Thursday, April 30, 2026
পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার গোপন বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা
পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার এবং পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা চালানো, যা মানুষের জীবন ও পরিবেশে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো:
পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা
১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চীন ও কোরিয়ায়, প্লেগ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগসহ জৈবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষাগুলো বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র ও রিপোর্ট দেখায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কোরিয়ার কিছু অঞ্চলে প্লেগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী। অনেক পরীক্ষা গোপনে ও সামরিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, যেখানে লক্ষ্য ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের প্রভাব মানুষের উপর এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর পরিমাপ করা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধগুলোর মধ্যে একটি ছিল কোরিয়া ও উত্তর-পূর্ব চীনে, যেখানে ব্যাপক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া, কীটপতঙ্গ, পশুর ক্ষয়িষ্ণু অংশ এবং মাছের দেহ ঝড়ানো হয়েছিল মানুষের উপর ও কৃষিভূমিতে। এর ফলে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স ও এনসেফালাইটিসের মত রোগের দ্রুত প্রাদুর্ভাব হয় এবং ব্যাপক মৃত্যু ঘটে। এই অপরাধগুলোর প্রভাব এখনও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে জেনেটিক্যাল রোগের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম টেনে চলেছে। এই পরীক্ষা কখনো খোলাখুলি এবং কখনো গোপনে চালানো হতো। এই পরীক্ষায় রোগগুলো সচেতনভাবেই মানুষের ও পশুর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হতো যাতে এর প্রভাব পরিবেশ ও দেশের নিরাপত্তার ওপর মূল্যায়ন করা যায়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার
ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫–১৯৭৫) চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা হয় কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস, শত্রু দমনে এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে আঘাত করার জন্য। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হচ্ছে 'অরেঞ্জ এজেন্ট' নামক রাসায়নিক। এই পদার্থে ডাইঅক্সিন ছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মানুষের স্বাস্থ্যে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদিও এটি সরাসরি দুর্ভিক্ষ বা রোগের সৃষ্টিকারী ছিল না, তবে এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব ব্যাপক ছিল।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্বাস্থ্য ও পরিবেশে
চীন, কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী ও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে। প্লেগ, কলেরা, ম্যালেরিয়া ও শ্বাসকষ্টের মত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়। এই রোগগুলো শুধু তখনকার সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে, যুদ্ধ শেষে অনেক মানুষ এখনো রাসায়নিক ও বায়োলজিক্যাল পদার্থের কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকেই ত্বকের রোগ, ক্যান্সার ও জন্মগত বিকলাঙ্গতায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবেশও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বনাঞ্চল ও কৃষিজমির ধ্বংস।
উপসংহার
পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ, বিশেষ করে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গভীর ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। প্লেগসহ মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে এসব অস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে, এই অস্ত্রগুলো শুধু তাত্ক্ষণিক ক্ষতি করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে আনে। এই ঘটনা গুলোকে আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে এর ফলাফল ও দায়িত্ববোধ স্পষ্ট হয় এবং যারা এই মানবতাবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
![]() |
| মার্কিন বিমান থেকে ভিয়েতনামে রাসায়নিক বোমা হামলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন লাতিন আমেরিকান এত নেতা আইনি জটিলতায়?
এ খবর দিয়ে অনলাইন সিএনএন বলছে, আসলে লাতিন আমেরিকার প্রায় দেশেই কমপক্ষে একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারিক তদন্তের মুখোমুখি। ব্যতিক্রম মাত্র একটি দেশ। ইকুয়েডরে ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিজন প্রেসিডেন্ট (মোট আটজন) আইনি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। রাফায়েল কোরেয়া ঘুষকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে বেলজিয়ামে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। পেরুতে নতুন শতাব্দীর শুরু থেকে সাতজন প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার বা তদন্তের সম্মুখীন। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে অষ্টমজন আত্মহত্যা করেন। আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো ও এল সালভাদর- প্রতিটি দেশে পাঁচজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। আর্জেন্টিনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে কির্চনার ২০২২ সালে প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে গৃহবন্দি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ। ব্রাজিল, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও কোস্টারিকা- প্রতিটি দেশে চারজন সাবেক নেতা আইনি তদন্তের মুখে পড়েছেন। পানামা ও হন্ডুরাসে এ সংখ্যা তিনজন করে। নিকারাগুয়া, হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ভেনিজুয়েলা, চিলি ও কলোম্বিয়ার প্রতিটি দেশে কমপক্ষে একজন করে প্রেসিডেন্ট আইনি তদন্তের মুখে।
একমাত্র ব্যতিক্রম উরুগুয়ে: উরুগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, কারও বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তদন্তও হয়নি। বরং দেশটি গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে শীর্ষে। দ্য ইকোনমিস্ট ডেমোক্রেসি ইনডেক্স ২০২৪ এ উরুগুয়ে বিশ্বে ১৫তম এবং এ অঞ্চলের একমাত্র ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উরুগুয়ের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যানজেল আরেয়ানো বলেন, এর পেছনে রয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি’। মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, সাধারণ বাড়িতে বসবাস এবং বিলাসী সুবিধার অভাব এ সংস্কৃতির অংশ।
উরুগুয়ে ছাড়া বাকি লাতিন আমেরিকায় নেতাদের আইনি জটিলতার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন- দুর্নীতি ও ঘুষকাণ্ড, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রেসিডেন্ট-কেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার দেশগুলো গড়ে ১০০ এর মধ্যে মাত্র ৪২ পয়েন্ট পেয়েছে। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কম। আরেয়ানোর মতে, লাতিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ দুর্নীতির বড় কারণ।
গবেষকরা বলছেন, ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের পর থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টদের বিচারের প্রবণতা বেড়েছে। আর্জেন্টিনার অধ্যাপক ক্যাটালিনা স্মুলোভিত্জের মতে, দুর্নীতি নিয়ে জনসচেতনতা আগে কম থাকায় আগের তুলনায় এখন মামলার সংখ্যা বেড়েছে নাকি নজরদারি বেড়েছে-তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ল’ফেয়ার বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলার ফাঁদে ফেলার প্রবণতাও বাড়ছে। এতে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট পদে থেকে দুর্নীতির সুযোগ, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অধিকাংশ নেতা আইনি জটিলতায় জড়ান। তবে উরুগুয়ে প্রমাণ করেছে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান থাকলে ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, April 29, 2026
নারীকেন্দ্রিক সিনেমা বাড়ছে, কী বলছেন বাঁধন, মেহজাবীন by পৃথা পারমিতা নাগ
বাস্তবঘেঁষা গল্প, নির্মাণে মুনশিয়ানা
২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পায় ‘প্রিয় মালতী’। শঙ্খ দাশগুপ্তের সিনেমাটি দেখে মনে হবে এ যেন সিনেমা নয়, বাস্তবের নিখুঁত রূপান্তর। কেবল গল্প নয়, অভিনয়, কারিগরি দিক, সিনেমাটোগ্রাফি আর নির্মাণ মিলিয়ে সিনেমা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রিয় মালতী। এ সিনেমাই নয়, গত এক বছরে মুক্তি পাওয়া নারীকেন্দ্রিক সব সিনেমাতেই কমবেশি এই চিত্র পাওয়া গেছে। অতি মেলোড্রামা, দুঃখ-কষ্ট আর হাহাকার থেকে নারীকেন্দ্রিক সিনেমাকে ‘মুক্তি’ দিয়েছেন নির্মাতারা।
মাকসুদ হোসাইনের ‘সাবা’র কথাই ধরা যাক। মা ও মেয়ের সম্পর্ক, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব যেভাবে এ সিনেমায় ফুটে উঠেছে, দেশের সিনেমায় অনেক দিন তা দেখা যায়নি। এটি যে দেশে মুক্তি পাওয়া গড়পড়তা সিনেমার চেয়ে সব বিচারেই অনেক এগিয়ে, এ কথা বললে ভুল বলা হবে না।
আবার লীসা গাজীর ‘বাড়ির নাম শাহানা’য় যেভাবে নারীর সংগ্রাম, উদ্যাপন তুলে ধরা হয়েছে, সেটাও তারিফ করার মতো। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য সব প্রতিকূলতাকে পাশে রেখে একজন নারী যেভাবে তাঁর যোগ্যতর স্থানে পৌঁছান, এ যাত্রা নারী–পুরুষনির্বিশেষে যে কাউকেই অনুপ্রাণিত করবে।
করোনার সময়ের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প ‘জয়া আর শারমীন’। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যখন ধনী-দরিদ্রের সব বিভেদ ঘুচে যায়, সেই সময়ের দুজন মানুষের অকপট প্রকাশই এ সিনেমার মূল ভাব।
ঈদুল আজহার সিনেমার ভিড়ে ব্যতিক্রম ছিল ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’। অন্য নারীকেন্দ্রিক সিনেমাগুলোর চেয়ে সানী সানোয়ারের সিনেমাটি মেজাজে পুরোমাত্রায় বাণিজ্যিক। তবে সেখানেও পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা কীভাবে নানাভাবে পুরুষদের অনাচার ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা উঠে এসেছে। দেশে মার্ডার-মিস্ট্রি ঘরানার সিনেমা, খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে সিনেমা নতুন নয়। তবে এ সিনেমায় গল্প যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, নিঃসন্দেহে তা ঢাকাই সিনেমায় মার্ডার-মিস্ট্রি ঘরানার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
গত মাসেই ওটিটিতে এসেছে আকরাম খানের ‘নকশীকাঁথার জমিন’। সিনেমাটি মুক্তিযুদ্ধে নারীর সংগ্রামকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। এখনো প্রাসঙ্গিক এ গল্প, কেননা এখনো চলমান নারীর যুদ্ধ।
এ ছাড়া চলতি বছর মুক্তি পেয়েছে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’, সিরিজ ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ ও মুর্তজা অতাশ জমজমের ‘ফেরেশতে’। দুই সিনেমায়ই প্রধান চরিত্র নারী, ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ সিরিজেও রয়েছে বৈচিত্র্যময় আট নারী চরিত্র।
কেন নারীকেন্দ্রিক সিনেমা
প্রশ্ন শুনেই কিছুটা প্রতিবাদ করে উঠলেন আলোচিত দুই সিনেমার (‘প্রিয় মালতী’ ও ‘সাবা’) প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। বললেন, ‘নারীকেন্দ্রিক সিনেমা’ তকমা থেকে মুক্ত হওয়া দরকার সবার আগে। এই তকমা মানেই একটা সিনেমাকে আলাদা করে ফেলা। এতে দর্শকদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হয়, সিনেমা দেখার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে মেহজাবীনের সঙ্গে একমত ‘বাড়ির নাম শাহানা’র নির্মাতা লীসা গাজী। নারীকেন্দ্রিক সিনেমা মানেই কান্নাকাটি, মেলোড্রামা, কিংবা শুধুই নারীর সংগ্রাম—এটাই প্রচলিত ধারণা। ‘সতী’ কিংবা ‘সর্বংসহা’ হিসেবে এত দিন যেভাবে নারীদের তুলে ধরা হয়েছে, এ ধারণা থেকেও বের হয়ে আসা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, নারীদের মনেও রয়েছে অনেক স্তর, তারাও জটিল। তারা স্বপ্নচারী, অনুভূতিপ্রবণ ও সাহসী। একজন সাধারণ নারীও যখন নিজের চেষ্টায় অসাধারণ হয়ে ওঠেন, সেই গল্পই পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।
নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত মনে করেন, ‘একজন নির্মাতার কাজ শুধু বিনোদন নয়, সময়ের মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরা।’ প্রিয় মালতী তাঁর কাছে কোনো সাহসী পদক্ষেপ মনে হয়নি, বরং মনে হয়েছে গল্প বলার একটি স্বাভাবিক ধারা, ইন্ডাস্ট্রিতে যা এত দিন উপেক্ষিত ছিল। তাঁর মতে, ‘চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করার জন্য নারীকেন্দ্রিক সিনেমা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
‘জয়া আর শারমীন’ নির্মাতা পিপলু আর খান ও সাবা নির্মাতা মাকসুদ হোসাইন নিজের জীবনসঙ্গীকে দেখেই পেয়েছেন গল্পের প্রেরণা।
ইতিবাচক সংস্কৃতি
