Thursday, June 25, 2015

সাংবাদিক শুদ্ধি অভিযান! by কামাল আহমেদ

দেশে সাংবাদিকতার নীতিগত মান এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে আইন করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। প্রতিষ্ঠানটি তার প্রধান দুটি কর্তব্য সম্পাদনে যে খুব একটা সাফল্য দেখিয়েছে, তেমনটি দাবি করা তাদের পক্ষে সম্ভব বলেও মনে হয় না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এ সপ্তাহে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে তার চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি মোমতাজ উদ্দিনের একটি মন্তব্যের কারণে। তিনি বলেছেন যে তিনি দেশের সব সাংবাদিকের জন্য একধরনের রেজিস্ট্রেশন-ব্যবস্থা চালু করতে চান। সাংবাদিকদের নিবন্ধন করে প্রথমে পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বললেও পরে এক ব্যাখ্যায় তাঁরা জানিয়েছেন যে তাঁরা সনদ দেবেন। চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হলো, জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের “এ” শ্রেণিতে, জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের “বি” শ্রেণিতে এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের “সি” শ্রেণিভুক্ত করে এই তালিকা করা যেতে পারে। এটি করা গেলে স্কুল পাসসহ যে কেউ সাংবাদিক হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোথাও সমস্যা হলে ওয়েবসাইট দেখিয়ে বলতে পারবেন তিনি সাংবাদিক।’ এর আগে কথা উঠেছিল যে, ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তাঁদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের শ্রেণীকরণ ও সনদ বিতরণের এই অযাচিত উদ্যোগের উদ্দেশ্য আসলে কী? সাংবাদিকতার সনদ নিয়ে একজন সাংবাদিক কী করবেন? ধরা যাক, আমি দক্ষিণের জেলা খুলনার দৌলতপুর উপজেলায় বাস করি এবং দেশে-বিদেশে সাংবাদিকতায় আমার ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি একটি কাগজে শুধু কলাম লিখি। তাহলে কি আমাকে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির স্বাক্ষরযুক্ত সি শ্রেণির সনদ নিয়ে আমার পেশায় টিকে থাকতে হবে? কেন একজন সম্পাদকের সনদ (নিয়োগপত্র) এবং পাঠকের প্রতিক্রিয়া আমার পেশাগত স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হবে না?
আমার পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকার প্রথম সারির কোনো দৈনিক পত্রিকা আমাকে যে পারিশ্রমিক দেয়, তার ওপরে ওই সনদের কি প্রভাব পড়বে? বাংলাদেশের অনেক শহর থেকেই এখন ভালো মানের কয়েকটি কাগজ বের হয়, যেগুলোর প্রচারসংখ্যা ঢাকার অনেক কথিত ‘প্রথম শ্রেণি’র কাগজের চেয়ে বেশি। সেসব পত্রিকার সাংবাদিকেরা কেন বি শ্রেণির সনদ পাবেন? ভুয়া সাংবাদিক ধরা প্রেস কাউন্সিলের কাজ হলে, সমাজে নিত্যদিন যেসব প্রতারণা, জালিয়াতির মতো অপরাধ ঘটে, সেগুলোর জন্য কি এ রকম আলাদা কিছু প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে? যেমন ভুয়া পুলিশ পরিচয়দানকারীর জন্য পুলিশ কাউন্সিল? আইনজীবীদের পেশাগত নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার জন্য প্রতিষ্ঠিত বার কাউন্সিলের সমতুল্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রেস কাউন্সিল যদি নিজেদের বিবেচনা করে, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানটি যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা থেকে বিচ্যুত হবে।
সাংবাদিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠই কোনো না কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করেন এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতিই তাঁদের চালিকাশক্তি। প্রত্যেক সাংবাদিক তাঁর সম্পাদক ও প্রকাশকের কাছে যেমন জবাবদিহি করে থাকেন, তেমনি প্রতিদিন তাঁর লেখা বা সৃষ্টির পাঠক, দর্শক-শ্রোতা বা গ্রাহকের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ রাখেন। পাঠক বা গ্রাহকের কাছে একজন সাংবাদিকের বিশ্বাসযোগ্যতা তখনই ক্ষুণ্ন হয়, যখন তিনি ভুল করেন, যেমন এলএলবি ডিগ্রিকে ল লিগাম ব্যাচেলর (লিগাম শব্দটি ল্যাটিন) অথবা সাদামাটা ভাষায় আইনে স্নাতক না লিখে তিনি যদি লেখেন ব্যাচেলর অব ল অ্যান্ড লিটারেচার। কিন্তু একজন আইনজীবী যদি তাঁর ডিগ্রিটা ভুলভাবে লেখেন, তাহলেও তাঁর পেশায় কোনো ক্ষতি না-ও হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখা আছে, ‘সেফগার্ডিং দ্য ফ্রিডম অব প্রেস অ্যান্ড প্রটেক্টিং ইনডিভিজুয়ালস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস ফ্রম অ্যাকসেস বাই দ্য মিডিয়া’। এই ঘোষিত বিবৃতির দুটো অংশ আছে, যার মধ্যে শেষেরটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রথম অংশ থেকে বোঝা যায় যে বর্তমান কাউন্সিলের ধারণা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে এবং সেটা সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন (যদিও অনেকের ধারণা দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে, তা প্রতিকার করা যাচ্ছে না এবং তার সুরক্ষায় কোনো প্রতিষ্ঠানই কাজ করছে না)। আর দ্বিতীয় অংশে ধারণা মেলে যে প্রেস কাউন্সিলের বিশ্বাস গণমাধ্যমকর্মীরা (সাংবাদিক এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মী) এমন মাত্রায় বাড়াবাড়ি করে থাকে যে তা থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা দরকার। প্রেস কাউন্সিল যে আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টে আইনটি তৈরির যে উদ্দেশ্য লেখা আছে ‘ফর দ্য পারপাস অব প্রিজার্ভিং দ্য ফ্রিডম অব দ্য প্রেস অ্যান্ড মেইনটেইনিং অ্যান্ড ইমপ্রুভিং দ্য স্ট্যান্ডার্ড অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ এজেন্সিস।’ আইনটির ১১ নম্বর ধারায় কাউন্সিলের লক্ষ্য ও কার্যাবলির মধ্যে সাংবাদিকতার মান উন্নয়নের জন্য নীতিমালা তৈরি, দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কথা থাকলেও তাতে কোথাও সাংবাদিকদের বাড়াবাড়ির কথা নেই। সাংবাদিকদের বাড়াবাড়ি থেকে ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করাকে যে কাউন্সিল তাদের প্রধান কর্তব্য বলে বিবেচনা করে, তাদের প্রস্তাবিত সাংবাদিক নিবন্ধন প্রকল্প তাই স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের শঙ্কার জন্ম দেয়। প্রতিষ্ঠান বলতে যেমন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা স্থাপনা, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদকে বোঝায়, তাতে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কারও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ সাংবাদিকদের আর থাকে কোথায়? দেশে সাংবিধানিক দিক দিয়ে শুদ্ধ অথচ অনির্বাচিত একটি সরকার যখন ক্রমেই মতভিন্নতা এবং সমালোচনায় অস্থির হয়ে উঠছে, তখন সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল প্রেস কাউন্সিলের এ ধরনের উদ্যোগ নানা ধরনের সন্দেহের জন্ম দিতে বাধ্য। দলীয়করণের যুগে এ ধরনের অভিনব আয়োজন কি সাংবাদিকতায় ‘শুদ্ধি অভিযানের’ আলামত? প্রেস কাউন্সিলকে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আনুগত্য যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রেস কাউন্সিল হচ্ছে সংবাদপত্রশিল্পের নিজেদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত আত্মনিয়ন্ত্রণকারী (সেলফ রেগুলেটরি) প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমাদের এখানে কথিত ভুয়া সাংবাদিক থেকে এই শিল্পকে মুক্ত করার নামে শুদ্ধি অভিযানের উদ্যোগ যে প্রেস কাউন্সিল নিতে চাইছে, সেটি সরকারের করুণানির্ভর একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের সংবাদপত্রশিল্পও আজ পর্যন্ত প্রেস কাউন্সিলকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার কোনো চেষ্টাও করেনি। এটি সব সময়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার–সমর্থকদের নিয়ে গঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো খবরের জন্য সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকারের জন্য এই কাউন্সিলের কাছে শরণাপন্ন হয়েছেন এমন নজির বিরল। বরং রাজনীতিকদের পছন্দ হচ্ছে ফৌজদারি আদালত। কেননা, তাতে সম্পাদক-প্রকাশক-রিপোর্টারকে বিচারের আগেই জেলে ঢোকানোর একটা সুযোগ পাওয়া যায়। নিদেনপক্ষে, হয়রানির মধ্যে ফেলা যায়।
ব্রিটেনে সংবাদপত্রশিল্পে এ ধরনের আত্মনিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থায় প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৩ সালে। কিন্তু সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলায় কারও কারও ব্যর্থতার পটভূমিতে আশির দশকে সংবাদপত্রশিল্পের ভেতর থেকেই সেটি সংস্কারের দাবি ওঠে। তার প্রায় এক দশক পর ১৯৯১ সালে গড়ে তোলা হয় নতুন প্রতিষ্ঠান, প্রেস কমপ্লেইন্টস কমিশন (পিসিসি)। দেশটির জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকেরা ওই পিসিসির জন্য একটি আচরণবিধি (কোড অব প্র্যাকটিস) তৈরি করে দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি চালু করেন। কোনো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন ও ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করাই ছিল পিসিসির কাজ। তবে ফোন হ্যাকিং (অন্যের ফোনে রেকর্ড হওয়া বার্তা বেআইনিভাবে শোনা) কেলেঙ্কারির পর এখন সেই পিসিসিও বিলুপ্ত হয়েছে। পিসিসির বিকল্প হিসেবে এখন দুটো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলেও সংবাদপত্রশিল্প এখন ওই দুই সংস্থার কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত। সেখানে এমন পত্রিকাও আছে, যারা আগেও পিসিসিতে অংশ নেয়নি এবং বর্তমানেও দুটি সমান্তরাল প্রতিষ্ঠানের কোনোটিকেই গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। সে কারণে কিন্তু কোনো পত্রিকা সেখানে ভুয়া হিসেবে অভিহিত হয়নি কিংবা সেসব পত্রিকার সাংবাদিকদের কোনো অবমূল্যায়ন হয়নি।
সাংবাদিকদের যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো প্রশ্ন যদি আসে, তাহলে সেটি তো আসবে নিয়োগকর্তা এবং এ বিষয়ে শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। যোগ্যতার বিষয়ে সনদ দেওয়ার কথা সরকারের প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র—প্রেস ইনস্টিটিউট বললেও বলতে পারে। কিন্তু প্রেস কাউন্সিল অন্যের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করতে চায় কেন? ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের পরিচয়গত কোনো সংকট (আইডেন্টিটি ক্রাইসিস) আছে এমন ধারণা কাউন্সিলের কোত্থেকে হলো? আমরা তো বরং প্রশাসনের কাছ থেকে অহরহই শুনতে পাই যে মফস্বলে সাংবাদিকদের দাপট আলাদা!
পরিচয়পত্রের প্রসঙ্গ যদি আসে, সে ক্ষেত্রেও প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগটি হবে অযাচিত এবং তাতে নতুন সমস্যার জন্ম হবে। প্রেস কাউন্সিলের ইস্যু করা পরিচয়পত্র কি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনায় অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে? এ প্রশ্নের উত্তরটি হচ্ছে—না। সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পত্রিকাভেদে নির্দিষ্টসংখ্যক সাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়ার যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকার পরও সরকারের নিরাপত্তাগত গুরুত্ব বিবেচনায় অনেক দপ্তর ও স্থাপনায় প্রবেশের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। যে পরিচয়পত্র পেশার কাজের ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসবে না, এ রকম একটা মূল্যহীন আনুষ্ঠানিকতার ঝামেলা চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তাই কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বরং সম্পাদক এবং প্রকাশকদের এখন বিবেচনা করা প্রয়োজন যে আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর একটি বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা। সম্পাদক পরিষদ গত বছর যেমন সাংবাদিকতার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল, ঠিক তেমনই তাদের এখন ভাবা উচিত যে সেই নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি তদারকের জন্য কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। ৩৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত প্রেস কাউন্সিল এত দিনেও তার উপযোগিতা প্রমাণে সক্ষম হয়নি। আবার আর দশটা সরকাির অর্থায়ননির্ভর কথিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো প্রেস কাউন্সিলও এখন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রসার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার পরিবর্তে তা নিয়ন্ত্রণ ও সংকোচনের হাতিয়ারে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন যেভাবে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির দায়মুক্তি কমিশনে ( দুদক) রূপান্তরিত হয়েছে সংবাদপত্রশিল্পে সে রকম কিছু কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হতে পারে না।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।

