Thursday, May 3, 2018

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা যে কারণে বাড়ানো প্রয়োজন by প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন

কোটা পদ্ধতি কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না। নিয়মানুযায়ী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে এই কোটার আওতায় এনে সুবিধা দিয়ে একে নতুনভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও কোটা প্রথা আছে।
তবে এর মধ্যে যত জটিলতা ও ভুল ছিল সামপ্রতিককালে সেটার সংস্কার করা হয়েছে। কোটা রাখার বিধান এবং তার প্রয়োগ যে নিয়মে বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে বাস্তবে তার মিল খুবই কম। শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে  নেয়ার জন্যই বাড়তি সুবিধা হিসেবে এই কোটা প্রথার সৃষ্টি। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে যাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয় তাদের অনেকেও এই সুবিধা ভোগ করছেন। যুদ্ধাহত, পঙ্গু এবং ভাতার ওপর নির্ভরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তাই বলে সকল মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য হতে পারে না। সে জন্য এই ক্ষেত্রে সংস্কার করে এটাকে ‘প্রপরশন রেট অফ অ্যাভারেজ’ আকারে নিয়ে আসা যেতে পারে। চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সের সীমাবদ্ধতা এর চেয়েও মারাত্মক সমস্যা। এই দাবিতেও ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র মো. ইমতিয়াজ হোসেন ও এমএ আলীর নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ নামের অপর একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। তবে এই পুরাতন ও সুদীর্ঘ আন্দোলন আজও সফলতার মুখ দেখেনি। যদিও এ নিয়ে ঢাকা সহ সারা দেশে কম আন্দোলন হয় নি।
তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের চেয়ে বয়স বৃদ্ধিতে সম্পৃক্ত আন্দোলনকারীরা শক্তিতে ও সংখ্যায় একটু কম। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কলামিস্ট, সচেতন মহলও এর পক্ষে জোরালো মত পোষণ করে আসছেন তাদের কথায়, ভাষ্যে আর  লেখনীতে। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো বয়সবৃদ্ধিকরণের আন্দোলনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং আসা উচিত। কারণ সেশন জট, নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, বিভিন্ন নতুন নিয়োগে আবেদনের আগেই বিদ্যমান চাকরিজীবীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে মামলা করে সেটা স্থগিত করার মতো কারণ, যথাসময়ে নিয়োগ কার্যক্রম না হওয়া, পদ খালি থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না থাকা ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কারণ। একটা মানুষের মেধা, প্রতিভা, যোগ্যতা আর দক্ষতার পরিচয় ২৭-৩০ বছরের মধ্যে কখনই প্রকাশ পায় না। কয়েক লাখ বেকার এই ২৭-২৮ বছরে সেশন জটে আক্রান্ত  হয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করেছেন।
তাছাড়া বিদ্যমান সেশন জটের মাত্রা কিছুটা কমলেও সামপ্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজেও সেশন জট চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে উপরে উল্লিখিত সমস্যাগুলো যোগ করলে তাদের প্রকৃত যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থাকে না বললেই চলে। তাছাড়া সরকারে বয়সের এই সীমাবদ্ধতার নিয়মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরও নিয়োগ দিচ্ছে না। ফলে এদিকে প্রবেশটাও সংকুচিত হয়ে গেছে। পাশাপাশি ব্রেন-ড্রেনের মতো কারণ তো রয়েছেই। তাহলে দেশ কীভাবে  বেকারমুক্ত হবে আর এই সব উচ্চ শিক্ষিতরাই কোথায় যাবেন? বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সের সীমাবদ্ধতা বাস্তবতার নিরীখে একটি মারাত্মক সমস্যা।  দেশের প্রায় ৮০% মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। মোট শ্রম শক্তির একটা বড় অংশ কর্মহীন। অথচ নিম্ন মধ্যম আয়ের এ দেশে বহু কষ্টে টাকা-পয়সা খরচ করে পড়াশুনার মূল লক্ষ্যই হলো কর্মসংস্থান।
একেকটা উচ্চ শিক্ষিত ছেলেমেয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির আশায় মুখিয়ে থাকে। কিন্তু হাতে থাকা অবশিষ্ট সময় অর্থাৎ ২/৩ বছরে চাকরির জন্য বাড়তি পড়াশুনা করে নিজেকে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে করতে এই সময়টুকু শেষ হয়ে যায় এই বয়সের প্রাচীরের কারণে। তাহলে কি ১৭/১৮ বছরের অর্জিত মূল্যবান সনদের মেয়াদ ২/৩ বছরেই শেষ হয়ে যাবে? এই প্রশ্নটা গোটা জাতির বিবেকের কাছেই থাকুক। সরকারের নিশ্চয় অজানা নয়, গত কয়েক বছরে এই হতাশায় অনেক হতদরিদ্র মেধাবী, প্রতিবন্ধীরাও তাদের কষ্টার্জিত মূল্যবান সনদ সরকার বরাবর বিভিন্ন মাধ্যমে জমা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এতে অনেক মেধাবী আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। মূলত এটা একটা সর্বজনীন, মৌলিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারও বটে।
কোটা বাতিলের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকার নিশ্চয় একটা নতুন নীতিমালা তৈরি করবে। এক্ষেত্রে আবেদনে সাধারণ প্রার্থীদের সঙ্গে অন্যদের বিদ্যমান বয়সের যে সীমা অর্থাৎ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য ৪০, জুডিশিয়ালদের জন্য ৩২, ডাক্তারদের জন্য ৩২, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩২ এবং নার্সদের জন্য ৩৬ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রেও নিশ্চয় পরিবর্তনের একটা প্রভাবে পড়বে। তবে সেই পরিবর্তন বিদ্যমান বয়স কমানো না বাড়ানোর মাধ্যমে হবে সেটা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। এমনকি সেটা অভিন্নও হতে পারে। তবে সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত হবে  সেটাকে বিদ্যমান সর্বোচ্চ সীমার সঙ্গে আরো বর্ধিত করা। যাতে করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যেমন একদিকে দীর্ঘদিনের এই দাবি মেনে নেয়া হবে তেমনি অন্যদিকে জনগণের মতামত ও সাংবিধানিক অধিকার প্রাপ্তির প্রতিফলন ঘটবে।
অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর অস্থায়ী চাকরি করে বাড়তি অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা আর দক্ষতা নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য  তো পর্যাপ্ত সুযোগ থাকতে হবে। এতে করে দেশ ও সরকারি ক্ষেত্রগুলো যোগ্য লোক পাবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের হাতেই দেশের ভালো-মন্দ নির্ভর করে বহুলাংশে। আর এর মোক্ষম সময় হতে পারে ২৫-৩৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়স। তাই কোটার মতো করে বয়সের এই সীমাবদ্ধতাও সরকারের তুলে দেয়া উচিত। গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর। ৫০ বছর অতিক্রম করলে সেটা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করে সরকার। এদেশের মানুষের বর্তমান গড় আয়ু ৭১.৬০। তাহলে গড় বিবেচনায় নিশ্চয় বয়সসীমা বর্ধিত করা শতভাগ যৌক্তিক।
আরো একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিসিএস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদার এই সব পদগুলোতে একটা ম্যাচুউরিটি বা পরিপক্বতা থাকা দরকার। কারণ এই নিয়োগে যেসব পদে এই তরুণ-তরুণীরা প্রবেশ করেন তার চেয়েও তাদের অধীনস্থ বিদ্যমান নিম্ন পদের অনেক চাকরিজীবীই রয়েছেন যারা অনেক বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। অথচ পদমর্যাদা বিবেচনায় উল্টো তাদেরকেই সম্মান করতে হয় এবং শতভাগ ভুল হলেও তাদের নির্দেশও মানতে হয়। অন্যদিকে তারা একেকটা বড় এলাকার দায়-দায়িত্ব নিয়েও থাকেন। ভুলে গেলে চলবে না- এই পদধারীরাই একদিন পদোন্নতির শীর্ষে গিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দেশের সর্বেসর্বা হিসেবে কাজ করবেন। তাই এই পদগুলোর ক্ষেত্রেও ৩০  থেকে ৩৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়স নির্ধারিত করা উচিত এবং একটা ন্যূনতম সময়সীমার অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের  ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা উচিত।
সময়ের সেরা সরকার ব্যবস্থা দেশে চলমান রয়েছে। দেশের উন্নয়নে, দেশকে আধুনিক বাংলাদেশে রূপান্তরের  ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়িত সব উদ্যোগই প্রশংসনীয়। তবে তার সঙ্গে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবি দীর্ঘদিনের এই বয়সের সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে সেটা ৩৫ বা তার চেয়ে বেশি করলে সরকারের ব্যাপক সচেতনতারই পরিচয় প্রকাশ পাবে। পাশাপাশি এটাও হবে বর্তমান সরকারের একটা আলোচিত এবং সময়োপযোগী সেরা উদ্যোগ। তাছাড়া সব ক্ষেত্রে  কেন আন্দোলন করতে হবে? জনগণের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারকে নিজ থেকেই উদ্যোগ নিতে হয়।

সামরিক বাজেটে রাশিয়াকে ছাড়িয়ে গেল সৌদি আরব

সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান
ইয়েমেনে নিজের ছড়িয়ে দেয়া যুদ্ধ সামাল দিতে গিয়ে সামরিক খাতে ব্যয়ের দিক দিয়ে রাশিয়াকে ছাড়িয়ে গেল সৌদি আরব। সামরিক বাজেট বরাদ্দর দিক দিয়ে রিয়াদ বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশে পরিণত হয়েছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা এসআইপিআরআই বুধবার এক নয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে। এটি বলেছে, সৌদি আরব ২০১৭ সালে সামরিক খাতে ৬৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে যা তার আগের বছরের তুলনায় ৯.২ শতাংশ বেশি।  এ ছাড়া, এই ব্যয় দেশটির মোট জিডিপি’র শতকরা ১০ ভাগ।
সৌদি আরব যখন সামরিক খাতে ৬৯ বিলিয়ন ডলার অর্থ খরচ করেছে তখন একই বছর রাশিয়ার সামরিক খাতে ব্যয় ছিল ৬৬ বিলিয়ন ডলার। একই খাতে ফ্রান্স খরচে করেছে ৫৭ বিলিয়ন ডলার, ভারতের ব্যয় ছিল ৬৩ বিলিয়ন ডলার এবং ব্রিটেন খরচ করেছে মাত্র ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তবে যথারীতি সামরিক বাজেটের দিক দিয়ে আমেরিকা ৬০৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ হিসেবে ২০১৭ সালে চীনের সামরিক বাজেট ছিল ২২৮ বিলিয়ন ডলার।
এসআরপিআরআই’র বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের মতো দেশের সামরিক ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।
ইনস্টিটিউটের অন্যতম গবেষক পিটার ওয়েজম্যান বলেছেন, তেলের দাম কমে যাওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাচ্ছে যা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ইয়েমেনকে ধ্বংস করে যাচ্ছে সৌদি আরব