এক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীকেন্দ্রিক সিনেমা যেমন মুক্তি পেয়েছে, তেমনই দেখা গেছে এসব সিনেমার নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীদের একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে। ‘সাবা’ সিনেমার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ‘এশা’ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ছাড়া তাঁর ভালো লেগেছে ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘বাড়ির নাম শাহানা’। মেহজাবীনের ভালো লেগেছে ‘জয়া আর শারমীন’ ও ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’।
নির্মাতারাও নিয়মিত দেখছেন একে অন্যের কাজ। শঙ্খ বললেন, ‘নির্মাণ, অভিনয় ও গল্প বলার সংযমী ধরন—সাবার সবকিছুই পরিপক্ব।’ মাকসুদ হোসেনের কথায় এল বেশ কয়েক বছর আগে মুক্তি পাওয়া রেহানা মারিয়ম নূর-এর প্রশংসা। দেশের বাইরে থাকার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না, তবু ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘সাবা’ দেখেছেন, জানালেন লীসা গাজী। করলেন নির্মাণের প্রশংসা।
মেহজাবীনের প্রশংসায় ভাসলেন পিপলু আর খান। বললেন, ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘সাবা’য় দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন মেহজাবীন। ‘প্রিয় মালতী’ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একদম নতুন ধরনের কাজ। ঢাকা শহরের অনিশ্চয়তা ও সংখ্যালঘু নারীর সংগ্রামকে খুব সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন শঙ্খ। সাবার জগৎ হয়তো সচরাচর দেখা যায় না, কিন্তু আমাদের সমাজে এই জগৎটাও আছে। মাকসুদ হোসেনের পরিণত কাজ।’
বৈশ্বিক স্বীকৃতি
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারে পাঠানো হয়েছে ‘বাড়ির নাম শাহানা’। নারীকেন্দ্রিক সিনেমা দেশ থেকে অস্কারের প্রাথমিক মনোনয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে, এটাও কি কম বড় ঘটনা। অস্কারের প্রাথমিক মনোনয়নের লড়াইয়ে সাবাও ছিল। দুই সিনেমাই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। টরন্টো উৎসবে মনোনীত হওয়ার পর আরও গুরুত্বপূর্ণ ১০টি উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে ‘সাবা’। একইভাবে ‘ফেরেশতে’ও ইরানের ফজর উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
দর্শকখরা, তবু প্রত্যাশা
ঈদ মানেই যেন হলভর্তি দর্শক, আর অন্য সময় গড়ের মাঠ। একটা দীর্ঘ সময় দেশে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ না হওয়ার কারণে হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শক। তবে এ ধারা ভাঙতে চাইছেন নির্মাতারা। বাঁধন মনে করেন, এ ধারা ভাঙতে প্রযোজকদের এগিয়ে আসতে হবে। নারী প্রযোজকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নারী নির্মাতাদের চোখে নারীর গল্প, নারীর চোখে পুরুষের গল্পও দেখতে চান। ‘সিনেমাই হতে পারে সমাজের বৈষম্য দূর করার একটা উল্লেখযোগ্য মাধ্যম,’ বলেন তিনি। সমাজের বহুমাত্রিকতাকে প্রতিফলিত করে, এমন গল্প আরও দেখতে চান মেহজাবীন। ভালো গল্প ও সিনেমায় সেটা ভালোভাবে উপস্থাপনের ওপর জোর দিলেন নির্মাতা মাকসুদ হোসেন।
নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, নারীপ্রধান গল্প মানেই এখন আর ‘সামাজিক বার্তা’ বা ‘অতিরিক্ত সাহসী’ কাজ নয়; বরং এগুলো আমাদের সময়, সমাজ, সম্পর্ক এবং মানসিক বাস্তবতার স্বাভাবিক প্রতিফলন।
বাণিজ্যিক ধারার ছবি যাঁরা করছেন, তাঁদের আরও গভীরভাবে সমব্যথী হয়ে নারী চরিত্র নির্মাণ করা উচিত বলে মনে করেন নির্মাতা পিপলু খান।
![]() |
| নারীকেন্দ্রিক সিনেমা বাড়ছে। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের মথ ডাল এ দেশে এসে মুগ ডাল হয়ে যাচ্ছে কেন by মাসুদ মিলাদ
সরকারি সতর্কবার্তার আগে নাম না–জানা এই ডাল কোথায় থেকে আমদানি হয়, কীভাবে বাংলাদেশে এল, কারা আমদানি করে, কেনই–বা মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি হয়, তা নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানা গেল নানা তথ্য।
শুরুতে জেনে নেওয়া যাক, এই ডাল কোথায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যানে দেশে এই ডাল উৎপাদনের কোনো তথ্য নেই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মথ ডাল খরা সহনশীল ডাল–জাতীয় ফসল। এটি ভারতের স্থানীয় ডাল। বিশ্বে মথ ডালের সিংহভাগ উৎপাদন হয় ভারতে।
ভারতের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে মথ ডাল উৎপাদন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ভারতের মথ ডালের ৯৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় রাজস্থানে মরু এলাকায়। রাজস্থান সরকারের কৃষি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানে গত ২০২৩–২৪ মৌসুমে ৪ লাখ ১৯ হাজার টন মথ ডাল উৎপাদিত হয়। রাজস্থানে এই ডাল বেশ জনপ্রিয়। এই ডাল দিয়ে পাঁপড় বানানো হয়।
বাংলাদেশে কখন আমদানি শুরু
বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি হচ্ছে শুধু ভারত থেকেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে গত পাঁচ বছরে এনবিআরের তথ্যে মথ ডাল আমদানির কোনো রেকর্ড নেই।
এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজশাহীর বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মথ ডালের প্রথম চালান আমদানি করে। প্রথম চালানে ৬২ টন মথ ডাল আমদানি হয়। ২০২৪ সালে সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৫১৬ টন মথ ডাল আমদানি হয়। তবে হঠাৎ এ বছর মথ ডালের আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। যেমন চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ২০ হাজার ৬৯১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০৮ শতাংশ বেশি।
বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিলের হাত ধরে আমদানি শুরু হওয়া এ পণ্যটি এখন আমদানি করছে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান। ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে মূলত ভারত থেকে এই ডাল আমদানি হচ্ছে।
মথ ডাল কেন মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মুগ ডাল কিছুটা গোলাকার। আর মথ ডাল কিছুটা লম্বা আকৃতির। এরপরও হলুদ রং মেশানো মথ ডাল ও মুগ ডাল পাশাপাশি রাখা হলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ব্যবসায়ীরা জানান, মুগ ডালের চেয়ে মথ ডালের আমদানির মূল্য কম। এ কারণে বেশি দামের জন্য মথ ডালকে মুগ ডাল হিসেবে খুচরায় বিক্রি হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানিতে কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ১ ডলার ৯ সেন্ট বা ১৩৩ টাকা। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা ১০৪ টাকায়। অর্থাৎ মুগ ডালের চেয়ে মথ ডাল আমদানিতে কেজিতে ২৯ টাকা কম পড়ছে। খুচরা বাজারে মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে মুগ ডাল হিসেবে মথ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। দামের পার্থক্যের কারণে তাই মথ ডালই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে মথ ডালের আমদানিকারক নিউ মাতৃভান্ডারের কর্ণধার বাদল তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের রাজস্থানে উৎপাদন হওয়া এই ডাল দিল্লিতে বড় কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপরই আমদানি হয়। আগের কিছু চালানে রং মেশানো থাকলেও এখন যেসব মথ ডাল আমদানি হচ্ছে, সেগুলোয় কোনো রং নেই। মুগ ডালের চেয়ে দাম কম থাকায় মথ ডালের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
মুগ ডাল আমদানি কমছে, বাড়ছে মথ ডাল
পরিসংখ্যান ব্যুরো ও এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, দেশে বছরে গড়ে ৪৫ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদন হয় এবং বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। তবে মথ ডাল আমদানি শুরুর পর মুগ ডাল আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাজারে মুগ ডালের চাহিদা মেটাচ্ছে মূলত মথ ডাল। যেমন ২০২২–২৩ অর্থবছরে ২১ হাজার টন মুগ ডাল আমদানি হয়। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩–২৪–এ মুগ ডাল আমদানি কমতে শুরু করে। ওই বছরে মথ ডাল আমদানি শুরু হয়। তাতে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি হয় প্রায় ১৮ হাজার টন। আর মথ ডাল আমদানি হয় ৯৯৬ টন।
গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মুগ ডাল আমদানি আরও কমে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯১৩ টনে। এ সময়ে ২১ হাজার ৪১৪ টন মথ ডাল আমদানি হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানির তালিকা থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে মুগ ডাল। এ সময় পাঁচটি চালানে মুগ ডাল আমদানি হয়েছে ২১৩ টন। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ টন।
রং মেশানো ডাল বিক্রি বন্ধে অভিযান
রং মিশিয়ে বাজারে ডাল বিক্রির অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে। গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, মুগ ডাল নামে বিক্রি হওয়া ৩৩টি নমুনার ১৮টিতে টারটাজিন নামের একধরনের হলুদ রঙের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপরই অভিযান শুরু হয়। এখন প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। যেমন গত বুধবার (৫ নভেম্বর) মথ ডালে রং মিশিয়ে মুগ ডাল বলে বিক্রির দায়ে টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনী বাজারে দুই ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ডাল বা যেকোনো শস্যদানায় রং মেশানোর অনুমোদন নেই। টারটাজিন রং ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে আমদানির সময় মুগ ও মথ ডালে রং পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং রং মেশানো ডাল যাতে আমদানি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
![]() |
| মথ ডাল। ছবি প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, April 28, 2026
এত্ত টাকা কিভাবে খরচ করেন ইলন মাস্ক!
মাস্ক বিলাসবহুল বাড়িতে না থাকলেও, তিনি অদ্ভুত ও অনন্য গাড়ির ভক্ত। তার কাছে এমন একটি গাড়িও আছে, যা সাবমেরিনে রূপান্তর হতে পারে। এছাড়া তার কাছে রয়েছে কয়েকটি প্রাইভেট জেট, যেগুলোর মূল্য কয়েক কোটি ডলার। আর আছে সেই ২০২২ সালের বিখ্যাত কেনাকাটা- যখন তিনি ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেন! কয়েক বছর আগে মাস্কের সম্পত্তি সাম্রাজ্যও ছিল বিশাল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে সাতটি বাড়ি কিনেছিলেন। এর বেশির ভাগই ক্যালিফোর্নিয়ার বেল-এয়ারে কাছাকাছি ছিল। এই বাড়িগুলিতে ছিল সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, ওয়াইন সেলার, ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ও বলরুম। এর একটিতে একসময় বাস করতেন বিখ্যাত অভিনেতা জিন ওয়াইল্ডার। কিন্তু ২০২০ সালে মাস্ক হঠাৎ ঘোষণা দেন- তিনি প্রায় সব সম্পদ বিক্রি করে দেবেন এবং নিজের কোনো বাড়ি রাখবেন না।
তিনি টুইট করেন, টাকা লাগবে না। আমি নিজেকে উৎসর্গ করছি পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের জন্য। সম্পদ মানুষকে ভারী করে তোলে। তবে তিনি শর্ত দেন- ওয়াইল্ডারের বাড়িটি ভেঙে ফেলা যাবে না। তিনি বাড়িটি বিক্রি করেন ওয়াইল্ডারের ভাতিজা জর্ডান ওয়াকার-পার্লম্যানের কাছে তাকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়ে। কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে মাস্ক আবার বাড়িটির মালিকানা ফিরে পান। কারণ পার্লম্যান ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন। ২০২১ সালে মাস্ক জানান, তাঁর প্রধান বাসভবন টেক্সাসের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত মাত্র ৫০ হাজার ডলারের একটি ছোট প্রিফ্যাব্রিকেটেড বাড়ি। সেখানে তার স্পেসএক্স কোম্পানি কাজ করে। সেই এলাকা এখন ‘স্টারবেস; নামে একটি শহর হিসেবে পরিচিত। এরপরের বছর তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো বাড়ির মালিকই নন। গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি পেজ ২০১৫ সালে বলেন, ইলন আসলে কিছুটা গৃহহীনই। মাঝে মাঝে সে ইমেইল করে বলে- ‘আজ রাতে কোথায় থাকব জানি না, তোমার বাড়িতে থাকতে পারি?’ বর্তমানে জল্পনা রয়েছে যে মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নতুন বাড়ি কিনছেন। তবে টেক্সাসের ওই ছোট ঘরটিই এখনো তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক বাড়ি।
টেসলার মালিক হিসেবে মাস্কের কাছে বিরল সব গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে আছে ফোর্ড মডেল টি (বিশ শতকের শুরুর সাশ্রয়ী গাড়ি), ১৯৬৭ সালের জাগুয়ার ই-টাইপ রোডস্টার, এবং ১৯৯৭ সালের ম্যাকলারেন এফ১, যা তিনি একবার দুর্ঘটনায় নষ্ট করে আবার মেরামত করে বিক্রি করেন। সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ২০১৮ সালে মহাকাশে পাঠানো টেসলা রোডস্টার। আর সবচেয়ে অদ্ভুত গাড়িটি হলো ১৯৭৬ সালের লোটাস এস্পিরিট- জেমস বন্ডের দ্য স্পাই হু লাভড মি ছবিতে ব্যবহৃত সেই সাবমেরিন গাড়ি ‘ওয়েট নাইল’। মাস্ক এটি ২০১৩ সালে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারে নিলাম থেকে কিনে নেন।