বয়কটকে মাশরাফির জবাব

মাশরাফি বিন মুর্তজা
নিজের নাক উঁচু স্বভাবটা থেকে এবারও বেরিয়ে আসতে পারলেন না জিওফ বয়কট। বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে প্রশংসা সূচক কিছু বলতে গিয়েও করে বসলেন এমন কিছু মন্তব্য, যা প্রকারান্তরে মাশরাফি-সাকিবদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতোই। ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে পরপর দুটো ওয়ানডে সিরিজ জয়কে পাত্তা না দিয়ে বয়কটের মন্তব্য অনেকটা এমন, পারলে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জেতো। তখন বলব যে তোমরা ভালো দল, ক্রিকেটের নতুন শক্তি! ’ বাংলাদেশের পেছনে আইসিসির ‘টাকা ঢালা’-সংক্রান্ত কথা-বার্তা বলেও খোঁচাটা তিনি দিতে চেয়েছেন। এদেশের ক্রিকেটের চিরকালীন সমালোচক বয়কটের মনোভাবটা অনেকটা এমন, ‘তোমাদের পেছনে টাকা খরচ হয়েছে অনেক। দুই-একটা ম্যাচ তোমরা জিতবে না? ’
বয়কটের কথায় যদি নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার ব্যাপার-স্যাপার থাকে, তাহলে তা শক্ত হাতেই নিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বয়কটের কথার সূত্র ধরেই তাঁর মন্তব্য, ‘পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ভালো খেলার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কেবল ঘরের মাঠেরই ‘বাঘ’ নয়।’
বয়কট খুব সম্ভবত কথাগুলো বলতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন যে তাঁর দেশের বিপক্ষে তিনটি জয়ের দুটিই বাংলাদেশ পেয়েছে ঘরের বাইরে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয়টি পেয়েছিল ইংল্যান্ডেরই মাটিতে। সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দেওয়ার স্মৃতিটা কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বে বেশ টাটকা। অ্যাডিলেডের সেই জয়টা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোলনলচেই পাল্টে দিয়েছে, সে কথাটি বয়কট পুরোপুরি চেপে না গেলেও মন্তব্যে এর সঠিক মর্যাদাটা দিতে পারেননি।
অ্যাডিলেডের সেই জয়ের প্রসঙ্গ টেনেও মাশরাফি বলে দিয়েছেন কিছু কথা, ‘দেখেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে খেলতে গিয়ে অনেক দলই সমস্যায় পড়ে। ওখানে বিশ্বকাপটাও আমাদের জন্য খুব একটা সোজা কিছু ছিল না। কিন্তু আমরা ওখানে ভালো করেছি। আমরা ওখানে ভালো করেই আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। আমরা এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই ভালো করতে পারি। জিততে পারি যেকোনো কন্ডিশনেই।’
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ
টেস্টে
* ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০তে টেস্ট সিরিজ জয়
* ২০১৩ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়
* ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেন্ট লুসিয়া টেস্ট ড্র
* ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বুলাওয়ে টেস্ট ড্র
* ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্ট ড্র
ওয়ানডেতে
* ২০০৬ সালে কেনিয়া সফরে স্বাগতিকদের ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ
* ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ৩-১-এ সিরিজ জয়
* ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্বাগতিকদের ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ
* ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ৪-১ সিরিজ জয়
* ১৯৯৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হার
* ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো
* ২০০৭ ক্যারিবীয় বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো
* ২০০৭ ক্যারিবীয় বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো
* ২০১০ সালে ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডকে হারানো
* ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কাকে হারানো
* ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে হারানো

অপহৃত রাজ্জাককে ফেরাতে মংডু গেছে বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অপহৃত নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনতে আজ বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মংডুতে পতাকা বৈঠকে অংশ নিতে গেছে বিজিবির প্রতিনিধিদল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ বৈঠক হওয়ার কথা।
বিজিবির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ। বিজিবির প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটি দিয়ে কোস্ট গার্ডের দুটি হাইস্পিড বোটে বিজিবির প্রতিনিধিদল মংডুর উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, ‘অপহৃত রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনতে তাঁরা পতাকা বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন।’
আজ সকালের এ বৈঠকের পর অপহৃত বিজিবি সদস্য রাজ্জাককে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।
মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) আট দিন আগে রাজ্জাককে অপহরণ করেছিল।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, মংডুর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।
১৭ জুন ভোরে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল নায়েক রাজ্জাকের নেতৃত্বে নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল। তাঁরা বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি করছিলেন। এ সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির সদস্যরা একটি ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বিজিপির সদস্যদের বহনকারী ট্রলারটি বিজিবির টহল নৌযানের কাছে এসে থামে। বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয়। বিজিবির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিজিপির ট্রলারটি রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়।
মিয়ানমারের অভিযোগ, আবদুর রাজ্জাক তাদের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করেছেন।
রাজ্জাককে অপহরণের পর তাঁর হাতকড়া পরানো ছবি বিজিপির ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের ছবি প্রচারের তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।

বিমান বিধ্বস্ত হবার ৫ দিন পর মা-শিশুকে জীবিত উদ্ধার

কলম্বিয়ার পশ্চিমে বিমান বিধ্বস্ত হবার ৫ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক নারী ও তার শিশু সন্তানকে। আকারে ছোট ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন কেবল তারাই। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট নিহত হলেও, এ দু’ মা ও শিশু ৫ দিন পরও রয়ে যায় প্রায় অক্ষত। এ ঘটনাকে কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিহিত করেছেন ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। মারিয়া নেলি মুরিলো (১৮) ও তার ১ বছর বয়সী ছেলেকে উদ্ধার করা হয় চোকো প্রদেশের বিমান বিধ্বস্ত হবার স্থান থেকে। বিমান বিধ্বস্ত হবার পর তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্ধারকারীরা তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে তাদের পাওয়া যায় ৫ দিন পর। মুরিলোর শরীরে ক্ষত ও জ্বলে যাওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তার শিশু সন্তানের অবস্থা বেশ ভালো। প্রসঙ্গত, মারিয়া মুরিলো ও তার সন্তানকে বহনকারী জোড়া ইঞ্জিনের ছোট বিমানটি গত শনিবার চোকো প্রদেশের রাজধানী কুইদিবো থেকে নুইকুই শহরে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আলতো বাউদো অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হবার কারণ স¤পর্কে জানা যায়নি কিছুই। ঘটনার দুই দিন পর সোমবার উদ্ধারকারীরা বিমানের কাছে পৌঁছান। তারা বিমানের পাইলটকে ককপিটে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় বিমানের দরজা খোলা ছিল। কিন্তু মুরিলো ও তার সন্তান সেখানে ছিলেন না। এক পর্যায়ে ১৪ সদস্যের উদ্ধারকারী দল পুরো জঙ্গলে তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। প্রায় ৩ দিন ধরে প্রচেষ্টা চালানোর পর পাওয়া যায় মুরিলো ও তার সন্তানকে। কলম্বিয়ান বিমান বাহিনীর কর্নেল হেক্টর কারাসকাল বলেন, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। খুবই বন্য একটি এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল! মুরিলোর শিশু সন্তান স¤পূর্ন অক্ষত থাকার বিষয়ে কর্নেল হেকটর বলেন, তার মায়ের ¯পৃহা ও মনোবল নিশ্চয়ই তাকে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।

‘বিরোধী শক্তি দমনে নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার’ -খালেদা জিয়া

ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিরোধী শক্তিকে দমন করতে সরকার নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশে বিরোধী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে। এমনকি সাংবাদিক দম্পতির নির্মম হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে-এ সরকারের আমলেই। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্মূল করেছে। ফলশ্রুতিতে এখনও অনেক বিরোধী নেতা-কর্মী নিখোঁজ রয়েছে। কারাগারে ৫০ হাজারের মতো বিরোধী নেতা-কর্মী সমর্থক দু:সহ জীবন কাটাচ্ছে এবং হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা কাঁধে বয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশের ধর্মপ্রাণ আলেম ওলামারাও নৃশংস হত্যাকা- থেকে বাদ পড়েননি। এমনি প্রেক্ষাপটে দেশে আইনের শাসন এখন অনুপস্থিত, মৌলিক-মানবাধিকারও ভুলুন্ঠিত। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। আমি বিশ্বাস করি, মানবিকবোধে উদ্বুদ্ধ বিশ্বের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই মানবতাবিরোধী শক্তির পরাজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।

ভারতের মাটিতে এবার কি খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

প্রায় ১৫ বছর হতে চলল বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটের অভিজাত শ্রেণির সর্বকনিষ্ট এ সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ শক্ত ছাপ ফেলছে। প্রায় সব টেস্ট খেলুড়ে দেশে সফর করে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। সব দলের সঙ্গে দেশের মাটিতেও খেলেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু একমাত্র ভারতের মাটিতে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় বোর্ডের অজুহাত, বাংলাদেশের সঙ্গে খেলায় বাণিজ্যিক লাভ নেই।
কিন্তু এবার ভারতকে ওয়ান-ডে সিরিজে প্রথমবারের মতো পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। তাই প্রতিবেশী দেশটির কাছ থেকে দলটি আরেকটু মর্যাদা চাইতেই পারে। বিশ্বকাপের পর থেকে যে মাপের ক্রিকেট টাইগাররা উপহার দিয়ে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট আমুদে ভক্তদের নাড়া দিয়েছে। বিশ্বের লাখো ক্রিকেটভক্তকে আমোদিত করার দাবি বাংলাদেশ এখন করতেই পারে। ভারতও এ ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম নয়। বিশ্বের প্রতিটি দলই ভারতের বিপক্ষে জিততে চায়। ভারত কেবল বিশ্বের দুই নম্বর ক্রিকেট দল বলেই নয়, চীনের পর দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারও। তাই ভারতকে হারালে অন্যান্য দলের বাণিজ্যিক দরটা আরেকটু উঁচুতে উঠে।
পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলকেও হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে আগ্রাসী সিরিজ জয়টি বাংলাদেশের ওয়ান-ডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্ব ক্রিকেটের আধিপত্যের লড়াইয়ে পদাঙ্ক ফেলতে সর্বশেষ এ দাপুটে সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বিশাল অগ্রগতি। বিশ্ব ক্রিকেটের ‘বড় দাদা’র কাছ থেকে অদূর ভবিষ্যতে খেলতে আমন্ত্রণ পাবে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেট ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা এমনই।

