Wednesday, July 27, 2016

ফ্রান্সে যাজককে গলা কেটে হত্যা

ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের রুয়েন শহরের এক গির্জায় এক প্রবীণ যাজককে গলা কেটে হত্যা করেছে দু’জন ছুরিধারী। এ সময় গির্জার সেবিকাসহ চারজনকে জিম্মি করে তারা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই ছুরিধারী নিহত হয়। ইসলামিক স্টেট এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এএফপি জানায়, ছুরিধারী ওই দুই ব্যক্তি সেন্ট ইটেনি দ্যু রুয়েন গির্জার ৮৬ বছর বয়সী পাদ্রি জ্যাকস হামেলকে গলা কেটে হত্যা করে। ছুরিকাঘাতে আহত এক জিম্মির অবস্থা সংকটাপন্ন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ হামলার সময় যাজক ও দুই সেবিকা ছাড়াও কয়েকজন প্রার্থনাকারী গির্জায় উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সের সোয়াত এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানায় ফ্রান্স থ্রি টেলিভিশন সূত্র। সে সময় জনগণকে দূরে সরিয়ে দেয় পুলিশ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ওই গির্জা সফর করেছেন এবং বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের নামে এ হামলা চালানো হয়। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাক বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, আইএসের ‘সৈনিকরা’ এ হামলা চালিয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়ের ভলস এই ‘বর্বরোচিত হামলার’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এতে পুরো ফ্রান্স এবং ক্যাথলিকরা আহত হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। স্থানীয় ইউলালি গার্সিয়া বিউটি পার্লারে কর্মরত এক নারী নিহত যাজকের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তাকে ছোটবেলা থেকে চিনতেন।

শুধু হিলারিই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য : মিশেল

হিলারি ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র যোগ্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে ‘হৃদয়ের আবেগ’ দিয়ে সমর্থন জানান মিশেল। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে হিলারিকেই নির্বাচিত করার আহ্বান জানান বার্নি স্যান্ডার্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে দলীয় ঐক্য গড়তে চেষ্টা চালাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল নেতারা। খবর এএফপি ও বিবিসির। চার দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিন সোমবার মিশেল ওবামা বলেন, নতুন নেতার হাতে আগামী চার থেকে আট বছর পর্যন্ত আমেরিকান শিশুদের গড়ে তোলার ক্ষমতা থাকবে। হিলারিকে ‘চাপের মুখে অনমনীয়’ একজন নেতা উল্লেখ করে ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাকে সমর্থন জানান। ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘এ নির্বাচনে, আমি দায়িত্ব নিয়ে তার ওপর এই আস্থা রাখছি যিনি সত্যিকার অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য। তিনি আমাদের বন্ধু হিলারি ক্লিনটন।’
২০০৮ সালে বারাক ওবামার সঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়ন লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে মিশেল বলেন, ওই সময় হিলারি রাগ বা অন্য কোনো মোহে পড়েননি। একজন জনসেবা কর্মী হিসেবে হিলারি জানেন, এটি ব্যক্তিগত আবেগ ও ক্ষোভের ঊর্ধ্বে। মিশেল ওবামা তার ভাষণে আরও বলেন, হিলারির মাধ্যমেই তার নিজের দুই মেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। একজন নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করে তারা। মিশেল ওবামা তার ভাষণে হিলারির নির্বাচনী প্রচারে বিভেদ ভুলে সব ডেমোক্রেটের ঐক্য প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমালোচনা করেন। ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর তীব্র সমালোচনাও করেন মিশেল ওবামা। বলেন, ‘কখনও কাউকে বলতে দেবেন না আমাদের দেশ মহান নয়, যে একে আবার আমাদের কোনোভাবে মহান বানাতে হবে।’ তার এ বক্তব্যে সমর্থন আর করতালির ঝড় ওঠে সম্মেলনে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ইমেইল বিতর্ক নিয়েই চলছে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে দেয়া ভাষণে বিভেদ ভুলে ট্রাম্পকে ঠেকাতে দলের ভেতর ও নিজের সমর্থকদের হিলারির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
সম্মেলনের আগেই হিলারির মনোনয়ন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে ১৯ হাজারেরও বেশি ইমেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। স্যান্ডার্সের বিপক্ষে দলীয় নেতৃত্বের কারচুপি চেষ্টা সামনে আসায় দলে ঐক্যের বদলে বিভেদ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডেমোক্রেটরা। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রাইমারি ভোটে জয়ী হিলারি ক্লিনটনকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সিনেটর স্যান্ডার্স ফিলাডেলফিয়ায় মঞ্চে ওঠার পর তাকে তিন মিনিট ধরে করতালি দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। তিনি উচ্ছ্বসিত উপস্থিতির উদ্দেশে বলেন, হিলারি অবশ্যই পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। স্যান্ডার্স বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একের পর এক গ্র“পকে অপমান করছেন তখন হিলারি ক্লিনটন বুঝতে পেরেছেন, বৈচিত্র্যতাই আমাদের বৃহত্তম শক্তি। তিনি বলেন, ধ্যান-ধারণা ও নেতৃত্বের বিচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে হিলারিই সবচেয়ে ভালো এবং তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ট্রাম্পকে ঠেকাতে হবে। হিলারিকে নির্বাচিত করতে হবে। স্যান্ডার্স আরও বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন একজন অসামান্য প্রেসিডেন্ট হবেন এবং আমি আজ রাতে এখানে তার পাশে দাঁড়িয়ে গর্বিত।’ এদিকে স্যান্ডার্সের বক্তব্যের পর তার সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠে। চিৎকার করে স্যান্ডার্সকেই ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চাইতে থাকে তারা। অনেক স্যান্ডার্স সমর্থককে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সম্মেলনের প্রথম দিন হিলারিবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশও করে স্যান্ডার্সের সমর্থকরা।