মাস্ক স্বীকার করেন, বিমানের ক্ষেত্রে তিনি খরচ করতে দ্বিধা করেন না। তবে তা নাকি কাজের স্বার্থে। তার কাছে আছে কয়েকটি গালফস্ট্রিম প্রাইভেট জেট, প্রতিটির দাম কয়েক কোটি ডলার। তিনি এসব জেট ব্যবহার করেন স্পেসএক্স ও টেসলার বিভিন্ন সাইটে যাতায়াতের জন্য এবং আন্তর্জাতিক সফরেও। মাস্ক বিলিয়ন ডলারের টেসলা শেয়ার দান করেছেন এবং নানা কারণে বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও তার দান নিয়ে সমালোচনাও কম নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, তার দাননীতি অসংগঠিত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট। যা তাকে করছাড় দেয় এবং তার ব্যবসাকে সহায়তা করে। তার ‘মাস্ক ফাউন্ডেশন’-এর ওয়েবসাইটে বলা আছে, এটি ‘মানব অগ্রগতির জন্য বৈপ্লবিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাজ করে।’ তবে টাইমস রিপোর্ট অনুযায়ী, ফাউন্ডেশন তিন বছর ধরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অনুদান দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেক দান গেছে মাস্ক-সম্পর্কিত সংগঠনে। দান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মাস্ক বলেন, আপনি যদি সত্যিকারের মানবকল্যাণে বিশ্বাস করেন, শুধুমাত্র তার ভাবমূর্তিতে নয়, তাহলে দান খুবই কঠিন। তার মতে, তার কোম্পানিগুলোই আসলে মানবকল্যাণে কাজ করছে। তিনি বলেন, যদি ‘ফিলানথ্রপি’ মানে হয় মানবতার প্রতি ভালোবাসা, তাহলে আমার কোম্পানিগুলোই তাই। টেসলা টেকসই জ্বালানি ত্বরান্বিত করছে, স্পেসএক্স মানবজাতির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা নিশ্চিত করছে, আর নিউরালিঙ্ক মস্তিষ্কের আঘাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত অস্তিত্ব সংকট সমাধানে কাজ করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০১৮ সাল থেকে তিনি আলোচনায়, কে এই অভিনেতা
২০১৮ সালের এপ্রিলে নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকির ‘ক্যাশ’ নামের একটি থ্রিলার, ড্রামা জনরার গল্প দিয়ে ওটিটিতে নাম লেখান শ্যামল মাওলা। ‘ক্যাশ’ মুক্তির পরপরই তাঁকে নিয়ে ‘মানি হানি’ সিরিজ নির্মাণ করেছেন তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। সিরিজটি মুক্তির পরপরই আলোচনায় আসেন তিনি। একাধিক সাক্ষাৎকারে শ্যামল জানিয়েছিলেন, ‘মানি হানি’ সিরিজটি তাঁর ওটিটির ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। পরে আর ওটিটি মাধ্যমে তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
ওটিটিতে জনপ্রিয়তার পরে থেমে থাকেননি শ্যামল। একের পর এক তাঁকে পাওয়া যায় ভিন্ন ধরনের সব গল্পে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সদরঘাটের টাইগার’, ‘মাইনকার চিপায়’, ‘মহানগর’, ভাইরাস, ‘আরারাত, ‘তুমি কি আমি’, দ্য সাইলেন্স’। অল্প সময়েই ছোট পর্দা ছাপিয়ে নিজেকে ওটিটির নিয়মিত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্যামল।
নির্মাতা ও সমালোচকেরা মনে করেন, ব্যতিক্রম সব কাজ দিয়ে ওটিটিতে নিজেকে ভেঙেচুরে উপস্থাপন করছেন শ্যামল মাওলা। নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন তিনি। তাঁরা এ–ও জানান, ওটিটিতে যে ধরনের চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছেন শ্যামল মাওলা, টেলিভিশনে এ ধরনের চরিত্রে সুযোগ পাননি বললেই চলে। তাঁকে নিয়ে পরিচালক শাওকি এর আগে বলেছিলেন, ‘শ্যামল মাওলা টিভি নাটকে যে ধরনের চরিত্র করতে চাচ্ছিলেন, হয়তো সেই ধরনের চরিত্র তিনি পাননি। রিয়েলিস্টিক অভিনয়টা হয়তো তিনি করতে চাচ্ছিলেন। সেখানে হয়তো তাঁর ট্যালেন্ট চোখে পড়েনি। শ্যামল মাওলার মধ্যে শেখার ক্ষুধাটা রয়েছে। এই কারণেই তিনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছেন।’
ওই সময় প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যামল মাওলা বলেছিলেন, ‘দর্শক কাজগুলো দেখে প্রশংসা করে, এটা অবশ্যই ভালো লাগে। আমরা মাত্র শুরু করলাম। অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। আরও পথ পাড়ি দিতে হবে।’ কোনো সিরিজ নির্বাচনে কোন বিষয়টি বিবেচনায় রাখেন? শ্যামল মনে করেন, ‘পরিচালক, গল্প ও চরিত্র—তিনটি জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হয়। আবার টাকাটাও মাথায় রাখতে হয়।’
মঞ্চে দিয়েই অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন শ্যামল মাওলা। ২০০৬ সালে টিভি নাটকে তাঁর অভিষেক হয়। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি মনে করেন, ‘এখনো নিজের সেরাটা দেওয়া বাকি।’ তিনি দর্শকদের জন্য নিয়মিত ভালো কাজ করে যেতে চান। আজ ৮ নভেম্বর, দর্শকের পছন্দের এই অভিনেতার জন্মদিন।
![]() |
| ২০১৮ সাল থেকে তিনি আলোচিত, কে এই ‘ওটিটি খ্যাত’ অভিনেতা। ছবি: কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Monday, April 27, 2026
মানুষের কাজ হলো কিছু না কিছু বলা, বললেন ইয়ামি
‘জাতীয়তাবাদী’র তকমা
ইয়ামি গত কয়েক বছরে এমন সব সিনেমা নির্বাচন করেছেন, যার কারণে তাঁর গায়ে ‘জাতীয়তাবাদী’র তকমা লাগানো হয়েছে বলে জানান এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে ইয়ামির প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে অভিনেত্রী হেসে এই তকমাকে খারিজ করে দেন। ‘এ রকম তকমা আছে? আমি কিছুই জানি না। আর যদি–বা থাকেও, মানুষের কাজ হলো কিছু না কিছু বলা। মানুষ কোনো না কোনো তকমা দিতেই থাকে। আগে আমার গায়ে “আন্ডাররেটেড” তকমা লাগানো ছিল। তার আগে অন্য কিছু ছিল। এটা বদলাতেই থাকে। সত্যি বলতে, আমি এসব কিছু বুঝি না,’ বলেন তিনি।
বিনোদনই মূল উদ্দেশ্য
সিনেমার মাধ্যমে বিচিত্র কাহিনিকে তুলে ধরেছেন ইয়ামি। কিন্তু তিনি মনে করেন, সবচেয়ে জরুরি হলো মানুষের বিনোদন। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমি মনে করি, যে ধরনের কাহিনি বলার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার অস্তিত্ব আছে। এ ধরনের কাহিনি বলাটা জরুরি। কিন্তু সব সময় বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের কাছে কাহিনি পৌঁছে দিতে চেয়েছি। হককে নিয়ে আমরা একটা তথ্যচিত্র বানাতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। সিনেমা একটা ব্যবসা। এখানে নানা ধরনের মানুষ আছে। সব সময় মানুষকে এক সুতোয় গাঁথতে চেষ্টা করে এসেছি, নতুন কোনো কাহিনি আনতে, ব্যতিক্রম কিছু করতে। আমি ভাগ্যবতী, এমন সব কাহিনি বলার সুযোগ পাচ্ছি, তার নিজস্ব একটা পরিচিতি আমার আছে। তবে বিনোদনের মাধ্যমে সিনেমা নির্মাণ করা সবচেয়ে জরুরি। তাহলেই আমরা সবাইকে একসঙ্গে জুড়তে পারব।’
দর্শকের মতামতকে সম্মান
ইয়ামি মনে করেন যে সিনেমা ঘিরে প্রত্যেক দর্শকের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আছে। কারও কোনো ছবি ভালো লাগে, আবার কারও হয়তো ভালো লাগে না। তাঁর ভাষ্যে, ‘নানা ধরনের দর্শক আছে। আর প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। তবে আমি প্রত্যেক দর্শকের মতামতকে সম্মান করি।’সাহো বানুর মতো সাহসী চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে দারুণ উৎফুল্ল ইয়ামি। ছবিতে দেখা যাবে ইয়ামি আর ইমরানের রুদ্ধশ্বাস আইনি যুদ্ধ। আর এই ছবির মাধ্যমে সবচেয়ে বড় চেষ্টাটা করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তাঁর ভাষ্যে, ‘এই ছবিতে আমার ৮-১০ মিনিটের লম্বা দৃশ্য আছে। আমি যা কাট ছাড়াই শুট করেছি। এখন পর্যন্ত এটা আমার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। সাহো বানুর সংগ্রাম আর ন্যায়ের জন্য লড়াইকে আমি সম্মান করি। আমার অভিনীত এই চরিত্র সেই সব নারীর কণ্ঠ, যাঁরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।’
![]() |
| ইয়ামি গৌতম। ইনস্টাগ্রাম |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের নির্বাচনে ব্রাজিলের মডেল কীভাবে ‘২২ বার ভোট’ দিলেন
হরিয়ানায় গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্রে ২২ বার ভোটার কার্ডে নেরির ছবি ব্যবহার করে ভোট দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, এ ধরনের নকল ভোটার কার্ডগুলো হরিয়ানায় গত বছরের নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘তিনি (ব্রাজিলীয় মডেল) হরিয়ানায় ২২ বার ভোট দিয়েছেন। তিনি হরিয়ানার ভিন্ন ভিন্ন ১০টি বুথে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁর নামের জায়গায় সীমা, সুইটি, সরস্বতী, রেশমি, বিমলাসহ বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড। কেউ এই নারীকে ভোটার তালিকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঢুকিয়েছে, বুথ পর্যায়ে নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নারী কে? তাঁর বয়স কত? তিনি কোন রাজ্য থেকে এসেছেন? আমাকে কিছু ধারণা দিন।’
রাহুল বলতে থাকেন, ‘তিনি (ওই নারী) ব্রাজিলের নাগরিক। একজন ব্রাজিলীয় মডেল। এটি একটি স্টক ফটোগ্রাফ।’
একজন ব্রাজিলীয় নারীর নাম কীভাবে হরিয়ানার নির্বাচনী তালিকায় যুক্ত হলো, সে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল।
যে নারীকে নিয়ে এত কিছু, সেই ব্রাজিলীয় মডেল বলছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাঁর ব্যবহৃত ছবিটিও পুরোনো।
অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ব্রাজিলীয় মডেল নেরি বলেন, ‘তারা আমার পুরোনো ছবি ব্যবহার করছে। এটা একটা পুরোনো ছবি। আমার বয়স তখন ১৮ বা ২০ বছর ছিল। আমি জানি না, এটা কোনো নির্বাচন বা ভোটসংক্রান্ত কিছু কি না…এবং সেটা ভারতে। উফ! তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য আমাকে ভারতীয় হিসেবে দেখাচ্ছে। এ কেমন পাগলামো! কী উদ্ভট ব্যাপার! আমরা কোন দুনিয়ায় আছি?’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, হরিয়ানার ২ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রতি আটজনের একজন ভুয়া।
কংগ্রেসের নেতা বলেন, এক পর্যালোচনায় বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—একই ছবির বারবার ব্যবহার, একই ঠিকানায় একসঙ্গে বহু ভোটারের নিবন্ধন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির নাম থাকা।
রাহুল গান্ধীর দল কংগ্রেস ২০২৪ সালে হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। জরিপও সেই কথা বলছিল। তবে তারা ওই নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে হেরে যায়। তখন কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুধু ১১ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধান ছিল।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি।’
রাহুল অন্য একজন নারীর ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ২২৩ জন ভোটারের জায়গায় ওই নারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং দুটি ভোটকেন্দ্রে এ ভোটগুলো দেওয়া হয়েছে। ভোটার পরিচিতি কার্ডে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা, নাম ও বয়স উল্লেখ করা হয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘প্রথমবার যখন আমি এই তথ্য জানতে পেরেছিলাম তখন আমি একদমই বিশ্বাস করতে পারিনি। বিভিন্ন সূত্রের কাছ থেকে এ ব্যাপারে যাচাই করার জন্য আমি দলের সবাইকে বলেছিলাম। আজ আপনারা যা দেখছেন, তা সেই প্রক্রিয়ারই ফল।’
এ কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছভাবে কাজ করছে না। তারা বিজেপিকে সহায়তা করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি নির্বাচনের অনেক আগেই সব রাজনৈতিক দলকে ভোটার তালিকা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কেউ কোনো আপত্তি জানায়নি।
![]() |
| ব্রাজিলের মডেল লারিসা নেরি। ছবি: এনডিটিভির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, April 26, 2026
বানরের উৎপাত থেকে বাঁচাচ্ছে কুকুর! by আবু ইউসুফ মিন্টু
এ উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা। ভারতের প্রায় ৯০.৫৫ বর্গকিমি সীমান্ত রয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য কৃষক নিজ নিজ পোষা কুকুরসহ লাঠি হাতে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন ধানক্ষেতের আইলে। বনের ভেতরে ও গাছে বাননের উপস্থিতি টের পেলেই চিৎকার, চেঁচামেচি করে কুকুর দিয়ে ধাওয়া করে বানর তাড়াচ্ছে। কৃষকরা জানান, ধানক্ষেতে নামার আগেই বানর তাড়াতে না পারলে নিমেষে শেষ করে দেবে জমির পাকা ধান।
জঙ্গলে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় বানর পালের উপদ্রব বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এরই মধ্যে কয়েক হেক্টর জমির ধানক্ষেত নষ্ট করে ফেলেছে বানরের পাল।
চলতি বছর আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বানরের উপদ্রব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পাকা ধান তুলবেন কৃষকরা। তার আগেই বানরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তাই বানর থেকে ধান রক্ষায় দিনরাত লাঠি নিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামের কৃষক ফরিদ আহমেদ বলেন, বানর মানুষকে খুব বেশি ভয় পায় না। আক্রমণেরও আশঙ্কা রয়েছে। তাই কুকুর সঙ্গে নিয়ে সারাদিন পাকা ধান পাহারা দিচ্ছি।
ফরিদ আহমেদ আরও বলেন, প্রতিদিন তার ছেলেসহ সময় ভাগাভাগি করে লাঠি হাতে নিয়ে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে থাকি। তারপরও তার প্রায় পঞ্চাশ শতক জমির পাকা ধান নষ্ট করে ফেলেছে। এক পাশে তাড়ালে বানরের পাল আরেক পাশ দিয়ে ধানক্ষেতে নেমে ধান খেয়ে ফেলে। তারা মানুষের মতো লুকোচুরি খেলে। বানর জঙ্গলের ভেতর ওত পেতে থাকে। কাউকে না দেখলে মুহূর্তেই পাকা ধান খেয়ে ফেলে এবং নষ্ট করে দেয়।
আরেক কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি চলতি আমন মৌসুমে ৬০ শতক জমিতে চাষাবাদ করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে তার ধান কাটা শুরু করার কথা রয়েছে। কিন্তু বানরের পাল তার ২০ শতক জমির পাকা ধান খেয়ে ফেলেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জাহাঙ্গীর আরও বলেন, শ্রমিকের মজুরি, জমি চাষাবাদের খরচ ও সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই প্রতি মৌসুমি লোকসান গুনতে হয়, এবার বানরের আক্রমণের কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে পরশুরামের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে একাধিক বন্যায় কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু বানরের বিষয়টি বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে তারপরও পাকা ধানে বানরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সতর্কতা সঙ্গে পাহারা দিয়ে পাকা ধান রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে, এ মুহূর্তে ধানক্ষেতে বানরের আক্রমণে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