সমকামী-হিজড়া কর্মীকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ওবামা

বুধবার হোয়াইট হাউসে সমকামী (এলজিবিটি) অধিকার কর্মীদের দাওয়াত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এলজিবিটি প্রাইড মান্থ উপলক্ষে সমকামী, উভকামী ও হিজড়া কর্মীদের জন্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হোয়াইট হাউস। অনুষ্ঠানে নিজের বক্তৃতার সময় হঠাত করে এক কর্মী চিৎকার করে তাকে প্রশ্ন করতে থাকেন। এলজিবিটি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধে ওবামা কী করেছেন, তা জানতে চান ওই ব্যাক্তি। কিন্তু বক্তৃতার ব্যাঘাত ঘটিয়ে এ ধরণের প্রশ্নের কারণে বেশ বিব্রত হন ওবামা। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যাক্তিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। জেনিকেট গুতিয়েরেজ নামের ওই কর্মী মূলত হিজড়া। তিনি জানান, তিনি আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। ওবামা নিজের বক্তৃতা শুরুর কিছুক্ষণ পরই দর্শকসারির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা জেনিকেট বলে উঠেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা, সকল এলজিবিটি অভিবাসীদের মুক্তি দিন। তাদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করুন। তবে প্রথমেই বিরক্ত হননি ওবামা। ওবামা ওই জেনিকেটের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি কিন্তু আমার ঘরে এসেছেন। কারো ঘরে আমন্ত্রিত হয়ে এ ধরণের আচরণ করা কিন্তু ভদ্রোচিত নয়। বক্তৃতার ব্যাঘাত ঘটিয়ে আপনি কোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন না। তখনও ওই ব্যাক্তি না থামলে, এক পর্যায়ে ওবামা বলেন, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। আপনার এমনটি করা উচিত হচ্ছে না। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা রক্ষীদের উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, আপনারা কি এ ব্যাক্তিকে বাইরে নিয়ে যেতে পারবেন? তবে সঙ্গে সঙ্গে জেনিকেটকেও বলেন, আপনি হয় এখানে চুপচাপ থাকতে পারেন, অথবা আপনাকে আমাদের বের করে দিতে হবে। পরে অবশ্য নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে দেন তাকে। জেনিকেটের এ বিষয়টি ভালো লাগেনি উপস্থিত অন্যান্য কর্মীদেরও। অনেকে তিরস্কার করেন তাকে। আরেক ব্যাক্তিকে বলতে শোনা যায়, লজ্জিত কেবল তোমার হওয়া উচিত নয়, আমাদের সবারই হওয়া উচিত। আবার অনেকে ওবামার নামে সেøাগানও ধরেন। তবে এ ধরণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ওবামা এর আগেও বহুবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই এ ধরণের ঘটনার শিকার হন রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

অর্চি আর কৌশিকিকে আমরা কী বলব? by আনিসুল হক

জয়নাল আবেদীন ও অধ্যাপক আবদুল্লাহ
আবু সায়ী​দের মাঝখানে অঞ্জন কুমার দে
অঞ্জনের ফোন পেলেই একটা আনন্দের ঢেউ খেলে যায় মনের মধ্যে। কী খবর অঞ্জন? বলতে না বলতেই ওপার থেকে ভেসে আসছে, আনিস ভাই, অঞ্জন বলছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান তো সামনের শুক্র-শনিবার। আপনি কখন আসবেন? মতি ভাই তো দেশের বাইরে, আপনিই আসেন সকালে।
আমি বলি, অঞ্জন, ঠিক আছে। সকালেই আসব। কিন্তু আমি কিন্তু দিনক্ষণ ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে চ্যাম্পিয়ন। নির্ঘাত ভুলে যাব। আবার মনে করিয়ে দিতে হবে।
একদম চিন্তা করবেন না আনিস ভাই। আমি আপনাকে আগের রাতে মনে করিয়ে দেব। শুক্রবার সকালেও মনে করিয়ে দেব।
গত বছর অঞ্জন বললেন, আনিস ভাই, সায়ীদ স্যার আর এসইএলের আবদুল আউয়াল স্যার যাচ্ছেন ময়মনসিংহ। জয়নাল আবেদীনের মমতাজ হাসপাতাল দেখতে। আপনি যাবেন?
আমি বললাম, অবশ্যই।
আমরা অনেকেই, সায়ীদ স্যার, আউয়াল স্যার আর অঞ্জনসমেত—একটা সুন্দর মাইক্রোবাসে চড়ে চললাম ময়মনসিংহ। সারাটা দিন অঞ্জনের সঙ্গে সময় কাটল।
অঞ্জন কুমার দে রাঙামাটির ছেলে। ছাত্রজীবন থেকেই সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সেখানে একটা সাহিত্য সংগঠন তৈরি করেছিলেন। নাম ছিল সপ্তর্ষি। সাংবাদিকতাও করতেন রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে কম্পিউটার মুদ্রণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই হয়ে যান রাঙামাটির বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক।
তারপর চলে আসেন ঢাকায়। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ছায়াতলে থাকেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজ করেন। কত কাজ! আলোর ইশকুল চলছে। বইপড়া কর্মসূচি চলছে। সারা দেশে লাখ লাখ ছেলেমেয়ের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তারা পড়ছে, পড়ে আবার মূল্যায়ন পরীক্ষায়ও বসছে। সেখান থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে আবার জড়ো করা হচ্ছে পুরস্কার দেওয়ার জন্য। পুরস্কার হিসেবেও তারা পাচ্ছে বই। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি যাচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়। চলছে নানা বিষয়ে উৎকর্ষ কার্যক্রম। উচ্চাঙ্গসংগীত কিংবা চলচ্চিত্র অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার আছেন। সরকার থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা আছেন। আর আছেন অঞ্জন দের মতো ব্রতী মানুষেরা।
অঞ্জনের বয়স ৪৭। তাঁর ছোট ছোট দুটো মেয়ে। বড়টা কৌশিকি, ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী। ছোটটা অর্চি। বয়স মোটে চার। অঞ্জনের পরিবার থাকে রাঙামাটিতেই। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে অঞ্জন ঢাকা থেকে গেলেন রাঙামাটিতে। ফিরলেনও গত শনিবার। তারপর এল মেয়ের ফোন। ক্লাস ওয়ানে পড়া মেয়ের জীবনের প্রথম পরীক্ষা। বাবা, বাড়ি আসো। মেয়ের আবদার কোন বাবা রক্ষা না করে পারবেন? আমাদের অঞ্জন গত মঙ্গলবার রাতে রাঙামাটিগামী বাসে উঠে পড়লেন।
দেশে কোনো হরতাল নেই। অবরোধ নেই। কারও কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। ইউনিক পরিবহনের বাস। রাত ১০টায় ছেড়েছে। যাত্রীরা যাঁর যাঁর মতো করে ঝিমুচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন, কিংবা জেগে জেগে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছেন আলো-আঁধারিতে গাছগাছালির দ্রুত পেছনে ছুটে চলা। শবে বরাতের রাত। জোছনা তার ধবল চাদর বিছিয়ে রেখেছে প্রান্তরজুড়ে। হঠাৎই পেট্রলবোমা। দুটো। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল সারা বাসে। অগ্নিদগ্ধ হলেন অনেক যাত্রী। একজন রাঙামাটি সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রঞ্জিত শর্মা। একজন আমাদের অঞ্জন।
অঞ্জনের মেয়ে কি পরীক্ষা দিতে গেছে গতকাল? আগামীকাল যাবে? অঞ্জন এখন শুয়ে আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে। তাঁর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। মুখমণ্ডলে ব্যান্ডেজ। অঞ্জনকে দেখতে যাইনি। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার গেছেন নিউইয়র্কে, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলা বইয়ের মেলা করতে। আমার উচিত তাঁকে দেখতে যাওয়া হাসপাতালে।
কিন্তু গিয়ে কী দেখব? সারা মুখ ও শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গ ব্যান্ডেজে মোড়া অঞ্জনকে? এই দৃশ্য সহ্য করতে পারব?
চিকিৎসক সামন্তলাল সেন আছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন ওই বিভাগের নিরলস চিকিৎসক ও সেবকেরা। একদল লোক একটা করে বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ পোড়াবে, মানুষ মারবে, আর চিকিৎসক সামন্তলাল সেনরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন মানুষগুলোকে বাঁচাতে!একেকটা পরিবার ভেঙে পড়বে। কান্নার রোল পড়বে। পরিবারগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে। কৌশিকি আর অর্চিরা অপেক্ষা করবে বাবার সুস্থতার জন্য।
এই যে পেট্রলবোমা ছোড়া যানবাহনে, এটা কী ধরনের কর্মসূচি? কাদের কর্মসূচি? কারা নির্দেশ দেয়? কারা তা বাস্তবায়ন করে? এদের দাবি কী? উদ্দেশ্য কী? কী তারা চরিতার্থ করতে চায়? এটা স্রেফ সন্ত্রাসবাদ। কোনো একটা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বেসামরিক মানুষের ওপরে নির্বিচারে হামলার নামই সন্ত্রাসবাদ। এটাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এটা যদি রাজনৈতিক বিক্ষোভ হতো, তাহলে অবশ্যই বলতাম, ধোঁয়া থাকলে অবশ্যই আগুনও আছে, বিক্ষোভের কারণ দূর করুন। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় কঠোরতা ছাড়া বিকল্প থাকে না। না হলে সন্ত্রাসবাদ প্রশ্রয় পায়।
তবে অবশ্যই বিরোধী দলকে তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য পরিসর দিতে হবে, অবকাশ দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ মিছিল-সভা-সমাবেশ-ধর্মঘট করার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ কথা আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলব। কথা বলার অধিকার, সমবেত হওয়ার অধিকার গণতন্ত্রের আবশ্যকীয় শর্ত। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কোনো অবকাশ নেই। এই ধরনের অমানবিক আক্রমণ রুখতেই হবে, এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারতেই হবে।
জানি না কারা এসব করে। পরস্পরকে দোষারোপ করা হয়। আমরা শুধু বলব, মানুষ, তুমি মানবিক হও। মানুষ মারা কোনো রাজনীতি নয়। আহা, আমি ভাবি চার বছরের মেয়ে অর্চির কথা। আমি কল্পনা করি, ক্লাস ওয়ানে পড়া মেয়ে কৌশিকি উৎপলার মনের অবস্থাটা। পৃথিবীতে এমন কোনো দাবি নেই, যা অর্জন করার জন্য মানুষের প্রাণ হরণ করা যেতে পারে।
আজকের দিনে সন্ত্রাসবাদ কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্যই অর্জন করতে পারবে না। পৃথিবীর কোথাও সন্ত্রাসবাদীরা সফল হয়নি। আর রাজনৈতিক দাবি আদায় করার জন্য লাগে দূরদর্শিতা, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারার ক্ষমতা আর কর্মসূচি এবং আত্মত্যাগী নেতৃত্ব। নেতারা নিজেরা কষ্ট করবেন, স্বার্থ ত্যাগ করবেন, জুলুম সহ্য করবেন, তাঁরা জনগণকে কষ্ট দেবেন না, জনগণকে জিম্মি করবেন না, নিজেরা ত্যাগ স্বীকার করবেন। নেলসন ম্যান্ডেলা তা-ই করেছেন, মহাত্মা গান্ধী তা-ই করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তা-ই করেছেন। নিজেরা কষ্ট করেছেন, কারাবাস করেছেন, অনশন করেছেন। জনগণের মাথায় বোমা ছোড়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।
প্রার্থনা করি, অঞ্জন সুস্থ হয়ে উঠুন। প্রার্থনা করি, আর যাঁরা যাঁরা অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন গত মঙ্গলবার রাতে, তাঁদের সবাই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। অঞ্জন, আমরা আবার যাব বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে। রমনা পার্কের সবুজ প্রান্তরজুড়ে বসে রইবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তারা একে একে উঠে আসবে মঞ্চে। বইয়ের বান্ডেল তুলে দেওয়া হবে তাদের প্রত্যেকের হাতে। তাদের কলকাকলিতে সচকিত হয়ে উঠবে রমনার গাছগাছালি-পাখপাখালি। আপনি বারবার আসবেন মঞ্চে। বলবেন, আনিস ভাই, এর পরেরবার আপনার পালা। আপনি তুলে দেবেন ওদের হাতে বই। আমি বলব, ঠিক আছে ঠিক আছে। কোনো অসুবিধা নেই।
কিংবা আমরা আবার উঠব কোনো মাইক্রোবাসে। দেশের কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো জয়নাল আবেদীন হাসপাতাল বানাচ্ছেন, বা চালাচ্ছেন ইশকুল। কেউবা পরিবেশ রক্ষার জন্য, নদী রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার ছুটে যাচ্ছেন সেসব জায়গায়। সঙ্গে আছেন আপনি।
আলোকিত মানুষ চাই—বলেন সায়ীদ স্যার। একটা মোমবাতি থেকে এক শ মোমবাতি প্রজ্বালন করা যায়। এক শ মোমবাতি থেকে আলো জ্বলে উঠবে হাজার মোমবাতিতে। আমাদের কিশোর-তরুণেরা বই পড়ছে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, হয়ে উঠছে আলোকিত হৃদয়ের মানুষ। তাদের হৃদয়ের আলোয় আলো জ্বলে উঠবে কোটি কোটি মানুষের মনের সলতেতে। চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই আলোয় ঝলমল করছে পুরো বাংলাদেশ। মানুষের হৃদয়ের আলোয় নক্ষত্রশোভিত আকাশের মতো হয়ে আছে প্রিয় স্বদেশভূমি।
আপনি, অঞ্জন, সেই স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে চলেছেন। পশুতুল্য ওই লোকগুলো আপনার বাসে ছুড়েছে পেট্রলবোমা। আপনি আর আপনার মতো কত মানুষ এই অযৌক্তিক নৃশংস অমানবিক আক্রমণের শিকার। যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারে, কেউ নিরাপদ নয় এদের হাত থেকে, সেই ভয়াবহ বার্তাটা আবার পাওয়া গেল!
কী বলব! পরম করুণাময়ের কাছে আকুতি জানাই, এদের সুমতি দাও। আর একটা মানুষও যেন এ ধরনের আক্রমণে দগ্ধ না হয়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

