Wednesday, November 19, 2014

গুলি করে হত্যা করা হয় মিস হন্ডুরাস ও তার বোনকে!

নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে মিস হন্ডুরাস মারিয়া হোসে আলভারাডো (১৯) ও তার বোন সোফিয়া (২৩) এর মৃতদেহ। একটি স্পা’র কাছে তাদের মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর দিয়েছে। তবে আসলেই ওই দুটি মৃতদেহ তাদের কিনা তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপরই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সব কিছু। এ কথা বলেছেন হন্ডুরাস ন্যাশনাল পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল র‌্যামন সাবিলন। তিনি বলেছেন, তাদেরকে হত্যার জন্য সন্দেহ করা হয় সোফিয়ার প্রেমিক প্লুতারকো রুইজকে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ সান্তা বারবারায় একটি পাহাড়ি এলাকায় একটি নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই দু’বোন রুইজের জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়েছিলেন। তার পর থেকে তারা নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, ওইদিন রাতেই তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর নদীর তীরে পুঁতে রাখা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের ধারণা হত্যার পর ওই দুটি মৃতদেহ দ্রুততার সঙ্গে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়, যাতে তা তাড়াতাড়ি পচে যায়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, রুইজ তার প্রেমিকা সোফিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে। কারণ, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি নাচছিলেন। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। এরপরই একটি পিস্তল বের করে প্রথমে সে গুলি করে সোফিয়াকে। এ অবস্থা দেখে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন মিস হন্ডুরাস। তখনই সে তাকেও গুলি করে। এর পরের দিন সকালে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে রুইজ। আলভারাডো গত এপ্রিলে মিস হন্ডুরাস নির্বাচিত হন। আগামী মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা মিস ওয়ার্ল্ড প্যাজেন্ট। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল এ সপ্তাহেই। কিন্তু এ কথা জানার পরই ওই প্রতিযোগিতার এক প্রতিনিধি ঘটনার নির্মমতা বর্ণনা করে বলেছেন, এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে না হন্ডুরাস।

৫ জানুয়ারি ভোট দিয়েছে এমন কাউকে পাননি ড. কামাল

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, “জনগণের প্রতিনিধি হতে হলে জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হতে হবে। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিয়েছে এমন কাউকে আমি আজ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। এটা আমার দুর্ভাগ্য।” সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ’৭২-র সংবিধান ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে একটি জাতীয় সংলাপের ওপর গুরুত্বারূপ করে এই আইনজ্ঞ বলেন, “একটি সংশোধনী হলেই সেটা চূড়ান্ত নয়। এটা নিয়ে আইনজীবীসহ সব নাগরিকের একটি জাতীয় সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে সরকারের প্রতিনিধিদের বেশি করে থাকা উচিত। আপনারা শাসক। আপনারা বেশি জ্ঞানী। আমরা সরল বিশ্বাসী মানুষ। আপনারা এসে বোঝাবেন, কোনটি ঠিক।” ড. কামাল হোসেন বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচন ১৯৮৬ সালে প্রথম শুরু হয়েছে। শাসক দল দাবি করতে পারে যে, ভোটারবিহীন নির্বাচন ঠিক আছে। কিন্তু এটা গণতন্ত্র নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন এবং তারা সরকার গঠন করবেন, এটাই গণতন্ত্র। সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারে না। এই সংবিধানপ্রণেতা বলেন, “যার যার ধর্ম তার তার। আওয়ামী লীগ গঠনের সময় আমরা ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি কেটে দিয়েছি বলে আমরা অমুসলিম হয়ে যাইনি। যে যার ধর্ম পালন করবে। এটা নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়।” তিনি আরো বলেন, জাতীয়তাবাদ নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। কারণ এই জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে।   প্রধান বিচারপতির পদ প্রসঙ্গে আইনজ্ঞ ড. কামাল বলেন, “প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারপতি শপথ অনুযায়ী বিবেক দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি পক্ষপাতিত্বভাবে কিছু করলে একটি স্তম্ভ ধসে যাবে।” গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাই তারা মাসদার হোসেন মামলায় হাইকোর্টের রায়কে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিচারব্যবস্থা এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। সততা, যোগ্যতা, মেধার ভিত্তিতে না করে দলীয়করণে বিচারক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সংগঠনের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আবু ইয়াহিয়া দুলাল প্রমুখ।

অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামীদের ৮৫ জন কারাগারে

বাংলাদেশে থেকে প্রায় ৬০০ যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আটক হওয়া ৮৫ জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের কয়েকজন মিয়ানমারের নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার আইনে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার মামলার পেক্ষাপটে ৮৫ জনকে আজ চট্রগ্রামের একটি আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে অবৈধ অনুপ্রেবেশের অভিযোগে ৮২ জনের বিরেুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক। অন্যদিকে মানবপাচার আইনে বাংলাদেশের তিনজনসহ ১৭ জনকে আসিম করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আটককৃতদের আইনি সহায়তা দিতে রেডক্রিসেন্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সোমবার গভীর সমুদ্রে টহলের সময় নৌবাহিনী জাহাজটিকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাজটিকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে তারা। অবৈধ অভিবাসনের জন্য পাড়ি দেয়া একসাথে এত মানুষকে এর আগে আটক করা হয়নি।

উপজেলা পরিষদের ‘পদ’ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে জামায়াত

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক মৃত্যুদণ্ডের রায়, নেতাকর্মীদের ওপর একাধিক মামলা ও গ্রেফতার এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের উদ্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এমন অবস্থায় উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতসমর্থিত প্রার্থীদের অপ্রত্যাশিত বিজয়ে তুষ্ট হয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে উপজেলা পরিষদের সেই পদগুলো রক্ষা করতে এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে জামায়াতের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।  এছাড়া গ্রেফতারের ভয়ে অধিকাংশ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থাকছেন। সময় মতো উপজেলার কাজে সময় দিতে পারছেন না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে মাঝে মধ্যে হাজিরা দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আব্দুস সবুর স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলায়মান সরকার সাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকারের অসহযোগিতার কারণে জামায়াত নেতাদের উপজেলার সুফল ভোগ তো দূরের কথা, এখন পদ রক্ষা করাই দায় হয়ে পড়ছে। অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত এবং জনগণকে সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পদ ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৬টিতে চেয়ারম্যান পদে, ১২৬টিতে পুরুষ এবং ৩৬টিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। বিজয়ী প্রার্থীদের প্রায় সবাই স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। সূত্র জানায়, এপ্রিলে শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ১০ চেয়ারম্যানসহ অন্তত ২৫ জনপ্রতিনিধি পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে যান। পরে বিভিন্ন সময়ে প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি পেয়ে শপথ গ্রহণ করেন তারা। শপথ নিলেও গ্রেফতার আতঙ্ক ও আটক থাকার কারণে পরিষদের দায়িত্ব বুঝে পেতে কারো কারো সাত মাস সময় লেগেছে। এর মধ্যে কয়েক দফা আটক হয়েছেন বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। বিভিন্ন মামলার আসামি করে চার্জশিট দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে অন্তত ছয়জনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০ নভেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা দবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২ অক্টোবর গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আবদুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বরখাস্তের চিঠিতেও দুটি মামলায় চার্জশিটের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ। ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা আতাউর রহমান সরকার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে জামায়াত করার অপরাধে বরখাস্ত, গ্রেফতার করছে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার। জামায়াত এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। এসব করে জনগণের মন থেকে জামায়াতকে মুছে দেয়া যাবে না।” এদিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আবদুর রউফ, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম এবং কয়েকটি উপজেলার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানসহ ছয় থেকে সাতজন আটক রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত নতুন সরকারি বরাদ্দ আসেনি। তেমন কোনো কাজেরও সুযোগ হয়নি।”  জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, “বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও কাজ করতে দিচ্ছে না।” সরকারের এ জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দানে সেরা যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমার, বাংলাদেশ ৭২

দান করার ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমার। বাংলাদেশ রয়েছে ৭২তম স্থানে। ব্রিটেনের চ্যারিটিজ এইড ফাউন্ডেশনের ওয়ার্ল্ড গিভিং ইনডেক্স ২০১৪ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। কোন দেশ কতটা দানশীল তা প্রকাশ করতেই এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৩৫টি দেশকে নিয়ে তৈরি তালিকা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার অবস্থান নবম, ভুটান ১১, ভারত ৬৯তম, পাকিস্তান ৬১।
তালিকার শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমার (প্রথম), কানাডা (তৃতীয়), আয়ারল্যান্ড (চতুর্থ), নিউজিল্যান্ড (পঞ্চম), অস্ট্রেলিয়া (যষ্ঠ), মালয়েশিয়া (সপ্তম), ব্রিটেন (অষ্টম), শ্রীলঙ্কা (নবম), ত্রিনিদাদ ও টোবাগো (দশম)।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন উদারতার তালিকায় ১২৮, রাশিয়া ১২৬। সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে জি২০ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি দেশ সেরা ২০-এর তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ দানÑখয়রাত যে কেবল সম্পদ থাকলেই হয় না তার প্রমাণ মিয়ানমারের তালিকার শীর্ষে থাকা। দেশটির ৯১ শতাংশ লোক গত বছর দান-খয়রাত করেছে। দানের ব্যাপারে দেশটির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এর পেছনে।