পরশুরাম উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, চলতি বছরে বানরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জঙ্গলে খাবারের সংকটের কারণে বানরের পাল খাবারের সন্ধানে পাকা ধানে হানা দিচ্ছে। আমরা আমাদের বন বিভাগের দায়িত্বরত ফরেস্টর, বনমালীদের টহল জোরদার করেছি। একই সঙ্গে কৃষকদেরও পরামর্শ দিয়েছি, তারা তাদের পাকা ধান রক্ষার্থে যেন নিয়মিতভাবে পাহারা দেয়। বন্যপ্রাণীসহ বানর হত্যা না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন কর্মকর্তা আরও বলেন, পাকা ধান ঘরে তোলার সময় বানরের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে না পারলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এখানকার অসংখ্য কৃষক।
![]() |
| বানরের উৎপাত থেকে বাঁচাচ্ছে কুকুর! |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন কারা
এসব নেতার কেউ কেউ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আছেন, কেউ কেউ দমননীতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন, আবার কেউ ক্ষমতার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে রাজনৈতিক কৌশল ও সাংবিধানিক সংশোধনীর আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ১০ রাষ্ট্রনেতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১
তেওদোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা
১৯৭৯ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইকুয়েটরিয়াল গিনির ক্ষমতায় আসেন তেওদোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা। এরপর ৪৬ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় টিকে আছেন তিনি। অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ারও এক দশক আগে থেকে গিনির শাসনক্ষমতায় আছেন ওবিয়াং।
এনগুয়েমার ৪৬ বছরের শাসনামলে দমনপীড়ন নীতির জন্য তিনি বেশ সমালোচিত হয়েছেন। এ কারণে তাঁর শাসনামলে ইকুয়েটরিয়াল গিনি আফ্রিকার ‘উত্তর কোরিয়া’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
২
পল বিয়া
সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন এমন নেতাদের তালিকায় ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। তিনি ১৯৮২ সালের নভেম্বর থেকে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশের শাসনক্ষমতায় আছেন। অর্থাৎ বিয়া ৪৩ বছর ধরে ক্ষমতায় টিকে আছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানও তিনি।
বর্তমানে পল বিয়ার বয়স ৯২ বছর। ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা সপ্তমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। যদিও ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আছে। পরবর্তী সাত বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিয়া।
৩
ডেনিস সাসু এনগুয়েসো
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান রাষ্ট্রনেতাদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন ডেনিস সাসু এনগুয়েসো। তিনি মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। সাসু এনগুয়েসো শুরুতে ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
পরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শেষে ১৯৯৭ সালে এনগুয়েসো আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে আছেন। অর্থাৎ এই নেতা সব মিলিয়ে ৪১ বছর দেশটির শাসনক্ষমতায় আছেন।
৪
ইউয়ারি মুসেভেনি
টানা পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৮৬ সালে উগান্ডায় ক্ষমতায় বসেছিলেন ইউয়ারি মুসেভেনি। এর পর থেকে ৩৯ বছর ধরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে আছেন।
মুসেভিনি ২০২১ সালের নির্বাচনে বিতর্কিতভাবে ষষ্ঠ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। আগামী বছর দেশটিতে আবারও নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনেও সপ্তম মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুসেভিনি। বর্তমানে এই নেতার বয়স ৮১ বছর।
৫
এমোমালি রাহমন
তাজিকিস্তানের একটি সমবায় খামারের প্রধান ছিলেন এমোমালি রাহমন। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভাঙনের পরপরই তিনি দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ৩৩ বছর ধরে তিনি দরিদ্র ও পাহাড়ি এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে এমোমালি রাহমনের বয়স ৭৩ বছর।
৬
ইসাইয়াস আফওয়ারকি
সাবেক বিদ্রোহী নেতা ইসাইয়াস আফওয়ারকি ৩২ বছর ধরে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ ইরিত্রিয়ার শাসনক্ষমতায় আছেন। ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে এই নেতার বয়স ৭৯ বছর।
৭
আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কো
১৯৯৪ সাল থেকে বেলারুশের রাষ্ট্রপ্রধান আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কো। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত বেলারুশের এই শাসক। ৭১ বছর বয়সী আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
সোভিয়েত যুগের দমননীতি ব্যবহার করে লুকাশেঙ্কো ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ বেলারুশে ৩১ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন।
৮
ইসমাইল ওমর গেলে
ইসমাইল ওমর গেলে ১৯৯৯ সাল থেকে জিবুতির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ ২৬ বছর ধরে তিনি দেশটির শাসনক্ষমতায় আছেন। ২০২১ সালে তিনি পঞ্চম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে দেশটিতে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে ওমর গেলের বয়স ৭৮ বছর। গত মে মাসে দ্য আফ্রিকা রিপোর্টের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না? জবাবে ওমর গেলে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাঁকে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
৯
ভ্লাদিমির পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিন ২৬ বছর ধরে রাশিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুতিন ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। পুতিন তখন থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাশিয়ার সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ওই সময় কোনো প্রেসিডেন্টের পরপর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ ছিল না।
পুতিন তখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ করে দেন। ২০১২ সালে পুতিন আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
২০২০ সালে এসে আবারও ধারাবাহিক দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট না থাকার সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়েন পুতিন। তবে তখন তিনি সংবিধান সংশোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর কমপক্ষে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
১০
পল কাগামে
রুয়ান্ডার সাবেক তুতসি বিদ্রোহী নেতা পল কাগামে ১৯৯৪ সালে তুতসিবিরোধী গণহত্যার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। এরপর ২০০০ সালের এপ্রিলে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন।
ওই সময় থেকে মধ্য আফ্রিকার ছোট দেশ রুয়ান্ডার শাসনক্ষমতায় আছেন পল কাগামে। অর্থাৎ পল কাগামে ২৫ বছর ধরে রুয়ান্ডাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: এএফপি, আল–জাজিরা, বিবিসি
![]() |
| ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, April 25, 2026
‘সালাম বম্বে!’ থেকে ‘মনসুন ওয়েডিং’, মামদানির মাকে কতটা চেনেন
শুরুর গল্প
১৯৫৭ সালের ১৫ অক্টোবর মীরা নায়ারের জন্ম ভারতের ওডিশায়। বেড়ে উঠেছেন ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে। ভুবনেশ্বরের উত্তর-পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ হওয়ায় সেখানের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বাঙালি। মীরা নায়ারের বন্ধুবান্ধব যেমন বাঙালি ছিল, তেমনি তিনি ছোটবেলায় গানও শিখেছেন এক বাঙালি শিক্ষকের কাছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, থিয়েটার ও সমাজবিজ্ঞানে গভীর আগ্রহী ছিলেন।
মীরা নায়ারের চলচ্চিত্রচিন্তার পেছনে বাংলা ও ভারতীয় সংস্কৃতির যোগসূত্র রয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিচালক ঋত্বিক ঘটক ও সত্যজিৎ রায়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঋত্বিক ঘটক আমার প্রিয় পরিচালক—তাঁর সিনেমাই আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে একটি গাছকে ফ্রেমে ধরা যায়। আর সত্যজিৎ রায়কে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও খুবই পছন্দ করি। আমার ছবিতে তাঁদের অনেক রেফারেন্স থাকে।’
চলচ্চিত্রে অভিষেক
আশির দশকের প্রথম দিকে তথ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে মীরা নায়ার তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ ‘সো ফার ফ্রম ইন্ডিয়া’(১৯৮২)। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘সালাম বম্বে!’। এ সিনেমাটি রাস্তায় বেড়ে ওঠা পথশিশুদের বাস্তব জীবন নিয়ে নির্মিত। আর এ সিনেমাই তাঁকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি এনে দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যামেরা দ’অর ও অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এ ছাড়া এটি অস্কারে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত হয়, বাফটাতেও মনোনয়ন পায় এবং ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
‘কামসূত্র’ বিতর্ক
১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় মীরা নায়ার পরিচালিত ‘কামসূত্র: আ টেল অব লাভ’ সিনেমাটি। এটি নির্মিত হয় ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাপানের যৌথ প্রযোজনায়। এটি ১৯৯৬ সালে সাব সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়। ছবিটি কান উৎসবে প্রদর্শিত হয়। সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও নগ্ন দৃশ্যের কারণে বিতর্কের মুখে পড়ে। এ জন্য সিনেমাটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়।
আরও উল্লেখযোগ্য কাজ
২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মনসুন ওয়েডিং’ মীরা নায়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ। ভারতের মধ্যবিত্ত জীবনের ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণ সিংহ অর্জন করে। এ ছাড়া এটি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় সেরা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বিভাগে গোল্ডেন গ্লোবে মনোনীত হয়।
পরবর্তী সময়ে ‘দ্য নেমসেক’ (২০০৬) ও ‘কুইন অব কাতওয়ে’ (২০১৬)-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী জীবন, পরিচয় ও নারীর সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলেন।
‘দ্য নেমসেক’ সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা ও গভীর কাজ হিসেবে বিবেচিত।
ঝুম্পা লাহিড়ীর উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি তৈরি। প্রবাসী বাঙালি পরিবার ও পরিচয়ের দ্বন্দ্ব নিয়েই গল্প। গল্পের অভিবাসী বাঙালি দম্পতি অশোক ও অসীমা গাঙ্গুলির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন যথাক্রমে ইরফান খান ও টাবু। প্রবাসী বাঙালি দর্শক এই একটি সিনেমার জন্যই মীরা নায়ারকে মনে রাখবেন।
এ ছাড়া তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সংবেদনশীলতার জন্য তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পান, ২০১৩ সালে হার্ভার্ড আর্টস মেডেলে ভূষিত হন।
কত সম্পদের মালিক
মীরা নায়ারের মোট সম্পদ প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলার, যা মূলত তাঁর প্রযোজনা সংস্থা মীরাবাঈ ফিল্মের আয়, সিনেমার রয়্যালিটি থেকে এসেছে। তাঁর ‘সালাম বম্বে!’, ‘মিসিসিপি মাসালা’, ‘মনসুন ওয়েডিং’ ৭ মিলিয়ন ডলারের কম বাজেটে তৈরি হলেও বিশ্বব্যাপী ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
৬৮ বছর বয়সেও মীরা নায়ার সক্রিয়ভাবে চলচ্চিত্রে যুক্ত আছেন। সন্তান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘জোহরান, তুমি অসাধারণ।’ স্টোরিতে মার্কিন র্যাপার জে জেডের ‘এম্পায়ার স্টেট অব মাইন্ড’ গানটি জুড়ে দেন তিনি।
বিবিসি বাংলা, নিউজ ১৮ অবলম্বনে
![]() |
| মামদানির মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত চিত্রপরিচালক মীরা নায়ার। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উড়োজাহাজে তেলাপোকাকে ‘ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড’
একজন কেবিন ক্রু ফ্লাইটের লগবইয়ে এভাবেই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন। এ ঘটনা যখন ঘটে, তখন এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যাচ্ছিল।
লগবইয়ে থাকা তারিখটি ছিল ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর। ফ্লাইট চলাকালীন উড়োজাহাজে কী কী অসুবিধা দেখা দেয়, সেগুলো ক্রুদের নথিবদ্ধ করতে হয়। এ জন্য একটি ‘কেবিন ডিফেক্ট লগবুক’ থাকে। সংক্ষেপে একে ‘কেবিন লগ’ বলে।
এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন লগে হাতে লেখা ওই এন্ট্রি নিয়ে অনলাইনে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেউ কেউ ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এ আন্তর্জাতিক পথে চলাচলকারী উড়োজাহাজের ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট অনুযায়ী, উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এক যাত্রী একটি তেলাপোকা দেখতে পান। পরে কেবিন ক্রু ঘটনাটি কেবিন লগবইয়ে নথিবদ্ধ করেন। সেখানে লেখা হয়, ‘একজন যাত্রী জীবন্ত তেলাপোকা পেয়েছেন। তেলাপোকাটিকে আমৃত্যু ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবিন লগবইয়ের যে পাতা ভাইরাল হয়েছে, সেখানে উড়োজাহাজের ভেতরের আরও বেশ কিছু সমস্যা নথিবদ্ধ করা আছে, যেমন ওয়াশ বেসিন আটকে যাওয়া, উড্ডয়নের পর লাইট ঠিকমতো কাজ না করা ইত্যাদি।
