Monday, December 8, 2025

নিখুঁত পরিকল্পনায় ‘হামাসই’ আবু শাবাবকে হত্যা করেছে

মিডল ইস্ট আইঃ ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসই গাজায় ইসরায়েলের মদদপুষ্ট মিলিশিয়া নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে হত্যা করেছে। গাজার সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই সূত্র বলেছে, আবু শাবাবকে হত্যা করতে হামাস প্রথমে খুবই সতর্কভাবে একটি পরিকল্পনা সাজায়। তারপর সে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাফায় হামলা চালিয়ে আবু শাবাবকে হত্যা করে।

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন আবু শাবাব ও তাঁর দল পপুলার ফোর্সেস। কিন্তু বেশির ভাগ ফিলিস্তিনির চোখে আদতে পপুলার ফোর্সেস ছিল গাজায় ইসরায়েলের ভাড়াটে বাহিনী, যারা শত্রুর হয়ে নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে।

আবু শাবাবের বাহিনীতে প্রায় ১০০ সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন। ইসরায়েল তাদের অস্ত্র সরবরাহ করত। আবু শাবাব ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে সব সময় গোপন করতেন বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করতেন।

কিন্তু গত জুনে খোদ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের বিরুদ্ধে গাজায় সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন ও সহায়তা দেওয়ার কথা জানান। যদিও নেতানিয়াহু কারও নাম উল্লেখ করেননি।

যে কৌশলে হত্যা

সূত্র বলেছে, আবু শাবাবকে হত্যার পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এক তরুণ। তিনি আবু শাবাবের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে চান, এমন ভান করে পপুলার ফোর্সেসের ভেতর ঢুকে পড়েন। এরপর তিনি পরিকল্পনাটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন এবং আবু শাবাবকে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ হত্যা করেন।

ওই সূত্র আরও বলেছে, বৃহস্পতিবারের হামলাটি ছিল পুরোপুরি অতর্কিত। রাফায় আবু শাবাব ও তাঁর বাহিনীর ধারণা ছিল, তাঁদের ওপর কাসেম ব্রিগেডের যেকোনো হামলা বাইরে থেকে হবে। এ কারণে তারা হামলার সময় ইসরায়েলি ট্যাংকের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল।

কিন্তু হামলা যে নিজেদের ভেতর থেকে হতে পারে, তা সম্ভবত তারা ধারণা করতে পারেনি। এ কারণে হামাসের পাঠানো হামলাকারী সফল হতে পেরেছেন।

অথচ সম্প্রতি আবু শাবাব একটি ভিডিও প্রকাশ করে রাফায় ‘নির্মূল’ অভিযান চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সূত্রটি বলেছে, কঠিন সত্য হলো, কয়েক দিন পর তিনি এবং তাঁর সহযোগীরাই নিহত হয়েছেন এবং রাফা প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে।
গাজার দক্ষিণের শহর রাফার যে অঞ্চলগুলো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে আবু শাবাব ও তাঁর বাহিনী সক্রিয় ছিল। বাহিনীটি মূলত রাফার পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় ছিল। ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের নামে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নানা দমনমূলক কার্যক্রম চালাত। যেমন তারা ফিলিস্তিনিদের বাড়ি তল্লাশি করত, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বসানো বিস্ফোরক সরঞ্জাম অপসারণ করত, যোদ্ধাদের হত্যা করত এবং অস্ত্র লুট করত। এর মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামকে দুর্বল করে ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছিল।

‘অন্ধকার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি’

আবু শাবাবের বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ গাজার তারাবিন বেদুইন গোত্রের। গত বছর প্রথমবারের মতো গাজার একটি মিলিশিয়া দলের প্রধান হিসেবে আবু শাবাবের নাম সামনে আসে। এর আগে ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অচেনা ছিলেন।

অনেক ফিলিস্তিনি আবু শাবাবকে একজন অপরাধী মনে করেন। গাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আবু শাবাবকে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছর ধরে কারাবন্দী করে রেখেছিল। গাজা যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

আবু শাবাব এর আগে একটি ভিডিওতে দাবি করেছিলেন, তার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হামাস থেকে মুক্ত করা’ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে কাজ করে মানবিক সহায়তা বিতরণ করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠী মূলত অবরুদ্ধ জনপদে প্রবেশ করা মানবিক সহায়তা লুটপাটের জন্য দায়ী।

