Wednesday, July 22, 2009

জেলায়া-মিশেলেত্তি আলোচনা ব্যর্থ হন্ডুরাসে গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা অ্যারিয়াসের

হন্ডুরাসের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তির প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা সমঝোতা আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে রক্তপাত, এমনকি গৃহযুদ্ধও শুরু হতে পারে। গত রোববার প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াসের সমঝোতা প্রস্তাব গ্রহণ না করায় দ্বিতীয় দফার আলোচনাও ব্যর্থ হয়। গত শনিবার শুরু হওয়া এই আলোচনায় জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল এবং হন্ডুরাসে ২৮ জুনের সামরিক অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সব রাজনৈতিক অপরাধে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করাসহ দুই পক্ষের কাছে সাত দফা প্রস্তাব দেন অ্যারিয়াস।
রোববার সমঝোতা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট অ্যারিয়াস দুই পক্ষকে আরও ৭২ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অ্যারিয়াস বলেন, ‘জেলায়ার প্রতিনিধিদল আমার প্রস্তাব পুরোপুরি মেনে নিলেও হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদল তা গ্রহণ করেনি।’
বৈঠক শেষে হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান কার্লোস লোপেজ বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত, কিন্তু যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা মেনে নেওয়া হন্ডুরাসের সাংবিধানিক সরকারের পক্ষে সম্ভব না।’ তিনি জানান, অ্যারিয়াসের প্রস্তাবে তাঁদের আপত্তির মূল অংশটি হলো জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল। তবে আলোচনা ৭২ ঘণ্টা বাড়ানোর অ্যারিয়াসের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্থা লোরেনা আলভারাদো। তবে অ্যারিয়াসের আশঙ্কাকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
এদিকে জেলায়ার মুখপাত্র রিক্সি মনকাদা বলেছেন, অবৈধ সরকারের সঙ্গে আর বৈঠক করবেন না তাঁরা। আলোচনা ব্যার্থ হওয়ার পর নিকারাগুয়ায় এক প্রতিক্রিয়ায় জেলায়া বলেন, ‘আমার ফেরার ব্যবস্থা করতে দেশের ভেতরেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ নির্বাসিত হওয়ার পর থেকে নিকারাগুয়াতে অবস্থান করছেন জেলায়া। ওদিকে হন্ডুরাসে জেলায়ার সমর্থকেরা বিক্ষোভ আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। তারা আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার ধর্মঘট আহ্বান করেছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। কানাঘুষা রয়েছে, নিকারাগুয়া সীমান্ত দিয়ে জেলায়া দেশে ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
অন্যদিকে অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) মহাসচিব হোসে মিগুয়েল ইনসুলজা জানান, হন্ডুরাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থার সদস্যদের গতকাল সোমবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। হন্ডুরাসের সেনাসমর্থিত সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে, তাদের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে। কোস্টারিকায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে রোববার যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট সমাধানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবার্ট উড বলেন, ‘আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং ওএএসের নীতিমালার আলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধানে পৌঁছানোর পথ তৈরি হয়েছে।’
আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগে গত ২৮ জুন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট চলছে। এএফপি, বিবিসি ও সিএনএন।

চাঁদ নয়, মঙ্গল অভিযানের আহ্বান জানালেন চন্দ্রজয়ী দুই নভোচারী

চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম অবতরণের দিনটি বেশ ঘটা করে উদ্যাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল ২০ জুলাই ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম অবতরণের ৪০ বছর পূর্তির দিন। যে নভোযানে চড়ে নভোযাত্রীরা চাঁদের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছিলেন, সেই অ্যাপোলো-১১-এর দুই যাত্রী বাজ অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স বলেছেন, চাঁদের পরিবর্তে এখন মঙ্গল অভিযানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। মঙ্গলে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এ আহ্বান জানান। খবর বিবিসি ও এএফপির।
চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের ৪০তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নভোচারীরা। তাঁদের মধ্যে মাইকেল কলিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি, চাঁদের চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর হতো মঙ্গল অভিযানে গেলে। মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, চাঁদে অভিযান ছিল আমার একটা ভুল জায়গায় যাওয়ার মতো কিছু। এখন চন্দ্র নয়, মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।’
কলিন্সের কথার সুর ধরে অলড্রিন বলেন, ‘অ্যাপোলো-১১-এর নভোযাত্রীরা দেখিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম করলে যেকোনো জাতি কিংবা ব্যক্তি গৌরবময় অনেক কিছুই করতে পারে। এ জন্য মঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা দরকার।’ চাঁদে প্রথম অবতরণকারী নিল আর্মস্ট্রংও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
চাঁদে পদার্পণের ৪০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান গতকাল সোমবারই উদ্বোধন হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউসে অ্যাপোলো-১১-এর নভোযাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার।