বাসা ভাড়া নেয়ার সামর্থ্য নেই ১০০ মার্কিন আইন প্রণেতার

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের একাধিক সদস্য ওয়াশিংটনে যখন থাকেন, তখন হোটেলে বা ভাড়া বাসায় থাকার মতো অর্থ তাদের থাকে না। অগত্যা, কংগ্রেসম্যান হিসেবে ক্যাপিটল হিলে বরাদ্দকৃত অফিস কক্ষেই ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছেন তারা। কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস সদস্যদের বেতন বাড়েনি। এছাড়া ওয়াশিংটনে থাকার ব্যয়ও অনেক  বেশি। এ কারণে বাইরে থাকার বদলে বহু আইনপ্রণেতা রাতে থাকার জায়গা বানিয়েছেন নিজের অফিসকে। নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজ এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে আমেরিকার বহু আইনপ্রণেতার দারিদ্র্যের দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে।
বলা হয়েছে, কংগ্রেসের প্রায় ১০০ সদস্য অফিসকেই রাত কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছেন। এদের বেশির ভাগই বলছেন, আলাদা বাসা ভাড়া করা বা হোটেলে থাকার সামর্থ্য তাদের নেই। আবার কেউ কেউ বলছেন, কাজ করতে সুবিধা হওয়ায় এই পন্থা অবলম্বন করছেন তারা।
প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান দলীয় সদস্য ড্যান ডনোভ্যান যখন ওয়াশিংটনে থাকেন, তখন তিনি রাতে ঘুমান নিজের কার্যালয়ে। তার ভাষ্য, ‘ওয়াশিংটন অনেক বেশি ব্যয়বহুল।’ নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত এই কংগ্রেস সদস্যের পরিবার নিজের বাড়িতে অর্থাৎ নিউ ইয়র্কে। সেখানে থাকার খরচ মিটিয়ে তিনি যে এখনো কংগ্রেস সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারছেন, তার কারণ হলো ওয়াশিংটনে থাকার পেছনে তাকে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় যে, ওয়াশিংটনে ভাড়া বাসা নিতে হবে, বা হোটেলে থাকতে হবে অথবা বাড়ি কিনতে হবে, তাহলে শুধু মিলিয়নিয়াররাই কংগ্রেস সদস্য হতে পারবেন। আমি মনে করি না, আমাদের জাতির পিতারা এমনটা চেয়েছিলেন।’
তবে অনেক কংগ্রেস সদস্যই আবার তাদের কিছু সহকর্মীর এই চর্চা নিয়ে বিরক্তি পোষণ করেন। অফিসকে ঘুমানোর জায়গা বানানোকে তারা এতটাই অমর্যাদাকর মনে করেন যে, একে তারা নিষিদ্ধ করতে চান। এই মাসের শুরুতেই প্রতিনিধি পরিষদে নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো পদাধিকারী রাজনীতিক তার অফিসকে শয়নকক্ষ বানাতে পারবেন না। আইনের স্বপক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, এ ধরনের চর্চা নির্বাচনী ও কংগ্রেশনাল নৈতিক বিধিমালার লঙ্ঘন।
ডেমোক্রেট দলীয় সদস্য বেনি থম্পসন এই আইনের একজন সমর্থক। তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটা অস্বাস্থ্যকর, নোংরা। আমি নিশ্চয়ই কারও শয়নকক্ষে ঢুকতে চাইবো না।’ তার মতে, নিজের অফিসে ঘুমানো নৈতিকভাবেও ঠিক নয়। কংগ্রেস সদস্যদের দেয়া সরকারি সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বিনামূল্যে টিভি, বিদ্যুৎ, ধোয়ামোছা ও নিরাপত্তার সুবিধা পাচ্ছেন। কোনো ভাড়া দিতে হচ্ছে না। এটাই তো অনেক কিছু। প্রতি বছর এ থেকে ২৫-৩০ হাজার ডলারের সুবিধা আপনি পান।’
তবে যারা অফিসকে শয়নকক্ষ বানিয়েছেন, তাদের যুক্তি একটাই: অর্থ সাশ্রয়। কিন্তু এই কংগ্রেস সদস্যদের অনেকেই নিজ নিজ রাজ্য আইনসভার সদস্য ছিলেন একটা সময়। সেই সময় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা বিশেষ সুবিধা পেতেন। যেমন, নিউ ইয়র্ক রাজ্য আইনসভার একজন সদস্য একদিন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করলেই পান ১৭৫ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টো বা টেক্সাসের অস্টিনের মতো বড় শহরের রাজ্য আইনপ্রণেতা হলে এই দৈনন্দিন ভাতা ১৯০ ডলার পর্যন্ত দাঁড়ায়। কংগ্রেস সদস্য হওয়ার পর তারা বাৎসরিক পান ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলারের বেতন। তবে এই বেতন গত এক দশকে বাড়েনি। গৃহ নির্মাণে কোনো ভাতা নেই। এছাড়া কংগ্রেস সদস্য হওয়ায় একটা বিশাল সময় তাদেরকে ওয়াশিংটনে থাকতে হয়। এই শহরে এক কক্ষের ভাড়াই আসে মাসে ২ হাজার ডলার। এর বাইরে নিজের রাজ্যে মূল বাড়ির খরচও তাদেরকে চালাতে হয়।
তবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্যরা কিছুটা ভালো আছেন। তাদের বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ ডলার। খুব কম সিনেটরই আছেন যারা নিজের অফিসকে শোয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিনিধি পরিষদের কতজন সদস্য অফিসকে রাত কাটানোর কাজে ব্যবহার করেন, তার সরকারি কোনো উপাত্ত নেই। তবে যারাই ক্যাপিটল হিল অফিসে রাত কাটান তারা নিজের গোসল সারেন কংগ্রেশনাল জিমে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও অনানুষ্ঠানিক গণনা থেকে দেখা গেছে, কমবেশি প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ১০০ সদস্য নিজের অফিসেই রাত কাটান। প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রায় ৫০ জন। এদের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের সিপকার পল রায়ান থেকে শুরু করে রয়েছেন মেজরিটি লিডার কেভিন ম্যাকার্থি, নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত সদস্য ড্যান ডনোভান, গ্রেগরি মিকস, লি জেলদিন, জন কাটকো ও ব্রায়ান হিগিন্স, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির উপ-চেয়ারম্যান কেইথ এলিসন। 
লি জেলদিন বলেন, তার কার্যালয়ে যে বিছানা আছে সেটা ব্যবহারের ফলে তিনি এখন অনেক বেশি কার্যক্ষম। সামরিক বাহিনীতে কাজ করা জেলদিন বলেন, সেনাবাহিনীতে থাকার সময়কার অভ্যাসই বোধ হয় এখানে তাকে পেয়ে বসেছে। আরেক সদস্য টিম ওয়ালজ বলেন, এক সময় প্যাট্রিক মরফি নামে আরেক সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে ভাড়া করে থাকতেন তিনি। মাসে তাকে দিতে হতো ১৮০০ ডলার। কিন্তু ২০১৬ সালে সিনেট নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান মরফি। ফলে এরপর থেকে ওয়ালজ নিজের অফিসেই থাকেন। এমন অনেক আইনপ্রণেতাকেই নিউ ইয়র্ক পোস্ট খুঁজে পেয়েছে যাদের ওয়াশিংটনে ভাড়া থাকার সামর্থ্য নেই।

