Monday, December 4, 2017

৩ বছরেও ফারুকী হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু উদঘাটন হয়নি

চাঞ্চল্যকর মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও কোনো ক্লু উদঘাটন হয়নি। থানা পুলিশ থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), বর্তমানে তদন্ত করছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। একে একে পরিবর্তন হয়েছে তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অর্ধশত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশ ও বিদেশের প্রভাবশালী মহল থেকে হুমকি ছিলো ফারুকীর প্রতি।
এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন তারা। মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আট জনকে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফারুকী হত্যার পরপর যারা এই হত্যার বিচার দাবি করে মাঠে নেমেছিলেন, বক্তব্য, বিবৃতি দিয়েছেন তাদের অনেকেই এখন তদন্তে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছেন। যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছেন না ফারুকীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে। সূত্রে জানা গেছে, নানা দিক থেকেই হুমকিতে ছিলেন ফারুকী। নিজের ইসলামি মতবাদ, বিভিন্ন ইসলামি সমাবেশে বক্তব্য ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের কারণে হুমকি দেয়া হতো তাকে। সেই হুমকির বিষয়গুলো গুরুত্বসহ তদন্ত করেছে সিআইডি। ফারুকীর পারিবারিক-ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা এসব বিষয়ও উঠে এসেছে তদন্তে। তার ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বগুড়ার টনটনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবদুল মুবিনকে। ফারুকীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দীর্ঘ তিন বছর কাজ করেছেন মুবিন। হত্যাকাণ্ডের কিছু দিন আগে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে মুবিন জানিয়েছেন, বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেয়া হতো তাকে। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ফারুকীকে ডেকে নেয়া হয়েছিলো একটি দূতাবাসে। সেদিন তার গাড়িতে চালক, মুবিন ও আরো একজন ব্যক্তি ছিলেন। দূতাবাস থেকে বের হয়ে বিমর্ষ ছিলেন ফারুকী। এ প্রসঙ্গে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফরহান মানবজমিনকে বলেন, ফারুকী ছিলেন আহলে সুন্নাতের অনুসারীদের নেতা। বক্তব্য বিবৃতির কারণে প্রতিপক্ষের চক্ষুশূল ছিলেন তিনি। এসব বিষয় গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ২০১৪ সালের ২৭শে আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যা করা হয় ফারুকীকে। এ ঘটনায় তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ছয়-সাতজনকে আসামি করে শেরে-ই-বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ফারুকী হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন শেরে-ই-বাংলা নগর থানার তৎকালীন পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ। পরবর্তীতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় ডিবিতে। তদন্ত করেন ডিবির পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। কিন্তু কোনো ক্লু উদঘাটন সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় সিআইডিতে। তদন্ত করেন পরিদর্শক আজগর আলী। এর কিছু দিনের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দায়িত্ব দেয়া হয় পরিদর্শক আরশেদ আলী মণ্ডলকে। এবার সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ব্যাপক তৎপরতা দেখালেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আরশেদ আলী মণ্ডল বলেন, অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটি তদন্ত করছি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ফারুকীর ঘনিষ্ঠরা যথাযথ সহযোগিতা না করায় বেগ পেতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফরহান বলেন, ফারুকীর ছেলে রেজার সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো মুবিনের কিন্তু সেই তথ্য তিনি আমাদের দেননি। এছাড়াও ফারুকী হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ ইমরান হোসেন তুষার যেভাবে তৎপর ছিলেন এখন সেই তৎপরতা নেই। বরং রহস্যময় নীরব ভূমিকা পালন করছেন ইমরান। ফারুকী হত্যাকাণ্ডে থানায় মামলার পর ৪ঠা সেপ্টেম্বর আদালতে আরো একটি মামলা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামি ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। তিনি অভিযোগ করেন, ফারুকীকে হত্যার আগে ২২শে আগস্ট রাজধানীর তালতলার ট্রেড সেন্টারে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফারুকীকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। এতে ছয়জন টিভি উপস্থাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলা করার পর থেকেই তার ভূমিকা ছিলো রহস্যময়। যে বৈঠকে ছয় উপস্থাপকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে সেখানে ইমরান হোসেন তুষার নিজেও উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ইমরান জানিয়েছেন, সাংবাদিক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ওই সভায় আমি ছিলাম এটা সত্য। তবে সাংবাদিক হিসেবে না, টেলিভিশন উপস্থাপকদের সংগঠনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন, নানা কারণে ব্যস্ত থাকি। তবে আমি ফারুকী হত্যার বিচার চাই। নানাভাবে ফারুকীকে হুমকি দেয়া হতো। এসব হুমকি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মতিন) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রথম দুই নারী বৈমানিক

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুইজন নারী বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী প্রথমবারের মত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে নতুন এক মাইল ফলক যোগ হল। তারা জাতিসংঘ মিশন কঙ্গোতে যোগদানের উদ্দেশ্যে আগামী ৭ই ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এ দুই নারী বৈমানিক কঙ্গো শান্তি মিশনে এক বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। ঢাকা ত্যাগের আগে জাতিসংঘ মিশনে যোগদানের উপর তাদের মতামত ঢাকা সেনানিবাসস্থ ঘাঁটি বাশারে সাংবাদিকদের কাছে আজ উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, যোগ্যতা ও মেধা সম্পন্ন যে কেউ সামরিক বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসতে পারেন এবং এখানে মেধা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
মিশনে গিয়ে কাজ করতে যেসব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বিমান বাহিনী সেসব প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা জানান, দুর্গম অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে তাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সেসবের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। বিমান বাহিনী আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে। সবার কাছে দোয়া চাই কাজের মধ্যে দিয়ে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে পারি।
আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ২০০০ সালে সর্বপ্রথম সামরিক বাহিনীতে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ শুরু করে। সময়ের পরিক্রমায় বিমান বাহিনীর বিভিন্ন শাখার নারী কর্মকর্তারা বিমান বাহিনী ছাড়াও জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ২জন নারী বৈমানিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ পেয়েছেন।
আইএসপিআর আরো জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ১৮ নং স্কোয়াড্রনে বেল-২০৬ হেলিকপ্টারে বেসিক কনভার্সন কোর্সের জন্য মনোনীত হওয়া এই দুই নারী কর্মকর্তা ২০১৪ সালের ৩রা আগস্ট থেকে তাদের গ্রাউন্ড প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মত তারা উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২৫ ঘণ্টা সফল প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন শেষে তারা প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। এভাবে তারা ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করে বৈমানিক হয়ে ওঠার প্রাথমিক পর্যায় শেষ করেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রশিক্ষণরত এই বৈমানিক-দ্বয় বেল-২০৬ হেলিকপ্টারে ৬৫ ঘণ্টা উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করেন। তারা ২০৬ হেলিকপ্টার কনভারসন কোর্স, এমআই-১৭, এমআই-১৭১ এবং এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন। তারা ভারত থেকে এভিয়েশন মেডিসিন-এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা দুজনই পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন্স উত্তরণে অপারেশনাল পাইলট হিসেবে দায়িত্ব করেন। পেশাগত জীবনে বৈমানিক হিসেবে তাদের এই সাফল্য বিমান বাহিনী এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর উড্ডয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভুল রিপোর্ট করার কারণে সাংবাদিক ব্রায়ান রস’কে সাময়িক বরখাস্ত

ভুল রিপোর্ট করার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ব্রায়ান রস’কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজ। চার সপ্তাহ বিনাবেতনে বরখাস্ত থাকবেন তিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্পর্কে একটি ভুল রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন। মাত্র একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তিনি মার্কিন মুলুকে তোলপাড় করা ওই রিপোর্টে বলেছিলেন, মাইকেল ফ্লিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি সাক্ষ্য দিতে চাইছিলেন যে, রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে তাকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এ খবরে চারদিক তোলপাড় হতে থাকে।
ঠিক তখনই ব্রায়ান রস’কে সাময়িক বরখাস্ত করে এবিসি নিউজ। সঙ্গে সঙ্গে তারা পাঠকের কাছে, জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এক বিবৃতিতে তারা বলে যে, ততক্ষণে তারা অনলাইন ও অনএয়ারে থাকা ওই রিপোর্ট সংশোধন করেছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে এবিসি নিউজের স্পেশাল রিপোর্টে ব্রায়ান রস মাত্র একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ট্রাম্প সম্পর্কে ওই ‘বোমা’ ছোড়েন। কিন্তু ওইদিন রাতেই ওয়ার্ল্ড নিউজ টুনাইট অনুষ্ঠানে তিনিই তার রিপোর্টের ভুল স্বীকার করেন দর্শকদের সামনে। তিনি দর্শকদের বলেন, যে সূত্রকে উদ্ধৃত করে তিনি ওই রিপোর্ট দিয়েছিলেন তিনিই তাকে পরে বলেছেন, নির্বাচনের একজন প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প যখন ছিলেন তখন এমন নির্দেশনা দেন নি ফ্লিনকে। এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে তিনি মাইকেল ফ্লিনকে রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ততক্ষণে এবিসি ওই রিপোর্ট টুইটে প্রকাশ করেছে এবং তা প্রায় ২৫০০০ বার রিটুইট করা হয়েছে। এরপরই এমন স্বীকারোক্তি দেন ব্রায়ান রস। ফলে টুইটার থেকে, অনলাইন থেকে ওই রিপোর্ট প্রত্যাহার করা হয। ততক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বাজারে বড় রকমের নাটকীয় প্রভাব পড়েছে। সূচক পড়ে গেছে সাড়ে তিন শ পয়েন্টের নিচে। তবে দিন শেষে তা আবার উন্নত হতে থাকে। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকালে এবিসি নিউজের কাছে সিএনএন জানতে চায়, কেন অনলাইনে তাদের ওই রিপোর্ট নেই। এর কয়েক ঘন্টা পরে এ চ্যানেলের একজন মুখপাত্র বলেন, রিপোর্টটিতে সংশোধন চলছে। ওদিকে এবিসি নিউজ এ নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলে আমরা একটি ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য গভীরভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ওই রিপোর্টটি করেছিলেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান রস। তার ওই রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হয় নি, যেটা আমাদের সম্পাদকীয় নীতির অধীনে। আমরা যখন রিপোর্টটি ভুল বুঝতে পেরেছি তখন তা অনএয়ার ও অনলাইন থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমরা যে রিপোর্ট প্রকাশ করি তা যথাযথ হতে হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে আমরা জনআস্থা গড়ে তুলেছি। এটাই আমার মূল নীতি। কিন্তু ওই রিপোর্টটির ক্ষেত্রে এর অন্যথা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবিসি নিউজের চিফ ইনভেস্টিগেটিভ করেসপন্ডেন্ট হলেন ব্রায়ান রস। তিনি এবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ টুনাইট, নাইটলাইন, গুডমর্নিং আমেরিকা, ২০/২০, এবিসি রেডিওর জন্য রিপোর্ট করেন। তিনি এ চ্যানেলে যোগ দিয়েছেন ১৯৯৪ সালে। রিপোর্ট করেছেন সরকারি দুর্নীতি নিয়ে। তার ঝুলিতে যোগ হয়েছে কমপক্ষে ৪৩টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। এর মধ্যে ১৯৭৪ সালে পেয়েছেন পিবডি এওয়ার্ড। সেই শুরু। তারপর থেকে একের পর এক পুরস্কার পেতে থাকেন তিনি। ২০০৫, ২০০৬ সালে পেয়েছেন এমি এওয়ার্ড।