পুলিত্জার বিজয়ী লেখক ফ্রাংক ম্যাককোর্টের জীবনাবসান

সাহিত্যে গৌরবজনক পুলিত্জার পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ-মার্কিন লেখক ফ্রাংক ম্যাককোর্ট (৭৮) আর নেই। গত রোববার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তিনি মেনিনজাইটিস ও দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তাঁর প্রকাশক স্ক্রাইবনারের এক নির্বাহীর উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য দিয়েছে। খবর বিসিসির।
ম্যাককোর্টের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ছোটবেলায় তিনি মা-বাবার সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে চলে যান। আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক শহরের বস্তিজীবনে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিকে উপজীব্য করেই লেখেন অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে। এ বইয়ের জন্যই ১৯৯৭ সালে পুলিত্জার পুরস্কার লাভ করেন তিনি। সারা বিশ্বে বইটির লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়। এই বইটির জন্যতিনি ন্যাশনালবুক ক্রিটিক সার্কেল অ্যাওয়ার্ড এবংআরও বেশ কয়েকটি সম্মাননা পান।

উন্নয়নের স্বার্থে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ জরুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পি জে আবদুল কালাম

টেকসই উন্নয়নের জন্য আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন। কারণ, আগে ক্ষমতার উত্স হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদকে বিবেচনা করা হলেও এখন বিবেচিত হচ্ছে জ্ঞান।
গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম বিশেষ বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ৩৫ মিনিটব্যাপী বক্তৃতায় তিনি উন্নয়নের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক এবং এর বাস্তবতা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
আবদুল কালামের আগমন উপলক্ষে সিনেট ভবনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গতকাল বিকেল চারটা ১০ মিনিটে তিনি ক্যাম্পাসে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। শিক্ষার্থীরা পাশের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ব্যালকনি ও ছাদে ভিড় করেন।
পাওয়ার পয়েন্টে উত্থাপিত বক্তব্যে আবদুল কালাম বলেন, আগে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, আর আজ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী প্রাধান্য পাচ্ছে। আগে শেয়ারহোল্ডাররা প্রাধান্য পেতেন আর আজ প্রাধান্য পাচ্ছেন ভোক্তারা। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, গতকাল যা কাজ করত, আজ তা কাজ করছে না। তাই উন্নয়ন চাইলে নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে, জ্যেষ্ঠতা দিয়ে নয়।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য দরকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্য ও কম্পিউটার-প্রযুক্তির প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তিনি ভারতের ‘ভিশন ২০২০’ সম্পর্কে বলেন, এ সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য এবং শহর ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানো, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।
আবদুল কালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানের উত্সকেন্দ্র। জ্ঞানচর্চা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কেই নেতৃত্ব দিতে হবে। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটি অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে করে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি যেমন হবে, তেমনি শিক্ষকেরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। ফলে জ্ঞান আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মান বাড়বে।
প্রশ্নোত্তরপর্বে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও নদী-নির্ভরতার প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তদেশীয় নদী-ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়েই রয়েছে। এ ধরনের মোট নয়টি নদী বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে দরকার যোগ্য নেতৃত্ব, নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
স্বাগত ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সফল বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের আগমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ।
ইউআইটিএসের সমাবর্তন বক্তা: একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের ভিত গড়তে শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ‘সীমান্তহীন’ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন আবদুল কালাম। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষা অবশ্যই ‘সীমান্তহীন’ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথভাবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) কমপ্লেক্স স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) প্রথম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাসস জানায়, আবদুল কালামকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
আবদুল কালাম তাঁর বক্তৃতায় যোগাযোগ ও কৃষি খাতে আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি কৃষি খাতে বেশি বেশি গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবর্তনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক গওহর রিজভী, ইউআইটিএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বক্তৃতা করেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে: আবদুল কালাম গতকাল গিয়েছিলেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তিনি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উপমহাদেশের এ জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিত্বকে কলেজ চত্বরে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