‘ফসল কাটার লোক নাই’ by রাশেদ আহমদ খান

“কষ্টের ফলান্যা ধান। জমিতে পাইক্কা পড়তাছে। কাটবার লোক নাই। আসমানে সাজ করলে ঐ বুক ধড়ফড় করে। কোনো সময় জানি দুর্যোগ নাইম্যা আয়। দুশ্চিন্তায় রাইতে ঘুমাইতে ফারি না”। মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচং দৌলতপুর গ্রামের কৃষক কাছন মিয়া। গত বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেকটা নিস্ব কৃষক কাছন মিয়া। অনাহারে-অর্ধাহারে কোন রকমে চালিয়েছেন ৬ সদস্যের সংসার। তারপরও আবার আশায় বুক বেঁধেছেন এ কৃষক। ধার-কর্জ করে চাষ করেছেন ৮ কেদার জমি। বাম্পার ফলনও হয়েছে জমিতে। এতে অনেকটাই খুশি তিনি। ভাবছেন এবার অন্তত ধান উত্তোলন করে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু তার এ ভাবনায় বাদ সেধেছে তীব্র শ্রমিক সংকট। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছেন না পাকা ধান। তারপর আবার বন্যা ও শিলাবৃষ্টির ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তার। শুধু কাছন মিয়া নয়, এ এলাকার অধিকাংশ কৃষকরাই এখন শ্রমিক সংকটে ধান উত্তোলন করতে পারছেন না। নিজেরা একটু আধটু করে কাটছেন ক্ষেতের ধান। কিন্তু এতে এগুচ্ছে না ধান উত্তোলনের কাজ। পার্শ্ববর্তী নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক রুস্তম আলী জানান, ‘অনেক কষ্টে ধান ফলাইছি। এখন কামলার লাগি ধান কাটতে ফারতাছিনা। দিনদিন কামলার সংকট বাড়তাছে। সরকার খালি কয় উন্নত ধান কাটার মেশিন আইব। কিন্তু আমরার এলাকায়তো একটা মেশিনও আইল না। অখন লোকের অভাবে আমরার পাকনা ধান ঝইড়া পড়তাছে”। একই গ্রামের কৃষানী মরিয়ম বিবি জানান, “আমরা গরিবের আর শান্তি নাই। খগল বছরঐ একটা না একটা সমস্যা অইবই। গতবার নিল বন্যায় আর ইবারতো কাটবার মানুষঐ নাই। কোন সময় কোনো গজব আয় এই ভয়েঐ দিন-রাত কাটতাছে। ইবার যদি ধান তুলতে না ফারি তাঐলে না খাইয়া মরণ ছাড়া আর কোনো ফত তাকত না” সরেজমিনে বানিয়াচং উপজেলার নোয়াগাঁও, দৌলতপুর, হারনি, মার্কুলী, রত্না বলাকিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। অধিকাংশ এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধান সংগ্রহের কাজ। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারের নারী-পুরুষ সকলে মিলে চেষ্টা করছেন ধান কাটা ও সংগ্রহের। তবে চলমান বৈরি আবহাওয়া ও টানা বর্ষণে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটার কাজ। এলাকার স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক ধান কাটার মেশিন সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবে এসব মেশিনের দেখা মিলছেনা। এছাড়া সরকার ৭৫% ভর্তুকী দিয়ে ধান কাটার রিপার বিতরণের উদ্যোগ নিলেও প্রকৃত কৃষকরা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অবৈধ সুবিধা প্রদান করে গোটা কয়েক লোক এ মেশিন ক্রয় করেছেন। ফলে এর সুফল পাচ্ছেন না তৃণমূল কৃষকরা। সাধারণ কৃষকরা অতিরিক্ত টাকা দিতেও পারেনি, মেশিনও পায়নি।  
শ্রমিক সমস্যা রয়েছে জেলার অন্য উপজেলায়ও। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা, পশ্চিমবাক, বিরাট, জলসুখা, বদলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি এলাকায় রয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। শ্রমিকের অভাবে বিলম্বিত হচ্ছে ধান সংগ্রহের কাজ। জলসুখা গ্রামের কৃষক নুরুল আমীন জানান, “এ বছর জমি করেছিলাম ২০ কেদার। মাশাআল্লাহ ফলনও হইছে খুব ভালো। কিন্তু কাটবার লোকের বড় অভাব। যেভাবে ঝড় বৃষ্টি অইতাছে, বুক ধরফর করে কোনো সময় জানি বিপদ আয়। ইবার ধান না ফাইলে আর বাচবার উফায় নাই”। এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ। পাকা ধান না কাটতে পেরে অনেকের মনেই রয়েছে অজানা শঙ্কা। সকলের মনেই একই চিন্তা কিভাবে জমির পাকা ধান সংগ্রহ করা যায়।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪ হেক্টর জমি। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক লাখ ২১ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। জেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার টন ধান। বোরো চাষে  এবার বাম্পার ফলনের ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ। তাদের মতে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা সাফল্যের।
জেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান মানব জমিনকে জানান, শুধু  চুনারুঘাট উপজেলা ছাড়া বাকী ৮ উপজেলায়ই পুরোদমে চলছে ধান কাটার কাজ। তবে এ বছর হবিগঞ্জে ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৭৫% ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটার রিপার বিতরণ করা হচ্ছে পুরো জেলায়। স্থানীয় শ্রমিকরা ীন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা সবাই নিজ এলাকায় ফিরে আসলে সেই অভাব থাকবে না বলেও আশাবাদী তিনি। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী মানবজমিনকে জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার কাজ কিছুটা বিলম্বিত হলেও আমরা আশা করছি এ সংকট কেটে যাবে। দ্রুত গতিতে ধান কাটার জন্য আমরা জেলায় ৪৫ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন দিয়েছি। যা দিয়ে দ্রুত গতিতে ধান কেটে একবারে বস্তাবন্দি করা সম্ভব। এছাড়া জেলায় ১৫০টি ধান কাটার রিপার প্রদান করেছি। এতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করে ধান কাটা এগিয়ে চলছে। বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উ’পাদন হবে।

এক লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছেন লাইলী

আবদুল গফুর-লাইলী দম্পতির অভাবের সংসার। স্বামী আবদুল গফুর দিনমজুর খাটেন। তবুও ছয় সদস্যের পরিবারের অভাব দূর হয় না। জীবনের তাগিদে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন ওই দম্পতি। অভাব দূর করতে দিনমজুর স্বামী আবদুল গফুরকে বিদেশ পাঠাতে চেয়েছিলেন লাইলী বেগম। প্রায় দু’বছর আগে ধার করে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে স্বামীর বিদেশ যাওয়া ভেস্তে গেছে। ঋণের দায়ে যখন চারদিকে অন্ধকার দেখছেন। ঠিক সেই সময়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিজেদের জমিতে সবজি আবাদ শুরু করেন লাইলী বেগম। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এখন তিনি একজন সফল সবজি চাষি। সোমবার  সরজমিনে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের গিয়ে তাদের বিষমুক্ত সবজি বাগানের সমাহার দেখা যায়।
সফল কৃষানি লাইলী বেগম জানান, শাক-সবজি আবাদ করে সংসারের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি নিজেদের জমিতে সবজি আবাদ শুরু করেন। এতে স্বামী আবদুল গফুরও তাকে সহযোগিতা করেন। এ বছর মাত্র এক বিঘা জমিতে দেশীয় উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন। মাত্র তিন মাসে ওই জমিতে রেকর্ড পরিমাণ শসা উৎপাদন হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছেন। তাদের এই শসা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। অন্য তরকারির চেয়ে বাজারে এর চাহিদাও বেশি রয়েছে।
ওই দম্পতি আরো বলেন, কৃষি অফিসের স্যারেরা মাঝে মধ্যেই এসে তাদের নানা পরামর্শ দেন। লাইলী বেগমের স্বামী আবদুল গফুর বলেন, এখন আর অন্যের জমিতে দিনমজুর খাটতে হয় না। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর থেকে তারা বিভিন্ন সময় শাক-সবজি আবাদের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ওই প্রশিক্ষণ  এখন তাদের চাষাবাদে বেশ উপকার দিচ্ছে।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল হক খান বলেন, নিয়মিত তিনি কৃষাণি লাইলী বেগম ও তার স্বামীকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের এ সবজি বাগান দেখে আশপাশের অনেকেই সবজি চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, আইপিএম কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় কৃষানি লাইলী বেগমের জমিতে শসা প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কৃষানি লাইলীর জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। সেক্সফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে পোকা দমনের ব্যবস্থা ছিল। কৃষিতে লাইলী বেগম ও তার স্বামীর আগ্রহ আছে।

ভারত মোদি বা এ ধরণের কাউকে সহ্য করবে না: রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই দেশ নরেন্দ্র মোদি বা এ ধরণের কাউকে সহ্য করবে না, যারা মনে করে দেশ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত। আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে রাহুলের ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।
গণমাধ্যমে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেন, ‘নাগপুর-আরএসএসের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ দেশের উপর চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। কর্ণাটক সফরের সময় এটাই মানুষজন আমাকে বলছেন। এটা কর্ণাটকের কণ্ঠস্বর।’
কংগ্রেসশাসিত কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ বর্তমানে জোরালো হয়ে উঠেছে।
রাহুল বলেন, ‘গত চার বছরে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের চাকরি দেয়ার রেকর্ড খুব খারাপ। যুবকদের ব্যাপারে একটি কথা খুব স্পষ্ট যে, তাদের জন্য গত চার বছরে কিছুই করা হয়নি। কর্ণাটকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে, চাকরি দেয়ার ব্যাপারে দেশের মধ্যে আমাদের রেকর্ড অনেক ভালো। এটি মোদিজিও নিজেও মানেন। তার লোকেরাও মনে করেন যে, কর্ণাটক চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এক নম্বরে আছে।’
এদিকে, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের ব্যর্থতাকে সফলতা বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। সব থেকে বেশি ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের রোজগার ২০ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশ হয়েছে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের রোজগার ৭ শতাংশ কমেছে। নোট বাতিলের পর থেকে নারীদের উপার্জন কমে গড়ে ১৬ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশ হয়েছে।’
আনন্দ শর্মা বলেন, ‘এবার সময় এসে গেছে প্রধানমন্ত্রী তার সফলতা ও ব্যর্থতার হিসাব দিন। মানুষদেরকে বলুন, গত চার বছরে ৮ কোটি কর্মসংস্থানের কী হল, যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রত্যেক বছর দুই কোটি বেকার যুবককে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত চার বছরে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
কংগ্রেস বলছে, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হবে বেকারত্ব এবং মোদি সরকারের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার অক্ষমতা।

‘যুদ্ধের বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে’: পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে গুতেরেস

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা ছেড়ে না যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালে সই হওয়া এ সমঝোতা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে যুদ্ধের বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।
আগামী ১২ মে’র মধ্যে ট্রাম্প তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন যে, তিনি এ সমঝোতা মেনে চলবেন কিনা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় থেকে ট্রাম্প এ সমঝোতার সমালোচনা করে আসছেন এবং তিনি বার বার বলেছেন, এটা হচ্ছে তার মতে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি। তবে ইরান বলছে, ট্রাম্প এটা বানচাল করতে পারেন না কারণ এটা বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সমঝোতা।
সমঝোতা সম্পর্কে গুতেরেস বিবিসি-কে বলেন, ইরানের সঙ্গে সই হওয়া এ সমঝোতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় এবং তা রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, “বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এ সমঝোতা বাতিল করা উচিত হবে না।” তিনি আরো বলেন, “আমরা বিপজ্জনক সময় পার করছি।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে কথিত প্রমাণ তুলে ধরছেন নেতানিয়াহু
ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সোমবার তার ভাষায় বলেছেন, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে তার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য সমর্থন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, নেতানিয়াহুর দেয়া তথ্য প্রমাণ করে যে, মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ওবামার আমালে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছিল। ইরান সবসময় বলে আসছে তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং একথা প্রমাণের পরই ২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছিল।

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা

শক্তিমান চাকমা
বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সংস্কার) নেতা শক্তিমান চাকমাকে গুলি করা হয়েছে। 
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এসময় রূপম চাকমা নামে আরেক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক শক্তিমান চাকমা ও নানিয়ারচর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) লোকজন তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর আহত শক্তিমান চাকমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শক্তিমান চাকমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শক্তিমান চাকমা নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশসহ স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার পর দোষীদের খুঁজে বের করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ শক্তিমান চাকমা

সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়কে প্রতীকী মৎস্য শিকার

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাগাতিপাড়া-নাটোর প্রধান সড়কের চার কিলোমিটার সড়ক প্রশ্বস্তকরণ কাজে ধীরগতি হওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রতিবাদে ও সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয়রা। এসময় সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে প্রতীকী মৎস্য শিকার করেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে সোনাপাতিল যুব সংঘের ব্যানারে ঘণ্টা ব্যাপী এ প্রতীকী প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি বাজার থেকে তমালতলা মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে তিন ফুট সড়ক প্রশ্বস্ত করণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে নাটোরের উত্তর বড়গাছা’র মীর হাবিবুল আলম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সে মোতাবেক গত বছরের ১২ই জুন এ কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০শে অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের ৬ মাস পার হতে চললেও দৃশ্যমান তেমন কাজ হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’পাশের কাজ বন্ধ রাখায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। ফলে বেড়েছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কটির সোনাপাতিল এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে ও বাঁশ বেঁধে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এসময় তারা সড়কে জমে থাকা পানিতে প্রতীকী মৎস্য শিকার করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। অবরোধ চলাকালে সড়কটির দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু এবং উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তারা অবরোধকারীদের দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচী স্থগিত করে।
এব্যাপারে যুব সংঘের সাধারন সম্পাদক তানজিন সরকার দিবস জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির ফলে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই খানা খন্দকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ইউএনও দুইদিনের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ায় আগামী শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে।
জনগনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান বলেন, ইতিমধ্যেই ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন।

আমেরিকার বিপরীতে চীনের অবস্থান; পরমাণু সমঝোতা রক্ষার তাগিদ

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং
চীন আবারো জোর দিয়ে বলেছে, সব পক্ষকে পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঐতিহাসিক এ সমঝোতা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন তখন চীন একথা বলল।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং গতকাল (বুধবার) নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, এ সমঝোতার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়ন ও সমঝোতা রক্ষার বিষয়ে একটা চিত্র সব পক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ হচ্ছে একমাত্র সংস্থা যার অধিকার আছে পরমাণু সমঝোতার বিষয়টি দেখভাল করা এবং এ সম্পর্কে কোনো মতামত বা সিদ্ধান্ত দেয়ার। হুয়া বলেন, আইএইএ কয়েকবার বলেছে, ইরান এই সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা সই হয় তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। তিনি নতুন করে বলেছেন, ১২ মে’র পর আমেরিকা এ সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাবে। এ নিয়ে সারাবিশ্বে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন ৫৮ দেশের মন্ত্রী-সচিব by মিজানুর রহমান

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন সম্মেলনে অংশ নিতে আসা ৩৮ দেশের মন্ত্রী, ৮ পররাষ্ট্র সচিবসহ ৫৮ দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল কাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্বর নির্যাতনে বাস্তুচ্যুতদের অবস্থা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের এটাই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আয়োজন। ওই দলে হোস্ট কান্ট্রিসহ ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি’র প্রতিনিধিরা ছাড়াও নন-ওআইসি কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের বিশেষ আমন্ত্রণে আসা কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের বাসিন্দাদের অবস্থা সরজমিন দেখবেন। বর্মী বর্বরতার শিকার নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলবেন।
ভিকটিম এবং ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের মুখ থেকেই তারা শুনবেন বর্বরতার লোমহর্ষক কাহিনী। মতবিনিময় হবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উন্নয়ন কর্মীদের সঙ্গে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা ভিনদেশি অতিথিদের সঙ্গ দেবেন। যুগ যুগ ধরে রাখাইনে বর্বরতার শিকার রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল চেষ্টায় এবার নিরীহ নারী-পুরুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা যেভাবে বাছ-বিচারহীনভাবে গণহত্যা, গুলি ও গণধর্ষণের মতো আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধ করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে ৩-৪ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখানে আশ্রয় নিলেও গত ২৫শে আগস্টের পর থেকে ৩ মাসে এসেছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এখনো তাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা অব্যাহত রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় ফেরাতে গত ডিসেম্বরেই মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গেও কাজ করছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গেল সপ্তাহেই বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্যের দূতসহ ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল কঙবাজার ঘুরেছেন। তারা ক্যাম্প এবং নো-ম্যান্সল্যান্ডে থাকা আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মুখে তাদের ওপর বয়ে যাওয়া বর্মী বর্বরতার ঘটনাগুলো শুনেছেন। নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলের নজিরবিহীন এ সফরকে ঢাকাইয়া কূটনীতির বড় অর্জন হিসেবে দেখা হলেও পূঞ্জীভূত রোহিঙ্গা সংকটের চটজলদি বা দ্রুত কোনো সমাধান যে আসছে না সেটি খোদ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিরাই স্পষ্ট করে গেছেন। তাদের মতে, এ সংকটের ‘ম্যাজিক সলিউশন’ বা জাদুকরী কোনো সমাধান নেই। বহুপক্ষীয় উদ্যোগের চেয়ে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নেই জোর দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাংলাদেশ অবশ্য দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও জোরালো পদক্ষেপ চেয়েছে। তাতে পশ্চিমা দুনিয়া তো আছেই- চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের আরো ভূমিকা প্রত্যাশা করে ঢাকা।
ওআইসি’র ঢাকা সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ই হবে মুখ্য আলোচ্য: এদিকে ঢাকায় আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন। দুইদিনের মেগা ওই ইভেন্টে রোহিঙ্গা সংকটই হবে মুখ্য আলোচ্য- এমনটাই নিশ্চিত করেছেন প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় জোট ওআইসির ৫৭ সদস্য-রাষ্ট্রের প্রতিনিধিই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে ওআইসি সদস্য নয় অন্তত ৩টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, একটি দেশের উপ বা প্রতিমন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ঢাকা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওআইসি নন-ওআইসি মিলে ২৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, একজন বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী এবং ১০ জন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধির (মোট ৩৮টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধির সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে ২০টি দেশ থেকে। আমন্ত্রণ রয়েছে কিন্তু এখনো প্রতিনিধিদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এমন দেশও রয়েছে। তবে তাদের পক্ষে কেউ না কেউ অংশ নেবে বলে আশা করছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামপ্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এ আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবেন। তিনি অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিসহ প্রস্তুতির সর্বশেষ আপডেট জানাবেন। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার ৫৬১ জনের ডেলিগেশন লিস্ট চূড়ান্ত (আমন্ত্রিত তবে বেশির ভাগের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত) করা হয়েছে।
মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি আসছেন যেসব দেশ থেকে: ঢাকা সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি আসছেন মোট ৩৮টি দেশ থেকে। এর মধ্যে ৩৫টি ওআইসিভুক্ত। বাকি ৩ জন বাইরের। দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, আজারবাইজান, বাহরাইন, ব্রুনেই দারুস সালাম, ক্যামেরুন, চাদ, কমোরোস, আইভরি কোস্ট, জিবুতি, মিশর, গ্যাবন, গাম্বিয়া (বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী), গায়ানা, ইরাক, কাজাখস্তান, লিবিয়া, মালদ্বীপ, নাইজার, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, সৌদি আরব, সুদান, উগান্ডা, ইয়েমেন ও সেনেগাল। নন-ওআইসি দেশগুলোর আমন্ত্রিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কানাডা, কসোভো, নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকছে অন্তত ১০টি দেশের। যার মধ্যে নন-ওআইসি দেশ হিসেবে বিশেষ আমন্ত্রিত রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসছেন। ওই তালিকায় আরো আছে কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া, ওমান, তাজিকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তিউনিসিয়া ও উজবেকিস্তান।
পাকিস্তানের মন্ত্রী নেই, আসছেন পররাষ্ট্র সচিব: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্র সচিব তেহমিনা জানজু’র নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানসহ মোট ৮ দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকছে। যার মধ্যে রয়েছে- জর্ডান, কিরগিজ রিপাবলিক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও তুরস্ক।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও ঢাকায়: নন-ওআইসি কান্ট্রি হিসাবে ঢাকা সম্মেলনে কয়েকটি দেশকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আয়োজক বাংলাদেশ। সেই আমন্ত্রণে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। তবে কানাডার তরফে খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ঢাকায় আসছেন। হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে- কাল ভোরে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। এরপর অন্যদের সঙ্গে তিনিও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ দূত বব রেও বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি আজ ঢাকায় একটি পাবলিক লেকচার সেশনে অংশ নেবেন। রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখতে তিনিও কঙবাজার যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের কড়া বার্তা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মিয়ানমারের নেতাদের তারা জানিয়েছে, গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর অভিযান নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এ খবর দিয়েছে ফ্রন্টিয়ার্স মিয়ানমার ও বিবিসি বাংলা। গত আগস্টে   রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মানুষ। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ওইসব শরণার্থী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অভিযানের নামে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি। জাতিসংঘ সামরিক বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতি নিধনের’ আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই সপ্তাহে দেশটিতে পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল। তারা দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার প্রতিনিধিদলের সদস্য, বৃটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ের্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, পরিষদে আমাদের যা করতে হবে সেটা হচ্ছে চিন্তা করা যে, কীভাবে এটাকে (সফর) সক্রিয় করা যায়। যাতে করে প্রমাণ সংগ্রহ করা যায় ও তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে বা কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দেয়া যায়। তিনি জানান, তদন্তটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য অবশ্যই প্রামাণিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। পিয়ের্স বলেন, এর জন্য মূলত দু’টি পথ খোলা আছে। একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আশ্রয় নেয়া। আর অপরটি হচ্ছে, মিয়ানমার সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত করা।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, পিয়ের্স এমন মন্তব্য করার পর ওইদিন রাতেই এক বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির বেসামরিক অংশের নেত্রী অং সান সুচি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ প্রত্যাবাসনের’ জন্য জাতিসংঘকে সমপৃক্ত করার এখন উপযুক্ত সময়। শরণার্থীরা যাতে ‘নির্ভয়ে’ রাখাইনে ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করা তার সরকারের পক্ষে সুবিধা হবে যদি বিদেশিদের এই প্রক্রিয়ায় সমপৃক্ত করা যায়।’
সুচি বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলের সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুচি তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা। গণতান্ত্রিক মিয়ানমারে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে পালিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের জোর চেষ্টা করতে হবে, সহিংসতার মূল কারণগুলো দূর করতে হবে।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির এমন পরিবর্তন লক্ষণীয়। কেননা, পূর্বে মিয়ানমার সরকার ও সুচি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদকে জড়ানোর ঘোরবিরোধী ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে রাখাইন পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পিয়ের্স বলেন, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি  ও জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে একটি স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেছে প্রতিনিধিদল। পিয়ের্স জানান, সুচি বেশ সহায়ক ছিলেন। তবে হ্লাইং এর প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে কিছু বলেননি। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন হ্লাইং। তাতে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটকে ‘চরমপন্থি বাঙালি সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তার নেতৃত্বে সেনারা সামরিক অভিযানের সময় যৌন নির্যাতন চালিয়েছে এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, মিয়ানমার তাতমাদাও এর ইতিহাসে কোনো যৌন হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে সামরিক বাহিনী ‘তাতমাদাও’ নামে পরিচিত।
গত আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। ওই অভিযানে, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্মম হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। সমপ্রতি, ওই অভিযানে সামরিক বাহিনী মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছিল কিনা, তা নিশ্চিত করতে ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে পরীক্ষা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সৌদি জোটের হয়ে যুদ্ধে জড়াতে চাই না: শেখ হাসিনা

