Saturday, May 17, 2025
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে ভাবাও কি ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে দেখাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন by অ্যান্টনি লোয়েনস্টাইন
কেফিয়াহ (ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী রুমাল) ও তরমুজের ছবি—এই দুটি ইহুদিবিদ্বেষের প্রতীক। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি প্রশিক্ষণে এমন কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণটির আয়োজক ছিল ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সংগঠন। ‘জুইশ কারেন্টস’ নামের একটি মার্কিন সাময়িকীর হাতে এ প্রশিক্ষণের বিস্তারিত তথ্য এসেছে। তারা এ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স’–এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডোভ কেন্ট জুইশ কারেন্টসকে বলেন, ‘প্রশিক্ষণে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে চিন্তা করাকেও ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এমনকি কখনো কখনো ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকেও ইহুদিবিদ্বেষ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর মতে, এসব কিছু আসলে ইহুদিদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে না।
ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইহুদিবিদ্বেষের (অ্যান্টি–সেমিটিজম) অপব্যবহার নিয়ে কাজ করে।
প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মূলধারার পশ্চিমা গণমাধ্যম ও জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে, ইহুদিবিদ্বেষ নাকি এখন রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সংগঠন অ্যান্টি-ডিফামেশন লিগের (এডিএল) প্রধান জনাথন গ্রিনব্ল্যাট সম্প্রতি সিএনএনকে বলেছেন, ২০১৫ সালের তুলনায় ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ১০ গুণ বেড়েছে। তাদের নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে এডিএল স্বীকার করেছে, ২০২৪ সালে তারা ৯ হাজার ৩৫৪টি ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা খতিয়ে দেখেছে। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশই ছিল ‘ইসরায়েল বা জায়নবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’।
এডিএলের যুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী যদি স্লোগান দেন, ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, তাহলে সেটিও ইহুদিবিদ্বেষী উক্তি, ইহুদিদের জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য হবে।
শান্তিপূর্ণ গণহত্যাবিরোধী আন্দোলনকেও স্বভাবগতভাবে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই এডিএলের মতো সংগঠনগুলো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষিদ্ধের দাবি তুলছে। তাদের ভাষায়, ‘টিকটক নিয়ে আমাদের সত্যিই একটা সমস্যা আছে।’ এডিএলের এ কথার মর্মার্থ হলো নতুন প্রজন্ম যথেষ্ট ইসরায়েলপন্থী নয়।
বিপজ্জনক দৃষ্টিভঙ্গি
প্রতিদিন অনলাইনে ইসরায়েলের হাতে গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের গণহত্যার ছবি দেখে অনেকে স্বাভাবিকভাবে নেতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। আবার অনেকে সেসব সহিংসতার পক্ষে প্রকাশ্যে গর্ব করে বেড়ান। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন নাটকীয়ভাবে কমেছে। বিশেষ করে ৪৯ বছরের কম বয়সী মানুষের বেশির ভাগের দৃষ্টিভঙ্গি এখন নেতিবাচক।
ইহুদি আধিপত্য ও ইসরায়েল সংকটে পড়লে সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, মূলত ইহুদিবিদ্বেষের কারণেই এমনটি হচ্ছে। ইহুদিবিদ্বেষ খুব পুরোনো ও অযৌক্তিক একধরনের ঘৃণা। শুধু ইহুদি হওয়ার কারণেই তারা এসবের শিকার হচ্ছে।
শুধু ধর্মীয় কারণেই ইহুদিদের ঘৃণা করা হচ্ছে, এ দৃষ্টিভঙ্গি বিপজ্জনক ও অনেকাংশে ভ্রান্ত। প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষের ক্ষেত্রে ইহুদি বা তাদের উপাসনালয়গুলো (সিনাগগ) নিশানা করা হয়, যা বিশ্বের দেশে দেশে ঘটছে। এটি সব মানুষের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। শুধু ইহুদি হওয়ার কারণে ইহুদিদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অ্যান্টি–সেমিটিজম একটি অভিশাপ, যার বিরুদ্ধে শক্তভাবে লড়াই করতে হবে। পাশাপাশি বাকি সংখ্যালঘুদের প্রতিও ঘৃণার যে বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও লড়তে হবে।
কিন্তু ইসরায়েল ও ইহুদিধর্মকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সব মূলধারার জায়নবাদী গোষ্ঠী, ট্রাম্প প্রশাসন ও করপোরেট গণমাধ্যম এটা করছে। ফলে তথাকথিত ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ইহুদিদের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় আদতে কিছুই করা হচ্ছে না।
ইসরায়েল যখন গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে নজিরবিহীন সহিংসতা চালায়, তখন কি এর দায় সারা দুনিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের? অনেক ইহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে ইসরায়েল বা দেশটির সরকারের সঙ্গে বাস্তব কোনো সংযোগ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেসব বিখ্যাত কণ্ঠস্বর ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে নিজের মায়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, তাঁদের বিষয়ে কী বলা হবে?