পাকিস্তানে তিনদিনের গরমে মৃত ৭০০

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে ভয়াবহ তাপদাহে তিনদিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০-তে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রাদেশিক রাজধানী করাচিতে। নিহতদের বেশিরভাগই প্রবীণ এবং দরিদ্র পরিবারের। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যটির সব স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রদেশটিতে তাপদাহের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
এখানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রিতে ঠেকেছে। তাপদাহের ঘটনায় মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সাঈদ কিয়াম আলী শাহ। সিন্ধুর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু করাচিই নয়, সিন্ধের সব অফিস, স্কুল ও কলেজ বন্ধ করে দিয়েছি।’ তবে হাসপাতালের মতো জরুরি সেবাদানকারী অফিসগুলো খোলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাপদাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপারে সাঈদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।’ তবে রাজ্যের সরকারি অফিসগুলোতে রাত ১১টা পর্যন্ত এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভাগগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাসের পর এ নিয়েও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সাঈদ। এর আগে তাপদাহ অব্যাহত থাকায় প্রদেশের সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করে সিন্ধু প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

ওবামার গ্রামে ওবামাদের দুর্দশা

বয়স মাত্র সাত বছর। জীবন জগৎ সম্পর্কে এখনো কিছুই জানে না। তবু নিজের নাম আর গ্রাম নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত সে। তার নাম বারাক ওবামা ওকোথ। গর্বে বুকটা ফুলে যায়। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষের নামে তার নাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পৈতৃক গ্রাম কোগেলেই তার বাড়ি। ‘বারাক ওবামা কে?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে শিশুর মুখে সবজান্তার ভাব আসে। থেমে থেমে বলে, ‘সে তো আমেরিকায় থাকে। বিরাট রাজা।’ বারাক ওবামা তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, তখন এডিন ওকোথের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। সেই মুহূর্তে তিনি ঠিক করে ফেলেন ছেলে হলে নাম রাখবেন বারাক ওবামা।
কেনিয়ার অবহেলিত দারিদ্র্যপীড়িত প্রত্যন্ত গ্রাম কোগেলির অনেক পরিবারেই আছে এমন কাহিনী। শুধু সন্তানের নাম নয়, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই বারাক ওবামার নামে নামকরণ। ওবামার গ্রামে এমন অসংখ্য ওবামা রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাবা বারাক হোসেন ওবামা সিনিয়র ১৯৩৬ সালে এই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত সাত বছরে এই গ্রামে আসার ু‘সময় পাননি’। অশিক্ষা, দারিদ্র্য, রোগ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, পরিবেশ দূষণে আর বিদুু্যুৎহীনতার সঙ্গে কুস্তি লড়ছে এই গ্রাম। ২০০৮ সাল থেকেই এখানকার সব মানুষের স্বপ্ন- এবার আর অভাব থাকবে না। উন্নত হয়ে যাবে গ্রাম। কারণ একটাই! মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্রাম বলে কথা। কিন্তু গত সাত বছরে তাদের সে স্বপ্নের এক কানাও পূর্ণ হয়নি।

চলে গেলেন আরেক তেরেসা

প্রয়াত সিস্টার নির্মলা। মাদার তেরেসার পর মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রধানের মৃত্যুতে শোকাহত বিশ্ব। সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে শিয়ালদহের মিশনারিজ অব চ্যারিটির কনভেন্ট সেন্ট জনস হাউসে মৃত্যু হয় সিস্টার নির্মলার। সেখানেই থাকতেন মাদারের এই যোগ্য উত্তরসূরি। যিনি মাদারকে সম্মান জানাতে সিস্টার হিসেবেই পরিচিত হতে চেয়েছেন। প্রয়াণের সময় তার বয়স হয়েছিল ৮১।
মঙ্গলবার সকাল থেকে মরদেহ শায়িত রাখা হয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন লাগোয়া সেন্ট জনস চার্চে। বিকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় দেহ আনা হবে মাদার হাউসে। বিকাল ৪টায় মাদার হাউসে প্রার্থনার পর তার দেহ আনা হবে সেন্ট জনস চার্চে। সেখানেই সমাধিস্থ করা হবে মরদেহ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীসহ বিখ্যাতরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শেষকৃত্যে যোগ দেবেন। আসবেন ভ্যাটিক্যানের প্রতিনিধিরাও। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী চার্চে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ছিলেন ঊষা উত্থুপও। মুখ্যমন্ত্রী মাদার তেরেসার সূত্র ধরে সিস্টার নির্মলার সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতার কথা শোনান। ১৯৯২ সালের দাঙ্গায় একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যু ব্যক্তিগত ক্ষতি। বিশ্বের ক্ষতি। গত ৭ এপ্রিল সিস্টার নির্মলা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার চিকিৎসক উডওয়ার্ডও সম্প্রতি প্রয়াত হন। পরে ১৩ জুন সিস্টার আবার অসুস্থ হন। সিএমআরএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মাল্টি অর্ঘান ফেলিওয়ের জন্য চার্চের হাউসেই নিয়ে আসা হয় দু’দিন আগে। মিশনারিজ অব চ্যারিটি তৈরির সময় মাদারের সঙ্গে দু’জন সন্ন্যাসিনী হন। তাদের মধ্যে অন্যতম সিস্টার নির্মলা। তার জন্ম রাঁচিতে, ১৯৩৪ সালের ২৩ জুলাই। নির্মলা যোশীর বাবা-মা আদতে নেপালের বাসিন্দা ছিলেন। আসল নাম কুসুম যোশী। আট বোন, দুই ভাই। বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।
তার বাবা ব্রিটিশ আর্মির অফিসার ছিলেন। হিন্দু পরিবারের সন্তান হয়েও মাদারের কাজে উৎসাহ হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম নেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করার পাশাপাশি আইনের পাঠও নিয়েছেন। পাটনা উওমেনস কলেজে এমএ করার সময়ই মাদার তেরেসার সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপরই বদলে যায় জীবন। মাদারের মৃত্যুর আগেই সিস্টার নির্মলাকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নিতে চাননি। চ্যারিটির উদ্যোগে পানামা সফরে প্রথম সিস্টার হিসেবে বিদেশযাত্রা করেন। ১৯৯৭ সালের মার্চে মাদার তেরেসার মৃত্যুর পর চ্যারিটির সুপিরিয়র জেনারেলের দায়িত্ব নেন তিনি। তবে ‘মাদার’ আখ্যায় ভূষিত হতে চাননি। ২০০৯ সালে তিনি পদ্মবিভূষণ সম্মান পান। ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ পর্র্যন্ত মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন সিস্টার নির্মলা। তারপর দায়িত্ব নেন জার্মানি-জাত সিস্টার মেরি প্রেমা পিয়েরিক। টুইটে শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘মানুষের সেবায় নিজেকে অর্পণ করেছিলেন সিস্টার নির্মলা। দুস্থদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। তার আত্মা শান্তি পাক।’ সন্ত যোহান চার্চের ফাদার মলয় ডিকোস্টা সিস্টার জানান, উনি খুব সহজ, সরল ছিলেন। কোনো মানুষের সমস্যার অর্ধেক সমাধান হয়ে যেত তার সঙ্গে কথা বলেই।
সিস্টার নির্মলা
জন্ম : ২৩ জুলাই ১৯৩৪
মৃত্যু : ২৩ জুন ২০১৫
কর্মস্থল : মিশনারিজ অফ চ্যারিটি

আগাম নির্বাচনের অঙ্ক কষছে সরকার? by সেলিম জাহিদ

আগাম নির্বাচনের কথা নাকচ করে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীরা মাঠে বক্তব্য দিলেও ভেতরে ভেতরে সরকার একটি আগাম নির্বাচনের অঙ্ক কষছে বলে জানা গেছে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী বছরের শেষের দিকে অথবা ২০১৭ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে এ রাজনৈতিক অঙ্ক কষা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ছোট ছোট কিছু রাজনৈতিক দলকে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তোলানোর চিন্তা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কিছু যোগাযোগও হয়েছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তাঁরাও আগামী দেড় বছরের মধ্যে একটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন। তার আগে বিএনপিতে ভাঙন ধরানোসহ বড় ধরনের ঝড়ের আশঙ্কাও করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস, দল ভাঙার তৎপরতা নতুন করে জোরদার এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিভিন্ন মামলার দ্রুতগতি সে ঝড়েরই আলামত হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতারা।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা ও দলটির কয়েকজন চিন্তকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও এসব কথা এসেছে। এ মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বছরের ৫ জানুয়ারির একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার দেশে-বিদেশে সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ১৫৩ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এ সরকার নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থার মধ্যে আছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে বিএনপির একাংশসহ অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রভাবশালী একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য আগামী বছরের শেষের দিককে সুবিধাজনক সময় মনে করা হচ্ছে। কারণ, তাঁরা আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যে অন্তত দুটি মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হয়ে যাবে। তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হয়ে পড়লে বিএনপি আরও চাপে পড়বে। ওই অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হবেন না। তখন দলটির একটি অংশকে নির্বাচনে আনা সহজ হবে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কিছু তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে এ চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা কৌশলগত কারণে এখনই প্রকাশ করতে রাজি নন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
যদিও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মধ্যবর্তী বা আগাম জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে তাঁদের সরকার বা দলের কোনো ভাবনা নেই। এ বিষয়ে দলে ও সরকারের কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি এ-ও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে সরকার আরও কিছু সময় কাটাতে চাইবে। কিন্তু আমরা মনে করি, সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।’
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, সরকার আগামী বছরের শেষ দিকে বা ২০১৭ সালের শুরুর দিকে নির্বাচন দেওয়ার চিন্তা করছে বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। তার আগে সরকার বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাজা দিয়ে তাঁদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং দলকে ভাঙার চেষ্টা করবে। বিএনপির চেয়ারপারসনের কাছে পাঠানো মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির মূল্যায়নে বলা হয়, আগাম নির্বাচন দেওয়ার আগে সরকার বিএনপিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা করবে। এক. যাঁরা মামলার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো চাইবেন না বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক। দুই. অন্যরা চাইবেন নির্বাচনে অংশ নিতে। তিন. আরেকটি উপদল করার চেষ্টা চলবে, যাঁরা চাইবেন জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেওয়া হোক। চার. বিএনপিতে সংস্কারপন্থী হিসেবে যাঁদের মূলধারা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তাঁদের নিয়ে আরেকটি উপদল করা হতে পারে। এঁদের সঙ্গে আবার এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও নাজমুল হুদার সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা হবে।
বিএনপির এই মূল্যায়নের সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল একটি বড় দলের মহাসচিবের বক্তব্যের বেশ মিল পাওয়া যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আলাপকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিএনপিকে ভাঙার আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সুযোগ দেখি না।’
এ বিষয়ে বিএনপি-সমর্থিত নাগরিক সংগঠন শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের প্রধান নেতাদের জেলে পাঠিয়ে, তারপর ফাঁকা মাঠে নির্বাচনের কথা যদি কেউ চিন্তা করে, তবে তা ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মতোই গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। তিনি বলেন, অগ্রহণযোগ্য নীতি নিয়ে কেউ টেকেনি। কাউকে ফাঁসিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া শুভ হবে না।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপিকে ভেঙে দলটির একাংশকে নির্বাচনে আনার নানা চেষ্টা করেছিল সরকার। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। তবে এখন সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় তাঁরা আঁচ করতে পারছেন যে দল ভাঙার পুরোনো তৎপরতা আবার শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় দলছুট বা সংস্কারপন্থীদের নিয়ে সরকার যাতে নতুন করে কিছু করতে না পারে, সে জন্য তাঁদের দলে ফেরানোর চিন্তা করছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা রাখছেন—এমন একজন নেতার দাবি, সংস্কারপন্থীরাও দলে ফিরতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মনোভাবও ইতিবাচক। কারণ, দলে ফিরতে ইতিমধ্যে একাধিক নেতা অতীতে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে লিখিত আবেদনও করেছেন। কিন্তু সংস্কারপন্থী নেতাদের নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় নেতাদের বাধার কারণে তাঁদের দলে ফেরার কার্যক্রম এগোয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। আদর্শিক বিরোধ থাকার পরও অনেকের সঙ্গে জোট করেছি। ভুলভ্রান্তির কারণে যাঁরা দল থেকে বিচ্যুত, এখন তাঁদের ফেরানোর বিষয়টি দলের ভাবা উচিত, যদি তাঁরা ভুলের জন্য অনুতপ্ত হন।’
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র বলছে, সরকারের ছক অনুযায়ী বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীসহ ২০-দলীয় জোটের অন্য শরিকদেরও পরবর্তী নির্বাচনে নিতে সরকারের চেষ্টা থাকবে। এরই মধ্যে এই জোটের শরিক ছোট ছোট একাধিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে প্রভাবশালী একটি সংস্থার কর্মকর্তারা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া কয়েক মাস আগে বিএনপির সাবেক দুই সাংসদ আবু হেনা ও শহীদুল হক জামালকে দিয়ে বিএনপিকে ভেঙে ‘নতুন বিএনপি’ গড়ার লক্ষ্যে কিছু তৎপরতা শুরু হয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সেটা এখনো অব্যাহত আছে বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চতুরতার মাধ্যমে মধ্যবর্তী একটা নির্বাচন দিলে তাতে বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না। দল ভাঙা, দমন-পীড়ন বা কর্তৃত্ববাদিতা কোনো সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ পথ বের করতে হবে।