সৌদি জোটের হয়ে বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াবে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরব, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে বুধবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান তার প্রশ্নে বলেন, আপনি যে সৌদি আরবে গেলেন, আমাদের এদিক থেকে ওয়েস্ট এশিয়ায় তো ভয়াবহ অবস্থা (জটিল), আমরা এ জটিলতায় কোনো যুদ্ধে জড়াচ্ছি কিনা, এই ঝামেলাটা সম্পর্কে যদি বলেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা কিন্তু ওসবের সঙ্গে জড়াতে চাই না। সৌদি আরবের বাদশাহ যখন আমাকে দাওয়াত পাঠিয়েছেন, চিঠি দিয়েছে, আমি গিয়েছি। সাথে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধানও গিয়েছিলেন। সেখানে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা তাদেরকে বলেছি আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। তবে যুদ্ধ বাদে অন্য কোনো সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে সৌদি রাজাকে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের অন্য যে ধরনের সহযোগিতা দরকার আমরা করব। যেমন তাদের সমস্যা আছে ‘মাইন’, সেই মাইন অপসারনসহ তাদের কিছু কনস্ট্রাকসন জন্য যা যা দরকার আমরা তা করে দেবো।  শুধু রণক্ষেত্রে আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না।
১৫এপ্রিল সৌদি আরবে ২৩ দেশের সামরিক জোটের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
তবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে এমন কিছু হলে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "একমাত্র জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা মিশনে আমরা যাই। যদি সে ধরণের হয় তখন বাংলাদেশ যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। এটা একেবারে পরিস্কার কথা। আমি যেটা করি, পরিস্কারভাবেই করি। সেটা আপনাদের জেনে রাখা উচিত। সেখানে কোনো দ্বিধা নাই, কারও সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার।  কারণ আমাকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে, অর্থ বানাতেই হবে, অবৈধ সম্পদ বানাতে হবে, আর সেই সম্পদ রক্ষা করতে হবে, এসব দুর্বলতা তো আমার নাই। এসব দূর্বলতা নাই বলেই জীবনেরও মায়া নাই। তাই শুধু বাংলাদেশেরই নয় বিশ্ব শান্তি রক্ষায় যে কোন কথা বলার মতো সাহস রাখি। আমি জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে এ কথা ভুলবেন না।"
সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে গত ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ‘গালফ শিল্ড-১ নামের ২৩ দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে গত ১৮ মার্চ শুরু হওয়া গাল্ফ শিল্ড-ওয়ানে বাংলাদেশও অংশ নেয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথিত লড়াইয়ে ৩৪টি মুসলিম প্রধান দেশ নিয়ে একটি নতুন সামরিক জোট গঠন করে সৌদি আরব। বাংলাদেশ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও মাঠ পর্যায়ের যুদ্ধে কোনো বাংলাদেশি সেনা পাঠানো হবে না বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। তবে একইসঙ্গে পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো হুমকি এলে সর্বদাই তার হেফাজতে সেনা প্রেরণে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছিল।

তাজমহলের রঙ বদল নিয়ে চিন্তিত ভারত

সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি তাজমহল দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান অন্তত ৭০ হাজার পর্যটক। সেই তাজমহলের রঙ বদলের খবরে উদ্বেগ পৌঁছেছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্ট এবার সরকারকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছে যে, দরকার হলে সমস্যা সমাধানে বিদেশিদের সহায়তা নিতে।
আদালত সরকারকে বলেছে, আপনাদের বিশেষজ্ঞ আছে। কিন্তু তার ব্যবহার আপনারা করছেন না অথবা বিষয়টিকে আপনারা গুরুত্বই দিচ্ছেন না।
একইসঙ্গে তাজমহলের রঙ বদলকে উদ্বেগজনক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সপ্তদশ শতকে সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি এই অসাধারণ স্থাপনা ইতোমধ্যেই হলুদ আকার ধারণ করেছে। সেটি এখন বাদামী ও সবুজ হয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে আদালত।
দূষণ, নির্মাণকাজ ও কীটপতঙ্গের মল তাজমহলের এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।
পরিবেশবাদীদের জমা দেওয়া ছবি পরীক্ষা করে আদালত সরকারকে ভারত কিংবা প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের এনে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
এর আগে ভারত সরকার তাজমহলের আশেপাশের অনেক কলকারখানা বন্ধ করে দেয়। কারণ অনেক দিন ধরেই তাজমহলের রঙ বদলে যাওয়ার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছিল।
তাজমহল যে যমুনা নদীর তীরে সেই নদীর অবস্থা শোচনীয়। সেখানকার কীটপতঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঐতিহাসিক এ স্থাপনার দেয়াল।
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়ে আগ্রা শহরে তৈরি হয় ভালোবাসার নিদর্শন তাজমহল। এটি দেখতে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ ভিড় করে সেখানে।
নোংরা হওয়ার সমস্যা তাজমহলের জন্য নতুন নয়। গত দুই দশকে স্থাপনাটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অনেক বার। কিন্তু সমস্যাটি দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতেও একবার কাদামাটি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বছরের শেষ দিকে আবারও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কথা রয়েছে। এর মধ্যেই প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনার নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৯ই মে তাজমহল বিষয়ে আবার শুনানি হবে আদালতে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

যোগ্য বলেই তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করেছি: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান যোগ্য বলেই আমরা তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছি। এ নিয়ে অন্যদের বলার কিছু নেই। গতকাল বুুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এক স্মরণ সভায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতা আমরা নির্বাচিত করেছি। তাতে আপনাদের (প্রধানমন্ত্রী) বলার কিছু নেই। আমাদের পার্টির কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পার্টি চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই দায়িত্ব নিবেন। এটা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে। তারেক রহমান কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত? যে মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন। আর তাকে খালাস দেয়ার অপরাধে সেই বিচারককে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আর আপনারা সমস্ত সাজাপ্রাপ্তদের নিয়ে মন্ত্রিত্বে বসিয়ে রেখেছেন। বুধবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- বিএনপি এত বড় রাজনৈতিক দল। এত বড় জনপ্রিয় দল, সেই দলে কি এমন একজন নেতা নেই, যে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নেতা করতে হবে? তার এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আলমগীর বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী কেন এই ভয়গুলো আমাদের দেখান। এভাবে আপনারা আলোচনা করে তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে পারবেন না। কারণ তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। বৃটিশ সরকার কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত দেন না যদি তিনি নিজে না আসতে চান। তারেক রহমানের যখন দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছা হবে তখন উনি দেশে ফিরে আসবেন। সেদিন আপনারা দেখবেন- তার জনপ্রিয়তা কত এবং মানুষ তাকে কত ভালোবাসে। সেদিন দেখবেন কোটি কোটি মানুষ তাকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দরে যাবে।
সামপ্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাজ্য গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহা বিপদে পড়েছেন, সেখানে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। গোটা বৃটেনে বাংলাদেশের মানুষ তাকে ধিক্কার জানিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রধানমন্ত্রী ধ্বংস করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কি করেছেন। চুক্তি করেছেন। এই চুক্তির ৬ মাস হলেও একটি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে পারেননি এবং পারবেনও না। কারণ মেরুদণ্ডবিহীন এই সরকার মিয়ানমারকে নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব বা কথা বলেনি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইদ হাসান মিন্টুর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসিমা আক্তার কল্পনা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সরকার বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে চায়: আমীর খসরু

