Sunday, October 27, 2024

মোহাম্মদপুরে সিরিজ ছিনতাই, আতঙ্ক by সুদীপ অধিকারী

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই অস্থির রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা। রাতে গণছিনতাইয়ের পাশাপাশি দিনের আলোতেও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পথচারীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ছাড় পাচ্ছেন না নারীরাও। চলন্ত গাড়ি ঠেকিয়ে অস্ত্রের মুখে লুটে নেয়া হয়েছে কোম্পানির লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় মুদি দোকানের ভিতর ঢুকেও টাকা লুটে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। দিনে-রাতের এসব কর্মকাণ্ডে বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, বসিলা গার্ডেন সিটি, ৪০ ফিট, নবোদয় হাউজিংসহ এক আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে পুরো মোহাম্মদপুর এলাকা।

সম্প্রতি এমনই ছিনতাইয়ের কবলে পড়া নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে  দেখা যায়,  কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। কালো রঙের হাফ প্যান্ট ও কালো শার্ট পড়া এক কিশোর দৌড়াতে দৌড়াতে তার মাজা থেকে ধারালো ছুরি বের করে ওই নারীর পথরোধ করে। পেছন থেকে আরও ৪ কিশোর নারীকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে কালো হাফ প্যান্ট-কালো গেঞ্জি পরা এক কিশোর হাতে বিশাল ছ্যান দাঁ নিয়ে মেয়েটির ব্যাগ ধরে টানাটানি শুরু করে। চার-পাঁচ জন মিলে অস্ত্র নিয়ে ঘিরে ধরার পরও নারীটি তার  ব্যাগ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে কালো শার্ট পরা ছেলেটি নারীর ওড়না ও ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। আরেকজন কোপ দেয়ার ভয় দেখায়। ইজ্জত ঢাকার ওড়না ও ব্যাগ নিয়ে নেয়ার পর নিজের জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে দৌড়ে স্থান ত্যাগ করেন ওই নারী।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও’র ঘটনাটি গত ২১শে অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকার ডি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের রোজ গার্ডেন নামের একটি ভবনের সামনে ঘটেছে। নিজের বাসার পাশেই সেদিন ভয়ঙ্কর ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন ওই নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক ওই নারী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি দোহারে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য মোহাম্মদপুরে খালার বাসায় থাকেন। তিনি বলেন, ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য সেদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে বের হই। বাসার গেটের বাইরে বের হতেই কয়েকজন হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পেছন দিক থেকে এসে আমাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। ব্যাগ দিতে না চাইলে তারা বড় বড় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে কোপ দিতে যায়। আমি তখন ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই আমার ব্যাগ ছাড়িনি। তারা বার বার বলছিল-ব্যাগ দিয়ে দে না হলে কোপ দেবো। এর মধ্যে একজন আমার গায়ের ওড়না ধরে টান দেয়। তখন ওড়নার সঙ্গে ব্যাগও রাস্তায় পড়ে যায়। আমি জীবন বাঁচাতে তখন বাসার দিকে দৌড় দেই। ওইদিনের ঘটনা আমি কখনো ভুলবো না। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বড় বোন জান্নাতুল সুরভী বলেন, আমার বোন সেদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। ছিনতাইকারীরা যেভাবে হামলা করেছে তাতে তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো। ওর ব্যাগে মোবাইল, টাকা, আইডিকার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র ছিল সব নিয়ে গেছে। ওর বুকের ওড়নাটা পর্যন্ত টান দিয়ে খুলে ফেলা হয়েছে। ওই ঘটনায় আমার বোন প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। সেদিনের পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সেদিন ওই শিক্ষার্থীকে অস্ত্র হাতে প্রথম গতিরোধ করে রতন। এরপর তার সঙ্গে যোগ দেয় নবোদয় হাউজিং বাজারের পাশের বস্তির শাওন, লিটকি, ইব্রাহিম (ইবু) ও শেখেরটেকের ফয়সাল। শুধু ওই নারীর কাছ থেকে ছিনতাই নয় মোহাম্মদপুর এলাকার আরও বেশ কয়েকটি ছিনতাই ও কুপিয়ে জখমের ঘটনায়ও তারা জড়িত।

এর আগের দিন ২০শে অক্টোবর সকাল পৌনে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেড এলাকায় দিনে-দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে নেসলে কোম্পানির গাড়ি আটকিয়ে অস্ত্রের মুখে ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় ৬ দুর্বৃত্ত। সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নেসলে’র মোহাম্মদপুরের এরিয়া অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সেদিন সকাল ৯টার দিকে কোম্পানির টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য গাড়িতে করে অফিস থেকে বের হই। যখন আমরা মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেড এলাকায় পৌঁছাই তখন রাস্তা ভাঙার কারণে আমাদের গাড়িটি কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল। এরমধ্যে পেছন থেকে দু’টি মোটরসাইকেলে করে মোট ৬ জন ছিনতাইকারী এসে আমাদের গাড়ির লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করে। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের গাড়ির সামনে চলে আসে। আমরা গাড়ি থামালে তারা চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙচুর শুরু করে এবং আমাদের কোপ দিতে যায়। তাদের কোপে আমি পড়ে গেলে তারা টাকার ব্যাগ নিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় আমার পকেটে টাকা, মোবাইল যা ছিল তাও নিয়ে যায়। সাইফুল ইসলাম বলেন, সেদিন আমাদের কাছে থাকা ওই ব্যাগে অফিসের ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ১৭ হাজার টাকার একটি চেক ছিল। সম্পূর্ণ টাকা ও চেক নিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা।

১৯শে অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টায় বসিলা ৪০ ফিট সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হন খন্দকার রাফি ও তার সঙ্গে একই বাসায় থাকা আরও দুইজন। রাফি বলেন, সেদিন আমরা তিনজন রেস্টুরেন্ট থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে হেঁটে বাসায় আসছিলাম। হঠাৎ করে পেছন থেকে ৯/১০ জন অল্প বয়সী ছেলে আমাদেরকে ঘিরে ধরে। তাদের সকলের হাতেই বড় বড় ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা আমাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা সব কেড়ে নিয়ে চলে যায়। অস্ত্রের ভয়ে কিছুই বলার সাহস পাইনি তখন। মোহাম্মদপুরে একের পর এক খুন, ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে গেছে।

মোহাম্মদপুরের ছিনতাইয়ের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিছু লোক একটি মুদি দোকানে ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে দোকানিকে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি গত ২৪শে অক্টোবর মোহাম্মদপুর বসিলা ৪০ ফিট এলাকার। দোকানি জানান, আমি দোকানে বসে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এর মধ্যে আমার একটি ফোন কল আসে। ওই কল রিসিভ করতেই কয়েকজন যুবক মুখে মাস্ক পরে ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে দোকানের ভেতর ঢুকে পড়ে। আমাকে মারধর করে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে সব টাকা নিয়ে চলে যায়। জীবন বাঁচানোর ভয়ে সেদিন কিছুই বলতে পারিনি। অপরদিকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ৭ জনকে খুন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুলিতে, ছুরিকাঘাতে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি চোর ধরতে গিয়েও ছুরিকাঘাতে রবিউল ইসলাম নামের ঢাকা উদ্যানের এক নৈশপ্রহরীকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গতকাল বিকালে থানায় গিয়েছেন এলাকাটির সাধারণ ছাত্র-জনতা।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বলেন, গত কয়েকদিন মোহাম্মদপুরে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওগুলো দেখে আমি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছি। কিন্তু তারা কোনো অভিযোগ বা মামলা দিতে চান না। তারপরও আমরা জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। তিনি বলেন, আমার লোকবল কম। আমি দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। বাকি সময়ের বেশিরভাগটা রাস্তাতেই কেটে যায়। আমাদের প্রত্যেকের ওয়ার্কিং আওয়ার বাড়িয়ে দিতে হয়েছে। আমরা প্রতিরোধমূলক সব রকম ব্যবস্থাই নিচ্ছি। টহল জোরদার করা হচ্ছে।

mzamin

দশ বছর ধরে মাথার চুল ছিঁড়ে খায় মেয়ে, পেট থেকে বেরোলো বেরল ১৭০০ গ্রাম চুল by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

