Wednesday, June 3, 2015

দেশ হিন্দু মুসলমান উভয়েরই by কুলদীপ নায়ার

মওলানা আবুল কালাম আজাদ দেশভাগের আগে আলীগড়ে ছাত্রদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। ছাত্ররা তাঁকে ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে খুঁজে পেয়েছিল। তিনি ট্রেনে দিল্লি থেকে কলকাতা যাচ্ছিলেন। ছাত্ররা পরনের জামা খুলে তাঁকে উদ্দেশ করে নানা অবজ্ঞাসূচক কথা বলেছিল, যত রকমভাবে তাঁকে অপমান করা যায়, তারা তা করেছিল।
তাঁর দোষ ছিল, তিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশভাগের দাবি তোলা হয়েছিল ভুল ধারণার ভিত্তিতে, মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দেশভাগ ছাড়া আর কোনো উপায় যে নেই, এ ধারণা ভুল। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পরও ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমতে পারে। তার ওপরে হিন্দুরা বলতে পারে, তোমরা তো নিজেদের ভাগ বুঝে নিয়েছ, এখন তোমরা পাকিস্তানে চলে যাও। ঠিক সেটাই তখন হয়েছিল।
আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি হতাশ হয়ে ফিরেছি, খুবই বিচলিত হয়েছি। কারণ, সেখানকার ছাত্ররা এখনো সমাজের মূলধারার সঙ্গে মেশেনি। আর বিচলিত হয়েছি, তারা এখনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কথা বলে।
সম্ভবত আলীগড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হলে মুসলমানরা এ ভেবে যারপরনাই আনন্দিত হবে যে তাদের নিজস্ব পরিচয় আছে। উর্দুসহ মাঠের সব লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে মুসলমানদের জীবন নিরানন্দ হয়ে পড়েছে। মুসলমানরা যদি মনে করে, তাদের আলাদা পরিচয় আছে, তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু ভারতে বসবাসকারী সব নাগরিকের প্রধান পরিচয় হচ্ছে, তারা ভারতীয়।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু কনাহাট সার্কাসে গিয়ে নিজেই কয়েকজন লুটপাটকারীকে পিটিয়েছিলেন। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সম্ভবত বুঝতে পারেনি, ধর্মভিত্তিক পরিচয়ই ভারত ভাগের কারণ। দেশভাগের পর সেই রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। মুসলমানরা বিভাজনের রেখা টেনেছিল, তাদের এর জন্য ভুগতে হবে হয়তো। ভারতের ৮০ ভাগ হিন্দু জনগণ সেই পুরোনো রাজনীতির কাসুন্দি ঘাঁটবে না।
আমার মনে হয়, মুসলমানরা সামগ্রিকভাবে জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, তারা মূলধারার অংশ হতে চায়। সাম্প্রদায়িকতা কর্ষণ করার বিপদ তারা টের পেয়েছে। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার দাঙ্গা শেষমেশ পুলিশ ও মুসলমানদের মধ্যকার দাঙ্গায় পরিণত হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা তা-ই হয়েছে।
ধর্মান্তকরণ শিবির আয়োজন করার ঘোষণা করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)
যদিও মূলধারাই তাদের অতটা বাড়তে দেয়নি। এদিকে দেশে নরমপন্থী হিন্দুত্ববাদ সৃষ্টি হয়েছে। এটা মুসলমানদের আরও ভীত করে তুলছে। দিল্লি জামিয়া মিলিয়া ইনস্টিটিউশনে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, তারা হিন্দুত্ববাদের জাগরণে ভীত। যারা তাদের অধিকার নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কংগ্রেস প্যানেলের প্রতিবেদনটি আমার কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। কিছুটা সাধারণীকরণের ফলে এর কার্যকারিতা কমে গেছে। সেটা ছাড়া ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের এই পর্যবেক্ষণ ঠিক যে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আরএসএসের ‘সহিংস আক্রমণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর’ এবং ‘ঘর ওয়াপসি’ আন্দোলনের সম্মুখীন হয়েছে।
এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এই প্রতিবেদনটি দাপ্তরিকভাবে বর্জন করা হয়েছে। দেশটিকে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা উচিত ছিল। এই ধারণায় সত্যতার কিছুটা উপাদান আছে যে গত কয়েক বছরে আমরা যে ভারসাম্য অর্জন করেছিলাম, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। হিন্দুদের মধ্যে উন্নাসিকতা সৃষ্টি হয়েছে, আর মুসলমানদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ, এটা সত্য যে বন্ধনটা আলগা হলেও সেটা একবারে ভেঙে যায়নি। হয়তো দুই সম্প্রদায়কেই বাস্তবতার সঙ্গে আপস করতে হবে। তাদের মধ্যে একরকম বোঝাপড়া সৃষ্টি হয়েছে, ফলে সংকটের সময় সেটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে, সময় সময় যখন সেই সংকট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