রোহিঙ্গা ফেরত নেয়া নিয়ে ইরানি দু’এমপির মন্তব্য

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব করে দিয়েছে। এমনটা মনে করেন ইরানের পার্লামেন্টের একজন সদস্য মাসুদ গোদারজি। তিনি মজলিশ ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফনে পলিসি কমিশনের একজন সদস্যও। তিনি বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন অবাধ করতে বিধিনিষেধ দিয়েছে মিয়ানমার। ইরানের অনলাইন দ্য ফিনান্সিয়াল ট্রিবিউন এ কভর দিযেছে। এতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কট সমাধানে একটি উপায় খুঁজে পেতে জাতিসংঘকে দ্বিগুন গতিতে তাদের প্রচেষ্টা চালাতে আহ্বান জানিয়েছেন মাসুদ গোদারজি।
গত ২৬ শে নভেম্বর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে একটি চুক্তিতে সম্মত হয় মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিবেশী এই দুটি দেশ কিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হবে তার বিস্তারিত জানায় নি। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে এক রকম লড়াই হয়ে গেছে। রাখাইনে শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সহিংসতা কবলিত রাখাইনে কিভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে এ বিষয়গুলো ছিল আলোচনায়। এ বিষয়ে আল জাজিরাকে রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক একজন কর্মী বলেছেন, কিভাবে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়া হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত নই যে, রোহিঙ্গাদেরকে তাদের প্রকৃত বাড়িতে ফিরতে দেয়া হবে কিনা। নাই সান লউইন নামের ওই অধিকারকর্মী বলেছেন, মিয়ানমারের পুনর্বাসন ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, তারা দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এমনটা হলে সব শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সময় লাগবে দু’দশকের মতো। মাসুদ গোদারজি এ জন্য মিয়ানমারের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের এমনভাবে ফিরিয়ে নেয়া হলে তা হবে নিয়ন্ত্রিত প্রত্যাবর্তন। তিনি মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকার একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। ওদিকে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা মোকাবিলা করা হচ্ছে অদক্ষতার সঙ্গে এমন অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন আরেক এমপি আবুল ফজল হাসানবেইগি। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার কাছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা অব্যাহত রাখার শক্তি পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো এক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ শুধু রিপোর্ট বা বিবৃতি প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে। এর কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে তাদের এমন ভূমিকায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পুতিন কেনো জিনিয়াস নন by জস কোহেন

বিশ্ব রাজনীতিতে স্মরণকালের সেরা সময় উপভোগ করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কোনো কোনো পর্যবেক্ষকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ‘নতুন শেরিফ’ হিসেবে উত্থান ঘটেছে তার। পর্যবেক্ষকদের এমন মতের পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও রয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার সোচি শহরের রাশিয়ান ব্ল্যাক সি রিসোর্টে সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকগুলোতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি টানার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুরস্ক ও ইরানের সমর্থন নিয়ে একটি সিরীয় শান্তি সভার আয়োজন করতে মূল ভূমিকা পালন করেন পুতিন। লক্ষণীয়ভাবে সোচির ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
ওই বৈঠকটিতে মধ্যপ্রাচ্যের ইস্যুই গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু, পুতিনের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপে, ইউক্রেনের ক্রিমিয়ান উপদ্বীপ দখল ও ২০১৪ সালে ইউক্রেনের নিবাসীরা দেশটির মস্কোপন্থি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ডনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিয়ে ইউক্রেইনকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। এশিয়ায় চীনের সঙ্গে খুব অল্প সময়ে রাশিয়া বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপকে সহায়তা করার উদ্দেশে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি এখনো পর্যন্ত দেশটির রাজনৈতিক পটভূমি দখল করেছে। প্রশাসনের আইনি এজেন্ডার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি। রাশিয়ার জন্য এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ সফল অর্জন। বিশেষ করে সাবেক এই সুপারপাওয়ার যেহেতু বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে প্রায় রক্তশূন্য অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার জিডিপি হচ্ছে, ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার- যা  কোনোরকমে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির মাত্র ৭ শতাংশ। এই হিসেবে পুতিন বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার কার্ড খেলছে। এসব সত্ত্বেও পুতিনের আপাত সফলতা অদূর ভবিষ্যতে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দিতে পারে। মাস্টার কৌশলবিদ হিসেবে তার জনপ্রিয়তার কারণে এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না যে, তার অর্জনগুলো তার মুখের ওপরেই বিস্ফোরিত হতে পারে।
ইউক্রেনের বিষয়ে: রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবেই ইউক্রেন দখলের চেষ্টায় ছিল। পাশাপাশি পুতিন চায়না যে, দেশটি মস্কোর কক্ষপথ ছেড়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দিক। ক্রিমিয়া দখলের পর ক্রেমলিন আশা করেছিল যে, ক্রেমলিন ভিত্তিক এজেন্ট, স্থানীয় সহায়তাকারী ও অগোছালো রুশ সেনাদের একটি জোট নিয়ে ইউক্রেনের পুরো দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল দখল করে নেবে। তৎকালীন সময়ে পুতিনের এই ‘নভোরোশিয়া’ বা নতুন রাশিয়া তৈরির স্বপ্ন অনেকটা বাস্তবায়নযোগ্যই মনে হয়েছিল। কেননা, ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬ হাজার কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিস্থিতি তার পরিকল্পনা মতো আগায়নি। সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে ইউক্রেনের জনসংখ্যাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- ইউক্রেনিয়ান ভাষী, ইউরোপ বংশোদ্ভূত পশ্চিমা অর্ধেক ও রাশিয়াপন্থি রুশ-ভাষী পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাক্র অধিবাসী। ইউক্রেনের ওপর পুতিনের যুদ্ধ ইউক্রেনবাসীদের মধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়ের অনুভূতি ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে অর্থায়নকৃত সামরিক ব্যাটালিয়ন ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবীরা ইউক্রেনের সরকারি সামরিক বাহিনীকে রাশিয়া-সমর্থনকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও স্থানীয় সহায়তাকারীদের পিটিয়ে ফেরত পাঠাতে সাহায্য করেছিল। ইউক্রেনজুড়ে সামপ্রতিক চালানো এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদ নিয়ে সচেতনতা ২০১৪ সাল থেকে ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইইউ ও ন্যাটোর মতো পশ্চিমা সংগঠনে যোগ দেয়ার জন্য সমর্থন লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে রাশিয়া-বিরোধী প্রবণতাও। যদিও ক্রেমলিন আশা করতেই পারে যে, একসময় তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের মতো রাশিয়াপন্থি কেউ পুনরায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসবেন। কিন্তু সেগুলো বোধহয় বাস্তবে ঘটা অসম্ভব। মস্কোর ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনের পশ্চিমাংশে চালানো যুদ্ধে তারা লাখ লাখ রাশিয়াপন্থি, ন্যাটো ও ইইউ বিরোধী ভোটার হারিয়েছে। সহজভাবে, পুতিন হয়তো ক্রিমিয়ার দখল নিতে পেরেছেন। কিন্তু পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের বাকি অংশ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ-হস্তক্ষেপও পুতিনের পরিকল্পনা মতো কাজ করেনি। ক্রেমলিনের আশা ছিল যে, ট্রামপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে দুই দেশের মধ্যে সমপর্ক ঘনিষ্ঠ হবে। যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা রাশিয়াপন্থি নীতিমালা অনুসরণ করবে। আদতে ঘটেছে তার উল্টোটা। গত এপ্রিল মাসে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সমপর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার এবং উত্তর কোরিয়া থেকে আফগানিস্তান ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে যেসব বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতার যে গোপন প্রস্তাব পুতিন দিয়েছিলেন তার কোনোটারই কোনো প্রকারের বাস্তবায়ন হয়নি। আগস্ট মাসে মার্কিন কংগ্রেস প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে- পুতিনের মিত্রদের উদ্দেশ্য করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি কংগ্রেস এটাও নিশ্চিত করে যে, ট্রামপ যেন কোনোভাবে কংগ্রেসের অনুমতি ব্যতীত পূর্বে আরপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে না পারেন।
পুতিনের আরো প্রত্যাশা ছিল যে, ট্রামপ জয়ী হলে ন্যাটো দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু ট্রামপ তার প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে ন্যাটো ও ন্যাটোভুক্ত মিত্রদেশগুলোর প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন। ট্রামপ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি যে সত্যিকারেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তা প্রমাণ করতে বালটিকে আমেরিকান সেনা মোতায়েন করেছেন। পাশাপাশি পোলিশ-রুশ সীমান্তেও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছেন। আর ট্রামেপর এই সঙ্গত দাবির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররাও অবশেষে তাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বাজেট বাড়াচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করার জন্য কাজ করবেন- ক্রেমলিন এখনো এই আশা ধরে রেখেছে। কিন্তু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এমনটি ঘটতে বাধা দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস, সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টারসহ  ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য রাশিয়ার বিষয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। মনে করা হচ্ছে, রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ট্রাম্পের কোনো পদক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এমনকি ট্রাম্প যদি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে চান, তাও অসম্ভব হতে পারে। কেননা মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে এখনো ট্রাম্প, তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও উপদেষ্টাদের সন্দেহ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ঘটনা তদন্তে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন ট্রাম্প। তিনি যে রাশিয়ার ‘সিক্রেট’ পুতুল নন, এই বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন হবে।
এদিকে, চীনের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গুটি কয়েক আমেরিকান যে হুমকির আশঙ্কা তুলে ধরেন, আদতে বিষয়টি অত গুরুতর নয়। চীনের অর্থনীতি রুশ অর্থনীতির তুলনায় অনেক বড়। এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যতার কারণে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে রাশিয়া হবে তার ছোট অংশীদার। চীনের সঙ্গে মস্কোর সামরিক সহায়তার বিষয়টিও খালি চোখে যা দেখা যায়, তার থেকে কম। যদিও দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া বেড়েছে। তবে এগুলো পশ্চিমাবিরোধী কোনো জোট গঠন করার জন্য নয়। এমনকি বেইজিংয়ের কাছে সর্বাধুনিক অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মস্কোর আগ্রহ পুতিনের জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। কেননা এতে দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান খর্ব হতে পারে। কয়েক দশক ধরে চলা আস্থাহীনতাকে অগ্রাহ্য করেই সম্পর্ক উন্নয়ন করছে করছে ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তি। তাদের এই আস্থাহীনতা এখনো রয়েছে। কোনো দিন যদি চীন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে রাশিয়ার কাছে আবারো ঐতিহাসিক সাইবেরিয়া অঞ্চল দাবি করে বসে, তখন স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তাকে বিসর্জন দেয়ার ক্ষেত্রে পুতিনের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতাপ করতে হবে। খুব পরিষ্কারভাবে পুতিন কিছু রাজনৈতিক অর্জনের কথা উল্লেখ করতে পারেন। সিরিয়ার বিষয়ে তার সফল কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সিরিয়ায় ইসরাইলের স্বার্থের বিষয়টি দেখার জন্য পুতিনকে অনুরোধ করেছেন। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো প্রথম সৌদি নেতা হিসেবে ১৫০০ প্রতিনিধি নিয়ে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ মস্কো সফর করেছেন। অনেক পর্যবেক্ষক এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুই দেশ বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিও রয়েছে।
পুতিন হয়তো মধ্য প্রাচ্যের শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, কিন্তু তার অর্জন খুবই সামান্য। এখন এটা বোঝা যায় যে, তার ভূরাজনৈতিক ‘জিনিয়াস’ হওয়ার দাবি বাস্তবতার থেকে কল্পনা-ই বেশি।  
(রয়টার্সে প্রকাশিত নিবন্ধের অনুবাদ)