পশ্চিমবঙ্গের  উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা রীতা দাস। বছর ষোলোর এই কিশোরী  আর পাঁচটা মেয়ের মতো স্কুলে যায়। লেখাপড়া করে। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে। খেলে বেড়ায়। তবে রয়েছে একটি বদভ্যাস। রোজ মুঠো করে মাথার চুল ছিড়ে সোজা মুখে চালান করে সে। দিন কয়েক আগে সেই মেয়েকে নিয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের গ্যাস্ট্রো বিভাগের আউটডোরে হাজির রীতার বাবা-মা। আউটডোরের চিকিৎসককে জানানো হল মেয়ের পেট ক্রমশ ফুলছে। বার বার বমি হয়। খাওয়ার পরিমাণ কমে গিয়েছে। ডাক্তারবাবু দেখলেন। কয়েকটা ওষুধ দিলেন। নিয়ম করে খেয়ে দশদিন পর ফের আসতে বললেন।। উপসর্গ কমার বদলে আরও বাড়ল। এবার এন্ডোস্কোপি করা হল। রিপোর্ট হাতে পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ। মেয়ের পেটের মধ্যে শক্ত রোমশ কিছু দলা পাকিয়ে আটকে আছে। মেয়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গত দশ বছর ধরে মাথার চুল ছিঁড়ে খায়। আগে কম করত। যতদিন দিন যাচ্ছে সমস্যা বাড়ছে। সব শুনে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে পাঠানো হল। সার্জারি বিভাগের ছয় চিকিৎসক প্রায় দেড় ঘণ্টা অপারেশন করে পেট থেকে দশ বছরের জমা চুল বের করেছেন। ওজন কম করে ১ কেজি ৭০০গ্রাম। অপারেশনের পর কিশোরী ভালো আছে। চিকিৎসকরা বলছেন ,”এটা এক ধরনের রোগ। তবে খুবই বিরল। রোগের নাম ট্রাইকোবেজোয়ার। এই ধরনের রোগী নিজের অজান্তে মাথার চুল ছিড়ে ফেলে। পরে খেয়ে নেয়। সমস্যা হল। চুল হজম হয় না। তাই পাকস্থলীতে জমা হয়। সঙ্গে পেটের থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন রস। সব তালগোল মিলিয়ে পেটে জমা হয়।”
mzamin

মার্কিন নির্বাচনে নারী বনাম পুরুষ প্রার্থিতার নেপথ্যে যা লুকানো থাকে

এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ভোটারদের কাছে ডনাল্ড ট্রাম্প বেশ পছন্দের প্রার্থী। অন্যদিকে নারী ভোটারদের কাছেও বিষয়টি এমন। তারা এবার একজন নারী প্রার্থী পেয়ে বেশ আনন্দিত। ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমালা হ্যারিসকে বেশ পছন্দ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ভোটাররা। গত এক দশকে মার্কিন মুল্লুকে যে সামাজিক উত্থান হয়েছে তাতে লিঙ্গ ব্যবধান রাজনৈতিকভাবে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সাহায্য করতে পারে। এমনটাই মনে করেন বিবিসি’র বিশেষ প্রতিনিধি ক্যাটি কে।

২৭ অক্টোবর তিনি ‘What’s really behind America’s men v women election’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। সেখানে ক্যাটি কে বলেন, প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেন একজ ‘উইমেন অব কালার’ (ভিন্ন রঙের নারী)। এছাড়া দেশটিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমালাই দ্বিতীয় নারী যিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনে বেশ প্রভাব সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া তিনি নিজ পরিচয় নিয়ে বেশি কথা না বলার জন্য এগিয়েও রয়েছেন।
গত মাসে সিএনএন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারিস বলেছিলেন, শুনুন- আমি এ জন্যই এবারের নির্বাচনে প্রার্থীতা করছি কেননা আমি বিশ্বাস করি যে, আমি আমেরিকানদের জন্য এই মুহূর্তে এই কাজটি করতে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী।

যদিও কমালা এই বিষয়টিকে স্বাভাবিক করার চেষ্ট করেছেন, তবে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় লৈঙ্গিক বিষয়টি ভিন্ন এক সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছে। এবারের নির্বাচনে নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আমেরিকানদের জন্য নতুন কোনো বিষয় হবে। যদিও বিষয়টি অনেক ভোটার পছন্দ করলেও অনেকের কাছে এটা বেশ বিরক্তির কারণ।

হ্যারিস প্রচারাভিযানে এ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি, কিন্তু একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি আমার কাছে স্বীকার করেছন যে, এমন অনেকেই আছেন যারা বিশ্বাস করেন ভোটের ক্ষেত্রে গুপ্ত হলেও ‘লিঙ্গ বৈষম্য’ রয়েছে, যা কিছু লোককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন নারীর পক্ষে ভোট দিতে বাধা দিতে পারে।

এখন ২০২৪ সাল, এ সময় এসে যদিও কেউ সরাসরি কোনো পোলস্টারকে বলবেন না যে, তিনি কোনো নারীকে প্রেসিডেন্ট বানাতে ভোট দেবেন না। তবে এই বিষয়টি বোঝার জন্য একটি কোড রয়েছে। একজন গণতান্ত্রিক বিশ্লেষক বলেছেন, যখন ভোটাররা পোলস্টারদের বলে যে কমালা হ্যারিস ‘প্রস্তুত’ নন বা তার সঠিক ‘ ব্যক্তিত্ব’ নেই। এর মাধ্যমে আসলে তারা বুঝাতে চান যে প্রার্থী একজন নারী।

অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রচারণায়ও বলা হচ্ছে, ভোটের সঙ্গে লিঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে গত সপ্তাহেই এক জায়গায় বলা হয়েছিল, ‘কমালা দুর্বল, অসৎ এবং বিপজ্জনক উদারপন্থী যার ফলে ৫ নভেম্বর আমেরিকার জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করবে। ট্রাম্প শিবিরের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রায়ান ল্যাঞ্জা আমাকে টেক্সটে বলেছেন, এবার ট্রাম্পের জয়ের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। কেননা তিনি একজন পুরুষ।

ডনাল্ড ট্রাম্প এই নির্বাচনী দৌড়ে একজন পুরুষালী প্রার্থীর কেন্দ্র হতে চান। অন্যদিকে কমালা হ্যারিস এ কথা কমই স্বীকার করেন যে, তিনি একজন মহিলা যিনি হোয়াইট হাউসের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি জরিপে বলা হয়েছে, ১৪ শতাংশ পুরুষদের ভোটে ট্রাম্প তার ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর তুলনায় দুই পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে হ্যারিসের পক্ষে নারীদের সমর্থন হচ্ছে ১২ শতাংশ।

mzamin

চিকিৎসকদের আটক করে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ইসরাইলি বাহিনী

গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু চিকিৎসক এবং রোগীকে আটক করেছে ইসরাইলি সেনারা। এরপর তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা। এতে বলা হয়, শনিবার দিনের শেষ দিকে ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএফএ জানিয়েছে যে, গাজার উত্তরাঞ্চলের বেঈত লাহিয়াতে বহু বাড়ির উপর ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ইসরাইলের  তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি এবং মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সরকারি সমর্থন পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি বাহিনী ওই অঞ্চলে চালু তিনটি হাসপাতালের অন্যতম কামাল আদওয়ান হাসপাতালে হামলা চালায়। স্বাস্থ্য কর্মীরা বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ওই হাসপাতালের ৭০ জনের মধ্যে কমপক্ষে ৪৪ জনকে আটক করেছে। পরে তারা জানায় যে, সেনাবাহিনী আটকদের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালকসহ ১৪ জনকে ছেড়ে দেয়।