আরএসএস–এর সঙ্গে সহিংসতা যুক্ত করেছে বা তার হুমকি যোগ করেছে। ফলে সেটা এই গল্পকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার পর এই সংগঠনটি বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিল। সংগঠনটি এখন নতুন করে আবার তাদের নোংরা মাথা তুলেছে। এমনকি তারা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের ভাস্কর্যও স্থাপন করতে চায়। আবার এটাও ঠিক যে কংগ্রেস দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ করতে পারেনি। কিন্তু দলটির আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষ, আর ধর্মীয় শক্তিগুলো যখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখনো তারা প্রতিবাদ করে। আরেকটি ধারণা হচ্ছে, মোদির আমলে প্রশাসনের মধ্যেও সাম্প্রদায়িক ভাবধারা জেঁকে বসেছে।
মুসলমানদের মধ্যে এ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে, তা যতই অসম্ভব হোক না কেন। সম্ভবত উভয় সম্প্রদায়ই নিজেদের জগতে বাস করে। উভয়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে উত্তেজনা থিতিয়ে এসেছে বা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলা যায়।
এমনকি পাকিস্তানের প্রতি যে শত্রুতার মনোভাব ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ, সেটার মাত্রাও কমে এসেছে। ভারতের আমজনতা পাকিস্তানের আমজনতার প্রতি তাদের শুভকামনা কখনোই পরিত্যাগ করেনি। এমনকি সরকারও এই বিভাজনের অসাড়তা বুঝতে পেরেছে। ফলে তারা এক টেবিলে বসে আলোচনা করতে পারে।
ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাবিরা খুবই সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। তারা এটা বোঝে না যে সুফি মতবাদ তাদের উভয়ের ধর্মেরই নির্যাস। পাকিস্তানের অভিযোগ হচ্ছে, ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের জনসংখ্যার অনুপাত বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, বোধগম্যভাবেই তা ভুল।
কাশ্মীরে পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারটিকে স্বাগত জানানো উচিত। তারা যে মুসলমানদের সঙ্গে মিশে গেছে, তাতে বোঝা যায় সেখানে কাশ্মীরি জাতিসত্তার বিকাশ হয়েছে। সেই জাতিসত্তায় দুই সম্প্রদায়েরই প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এমনকি মৌলবাদী সৈয়দ আলী শাহ গিলানি ছাড়া বিছিন্নতাবাদীরাও পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন এই যুক্তিতে যে তারাও সেই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বস্তুত, কাশ্মীরি জনগণের শক্তি হচ্ছে তাদের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ। আলীগড়ের ছাত্রদের উচিত হবে, কাশ্মীরের বই থেকে একটি পাতা উল্টিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদের পরিচয় নির্ধারণ করার প্রলোভনে পা দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।

ক্যাবের ভাড়া না দেয়ার শাস্তি ৩০ মাইল হাঁটা

ক্যাবের ভাড়া না মেটানোর এক নারীকে ৩০ মাইল হাঁটার সাজা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ভিক্টোরিয়া ব্যাসকম নামের ওই মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে ওহাইও রাজ্যের একটি আদালত এই আদেশ দেন বলে সোমবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ব্যাসকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্লিভল্যান্ড থেকে পেইনসভিলে যাওয়ার পর ভাড়া না মিটিয়েই ক্যাব থেকে নেমে তিনি চলে যান। এই দূরত্ব অতিক্রমের ফলে তার ভাড়া উঠেছিল ৬৬ ইউরো (বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকার কিছু বেশি)। পরবর্তীতে ক্যাব চালক আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারক মাইকেল সিক্কোনেত্তি তার রায়ে বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তকে ভাড়া আদায়সহ ৩০ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হল। তবে কারাবাস এড়াতে চাইলে টানা ৩০ মাইল হাঁটতে হবে অপরাধীকে।
ভাড়া না দেয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে ব্যাসকম আদালতকে বলেন, আমি সর্বশেষ যাত্রী ছিলাম না ওই ক্যাবের। ভেবেছিলাম, সেখানে বাকি যারা আছে, তারা ভাড়াটা মিটিয়ে দেবে। বিচারক তখন প্রশ্ন করেন, যদি ক্যাব না থাকতো, তাহলে আপনি কি করতেন? জবাবে ব্যাসকম বলেন, হেঁটে যেতাম। অপরাধীর এই জবাবের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ মাইল হাঁটতে হবে বলে সাজা ঘোষণা করেন। এর বিকল্প হিসেবে এক মাস কারাবাসের আদেশ দেন আদালত। তবে উভয় সাজার ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ড হিসেবে ৬৬ ইউরো পরিশোধের আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয় এ সময়। বিচারকের রায় ঘোষণা হলে হাঁটার সাজা মেনে নেন ব্যাসকম। সে ক্ষেত্রে জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে তার হাঁটার বিষয়টি আদালত তদারকি করবে বলে জানান বিচারক।

