Wednesday, August 18, 2010

এবার প্রেমিক জুটিকে পাথর ছুড়ে হত্যা করল তালেবান

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের মুল্লা কুলি গ্রামে পাথর ছুড়ে এক প্রেমিক জুটিকে হত্যা করেছে তালেবান জঙ্গিরা। তালেবানের ভাষ্যমতে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার দায়ে তাঁদের এ শাস্তি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি সূত্র গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছে।
কুন্দুজ প্রদেশের ইমাম সাহিব জেলার গভর্নর মোহাম্মদ আইয়ুব জানিয়েছেন, তালেবান-নিয়ন্ত্রিত মুল্লা কুলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর বয়স ২৩ এবং পুরুষ লোকটির বয়স ২৮ বছর।
আবদুস সাত্তার নামের ওই গ্রামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রোববার বিকেলে শতাধিক তালেবান জঙ্গি ওই জুটিকে একটি খোলা ময়দানে দাঁড় করায়।
একপর্যায়ে তাঁদের পাথর ছুড়ে হত্যার সমন পাঠ করে শোনানো হয়। তাঁদের পিঠমোড়া করে বেঁধে পাথর ছুড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক তালেবান মুখপাত্র জানান, পুরুষ লোকটি বিবাহিত। নিজের স্ত্রী রেখে তিনি ওই নারীটির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ বিষয়টি তিনি ও ওই নারী স্বীকার করেছেন। তাই শরিয়া আইন অনুযায়ী তাঁদের পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে, এ মাসের গোড়ার দিকে, বাদিস প্রদেশে এক বিধবা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে প্রকাশ্যে দোররা মেরে হত্যা করে তালেবান জঙ্গিরা।

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তাঁরা

তাঁরা সম্ভবত কখনো কল্পনাও করেননি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে এভাবে ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু ভাগ্যের জোরে তাঁরা বেঁচে গেছেন। তাঁরা হলেন রাজ কুমার নায়ক, তাঁর স্ত্রী প্রতিভা এবং তাঁদের তিন বছরের মেয়ে রিজুল।
রাজ কুমার ইন্দো তিব্বাতিয়ান বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) ২৪ ব্যাটালিয়নের একজন প্রকৌশলী। মাত্র এক মাস আগে তাঁকে বদলি করা হয়েছে ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের লেহ অঞ্চলে।
৫ আগস্ট রাতে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় আকস্মিকভাবে তলিয়ে যায় লেহ অঞ্চল। মারা যায় অনেক মানুষ। আকস্মিক ওই বন্যা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে এসেছেন রাজ কুমার আর তাঁর স্ত্রী-কন্যা। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আহত হয়েছেন।
ভয়াবহ সেই রাতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজ কুমার। তিনি বলেন, ‘প্রায় মধ্যরাত, আরেকটা সকালের জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম ব্যাটালিয়নে আমার বাসার ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। এরপর প্রতিভা রান্নাঘরের দিকে গিয়েই দেখতে পেল, একটা গাড়ি আমাদের বাসার দিকে ছুটে আসছে। প্রথমে ও মনে করেছিল সম্ভবত এটা কোনো মাতাল চালকের কাজ। কিন্তু একটু পরই বুঝতে পারল ঘটনা আসলে তা নয়, গাড়িটা ভেসে আসছে পানির তোড়ে।’
এর পরের কাহিনি প্রতিভাই বললেন। তিনি জানান, তাঁরা তিনজনই দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। প্রতিভা বলেন, ‘আমার স্বামী এক হাতে রিজুলকে অন্য হাতে আমাকে ধরলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বামীর হাত থেকে আমি ছুটে গেলাম। এরপর আমি ভেসে চললাম পানির স্রোতের মুখে।’ প্রতিভা ওই রাতে বেঁচে গিয়েছেন, ধসেপড়া মাটির ওপর কোনো রকমে নাকটা বের করে রেখে। পরদিন সকাল ছয়টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামবাসী। এরপর তাঁকে নিয়ে আসা হয় আইটিবিপির মেডিকেল ক্যাম্পে। সেখানে তিনি খুঁজে পান স্বামী-সন্তানকে।
সবচেয়ে অলৌকিক রিজুলের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা। রাজ কুমার প্রিয় সন্তানকে শক্ত হাতে ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বেশিক্ষণ আঁকড়ে রাখতে পারেননি। একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে ছুটে যায় রিজুল। এরপর পানির স্রোতের মুখে সে গিয়ে ঢোকে আইটিবিপির অফিসার্স মেসের কক্ষের সোফার নিচে।
রাজ কুমার বলেন, ‘পরদিন সকালে সোফার নিচ থেকেই রিজুলকে উদ্ধার করেন আইটিবিপির কর্মকর্তারা। তখন তার চোখ বন্ধ। শরীরের তাপমাত্রা অসম্ভব রকম কম। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সে বেঁচে যায়।’ রাজ কুমার নিজে আত্মরক্ষা করেছিলেন একটি রাতের বেশির ভাগ সময় একটি খুঁটি আঁকড়ে ধরে।