সরকার ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও গুম-খুনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদেরও গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু’র মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পরিণত করেছে। সেখানে কারো কোনো স্বাধীনতা নেই। সরকারি দলের লোকজন যেভাবে নির্দেশ দেবে ছাত্রছাত্রীদেরও সেইভাবে চলতে হবে। না হলে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হতে হবে। মধ্যরাতে হল থেকে বের করে দেয়া হবে, কারো রগ কেটে দেয়া হবে। এই দেশে জনগণের অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। এসবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারের এই ভয়ভীতি সৃষ্টি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এখন আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে, সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। কারণ জনতার শক্তি, জনতার ঢলের সামনে কেউ কোনোদিন দাঁড়াতে পারেনি, আগামীতেও দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা সব সময় প্রশ্ন করেন- বিএনপি কি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে? আপনাদের কি মনোনয়ন ঠিক হয়ে গেছে? আপনাদের অগ্রগতি কি হচ্ছে? আমি বলি নির্বাচনের আগে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক স্পেস থাকতে হবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নাগরিকের যতো অধিকার আছে সব থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে এখন গণতান্ত্রিক স্পেস, রাজনৈতিক স্পেস কম্পিউটলি অনুপস্থিত। এর পরের স্পেস হচ্ছে ইলেক্ট্রোরাল স্পেস। নির্বাচনের জন্য এদেশে কোনো জায়গা নেই। আগামীতে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগ সরকার তাদের হাতের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনী আইনগুলোসহ সংবিধান তাদের সুবিধামতো পরিবর্তন করেছে। আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পেছনে অন্তত তিনটি জিনিস আমার চোখে পড়ে।
যেগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ দেখিয়েছিল। এর প্রথমটা- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। দ্বিতীয়টা- একটি সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা। তৃতীয়টা হচ্ছে আইন করে নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছিল। এই তিনটি বিষয়ই আওয়ামী লীগ আইন করে বাতিল করে দিয়েছে। এই তিনটা বিষয় ছাড়া নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে কোনো লাভ নেই।
প্রতিবাদ সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যদি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকতো তাহলে মিডিয়া তারেক রহমানের ভাষণ প্রচার করতে পারতো। তারেক রহমান এদেশে আসতে পারতো। দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন নয় বলে তারেক রহমান এখন বিদেশে। তারেক রহমান ১/১১-এর সময় ভারতের দালাল সরকার দ্বারা নির্বাসিত হয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে গেছেন। তার বিদেশে থাকা নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এত মাথাব্যথা কেন? বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিদেশে ছিলেন। তার বিদেশে থাকা যদি সমস্যা না হয় তাহলে আজ তারেক রহমানের বিদেশে থাকায় সমস্যা কেন? সে যদি এতো বছর বিদেশে থেকে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তাহলে তারেক রহমান কেন পারবেন না? আওয়ামী লীগের চরিত্র হলো- তারা যেগুলো বলে, যে কাজ করে তাতে কোনো সমস্যা নেই। একই কাজ অন্য কেউ করলে তখন তাদের কাছে সমস্যা হয়ে যায়।
সংগঠনের সভাপতি ডা. একেএম মহিউদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও ফরিদউদ্দিন ফরিদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, মোক্তাদির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরাজ হাসান, ফখরুল ইসলাম রবিন প্রমুখ।

দুই শিবিরের প্রচারণার লড়াই by কাফি কামাল, ইকবাল আহমেদ সরকার ও এমএ হায়দার সরকার

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। গ্রীষ্মের প্রথম পর্বে প্রখর রোদ পরক্ষণেই বৈশাখী হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন খেলা চলছে প্রতিদিন। বৃষ্টি নামলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো। সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নের রাস্তাঘাটগুলোর পরিস্থিতি হয় অবর্ণনীয়। কোনোটিতে জমে কাদা, কোনোটি তলিয়ে যায় হাঁটুজলে। কিন্তু রোদ-বৃষ্টি কিছুই ঠেকাতে পারছে না মেয়র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের প্রচারণায় রীতিমতো মুখরিত গাজীপুর সিটি। গানে গানে, স্লোগানে স্লোগানে দুই প্রার্থীর প্রচারণা চলছে সমানতালে, প্রতিযোগিতার মনোভাবে। মাইকে স্লোগান বাজিয়ে, ভোট চেয়ে নগরীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চক্কর কাটছে দুই প্রার্থীর প্রচারযান। কাদা মাড়িয়ে, জলে ভিজে প্রার্থী ও দুই দলের নেতারা যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। ভোটারদের হাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন প্রার্থীর লিফলেট। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নেমেছেন প্রচারাভিযানে। সবমিলিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে শ্রমিক অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক এ সিটি করপোরেশনে। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিনই প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে একেকটি টিম। প্রার্থীর চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে নেমেছেন প্রচারণার মাঠে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকা ও জাতীয় নির্বাচনের বছরে এ সিটি নির্বাচন হওয়ায় সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অন্তঃকোন্দল ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতারা। ধানের শীষের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচারণায় দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়, জোটের সমন্বয়, নির্বাচন পরিচালনা তিন কমিটির অধীনে জোন-ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনই একজন এক বা একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা একেকটি ওয়ার্ডে যাচ্ছেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ সিটিতে রয়েছে সারা দেশের মানুষের বসবাস। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে তাই গাজীপুর ছুটে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা বিএনপি নেতারা। ভোটের আগে আওয়ামী লীগকে প্রচারণার মাঠেই পরীক্ষায় ফেলতে চায় বিএনপি। কমিটি গঠন করে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মাঠে নেমেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারাও। হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জেলা নেতাদের নিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে গণসংযোগ করছেন। তবে তার পক্ষে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম। আওয়ামী লীগের পক্ষে এখনও সক্রিয় ভূমিকায় প্রচারণায় নামেনি মহাজোটের নেতারা। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের নানা বয়সী ভোটাররা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় একটি লক্ষণীয় পার্থক্য আছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারণা দেখে মনে হয়, বিএনপি বনাম জাহাঙ্গীরের লড়াই হচ্ছে। এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দুই প্রধান দলের মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান উদ্দীন সরকার নির্বাচনী প্রচারে নেমে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, বিএনপি বহিরাগতদের এনে প্রচারে নামিয়ে গাজীপুরের নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। তবে বিএনপি প্রার্থী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আওয়ামী লীগই প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে লঙ্ঘন করছেন আচরণবিধি। প্রার্থী ও ভোটার সবারই চাওয়া একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়ার অভিযোগ ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র  প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রত্যাহারের দাবিতে গত রোববার টঙ্গীতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করছেন প্রতিনিয়ত। এখনও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশাল আকারের রঙিন বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে তার। ওদিকে আসন্ন সিটি নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকদিন আগে গাজীপুর সফর করেছেন মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল।  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মোলার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলটি পর্যবেক্ষণ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার এবং আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তারা সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে চলে আসা গণতন্ত্রের ধারাবাহিক চর্চা অক্ষুণ্ন এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চান।
প্রচার নিয়ে পাল্টাপাল্টি
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম সকালে নগরের এক নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। আর বিএনপি প্রার্থী দুপুর পর্যন্ত তার নিজ বাসায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে নির্বাচনী পরামর্শ ও মতবিনিময় সভা করেন। অন্যদিকে, এই দুজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও অন্য পাঁচজন মেয়র প্রার্থী, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোট প্রার্থনা করছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম সকাল আটটায় নগরের ছয়দানা এলাকার নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের মাধবপুরে প্রতীক নৌকা আর নেতা-কর্মীদের মিছিলসহ গণসংযোগ ও পথসভা করেন। জাহাঙ্গীর আলম নগরের ১, ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে দিনভর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় তিনি নির্বাচিত হলে সবধরনের নাগরিক সুবিধার জন্য কাজ করবেন বলে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন পথসভায়। নৌকার এই মেয়র প্রার্থী যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই বিপুল সংখ্যক লোকজনের সমাগম ঘটছে। নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে কোথাও কোথাও বিপুলসংখ্যক মোটর সাইকেলসহ নানা ধারণের গাড়ির বহর ছুটছে তার গণসংযোগের বহরে। কোথাও কোথাও তার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে তাকে বরণ করা হচ্ছে ফুল ছিটিয়ে। অনেক জায়গায় বিশাল আকারের নৌকা হাতে নিয়ে তাকে বরণ করে নিচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। নৌকার স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে গোটা এলাকা। গণসংযোগকালে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিফলেট ও প্রচারণাসামগ্রী বিতরণ এবং ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এসময় তিনি বিএনপির দলীয় বর্তমান নগরের মেয়র প্রফেসর এমএ মান্নানের নানা সমালোচনা করে বলেন, তার আমলে এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এজন্য নগরের সব এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বর্তমান মেয়রের সমালোচনা ছাড়াও এর আগে তিনি বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নানা সমালোচনা করে বলেন, তাদের জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় কর্মী-সমর্থক একেবারেই কম থাকায় বহিরাগত লোকজন এনে প্রচার চালাচ্ছেন। এমন লোকজন নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন যাদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার দাবি করেছেন, প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগই নির্বাচনী বিধিবিধান অমান্য করছে। এছাড়া তার নির্বাচনী প্রচারে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের বিষয়ে জাহাঙ্গীরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের নগরের বাইরের এলাকার দলের নেতাদের প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই। যেকোনো নাগরিকই তো প্রচারণায় অংশ নিতে পারে। বিএনপির মেয়রের আমলে উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করে কারাগারে আটক রাখার কারণেই বিএনপির মেয়র প্রফেসর মান্নান কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেননি।
প্রচারণায় ক্লান্তিহীন প্রার্থী ও নেতারা 
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মে দিবসে মঙ্গলবার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চান্নায় নির্বাচনী প্রচারণায় যান। এসময় এক পথসভায় শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, গাজীপুরকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি উপহার দেব। আগামী ১৫ই মে আপনাদের সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। গত দুদিন সরকারি ছুটি থাকায় দিনব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি গতকাল সকাল থেকে সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ এবং পথসভার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের ভোট চান।
এদিকে মঙ্গলবার রাত জেগে শবে কদরের ইবাদত-বন্দেগির কারণে বুধবার দুপুরের আগে কোন কর্মসূচি রাখেননি ২০দলীয় জোট মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। তবে দুপুরের আগে তিনি কয়েকটি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেন। এরপর বিকাল ৩টা থেকে তিনি নির্বাচনী মাঠে নামেন। বিকাল ৩টায় টঙ্গী ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেটে পথসভার মাধ্যমে তিনি বুধবারের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর বৃষ্টি ও ঝড়-তুফান উপেক্ষা করে বিকাল সাড়ে ৩টায় পাগাড় ঝিনু মার্কেট, সালামের আটারকল বিকাল ৪টায়, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুরে সাড়ে ৪টায়, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিঅ্যান্ডটি গেটে সোয়া ৫টায়, শিলমুন স্কুল মাঠে পৌনে ৬টায় ও মরকুন প্রাইমারি স্কুল মাঠে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এদিকে মঙ্গল ও বুধবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে সারা দিন নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