একজন ইহুদি হিসেবে আমি জানি, গাজায় চলমান গণহত্যা সত্ত্বেও অ-ইহুদিরা যখন ইহুদি সম্প্রদায়ের কাউকে ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করতে দেখেন, তখন অনেক সময় তাঁরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। তখন প্রশ্ন ওঠে, ইসরায়েলকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে কি কোনো সীমারেখা নেই? ইসরায়েল কি এমন অপরাধ করেনি, যার কারণে এ অন্ধ সমর্থন বন্ধ করা যেতে পারে?
ইসরায়েল নিজেকে গর্বিতভাবে একটি ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রটি সক্রিয়ভাবে অ-ইহুদিদের প্রতি বৈষম্য করে, তাদের নিশানা ও হত্যা করে। তাই কেউ যদি ইসরায়েলি ইহুদি ও অন্য দেশের ইহুদিদের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারেন, এতে আমি বিস্মিত হই না। কারণ, ভিন্ন দেশে বসবাসকারী ইসরায়েল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রটির সমর্থকেরা নিজেরাই বলে থাকেন, আদর্শিক বা বিশ্বাসগতভাবে তাঁদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো পার্থক্য নেই। আর এভাবেই একটি বিশেষ ধরনের ইহুদিবিদ্বেষের (অ্যান্টি–সেমিটিজম) প্রচারণা টিকে থাকে ও বিস্তৃতি লাভ করে।
মনে রাখা দরকার, জায়নবাদ মানে ইহুদিধর্ম (জুদায়িজম) নয়। আর জায়নবাদের বিরোধিতা মানেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়। জায়নবাদ একটি আদর্শ, যা একটি রাষ্ট্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের মতো এটিও প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচিত হতে পারে এবং তাই হওয়া উচিত। প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা উচিত। প্রতিটি রাষ্ট্রের তার নাগরিকদের মানবিক ও সমানভাবে মর্যাদা দেওয়া উচিত। ইসরায়েলসহ বিশ্বের আরও অনেক রাষ্ট্রই এ মৌলিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু বাস্তবে তা তথাকথিত ‘খারাপ’ ইহুদিদের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিণত হয়েছে। যাঁরা ইসরায়েলের সব দোষ চোখ বুজে সমর্থন করেন না, তাঁরাই খারাপ ইহুদি।
সম্প্রতি পাঁচ শতাধিক রেবাই (ধর্মগুরু) ও ক্যান্টর একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অ্যান্টি–সেমিটিজম’ নীতিকে তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভাজন সৃষ্টিকারী বলে উল্লেখ করেছে।
‘ইকো চেম্বার’ তৈরি
ইহুদিদের রক্ষার নামে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চশিক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। এটি আসলে একটি ধোঁয়াচ্ছন্ন কৌশল, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এমন ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে চিন্তাশীল মতামতের জায়গা নেই। সেখানে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, ধর্ম, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও ইসলাম নিয়ে শুধু অনুমোদিত বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য। যেসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব মেনে চলবে, তারাই কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল পাবে।
কেন আজও বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক তরুণ নাৎসি শাসনের ভয়াবহতা বা হলোকাস্ট সম্পর্কে এত কম জানেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষানীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারত। অথবা ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ইহুদি সম্প্রদায়ের দীর্ঘ ও গৌরবময় বিরোধিতার যে ইতিহাস রয়েছে, সেটাও উচ্চশিক্ষার অংশ হতে পারত।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, চলমান পরিস্থিতি বোঝার কথা ছিল এমন অনেক ইহুদি ট্রাম্পের এজেন্ডাকে সমর্থন করছেন। এমনকি তাঁরা শান্তিপূর্ণ, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করছেন। অথচ ফিলিস্তিনপন্থীরা কোনো মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেননি।
মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে আজ যা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা ইহুদিদের বিরুদ্ধেও করা হতে পারে। যারা এটা বুঝতে পারছে না, তারা ইতিহাস ও ট্রাম্পের কট্টর ডানপন্থী এজেন্ডা সম্পর্কে অজ্ঞ। প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য ইসরায়েলবিরোধী মতকে দমন ও স্তব্ধ করে দেওয়া।
ইসরায়েলি চরমপন্থার স্বার্থে ইহুদিবিদ্বেষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি বন্ধুত্বের কোনো নিদর্শন নয়। ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ–এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল, ‘হার্ভার্ড ধ্বংস করার জন্য একদিন ইহুদিদের দায়ী করা হবে, তখন বুঝবে’। এমনকি কয়েকজন ইসরায়েলি শিক্ষাবিদও এ ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন। এক খোলাচিঠিতে তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ‘ইহুদিবিরোধী মনোভাবকে আসকারা দিচ্ছে, যা সহজেই গোঁড়ামি, বর্জনবাদী ও বর্ণবাদের মতো মতাদর্শে রূপ নিতে পারে’।