আগের অধ্যক্ষরা ছিলেন গরু : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী বলেছেন, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে আগে যারা অধ্যাপক বা অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন তারা গরু ছিলেন। তিনি আরো বলেন, তিনি যখন এমপি ছিলেন তখন এই কলেজে আসেননি। বুধবার মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মোঃ শহীদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান, সৈয়দ ফয়জুল্লাহ, অধ্যাপক এস এম নাজিম উদ্দিন, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার দাস মহালদার, আ’লীগ নেতা মোঃ ফিরোজ, এখলাছুর রহমান, আব্দুল মতিন, সাইফুর রহমান বাবুল, ও ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ জাকারিয়া প্রমুখ।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তার বক্তব্যে নিজের বিগত সময়ে ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন, এই কলেজে তার পরিবারের অনেক অবদান আছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো দ্বারা উন্নয়ন সম্ভব নয়। মন্ত্রী এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলেন, তোমরা প্রেম করবা। তাহলে আমার সাথে করো, তোমাদের কান আমার কাছে দাও।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন আগে যে অধ্যাপক বা অধ্যক্ষ দায়িত্বে ছিলেন তারা গরু ছিলেন। (শ্রোতাদের যাতে শব্দটি নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে সেজন্য তিনি এটা ইংরেজিতেও পুনরাবৃত্তি করেন) এখন আর সেই দিন নেই। সেই স্বৈরাচারের (তার প্রতিপক্ষ নিজ দলের এক নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে) দিন নেই। আজ সম্মানের সাথে এসেছি। তোমাদের সম্মান দিয়ে যাব।
এ সময় তিনি আরো বলেন, একসময় জাকারিয়ার (সভাপতি) ছাত্রলীগ এই কলেজে ঢুকতে পারত না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, কলেজের একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণ করে দেবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করবেন। কলেজ শহীদ মিনারের কাছে শহীদ মুকিত ও শহিদ রানু (দুই মুক্তিযোদ্ধা) স্মৃতি স্তম্ভ  নির্মাণ করার ওয়াদাও করেন তিনি।

অক্সফোর্ড অভিধানের বর্ষসেরা শব্দ ‘ভেইপ’

অক্সফোর্ড অভিধানে এ বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ হিসেবে সংযোজিত হয়েছে ভেইপ (vape) শব্দটি। এ বছরের ‘বর্ষসেরা শব্দ’ নির্বাচিত হওয়া ‘ভেইপ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ, ইলেক্ট্রনিক সিগারেট বা এ ধরনের অন্য কোন ডিভাইস থেকে উৎপন্ন বাষ্প ব্যক্তির নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে টেনে নেয়া বা বাইরে বের করে দেয়া। শব্দটি ডিভাইস এবং ক্রিয়া দুটি বুঝাতেই ব্যবহৃত হয়। অক্সফোর্ড ডিকশনারিজে’র দাবি, ২ বছর আগে ভেইপ শব্দটি যতোবার ব্যবহৃত হতো, এখন তার তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ ও বিবিসি। সিগারেট ছেড়ে দেয়ার চেষ্টায় ধূমপায়ীরা ই-সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন, যদিও ই-সিগারেট বেশ ক্ষতিকর। গত কয়েক বছর ধরে যারা ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছে শব্দটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ প্রচেষ্টাকে  স্বাগত জানিয়ে ভেইপ শব্দটি সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচার করার লক্ষ্যেই শব্দটিকে প্রচারের জন্য নির্বাচিত করেছে অক্সফোর্ড ডিকশনারিজ। ভেইপ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন লেখক রব স্টেপনি। ১৯৮৩ সালে মানুষ কেন ধূমপান করে? এবং ধূমপানের বিকল্প যন্ত্র নিয়ে একটি লেখায় শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন তিনি। এ বছর ভেইপ ছাড়াও অক্সফোর্ড অভিধানে স্থান করে নিয়েছে বেই (bae), ইনডাইরেফ (indyref), কনটাক্টলেস (contactless), সø্যাক্টিভিসম (slacktivism) ইত্যাদি শব্দগুলোও। গত বছর বর্ষসেরা হিসেবে ‘সেলফি’ শব্দটি সংযোজিত হয়েছিল অক্সফোর্ড অভিধানে এবং এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংসদে ডিসিসি নির্বাচনের দাবি

বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর-দক্ষিণ) নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সংসদে ৭১ বিধিতে চিঠি দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না থাকায় লোকজন এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে। তাই অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দাবি করছি। বুধবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের পঞ্চম কার্যদিবসে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধিতে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেন তিনি। সংসদে নোটিশটি পড়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। হাজী সেলিম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তা-ঘাট এবড়ো- থেবড়ো অবস্থা। দেখে মনে হয় মর্দ পায়ে হাঁটিয়া চলিল। বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় অবস্থানে। এই শহরকে রক্ষা করতে নির্বাচিত প্রতিনিধি দরকার।

তারেকের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা : মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে দেশের চেহারা এমন থাকবে না

ষমতাসীন সরকারকে অবৈধ ও জালিম আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এদের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে সর্বাত্মক আন্দোলনের বিকল্প নেই। বুধবার এক সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার ভোটচুরির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। এরা দেশের সব কিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। এ সরকারকে হটাতে সর্বাত্মক আন্দোলনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
বিএনপি আয়োজিত সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানকে আর আমরা দূরে দেখতে চাই না। আমাদের নেত্রীর পাশে তাকে দেখতে চাই। আমাদের বসে থাকার আর সময় নেই। তারেক রহমানের জন্মদিনে শপথ হউক-শেখ হাসিনার জালেম সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে তারেকের সুস্থতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করে মুনাজাত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক। পরে তারেক রহমান রাজনীতি ও লন্ডনে তার কর্মকান্ডের ওপর নির্মিত দুইটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে আলোচনা অন্যান্যের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, সাংবাদিক শফিক রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানের অতিথি আসনে বসে আলোচকদের বক্ত্যব শোনেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলীয় চেয়াপারসনের সাথে আরো ছিলেন- ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সেলিমা রহমান, আহমেদ আজম খান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, গোলাম আকবর খন্দকার, ফজলুল হক মিলন, হারুন-অর রশীদ, নূর মোহাম্মদ খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুস সালাম, খায়রুল কবীর খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, মো: আনোয়ার হোসাইন, আজিজুল বারী হেলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ফরহাদ হোসেন আজাদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার,  মীর সরফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, এমএ মালেক, মনির খান, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান ও খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামিক পার্টির আবদুল মোবিন, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনিসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা ছিলেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।
৫০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের যে পতাকা শহীদ জিয়াউর রহমান বহন করেছিলেন সেই পতাকা এখন দেশনেত্রী দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বহন করে এখনো উড্ডীন রেখেছেন। সেই পতাকাই তারেক রহমান বহন করছেন। এই পতাকা কোনো ব্যক্তি বিশেষের নয়। এই পতাকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের। এ জন্যই সব ষড়যন্ত্র তাকে নিয়ে।
তাই সবাই বলব, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তারেক রহমানকে ভালোবাসি, তাহলে এই জালিম সরকারকে হটিয়ে দেশের একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জন্মদিনের তাকে যদি আমরা কিছু উপহার দিতে চাই- সরকার হটানোই হবে বড় উপহার। এ জন্য নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহবানও জানান ফখরুল। লন্ডনের চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের দীর্ঘজীবন ও আশু আরোগ্যতা কামনা করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ১/১১ সরকারের আমলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে বন্দি অবস্থায় নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে (তারেক রহমান) হত্যারও ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিলো, তারেক রহমানকে হত্যা করতে পারলে এদেশকে পরনিভরশীল, মুখাপেী ও সেবাদাস একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন তারেক রহমান আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং দলের নেতৃত্ব দেবেন। দেশবাসীকে উজ্জীবীত করবেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার গত বছরের  নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩১০ জন ভাইকে শহীদ এবং ৬৫ জনকে গুম করেছে। এদের ঋণ শোধ করতে হলে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এটাই হোক তারেক রহমানের জন্মদিনের শপথ।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, লন্ডনের কুইন্স মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমান যেসব বক্তব্য রেখেছেন, আমি আশা করছি, আগামী মাস তিনেক এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই কথাগুলো তিনি বলেবেন।
তারেককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যদি যর্থাথতা থাকে, আমার চিন্তাভাবনা ঋজু হয়, তাহলে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে দেশের চেহারা এমন থাকবে না। মাঝখানের সময়টাতে আন্দোলনের মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়বে। আমরা ছাত্রতুল্য তারেক রহমানের নতুন দিনের অপো আমি রইলাম।
খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান বলেন, তারেক রহমান কেবল নেতা নন, তিনি এদেশের স্বপ্ন দ্রষ্টা। তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি এদেশের মানুষ কাছে সরব হয়ে আছেন।
আ স ম হান্নান শাহ বলেন, আমাদের ম্যাডাম যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তারেক রহমান সরকারি তহবিল থেকে ২টা টাকাও কোনদিন খরচ করেনি। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ‘সুপুত্র’ সজীব ওয়াজেদ জয় মন্ত্রী পদমযার্দায় প্রতিমাসের ২ লাখ ডলার বেতন নিচ্ছেন। এরকম বেতন রাষ্ট্রপতিও পান না। এভাবে দেশের অর্থ বিদেশে যাচ্ছে, এজন্য মানি লন্ডারিং আইনের মামলা করা যায়। আগামীতে তা কাযর্কর করা হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, মতাসীনরা বলছে, তারেক রহমান ফেরারী। আমি বলতে চাই, তারেক রহমান ফেরারী নন, তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি যখন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন, সরকারের তখতে তাউস নড়বড়ে হয়ে যাবে। তারেকের গায়ে হাত দেয়ার মতো সাহস আওয়ামী লীগের নেই। আগামীতেও হবে না। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে। সরকার পতন না হওয়া পযর্ন্ত চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশিদের লিলুয়া হোম থেকে পালানোর চেষ্টা