যে কারণে কালোমেঘে ঢেকে যায় দিনের আলো by সঞ্চিতা সীতু

কালো মেঘে ছেয়ে গেছে ঢাকার আকাশ
বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় আর বজ্রপাতে বিপর্যস্ত মানুষ। ঝড়ের আগে রাজধানীর আকাশ  হয়ে যায় রাতের মতো অন্ধকার। ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় দিনের আলো। এই ঘনকালো মেঘকে বলা হয় বজ্রমেঘ। ঘন ঘন বজ্রমেঘ সৃষ্টির কারণে বজ্রপাত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত বজ্রাঘাতে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, বজ্রমেঘের ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে ঢাকা পড়ছে দিনের আলো। এরপর প্রবল বৃষ্টি ঝরে হালকা হচ্ছে মেঘ। কালবৈশাখীর সময় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
গাছপালার ওপরে ঘন মেঘগাছপালার ওপরে ঘন মেঘ
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উত্তর আন্দামান সাগর ও আশেপাশের এলাকায় লঘুচাপ বিরাজ করছে। এ কারণে বজ্রমেঘের ঘনঘটা বাড়ায় আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ,বরিশাল,চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া এবং বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
ঢাকার আকাশ ছেয়ে গেছে ঘন মেঘেঢাকার আকাশ ছেয়ে গেছে ঘন মেঘে
জানা যায়— বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা, ধোঁয়া, কয়লার সূক্ষ্মকণা, গ্যাসের অণু প্রভৃতিকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় ভেসে বেড়ায় এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা। এগুলোকেই বলা হয় মেঘ। এর ওপর সূর্য কিরণ প্রতিফলিত বা প্রতিসারিত হয়ে বিচিত্র বর্ণ ধারণ করে।
১৮০৩ সালে ইংরেজ রসায়নবিদ লিউক হাওয়ার্ড মেঘের শ্রেণিবিন্যাসে বিশেষ তৎপর হন এবং আকৃতি ও চেহারা অনুযায়ী মেঘকে চার ভাগে বিভক্ত করেন। এগুলো হলো— সিরাস বা অলোক মেঘ, স্ট্র্যাটাস বা স্তর মেঘ, কিউমুলাস বা স্তূপ মেঘ ও নিম্বাস বা ঝঞ্ঝা মেঘ।
এছাড়া মেঘের উচ্চতার অবস্থান অনুযায়ী অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠ থেকে মেঘের উচ্চতা অনুযায়ী মেঘকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে— উঁচু আকাশের মেঘ, মাঝারি আকাশের মেঘ ও নিচু আকাশের মেঘ।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সমিতি ১৮৯৪ সালে আকার ও উচ্চতা অনুযায়ী মেঘকে ১০ ভাগে বিভক্ত করে। পরবর্তী সময়ে আকাশের বুকে ২৮ রকম মেঘের কথা বলা হয়।
 নেমেছে ঝড় নেমেছে ঝড়
আবহাওয়াবিদরা বলেন, কিছু কিছু মেঘ আছে যা আকাশে ছড়িয়ে না গিয়ে লম্বালম্বিভাবে বাড়তে থাকে। এমন মেঘ দুই ধরনের হয়— কিউমুলাস ও কিউমুলোনিম্বাস। এর মধ্যে কিউমুলোনিম্বাস মেঘকে বলা হয় বজ্রমেঘ। এই মেঘ ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত এমনকি টর্নেডোরও সহায়ক। ঝড় কোনদিকে যাচ্ছে তা এই মেঘের গতি দেখে বোঝা যায়। কিউমুলোনিম্বাস মেঘের উচ্চতা ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই মেঘ সৃষ্টি করে তীব্র বজ্র।
চলতি মৌসুমে বজ্রমেঘ সৃষ্টির বিষয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মৌসুমে কালবৈশাখীর আগে কালো মেঘ হওয়া স্বাভাবিক। বজ্রমেঘের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঘন ও কালো হবে। মেঘের উচ্চতা যদি বেশি হয় তাহলে তাকে আমরা বজ্রমেঘ বলি। কালবৈশাখী ঝড়ের বৈশিষ্ট্য এমনই। এমন সময় একদিকে বজ্রমেঘ, অন্যদিকে বাতাসের তীব্র গতি থাকবে। মেঘের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সৃষ্টি হয় বজ্রমেঘ। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে এমন মেঘ হওয়া খুবই স্বাভাবিক।’
 নেমেছে ঝড় নেমেছে ঝড়
তবে এই আবহাওয়াবিদ উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মেঘের আকার ও পরিমাণ বেশি। তিনি বলেন, ‘সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে এ ধরনের মেঘ সৃষ্টি হয়। এই ঋতুতে এমন মেঘের সৃষ্টি স্বাভাবিক। গতকালও (২৯ এপ্রিল) এ ধরনের মেঘ হয়েছে। মেঘের ঘনত্ব ও ‍উচ্চতার ওপর নির্ভর করে আবহাওয়াবিদরা পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া কেমন হবে তা নির্ণয় করে থাকেন।’

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে, সুবিধা পেয়েছে ৪-৫ হাজার শিক্ষার্থী: আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন by নূর মোহাম্মদ