ট্রাম্পের ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দূত রেবাই ইয়েহুদা কাপলুন চাবাদ-লুবাভিচ (বিশ্বব্যাপী ইহুদি পরিচয় রক্ষাবিষয়ক আন্দোলন) গোষ্ঠীর একজন উগ্রপন্থী সদস্য এবং প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী ব্যক্তিত্ব মিরিয়াম অ্যাডেলসনের দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের ঘোর সমর্থক।
ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সৎ প্রচারণা, শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কঠোরতা দরকার। ট্রাম্প প্রশাসন এ গুরুতর সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা রাখে না এবং তা করতে চায়ও না। বরং তারা ইসরায়েলপন্থী কণ্ঠগুলোর একটি ইকো চেম্বার (এমন পরিবেশ যেখানে শুধু নিজের পছন্দের কথা শোনা যায়) গড়ে তুলতে চায়, যা তাদের সবচেয়ে জোরালো সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেবে। তাদের এসব সমর্থকদের মধ্যে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইভঞ্জেলিকরা (যাঁরা বাইবেলকে ঈশ্বর প্রদত্ত ও নির্ভুল মনে করেন) অন্যতম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের নিজস্ব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব বাড়িয়েছে। তাই ইসরায়েলি সামরিকতন্ত্র ও শ্রেষ্ঠত্ববাদকে যত দ্রুত সম্ভব একঘরে এবং শেষ করা যাবে, তত দ্রুতই বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
![]() |
| রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে অংশগ্রহণকারী কিছু মানুষের হাতে ইসরায়েলি পতাকা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে, ১৬ জুলাই ২০২৪ সাল। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের সফর মধ্যপ্রাচ্যকে কতটা বদলে দেবে by আরন ডেভিড মিলার ও লরেন মর্গানবেসার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হলো—ইসরায়েলের একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভাব।
আরব বিশ্ব এখনো গভীর বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। অন্তত পাঁচটি আরব দেশ নিজেদের দেশের ভেতরে গভীর সংকটে পড়েছে। এর ফলে তারা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বা রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থতার পথে রয়েছে। এই ক্ষমতাশূন্যতার মধ্যে দুটি বিকল্প শক্তিকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
প্রথমত, পারস্য উপসাগরের ধনী দেশগুলো—বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কথা বলা যায়। আরব বসন্তে তারা তুলনামূলকভাবে অক্ষত থেকেছে এবং তেল-গ্যাস ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের কারণে তারা শক্তিশালী ও স্থিতিশীল কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব এখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
দ্বিতীয়ত, আরব নয়—এমন তিনটি দেশ ইসরায়েল, তুরস্ক ও ইরানের কথা বলা যায়। এই তিন দেশই এমন শক্তি, যাদের নিজেদের সীমান্তের বাইরে সামরিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা আছে। তারা সবাই কোনো না কোনো সময় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। এদের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, নিজস্ব অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা এবং উন্নত নিরাপত্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা শক্তি।
এই তিন দেশের মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং সিরিয়ায় নতুনভাবে প্রভাবশালী এক শক্তি হয়ে উঠেছে। আর ইরান, যদিও তার মিত্রগোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল ধ্বংস করে দিয়েছে, তবু এখনো যথেষ্ট প্রভাবশালী। বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরান আজও ইসরায়েল ও আমেরিকার নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই তিন আরব নয়—এমন রাষ্ট্রকে আরব দেশগুলো সন্দেহ ও অবিশ্বাসের চোখে দেখে; কিন্তু কেউই তাদের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক করতে চায় না। এই তিন দেশের মধ্যে পরস্পরের উদ্দেশ্য ও স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা একে অন্যকে প্রতিহতও করছে। কিন্তু তারা মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতায় স্থায়ীভাবে থেকে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। আরব বিশ্বের বিভক্তির কারণে ভবিষ্যতে এদের প্রভাব আরও বাড়বে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরপরই মনে হচ্ছিল ফিলিস্তিন সমস্যা আবারও মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। যাঁরা বলছিলেন ফিলিস্তিন ইস্যু গুরুত্ব হারিয়েছে, তাঁরা তখন গাজার বেসামরিক মানুষের প্রতি বিশ্বজুড়ে সহানুভূতি ও সমর্থনের জোয়ার দেখে চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। ইসরায়েল যখন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়, তখন যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়, সেটাই এই সহানুভূতির মূল কারণ ছিল।
