। এই পরম্পরার নাম সভ্যতা। আদি পর্বে কেমন ছিল সেই সভ্যতা? রবীন্দ্রনাথের চোখ খুঁটিয়ে দেখানো যেমন করে...‘তোমার ইতিহাসের আদিপর্বে দানবের প্রতাপ ছিল দুর্জয়—/ সে পুরুষ, সে বর্বর, সে মূঢ়।/ তার অঙ্গুলি ছিল স্থূল, কলাকৌশলবর্জিত;/ গদা-হাতে মুষলহাতে লন্ডভন্ড করেছে সে সমুদ্র পর্বত;/ অগ্নিতে বাষ্পেতে দুঃস্বপ্ন ঘুলিয়ে তুলেছে আকাশে।/ জড়রাজত্বে সেদিন একাধিপতি,/ প্রাণের ’পরে ছিল তার অন্ধ ঈর্ষা।’...(পৃথিবী)।
সেই অবস্থা কাটল কী করে? ‘...দেবতা এলেন পরযুগে, মন্ত্র পড়লেন দানবদমনের—/ জড়ের ঔদ্ধত্য হল অভিভূত;/ ...নম্র হল শিকলে বাঁধা দানব,/ তবু সেই আদিম বর্বর আঁকড়ে রইল তোমার ইতিহাস।/ ব্যবস্থার মধ্যে সে হঠাৎ আনে বিশৃঙ্খলতা—/ তোমার স্বভাবের কালো গর্ত থেকে/ হঠাৎ বেরিয়ে আসে এঁকেবেঁকে!...’ অন্ধকার যুগ সব সভ্যতাতেই ছিল। ছিল বলেই সেই অন্ধকার কাটাতে আলোর মশাল হাতে সমাজসংস্কারে ব্রতী মহামানবের আগমন ঘটেছিল। ঘটে, ঘটবে। মহাপুরুষ কিংবা সাধকদের সেই সব দিকনির্দেশনা যেমন জীবনবিচ্ছিন্ন ছিল না, তেমনি ছিল না ভিন্নমতের প্রতি আক্রমণাত্মক বা প্রতিহিংসাপরায়ণ। তাঁদের অবর্তমানে তাঁদের অনুসারী-অনুগামীদের অসহিষ্ণুতা-অশিক্ষা-ভালোবাসাহীনতা মূল ভাবনা থেকে সাধক পুরুষের দিকনির্দেশনাকে বিচ্যুত করেছে। স্বেচ্ছাচারিতা ও হিংস্রতা সহোদর। ধর্মের নামে ভিন্নমত নির্মূল কতটা নৃশংস হয়ে ওঠে, এই একুশ শতকেও বাংলাদেশ তা প্রত্যক্ষ করছে। এটা ধর্ম নয়, ধর্মতন্ত্র। রবীন্দ্রনাথ যখন এই দুইয়ের ফারাক আবিষ্কার করলেন, তখন পৃথিবী আজকের এই তমসা ও তামাশার চাদরে এতটা মুখ ঢাকেনি। বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী কিংবা জঙ্গিদের উত্থান ঘটেনি। ভারতের উত্তর প্রদেশে আদিত্যনাথ যোগী নামের উগ্র ধর্মান্ধ কেউ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়নি। গোটা ভারতবর্ষ সাম্প্রদায়িকতার ত্রিশূল আর তলোয়ার নিয়ে এতটা ঝনঝন করে বাজেনি। তবু রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, ‘মনে রাখা দরকার ধর্ম ও ধর্মতন্ত্র এক জিনিস নয়। ও যেন আগুন আর ছাই। ধর্মতন্ত্রের কাছে ধর্ম যখন খাটো হয়, তখন নদীর বালি নদীর জলের ওপর শাসন করতে থাকে। তখন স্রোত চলে না, মরুভূমি ধু ধু করে।’ (কর্তার ইচ্ছায় কর্ম) আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১-এর অনেক আগে, ১৯৫২ সালে। যখন উর্দু ভাষার দানব তীক্ষ্ণ থাবা বাড়িয়েছিল মাতৃভাষা বাংলার ওপর,
সেই থাবা রবীন্দ্রসংগীতকেও খামচে ধরেছিল। যুদ্ধকালের একটি পোস্টারের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী লিখেছিলেন, ‘বাংলার হিন্দু/ বাংলার খৃষ্টান/ বাংলার বৌদ্ধ/ বাংলার মুসলমান/ আমরা সবাই বাঙালী’ স্লোগানটি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সেদিন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথা ও সমর দাসের সুরে এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার গানটি গেয়ে গেয়ে যুদ্ধরত তরুণদের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই সব কথা এ দেশে কমবেশি সবাই জানেন। আমার অনুসন্ধান অন্যত্র। চারপাশের অসাম্প্রদায়িক হলাহলের সাম্প্রতিক বাড়াবাড়িকে আমি বিনা প্রতিবাদে ছাড়তে রাজি নই। অন্ধকারের এই অপশক্তিকে আমি ভয় পাই। তাই কার্যকারণ সম্পর্কে ব্যবচ্ছেদে নেমেছি। কাজী নজরুল ইসলামও নেমেছিলেন। ‘হিন্দু-মুসলমান’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘একদিন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল আমার, হিন্দু-মুসলমান সমস্যা নিয়ে। গুরুদেব বললেন: দেখ, যে ন্যাজ বাইরের, তাকে কাটা যায়, কিন্তু ভেতরের ন্যাজকে কাটবে কে? হিন্দু-মুসলমানের কথা মনে উঠলে আমার বারে বারে গুরুদেবের ওই কথাটাই মনে হয়। সঙ্গে সঙ্গে এ প্রশ্নও উদয় হয় মনে যে এ ন্যাজ গজালো কি করে? এর আদি উদ্ভব কোথায়? এ সঙ্গে এটাও মনে হয়, ন্যাজ যাদেরই গজায়, তা ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক—তারাই হয়ে ওঠে পশু। যেসব ন্যাজওয়ালা পশুর হিংস্রতা সরল হয়ে বেরিয়ে আসে বাইরে—শৃঙ্গরূপে, তাদের তত ভয়ের কারণ নেই, যত ভয় হয় সেই সব পশুদের দেখে—যাদের হিংস্রতা ভিতরে, যাদের শিং মাথা ফুটে বেরোয়নি। শিংওয়ালা গরু-মহিষের চেয়ে শৃঙ্গহীন ব্যাঘ্র-ভালুক জাতীয় পশুগুলো বেশী হিংস্র—বেশী ভীষণ।...ন্যাজ আর শিং দুই-ই ভেতরে থাকলে কী রকম হিংস হয়ে উঠতে হয়, তা হিন্দু-মুসলমানের ছোরা মারা না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না।’ একদম ঠিক কথা। ভারতের উত্তর প্রদেশে আদিত্যনাথ যোগী বলেছিলেন, ‘কোনো একজন হিন্দু মেয়েকে যদি কোনো মুসলিম পুরুষ বিয়ে করে, আমরা তাহলে ১০০ জন মুসলিম নারীকে তুলে আনব।’ আর বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলাম মিছিল ও সমাবেশ করে বলেছে, সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্যটি যদি না সরানো হয়, তাহলে তারা তাদের শক্তি দেখিয়ে দেবে। এই দুই পক্ষের কারোরই শরীরে দৃশ্যমান শিং এবং লেজ নেই,
কিন্তু তবু উচ্চারণগুলো মানবিক কি? নান্দনিক কি? ‘নন্দনতত্ত্ব’ শব্দটি নিয়ে অগ্রজ কিছু প্রিয় শিল্পীকে ইদানীং গম্ভীর মুখে মুচকি হাসতে দেখছি। রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়ক থেকে বেশ কয়েক বছর আগে যেদিন ‘লালন’ ভাস্কর্যটি সরানো হয়, সেদিন একজন কার্টুনিস্টকে স্বস্তির স্বরে বলতে শুনেছিলাম, ঢাকা শহর থেকে একটি খারাপ ভাস্কর্য সরেছে। এবার যখন সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য সরাতে হেফাজত সরকারকেই রাজি করিয়ে ফেলল, তখন ‘নন্দনতত্ত্ব’ বিশারদেরা আরও মৌন, অধিকতর স্বস্তির ফিসফাস। তাঁদের মনেই পড়ল না, বেশ কয়েক বছর আগে শিশুপার্কের সামনের ‘দুরন্ত’ কিংবা মতিঝিলের বাংলাদেশ বিমান কার্যালয়ের সামনে ‘বলাকা’ ভাস্কর্যের একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার কথা। হেফাজতে ইসলাম কি নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে, নাকি সংস্কৃতিচেতনাবিরোধী অবস্থান থেকে? ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকে তুষ্ট করতে গিয়ে এ কেমনতর অবস্থান শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত মানুষের? আদিত্যনাথ যোগী, হেফাজতে ইসলাম যখন স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে, তখন সংস্কৃতির মানুষেরা তাঁদের স্বরূপ ভুললেন কেন? তাহলে কি নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়ার কথাই ঠিক? ‘...আমরা বহুকাল হইতে অবরোধ থাকিয়া, অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছি; সুতরাং অবরোধের বিরুদ্ধে বলিবার আমাদের—বিশেষত আমার কিছুই নাই। মেছোনীকে যদি জিজ্ঞাসা করা যায় যে “পচা মাছের দুর্গন্ধ ভালো না মন্দ?” সে কী উত্তর দিবে?’ (অবরোধ-বাসিনী) কে পচা? আমরা? সময়? নাকি আমাদের অবরোধবাস?
মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।
mzamanbabu71@gmail.com