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। শুধু নৈর্ব্যক্তিক ‘খ’ সেটের প্রশ্নফাঁস হওয়ায় এর সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। মাত্র দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪ থেকে ৫ হাজার সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর জন্য ২০ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল না করার    পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা  থেকে নৈর্ব্যক্তিক অংশ ধীরে ধীরে বাতিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বুয়েটের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারসহ ৮ দফা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ায়িতে অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসে ব্যাপক অভিযোগ উঠে। পরীক্ষার পর ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হুবহু মিলে যায়। এমন প্রেক্ষিতে গত ৬ই ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে আহ্বায়ক করে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একাধিক বৈঠক করে গত ১১ই মার্চ তা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। কমিটির সদস্য ছিলেন জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিটিআরসি, আন্তঃশিক্ষাবোর্ড, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ডিএমপি, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। প্রশ্নফাঁস রাধে বেশকিছু সুপারিশ করে কমিটি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট ও কলেজে ভর্তির হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনস্তাত্ত্বিক চাপে থাকেন, বর্তমান গ্রের্ডিং পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন ৫ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকেন, তাই এ পদ্ধতি সংস্কার প্রয়োজন। এমসিকিউ ধীরে ধীরে বাতিল করা, ব্যবহারিক পরীক্ষা বেশি নম্বর পাওয়ার আশায় অনৈতিক কাজে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জড়িয়ে পড়ছেন, এটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নে অধিক শিক্ষককে আরো প্রশিক্ষণ, শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধসমূহ) আইন ১৯৮০ যুগোপযোগী করা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও বিকাশ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে লেনদেনকারীদের সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করে তাদের পেশা যাচাই করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন উন্মত্তভাবে ফাঁস হয়নি। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ক্লোজ গ্রুপে প্রশ্ন শেয়ারের ঘটনা ঘটেছে। যদিও হাতেগোনা কয়েকটি গ্রুপের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলেছে, তবে বেশিরভাগ গ্রুপের প্রশ্ন সঠিক ছিল না। এ ধরনের ক্লোজ গ্রুপের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০টি। আর সদস্য হবে সর্বসাকল্যে ১০ থেকে ১০০ জন। প্রশ্নফাঁসকারী বেশিরভাগ চক্র ফেসবুকে আগেই ছবি পোস্ট করে ওয়ানলি মি (শুধু নিজে দেখতে পারবে) করে রাখতো। পরীক্ষা শেষে প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটি আপলোড করে পোস্টটি পাবলিক (সবাই দেখতে পারবে) করে দিতো। আর এসব তথ্য নিয়ে মিডিয়া প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে প্রচার করেছে। জালিয়াতচক্র মূলত আয়ের একটা কৌশল হিসেবে এসব করেছে। এরকম কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ সাজেশন আকারে প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছে সেখানে থেকে কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিক কমন পড়েছে। ক্লোজ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্ন সুবিধাভোগীরা পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে সর্বোচ্চ ১০-২০ মিনিট সময় পেতো। ফলে পরীক্ষার শুরু ৩০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক হওয়ায় ১০-২০ মিনিটে ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন উত্তর খুঁজে বের করা সহজ নয়। ফলে তাদের সামগ্রিক ফলাফলে এটা খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। আর অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা বেশিরভাগ প্রশ্ন ছিল ভুয়া বা সময় টেম্পারিং করে আপলোড করা। আর রচনামূলক বা সৃজনশীল কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো কারণ নেই। অবশিষ্ট প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ ভাগ পরীক্ষার্থী পূর্বে কোনো প্রশ্ন না পাওয়ায় তাদের ফলাফলে প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রভাব পড়বে না। ফলে সুবিধাভোগী ৪ থেকে ৫ হাজার পরীক্ষার্থীর জন্য ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা পুনরায় নিয়ে তাদের ভোগান্তিতে ফেলা সমীচীন হবে না- বিবেচনায় এসএসসির কোনো পরীক্ষা বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রশ্নফাঁসের কোনো তথ্য বা অভিযোগ না থাকায় পরীক্ষা বাতিলের কোনো প্রশ্নই আসে না। তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষায় ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টি পত্রের শুধু নৈর্ব্যক্তিক ‘খ’ সেট অংশের প্রশ্নফাঁস হয়। পরীক্ষার হলে সবাই ‘খ’ সেটে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় সকলে লাভবান হতে পারেনি। কোনো বিষয়ের ৭০ নম্বরের লিখিত প্রশ্ন ফাঁস হয়নি।
তবে পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণ মিললে প্রশ্নফাঁসের ফলে সুবিধাভোগীর পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ফলাফল বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে প্রশ্নফাঁসে জড়িত ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ৫২টি মামলায় ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। প্রতিবেদনে বিকাশ, রকেট মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরবরাহে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তথ্য পেলে প্রশ্নফাঁস ও সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থীদের তথ্য পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে তাদের ফলাফল বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
এইচএসসি পরীক্ষার যেসবপদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রত্যেক বিষয়ে একটিমাত্র বড় খামের প্যাকেট করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট পূর্বে লটারীর মাধ্যমে সেট নির্ধারণ, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে প্রশ্নের সেট খোলা হচ্ছে। ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র প্রবেশ নিশ্চিত করা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো এবং সব ধরনের মোবাইল ও ইলেট্রনিক্স জিনিস নিয়ে হলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনে আসা-না আসা কোনো দলের নিজস্ব ব্যাপার -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না- এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা আমরা চাপিয়ে দিতে পারি না। নির্বাচন না করলে ধরে নিয়ে যাবো, জেলে পাঠাবো- এটা তো আমরা বলতে পারি না। আর আগামী নির্বাচনে কে জিতবে বা হারবে সেটা নির্ভর করছে জনগণের ওপর। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে গতকাল বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিন দেশের সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য পড়ার পর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলন, নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মামলা, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা আবারো উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার কারাগারে পাঠায়নি। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেছেন। এখানে সরকারের করার কিছু নেই। সড়কে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সড়কে চলাচলে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনি বাসে করে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বের করে যাবেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ছাত্রদের দাবি মেনে কোটা বাতিল করা হয়েছে এ নিয়ে এখন আর আলোচনার দরকার নেই। ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে সমঝোতা হলে ভোট ছাড়াই কমিটি দেয়া হবে। কারণ ভোটে যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম,পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ মনে করছে কিনা, বিরোধী জোটকে নির্বাচনের আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না- সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, পুলিশ হত্যা করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তারা কী করবে, সেটা তাদের ওপরই নির্ভর করছে।
খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকার বিষয়টি আদালতের, সরকারের নয় বলেও মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে তো আমি কারাগারে পাঠাইনি। তাকে তো রাজনৈতিকভাবে পাঠানো হয়নি কারাগারে। রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে তো আরো আগেই করতে পারতাম। ২০১৪ সালে যেভাবে হুকুম দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ১০ বছর ধরে একটা মামলা চলছে। ১৫২ বার না ১৫৪ বার তারা কোর্ট বদল করেছে, ২২ বার রিট করেছে। তাদের এত বড় বড় আইনজীবী, এত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সব আইনজীবী, তারা কিছুতেই প্রমাণ করতে পারলেন না যে খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন। আইনিভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তাদের আইনিভাবেই লড়াই করতে হবে। আমাদের কাছে দাবি করে কী হবে? বরং আমি একটা অন্যায় করেছি। একজন নিরপরাধ মানুষ তার জন্য সাজা খাটছেন! কোনো অপরাধ না করে, কোনো বিচার ছাড়াই উনার মেইড সার্ভেন্ট সাজা খাটছেন! মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথায় কথায় সোচ্চার। তারা তো এই বিষয় নিয়ে কিছুই বলছে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার আশা করে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তো সবসময় চাই, আশাও করি যে মানুষ ভোট দেবে। আর এত উন্নয়নের পরও যদি মানুষ ভোট না দেয়, তাহলে তো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন মানুষ যদি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়, তাহলে নিশ্চয় তারা আওয়ামী লীগে ভোট দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যদি মনে করে যে উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে, তাহলে তারা আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। আমরা যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের এই উন্নয়ন কেবল আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই সম্ভব, অন্য কেউ এই উন্নয়ন করতে পারবে না। এর আগে তো জিয়া ক্ষমতায় ছিল, এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, তারা তো কোনো উন্নতি করতে পারেনি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র ৯ বছরে যে উন্নয়ন কাজ আমরা করেছি, তার জন্য একটু শোকর করেন, একটু ধন্যবাদ দেন। আমরা যেন ভোট পাই, সেটাও একটু দেখেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সব ডাটা আছে: কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিল, তাদের সব ডাটা ও ছবি সরকারের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের সব ডাটা তো আছে, ছবি আছে। তারা যদি পরে চাকরি না পেয়ে জেলা কোটার জন্য কান্নাকাটি করে তাতে আমার কিছু করার থাকবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীরা কোটা চায় না বলেই সেটি বাতিল করে দিয়েছি। এখানে ক্ষোভের তো কোনো কারণ নেই। ছাত্রদের দাবি ছিল কোটা চায় না। তাই আমরা বাতিল করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, কোটা থাকবে কি থাকবে না সেটি ছাত্রদের বিষয় না। এটি সরকারের নীতি নির্ধারণের বিষয়। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে গেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে তারা তো নামকাওয়াস্তে খরচ দিয়ে পড়ে। বলতে গেলে বিনাপয়সায় সবাই পড়ালেখা করছে। তারপরও যেহেতু এত দাবি করছে, তাই আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এটা নিয়ে এত কথার কী আছে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সময় তো আপনাদের কাউকে দেখিনি- ছাত্রদের থামাতে এগিয়ে যেতে। আন্দোলনে কারা জড়ো হচ্ছে কই সেই বিষয়ে তো কেউ কথা বলেননি। শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হলেও ৭৫ পরবর্তী কতজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরি পেয়েছে? তখন তো জিয়াউর রহমানের সরকারের ভয়ে কেউ মুক্তিযোদ্ধা কথাটি লিখত না। কারণ তখন তো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকার ক্ষমতায় ছিল।
তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে
একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়ে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আমরা। লন্ডনে অবস্থানরত তারেকের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেয়া এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। তারপর একটি ট্রাবল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এবং সেটিতে লেখা থাকে পাসপোর্ট জমা দেয়া লোককে কখনো নিজের দেশে ফিরতে হবে না। আর যদি সে নিজ দেশে ফিরে আসতে চায় তাহলে তার আর রাজনৈতিক আশ্রয় থাকবে না। তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করলো। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।
পথচারীদেরও সড়কের নিয়ম মানতে হবে
এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদেরও সড়কের নিয়মগুলো মানার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনার পেছনে চালকের পাশাপাশি চলাচলকারী ও যাত্রীদের নিয়ম না মানার বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ঢাকায় ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমার এই কথাগুলো অনেকে পছন্দ করবেন না, কিন্তু যা বাস্তব, তাই বলছি। রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম, যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বাইর করে যাবেন? আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন, কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না। মোটর সাইকেলে এবং সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়িতে চড়াও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক পারাপারে পথচারীদের আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোকেও প্রচার চালানোর আহ্বান জানান তিনি। যারা পথে পারাপার হয়, তারাও নিয়ম মানে কী না, সেদিকে আপনারা একটু দেখেন। সড়ক দুর্ঘটনা হলেই আইন হাতে নিয়ে চালককে মারধর না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ছাত্রলীগে মেধাবী নেতৃত্ব বাছাইয়ে  সমঝোতা না হলে ভোট
ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনে সমঝোতার মাধ্যমে উপযুক্ত মেধাবী ছাত্র নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, সমঝোতা না হলে প্রয়োজনে ভোটের মাধ্যমে এই নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কে কে প্রার্থী তাদের তালিকা নেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি আছে। তালিকায় আসা আগ্রহীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা হলে এই কমিটির প্রেস রিলিজ দেয়া হবে। এতে সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে। তবে ভোটের মাধ্যমে হওয়ারও একটা ঝামেলা আছে। তারা ইয়াং ছেলেপুলে, ভোটের মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। তারা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আমরা দেখবো ভোটের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব এসেছে কিনা। না এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা জানেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে একটা উপযুক্ত বয়সসীমা রয়েছে, তাদের ছাত্র হতে হবে। এদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী নেতৃত্ব নিয়ে আসতে হয় সমঝোতা, না হয় ভোট হবে। ভোটের আবার ভালো দিকও আছে, মন্দ দিকও আছে।
রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্বের সমর্থন পেয়েছি
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সমপ্রদায়ের সমর্থন বাংলাদেশের পক্ষে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ?গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সফরকে আমার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করি। সফরে নরেন্দ্র মোদি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এই সফরগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমি মনে করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক। বাংলাদেশ যে এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে, তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমরা আশা করছি, তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গ্লোবাল সামিট-২০১৮-তে আমি অংশ নিই। এতে সমুদ্র গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের সামপ্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের প্রশংসা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে  প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও দরকার। আইন অনুযায়ী যাতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় চলে, সেদিকে আমাদের নজর সব সময় ছিল, আছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি কমানোর জন্য ইউজিসিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।
এই পুরস্কার গোটা নারী সমাজের
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে গ্লোবাল উইমেন’স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ ভূষিত করা হয়েছে, তা তার একার নয়, গোটা নারী সমাজের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পুরস্কার আমার একার নয়, এই পুরস্কার গোটা নারী সমাজের। সে কারণেই এই পুরস্কার আমি সারাবিশ্বের নারী সমাজকে উৎসর্গ করেছি। সংবাদ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু আইন করে করা যায় না। অনুশীলনের মাধ্যমে, চর্চার মাধ্যমে অর্জন করে নিতে হয়। দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের সমাজ এক সময় অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমবার যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন করে দিলাম, সেই নির্বাচনে নারীদের অংশ নেয়া বা না নেয়া নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ছিল। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক রাজনৈতিক দল এর প্রতিবাদ করেছে। অথচ ওই নির্বাচনে ১২ হাজার পদের বিপরীতে ৪৫ হাজার নারী অংশ নিয়েছিলেন। যারা এক সময় নারীদের সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের প্রতিবাদ করেছিলেন, তারাই আবার রাতের অন্ধকারে এই নারীদের পক্ষেই প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট চাইলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পরিবর্তনই একবারে আসে না। আমরা যখন মেয়েদের খেলাধুলা নিয়ে উদ্যোগ নিলাম, তা নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। রাজশাহীতে তো ফুটবল টুর্নামেন্ট হতেই পারলো না। এই ধরনের মানসিকতা এক সময় মানুষের ছিল। সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। জাতির জনক বলতেন, নারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। তাহলেই তারা সব ক্ষেত্রে কথা বলার সুযোগ পাবে। আমরা সেই চেষ্টা করেছি। বয়স্ক ভাতা চালু করেছি, বিধবা ভাতা চালু করেছি, স্বামী পরিত্যক্তাদের জন্য ভাতা চালু করেছি। এক সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল, এখন রয়েছে ৫০টি। এর বাইরেও কিন্তু সরাসরি নির্বাচনে ২২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমাদের রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কথা হলো- কেবল আইন করে সবকিছু হয় না। অনুশীলনের মধ্য দিয়ে, কাজের মধ্য দিয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। মনের জোর, আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো কিছুই অর্জন করা যেতে পারে। আমি যখন রাজনীতি শুরু করি, তখন অনেকেই বলেছে, কোনো নারী সরকারপ্রধান হতে পারবে না। কিন্তু সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন নারী নেতৃত্ব সবাই মেনে নিয়েছেন।