ভারতের চেয়ে সুযোগ ও সীমা বেশি

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুসারে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) বিধান অনুসারে সে দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সীমা সে তুলনায় অনেক কম।
প্রথম আলোয় গতকাল সোমবার অর্থ ও বাণিজ্য পাতায় ‘শেয়ারবাজারে ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতার ঝুঁকি, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অধিক সতর্ক’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার ভিত্তিতে গতকাল বিশেষত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অনেকের মধ্যে এ রকম আলোচনা হয়েছে যে, ভারতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সুযোগ বেশি। কেউ কেউ প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে দাবি করেন, বাংলাদেশেও ভারতের অনুরূপ সুযোগ দেওয়া হোক। প্রকৃত অর্থে তাঁদের দাবির মধ্যে একটা ভুল হিসাব রয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ সমষ্টিগতভাবে ব্যাংকের মোট দায়ের ১০ ভাগের বেশি হতে পারবে না।
আর আরবিআই এ বিষয়ে তাদের দেওয়া মাস্টার সার্কুলারে উল্লেখ করেছে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা (ফান্ডেড ও নন ফান্ডেড) কোনো ব্যাংকের নিট সংগতির (নেট ওরথ্) ৪০ ভাগের বেশি হবে না। নিট সংগতির একটা সংজ্ঞা সার্কুলারে রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পরিশোধিত মূলধন ও সাধারণ মজুদ (ফ্রি রিজার্ভ) নিয়ে নিট সংগতি হবে।
উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১০ সালের জুন মাসের হিসাবে বেসরকারি এবি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ও সাধারণ মজুদের মোট পরিমাণ (নেট ওরথ বা নিট সংগতি) দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২০৯ কোটি সাত লাখ টাকা।
এখন আরবিআইয়ের বিধান অনুসরণ করলে, পুঁজিবাজারে এই ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সীমা অর্থাৎ নিট সংগতির ৪০ শতাংশ হিসাব করলে দাঁড়ায় ৪৮৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
আবার ২০১০ সালের জুন মাসের হিসাবে এবি ব্যাংকের মোট দায় (আমানত) রয়েছে ১০ হাজার ৬৮১ কোটি ০২ লাখ টাকা। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুসরণ করলে, মোট দায়ের ১০ শতাংশ এক হাজার ৬৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির পুঁজিবাজারে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সর্বোচ্চ সীমা।
একইভাবে এ বছর জুন মাসের হিসাবে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ও সাধারণ মজুদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আরবিআইয়ের বিধান অনুসারে পুঁজিবাজারে এই ব্যাংকের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সীমা ৪০ শতাংশ হিসাব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
আবার একই সময় প্রাইম ব্যাংকের মোট দায় ১২ হাজার ৪৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুসারে মোট দায়ের ১০ শতাংশ হিসাবে ব্যাংকটির পুঁজিবাজারে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সুযোগ রয়েছে এক হাজার ২৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সুতরাং দেখা যায়, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সুযোগ বেশি।

স্টক এক্সচেঞ্জে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক বিভাগ গঠনের নির্দেশ



  1. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সম্পর্কে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে আলাদা বিভাগ বা সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
    এতে বলা হয়েছে, এসব সেল তালিকাভুক্ত কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবে। সেলের মাধ্যমে কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে তা এসইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
    একই সঙ্গে সেলের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এসইসির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
    এসইসি বলছে, কোম্পানি আইন এবং সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওপর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের যেসব অধিকার রয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই তা সঠিকভাবে পরিপালন করা হয় না।
    যথাসময়ে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) খবর না পাওয়া, বার্ষিক প্রতিবেদন না পৌঁছানো, রিফান্ড ও ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট ঠিক সময়ে হাতে না পাওয়াসহ নানা বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে পৃথক কোনো বিভাগ না থাকায় প্রায় ক্ষেত্রেই সেখান থেকে কোনো সহায়তা পান না বিনিয়োগকারীরা।
    এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি সহজ করার জন্য পৃথক বিভাগ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    এসইসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের অনেকখানি দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। তাই কোম্পানির কার্যক্রম তদারকি, বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
    এসইসির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ দুটিতে তুলনামূলকভাবে লোকবল বেশি। ফলে তাদের পক্ষে সহজেই এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ। তবে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে তাদের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। এ ধরনের জটিল বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য এসইসির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
    জানা গেছে, ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত এসইসির সমন্বয় সভায় বাজারের স্বচ্ছতা এবং কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য ডিএসই ও সিএসইতে পৃথক সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
    যোগাযোগ করা হলে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ডিএসই ও সিএসইতে এ অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরাও তাঁদের বঞ্চনার তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জানাতে উৎসাহিত হবেন।