তবে মূল বিতর্ক হচ্ছে, তেলাপোকাটিকে ‘আমৃত্যু ঝোলানোর’ দরকার ছিল কি না, সেটা নিয়ে। মন্তব্যকারীদের কেউ কেউ বলেন, সেটিকে ‘পিষে মেরে’ ফেললেই তো হতো।
আরেকজন লেখেন, ‘তেলাপোকাটির জন্য একটি জুতাই যথেষ্ট ছিল। তারপরও এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের ফাঁসির মঞ্চের প্রয়োজন কেন পড়ল, বুঝলাম না।’
এ বিষয়ে জানতে খালিজ টাইমস থেকে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
![]() |
| এয়ার ইন্ডিয়ার লগবইয়ের পাতা। ছবি: এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, April 24, 2026
সন্তানের পড়াশোনার পেছনে মা–বাবারা আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছেন কেন? by জ্যোতি রশীদ
ফলে অনেক সময় মনে হয়, এসব কিছু মা–বাবার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে তো! তবু তাঁরা ভ্রুক্ষেপ করেন না। শুধু কী লেখাপড়া? নাচ, গান, ছবি আঁকা, ক্রিকেট-ফুটবল কোচিং—এসব কিছুতেও ব্যয় করতে হবে। কোনো কিছুতেই পিছিয়ে থাকা চলবে না।
কতটুকু ব্যয় করা উচিত
এ বিষয়ে প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ডিপার্টমেন্ট অব কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের বিভাগীয় প্রধান তানিয়া রুবাইয়ার সঙ্গে কথা বলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই প্রশ্নের আক্ষরিক উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, এখানে শিশুর শিক্ষার জন্য সব ধরনের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায় না। মা-বাবার নানা সুবিধা-অসুবিধার ওপর মূলত এটা নির্ভর করে।
নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে যে স্কুলে পড়াই সেটা হয়তো আমাদের জন্য কিছুটা বাড়তি খরচ। কিন্তু আমার অফিস এলাকা, বাসায় আসা–যাওয়ার সুবিধা, ওকে স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে আমরা ওকে এখানে পড়াই। স্কুল নির্বাচন করতে কিন্তু কেবল পড়ালেখার মান বা খরচ বিবেচনায় নিইনি আমরা। যেহেতু আমি কর্মজীবী মা, আমি দেখেছি যে কোথায় ওকে ভর্তি করলে আমার কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে, কোথায় ভর্তি করাটা চলাফেরার জন্য নিরাপদ।’
নিজে সরকারি স্কুলে পড়েছেন কিন্তু ছেলের জন্য বাধ্য হয়েই বেসরকারি স্কুল বেছে নিতে হয়েছে জানিয়ে তানিয়া বলেন, ‘কারণ, আমাদের সময় তো স্কুলে যাওয়া–আসা নিয়ে মা-বাবাকে চিন্তা করতে হতো না। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের স্কুলে ভর্তি হলেও কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন যদি ওকে আমি আমার পছন্দের স্কুলে পড়াতে যাই, তাহলে দেখা যাবে, সেখানে আনা-নেওয়ার জন্য আমাকেই চাকরি ছাড়তে হবে। তার চেয়ে কিছুটা বেশি খরচ দিয়ে হলেও সুবিধাজনক স্কুলে পড়াই। যেন আমার চাকরি করাটা নির্বিঘ্ন হয়, যেন স্কুলে যাওয়ার পথ নিয়েও দুশ্চিন্তা করতে না হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই সাবেক শিক্ষার্থী বললেন, এভাবেই আমাদের দেশের মা-বাবারা সবদিক বিবেচনা করে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করেন। তার লেখাপড়া চালিয়ে যান। তাঁরা সন্তানের শিক্ষা খাতে তাঁদের আয়ের কতটুকু ব্যয় করবেন, তা কোনো ধরাবাঁধা নিয়মে ফেলা সম্ভব নয়। কারণ, প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা। কেউ গুরুত্ব দেন লেখাপড়ার মান, কেউ স্কুলের সুনাম, কেউ পথের দূরত্ব আবার কেউ গুরুত্ব দেন দৈনন্দিন জীবনের সার্বিক সুবিধাকে। সেই অনুযায়ীই তারা তাঁদের জীবন সাজিয়ে নেন।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষালোকের নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর খান বললেন, ‘সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় তো অভিভাবকের কোনো ব্যয়ই থাকার কথা নয়। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে। পরের ধাপগুলোয় যে ব্যয় হওয়ার কথা, সেটাও সহনীয় থাকার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে তো সেটা হচ্ছে না। কারণ, এখানে প্রাইভেট না পড়ালে, গৃহশিক্ষক না রাখলে, কোচিং না করালে শিশুর ভালো ফলাফল সম্ভব নয়। এটা আসলে রাষ্ট্রীয়ভাবে হওয়া অন্যায়।’
আলমগীর খান বলেন, এখন অভিভাবকেরা যে অতিরিক্ত ব্যয় সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে করছেন, সেটার জন্য রাষ্ট্র আসলে তাদের বাধ্য করছে। ভালো স্কুলে না পড়লে, কোচিং না করলে ভালো রেজাল্ট হচ্ছে না। আর ভালো রেজাল্ট না হলে ভালো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে না। কিন্তু শিক্ষার তো এমন হওয়ার কথা ছিল না। শিক্ষা তো রাষ্ট্রের নাগরিকের মৌলিক অধিকার!
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় লেখাপড়ার মান কমে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে আলমগীর খান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভালোভাবে কাজ করত, তাহলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ারই প্রয়োজন পড়ত না। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিতে অর্থের বিনিময়ে হলেও আরও ভালো শিক্ষা বা সেবা দিতে চেষ্টা করত। কিন্তু যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরই মান ঠিক নেই, তাই বেসরকারিগুলোও নিজেদের মান উন্নত করার তেমন চেষ্টা করে না। ফলে অর্থও ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে মানসম্মত শিক্ষাও পাওয়া যাচ্ছে না।
তাই অভিভাবকের এই বাড়তি ব্যয়ের দায় রাষ্ট্রকেই দিলেন আলমগীর খান।
সন্তানের পড়ালেখার পেছনে কেমন ব্যয় করেন জানতে দুজন অভিভাবকের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। তাঁদের একজনের সন্তান ইংরেজি মাধ্যমে, অন্যজনের সরকারি স্কুলে পড়ে।
ইংরেজি মাধ্যমে পড়া শিশুর অভিভাবক তানজিকা হোসেন বলেন, প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে, ভবিষ্যৎ গড়তে হলে আসলে লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করতেই হবে। হ্যাঁ, আমাদের মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী পরিবারের জন্য মাঝেমধ্যে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোটা বেশ কষ্টের হয়ে যায়। প্রতিযোগিতায় সন্তানকে টিকিয়ে রাখতে গান, ছবি আঁকাও শেখাতে হয়। নিয়মিত কোচিং করাতে হয়। ফলে সব মিলিয়ে বেশ খরচ।’ কিন্তু এ ছাড়া আর কোনো উপায়ও তো নেই, যোগ করেন তিনি।
বাংলা মাধ্যম পড়ুয়া শিশুর বাবা মহসিন বিন আলমেরও প্রায় একই সুর। তিনি বলেন, স্কুলে যা পড়ায়, তাতে তো হয় না। কোচিং করাতে হয়, বাসায় টিউটর রাখতে হয়। নাহলে পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। সরকারি স্কুলে বেতন কম, কিন্তু ক্লাসে এক থেকে দশের মধ্যে রোল রাখতে গেলে আপনাকে অবশ্যই কোচিংয়ে দিতে হবে, টিউটরও রাখতে হবে। ‘আর শুধু লেখাপড়া শেখালেই তো হবে না। আমরা চাই আমাদের মেয়ে যেন নাচ, কবিতা, গান এসব কিছুতেও পারদর্শী হয়। তো এগুলোর জন্যও ব্যয় করতে হয়। এগুলো তো আর স্কুলে শেখাবে না, তাই না?’
তবে সহজপাঠ উচ্চবিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ও শিক্ষক সিদ্দিক বেলাল মনে করেন, শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়া পর্যন্ত ওর পেছনে বাড়তি কোনো খরচই করা উচিত নয়। এই সময় কেবল স্কুলে যেটুকু পড়ায়, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। বাড়তি কোচিং, টিউটর কিছুই এ সময় প্রয়োজন হয় না।
সিদ্দিক বেলাল বলেন, এমনকি নাচ, গান, ছবি আঁকা, সাঁতার, ক্রিকেট যা–ই বলেন না কেন, এই বয়সের পর শেখাতে হয়। অনেকেই বলেন, ছোটবেলা থেকে শেখালে তার আগ্রহের জায়গাটা বোঝা যাবে। এটা ভুল ধারণা। মোটামুটি ১৫ বছরের মধ্যেই শিশুর আগ্রহের জায়গা তৈরি হয়ে যায়। তখন সেই অনুযায়ী বাড়তি কিছু শেখানো যেতে পারে।
দীর্ঘদিন শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করে আসা এই শিক্ষক বলেন, ‘আমরা বলি, শিশুর জীবনের প্রথম ১০ বছর ওকে কিছুই শেখাবেন না। ও নিজেই যখন আগ্রহ দেখাবে, কোনো বিষয়ের প্রতি ওর ঝোঁক তৈরি হবে, তখন বুঝেশুনে সেটা শেখাবেন।’
আমাদের দেশের অনেক অভিভাবক কেবল ভালো রেজাল্টের পেছনে ছোটেন। সে প্রসঙ্গ টেনে সিদ্দিক বেলাল বলেন, অভিভাবকদের মানসিকতায় এই পরিবর্তনটা ১৯৮৫ সালের পর এসেছে। নামকরা স্কুলের পেছনে ছোটা, ভালো রেজাল্টের জন্য অতিরিক্ত চাপ দেওয়া—এসব সে সময় থেকেই শুরু হয়েছে।
তবে ভালো রেজাল্টের জন্য এই দৌড়ে চলার অর্থ পান না সিদ্দিক বেলাল। তাঁর মতে, শিশুকে আনন্দ নিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। পড়ায় বা শেখায় আনন্দ না পেলে দামি স্কুল, কোচিং, টিউটর; কোনো কিছুই আসলে কাজে আসবে না।
| অধিকাংশ অভিভাবকই সন্তানের জন্য সব সেরাটা দিতে চান। ছবি: কবির হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন প্রয়োজন পরিবারের ‘হেলথ বাজেট’
হুট করে পরিবারের কেউ বড় ধরনের অসুস্থতায় পড়লে খরচ মেটাতে অনেকেই হিমশিম খান। অথচ তাঁদের অনেকেরই আয়রোজগার মন্দ না, জীবনও চলে স্বাচ্ছন্দ্যে। আকস্মিক বিপদ সামলানোর খরচটা জোগাতে গেলেই হয় মুশকিল।
রাতবিরেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন যে কেউ। আর ওই মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো বন্ধু আপনি খুঁজে না-ই পেতে পারেন। ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পরিবারের মাথাতেই চাপে সেই ঋণের বোঝা।
এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যবিমাও করা থাকে না। তাই হঠাৎ অসুস্থতার আর্থিক ধাক্কাটা সামলাতে মুশকিলে পড়ে বহু পরিবার। এমন বিপদ এড়াতেই প্রয়োজন হেলথ বাজেট।
ঘটতে পারে যেকোনো কিছু
জীবন যখন ছন্দে চলে, তখন খারাপ ভাবনা ভাবতে না চাওয়াটাই স্বাভাবিক। সুস্থ মস্তিষ্কের কেই–বা নিজের আপনজনদের অসুস্থতা কল্পনা করেন! তবে না ভাবতেও হাজির হতে পারে যেকোনো বিপদ। ঘটতে পারে আকস্মিক দুর্ঘটনা।
পথেঘাটে তো বটেই, বাড়িতেও হতে পারে বিপদ। ডেঙ্গু জ্বরের মতো রোগে বিপর্যস্ত হতে পারে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা পরিবারের অন্য কেউ। অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নানা কারণেই যেকোনো সময় হাসপাতালে নিতে হতে পারে।
যেকোনো মারাত্মক পরিস্থিতিতে পরিবারের যে কাউকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) কিংবা হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতে পারে। আর এসব ক্ষেত্রে হেলথ বাজেট হতে পারে বিপদের বন্ধু।
খরচটা বহুমুখী
চিকিৎসা ব্যয় মানে তো কেবল ওষুধ আর হাসপাতালের বিছানা ভাড়াই নয়। মানসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও বড় একটা অর্থ খরচ হয়। এ ছাড়া বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা সুস্থ থাকলেও বছরে অন্তত একবার কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। নিয়মমাফিক পরীক্ষা করালে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়তে পারে। তাতে রোগটা জটিল হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। রোগী তুলনামূলক কম কষ্ট পান। চিকিৎসা ব্যয়ও কম হয়।
তুলনামূলক খরচ
আপনার আপনজন অসুস্থ হলে মানসম্মত সেবা পেতে সেরা জায়গাতেই তাঁকে নিয়ে ছুটে যেতে চাইবেন আপনি। দেশের করপোরেট হাসপাতালগুলোর তালিকায় অগ্রণী এক নাম ল্যাবএইড। খরচ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলো।
রোগীর জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ে জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত থাকেন তাঁরা। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে চলে আধুনিক চিকিৎসা। তবে এই সেবা পেতে তাঁদের এখানে যে খরচ হয়, তা উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম।
ভারতে এই সেবা পেতে একজন ব্যক্তির তিন গুণ খরচ হয়, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদের মতো হাসপাতালে খরচ হয় ছয় গুণ, আর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে গুনতে হয় দশ গুণ খরচ।
চাই হেলথ বাজেট
হেলথ বাজেট রাখার অর্থ হলো আপনি আপনার পরিবারের কারও অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যয়ের কথা ভেবে কিছুটা সঞ্চয় করবেন। রোজগার যতই হোক না কেন, একজন দায়িত্বশীল মানুষের কাজ হলো সেখান থেকে কিছুটা অংশ কেবল এই উদ্দেশ্যেই আলাদা করে রাখা। চাইলে কেউ এই অংশ ফিক্সড ডিপোজিট করেও রাখতে পারেন।
আরও জেনে রাখা প্রয়োজন পরিবারের সব সদস্যের রক্তের গ্রুপ। জানা উচিত, পরিবারের কোন সদস্য কোন ওষুধ সেবন করে, কার কিসে অ্যালার্জি আছে। পরিবারের সবার এই সাধারণ বিষয়গুলো জানা থাকলে এবং একটা হেলথ বাজেট থাকলে হঠাৎ অসুস্থতার বিপদ সামলানো সহজ হয়।
![]() |
| রোজগারের একটা অংশ চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখা জরুরি। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, April 23, 2026
আবার কি চাঁদের বুকে পা রাখতে যাচ্ছে মানুষ by মো. মিন্টু হোসেন
শত শত বছর ধরে মানুষকে আকর্ষণ করে আসছে চাঁদ। সেখানে মানুষের প্রথম পা রাখার প্রায় ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন আবারও বিজ্ঞানীরা চন্দ্রজয়ের তোড়জোড় শুরু করেছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাইছে সবার আগে চাঁদে মিশন পাঠাতে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে নভোচারীসহ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সেপ্টেম্বর মাসে নাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপ্রশাসক লেকিশা হকিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন।