তুরস্কে প্রথম হিজাবী নারী এমপিদের শপথ

তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হিজাব পরেই সংসদ সদস্যের শপথ বাক্য পড়েছেন ২১জন নারী সংসদ সদস্য। মঙ্গলবার ততোধিক চমক নিয়ে সরকার ছাড়াই শপথ নিয়েছে নতুন এই সংসদ। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫তম অধিবেশন বসিয়ে অস্থায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি এরদোগানের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। অধিবেশনের ক্রমানুসারে প্রথম হিজাবধারী নারী হিসাবে সংসদ সদস্যের শপথ পড়ে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন একে পার্টির আঙ্কারা প্রতিনিধি লুৎফিয়া সেলভা। শপথ নেয়া ২১জন হিজাবধারী নারী সদস্যের ১৮জনই একে পার্টির মনোনয়নে জয়ী প্রার্থী, বাকি তিনজন চমক দেখানো নতুন কুর্দিশ দলের প্রতিনিধি। আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে ১৯৯৯ সালে সংসদে হিজাব পরে প্রবেশের দায়ে শপথ না পড়িয়ে বের করে দেয়া হয়েছিলো মেরভে কাভাকচি নামের এক নারী এমপিকে। ঘটনার ঠিক ১৬ বছর পরে তারই ছোট বোন রেউজা কাভাকচি বড় বোনের ব্যবহৃত পুরাতন হিজাব মাথায় শপথ বাক্য পাঠ করেছেন সংসদে। একে পার্টি ইস্তানবুল প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত এই নারী সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণও আলোড়ন সৃষ্টি করে দেশজুড়ে।
১৯২০ আতাতুর্কের পোশাক আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে তুরস্কে রাষ্ট্রীয় কাজ ও আনুষ্ঠানিকতা থেকে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পাল্টা আইনে তা ফিরিয়ে আনে এরদোগানের একে পার্টি। সে বছরই প্রথম উমরাহ পরবর্তী অধিবেশনে হিজাব পরিহিত নারী সদস্য প্রবেশ করেন। তবে নির্বাচিত সদস্যের হিজাব পরেই শপথ গ্রহণ আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে এটাই প্রথম। এখনো সেনা, পুলিশ ও বিচার বিভাগে কর্মরত নারীদের হিজাব ব্যবহার নিষিদ্ধ তুরস্কে।

এই লেখাটি বিএনপির জন্য কোনো পরামর্শ নয় by বিভুরঞ্জন সরকার

এই লেখাটি বিএনপির জন্য কোনো পরামর্শ নয় বিএনপিকে এখন অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন। যাদের দেয়া উচিত, তারাও দিচ্ছেন, আবার যাদের দেয়া উচিত নয় তারাও দিচ্ছেন। আমরা যারা লেখালেখি করি, নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত থাকলেও কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্পর্কেই লিখতে হয়। আমরা নিজস্ব বিবেচনা মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি ও কৌশল সম্পর্কে পক্ষে কিংবা বিপক্ষে লিখতে হয়। ভালো কাজের প্রশংসা, খারাপ কাজের নিন্দা করতে হয়। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে কখনো কখনো কিছু পরামর্শও দিয়ে থাকি। এসব পরামর্শ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলো বিবেচনা করারও প্রয়োজনবোধ করে না। তারপরও আমাদের এটা করতে হয়। বলতে গেলে এটাই আমাদের কাজ। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল যদি আরেকটি রাজনৈতিক দলের ভুলভ্রান্তি নিয়ে কথা বলে, কী করা উচিত বা অনুচিত সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়, তাহলে বিষয়টি খুব শোভন ও স্বাভাবিক বলে মনে হয় কি? যেমন আওয়ামী লীগের কী করা উচিত বা উচিত নয়, সেটা আওয়ামী লীগই ঠিক করবে। দলের ভালো-খারাপের দায়িত্ব দলের নেতাকর্মীদেরই। আবার বিএনপির ক্ষেত্রেও তাই। বিএনপি কী করবে, কী করা উচিত সেটা দলের নেতকর্মীরাই ঠিক করবেন। বাইরের কারো ফোকর দালালি করা ঠিক না।
একটা কথা প্রচলিত আছে যে, তোমার শত্রু বা প্রতিপক্ষ যদি তোমার প্রশংসা করে তাহলে মনে করবে, তুমি ভুল করছ। আর যদি সমালোচনা বা নিন্দা করে তাহলে বুঝবে তুমি ঠিক পথেই আছো। কিন্তু প্রচলিত এই কথাটিকে কি সব সময় সঠিক বলে মেনে নেয়া যায়? আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরের প্রতিপক্ষ শুধু নয়, আসলে একে অপরকে শত্রু বলেই মনে করে। তাই বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো কিছুর প্রশংসা করে না, আবার আওয়ামী লীগও বিএনপির মধ্যে প্রশংসা করার মতো কিছু খুঁজে পায় না। তাহলে কি আমাদের ধরে নিতে হবে যে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কেউ যখন কারো প্রশংসা করছে না, তার মানে তারা সঠিক পথেই আছে? না, বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়। আমাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের সমস্যা হলো, তারা নিজেদের ভুলত্রুটি খুঁজে বের করার চেয়ে অন্যের ছিদ্র খোঁজায় বেশি পরাদর্শী। যেমন, আওয়ামী লীগের খুঁত বের করতে বিএনপির কোনো ক্লান্তি নেই। ভাবখানা এমন, ভুলত্রুটি করে আওয়ামী লীগ যদি বিপাকে পড়ে, জনপ্রিয়তা হারায় তাহলে বুঝি বিএনপির দুঃখের সীমা থাকবে না। আসলে কিন্তু তা নয়। বিএনপি মনেপ্রাণে চায়, আওয়ামী লীগ ক্রমাগত জনপ্রিয়তা হারাক, দুর্বল হোক। তাদের জনবিচ্ছিন্নতা যেন ক্রমাগত বাড়ে। আওয়ামী লীগকে শোধরানোর জন্য নয়, বিএনপি তাদের নিন্দা করে থাকে মানুষের কাছে নিজেদের ভালো প্রমাণ করার জন্য। আওয়ামী লীগের ভুল তো বিএনপির শুদ্ধ এই হচ্ছে সহজ হিসাব। আওয়ামী লীগের ব্যর্থতাই বিএনপির সাফল্য। আবার আওয়ামী লীগও নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় না দিয়ে বিএনপির দুর্বলতাগুলোই প্রচার করে নিজেদের এগিয়ে রাখতে চায়।
দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপি হাহাকার করে চলেছে। বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। এসব অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন নয়। সভা-সমাবেশের নামে অশান্তি-অরাজকতা-নৈরাজ্য সৃষ্টি করার কারণে সরকার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বৈকি! বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার-নির্যাতন সম্পর্কে যা বলা হয়, তাও অসত্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হামলা-মামলা কি কোনো কারণ ছাড়াই করা হচ্ছে? ৫ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ এবং হরতাল ডেকে সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত করার আগে কি সরকার গণহারে গ্রেফতার-মামলা-হামলা হয়েছে? ৫ জানুয়ারির আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়জন শীর্ষনেতা কিংবা মাঠপর্যায়ের কতজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে? কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে? বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার পরই না সরকার আত্মরক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি শক্তি পরীক্ষায় নেমে সরকারকে পরাজিত করতে চাইবে, আর সরকার তার শক্তি না দেখিয়ে পরাজয় মেনে নেবে, তাই কখনো হয়? এমন শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র কোথায় আছে? বিএনপি যদি গণতান্ত্রিক পথে চলে তাহলেই না সরকারকে গণতন্ত্রের পথে চলার জন্য চাপ দেয়া যায়। একপক্ষ অগণতান্ত্রিক ও শক্তি প্রয়োগের পথে চললে অন্য পক্ষের কাছে গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশা করা যায় কি? দেশে মতপ্রকাশের কিংবা বাকস্বাধীনতা নেই বলে বিএনপি যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তা কোনোভাবেই তথ্য ও সত্যনির্ভর নয়।
এই লেখাটি বিএনপির জন্য কোনো পরামর্শ নয়৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি মিছিল-মিটিং করতে না পারলেও তাদের দলীয় বক্তব্য প্রচারে কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয় না। দলের চেয়ারপার্সন একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তার বক্তব্য একমাত্র বিটিভি ছাড়া সব চ্যানেলেই সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। সরকার বেগম জিয়ার বক্তব্য প্রচারে কোনো বাধা দিয়েছে বলে শোনা যায়নি। একটি জনসভায় বক্তৃতা দিলে যত মানুষে শোনে, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি মানুষের কাছে টিভি মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি বলা হয় দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, তা কি সত্য বলে মেনে নেয়া যায়? বিএনপির বেশ কয়েক নেতা এবং বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী নেতারা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য বিনা বাধাতেই প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা টকশোতে তর্ক-বিতর্ক করছেন, সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন আবার বলছেন যে, সরকার কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নিলে তারা টকশোতে কীভাবে কথা বলছেন? তারা যে অভিযোগ করার জন্যই অভিযোগ করছেন, সেটা কি মানুষ বুঝতে পারছেন না? বিএনপির কাছে গণতন্ত্র মানে শুধুই বিক্ষোভ মিছিল আর জনসভা অথচ আজকাল জনসভা আর মিছিল যে কত বড় জনদুর্ভোগের কারণ হয় সেটা বোঝার চেষ্টা রাজনৈতিক নেতারা করেন না। সাধারণ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করতে অসুবিধা কোথায়?
দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপির প্রচারণা দেখে মনে হয়, তারা ক্ষমতায় গেলেই বুঝি দেশে আদর্শ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসবে। বিএনপি তো এর আগে দেশে দুইবার পূর্ণ মেয়াদে, একবার স্বল্পকালের জন্য ক্ষমতায় ছিল। এ জন্য বেগম জিয়াকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলা হয়। তো, তিনবার প্রধানমন্ত্রী থেকে বেগম জিয়া এবং তার দল বিএনপি দেশে গণতন্ত্রের কী মহা উপকার করেছেন? বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকতে কি বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন হয়নি? ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে পরে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতা নিয়ে সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চণ্ডনীতি চালানো হয়েছিল, তা কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তপোক্ত করার নিমিত্তেই? ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়কালে বিরোধী আওয়ামী লীগের কত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, কতজনকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিল, সে হিসাব কি বেগম জিয়া এবং তার পারিষদবর্গের কাছে আছে? না, বিএনপি গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে বলেই আওয়ামী লীগও তাই করবে, সেটা হতে পারে না। সেটা সমর্থনযোগ্যও নয়। তারপরও বলার কথা এটাই যে, ভালোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেই না ভালো হওয়ার প্রশ্ন আসে। খারাপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলে তো খারাপই হবে। আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করার আগে বিএনপিকে শোধরাতে হবে। তারা ক্ষমতায় থাকতে যেসব খারাপ কাজ করেছে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে আর কোনোভাবেই তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। হাওয়া ভবনের মতো ক্ষমতার বিকল্পকেন্দ্র আর গড়ে উঠবে না। শাহএএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারের মতো বিরোধী দলের জনপ্রিয় নেতাদের বুলেট-গ্রেনেডে প্রাণ দিতে হবে না। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো পাশবিক ঘটনা ঘটবে না। শেখ হাসিনার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে তাদের রক্ষা করার জন্য বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না। অতীতের বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বিএনপি বেরিয়ে আসছে, সেটা যদি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় তাহলে তাদের জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হবে। দেশে পুরো মাত্রা গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপির আকুলিবিকুলির শেষ নেই অথচ বিএনপি দলটিই চলছে চরম স্বৈরাচারী ব্যবস্থায়। বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র পুরো গণতন্ত্রসম্মত না হলেও দলীয় নীতিনির্ধারণে স্থায়ী কমিটিকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেটাও বাস্তবে অনুসরণ করা হয় না। নিয়মমাফিক স্থায়ী কমিটির সভা হয় না। সভা হলেও নীতি-কৌশল নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। খালেদা জিয়ার ইচ্ছাপূর্ণ করা ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের আর কিছু করণীয় না থাকায় তারা এখন হয় নিষ্ক্রিয়, না হয় যেখানে সেখানে যা খুশি তাই বক্তৃতা দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন এবং কোনো রকমে সময় কাটাচ্ছেন। অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। কমিটি আছে নানা পর্যায়ে। কমিটিতে অসংখ্য নাম আছে। কিন্তু কারো কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ নেই।
বিএনপির এই সাংগঠনিক দুর্দশা দেখে অনেকেই তামাশা করতেও ছাড়ছেন না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা তো ইদানীং অতিমাত্রায় বিএনপি দরদি হয়ে উঠেছেন। বিএনপিকে আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থ হতে দেখে আওয়ামী লীগের নেতাদের যেন চোখে ঘুম নেই। বিএনপির কী করা উচিত সে বিষয়ে তারা এখন পরামর্শ দিতে ব্যস্ত আছেন। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে বিএনপির প্রতি উপযাচক হয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। একেই বোধহয় বলে নাই কাজ তো খৈ ভাজ। নিজের চড়কায় তেল না দিয়ে অন্যের চড়কায় তেল দেয়ার এত গরজ কেন? আওয়ামী লীগের এই নেতাদের পরামর্শ মতো কাজ না করলে বিএনপি নাকি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে, ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। যদি সেটা হয় তাহলে তো আওয়ামী লীগ নেতাদের খুশি হওয়ার কথা। বিএনপি ভেঙে গেলে কিংবা অস্তিত্ব সংকটে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচলিত হওয়ার কী আছে? তারপরও তারা বিচলিত হচ্ছেন এবং বিএনপি ‘রক্ষা’র ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তাদের দেয়া পরামর্শগুলো হচ্ছে: ১. দলের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে খালেদা জিয়াকে এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে তারেক রহমানকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে হবে, ২. জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে, ৩. স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি হিসেবে রাজনীতি করার ঘোষণা দিতে হবে, ৪. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সরাসরি সম্মতিজ্ঞাপন করতে হবে এবং ৫. ভবিষ্যতে আর সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড না করার অঙ্গীকার করতে হবে। এই পাঁচটি পরামর্শ গ্রহণ করলে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন।
বিএনপি যদি এই কাজগুলো সত্যি সত্যি করে তাহলে বিএনপি কি আর বিএনপি থাকবে? তাছাড়া বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থা কিসে বাড়বে তা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন কী? বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা বাড়লে যে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা কমবে এটা কি আওয়ামী লীগ নেতারা বুঝতে পারছেন না? আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে যেচে পরামর্শ দিয়ে সময় নষ্ট না করে যদি নিজেদের দলের জন্য  কী করা উচিত সে বিষয়ে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করতেন তাহলেই না বেশি ভালো হতো। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে খারাপ অবস্থায় আছে সেটা যেমন ঠিক, তেমনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা খুব ভালো সে দাবি করার মতো পরিস্থিতি আছে কি? আওয়ামী লীগের মতো বিশাল দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কি কেউ দেখতে পাচ্ছেন? টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মারামারি, প্রভাব বিস্তারের লড়াই এসব নেতিবাচক খবর গণমাধ্যমে ছাপা হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন সক্রিয় আছে বলে মানুষ জানতে পারছে। অন্যথায় কোথায় আওয়ামী লীগ? নিজেদের ঘরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমা হয়ে উঠেছে অথচ আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির ঘর পরিষ্কারে উতলা হয়ে উঠেছেন। এই রাজনীতি কি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারছে?
পুনশ্চ: বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিএনপি এখন জিয়াউর রহমানের আদর্শের মধ্যে নেই। দলটির রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ জামায়াতনির্ভর। বিএনপির বাঁচতে হলে জামায়াতনির্ভরতা ছেড়ে আবারো জিয়ার আদর্শে ফিরে আসতে হবে। দেশে-বিদেশে যে চাপ তাতে এই রাজনীতি টিকবে না। এই রাজনীতি যদি না টেকে তাহলে তো বি. চৌধুরীর খুশি হওয়ার কথা। তিনি তো এখন বিএনপির কেউ নন। বিএনপি থেকে বের করে দেয়ায় তিনি ভিন্ন দল করেছেন। বিএনপির এখন গাড্ডায় পড়লে বি. চৌধুরীর দল বিকল্পধারার জন্য সুবিধা। জিয়ার প্রকৃত অনুসারীরা বি. চৌধুরীর সঙ্গে ভিড়লে বিকল্পধারাই তো বিএনপির ‘বিকল্প’ দল হয়ে উঠতে পারে। তেমন স্বপ্ন ডাক্তার সাহেব দেখছেন কি? গাছে কাঁঠাল দেখে গোঁফে তেল মেখে কোনো লাভ আছে কি?
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