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার লিলয়ায় রাজ্য সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের হোম থেকে বারেবারে নিবাসীর পালানোর ঘটনা ঘটছে। গত ছয় মাসে কম করে ছয় থেকে আটবার আবাসিক পালানোর ঘটনা ঘটেছে। কখনো সংঘবদ্ধভাবে, কখনো বা দু-চার জন মিলে। এই হোমে বর্তমানে যে ২৪০ জন আবাসিক রয়েছে তাদের ১১৩ জনই বাংলাদেশি। ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালতের নির্দেশে হোমে রয়েছে। এই ১১৩ জনের মধ্যে ৩০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তাদের ফেরত পাঠানো হয় নি। আর তাই হোমের বাংলাদেশি আবাসিকরা মনে করেন, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। বরং হোমেই বন্দী থাকতে হবে। আর তাই বাংলাদেশি আবাসিকরাই সব সময় পালিয়ে যাবার ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা নেয় বলে হোম সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। এছাড়া হোমে রযেছে নানা অব্যাস্থা। হোমের আবাসিকদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। গত বুধবার সকালে লিলুয়া হোম থেকে ২৫ জন আাবাসিক পাঁচির টপকে পালানোর চেষ্টা করে। এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি তা অবশ্য জানা যায়নি। পুলিশ এদিন সন্ধ্যায় জানিযেছে, কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অনেকের কোনও খোঁজ নেই। সুনির্দ্দিষ্টভাবে কতজন পলাতক তার কোনও হিসেব হোম কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেনি। গত জুলাই মাসে পনেরো দিনের মধ্যে চার বার আবাসিক পালানোর ঘটনা ঘটে লিলুয়ার এই হোমে। ৩১ জুলাই আবাসিক পালানোকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয় হোম চত্বর। হোম থেকে জানলার গ্রিল ভেঙে ৩৫ জন বাংলাদেশি মহিলা পালিয়ে গিয়েছিল। যদিও সকলকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। গত রবিবারও ওই হোম থেকে পাঁচির টপকে পালিয়েছিলেন দু’জন আবাসিক। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এর আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা হোমের অব্যবস্থার কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হোম পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। এখানে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। খাবারদাবার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সমস্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু সেই ব্যবস্থার পরিণাম যে কী, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বুধবার ২৫ জন আবাসিকের পলায়নের ঘটনা।

বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক, দম্পতিকে ১০০ বেত্রাঘাত

আফগানিস্তানে ১৯ ও ২১ বছরের এক দম্পতির প্রত্যেককে জনসমক্ষে ১০০ বেত্রাঘাতের দ- দেয়ার পর তা জনসমক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কাপিসা প্রদেশে। কোহিস্তান অঞ্চলের গভর্নর মোহাম্মদ ওসমান হাকিয়ার আহমাদি জানান, বহু মানুষ এ দৃশ্য দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। ওই তরুণ-তরুণীকে ১ মাস আগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শরীয়াহ আদালতে দীর্ঘ বিচার শেষে প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাতের দ- প্রদান করা হয়। আহমাদি জানান, ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, উভয়কেই শাস্তি দেয়া হয়েছে। কারণ, তারা দু’ জনই প্রাপ্তবয়স্ক। ওই তরুণ-তরুণী তাদের ওপর আরোপিত শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছেন এবং এ দ-ের বিরুদ্ধে কোন আপিল আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছেন। এদিকে ১০০ বেত্রাঘাতের দ- কার্যকর হওয়ার পর তারা নিজেদের সম্পর্ককে পবিত্র ও বৈধ করতে পরস্পরের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

‘মোবাইল ফোনের কলরেট কমানোর পরিকল্পনা নেই’

মোবাইল ফোনের কলরেট কমানোর বিষয়ে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের কলরেট বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচিত। তাই মোবাইল ফোনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কলরেট পুন:নির্ধারণের আপাতত কোন পরিকল্পনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মোবাইল ফোনের কলরেট প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা হতে সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারণ করা আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের গড় কলরেট প্রতি মিনিট ৮৩ পয়সা। এটা বিশ্বের সর্ব নিম্ন কলরেট হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর মধ্যে ব্যপক ভিত্তিক প্রতিযোগিতার কারণে কলরেট ক্রমন্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া ১০ সেকেন্ড পালস বাধ্যতামূলক করায় প্রতি ১০ সেকেন্ড অন্তর বিল চার্জ করা হয়। এতে করে গ্রাহক শুধু ব্যবহৃত সময়ের প্রতি ১০ সেকেন্ডের গুণিতক হিসেবে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। গ্রাহককে শেষ মিনিটের বাকী সময়ের জন্য বিল দিতে হয় না।

সরকারে আস্থা থাকায় আন্দোলনে জনগন সাড়া দিচ্ছেনা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা  ও বিশ্বাস বর্তমান সরকারের উপর আছে। তার প্রমান  কিছু কিছু রাজনৈতিক দল অথবা নেতৃত্ব অনবরত সরকার উৎখাতের হুমকী ও সময় দিচ্ছে এবং নানা ধরনের কথা বলে আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েও সাড়া পাচ্ছেনা। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে- জনগনের আস্থা আমাদের ওপর আছে এবং কেবল আমরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে  যেতে পারবো। দেশবাসির আস্থা ও বিশ্বাসই আমাদের বড় শক্তি। সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ সরকারি দলের অধ্যাপক আলী আশরাফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধান মন্ত্রী একথা বলেন। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেলে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সিপিএ ও আইপিওতে বাংলাদেশ থেকে চেয়ারপার্সন ও প্রেডিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সম্পর্তিত লিখিত প্রশ্নের জবাব সংশ্লিস্ট সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধান মন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর অপর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাথী বাঁছাই করা বড় বিষয়। ওআইসিতে একজন যুদ্ধাপরাধীকে প্রার্থী দিয়েছিল।  সেই প্রার্থীকে কেউ পছন্দ করেনি। যে প্রথম রাউন্ডে দুই ভোট এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে শুধু নিজের ভোট পেয়েছিল। আমরা সিপিএ ও আইপিওতে উপযুক্ত প্রার্থী দিয়েছিলাম বলে সবাই ভোট দিয়েছে এবং তারা বিজয়ী হয়েছেন।  তিনি বলেন,  ২০৪১সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।  তাই ২০৪১ সালকে সামনে রেখে  কিভাবে আগানো যায়  সেই পরিকল্পনা নিচ্ছি।
রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এই দুটি সংস্থায় বাংলাদেশের জয়লাভ একদিকে যেমন আমাদের বিরল অর্জন তেমনি বর্হিবিশ্বের সাথে আমাদের ক্রমবর্ধমান সৌহাদ্যপুর্ণ সম্পর্কেরই প্রমান। এর মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, গনতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অব্যাহত অগ্রযাত্রার বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় পুরোপুুরি আস্থা  রাখে। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ যে আজ রোল মডেল  হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সেটি আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারি দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্ষ্পুষ্টভাবে  প্রমানিত হয়েছে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কোন কোন মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্তেও বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের আন্তর্জাতিক ফোরামে নির্বাচিত হওয়া এটাই প্রমান করে যে সারা বিশ্বের সাথে  বাংলাদেশের সৌহাদ্যপুর্ণ  ও পারস্পরিক সহযোগিতামুলক সম্পর্কের ভিত্তি ক্রমশ: আরো জোরদার হচ্ছে।