নাসার তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রজয়ে ‘আর্টেমিস ২’ নামের মিশন পরিচালনা করা হবে। এ মিশন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা চাঁদে অবতরণের জন্য নির্ধারিত ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনে ব্যবহার করা হবে। ২০২৭ সালে এ মিশন পরিচালিত হবে। নাসার এই তৃতীয় আর্টেমিস অভিযানের মাধ্যমে ৫৭ বছরের বেশি সময় পর আবার চাঁদের বুকে মানুষের পা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাসার কর্মকর্তা হকিন্সের তথ্যানুযায়ী, নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে প্রথম নভোযান উৎক্ষেপণের সুযোগ আসতে পারে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এর আগে পরিকল্পিত উৎক্ষেপণ তারিখ ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। তবে সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে।
এ মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাকাশযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম পরীক্ষা করা, যেমন নভোচারীর জীবনধারণব্যবস্থা। এসব অভিজ্ঞতা ২০২৭ সালে চাঁদে অবতরণের জন্য নির্ধারিত আর্টেমিস ৩ মিশনে ব্যবহার করা হবে।
হকিন্স বলেন, নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের অব্যাহত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে মিলিতভাবে তৈরি প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে, যা প্রথম নভোচারীদের পরবর্তী গন্তব্য মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে দিতে সাহায্য করতে পারে।
পাঁচ দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহাকাশ কর্মসূচি আর্টেমিস, যাতে নভোচারী নিয়ে চাঁদে মিশন পাঠানো হবে। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মূলত চীনকে পেছনে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম এ মিশনের পরিকল্পনা করেছে।
চীনের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সবার আগেই সাফল্য পেতে মরিয়া। এরই মধ্যে চীন ২০৩০ সালের আগে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন রকেট ও নানা ধরনের চন্দ্র ল্যান্ডার নিয়ে বেইজিং বেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
আর্টেমিস ও অ্যাপোলো কর্মসূচির মধ্যে বড় এক পার্থক্য রয়েছে। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা ছাড়াই চন্দ্র মিশনে যাচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালে চাঁদের মিশনের অংশ হিসেবে আর্টেমিস ১ কর্মসূচিতে নভোচারী ছাড়া প্রথম ওরিয়ন ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ করা হয়।
এখন দ্বিতীয় মিশনটি চাঁদের কক্ষপথে একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এত ওরিয়ন ক্যাপসুল, এসএলএস রকেট এবং ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যপ্রণালি যাচাই করা হবে।
আর্টেমিস ২-এ কী কী থাকবে
আর্টেমিস ২-এর অভিযান প্রায় ১০ দিন চলবে এবং এতে চারজন নভোচারী ১২ লাখ মাইলের বেশি দূরত্ব পাড়ি দেবেন। পৃথিবীর কক্ষপথে দুবার ঘুরে আসার পর ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা চারজন ক্রু সদস্য চাঁদের দিকে যাত্রা করবেন এবং একবার চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবেন।
নভোচারীরা ক্যাপসুলের জানালা থেকে চাঁদের দূরপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবেন। এ সময় চাঁদ থেকে তাদের নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ মাইল (৭ হাজার কিলোমিটার)। নাসার এ যাত্রার সময় নভোচারীরা যেসব দৃশ্য দেখবেন, তা একটি টাইম-ল্যাপ ভিডিওতে ধরে রাখবেন।
টাইম-ল্যাপ ভিডিও হলো এমন একটি ভিডিও, যা সময়কে দ্রুততর গতিতে দেখায়। এতে দীর্ঘ সময়ের ঘটনা যেমন ঘণ্টা বা দিনের পরিবর্তন কয়েক মিনিট বা সেকেন্ডে দেখানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, বৃষ্টি বা শহরের ব্যস্ততা এক ঝলকে দেখা।
আর্টেমিস প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে মোট তিনটি মিশন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য মানুষকে চাঁদে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মঙ্গলে পাড়ি দেওয়া। এ প্রোগ্রামের প্রথম ধাপ, অর্থাৎ আর্টেমিস ১ উৎক্ষেপণ করা হয় ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর। এটা ছিল একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। ওই মিশনে কোনো মানুষ ছিলেন না। বরং মানুষের পরিবর্তে ছিল তিনটি পুতুল।
পরীক্ষামূলকভাবে পুতুলগুলোকে পাঠানো হয়েছিল। আর্টেমিস ২ মিশনও অনেকটা আর্টেমিস ১ মিশনের মতোই সম্পন্ন হবে। শুধু পুতুলের পরিবর্তে নভোযানে থাকবেন চার নভোচারী। ২০২৭ সালে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবে আর্টেমিস ৩। আর্টেমিস ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে। ইতিমধ্যে অবতরণের সম্ভাব্য ১৩টি স্থানের নামও প্রকাশ করেছে নাসা।
চাঁদের এই অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও প্রকৌশলীদের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত প্রস্তাবিত অবতরণ অঞ্চল হচ্ছে ক্যাবিউস বিয়ের কাছের শিখর, হাওর্থ, ম্যালাপার্ট ম্যাসিফ, মন্স মাউটন মালভূমি, মনস মাউটন, নোবিল রিম ১, নোবিল রিম ২, ডি গের্লাচে রিম ২ ও স্লেটার প্লেইন।
নাসা জানিয়েছে, স্থানগুলো পাথুরে। এসব এলাকা থেকে চন্দ্রসম্পদ ও সৌরজগতের বিস্তৃত ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভের সুযোগ আছে। মনুষ্যবাহী অভিযানের মাধ্যমে অনাবিষ্কৃত দক্ষিণ মেরুর বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে। এ এলাকা স্থায়ীভাবে অন্ধকার অঞ্চল, যেখানে পানির উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাসার বিজ্ঞানী লেকিশার ভাষ্য, আর্টেমিসের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পৌঁছাবে। অনাবিষ্কৃত অনেক এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। নতুন নির্বাচিত চন্দ্র এলাকা দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত। এসব এলাকায় নিরাপদে অবতরণ করার সুযোগ আছে। অভিযাত্রীরা সেখানে নতুন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞানী সারাহ নোবেল বলেন, অ্যাপোলো অভিযানের সময় যেখানে অবতরণ করা হয়, তার চেয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ দেখা যায়। এ এলাকায় চাঁদের প্রাচীনতম ভূখণ্ড রয়েছে। এখানে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত অঞ্চলে পানি ও অন্যান্য যৌগ থাকতে পারে। দক্ষিণ মেরুতে এসব স্থান নির্ধারণ করতে নাসার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রের দক্ষিণ মেরু বিশ্লেষণ করেছে।
নভোচারী কারা
চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের জন্য নির্বাচিত ক্রুদের মধ্যে আছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। নভোচারীদের ঘুম, গতিবিধি, জৈবিক নমুনা এবং ফ্লাইটের প্রভাব শরীরে কেমন হচ্ছে, তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন রিড ওয়াইজম্যানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে। আর্টেমিস ২ মিশনে তিনি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবেন।
আরেক মার্কিন নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার আর্টেমিস ২ মিশনে অরিয়ন নভোযানের পাইলটের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের প্রথম পাইলট ছিলেন। তাঁরও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৮ দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে। তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। এবার যাচ্ছেন চন্দ্রাভিযানে।
এই মিশনের একমাত্র নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ। ২০১৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে জেসিকা মেয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে স্পেসওয়াক করার রেকর্ড গড়েন। নারীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ৩২৮ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থেকেছেন। এ মিশনে তিনি থাকবেন মিশন-বিশেষজ্ঞ হিসেবে।
চতুর্থ নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি থেকে মনোনীত হয়েছেন। তিনিই থাকবেন মিশন-বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির ফাইটার উড়োজাহাজের পাইলট ছিলেন। প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাবেন তিনি।
সব মিলিয়ে এই চার নভোচারীর অভিযান ১০ দিনের। নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে আগের যেকোনো মানুষের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দূরে যেতে পারেন। আর্টেমিস ২ মিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ মিশনের ওপরই নির্ভর করবে আর্টেমিস ৩ মিশনের যাত্রা।
আর্টেমিস ৪–এর লক্ষ্য
নাসা চাঁদে আরও অন্তত একটি মিশন, অর্থাৎ আর্টেমিস ৪ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য হলো একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা, যা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে।
এই স্থাপনার কাজ হবে ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণকে সহায়তা করা এবং নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি প্রদর্শন করা, যা সম্ভবত ২০৩০-এর দশক বা তার পরেও হতে পারে।
চাঁদ নিয়ে কেন আগ্রহ
বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাঁদে নানা রকম বিরল খনিজ বিদ্যমান। চাঁদের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানেই আর্টেমিস ৩-এর ক্রুরা অবতরণ করবেন।
এখানেই ভবিষ্যতে বসতি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে রকেট জ্বালানি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো এই সম্পদ অন্বেষণ ও ব্যবহার করতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
নানা চ্যালেঞ্জ
আর্টেমিস ২-এর মিশন ইউরোপের মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি পরীক্ষা। ওরিয়ন সার্ভিস মডিউল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি নির্বাচিত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তৈরি করেছে। এটি বাতাস, পানি, বিদ্যুৎ, প্রপালশন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি আর্টেমিস ২ সফল হয়, তবে নাসার সর্বশেষ ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ চন্দ্রাভিযানের ৫৪ বছর পর মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।
নাসাকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আর্টেমিস ২-এর উৎক্ষেপণ ইতিমধ্যেই দুবার স্থগিত করতে হয়েছে। তাই আর্টেমিস ৩ মিশনের সময়কাল ২০২৭ সাল কিংবা ২০২৮, এমনকি ২০৩০-এর পর্যন্ত লাগতে পারে। এ সময় পর্যন্ত চীনের নভোচারীরাও চাঁদে পা ফেলতে পারে।
মূল চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো স্টারশিপ রকেট, যা মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মাস্কের স্পেসএক্স তৈরি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইলন মাস্কের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। সেটি একটি দুশ্চিন্তার কারণ।
আর্টেমিস ৩-এর নভোচারীরা আর্টেমিস ২-এর মতো রকেট ও ক্যাপসুল কনফিগারেশন ব্যবহার করে চাঁদে যাবেন। কিন্তু চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তাঁরা স্টারশিপ ব্যবহার করবেন। গত আগস্টে রকেটটি সফলভাবে ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে। এর আগে ৯ বারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
স্পেসএক্সের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে কক্ষপথে আবার জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয় যুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি, এল পাইস ও লাইভ সায়েন্স
![]() |
| নাসার মনুষ্যবিহীন আর্টেমিস-১ অভিযানের ওরিয়ন নভোযান। ছবি: নাসা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পয়সা খরচ না করেও বন্ধুর মন ভালো করতে চান? by ডা. মো. জোবায়ের মিয়া
বন্ধুকে খুশি করা মানেই দামি উপহার নয়। এক পয়সা খরচ না করেও আজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি উপহার দিতে পারেন।
খোলা মাঠে একটা সুন্দর বিকেল কাটিয়েও মন ভালো করে দেওয়া যায়।
বন্ধুর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তাঁর প্রশংসা করুন।
বন্ধুর খুশির খবরে আনন্দিত হোন, দুঃখে সহমর্মিতা প্রকাশ করুন। আত্মোন্নয়নের জায়গা থাকলে সেটিও সহজভাবে দেখিয়ে দিন।
একসঙ্গে সাইকেল চালান।
বাসায় সিনেমা দেখে বা রান্না করেও সময় কাটাতে পারেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।
![]() |
| খোলা মাঠে একটা সুন্দর বিকেল কাটিয়েও বন্ধুর মন ভালো করে দেওয়া যায়। ছবি: সুমন ইউসুফ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, April 22, 2026
এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিনে কনকচাঁপার আবেগভরা শ্রদ্ধা
কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, হে তরল সোনা মাখানো কণ্ঠের রাজা এন্ড্রু কিশোর দাদা! আমরা গর্বিত, আমাদের এন্ড্রু কিশোর আছেন! আছেন বলছি, কারণ তিনি এখনো আমাদের জীবনের অংশ—আরও বেশি আপন ও প্রয়োজনীয়।’ ফেসবুক পোস্টে কনকচাঁপা আরও লেখেন, ‘একজন এন্ড্রু কিশোর—একটি কণ্ঠ, একটি গলিত সোনার নদী। সিনেমা হলে তাঁর গান বাজলেই পুরো হল ভরে যেত আবেগে। তাঁর কণ্ঠে ছিল জাদু—যা মানুষকে ভাসাতে, কাঁদাতে, ভালোবাসতে শেখাত। যখন গাইতেন “ডাক দিয়াছে দয়াল আমারে”, তখন মনে হতো—এই পৃথিবীর প্রতি আমাদের অভিমান যেন একসঙ্গে ঝরে পড়ছে। আর যখন গাইতেন “তুমি আমার জীবন”, তখন প্রতিটি মানুষ ভাবত, এভাবেই তো প্রিয়াকে বলতে চেয়েছি আমি!’