ভারতের ভায়াগ্রা কোহিনুর পান, দাম ৫০০০ রুপি

বিশ্বাস করতে পারেন একটি পানের দাম ৫০০০ রুপি। বাংলাদেশের টাকায় যার পরিমাণ ৬০০০ টাকারও বেশি। হ্যাঁ, ঘটনা একেবারে সত্যি। ভারতের আওরঙ্গাবাদে একটি পানের দোকানে এই দামে বিক্রি হয় একটি পান। ৫০ বছর ধরে ওই দোকানটি পানের ব্যবসা করে আসছে। এখানকার পানের মেনুতে রয়েছে ৫১ ধরনের পান।
এর মধ্যে নববিবাহিতদের জন্য আছে এক রকম পান। একে বলা হয় স্টার পান। এই পানের কদর অনেক বেশি। এই পানটি স্থানীয়ভাবে ‘ভারতের ভায়াগ্রা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এ পানটি ‘কোহিনুর’ পান নামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আওরঙ্গাবাদে ওই পানের দোকানটির নাম তারা পান সেন্টার। এই দোকানে কোহিনুর পান বানানো হয় বিশেষ সব উপাদান মিশ্রিত করে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধরনের কস্তুরি, যার প্রতি কিলোগ্রামের দাম ৭০ লাখ রুপি। মিশানো হয় জাফরান, যার প্রতি কেজির দাম ৭০ হাজার রুপি। মিশানো হয় গোলাপ, যার প্রতি কেজির দাম ৮০ হাজার রুপি। এ ছাড়া এই পানে মিশানো হয় বিশেষ তরল। তাতে আছে ভিন্ন মাত্রার সুঘ্রাণ। এ জিনিসটি শুধু পশ্চিমবঙ্গেই পাওয়া যায়। এরপরে যে জিনিসটি মিশানো হয় সেটিই এই পানের বিশেষত্ব। কি সেই উপাদান সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে না। ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা এ বিষয়টি গোপন রেখেছে। এমনকি ওই দোকানে যেসব কর্মচারী কাজ করেন তারা পর্যন্ত জানেন না কি সেই গোপন উপাদান। এ গোপনটি জানেন শুধু দু’জন। একজন হলেন দোকানের মালিক মোহাম্মদ সিদ্দিকী ও তার মা। সিদ্দিকীর মা-ই এই ব্যবসার মূলে। তিনিই তার ছেলে সিদ্দিকীকে গোপন রেসিপি দিয়েছেন। সেই রেসিপি অনুসরণ করে তারা এখন ভারতজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন। এমনকি বিদেশী অনেক অতিথিও তাদের দোকানে ভিড় জমান। বিশেষ করে ‘ভারতীয় ভায়াগ্রা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় নবদম্পতি এবং যারা যৌন জীবনে অসুখী তারা পর্যন্ত ছুটে যান ওই দোকানে। সিদ্দিকী বলেন, আমি বিয়ের আগে এই পান বিক্রি করি নি। আমার বিয়ের পর মা আমাকে এই পান দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এটা আমার খাওয়া উচিত। তারপর যদি আমার পছন্দ হয় তাহলে আমাকে এটা বিক্রি করার জন্য বলেন। তারপর থেকেই এই পানের ভক্ত হয়ে যান সিদ্দিকী। তিনি এই পানকে তার দোকানের মেনুতে যুক্ত করেন। ফলে তার দোকানে প্রতিনিয়ত ভিড় লেগে থাকে কোহিনুর পানের জন্য। কিন্তু দামটা একটু বেশিই হয়ে যায়। তাই কম দামেও এটি বিক্রি করার একটি বিকল্প পন্থা আবিষ্কার করেছেন সিদ্দিকী। এর দাম রাখা হয় ৩০০০ রুপি। তার দোকানের একজন কর্মচারী বলেন, ৩০০০ রুপির একটি পান যদি আপনি খান তাহলে তার প্রভাব থেকে যায় তিন দিন। এই তারা পান সেন্টারে পুরুষদের পাশাপাশি আছে নারীদের জন্য কোহিনুর পান। প্রতিদিন এই দোকান থেকে বিক্রি হয় ১০০০০ পান।

জুতা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা by এম এম মাসুদ

বিশ্বে চামড়াজাত পণ্য, অর্থাৎ জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ ইত্যাদি বাজারের আকার প্রায় ২২ হাজার কোটি ডলারের। এ বাজারের সিংহভাগ চীনের দখলে। তবে চীনা কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের সামনে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির বাজার  বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুতা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। সম্ভাবনা দেখে বৈশ্বিক বড় ব্র্যান্ডগুলো পণ্য কেনার জন্য বাংলাদেশে আসছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন প্রবৃদ্ধি জোরদারের মাধ্যমে বর্তমানে আরো এগিয়ে গেছে দেশের পাদুকা শিল্প। আগামীতে তৈরি পোশাকের সঙ্গে জুতার বাজারও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের। তারা জানান, বর্তমানে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড নাইকি, অ্যাডিডাস, টিম্বারল্যান্ড, আলদো, সিয়ার্স, জেনেসকো, স্টিভ ম্যাডেন, হুগো বস, মেসি’জ, স্যান্ডারগারড, ডায়েচম্যান, এবিসি মার্ট ও এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশ থেকে জুতা কেনা শুরু করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এ খাতে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৮ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মিলিয়ে ১২৩ কোটি ৪০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ছিল ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩.৫ শতাংশ বেশি। পোশাকের পর পণ্য রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চামড়া খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ৪২ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে আছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের চামড়া, ১৭ কোটি ডলারের চামড়া পণ্য ও ২০ কোটি ডলারের চামড়ার জুতা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মেয়াদে চামড়ার জুতা রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩.১০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের রপ্তানি আয় ৮.৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
বৈশ্বিক চামড়াজাত পণ্যবাজার নিয়ে সমপ্রতি একটি বাজার সমীক্ষা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পণ্যবাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেকনাভিও। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত বছর বিশ্বে চামড়াজাত পণ্য কেনাবেচা হয়েছে ২১,৭৪৯ কোটি ডলারের।
এদিকে পর্তুগালভিত্তিক জুতা প্রস্তুতকারকদের সংগঠন পর্তুগিজ ফুটওয়্যার, কম্পোনেন্টস, লেদারগুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এপিআইসিসিএপিএস) গত তিন বছরের ফুটওয়্যার ইয়ারবুকে উল্লিখিত উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে বাংলাদেশ। আর শুধু উৎপাদনের দিক থেকে অষ্টম অবস্থানে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বছরে ২,৩০০ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করে চীন। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে দেশটিতে উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদন প্রবৃদ্ধিও কমতে শুরু করে। এ সুযোগে বাংলাদেশের উৎপাদকরা নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গত বছরও জুতা উৎপাদনে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাংলাদেশের। ২০১৪ ও ১৫ সালে এ প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৫.৭ ও ১২ শতাংশ। এ তিন বছরে গড়ে ৮.২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০১৪-১৬ সাল, এ তিন বছরের গড় হিসাবে নিলে জুতা উৎপাদনে ২.১ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে চীনের। অন্যদিকে উৎপাদন বিবেচনায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে অষ্টম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি উভয়ই বাড়ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ২৯ কোটি ৮০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদন করে। ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৫০ লাখ, ২০১৫ সালে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ও ২০১৬ সালে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ জোড়া উৎপাদন করে বাংলাদেশ। এপিআইসিসিএপিএসের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৪-১৬ সাল পর্যন্ত জুতা উৎপাদনে গড় প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল তুরস্কের। এ তিন বছরে দেশটি যথাক্রমে ৩২, ৩৫ ও ৫০ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদন করেছে। গড় প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ৭২, ১০০ ও ১১১ কোটি জোড়া জুতা। প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় তৃতীয় অবস্থানে আছে ভিয়েতনাম। দেশটি উৎপাদন করে যথাক্রমে ৯১, ১১৪ ও ১১৮ কোটি জোড়া জুতা। একইভাবে তিন বছরে গড়ে ৮.২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ আছে চতুর্থ অবস্থানে। উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে পঞ্চম থেকে দশম অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, মেক্সিকো, চীন ও থাইল্যান্ড।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা বাজার দখলে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারছি না। এগিয়ে যাচ্ছে ধীরগতিতে। কারণ এ খাতের সংযোগ শিল্প ইন্ডাস্ট্রি নেই। কারখানার কর্মপরিবেশের মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে থাকলেও রপ্তানিকারক হিসেবে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। তাদের মতে, এ খাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে নীতিসহায়তা ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এপিআইসিসিএপিএসের হিসাবে, রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। আমদানি বিবেচনায় ৭১তম ও ব্যবহার বিবেচনায় ১২তম অবস্থানে। বাংলাদেশের রপ্তানি করা জুতার ৪২ শতাংশই চামড়াজাত। এ ছাড়া ৩২ শতাংশ বস্ত্রজাত। বাকি ২৬ শতাংশ রাবার ও প্লাস্টিক থেকে তৈরি জুতা।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ দেশের চামড়ার অন্যতম বড় সুবিধা হচ্ছে অভ্যন্তরীণভাবে কাঁচামাল প্রাপ্তি। কাঁচা চামড়ার চাহিদার পুরোটা দেশেই পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতি বছর প্রায় বিভিন্ন পশুর ১ কোটি ৬৫ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়।
সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত চামড়াজাত পণ্যের প্রদর্শনীতে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা জানান, চামড়াজাত পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার পেছনে ৫টি কারণ রয়েছে। এগুলো হলো চীন থেকে চামড়াজাত পণ্যের কারখানা সরছে, বাংলাদেশের জুতা ও ব্যাগ তৈরির সক্ষমতা বাড়ছে, এ খাতের মূল কাঁচামাল দেশেই হয়, বাংলাদেশ মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করছে এবং এ দেশের শুল্কমুক্ত বাজার-সুবিধা আছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে বেশ কিছু সমস্যাও আছে। এগুলো হলো চামড়া প্রক্রিয়াকরণে পরিবেশদূষণ, রপ্তানিতে লিডটাইম বা পণ্য তৈরি করে জাহাজীকরণ করতে সময় বেশি লাগে, এ দেশে পণ্য বৈচিত্র্যের অভাব, শ্রমিকের দক্ষতায় ঘাটতি এবং কারিগরি জ্ঞানের অভাব।
দেশের শীর্ষস্থানীয় পাদুকা উৎপাদনকারী অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, বাজার ধরতে আমাদের প্রয়োজন কারিগরি জ্ঞান ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইউরোপে রপ্তানি বাড়াতে হলে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, সাধারণ জুতা তৈরি করে বাজার ধরা যাবে না। এজন্য বাংলাদেশে পণ্য উন্নয়ন কেন্দ্র বা প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার দরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আসছে। তবে তারা সার্বিক মান বা কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে খুবই সচেতন। যে গরুর চামড়া দিয়ে জুতা হচ্ছে, সেই গরুটি কোন ঘাস খেয়েছে, এটাও তারা জানতে চায়।
লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সায়ফুল ইসলাম বলেন, দেশের মোট চামড়ার ২০-২৫ শতাংশ ব্যবহার করে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার হয়েছে। দেশের চামড়ার আরও ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করতে পারলে ২০২১ সালে এ খাতে রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলার করা সম্ভব।
চামড়া রপ্তানিকারকরা বলছেন, বৈশ্বিক বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের চামড়া কেনে না। কারণ, এ দেশের ট্যানারিগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণ করার অভিযোগ রয়েছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদন শুরু হলে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় বাড়বে।

কেঁদেছেন কিন্তু...