বিসিবি একাদশের সঙ্গেই পারল না জিম্বাবুয়ে

টেস্ট সিরিজে নাকানি–চুবানি খাওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে নিশ্চয় ঘুরে দাঁড়ানোর মরণপণ চেষ্টাই করবে। কিন্তু কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না, সেটারই আঁচ তারা পেল। ওয়ানডে সিরিজ শুরু আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের কাছে ৮৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে জিম্বাবুয়ে একাদশ।
টেস্টের পর ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়া নাসির হোসেন ৬২ বলে ৬১ করে তাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। পাশাপাশি শামসুর রহমানের ৪৯, শুভাগত হোমের ৪০ রানের সুবাদে প্রথমে ব্যাট করে ২৮২ রান তুলেছিল বিসিবি একাদশ। জবাবে লড়াইটা জমিয়ে তোলার আভাসই দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ২ উইকেটে তুলে ফেলেছিল ১৩২ রান। কিন্তু এরপর ২২ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার ধাক্কাটা আর সামলাতে পারেনি। ৪৫.৩ ওভারে অলআউট হয়েছে ১৯৪ রানে। টিমিসেন মারুমা করেছেন ৫০, সিকান্দার রাজা ৪৪ রান।
তৃতীয় উইকেটে মারুমা–রাজার ৭৭ রানের জুটিতে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। ৫৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলার ধাক্কাটা ভালোই সামাল দিয়েছিলেন এই দুজন। কিন্তু বিসিবি একাদশের বোলাররা এরপর দ্রুতই জিম্বাবুয়েকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন। ২ উইকেটে ১৩২ থেকে হুট করে হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৫৪। এর মধ্যে আবুল হাসান পরপর দুই বলে ফেরান মুর আর মায়ারকে। হ্যাটট্রিকটা অবশ্য তাঁর পাওয়া হয়নি।
দুর্দান্ত বোলিং করেছেন প্রথম দুই ওয়ানডেতে জায়গা না পাওয়া শফিউল ইসলাম। ৯ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৪ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ শহিদ, আবুল ও সাব্বির রহমানও নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা বিসিসি একাদশের শুরুটাও কিন্তু ভালো হয়নি। ৫১ রানের মধ্যে তারা হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। কিন্তু বিসিবি একাদশের মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার দুর্দান্ত ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ের সামনে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয়। মাত্র ১৪ বলে ৪ ছক্কায় ৩৩ রান তুলে আবুলও তাতে অবদান রাখেন।
আগামী শুক্রবার চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
>>নিয়মিত বিরতিতেই উদযাপনে মেতেছে বিসিবি একাদশের বোলাররা। ছবি: শামসুল হক

সরকারের ওপর দেশবাসীর আস্থা রয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ওপর দেশবাসীর আস্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণার প্রতি ইংগিত করে বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি আন্দোলন ও সরকার উৎখাতে অনবরত সময় দিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দিচ্ছে না। এতেই প্রমাণ হয় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস সরকারের ওপরে রয়েছে।
আজ বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এর আগে বিকেল চারটায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলী আশরাফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিকহারা নাবিক কখনোই তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না। জাতিকে আমরা সেই দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। জনগণ সেটা জানে।’ তিনি সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে সাংসদদের ভূমিকা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েসন (সিপিএ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) বিজয়ের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছিল বলেই বিজয় সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে একজন যুদ্ধাপরাধীকে ওআইসির মহাসচিব পদে প্রার্থী করায় বাংলাদেশ হেরে যায়। কারণ কোনো যুদ্ধাপরাধীকে কেউ সমর্থন করতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রেমিটেন্স আয়কারী দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিপিএ ও আইপিইউ নির্বাচনে বিজয়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরও বলেন, গৌরবের সঙ্গে এ বিজয় দায়িত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সুশাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখাই এই দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
সুবিদ আলী ভুঁইয়া জানতে চান, ঢাকা-দাউদকান্দি-কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণে সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা যাবে।
শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোনের কলরেট প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। দেশে সব মোবাইল অপারেটরের গড় কলরেট প্রতি মিনিট ৮৩ পয়সা। এটি বিশ্বেও অন্যতম সর্বনিম্ন কলরেট হিসেবে বিবেচিত। এই রেট পুনর্নির্ধারণে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য ব্যাপকহারে কমেছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। হতদরিদ্রের সংখ্যা ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের সাংসদ দিদারুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পিএসসির আদলে একটি পৃথক কমিশন গঠনের চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে। কমিশন গঠনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের প্রায় ১ হাজার ৪৯১টি এবং প্রভাষকের ২ হাজার ৮৩৪টি পদ শূন্য রয়েছে।
কক্সবাজার-১ আসনের মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আবদুল মুনিম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে ১ হাজার ৪২৫ জন নারী চাকরিরত আছেন। এরমধ্যে সেনাবাহিনীতে ৯১২ জন, নৌবাহিনীতে ২৭০ জন এবং বিমানবাহিনীতে ২৪৩ জন।

‘টিপু সুলতান খুনি, তার বিচার চাই’ -সংবাদ সম্মেলনে ডা. মাহজাবিনের বাবা

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানকে ‘নরপিশাচ’ উল্লেখ করে ডা. মাহজাবিনের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেছেন, আমার মেয়েকে খান টিপু সুলতান, তার স্ত্রী ডা. জেসমিন আরা বেগম ও ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাব পরস্পর যোগসাজসে খুন করেছে। আমি এ খুনের বিচার চাই। বুধবার বেলা ১২টায় প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলূ নুরুল ইসলাম এ সব কথা বলেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ডা. শামারুখ মাহজাবিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আড়াই ইঞ্চি। এ মেয়ে পাঁচ ফুট উঁচু গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে কীভাবে আত্মহত্যা করে? তিনি বলেন, খান টিপু সুলতানের অনেক অপকর্মের স্বাক্ষী ছিলেন আমার মেয়ে। তার অনেক জালিয়াতির ডকুমেন্ট তার হস্তগত হয়। এই কারণে নিজের মুখোশ উন্মোচন হওয়ার আগেই সে আমার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, টিপু সুলতান অত্যন্ত প্রভাবশালী। সে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পক্ষে নেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের  প্রধানকে ভীষণ চাপ দিচ্ছে। এ অবস্থায় একমাত্র মিডিয়াই পারে সুবিচার নিশ্চিত করতে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন সহায়তা কেন্দ্রের উপদেষ্টা জি বি আলম, বিএএফ শাহীন কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, আইডিইবির সভাপতি  প্রকৌশলী আবুল হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসভবনে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ডা. শামারুখ মাহজাবিনকে। গ্রীণ রোডের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানুয়ারির ২য় সপ্তাহের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ : ইসি by হাবিবুর রহমান চৌধুরী

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) মোঃ জাবেদ আলী বলেছেন, ভোটার তালিকা একটি জাতীয় আমানত। তাই এই তালিকা সুষ্ঠু ও নির্ভূলভাবে করতে হবে। সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ শেষ হলেও আগামী ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত বয়স্ক স্থায়ী নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যারা ইতোমধ্যে কোন কারণে ভোটার হতে পারেনি, তারা জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট ভোটার তালিকা রিভাইজিং করার আপত্তি জানিয়ে ভোটার হতে পারবেন। জানুয়ারির ২য় সপ্তাহের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এসময়ে কারো আপত্তি থাকলে তা নির্বাচন অফিসে জানিয়ে সংশোধন করা যাবে।
তিনি বুধবার দুপুরে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম ২০১৪ এর পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল এর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার বিভোর কুমার বিশ্বাস, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম। সভায় পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, জেলার ১৬ উপজেলায় পূর্বের ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ১শত ৫৫ জন। এবার নতুন ভোটার হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১ শত ২৫ জন। ভোটার বৃদ্ধির হার শতকরা ৫ দশমিক ৮৪ ভাগ।

অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার পথে ১০ হাজার যাত্রী by গোলাম আজম খান

বঙ্গোপসাগরের সীতারদ্বীপ এলাকায় নোঙর করে আছে ২০টির বেশি কার্গোজাহাজ। এসব জাহাজে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অপেক্ষা করছে। এদের বেশির ভাগের বাড়ি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে। সেন্টমার্টিনের ৩০-৩৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সীতারদ্বীপটির অবস্থান। এই সীতারদ্বীপ এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস করে ফেরত যাওয়া প্রায় ২০টি কার্গো জাহাজে করে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে জড়ো করা হয়েছে ১০ সহস্রাধিক যাত্রী।
এসব জাহাজে টেকনাফ উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি ঘাট ছাড়াও মহেশখালী এবং চট্টগ্রাম হয়ে ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত বোটে তুলে নেয়া হয়। জাহাজগুলোতে শুধু বাংলাদেশী নয়, মিয়ানমারেরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছে।
চকরিয়া ডুলহাজারা মালুমঘাট এলাকার একটি জাহাজ হতে কৌশলে টেকনাফ ফিরে আসা যুবক রহমত উল্লাহ গতকাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
রহমত উল্লাহ আরো জানান, ১০-১২ দিন আগে চকরিয়া মালুমঘাট এলাকা থেকে দিনমজুরি কাজ করতে তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এলাকায় আসেন। গত ১৪ নভেম্বর কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় সাবরাং বাজারে এলে স্থানীয় দালালের হাতে অপহৃত হন তিনি। ওইদিন রাতে একটি ছোট নৌকায় তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একই রাতে সেখানে আরো প্রায় ৪০ জনকে আনা হয়। নৌকায় চেচামেচি করলে দালালরা তাদের কিলঘুষি দেয়। ওই অজ্ঞাত স্থান থেকে তাদের নেয়া হয় মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি সীতা পাহাড় এলাকায়। এরপর থেকে তাদের সেখানেই রাখা হয়। প্রতিদিন তাদের দুই বেলা ভাত, ছোলার ডাল আর আলু খেতে দেয়া হতো।
রহমত উল্লাহ জানান, সীতা পাহাড় এলাকা থেকে দালালরা আটককৃতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতো। ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়া হবে বলে জানায় দালালরা।
তিনি বলেন, তার চাচাতো ভাই আমান চুক্তি অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার বিকেলে টেকনাফ নয়াপাড়া বাজার এলাকায় গিয়ে ধরে ফেলেন টাকা নিতে আসা দালালকে। পরে মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে (রহমত উল্লাহ) ফেরত দেয়ার শর্তে ওই দালালকে ছেড়ে দেয়া হয়। সোমবার রাতে ৩৫ যাত্রী নিয়ে গভীর সাগরে ভাসমান ট্রলারে আসে ছোট নৌকা। ওই নৌকায় মঙ্গলবার দুপুরে কাটাবনিয়া ঘাটে নামিয়ে দেয়া হয় রহমত উল্লাহকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচারে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড নিয়ে গড়ে উঠেছে চার দেশীয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের গডফাদারদের অধীনে কাজ করছে অজস্র দালাল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সেসব দালাল অসহায় হতদরিদ্র মানুষকে মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে কক্সবাজার অঞ্চলে জড়ো করছে। তারা জানে না কাদের মাধ্যমে বা কোন পথে তাদের মালয়েশিয়া যাত্রা। তারা শুধু জানে যাত্রাপথ যতই দুর্গম হোক মালয়েশিয়ায় তারা পৌঁছবে।
অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছে পুলিশের হাতে আটকের পর বন্দিজীবন কাটিয়ে দেশে আসা কক্সবাজার অঞ্চলের অনেকের বক্তব্য এখন মুখে মুখে। মালয়েশিয়ার জেল ছাড়াও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জঙ্গলের বন্দিশিবিরে অনেক বাংলাদেশী মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব বন্দিশিবিরে দিনের পর দিন আটক থেকে অনেকেই মারা গেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের নাজিরার টেক, পেশকারপাড়া, টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ, বাহারছড়া ও উখিয়ার উপকূল সাগর পথ মালয়েশিয়াগামীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে দালাল চক্র। গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে শতাধিক দালালের তালিকা থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। যার ফলে মালয়েশিয়া আদম পাচারকারী চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ছোট খবর

চেকপ্রজাতন্ত্র
ডিম নিক্ষেপ
চেক প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমানের ওপর সোমবার পচা ডিম নিক্ষেপ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ডিম হামলার শিকার হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা জার্মান প্রেসিডেন্ট গাউকও।
সোমবার চেক প্রজাতন্ত্রে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ভেলভেট রেভ্যুলেশনের ২৫তম বার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিতে প্রাগের এক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমান। তার সঙ্গে আরও ছিলেন জার্মানি, হ্যাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়ার সরকার প্রধানরা। এএফপি
বর্ধমান
রোহিঙ্গা আটক
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার মিয়ানমারের একজন নাগরিককে আটক করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। সোমবার হায়দ্রাবাদের একটি হোটেল থেকে এনআইএর কর্মকর্তারা খালিদ মহম্মদ নামের ওই মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে। ভুয়া নাম পরিচয়ে তিনি হায়দ্রাবাদের ওই হোটেলে উঠেছিলেন। এনআইএ বলেছে, আটক খালিদ মহম্মদ মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের একজন সক্রিয় সদস্য। এনডিটিভি
আহমেদাবাদ
পেট্রল ফ্রি!
কোনো চাকরির পরীক্ষায় দেখলেন প্রশ্ন এসেছে- কোন্ এলাকায় পেট্রল ফ্রি? আপনি কলম কামড়াচ্ছেন, আর ভাবচ্ছেন এটা মনে হয় তেলের রাজধানী সৌদি আরবেই হবে। কিন্তু না, এ প্রশ্নের এক কথায় উত্তর আহমেদাবাদ। হ্যাঁ, আহমেদাবাদে গেলে আপনার ভাগ্যে বিনামূল্যে পেট্রল জুটে যেতে পারে। তাও আবার এই চড়া মূল্যের বাজারে ১ লিটার পেট্রল একদম ফ্রি! শর্ত একটাই, আপনাকে মেনে চলতে হবে ট্রাফিক আইন। আহমেদাবাদ শহরের রামোল এলাকা বেশ জনবহুল। প্রত্যেক দিনই তুমুল যানজট হয় এ রাস্তায়। এপি

সৌদি সিংহাসনে পারিবারিক কুস্তি!

মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মধ্যে টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে সৌদি আরব। ৯০ বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের এই দেশটির একনায়কের ক্ষমতা হস্তান্তর অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাদশাহ আবদুল্লাহর উত্তরাধিকারী কে হচ্ছেন, কে বসছেন আগামীতে সৌদি আরবের সিংহাসনে- সেই প্রক্রিয়াটা যথেষ্ট কণ্টকাকীর্ণ। এ নিয়ে পারিবারিক কুস্তি শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা।
সৌদি আরবের বাদশাহ কে হবেন তা নির্ধারণ করে থাকেন আল সৌদ রাজপরিবারের সিনিয়র প্রিন্সরা। বাদশাহ আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান। এর ফলে প্রিন্স মুকরিন হবেন সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী। এই তিনজনই সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের, যিনি ইবনে সৌদ নামে পরিচিত, পুত্র।
ইবনে সৌদ ১৯৫৩ সালে মারা যান। এরপর যে পাঁচজন বাদশাহ হয়েছেন তাদের সবাই ইবনে সৌদের পুত্র। যদিও ইবনে সৌদের ডজন ডজন পুত্র আছে, তবে এ ধারা তো অনাদিকাল চলতে পারে না। ইবনে সৌদের কনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স মুকরিন। তার বয়স এখন ষাটের কোটায়। প্রিন্স আহমেদসহ প্রিন্স মুকরিনের অনেক প্রবীণ সৎভাই এবং তার আপন ভাই সালমান এখনও জীবিত আছেন। প্রিন্স আহমেদ এবং ক্রাউন প্রিন্স সালমান তথাকথিত ‘সুদাইরি সেভেন’র অন্তর্গত। বিবিসি।

