Tuesday, June 28, 2016

অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় যাবে না ইইউ

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে গতকাল লন্ডনের সাবেক
মেয়র ও ব্রেক্সিটপন্থী অন্যতম শীর্ষ নেতা বরিস
জনসন। তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের
উত্তরসূরি বিবেচনা করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি
গণভোটে দেশের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তাঁর দেশ এখনো প্রস্তুত নয়। কিন্তু যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এগোতেও রাজি নন ইইউর নেতারা। গত বৃহস্পতিবারের গণভোটের পর গতকাল সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে তাঁরা প্রস্তুত নন। তিনি বলেন, ‘সেটি শুরু করার আগে আমাদের ঠিক করা দরকার, ইইউয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ধরনটা কেমন হবে।’ ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগ ঘোষণাকারী ক্যামেরন বলেন, তাঁর স্থলাভিষিক্ত যিনি হবেন, তিনিই এ সম্পর্কের বিষয়টি নির্ধারণ করবেন। এ ছাড়া ইইউতে থাকার পক্ষে লোকজন দ্বিতীয় গণভোটের যে দাবি তুলেছেন, তা নাকচ করে দেন ক্যামেরন। গতকাল বার্লিনে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, ‘আমরা তিন দেশ একটি বিষয়ে সম্মত হয়েছি। তা হলো লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ফিফটি খুব পরিষ্কার। সেখানে বলা আছে, ইইউর কোনো সদস্যরাষ্ট্র জোট ছেড়ে বের হয়ে যেতে চাইলে তা তারা ইউরোপীয় কাউন্সিলকে জানাবে।’
ম্যার্কেল আরও বলেন, যুক্তরাজ্য যদি জোট ছাড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানায়, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পরই কেবল ইউরোপীয় কাউন্সিল নির্দেশিকা তৈরি করবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ এবং প্রধানমন্ত্রী রেনজি যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব দ্রুত করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে ইইউকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার আহ্বানও জানান তাঁরা। এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিদায়প্রক্রিয়া যেন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক গণভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক। শুক্রবার এ ফলাফল প্রকাশের পর দেশটির পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধস নামে। দেশটির অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন গতকাল পুঁজিবাজার শান্ত রাখার প্রয়াসে বাজারে লেনদেন শুরুর আগেই বেশ সকালে একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য যুক্তরাজ্যের রয়েছে। গতকাল দেশটির শেয়ারবাজার কিংবা পাউন্ডের দরে নতুন করে বড় ধরনের কোনো পতন হয়নি।

লেবার পার্টিতে গৃহবিবাদ তুঙ্গে

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন
ইইউ প্রশ্নে গণভোটের পর থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে।
গতকাল লন্ডনের বাসা থেকে বের হওয়ার সময়
এভাবেই ক্যামেরাবন্দী হন তিনি। রয়টার্স
যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেওয়ার পর দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টিতে চরম গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পদত্যাগ এবং একজনের বরখাস্তের পর দলটির নেতা জেরেমি করবিন প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছেন। ইইউ গণভোট বিষয়ে লেবার নেতার বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগী সাত নেতা হলেন হেইডি আলেকজান্ডার, ইয়ান মারে, গ্লোরিয়া দ্য পিয়েরো, লিলিয়ান গ্রিনউড, লুসি পাওয়েল, কেরি মাক্যার্থি ও সীমা মালহোত্রা। তাঁরা সবাই ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য। এর আগে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বেনকে দলনেতা করবিন বরখাস্ত করেন। এরপরই দলে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং একে একে ওই নেতারা পদত্যাগ করেন। হিলারি বেন দলনেতা করবিনকে তাঁর নেতৃত্বে আস্থা হারানোর কথা বলার পর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বেন বলেছিলেন,
জেরেমি করবিন ভালো ও ভদ্র মানুষ, কিন্তু তিনি নেতা নন। বেন বরখাস্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গতকাল রোববার দিনের প্রথম দিকেই পদত্যাগ করে বসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার। করবিনকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘আমি একজন নীতিমান মানুষ হিসেবে আপনাকে সম্মান করি। কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের দেশের যে চাহিদা, তা মেটানোর মতো সক্ষমতা আপনার নেই।’ ছায়া মন্ত্রিসভার পরিবেশমন্ত্রী কেরি ম্যাকার্থি এবং শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার নেতৃত্বের পদত্যাগী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্যই পদত্যাগ করবেন।

অরক্ষিত গুহাচিত্র

সোমালিয়ার সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হারগিসা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উষর লাস গিল এলাকায় চোখে পড়বে প্রাচীন পাহাড়। ফ্রান্সের একদল প্রত্নতাত্ত্বিক ২০০২ সালে সেই পাহাড়ের গুহায় আবিষ্কার করেছেন নব্য প্রস্তরযুগীয় শিল্পীদের আঁকা গুহাচিত্র। আফ্রিকা মহাদেশের এ পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো ও অবিকৃত গুহাচিত্রের নমুনা এগুলো। অমূল্য এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আমলাতান্ত্রিক কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। লাস গিলের পাহাড়ি গুহায় গেলে পর্যটকদের চোখে পড়বে সাদা ও লাল রঙে আঁকা কৃষ্ণসার হরিণ, গরু-মহিষ, জিরাফ এবং কাঁধে তির-ধনুকওয়ালা প্রাচীন শিকারিদের ছবি। গবেষকেরা বলছেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর বা তারও আগে এসব ছবি আঁকা হয়েছিল। সমস্যা হচ্ছে,
পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে এসব গুহাচিত্র নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক কারণে জাতিসংঘ বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক সংগঠন এগুলো সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে পারছে না। সোমালিল্যান্ড নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্বে তার স্বীকৃতি সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য হিসেবেই। লাস গিলের পর্যটন এলাকার ব্যবস্থাপক আবদিসালাম সাবেল্লেহ বলেন, ‘এ ছবিগুলো একেবারেই অনন্য। এ ধরনের ছবি পুরো আফ্রিকার অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। এই মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব বাঁচিয়ে রাখতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’