ঢাকায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতে কেঁদেছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। এই কান্না ছিল ভেতরে ভেতরে। তিন দিনের সফর শেষে পোপ ফ্রান্সিস শনিবার ভ্যাটিকানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট তাকে রোমে পৌঁছে দেয়। বিমানেই সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পোপ। ব্যাখ্যা দেন মিয়ানমার সফরে রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ না করার।
তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি তার কাছে একটি শর্ত ছিল। আর মিয়ানমারে রোহিঙ্গা উচ্চারণ না করলেও তাদের বিষয়ে বার্তাটি দেশটির বেসামরিক- সামরিক নেতৃত্বের কাছে ঠিকই পৌঁছে দিয়েছেন। সরাসরি জায়গায় আঘাত না করলেও তারা আগেই বুঝে নিয়েছিল পোপ কি বলতে চান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পোপ।
পোপের সফর ঘিরে অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন তিনি মিয়ানমারের সামরিক, বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলাদাভাবে উত্থাপন করবেন। কিন্তু নানা পরামর্শ, মিয়ানমারের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পরিণতির কথা চিন্তা করে তিনি ওইসব বৈঠকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
সাংবাদিকদের পোপ বলেছেন, আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সময় আমি যদি ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম তাহলে হয়তো আমি আসল স্থানে খোঁচা দিতাম। কিন্তু আমি কি ভাবছি, কি বোঝাতে চেয়েছি তারা তা আগেভাগেই বুঝে গেছে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বার্তাটি ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্তোষ’ প্রকাশ করেন। এএফপি ও এসবিএস-এর খবরে বলা হয়, পোপের মিয়ানমার সফর কূটনৈতিক নিরাপত্তায় ঢাকা ছিল। মিয়ানমার থেকে তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন। এখানে সাক্ষাৎ করেছেন কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গে। এখানেই তিনি প্রথম রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পোপ বিমানে থাকা সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি জানতাম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি। তবে কোথায় এবং কিভাবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো সেটা আমি জানতাম না। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতই ছিল আমার সফরের অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যখন সাক্ষাৎ হয়েছে তখন আমি কেঁদেছি। কেঁদেছি এমনভাবে যাতে কেউ তা দেখতে না পারে। এ সময় রোহিঙ্গারাও কেঁদেছেন। পোপ বলেন, তাদের কিছুই না বলে চলে যাবো আমি- এমনটা হতে পারে না। তাদের আমি বলেছি, একীভূত বিশ্বের সামনে আপনাদের ওপর যারা নিষ্পেষণ চালিয়েছে, যারা আপনাদের ক্ষতি করেছে তাদের ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানাই আমি। বিমানে সফরের সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন পোপ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যা করেছে তা অনেক। এটা স্বাগত জানানোর একটি উদাহরণ।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার সফরকালে তিনি রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। সেখানে তাকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন তার উপদেষ্টারা ও ইয়াঙ্গুনের আর্চবিশপ। তারা বলেছিলেন, তিনি যদি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন তাহলে সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। সেখানে বসবাসরত খ্রিস্টানরা বিপদে পড়বেন। সেই পরামর্শই অনুসরণ করেছেন পোপ। তবে মিয়ানমারে চার দিনের সফর শেষে তিনি বাংলাদেশে এসে প্রথম রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।
ওদিকে মিয়ানমারে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিষয়ে আগামী ৬ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নারীদের অধিকার বিষয়ক একটি প্যানেল।

‘জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে’ -জর্ডানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন, যদি তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয় তাহলে তাদেরকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আরব ও মুসলিম জাহানে ভয়াবহ ক্ষোভ চড়িয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য তিনি খুব শিগগিরই ওই স্বীকৃতি দেবেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনার বলেছেন, এখনও এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি। ওদিকে আয়মান সাফাদি এক টুইটে বলেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে জানিয়ে দিয়েছি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে তাতে ভয়াবহ পরিণতি হবে। এমন সিদ্ধান্ত আরব ও মুসলিম জাহানে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেবে। উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালবে এবং শান্তি প্রচেষ্টা নষ্ট হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হয় নি। ওদিকে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা না দেন সে জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তৎপর রয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তার অফিস থেকে বলা হয়েছে, রোববার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান সহ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহমুদ আব্বাস। তার উপদেষ্টা মজদি আল খালিদি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস বিশ্ব নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দূতাবাস জেরুজালেম থেকে সরিয়ে নেয় বা জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া তাহলে কি কি বিপদজনক ঘটনা ঘটতে পারে সেসব সম্পর্কে অবহিত করেছেন তাদেরকে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরাইল। ১৯৮০ সালে দখলীকৃত এলাকার আয়তন বৃদ্ধি করেছে। তারা এ এলাকাকে তাদের বড় একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ওই এলাকাটি দখলীকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ইসরাইল সংকল্পবদ্ধ যে, কিন্তু এই জেরুজালেমকে ইসরাইল দেখাতে চায় তাদের চিরস্থায়ী ভূমি হিসেবে, অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে। তবে ফিলিস্তিন চায় অন্যভাবে। তারা চায়, ভবিষ্যতে তাদের যে রাষ্ট্র হবে সেই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। ফলে এই জেরুজালেম নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। যদি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় তাতে সঙ্কট আরো বাড়বে। ফিলিস্তিনিদের দাবি অগ্রাহ্য হবে। তারা তাদের ভূমি হারাবে। এতে দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সঙ্কট সমাধানের যে প্রচেষ্টা তা বিফল হবে। ১৯৪৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যত সরকার এসেছে তারা একটি ভাবধারা অব্যাহত রেখেছে। তারা চেয়েছে জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা নির্ধারিত হবে আলোচনার মাধ্যমে। তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যাতে এসব আলোচনা বিঘিœত হয়। কিন্তু গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের প্রতি কঠোর সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেদিন ক্ষমতায় বসবেন সেদিনই তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেবেন। এর মধ্য দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেছেন ট্রাম্প এক বছর হতে চলল। কিন্তু তার সেই সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করেছেন। এখন নতুন করে খবর রটেছে যে, তিনি বুধবার এ সম্পর্কে ঘোষণা দিতে পারেন। এ বিষয়ে তার জামাই জারেড কুশনার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তিনি শুধু বলেছেন, এটা প্রেসিডেন্টের বিষয়।

যেভাবে অন্যের হয়ে যায় ওরা by রুদ্র মিজান

তখন সন্ধ্যা। কাপড় গুছিয়ে প্রস্তুত করা হয় কিশোরী সাদিয়াকে। সঙ্গে মধ্যবয়সী অঞ্জলি ও এক যুবক। সাদিয়ার গন্তব্য ওপারে। যেখানে গেলে ভালো একটা চাকরি পাবে। চিকিৎসা পাবে।
আয়-রোজগার হবে। মুক্তি পাবে দীর্ঘদিনের বন্দি জীবন থেকে। সাদিয়াকে সেভাবেই  স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। যশোরের হাটখোলা রোডের বন্দিঘর থেকে বের হয়ে সীমান্ত এলাকা। সাতক্ষীরা সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে জমির আইল দিয়ে যাত্রা শুরু। হেঁটে হেঁটে চুপিসারে তারা পৌঁছে যায় ভারতের চব্বিশ পরগনার চাঁদপাড়া সীমান্তে। তখন সঙ্গী ওই যুবকসহ আরো দুই কিশোরী। অবশ্য অঞ্জলি বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তেই। রাতটা কাটে তাদের চাঁদপাড়ার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার একটি ঝুঁপড়ি ঘরে। সকালে ট্যাক্সিতে করে দমদম। এভাবেই ঘটছে নারী পাচারের মতো ভয়াবহ ঘটনা। নানা কৌশলে পাচার হচ্ছে নারী। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার গরিব, অসহায় কিশোরী, তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার করা হচ্ছে। মানবপাচার রোধে মামলা হচ্ছে কিন্তু পাচার রোধ হচ্ছে না। বরং দিনদিন তা বেড়েই চলেছে। দেশের অন্তত ২০টি রুট দিয়ে নারী পাচার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভয়াবহ তথ্য। মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিশোরী-তরুণীদের সংগ্রহ করছে দালালরা। সেখান থেকে বাংলাদেশি এজেন্টরা লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে ভারতীয় এজেন্টদের কাছে। গত চার মাসে বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে পাচারকালে ৩৮৫ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। জুলাই মাসে ৪৪, আগস্টে ৫৩, সেপ্টেম্বরে ৭৯ ও অক্টোবরে ২০৯ জন।
মানবপাচার নিয়ে কাজ করছে এরকম সংগঠনের মধ্যে অন্যতম হিউম্যান রিসোর্স এন্ড হেল্‌থ ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি ওই সংগঠনের এক কর্মীর সঙ্গে ভারতের চেন্নাইয়ে কথা হয় কিশোরী সাদিয়ার। মাদারীপুরের এই কিশোরী ডিজে পার্টিতে নাচ করতো। এরকম একটি পার্টির কথা বলেই গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অঞ্জলি নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে। মন্দির পতিতালয়ের ২০৩১ নম্বর ঘরে আটকে রাখা হয় তাকে। অঞ্জলির ঘরে সাদিয়ার মতো সুমি, মালা চাকমা, কনাসহ চারটি মেয়ে। ওই ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয় তাকে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ করা হয়। চিৎকার করলেও মারধর করা হয়। এভাবেই বাধ্য করা হয় পতিতাবৃত্তিতে। সাদিয়া তখন মুক্তি চাইতো যে কোনো কিছুর বিনিময়ে। নির্যাতনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে যায়। তারপর চিকিৎসার কথা বলে এক যুবকের সঙ্গে পাঠানো হয় তাকে। তাকে জানানো হয়, ওই শহরে ভালো চাকরি করবে। তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ পাবে। পনের বছর বয়সী সাদিয়া তখনও জানতো না সে দেশ ছেড়ে যাচ্ছে ভারতে। মানবাধিকারকর্মী আলমগীর সেলিম জানান, প্রথমে দমদম স্টেশনের শামীম মণ্ডলের বাসায় রাখা হয় সাদিয়াকে। ততক্ষণে কিশোরী বুঝতে পারে তাকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। একপর্যায়ে পাঠানো হয় ভারতের চেন্নাইয়ে। সেখানে চক্রের মূল হোতা সুনীল, সুমন দাশ, সঙ্গীতা ও রবিনদের আস্তানায় ঠাঁই হয় তার। চক্রের সদস্যরা জানায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে তাকে। এখানে তাদের কথামতো কাজ না করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। তারপর থেকে চেন্নাই ও দিল্লির বিভিন্ন বারে, বাসায় ও আবাসিক হোটেলে শরীর বিক্রি করছে সাদিয়া। আলমগীর সেলিম জানান, আইনি জটিলতার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
ভারতের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’র গবেষণা পরিচালক সায়ন্তনী দত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রলোভন দেখিয়ে, মাদক সেবন করিয়ে ও অপহরণ করে নারী ও শিশুদের পাচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যাদের পাচার করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের অনেকেই পাচারকালে বুঝতেই পারেনি তাদের অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা ভেবেছে দেশের অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের। সাদিয়ার মতোই ভোলার মেয়ে পপিকে পাচার করা হয়েছে ভারতে। ২৭ বছর বয়সী সুন্দরী এই কিশোরী কাজ করতো গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে। গাজীপুরের কোনাবাড়ির আবাসিক হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় পপি। বান্ধবী তমার মাধ্যমে হোটেল কর্মচারী কবিরের সঙ্গে পরিচয় পপির। কবির জানায়, তার মা ভারতে থাকেন। সেখানে তাদের ঘর-বাড়ি রয়েছে। সেখানে গিয়ে পপিকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে। সেভাবেই যশোরের পুটখালী সীমান্ত দিয়ে ব্যাঙ্গালুর। সেখানে গেলেই প্রকাশ পায় কবিরের আসল রূপ। সাঞ্জু, বাপ্পি নামের নারী পাচার চক্রের এজেন্টের হাতে তুলে দেয় তাকে। ওই চক্র পপিকে তুলে দেয় সুশীল, সুমন, রণজিৎ ও গণেশের হাতে। সূত্রমতে, হায়দরাবাদের কুকুপল্লীর এসপি পেট্রোল পাম্পের গলির একটি টিনশেড বাসায় দীর্ঘদিন রাখা হয় পপিসহ কয়েক নারীকে। তারপর তাকে রাখা হয় সৈনিকপুরীর শ্রী কলোনীর ৩৫ নম্বর বাড়িতে। দিন-রাত পাহারা দিয়ে রাখা হয়। কারও সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। একপর্যায়ে দেশে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে পপি। প্রায়ই চিৎকার করে কান্নাকাটি করে। এরমধ্যেই তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। কারাগারে বন্দি পপি আবার আত্মসমর্পণ করে ওই চক্রের কাছে। তার জামিন করাবে ওই চক্র। বিনিময়ে আবারো অন্ধকার পথে হাঁটবে সে। সূত্রমতে, পপি এখন হায়দরাবাদ কারাগারে।
সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের তথ্যানুসারে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে শতাধিক শিশু এবং অর্ধ শতাধিক নারী বিদেশে পাচার হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ নারী ও শিশু বিদেশে পাচার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ লাখ নারীকে ভারতে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নারী পাকিস্তানে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা বলেন, মানবপাচার রোধে বিজিবি অত্যন্ত তৎপর। প্রায়ই ভিকটিম উদ্ধার ও পাচারকারীকে আটক করছে বিজিবি।

রোহিঙ্গা নারীদের যৌনতার ফাঁদ ...