কনকচাঁপা জানান, এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে ৩৪ বছর ধরে গান গেয়েছেন। গান গাইবার সময়টা মনে করে লিখেছেন, ‘তিনি (এন্ড্রু কিশোর) আজ নেই, অথচ তাঁর কণ্ঠের প্রতি আমার বিস্ময় কাটে না। মঞ্চে যখন গাই, শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে যাই—ভাবি, কত সম্মান যে আল্লাহ আমাকে বিনা কারণে দিয়েছেন!’
জন্মদিনের দিনে কনকচাঁপা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মতিন রহমান পরিচালিত সালমান শাহ–শাবনূর অভিনীত ‘তোমাকে চাই’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘আমার নাকেরই ফুল বলেরে তুমি যে আমার’–এর রেকর্ডিং সময়ের একটি স্থিরচিত্র। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘এই ছবিটি “তোমাকে চাই” সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে, সিম্ফনি স্টুডিওতে। এন্ড্রু কিশোর–কনকচাঁপা নামের জুটি যে মহাশিল্পী নিজের ভালোবাসার তুলিতে এঁকেছেন, সেই জাতশিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাইকেও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁরা দুজনেই আজ আমাদের মাঝে নেই—তবু তাঁদের সুরে, তাঁদের ভালোবাসায় আমরা এখনো বেঁচে আছি।’
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। তাঁর মা ছিলেন সংগীতানুরাগী ও কিংবদন্তি কিশোর কুমারের ভক্ত। তাই ছেলের নাম রাখেন ‘কিশোর’। মায়ের সেই ভালোবাসা থেকেই সংগীতে তাঁর পথচলা। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে গান শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। তবে জনপ্রিয়তা পান ১৯৭৯ সালের ‘প্রতিজ্ঞা’ ছবির ‘এক চোর যায় চলে’ গানটির মাধ্যমে। এর পর থেকে শুরু হয় ইতিহাস। তাঁর গাওয়া অগণিত কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘তুমি আমার কত চেনা’, ‘ও সাথিরে’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘তুমি চাঁদের জোছনা নও’ ইত্যাদি।
২০২০ সালের ৬ জুলাই এন্ড্রু কিশোর পরপারে পাড়ি জমান। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান এখনো জীবন্ত—শ্রোতাদের হৃদয়ে, স্মৃতিতে, আবেগে। শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কারসহ বহু সম্মান অর্জন করেন।
![]() |
| ‘তোমাকে চাই’ সিনেমার ‘আমার নাকেরই ফুল বলেরে তুমি যে আমার’ গানের রেকর্ডিংয়ে কনকচাঁপা ও এন্ড্রু কিশোর। ছবি : কনকচাঁপার ফেসবুক থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুড কার্ট দিয়ে যাত্রা শুরু, এখন দেশের জনপ্রিয় বার্গারের ঠিকানা চিলক্স by মৃণাল সাহা
আড্ডার জায়গা খোঁজা
গত দশকেও বাংলাদেশে ফাস্ট ফুড মানেই বিদেশি কয়েকটি চেইন শপের নাম আসত। পিৎজা, বার্গারের মতো খাবার খেতে চাইলে তরুণদের কাছে সেসবের বাইরে বিশেষ কোনো জায়গাও ছিল না। এমন একটা সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের (পুরোনো ক্যাম্পাস, মহাখালী–গুলশান রোড) উল্টো পাশে ফুড কার্ট নিয়ে হাজির হয় ‘চিলক্স’। ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে ছোট্ট একটি ফুড কার্ট নিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ পড়া তিন বন্ধু। মারুফ, প্রান্ত ও ফাইজ—এই তিনজন মিলে নতুন কিছু একটা শুরু করতে গিয়েই চালু করেছিলেন ‘চিলক্স।’
ফুড কার্ট থেকে রেস্তোরাঁ
ফুড কার্ট চালু করার আইডিয়া এসেছিল প্রান্তর মাথা থেকে। এরপর তিনি সেই ভাবনা শেয়ার করলেন বন্ধু মারুফের কাছে। স্কুলজীবন থেকে একসঙ্গে পড়ালেখা করছেন এই দুজন। ফাইজের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠার পর। প্রান্ত ও মারুফ মিলে শুরু করেন চিলক্সের যাত্রা; পরবর্তী সময়ে যোগ দেন ফাইজ। ফাইজ জানান, ‘শুরুতে এত বড় কিছু করার পরিকল্পনা ছিল না। নিজেদের সময়টা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। অফিস শেষে বন্ধুবান্ধব মিলে আড্ডা দিতে পারবে এমন একটা জায়গা হিসেবেই শুরু হয়েছিল চিলক্সের।’
‘টাইম পাস’ ভেবে শুরু করা চিলক্স এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চেইন রেস্তোরাঁ। ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করলে ফাইজ ও মারুফ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিলক্স ছেড়ে দেন প্রান্তর হাতে। বর্তমানে প্রান্ত একাই আগের মতোই ভালোবাসা ও নিষ্ঠা দিয়ে চিলক্স ব্র্যান্ডটিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
চিলক্সের বার্গারে বিশেষ কী
শুরুতে খাবারের পদ ছিল একেবারেই সামান্য। বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর বিভিন্ন ধরনের শেক। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিলেন মূল ক্রেতা। অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে সামান্য সময় কাটানো আর টুকটাক খাওয়া। এখান থেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ‘চিলক্স’। শিক্ষার্থীরা যখন কম দামে ভালো কিছু খুঁজছিলেন, তখন চিলক্স ফুড কার্ট যেন বিশেষ বন্ধু হয়ে তাঁদের পাশে থেকেছে। আর এভাবেই একটা বিশেষ ধরনের ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি হয় চিলক্সের।
তবে চিলক্সের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ার আরেকটি কারণ ছিল সস। সাধারণত আমেরিকান ঘরনায় বানানো বার্গারে সস থাকে সামান্য। সস যত কম থাকে, খেতে গিয়ে মুখ তত দ্রুত শুকিয়ে আসে। সেই চিন্তাধারায় ধাক্কা দিল চিলক্স। মার্কিন স্টাইলের শুকনা বার্গার নয়, বরং চিলক্সের বার্গারে থাকত সসের সমাহার। এটাই চিলক্সকে জনপ্রিয়তা এনে দেয় বলে মনে করেন ক্রেতা থেকে বিক্রেতা সবাই।
কার্ট থেকে দোকান
২০১৬ সালের শুরুতে যাত্রার পর শেষ দিকে এসেই আবার ফুড কার্টটি বন্ধ করে দিতে হয় তাঁদের। তবে বেশি দিন ক্রেতাদের অপেক্ষায় রাখেননি। নতুন বছরে বাংলা নববর্ষে মহাখালীতে চিলক্সের প্রথম ব্র্যাঞ্চের উদ্বোধন হয়। মারুফ জানান, ‘আমরা যখন কার্ট বন্ধ করে দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে পেজে নক করে খোঁজ নিতেন। এই আগ্রহই আমাদের সাহায্য করেছে নতুন করে জায়গা খুঁজে আউটলেট দিতে।’ সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ব্র্যাঞ্চ শুরু করেন ধানমন্ডিতে। চিলক্সের লক্ষ্যই ছিল ছাত্রছাত্রীদের কাছে যত কম দামে ভালো ফাস্ট ফুড পৌঁছে দেওয়া। ৯ বছর পরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারা।
ঢাকা ছাড়িয়ে
বর্তমানে চিলক্সের মোট ২২টি আউটলেট। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও বগুড়ায় চিলক্স তাদের শাখা খুলেছে। ইচ্ছা বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে চিলক্সের নাম পৌঁছে দেওয়া। শুধু বার্গার-ফ্রাইস বা শেক নয়, গত ৯ বছরে তাদের মেনুতেও এসেছে বৈচিত্র্য।
এখন তো ফিস টটস আর নাগা ড্রামসও চিলক্সের খুবই জনপ্রিয় খাবার। এ ছাড়াও রাইস বোল, ডেজার্ট ও মুরগির নানা পদ পাওয়া যায় চিলক্সের প্রতিটি শাখায়। সঙ্গে থাকে আইকনিক সস। এ ছাড়াও সামনে ক্রেতাদের জন্য নতুন কিছু চমক নিয়ে আসছে চিলক্স।
মহাখালীর সেই ছোট্ট ফুড কার্ট থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে চিলক্সের নাম। বিখ্যাত লাল লোগো আর হানি মাস্টার্ড সসের আইকনিক চিলক্স মুগ্ধ করে যাচ্ছে সব বয়সী ভোজনরসিকদের।
| বাংলাদেশে বার্গারের জন্য জনপ্রিয় যে কয়টি রেস্তোরাঁ, তার মধ্যে শুরুর দিকে থাকবে চিলক্সের নাম। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, April 21, 2026
বয়স বাড়লে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হয় কেন by কাজী আকাশ
বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাজ্য কমিউনিকেশনস বায়োলজি জার্নালে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কেমব্রিজ সেন্টার ফর এজিং অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স (ক্যাম–ক্যান) থেকে তথ্য–উপাত্ত নিয়েছেন, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের অংশ। এ গবেষণায় মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া সবাইকে জনপ্রিয় পুরোনো টেলিভিশন সিরিজ আলফ্রেড হিচকক পরিচালিত ‘ব্যাং! ইউ আর ডেড’ নামক একটি পর্বের আট মিনিটের একটি অংশ দেখানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা যখন ক্লিপটি দেখছিলেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কের ফাংশনাল এমআরআই স্ক্যান রেকর্ড করা হয়। এই স্ক্যানগুলো দেখে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরনে কেমন পরিবর্তন আসে।
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে এ ক্লিপটি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ, আগের গবেষণাগুলো দেখিয়েছিল, অন্য যেকোনো ভিডিওর চেয়ে এটি দেখলে বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সবচেয়ে বেশি একই রকম হয়। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য গ্রহণ করে বা ঘটনাগুলো মনে রাখে, তা বোঝার জন্য এ ক্লিপটি ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত।
গবেষণার জন্য ১৮ থেকে ৮৮ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা তথ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা ‘গ্রিডি স্টেট বাউন্ডারি সার্চ’ নামের একটি বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন গবেষকেরা। এ প্রোগ্রামটির কাজ মস্তিষ্ক যখন এক অবস্থা থেকে আরেক স্থিতিশীল অবস্থায় যায়, সেই পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো বা ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা। আট মিনিটের ক্লিপটি দেখার সময় দেখা গেল, কম বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দ্রুত নতুন অবস্থায় পরিবর্তিত হচ্ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা বেশি রেকর্ড হচ্ছিল। কিন্তু বয়স্কদের মস্তিষ্কের একটি অবস্থা কম বয়সীদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে টিকে ছিল। অর্থাৎ তাঁদের মস্তিষ্কে ঘটনা কম রেকর্ড হয়েছে।
গবেষকদের মতে, একই সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কের একটি অবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বয়স্কদের কাছে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। এ পর্যবেক্ষণটি প্রাচীন দার্শনিক অ্যারিস্টটলের সেই ধারণার সঙ্গে মেলে। যেখানে বলা হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবনে যত বেশি স্মরণীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সে সময়টি আমাদের কাছে তত দীর্ঘ মনে হয়। বয়স্কদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময়ে কম ঘটনা বা পরিবর্তন মনে রাখে। এ কারণেই হয়তো তাঁদের কাছে মনে হয়, সময় বা জীবন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
যদিও সময় দ্রুত চলে যাওয়ার এ বিষয়টি এখনো শুধু একটি প্রাথমিক অনুমান গবেষকদের। তবুও বিজ্ঞানীরা একে বেশ যৌক্তিক মনে করছেন। গবেষকেরা বলছেন, বয়স্কদের মস্তিষ্কে যে বয়স–সম্পর্কিত নিউরাল ডিফারেন্সিয়েশন নামে একটি ঘটনা ঘটে, সেটাই হয়তো এর মূল কারণ। সহজ কথায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যকলাপ কম সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। যে নিউরনগুলো আগে শুধু মুখ চিনতে ব্যবহার হতো, সেগুলো এখন অন্যান্য বস্তুর প্রতিও সাড়া দিতে শুরু করে। গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের এই সাধারণীকরণের ফলে কোনো একটি ঘটনা কখন শেষ হচ্ছে এবং কখন আরেকটি শুরু হচ্ছে, তা মস্তিষ্ক স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না। আর এ কারণেই হয়তো বয়স্কদের কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। যদিও গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই একটি কারণ হয়তো পুরো রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারবে না।
সূত্র: লাইভসায়েন্স
![]() |
| ছবি: লাইভসায়েন্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিস ওয়ার্ল্ড থেকে কোটিপতি অভিনেত্রী, মানুষি কত টাকার মালিক
সিনেমায় সূচনা
মিস ওয়ার্ল্ড জেতার পর বলিউডে পা রাখেন মানুষি। যশ রাজ ফিল্মসের প্রযোজনায় ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এ তিনি অভিনয় করেন অক্ষয় কুমারের বিপরীতে। শোনা যায়, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় এক কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।
এরপর ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’-এ চুক্তিবদ্ধ হন, যেখানে তাঁর পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি রুপি, যা স্পষ্ট করে তাঁর বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য।
মানুষি ছিল্লারের সম্পদের পরিমাণ
বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ মানুষি ছিল্লারের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৩ থেকে ৪২ কোটি রুপি। তাঁর আয়ের উৎস শুধু অভিনয় নয়, এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বিজ্ঞাপনী চুক্তি, বিনিয়োগ ইত্যাদি।
স্বপ্ন থেকে সাফল্যে
একজন চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজ মানুষি শুধু অভিনেত্রী নন, বরং এক বহুমুখী সফল তরুণী, যিনি প্রমাণ করেছেন—পরিশ্রম আর সাহস থাকলে স্বপ্ন যেকোনো পথে পৌঁছে দিতে পারে।
ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে
![]() |
| মানুষি ছিল্লার। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Monday, April 20, 2026
ধারের বদভ্যাস আছে? এই কাজগুলো করুন by হাসান ইমাম
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) পরিচালিত একটি গবেষণায় দেশের মানুষের ঋণ করার প্রধান কারণগুলো উঠে এসেছে। দেখা গেছে, সংসার খরচ মেটাতেই সবচেয়ে বেশি ঋণ করেন মানুষ। আরও আছে চিকিৎসা খরচ, বাড়ি তৈরি, বাকি খাওয়া ও ব্যবসার জন্য ঋণ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে যে অর্থনৈতিক অসমতা বিরাজমান, মানুষের মধ্যে তা একধরনের চাপ তৈরি করে। অসমতার কারণে একজন ব্যক্তি তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মতো করে নিজের জীবনযাপন করতে চান। দুজনের হয়তো বয়স কাছাকাছি কিন্তু আয়ের দিক থেকে একজন তুলনামূলক অনেক এগিয়ে। যার আয় কম, তিনিও যখন বেশি আয়ের ব্যক্তির মতো জীবনযাপন করতে চান, তখন সেটা তাঁর জন্য একটা চাপ হয়ে ওঠে।
খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের দেশে দুই ধরনের মানুষের হাতেই সর্বোচ্চ দামি স্মার্টফোন আছে। যিনি এটা অ্যাফোর্ড করতে পারেন, তাঁর হাতে যেমন আছে, যাঁর হয়তো এটা কেনার সামর্থ্য নেই, আর এতটা দামি ফোন না হলেও চলে, তিনিও সেটা কিনছেন। সেটা কেনার জন্য হয়তো একজনের ঋণ করতে হয়েছে, কিন্তু তারপরও তিনি সেটা ব্যবহার করছেন। এমন কারণেও ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে ধার করতে হয়।’
গবেষণা বলছে, যখন মানুষ বেশি আয় করে, তখন খাবারের চেয়ে বিলাসী জীবনযাপনে বেশি খরচ করে। তবে ধার করে অন্যের মতো বিলাসী জীবনযাপনের ঝোঁক বরং মানুষকে ঋণগ্রস্ত করে। তাই ধার করার মতো বদভ্যাস বদলানোর জন্য কিছু কার্যকর উপায় জেনে নিন।
নিজের আয়–ব্যয় পর্যবেক্ষণ
মাসের শুরুতে আপনার আয় ও মাসিক খরচের তালিকা তৈরি করুন। কোন জায়গায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে চিহ্নিত করুন। মানুষের যখন নিজের আর্থিক অবস্থা সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা থাকে, তখন ধারের দিকে ঝোঁক কমে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনে নানা ধরনের পরিবর্তন আসবে, এটাও সত্যি। তাই পুরোপুরি গরিবি হালে না চলতে চাইলে বরং বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।
বাজেট তৈরি করুন
এই বাজেট মানে হলো আয় অনুযায়ী ব্যয়ের পরিকল্পনা। প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আলাদা এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আলাদা বাজেট তৈরি করুন। সঠিকভাবে বাজেট তৈরি করতে পারলে সেটা মেনেই টাকা ধার করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা যাবে। বাইরে খেতে যাওয়ার অভ্যাস আধুনিক জীবনযাপনে একধরনের বিনোদন। তবে প্রতি শুক্রবার বাইরে খেতে যাওয়ার কারণে যদি ধার করতে হয়, তাহলে সেটা ভালো অভ্যাস নয়। সে ক্ষেত্রে বাজেটে মাসে চার দিনের বদলে সামর্থ্য বুঝে এক বা দুই দিন বাইরে খেতে পারেন। জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই এমন অভ্যাসের চর্চা করতে হবে। আবার কেউ হয়তো বাইরে খাওয়া বলতেই দামি রেস্তোরাঁয় যাওয়া বোঝেন, কেউ ফাস্টফুডের দোকান।
জরুরি তহবিল গঠন
মাসে সামান্য হলেও কিছু টাকা ‘জরুরি ফান্ড’ হিসেবে আলাদা করে রাখুন। পারিবারিক এমন তহবিল থাকলে হঠাৎ খরচের জন্য ধারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এই অভ্যাস অনেকটা মুষ্টির চাল সংগ্রহের মতো। একটু একটু করে জমালে জরুরি দরকারে সেটাই আপনাকে ধারের হাত থেকে বাঁচাবে। তবে জরুরি সময় যেমন ‘জরুরি তহবিল’ থেকে খরচ করবেন, তেমন বিপদ কেটে গেলে আবার সেখানে টাকা রাখার চেষ্টা করতে হবে।
এক রাতের নিয়ম
আপনার হাত যদি হয় খরুচে, তাহলে ক্রেডিট কার্ড আপনার জন্য বিপদ বাড়াতে পারে। এ ছাড়া সহজে পাওয়া যায়, এমন ঋণ থেকে দূরে থাকুন। তবে অর্থনীতিবিদ তামিম আহমেদের পরামর্শ হলো, ক্রেডিট কার্ড অনেক সময় উপকারীও। এতে অন্যের কাছে হাত পাতার দরকার পড়ে না। বুঝে খরচ করতে পারলে বাড়তি ফি–ও এড়ানো সম্ভব।
যেমন কেউ যদি জরুরি দরকারে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, ৪৫ দিনের মধ্যে সেই টাকা জমা দিলে কোনো বাড়তি ফি দিতে হয় না। ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরে যে ফি দিতে হয়, সেটাও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেন করে ফ্রি করে নেওয়া যায়। তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কৌশলী হওয়া জরুরি।
বড় কেনাকাটা করার আগে কয়েক ঘণ্টার বিরতি নিন। এটাকে বলে এক রাতের নিয়ম, যেখানে আপনি মনে মনে ভাববেন, ‘আজ রাতটা ভাবি, কাল কিনব।’ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে একটা বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারেন, দিন শেষে বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে অবশিষ্ট কয়েন বা খুচরা টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।
ব্যয় কমাতে কৌশল
কারও হয়তো প্রতি মাসে নিজের বা পরিবারের জন্য নিয়মিত একটা বড় অঙ্কের টাকা চিকিৎসা বাবদ ব্যয় করতে হয়। সে ক্ষেত্রে তামিম আহমেদের পরামর্শ, নিয়মিত এমন খরচের বিকল্প হতে পারে স্বাস্থ্যবিমা। সেটার জন্য হয়তো শুরুতে একটু বেশি খরচ করতে হবে, তবে এমন উদ্যোগ নিয়মিত চিকিৎসার পেছনে ব্যয় কমিয়ে আনতে পারে। আবার কারও হয়তো কর্মস্থল দূরের কারণে যাতায়াত ব্যয় অনেক। তিনি হয়তো হিসাব করে কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নিয়ে সময় ও অর্থিক দিকটা সমন্বয় করতে পারেন। অনেক সময় বড় বড় অফিস–আদালত এলাকার কাছে বাড়িভাড়াও বেশি হয়, তবে সেটা আপনার নিয়মিত যাতায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখতে পারেন। যদি সমান সমান হয়, তাহলেও বাসা এগিয়ে আনা ভালো। এতে সময় বাঁচিয়ে প্রোডাক্টিভ কিছু করে আয় বাড়ানো যেতে পারে। সন্তানদের স্কুলও বাসার কাছাকাছি হলে যাতায়াত খরচ বাঁচানো সহজ হয়।
মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
টাকা ধার নেওয়া মানে সমস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যা বাড়ানো। তাই ধারের আগেই সতর্ক হোন। নিজেই নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারেন। ধারে টাকা নেওয়ার বদলে বিকল্প উপায় খুঁজুন। যেমন ধার না করে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেও আর্থিক সংকট মেটাতে পারেন। এমন কিছু হয়তো আপনার কাছে আছে, যেটা ঘরের এক কোণে পড়ে আছে বছরের পর বছর, সেটা বিক্রি বা বিনিময় করে দরকার মেটানো সম্ভব। শপাহোলিক ব্যক্তিরাও মানসিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে এড়াতে পারেন বাড়তি খরচ।
সঙ্গ বদলান
অনেক সময় সঙ্গ দোষেও মানুষ ধারকর্জ করেন। যাঁদের সঙ্গে মিশছেন, তাঁরা যদি পানির মতো টাকা খরচে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে আপনারও সেই অভ্যাস তৈরি হবে। আপনি খুব বেশি সংযত হয়ে চললেও মাঝেমধ্যে যেটা খরচ করবেন, সেটাই আপনাকে দেনার দায়ে ডোবাতে পারে। তাই যাঁরা আর্থিকভাবে সচেতন, তেমন মানুষের সঙ্গে মিশুন, পরামর্শ নিন। অনলাইন বা অফলাইনে যেসব গ্রুপ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করে, পরামর্শ দেয়, সেখানে যোগ দিতে পারেন।
সূত্র: রেড অনলাইন ও ইয়াহু ফিন্যান্স
| টাকা ধার করাটা যদি অভ্যাস হয়ে ওঠে, তাহলেই বিপদ। ছবি: কবির হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশেষ স্থানে চুলকানি হলে কী করবেন by ডা. দিদারুল আহসান
বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, যেমন কোনো কোনো ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, রংওয়ালা টিস্যু পেপার, ফেমিনিন হাইজেনিক স্প্রে, ডুশ ইত্যাদি ব্যবহারে অ্যালার্জি হওয়ার কারণেও চুলকানি হতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনিরোগ, একজিমা ও রক্তের অন্যান্য রোগ থাকলেও যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়। আঁটো পোশাক পরলে অথবা ওই স্থান যদি সব সময় আর্দ্র থাকে, তবে এসব সমস্যা বেশি হয়। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার অভাবও এ জন্য দায়ী।
প্রতিকার
ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লাগানো বা খাওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। কারণ নির্ণয় করে সে অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।
প্রতিরোধের উপায়
সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। রঙিন ও বেশি সুগন্ধিযুক্ত টয়লেট টিস্যু ও সাবান ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজন ছাড়া ফেমিনিন হাইজিন স্প্রে ও ডুশ ব্যবহার করবেন না। ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকবেন না। ঘেমে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা অন্তর্বাস পাল্টে নেবেন। সুইমিংপুলে সাঁতার কাটলে ক্লোরিনের কারণেও চুলকানি হতে পারে। তাই পুল থেকে উঠে ভালো করে গোসল করতে হবে। সব সময় সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস পরুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ওজন কমান। নিয়মিত গোসল করুন। অন্তর্বাস নিয়মিত রোদে শুকাতে হবে, যাতে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত হয়। যাঁরা এ সমস্যায় প্রতিনিয়ত ভোগেন, তাঁদের অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।
লেখক: ডা. দিদারুল আহসান, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।
![]() |
| কার্টুন: এআই আর্ট/প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, April 19, 2026
মুখের ভেতর ছত্রাকের সংক্রমণ কেন হয়, লক্ষণ ও চিকিৎসা কী by ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস
মুখগহ্বরের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে এই ছত্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে জিব, মাড়ি, তালু বা ঠোঁটে সাদা ক্ষত ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। একে বলে ওরাল ক্যান্ডিডিয়াসিস।
কেন হয়, কাদের হয়
সাধারণত যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁরা খুব সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হন। এইচআইভি বা এইডস, ক্যানসার বা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী রোগী, শিশু ও প্রবীণেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে উপকারী জীবাণু মারা যায় যা ছত্রাক বৃদ্ধিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস মুখের লালায় চিনির মাত্রা বাড়িয়ে ছত্রাক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম দাঁত নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও সংক্রমণ হতে পারে। তামাক সেবন ও ধূমপানের ফলে অতি দ্রুত ছত্রাক সংক্রমণ বাড়ে।
অ্যাজমা ও ফুসফুসের রোগে ভোগা রোগীদের নিয়মিত করটিকোস্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। এটি ছত্রাক সংক্রমণের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এ ছাড়া লালাগ্রন্থির রোগ, নিয়মিত দাঁত ও জিব পরিষ্কার না করা হতে পারে ছত্রাক বৃদ্ধির কারণ।
লক্ষণ ও উপসর্গ
* জিব ও গালের ভেতরের অংশে, ঠোঁট ও তালুতে সাদা ক্রিম বা দুধের মতো ব্যথাযুক্ত আস্তরণ দেখা যায় যা ঘষলে লাল ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
* ঝাল ও মসলাজাতীয় খাবারে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
* মাড়িতে সাদা সাদা দাগ দেখা যায়।
* খাবার গিলতে কষ্ট হয় এবং স্বাদ পাওয়া যায় না।
* মুখের ভেতর লালা শুকিয়ে আঠালো অবস্থা তৈরি হয় এবং রুচি নষ্ট হয়।
* অনেক সময় ঠোঁটের কোণে ব্যথাযুক্ত ফাটল দেখা যায়।
* কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বর থাকে।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। পাশাপাশি কিছু ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও দেওয়া হয়। এই রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। রোগের তীব্রতার ওপর চিকিৎসার সময়কাল ও ওষুধের ডোজ নির্ভর করে। এ সময় ভাজাপোড়া, তেল–মসলা ও ঝালজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
এই রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত দাঁত ও জিব পরিষ্কার করতে হবে। কৃত্রিম দাঁত থাকলে তার সঠিক পরিচর্যা এবং ঘুমের আগে খুলে রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং ভিটামিন সি–জাতীয় ফল খেতে হবে। ইনহেলার ব্যবহারের পর প্রতিবার পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে এবং ইনহেলার পরিষ্কার রাখতে হবে। চিনিযুক্ত খাবার, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। অতিমাত্রায় মাউথ ওয়াশের ব্যবহার কমাতে হবে।
* ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট, (আলোক হেলথকেয়ার লি.), মিরপুর-১০
![]() |
| সাধারণত যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁরা খুব সহজেই ক্যান্ডিডিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হন। ছবি: পেক্সেলস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1269)
- ▼ April (94)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