হাসপাতালের এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। শুক্রবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে ‘সেখানে সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী অবকাঠামোর উপস্থিতি’ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতিতে তারা ওই হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালায়।

চিকিৎসকরা বলছেন যে, ইসরাইলি গুলি ওই স্থাপনার জেনারেটর ও অক্সিজেন স্টেশনে আঘাত হানলে নিবিড় সেবা ইউনিটের ভেতরে অন্তত দুই জন শিশু মারা যায়।
হাসপাতাল খালি করার কিংবা রোগীদের ফেলে চলে যাবার জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্য করেন হাসপাতাল কর্মীরা। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেছেন যে, সেনাবাহিনীর অভিযানের আগে রোগী এবং তাদের সঙ্গের লোকসহ অন্তত ৬০০ জন হাসপাতালের ভেতরে ছিলেন।
গাজার মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, গত তিন সপ্তাহের ইসরাইলি হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া, বেঈত হানুন ও বেঈত লাহিয়া শহরগুলিতে অন্তত ৮০০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইল বলছে গাজার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সংগঠিত হামাস যোদ্ধাদের উৎখাত করতে তাদের সেনারা সেখানে ফিরে যায়। শুক্রবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, গাজা ভূখন্ডের উত্তরে লড়াইয়ে তাদের তিন সেনা নিহত হয়।

mzamin

ইসরাইলের হামলায় নিহত ৪৫, মৃত্যুর ঝুঁকিতে পুরো গাজাবাসী

ফিলিস্তিনের প্রতিটি মানুষই মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের ঘোষিত এবং কার্যকর করা গণহত্যায় গাজা উপত্যকার সমগ্র বাসিন্দা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া নামক এলাকার অন্তত ছয়টি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলের এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সমালোচনা করেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন (সিএআইআর)। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলি হামলা বন্ধে কার্যকরী উদ্যেগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া গাজার পূর্ণ জনসংখ্যাকে পদ্ধতিগতভাবে নির্মূল বন্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গাজার পাশাপাশি লেবাননের বৈরুতেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির রাজধানীতে স্থানীয়দের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিমান হামলা জারি রেখেছে ইসরাইল।

আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, গাজার উত্তরাঞ্চলে নতুন এক ট্রাজেডির সূচনা করেছে ইসরাইল। সেখানে রাতারাতি বেইত লাহিয়ায় আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে এখনও ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হয়ত তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অথবা ইসরাইলি বোমার আঘাতে নিঃশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হানি মাহমুদ বলেছেন, আমরা যা দেখছি তা হল নিরাপদ এলাকা সম্পর্কে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মিথ্যাচার।

ইসরাইলের বোমার আঘাত থেকে রক্ষা পেতে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। বাস্তুহারা এসব লোকজন নির্দেশ মতো গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সরে যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিরাপদ অঞ্চলেও বোমা হামলা করছে ইসরাইল। তাদের বোমা হামলায় হতাহত হয়েছে বহু মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেক গাজাবাসী। ওই সংবাদদাতা বলেছেন, এই করুণ পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে বারবার এভাবেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তেল আবিব।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন গাজার ৪২ হাজার ৮৪৭ জন বেসামরিক মানুষ। আহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই এক লাখ ছাড়িয়েছে। এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪৪ জন ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ বলছে হতাহতের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু। গত বছরের ৭ অক্টোবর দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকেই গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। তাদের দাবি হামাস যোদ্ধাদের হাতে সেসময় ১২০০ ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

mzamin

ইউরোপে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ‘উদ্বেগজনক’ বৃদ্ধির শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা -দ্য গার্ডিয়ান

ইউরোপজুড়ে মুসলিমরা এখন বর্ণবাদের ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধির’ সঙ্গে লড়াই করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা এ মন্তব্য করে বলেছে, বর্ণবাদ এমন বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে ‘অমানবিক মুসলিমবিদ্বেষী বাগাড়ম্বর’।

ইউরোপে বর্ণবাদের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওই সংস্থা। জরিপে দেখা গেছে, এতে অংশগ্রহণকারী মুসলিমদের প্রায় অর্ধেকই বলেছেন, সম্প্রতি তাঁরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

ইইউ এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস (এফআরএ) নামের সংস্থাটির এ প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। ইউরোপের ১৩টি দেশের ৯ হাজার ৬০০ জন মুসলিম নারী–পুরুষ সংস্থাটির জরিপে অংশ নেন।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ইউরোপ মহাদেশজুড়ে বর্ণবাদ ও বৈষম্য মুসলিমদের জীবনযাত্রার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরি করছে নানা হুমকি।

মুসলিমরা বলছেন, এ বর্ণবাদ ও বৈষম্যের প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে। যেমন তাঁদের সন্তানেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে, চাকরির ক্ষেত্রে অসমতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, এমনকি বাড়ি কেনা বা ভাড়া নিতে গেলেও পক্ষপাত করা হচ্ছে।

এই জরিপের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে গত বছরের ৭ অক্টোবরের আগে। ওই দিন ইসরায়েলে নজিরবিহীন রকেট হামলা চালান ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা। এর প্রতিশোধ নেওয়ার অজুহাত তুলে সেদিন থেকেই গাজায় নারকীয় তাণ্ডব শুরু করেছে ইসরায়েল।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এফআরএ বলছে, যদিও এ জরিপ ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধ শুরুর আগে করা হয়েছে, তবু নাগরিক সংগঠনগুলো ও বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ওই সংঘাত শুরুর পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে।

এ বিষয়ে সংস্থার পরিচালক শিরপা রাউতিয়ো বলেন, ‘ইউরোপে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমরা বর্ণবাদ ও বৈষম্য উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে দেখছি। এটি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে উসকে উঠছে। মুসলিমবিরোধী অমানবিক বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তায় মহাদেশজুড়ে এ বর্ণবাদ ও বৈষম্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।’

৭ অক্টোবরের পর প্রধানত মুসলিম ও কিছু ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়া মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। এসবের মধ্যে আছে জার্মানির বার্লিনে একটি সিনাগগে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা থেকে শুরু করে ফ্রান্সে বিভিন্ন মুসলিম কাউন্সিল এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষকে হুমকিসংবলিত ও অপমানজনক বেশ কিছু চিঠি পাঠানোর ঘটনা।

অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলেছে মানবাধিকার সংস্থা এফআরএ। দেখা গেছে, ২০২২ সালের আগে পাঁচ বছরে বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁদের ৪৭ শতাংশ। ২০১৬ সালের তুলনায় এটি ৩৯ শতাংশ বেশি।

জরিপ প্রতিবেদনের সহরচয়িতা ভিডা বেরেসনেভিসিউটে বলেন, ‘আমরা দেখছি, মুসলিমদের অবস্থা খারাপ থেকে অধিকতর খারাপ হচ্ছে। ইউরোপে একজন মুসলিম হিসেবে বসবাস করাটা আগের চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে।’