রোহিঙ্গা যুবতী, নারীদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতদিন খবর মিলছিল যে, তাদেরকে দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হচ্ছে। কিন্তু এখন তার চেয়েও ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বলা হয়েছে, তাদেরকে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে যৌনদাসী হিসেবে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৮ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। তার মধ্যে নারীদের দিকে শকুনের চোখ পড়েছে।
তাদেরকে যৌন ব্যবসায় নামাচ্ছে একটি চক্র। এ বিষয়টি সামনে এনে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আওএম) জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা নারীদের রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিযেছে। বিভিন্ন সাহায্য বিষয়ক এজেন্সির মতে, এসব নারীকে পাচার করা হচ্ছে। বিপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। আর এই ধারা ক্রমশ বাড়ছেই। এমনিতেই আশ্রয় শিবিরগুলোতে যৌন ব্যবসা ও যৌন দাসী বানানোর খবর প্রচলিত আছে। দ্য সানডে টেলিগ্রাফের মতে, রোহিঙ্গা নারীদেরকে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে এ বিষয়টিতে অবগত আইওএম। যেসব দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশে শরণার্থীদের সহায়তা করছে তাদের সঙ্গে জড়িত আইওএম। আইওএমের জরুরি বিভাগের তথ্য বিষয়ক কর্মকর্তা অলিভিয়া হেডন বলেন, তারা পাচার বিরোধী কর্মকান্ড রোধে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে লিঙ্গগত সহিংসতা প্রতিরোধেও কাজ করছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার ফলে বর্তমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ জাতি নিধন হিসেবে অভিহিত করেছে। সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রা’দ আল হোসেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদে বলেছেন, মিয়ানমারে জাতি নিধন চলছে।

পোপকে সর্বোচ্চ সম্মান বাংলাদেশের

রাষ্ট্রীয় এবং পালকীয় সফরে পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পোপ যে দেশ সফর করেন সে দেশের আয়োজনে বিমানযোগে রোম পর্যন্ত তাকে এবং সফরসঙ্গীদের পৌঁছে দেয়া হয়। আমন্ত্রণকারী রাষ্ট্রের তরফে পোপের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এমন আয়োজন অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এর চেয়ে বেশি কিছু করতে চেয়েছে। আর তাই ঢাকার প্রস্তাবে আপত্তি করেনি ভ্যাটিকান। পোপের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনে বাংলাদেশ বিমান পাঠিয়ে দেয়া হয় ইয়াংগুনে।
লাল সবুজের পতাকাবাহী ‘মেঘদূত’ পোপকে মিয়ানমার থেকে আগাম অভ্যর্থনা জানিয়ে বাংলাদেশ নিয়ে আসে। শনিবার বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট অরুণ আলোতে রোম পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। পোপকে বহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটাকে বিমানের জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করা হয়। শনিবার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে পোপ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  থেকে রোমের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসাদ্দিক আহমেদ ও মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ পোপকে পৌঁছে দিতে  রোম যান। ঢাকা থেকে সরাসরি রোমে  পোপকে বহনকারী বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজের অরুণ আলোয় ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল ও ক্যাপ্টেন ইহছাক। এছাড়া তাদের সহায়তায় ছিলেন ফার্স্ট অফিসার রুবায়েত ও মইনুল। এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইট মর্যাদায় পোপকে বহন করার জন্য বিমানকে বেছে নেয়ায় ভ্যাটিকানের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এতে বিমানের প্রতি খ্রিস্টান ধর্মীয় গুরুর আস্থা প্রকাশ  পেয়েছে।
মোবাইল ফোনে মত্ত না হতে তরুণদের সতর্ক করলেন পোপ: ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে ১০ হাজার তরুণ ও যুব প্রতিনিধির উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক করেছেন পোপ। ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজ প্রাঙ্গণে এক যুব সমবেশে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘তোমার আশেপাশে যারা আছে তাদের প্রতি অমনোযোগী হয়ে  মোবাইল ফোনে সারাদিন খেলায় মত্ত  থেকে সময় কাটিয়ে দিও না। ইতিহাস আমাদের থেকে শুরু হয়নি। বরং আমরা সুপ্রাচীন এক প্রবাহমানতার অংশ। সেই বাস্তবতা আমাদের চেয়েও সমৃদ্ধ। তোমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির সঙ্গে সবসময় আলাপ করবে।’ অনুষ্ঠানে পোপকে স্বাগত জানান বরিশালের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস  রোজারিও, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফাদার প্যাট্রিক গাছনী।
পরনিন্দা-পরচর্চা এক ধরনের সন্ত্রাসবাদ: এর আগে তেজগাঁও গির্জায় খ্রিস্টান ক্যাথলিকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় পোপ পরনিন্দা ও পরচর্চা থেকে ভক্তদের বিরত থাকার আহ্বান জানান। বলেন, পরনিন্দা-পরচর্চাও এক ধরনের সন্ত্রাসবাদ। এতে মানব সম্প্রদায়ের শান্তি বিনষ্ট হয়। প্রাচীন রোজারি চার্চে খ্রিস্ট ধর্মযাজকদের জমায়েতে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, মানুষ যখন অন্যদের নিয়ে খারাপ কথা বলে, তারা সেগুলো বলে তাদের পেছনে। এটা ওই সন্ত্রাসীদের মতো যারা বলে না যে তারা সন্ত্রাসী কিন্তু পেছনে রেখে যায় প্রাণঘাতী বোমা। এরপর অপর আরেকজন ফের ওই একই পরনিন্দা শুরু করে। এই উদাহরণ টেনে পোপ বলেন, অন্যদের নিয়ে বাজে কথা বললে অবিশ্বাস ও বিভক্তি সৃষ্টি হয় যা এক পর্যায়ে শান্তি বিনষ্ট করে। পোপ প্রত্যেককে সংযমী হতে এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সততার সঙ্গে ও খোলামেলা কথা বলার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘নিজেদের জিহ্বা সংবরণ করুন। চেষ্টা করুন আনন্দ ও শান্তির উদ্যম ধারণ করার। তিন দিনের সফরে ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন পোপ ফ্রান্সিস। শনিবার বিকালে রোমের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান।

দেড় লাখ রিয়ালসহ সিঙ্গাপুরগামী যাত্রী আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে সৌদি রিয়ালসহ এক
যাত্রীকে আটক করে ঢাকা কাস্টম
হাউসের প্রিভেনটিভ দল। ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমারবন্দরে দেড় লাখ সৌদি রিয়ালসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দল। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক করা যাত্রীর নাম মো. আবদুর রহমান (৩১)। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে। শুল্ক কর্মকর্তাদের দাবি, ওই যাত্রী বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পাচারের উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বহন করছিলেন। ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রিভেন্টিভ দল রাতে আবদুর রহমানকে আটক করে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে করে তাঁর সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল।
বোর্ডিং ব্রিজ এলাকা থেকে দেড় লাখ রিয়ালসহ তাঁকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবদুর রহমান জানান, তাঁর বড় ভাই মো. ইলিয়াসের অনুরোধে রিয়ালগুলো বহন করছিলেন তিনি। বড় ভাইয়ের বন্ধু কাদেরের কাছ থেকে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে থেকে মুদ্রাসহ ব্যাগটি নেন আবদুর রহমান। কাদের তাঁকে বলেন, সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে একজন ফোনে যোগাযোগ করে ব্যাগটি নিয়ে নেবেন। এই আটকের ঘটনায় শুল্ক আইন-১৯৬৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বন্যার পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কী করে সামলাচ্ছে?