প্রেম তালা সরিয়ে ফেলল ফ্রান্স

অবশেষে লাখ লাখ ফরাসী প্রেমিক যুগলকে হতাশ করে ‘প্রেমের ব্রীজ’ খ্যাত প্যারিসের পন্ট ডেস আর্টস ব্রীজে ঝুলানো কয়েক লাখ প্রেম তালা সরিয়ে ফেলল ফ্রান্স। ব্রীজটিতে তালা ঝুলানোর রেওয়াজ শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে।
লক্ষাধিক তালার ভারে ব্রীজটির ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে তালা সমেত রেলিং খুলে নিচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা কর্মীরা। এখন থেকে তালা ঝুলানোর পরিবর্তে সেখানে সেলফি তুলতে পারবেন প্রেমিকরা। তালা সরিয়ে ফেলানোর আগে ব্রীজের অবস্থা (নিচে)। সোমবারের ছবি এএফপি

শিক্ষা, পরীক্ষা ও বার—পুনর্মূল্যায়ন by শাহদীন মালিক

মাননীয় প্রধান বিচারপতি ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আইনের শাসন এবং বার-বেঞ্চের সম্পর্কসংক্রান্ত এক আলোচনায় যথার্থই মন্তব্য করেন যে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মামলায় আইনজীবীদের অদক্ষতা ও গাফিলতির জন্য মক্কেল সুবিচার থেকে বঞ্চিত হন।
মাননীয় প্রধান বিচারপতি কমবেশি ২৫ বছর ওকালতি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছেন ১৯৯৯ সালে। অর্থাৎ, ১৫ বছর আগে। সব মিলিয়ে ৪০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতা। আইনজীবী মহলের বাইরে অনেকেই হয়তো জানেন না যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সবিতা রঞ্জন পালের জুনিয়র ছিলেন। প্রচারবিমুখ প্রয়াত সবিতা রঞ্জন পাল (এস আর পাল) আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম। যত দূর শুনেছি, ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর যখন হাজার হাজার হিন্দু পরিবার পাকিস্তান ছেড়ে ভারত চলে গিয়েছিল বা যেতে বাধ্য হয়েছিল, তখন এস আর পালও কলকাতা চলে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ অনুরোধে উনি ঢাকায় ফিরে আসেন; নতুন দেশের নতুন সরকারকে বিভিন্ন আইনি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন।
মাননীয় প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেছেন যে আজকাল নবীন আইনজীবীরা অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টাও করেন না। সনদ পেয়েই বিচারক/বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে যান।
সমস্যার মূলে এখনো আমাদের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং এসব দুর্বলতার কারণেই অদক্ষতা। কোনো তরুণ আইনজীবী বা আইন শিক্ষার্থীর পক্ষে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে ভালো আইনজীবী হওয়া প্রায় অসাধ্য। এটা মাথায় রেখেই এই লেখার সম্পূর্ণ শিরোনাম: ‘আইন শিক্ষা, আইনজীবী সনদ পরীক্ষা এবং বার কাউন্সিলের ভূমিকা—পুনর্মূল্যায়ন জরুরি’।
এখন আইন শিক্ষা দেয় গোটা বিশেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ইদানীং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইন বিভাগ খোলার হিড়িক পড়ে গেছে। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি আইনের ছাত্রছাত্রীই আছেন হাজার তিন-চার। প্রতি সেমিস্টারে ছাত্রছাত্রীপ্রতি ১০ হাজার টাকা ফি নিলে বছরে হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। আর ঢাকা, চট্টগ্রাম প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম পরীক্ষাটা দিয়ে ফেললেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের মাস্টার হওয়া নাকি খুব সহজ। প্রত্যেক লেকচারারকে পড়াতে হয় চার, পাঁচ এমনকি ছয়টা বিষয়।
দুনিয়ার সত্যিকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষককে দুটির বেশি ‘সাবজেক্ট’ পড়াতে হয় না। অনেকেই কোনো কোনো বছর কেবল একটা সাবজেক্ট পড়ান। দুনিয়ার প্রায় সব দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষকের ক্লাস ওয়ান বা টু বা থ্রিতে চার-পাঁচটা বিষয় পড়াতে হয়। আমাদের সমস্যা হলো যাঁরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিক, তাঁরা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে যে পার্থক্য বা ফারাক, সেটা সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করেন না। ফলে সম্ভবত তাঁদের ধারণা, বেতন দিচ্ছি, পড়াবেন না কেন?