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা : জাতিসঙ্ঘে ভারতের তীব্র সমালোচনা

নরেন্দ্র মোদি সরকারের তিন বছর পেরোতে বাকি মাত্র বিশ দিন। বর্ষপূর্তির ঢক্কানিনাদের মধ্যেই হঠাৎ এল বড়সড় ধাক্কা। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে ভারতকে প্রচণ্ড সমালোচনা করলো জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন। গত কাল জেনেভায় প্রকাশিত জাতিসঙ্ঘের ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ রিপোর্ট’-এ তীব্র ভাষায় ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগের পাশাপাশি, নারী নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য, বিশেষ ভাবে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয় চার বছর অন্তর। যে চার বছরকে নিয়ে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার বেশির ভাগটাই মোদি আমলে। জাতিসঙ্ঘের তোপের মুখে দাঁড়িয়ে জেনেভায় ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগিকে মনে করিয়ে দিতে হয়েছে, ভারত একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ! তার কথায়, ‘‘ভারতের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুনিশ্চিত করাটা দেশের মৌলিক নীতির মধ্যেই পড়ে।’’ আর আজ ভারতের প্রতিনিধি রোহতগি যুক্তি দিয়েছেন, ‘‘ভারতের ঐতিহ্য সহিষ্ণুতার, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার।’’
ভারতের পক্ষ থেকে এই সহিষ্ণুতার জবাব অবশ্য খইয়ের মতো উড়ে গেছে। এই রিপোর্টকে কাজে লাগিয়ে মাঠে নামতে দেরি করেনি ইসলামাবাদ। জেনেভার ওই সম্মেলনেই পাকিস্তানের প্রতিনিধি আক্রমণ করেছেন নয়াদিল্লিকে। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উচ্চগ্রামে প্রশ্ন করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল অবিলম্বে কাশ্মীর সফর করে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখুক। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, জাতিসঙ্ঘের সুপারিশ মেনে ভারত দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের আরো বেশি আইনি সহায়তা দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। ভারতে বেড়ে চলেছে বিনা বিচারে জেলবন্দি রাখার ঘটনা। দলিত, আদিবাসী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এটা বেশি হচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত চার বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসা এবং বৈষম্য কমাতে কোনও পদক্ষেপই করেনি ভারত। লিঙ্গ বৈষম্যের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কমানো এবং এই ধরনের ঘটনার তদন্তের প্রশ্নে কোরো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