নরসিংদীতে অগ্রণী ব্যাংকের সাড়ে ১০ লাখ টাকা খোয়া, চারজন কারাগারে

অগ্রণী ব্যাংক নরসিংদীর পলাশ বাজার শাখা থেকে ১০ লাখ ৫২ হাজার টাকা খোয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে অর্থ গায়েবের বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পুলিশ এ ঘটনায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক নরসিংদী আঞ্চলিক অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমুল হক জানান, গত রোববার ব্যাংকের দারোয়ান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে ওই দিন রাতে ব্যাংকের পাহারায় কেউ ছিল না। গতকাল সকালে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ ব্যাংকের ভল্টরুম খুলতে গিয়ে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে দেখেন, ভল্টে থাকা ১০ লাখ ৫২ হাজার ৬৩ টাকা ৬৭ পয়সা খোয়া গেছে। এ ঘটনায় সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমুল হক বাদী হয়ে গতকালই পলাশ থানায় মামলা করেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান অর্থ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মামলা দায়েরের পর পুলিশ ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন, কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন সরকার, উচ্চমান সহকারী কামরুল ইসলাম ও দারোয়ান হাতেম আলীকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে আজ সকালে নরসিংদী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢাকার শেয়ারবাজার

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) গতকাল সোমবার সাধারণ সূচক ও মোট লেনদেন কমলেও আজ মঙ্গলবার তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুপুর দেড়টায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৩৩ পয়েন্টে। গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৫০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে গিয়েছিল। আজ মোট এক হাজার ৯২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩৮৭ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪২টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১০১টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, আফতাব অটোমোবাইলস, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস ও সামিট পাওয়ার।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো আলফা টোব্যাকো, ইস্টার্ন হাউজিং, ফেডারেল ইনস্যুরেন্স, বিজিআইসি ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো পঞ্চম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, ইমাম বাটন, স্ট্যান্ডার্ড সিমেন্ট, অষ্টম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।

উডসের মেজর-খরার আরেকটি বছর

গত রোববার ইউএস পিজিএ ট্যুরের শেষ গর্তটিতে বল ফেলার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন টাইগার উডস। খুবই ক্লান্ত লাগছিল তাঁকে। যেন হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এমনই হওয়ার কথা। ততক্ষণে যে নিশ্চিত হয়ে গেছে গত বছরের মতো এবারও কোনো মেজর জেতা হচ্ছে না।
ক্যারিয়ারে ১৪টি মেজর শিরোপা জিতেছেন। অথচ টানা দ্বিতীয় বছর কোনো মেজর শিরোপা জেতা হলো না টাইগার উডসের। এমনিতেই গোপন প্রেমের কেলেঙ্কারি নিয়ে উডসের জীবনে ভীষণ ঝামেলা। এর মধ্যে মেজর শিরোপা-খরা।
হতাশা আর গোপন করতে পারেননি গলফ কিংবদন্তি, ‘বছরটা দুর্দান্ত হতে হলে আপনাকে অবশ্যই মেজর শিরোপা জিততে হবে। গত বছর আমি ৬ বার জিতেছি। তার পরও এটা শুধু ভালো বছরই ছিল। কোনো মেজর শিরোপা যেহেতু জিতিনি, তাই এটাকে দুর্দান্ত বছর বলা যাবে না।’
উডস সর্বশেষ মেজর জিতেছেন ২০০৮ সালে। সে বছরের ইউএস ওপেনের পর টানা ১০টি মেজরে ব্যর্থতা সঙ্গী তাঁর।