যত কম শিক্ষক দিয়ে যত বেশি বিষয় পড়ানো যায়, লাভ তত বেশি। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে চাপ আসছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব জমি, ইমারত লাগবে। ঢাকা শহরে পাঁচ বিঘা জমি আর ইমারত তো ৫০ কোটি টাকার কম নয়।
বছর দশেক আগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘কম্পিউটার সায়েন্স’ পড়ার হিড়িক ছিল; ছিল হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। এখন ‘কম্পিউটার সায়েন্স’ বিভাগগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ‘আইন বিভাগ’ তার জায়গা দখল করেছে।
মঙ্গোলিয়া বা মাদাগাস্কার অথবা ফ্রান্স কিংবা জার্মানি—যেখানেই আইন পড়েন না কেন, সে দেশের আইন বাংলাদেশের আদালতে অচল। বাংলাদেশের আদালতে চলে বাংলাদেশের আইন। বিলেত-আমেরিকা, চীন-জাপানের বহু আইন আপনি জানতে পারেন, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের তো পড়াতে হবে বাংলাদেশের আইন। অনেক জায়গায় নাকি বিদেশি আইন জানা গন্ডায় গন্ডায় শিক্ষক আছেন। তাঁরা দেশি আইনের ধার ধারেন না।
তারপর আছে ‘বার–অ্যাট–ল ডিগ্রি লাভের’ বিজ্ঞাপন। ‘বার–অ্যাট–ল’টা ডিগ্রি না। কিন্তু সেটা ‘ডিগ্রি লাভ হয়েছে’ বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। প্রতারণাটা শুরু হয় প্রথম দিন থেকেই।
আইনের ডিগ্রি লাভের পর বার কাউন্সিলের ‘সনদ’-এর পরীক্ষা। মাস খানেক আগে এবারের প্রাথমিক পর্যায়ের এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন) পরীক্ষা হয়। প্রায় ২০ হাজার আইন ডিগ্রিধারী এই পরীক্ষা দেন। পাস করেছেন হাজার পাঁচেক। এখন এঁরা ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দেবেন।
খুব অল্প সিলেবাসের তিন ঘণ্টার ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে আইনজীবী হওয়া যায়। অবশ্য এরপর একটা নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষা। জানামতে, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’—যেখানে ১০০ নম্বরের একটা পরীক্ষা দিয়ে আইনজীবী হওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর আইনজীবীদের পরীক্ষা হয় আগস্ট মাসের ৩০ আর ৩১ তারিখে। প্রতিদিনই সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা, তারপর আবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা। দুই দিনে মোট ১৬ ঘণ্টার পরীক্ষা।
সহজলভ্য এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে নামকাওয়াস্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে যদি অ্যাডভোকেট হওয়া যায়, তাহলে তো দক্ষতার সংকট থাকতেই পারে।
যাঁরা সহকারী বিচারক হওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের পরিবর্তে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরিবর্তে) পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের আইনের মোট ৬০০ আর আইনের বাইরে বাংলা, ইংরেজিসহ ‘সাধারণ’ বিষয়ে আরও ৪০০, অর্থাৎ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ১০০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। সর্বশেষ গত মাসে ২৪টা সহকারী বিচারকের খালি পদের জন্য এই লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী। তার আগে এমসিকিউতে বাদ পড়েছেন হাজারেরও বেশি।
এ বছর মার্চ মাসে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ নবীন আইনজীবী। এই নতুন ১ হাজার ৩০০ নবীন আইনজীবীকে কে শেখাবেন। তাঁদের সঙ্গে গতবারের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের আরও হাজার তিনেক নতুন আইনজীবীকে যোগ করলে চার সহস্রাধিক আইনজীবীর অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন। নতুন চার হাজার আইনজীবীকে অভিজ্ঞতা প্রদানের ব্যবস্থা আমাদের নেই। যেমন নেই দক্ষ শিক্ষক।
এক অর্থে আইনের ছাত্রছাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছেন। আর বার কাউন্সিল নামকাওয়াস্তে পরীক্ষায় পাসের ব্যবস্থা করে আইনজীবী হিসেবে সনদ দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। নিয়োগ-বাণিজ্য হয়। হয় অকাতরে তদবির-বাণিজ্য। তদবিরকে আমরা পারতপক্ষে অন্যায় মনে করি না।
২...