'পাকিস্তানকে ভেঙে টুকরো' করতে মোদির পাশে শিবসেনা

পাকিস্তানকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়া হোক! আর এই কাজের জন্যে নরেন্দ্র মোদির পাশে থাকবে শিবসেনা। প্রধানমন্ত্রীকে এমনটাই পরামর্শ শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। শুধু তাই নয়, এহেন পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি মোদিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি উদ্ধব। তার মত, গোটা দেশে দলের শক্তি না বাড়িয়ে কীভাবে দেশের শক্তি আরো বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিক মোদি। সেনার আরো মত, উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার রয়েছে, আর মহারাষ্ট্রে রয়েছে একটা নিরুপযোগী সরকার! প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের মতো মহারাষ্ট্রেও দেবেন্দ্র ফঢ়নবীশ সরকারের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের শরিক শিবসেনা। উদ্ধব আরো বলেন, পাকিস্তানে ঢুকে ওদের টুকরো টুকরো দিন। প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশে থাকবে শিবসেনা। মহারাষ্ট্রের চলতি কৃষি সঙ্কট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে চাষিদের পক্ষে কিছু বললেই সরকার-বিরোধী তকমা দেয়া হচ্ছে বলে মত শিবসেনার।

চীনের সাবমেরিন ‘কন্ট্রোল’ করতে ভারতের সাথে হাত মেলাচ্ছে আমেরিকা


ভারত মহাসাগরে ক্রমশ নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চীন। শুক্রবার ভারতের মিলিটারি অফিসারদের সাথে বৈঠকে এমনটাই বললেন মার্কিন পেসিফিক ফ্লিট কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্কট সুইফট। মার্কিন সেনা অফিসার জানান, ভারত মহাসাগরে চীনের উপস্থিতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওই অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে কি করা উচিৎ, তা নিয়ে আলোচনা করতেই মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও আমেরিকা। আমেরিকার দাবি, চীন ওই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করছে। চীন ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রজেক্টের নামে কি করতে চাইছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমেরিকা।
চীনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন অফিসার। চলতি বছরের শুরুরে মার্কিন পেসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস বলেন, ভারত চুক্তিতে সই করলে ভারত মহাসাগরে যৌথভাবে চীনা সাবমেরিনের উপর নজরদারি চালাবে ভারত ও আমেরিকা। শিগগিরই মালাবাদ এক্সারসাইজে অংশ নেবে দুই দেশ। সেই বিষয়েও কথা বলেন সুইফট। আগামী জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে হওয়ার কথা বিশেষ মহড়া ‘মালাবার এক্সারসাইজ’। এবছর অস্ট্রেলিয়া এই মহড়ায় যোগ দিতে চাওয়ায়, বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মালাবার এক্সারসাইজ। সুইফট জানান, এবারের মহড়ায় থাকবে ASW (anti-submarine warfare)। সমুদ্রে চীন ক্রমশ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে দাবি করে মার্কিন নেভি অফিসার বলেন, চীনের সাবমেরিনের উপর নজরদারি চালাতে বিশেষ মহড়া করা হবে।

কিমকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস

সিআইএ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে জৈব-রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, সিআইএ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা মিলে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। পিয়ং ইয়ং এ কোন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় কিম জং আনকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করছিল। উত্তর কোরিয়া এই অভিযোগ করলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বাকযুদ্ধ পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিআইএ তেজস্ক্রিয় জৈবরাসায়নিক পদার্থ বা বিষ ব্যবহার করে কিম জং আনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এজন্যে তারা 'কিম' নামের এক উত্তর কোরিয়ান নাগরিককে ঘুষ দিয়ে এই কাজের জন্য ভাড়া করে।
পিয়ংইয়ং এ কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সময় কিম জং আনের ওপর বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই বিষ প্রয়োগের পর ছয় মাস বা বারো মাস পরেও তা কাজ করতে পারে। 'কিম' নামের লোকটিকে এই কাজের জন্য বিশ হাজার মার্কিন ডলার এবং একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার রিসিভার দেয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করছে উত্তর কোরিয়া। তবে কিভাবে এই ষড়যন্ত্র বানচাল করা হয় তার বিস্তারিত উত্তর কোরিয়া জানায়নি। 'সিআইএ এবং তাদের পুতুল দক্ষিণ কোরিয়ার সন্ত্রাসীদের নির্মমভাবে নির্মূল করা হবে' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা গত কয়েক সপ্তাহে বহুগুণ বেড়ে গেছে। উত্তর কোরিয়া এ সপ্তাহেই তাদের ষষ্ঠ পরমাণু পরীক্ষা চালাবে বলে কথা রয়েছে। সূত্র : বিবিসি

কালকিনিতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে জখম : আটক-১

মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামতউল্লাহ (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই সেনা সদস্যর স্ত্রীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।  আজ শনিবার সকালে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেয়ামতউল্লাহ কাষ্টগড় তালুকদার বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। এলাকা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার চড়লক্ষি গ্রামের নিজামউদ্দিনের সাথে একই এলাকার সাবেক সেনা সদস্য সিদ্দিক বেপারীর জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা চলে আসছে। এর জের ধরে নিজামউদ্দিনের স্কুলপড়–য়া ছেলে নিয়ামতউল্লাকে একা পেয়ে সাবেক সেনা সদস্য সিদ্দিক বেপারী ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে আহত ছাত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার কালকিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ওই সাবেক সেনা সদস্যের স্ত্রী নূরনাহার বেগমকে আটক করেছে থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই সিদ্দিক বেপারী পলাতক রয়েছেন। আহত ছাত্রের বড় বোন তামান্না বেগম বলেন, আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করেছে সিদ্দিক বেপারী। আমরা সিদ্দিক বেপারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ বিষয় জানতে সিদ্দিক বেপারী সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কাষ্টগড় তালুকদার বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু হরিপদ দাশ বলেন, আমাদের স্কুলের ছাত্র নেয়ামতউল্লাহকে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার সঠিক বিচার দাবি জানাই। আমরা ওই হামলাকারীর গ্রেফতারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করবো। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যুবককে হত্যা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হাতুরি ও রড দিয়ে পিটিয়ে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মোঃ সোহেল (২২) ডিস লাইনের মিস্ত্রি ছিলেন। শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে জামালদি ব্র্যাক অফিসের কাছ থেকে টহল পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে ভবেরচরে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর আগে সোহেল এ ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে গেছেন। গজারিয়া থানার ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভূইয়া জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ি মিরপুর ১ নম্বর থেকে তাকে ধরে নিয়ে আসে। বিভিন্ন স্থান ঘুরে নিমর্মভাবে আঘাত করার পর মারা গেছে ধারণা করে এখানে ফেলে যায়। সোহেল উপজেলার টেঙ্গারচরের খাড়াকান্দি গ্রামের মোঃ নাছিরের ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ওসি জানান, তদন্তের স্বার্থে অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রাঙ্গাবালীতে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের একই জায়গায় সভা হওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবির কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে ওই ইউনিয়নের কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দাবি করে ড. আরিফ বিন ইসলামের আলোচনা সভার আয়োজন করেন। পূর্ব নির্ধারিত ওই সভাস্থলের কাছেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল ইসলাম লিটুর সমর্থকরা পাল্টা সভার আয়োজন করে। একই জায়গায় দুই পক্ষের সভা হওয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল সভাস্থলে। একপর্যায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দাবি করা ড. আরিফ বিন ইসলাম বলেন, আমার পূর্ব নির্ধারিত সভাস্থলের কাছে এনামুল ইসলাম লিটুর লোকজন পাল্টা সভার আয়োজন করে।
একইসঙ্গে লিটুর নেতৃত্বে প্রায় দেড়-দুই শ’ সন্ত্রাসী আমার সভায় অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল ইসলাম লিটু বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভুয়া আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সভার আয়োজন করে আরিফ বিন ইসলাম। একই জায়গায় আমার যুবলীগের লোকজন সভা করতে চায়। এ বিষয়টি আমি ওসিকে জানাই। অথচ পুলিশ ও আরিফের লোকজন আমার যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে যুবলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি শামসুল আরেফীন বলেন, আরিফ বিন ইসলামের পূর্ব নির্ধারিত সভাস্থলের কাছাকাছি এনামুল ইসলাম লিটুর যুবলীগের লোকজন পাল্টা সভার আয়োজন করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

কটিয়াদীতে নিখোঁজের ৫ দিন পর নদীতে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ২

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্বামীর বাড়ি হতে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে নূরজাহান বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় আড়িয়ল খাঁ নদ থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নূরজাহানকে হত্যার অভিযোগে স্বামীর নুরুল হকের ভাই মোবারক হোসেন ও ভাগিনা শরিফকে পাশের মনোহরদী উপজেলার চরাঞ্চল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুই সন্তানের জননী নূরজাহান উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নূরুল হকের স্ত্রী । ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ফারুক জানান, সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ছেলে মেয়েসহ ঘুমিয়ে পড়েন নূরজাহান। ভোর হওয়ার পর তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিলো না।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আড়িয়াল খাঁ নদে একটি লাশ ভাসতে দেখে লোকজন কটিয়াদী মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশটি নিখোঁজ নূরজাহানের বলে নিশ্চিত করেন। স্থানীয়রা জানান, নিহতের স্বামী নূরুল হক বিদেশ থেকে বাড়িতে এলেও জনসম্মুখে তাকে দেখা যায়নি। ফলে নূরজাহানের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ভাই জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী নূরুল হক, স্বামীর ভাই মোবারক হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির রব্বানী জানান, গৃহবধূর নিখোঁজের বিষয়ে বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে ভাসমান অবস্থায় নূরজাহানের লাশটি আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে তাকে কেউ হত্যা করে লাশটি নদীতে ফেলে যেতে পারে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীর ভাই মোবারক হোসেন ও ভাগিনা শরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে বিদ্যালয়ে চুরি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের আমতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে ৮টি ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাল্ব চুরি হয়েছে। শনিবার সকালে স্কুলে গিয়ে চুরির বিষয়টি টের পায় শিক্ষকরা। আমতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান, বৃহস্পতিবার স্কুল শেষে দরজা-জানালা বন্ধ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ীতে চলে যায়। শনিবার সকালে শিক্ষকরা স্কুলে গিয়ে দেখতে পান দু,টি ক্লাস রুমের দরজার কড়া ভেঙ্গে ৮টি ফ্যান ও বৈদ্যুতিক লাইট চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