জেরুজালেমের উপাসনালয়ে হামলা : নিহত ৪

পশ্চিম জেরুজালেমের একটি ইহুদি উপাসনালয়ে অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্তের হামলায় ইসরাইলের চারজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সোমবার হারাভ শিমন আগাসী স্ট্রিটের একটি সিনাগগে দুজন লোক পিস্তল ও ছুরি দিয়ে ওই চার ইসরাইলিকে হত্যা করে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, আক্রমণকারীরা পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি নাগরিক। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরে বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মুসলমানদের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইসরাইল পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোজেনফিল্ড বলেছেন, আমরা এটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছি।
এ হত্যাকাণ্ডের কঠোর জবাব দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
আল আকসা বা হারাম আল-শরিফে ইহুদিদের প্রার্থনার দাবি জানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে গোঁড়া ইহুদিদের একটি অংশ। এ ঘটনার জের ধরে একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতা নিহত হলে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পাকিস্তান-ভারত ছায়াযুদ্ধ হবে আফগানিস্তানে : মোশাররফ

আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ। করাচিতে নিজ বাসভবনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের পরপরই ভারত-পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধে জড়াবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন মোশাররফ। পারভেজ মোশাররফ বলেন, আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে প্রতিবেশী দুদেশ নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাবে। ভারত যদি আফগানিস্তানে আধিপত্য অর্জন করে তা পাকিস্তানের জন্য বিপজ্জনক হবে। আর এ বিষয়টি নিয়েই ভারত ও পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, এটা পুরো এ অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক।
আফগানিস্তানে ভারতের সম্পৃক্ততা মানেই তারা সেখানে পাকিস্তানবিরোধী প্রচারণা চালাবে। ভারত আফগানিস্তানকে পাকবিরোধী বানাতে চায়। মোশাররফ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে ভারত। উত্তর আফগানিস্তানের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ব্যবহার করে এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই ধরনের অভিযোগ পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রায়ই করে থাকেন। সাবেক সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ ১৯৯৯ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। ৭১ বছর বয়সী এই মোশাররফের বিরুদ্ধে এখন দেশদ্রোহিতার মামলা চলছে এবং তিনি গৃহবন্দি আছেন। মোশাররফের মতে, ন্যাটোর ৩৪ হাজার শক্তিশালী সেনাসদস্য আফগানিস্তানে থাকার ফলে একটা ভারসাম্য ছিল। তাদের অনুপস্থিতিতে একটা শূন্যতা তৈরি হবে, যা বিপর্যয়কর হতে পারে। আগামী মাসের মধ্যে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দুই দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, এ মুহূর্তে সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত ও পাকিস্তান দুপক্ষই আফগানিস্তানে তাদের প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আফগানিস্তানের উত্তরের তাজিক নামের প্রভাবশালী নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে ভারত। অপরদিকে দক্ষিণ ও পূর্বের পশতুনদের ব্যবহার করতে চাচ্ছে পাকিস্তান।
মোশাররফ বলেন, যদি ভারত আফগানিস্তানের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে চায় তখন পাকিস্তানও নিজেদের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে বেশি করে কাজে লাগাবে। আর তারা অবশ্যই পশতুন। পাকিস্তানের পরিবর্তে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আফগান সেনারা প্রশিক্ষণ নেয়ায় আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।

ইন্টারনেট-শিশুর জমকালো জীবন

বয়স মাত্র পাঁচ। এরি মধ্যে তারকা বনে গেছে ব্রেয়ানা। ছোটখাটো তারকা নয়, বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যা ১.১ মিলিয়ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্ট্যাগ্রামের পেজে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে ৬০ হাজার ফলোয়ার। এর সবই ওর মিষ্টি চেহারার জন্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্ট্যাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা বিশ্বজুড়ে। এদের অনেকেই তাকে নিজেদের মেয়ের চেয়েও বেশি পছন্দ করে। এই পছন্দটাই তার ভাগ্যের চাকাকে ঘুরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত নিয়ে গেলো। দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়ে ব্রেয়ানা এখন পরিবারসহ আছে আরব আমিরাতের দুবাইতে। গত মে মাস থেকে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে থাকছে, খাচ্ছে। প্রয়োজন হলে লিমুজিন গাড়ি নিয়ে বাইরে বের হচ্ছে। এর জন্য ওর বাবা মায়ের এক পয়সাও খরচ হচ্ছে না। ব্রেয়ানাকে খুশি করতে এতোসব চাকচিক্য ও জাঁকজমকের আয়োজন করছে আরব আমিরাতের ধনকুবের ভক্তরাই।
ভক্তদের সাক্ষাত দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। ঘুরে বেড়ানোটাকে ভার্চুয়াল পরিভাষায় বলা হয় ‘জেটসেট লাইফ স্টাইল’।
ব্রেয়ানার বাবার নাম জুঙহাউন। ৩৪ বছর বয়সি জুঙহাউনের বাড়ি দক্ষিণ কোরিয়াতে। তবে তার মা জোসেলেনের (২৭) বাড়ি ফিলিপাইনে।
তার খ্যাতি নিয়ে বাবা ও মাকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হলেও দু’জনেই মেয়েকে নিয়ে গর্বিত। অবশ্য অনেক সমালোচক তাদেরকে পরজীবি বলে খুঁচাও দিয়েছেন।

এই পুঁচকে মেয়ের খ্যাতির শুরুটা কিভাবে?
মা জোসেলেন শখ করে ইনস্ট্যাগ্রামে মেয়ের নামে একটি পেজ খুলেছিলেন। সেখানে প্রথম একটি ছবিও পোস্ট করেন। ছবিটির বিপুল সাড়া পেয়ে অবাক হন তিনি। এর পর থেকেই শুরু। আশ্চর্য্য গতিতে পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এবং আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়ায়।
এখনকার অবস্থাটা কেমন?
তার মা বলেন, আমরা কেনাকাটা করতে গেলেও লোকজন ব্রেয়ানার সাথে ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে যায়।
এ তো গেলো সাধারণ হিসেব। আর অসাধারণ হিসেবটা হলো, তার বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা আমেরিকানঅভিনেতা ক্যামেরন ডিয়াজের সমান।
সে এখন এ দেশে ওদেশে উড়ে বেড়ায় বিজনেস কাস সুবিধা নিয়ে। সাজ গোজের পেছনে শত হাজার পাউন্ড উড়ায়। ছোট্ট এ মেয়েটা এখন চাইলে নিজেকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারে। চকলেট, কুকিজসহ খাবার দাবারের প্রতি ওর ঝুঁক বেশি। সাথে থাকে একটি হাত ব্যাগ। যখন যেখানে প্রয়োজন হয় ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিযে দাঁড়িয়ে যায় ছবির পোজ দিতে। একেবারে পাকা মডেলদের মতো।
ব্রেয়ানার আদুরে চেহারার কারণেই ওর প্রতি এক ধরনের ঝোঁক তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এমন কোনো দিন নেই যে, তার দরজায় দামি দামি উপহার হাজির না হয়। সেও ভক্তদের খুশি করতে অঙ্গভঙ্গি দেখায়। দুষ্টুমি করে। শাকিরা ও দক্ষিণ কোরিয়ার পপ তারকাদের গানের তালে নাচে।
মধ্যপ্রাচ্যে তার এই জনপ্রিয়তাটা শুরু হয় ছয় মাস আগে। তখন আরব আমিরাতের ভক্তরা তার পোস্টগুলোকে রিপোস্ট করতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ইন্টারনেট ব্যবহারের হার অনেক, ৭৭ শতাংশ।
ওর বাবা মা ইংরেজি, কোরিয়ান, ট্যাগ্যালগ এবং আরবিতে কথা বলতে পারেন। এখন ব্রেয়ানাকেও শেখাচ্ছেন। আধো আধো আরবি বুলি দিয়েই সে বেশ মানিয়ে নিতে পেরেছে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে।
একটি শর্ট ভিডিওতে দেখা যায় চারটি ভাষারই অনুশীলন করছে ব্রেয়ানা। আবার পপ তারকাদের গানের সাথে নাচ তুলছে। মাঝে মাঝে আইসক্রিম ও চকলেট চেয়ে নাচের ছন্দও ছেড়ে দিচ্ছে। এই শর্ট ভিডিওর ওয়েবসাইট ভিনেতেও তার তিন লাখ ৫০ হাজার ফলোয়ার আছে। ফেসবুকের ফ্যান পেজে ভক্তের সংখ্যা দুই লাখ ১০ হাজার। ভক্তদের বেশিরভাগই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মধ্য প্রাচ্যের।
ব্রেয়ানার মা সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেন, লোকজন কেন ব্রেয়ানাকে এতো পছন্দ করে আমি জানি না। তার অতিরিক্ত তেমন যোগ্যতা নেই। সে ভালো নাচতে পারে। তবে ক্যামেরার সামনে ভঁচকে যায়। কিন্তু তার ভেতরে এমন কিছু আছে, যে কারণে লোকজন এতো পছন্দ করে। সে দেখতে খুবই মিষ্টি। সম্ভবত এটাই আকর্ষণের কারণ। যখন আমি ওকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে বলি, সে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয় পোজ নিয়ে দাঁড়ায়।
এই তো ব্রেয়ানার গল্প। এক কথায় বলা যায়, সে ভালোই আছে। ফ’র্তিতে আছে। পেজে ফলোয়ার সংখ্যা বাড়লে ফ’র্তিটা আরো বেড়ে যায়। চিৎকার করতে করতে বলে, আই অ্যাম জাস্ট সো হ্যাপি।
ভালো আছে সবাই। বাবা, মা এমনকি ছোট্ট ভাইটিও। ও বলে, আমি স্মার্ট। তবে ব্রেয়ানা সুন্দর।