জঙ্গিবাদের ডামাডোলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন উপেক্ষিত না হয়

অতিবর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বন্যা উপদ্রুত এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন উদ্বাস্তুর মতো সড়কে ও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক জায়গায় মেহনতি মানুষের কাজ নেই। ঘরে খাবার না থাকায় তাদের পরিবার-পরিজনসহ উপোস থাকতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁধ। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে চাল, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে; কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এতে ৭টি ইউনিয়নের ২২টি চর প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ওইসব এলাকায় খাদ্য, ওষুধপত্র, বিশুদ্ধ পানিসহ গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যাদুর্গতরা ত্রাণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দুর্গত এলাকার কৃষকের উৎপন্ন শাক-সবজি, অসংখ্য বীজতলা, উঠতি আখ ও পাট ফসল তলিয়ে গেছে। বস্তুত বন্যাদুর্গত মানুষের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। অতীতে বন্যার সময় আমরা দুর্গত মানুষের দুঃখ ও ক্ষয়ক্ষতির সচিত্র খবর পত্রিকার পাতাজুড়ে দেখেছি। এখন তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় বন্যার খবর নেই। জায়গা পেয়েছে শেষের পৃষ্ঠায়। যেন বন্যা বড় কোনো সমস্যা নয়! বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক ও দরিদ্র মানুষ। সমাজের রথী-মহারথী ও বিত্তবানদের তেমন স্পর্শ করে না বন্যা। তাই কি বন্যাকে কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবও আমাদের খুঁজতে হবে। তবে এ মুহূর্তে জরুরি করণীয় হল দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে অতীতের মতো। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও। সন্ত্রাস প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য তো সৃষ্টি হল না, বরং আমরা লক্ষ্য করেছি ব্লেমগেম। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এমন মন্দ সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সরকারসহ সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকায় বন্যাকবলিত মানুষের দিকে সেভাবে কেউ দৃষ্টি দিচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে যে ফসল ও সম্পদসহ লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, সেদিকে কারও খেয়াল নেই। এর ফলে বন্যার্তদের আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই এটা সত্য। তবে দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি থাকাটা আবশ্যক। আজকাল বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সরকারসহ বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে গড়িমসি লক্ষ্য করা যায়। যতক্ষণ অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, ততক্ষণ যেন তাদের টনক নড়ে না। ঢিমেতালে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করায় তা দিয়ে বন্যার্তদের একবেলা খাবারের সংস্থান করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এটা সবারই জানা, বন্যায় বিশেষ করে বন্যার পর খাদ্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরুর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়। এ সমস্যা চিরকালের। অথচ এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের তরফ থেকে যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, শুরুতে তা দেখা যায় না।