রাণীনগরে ইট ভাটার নির্গত গ্যাসে জমিতে ধানের বদলে চিটা

নওগাঁর রাণীনগরে মোর ইট ভাটার চিমনির নির্গত গ্যাস বিস্ফোরণে প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধানসহ ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে কৃষক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ সব কৃষকরা ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারনে বঞ্চিতরা রয়েছেন ব্যাপক হত্যাশায়। একদিকে জমিতে ধানের বদলে চিটা অন্যদিকে পাওয়া হচ্ছে না ক্ষতিপূরণ। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চকাদিন-চককুতুব নামক আবাসিক এলাকায় রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পাশে চকাদিন-চককুতুব এতিমখানা ও মাদ্রাসা এবং জনবসতিসহ ফসলী জমির মধ্যে গত দুই বছর থেকে মোর ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পাশে ইট ভাটা অবস্থিত হওয়ায় পাকা রাস্তার উপড় সব সময় মাটি পড়ে থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। আর অবিরত ঘটতে থাকে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা জোর করে এই সব নিষিদ্ধ স্থানে ভাটা তৈরি করে পরিবেশ নষ্ট করছে। এদিকে মোর ব্রিকস ভাটার (ভ্যাকুয়াম/কানেকটিং) গ্যাস হঠাৎ খুব জোরে চিমনি দিয়ে নির্গত হতে থাকে। সরকারি বিধি মোতাবেক ভাটার চিমনির উচ্চতা ১২৫ ফিট হওয়ার কথা হলেও এই ভাটার চিমনির উচ্চতা অর্ধেক। যার কারণে ক্ষতির পরিমাণটা অনেক বেশি বলে স্থানীয়দের ধারনা। নির্গত গ্যসের চাপে ও আগুনে আশপাশেরও প্রায় ৪০ বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তবে ভাটা মালিক কিছু কিছু কৃষকদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেও বঞ্চিত কৃষকদের এখন মাথায় হাত পড়েছে। পাশাপাশি দুটি ইট ভাটা থাকার কারণে একজন বলছে আমার ভাটা দ্বারা এই ক্ষতি হয়নি আবার অন্যজন বলছেন আমার ভাটা দ্বারা এই ক্ষতি হয়নি। এতে করে ওই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ইটভাটার আশেপার্শ্বে ধানসহ সব ফসলি জমি রয়েছে। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইটভাটাটি জোরপূর্বকভাবে চালানো হচ্ছে।
এটি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা দাবী করেছেন। চকমুনু গ্রামের কৃষক আসমাইল হোসেন জানান, এই মোর ব্রিকস ইট ভাটার ধোয়ার কারণে আমার ২বিঘা জমির ধান সম্পন্ন চিটা হয়েছে। তারা আমাকে কোন প্রকারের ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাহলে আমি এখন কোথায় যাবো। চককুতুব গ্রামের মুহিম হোসেন, নজরুল ইসলাম ও মোহসিন জানান, আমাদেরজমির ধান এই ভাটার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। অথচ ভাটা মালিক বলছেন তাদের ভাটার কারণে আমাদের জমির ধান নষ্ট হয় নাই। আমরা এখন কোথায় যাবো। চকাদিন-চককুতুব মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুফতি মো: আব্দুর রউফ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ভাটা তৈরি না হওয়ার জন্য প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দিয়েছিলাম। তাতে কোন লাভ হয়নি। সারাক্ষণ ধূলাবালি ওড়ার কারণে আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলতে গেলে সব সময় অসুস্থ্যই থাকে। বিভিন্ন ফলদ গাছ থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ফল। ভাটার মালিক প্রভাবশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে করার কিছু নেই। ভাটার মালিক (পার্টনার) মো: জাহিদ হাসান জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছি। আর যাদের জমির ধান আমার ভাটার কারণে নষ্ট হয়নি তাদেরকে তো আমার ক্ষতি পূরণ দেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। পাশে আর একটি ভাটা আছে হয়তো সেই ভাটার কারণে নষ্ট হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, ক্ষতিগ্রস্থ্যদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নড়াইলে জমির মালিকরা ছুটছেন শ্রমিকের পেছনে