সবচেয়ে বড় কথা হলো, আদালতগুলোয় নতুন মামলা দায়েরের সংখ্যা বাড়ছে না। তার পরও প্রায় ৩০ লাখ মামলা ঝুলে আছে শুনলে কোনো বিচারপ্রার্থীই আদালত পানে সহজে যাবেন না।
গত পাঁচ বছরে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া নতুন মামলার সংখ্যা বাড়েনি বললেই চলে। অথচ নতুন উকিল বেড়েছে অন্তত হাজার তিনেক।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে উকিলের চাহিদা, মামলার সংখ্যা, দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ—সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে দেশগুলোর বার কাউন্সিল তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণ করে।
আমাদের বার কাউন্সিল ওসবের ধার ধারে না বললেই চলে। ২৭ মে অনুষ্ঠেয় বার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য নেতারা দেশের এ-মাথা থেকে ও-মাথার প্রায় সব জেলা বারে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিচ্ছেন। প্রায় সব নেতাই অন্তত ৪০টা জেলায় গেছেন। দেশের চলমান রাজনীতির কোনো বিষয় নির্ঘাত তাঁদের বক্তব্য থেকে বাদ পড়েনি।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আইন শিক্ষার মান? আইন শিক্ষার মান নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। নতুন-নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ? গত ৪০ বছরের গড় হিসাব করলে বছরে চার দিনও বোধ হয় কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি।
আমাদের বারের, অর্থাৎ আইনজীবীদের নেতারা—তাঁদের নেত্রীর মামলা নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, বা অন্য দল সরকারের গুণগানে—তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, প্রভাব, কোনো কিছুরই বিন্দুমাত্র অভাব বা কমতি নেই। কমতি একটাই—নবীন ও নতুন আইনজীবীদের এবং তারও আগে যখন তাঁরা আইনের ছাত্রছাত্রী থাকেন, সে সময় তাঁদের শিক্ষার মান, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ব্যাপারে নজর দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সারা দুনিয়ায় আইনজীবীদের উৎকর্ষের মান নিয়ন্ত্রণ করা হলো বার কাউন্সিলের প্রধান কাজ। এ কাজে নজর নেই বললেই চলে। মাননীয় প্রধান বিচারপতির কথা আমলে নিতে আইনজীবীদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও শিক্ষা বাড়াতে হবে।
একটা নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়ে শেষ করব। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক একসঙ্গে তিনটির বেশি বিষয় পড়াতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমতুল্য নয়।
অন্তত আইন পড়ানোর ব্যাপারে এই নির্দেশ জারির ক্ষমতা বার কাউন্সিলের আছে। আর ১০০ নম্বরের পরিবর্তে প্রথমে ৫০০ এবং দুই বছরের মধ্যে ১০০০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস করতে হবে আইনজীবী হতে হলে।
ন্যায়বিচার নির্ভর করে প্রথম আইনজীবীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর।
ড. শাহদীন মালিক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট; অধ্যাপক, স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৯ by কাফি কামাল

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্রজাতিসত্তার তিনটি রাজপরিবার হচ্ছে বান্দরবানের বোমাং, রাঙ্গামাটির চাকমা ও খাগড়াছড়ির মং রাজপরিবার। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখনও রয়েছে তাদের প্রভাব। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশের বেশির ভাগ সরকারে ছিল এসব রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব। এক্ষেত্রে এগিয়ে চাকমা ও বোমাং রাজপরিবার। বান্দরবানের বোমাং রাজপরিবারের ১৫তম রাজা হলেন অংশু প্রু চৌধুরী। তিনি জিয়াউর রহমান সরকারের খাদ্য ও সাত্তার সরকারের সময় দুই দফায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। রাজপরিবারের ১৪তম রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন এরশাদ সরকারের এমপি। রাজপরিবারের ১৩তম রাজা ক্য জ সাইন বোমাগ্রীর পুত্রবধূ (রাজবধূ) হলেন বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি ম্যামাচিং। আবার অংশু প্রু চৌধুরীর ছেলে বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি সাচিং প্রু জেরি হলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি। সাচিং প্রু ও মামাচিং দুইজন সম্পর্কে মামি-ভাগনে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির মংরাজার জামাতা হলেন বান্দরবানের প্রয়াত বোমাং রাজা অংশু প্রু চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে। রাঙ্গামাটির চাকমা রাজা ও ফখরুদ্দীন সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা রাজা মেজর ত্রিদিব রায় ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। পরে তিনি পাকিস্তানে চলে গেলে ১৯৭৭ সালে ১৮ বছর বয়সে ৫১তম চাকমা রাজা হিসেবে অভিশেষ ঘটে তার ছেলে ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের। তার দাদি রাজমাতা বিনিতা রায় জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। দেবাশীষ রায়ের সৎ মায়ের সঙ্গে পরে বিয়ে হয় ফরিদপুরের বিখ্যাত কবির পরিবারের সন্তান ফিরোজ কবিরের। চাকমা রাজপরিবারের আরেক সন্তান দেবাশীষের চাচা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কেকে রায় প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাঙ্গামাটির সুবিমল দেওয়ান ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা। তার ছেলে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। দীপেন দেওয়ানের চাচি হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ানের ফুফু। দীপেন দেওয়ানের বোন জামাই হলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। আবার বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ির সমীরন দেওয়ানের ফুফাতো বোনের জামাই হলেন রাঙ্গামাটি বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান। রাঙ্গামাটির কামিনী মোহন দেওয়ান ছিলেন পাকিস্তান আমলের এমএলএ। তার ছেলে বিনয় কুমার দেওয়ান ছিলেন এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী। এরশাদ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বিনয় কুমারের ভাতিজা গৌতম দেওয়ান। আবার বিনয় কুমার দেওয়ান ও দীপেন দেওয়ান হলেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সরকারে (জেএসএস) দলীয় এমপি ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা)। তিনি পরবর্তী সময়ে শান্তিবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ছোট ভাই হলেন চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। সন্তু লারমার শ্যালক হলেন আদিবাসী যান্ত্রিক সমিতির সভাপতি বিভাষ দেওয়ান।