পরিবেশ-বান্ধব ব্যাগের আইডিয়া দিয়ে পুরস্কার চট্টগ্রামের ৩ শিক্ষার্থীর

বাড়ির ব্যবহৃত ছাতাটি পুরনো হয়ে গেলে আপনি কি করেন। নিশ্চয় ফেলে দেন। কিন্তু অনেকে হয়তো জানেন না এই ছাতার গুরুত্বপূর্ণ কাপড়টুকু দিয়ে তৈরি হতে পারে চমৎকার ব্যাগ। সেই ব্যাগ দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হতে পারে বিদেশের গণ্ডিতেও। অনেক ক্ষেত্রে পলিথিনের বিকল্প হওয়ায় পরিবেশ-বান্ধব এই সামগ্রীটি সহজেই নজর কাড়তে পারে সাধারণ মানুষের। চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউর) ৩ ছাত্রী এমন আইডিয়া দিয়ে জিতে নিলো সোশ্যাল বিজনেস কমপিটিশনের পুরস্কার। প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তারা। সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ অ্যালায়েন্স  (গ্লোবাল) নামের একটি সংগঠন এই প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে। সম্প্রতি ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস। এই সময় তিনি বিজয়ীদের প্রশংসা করে ছেলে-মেয়েদের এমন পরিকল্পনা দেশের মানুষের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির পাশাপাশি ভাগ্যোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। পুরস্কার বিজয়ী ৩ শিক্ষার্থী হলেন- সামিনা আরেফীন, অনিন্দিতা দাশ ও ফারজানা রহমান। তারা সবাই পড়ছেন ইডিইউর স্কুল অব বিজনেসে (বিবিএ)। প্রতিযোগিতায় তাদের পরিকল্পনাটির শিরোনাম ছিলো ‘ইকো শপিং ব্যাগস বা পরিবেশ-বান্ধব ব্যাগ’। বিজয়ীরা জানান, প্রথমে বাড়ির পুরনো ব্যবহৃত ছাতাগুলো থেকে কাপড় খুলে তা সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সেগুলো নিতে হবে কারখানায়। সেখানে ধুয়ে দর্জি বা পারদর্শীরা ডিজাইন করে কাপড়গুলোকে কাটবেন। এরপর সেগুলো মাপ অনুসারে সেলাইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হবে সুন্দর ব্যাগ। বিজয়ী দলের সদস্য সামিনা আরেফীন বলেন, বাজারের পলিথিনের ব্যাগ পচে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ছাতার কাপড় দিয়ে তৈরি ব্যাগগুলো সেই আশঙ্কার বাইরে হওয়ায় সহজেই তা ব্যবহার করা যাবে।
দলের অপর সদস্য ফারজানা রহমান বলেন, ব্যাগ তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমেও আর্থিকভাবে লাভবান হবে সরকার। দেশের চাহিদাও মেটানো যাবে। একই রকম অভিমত অনিন্দিতা দাশেরও।
শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে গর্বিত গোটা ইডিইউ পরিবার। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে গত ২৪শে জুন সাক্ষাৎ করেন বিজয়ীরা। এই সময় তিনি বলেন, চলতি বছর অনুষ্ঠিত দেশ সেরা বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় ভাল করেছে আমাদের ছেলে মেয়েরা। চট্টগ্রাম থেকে একটি বিদ্যাপীঠ ঢাকায় গিয়ে পুরস্কার নিয়ে আসায় এই অঞ্চলের মেধাবীরা অনেক বেশি উৎসাহিত হবে। প্রেরণা পাবে সামনে নিজেকে এগিয়ে যাওয়ার।