বিশ্লেষকেরা বলেন, বৈষম্যের ঘটনা মূলত ইউরোপে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। যেমন অস্ট্রিয়ায় নাৎসিবাদীদের প্রতিষ্ঠিত অভিবাসীবিরোধী ফ্রিডম পার্টির (এফপি) সম্প্রতি উত্থান ঘটেছে। তারা সেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। ৭১ শতাংশ মুসলিম বৈষম্যের শিকার হওয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দেশটিতে। প্রতিবেশী জার্মানিতে আরেক অভিবাসীবিরোধী দল অলটারনেটিভ ফার ডয়েচল্যান্ড ক্রমেই বেশি সমর্থন পাচ্ছে। সেখানে ৬৮ শতাংশ মুসলিম জানিয়েছেন, তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশের ৩৯ শতাংশ মুসলিম চাকরিতে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর কর্মরত মুসলিমদের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, চাকরি পেতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে তাঁদের।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বৈষম্যের কারণে তাঁরা বাড়ি কিনতে বা ভাড়া করতে বাধা পেয়েছেন। এ হার ২০১৬ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। বেরেসনেভিসিউটে বলেন, ‘বৈষম্যের এমন ঘটনা ব্যাপক, স্থায়ী আর অপ্রতিরোধ্য।’

চলমান এ বর্ণবাদের প্রভাবও সুদূরপ্রসারি ও দীর্ঘমেয়াদি। যার ফলাফল হিসেবে মুসলিমরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্যের মধ্যে কাটাচ্ছেন ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। এ ছাড়া আগের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি মুসলিম বসবাস করছেন অস্থায়ী চুক্তিতে। আবার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় আগেভাগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন তিন গুণ মুসলিম।

‘বিশেষত, তরুণ মুসলিমদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনা বেশি উদ্বেগজনক’, বলেন বেরেসনেভিসিউটে। ইউরোপে জন্মগ্রহণকারী মুসলিমদের অর্ধেকের বেশি (৫৫ শতাংশ) বলেন, গত পাঁচ বছরে চাকরি পেতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন তাঁরা। এই তরুণেরা ইঙ্গিত দেন, ভাষাগত সক্ষমতা ও অন্য যোগ্যতা একই থাকার পরও তাঁদের অন্যদের সঙ্গে সমান চোখে দেখা হয়নি।

বেরেসনেভিসিউটে বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। অনেক মুসলিমই একাধিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, এ বৈষম্যে পেছনে রয়েছে, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়। পাশাপাশি আছে গায়ের রং এবং জাতিগত বা অভিবাসন–সংক্রান্ত অতীত যোগসূত্র।’

যেসব মুসলিম নারী ধর্মীয় পোশাক যেমন, স্কার্ফ পরেন, তাঁরাও চাকরি ক্ষেত্রে বেশি বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে, পোশাকের কারণে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ার হার বেশি (৫৮ শতাংশ)।

এ অবস্থায় ইইউ সদস্যদেশগুলোকে বৈষম্য ও বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা এফআরএ। সেই সঙ্গে আইনপ্রণেতারা যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে এ বিষয়ে মানসম্মত তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছে তারা। দুঃখের বিষয়, যুক্তরাজ্য ছাড়া অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশই বর্ণ বা জাতিগত বৈচিত্র্য নিয়ে আদমশুমারির তথ্য সংগ্রহ করে না।

এ জরিপ প্রতিবেদনের আগে গত বছর ইউরোপে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে প্রতিবেদনে এ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বর্ণবাদ ও বর্ণবাদী বৈষম্য ইউরোপজুড়ে এক স্থায়ী ঘটনায় রূপ নিয়েছে। এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া এর বিলোপ অসম্ভব।

কানাডার কুইবেকে মুসলমানদের সমর্থনে প্রজ্বালন র‌্যালি
কানাডার কুইবেকে মুসলমানদের সমর্থনে প্রজ্বালন র‌্যালি। রয়টার্স ফাইল ছবি

সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে

আর মাত্র ৯ দিন বাকি। এরপরই ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই লড়াইয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়ছেন ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে পরিচিত রাজ্যগুলোতে তাদের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেই আভাষ মিলছে। তাই শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত কমালা হ্যারিস, ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তাদের সহযোগীরা। পুরো শক্তি নিয়ে এখন প্রচারণায় সময় কাটাচ্ছেন তারা। টেক্সাসে কমালা হ্যারিসের ভোট বাড়াতে বিখ্যাত সংগীতশিল্পী বিয়োন্সে নোয়েলস, ডেসটিনিস চাইল্ড ব্যান্ডমেট কেলি রাউল্যান্ড এবং কান্ট্রি সিঙ্গার উইলি নেলসন সবাই তাদের তারকা খ্যাতিকে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প জো রোগানের তিন ঘণ্টার পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ব্যস্ত ছিলেন। তা শেষ করে তিনি ছুটে যান মিশিগানে। সেখানে বিলম্বে উপস্থিত হন তিনি। এতে সমাবেশে জনতার সংখ্যা অনেক কমে যায়। তবে যারা ছিলেনÑ তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে কে বিজয়ী হবেনÑ তা নিয়ে বড় রকম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিয়েনা কলেজ ২০ থেকে ২৩শে অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে সর্বশেষ যে জরিপ চালিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছেÑ কমালা এবং ট্রাম্প সমানে সমান। গড়ে শতকরা ৪৮ ভাগ মানুষ দু’জনকেই সমর্থন করছেন। অন্যদিকে শতকরা ৪ ভাগ ভোটার কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীন। নারী ভোটারদের মধ্যে কমালাকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৫৪ ভাগ, ট্রাম্পকে শতকরা ৪২ ভাগ। কিন্তু পুরুষ ভোটারদের দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে গেছেন ট্রাম্প। পুরুষরা শতকরা ৫৫ ভাগ সমর্থন করছেন তাকে। কমালাকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪১ ভাগ। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন কমালা। এর পরিমাণ শতকরা ৫৫ ভাগ, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৪৩। অন্যদিকে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ ট্রাম্পকে এবং কমালাকে শতকরা ৪৪ ভাগ সমর্থন করছেন। কমালার জন্য উদ্বিগ্ন  হওয়ার মতো তথ্য হলো জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৬১ ভাগ মানুষ বলেছে, দেশ ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে শতকরা ২৭ ভাগ বলেছে, দেশ সঠিক পথেই আছে।