দূর ক্রমশ সুদূর হচ্ছে
সাঘাটা, ফুলছুরি, মোল্লারচর, কামারজানি, গাইবান্ধা যেতে উড়োজাহাজে কেউ সৈয়দপুর যায় না; কিন্তু এখন সারা দেশেই রাস্তাঘাটের এমন হাল হয়েছে যে সে কথা যত কম বলা যায়, ততই টাই-পরা মন্ত্রীর মঙ্গল। নেত্রকোনার কেন্দুয়ার পিকআপচালক হারুন আকন্দ নিরুপায় হয়ে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছে। সেটা দেখে সহকর্মী নেত্রকোনানিবাসী জামিল খানের বিস্ময় লাগলেও অবাক বা অজ্ঞান হওয়ার কিছু নেই। ইদানীং ১৭-১৮ ঘণ্টার আগে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পৌঁছানো ভাগ্যের ব্যাপার—দোষ নন্দ ঘোষ বন্যার। (আধুনিক ফ্যাশন মেনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও কি দায়ী করা যায়? উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমানোর কালচারে এখন ডুবে থাকাই যেন আমাদের খাসলতে পরিণত হয়েছে)। তবে উড়োজাহাজের টিকিট থাকলেই যে সৈয়দপুর পৌঁছানো যায় না, তা আবারও প্রমাণিত হলো। পোপ আসবেন, তাই রানওয়ে বন্ধ—বিমানবন্দরে ফ্লাইটবন্দী মানুষের থিকথিকে ভিড়; এটাও কি বিগত বন্যার দোষ? তিনি কখন আসবেন, কবে আসবেন, ছয় মাস আগে থেকেই সবার জানা ছিল, তারপরও এই অব্যবস্থা কেন? মাথার সবটাই কি বন্ধক! না পচন ধরেছে মগজে-চিন্তায়-ব্যবস্থাপনায়-গভর্নেন্সে?
জল সরে না, জমিতে জো আসে না!
রাধাগোবিন্দপুর এখন আর বিল-জলের নামা জমি নয়; বিলের বুক চিরে (নাকি ছিঁড়ে) এখন কাবিখার (কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি) রাস্তা। ইমারত, চালকল, চাতাল, ইটভাটা সেই পথের দুধারে উন্নয়নের ঘণ্টা বাজিয়ে মাতোয়ারা করে রাখছে। সেসব বাজনায় কান ঝালাপালা হলেও সফুলের (নাম বোধ সাইফুলই হবে, কিন্তু নিশ্চত করল তিনবার নাম তার সফুল) মাতোয়ারা হওয়ার ফুরসত নেই। কাকডাকা ভোরে সে ভাই-বোন-দুলাভাই নিয়ে বর্গা/আধি নেওয়া জমির আটকে থাকা জল ছাঁকতে কাদাজলে একসা। অন্য বছর এত দিনে জালা (ধানের চারা) গজিয়ে তিন-চার ইঞ্চি লম্বা হয়ে যায়; এবার বন্যার পানি আটকে আছে জন্মের মতো। পানি সরে না; কাবিখাতে তৈরি উন্নয়নের এক জটিল সড়ক আর তার ফাঁকে ফাঁকে মাথায়-বগলে না-কালভার্ট না-ব্রিজ তৈরির প্রচেষ্টার এই ফলাফল, জানাল সফুল। পানি সরার জন্য তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করে এখন তারা এক অন্যায্য যুদ্ধের মুখোমুখি। বাড়ির ঘটি-বাটি-বদনা-গামলা দিয়ে পানি ছাঁকতে নেমেছে সবাই। সময় বয়ে যায়, সময় গেলে ধান-সাধন কিছুই হবে না। কী মনে হলো, ফোন দিলাম মৌলভীবাজারের সহকর্মীকে। বলেন, ‘গতকাল কভার করেছি, ইংরেজি পেপার পড়েন।’ হাকালুকির কৃষকদের মাথায় হাত—পানি সরছে না, বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। কবে পানি সরবে, কবে বীজতলা বানাবে আর কবেইবা চারা রুইবে? কোরবানপুর, উত্তর সাদিপুর, মউরগৌরী, সারশাকান্দি আর বারদলের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষক জানে না কোন ত্রাণকর্তা তাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। এসব নেহাতই ভুলভাল ব্যবস্থাপনার নতিজা। বাঁধ না হয় ইঁদুরে কেটেছিল, পানি নামাতে দুই কোদাল মাটি কাটতে বা মেশিন লাগাতে বাধা কই? বন্যাপরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন মানে কী? কৃষককে আবার কৃষিতে ফিরিয়ে আনা, না তাকে খেদিয়ে ইটভাটার ইতর জীবনে পাচার করা? বেশি ঢল নামলে, বেশি পানি এলে নানা কায়দায় নয়া বেকায়দার তৈরি অবকাঠামোর দোয়া-বদদোয়ায় জল যে আটকে যাবে, তা কি অজানা কোনো কথা? এলান হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ কৃষি পুনর্বাসনের মকসুদে কৃষকপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি সার (কী সার কে জানে) আর নগদ এক হাজার টাকা বিতরণ করবে। জমিতে জো না এলে, পানি না সরলে কৃষক এসব দিয়ে কী করবে? তা ছাড়া এসব সাহায্যে ভাগচাষি (আদি খাতক) ভূমিহীনদের কোনো হিস্যা নেই। পাবে জমি যার, বন্যার সাহায্য হবে তার। যে কৃষক আগাম শ্রম বেচে, চরম সুদে টাকা নিয়ে দিনরাত খেটে ধান বুনে বন্যায় মরেছে, সে পাবে না কিছুই। তবে জমির পানি নিকাশের ব্যবস্থা করলে ওই প্রান্তিক মানুষটারও অল্পবিস্তর উপকার হতো বৈকি।
বিল এখন পগার, আধি এখন অগ্রিম
গাইবান্ধার সফুলের পরিকল্পনা কি চকের বাকি অংশগুলো নিয়ে? এখন যেটার কাজ ধরেছে, সেটা নিচু জমির মধ্যে কম নিচু একটা খণ্ড আরকি। আরও বড় দুটি খণ্ড আছে আধি বা বর্গা নেওয়া—সেখানে এখনো থই থই পানি। ‘ও, আপনি পগারের কথা বলছেন?’ আগে যখন জখম হয়নি, এই বিল তখন থাকত বড় বড় মাছ আর এটা তো এখন পগার (নালা বা ড্রেন)। আহা, রাধাগোবিন্দপুরের বিলটার যদি জবান থাকত, সে যদি বলতে পারত? কী আর করত! পগার হওয়ার বেদনা নিয়ে কি বুদ্ধিমানদের কাছে ধরনা দিত একটা মানববন্ধনের জন্য? স্পনসরের মার্কাওয়ালা গেঞ্জি পরে শাহবাগে দাঁড়াতেও এখন পয়সা লাগে—হা মুক্তি, হা স্বাধীনতা! আধি বোধ হয় আর রাখতে পারবে না সফুলরা। এখন সবাই অগ্রিম চায়; ফসল উঠলে তিন ভাগ কেউ আর নিতে চায় না। বলে, তুমি বরং বন্ধক নাও; বিঘাপ্রতি লাখ টাকা। আমি খাজনা কেটে যেদিন টাকা ফেরত দেব, সেদিন থেকে আবার হিসাব। লাখ টাকা কোথায় পাবে সফুলরা? সফুল তাই রঙের কাজ শিখছে, সে হবে পেইনটার সুফল। ‘যাবার বেলায় রাঙ্গিয়ে দিয়ে যাও গো তুমি’; পেইন্টার সফুলের পেইনটা যদি আমাদের জাঁদরেলরা একটু বুঝতে পারত!
গওহর নঈম ওয়ারা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণকর্মী এবং শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সাংসদ শওকতকে দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা দিতে হবে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুই মামলায় নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ মো. শওকত চৌধুরীকে দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা দিতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে তাঁর জামিন বাতিল হবে। আজ সোমবার দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সাংসদ শওকতের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন। আদালতে সাংসদ শওকতের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন, এ এম আমিন উদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এক রায়ে শওকত চৌধুরীকে ৫০ দিনের মধ্য ২৫ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নির্দেশ দেন।
এতে ব্যর্থ হলে নিম্ন আদালতে তাঁকে দেওয়া জামিন বাতিল হবে বলে উল্লেখ করেন আদালত। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সাংসদ শওকত। ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সাংসদ শওকতের আবেদনটি গত ১২ নভেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩ ডিসেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। এদিকে রায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে দুদক একটি আবেদন করে। দুই আবেদনের ওপর গতকাল রোববার শুনানি শেষে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। পরে আদেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, দুদকের করা দুই মামলায় সাংসদ শওকত চৌধুরীকে দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা জমা দিতে বলেছেন আদালত। না হলে তাঁর জামিন বাতিল হবে। শওকত চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে ১২০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে দুদকের। তাঁর বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলাও রয়েছে দুদকের। মামলার এজাহারে বলা হয়, যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল কোম্পানি ও যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাংকটির বংশাল শাখা থেকে ৯৩ কোটি কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২৩১ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে সুদে-আসলে সেটা দাঁড়ায় ১২০ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক শওকত চৌধুরী। অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে জালিয়াতির জন্য নানা কৌশল নেয় প্রতিষ্ঠান দুটি। ভুয়া মেয়াদি আমানত (এফডিআর) দেখিয়ে তার বিপরীতে ঋণ নেওয়া, বিটিআরসির একটি হিসাবকে জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে নিজেদের দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনসহ নানা প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

ডিআর কঙ্গোতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৩

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। খবরে বলা হয়, কানাঙ্গা নগরী থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কাসাই সেন্ট্রাল প্রদেশে রোববার এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেম্বা ভূ-খণ্ডের প্রশাসক জোয়াকিম লিকাকা বলেন, ‘ট্রেনটি রাত ৩টার দিকে লাইনচ্যুত হয়। এ সময় দুই নারী ও এক শিশু লাফ দেয়ার চেষ্টা করলে দুর্ভাগ্যবশত ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায়।’ দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ডিআর কঙ্গোতে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটিতে গত নভেম্বর মাসে লুয়ালাবা প্রদেশে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৩৫ জন প্রাণ হারান।

ঝালকাঠিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি সড়কে সুমাইয়া ফরাজী গর্না (২১) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুমাইয়া ফরাজী গর্না ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী হিমু আকন (২৫) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশালের শেবাচিমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে গতকাল রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতি ছাড়াই শহরের কাঠপট্টি সড়কের মিল্টন আকনের ছেলে হিমু আকন একই এলাকার আসলাম ফরাজীর মেয়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে ছেলের পরিবার এই সম্পর্ক মানছিল না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
গতকাল রোববার দুপুরে হিমু আকনের বাবা মিল্টন আকনের মুড়ির মিলের উপরের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করে ওই দম্পতি। এক পর্যায়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নার মামা তরিকুল ইসলাম রাজুর সাথে হিমু আকন মুঠোফোনে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি বলে। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গর্নাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত গর্নার বাবা আসলাম ফরাজীর দাবি তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দোষীদের বিচার চেয়েছেন। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিউলি পারভীন জানান, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। তবে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষপানে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে- এটা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জামিন নিতে মঙ্গলবার আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আগামীকাল মঙ্গলবার আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তিনি আদালতে যাবেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুটি মামলার বিচার কাজ চলছে। কাল দুটো মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন খালেদা জিয়া। আদালত সূত্র জানায়, দুর্নীতির এ দুই মামলায় চলতি বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর এ দুই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলাটি দায়ের করা হয়। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

৫ কোটি টাকা না দিলে এমপি শওকতের জামিন বাতিল

দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে জমা না দিলে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকত চৌধুরীর জামিন বাতিলের আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় সংশোধন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শওকতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। এর আগে ২২ অক্টোবর ৫০ দিকে ২৫ কোটি টাকা না দিলে নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মো. শওকত চৌধুরীর জামিন বাতিল হবে বলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ২ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন এমপি শওকত চৌধুরী। আজ হাইকোর্টের রায় সংশোধন করে আপিল বিভাগ দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা জমা না দিলে জামিন বাতিল হবে বলে আদেশ দেন। ২০১৬ সালের ৮ ও ১০ মে শওকত চৌধুরীসহ ওই ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় দুটি মামলা করে দুদক। অন্য আসামিরা হলেন- কমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বংশাল শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুল গনি, চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার শিরিন নিজামী, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পানু রঞ্জন দাস, সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইখতেখার হোসেন, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার দেবাশীষ বাউল, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার ও বর্তমানে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আসজাদুর রহমান।

দেশে সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে শতভাগ : সিপিডি

দেশে সম্পদের বৈষম্য শতভাগ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, এ সময় উন্নয়নে বৈষম্যে বেড়েছে, কাউকে পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ‘কাউকে পেছনে রাখা যাবে না’ প্রতিপাদ্যে আগামী ৬ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকায় 'নাগরিক সম্মেলন ২০১৭ : বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়ন নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ-শীর্ষক দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ সম্মেলন উপলক্ষে আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক প্রাক সম্মেলন মিডিয়া ব্রিফিং’র আয়োজন করা হয়। আর এ ব্রিফিংয়ে দেবপ্রিয় একথা বলেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উন্নয়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং কাজ করার সাথে কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকতে হবে, সমাজের কণ্ঠস্বর উচ্চারিত না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরেও প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। সেজন্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতার বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার বাস্তবায়নের স্বাক্ষর করে, অর্থ বরাদ্দ দেয়। এরপরেও যদি জনগণের কণ্ঠস্বর উচ্চারিত না হয় তবে সে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হতে পারে।
ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ২০১০-১৬ পর্যন্ত আয়ের বৈষম্য যেমন বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে সম্পদের বৈষম্য। নাগরিক সম্মেলন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারা পিছিয়ে আছে সম্মেলনে তাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বৈশ্বিক কর্মসূচির আলোকে আমাদের চিন্তা ভাবনা বিতর্ক থাকবে। প্রেরণা চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের আয়ের উৎস, জীবন চক্র কোথায় আছে, তাদের অবস্থান শহর বা গ্রাম নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া লিঙ্গ, পেশা, ধর্ম বৈষম্য তাকে পিছিয়ে রাখছে কি-না সে বিষয়েও আলোচনা হবে। ব্রিফিং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের একার পক্ষে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার, নাগরিক সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, রিকশাওয়ালা বা বাল্যবিয়ের শিকার স্কুলে না যাওয়া মেয়েরা কি জানে এসডিজি কি? অথচ সবাইকে সংগে নিয়ে এগুতে হবে। এজন্য সবাইকে সচেতন করতে হবে, জানাতে হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাকে কার্যকর ও দৃশ্যমান করাসহ এসডিজি অভিষ্টগুলোর তাৎপর্য সম্পর্কে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কোনোভাবেই যেন এসিডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সুফল থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। বুধবার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বেসরকারি সংস্থাসমূহ এবং তরুণ সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে এসডিজি’র বিভিন্ন অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সমান্তরাল অধিবেশন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের নিয়ে তৈরি করা প্রেরণাচিত্রের প্রথম প্রদর্শনী হবে। সেই সাথে, এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের কার্যক্রম ও ভূমিকা নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এবং পরিশেষে সম্মেলনের পক্ষ কিছু পরামর্শ ও দাবি সম্বলিত ‘নাগরিক ঘোষণা ২০১৭’ গ্রহণ করা হবে।