সূত্রটি আরও বলেছে, এই অভিযান প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর একটি বড় আঘাত। এটি গাজার কিছু অংশে মিলিশিয়াদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

আবু শাবাব তাঁর নিজের তারাবিন বেদুইন গোত্রের সমর্থনও হারিয়েছিলেন। তাঁর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তারাবিন বেদুইন গোত্র থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাঁর (আবু শাবাব) নিহত হওয়ার ফলে অন্ধকার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এ অন্ধকার অধ্যায় তারাবিন বেদুইন গোত্রের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।’

ইয়াসির আবু শাবাব
ইয়াসির আবু শাবাব। ছবি: পপুলার ফোর্সেসের ফেসবুক থেকে নেওয়া

স্বাধীনতার পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ by স্বদেশ রায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ক্ষমতা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর এখনো নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ওই শূন্যতার মুহূর্তে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তা আজ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দীর্ঘদিন ধরে যেগুলোকে প্রান্তিক প্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেগুলোর প্রভাব এখন মূলধারায় দেখা যাচ্ছে। যা দেশের স্বাধীনতা-উত্তর ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকেরা বরাবরই অভিযোগ করেছেন যে শেখ হাসিনার শাসন ক্রমেই কঠোর ও কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠেছিল, যার আড়ালে অন্যান্য শক্তিশালী গোষ্ঠীর উত্থান অনেকটাই অদৃশ্য রয়ে গিয়েছিল।
একই সঙ্গে, রাষ্ট্রক্ষমতার অত্যধিক প্রভাবের কারণে এমন অনেক গোষ্ঠীর সামাজিক বিস্তার আড়ালে ছিল। বিশেষ করে যারা নিজেদেরকে নাগরিক সমাজের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্বগ্রহণ এ পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত এনজিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রভাব তৈরি করা এই মহল রাজনৈতিক আলোচনায় আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়।

বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন এনজিও নেতা ও গণবুদ্ধিজীবী নির্বাচন, দুর্নীতি, পরিবেশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘স্বাধীন কণ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশ তাদের ওপর আস্থা রাখত। গণমাধ্যমের কিছু অংশও তাদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিত। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী ঘটনাবলি এসব ধারণাকে পুনর্বিবেচনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠার পর দেখা যায়,  অনেক এনজিও নেতা ও বুদ্ধিজীবী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে অবলীলায় কাজ করছেন। সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে যৌথ আলোচনা তাদের মধ্যে এক ধরনের মতাদর্শিক ঘনিষ্ঠতার আভাস দেয়, যা অতীতে স্পষ্ট ছিল না।

দীর্ঘদিন ধরে অনেকেরই বিশ্বাস ছিল, মৌলবাদী প্রবণতা কওমি বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফল সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি পদে বিজয়ী হয় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। বিএনপির ছাত্র সংগঠন, যা ঐতিহাসিকভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করত, তারা সমর্থনের এক-তৃতীয়াংশও পায়নি।

এই আকস্মিক উত্থান রাজনৈতিক মহলকে বিস্মিত করেছে। যদিও অনেকেই বছরের পর বছর এর ইঙ্গিত পেয়েও সেটিকে গুরুত্ব দেননি। শেখ হাসিনার পতনের পূর্ববর্তী বিক্ষোভেও এই পরিবর্তনের ছাপ ছিল স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের স্লোগান সাধারণত কবিতার মতো মাধুর্যপূর্ণ হলেও, এবার স্লোগানগুলো ছিল রূঢ়, ক্রুদ্ধ এবং নগরজীবনের কাঁচা রূপ থেকে উঠে আসা প্রত্যয়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়- দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু সম্পাদকও উচ্ছ্বসিত যুবকদের সঙ্গে এমন স্লোগান তুলছেন, যা স্বাভাবিক সময়ে মূলধারার রাজনীতিতে অকল্পনীয় ছিল। অনেকের কাছে এটি সামাজিক মানসিকতার গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা অভিভাবকেরাও অনায়াসে মেনে নিচ্ছেন।

