Sunday, July 31, 2011

'ত্যাগের' মূল্যায়ন ও মুক্তকণ্ঠ তারুণ্য by অজয় দাশগুপ্ত

মাদের রাজনীতিবিদরা বইয়ের মনোযোগী পাঠক নন বলেই জানি। তবে অনেকেই সংবাদপত্রের নির্বাচিত অংশ নিয়মিত পাঠ করেন। দেশের হাল-হকিকত বুঝতে তাদের ভরসা সংবাদপত্র। তবে তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে সেটা বোঝার জন্য তাদের বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ এবং বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকের কমিউনিটি পেজ ভিজিট করার অনুরোধ করতে চাই। সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণের বিভিন্ন সংবাদ ও কলামের ওপর পাঠকদের প্রচুর মন্তব্য থাকে। ব্লগে থাকে অনেকের নানা কারেন্ট ইস্যুতে ভাবনা। এসব পাঠ করলে তাদের ভাবনা-চিন্তাগুলো জানা যাবে সহজেই, যা সাধারণত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে থাকে না বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে অনেক অনেক নেতা ও কর্মী থাকেন। তাদের সবাই মন্ত্রী-সাংসদ হন না।

মূল সংবিধান সংরক্ষণে সরকারের ইউটার্ন by সিরাজ উদ্দীন আহমেদ

সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃস্থাপনে যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তাকে সম্মান না দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সংবিধানের পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনীর পথে চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, মহাজোট সরকার সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা, ব্যর্থ মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে যোগ্য মন্ত্রী নিয়োগ করলে জনগণ সরকারের পক্ষে থাকবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবল্পুব্দকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সংবিধানকে ১৯৭২ সালে ফিরিয়ে নিতে পারেনি।

তুরস্কে জেনারেলদের পদত্যাগ কেন? by গুল তায়িসুজ ও সাবরিনা তাভনিস

সামরিক বাহিনী ১৯৬০ সাল থেকে তুরস্কের চারটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। অতীতের মতো এখন আর সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর অবস্থা নেই। এখন সেনা কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান জানান দেওয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবে পদত্যাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তারা গত শুক্রবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তুরস্কের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। বিশ্ল্নেষকদের ধারণা, সেনাবাহিনী তাদের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ছোট দলগুলো ফুরফুরে মেজাজে! by শাহেদ চৌধুরী ও লোটন একরাম

ছোট দলগুলো নিয়ে বড় ব্যস্ত বড় দলগুলো। তাদের দলে টানতে নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ এবারও উহ্য থেকে যাচ্ছে। এহেন বাস্তবতায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছোট দলগুলোর নেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়াতে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবার এ দুই নেতার কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। রমজানে তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে।

কোচিং ব্যবসা এবং শিক্ষার বেহাল দশা by সুলতান মাহমুদ রানা

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। সরকারের উচিত হবে, আইন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া অথবা নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা কিংবা শর্তারোপ করা। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট হোম। কোচিং সেন্টারের নামে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমাজের জন্য কতটুকু কল্যাণকর তা সবারই কম-বেশি জানা।

চাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন by বদিউল আলম মজুমদার

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সরকার একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা ভাবছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে উত্থাপন করবে। আর রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা থেকে নিয়োগ দেবেন (প্রথম আলো, ২৮ জুলাই ২০১১)। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মতো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে সরকারকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করব।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের প্রেক্ষাপটে সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বলে আসছে। কিন্তু সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করলেই কি কমিশন শক্তিশালী হয়ে যাবে? আর শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবেই কি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে?
সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করা হলে নিঃসন্দেহে সৎ, যোগ্য, দলনিরপেক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের পথ সুগম হবে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এটাই একমাত্র করণীয় নয়। এর জন্য কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন করতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে কমিশনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য একটি যথার্থ আইনি কাঠামো। নির্বাচনী আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য কমিশনকে সহায়তা প্রদান এবং কমিশনের ক্ষমতার প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শনও এ লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন-সংক্রান্ত অনেকগুলো আইনের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১১ দলের পক্ষ থেকে ১৫ জুলাই ২০০৫ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত সংস্কারের রূপরেখা এসব আইনে বহুলাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিফলিত হয়েছে ‘সুজন’সহ কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের অনেক প্রস্তাব। আর এসব আইনি সংস্কার গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সৌভাগ্যবশত নবম সংসদ ২০০৭-০৮ সালে জারি করা নির্বাচন-সংক্রান্ত সব অধ্যাদেশই অনুমোদন করেছে, যদিও কিছু পরিবর্তনসহ।
জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো হলো: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও); ভোটার তালিকা আইন, ২০১০; নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১০; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১; জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪; নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বিধিমালা। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হলে এসব আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আবশ্যক। সংস্কারের একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কমিশন এরই মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে। কমিশনের আলোচ্যসূচিতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিছু নতুন আইনের খসড়া।
প্রসঙ্গত, বৈঠকের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন করলেও আওয়ামী লীগ শিগগির কমিশনের সঙ্গে বসবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কয়েকবার আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিএনপি কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নারাজ। কমিশনের আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার বিএনপির বর্তমান সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, এমনকি তা দায়িত্বহীনতার পর্যায়ে পড়ে। আমরা বিএনপিকে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানাই।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো সৃষ্টি করলেই হবে না, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন করতে হবে। তাদের আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে ক্ষমতাসীনরা কমিশনকে, গ্রামবাংলার ভাষায়, ‘হাতে না মারতে পারলেও, ভাতে না পারতে পারে’। অনেকেরই স্মরণ আছে যে গত চারদলীয় সরকারের আমলে কমিশনারদের বেতনভাতার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আর বর্তমান সরকার সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও কমিশনকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত রেখেছে। এ ছাড়া নাগরিক সমাজের দাবি সত্ত্বেও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কমিশনকে সব নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
যথাযথ আইনি কাঠামো সৃষ্টিই যথেষ্ট নয়, এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কমিশনকে সহযোগিতা এবং আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাশীলতাও প্রদর্শন করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত ভূমিকা কালিমালিপ্ত। উদাহরণস্বরূপ, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিলুপ্তি, বিদেশি শাখার অবসান, দলের তৃণমূলের সদস্যদের সুপারিশের আলোকে তৈরি প্যানেলের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদান প্রভৃতি হলো নির্বাচন কমিশনের অধীন রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এসব শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সংসদে অনুমোদনের সময় আইনগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও এনেছে। যেমন: দলের নেতা-কর্মীদের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি প্যানেল থেকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের বাধ্যবাধকতা আইন অনুমোদনের সময় রহিত করা হয়েছে, ফলে এখন দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে এসব সুপারিশ শুধু বিবেচনায় নিতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এ ধরনের ক্ষমতাহরণ সত্ত্বেও দলের নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো উচ্চবাচ্যই নেই।
নবম সংসদে পাস করা আইনগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু সহযোগিতার অভাবই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে রীতিমতো বাধাও দেওয়া হচ্ছে। যেমন: নিবন্ধনের শর্ত পূরণের জন্য দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত করার প্রশ্ন তুললে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলের রক্তচক্ষুর সম্মুখীন হতে হয়। কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তোলা হয়।
তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা অবশ্যই ‘নেসেসারি’ বা প্রয়োজনীয়, কিন্তু ‘সাফিসিয়েন্ট’ বা যথেষ্ট নয়। কারণ, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশন একটি পক্ষ মাত্র। অন্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলো হলো—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থী। এদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১০ লক্ষাধিক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রয়োজন হাজার হাজার আনসার, পুলিশ, বিজিবি, এমনকি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা। দুর্ভাগ্যবশত, দলতন্ত্রের যে সর্বগ্রাসী উন্মত্ততায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো লিপ্ত, তাতে এসব ব্যক্তির কাছ থেকেই নিরপেক্ষ আচরণ আশা করা যায় না।
এ কথা কারও অজানা নয় যে নির্বাচনী অসদাচরণের মূল হোতা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা। তারাই মনোনয়ন-বাণিজ্যে লিপ্ত হয়, দল কেনাবেচায় জড়িত হয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনে, দুর্বল প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয় এবং অনেক সময় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত রাখে, ভোটারদের নির্বাচনকেন্দ্রে আসা থেকে বিরত রাখে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে, সহিংসতায় লিপ্ত হয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজনৈতিক দলগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসব অপকর্ম বন্ধ করলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথের অধিকাংশ বাধাই দূর হয়ে যাবে। যেসব দেশে নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেছে, সেসব দেশে রাজনৈতিক দলের সদাচরণ বহুলাংশে নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা গড়ে তুলেছে। আমাদের দেশেও নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখায় একটি আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে দলগুলো সংযত আচরণ করেছিল। তাই একানব্বইয়ের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। তখন অবশ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দলবাজি ও ফায়দাবাজিতে লিপ্ত ছিল না।
তাই এটি সুস্পষ্ট যে সুষ্ঠুও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের মনোনীত প্রার্থীরা এবং দল ও প্রার্থীদের যেকোনো মূল্যে ও বৈধ-অবৈধ যেকোনো পন্থায় নির্বাচনে জেতার মানসিকতা। দলতন্ত্রের লাগামহীন বিস্তারের ফলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। একইভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অবশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার নাগরিকদের প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হুমকিরও অবসান ঘটাতে হবে।
আমাদের জন্য একটি অপূর্ব সুযোগ এসেছিল বহু আলোচিত মাগুরার উপনির্বাচনের পর। সেই উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কারচুপির আশ্রয় নিয়েছিল, নির্বাচন কমিশন তা ঠেকাতে পারেনি। তাই তখন সর্বাধিক প্রয়োজন ছিল রাজনৈতিক দলের সংস্কার ও রাজনীতিকে ‘ঠিক’ করা এবং কমিশনের সংস্কার। কিন্তু মূল সমস্যাগুলো কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রেখে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো জিকির তোলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের, যার দায়িত্ব মূলত নির্বাচনের সময়ে ‘পাহারাদারের’ ভূমিকা পালন করা। সমস্যা এড়িয়ে গেলে সমস্যা দূর হয় না, তাই ঘর পোড়া গরুর মতো এ স্লোগানটির পরিণতি সম্পর্কেও আমরা সন্দিহান।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সবকিছুর দায়িত্বে থাকবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু কমিশনের পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব। কারণ, নির্বাচন-সংক্রান্ত যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তা পরিচালনা করতেই কমিশনকে হিমশিম খেতে হয়। তাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার সময় কোথায়? এ ছাড়া নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ বা বিড়াল-ইঁদুরের খেলায় কমিশনকে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। উপরন্তু এটি তাদের সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্বের অংশও নয়। তবে আমরা চিন্তিত হয়েছি প্রথম আলোর (২০ জুলাই ২০১১) একটি সাম্প্রতিক হেডলাইন দেখে: ‘চার মন্ত্রণালয় নিজের দায়িত্বে রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন’।
পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে বাছাই কমিটির মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কমিশনার নিয়োগের পাশাপাশি আরও অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হলে জাতিকে ভবিষ্যতে আরও অনেক লীলাখেলা দেখতে হবে বলে আমাদের আশঙ্কা, যার পরিণতি অমঙ্গলকর হতে বাধ্য। তাই আজ জরুরি ভিত্তিতে আমাদের প্রধান দলগুলোকে আলোচনায় বসতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

কোচিংনির্ভর শিক্ষা আর কত দিন? by ফজলুল হক

যে কয়টি কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অবনতির মুখে পড়েছে, কোচিং-বাণিজ্য এর মধ্যে অন্যতম। এই বাণিজ্যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের অনেকেই পেশায় শিক্ষক; আবার কেউ অন্য কোনোখানে চাকরি না পেয়ে এতে নেমেছেন। একেবারেই শিক্ষাসংশ্লিষ্ট না হয়েও কেউ কেউ চালাচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য শিক্ষা-বাণিজ্য। বাণিজ্য চলছে তিনভাবে—ভর্তি কোচিং, একাডেমিক কোচিং ও বিসিএস কোচিং নামে। ভর্তি কোচিং চালু রয়েছে শিশুশ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত, একাডেমিক কোচিং চলে শ্রেণীকক্ষের পাঠ ও পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব পর্যায়েই আর পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি লাভের প্রস্তুতির জন্য চলছে বিসিএস কোচিং।
ভর্তি কোচিং শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার জন্য বাড়তি ব্যয়, টেনশন, আর প্রচুর ঝামেলা বহন করে চলেছে। অঞ্চলভেদে জনসংখ্যা অনুযায়ী স্কুল প্রতিষ্ঠা আর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অভিন্ন পাঠব্যবস্থা ও অবকাঠামোয় দাঁড় করাতে পারলে অবুঝ শিশু এবং তাদের অসহায় অভিভাবককে ভীষণ পীড়া থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষালাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; তাকে কেন জীবনের শুরুতেই নামতে হবে প্রতিযোগিতা নামক মহাসমুদ্রে! পৃথিবীর নানা দেশে যখন মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্র পালন করছে প্রধান ভূমিকা, সেখানে আমরা ডুবে আছি অনগ্রগতির অতল অন্ধকারে। যে রাষ্ট্র এখনো দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পাচ্ছে না; যেখানে এখনো বিদ্যুতের উৎপাদন আর চাহিদার বিরাট ফারাক; শিক্ষা যেখানে এখনো পণ্য; নারী যখন ভয়াবহ অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার, সেই রাষ্ট্রে তো শিশুকে প্রবল প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে জীবনযুদ্ধে! কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নামক প্রহসনের আড়ালেও লুকিয়ে আছে শত অপরাধের চালচিত্র। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অর্জিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন-অনুপাতে ভর্তি নীতিমালা তৈরি করা গেলে এই যন্ত্রণা থেকে জাতিকে রেহাই দেওয়া যায়। তা পারলে শহরমুখী মানুষের চাপ আর ভর্তি-বাণিজ্য এড়িয়ে চলা যায়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয় করে গড়ে উঠছে শিক্ষা-প্রতিকূল মানসিকতা; নষ্ট হচ্ছে শিক্ষকের নৈতিকতা; শিক্ষার্থীরা হারাচ্ছে আস্থা ও আশা।
নামকরা স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে কোচিং-বাণিজ্যের মহোৎসব; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাই কোচিংয়ের মালিক। অধিকাংশ শিক্ষকের বাড়িই এখন একেকটি কোচিং সেন্টার, যেন বাড়িতেই বসে গেছে স্কুল। রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে চালু হয়েছে এসি-ননএসির ব্যবস্থা; এসি রুমে পড়লে বেশি ফি দিতে হয়। চিকিৎসককে যেমন তাঁর মূল কর্মস্থলে পাওয়া দুষ্কর, তেমনি ভালো স্কুলের শিক্ষককেও বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া যায় প্রাইভেট পড়ানোর টেবিলে। মেডিকেল কলেজ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কিংবা স্কুল তাদের প্রয়োজনে পায় না চিকিৎসক বা শিক্ষককে। প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া প্যাথলজি থেকে টেস্ট না করালে কিংবা পছন্দের দোকান থেকে ও পছন্দের কোম্পানির ওষুধ না কিনলে যেমন খুশি হন না চিকিৎসক, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওই সব সেন্টারে না পড়লে আম-ছালা দুটোই হারাতে হয়।
কী পাঠ দেওয়া হয় কোচিং সেন্টারে? কেন এত অপবাদ সত্ত্বেও ছাত্র ও অভিভাবকদের এমন নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের দিকে আকর্ষণ? কারণ আর কিছু নয়, শুধু শিক্ষার্থীকে ‘দরকারি’, ‘অতিদরকারি’, ‘বিশেষ দরকারি’ নামে আখ্যায়িত করে পাঠ্যবিষয় চিহ্নিত করে দেওয়া; ওই বিষয়গুলোর রেডিমেড নোট দেওয়া। তারপর সেগুলো কণ্ঠস্থ করে হুবহু পরীক্ষার খাতায় উগড়ে আসার ব্যবস্থা করা। কেবল নোট আর পরীক্ষা। শিক্ষার্থীর সুবিধা হলো—পুরো বই পড়ার দরকার হয় না; নিজের নোট করার শ্রম লাগে না; পরীক্ষার জন্য বাছাইকৃত প্রশ্ন বা বিষয় ছাড়া বাড়তি কিছু পড়ার পরিশ্রম থাকে না। অর্থাৎ এসব সেন্টারের লক্ষ্য হচ্ছে বেশি নম্বর পাইয়ে ফলাফলে চমক দেখানো। পাঠে অনুশীলন, চিন্তা-চেতনার পরিশীলন, শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিক জ্ঞানচর্চার তৃষ্ণা সৃষ্টি করা নয়; স্রেফ পরীক্ষা আর অতি ভালো নম্বর লাভ করে কৃতিত্ব প্রদর্শন করা।
এমনিতেই অবজেকটিভ পড়াশোনার নামে আমরা জলাঞ্জলি দিয়েছি নিবিড় পাঠ; চারটির মধ্যে আন্দাজে একটিতে টিক দিলেও চলে; টেক্সট পড়ার আনন্দ থেকে দূরে সরে পড়েছে শিক্ষার্থী সমাজ। প্রকৃত জ্ঞানার্জনে সন্তানকে ব্রতী করার ব্যাপারে আমরা বুঝি বিভ্রান্ত। আমরা তার পরীক্ষার ফলাফলের চমকেই মোহিত ও তৃপ্ত। হু-হু করে বেড়ে চলেছে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কৃতীর ভাগীদার (!) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জৌলুশও বাড়তে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা অধিকতর সমৃদ্ধ করার মওকা বাড়ে; সে সঙ্গে ব্যবসাও ওঠে ফুলে-ফেঁপে।
শিক্ষকের সৃজনশীলতা, শিক্ষার্থীর উপস্থাপন দক্ষতা আর প্রতিষ্ঠানে ও রাষ্ট্রে শিক্ষাব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ের চিন্তাধারায় অত্যন্ত কার্যকরী। শিক্ষক কিংবা পাঠ-নির্দেশক হয়তো গাইডলাইন দিতে পারেন, কিছুতেই গাইডবই-নির্ভরতার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন না। বিস্ময়ের ব্যাপার, গাইডবই প্রকাশনার সঙ্গে অনেক শিক্ষকেরই নাম জড়িয়ে রয়েছে। মূল বই আর সহায়ক বইয়ের পার্থক্যের জটিলতা মুছে ফেলে কেবল নোট-গাইড জায়গা করে নিয়েছে আমাদের ভাবনার ভুবনটি।
শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও মননশীলতা বিকাশে সৃজনশীল রচনা লিখন ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের পাঠব্যবস্থার জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষক কিংবা সৃজনমুখী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ভেবে দেখা যায়। শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আর চিন্তার জগৎটিকে শাণিত করার জন্য, সক্রিয় রাখার জন্য বিনোদনমূলক পরিসর স্থাপনের কথাও ভাবতে হবে। শিশুকে জোর করে ভাত খাওয়ানোর মতো করে যেন সৃজনশীলতা নামক ট্যাবলেট গিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি না হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আর প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর দায় শিক্ষকের। উভয় পক্ষের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকাঠামোর ব্যবস্থাপনায়।
নোটবই-গাইডবই রচনা-প্রকাশ-প্রচার-বাজারজাতকরণ-প্রদর্শন ও পাঠ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। লোক দেখানো আর চোখ ধাঁধানো অভিযান-বক্তৃতা দিয়ে বেশি দিন জনতার দৃষ্টিতে ধুলা দেওয়া যায় না; সত্যটা একদিন বেরিয়ে পড়েই।
ফজলুল হক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