ভবনে এসে ফিরে গেলেন এনামুল

ফুটবলারদের রিপোর্ট করার কথা ছিল গতকাল। নভেম্বরে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য ডাক পাওয়া ৩২ খেলোয়াড়ের ফুটবল ভবনে কোচ সাইফুল বারী টিটুর কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রিপোর্টিং পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৯ আগস্ট।
সব খেলোয়াড়কে এটি ঠিকমতো জানানো হয়নি বলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। স্ট্রাইকার এনামুল কাল নওগাঁ থেকে ভবনে এসে ফিরে গেলেন হতাশ হয়েই, ‘কী আর করা! আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। নওগাঁতেই ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার ১৯ আগস্ট আসব।’ তবে কোচ সাইফুল বারীর দাবি, ‘আমরা সবাইকে জানিয়েছিলাম। ঢাকার বাইরের খেলোয়াড়েরাই আমাদের অনুরোধ করেছিল রিপোর্টিং পিছিয়ে দিতে। কারণ ঢাকার বাইরে যাতায়াতের ঝক্কি অনেক। অনেক সময় বাস-রেলের টিকিট পর্যন্ত মেলে না।’ ২০ আগস্ট থেকে বিকেএসপিতে শুরু হবে খেলোয়াড়দের আবাসিক অনুশীলন।

টেস্ট ক্রিকেটকে টেইটের ‘না’

‘স্বেচ্ছা নির্বাসন’ থেকে ফিরে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাকা করেছেন। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে পারফরম্যান্স তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে ওয়ানডে দলেও। দেড় বছর পর ফিরে সফল ওয়ানডেতেও। এসব দেখেই কিছুদিন ধরে গুঞ্জন, টেস্ট ক্রিকেটেও ফিরতে পারেন শন টেইট। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিংও অ্যাশেজ সামনে রেখে তাঁকে বলেছিলেন ফেরার কথা বিবেচনা করতে। তবে ক্রিকেট ইতিহাসে গতির ‘সেঞ্চুরি’ করা দ্বিতীয় বোলার জানালেন, টেস্ট অধ্যায় আবার শুরু করার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।
‘রিকি আমাকে একবার শুধু বলেছে বিবেচনা করতে, বিস্তারিত কোনো আলাপ হয়নি। আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, আমি কী চাই। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলায় অনেকেই আমাকে দেখে রোমাঞ্চিত হয়েছে, টেস্টে ফেরা নিয়ে গুঞ্জনও উঠেছে। তবে সে সম্ভাবনা নেই। অবশ্য আমার ধারণা, নির্বাচকেরাও আমাকে ফিরতে বলত না’—গ্ল্যামরগনের হয়ে কাউন্টি টি-টোয়েন্টি খেলে দেশে ফেরার পর বলেছেন টেইট। ২৫টি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টি খেললেও ২৭ বছর বয়সী বোলার টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৩টি। টানা খেলার অবসাদ আর একের পর এক ইনজুরিতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে গিয়েছিলেন টেইট। ফিরেছেন ওই বছরই। টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন। গত মাসে ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তন সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। লর্ডসে করেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম বল (১০০.১ মাইল)।
টেইট জানালেন, নিজেকে ইনজুরিমুক্ত রাখার জন্য টেস্টের ধকল নিতে চাইছেন না, ‘আমার শরীরটা এখন খুবই ভালো আছে, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটটাই তাই শুধু খেলে যেতে চাই। এই সিদ্ধান্তে আমার উপকারই হয়েছে, তাই এতেই অনড় থাকছি।’

সাকিব ২২ বলে ১৮

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই দিনের ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। কাল মাঠে ফিরেও ভালো কিছু করতে পারেননি বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক। কাউন্টি ক্রিকেটে সারের বিপক্ষে উস্টারশায়ারের নিজেদের মাঠে চার দিনের ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১৮ রান করে ট্রেমলেটের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন সাকিব।
সাকিবের দল উস্টারশায়ার প্রথম ইনিংসে করেছে ৩০৮ রান। সাকিবের ২২ বলের ইনিংসে বাউন্ডারিই ৪টি।

ডাবল উইকেট ডাকছে সাকিব-আশরাফুলকে

প্রস্তাবটা এসেছে কেনিয়া থেকে, দিয়েছে সেখানকার চপল স্পোর্টস নামের একটা সংগঠন। জিমখানা ক্রিকেট মাঠে আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় একটা ডাবল উইকেট টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ আশরাফুল।
তা আশরাফুল-সাকিব কি যাচ্ছেন খেলতে? বিসিবির অনুমতি নিতে হবে বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যানকে। আশরাফুল এর মধ্যেই কেনিয়া থেকে আসা চিঠির অনুলিপি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। ওই সময়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকছে না বলে আশরাফুল-সাকিবের টুর্নামেন্টটিতে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। এখানে খেলাটা তাদের জন্য লোভনীয়ও। খেললে প্রত্যেকেই পাবেন ৫ লাখ টাকা করে, সঙ্গে বিমানের বিজনেস ক্লাসে যাওয়া-আসা, পাঁচ তারকা হোটেলে থাকা-খাওয়ার সুবিধা।