এই রূপান্তর দেশের উদারপন্থী মধ্যবিত্তকে অসহায় ও হতাশ করেছে। কেউ কেউ নতুন করে মৌলবাদের বিরোধিতার অঙ্গীকার করছেন। আবার অনেকে বহুদিনের উদ্বেগ থেকে সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা বাড়াচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সময়ে পশ্চিমা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলো ভিসা নীতিতে কঠোরতা এনেছে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ যারা মনে করেন দেশকে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এগোতে হবে- তাদের কাছে এসব ঘটনাপ্রবাহ উদ্বেগজনক। ৫ আগস্টের পর এনজিও অভিজাত, অনুকূল গণমাধ্যমকর্মী এবং ধর্মপ্রাণ নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের যে নতুন জোট দৃশ্যমান হয়েছে, তা সমাজে যে পরিবর্তন ঘটছে সেটিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বাংলাদেশ কি এখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির গভীরতর পরিসরে প্রবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে পারবে- তা স্পষ্ট নয়। তবে একটি সত্য আজ অস্বীকার করা কঠিন, ৫ আগস্টের ঘটনা এবং পরবর্তী দিনগুলো দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বহু অদৃশ্য বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে।

লেখক: স্বদেশ রায়। লেখাটি ইউনাইটেড নিউজস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত তার প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।

mzamin

এবার যুদ্ধবিমানে শক্তিশালী হচ্ছে তেহরান, কী কৌশলে এগোচ্ছেন খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নতুন করে শুরু হয়েছে সামরিক ভারসাম্যের খেলা। সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় পুরোনো হলেও কার্যকর মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের আগমন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার সরবরাহ করা সম্ভাব্য নতুন চালানের অংশ হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক কোনো স্বতন্ত্র সূত্র এটি নিশ্চিত করেনি, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম এই নতুন মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আসলে ইরান কয়েক বছর আগে থেকেই রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৬-৪৮টি এসইউ-৩৫এস সিরিজের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি এবং রুশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ওই সরবরাহ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব কারণে রাশিয়া সাময়িক সমাধান পূরণের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভবে কিছু মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে পারে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সামরিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ছাড়া দেশটি চীনের কাছ থেকে অজানা সংখ্যক জে-১০সিই সিরিজের যুদ্ধবিমান ক্রয় করতে যাচ্ছে বলেও একাধিক তথ্যসূত্রে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিষয়টি ইরান কিংবা চীন সরকারের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।

সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সংঘাতের সময় ইরানের বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে কার্যকারিতা হারায় বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে দেখা যায়, ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কমব্যাট ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা পরিচালনা করে, যা দেশটির সুস্পষ্ট উচ্চস্তরের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

তবে এই ঘটনাগুলো ইরানকে তার বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিয়েছে। যার ফলে দেশটি এখন তার বন্ধুভাবাপন্ন দেশ বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীনের কাছ থেকে খুব দ্রুত শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করতে চায়।

ইরানের বর্তমান বিমান বহরকে বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, সংখ্যাগতভাবে দেশটির হাতে প্রায় হাজারের কাছাকাছি কমব্যাট এয়ারক্রাফট থাকলেও এর অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ দশকের অতি পুরোনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ইরানের বিমান বাহিনীতে সক্রিয় থাকা এই পুরোনো এয়ারফ্রেম, অ্যাভিয়োনিক্সের সীমাবদ্ধতা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট এবং ইঞ্জিন প্রযুক্তির ঘাটতি এসব বিমানকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে দেশটি গত এক যুগে নতুন কোনো প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বা এরিয়াল সিস্টেম ক্রয় বা সংগ্রহ করতে পারেনি।

বিমান বাহিনীর ফিক্সড এয়ার উইংস সক্ষমতার বিবেচনায় পিছিয়ে থাকলেও, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে নিজস্ব প্রযুক্তির কমব্যাট ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে সাহেদ, মোহাজের, কামানি এবং ফোত্রোস সিরিজের ড্রোন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা বিন্যাসে ইরান বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে থেকেও নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো বা সামরিক সক্ষমতা সফলতার সাথে বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর এর পাশাপাশি অতি সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশটি আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার দিকে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে। 