এবার কামতাপুরকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের ছয়টি জেলা নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি উঠেছে। কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে এই দাবি এর মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কামতাপুরকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার পাশাপাশি কামতাপুরের ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশন ১৯৯৫ সালে কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি তোলে।
গত ১৮ জুলাই দার্জিলিং চুক্তি সম্পাদনের পর সশস্ত্র আন্দোলনের পথ ছেড়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেন কামতাপুর ডেমোক্রেটিক লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতা পুলভ বর্মণ।

বেন আলী ও তাঁর জামাতার ১৬ বছরের কারাদণ্ড

তিউনিশিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবিদিন বেন আলী ও তাঁর জামাতাকে ১৬ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে তাঁদের এই সাজা দেন।
আদালতটি বেন আলী ও একসময়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শাকের আল-মাতেরিকে নয় কোটি ৭০ লাখ দিনার করে জরিমানা করেন। বেন আলীর মেয়ে নাসরিনকেও আট বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
আসামিদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেন আদালত। এটি ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অগিযোগগুলোর তৃতীয় বিচারের রায়। এতে সাবেক প্রেসিডেন্টকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হতে অস্বীকার করেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান বেন আলী।
এর আগে গত মাসে বেন আলী ও তাঁর স্ত্রী লাইলা ত্রাবলসিকে ৩৫ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। নগদ অর্থ ও বিশাল অঙ্কের মূল্যবান অলংকার আত্মসাতের দায়ে তাঁদের দণ্ডিত করা হয়। এর আগে মাদক ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অভিযোগে বেন আলী দোষী সাব্যস্ত হন।

কায়রোতে ফের বিক্ষোভ

মিসরের কায়রোর তাহরির স্কয়ারে আবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানে লোকসমাগম ঘটতে থাকে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে আগামী ৩ আগস্ট রাজধানী কায়রোতে শুনানিতে হাজির করা হবে। স্বাস্থ্যসমস্যাজনিত কারণে শুনানির মুলতবি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে সংস্কারকাজে ক্ষমতাসীন সেনা পরিষদের মন্থর গতির প্রতিবাদে ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী ১৮ জুলাই থেকে তাহরির স্কয়ারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে হোসনি মোবারককে পদত্যাগে বাধ্য করার ওই ‘ঐকবদ্ধ’ আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখার ব্যাপারে ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামি গোষ্ঠীগুলো মতৈক্যে পৌঁছেছে। অভিন্ন লক্ষ্যে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে ভোট পেছাল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণের অনুমোদিত সীমা বাড়াতে আনা প্রস্তাবের ওপর প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটি পিছিয়েছে। রক্ষণশীল রিপাবলিকান প্রতিনিধিদের বিরোধিতার কারণে ভোট পেছানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ভোট হওয়ার কথা ছিল।
বাজেটে আগামী ১০ বছরে ৯১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কাটছাঁট এবং ঋণসীমা ৯০০ বিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার রিপাবলিকান নেতা জন বোয়েনার। কিন্তু কট্টর রিপাবলিকান নেতারা ব্যয় আরও কাটছাঁট করে ঘাটতি হ্রাসের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে স্পিকার বোয়েনারের সঙ্গে ওই নেতাদের তুমুল বিতর্ক হয়।
বোয়েনারের বিলের ওপর ভোট কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। বোয়েনার এবং তাঁর পক্ষের আইনপ্রণেতারা চেষ্টা করেন রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়ার জন্য। কিন্তু একপর্যায়ে রিপাবলিকান প্রতিনিধি কেভিন ম্যাকার্থি জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হবে না।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাস না হলে মার্কিন সরকারের ব্যয় নির্বাহ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে।
সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা হ্যারি রিড মনে করেন, প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে হবে না। কেননা, সেখানে ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কাসাবের আপিল

ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মোহাম্মদ আজমল আমির কাসাব তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। গতকাল শুক্রবার একজন সরকারি কৌঁসুলি এ কথা জানিয়েছেন।
সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম বলেন, কারা পক্ষের মাধ্যমে কাসাব ওই আবেদন করেছেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট কবে নাগাদ কাসাবকে আইনি সহায়তা দেবেন ও আপিল আবেদন গ্রহণ করবেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
গত বছরের মে মাসে মুম্বাইয়ের হাইকোর্ট ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াসহ গণহত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কাসাবকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কাসাবের আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল তাজমহল প্যালেস হোটেল, প্রধান রেলওয়ে স্টেশন ও ইহুদিদের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
ওই হামলায় ১৬৬ জনের প্রাণহানি হয়। পাকিস্তানি নাগরিক কাসাব ও তাঁর সহযোগীরা মুম্বাইয়ের প্রধান রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ৫২ জনকে হত্যা করেন।

আন্না হাজারে অনশনের অনুমতি পেলেন না

ভারতের প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারেকে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় অনশন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে তাঁর আবেদন নাকচ করে গত শুক্রবার একটি চিঠি দিয়েছে দিল্লির পুলিশ। চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু ওই সময় সংসদ অধিবেশন চলবে, তাই যন্তর-মন্তর এলাকায় কোনো ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে আন্না হাজারে ও তাঁর অনুসারীরা চাইলে শহরের প্রান্তে কোনো স্থানে অনশন করতে পারেন। অথবা আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলে তাঁদের অবস্থান ধর্মঘটের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
পুলিশ ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি আদেশের দোহাই দিয়ে হাজারের আবেদন নাকচ করে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় লোকপাল বিলের খসড়া অনুমোদন হয়। আন্না হাজারে ও সুশীল সমাজের মতে, খসড়াটি ত্রুটিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে এই বিলের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্না হাজারে। মহারাষ্ট্রের একটি শহরে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এ কর্মসূচি কেবল তাঁর একার আন্দোলন নয়, বরং সমগ্র দেশের জনগণের।
আন্না হাজারের দেওয়া মূল প্রস্তাবনাগুলো অন্তর্ভুক্ত না করেই গত বৃহস্পতিবার লোকপাল বিলের খসড়া অনুমোদন করে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় তদন্ত করতে পারবে লোকপাল। এতে একজন সভাপতি ও আটজন সদস্য থাকবেন। লোকপালের অর্ধেক সদস্য নেওয়া হবে বিচারপতিদের মধ্য থেকে। তদন্ত ও মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ লোকপালের নিজস্ব দল থাকবে।
প্রত্যাখ্যান করেছে সিপিআই (এম): মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত লোকপাল বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-এম)। বিলটিকে ‘দন্তহীন’ হিসেবে উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার দলটি বলেছে, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে এটি ফলপ্রসূ হবে না। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে লোকপালের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

বিমান দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়াকে আংশিক দায়ী করল পোল্যান্ড

প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কিকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য রাশিয়াকে আংশিক দায়ী বলে চিহ্নিত করেছে পোল্যান্ড। তারা বলছে, পাইলটের ভুলই ছিল দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ। কিন্তু রুশ বিমানবন্দর ও তাদের কন্ট্রোলাররাও এ জন্য দায়ী ছিলেন।
গত বছরের এপ্রিলে রাশিয়ায় সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টসহ ৯৬ জন নিহত হন।
ঘটনাটি তদন্তে গঠিত পোল্যান্ড সরকারের তদন্ত কমিটি গতকাল শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটির পাইলটরা ঘন কুয়াশার মধ্যে বিমান অবতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওই সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি করে ফেলেছিলেন। তাঁদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণও ছিল না। এতে বলা হয়, রাশিয়ার বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রকেরা বিমানবন্দর থেকে দূরত্বের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।
রাশিয়ায় তৈরি তুপোলেভ বিমানটিতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কাচজিনস্কি, তাঁর স্ত্রী মারিয়া, পোলিশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার ও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ ৯৬ জন নিহত হন। তাঁরা সবাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর হাতে নিহত পোলিশ বন্দীদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পশ্চিম রাশিয়ার স্মলেনস্কে পরিত্যক্ত এক বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

তুরস্কে সামরিক প্রধানদের একযোগে পদত্যাগ

তুরস্কে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান গতকাল শুক্রবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁদের পদত্যাগের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তুরস্কে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সরকারের সঙ্গে দেশের সামরিক বাহিনীর গত কয়েক বছরে তেমন কোনো দ্বন্দ্বের কথা জনা যায়নি।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইসিক কোছানার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মনে হয়েছে, পদত্যাগ করা প্রয়োজন। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি নির্ধারণ করে সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল। আগামী সপ্তাহে কাউন্সিলের বৈঠক আছে।
জানা গেছে, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তার চলমান বিচারকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দূরত্ব বেড়েছে।
২০০৩ সালে সেনাবাহিনীর একটি সেমিনারে তথাকথিত ‘স্লেজহামার’ অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়। এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির বিরুদ্ধে দেশের অসাম্প্রদায়িক সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের অনেকগুলো অভিযোগের এটি একটি।
সমালোচকেরা দীর্ঘদিন থেকেই বলছেন, একে পার্টির কোনো গোপন ইসলামি লক্ষ্য আছে। তবে এই অভিযোগ বেশ জোরালোভাবে অস্বীকার করে এসেছে দলটি।
জেনারেল কোছানার মাত্র এক বছর আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু স্লেজহামার ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে তাঁর নিয়োগ নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের সৃষ্টি হয়।
এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে জেনারেল হাসান ইগসিজের নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেটো দেন রাজনীতিকেরা। প্রাথমিকভাবে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হলেও স্লেজহামার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তাঁর নিয়োগ বন্ধ করা হয়।
একে পার্টি ক্ষমতা নেওয়ার পর পরই ইস্তাম্বুলে ফার্স্ট আর্মির ঘাঁটিতে ওই ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে বলা হয়ে থাকে। ষড়যন্ত্র অনুযায়ী, মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রিসের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এতে করে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারবে।

ব্রেইভিককে আবার জেরা

নরওয়ের আলোচিত বোমা হামলা ও নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিককে গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় জেরা করেছে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, গত কয়েক দিনে ব্রেইভিককে জেরা করে এবং তদন্ত চালিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা নিয়েই তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অসলোর পুলিশ কর্মকর্তা পল ফ্রেডরিক হোর্ট এ ব্যাপারে শুধু বলেন, গত কয়েক দিনে ব্রেইভিক ‘বিস্তর তথ্য’ দিয়েছেন। তিনি এর বেশি কিছু বলেননি। ব্রেইভিক ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে নিজে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম অভিবাসীদের উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারে ইউরোপের সরকারগুলোর সহায়তার প্রতিবাদে ওই হামলা চালিয়েছেন।
গতকাল ইলা নামের উচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থাসংবলিত কারাগার থেকে কড়া পাহারায় ব্রেইভিককে অসলোর পুলিশ সদর দপ্তরে আনা হয়। সেখানে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে জেরা করেন। এ সময় কয়েকজন মনোচিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। কৌঁসুলিরা বলেছেন, ২০১২ সালের আগে ব্রেইভিকের বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে না।
ব্রেইভিকের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একজনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইয়েমেনে সেনাসহ নিহত ৭৫