মন্দা কাটাতে জাপানে আগাম নির্বাচন

নির্ধারিত সময়ের আগেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ডাক দিতে যাচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। দেশটির চলমান আর্থিক সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আবে। ফলে দেশটিতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই নতুন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আবে ওই ঘোষণায় বলেন, আমি শুক্রবার (২১ নভেম্বর) পার্লামেন্টের নিুকক্ষ ভেঙে দেব। ঘোষণার পরপরই লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কুমিয়েতো পার্টির সঙ্গে বৈঠকে বসেন আবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর এ নির্বাচন হতে পারে। বিবিসি। প্রধানমন্ত্রী আবের ধারণা, নতুন নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তিনি চলমান স্থবির অর্থনীতির চাকাকে চাঙ্গা করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনে সিদ্ধান্ত নেয়ার ম্যান্ডেট হাতে পাবেন। দেশের আর্থিক অবস্থাকে চাঙ্গা করার উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দুই বছর আগে ক্ষমতায় বসেন শিনজো।
কিন্তু দেশটির অর্থনীতির জন্য আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়ে গেছে। শিনজো সরকারের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমা সত্ত্বেও ধারণা করা হচ্ছে তিনি আবার জয় পাবেন। কারণ তার বিরোধী দলগুলো দ্বিধাবিভক্ত।

সর্ববৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত এবার অস্ত্র রফতানিতেও শীর্ষে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব অস্ত্র আমদানির ১৪ শতাংশই ভারতের দখলে। যা চীনের তুলনায় ৩ গুণ। রোববার প্রকাশিত স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে অস্ত্র আমদানির শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। সুইডেনভিত্তিক এ সংস্থার মতে, গত ৭ বছর ধরে ভারত অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ২০০৬ সালে ভারতের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২৯ মিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৮১ মিলিয়ন ডলার। অস্ত্র আমদানির বড় ক্রেতা হিসেবে ভারত চীনের স্থলাভিষিক্ত হয় ২০১০ সালে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ভারতে অস্ত্র তৈরি করা হবে। এতে ভারত শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রস্তুতকারক হবে না, বরং বিশ্বের বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশেও পরিণত হবে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিচ ইন্সটিটিউট, ওয়াশিংটন পোষ্ট।

হরিয়ানায় বাবা বাহিনী পুলিশ সংঘর্ষ

উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ধর্মগুরু বাবা রামপালের আশ্রম কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশ বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করেছে। আর এই ঘটনায় আশ্রমের কর্মীরাও পুলিশ বাহিনীর ওপর চড়াও হয়ে পাথর এবং এসিড নিক্ষেপ করেছে। হরিয়ানার হিসার জেলার শতলোক নামক একটি আশ্রমকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মারফত পাওয়া শেষ খবরে জানা যায়, আশ্রম কর্মী ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অনেকেই আহত হয়েছে। আশ্রমটির প্রধান বাবা রামপালের বিরুদ্ধে একটি মামলা দীর্ঘদিন ধরেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার আদালতে চলছিল। কয়েকদিন আগে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা আদালত একসঙ্গে রামপালকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেই মূলত বাবার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। সমর্থকরা নিজেদের বাবার কমান্ডো বাহিনী পরিচয় দিয়ে আশ্রমের ভেতরে রামপাল বাবাকে লুকিয়ে রেখেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ আশ্রমের ভেতরে যেতে সক্ষম হয়নি এবং আশ্রমের পানি, বিদ্যুৎ এবং খাবারের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
২০০৬ সালের এক মামলায় ৬৩ বছর বয়সী এই আধ্যাত্মিক গুরু বাবা রামপাল জামিন পেয়েছিলেন। সেসময়ও তার সমর্থকরা গ্রামবাসীর উপর গুলি চালিয়েছিল এবং সেই ঘটনায় একজন মারা যায় ও অনেকেই আহত হয়। হরিয়ানা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের রায় পাওয়ার প্রায় ১১দিন আগে থেকেই আশ্রমের ভেতরে পাথর এবং এসিড এনে জড়ো করে বাবার কমান্ডো বাহিনী। আশ্রমের ভেতর থেকে বেশ কয়েক দফা গুলির শব্দ এবং আগুনের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। টাইসম অব ইন্ডিয়া।
দাঙ্গাগুরুদের সঙ্গে নেই : মমতা
বিজেপি বিরোধী জোট গঠন করতে নিজের অবস্থান ফের স্পষ্ট করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি ধর্মগুরুদের সঙ্গে আছি, দাঙ্গাগুরুদের সঙ্গে নেই।’ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দিল্লিতে সোমবার এসব কথা বলেছেন মমতা ব্যানার্জি। ইন্ডিয়া টুডে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি যে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি বিরোধী এই জোটে অন্যদের মতো সিপিএমকেও চান তাও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মমতার এই প্রচেষ্টাকে অবশ্য রাজ্যে বিজেপির উত্থানকে ঠেকাতে করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে কোনো কোনো মহল থেকে প্রশ্ন তুললেও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা।
তার দাবি, ‘রাজ্যে বিজেপির শক্তির কথাটা মিডিয়া ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলছে। বাস্তবটা অন্যরকম। আমরা ৩৫ বছর ধরে লড়াই করে বামদের সরিয়েছি। আর বাংলায় দাঙ্গা লাগিয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ওরা দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে সর্বত্র দাঙ্গা লাগাচ্ছে।

‌‌টিপু সুলতান ‘যৌতুক লোভী নরপিশাচ’

ডা. শামারুখ মাহজাবিনের বাবা ইঞ্জিনিয়ার নূরুল ইসলাম যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানকে ‘যৌতুক লোভী নরপিশাচ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার যশোর প্রেস কাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।  নূরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, মাহজাবিনকে টিপু সুলতান, তার স্ত্রী ডা. জেসমিন আরা বেগম ও ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাব যোগসাজসে হত্যা করেছে। তিনি এ হত্যার বিচার চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন সহায়তা কেন্দ্রের উপদেষ্টা জিবি আলম, বিএএফ শাহিন কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) যশোর শাখার সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ।

নূরুল ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, মাহজাবিনের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আড়াই ইঞ্চি। সে কি করে  পাঁচ ফুট উঁচু গ্রিলের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করলো। এ ছাড়া তার জিহ্বা মুখের ভেতর ছিল।চোখ ছিল স্বাভাবিক। কন্ঠনালীর দুই পাশে আঙুলের দাগ, নখের আঁচড়, বাম হাতের কব্জির নিচে ক্ষত ও পিঠে রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। এ সব আলামত হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ সব বিষয় বর্ণনা করার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, টিপু সুলতানের ছেলে সাদাব বেকার।  মাহজাবিন বিসিএস ও এফসিপিএস দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ে যোগ্যতায় ছেলের চেয়ে ওপরে উঠুক তা তিনি চাননি। এ কারণে তার উচ্চ শিক্ষায় বাধা দিয়েছেন। এই সাবেক সংসদ সদস্য একজন নরপিশাচ। তিনি পূর্বের অভিযোগ আবারো উল্লেখ করে বলেন, টিপু সুলতানের জালিয়াতি ও দুর্নীতির কিছু কাগজপত্র মাহজাবিনের হাতে পড়েছিল। যা ফোনে সে আমাকে জানিয়েছিল। আমাদের এই আলাপ টিপু সুলতান শুনে ফেলায় আমার মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি জানান বিয়ের সময় টিপু সুলতান তার ছেলেকে ব্যারিস্টার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। সে যে ব্যারিস্টার এ কথা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সব মানুষ জানে। কিস্তু বিয়ের জানা যায় সাদাব একটি বেসরকারি কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেছে। দুইবার বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সে জন্য সাদাব আদালতে প্রাকটিস করতে পারে না।
নূরুল ইসলাম বলেন, টিপু সুলতান অত্যন্ত লোভী। বিয়ের পর নানা বাহানায় এই সাবেক সংসদ সদস্য আমার কাছ থেকে যৌতুক আদায় করেছেন। আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ধার করে তার দাবি পূরণ করেছি। তারপরও আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না।
তিনি অভিযোগ করেন, টিপু সুলতান অত্যন্ত প্রভাবশালী। তিনি ময়না তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে নেয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চান্দগাও ক্যাম্পাসে পিইসিই শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চান্দগাও ক্যাম্পাসে পিইসিই শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ ১৯ নভে,১০১৪ইং চট্টগ্রাম