জাতিসংঘ যুদ্ধ থামাতে বলেছে এবং এ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবও পাস করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ ও মানুষ ইসরায়েলকে এবং এই যুদ্ধকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) খতিয়ে দেখছেন ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা করছে কি না। আর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও হামাসের এক শীর্ষ নেতার (যিনি পরে মারা গেছেন) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনও সম্পূর্ণ বিভক্ত ও দুর্বল। এখন ফিলিস্তিনিদের সামনে দুটি অপছন্দনীয় বিকল্প—একদিকে হামাস, অন্যদিকে বহুদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা ও কার্যত নিষ্ক্রিয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ক্ষীণ।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে এটা স্পষ্ট, তারা ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজাকে রিভিয়ারার মতো পর্যটনকেন্দ্র বানানো যায়। তিনি গাজা থেকে জিম্মি মুক্ত করতে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন; কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা দেননি। বরং গাজা–পরিস্থিতি ইসরায়েলের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যারা আবারও সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
ট্রাম্প লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলের আগ্রাসী নিরাপত্তানীতিও মেনে নিয়েছেন এবং পশ্চিম তীরে দখলদারি ও বসতি স্থাপনেও সমর্থন দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প একেবারে অনিশ্চিত চরিত্র। নেতানিয়াহুর পাশে বসেই তিনি ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আলোচনা শুরু করবে। যদিও নেতানিয়াহু চান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাধান হোক সামরিকভাবে। কিন্তু যদি এই আলোচনায় অগ্রগতি হয়, কিংবা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বাড়ে, তাহলে তাকেও গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা ও ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে।
এই সম্ভাবনাগুলো ইতিমধ্যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করছে। এবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে ট্রাম্প ইসরায়েল যাবেন না, আর নেতানিয়াহুও অনমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়া, তাই হোয়াইট হাউস যদি ইসরায়েলের বিপক্ষে কিছু নীতির প্রস্তাব দেয়, তাহলে নেতানিয়াহুর হাতে বিকল্প তেমন থাকবে না। আর ট্রাম্প কিছু চাইলে তা পেতে চাপ প্রয়োগ করতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না—এটা বিশ্বের সব মিত্রদেশই ইতিমধ্যে জেনে গেছে।
* আরন ডেভিড মিলার কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং
* লরেন মর্গানবেসার কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর একজন জুনিয়র ফেলো
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| সৌদি আরব দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু হয়েছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাকবা দিবসে আরও বেপরোয়া ইসরায়েল, নিহত ১৪৩ ফিলিস্তিনি
১৯৪৮ সালের ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা করা হয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে নেমে আসে মহাবিপর্যয়। এ কারণে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবছর ১৫ মে পালন করে ‘আল-নাকবা’ (মহাবিপর্যয়) দিবস।
নাকবা দিবসের ৭৭তম বর্ষপূর্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে নির্বিচারে নৃশংস হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ নারী-শিশু।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় গতকাল ভোরের দিকে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন। উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ায় আত-তাওবাহ চিকিৎসাকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ গেছে আরও অন্তত ১৫ জনের। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার জেরে গাজাজুড়ে অন্তত তিনটি হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো জাবালিয়ার আল-আওদা হাসপাতাল, খান ইউনিসের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল এবং ইউরোপীয়ান হাসপাতাল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এদিন গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় আত-তাওবাহ ক্লিনিকের ওপরতলায় রোগীরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। সেখানে নিহত ১৩ জনের মধ্যে কয়েকটি শিশুও রয়েছে।