এমনকি বেসরকারি কোনো সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। বস্তুত বন্যাকবলিত মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে কোনো রকমে আশ্রয়ের সংস্থান করতে পারলেও জীবন বাঁচানোর যেসব মৌলিক উপকরণ রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হয়। এ সময়েই জরুরি ভিত্তিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এবারের বন্যা স্বাভাবিক নয়। বন্যায় নিম্ন ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকায় যেসব চরে মানুষের বসবাস রয়েছে, সেসব অঞ্চলে এ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ভাঙন অন্য কোনো সময় দেখা যায় না। সাধারণত বন্যায় মানুষ স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার পর বন্যা শেষে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যায়। এবার বন্যার পর দেখা যাবে ভাঙনের কারণে অনেকেরই বাড়িঘর ও ফসলি জমি নেই। ফলে এসব মানুষ সর্বহারা হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। কর্মসংস্থানের অভাবে অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। আশ্রয় ও সম্বলহারা এ ধরনের হাজার হাজার মানুষের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের আগাম চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে তীব্র পানি সংকট ও বর্ষায় বন্যা দেখা দেয়ার মূল কারণ ভারতের বিদ্যমান পানিনীতি। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ ও গ্রোয়েন নির্মাণ করে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়, আর বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশে বন্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারেরও ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা ভারতের সব চাহিদা পূরণ করলেও বাংলাদেশের জীবনমরণ পানি সমস্যার সমাধান করেনি ভারত। এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কিছুদিন তিস্তা চুক্তি নিয়ে হবে-হচ্ছে বলে আওয়াজ তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সবই আষাঢ়ে তর্জন-গর্জনে পরিণত হয়। এই চুক্তি এখন পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভর করছে। পানি সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষায় বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে শুকিয়ে মরা বাংলাদেশের নিয়তি হয়েই থাকবে। পানি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হলে বাংলাদেশকে আর এ দুর্ভাগ্য বরণ করতে হবে না। বর্তমান সরকারের সঙ্গে যেহেতু ভারত সরকারের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পানি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে বাংলাদেশকে আর বছর বছর পানি সংকটে পড়তে হবে না, বন্যায়ও কষ্ট পেতে হবে না দেশের মানুষকে। কাজেই পানি সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।
এমএইচ খান মঞ্জু : প্রাবন্ধিক
samoynews24@gmail.com

লন্ডনে মুস্তাফিজ আশরাফুল সাক্ষাৎ

মুস্তাফিজুর রহমান গেছেন খেলতে। মোহাম্মদ আশরাফুল ঘুরতে। চলতে চলতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের দু’জনের পথ মিশে গেল একই জায়গায়। বিদেশ-বিভূঁইয়ে বাংলাদেশের দুই সেরা ক্রিকেট তারকার দেখা হল। লন্ডনে একসঙ্গে সময় কাটালেন, খাওয়া-দাওয়া করলেন মুস্তাফিজ এবং আশরাফুল। সাসেক্সের হয়ে মুস্তাফিজ ২১ জুলাই প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন চেমসফোর্ডের কাউন্টি গ্রাউন্ডে।
ওই ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। গ্যালারি থেকে তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী। কাউন্টিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ২৩ রান দিয়ে তোলে চার উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তার দুর্দান্ত অভিষেকের সাক্ষী হন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের কাটার মাস্টার পরের ম্যাচে ছিলেন কিছুটা নিষ্প্রভ। এরপর অনুশীলনে কাঁধের পুরনো ইনজুরিতে চোট পাওয়ায় রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপে খেলা হয়নি তার। এরই মাঝে একদিন দেখা হল মুস্তাফিজ ও আশরাফুলের। লন্ডনে মেমোরাইজ অব ইন্ডিয়া ওস্টারলে রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে ছবি তুললেন আশরাফুল। সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আশরাফুল। ওয়েবসাইট।