গাছেই ধরছে আসবাবপত্র

উইলো গাছগুলো বড় হচ্ছে চেয়ারের আকৃতিতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
উইলো গাছগুলো বড় হচ্ছে চেয়ারের আকৃতিতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
‘টাকা কি গাছে ধরে? ’ কথাটির সঙ্গে সবাই পরিচিত। কিন্তু ‘আসবাব কি গাছে ধরে? ’ এ রকম কিছু কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না।
কিন্তু সত্যি সত্যি আসবাবপত্র গাছে ফলাচ্ছেন ইংল্যান্ডের বাসিন্দা গেবিন মুনরো। তিনি একটি বাগান করেছেন যেখানে গাছে ‘থোকায় থোকায় ধরছে’ চেয়ার, আয়নার কাঠামো ও ঝুলন্ত ল্যাম্পের কাভার।
প্রথম দেখাতেই ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ার ডেলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিয়মিত দৃশ্য বলেই মনে হবে। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে মাঠের মাঝখানে খুব অদ্ভুতভাবে কিছু গাছ বড় হয়ে উঠছে। কচি উইলো গাছগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে উঠে যাচ্ছে ওপরের দিকে। পাখি, মৌমাছি এবং বোলতার শব্দ মিলেমিশে তৈরি হচ্ছে অদ্ভুত এক রাখালি পরিবেশ। অদ্ভুত গাছগুলো আসলে উপুড় করে রাখা চেয়ার যার শেকড় গেঁথে আছে মাটিতে।
সিলিন্ডারে প্যাঁচানো উইলো। ল্যাম্প কাভার হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে গাছগুলোকে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
সিলিন্ডারে প্যাঁচানো উইলো। ল্যাম্প কাভার হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে গাছগুলোকে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
গেবিন মুনরো। এই বাগান এবং ব্যবসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক। ছেলেবেলা থেকে যে স্বপ্ন ছিল সেটাকে বাস্তবায়ন করতেই প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি কোম্পানি। ব্যবসা বলা হচ্ছে কারণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই কাজটি করছেন।
কীভাবে হচ্ছে? মুনরো বলেন, ‘ধারণাটি সহজবোধ্য। গাছ কেটে ফার্নিচার তৈরি করার চেয়ে আমি চাই গাছগুলোই চেয়ার, আয়না, বাতি কাভারের আকারে বেড়ে উঠবে।’
কীভাবে হচ্ছে গাছেই আসবাব? মুনরো পদ্ধতিটাকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তাতে মনে হয় প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। ‘আমরা গাছ রোপণ করি, তাদের একটা আকৃতি দিই যেটা অনেকটা মাচা বেয়ে গাছ উঠার মতো। গাছগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো।’ গেবিন ব্যাখ্যা করেন। ‘যখন গাছগুলো আমাদের মনের মতো কাঠামো তৈরি করে, তখন সেগুলো কেটে ফেলা হয় এবং শুকানো হয়। এরপর একটি শক্ত এবং সুন্দর চেয়ার আপনাকে দেওয়া হবে যা পুরোটাই একটা গাছের তৈরি।’
নিজের বাগানো সস্ত্রীক গেবিন মুনরো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
নিজের বাগানো সস্ত্রীক গেবিন মুনরো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
আসলেই কি এত সহজ? মুনরোর সরু উইলোর কচি শাখাগুলো মাটি থেকে কিছু দূর ওঠার পরই গাছের শাখাগুলো চেয়ারের পেছনের অংশে পরিণত হয়, এর পরের অংশটুকু বসার জায়গা এবং সর্বশেষ অংশটি হয় চেয়ারের পায়া। পুরো গাছটিকে একটি নীল কাঠামোর সঙ্গে শক্ত করে বেধে দেওয়া হয় যেন সেটি চেয়ারের কাঠামোতে আসে। মুনরোর বাগানের গাছের পরের সারিটিতে একটি সিলিন্ডারের চারিদিকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বড় হচ্ছে গাছগুলো। এগুলোকে পরবর্তীতে ঝুলন্ত ল্যাম্পের কাভার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়াও সেখানে আছে আয়নার কাঠামোও এবং ঝুলন্ত বিছানা।
গাছেই সরাসরি আসবাব ফলানোর এই পরিকল্পনাটা কীভাবে আসে তার ব্যাখ্যা দিলেন মুনরো। ‘যখন শিশু ছিলাম তখন আমার মেরুদণ্ডে সমস্যা হয়েছিল। এবং আমার পিঠকে সোজা করার জন্য অস্ত্রোপচারও করা হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে একটি কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছিল আমাকে। ঠিক সেভাবেই আমরা গাছগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে রাখি। একই সময়ে আমার মায়ের একটা বনসাই ছিল। এবং সেটিরও বড় হওয়া দেখেছি। আমি এসব দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। চিন্তা এসেছে মাথায় যে প্রকৃতি থেকে সরাসরি চেয়ার তৈরি করা যাবে।’
মুনরো বলেন, ‘যদি বনসাই একটি চেয়ারের মতো করে গড়ে উঠতে পারে, অন্য আসবাবগুলোও সেভাবে হতে পারে না কেন? কেন আমি পুরো একটি মাঠই এভাবে তৈরি করতে পারি না? তাহলে আসবাব তৈরিতে কোনো অপচয়ও হবে না এবং অবকাঠামোগত দিক থেকে এটা আরও বেশি শক্ত হবে।’
নিজের বাগানে করা ল্যাম্প কাভারের সঙ্গে গেবিন মুনরো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
নিজের বাগানে করা ল্যাম্প কাভারের সঙ্গে গেবিন মুনরো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
মুনরো এক সময় ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়াতে। সেখান থেকে ইংল্যান্ডে ফিরে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে কাজে মন দেন। ১০ বছর আগে পরিকল্পনামতো শুরু করেন কাজ। একজন বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া পাঁচ হাজার পাউন্ড বিনিয়োগ করে কেনেন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ‘আমরা একটু ভিন্ন ধরনের কাঠ চাইছিলাম তাই উইলোকে প্রধান উপকরণ হিসেবে বেছে নিলাম। এটি দ্রুত বড় হয় এবং এই গাছ নিয়ে কাজ করতেও সুবিধা।’ অনেক দ্রুত বাড়লেও গাছ রোপণ থেকে শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি পেতে ছয় বছরের মতো সময় লাগে। ৫০ বছরের পরিকল্পনা মুনরোর। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিটাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার অনেক উপায় আছে। যেখানেই গাছ জন্মে সেখানেই আসবাব জন্মানো যাবে।
‘আমাদের প্রথম চেয়ারটি আগামী বছরই পাওয়া যাবে এবং এর মধ্যেই আমরা সেটি বিক্রি করে দিয়েছি। এবং পুরো পৃথিবীজুড়েই আমরা বিভিন্ন মানুষের আগ্রহ বুঝতে পারছি।’ অনেকেই এ কাজ করতেও আগ্রহী। এভাবেই নিজেদের পণ্যের চাহিদার কথা জানালেন মুনরো। তিনি জানান, চেয়ার এবং ল্যাম্পের এই অগ্রিম চাহিদা এবং বিক্রিই টিকিয়ে রেখেছে ব্যবসাটিকে। ওই টাকা দিয়ে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেউ স্বল্প মেয়াদে; কেউ পূর্ণ মেয়াদে।
গাছ থেকে সরাসরি পাওয়া চেয়ার ও টেবিল। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাবে এ আসবাব। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
গাছ থেকে সরাসরি পাওয়া চেয়ার ও টেবিল। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাবে এ আসবাব। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
সমস্যা একটাই, এই পণ্যের খরচ অনেক বেশি। যে পরিমাণ সময়, পরিশ্রম এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয় তাতে খরচটা বেড়ে যায়। প্রতিটি চেয়ারের দাম শুরু হয়েছে দুই হাজার ৫০০ পাউন্ড থেকে, ল্যাম্প ৭০০ পাউন্ড থেকে এবং আয়নার কাঠামো ৪৫০ পাউন্ড থেকে।

আইএস আর কত দূর?

জঙ্গি সংগঠন আইএসের হামলায় ইরাকের রামাদির
বহু পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছে। বর্তমানে
শহরটি আইএসের দখলে আছে। ছবি: রয়টার্স
মুসলিম বিশ্বে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের আগমন দুষ্ট ঝড়ের মতো। ইরাক ও সিরিয়ার ঐতিহাসিক দুটি শহর রামাদি ও পালমিরা বেশ দাপটের সঙ্গে দখল করে শক্তিমত্তা ভালোই জাহির করে তারা। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিপক্ষের লোকজনের লাশ ফেলে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। দুনিয়াজুড়ে ছড়ি ঘোরানো ওয়াশিংটন বসে যায় আইএসের পুনর্মূল্যায়নে। পণ্ডিতেরা এখন নাড়াচাড়া করছেন—আইএসের কৌশলটা আসলে কী? কত দূর গড়াবে তাদের ক্ষমতার দৌরাত্ম্য?
‘খিলাফত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে আইএসের চালানো রক্তক্ষয়ী অভিযান এর মধ্যে এক বছরের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। সংগঠনটির অর্জন-ব্যর্থতা আর ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, আর্থিক অবস্থা আর অস্ত্রের মজুত মিলিয়ে আইএস এখন তাদের গণ্ডির শেষ সীমায় এসে গেছে। তাদের শক্তি বলতে এটুকুই।
এর কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নানা তথ্য আর চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে ইরাক ও সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর নিজেদের দখলে নিয়েছে আইএস—ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পশ্চিমের শহর রামাদি এবং সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উত্তর-পূর্বের পালমিরা। এই দুই শহরের রাস্তাগুলো শত্রুর রক্তে রাঙিয়ে বিজয়ের আনন্দে ভাসছে আইএসের সদস্যরা। আর ঘোষণা দেওয়ার পরও আইএসকে মোকাবিলা করতে না পারার ব্যর্থতার সমালোচনা সইতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
আইএস সুন্নিপন্থী। ইরাকে সুন্নি-অধ্যুষিত এলাকাগুলো আইএস একরকম বিনা বাধায় নিজেদের দখলে নিতে পেরেছে। ইরানের শিয়াপন্থী মিলিশিয়াদের সমর্থন নিয়ে ইরাকের শিয়া সরকার আইএসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তা সফল হয়নি।
সিরিয়ার ঘটনাটা আবার বেশ জটিল। সেখানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র বাশারকে হটাতে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যখন এমন, তখন এর ভেতরে ঢুকে পড়েছে আইএস। সিরিয়ায় তাই কৌশলগত বেকায়দায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বাশারের পক্ষেও না, আবার বাশারের বিপক্ষে থাকা আইএসের পক্ষেও না। যুক্তরাষ্ট্র তাই কঠোর কোনো অবস্থান নিতে পারছে না। এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে সিরিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে আইএস। ইরাক ও সিরিয়া—দুই দেশেই এই জঙ্গি সংগঠনটি কুর্দিদের সঙ্গে লড়েছে।
এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, যে স্থানগুলো আইএস নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে, সেখানে কেমন শাসন তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং বাসিন্দারা সেটা কীভাবে নেয়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে এডুকেশন ফর পিস ইন ইরাক সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আহমেদ আলী বলেন, রামাদি ও পালমিরা নিজেদের দখলে রাখাই আইএসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে আইএসের একটা লক্ষ্য ছিল, এখানে নিজেদের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখন যখন এসব এলাকা নিজেদের দখলে এসেছে, তখন এটা রক্ষা করার কাজেই বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
গত বছরের জুনে এই খিলাফত রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয় জঙ্গিরা। আবু বকরের নেতৃত্বাধীন এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি এরই মধ্যে তাদের ‘রাষ্ট্র’ সম্প্রসারণ করা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আইএসের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হামলার তেমন সাফল্য নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লড়াইয়ের মাঠে বিশ্বাসযোগ্য স্থলবাহিনীর অভাব এবং তুলনামূলক দুর্বল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে এমনটা হচ্ছে। এর বিপরীতে আইএস কৌশলগতভাবে সেসব এলাকায় তাদের সম্প্রসারণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। কোনো এলাকা দখলে নিতে পারলে সেখানে নিজেদের শাসনব্যবস্থা চালু করছে আইএস। এভাবে আইএস যেখানে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হচ্ছে, সেখানেই শক্ত খুঁটি গেড়ে বসছে। কাজেই তাদের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও শেকড় কিন্তু কম শক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এই শেকড় ওপড়ানো সহজ কথা নয়।