‘ভাই, একটু কমে চলেন। ৮০০টাকা চেয়েছেন, সাড়ে ৭০০ টাকা নিয়েন। মাত্র ৫০ টাকার ব্যবধান। চলেন না ভাই।’ এই দর কষাকষি শ্রমিক বেচাকেনার। দু’জন শ্রমিকের জন্য প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলছে এই দর কষাকষি। তবুও নিষ্ফল আবেদন। বাধ্য হয়ে ৮০০ টাকায় শ্রমিক কিনে বাড়ি ফিরলেন লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের ফাইজার মোল্যা। শ্রমিক বেচাকেনার এ দৃশ্য নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা হাটের। শুধু ফাইজার মোল্যা নয়, তার মতো শত শত কৃষক ছুটছেন শ্রমিকের পেছনে। আর শ্রমিকেরা ছুটছেন মোটা অঙ্কের টাকার দিকে। ধানকাটা মওসুমে ‘শ্রমিক’ পাওয়া যেন “সোনার হরিণ” হাতে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন কৃষকেরা। একদিনের জন্য জনপ্রতি ৮০০টাকা শ্রমমূল্য দেয়ার পাশাপাশি ওই শ্রমিককে তিনবেলা খাবার ও ধূমপায়ীদের বিড়ি দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনপ্রতি আরো ১৫০ টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। একসঙ্গে বেশির ভাগ ধান পেকে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হঠাৎ করে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। এদিকে, হাটবাজারে প্রতিমণ নতুন বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়। কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুর থেকে এড়েন্দা হাটে জন (শ্রমিক) নিতে এসেছি। ৮০০টাকার কমে কেউ যেতে চান না। সেই সঙ্গে যাতায়াত ভাড়া তো আছেই। একজন কৃষক আড়াই মণের বেশি ধান কাটতে পারেন না। এতো দামের কারণে ‘জন’ নিতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, এতো বেশি শ্রমমূল্য এবং উৎপাদন খরচ মিলিয়ে একমণ ধান বিক্রি করলে তেমন কিছুই থাকে না। আমরা কীভাবে বেঁচে থাকব ? একই এলাকার আবুল বাশার বলেন, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছি না। তারা (শ্রমিক) কেউ ৮০০ টাকার কমে শ্রমবিক্রি করবেন না। কী যে সমস্যায় পড়েছি ! অথচ, ধান লাগানো এবং পরিচর্যার সময় ৩০০ থেকে ৪০০টাকায় শ্রম বিক্রি হয়েছে। নড়াইল সদরের তুলারামপুর গ্রামের ইশতিয়াক জানান, একজন শ্রমিক একদিনের শ্রমঘণ্টায় দুই থেকে তিন মণ ধান কাটতে পারেন। তবে, এই সময়ের মধ্যে জমি থেকে বাড়িতে ধান এনে মাড়াই করতে পারেন না। এজন্য আরো অতিরিক্ত সময় ও শ্রম প্রয়োজন হয়। তবুও উচ্চমূল্যে শ্রমিক কিনতে হচ্ছে। লোহাগড়ার পদ্মবিলা গ্রামের ইমদাদুল শেখ জানান, এ বছর ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। এখন পুরো দমে ধানকাটা চলছে। তবে, শ্রমিক সংকট রয়েছে।
কুচিয়াবাড়ির তারিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকের অভাবে ধানকাটা ব্যাহত হচ্ছে। যে জমিতে পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে দুই থেকে তিনজন। এতে করে সোনালি ধান ঘরে তুলতে বেগ পেতে হচ্ছে। কৃষক নেতা খন্দকার শওকত বলেন, সপ্তাহখানেকের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে নড়াইলে পুরোদমে ধানকাটা শুরু হলেও শ্রমিক সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। ‘শ্রমিক সংকট’ ধানকাটার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে পাট নিড়ানিরও প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাই ‘শ্রমিক বা জন’ পাওয়া যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে গেছে। তিনি জানান, গত বছর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় শ্রমবিক্রি হলেও এবার দাম বেড়ে গেছে। সহজে পাওয়াও যাচ্ছে না। লোহাগড়ার এড়েন্দা হাটে শ্রমবিক্রি করতে আসা কালিয়া উপজেলার বাগুডাঙ্গা গ্রামের আসলাম সিকদার জানান, শ্রমবিক্রির জন্য এসেছেন। সাড়ে ৭০০টাকা দর হয়েছে। তবে, ৮০০টাকার কমে যাবেন না তিনি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা গ্রামের শরিফুল ইসলাম জানান, তারা তিনজন পাট নিড়ানির জন্য শ্রমবিক্রি করতে এসেছেন। ভালো দাম না পেলে তারা কাজে যাবেন না। নড়াইল সদরসহ কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার অন্যান্য হাটবাজারেও উচ্চ মূল্যে ধানকাটা শ্রমিক বেচাকেনা চলছে। কোথাও কোথাও শ্রমিক না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষকেরা। শ্রমিক না পেয়ে প্রয়োজনের তাগিদে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সময় দিচ্ছেন। এ কারণে বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। বিশেষ করে ছাত্রদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক জানান, ঝড় ও বৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর নড়াইলে ৪১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

মিরসরাইয়ে ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০ বস্তা ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করেছে বিজিবি। শনিবার ভোর ৪টা দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তি করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম অলিনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে শাড়িগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শাড়ি ফেনী জয়লস্কর বিজিবি ব্যাটেলিয়নে পাঠানো হয়েছে। তবে ২০ বস্তায় কত পিছ শাড়ি রয়েছে তা এখনো গননা করা হয়নি। বিজিবির অলিনগর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার নুর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে পশ্চিম অলিনগর এলাকার প্রবাসী জয়নাল আবেদীন বাড়ির আঙিনা থেকে শাড়িগুলো উদ্ধার করেছি।
তবে শাড়িগুলো কে রেখে গেছে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি ওই বাড়ির মালিক। আমরা এখন শাড়ি পাচারের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা সহ কয়েকজন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, উদ্ধারকৃত শাড়িগুলো স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শফি মেম্বার পাচারের উদ্যোশ্যে রেখেছিলো। শফি মেম্বার ওই বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। উল্লেখ্য, করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকা বাংলাদেশ ভারত-সীমান্ত এলাকা হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভারতীয়, শাড়ি, মাদকদ্রব্য সহ বিভিন্ন পণ্য পাচার হচ্ছে।