রাজনৈতিক নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ দুদকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ by আব্দুল্লাহ মামুন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ নিয়ে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা হয়েছে—এ অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামিদের প্রায় সবাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এ তালিকায় আছেন মন্ত্রী-সাংসদেরা। যে প্রতিষ্ঠান এই মামলাগুলো করেছে, তারাই এখন যদি সেই মামলাগুলো নাকচ করে দেয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
বর্তমান সরকারের গঠিত ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত কমিটি দুদককে যে ৩৯ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে ১২টিই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। অন্য যাঁদের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, হাবিবুর রহমান মোল্লা, আব্দুল জলিল, এস মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, কামাল আহমেদ মজুমদার, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মির্জা আজম, কাজী জাফরউল্লাহ, রবিউল ওবায়দুর মোক্তাদির, শামীম ওসমান, এ কে এম রহমতউল্লাহ, আ খ ম জাহাঙ্গীর, বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। এই কমিটির প্রধান হলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
জানা গেছে, বাতিলের সুপারিশ করা মামলাগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনের আইন শাখাকে। ওই শাখা প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে পরীক্ষা করবে। এরপর সেগুলো নিয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করা হবে। সবশেষে কমিশন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, কমিশনের আইন বিভাগ মামলাগুলোর ব্যাপারে সুপারিশ করবে। তারপর আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ওই সব মামলার ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে নয়, আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে দুদক।
তবে দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বেশির ভাগই অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে দুদক অবৈধ সম্পদের সন্ধান না পাওয়ায় মামলা করেনি। মামলাগুলো যথাযথভাবে সংগৃহীত নথিপত্রের ভিত্তিতেই দায়ের করা হয়েছে। পরে অভিযোগপত্র দায়েরের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। এখন এসব মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনা হিসেবে দেখা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ, তাহলে কমিশনকে স্বীকার করতে হবে যে মামলাগুলো দায়ের করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। পাশাপাশি অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তাদেরও স্বীকার করতে হবে, তাঁরা ভুল করেছেন। ফলে দুদক যদি এসব মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা বলে সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেগুলো বাতিল করে, তাহলে দুদকের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে এই সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন।
দুদকের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, বর্তমান বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হলে দুদক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মামলাগুলো একই পাল্লায় ফেলা না হলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত্ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হবে।
দুদককে সচল করার উদ্যোগ: হাসান মশহুদ চৌধূরীর পদত্যাগের কিছু আগে থেকেই দুদকের কাজে মন্থরতা আসে। এর মূল কারণ, সরকার দুদকের কর্মকাণ্ড কীভাবে দেখবে তা পরিষ্কার ছিল না। তা ছাড়া জাতীয় সংসদে দুদক পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে দুদকের কর্মকাণ্ডের ব্যপারে রাজনীতিকদের সমালোচনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে গোলাম রহমান যোগ দেওয়ার পর সেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করেন, সরকার দুদককে সচল দেখতে চায়। চেয়ারম্যানও কর্মীদের সভায় এমনই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনে যোগ দিয়ে গোলাম রহমান এর প্রশাসন, অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা পরিচালনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিতে কাজ করেছেন। এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকেরাসহ কয়েকজন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিলে অবশ্য দুদকের ৪৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
দুদকের দায়ের করা পাঁচ শ মামলা হাইকোর্টে স্থগিত অবস্থায় আছে। ওই সব স্থগিতাদেশ আইনগতভাবে বাতিল করে মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ৬৮৮টি মামলা যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থগিত মামলাগুলো সচল করার ব্যাপারে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে কাজ শুরু করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কমিশনের আইন বিভাগ আইনজ্ঞদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে কমিশন গঠিত হওয়ার আগে নয় হাজার অভিযোগের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেসব অভিযোগ নিয়েও শিগগিরই কাজ শুরু করা হচ্ছে। গোলাম রহমান গত ২৪ জুন দুদকে চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন।
দুদকের কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ফাঁদ (হাতেনাতে ধরা ঘুষসংক্রান্ত মামলা) মামলার পরিমাণ সারা দেশে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্নীতিসংক্রান্ত সংবাদ বিবেচনায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সব সংবাদ হয়তো বিবেচনায় আনা যাবে না, কিন্তু কিছু কিছু সংবাদ বিবেচনায় নেওয়া হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং এগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় যে দুর্নীতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিয়ে যে দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়েও বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হবে।