রাজ্জাক অপহরণের নেপথ্যে রয়েছে ইয়াবা ব্যবসা

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আবদুর রাজ্জাক অপহরণের নেপথ্য কাহিনী ইয়াবা-ব্যবসা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার দুর্গম সীমান্ত রয়েছে। আর এই পথ ধরেই বানের পানির মতো বাংলাদেশে ঢুকছে কোটি কোটি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। সেদিনও ইয়াবা বহনকারী একটি নৌকাকে ধাওয়া করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন রাজ্জাকসহ বিজিবি সদস্যরা। দুদেশের চোরাকারবারিদের পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) কতিপয় সদস্যও অবৈধ এই ইয়াবা-ব্যবসায় জড়িত। কিন্তু  তাদের এ পথে কাঁটা হয়ে কিংবা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। তাই ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট নিরাপদ রাখতেই পরিকল্পিতভাবে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে মিয়ানমারের বিজিপি। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) হাতে অপহƒত নায়েক আবদুর রাজ্জাককে গত সাত দিনেও ছেড়ে না দেয়ায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বিজিবিতে। এছাড়া গত রোববার বিশ্ব বাবা দিবসের নতুন করে বাবা হয়েছেন রাজ্জাক। এদিন তার স্ত্রীর কোলজুড়ে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান জš§ নেয়। কিন্তু অভাগা বাবা রাজ্জাক মিয়ানমারে অপহƒত থাকায় এখনো তার প্রিয় সন্তানের মুখখানা দেখতে পারেননি। তার স্ত্রীও স্বামীকে ফিরে পেতে অধীর অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
গত বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফের নাফ নদীর বাংলাদেশ অংশে বিজিবির ছয় সদস্য দুটি নৌকায় করে টহল দিচ্ছিলেন। তারা ইয়াবা ট্যাবলেট ভর্তি একটি নৌকাকে ধাওয়া করে আটক করার চেষ্টা করছিলেন বিজিবি। এ সময় একটি টহল নৌকাকে লক্ষ্য করে বেসামরিক পোশাক পরিহিত মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় বিজিপির একটি টহল দল নায়েক রাজ্জাককে একটি এসএমজি ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিজিপির গুলিতে বিজিবির সিপাহী বিপ্লব আহত হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকেই মূলত বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা নিয়মিত আসছে। যে এলাকায় নায়েক রাজ্জাকসহ বিজিবির সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন একই পথে গত এক বছরে বিজিবি ১২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। যার বাজার মূল্য কোটি কোটি টাকা। এছাড়া কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও পুলিশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সূত্রগুলো জানায়, ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও জড়িত। নাফ নদীসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করলে তাদের অবৈধ আয়ের পথ হ্রাস পায়। আর এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বার বার হামলা চালিয়ে বিজিবি সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সূত্র মতে, মানব পাচার, চোরাচালান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগে কয়েক বছর আগে নাসাকা বাহিনী বিলুপ্ত করে বিজিপিকে বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন করে মিয়ানমার। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যেই বিজিপির বিরুদ্ধে ইয়াবা চোরাচালানসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
সূত্র মতে, বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফেরত দিতেও নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিপি) একেক দিন তারা একেক রকম বক্তব্য ও তথ্য দিচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে বিনা শর্তে নায়েক রাজ্জাককে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে মুক্তি দেয়ার আশ্বাস দেয় বিজিপি। এর আগে এদিন দুপুরে মিয়ানমান কর্তৃপক্ষের কথা হয় বিজিবির কর্মকর্তাদের। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মানব পাচারের শিকার হয়ে যারা এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে ফেরত দিতে চান নায়েক রাজ্জাককে। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের এ শর্তপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাজি নয় বিজিবি।
বিজিবি সূত্র মতে, নাফ নদীর একই স্থান ও সীমান্তপথে ইয়াবা পাচারকারীদের ধরতে গেলে গত বছরের ১৪ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বিজিবির ওপর হামলা চালায়। তখন বিজিবি সদস্য সুমনসহ কয়েকজন আহত হন। মিয়ানমার সীমান্তের যে পথ দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখানেই মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির একটি ক্যাম্প রয়েছে। যার নাম ‘রানাও ক্যাম্প’। সীমান্তে ইয়াবা উদ্ধারে বিজিবি সদস্যরা এগিয়ে গেলেই ওই ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে বার বার গুলি চালানো হয়। সূত্র জানায়, এ আগে গত বছরের ২৮ মে বিজিবির নায়েক মিজানকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। পরে তার মৃতদেহ হস্তান্তরেও বিজিপি নানা টালবাহানা ও জটিলতার সৃষ্টি করেছিল। তখনও মিজান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) জঙ্গি উল্লেখ করে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। পরে তারা মিজানের লাশ সহজ পথে না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্গম এলাকায় হস্তান্তর করে। 
এ বিষয়ে বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জার আল জাহিদ বলেন, সোমবার তিন দফায় কথা হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারা নতুন করে শর্ত দিচ্ছেন তাকে মংদু সীমান্ত দিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে তারা মানব পাচারের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। কিন্তু মানব পাচার ও নায়েক রাজ্জাকের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদ বলেন, কোানো শর্ত ছাড়াই কখন কিভাবে নায়েক রাজ্জাককে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, জানাতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেয়া হয়েছে। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি।

নিজস্ব মুদ্রা প্রকাশ করলো আইএস

নিজেদের তৈরি কয়েনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলো জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। দীর্ঘদিন ধরেই এমন কয়েনের কথা শোনা যাচ্ছিল। এবার তা প্রকাশ্যে এল। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে কয়েনের এক পিঠে শস্যের ছবি, অপর পিঠে বিশ্বের মানচিত্র। নিজেদের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতেই হাওয়ায় ওড়া শস্যের ছবি  ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি আইএসের। কয়েনের গায়ে লেখার জন্য আরবি ভাষা ব্যবহার করেছে তারা।

একালের আওয়ামী লীগকে কেনা যায় by পীর হাবিবুর রহমান

উপমহাদেশে কংগ্রেসের পর প্রবল দাপটে রাজনীতিতে যে দলটি বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে আছে তার নাম আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ’৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে ন্যাপ গঠনের মাধ্যমে বেরিয়ে যান। আর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হকের বিয়োগান্তক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল। কার্যত বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গণমানুষের হৃদয়ের ভাষা সুর ও চেতনাকে লালন করে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই আওয়ামী লীগ নামের এই দলটির চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। তৃণমূল বিস্তৃত সামন্তশ্রেণীর ধ্বংসস্তূপে পরিণত মুসলিম লীগের কবর রচনা করে শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য সাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের ক্যারিশমা, বাগ্মিতা আর ক্লান্তিহীন পথচলার মধ্য দিয়েই গরিবের দল আওয়ামী লীগের বিস্তৃতি ঘটেছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রামকে অগ্রভাগে রেখে মূলত বঙ্গবন্ধু তার আওয়ামী লীগকে নিজের আপসহীন নেতৃত্বের ইমেজের ওপর ভর করে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জীবন যৌবন উৎসর্গ করা লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে তৈরি করেছিলেন। ৬ দফার ওপর ভর করে আওয়ামী লীগের যে অগ্রযাত্রা সেখানে বঙ্গবন্ধুর মানিক ভাই খ্যাত ইত্তেফাক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার শক্তিশালী লেখনী, সমর্থন এমনকি আইয়ুব খানের দমন নীতিকে উপেক্ষা করে জেল খাটা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। সেই জেলের নির্যাতনই তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরবর্তী সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারণ বলে অনেকে মনে করেন।
গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীই ছিলেন মূলত শেখ মুজিবের নেতা। ৬৩ সালে গণতন্ত্রের সেই মহান নেতার মৃত্যুর পর বঙ্গবন্ধু এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি এই দলটিকে নিজের ইমেজের ওপর স্বাধিকার স্বাধীনতার পথে এমনভাবে গড়েছিলেন যে, ৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ প্রতিটি আসনেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় তার প্রার্থীদের সামনে রাখলেও কার্যত বঙ্গবন্ধুকেই নৌকায় ভোট দিয়েছিল। এদেশের মানুষকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, সততার রাজনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পথে ত্যাগের মহিমায় গণমানুষের স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতিই আওয়ামী লীগ শিখিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিটাই ছিল ত্যাগের রাজনীতি। আওয়ামী লীগের রাজনীতিটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আটপৌরে সাধারণ নিরাভরণ জীবনের ছবি। কর্মী মূল্যায়নের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের অতীত ছিল বর্ণময়। কালো মুজিব কোট সাদা পায়জামা পাঞ্জাবিই ছিল আওয়ামী লীগের আত্মঅহংকারের পোশাক। আওয়ামী লীগাররা মানুষের কল্যাণে রাজনীতির জন্য আত্মদানই করেনি; ভিটেমাটি পর্যন্ত শেষ করে রিক্ত নিঃস্ব হয়েছে এমনটাই ছিল তার গৌরবের মুকুট। ভোগ নয়, বিলাসিতা নয়; ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে কর্মী ও মানুষের আস্থা অর্জনের পথেই হেঁটেছেন নেতারা। সেকালের আওয়ামী লীগের সঙ্গে একালের আওয়ামী লীগের যোজন যোজন দূরত্ব ও তফাত। একালের আওয়ামী লীগেও লাখো লাখো ত্যাগী ও সৎ নেতা-কর্মী রয়েছেন। তবুও একালের আওয়ামী লীগের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, কারো কারো বা ভোগ বিলাসের ও বিত্ত বৈভবের প্রাসাদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। একালের আওয়ামী লীগ সম্পর্কে খোদ মুজিব কন্যা ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্যটি করেছিলেন, সেখানেই প্রকৃত চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাইকে কেনা যায়।’ এই সবার মধ্যে সব নেতা-কর্মী নয়। কিন্তু মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা যাদের ইঙ্গিত করেছিলেন, তারা ঠিকই জানেন- তাদের কেনা যায়। তাই কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস করেননি। তাদের মধ্যে কারো আত্মমর্যাদা ও সততা থাকলে পদত্যাগ করে চলে যেতেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছিল গরিবের স্বার্থরক্ষার।
একালের আওয়ামী লীগ স্থানে স্থানে সিন্ডিকেট গঠন করে মানুষের সম্পদ ও অধিকার হরণ করে বসে।  সেকালের আওয়ামী লীগাররা কমিশন বাণিজ্য, তদ্বির বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও দখলবাজি জানতেন না। প্রশ্রয় দিতেন না। সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত ছিলেন। ৬৬ বছরের মাথায় এসে দাঁড়িয়ে একালের আওয়ামী লীগাররা এইসব ডালভাত মনে করেন। বিত্ত বৈভব বিলাসী জীবনের জন্যই যেন রাজনীতি। বঙ্গবন্ধুর হাতে বিকশিত আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্টের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্য দিয়ে পরিবার পরিজনসহ জাতির জনককেই হারায়নি; রাজনৈতিক করুণ বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়। জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে ভাঙ্গন-দলাদলি-কোন্দল কবলিত আওয়ামী লীগকে নতুন যাত্রাপথে টেনে নিয়ে যান ৮১ সালের কাউন্সিলে দলের হাল ধরা মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই সংগ্রামের সিঁড়িপথে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আসে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়। তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা ক্ষমতাকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তার দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ও নারীর ক্ষমতায়ন অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের সাহস নজর কেড়েছে। কিন্তু শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা আর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের একদল নেতা-কর্মীর হরিলুট দলটির গৌরবময় ত্যাগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে।
এক সময় আওয়ামী লীগে মাঠের নেতৃত্ব দিতেন আইনজীবী, শিক্ষকরা। এখন দেন ঠিকাদার, ব্যবসায়ীরা। আমলা আইনজীবী যারা হাতেগোনা সুযোগ পাচ্ছেন তারাও স্থানীয় দুর্নীতির সিন্ডিকেটে নাম লিখাচ্ছেন। এই আওয়ামী লীগ একটি জাতির স্বাধীনতা ও বিকাশে ইতিহাসের পরতে পরতে ভূমিকা রেখেছে। গরিবের দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চেহারায়ও ছিল সাধারণ বেশভূষা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে এখন অনেকে সেই আদর্শকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। বহু নেতা-কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম ঘাম ও মেধা জড়িয়ে থাকা এই বটবৃক্ষের নিচে অনেকে থাকলেও কতজন যে হারিয়ে গেছেন, ঠাঁই দেয়া হয়নি এই বট ছায়ায়। উল্টোপিঠে টাকাওয়ালারা আশ্রয় নিচ্ছে। ধনাঢ্যদের কদর বাড়ছে। ত্যাগী পোড় খাওয়া বিত্তহীন কর্মীদের মূল্য কমে যাচ্ছে। ত্যাগী নেতাদের জন্য যেটুকু দুয়ার খোলা আছে তা শুধু দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার। বাকি সব বড় নেতা ও মন্ত্রীরা নিজেদের এলাকার বাইরে কর্মীদের প্রবেশাধিকারই দেন না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ ক্ষমতা ঘিরে বিত্ত বৈভব বিলাসিতার রঙিন আমুদে জীবনে স্বপ্নের মতো বাস করছেন। আরেকটি অংশ বঙ্গবন্ধু ও দলকে ভালোবেসে অন্তহীন বেদনা সয়ে কোনো রকম টিকে আছেন। তাদের দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারি হলেও দখলবাজদের আধিপত্যের লড়াই বন্ধ হয় না।