ইয়েমেনের রাজধানী সানার উত্তরাঞ্চলীয় একটি সেনাঘাঁটিতে গত বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৪০ সেনা এবং ৩৫ জন সরকারবিরোধী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিনহুয়ার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকালশুক্রবার ইয়েমেনের আল-কায়েদাপ্রধান কাসিম আল রিমি এক অডিও বার্তায় সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামি ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণকারীসাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ কথা জানায়।
অডিও বার্তায়কাসিম বলেন, ‘সৌদি পণ্ডিত ব্যক্তিদের আমি এ কথা বলতে চাই যে আপনাদের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ, তাঁর উত্তরসূরি প্রিন্স, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ছেলে মোহাম্মদ আমাদের কাছে স্বধর্মত্যাগী বলে বিবেচিত। তাঁদের অবশ্যই হত্যা করা হবে।’
ইয়েমেনের রিপাবলিকান গার্ডসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী আদিবাসী সশস্ত্র জোট জয়েন্ট মিটিং পার্টিজ (জেএমপি) বৃহস্পতিবার প্রদেশের সামা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। এ সময় ওই ঘাঁটিতে থাকা রিপাবলিকান গার্ডসের অন্তত ৪০ সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া সরকারবিরোধীরা ৫০ সেনাকে অপহরণ করেছে।
খবরে বলা হয়, একপর্যায়ে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়ে সরকারবিরোধীদের ওই সেনাঘাঁটি এলাকা থেকে হটানো হয়। এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন সরকারবিরোধী নিহত হয়।
এর আগে ক্ষমতাসীন পার্টির ওয়েবসাইটের এক খবরে বলা হয়, সামা সেনাঘাঁটিতে আল-কায়েদা ও সরকারবিরোধী আদিবাসী গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারবিরোধী অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, স্বপক্ষত্যাগী ফার্স্ট আরমারর্ড ডিভিশন অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে বিরোধীদের সহায়তা করছে। প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর সৎভাই মেজর জেনারেল আলী মোহসেন আল-আহমার ওই ডিভিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সরকারবিরোধী জেএমপি সামা সেনাঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সানার উত্তরাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশপথ অবরোধ করে রেখেছে বিরোধীরা। সালেহর বড় ছেলে আহমেদ আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের এলিট রিপাবলিকান গার্ডসের নেতৃত্বে রয়েছেন।
আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর সূত্রের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানায়, একই দিন সরকারবিরোধীদের আস্তানা লক্ষ্য করে আরহাব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামে যুদ্ধবিমান থেকে বেশ কয়েক দফা হামলা চালানো হয়।
আরহাব গোষ্ঠীর শেখ হামিদ আসেমের বরাত দিয়ে জিনিউজের এক খবরে বলা হয়, আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে।
গতকাল জিনিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আল-শাহর শহরে সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে। জ্বালানি তেল ও খাদ্যসামগ্রীর ঘাটতির প্রতিবাদে বিরোধীরা ওই বিক্ষোভ করছিল।

ফাইনালে বাংলাদেশ

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক বাস্কেটবলের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আজ ফাইনালে তাদের মুখোমুখি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দল। ধানমন্ডি ইনডোরে কাল ছিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় মালদ্বীপ ৮২-৮১ পয়েন্টে হারিয়েছে মালয়েশিয়াকে। অথচ প্রথমার্ধে মালয়েশিয়া এগিয়ে ছিল ৩৪-৩০ পয়েন্টে।

সেই মারাকানাতেই ফাইনাল

‘সকার সিটি’ থেকে ‘সকার কান্ট্রি’। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে। ১১ জুলাইয়ের ওই ফাইনালের পর থেকেই আরেকটি ফাইনালের অপেক্ষা। সকার সিটি থেকে বিশ্বকাপ ফিরছে সকার কান্ট্রি, মানে ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে। ঠিক হয়ে গেছে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যুও—মারাকানা স্টেডিয়াম।
সেই মারাকানা, ১৯৫০ বিশ্বকাপে যেখানে আশার সমাধি হয়েছিল ব্রাজিলিয়ানদের। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে ফেবারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছিল উরুগুয়ে।
ব্রাজিল পরে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে ঠিক, কিন্তু ১৯৫০ থেকেই ‘মারাকানা’ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে অভিশপ্ত এক নাম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম মারাকানা আরও অনেক কারণেই বিখ্যাত। ১৯৫৭ সালে এ মাঠেই জাতীয় দলের হয়ে পেলের প্রথম গোল; ১৯৬৯ সালে ক্যারিয়ারের সহস্রতম গোলও তাঁর এখানেই।
পরশু ফিফা মহাসচিব জেরম ভালক ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেছেন মারাকানাকে। দুটি সেমিফাইনাল ও উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু ঠিক হবে পরে। ভেন্যু তো মোট ১২টি। মারাকানা অবশ্য আগের রূপে নেই। ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে মারাকানাকে ভেঙেচুরে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। ব্রাজিলিয়ানরাও আশার মশাল জ্বালছেন নতুন করে।
আজই রিও ডি জেনিরোতে হয়ে যাবে ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ড্র। এ উপলক্ষে বিশ্বের ১০০০ রথী-মহারথী উপস্থিত হয়েছেন ব্রাজিলে।
২০৩টি দেশ বাছাইপর্বে খেলবে মোট ৮২৪টি ম্যাচ। এই দীর্ঘ পথের শেষে ২০১৩ সালের নভেম্বরে জানা যাবে কোন ৩১টি দেশ পাবে ব্রাজিল-যাত্রার টিকিট। ইউরোপ থেকে ১৩টি দল, আফ্রিকা থেকে ৫টি, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাড়ে ৪টি, এশিয়া থেকে সাড়ে ৪টি, উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে সাড়ে ৩টি এবং ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে ‘আধখানা’ দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। এ ছাড়া স্বাগতিক ব্রাজিল তো খেলবেই। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পঞ্চম ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের চতুর্থ দলের প্লে-অফের জয়ী দল এবং এশিয়া অঞ্চলের পঞ্চম দলের সঙ্গে ওশেনিয়া অঞ্চলের শীর্ষ দলের প্লে-অফের বিজয়ী দল যাবে ব্রাজিলে।
টুর্নামেন্টের দিনক্ষণও চূড়ান্ত—১২ জুন শুরু হয়ে ব্রাজিল আসরের মশাল নিভবে ১৩ জুলাই ২০১৪।

সবার জন্যই উন্মুক্ত টেস্ট দল

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে চলছে ‘নাথান লিওন’ ঝড়। মাত্র ৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা অফ স্পিনারকে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে নেওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সমালোচনার মিছিল। সেই মিছিলে যোগ দিলেন এমন একজন, যাঁর নামটি চমকে ওঠার মতো। শুধু এখনো খেলছেন বলেই নয়, তিনি যে অস্ট্রেলিয়ার একটি দলের অধিনায়কও! অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ক্যামেরন হোয়াইটের আক্ষেপ, যে কাউকে ধরে এনে টেস্ট খেলতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে!
শেন ওয়ার্নের উত্তরসূরি খোঁজার তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন লিওন। ২০০৭ সালে ওয়ার্নের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া ১২তম স্পিনার এই ২৩ বছর বয়সী। টেস্ট দলের আরেক স্পিনার মাইকেল বিয়ার, লিওনের আগে ঝড় উঠেছিল যাঁকে নিয়ে। অ্যাশেজের শেষ টেস্টে নেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা বাঁহাতি স্পিনারকে। শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনারের প্রথম শ্রেণীর অভিজ্ঞতা ১৭ ম্যাচ! দলে জায়গা পাওয়া ফাস্ট বোলার টেন্ট কোপল্যান্ড প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৭টি। টেস্ট ক্যাপটা এত সহজলভ্য দেখে হতাশ হোয়াইট, ‘মনে হচ্ছে, যারা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে খেলছে, তাদের সবার জন্যই টেস্ট দলের দরজা উন্মুক্ত। জানি না কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা।’
এই নির্বাচন-নীতি নিয়ে প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ এবং আরেক নির্বাচক ও ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার গ্রেগ চ্যাপেলের ব্যাখ্যাটাও অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত রীতির পুরো উল্টো। নির্বাচকদের ভাবনা হলো, অনেককে সুযোগ করে দেওয়া, তাঁদের মধ্যে শুরুতেই যাঁরা সম্ভাবনার ছাপ রাখতে পারবেন, তাঁদের লম্বা সময় ধরে গড়ে তোলা হবে। যেটাকে বলা যায় সম্ভাবনা দেখে দলে নেওয়া নয়, বরং দলে নিয়ে সম্ভাবনা আছে কি না দেখা! অথচ সর্বশেষ যখন অস্ট্রেলিয়াকে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তখন প্রক্রিয়াটা ছিল ভিন্ন। প্রতিভাবান একদল তরুণ ক্রিকেটার বাছাই করে অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে তাঁদের গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিল স্টিভ ওয়াহ, ডিন জোনস, জিওফ মার্শ, ডেভিড বুন, ক্রেইগ ম্যাকডারমটের মতো ক্রিকেটাররা। ওয়েবসাইট।
কোচ টিম নিলসন অবশ্য নির্বাচকদের নীতির পক্ষেই, ‘আমরা এমন একজন স্পিনার খুঁজছি যে তিন ধরনের ক্রিকেটেই দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে। সত্যি বলতে আগে যাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কেউ সুযোগটা লুফে নিয়ে জায়গাটা পাকা করতে পারেনি।’

স্বপ্নভঙ্গের পর বোধোদয়

জিতেও পরশু ড্রেসিংরুমে আনন্দের ঢেউ ছিল না। হবেই বা কেন! এশিয়া থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল পর্বে যে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। ঢোকা হলো না এশিয়ার সেরা বিশে। লেবাননকে ২-০ গোলে হারানোর পরও তাই আকাশে ওড়েননি ফুটবলাররা। ম্যাচের পরই কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি এমিলি-মিঠুনদের বলেছেন, পরের রাউন্ডে উঠলেই আনন্দ করা যেত। বাস্তবের মাটিতে পা রাখা কোচের উপলব্ধি, আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে হবে। গতকাল ছুটি নিয়ে মেসিডোনিয়ায় যাওয়ার আগেও সেটাই বললেন, ‘আমার এখন একটাই চাওয়া, প্রতি মাসে যেন অন্তত দুটি করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি।’
বাংলাদেশের পরের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আগামী ডিসেম্বরে—সাফ ফুটবল। কোচ ছুটি নিয়েছেন এক মাসের। তবে যাওয়ার আগে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে দিয়ে গেছেন কয়েকটি প্রস্তাব।
এশিয়ার সেরা বিশে ঢোকার এমন সোনালি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর চারদিকে শুধুই আফসোস। এখান থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনের দিকে এগোতে চান কর্মকর্তারা। জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বললেন, ‘আমাদের বসে থাকার সময় নেই। সামনেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা, সাফ ফুটবল ডিসেম্বরে। এর জন্য কয়েক দিন পরই প্রস্তুতি শুরু করব। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে যদি ভালো কিছু খেলোয়াড় পাই, তাহলে তাঁদের সাফ ফুটবলে খেলানোর চেষ্টা করব। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলার চিন্তাভাবনাও করছি।’
কর্মকর্তাদের মতো আক্ষেপ খেলোয়াড়দেরও। জয়ের অন্যতম নায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘খারাপ তো লাগছেই। কিন্তু কী আর করা! আবার চার বছর পর বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে হবে।’ জাতীয় দলের প্রস্তুতিটা যেন অনেক দিনের হয় সেটাই প্রত্যাশা, ‘এবার যেন অনেক দিনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এমন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া উচিত।’ লেবানন জয়ের আরেক নায়ক মিঠুন চৌধুরী অ্যাওয়ে ম্যাচের দুর্বলতাই বড় করে দেখছেন, ‘বাইরে খেলতে গেলে অনেক সমস্যা হয় আমাদের। এসব ম্যাচ খেলার আগে তাই বিদেশে গিয়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উচিত।’
তরুণ গোলরক্ষক মামুন খান পরশু ম্যাচ শেষ করেই গেছেন গ্রামের বাড়ি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দিয়েছেন ভাইয়ের বিয়েতে। কোচের দেওয়া চ্যালেঞ্জ উতরে গেছেন, এখন তাঁর চোখ সাফ ফুটবলে, ‘কোচ প্র্যাকটিসেই বলতেন যে তোমাকে খেলাতে চাই। আমি আমার সাধ্যমতো কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে চেষ্টা করেছি। এখন আমার চিন্তাভাবনা সাফ ফুটবল নিয়ে।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক মনে করেন, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের কাউন্সেলিং দরকার। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেমন টেম্পারমেন্ট, কী মানসিকতা নিয়ে খেলা উচিত, সেটা জানা নেই। মূল কথা, আমরা যেন হারার আগে হেরে না বসি। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অবশ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা।’
বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী কালকের খেলা দেখে খুশি, ‘আমাদের সমস্যা হলো, আমরা অনেক সময় বাজে গোল খেয়ে বসি। কালকের খেলায় সেটা ছিল না। দল ছিল গোছানো। সবার মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। একসঙ্গে ১৫-২০টা পাসও খেলেছে ওরা। অনেক ছোট ছোট পাসে খেলেছে। এটাই ধরে রাখতে হবে। আর একটা ব্যাপার, বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিষয়টি ভাবতে হবে আমাদের।’
প্রতিবারই কোনো টুর্নামেন্ট শেষে এমন বোধোদয় হয় বাফুফের। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। দেখা যাক, এবার কী হয়!

হিনার ক্রিকেট কূটনীতি

প্রথম সফরেই ভারত মাত করে দিয়েছেন হিনা রব্বানি খার। সৌন্দর্য, পোশাক সচেতনতা, বুদ্ধিমত্তা—সবদিক দিয়েই দারুণ নজর কেড়েছেন পাকিস্তানের কনিষ্ঠতম ও প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও চলছে ৩৪ বছর বয়সী হিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা, কোনো কোনো পত্রপত্রিকায় তাঁকে বলা হচ্ছে ‘স্টাইল আইকন।’ দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলার ইঙ্গিত হিনার এই সফরের সূত্রে। সুযোগ বুঝে আলোচনায় ক্রিকেটকেও টেনে এনেছেন হিনা, চাইছেন আবার চালু হোক দুই দেশের টেস্ট সিরিজ। আবার জোড়া লাগুক দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। তবে গত মাসে হংকংয়ে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় ক্রিকেট সম্পর্ক আবার জোড়া লাগাতে আলোচনা করেছেন দুই দেশের ক্রিকেট-কর্তারা। গত বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার সঙ্গে বৈঠকে ইন্দো-পাক টেস্ট সিরিজ আবার চালুর প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন হিনা। কৃষ্ণা জানান, ভারতও এ ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। দুজনের যৌথ বিবৃতিতে অবশ্য ক্রিকেট-প্রসঙ্গ আলাদা করে আসেনি, তবে ক্রীড়া সম্পর্ক আবার চালুর কথা বলা হয়েছে।
বুধবার রাতেই পাকিস্তানি হাইকমিশনের নৈশভোজে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গেও কথা বলেছেন হিনা। রাজীব কথা দিয়েছেন, আগামী মাসে বিসিসিআইয়ের নির্ধারিত সভায় অবশ্যই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হবে। নিকট ভবিষ্যতে সত্যিই যদি আবার চালু হয় দুই দেশের ক্রিকেট সিরিজ, হিনার জন্য নিশ্চয়ই সেটা হবে বড় সাফল্য!