অতঃপর বিরতিতে পূর্ণিমা

সিনেমায় ব্যস্ততা কমলেও টিভি পর্দায় দিনকে দিন চাহিদা বাড়ছে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার। গেল ঈদে তাই একাধিক নাটকে দেখা গেছে এ নায়িকাকে। টিভি পর্দার ব্যস্ততা ঝেড়ে এক মাসের অবসর কাটাতে চাইছেন তিনি। এই এক মাস স্বামী-সংসার ও কন্যা আরশিয়াকে পূর্ণ সময় দেবেন বলে জানিয়েছেন এ তারকা। মেয়ের বয়স এখন মাত্র দুই বছর। তাই তাকে একটু বেশি সময় দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন পূর্ণিমা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গেল ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে টানা অভিনয় করেছি। ঈদের কাজের চাপে মেয়ে ও পরিবারকে সময় দিতে পারিনি।
তাই এখন থেকে আগামী এক মাস মেয়ে আর পরিবারের জন্যই বরাদ্দ করেছি। এসময় নতুন কোনো নাটকে অভিনয় করব না।’ তবে এক মাস বিরতির পর আগামী ঈদুল আজহার জন্য আবার নাটকে অভিনয় করবেন বলেও জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, গেল ঈদে ইমরাউল রাফাতের নির্দেশনায় ‘ভিমরতি বিড়ম্বনা’, মাসুদ সেজানের ‘লাভ অ্যান্ড কোং’ এসএ হক অলিকের ‘ফিরে যাওয়া হলো না’সহ বেশক’টি নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব নাটকই দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের পাশাপাশি নতুন একটি চলচ্চিত্রেও নাম লিখিয়েছেন তিনি। ছবিটির নাম ‘বন্ধ দরজা’। এটি পরিচালনা করবেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ছবিটির শিগগিরিই শুটিং শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন পূর্ণিমা।

কেন ছাত্ররাজনীতি?

সম্প্রতি সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন তথা ছাত্ররাজনীতি চালু করার যে ঘোষণা দিয়েছে, তাঅশনিসংকেত বলেই প্রতীয়মান হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষাবিদেরাও এই ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু হলে সেখানেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ছাত্রলীগ নেতৃত্ব ছাত্ররাজনীতির অনুপস্থিতির কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি তৈরি হচ্ছে বলে যে ধারণা দিয়েছে, তা-ও পুরো সত্য নয়। সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যেমন জঙ্গিবাদে দীক্ষা নিচ্ছে না, তেমনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও এই সংক্রমণ হতে মুক্ত বলা যাবে না। দ্বিতীয়ত, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি শিক্ষাঙ্গনকে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে। গত এক বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠনটির ৮৭টি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কিংবা নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। আনুষ্ঠানিক ছাত্ররাজনীতি না থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু হলে সংঘাত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমান বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু করা হবে আত্মঘাতী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সবাই শিক্ষাঙ্গনে জঙ্গিবাদের অবসান চায়। কিন্তু  অসুস্থ ও সংঘাতময় ছাত্ররাজনীতি দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একযোগে কাজ করতে হবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠনটি যদি সত্যিই ছাত্রসমাজের কল্যাণ চায়, তাদের উচিত হবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি সামনে নিয়ে আসা। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সামরিক শাসনামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক শাসনামলে তা বন্ধ আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির দুষ্টক্ষত না ছড়িয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিতে হবে।