ডিসেম্বরেই হোলে আর্টিজান মামলার চার্জশিট

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজধানীর গুলশানের হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালানো হয়েছিল। হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় উগ্রবাদী হামলার মামলার অভিযোগপত্র চলতি মাসেই দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, হোলে আর্টিজান হামলার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া আসামিদের কয়েকজন ধরা পড়েছে। কেউ কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। হামলা মামলার তদন্ত অনেক আগেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও কিছু আসামির ব্যাপারে কনফিউশন ছিল। মামলার আসামি হলেও বাশারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান পলাতক ছিল। চাপাইনবাবগঞ্জে কিছুদিন আগে অপারেশনে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছিলাম ওখানে নিহতদের চেহারার সাথে চকলেট ও ছোট মিজানের মিল রয়েছে। পরে ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যাওয়ায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। হাদিসুর রহমান সাগর নামে একজন আসামি পালিয়ে আছে। হোলে আর্টিজান হামলা মামলা তদন্তে আরো কিছু নাম পাওয়া গিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হামলায় অর্থ দেয়ার অভিযোগে আকরাম হোসেন নামের একটি নাম এসেছে যাকে খোঁজা হচ্ছে। ১৫ আগস্টে পান্থপথে হোটেল ওলিওতে হামলারও সেই অর্থ জোগানদাতা ও নির্দেশনাও সেই দিয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে অনেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রাজিব গান্ধী, রাশেদ গ্রেফতার হয়েছে, রিগ্যান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পাঁচজনকে জীবিত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি সোহেল মাহমুফকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও সাক্ষি হিসেবে তানভির কাদেরীর ছেলে ও স্ত্রী ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। হামলার পেছনে কারা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে মূল মাস্টরমাইন্ড তামিম চৌধুরী। তার সহযোগি ছিলেন সারোয়ার জাহান ও পলাতক মেজর জাহিদ। এরা মূলত আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিল। বড় হামলা করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেন আইএস তাদেরকে সহযোগী হিসাবে নেয়। তবে সেগুলো আইএস ডাইরেক্টেড অপারেশন নয়। তদন্তে এমন কিছু নেই যে ঘটনাটি নিয়ে আইএসের সাথে আলাপ করেছে বা আইএস জানতো। ঘটনার সাথে আইএসের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলে আর্টিজান বেকারিতে উগ্রাবাদী হামলার ঘটনা ঘটে। উগ্রবাদীরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে। নিহতদের নয়জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ উগ্রবাদীসহ ছয়জন নিহত হয়।

মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় গিয়েও বিপাকে শ্রমিকেরা

‘কলিং ভিসায়’ মালয়েশিয়া যাওয়ার পরও কোম্পানি থেকে বেতন পাচ্ছেন না সাতক্ষীরার যুবক ইসমাইল হোসেন। উল্টো বেতন, ওভারটাইম চাওয়ার অপরাধে কোম্পানির সুপারভাইজারেরা তাকেসহ কয়েক শ্রমিককে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এক শ্রমিক জহুরবারুর কোম্পানি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে এমন অভিযোগ করেন জহুরবারুর ওই যুবক। তার অভিযোগ, তাদের কোম্পানির মতো বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় আসা আরো অনেক কোম্পানি ঠিকমতো বেতন, ওভারটাইম দিচ্ছে না। রয়েছে আবাসন সমস্যাও। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে অদ্যাবধি কোনো শ্রমিক কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ করেননি। যদিও প্রতারিত যুবক ইসমাইল তার কোম্পানির সমস্যা সমাধানে হাইকমিশনারের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে যুবকটি হাইকমিশনারের কাছে অভিযোগ না দিয়ে হঠাৎ হাওয়া হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম মুকুল এ প্রসঙ্গে জানান, নতুন কলিংয়ে এসে কোনো শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না, বেতন পাচ্ছেন না, এটা আমি মোটেও বিশ্বাস করতে পারছি না। এর পরও আমি জহুরবারুর টিএলটি কোম্পানিতে খোঁজ নিয়ে জানব ঘটনার পেছনে কী রয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে ওই কোম্পানির একজন শ্রমিকের সমস্যার জন্য মালিককে ৩২ হাজার রিংগিত জরিমানা গুনতে হবে। চুক্তির সময় এমওইউতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। যুবকের অভিযোগ তিনিসহ মোট ২৬ জন শ্রমিক কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ার টিএলটি কোম্পানিতে এসেছিলেন আড়াই মাস আগে। এরপর কাজ শুরু করেন।
আড়াই মাস কাজ করার পরও কোম্পানি তাদের এক দিনেরও বেতন দিচ্ছে না। কোম্পানি থেকে বেরও হতে দিচ্ছে না। বেতন না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে সুপারভাইজারেরা জানান, সময় হলে বেতন পাবে তোমরা। এমন কথার প্রতিবাদ করলে তখন তাদের মারধর করা হয়। ইসমাইলের দাবিÑ বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ শ্রমিকের মধ্যে একজন কোম্পানি থেকেই কয়েক দিন আগে পালিয়ে যান। তিনি বলেন, জমিজমা বিক্রি আর ধারদেনা করে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে এ দেশে এসেছি। যদি বেতনই না পাই, তাহলে কেন কাজ করব? তার বক্তব্যÑ এ অবস্থা চলতে থাকলে অন্য শ্রমিকেরাও পালিয়ে যাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকার বনানীর একটি অফিস থেকে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। কুয়ালা লামপুর শিপাং এলাকার বাসিন্দা মিঠু এ প্রতিবেদককে জানান, মালয়েশিয়া সরকার হঠাৎ করেই কলিং ভিসা কমিয়ে দিয়েছে। কারণ কী তা জানতে পারিনি। তবে ইদানীং কলিংয়ে আসা শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই নানা সমস্যায় আছেন বলে শুনেছি। এর মধ্যে আবাসন সমস্যা বেশি। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রির মর্যাদা দিয়ে শ্রমিক আমদানি শুরু করে। এর পর থেকেই কলিং ভিসায় প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বাকি চাহিদাপত্র যাচাই শেষে শিগগিরই আরো কয়েক হাজার শ্রমিক দেশটিতে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার নেতারা জানান। জানা গেছে নতুন কলিং পদ্ধতিতে শ্রমিক যাওয়ার পর বেশির ভাগ শ্রমিকের থাকার সমস্যা হচ্ছে। কোনো কোনো কোম্পানি লেভির নামে শ্রমিকদের বেতন থেকেই টাকা কেটে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, আগে যে পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় লোক আসত তখন কোনো সিস্টেম মানা হতো না। এখন আর আগের সেই দিন নেই। নতুন সিস্টেমে এ দেশে যেসব শ্রমিক আসছেন তাদের বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো শ্রমিক সমস্যায় আছেনÑ এমন লিখিত অভিযোগ যায় তাহলে ওই কোম্পানিরতো বারোটা বেজে যাবে! কারণ এ দেশের লেবার ল অনুযায়ী কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে একজন শ্রমিকের সমস্যার জন্য ৩২ হাজার রিংগিত জরিমানা গুনতে হবে। এরপর আরো শাস্তি তো আছেই।

ঢাকায় 'রোহিঙ্গা' বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ

বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সোশাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এবিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করছেন। ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ছিলেন তখন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। শুক্রবার ক্যাথলিক খৃস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন এবং তিনি নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন। এই রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি।
মিয়ানমারে গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেননি তখন মিয়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিল। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও। কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে আসার পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মিয়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। "তিনি হচ্ছেন একটা গিরগিটির মতো, আবহাওয়ার কারণে যার গায়ের রঙ বদলে গেছে," ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অং সো লিন। আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, "তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।"
মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খিস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও, রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, "পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মিয়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন।
তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিল।" অন্যদিকে মিয়ানমারে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারে তিনি 'রোহিঙ্গা' বলেন নি। তার অর্থ তিনি মিয়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেননি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি একাজ করেছেন।"

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল ভারত-পাকিস্তান

পাকিস্তান ১৯৭১ সালের আজকের দিনে ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে। এদিকে ৩ ডিসেম্বর রাতেই ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশে আক্রমণের পর ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় স্থলবাহিনীও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নভেম্বর মাস থেকে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর আক্রমণ পরিচালনা করে এলেও আজকের দিন থেকেই মূলত তাদের স্থলবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে সব দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আট মাস ধরে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানুষের সহায়তায় জীবনবাজি রেখে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র লড়াই করে আসছিলেন তা একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এ যুদ্ধ আরো বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে। কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তখন পাকিস্তানের পক্ষে আর ভারতের পক্ষে সোভিয়েত রাশিয়া। ফলে বাংলাদেশ নিয়ে গোটা উপমহাদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডাকে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার জন্য মার্কিন পক্ষ থেকে ভারতকে দায়ী করা হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব উত্থাপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইতালি, জাপান, বেলজিয়াম যুদ্ধবিরতির খসড়া উপস্থাপন করে। নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যাপক পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করা হয়। তবে যুদ্ধ আর ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারেনি। এর কারণ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং আজকের বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের পরাজয়কে দ্রুত অনিবার্য করে তোলে। তিন দিকে ভারত আর এক দিকে বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত ভূখণ্ডে পাকিস্তান বাহিনীকে ভারতীয় স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী অবরুদ্ধ করে ফেলে। হাজার মাইল দূরে অবস্থিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তনের বিমান বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করত ভারতের আকাশসীমার ওপর দিয়ে। সে আকাশসীমাও বন্ধ করে দেয় ভারত। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধের রশদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। আন্তর্জাতিকসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে যুদ্ধ যাতে আর দীর্ঘায়িত না হয় সে কৌশল গ্রহণ করে ভারত। তিন দিকে ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশে অবরুদ্ধ পাকিস্তান বাহিনীকে উপর্যুপরি বিমান হামলা চালিয়ে পর্যুদস্ত করে ফেলা হয়। সব বিমানঘাঁটিতে এমনভাবে বিমান হামলা চালানো হয়, পাকিস্তান বাহিনী পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় ভারতীয় স্থলবাহিনী দ্রুত ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ জন্য তারা ভিন্ন একটি কৌশল অবলম্বন করেন। পাকিস্তানি বড় কোন ঘাঁটিতে আক্রমণ করে আটকা পড়ার চেয়ে তারা সব ঘাঁটি পাশ কাটিয়ে ভিন্ন পথে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে ঢাকা দখলের লক্ষ্যে। ফলে পাকিস্তান বাহিনী বুঝতে পারেনি কোন পথে আসছে ভারতীয় বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘাঁটিসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে বসে থাকে ভারতীয় স্থলবাহিনীর অপেক্ষায়। বাংলাদেশে পাকিস্তান নৌবাহিনীকেও দুর্বল করে দেয়া হয়। পাকিস্তান সাবমেরিন গাজী ডুবিয়ে দেয়া হয় আজকের দিনে। জাহাজে ৯০ জনেরও বেশি পাকিস্তান নৌবাহিনী অফিসার ছিল।
সবাই মারা যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, চালনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জসহ সব নৌবন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ ভেড়া অসম্ভব করে তোলা হয়। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকিস্তান বাহিনীর প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলে হিলি, বেনাপোল, খুলনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে। মিত্রবাহিনী জীবননগর, দর্শনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, চুরখাই, গাজীপুর, শমসেরনগর, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় লড়াই করে পাকিস্তান বাহিনীর সাথে এবং একে একে এসব অঞ্চল দখলে নেয়। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণে একের পর এক বিভিন্ন রণাঙ্গনে দ্রুত পতন ঘটে পাকিস্তান বাহিনীর। তারা যৌথবাহিনীর ক্রমাগত ত্রিমুখী আক্রমণে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন রণাঙ্গনে তুমুল যুদ্ধ চলতে থাকে। দিনাজপুর জেলার সীমান্তে মুক্তিবাহিনী দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে। পাকবাহিনী হিলি ও ফুলবাড়ী রেলওয়ে দখলে রাখার জন্য মরণপণ লড়াই করে। মুক্তিবাহিনী বোদা অঞ্চল দখল করে ঠাকুরগাঁও মিত্রবাহিনীর সাথে যোগ দেয়। যশোর মহেশকুণ্ডি ও জীবননগর এবং মেহেরপুরে মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর লড়াইয়ে অনেক পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। বগুড়া জেলার পাঁচবিবি, ধরাদিয়া, পুশনা ও আশপাশের এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে।