স্বস্তি হয়ে এল হারারের মিঠে রোদ

প্রায় মধ্যরাতে হোটেলে ঢুকে এক দিন পরই নেমে পড়তে হচ্ছে ম্যাচ খেলতে। এটা যদি অস্বস্তির কাঁটা হয়, স্বস্তির সুবাতাস বয়ে এনেছে হারারের মিঠে রোদ।
গ্রীষ্মকে বিদায় জানিয়ে জিম্বাবুয়ে শীতকালে ঢুকে পড়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। দেশে থাকতেই সেই শীতের কাঁপুনি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল ক্রিকেটারদের। প্রথম আলোয় লেখা নিজের কলামে ‘ঠান্ডায় আমাদের বড় সমস্যা হয়’ জানিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জিম্বাবুয়ের চেয়েও আবহাওয়াকে কম বড় প্রতিপক্ষ মনে করছেন না।
বৃহস্পতিবার রাতে হারারে বিমানবন্দরে নামার সময় ‘মাটিতে তাপমাত্রা এখন ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস’ ঘোষণাটা তাই বড় মধুর শুনিয়েছে সবার কানে। কাল দুপুর যায়-যায় বিকেলে শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে অনুশীলনের সময় ঠান্ডা নিয়ে দুশ্চিন্তাটা মোটামুটি উধাও। সন্ধ্যার পর পারদ একটু নামবে, তবে দুপুরে সেটি ২৩-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। স্টুয়ার্ট ল যেটিকে বলছেন, ‘ক্রিকেট খেলার জন্য আদর্শ তাপমাত্রা।’
একটা দুশ্চিন্তা আপাতত গেল। তবে দেশ থেকে বয়ে নিয়ে আসা আরেকটি এখনই নয়। কুঁচকির সমস্যা তামিম ইকবালকে প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলতে দিচ্ছে না। কাল সকালে সাকিব নিশ্চিত করেছিলেন তামিম খেলবে। কিন্তু টেস্টের জন্য ঝুঁকি হয়ে যাবে ভেবে পরে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। অপ্রত্যাশিত দিক থেকে ধেয়ে আসা দুশ্চিন্তা অবশ্য পুরো যাত্রাপথেই তাড়া করে ফিরেছে বাংলাদেশ দলকে। দোহা বিমানবন্দরে আটকে পড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ হয়ে যেতে যেতে শেষ মুহূর্তে বিমানে ওঠার অনুমতি মিলেছে। আটকে দিয়েছিল কাতার এয়ারওয়েজ। তবে দোষটা তাদের নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। বছর খানেক আগে থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে জিম্বাবুয়ে যেতে যে ট্রানজিট ভিসা লাগে, সেই খবরটা না রেখে দলকে বিমানে তুলে দেওয়া যদি বিসিবির অপেশাদারি মনোভাবের প্রমাণ না হয়, তাহলে শব্দটার অর্থ নতুন করে জানতে হবে।
শেষ পর্যন্ত উদ্ধার মিলেছে প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎপরতায়। জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এসেছিলেন দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা। তরুণ সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহাব-বিন-আহমেদ জানালেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যাচ্ছে, সেটি তাঁরা জানতে পেরেছেন সকালে দল দোহায় আটকা পড়ার পর। তিনিই জানালেন, ভিসার ঝামেলা থাকলে মন্ত্রী-টন্ত্রীকেও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সকালে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটা সভা ছিল বলে বাঁচোয়া।
২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় থেকে এই ট্রানজিট ভিসার নতুন নিয়মটা হয়েছে। আফ্রিকার অন্য কোনো দেশে যেতে সমস্যা নেই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে প্রতিবেশী ছয় দেশ জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড ও লেসোথো যেতে ট্রানজিট ভিসা লাগবেই। নিয়মটা করা হয়েছে ‘আফ্রিকা মহাদেশের আমেরিকা’ দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। অনেকে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে এসব দেশে গিয়ে সুযোগমতো আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকে যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এমন কিছু করতে পারেন—এই সন্দেহ অবশ্যই কেউ করেনি। কিন্তু নিয়ম নিয়মই। সেটি তুমি আবদুর রহিম হও বা সাকিব আল হাসান!
আজ শুরু তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল অবশ্য একটু নিয়ম ভাঙতে চায়। টেস্ট ম্যাচের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু এটিকে টেস্টের সম্ভাব্য একাদশের প্রস্তুতির বদলে একাদশ গড়ার প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও কোচ। ইচ্ছা সব ব্যাটসম্যান যেন ব্যাটিং করার সুযোগ পান, সব বোলার বোলিং। বাংলাদেশের জন্য সফরটিকে যতটা সম্ভব কঠিন করার চেষ্টা করে আসা জিম্বাবুয়ে এই ইচ্ছা পূরণ করবে কি না, সেটি কাল বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ দল কদিন আগে আসতে চেয়েছিল, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বাড়তি কদিনের জন্য অবিশ্বাস্য একটা অঙ্ক দাবি করে আসতে দেয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যেকোনো সফরেই ‘ওরা গেলে আমরা কী করি, আর ওরা আমাদের কী করছে’ অনুযোগ শোনা যায়। আতিথেয়তার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে বিসিবি ইংল্যান্ড দলকে টেস্ট ভেন্যুতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেয়। নিউজিল্যান্ডকে অনুশীলন করতে দেয় সেন্টার উইকেটে। বিমানবন্দরে সাদর অভ্যর্থনার ব্যাপারটা তো আছেই। পরশু বাংলাদেশ দলকে ‘বরণ’ করতে বিমানবন্দরে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের একজন মাত্র কর্মকর্তা। টেস্ট ভেন্যুতেই প্রস্তুতি ম্যাচ শুনে সকালে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করা স্টুয়ার্ট ল দুপুরেই জেনেছেন, হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নয়, ম্যাচটা হবে একাডেমির মাঠে।
একটা ব্যাপার অবশ্য খেলোয়াড়দের সকালেই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন নতুন কোচ। দীর্ঘ যাত্রাপথ, এক দিন পরই ম্যাচ খেলতে নেমে পড়া—কেউ যেন ভুলেও এসবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা না করে। ‘তুমি পেশাদার ক্রিকেটার, তোমাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সেরাটা দিতে হবে’—বাংলাদেশ দলের এই মন্ত্রটা সাকিব আল হাসানও সাংবাদিকদের শুনিয়ে গেছেন এর আগেই। প্রথম কোনো দলের হেড কোচের দায়িত্ব পাওয়া স্টুয়ার্ট ল-কে স্বাভাবিকভাবেই খুব রোমাঞ্চিত মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের সবাইকে নামে চেনার কাজটা যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে সহজে করে ফেলতে পেরেও খুব খুশি মনে হলো তাঁকে। ‘শ্রীলঙ্কান প্লেয়ারদের সবাইকে চিনতে আমার ছয় সপ্তাহ লেগেছিল। ওরা নিকনেমে একে অন্যকে ডাকে, হঠাৎ বলে আসল নামটা। খুব সমস্যা হয়েছিল।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সবার মুখে কোচের ‘ইতিবাচক মনোভঙ্গি’র সুনাম। সেটির প্রমাণ পাওয়া গেল ৪০ ঘণ্টার বেশি পথে কাটানো প্রসঙ্গেও। ল হাসতে হাসতে জানালেন, গত বছর শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে মায়ামি হয়ে জিম্বাবুয়ে পৌঁছাতে ৫৮ ঘণ্টা লেগেছিল!

দুঃখ ভুলতে পারছেন না মেসি

মিশন কোপা আমেরিকা শেষ হয়েছে চরম ব্যর্থতায়। কিন্তু দুঃখটা এখনো ভুলতে পারেননি লিওনেল মেসি। সেই হতাশাই ঝরে পড়ছে তাঁর কণ্ঠে। অবশ্য ভবিষ্যতের দিকেও তাকাচ্ছেন এই বলে, ‘আমি আসলেই বেদনাহত। কোপায় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে হবে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ আসছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।’
মেসির জন্য এখন প্রস্তুত হওয়াটা তাঁর ক্লাবের জন্যও। গত মৌসুমে ৫৩ গোল করা মেসি অবশ্য বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম সফরে যোগ দেননি। এর বদলে চিলিতে গেছেন প্রীতি ম্যাচ খেলতে। চিলিরই উঠতি তারকা আলেক্সিস সানচেজ যোগ দিয়েছেন বার্সায়। নতুন সতীর্থ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘ব্যক্তিগতভাবে ওকে সেভাবে চিনি না। তবে খেলোয়াড় হিসেবে ও কী করতে পারে, সেটা ইতালির ক্লাব ফুটবলে আর চিলি জাতীয় দলে খেলার সময়েই দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের জন্য সে অনেক কিছু এনে দেবে। ও শিগগিরই মানিয়েও নিতে পারবে। ওকে সই করানোটা আমাদের জন্য দারুণ হয়েছে।’

লোকিটর চার সোনা

বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে সোনালি একটি রাত গেল যুক্তরাষ্ট্র ও রায়ান লোকিটর। কাল আরও দুটি সোনার পদক জয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্রকে ২–২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল রিলেতেও জিতিয়েছেন দুই বছর পর সাঁতারে প্রথম বিশ্ব রেকর্ড করা লোকিট। কালকের দুটিসহ এবার এখন পর্যন্ত চারটি সোনা জেতা হয়ে গেল এই মার্কিনের। এখনো একটি ইভেন্ট হাতে আছে তাঁর।
লোকিট কাল রিলেতে যুক্তরাষ্ট্রকে টানা চতুর্থ বিশ্ব শিরোপা এনে দেওয়ার আগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকেও জেতেন। তবে জিতেও খুশি হননি, কারণ টাইমিংটা যে ভালো হয়নি। ১ মিনিট ৫২.৯৬ সেকেন্ড সময় লাগায় অসন্তুষ্টই তিনি, ‘আমার মনে হয় না, এটা আমার জন্য ভালো সময়। আমি জানি, আমি আরও অনেক দ্রুত সাঁতরাতে পারি। হাতে আরও এক বছর সময় আছে (অলিম্পিকের জন্য), আশা করছি, এ সময়ের মধ্যেই আরও উন্নতি করতে পারব।’
কাল দিনের শেষ ইভেন্ট ২–২০০ মিটার রিলে জিততে যুক্তরাষ্ট্রকে পড়তে হয় ফ্রান্সের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। মাইকেল ফেল্প্স, পিটার ভানডারকায়, রিচার্ড বেরেনস ও লোকিটর সমন্বয়ে গড়া যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে ছিল অর্ধেক দূরত্ব পর্যন্ত। তৃতীয় ল্যাপে লোকিটই প্রথম লিড এনে দেন। যুক্তরাষ্ট্রকে কাল বাকি সোনাটি এনে দিয়েছেন রেবেকা সনি। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের পর ২০০ মিটারেও জিতে সাংহাইয়ে ডাবল করলেন এই মার্কিন।
এদিকে মেয়েদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে সমান সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন বেলারুশের আলিয়াকসান্দ্রা হেরাসিমেনিয়া ও ডেনমার্কের জেনেট ওটেসন। দুজনই সময় নিয়েছেন ৫৩.৪৫ সেকেন্ড। বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০ বছরের ইতিহাসে এটি তৃতীয়বারের মতো যৌথভাবে সোনা জেতার ঘটনা। এবারই হলো দুবার। গত মঙ্গলবার ছেলেদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই ফরাসি ক্যামিলে ল্যাকোর্ট ও জেরেমি স্ত্রাভিয়াস যৌথভাবে প্রথম হয়েছিলেন। রয়টার্স, এএফপি।
তবে কাল রাতটি ভালো কাটেনি এথেন্স ও বেইজিংয়ে ব্রেস্টস্ট্রোকের ডাবলজয়ী কোসুকে কিতাজিমার। এই জাপানি হেরে গেছেন হাঙ্গেরির ড্যানিয়েল গিউত্রার কাছে।

বাতিস্তার পর সাবেলা

আর্জেন্টাইন দল নিয়ে কাজ তিনি আগেও করেছেন। ছিলেন ড্যানিয়েল পাসারেলার সহকারী। এবার আর সহকারী হয়ে নয়, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হয়েই ফিরলেন আলেজান্দ্রো সাবেলা। পরশু ৫৬ বছর বয়সী এই কোচের নাম ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা (এএফএ)।
আর্জেন্টিনায় খুবই সমাদৃত পাসারেলার সহকারী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ইতালির ক্লাব পার্মা, উরুগুয়ের জাতীয় দল, মেক্সিকোর একটি ক্লাব, ব্রাজিলের করিন্থিয়ানস আর আর্জেন্টিনার রিভার প্লেটেও। পাসারেলার সঙ্গে দীর্ঘ এই সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রধান কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০০৯ সালে। শুরুতেই সাফল্য। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে সম্মানজনক ক্লাব-শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট কোপা লিবার্তোদোরেস জেতা এস্তুদিয়ান্তেসকে। পরের বছর জিতিয়েছেন লিগও। কিন্তু দ্রুতই ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন সাবেলা।
কদিন আগে আরব আমিরাতের সফল ক্লাব আল-জাজিরার দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু চুক্তির শেষ মুহূর্তে সরে যান। কারণ জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব আকস্মিকভাবে এসে দাঁড়ায় তাঁর দুয়ারে। সাবেলা সেই চ্যালেঞ্জটাই নিলেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারটা থেমে গিয়েছিল অল্প কটা ম্যাচেই। কোনো শিরোপা জেতা হয়নি। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। মেসি-আগুয়েরো-তেভেজ-পাস্তোরেদের মতো এ সময়ের অন্যতম সেরা তারকাদের মতো একটা দল কেন সফল হতে পারছে না—সাবেলা হয়তো খুঁজে পাবেন সেই উত্তরও।
রোমানিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় সাবেলার কোচ হিসেবে অভিষেক হতে পারে ভারতে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে। এর পরের ম্যাচটিই বাংলাদেশে—আর্জেন্টিনা খেলবে নাইজেরিয়ার সঙ্গে।

টেন্ডুলকারের আরেকটি ‘সেঞ্চুরি’

ট্রেন্টব্রিজে একটা সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন শচীন টেন্ডুলকার। ভাবছেন, তাহলে তো বহু প্রত্যাশিত সেই সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিটা হয়েই গেল! নাহ...ওটার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। এই সেঞ্চুরি মাঠে নামার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডটা গত বছরের আগস্ট থেকে তাঁর ঝুলিতে, বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডটা আছে আরও আগে থেকেই। এবার বিদেশের মাটিতে ১০০ টেস্ট খেলা প্রথম ক্রিকেটার হয়ে গেলেন টেন্ডুলকার। তবে কি অপেক্ষাটা ছিল উপলক্ষেরই? বিদেশের মাটিতে শততম ম্যাচে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শততম সেঞ্চুরি?