ফাইভ থার্টি এইট জরিপকারী সংস্থা জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জরিপ নিয়ে তার গড় করে থাকে। তাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কমালা হ্যারিস খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তাকে সমর্থন করছেন শতকরা ৪৮ ভাগ ভোটার। ট্রাম্পকে শতকরা ৪৬.৬ ভাগ। ফলে শতকরা ১.৪ ভাগ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন কমালা। তবে এই ব্যবধান এ সপ্তাহের শুরুতে যা ছিল তার চেয়ে কম। সপ্তাহের শুরুতে এই হার ছিল শতকরা ১.৮ ভাগ। জাতীয় পর্যায়ে এসব জরিপ ভোটারদের সেন্টিমেন্ট সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দেয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন ইলেকটোরাল ভোটে। প্রতিটি রাজ্য থেকে একজন প্রার্থী কতটি ইলেকটোরাল ভোট পেলেন তা নির্ধারণ করবে ফল। তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সুইং স্টেট। এগুলো হলো- অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভ্যানিয়া ও উইসকনসিন। এই সাতটি রাজ্যে মোট ৯৩টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট আছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। সেই হিসাবে প্রয়োজনীয় সেই ২৭০ ভোটের এক তৃতীয়াংশ ইলেকটোরাল ভোট আছে ওই সাত রাজ্যে। ফাইভ থার্টি এইটের সর্বশেষ গড় হিসাবে নর্থ ক্যারোলাইনাতে শতকরা এক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। অ্যারিজোনা ও জর্জিয়াতে তিনি শতকরা ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। মিশিগান, নেভাদা, পেনসিলভ্যানিয়া, উইসকনসিনে শতকরা ০.৫ ভাগ ব্যবধান কমালা ও ট্রাম্পের মধ্যে। খুব কম ব্যবধানে পেনসিলভ্যানিয়া ও নেভাদায় এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। মিশিগান ও উইসকনসিনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে কমালা।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কমালার পক্ষে শুক্রবার টেক্সাসের হাউসটনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিয়োন্সে নোয়েলস, কেলি রাউল্যান্ড এবং উইলি নেলসন। সেখানে গর্ভপাতের অধিকারের প্রতি সমর্থন জোরালো করেছেন কমালা। এতে নারী ভোটারদের বেশ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে কোনো ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সমর্থন করেনি টেক্সাস। এই রাজ্যে আছে মোট ৪০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। ফলে এই ভোটগুলো ট্রাম্পের পকেটেই যাবে বলে মনে হচ্ছে। তাই বলে হাল ছেড়ে দেয়নি ডেমোক্রেটরা। এই রাজ্যটিতে গভর্নর রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবোট। তার অধীনে এই রাজ্য গর্ভপাতবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে গর্ভপাতের অধিকারে সমর্থন দেয়া কমালার জন্য খুব বেশি সংবাদ নাও মিলতে পারে এখানে। অন্যদিকে শুক্রবার টেক্সাসে প্রচারণা চালিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে অস্টিনে থেকে ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ প্রোগ্রামের রেকর্ড সম্পন্ন করেছেন। রোগান হলো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় পডকাস্টার। তার রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী। তার বেশির ভাগই পুরুষ। শুধু ইউটিউবে রোগানের পডকাস্টের সাবস্ক্রাইবার এক কোটি ৭৫ লাখ। স্পোটিফাইয়ে এক কোটি ৪০ লাখ। তার শ্রোতাদের গড় বয়স ২৪ বছর। রোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একবার বলেছেন, তিনি আয়কর ট্যাক্স নির্মূল করার পক্ষে। এতে যে রাজস্ব ক্ষতি হবে তা তিনি শুল্ক দিয়ে পুষিয়ে নিতে চান। এখান থেকে মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে এক র‌্যালিতে যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে বিপুল পরিমাণ আরব মার্কিন জনসংখ্যা। তারাই নির্বাচনের ফল অনেক বেশি প্রভাবিত করবেন। আরব মার্কিনিদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন শতকরা ৪৫ ভাগ, কমালার ৪৩। আরব নিউজ/ইউগভ জরিপ প্রকাশ হয়েছে সোমবার। এতে দেখা গেছে, গাজা, লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেয়ার কারণে বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ আরব জনগোষ্ঠী। ফলে তাদের বড় অংশ কমালা হ্যারিসের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, মিশিগানে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে কমালা পুরোপুরি ধরাশায়ী হচ্ছেন। তার পতন হচ্ছে। কারণ, কমালা এসব মানুষের কাজ বিদেশিদের  দিয়ে দিয়েছেন। তাদের শহরগুলোতে অপরাধ নিয়ে এসেছেন। আর মধ্যপ্রাচ্যকে তো ‘টিন্ডারবক্স’ বানিয়ে ফেলেছেন, যা বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুত। যে পরিমাণ মানুষকে নিহত হতে দেখছি অতীতে কখনো এমনটা আর দেখিনি। উল্লেখ্য, কমালা হ্যারিসের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান লিজ চেনি। ট্রাম্পের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ। লিজ চেনি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির কন্যা। ২০০৩ সালে ইরাকে যে আগ্রাসন চালানো হয়েছে তার কেন্দ্রীয় চরিত্রের অন্যতম ডিক চেনি। এ প্রসঙ্গে তীর্যক বাক্য ছোড়েন ট্রাম্প। তিনি সমবেতদের কাছে জানতে চান- কমালা হ্যারিস যখন মুসলিমবিদ্বেষী লিজ চেনির সঙ্গে আটঘাট বেঁধেছেন তখন মুসলিমরা কেন কমালাকে সাপোর্ট দেবেন?

mzamin

ইরানে ইসরাইলের হামলা, নিহত ২

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ইরানবাসী। কিছুক্ষণ পরই মসজিদে মসজিদে ফজরের আযান হবে। কিন্তু তার আগেই আকস্মিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ। কেঁপে ওঠে পুরো তেহরান, খুজেস্তান, কারাজ শহর। এসব স্থানে কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রায় ২০টি সামরিক স্থাপনায় ইসরাইল হামলা করেছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা। এতে বিকট শব্দে, অগ্নিশিখায় আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ। আকস্মিক ঘুম ভেঙে হকচকিয়ে যান সাধারণ মানুষ। মায়ের কোলে কেঁদে ওঠে শিশু। ততক্ষণে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের দু’জন সেনা সদস্য। ইসরাইল ঘোষণা দিয়েছে, এর আগে তেল আবিবে ইরান যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, তার জবাবে এই হামলা। তাদের এই পাল্টা জবাব সম্পন্ন হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, যদি এরপরও ইরান প্রতিশোধ নিতে হামলা চালায়, তাহলে জবাব দিতে বাধ্য থাকবে ইসরাইল। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারাও সর্বশেষ এই আগ্রাসী হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। এমন হামলা-পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববাসী। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের প্রতি পাল্টা হামলা না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন। তারা বলেছে, এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়বে। বাড়বে অস্থিতিশীলতা। কেউ কেউ বলছেন, এর ফলে আরও বড় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল- জাজিরা, বিবিসি বলছে, ‘ইরানের ড্রোন হামলা ও তার প্রক্সি যুদ্ধের’ জবাবে ইসরাইল এই হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানের চারপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের মিডিয়াগুলো বলছে, অভিজাত ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়নি। কারণ, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। পরে অবশ্য হামলার কথা স্বীকার করে ইরান। হামলার পর ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। ওদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরাক তার সব বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক স্থগিত করেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সামরিক অপারেশনের মধ্যে দেশের আকাশসীমা তারা বন্ধ রাখছে। বিবিসি বলছে, ইরানের সামরিক টার্গেটগুলোতে যথার্থ হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। তবে ঠিক কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে এবং তাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং তেল ক্ষেত্রগুলোতে হামলা না চালাতে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মতে, যদি এসব স্থাপনায় হামলা হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, দামেস্কে ইরানের কন্স্যুলেটে হামলার জবাবে ইরান এ মাসের শুরুর দিকে ইসরাইলে প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইসরাইলের দাবি, সেই হামলার জবাবে তারা শনিবার ভোররাতে এই হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, এমনিতেই গাজা, পশ্চিমতীর, লেবানন নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ে, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং আইআরজিসি কুদ্‌স ফোর্সের অপারেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস নিলফোরুশানকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এসব হত্যার মধ্যদিয়ে তারা ওই বাহিনীগুলোকে অনেকটা দুর্বল করে দিয়ে, তবেই ইরানে হামলা চালিয়েছে। বিবিসি বলছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াগুলোর দাবি ইসরাইলের হামলা ব্যর্থ হয়েছে। এমন দাবি ইরান বরাবরই করে আসছে। কিন্তু যদি এবারের হামলায় বড় কোনো ক্ষতি হয় বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, তাহলে সেই বর্ণনা পাল্টে যাবে। ওদিকে সিরিয়ায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব হামলার দায় ইসরাইল স্বীকার করেনি। সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং গুলি করে তাদের ভূপাতিত করেছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্যমতে, ইরানে সর্বশেষ এই হামলায় যুক্ত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র।  হোয়াইট হাউস এ হামলাকে ইসরাইলের আত্মরক্ষার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে।

জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান: গাজা, পশ্চিমতীর, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান, ইরাক- সর্বত্রই উত্তেজনার আগুন। তার মধ্যে শনিবার ভোরে প্রতিশোধ নিতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তবে ইরানও কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত তারা। ফলে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ উপরে উঠছে। ইসরাইলকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও  তেলক্ষেত্রকে এড়িয়ে হামলা চালাতে। আগ্রাসী এই হামলার জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। মিত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলার প্রতিশোধ নিতে চার সপ্তাহ আগে অভিযান চালায় ইরান। সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে উপযুক্ত সময় খুঁজছিল ইসরাইল। এরই মধ্যে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হামাস, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে এসব সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে ইসরাইল। এর মধ্য দিয়ে তারা এসব সংগঠনকে দুর্বল করে দিয়েছে। এরপরই ইরানের ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্য  থেকে উত্তেজনা কখনো বিদায়  নেয়নি। এখন ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরানও প্রস্তুত। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জবাব দিতে তারা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। সূত্রের উল্লেখ করে এসব তথ্য দিয়েছে আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। এতে বলা হয়, ইসরাইল উপযুক্ত জবাব পাবে তা নিয়ে  কোনো সংশয় নেই। তবে নতুন করে যদি কোনো উত্তেজনা বৃদ্ধি করে তাহলে কড়া মূল্য দিতে হবে বলে ইরানকে সতর্ক করেছে ইসরাইল।

ইরানে সব ফ্লাইট বাতিল: হামলার জবাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বলেছে, ইসরাইলের হামলার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেন ইরানি স্পিকার: নৃশংসতা চালাতে ইসরাইলকে ভয়াবহ সব অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্র দিয়ে জায়নবাদী ইসরাইল নৃশংসতা চালাচ্ছে। শুক্রবার সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাসিজ শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। বলেন, বর্তমানে আমরা যেসব অপরাধ  দেখছি তা ইসরাইল অব্যাহত  রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের এর আগে  দেয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে। এর মাধ্যমেই তারা গণহত্যা করছে এবং বিভিন্ন নেতাকে হত্যা করছে।

mzamin

‘ব্যক্তির অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠান বিচারের মুখোমুখি হবে না’

সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে যে ব্যক্তি অপরাধ করেছে এবং সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে অর্থ পাচার করেছে, আমরা তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো। তবে ব্যক্তির অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠান বিচারের মুখোমুখি হবে না। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের মালিকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ব্যক্তির অপরাধ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য আছে। এ সময় বেক্সিমকোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বেক্সিমকোর সঙ্গে ৭০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবন জড়িত। তার মানে ৭০ হাজার পরিবারের জীবন সেখানে জড়িত। সেই প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখার জন্য সরকার সাহায্য করছে। তাদের ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের একটি ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। সেটিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই কার্যক্রম শুরু করি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলায় জেলায় টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তার কিছু সুফল আমরা দেখেছি। শীতের সবজি আসায় দাম কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
সরকার কোনো কর্পোরেটদের হাতে জিম্মি নয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ইতিপূর্বে যে সরকারগুলো ছিল, তারা সবাই কর্পোরেটদের হাতে জিম্মি ছিল। আমরা কোনো কর্পোরেটদের হাতে বন্দি নই, আমরা স্বাধীন। আমরা যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি এবং নিচ্ছি। দেশের অন্যতম দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও কিন্তু ছাড় দেইনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় করাটা এই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমাদের কাজ করার সদিচ্ছাগুলো বাস্তবায়নে গিয়ে আটকে যায়। আমরা মাঠ প্রশাসনের প্রভাব দেখতে চাই না। আমরা চেষ্টা করছি সেখানে রদবদল করে সমাধান করার। ভোক্তা অধিকার আইন সংশোধনের বিষয়ে আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা দ্রব্যমূল্য লাঘবসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আমরা দ্রুত দ্রব্যমূল্য লাঘবের চেষ্টায় আছি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, ডিমের মতো দ্রব্যের দাম বাড়ার পেছনে দায়ী মধ্যস্বত্ব। মধ্যস্বত্ব বাদ দিয়ে ডজনে ২৫-৩০ টাকা কমানো গেছে। সিন্ডিকেটের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে বাস্তবতাকে অনেকে বুঝতে চায় না। একটা রক্তাক্ত অভ্যুত্থান হলো, তারপর বড় বন্যা হলো। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এতে সাধারণ মানুষ ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দ্রব্যমূল্য বাড়া শুরু করলো। তিনি সকলকে কথা দিয়ে বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ভোক্তা অধিকার সর্বোচ্চ কাজ করবে। তবে সবকিছুই আমার আওতাধীন নয়। কিছু বিষয় মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে।

ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন, শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল হক, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

mzamin

সিজিএস’র সংলাপ: সব সংস্কারে হাত দিলে সফলতা আসবে না

আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে তা সারাতে অনেক সংস্কার করতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পারবে না। তারা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সূচনা করতে পারে। এবং সংস্কারের প্রস্তাবনা ও রূপরেখা রেখে যেতে পারে। যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এগিয়ে নেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবকিছু সংস্কার করতে চাইলে পুরো সফলতা পাবে না। গতকাল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত  সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ এর সিরিজ আয়োজনে গতকালের আলোচনার বিষয় ছিল ‘অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রসঙ্গ’। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত সংলাপে অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতি বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সকলেই সংস্কার নিয়ে কথা বলছি। আমরা উপরিকাঠামো নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু গরিব মানুষের কথা ভাবছি না। ভূমিহীন কৃষকের কী হবে, গার্মেন্টকর্মীদের স্যালারি কতো হবে এসব নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো স্বাভাবিক সরকার নয়। মাত্র তিন মাস আগে এই সরকার এসেছে। গত বছরে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা ছেদ হয়েছে। যার কারণে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আলোচনা হওয়া উচিত নীতিগুলোই তো দেড় দশক ধরে আলোচনা করে আসছি। কেন বাস্তবায়ন হলো না? তাদের কাছে প্রশ্ন, কেন আপনারা বাস্তবায়ন করতে পারলেন না? রাজনীতিবিদরা এখন ব্যবসায়ী আর আমলারা এখন রাজনীতিবিদ হয়ে গেছেন। বিগত শাসনামলে জাতীয় আয়, মূল্যস্ফীতি, খানা জরিপ, রপ্তানি আয়ের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করেছে স্বার্থগোষ্ঠীর মাধ্যমে। সামান্য একটা চুরির ঘটনাতেও এলাকার নেতার অনুমতি ছাড়া মামলা হতো না। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স পেতো না। তারা অনেক উন্নয়নের কথা বলে টাকা ছাপিয়ে দিলো। ওনার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কোনো নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল না, জবাবদিহিতা ছিল না। এরকম একটা ব্যবস্থার পর নতুন একটা সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। রাতারাতি পরিবর্তন তো আসবে না।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সভাপতি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সরকার বেশকিছু উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েছে। এখনো সুফল না এলেও হয়তো সামনে আসবে। বর্তমান সরকারের দুইটা ধারা। একটা হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই সংস্কারের জন্য কমিশন হচ্ছে। আরেকটা হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার। সেই নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলছি। ইসি’র জন্য শিগগিরই কোনো একটা সার্চ কমিটি হবে। কিন্তু এর বাইরে রয়েছে অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো। আমাদের অনুধাবন করার বিষয় হলো ওপরের দুইটি ধারার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কী, সেটার জন্য আমাদের সংস্কার প্রয়োজন।