মিরসরাইয়ের অনুদানের টাকায় পোড়া বাড়ীতে উঠছে পাকা ঘর

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রান্না ঘর থেকে সৃষ্টঅগ্নিকান্ডে মিরসরাই উপজেলার সৈদালী এলাকায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৮টি বসত ঘর। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো ৩ পরিবার। সহায় সম্বল হারা মানুষ গুলো যখন খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছিলেন তখন তাদেও পাশে এসে দাঁড়ায় সৈদালী নাগরিক ফোরাম। দিনমজুর শ্রেনীর পরিবারগুলোর মাথা গোজার ঠাই কওে দিতে মানবিক আবেদন করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। তাদেও আহবানে সাড়া দেয় দেশে বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। অনুদানের সেই টাকায় এখন সেমিপাকা ঘর উঠছে ক্ষতিগ্রস্তদেও বসতভিটায়। আগুনে সর্বস্বহারা আইয়ুব খান, তাজুল ইসলাম, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ছলিম উল্লাহ ছুলু, আফি উদ্দিন ভূঁইয়া, ইউনুছ ভূঁইয়া, নুরুল আবছার ও খোকনরা আবার স্বপ্ন দেখছে নতুনকরে পথ চলার। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় সৈদালী নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে। তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারী অগ্নিকান্ডের সময়আমরা সৈদালী নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে সৈদালী গনহত্যা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের একটি সভা করছিলাম। অগ্নিকান্ডে ক্ষহিগ্রস্তদেও অসহায় অবস্থা দেখে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উদ্যোগ নেয় তাদেও জন্য কিছু করার। তাৎক্ষনিক সদস্যদের থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে একটি তহবিল গঠন করি। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মানবিক সহযোগীতার আবেদন জানানো হয়। পরবর্তীতে আসতে থাকে একের পর সহযোগীতা।
ঘর নির্মানে রজন্য গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মিরসরাই সমিতিইউ এসএইনক এর সভাপতি কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাছির এবং কাওসার, ওমান প্রবাসী আবদুর রাজ্জাক, ব্যবাসায়ী নাছিরউদ্দিন, ফরিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাষ্টার জয়নাল, লায়ন্সক্লাব অব চট্টগ্রাম মিরসরাই, বিভিন œশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, এলাকার সর্বস্তরের জনগনআর্থিক এবং বিভিন্নভাবে সহযোগীতা প্রদান করেন। অনুদানের সেই টাকায় এখন চলছে সেমি পাকা ঘর নির্মানের কাজ। ইতোধ্যে ৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহিত হয়েছে। এখনো ৫ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে। মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদেও পক্ষ থেকে অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তই উনুছভূঁইয়া, ছলিম উল্লাহ ভূলু বলেন, আগুন আমাদেও সহায় সম্বল কেড়ে নিয়েছে। সৈদালী নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৮টি পরিবারকে ২ রুমের সেমিপাকা ঘর নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে আমরা আবার নতুন কওে ঘুরে দাড়ানোর পথ খুজে পেয়েছি। সৈদালী নাগরিক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মানে সব শ্রেনী পেশার মানুষ যেখাবে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করেছে তা নজিরবিহীন। তিনি ঘরের বাকী কাজ শেষ করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

বিশ্ব বাজারে ঘিওরের লেবু

লেবুচাষ পাল্টে দিয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। উপজেলার বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের প্রায় ৭শ পরিবারের দুই সহস্রাধিক লোক লেবু চাষের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার চাষিরা কলম্বো, এলাচি ও কাগজী জাতের লেবু চাষ করেন। এলাচি জাতের লেবু স্বাদে ভালো হলেও ফলন কম হওয়ায় চাষিরা কলম্বো জাতের লেবু বেশি চাষ করছেন। বাইরের যে কেউ গ্রামে ঢুকলে অবাকই হবেন। বাড়ির উঠান, আঙিনা যেখানেই ফাঁকা জায়গা, সেখানেই লেবু গাছ লাগানো হয়েছে। এখানকার চাষীদের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের লেবু ঢাকার পাইকারদের মাধ্যমে দেশ ছাড়িয়ে স্থান করে নিয়েছে বিশ্ব বাজারে। শুর”তে নিজেদেরর পরিবারের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে লেবু চাষ করা হয় । অল্প খরচে বেশি উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় আস্তে আস্তে লেবু চাষের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। এর পর শুর” হয় বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ। ১৫/১৬ বছর আগে চাষ শুরু হওয়া গ্রাম দুটিতে এখন রীতিমত অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এ দুটি গ্রামে প্রায় ৭ শত পরিবার লেবু চাষের উপর নির্ভরশীল। এখানকার চাষীরা কলম্বো, এলাচী ও কাগজী জাতের লেবু চাষ করে থাকে। চাষীরা জানান, সাধারনত বছরে আশ্বিন মাসে লেবুর চারা বোপন করা হয়। তারপর ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ও জৈব সারসহ পানি সেচ দেওয়া হয়। চাড়া বপনের দুই বছর পর লেবু ধরা শুর” হয়। প্রতি বিঘায় লেবু চাষ করতে সবকিছু মিলে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এতে এক বিঘা জমিতে বছর প্রতি ৫০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করা হয়। একবার লেবু বাগান করলে গড়ে প্রায় ১০/১২ বছর সেখান থেকে লেবু পাওয়া যায়। সে হিসাবে উৎপাদন খরচ উঠতে প্রথম দুই বছর লেগে যায়। ৩য় বছর থেকে লাভ পাওয়া যায়। সাধারনত বছরের ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর মৌসুম হলেও বছরের প্রায় বারো মাসই কম বেশি লেবু তোলা হয়। উৎপাদিত এসব লেবু স্থানীয় বাজার এবং জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার কাওরান বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। সেখানে লেবু বিক্রি করা হয় পণ হিসেবে। ২০ হালিত ১ পণ। সম্প্রতি ঘিওরের এই কলম্বো লেবু বিশ্বের কয়েকটি দেশেও রফতানী হচ্ছে। বাগান থেকে লেবু তোলার পর বাছাই করে বড়, মাঝারি, ছোট ও কেট এই চার ভাগে ভাগ করা হয়।
লেবুর মৌসুমে ঢাকায় প্রতি পণ লেবু ৪শ থেকে ৫০ শত টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পণ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় পাইকাররা জানান। বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সফল লেবু চাষী মোঃ আওয়াল খান জানান, সোদঘাটা গ্রামে প্রায় ১০ বছর আগে তিনি ১২ বিঘা জমিতে লেবু বাগান করেন। চারা বোপনের প্রথম বছর ১১/১২ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপর বাগান পরিচর্যা করার জন্য বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়। এবার তিনি ৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন বলে জানান। স্বল্প সময়ে ও কম পরিশ্রমে লেবু চাষে দীর্ঘ মেয়াদী অধিক মুনাফা লাভ করা যায় বলে তিনি বেকার যুবক যুবতীদের লেবু চাষে এগিয়ে আসার অঅহবান জানান। বালিয়াখোড়া গ্রামের লেবু চাষি মজিবুর রহমান ১৬-১৭ বছর ধরে লেবু চাষ করেন। এক বিঘা জমিতে কলম্ব জাতের লেবু চাষে তার খরচ পড়ে প্রায় এক লাখ টাকা। আর বছরে লেবু বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকার। একই গাছ থেকে ১০-১২ বছর লেবু বিক্রি করতে পারেন তিনি। প্রতিবছর বাগান পরিচর্যায় খরচ হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। চাষিরা জানান, চারা বপনের দুই বছর পর লেবু ধরতে শুর” করে। প্রথম দুই বছরেই খরচ উঠে যায়। বিদেশে বিভিন্ন সবজীজাত পণ্য রপ্তানীকারক ঢাকার ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক খান বলেন, চৌধুরী চলতি মৌসুমে সৌদি আরব, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৫ টন লেবু রপ্তানি করা হয়েছে। বেশিরভাগ লেবুই তিনি সংগ্রহ করেন মানিকগঞ্জের ঘিওর থেকে। ঘিওর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান জানান, ঘিওরের বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের চাষীরা লেবু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। এ অঞ্চলের লেবুর কদর রয়েছে সারা দেশে। এখন বিদেশীদেরও খাবার তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে ঘিওরের লেবু। এ দুই গ্রামের কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস লেবু চাষ। লেবু চাষীদের সব রকম সহযোগিতা করে থাকেন বলে জানান। তবে সরকারী সাহায্য ও পরামর্শ এবং সহজ শর্তে ঋণ পেলে শুধু এ গ্রাম দুটি নয় পুরো ঘিওর উপজেলার চাষীরা লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হবে বলে চাষীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচনে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ

জাতীয় নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ইতোমধ্যে প্রায় সেরে ফেলেছে ক্ষমতাসীন দলটি। এখন চলছে প্রচার ও ইশতেহার তৈরির কাজ। তারই অংশ হিসেবে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলায় সফর করছেন। সফরকালে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারেও এবার গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। সে লক্ষ্যে দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগ ও সরকারের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও সরকারি কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী, এমপি, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনমুখী হওয়ার নির্দেশনাও দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সেরে ফেলা হয়েছে। সরকারি দুইটি সংস্থার মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থী ও বর্তমান এমপিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নিয়মিত চোখ বুলাচ্ছেন। সে জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অন্য দিকে নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল মেটাতে বিভিন্ন জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসব বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি। ১১ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিন অথবা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রস্তুতি থাকা দরকার তার প্রায় সবই আওয়ামী লীগের হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনী প্রচার চলছে। এ ছাড়া ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্র মাথায় রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বতর্মান সরকারের বড় বড় সাফল্যগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যৎ কিছু পরিকল্পনাও ইশতেহারে যুক্ত হবে। তারা জানান, আগামী নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার চালানো হবে। সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দলের সব এমপিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার এবং এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে ভোট প্রার্থনাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এমপিদের। রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ছাড়াও দেশের স্বনামধন্য প্রযুক্তিবিদরা এমপিদের প্রশিক্ষণ দেবেন। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গের অন্যতম জেলা এবং বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত বগুড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওই দিন বগুড়ায় দলীয় জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে সরাসরি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সারা দেশে জনসভার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। তারই অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর, মাগুরা ও ফরিদপুরে জনসভার কাজ সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল যাচ্ছেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। সেখানে ১৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ঠাকুরগাঁও, বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা থাকলেও এরই মধ্যে তা স্থগিত করা হয়েছে। দলের সিনিয়র একজন নেতা আলাপকালে জানান, আওয়ামী লীগ বেশ আগ থেকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশেষ করে গত বছর অক্টোবর মাসে অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে শেষের মধ্য দিয়েই এ প্রস্তুতি শুরু করে ক্ষমতাসীনরা। কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দলীয় সভাপতি। এ ছাড়া কাউন্সিলের পর থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আসছেন।
পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন জেলায় সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান। তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার মধ্য দিয়েই মূলত প্রচারের এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর প্রভাবশালী একজন সদস্য জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা থেকে সব এমপিকে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে বিতর্কিত এমপিদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কে কি করছে আমার কাছে সব রিপোর্ট আছে। আগামী নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা যার যার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ সব ছুটির দিনে নিজ নিজ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীও আগামী নির্বাচনের জন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ধীরে ধীরে ছোট করে আনছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, গত অক্টোবরে দলীয় কাউন্সিলেই আমাদের সভানেত্রী নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা সারা দেশে যার যার মতো করে চষে বেড়াচ্ছি। আর প্রধানমন্ত্রীর জনসভাগুলোও নির্বাচনী প্রচারের অংশ। নির্বাচনের প্রাথমিক কাজগুলো আমাদের শেষ হয়েছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোকে জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সে জন্য নিয়মিতভাবে জনসভার আয়োজন এবং এমপিদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও সারছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব মিলিয়ে আমরা নির্বাচনের জন্য মোটামুটি প্রস্তুত।