Saturday, July 30, 2011

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচন এগিয়ে আনার তোড়জোড়

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিন স্তরের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সাফল্য পেতে ওই নির্বাচন এগিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। তৃণমূলের পঞ্চায়েত নেতা-কর্মীরা এরই মধ্যে নির্বাচন এগিয়ে আনার দাবি তুলেছেন দলীয় নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও তাই চাইছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন এগিয়ে আনার পক্ষে যুক্তি হলো, রাজ্যে এখন ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস সরকার। কিন্তু রাজ্যের অধিকাংশ পঞ্চায়েত এখনো নিয়ন্ত্রণ করে বামফ্রন্ট। এতে ভবিষ্যতে গ্রামীণ উন্নয়নকে ঘিরে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব পঞ্চায়েত নির্বাচনের দাবি উঠেছে। তৃণমূল নেতাদের মতে, এখন পঞ্চায়েত নির্বাচন হলে পঞ্চায়েতেও ক্ষমতায় আসবে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। এতে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
২০০৮ সালে সর্বশেষ পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে তৃণমূল বেশ কিছু আসন পেলেও বেশির ভাগ আসন বামফ্রন্টের দখলে চলে যায়। ২০১৩ সালে পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা।

সিরিয়ায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ

সিরিয়ায় চার মাস আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আভাজ গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই হাজার ৯১৮ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আভাজ। তবে গ্রেপ্তারের পর ওই ব্যক্তিদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু গত সপ্তাহেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রতিদিনই গ্রেপ্তারের এ সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে গত বুধবার রাজধানী দামেস্কের কাছে কানাকের নামক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অন্তত আটজনকে হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ তথ্য জানিয়েছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা টায়ার জ্বালিয়ে ও পাথর ছুড়ে সেনাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এ সময় অনেকে আহত হয় এবং অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে গত মার্চে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ওই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ বেসামরিক লোক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ফিলিপাইনে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে সাত সেনা নিহত

ফিলিপাইনে গতকাল বৃহস্পতিবার জঙ্গিদের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষে কমপক্ষে সাত সেনা নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। সেনা সূত্রে এ কথা জানা যায়।
আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সংগঠন বলে পরিচিত আবু সাইয়াফের জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। এরপর সেনারা জঙ্গিদের একটি ঘাঁটি দখল করে নেয়। সংঘর্ষে জঙ্গিরা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
স্থানীয় সেনা মুখপাত্র লে. কর্নেল র‌্যানডলফ কাবাংবাং বলেন, গতকাল দক্ষিণ ফিলিপাইনের জোলো দ্বীপের একটি জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাদের প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, সেনারা জঙ্গিদের একটি ছোট দলকে তাড়া করে আবু সাইয়াফের একটি আস্তানায় ঢুকে পড়ে। পরে ওই আস্তানা সেনারা দখল করে নেয়।
সরকারের তথ্যমতে, ফিলিপাইনে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে আবু সাইয়াফ সবচেয়ে ছোট। এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। তবে ছোট হলেও এই সংগঠনকে সে দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে গণ্য করা হয়। এসব জঙ্গি দমনে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ সাল থেকে ফিলিপাইনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

আফগানিস্তানে বিবিসির সাংবাদিকসহ নিহত ২২

আফগানিস্তানে গতকাল একাধিক আত্মঘাতী হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে বিবিসির একজন সাংবাদিকসহ ২২ জন নিহত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় উরুজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের কার্যালয় এবং একটি আধা সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে এসব হামলা হয়। তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
একই দিন দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কপিসা প্রদেশে একটি তল্লাশি চৌকিতে ফরাসি সেনাদের গুলিতে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক তিনজন আফগান নিহত হয়েছে।
উরুজগান প্রদেশের স্বাস্থ্য পরিচালক খান আগা মিয়াখাইল বলেন, রাজধানী ত্রিনকোটে ডেপুটি গভর্নরের কার্যালয়ে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ও বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনটি শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাদের আফগান প্রতিবেদক ওমিদ খপালওয়াকও রয়েছেন। বিবিসির ওই সাংবাদিক আফগান সংবাদ সংস্থা পাজওয়াকেও কাজ করতেন। সংস্থার সম্পাদক জাভিদ হামিম কাকার খপালওয়াক নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, ডেপুটি গভর্নরের কার্যালয়ের ফটকের বাইরে আত্মঘাতী হামলাকারী একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। কার্যালয়ের ভেতর আরও দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ওই কার্যালয়ে অন্তত পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ওই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মতিউল্লাহ খান ঘাঁটিতে আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এতে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ডেপুটি গভর্নরের কার্যালয়ে বোমার বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ ও কয়েকটি শিশুও রয়েছে। হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে তালেবানের মুখপাত্র ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘আমাদের সাতজন স্বেচ্ছাসেবক ওই হামলা পরিচালনা করেন।’
সরকারি কর্তৃপক্ষ বলেছে, একদল ফরাসি সেনা গতকাল উত্তরাঞ্চলীয় কপিসা প্রদেশের একটি তল্লাশি চৌকিতে একটি গাড়িকে থামার নির্দেশ দেয়। গাড়িটি তা অমান্য করে। একপর্যায়ে সেনারা ওই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন পুরুষ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও একটি শিশু নিহত হয়।
এ ঘটনায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এ ধরনের ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নিহত ব্যক্তিরা ফিরে আর আসবে না মন্তব্য করে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, ন্যাটো বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা নয়, রক্ষার চেষ্টা করতে হবে।

চীনের বিমানবাহী রণতরী নিয়ে উদ্বেগে প্রতিবেশীরা

চীনের বিমানবাহী রণতরীতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের সামরিক বাহিনী বলছে, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার জন্য এ কর্মসূচি চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
চীন প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য পুরোনো একটি বিমানবাহী রণতরী মেরামতের কথা নিশ্চিত করে গত বুধবার। একটি সূত্র জানায়, দেশটি দুটি বিমানবাহী রণতরী তৈরিও করছে। লিবারেশন আর্মি ডেইলির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীন এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়, চীন পশ্চিমা শক্তির হাতে কয়েক শতাব্দী ধরে অবমাননার শিকার হয়ে আসছে। কিন্তু চীনের মানুষ সাগরের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি। এখন সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের বাজেট কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করছে, তখন চীন সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।
গত বছর সাগরে চীনের সঙ্গে জাপান, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এগুলো ছোটখাটো বিষয় হলেও দেশগুলোর পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইউকিয়ো ইডানো বলেন, চীনের প্রতিরক্ষানীতি ও সামরিক শক্তিবৃদ্ধি শুধু জাপানের জন্য নয়, এ অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
চলতি সপ্তাহে ২০১২ সালের বাজেট কংগ্রেসে উত্থাপন করেছে ফিলিপাইন সরকার। এতে তারা সামরিক ব্যয় স্থানীয় ৫০০ কোটি পেসো থেকে বাড়িয়ে ৮০০ কোটি পেসো (১৯ কোটি মার্কিন ডলার) করার প্রস্তাব দিয়েছে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট ফর পিস, ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেরোরিজম রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক রোমেল বানলাউই বলেন, চীনের রণতরীতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তাদের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের অংশ। এই আধুনিকায়নের সঙ্গে ফিলিপাইন তাল মেলাতে পারবে না।

আইভরি কোস্টের শরণার্থীরা এখনো শঙ্কায়: অ্যামনেস্টি

আইভরি কোস্টে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যেসব মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছে, তারা প্রাণের ভয়ে এখনো ফিরছে না। মানবেতর জীবন যাপন করছে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
২০১০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইভরি কোস্টে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে অন্তত তিন হাজার লোক নিহত হয়েছে। বাস্তুহারা হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এপ্রিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নতুন প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারার অনুসারীরা হত্যাযজ্ঞসহ নানা নির্যাতন চালিয়েছে। এসব হত্যা ও নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনা গত এপ্রিল ও মে মাসে ঘটেছে।
ক্ষমতার পালাবদলের পর পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ওয়াতারাকে ক্ষমতা নিতে সহায়তা করা বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। জাতিসংঘ ও দাতা দেশগুলো তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বললেও তাতে সাড়া মেলেনি।
৪৪ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল সাবেক প্রেসিডেন্ট লরা বাগবো গ্রেপ্তারের পর থেকে আইভরি কোস্টে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

ভারতের মন্ত্রিপরিষদে লোকপাল বিলের খসড়া অনুমোদন

ভারতে দুর্নীতি দমনবিষয়ক লোকপাল বিলের খসড়া গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়েছে। পার্লামেন্টের আগামী অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগকে প্রস্তাবিত এই আইনের এখতিয়ারের বাইরে রাখা হয়েছে।
খসড়া বিলে একজন চেয়ারম্যান ও আটজন সদস্য রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে চারজন সদস্য নেওয়া হবে বিচার বিভাগ থেকে।
তথ্যমন্ত্রী আম্বিকা সনি জানান, চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি। মন্ত্রিপরিষদ বিলে খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি বলে জানান তিনি।
ভারতের সুশীল সমাজ এই খসড়া বিল নিয়ে খুশি হতে পারেনি। সমাজকর্মী কিরণ বেদি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে না। বর্তমানে বিল খুব দুর্বল এবং তা দেশের মানুষের প্রত্যাশামাফিক হয়নি জানিয়ে সমাজকর্মী আন্না হাজারে বিল পর্যালোচনার জোর দাবি তোলার পর সরকার তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।

বেলুচিস্তানে অপহরণ নির্যাতন গুম করছে নিরাপত্তা বাহিনী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই শত শত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে অপহরণ করে আটকে রাখছে। নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের ওপর।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অপহূত অনেককে মেরে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু লোকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের লাশ গুম করে ফেলা হচ্ছে।
‘উই ক্যান টর্চার, কিল অ্যান্ড কিপ ইউ ফর ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমপক্ষে ১০০ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আছে, যারা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া অপহূত ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ বছরের শিশুরা পর্যন্ত অপহরণের শিকার হয়েছে, যাঁদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান দেশটির ৪৪ শতাংশ ভূভাগ দখল করে আছে। তেল, গ্যাস, তামা, সোনাসহ বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদে প্রদেশটি সমৃদ্ধ। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এই প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বেলুচিস্তান ঘাঁটি গেড়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকে অভিযোগ করে আসছে। সরকার বলেছে, আফগান তালেবানের পাশাপাশি স্থানীয় উগ্রপন্থী জাতীয়তাবাদী আদিবাসীরাও বেলুচিস্তানে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।
বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী আদিবাসী নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এসব সম্পদের খুব কম অংশই এ প্রদেশের মানুষকে ভোগ করার সুযোগ দেয়। বালুচ রিপাবলিকান পার্টির মতো কয়েকটি জাতীয়তাবাদী দল অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের দমিয়ে রাখতেই নিরাপত্তা বাহিনী এসব অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারবিরোধী কর্মীদের প্রায়ই সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা তুলে নিয়ে যান।
বালুচ রিপাবলিকান পার্টির কর্মী বশির আজিম বলেছেন, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৯ সালে তিন দফায় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁরা আমার নোখের ভেতর সুচ ঢুকিয়ে দিত, পিঠের ওপর চেয়ার পেতে বসে পড়ত। একবার আমাকে এমন একটা কক্ষে ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া নড়াচড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না। যখন তাঁরা আমাকে বাইরে নিয়ে এল, তখন আমার পা দুটো ফুলে গেছে। আমি বাইরে আসার সময় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।’
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাউকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া ধরে আনে না। যাদের ধরে আনে তাদের সময়মতো আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দুই সোহেলের সঙ্গে ফারহাত

আনকোরা তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামিয়ে চমকে দেওয়াটাই পাকিস্তান ক্রিকেটের রীতি। সেদিক থেকে ব্যতিক্রমী উদাহরণ গড়লেন আইজাজ চিমা। ৩২ ছুঁই-ছুঁই পেসার জায়গা করে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ে সফরের পাকিস্তান দলে। উমর গুল, ওয়াহাব রিয়াজ ও তানভির আহমেদকে বিশ্রাম দেওয়ায় জিম্বাবুয়েতে নতুন চেহারা পাচ্ছে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ। চিমার সঙ্গে থাকছেন দলে ফেরা দুই পেসার সোহেল খান ও সোহেল তানভির। টিকে গেছেন বাঁহাতি পেসার জুনাইদ খান। বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রেহমানকে বিশ্রাম দিয়ে নেওয়া হয়েছে ২৫ বছর বয়সী লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহকে।
চিমা-ইয়াসির ছাড়া একদম নতুন মুখ আছে আরেকটি, ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান রমিজ রাজা। দলে ফিরেছেন ওপেনার ইমরান ফারহাত ও উইকেটরক্ষক আদনান আকমল। ২৮ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সিরিজে ১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান। ওয়েবসাইট।
পাকিস্তান দল: মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হাফিজ, তৌফিক উমর, ইমরান ফারহাত, আজহার আলী, ইউনুস খান, আসাদ শফিক, উমর আকমল, রমিজ রাজা, আদনান আকমল, সাঈদ আজমল, ইয়াসির শাহ, সোহেল তানভির, সোহেল খান, জুনাইদ খান, আইজাজ চিমা।

ক্রিকেট বোর্ডে ক্রিকেটার থাকবে না!

আইসিসিকে অনুসরণ করতে সম্ভবত অনিচ্ছুক বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি। আইসিসি যখন ক্রিকেটকে রাজনীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি তখন কিনা উল্টো সুপারিশ করছে ক্রিকেট বোর্ডকে ক্রিকেটারমুক্ত করার! সংশোধনীতে বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের সাধারণ পরিষদে আসার পথ সহজ করা হলেও বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের সরাসরি কাউন্সিলর হওয়ার দুটি পথই।
ক্লাব বা জেলার কাউন্সিলর হয়েও বিসিবির সাধারণ পরিষদে ক্রিকেটারদের আসার সুযোগ হয়তো আছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই সুযোগটি যায় সংগঠকদের হাতে। বিসিবির সাধারণ পরিষদে ক্রিকেটারদের আসতে হয় গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৮ ও ৯.৩.৯ উপানুচ্ছেদের প্রদর্শিত পথে। এতে দেখা যায়, বোর্ড সভাপতির মনোনয়ন নিয়ে ১৫ জন সাবেক ক্রিকেটার ও বোর্ড-স্বীকৃত ক্রিকেটারদের সংস্থা থেকে ১ জন প্রতিনিধি বিসিবির কাউন্সিলর হতে পারেন। বর্তমান বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন যেমন বিসিবির কাউন্সিলর হয়েছেন উপানুচ্ছেদ ৯.৩.৮ অনুযায়ী। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সিইওর পরিবর্তে সিওও নিয়োগসহ আরও অনেক বিতর্কিত প্রস্তাবের সঙ্গে গঠনতন্ত্রের উপানুচ্ছেদ ৯.৩.৮ ও ৯.৩.৯ বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটির প্রধান ও বিসিবির পরিচালক দেওয়ান শফিউল আরেফিনকে। কমিটির সদস্য আমিনুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আরেক সদস্য আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান উপানুচ্ছেদ দুটি বিলুপ্তির পক্ষে তুলে ধরলেন যুক্তি, ‘ওই দুটি উপানুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউন্সিলররা আসেন ব্যক্তি হিসেবে। কিন্তু বিসিবিতে কোনো ব্যক্তি কাউন্সিলর হতে পারেন না। কাউন্সিলর আসবে সংগঠন থেকে।’ যখন মনে করিয়ে দেওয়া হলো, উপানুচ্ছেদ ৯.৩.৯-এ ‘বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সংস্থা বা সংগঠনের’ কথাই বলা আছে, পাল্টা যুক্তি দিলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের বোর্ড অনুমোদিত কোনো সংগঠন নেই। কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বোর্ড-স্বীকৃত নয়।’ সেটাই যদি হবে, বিসিবির বর্তমান সাধারণ পরিষদে কোয়াব প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে কাউন্সিলর হন সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পাল? রেদোয়ানের আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘এ বিষয়গুলো হয়েছিল আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তখন কেউ সাহস করে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারেনি।’
রেদোয়ানের দাবি, খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সেটা কোন পর্যায়ে তা অনুমান করা যায় তাঁর অন্য কথায়, ‘কেউ যদি বলে আমরা ক্রিকেটার না, এটা ভুল ধারণা। আমরা যে কয়টা দলকে প্রডিউস করি, যে কয়টা ছেলেকে প্রডিউস করি, এই প্রডিউস কিন্তু সাবেক খেলোয়াড়েরা করে না। তারা মিডিয়ায় টক শো করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই তাদের ভূমিকা। এর বাইরে কোনো ভূমিকা নেই।’ শুধু তা-ই নয়, বোর্ড কর্মকর্তারা সাবেক ক্রিকেটারদের প্রতি কেমন ‘উদারতা’ দেখাচ্ছেন, দিলেন তারও একটা ফিরিস্তি, ‘বোর্ড এভরিথিং পারে। আমরা তা করছি না। আমরা ইচ্ছা করলে আইন বদলে সিলেক্টরও হতে পারি। সিলেকশন প্যানেল রাখতে হবে এটা কিন্তু বাধ্যতামূলক না। বোর্ড বোর্ডের থেকেও কমিটি করতে পারে।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান আলোচিত সংশোধনী প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা অন্য দেশের উদাহরণ টানে। আমি জানতে চাই, বিশ্বের কোথাও কি এ রকম ২৫-২৬ সদস্যবিশিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড আছে যেখানে অধিকাংশ লোক ক্রিকেটের “সি”ও জানে না?’ রকিবুলের দৃষ্টিতে পুরো বিষয়টাই দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র, ‘এটা একটা ষড়যন্ত্র। ক্রিকেটকে ধ্বংস করে তারা সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার পাঁয়তারা করছে।’ একই আশঙ্কা আরেক সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদের, ‘আমাদের ক্রিকেট যে আজ এ অবস্থায় এসেছে, এটা সম্ভবত কিছু লোকের পছন্দ হচ্ছে না। তারা পরিকল্পনা করে ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে।’
বর্তমানে বিসিবির পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেনও প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রস্তাবিত সংশোধনী, ‘এটা একটা গোষ্ঠীর চিন্তাভাবনা। কিন্তু দু-একজন লোকের চিন্তাভাবনা মেনে তো আর ক্রিকেট চলবে না। বোর্ডে এবং সাধারণ পরিষদে সেটা অনুমোদন হতে হবে।’ তিনি বরং মনে করেন, খেলোয়াড়-সংগঠক সব ক্ষেত্রেই কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা নিরূপণের মানদণ্ড নতুন করে ঠিক করা উচিত, ‘একজন খেলোয়াড় অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জাতীয় দলে আসে, বোর্ড কর্মকর্তা হয়। সংগঠকদেরও এ রকম পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করে আসতে হবে। ক্রিকেট শুধু নামধারী সংগঠকদের জায়গা না।’

দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল বিশ্বকাপের

অপেক্ষাটা আসলে শুরু হয়ে গিয়েছিল ২০১০ সালের ১১ জুলাই, যখন পর্দা নামল দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের। সেই অপেক্ষার অবসান হবে ২০১৪ সালের ১২ জুন। ব্রাজিল বিশ্বকাপের সূচি এখনো ঠিক হয়নি। বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার আগে হবেও না। তবে এরই মধ্যে ঠিক হয়ে গেছে ২০তম ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আর শেষ হবে কবে। পরশু জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে ১২ জুন। দীর্ঘ এক মাসের ফুটবল-রোমাঞ্চ শেষে বিশ্বকাপ শেষ হবে ১৩ জুলাই।
বিশ্বকাপের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার এই খবর জানিয়ে ফিফা মহাসচিব জেরোম ভালক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ‘আমি জানি, সবাই কৌতূহলী হয়ে আছে কোন কোন শহরগুলোয় বিশ্বকাপ হবে, সেটি জানতে। কিন্তু সেটা ঠিক হবে আগামী অক্টোবরে।’
এমনিতে ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে দেশটির মিডিয়াই সন্তুষ্ট নয়। কদিন আগেও খবর বেরিয়েছে, ঢিমেতালে এগোচ্ছে দেশটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও অবকাঠামো নির্মাণ। বিশ্বকাপের দুই বছর পর রিও ডি জেনিরোতে বসবে আরেক ক্রীড়া মহাযজ্ঞ অলিম্পিক। ফলে এই দুটি আসরের কথা মাথায় রেখেই গোছগাছ করতে হচ্ছে ব্রাজিলকে। কিন্তু সমালোচনা হচ্ছে, কাজের ধীরগতি নিয়ে।
এমনিতে ব্রাজিলে আয়োজিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাটা সুখকর নয়। ১৯৫০ সালের ওই আসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনেও নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এ কারণেই দেশটির সংবাদমাধ্যম আরও বেশি সতর্ক। সাবেক ফুটবল তারকা রোমারিও তো এমন মন্তব্যও করেছেন, খোদ যিশু অবতীর্ণ না হলে ব্রাজিলের পক্ষে সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব নয়।
বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে মহড়া টুর্নামেন্ট কনফেডারেশনস কাপ অনুষ্ঠিত হয়। ফিফার মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি স্বাগতিক ব্রাজিলও তাতে অংশ নেবে। ভালক নিশ্চিত করেছেন, এবারের কনফেডারেশনস কাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০১৩ সালের ১৫ থেকে ৩০ জুন। ওই সময়ের মধ্যেই কাজ প্রায় শেষ করে ফেলতে হবে ব্রাজিলকে। ফলে দুই বছরের মতো সময় আছে তাদের হাতে।
ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার অবশ্য আশ্বস্ত করছেন, ঠিক সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে ব্রাজিল, ‘বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। তবে ব্রাজিল আর ফিফা মিলে একটা ব্যতিক্রম বিশ্বকাপই উপহার দেবে।’ আর ভালক মনে করিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগেও এমন অনেক কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ আয়োজনে সফল নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ।

তারকারা জ্বললেন মাঠে মাঠে

কারও পিঠে অস্তগামী তারকার তকমা, কেউ জ্বলজ্বল করছেন ফুটবল আকাশে, কেউ আবার আগামীর তারকা হওয়ার বার্তা পাঠাতে শুরু করেছেন। এই তিন দলের সবাই পরশু জ্বলে উঠেছেন একসঙ্গে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ছড়িয়েছেন দ্যুতি।
মলিন তারকাদ্যুতির রোনালদিনহো হ্যাটট্রিক করে সান্তোসের বিপক্ষে ৫-৪ গোলে জিতিয়েছেন ফ্ল্যামেঙ্গোকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমার গোলে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ গোলে হারিয়েছে হার্থা বার্লিনকে। আগামীর তারকা থিয়াগো আলকানতারার জোড়া গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে অডি কাপ জিতেছে বার্সেলোনা।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এই তো ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬ মৌসুমেও বার্সেলোনার সাফল্যের সমার্থকই ছিলেন রোনালদিনহো। কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপের পর রোনালদিনহোর সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেমন যেন হারিয়ে যেতে থাকে কালের আবর্তে। সব হারিয়ে এখন তিনি ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে।
এই রোনালদিনহোই পরশু নেইমারের সান্তোসকে দিলেন উড়িয়ে। রোনালদিনহোর তারকা-সত্তা জেগে ওঠে ফ্ল্যামেঙ্গো ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর। নেইমারের জোড়া গোলে ২৫ মিনিটের মধ্যেই রোনালদিনহোরা পিছিয়ে পড়েন ৩-০-তে। কিন্তু ৬৭ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদিনহো। এর পর ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি জেতেন তাঁরাই।
জার্মানিতে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অডি কাপে মেসিবিহীন বার্সেলোনা উজ্জ্বল থিয়াগো নামের নতুন এক তারকার উত্থানে। সেমিফাইনালে গোল করেছেন, ফাইনালে বলতে গেলে একাই জিতিয়েছেন বার্সাকে।
বার্লিনে হার্থা বার্লিনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে এবার্টের ১৮ মিনিটের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল। ২৯ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৩৩ ও ৪৭ মিনিটে জোড়া গোল করে রিয়ালকে জেতান করিম বেনজেমা।
রোনালদোর সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও পেয়েছে বড় জয়। ‘রেড ডেভিল’রা ৪-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানইউর আরেক সাবেক তারকা ডেভিড বেকহাম ও থিয়েরি অঁরি সমৃদ্ধ এমএলএস অলস্টার দলকে। গোল করেছেন অ্যান্ডারসন, পার্ক, বারবেতভ ও ওয়েলবেক। রুনি গোল না পেলেও বানিয়ে দিয়েছেন দুটি।

আমি স্বৈরাচারী নই: ব্ল্যাটার

ফুটবলে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি গোললাইন বিতর্ক। সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপে জিওফ হার্স্টের শটে বল গোললাইন পেরিয়েছিল কি না, এ নিয়ে এখনো বিতর্ক চলে। জার্মানির বিপক্ষে সেই ম্যাচে গোললাইন না পেরোলেও গোলের বাঁশি বেজেছিল ইংল্যান্ডের পক্ষে। কী কাকতালীয় ব্যাপার, গত বিশ্বকাপে সেই জার্মানির বিপক্ষেই ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের নেওয়া শটে বল গোললাইন পেরিয়ে গেলেও রেফারি বাঁশি বাজাননি। ইতিহাসের কী বিচার!
ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক যাতে না হয় সে জন্যই গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব উঠেছে। এবার সেপ ব্ল্যাটারও ইঙ্গিত দিলেন, ২০১৪ বিশ্বকাপেই থাকতে পারে গোললাইন প্রযুক্তি। বল লাইন পেরিয়েছে কি না, সেটি নিখুঁতভাবে জানিয়ে দেবে প্রযুক্তিই। ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘আগামী মার্চে আমরা গোললাইন প্রযুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। যদি এটা নির্ভুল হয় এবং যদি খুব বেশি ব্যয়বহুল না হয়, তাহলে আগামী বিশ্বকাপেই সেটা থাকতে পারে।’
আগামী মার্চে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা। এরই মধ্যে উয়েফা আরও দুই অতিরিক্ত সহকারী রেফারির ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখনো দুই সহকারী দিয়েই হয়। গোলপোস্টের পাশে আরও দুই সহকারী রেফারি রাখা হবে কি না, এ ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা।
বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে ব্রাজিলে এসেছেন ব্ল্যাটার। সেখানেই সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি আসলেই স্বৈরাচারী কি না, এর মধ্যে তাঁকে এই উত্তরও দিতে হয়েছে। তাঁরই এককালের ডেপুটি মোহাম্মদ বিন হাম্মাম তুলেছেন এই অভিযোগ। পৃথিবীর অন্যসব স্বৈরাচারের মতো ব্ল্যাটারও নাকি তাঁর বিরোধীদের শেষ করে দিতে চান। একই সঙ্গে জার্মানির সাবেক তারকা কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগেও ব্ল্যাটারসহ ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, এসব ‘দুর্নীতিগ্রস্ত অসৎ’ কর্মকর্তাদের হাত থেকে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণের ভার ক্লাবদের নিয়ে নেওয়া উচিত।
হাম্মামের মন্তব্যের ব্যাপারে তাঁর জবাব, ‘আমি তো আর একাই সব সিদ্ধান্ত নিই না, আমার পক্ষে তাই স্বৈরশাসক হওয়া সম্ভব নয়। নির্বাহী কমিটি আছে, ফিফার নিজস্ব প্রশাসন আছে, একই সঙ্গে আমাদের অনেক উপদেষ্টাও আছেন। আমি সবার সঙ্গে মিলেই কাজ করি।’
তবে রুমেনিগের মন্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব দেননি ব্ল্যাটার। রুমেনিগের সঙ্গে কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন।

লোকিটর বিশ্ব রেকর্ড

১৯ মাস পর আবারও বিশ্ব রেকর্ড দেখল সাঁতার-বিশ্ব। ২০১০ সালের প্রথম দিনেই যখন নিষিদ্ধ হলো বিতর্কিত পলিইউরিথেন সুইম স্যুট, তখন থেকেই উধাও বিশ্ব রেকর্ড। সাংহাইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগেই সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল কোনো বিশ্ব রেকর্ড ছাড়াই শেষ হয় কি না এবারের আসর। সেই আশঙ্কাকে দূর করলেন রায়ান লোকিট। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁতারু ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে নিজের রেকর্ডই ভাঙলেন কাল।
১ মিনিট ৫৪.০০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আগের রেকর্ড থেকে সেকেন্ডের ১০ শতাংশ ছেঁটে ফেলেছেন ২৬ বছর বয়সী সাঁতারু। ঠিক দুই বছর আগে রোম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১ মিনিট ৫৪.১০ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ডটি করেছিলেন এথেন্স ও বেইজিংয়ে ফেল্পেসর পেছনে থেকে রুপাজয়ী লোকিট। অবশ্য কালও তাঁকে তীব্র লড়াই করতে হয়েছে বেইজিং অলিম্পিকে ৮টি সোনাজয়ী ফেল্পেসর সঙ্গে। ০.১৬ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়ে ফেল্প্স হয়েছেন দ্বিতীয়। তৃতীয় হাঙ্গেরির লাজলো সেহ।
বাটারফ্লাই দিয়ে শুরু হওয়া মিডলের প্রথম লেগে এগিয়ে ছিলেন ফেল্প্স। এরপর ব্যাকস্ট্রোক ও ব্রেস্টস্ট্রোক দিয়েই সামান্য এগিয়ে যান লোকিট। ফ্রি-স্টাইলের শেষ লেগের অর্ধেক পেরোতেই নিশ্চিত হয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব। এর আগে ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলেও ফেল্প্সকে হারিয়েছিলেন লোকিট।
বিশ্ব রেকর্ড গড়েই লোকিটর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আপনি যখনই বিশ্ব রেকর্ড ভাঙবেন, অবশ্যই আবেগতাড়িত হবেন। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং ফলও পেয়েছি। আমি জানতাম, লড়াইটা মাইকেল (ফেল্প্স) ও আমার মধ্যেই হবে এবং এবার আমিই ভালো করলাম।’
এদিকে এই প্রতিযোগিতার ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের সোনা জিতল অস্ট্রেলিয়া। সোনা এনে দিয়েছেন জেমস ম্যাগনুসেন। এই ইভেন্টের বিশ্ব রেকর্ডের মালিক ব্রাজিলিয়ান সিজার সিয়েলো হয়েছেন চতুর্থ।