সংলাপে সঞ্চালনা করেন সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। তিনি সূচনা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে সংস্কার শব্দটা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। ২০০৭/০৮ সালেও সংস্কার শব্দটা ব্যাপক আলোচনা হলো। এমন একটা সময় এলো সংস্কার শব্দটা ঘৃণিত হলো। ২৪’এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করলাম। অনেকেই বলেন এটাকে বিপ্লবী সরকার, আমি এটাকে বিপ্লবী সরকার বলবো না। আবার অনেকেই বলেন, আমি সংবিধান মানি না। কিন্তু তারাই আবার সংবিধানের মধ্য থেকে শপথ নিলেন। আমরা পরিবর্তন চেয়েছি। বিগত সরকারের সময়ে অনেকে ক্যামেরার সামনে বাহবা দিলেও ক্যামেরার বাইরে হতাশার কথা বলেছেন। একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। লুটপাটের কথা আমরা শুনেছি। অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যায় না। আবার দেশের টাকা দেশেও নাই। ছাত্র-জনতার হাজারো মানুষের রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটাকে নতুন স্বাধীনতা বলেছেন। কিন্তু আমি বলবো, স্বাধীনতা একটাই। সেটাকে আমরা গড়তে পারিনি। কিন্তু ভয়ের যে আবহটা কেটেছে এটা বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা সংলাপ করছি। সরকারের দায়িত্ব সবার কথা শোনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য তার সংগঠন (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) দেখা করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের (প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে। বললেন শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা। তিনি খুব দ্রুত শুনলেন। এরপর দেখলাম সরকার সবার কথা শোনে না। শোনার সময়ও তাদের আছে বলে মনে হয় না। তারা শোনে শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অংশের কথা। তাদের কথাও যে সরকার শোনে বলে আমার মনে হয় না। তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি হচ্ছে এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এই যে লাখ লাখ কমিউনিটি আছে তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন কিনা এনিয়েও প্রশ্ন আছে।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই’র সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলো কিন্তু এখন কথা বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে? প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ আসে কর্মক্ষেত্রে। তার মাত্র ৫ শতাংশ সরকারি চাকরি করে। বাকি ২০ লাখ ছেলে-মেয়ের জোগান হয় বেসরকারি চাকরির মাধ্যমে। তাদের চাকরি সম্ভব হবে শুধুমাত্র বিনিয়োগ সঠিকভাবে হলে। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন সামাজিক মূলধন।

তিনি বলেন, সঞ্চয় যদি না করি তাহলে বিনিয়োগ আসবে কোথা থেকে? মূল্যস্ফীতির কারণে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমে যাচ্ছে। যার কারণে সঞ্চয়ও কমে গেছে। আর্থিক মূলধনের আগে দেশের সঞ্চয় বাড়তে পারবে না। আর ব্যবসা করাটাও কঠিন। এই যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টা। এটা ৩ ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়। আমাদের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে আলাদাভাবে দেখা যাবে না। এটা একে অপরের পরিপূরক।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাবেক সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ চাকমা বলেন, ট্যাক্সসেশনের জন্য অটোমেশন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমানো যায় ততই ভালো হবে। আদিবাসীদের বিষয়ে বলেন, এখানে পজেটিভভাবে ভাবতে হবে। কারণ আদিবাসীদের অবস্থা খারাপ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ট্রেড লাইসেন্সের কারণে অনেক নারী পিছিয়ে যাচ্ছেন। ছোট একটা উদ্যোগ নিলে অনেক নারী কিন্তু সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারে। ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বা অতিক্ষুদ্র যারা তাদের ট্যাক্স মওকুফ করা যেতে পারে।

এফবিসিসিআই কমিটি চেয়ার আসিফ ইব্রাহীম বলেন, ৭০ শতাংশ তরুণ মনে করেন দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের উত্তরণ।

বিসিআই’র সাবেক চেয়ারম্যান শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, আমাদের একটা সিস্টেম চালু হয়েছে ঘুষ দেয়া। এমন সিস্টেম চালু হয়েছে যে আমরা কোনো কাজে যাবার আগে খোঁজ নেই এই কাজে আগে কে কতো টাকা ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ ছাড়া যাতে কাজ হয় এটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আব্দুল হক বলেন, তিন মাস হয়েছে। এখনো ক্রিমিনাল পানিশমেন্ট হয় নাই। এতদিন হয়েছে একটা বিচার হয় নাই। এতদিনে একটা হলেও বিচার করা উচিত ছিল। রাষ্ট্রের কাজ কী বাড়িওয়ালা বানানো? ওয়ার্কারদের জন্য তো বাড়ি দেয়া হয় না, প্লট দেয়া হয় না।

সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, সংস্কার শব্দটা এখন বহুল প্রচলিত। সংস্কার কোন জায়গায় প্রয়োজন নাই। সব স্থানেই রয়েছে। এখন আমলারা হয়েছেন রাজনীতিবিদ আর রাজনীতিবিদরা হয়েছেন আমলা।

সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিস’র চেয়ারম্যান এমএস শেকিল চৌধুরী বলেন, আন্দোলনের শুরু হয়েছে অর্থনীতি দিয়ে। ছাত্ররা চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। তাদের অবমূল্যায়ন করা যাতে না হয়। ইতিমধ্যে অবমূল্যায়ন করা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ডলার সংকটের জন্য দায়ী অসাধারণ মানুষ নয়। অর্থপাচারের কারণে এটা হয়েছে।

ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ্যাসিস্টান্ট প্রফেসর পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ক্ষতি হচ্ছে। ইন্ডেক্স স্যালারি করুন। যাতে ব্যয়ের সঙ্গে আয়ও বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের একটা অংশ তাদের বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে দেন। একটা চক্র কম টাকায় দেয়া তেল, চাল, ডাল কিনে ফেলছে। এটা দূর করতে সাধারণ মানুষের এনআইডি কার্ড দিয়ে বিক্রি করা যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসূফ বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু রাস্তায় কিন্তু এর প্রভাব দেখা যায় না। তথ্যও ভুল রয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে মানুষ ১৮ কোটি। অনেকে বলবে ১৯/২০ কোটি। আমাদের তথ্যটা রি-চেক করা দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কে কে ডাল, চাল, তেল আমদানি করে আমরা তো জানি। একটা কী বৈঠক হয়েছে বাণিজ্যিক মন্ত্রণালয়ে? আমরা এখন চাল আমদানি করি না। যদি চাল আমদানি করা লাগে কীভাবে করবে সেটার বৈঠক করেছেন?

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিসংখ্যান চেক করা হোক। অবৈধভাবে ব্যবসা করছে অনেকে তো বৈধভাবেও ব্যবসা করছেন। কতোজন করছেন সেটা জানা দরকার। ঋণখেলাপির কথা বলা হচ্ছে। ট্যাক্স ফাইল দেখা হচ্ছে না। যেকোনো লোন ফাইল নেয়া হোক একটা ট্যাক্স ফাইলে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হোক।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, উন্নয়ন নিয়ে যত কথা হয়, কর্মসংস্থান নিয়ে তত কথা হয় না। ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে না বিধায় আমরা আমাদের জায়গা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।

এফবিসিসিআই সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসন প্রয়োজন। আর এনার্জি সেক্টর সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাদিক মাহবুব ইসলাম বলেন, দিনশেষে আমার ওয়ালেটটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্রেজটা আছে কারণ প্রাইভেট সেক্টরের গ্রোথটা হয়নি। প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট কমে এসেছে। এসব কারণেই কিন্তু আন্দোলনটা শুরু হয় পরবর্তীতে বৃহৎ আকার ধারণ করে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ও বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী সুপ্রভা শুভা জামান বলেন, আমাদের প্রজন্মের যারা আছি তারা একই সরকার দেখে এসেছি। আমাদের কমন ন্যারেটিভ উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা কিন্তু ভালো উদ্যোগ দেখি নাই।