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল অন্য দেশে সংকট ছড়িয়ে দিচ্ছে, ‘কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে’: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল অন্য দেশে সংকট ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ‘কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে’। দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ও বিমান হামলার মধ্যে তিনি এমন অভিযোগ করলেন।

শনিবার কাতারে অনুষ্ঠিত দোহা ফোরামের ফাঁকে সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়েন আমানপুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা এ কথা বলেন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবারও দাবি করেন, ইসরায়েল যেন ১৯৭৪ সালের সংঘাত নিরসন চুক্তি মেনে চলতে রাজি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়া ও ইসরায়েলের সেনাদের মুখোমুখি না হওয়ার কথা। এক বছর আগে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ সিরিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং এখনো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হেরমন পর্বতচূড়া দখল করে রেখেছে। এই পর্বতচূড়া থেকে ইসরায়েল, লেবানন ও সিরিয়া তিনটি দেশই দেখা যায়। এটি ৫০ বছর ধরে একটি ‘বাফার জোন’ ছিল।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এক বছর আগে দখলে নেওয়া জায়গাগুলোতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, সিরিয়া ১৯৭৪ সালের চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে অনড় এবং কোনো বিকল্প বাফার জোন গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, ইসরায়েলকে ৮ ডিসেম্বরের (২০২৪) আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে আল-শারার বিদ্রোহী বাহিনী সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়লে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চুক্তিটি সংশোধন করার চেষ্টা করা হলে তা আমাদের একটি গুরুতর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যদি সিরীয় সেনা বা সিরীয় বাহিনী সেখানে না থাকে, তবে এই বাফার জোন বা অসামরিক অঞ্চলের সুরক্ষা কে দেবে?’

ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে শারা আরও বলেন, ‘এক বছর আগের বিপ্লবের পর থেকে সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আমাদের ওপর এক হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। চার শতাধিক বার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।’

গত মাসের শেষের দিকে সিরিয়ায় ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া আল-শারা চলতি বছরের শুরুতে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে শত শত সংখ্যালঘু আলাউইতদের নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ওই ঘটনায় কয়েক আলাউইত নিহত হন। আলাউইতদের বেশির ভাগই আসাদ সরকারকে সমর্থন করত।

দোহা ফোরামে কথা বলছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। দোহা, কাতার; ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
দোহা ফোরামে কথা বলছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। দোহা, কাতার; ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

অস্ত্র সমর্পণে রাজি হামাস, তবে...

অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস। তবে একটি শর্ত আছে। তা হলো আগে গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলের সামরিক দখলদারিত্ব শেষ করতে হবে। প্রত্যাহার করতে হবে ইসরাইলি সেনাদের। তারপরই হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, হামাসের প্রধান আলোচক ও গাজার শীর্ষ নেতা খালিল আল-হাইয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের অস্ত্র দখল ও আগ্রাসনের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। দখল শেষ হলে, এসব অস্ত্র রাষ্ট্রের কর্তৃত্বাধীন সংস্থার হাতে তুলে দেয়া হবে। এএফপি ব্যুরোকে দেয়া ব্যাখ্যায় হাইয়ার দপ্তর জানায়, তিনি একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের’ কথা বলছেন। হাইয়া আরও বলেন, আমরা জাতিসংঘের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি। তারা সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করবে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখবে। তবে তিনি স্পষ্ট জানান যে, গাজায় এমন কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না যাদের লক্ষ্য হবে হামাসকে নিরস্ত্র করা।

ওদিকে সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হলো দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান। যা আন্তর্জাতিকভাবে আগে থেকেই স্বীকৃত। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মানাল রাদওয়ান দোহা ফোরাম ২০২৫-এ বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা পরিষ্কার। এর বাইরে গিয়ে নতুন করে সংজ্ঞা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে যে বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যে প্রস্তাব গৃহীত ও সবাই স্বাগত জানিয়েছে- এসবের পুনঃআলোচনা বা পুনঃসংজ্ঞায়ন নেয়া যাবে না।

রাদওয়ান বলেন, আমরা আর ফিরে গিয়ে যুদ্ধবিরতি, নিরস্ত্রীকরণ কিংবা গাজায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্বে প্রশাসন পরিচালনার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করতে পারি না। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রায় সবাই মনে করেন দুই রাষ্ট্র সমাধানই একমাত্র বাস্তব পথ। যদি তা-ই হয়, তাহলে এখন প্রশ্ন- এটি বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ কী করবে?