সরকারি স্কুলে চলন্ত সিঁড়ি ব্যয় ১১ শ’ কোটি টাকা

সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এসকেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) স্থাপনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ১১৬ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩টি স্কুলে এই এসকেলেটর স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রতি জোড়া এসকেলেটরের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ দিকে দেশের শিক্ষার মান, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে এসকেলেটর নামক বিলাসী প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন। একই সাথে এ ধরনের অদ্ভুত প্রস্তাবকে বিশাল আকারের লুটপাটের পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেখানে দেশের বেশির ভাগ সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অবকাঠামো খুবই দুর্বল, ভবন ও ক্লাস রুমের সঙ্কট, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতির সঙ্কট, টয়লেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, লাইব্রেরি, ল্যাব ও কম্পিউটার কক্ষ নেই বললেই চলে; সেখানে এসকেলেটরের মতো ব্যয়বহুল যান্ত্রিক সিঁড়ি স্থাপন শুধু গরিবের ঘোড়া রোগই নয়, বিপজ্জনকও বটে। সরকারি স্কুল ভবনগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রেও যথোপযুক্ত নিয়মনীতি ও উপকরণের ব্যবহারের বিষয়টিও যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এসকেলেটরের ভার এসব ভবনের ছাদ ও মেঝে বহন করতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সহজ লভ্যতা ও নিয়মিত মেইনটেইন্যান্সের প্রশিক্ষিত লোকবল নিয়েও যথেষ্ট কথা রয়েছে। সর্বোপরি যাদের জন্য এ এসকেলেটর স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে, গ্রামগঞ্জের সেসব কোমলমতি শিশু এগুলো ব্যবহারে সুফল ভোগ করবে নাকি বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশের মতো স্কুল শিক্ষার্থীরা এ যন্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে পা আটকে অথবা হঠাৎ চলন্ত অবস্থায় বৈদ্যুতিক কারণে বন্ধ হয়ে গেলে মর্মান্তিক মৃত্যুসহ আহতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে; তা নিয়েও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গ্রামের শিশুরা এসব চলন্ত সিঁড়ির সাথে পা মেলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশের দেশসহ অধিকাংশ উন্নত দেশেই স্কুলপর্যায়ে এ ধরনের এসকেলেটরের ব্যবহার নেই। আর দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ই দোতলার বেশি নয়। কাজেই দোতলায় ওঠানামার জন্য এসকেলেটরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অধিদফতরের প্রস্তাবনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারা দেশে ৩৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেয়া আছে। যার ব্যয় চার হাজার ৬৪০ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। ছয় মাসের ব্যবধানে এই ব্যয় এক হাজার ৫২৫ কোটি টাকা বা ৩২ দশমিক ৮৭ শতাংশ বাড়িয়ে ছয় হাজার ১৬৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নতুন করে ১৬৩টি বিদ্যালয়ে এসকেলেটর স্থাপনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। এই এসকেলেটরের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ দিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের এসকেলেটর স্থাপনের প্রস্তাবের বিপক্ষে আপত্তি উত্থাপন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তারা মন্তব্য করেছেন, এক হাজার ১১৬ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ে এ ধরনের বিলাসিতার কোনো প্রয়োজন নেই।
তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সিঁড়ি স্থাপন করা হলে এটি ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। পাশের কোনো দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে মাল্টিস্টোরিড এসকেলেটর আছে বলে জানা নেইÑ এমন মন্তব্য করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রেও জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসকেলেটর স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে এক সাথে অনেক শিক্ষার্থী ওঠানামা করতে পারবে। বহুতল ভবনে তাদের ওঠানামার পরিশ্রম কমে যাবে। অন্য দিকে পিইসি বলছে, এমনিতেই স্কুলগুলোতে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে, তার ওপর এসকেলেটর স্থাপনের জন্য অনেক জায়গা প্রয়োজন। এসকেলেটর স্থাপন করতে গেলে প্রতিটি ভবনের মাঝের ও নিচের ফ্লোর ভাঙতে হবে, যা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। এগুলো করতে গেলে একটি বড় সময়ের জন্য স্কুল বন্ধ দিতে হবে; যাতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া স্কুল শুরু ও ছুটির সময় শত শত শিক্ষার্থী একসাথে ওঠানামা করতে গেলে তা সময়সাপেক্ষ হবে। ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে দুর্ঘটনার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এসকেলেটর কোনো কারণে আটকে গেলে কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। এতে শিশুদের মাঝে ভীতিসহ নেতিবাচক মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীরা এসকেলেটর ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহত হয়েছে এমন বেশ কিছু উদাহরণও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন মাল্টিপ্লেক্স থিয়েটারে ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মুভি দেখতে গিয়ে সিনেপ্লেক্সের এসকেলেটরে পা আটকে ব্রুকলিন স্কুলের ৩০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। তাদের শরীরে কেটে যায় ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অন্য দিকে পূর্ব চীনে নানজিংয়ে একটি জাদুঘর পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রাথমিক স্কুলের ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। গত ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর এ ঘটনাটি ঘটে চীনের জিয়ানংসু প্রদেশে হংকং ইয়াং স্কয়ারে। দ্য পিপলস ডেইলি অনলাইনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ৪০ জন শিক্ষার্থী এসকেলেটরে ওঠে। সেখানে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এসকেলেটর বা লিফট সচল রাখার জন্য সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো চালু হওয়ার পর কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা গণপূর্ত অধিদফতর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে দ্রুততার সাথে মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে কি না? এ ছাড়া আর্থিক সংশ্লেষ ও মফস্বল শহরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য পেশাদার দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। তবে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বৃদ্ধিসহ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসকেলেটর বা লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা খুবই কার্যকর। পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চলাফেরার জন্য এসকেলেটর ব্যবহার কারিগরি দিক দিয়ে উপযোগ্য কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ননা শিক্ষার্থীদের চলাফেরার জন্য এসকেলেটর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসকেলেটর ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছুটা উত্তেজনা কাজ করতে পারে। ফলে তারা যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে এসকেলেটরে ওঠানামা করার বিষয়টি মেনে চলতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হবে। এ ছাড়াও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পিইসিকে জানান, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়নি। এসকেলেটর স্থাপনের সাথে জড়িত নিরাপত্তা পদক্ষেপ ও কারিগরি ঝুঁকিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক দিক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল বলে পিইসি মতামত দিয়েছে। এসকেলেটর স্থাপন প্রকল্পের ব্যাপারে সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখছি না। যেখানে স্কুলগুলোতে এখনো অর্থসঙ্কট রয়েছে, সেখানে এ এসকেলেটর সিঁড়ি বসানো অর্থহীন। আমাদের প্রয়োজন শিক্ষার মান উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দেয়া। কিন্তু এ এসকেলেটর সিঁড়ি দিয়ে শিক্ষার মানে কী উন্নয়ন হবে? বিশ্বব্যাংকে ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রকল্প প্রস্তাবনা হাস্যকর মনে হচ্ছে। এ প্রকল্পের আর্থিক সুবিধাটা কী হবে সেটি ভেবে দেখতে হবে। আমাদের মতো দেশে যেখানে এখনো শিক্ষা সুবিধায় অনেক সঙ্কট রয়েছে, সেখানে এ ধরনের একটা প্রকল্প অযৌক্তিক। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পর্যায়ে বিদেশের কোথাও আমি এসকেলেটর ব্যবহার দেখিনি। এটি বিমানবন্দর, শপিংমলসহ যেখানে লোকসমাগম অনেক বেশি থাকে, সেখানে ব্যবহার করা হয়। এ প্রকল্প মানে অর্থের অপচয়। এসকেলেটর দিয়ে না হবে শিক্ষা, না হবে স্বাস্থ্য।

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২৯ ডিসেম্বর

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সন্ধ্যায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ৭ নভেম্বর আগারগাঁওয়ে পিএসসি কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠকে ৩৮তম বিসিএসের পরীক্ষার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ৩৮তম বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ১০ আগস্ট এই বিসিএসে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়।
এতে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এই বিসিএসে দুই হাজার ২৪ ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এছাড়া ৭ নভেম্বরের বৈঠকে ৩৯তম বিসিএসের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩৯তম বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ সহকারী সার্জন আর ২৫০ সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেয়া হবে। সব মিলে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নেয়া হবে এই বিসিএসে। তবে ৩৯তম বিসিএসের বিধিমালা সংশোধনের জন্য জনপ্রশাসনে প্রস্তাব পাঠাবে পিএসসি।

মূলধনও খেয়ে ফেলছে সাত ব্যাংক

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক। ভুক্তভোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত চেয়েও পায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩০০ কোটি টাকা আমানত চেয়েছিল ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বাধীন নতুন কার্যক্রমে আসা ফারমার্স ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে রাজি হয়নি। বরং তাকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। অনেক দেনদরবার শেষে গত সপ্তাহে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে বাধ্য হন মখা আলমগীর। কিন্তু কেন তিনি টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না? জবাব পেতে বেশি বিলম্ব হয়নি। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানা গেল সে তথ্য। মূলত ব্যাংকের মূলধনও খেয়ে ফেলেছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এভাবে মূলধন খাওয়ার তালিকায় আরও রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, বেসিক, কৃষি, রূপালী, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তির দুর্বলতা ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব ব্যাংক ঋণের মান অনুযায়ী নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পুরো হোঁচট খেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ব্যাংকিং খাতের করুণ পরিণতি শুরু হয় ২০০৯ সালে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক এবং একই পন্থায় সরকারি ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর থেকে এমন দশা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি এতটা প্রকট ছিল না। তবে এ ধারা অব্যাহত থাকলে সংকট আরও বাড়বে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের সমস্যা পুরনো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর হস্তক্ষেপে ইতিমধ্যে ব্যাংকটির বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ফারমার্স ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দিলে করুণ পরিণতি কি হতে পারে তারই প্রমাণ ফারমার্স ব্যাংক। সূত্র জানায়, ব্যবসার পরিবর্তে এসব ব্যাংক এখন মূলধন জোগান নিয়েই চিন্তিত। চলতি বছরের শুরুতে মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংক। কারণ ঘাটতিতে থাকায় এসব ব্যাংক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। আর খেলাপি বাড়লে মান অনুযায়ী নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হয়।
সে কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। আর বাস্তবতা হল, এভাবে একদিকে জনগণের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে একশ্রেণীর মাফিয়ার হাতে, যা আদায়ও করতে পারছে না। বিপরীতে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে টাকা নিয়ে মূলধন ঘাটতি মেটাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যাংকগুলো। এ টাকাও জনগণের ট্যাক্সের টাকা। অথচ জড়িতদের কারও কিছুই হচ্ছে না। মাঝখানে কৌশলে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। তাই যতদিন ব্যাংকিং সেক্টরের এসব ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার না হবে, ততদিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও ঋণ অবলোপন বাড়তেই থাকবে। অভিযোগ আছে, সরকারি দলের প্রভাবশালীরা এসব ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। সে কারণে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬৮৯ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪৩ কোটি টাকা। এর বাইরে বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। তবে এবারই প্রথম মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে নতুন কার্যক্রমে আসা ফারমার্স ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতির পরিমাণ ৭৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যাংকের জন্য ৭৫ কোটি টাকাও অনেক বড় ব্যাপার। সব মিলিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি ৭ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত যত নতুন ব্যাংক দেয়া হয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশ অপ্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, সংকট উত্তরণের কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ব্যাংকগুলোকে ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেট থেকে ৩৪১ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৪১ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মূলধন জোগান দেয় সরকার। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূলধন জোগান দিয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যাংকগুলো চেয়েছিল সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। আবার চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে জানা যায়, গত কয়েক বছরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে চার ব্যাংকে। এগুলো হল- সোনালী, বেসিক, রূপালী এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এছাড়া লুটপাটের তালিকায় আরও কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ বর্তমানে টানা ৯ বছর দেশ পরিচালনা করছে। শুরুটা হয়েছিল ২০০৯-এ। কিন্তু অভিযোগ আছে, ওই সময় সরকার গঠনের পরপরই কিছু দলবাজ লোক ব্যক্তিস্বার্থে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর রীতিমতো হামলে পড়ে। দেখা যায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং এমডি নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময় সেক্টরটিতে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি-লুটপাট করা হয়। সূত্রগুলো বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল ছিল ব্যাংকিং খাতের ‘অন্ধকার যুগ’ বা দুর্দশাগ্রস্ত সময়। এ সময়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং বেসিক ব্যাংকে ব্যাপক হারে লুটপাট করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ঋণ অনিয়ম ও রূপালী ব্যাংকেও ঘটে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা। সূত্র জানায়, ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ভালো ছিল। এরপর থেকে নজিরবিহীন লুটপাটের শিকার হয় ব্যাংকটি। শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। এরপরই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বাড়তে থাকে। এছাড়া ঋণ অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে ৭ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।