আল-জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আল আজৌম গাজার দেইর আল বালাহ এলাকা থেকে বলেন, গাজাবাসীর জন্য এটা আরেকটি রক্তাক্ত দিন। ইসরায়েলি বাহিনী আবাসিক এলাকাতেও নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে। খান ইউনিসের অন্তত ৯টি বাড়িতে পূর্বসতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী মরিয়া আচরণ করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলের মাটিতে হামলা চালায়। এতে আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩ হাজার ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জন।
তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্য বলছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। তারা বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকা হাজারো মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের নৃশংসতা: গাজায় নিহত ৫৩ হাজার ছাড়াল
* গত ২ মার্চ থেকে গাজায় কোনো ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল।
* গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত মানবিক কার্যক্রমে জাতিসংঘ অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে।
গাজা ‘জয়ের’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে ইসরায়েল। উপত্যকাটিতে চরম নৃশংসতা চালাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গতকাল শুক্রবারও সেখানে অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এতে সংঘাতের ১৮ মাসের বেশি সময় গাজায় ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গতকাল ও আগের দিন উপত্যকাটিতে ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় উত্তর গাজার বাসিন্দাদের ওপর ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। চলেছে আকাশপথে হামলা। গতকাল ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গাজায় দেড় শর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। দেশটি থেকে জিম্মি করা হয় প্রায় আড়াই শ জনকে। সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জন।
হামলার পাশাপাশি গত ২ মার্চ থেকে গাজায় কোনো ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এতে সেখানে খাবার–পানিসহ জরুরি পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজার মানুষের সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, গাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে। আগামী এক মাসে অনেক ভালো কিছু হবে বলে তিনি আশা করছেন।
কাতারের রাজধানী দোহায় একটি অনুষ্ঠানে গাজা নিয়ে এ কথা বলেন ট্রাম্প। গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইসরায়েলের পরিকল্পনাকে তিনি সমর্থন করেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, আগামী এক মাসে অনেক ভালো কিছু হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ফিলিস্তিনিদেরও সাহায্য করতে হবে।’
এর আগেই অবশ্য গাজা উপত্যকা দখল করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ভালো হবে। এরপর সেখানে ‘ফ্রিডম জোন’ (মুক্ত অঞ্চল) তৈরি করা হবে। এতে সেখানে সব মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত হতে দিন। আমি খুবই গর্বিত হব, যদি গাজার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেয়।’
এ সময় ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামাসের হামলা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ঘটনা ছিল। তিনি বলেন, হামাসকে মোকাবিলা করতে হবে। গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে আগে হামাসকে মোকাবিলা করা দরকার।
এদিকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত মানবিক কার্যক্রমে জাতিসংঘ অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। এই কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নয় বলে মনে করছে তারা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, মানবিক সহায়তা বিতরণের এ পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের মূল নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই এতে জাতিসংঘ অংশ নেবে না।
পরিস্থিতি যখন দিন দিন আরও সংকটপূর্ণ হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। কাতারে চলমান এই আলোচনার বিষয়ে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, ইসরায়েলের অবস্থান অনড়, হামাস এখনো নতি স্বীকার করেনি, আর মার্কিনরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাউলশিল্পী থেকে আসামি: মমতাজের নাটকীয় জীবন by আব্দুল মোমিন