সভাপতির বক্তব্যে সিজিএস’র চেয়ার মুনিরা খান বলেন, দেশের বাইরে অর্থপাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মিডিয়ার ভূমিকা আছে দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা নিয়ে কথা বলার। মিডিয়া যখন দেশের ব্যাংকগুলোকে দুর্বল বলে তালিকাবদ্ধ করে তখন সেখান থেকে টাকা সরিয়ে ফেলার প্রবণতা উল্টো বেড়ে যায়, টাকা পাচারের প্রবণতাও বাড়ে। এতে ব্যাংকগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা যৌক্তিক সমালোচনা করবো, দেশের অর্থনীতি অথবা সরকারকে বিপদে ফেলে নয়।

mzamin

‘যারা আয়নাঘর বানিয়েছিল তাদের ছাড় দেয়া হবে না’ by প্রতীক ওমর

ফ্যাসিবাদমুক্ত বৈষম্যহীন তারুণ্যনির্ভর মানবিক বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত জননেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দল-ধর্ম যার যার, এই বাংলাদেশ সবার। আমরা এমনটা বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যেই তারুণ্যের বুকের রক্তের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে আমরা সেই তারুণ্যনির্ভর, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। একজন শিশু জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সে একজন নাগরিকের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে। বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ সাড়ে ১৫ বছরে দেশের মানুষকে শুধু খুন, গুম উপহার দিয়েছে। যার ফলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। যারা অপরাধ করেছে, দুর্নীতি করেছে, লুটপাট করেছে, বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, মানুষকে হত্যা করেছে, লাশের মিছিল তৈরি করেছে, আয়নাঘর বানিয়েছে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি শনিবার বিকালে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর ও জেলা শাখা আয়োজিত বিশাল সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলা শাখার আমীর ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা শাহীনুর আলম।
বগুড়া শহর সেক্রেটারি আ. স. ম আব্দুল মালেক, পূর্ব জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান ও পশ্চিম জেলা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া পশ্চিম জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, পূর্ব জেলা আমীর অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, শহর নায়েবে আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইন, পূর্ব জেলার নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল বাসেদ, পশ্চিম জেলার নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মতিন, ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম, বগুড়া পশ্চিম জেলা সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, বগুড়া পূর্ব জেলা সভাপতি জোবায়ের আহম্মেদ প্রমুখ। সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জি. শামসুল হক।

mzamin

ওয়াসার ৬ প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি: অনুসন্ধানে অগ্রগতি নেই by মারুফ কিবরিয়া

ঢাকা ওয়াসার ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৬টি প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। প্রকল্পের টাকা নয়-ছয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অনুসন্ধানে নেমে অনিয়মের বিষয়ে বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি সংগ্রহকালে ওয়াসার ৪০ জনেরও বেশিসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। তবে রহস্যজনক কারণে সে অনুসন্ধান আর বেশি এগোয়নি। দুদক সূত্র বলছে, অতিরিক্ত ব্যয়, ঠিকাদার নিয়োগে ঘুষ, চুক্তিভিত্তিক পদ তৈরি করে পছন্দমতো নিয়োগসহ নানা কায়দায় বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের অভিযোগ রয়েছে ওয়াসার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের একটি দল গত বছর থেকে অনুসন্ধানে নেমেছে। সংস্থাটির উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল অনুসন্ধান করছে। একই সঙ্গে ১২ কর্মকর্তার মধ্যে ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্ট থাকার কথা বলেছেন। আর সেই সূত্র ধরে একটি তালিকা তৈরি করছে দুদক। তালিকা অনুযায়ী ওয়াসার কর্মকর্তা কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা আর হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওয়াসার কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও নথিপত্র ভিন্ন কথা বলছে। অভিযোগ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মকর্তারা আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করেছেন। যাদের নিয়ে অনুসন্ধানটি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। তবে এতবড় অনুসন্ধান নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৬ প্রকল্পে ২০ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ঢাকা ওয়াসা। এর কোনোটিই সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিটি প্রকল্প থেকেই তছরুপ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। আর সব ক্ষেত্রেই এ কাজে জড়িত ছিল ১২ সদস্যের ওই চক্র। এর মধ্যে ৪ জন ওয়াসায় নিয়োগ পেয়েছিলেন অবৈধভাবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি পান অন্য দু’জন। এ ছাড়াও অবৈধভাবে নিয়োগের পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ আছে আরেকজনের বিরুদ্ধে। আর এসব কারসাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।
অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ৪ জন হলেন- ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) মো. আবুল কাশেম, পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন, সহকারী সচিব মৌসুমী খানম ও ডেপুটি চিফ ফাইন্যান্স অফিসার রত্নদ্বীপ বর্মণ। এর মধ্যে পরিচালক (উন্নয়ন) ও পরিচালক (কারিগরি) পদ দু’টি ওয়াসার অর্গানোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত না। পরিচালক আবুল কাশেম অবসরে যাওয়ার পর ৯ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। আরেক পরিচালক এ কে এম এম সহিদ উদ্দিনও অবসরে যাওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেন। সম্প্রতি এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছেন। গত এক বছরেও এই মামলাটির অনুমোদন দেয়নি দুদক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, এ ব্যাপারে মামলার সুপারিশ দেয়া হলেও আইনগত কিছু কোয়ারিজ দেয়া হয়েছে কর্মকর্তাকে। কারও বিরুদ্ধে মামলা করে দিলেই তো শেষ হয়ে গেল না। আমরা চাই যেকোনো কাজ যেমন অনুসন্ধান, তদন্ত কিংবা চার্জশিট দেয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি না থাকুক।

প্রকল্পের টাকা লুটপাটে নাম এসেছে ক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন ও প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল আমিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্টাফ অফিসার প্রকৌশলী বদরুল আলম এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের। ২০১৯ সালে উদ্বোধন হওয়া পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার নির্মাণ (ফেজ-১) প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন রফিকুল। শুধু এ প্রকল্পেই ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে দুদক।   

দুদকের তথ্যানুযায়ী, ওয়াসার প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। নকশা ও বিবরণ অনুযায়ী কাজ করা হয় না। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, মিটার রিডিং ও রাজস্ব আদায়েও দুর্নীতি হচ্ছে।

যেসব প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ:
৩ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার নির্মাণ (ফেজ-১) প্রকল্প উদ্বোধন হয় ২০১৯ সালে। ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মার তীরে এ পানি শোধনাগার নির্মাণের মাধ্যমে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, নবাবপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও সংলগ্ন এলাকায় পানির চাহিদা পূরণই প্রকল্পটির লক্ষ্য। কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়। এটি এখন ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকার প্রকল্প। নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ আরেক দফা ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

২০১৩ সালে ঢাকা মহানগরের পয়ঃনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা তৈরি করে ওয়াসা। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে ৫টি শোধনাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রকল্পের অনুমোদন হয় ২০১৫ সালে। ওই বছরেরই জুলাইয়ে শুরু হয় কাজ। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। শুরুতে প্রকল্পের খরচ ছিল ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে খরচ বাড়ে প্রায় ৩ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। যেখানে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা ১০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্বল্প পরিসরে ২০২২ সালের জুনে চালু হয়েছে পয়ঃশোধনাগারটি। এ প্রকল্পেও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
গুলশান-বারিধারা লেক দূষণমুক্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাইয়ে। ২০১২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় ২০১৪ সালের জুনে। ৫৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি ৫ কোটি টাকা কম ব্যয় করেই, অর্থাৎ ৫০ কোটি টাকাতেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে দুদকের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। তথ্যানুযায়ী ব্যয় দেখানো পুরো টাকাই নয়ছয় হয়েছে।

১ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হয়েছে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-২) প্রকল্প। ২০১২ সালের ১৩ই ডিসেম্বর এ শোধনাগার উদ্বোধন হয়। শোধনাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রতিবছর ১৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে ১৮০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

২০১৬ সালের ২৪শে মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয় ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইম্প্রুুভমেন্ট প্রজেক্ট বা ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ১৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পরে ৫৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা টাকা। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মেয়াদ ছিল। সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি না থাকলেও কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। শুরুর পর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকাই নয়ছয় হয়েছে।