সুইং-স্বর্গে জহিরবিহীন ভারত

দৃশ্যটা বুধবার সকালের। ট্রেন্টব্রিজের প্যাভিলিয়নের সামনে দুই কোনায় দুজন। দুজনের মুখেই হাসি। তবে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, জহির খানের হাসিটা ফটোগ্রাফারদের জন্য। চোখেমুখে অনিশ্চয়তা আর শঙ্কা। জেমস অ্যান্ডারসনের হাসিটা স্বতঃস্ফূর্ত। ঘিরে ধরা সংবাদকর্মীদের জানিয়ে দিলেন, এক নম্বর জায়গাটা নিজেদের করে নিতে প্রস্তুত ইংল্যান্ড। ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে কি দুজনের ওই হাসিতেই?
অনেক দিন ধরেই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বান্ধব উইকেট লর্ডস ও ওভাল, আর ব্যাটিংয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন এই ট্রেন্টব্রিজ। সবচেয়ে বেশি সুইংও মেলে এখানেই। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত ৬ বছরে উইকেট-প্রতি রান ট্রেন্টব্রিজের চেয়ে কম উঠেছে কেবল জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কেই। সর্বশেষ ১০ টেস্টে ১৩ বার ৫ উইকেট পেয়েছেন বোলাররা। এই টেস্টের ভবিষ্যৎ তো বোলারদের হাতেই!
আরও নির্দিষ্ট করে বললে ওই অ্যান্ডারসন ও জহিরের হাতে। শুধু দুই দলের বোলিংয়ের মূল ভরসা বলেই নয়, এই মাঠের পারফরম্যান্সের কারণেও। ৪ টেস্টে এখানে ২৮ উইকেট অ্যান্ডারসনের, ইনিংসে ৫ উইকেটে আছে প্রতি টেস্টেই। আর সর্বশেষ সফরে এই মাঠের জয়েই সিরিজ জিতেছিল ভারত। জয়ের নায়ক? ৯ উইকেট নিয়ে জহির খান! অ্যান্ডারসন যখন প্রিয় মাঠে নামার জন্য টগবগ করে ফুটছেন, জহির তখন ফিজিও আশিস কৌশিকের সঙ্গে মাঠের চারপাশে হাঁটছেন, মাঝেমধ্যে হালকা দৌড়। লর্ডস টেস্ট শেষেই অধিনায়ক ধোনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, শতভাগ ফিট না হলে জহিরকে নামানো হবে না দ্বিতীয় টেস্টে। আজ তাই বাঁহাতি পেসারের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এক নম্বরের ‘যুদ্ধে’ তাই মূল অস্ত্রকে ছাড়াই নামতে হচ্ছে ভারতকে।
জহিরের জায়গাটা নিয়ে লড়াই হবে শ্রীশান্ত ও মুনাফ প্যাটেলের। সুইং করানোর সামর্থ্যটা সহজাত বলে এগিয়ে শ্রীশান্তই। সামর্থ্য অনুযায়ী বোলিং করতে পারলে এই উইকেটে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন কেরালার পেসার। কিন্তু জহিরের বিকল্প কি আর হতে পারেন! সেরা পছন্দের একজনকে সম্ভবত পাচ্ছে না ইংল্যান্ডও। হ্যামস্ট্রিং আর পিঠের সমস্যা ভোগাচ্ছে ক্রিস ট্রেমলেটকে। দীর্ঘদেহী পেসারের তাই এই টেস্টে খেলা না-ও হতে পারে। সেটা আবার শাপে বরও হয়ে যেতে পারে ইংল্যান্ডের জন্য। একাদশে যিনি ঢুকবেন, সেই টিম ব্রেসনান বলকে সুইং করানোর কাজটা ট্রেমলেটের চেয়ে ভালো পারেন!
ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে সাম্প্রতিক ইতিহাস। এক নম্বরে ওঠার পথে গত এক দশকে অনেকবার প্রথম টেস্ট হেরে পরে দারুণভাবে সিরিজে ফিরেছে তারা। দলে ঢুকেছেন মাত্র এই সেদিন। কিন্তু ওপেনার অভিনব মুকুন্দের কণ্ঠে সেই লড়াকু ভারতের প্রত্যয়, ‘এক নম্বরে ওঠার পথে ভারতকে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ সামলে আসতে হয়েছে। এখানেও আমরা চ্যালেঞ্জ নিতেই এসেছি। অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করব।’
বোলিং উইকেটে দু-একজন ব্যাটসম্যানের ভালো পারফরম্যান্স বা দু-একটি বড় জুটি অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। লর্ডস-হতাশা ভুলে শচীন টেন্ডুলকার নিশ্চয়ই চাইবেন, সেই ভাগ্যনিয়ন্তা হতে। জীবনের সেরা ফর্মে থাকা অ্যালিস্টার কুকও নিশ্চয়ই টানা দুই টেস্টে ব্যর্থ হবেন না! সব মিলিয়ে এক নম্বরের ‘যুদ্ধে’ দেখা যেতে পারে আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াই।

শেষ আটে শারাপোভা

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চতুর্থ রাউন্ড, ফ্রেঞ্চ ওপেনে সেমিফাইনাল, উইম্বলডনে রানার্সআপ। এ বছর গ্র্যান্ড স্লামগুলোতে উন্নতিই হচ্ছে মারিয়া শারাপোভার। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ইউএস ওপেনটা ভালোই কাটার কথা তাঁর। সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ক্লাসিকের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। কাল সকালে (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বের পাঁচ নম্বর তারকা শারাপোভা ৬-২, ২-৬, ৬-৪ গেমে জিতেছেন স্লোভাকিয়ান ড্যানিয়েলা হানতুচোভার বিপক্ষে।
তবে শেষ আটে বাধা হতে পারেন সেরেনা উইলিয়ামস। আজ সকালে আরেক রুশ খেলোয়াড় মারিয়া কিরিলেঙ্কোকে হারাতে পারলেই সেরেনা উঠে যাবেন শেষ আটে।
চোট ও অসুস্থতার জন্য প্রায় এক বছর খেলার মধ্যে ছিলেন না সেরেনা। পতন হয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়েও। ডব্লুটিএর ১৭২ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন এই টুর্নামেন্টে। তবুও ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী তারকাকে কঠিন প্রতিপক্ষই ভাবছেন শারাপোভা। হালকাভাবে দেখছেন না কিরিলেঙ্কোকেও, ‘ওই দুজনের সঙ্গেই শেষ লড়াইয়ে হেরেছি। আপনি কখনো সেরেনাকে হালকাভাবে নিতে পারেন না। সে হয়তো তেমনভাবে খেলার মধ্যে নেই, তবে এখনো সে বড় মাপের খেলোয়াড়।’
সেরেনার সঙ্গে নিজেকে মেলাতেও চাইলেন না উইম্বলডনের রানার্সআপ শারাপোভা, ‘তাঁর গ্র্যান্ড স্লাম আছে ১৩টি আর আমার মাত্র তিনটি। পার্থক্যটা এখানেই।

ওবামা স্পিকারের পরিকল্পনায় ভেটো দিতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণের সীমা বাড়ানো নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি। হোয়াইট হাউস হুঁশিয়ার করেছে, ঋণসীমার ব্যাপারে রিপাবলিকান পার্টির নেতা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জন বোয়েনারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ভেটো দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির লাগাম কীভাবে টেনে ধরা যায়, সে বিষয়েও ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবির মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি।
২ আগস্টের মধ্যে ঋণের সীমা বৃদ্ধি করা না হলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে তাদের সব বিলের অর্থ পরিশোধ করার মতো টাকা থাকবে না। এতে ঋণের সুদের হার বাড়তে পারে, যা মার্কিন অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এর প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে ওঠাও ব্যাহত হবে।
সরকারের ঋণের সীমা বাড়ানো বরাবরই মার্কিন কংগ্রেসের একটি গৎবাঁধা কাজ ছিল। কিন্তু এ বছর আর্থিক বিষয়ে রক্ষণশীল কিছু রিপাবলিকান নেতা কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে আসায় তাঁরা এতে বাগড়া দিচ্ছেন। রিপাবলিকানরা বলছেন, বাজেট ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে না কমানো হলে তাঁরা ঋণসীমা বাড়ানোয় সমর্থন দেবেন না।
গত সোমবার ওবামার ডেমোক্র্যাট দলের প্রাধান্যপুষ্ট সিনেট এক দশকের জন্য ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হ্রাসের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে।

Friday, July 29, 2011

বিবর্তনের উল্টো by প্রক্রিয়ায় আমরা আসিফ

প্রায় শুনি, উচ্চশিক্ষার মান আরও ভালো করতে হবে। মেধাবীদের এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু যে শিশুটি সঠিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গেই সম্পৃক্ত হতে পারেনি, তার পক্ষে উচ্চশিক্ষায় সৃজনশীল কিছু করা কীভাবে সম্ভব। যে শিশু স্কুলে গিয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার মুখোমুখি হয়, তার বাকি জীবনের মনস্তাত্ত্বিক গঠন কেমন দাঁড়াবে? প্রতিবছর পাঠ্যসূচি পরিবর্তন, ভুল ইতিহাস পড়ানো, ভুল শিক্ষা কার্যক্রমে এই শিশুগুলো বড় হয়ে ভবিষ্যতে নিজের জন্যই বা কী করবে, সমাজকেই বা কী দেবে? এভাবে একদিকে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পাসের হার বাড়িয়ে বলা হচ্ছে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ দিয়ে নকল প্রতিরোধে সাফল্যের কথা রাজনৈতিক দলগুলো বলে থাকে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে পুলিশ দিয়ে নকল প্রতিরোধ করতে হয়, সেখানে আদৌ শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়। শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো আর পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন নকলকে এমনিই বন্ধ করে দিতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞান আলোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নপ্রতি প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে বাস করেও সেই সুদূর সন্দ্বীপের মানুষও সমুদ্র ও মেঘনার ভাঙনের মধ্যে থেকেও এই বক্তৃতা শুনেছেন টিকিট কিনে। যদিও অনেকে বলেন মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয় বক্তৃতা দেওয়ার কথা। আর এসব দূরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সমস্যার তো শেষ নেই। কিন্তু প্রয়োজন তো অনুধাবন বা উপলব্ধির ওপরও নির্ভরশীল।
১৯০৫ সালে এই তত্ত্ব আবিষ্কৃত হলেও ভাবতে অবাক লাগে, আমাদের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির মধ্যে এই তত্ত্বের নীতিমালা ও ফলাফলগুলো শতবর্ষেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আসলে আমাদের সমাজে বিজ্ঞানের প্রসার ঘটেছে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে অত্যন্ত বিকৃতভাবে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে আমরা গুলিয়ে ফেলছি। কোনোটির ঠিক উপস্থাপন হচ্ছে না। বিজ্ঞানকে আমরা যতটুকু জেনেছি, তা অনেকটা মজার ব্যাপার এবং ম্যাজিকের মতো করে। কোনো একটি বিষয়ে শুনলে তা যত অদ্ভুতই লাগুক না কেন, কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি না, বিস্ময়বোধের ছিটেফোঁটাও প্রকাশ করি না বা সে ক্ষমতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। কোনো রকম যুক্তিতর্ক এবং চিন্তাভাবনা ছাড়াই আমরা বলি বিজ্ঞানের পক্ষে সবই সম্ভব। ব্ল্যাকহোল, ওয়ার্মহোল অথবা চমকপ্রদ শব্দ মুখস্থ করাটাই বিজ্ঞানচর্চা বলে গণ্য করি। ব্ল্যাকহোলকে বুঝে ফেলি আপেক্ষিকতত্ত্ব সম্বন্ধে কোনো কিছু না জেনেই, একইভাবে কসমোলজি বা মহাবিশ্বতত্ত্ব জানতে চাই। এসব ঘটনার পেছনে অনেক কারণই কাজ করছে, যেমন—শিক্ষার অস্বাভাবিক বাণিজ্যিকীকরণ ও নম্বর পাওয়ার মর্মান্তিক চেষ্টা তো আছেই।
এ ছাড়া আছে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তুলকালাম করে একজন শিক্ষার্থীর মনোজগতে সমস্যা সৃষ্টি আর বাংলায় পদার্থবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিজ্ঞানের মূল নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করার মতো ভালো বইয়ের অভাব। তত্ত্বগুলোর দুর্বোধ্যতার কথা বলে সাধারণের কাছ থেকে সব সময় দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে এমন একটি সমাজ তৈরি হচ্ছে যে সমাজের মানুষেরা বিজ্ঞানের অগ্রগতির উপজাত তার প্রাযুক্তিক সাফল্যকে ভোগ করছে বটে, কিন্তু যে বিজ্ঞানের কারণে এই সাফল্য, সে সম্পর্কে কিছুই জানছে না। ক্রমাগত মানুষের জ্ঞানগত অবস্থান পিছিয়ে পড়ছে এবং সংস্কৃতিতে বিজ্ঞানবোধের অভাব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করে তুলেছে। এ কারণেই প্রাযুক্তিক সাফল্যকেও ব্যবহার করছি বিপথগামী করে।
একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার পরিবর্তে আমরা এমন এক দানবীয় সভ্যতা গড়ে তুলছি যে সভ্যতা চাহিদা ও জোগান বোঝে, বোঝে চিন্তাভাবনা ছাড়াই যেকোনো মূল্যে এক টুকরো জমি দখল করাই জীবনের সার্থকতা। কিন্তু সেই জমি কত ঠুনকো, তা আমরা ১৯৯৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা হলেও বুঝতে পারি। সেই পর্যবেক্ষণ আমাদের দেখিয়েছিল: ডাঙার মুক্ত হাওয়া থেকে মানুষের ঘরে বন্দী হওয়া, তারপর ক্রমাগত ঘরের মেঝে থেকে খাটে, মাচা বাঁধতে চালে মাথা ঠেকে যাওয়া এবং শেষে গাছে—এ যেন বিবর্তনের উল্টো প্রক্রিয়ার এক নাটক শুরু হয়েছিল। মানুষের ৩৮ লাখ বছর সময় লেগে গিয়েছিল এই গাছ থেকে মাটিতে নেমে ঘর বানিয়ে আজকের পর্যায়ে আসতে, অথচ বন্যার পানি যেন আমাদের সেখানে ফিরে যেতে দুই মাসেই বাধ্য করেছিল।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, এখন গাছও নেই, নেই বিস্তৃত বনভূমিও। যুগ যুগ ধরে নদীর গভীরতা পলি পড়ে কমে যাওয়া, পরিকল্পনাহীন শহর তৈরি, পরিবেশকে ধ্বংস এবং বিজ্ঞানের অবদানগুলোর চরম অপব্যবহারের পাপ মানবসভ্যতাকে ঘিরে ফেলেছে। এটা একধরনের পাপের প্লাবনে ডুবে যাওয়ার ইঙ্গিত। এই ঘটনাগুলো যেন অনেকটাই অনুধাবন করাচ্ছে কেন সাংস্কৃতিক বিবর্তন জৈবিক বিবর্তনের তুলনায় বেগবান হওয়া প্রয়োজন। ধার করা প্রাযুক্তিক উৎকর্ষ দিয়ে বিজ্ঞানবোধহীন মানুষের প্রবৃত্তিগত লোভ জাগিয়ে তোলা এবং জানালার মধ্য দিয়ে বাইরের আকাশ দেখার স্বপ্নপূরণের প্রবণতা তৈরির বিপদটি কোথায়? বিজ্ঞানকে উপলব্ধি করা ছাড়া এ বিপদ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই।
আসিফ: বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও বক্তা।