মমতাজের জন্ম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মন্টপ গ্রামে। ছোটবেলায় তিনি বাবা মধু বয়াতি এবং পরে বাউলশিল্পী মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের কাছে গান শেখেন। এরপর লোকগানের শিক্ষক রশীদ সরকারের কাছে গান শেখেন। কিশোর বয়স থেকেই মমতাজ মানিকগঞ্জে পথে-প্রান্তরে বিচ্ছেদ, পালাগান, উঠান বৈঠকিসহ লোকজ গান করেন। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠানে গান করতে শুরু করেন। পরে তাঁর গানের কয়েক শ একক অ্যালবাম প্রকাশ পায়।
২০০৪ সালে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে গান গাওয়ার সুযোগ পান মমতাজ। ধীরে ধীরে তিনি দেশের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। ‘ফোকসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে খ্যাতি পান। চার দশকের সংগীতজীবনে সাত শতাধিক অ্যালবাম আছে তাঁর। শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী বিভাগে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
মমতাজ বেগম ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য হন। ওই বছরই তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হন। এর পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তাঁর আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীদের নিয়ে পরিবহনে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ–বাণিজ্য, পদ–বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সংসদ সদস্য হন। তবে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে হেরে যান তিনি। তবে এখনো তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আছেন। তাঁর সৎছেলে সিঙ্গাইর পৌরসভার মেয়র, ভাগনে শহিদুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পদে আছেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মমতাজ বেগমের ২০১৪ ও ২০২৪ সালের হলফনামা বিশ্লেষণ করে বিপুল অর্থসম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। ১০ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯২ হাজার ৭১৮ টাকা। স্থাবর সম্পদও বেড়েছে তাঁর। ২০১৪ সালের জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর স্থাবর সম্পদ ছিল ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের হলফনামার হিসাব অনুযায়ী এ সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৪ টাকা।
তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাস্তবে তাঁর অর্থসম্পদের পরিমাণ আরও বেশি। উপজেলার জয়মন্টপ এলাকায় গ্রামের বাড়িতে বিশাল জায়গার ওপর রেস্টুরেন্ট, মধু উজালা কোল্ড স্টোরেজ নামে হিমাগার, দোতলা বাড়ি এবং বাউল কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছেন তিনি। ঢাকার মহাখালীতে ছয়তলা বাড়ি আছে। কানাডার টরন্টোতেও বাড়ি আছে বলে গুঞ্জন আছে।
মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের দুই থানায় হত্যাসহ দুটি মামলা আছে। এর মধ্যে সিঙ্গাইর থানায় হত্যার অভিযোগে একটি এবং হরিরামপুর থানায় হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা আরেকটি মামলার প্রধান আসামি তিনি। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা আছে।
প্রায় এক যুগ আগে সিঙ্গাইরে হরতালের মিছিলে গুলিতে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় মমতাজকে প্রধান আসামি করে গত ২৫ অক্টোবর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজনু মোল্লা বাদী হয়ে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার বিষয়ে সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজম বলেন, হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
মমতাজের নির্বাচনী এলাকা হরিরামপুর থানায় হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা আছে। গত ২৯ অক্টোবর হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন মামলাটি করেন। এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মুমিন খান বলেন, মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে মমতাজ বেগম তাঁর শিল্পীসত্তাকে ধ্বংস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিল্পীদের কোনো দল হয় না। সব মতের, পথের ঊর্ধ্বে থাকেন শিল্পীরা। রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে মমতাজকে এখন একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে মমতাজ আত্মগোপনে ছিলেন। ১২ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
![]() |
| মমতাজ বেগম। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