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ভূঁইয়া পরিবারের সদস্য মুসলিম কটন মিলের মালিক গুলবক্স ভূঁইয়ার ছেলে সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি। তার বড় ভাই মজিবুর রহমান ভূঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মজিবুর ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। দিপুর খালু হলেন চাঁদপুরের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এসএ সুলতান টিটু। আর গুলবক্স ভূঁইয়ার ভাতিজি জামাই হলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। রংপুরের ভরসা পরিবারের সন্তান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জিয়া সরকারের এমপি রহিমউদ্দিন ভরসার ছোট ভাই হলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক এমপি করিমউদ্দিন ভরসা। দুই ভাই আবার সম্পর্কে বেয়াইও বটে। রহিম ভরসার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন করিম ভরসা। আবার রহিম ভরসার বেয়াই হলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া। রহিম ভরসার ছেলে এমদাদুল হক ভরসা জেলা বিএনপি সভাপতি ও স্ত্রী শিরিন ভরসা জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। করিম ভরসার ছেলে শামসুল ইসলাম জাতীয় পার্টির নেতা। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন হলেন এরশাদ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক চৌধুরীর বেয়াই। আনিসুলের ভাতিজার কাছে ভাতিজি বিয়ে দিয়েছেন মোজাফফর।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মামা হলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর)  মহাসচিব ও এরশাদ সরকারের সাবেক পূর্তমন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাগনে হলেন ভোলা সদর পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান। তার আরেক ভাগনে হলেন লালমোহনের পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। আবার তোফায়েলের ভাতিজা আলী আজম মুকুল হলেন দৌলতখান আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। সিলেটের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ইমরান আহমেদের শাশুড়ি হলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বদরুন্নেসা আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা হলেন ইমরান আহমেদের মামা শ্বশুর। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত খালেদ মোশাররফের মেয়ে হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা এমপি মাহজাবীন খালেদ। খালেদ মোশাররফের ছোট ভাই রাশেদ মোশাররফ ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তাদের নিকটাত্মীয় হলেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি। তার ছেলে রাশেক রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের বেয়াই হলেন চট্টগ্রামের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজাম। নিজামের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন শাহজাহান ওমর। আর নিজামের ভাই হলেন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল সরোয়ার জাহান নিজাম।
পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের এমএলএ বগুড়ার গোলাম রব্বানীর ছেলে বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার চাচা ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন সাংবাদিক আসাফুদ্দৌলা। জিএম সিরাজের চাচাতো বোন আসাফা মওলা গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের পুত্রবধূ। জিয়া সরকারের এমপি বগুড়ার সিরাজুল হক তালুকদারের ছেলে হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। লালুর শ্বশুর হলেন বগুড়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আকবর চৌধুরী। তার ভায়রা শহিদুল ইসলাম দুদু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী ছিলেন। বগুড়ার বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার ছোট ভাই মঞ্জুরুল আলম মোহন জেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকও। আরেক ভাই মাহবুব উল আলম টোকন জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও একই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রানা সম্পর্কে দূর সম্পর্কীয় মামা-ভাগনে। খুলনার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গাফফার বিশ্বাসের ভাগনি জামাই হলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এএসএম রব। রবের ছেলে আলাউদ্দিন মিঠু বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। কক্সবাজারের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর তালুই হলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কবি আদিল চৌধুরী। চৌধুরী পরিবারের ছোট ছেলে সরওয়ার জাহান চৌধুরীর চাচা শ্বশুর হলেন আদিল চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ড. এসএ মালেকের বেয়াই হলেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান।

আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৮ by কাফি কামাল