জনশক্তি-বাজার প্রসারে সঠিক উদ্যোগ কাম্য by হাসান আহমেদ চৌধুরী

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে মানবপাচার আইন, ২০১১ নামে একটি নতুন আইন মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য সব ধরনের মানবপাচার রোধ এবং এর সঙ্গে যে বা যাঁরা সংশ্লিষ্ট থাকবেন, তাঁরা অবশ্যই প্রচলিত আইনে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হবেন। নিঃসন্দেহে যেকোনো ধরনের মানবপাচারের ঘটনা ঘৃণিত, অমানবিক এবং অবশ্যই সেটি বড় ধরনের অপরাধ বলেই গণ্য। নতুন প্রণীত এই আইনটি মানবপাচার প্রতিরোধ এবং মানবপাচারকারীদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এই আইনের কতিপয় ধারা-উপধারা জনশক্তি রপ্তানি-প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এই ধারা-উপধারার কারণে যেসব ব্যক্তি ও জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন সরকারের সব নিয়মনীতি এবং বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুসরণ করে জনশক্তি ব্যবসায় নিযুক্ত, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত, হয়রানি ও অভিযুক্ত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মানবপাচারের কথিত অভিযোগ এনে যেকোনো সময় যেকোনো জনশক্তি রপ্তানিকারককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং দণ্ডাদেশ প্রদান করা যাবে।
দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) পক্ষ থেকে বিষয়টির প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। নতুন মানবপাচার আইনের কতিপয় ধারার সঙ্গে বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর সাংঘর্ষিক একটি পটভূমি তৈরি হওয়ার কারণেই জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই সংশয় থেকে বাদ পড়েনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও। মূলত প্রস্তাবিত মানবপাচার আইনের ৩ ধারার ২ উপধারা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই ধারায় উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা ভূখণ্ডের বাহিরে অসৎ উদ্দেশ্যে অপর কোনো ব্যক্তিকে আইনী পন্থায় বা অন্যভাবে কাজের বা চাকরীর উদ্দেশ্যে গমন, অভিবাসন বা বহির্গমন করিতে প্রলুব্ধ বা সহায়তা করে ইহা জানা সত্ত্বেও যে ঐ অপর ব্যক্তি আসলে বাধ্যতামূলক শ্রম বা সার্ভিচিউডের অনুরূপ শোষণমূলক শ্রম-পরিস্থিতিতে অথবা এই ধারায় বর্ণিত কোনো প্রকার শোষণমূলক পরিস্থিতিতে নিপতিত হইবে তাহা হইলে ঐ ব্যক্তির উক্ত কর্ম উপধারা (১)-এর সংজ্ঞায়িত “মানবপাচার”-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।’
প্রস্তাবিত আইনের ওপরে উদ্ধৃত ৩(২) ধারার বিধান পাঠে স্পষ্ট যে, ‘বহির্গমন অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর আওতায় সম্পাদিত/সংঘটিত অভিবাসন কার্যক্রমকেও মানবপাচার রূপে গণ্য বা পরিগণিত করা যাবে, কেননা এই অনুচ্ছেদে ব্যক্তি আসলে বাধ্যতামূলক শ্রম বা সার্ভিচিউডের অনুরূপ শোষণমূলক শ্রম-পরিস্থিতিতে অথবা এই ধারায় বর্ণিত কোনো প্রকার শোষণমূলক পরিস্থিতিতে নিপতিত হইবে তাহা হইলে ঐ ব্যক্তির উক্ত কর্ম উপধারা (১) এর সংজ্ঞায়িত “মানবপাচার”-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।’ এ বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও আপত্তি তুলেছিল। তারাও স্পষ্টত বলতে চেয়েছে, এই ধারা-উপধারা বহাল থাকলে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
গত ২৩ জানুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপসচিব সুধাকর দত্ত কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে প্রবর্তিত নতুন ধারাটি নিয়ে সংশয় এবং বিকল্প মতামত প্রদান করা হয়। ওই মতামতে বলা হয়, ১৯৮২ সালের বহির্গমন অধ্যাদেশের আওতায় অভিবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশে এ পর্যন্ত ৭০ লাখ কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে। বিধিসম্মতভাবে কর্মরত এসব কর্মীর অভিবাসনসহ যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করা, সমন্বয় করা চাকরিসহ বেতন-ভাতাদি নিশ্চিত করা, কোনো আইনি সমস্যা হলে তার বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করা ইত্যাদি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সব কার্যক্রম ওই অধ্যাদেশের আলোকে হয়ে থাকে, যা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তত্ত্বাবধান করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসসহ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি, পুলিশের বহির্গমন বিভাগ সংশ্লিষ্ট থাকে। চাহিদা প্রদানকারী দেশের নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও সম্পৃক্ততা রয়েছে এই কার্যক্রমে। বহির্গমন অধ্যাদেশের আওতায় অভিবাসনকারী বিপুলসংখ্যক কর্মীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স (প্রবাসী-আয়) দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে অত্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর সম্পৃক্ততা থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত ‘মানবপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১১’ শীর্ষক খসড়া এই মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে খসড়াটিতে এমন কিছু বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে, যা (প্রয়োগের ক্ষেত্রে) মানবপাচারের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংজ্ঞা ও পরিধি অতিক্রম করে আইনগতভাবে সিদ্ধ দীর্ঘ প্রচলিত অভিবাসন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে।
খোদ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের আরও সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে, বলার অপেক্ষা রাখে না যে উপর্যুক্ত অনুমান বা শর্ত এতটাই ভাববাচক যে একে অপ্রমাণ বা খণ্ডন করা বাস্তবিকই অসম্ভব হবে। প্রস্তাবিত আইনের ১৫(৩) উপধারায় এর অধীনে কোনো মামলায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতিরও প্রয়োজন হবে না মর্মে বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, দেশের জনশক্তি রপ্তানির খাতকে আরও সচল-সক্রিয় রাখতে বর্তমান সরকারের উচিত এই খাতে যাতে কোনো ধরনের বাধা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সঠিক ও সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখ অভিবাসী শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছে এবং এসব শ্রমিক জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বলেছেন, দেশের অর্থনীতি আরও সচল রাখতে হলে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে আরও বেশি করে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানো যায়। কিন্তু আমরা দেখছি, বিভিন্ন সময় এই খাত ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে এবং পুরোনো জটিলতাগুলোর সঠিক সমাধান না করতে পারার কারণে আমাদের এই খাত আরও যতটা প্রসারিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। জনশক্তি বাজারকে আরও প্রসারের লক্ষ্যে আইনের মারপ্যাঁচ নয়, সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সুবিবেচনাই বেশি কাম্য।
হাসান আহমেদ চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
kirondebate@gmail.com

বেঙ্গল পলিমার ওয়্যারসের বার্ষিক ডিলার সম্মেলন

বেঙ্গল পলিমার ওয়্যারস লিমিটেডের বার্ষিক ডিলার সম্মেলন গতকাল বুধবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে ৪৫০ জনেরও বেশি ডিলার অংশ নেন।
বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. মোরশেদ আলম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, বিপণন প্রধান মো. আজমুল ফারুকীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাহক হয়রানির পর সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তন স্পষ্ট করা হলো

প্রায় এক মাস ধরে গ্রাহকদের নানা ধরনের হয়রানির পর অবশেষে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তন নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
এই পরিপত্র জারির ফলে এখন থেকে আর কোনোভাবে ২০১১ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কোনো ধরনের কর কাটা হবে না, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার ফলে এই পরিপত্র জারির আগে যাঁদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন হয়েছে, তাঁরা ২০১১-১২ করবর্ষের আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় কর্তিত উৎসে কর সমন্বয় করতে পারবেন।
তবে অন্যান্য সঞ্চয়পত্রে ক্রয়কালীন সময়ে যে হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে, সেই হারেই অর্থাৎ ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে।
জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সব সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা ক্রয়কালীন সময়ের বিদ্যমান হারে মুনাফা পাবেন। আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে পরিপত্রের অনুলিপি সব সঞ্চয় ব্যুরো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বছরের ১ জুলাই বা এর পরে কেনা সব সঞ্চয়পত্রে নতুন হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। পরিবার ও পেনশনারসহ সব সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন হবে।
আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়েছে, উৎসে করের অর্থ ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। তাই ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো, ডাকঘর এক্ষুনি সরাসরি গ্রাহককে এই অর্থ ফেরত দিতে পারবে না। তবে উৎসে আয়কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। তাই যাঁদের কাছ থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা ২০১১-১২ করবর্ষের আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় তা সমন্বয় করতে পারবেন। সমন্বয়ের পরও অর্থ পাওনা থাকলে তা ফেরত দেওয়া হবে।
কিন্তু যেসব গ্রাহক বিশেষত মহিলাদের টিআইএন নেই, তাঁদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, একটি অসম্পন্ন নির্দেশনার ভিত্তিতে চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকেই সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন শুরু করে দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ডাকঘর ও সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়গুলো। এতে পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা বড় ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন।
বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর ২১ জুলাই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে হয় সিদ্ধান্ত হয়, ১ জুলাইয়ের আগে কেনা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর কাটা হবে না। তার পরও আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করতে পাঁচ দিন সময় ক্ষেপণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র বাদে অন্য সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুন সময়কালের মধ্যে যাঁরা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাঁদের মুনাফা করমুক্ত থাকে। তাঁরা যখনই মুনাফা উত্তোলন করুন না কেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো কর কর্তনের সুযোগ নেই।

নয়টি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

পুঁজিবাজারের আইন ভঙ্গের অভিযোগে ছয় ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি ও দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি কোম্পানির পরিচালকদের সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এসইসি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান।
জানা গেছে, ব্রোকার ডিলার বিধিমালা লঙ্ঘন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে জেড শ্রেণীর শেয়ার লেনদেন করায় ছয় ব্রোকারেজ হাউসকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংক ব্রোকারেজ লিমিটেডকে ২০ লাখ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডকে ২৫ লাখ, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ২৫ লাখ, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডকে ২০ লাখ, আইআইডিএফসি ব্রোকারেজ হাউসকে পাঁচ লাখ ও ইব্রাহিম সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রথম পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসকে সিকিউরিটি অ্যান্ড ব্রোকারেজ ডিলার বিধিমালা ভঙ্গ এবং ইব্রাহিম সিকিউরিটিজকে জেড শ্রেণীর শেয়ার কেনাবেচায় বিদ্যমান বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এসইসির সুবিধাভোগী আইনে নিষিদ্ধ সময়ে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যানশিয়াল কোম্পানির (বিআইএফসি) শেয়ার লেনদেন করায় মমতাজ বেগম ও আবদুল ওয়াদুদ মালিককে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এসইসি। এ ছাড়া বিআইএফসির দুই পরিচালক আব্বাস উদ্দীন আহমেদ ও নাজমা আব্বাসকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে রাইট শেয়ারসংক্রান্ত কাগজপত্র যথাসময়ে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে না পাঠানোর কারণে ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরপর তিন বছরের বেশি একই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ায় ড্যান্ডি ডায়িংকে জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। আর এসইসির অনুমোদন ছাড়া পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোয় তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
দুটি কমিটি গঠন: শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়াদেশ প্রদানে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি (পাঞ্চিং এরর) নিরীক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে গবেষণা ও উপদেষ্টা নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে এসইসি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ কমিটি দুটি গঠন করা হয়। কমিটি দুটি হলো: পাঞ্চিং এরর কমিটি এবং গবেষণা ও উপদেষ্টা সেবা কমিটি।
এসইসির সদস্য মো. আমজাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঞ্চিং এরর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ও আনোয়ারুল ইসলাম।
অন্যদিকে নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গবেষণা ও উপদেষ্টা সেবা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পরিচালক মাহাবুবুল আলম ও পরিচালক প্রদীপ কুমার বশাক।

টানা তৃতীয় দিন দরপতন

আগের দুই দিনের মতো গতকাল বুধবারও দেশের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক ছিল নিম্নমুখী। এ নিয়ে টানা তিন দিনের দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৮৩ পয়েন্টের মতো।
অবশ্য বাজার বিশ্লেষকেরা এ দরপতনকে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, কয়েক দিনের টানা দর বাড়ার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। ফলে শেয়ারের বিক্রি-চাপ বাড়ায় কিছুটা দরপতন প্রত্যাশিতই ছিল।
তবে হঠাৎ করেই জ্বালানি খাতের দুই কোম্পানি যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসায় অনেকেই বাজারে মূল্য সংশোধনের আরও কিছুটা ত্বরান্বিত হবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, একসঙ্গে অনেক শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসায় বাজারদরের চেয়ে তুলনামূলক কম দামেই সরকারি কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে। তাই অনেকেই হয়তো অন্যান্য খাতের শেয়ার বিক্রি করে এসব শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহী হবেন। ফলে সরকারি কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য খাতের শেয়ারের দরও কমবে।
গতকাল দিনের শুরুতে এ ভাবনার কিছুটা প্রতিফলন ঘটে। যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম ছাড়াও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন, পাওয়ার গ্রিড এবং ডেসকোসহ অন্যান্য সরকারি কোম্পানির শেয়ারের দামও কমে যায়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজার পরিস্থিতি দেখে তিতাস, ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার ছাড়া হবে। সেই হিসেবে এসব কোম্পানির শেয়ার আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। তা ছাড়া একটি নির্দিষ্ট মূল্যের নিচে শেয়ারগুলো বিক্রি করা হবে না বলেও আলোচনা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই গতকাল ডিএসইর লেনদেন শুরু হয়। গতকাল দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৬২৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৭২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৭ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩১ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ১৯২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৬ কোটি টাকা বেশি।

কিছুই খাচ্ছেন না মোবারক

কিছুই খাচ্ছেন না হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। শারীরিকভাবেও তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার দেশটির গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে এ কথা জানা যায়। অবশ্য সমালোচকেরা অসুস্থতাকে তাঁর বিচার এড়ানোর ঢাল হিসেবে দেখছেন।
দুর্নীতি ও সরকার উৎখাত আন্দোলনে নামা বিক্ষোভকারীদের হত্যার আদেশ দেওয়ার অভিযোগে গত এপ্রিল মাসে মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি শরম আল-শেখের একটি হাসপাতালে নিরাপত্তা হেফাজতে হূদেরাগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের প্রধান মোহাম্মদ ফাদাল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আল-গমহুরিয়া পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবারক কেবল তরল খাবার ও ফলের রস খাচ্ছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খাচ্ছেন না।
বার্তা সংস্থা মিনারের খবরে বলা হয়, হাসপাতালে তিনি খুব হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁর ওজনও কমে গেছে। মোবারকবিরোধীরা তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক এ খবরের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এটি মোবারকের বিচার এড়ানোর অজুহাত।
দুই ছেলে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদিল, ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোবারককে আগামী ৩ আগস্ট আদালতে দাঁড় করানো হবে। কোথায় এ বিচার হবে, তা এখনো প্রকাশ হয়নি।

প্রশিক্ষণে বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করবে চীন

ইউক্রেনের কাছ থেকে কেনা একটি পুরোনো বিমানবাহী রণতরী মেরামত করে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করবে চীন। ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তা করা হবে। গতকাল বুধবার এ কথা নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
চীনের প্রতিরক্ষা-ব্যয় বৃদ্ধি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলো। রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম, এমন জঙ্গি বিমানসহ উচ্চপ্রযুক্তির নতুন নতুন যুদ্ধসরঞ্জাম প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে চীনের সেনাবাহিনীতে।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং ইয়ানশেং রণতরী কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আত্মরক্ষামূলক সামরিক নীতিতে চীন অবিচল থাকবে। কাজেই চীনকে নিয়ে প্রতিবেশীদের উদ্বেগের কিছু নেই। তবে নিজেদের বিশাল সমুদ্রসীমা ও উপকূলভাগ সুরক্ষিত রাখার অধিকার চীনের আছে। এটা চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেং ইয়ানশেং বলেন, ‘বিমানবাহী রণতরী তৈরি একটি খুব জটিল কাজ। কাজেই প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য আমরা একটি পুরোনো রণতরী মেরামতের মাধ্যমে নতুন করছি।’
বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, এই প্রথম বিমানবাহী রণতরী কেনার বিষয়টি স্বীকার করল সরকার। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে কথা বলছিলেন, যদিও তাঁরা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে চীনের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ করে চীন জানিয়েছে, এতে দুই দেশের কৌশলগত সামরিক-স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিমানের পিছু ধাওয়া করে চীনের জঙ্গি বিমান তাইওয়ানের সীমানায় ঢুকে পড়ে বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়। এরপর গত সোমবার মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন জানান, বেইজিংয়ের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নজরদারির এ কাজ করে যাবে।

সংবাদমাধ্যমে হিনার উজ্জ্বল উপস্থিতি

পাকিস্তানের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার প্রথমবারের মতো ভারত সফরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লি পৌঁছান তিনি। এর মধ্যে তাঁর অসংখ্য ভক্ত জুটে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় তাঁর প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম ছিল, ‘সবচেয়ে সুন্দর চেহারায় পাকিস্তান’।
হাস্যরস সৃষ্টি করতেও পিছপা হয়নি কোনো কোনো পত্রিকা। মুম্বাই মিরর-এর শিরোনামে ছিল, ‘পাক-বোমার ভারতে অবতরণ’।
৩৪ বছর বয়সী পাকিস্তানি এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবির জন্য বিশাল জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ট্যাবলয়েড পত্রিকা মেইল টুডে। এতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ফ্যাশন ফ্রন্টের জন্য শতভাগ নম্বর পেয়েছেন তিনি। হিনা রব্বানি খারের পোশাক-পরিচ্ছদ, রোদচশমা, মুক্তোর অলংকার—সব মিলিয়ে তাঁকে ফ্যাশন-দুরস্ত দেখিয়েছে।
দুই সন্তানের জননী হিনা রব্বানীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার তুলনা করেছে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
রেডিফ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, হিনা রব্বানি খারের মধ্যে সৌন্দর্য ও মেধার অপূর্ব মিলন ঘটেছে। টুইটারেও তাঁর প্রশংসায় অনেক বার্তা পাঠানো হয়েছে।