https://mzamin.com/uploads/news/main/192967_sd.webp

তুরস্কের তৈরি আকাশযুদ্ধের এই মারণাস্ত্র এখন বিশ্বের আর কারও হাতে নেই

প্রথমবারের মতো তুরস্কের একটি মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তুরস্কের ওই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমানের নাম বাইরকতার কিজেলেলমা (কেআইজেডআইইএলএমএ)।

দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইকার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যাধুনিক এই সমরাস্ত্র তৈরি করেছে।

তুরস্কের সিনোপ উপকূলে কিজেলেলমার সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষার সময় এটি আকাশ থেকে আকাশে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা একটি জেট ইঞ্জিনচালিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এই প্রথম কোনো মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান নিখুঁতভাবে আকাশে প্রচণ্ড গতিতে চলমান কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলো।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড বাইরকতার কিজেলেলমার পরীক্ষার দিনের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে ২০ নভেম্বর পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানি বাইকার বলেছে, তাদের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান বাইরকতার কিজেলেলমা দেশে তৈরি করা জিওকেডিওজিএএন আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উচ্চগতিতে চলা নিশানায় নিখুঁত আঘাত হেনেছে।

বাইরকতার কিজেলেলমা তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানি এসেলসানের তৈরি মুরাদ এইএসআই (অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) রাডার ব্যবহার করা হয়েছে। এই রাডার দিয়ে সেটি প্রথমে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে, তারপর সেটি অনুসরণ করে নিজের ডান ও বাঁ পাখার নিচ থেকে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষার ইতিহাসে এই প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি কোনো মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান দেশীয়ভাবে তৈরি রাডার ব্যবহার করে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

শুধু তা–ই নয়, বরং এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে বাইরকতার কিজেলেলমা (কেআইজেডআইএলইএলএমএ) বিশ্বে প্রথম এবং একমাত্র মনুষ্যবিহীন আকাশযান হিসেবে আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তুরস্কের মেরজিফন বিমানঘাঁটি থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। বাইরকতার কিজেলেলমার সঙ্গে পাঁচটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মাধ্যমে মনুষ্যবিহীন ও মানুষবাহী যুদ্ধবিমানের যৌথ অংশগ্রহণে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধ কেমন হতে পারে, তার একটি নমুনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

আরেকটি বাইরকতার একেআইএনসিআই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান এই অভিযানে সঙ্গে ছিল এবং আকাশ থেকে পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেছে।

বাইরকতার কিজেলেলমা শত্রুর রাডারে খুব একটা ধরা পড়ে না। সেই সঙ্গে উন্নত সেন্সরব্যবস্থার মাধ্যমে এটি দূর থেকে শত্রুবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম, তা–ও আবার শত্রুর চোখে নিজে ধরা পড়ার আগেই।

এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন, মুরাদ এইএসএ রাডার এবং টয়গান টার্গেটিং সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া এটি দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম।

আগের পরীক্ষায় বাইরকতার কিজেলেলমা টিওএলইউএন এবং টিইবিইআর-৮২ অস্ত্র ব্যবহার করে সরাসরি ভূমিতে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল।

এবার এটি আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

অর্থাৎ বাইরকতার কিজেলেলমা এখন আকাশ থেকে ভূমি এবং আকাশ থেকে আকাশ—উভয় অভিযানে নিজের কার্যক্ষমতা দেখিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এই যুদ্ধবিমান তুরস্কের প্রতিরক্ষা কৌশলে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে চলেছে।

তুরস্কের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইকার ২০০৩ সাল থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব তহবিলে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) প্রকল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে কোম্পানিটি ড্রোন রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানির একটি। কোম্পানিটি ২০২৩ সালে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে। ২০২৪ সালেও তাদের আয়ের এই ধারা ধরে রেখেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইকার চার বছর ধরে তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছে।

তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান বাইরকতার কিজেলেলমা
তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান বাইরকতার কিজেলেলমা। ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ভিডিও থেকে নেওয়া