বগুড়ার নবাব পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ আলী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তার দাদা সৈয়দ আবদুস সোবহান চৌধুরী হলেন বগুড়া নবাববাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী ও সৈয়দ হামদে আলী। হাম্মাদ আলী পাকিস্তান সরকারের এমএলএ ছিলেন। তার মেয়ে হামিদা আলী বৃটেনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে লন্ডনের ব্রো ক্রোয়াইডন অঞ্চলের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। মোহাম্মদ আলীর ছোট ছেলে হামদে আলী এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। মোহাম্মদ আলীর ফুফা হলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির জমিদার ও অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। তার ছেলে সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী ও পরে জিয়া সরকারের এমপি। নওয়াব আলীর নাতনি সৈয়দা আশিকা আকবর সাবেক এমপি। তার ছেলে আফিফ আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার নবাব আবদুস সোবহান চৌধুরীর আদিবাড়ি হলো দেলদুয়ার, জমিদার (গজনবী) পরিবার। গজনবী পরিবারের বউ করিমুন্নেসা খানম চৌধুরী ছিলেন রংপুর পায়রাবন্দের জমিদার কন্যা এবং বেগম রোকেয়ার বড় বোন। সে হিসেবে টাঙ্গাইলের গজনবী পরিবার, বগুড়া ও ধনবাড়ির জমিদার পরিবারের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন।
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট জাতীয় চার নেতার অন্যতম প্রয়াত সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে হলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী। সৈয়দ নজরুলের ছোট ভাই সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পট্টু মিয়া কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তার ছেলে সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের আহ্বায়ক। আবার সৈয়দ নজরুলের শ্যালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান মিয়া ছিলেন পিডিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কটিয়াদি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তার ছেলে সৈয়দ মইনুজ্জামান অপু আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার সৈয়দ আশরাফ হলেন হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজানের সম্পর্কে ভায়রা। অন্যদিকে হবিগঞ্জের বিখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সন্তান সৈয়দ সৈয়দুদ্দিনের দুই ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সাল বিএনপি জেলা সভাপতি ও তার ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার জাতীয় পার্টির নেতা ও এরশাদ সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাভোগ করছেন। সৈয়দ কায়সারের ছোট ভাই মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান। সৈয়দ ফয়সালের ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ হুমায়ুনের স্ত্রীর বড় ভাই হলেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত। সৈয়দ ফয়সালের ফুফাতো ভাই হলেন মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের বিখ্যাত সংগঠক ও রাজনীতিক কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী। আর মানিক চৌধুরীর মেয়ে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বর্তমান সরকারের এমপি। আবার বরিশালের সৈয়দ পরিবারের সদস্য যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বড় ভাই সৈয়দ দুলাল বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নাট্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং আরেক ভাই প্রয়াত সৈয়দ হেলাল ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা।
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের ছোটভাই অধ্যক্ষ আবদুল হক নুরু হলেন মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। প্রেসিডেন্টের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বর্তমান সরকারের এমপি। আর আবদুল হামিদের খালা শাশুড়ি হলেন চারদলীয় জোট সরকারের (জামায়াত) সাবেক এমপি হাফেজা আসমা খাতুন। তার ছেলে সাইফুল্লাহ মনসুরের শ্বশুর হলেন জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী। নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী হলেন মহিলা জামায়াতের শীর্ষ নেত্রী। আবার আসমা খাতুনের বেয়াই হলেন জামায়াতের সাবেক আমীর মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত অধ্যাপক গোলাম আযম। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের আপন ছোট ভাই হলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি নাজমুল হাসান জাহেদ। তাদের চাচাতো ভাই হলেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন। সাবেক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া-১ আসনের এমপি আবদুল মান্নানের ভায়রা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বগুড়া-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হাবিবুর রহমানের ছেলের শ্বশুর হলেন রাজবাড়ীর আওয়ামী লীগদলীয় এমপি কাজী কেরামত আলী। হাবিব এমপির শ্যালক হলেন ধুনটের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আকতার আলম সেলিম। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি খাদেমুল ইসলামের শ্যালিকা হলেন সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি সেলিনা জাহান লিটা। মাগুরার সংরক্ষিত আসনের এমপি কামরুল লায়লা জলি হলেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শেখরের বোন। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজমের বোনের জামাই হলেন জঙ্গিবাদের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আবদুর রহমান।
চারদলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কুষ্টিয়ার আহসানুল হক মোল্লা (পচা মোল্লা)। তার ছেলে বাচ্চু মোল্লা বিএনপি সরকারের এমপি এবং ভাতিজি জামাই আফাজউদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি ছিলেন। বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের দুই বেয়াই হলেন সিলেটের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শফি আহমেদ চৌধুরী ও চলচ্চিত্র লীগের সভাপতি আবদুল খালেক। শফি চৌধুরী তার মেয়ের শ্বশুর এবং আবদুল খালেক ছেলের শ্বশুর। বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী কুমিল্লার কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন বীরপ্রতীকের মামাতো ভাই হলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দোহারের সাবেক এমপি আবদুল মান্নানের মেয়ের জামাই হলেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম। নরসিংদীর বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই ও ভায়রা। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফার ছোট বোনের জামাই হলেন ওয়ান ইলেভেনের সময় দুদকের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা মে. জে. (অব.) এমএ মতিন। রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের ভাগনি বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলি।
সংশোধনী: ‘আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি-৫’ পর্বে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আবদুস সালাম তালুকদারের ভাতিজার নাম ফরিদুল আলম তালুকদার ছাপা হয়েছে। তার প্রকৃত নাম হবে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। একই পর্বে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমুর পদবী আওয়ামী লীগের ‘প্রেসিডিয়াম সদস্য’র স্থলে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হবে। ৬ষ্ঠ পর্বে, চট্টগ্রামের প্রয়াত আহমেদ কবির চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন লেখা হলেও তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন না। একই পর্বে ‘বৃহত্তর ফরিদপুরের আরেকটি চৌধুরী পরিবার হলে মঠবাড়িয়ার চরের চৌধুরী পরিবার’-এর স্থলে হবে ‘মাদারীপুরের শিবচর মাদবরের চরের চৌধুরী পরিবার’। ৭ম পর্বে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি রওশন জাহান সাথী হলেন জাসদের প্রয়াত শীর্ষ নেতা কাজী আরেফ আহমেদ’ ছাপা হয়েছে। সঠিক হবে রওশন জাহান সাথী হলেন জাসদের প্রয়াত শীর্ষ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের স্ত্রী। একই পর্বের শেষ লাইনে ‘তারেক আরেক মেয়ে আফরোজা খান রিতা হলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি’ ছাপা হয়েছে। সঠিক হবে ‘হারুনার রশিদ খান মুন্নুর আরেক মেয়ে আফরোজা খান রিতা হলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।’

যেভাবে বিনা মূল্যে পাবেন উইন্ডোজ ১০

উইন্ডোজ ১০ আসছে ২৯ জুলাই
এখন থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা উইন্ডোজ ৮.১ চালিত পিসি বা ল্যাপটপ কিনবেন তাঁরা বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১০ এর হালনাগাদ পাবেন। মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দিয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯ জুলাই উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত করবে মাইক্রোসফট। পরবর্তী প্রজন্মের এই অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর পিসি ও ট্যাব ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ৭ ও উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই এটি বিনা মূল্যে হালনাগাদ করে নিতে পারবেন। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
পিসি ও ট্যাবলেটের জন্য উইন্ডোজ সংস্করণ আসার পরে স্মার্টফোন ও এক্সবক্সের গেম কনসোলের জন্য উইন্ডোজ ১০ উন্মুক্ত করবে মাইক্রোসফট।
একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, মাইক্রোসফটের ভবিষ্যতের জন্য উইন্ডোজের এই সংস্করণ উন্মুক্ত করার বিষয়টি জটিল হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।
উইন্ডোজের সাম্প্রতিক সংস্করণ উইন্ডোজ ৮ নিয়ে মাইক্রোসফটের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। অনেকেই টাচ কেন্দ্রিক ইন্টারফেস সুবিধার উইন্ডোজের এই সংস্করণটি হালনাগাদ করেননি। এই বিষয়টি অনুধাবন করে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের নতুন সংস্করণে পুরোনো সংস্করণ যেমন উইন্ডোজ ৭ এর অনেক ফিচার উইন্ডোজ ১০ এ যুক্ত করেছে।
মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট টেরি মেয়ারসন এক ব্লগে লিখেছেন, আজকের বিশ্বের ১৯০টি দেশের যেন ১৫০ কোটি মানুষ উইন্ডোজ ব্যবহার করছেন তাদের জন্য নতুন প্রজন্মের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ১০ এর নকশা করা হয়েছে।
এটি যেমন আগের মতো পরিচিত হবে তেমনি এটি আগের চেয়ে উন্নত হবে। আপনাদের প্রিয় স্টার্ট মেনুটিও উইন্ডোজ ১০ এ ফিরে আসবে। এতে নতুন করে আসবে মাইক্রোসফটের ভারচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট কর্টানা যা এত দিন কেবল উইন্ডোজ ফোনেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ ছাড়া উইন্ডোজ ১০ এর সঙ্গে নতুন করে আসবে এজ নামের ওয়েব ব্রাউজার। এ ছাড়াও এক্সবক্স থেকে ভিডিও গেম স্ট্রিমিং করার জন্য থাকবে একটি অ্যাপ্লিকেশন।
মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উইন্ডোজের আগের সংস্করণের সব অ্যাপ যাতে উইন্ডোজ ১০ এ কাজ করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রচুর খেটেছে তারা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ভেবেছিলেন মাইক্রোসফট এ বছরের শেষ নাগাদ উইন্ডোজ ১০ বাজারে ছাড়তে পারে। কিন্তু মাইক্রোসফট অনেক আগেই উইন্ডোজ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিল।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের বিশ্লেষকেরা বলছেন, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ট্যাবলেটের বাজার কেড়ে নেওয়ার আগে মাইক্রোসফটের ওই বাজারে ঢোকার সর্বশেষ সুযোগ হতে পারে উইন্ডোজ ১০। অবশ্য মাইক্রোসফট ও ইনটেল মিলে টু-ইন-ওয়ান বা হাইব্রিড পণ্যের যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তাতে নতুন ধরনের পণ্যের বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে।
যেভাবে পাওয়া যাবে
উইন্ডোজ উন্মুক্ত করার দিন যেভাবে তা সংগ্রহ করবেন সে সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট। তাদের পরামর্শ হচ্ছে, একটি কপি যেন ব্যবহারকারীরা অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখেন। উইন্ডোজ ১০ কেনা বা বিনা মূল্যে হালনাগাদের এই রিজারভেশন প্রক্রিয়াটি খুব সহজ। যে সব কম্পিউটার উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করবে তার সিস্টেম ট্রেতে একটি আপডেট নোটিফিকেশন পাবেন ব্যবহারকারী। ব্যবহারকারী ও নোটিফিকেশনে ক্লিক করলে রিজারভেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বিকল্প উপায়ে কপি সংরক্ষণ করতে (http://www. microsoft. com/en-gb/windows/windows-10-upgrade) ব্যবহারকারীকে এই পেজটিতে যেতে হবে।