নীচু জাতে বিয়ে করায় মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

আভিজাত্যের দম্ভে নিজের মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন মা-বাবা। নিচু জাতের এক ছেলেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন ২১ বছর বয়সী ওই মেয়েটি। পরিবারের সম্মান রক্ষায় তাই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আজ বুধবার মেয়েটির মা-বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা পুলিশের কাছে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২৪ বছর বয়সী অভিষেকের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ভাবনা। অভিষেক ভাবনার চেয়ে নীচু জাতের ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের কেউ রাজি না হওয়ায় গত ১২ নভেম্বর পালিয়ে দিল্লিতে বিয়ে করেন তারা।
এ ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারেন না ভাবনার মা-বাবা। সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
অভিষেকের ভাষ্য মতে, বিয়ের দুই দিন পর ১৪ নভেম্বর ভাবনার মা-বাবা তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আসেন। তারা বিয়ে মেনে নিয়েছেন বলে ভাবনাকে আশ্বস্ত করেন। তারপর বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নর জন্য ভাবনাকে সাথে করে নিয়ে যান। বলে যান দুই দিন পরে ১৬ নভেম্বর মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যাবেন। কিন্তু বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর ভাবনা ফোনে অভিষেককে জানান, মা-বাবা মিথ্যে বলে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। এখন অন্য একটি ছেলেকে বিয়ে করার জন্য তাকে নির্যাতন করছে। এরপরই জানতে পারে ভাবনা আর বেঁচে নেই।

রাবি শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ১১ জন রিমান্ডে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শফিউল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১১ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আজ বুধবার সকালে ১১ জনকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- নগরীর বিনোদপুর এলাকার ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর, বাগমারার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, চৌদ্দপাই এলাকার মশিউর রহমান, ডাঁশমারীর হাসিবুর রহমান ও রেজাউল করিম, দুর্গাপুরের ফজলুল হক, দেওয়ানপাড়ার মো. সাগর ও জিন্নাত আলী, শ্যামপুরের আরিফ, পাবনার ঈশ্বরদীর সাইফুদ্দিন ও মোশাররফ হোসেন।
গত সোমবার বিকেলে ১১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে চালান দেয় পুলিশ। একই সাথে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এ রিমান্ডের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পেছানো হয়।
শনিবার বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাবি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাদি হয়ে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশুটির পা চারটি, হাতও চারটি

শিশুটি দেখতে অনেকটা হিন্দু ধর্মাবলম্বী দেবতা ব্রাহ্মর মতো। ব্রাহ্মর মতোই চার হাত, চারটি পা নিয়ে জন্মেছে। এ কারণেই লোকজন ওর নাম দিয়েছে ‘ভগবান বালক’।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এই ভগবান বালকের জন্ম হয়েছে বলে জানায় ডেইলি মেইল। হাসপাতালে জন্মের পর পর তার অস্বাভাবিক গঠনের খবর ছড়িয়ে যায়। তাকে এক নজর দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভির করছে হাসপাতাল গেইটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশের।
মূলত ত্রুটির কারণে দুইটি জমজ শিশু একটি গঠন নিয়ে জন্মেছে। তবে শিশুটি দেখতে হিন্দু দেবতা ব্রাহ্মর মতো হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও খুশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আত্মীয় স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেন, যখন সে প্রথম এলো। আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি।
হাসপাতালের নার্স বলেন, তার শরীর বিকৃত হলেও ভগবানের চিহ্ন আছে। এটি অলৌকিক ঘটনা। সে ভগবানের সন্তান।
পাশের গ্রামের প্রতিবেশি ৬৭ বছর বয়সি চুকা রাও বলেন, ভগবান বালক আসার খবর শুনে আমার কিছুটা সন্দেহ হয়। তবুও লোকজনের মুখে শুনতে শুনতে তাকে দেখতে গেলাম। পরে ওর ছবিটা দেখেই আশ্চর্য্য হয়ে যাই।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, এটি অস্বাভাবিক শিশু এবং ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। তার মধ্যে আদৌ ভগবানের কিছু নেই। তবুও তাকে দেখতে আসা লোকজনকে সামাল দিতে আমাদের ধকল পোহাতে হচ্ছে। শত শত লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওর জন্য কান্না করছে। শত শত লোক রাস্তায় আসন গেড়ে বসে পূজা অর্চনা করছে। এদের মধ্যে কারো বিশ্বাস এটি পৃথিবীর সময় ফুরিয়ে আসার লক্ষণ। আমি পেশাগত জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, তাকে ঘীরে লোকজনের ব্যাপক হুজুগ কাজ করছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া এ শিশুটিকেই লোকজন ‘ভগবান বালক’ হিসাবে দেখতে চাইছে।

৮০ বছরে কারাগারে বিয়ে- পাত্রী নাতনির বয়সী

৮০ বছরের চার্লস ম্যানসনকে বিয়ের অনুমতি দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার জেল কর্তৃপক্ষ। তা-ও আবার পাত্রী তার নাতনির বয়সী।

সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, অভিনেত্রী শ্যারন টেট-সহ মোট পাঁচজনকে খুনের অভিযোগে ২০২৭ পর্যন্ত তাকে জেলে থাকতে হবে। সেই ম্যানসনকে বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষ।
চার্লস ম্যানসন বিয়ে করতে চলেছেন ২৬ বছর বয়স্ক অ্যাফটন ইলাইন বার্টনকে। এই বার্টন গত নয় বছর ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের ওয়েবসাইটে ম্যানসনকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করার প্রচার চালাচ্ছেন।

সালমানের কেমন বোন অর্পিতা?

বলিউড সুপার স্টার সালমান খানের একমাত্র বোনের বিয়ে বলা কথা! আড়ম্বরে চক্ষু চড়ক গাছ হবে, এটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় অবশ্যই সালমানের বোন অর্পিতা খানের বিয়ের আসর। ভগ্নিপতি আয়ুষ শর্মাকে ১৬ কোটি টাকার একটি ফ্যাট ‘ভেট’ দিয়েছেন সালমান। এছাড়া সোনা-হিরে-জহরত তো আছেই। হায়দরাবাদের অভিজাত এলাকায় এই হাইপ্রোফাইল বিয়ের আসরের সন্ধ্যায় হাজির থাকছেন প্রায় গোটা বলিউড। অর্পিতা যে সালমানের বোন, তা তো বুঝলাম। তা সল্লু মিঞার একমাত্র বোনের সঙ্গে একটু পরিচয় করে নিলে কেমন হয়? তাই অর্পিতা খান সম্পর্কে রইল ছয়টি তথ্য।

১. সালমানের বাবা সেলিম খান ও তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী সালমা খান দত্তক নিয়েছিলেন অর্পিতাকে। মুম্বাইয়ের ফুটপাথের এক গৃহহীন নারীর গর্ভে জন্ম হয়েছিল অর্পিতার। অর্পিতা যখন কোলের শিশু, তখন ফুটপাথেই অনাহারে মৃত্যু হয় তার মায়ের। মায়ের দেহের পাশে বসে ফুটপাথে কাঁদছিল অর্পিতা। সেলিম ও সলমা গাড়ি থেকে সেই দৃশ্য দেখতে পান। তখনই ঠিক করেন এই ছোট্ট শিশুটিকে তারা দত্তক নেবেন। ফুটপাথের সেই গৃহহীন শিশুই আজ সালমানের বোন অর্পিতা খান।
২. অর্পিতা যখন অষ্টাদশী, তখন বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ভাবতে অবাক লাগে, টু স্টেটস, গুন্ডে খ্যাত অর্জুন খানের নাকি তখন ওজন ছিল ১৪০ কেজি। কিন্তু সেই সম্পর্ক দুই বছরের বেশি টেকেনি।
৩. আদ্যপান্ত ফিল্মি পরিবারে বড় হলেও লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরা তাকে কোনো দিনই প্রভাবিত করেননি। বরং বরাবর নিজের পড়াশোনার উপরেই মনযোগী ছিলেন অর্পিতা খান। স্কুল, কলেজের পাঠ শেষ করে লন্ডন স্কুল অব ফ্যাশন-এ উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। বর্তমানে মুম্বাইয়ে একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্মে কাজ করেন।
৪. অবশ্য অর্পিতার হবু বর আয়ুষ শর্মা অভিনয় জগতেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। আর শ্যালক যখন সালমান, তখন আর চিন্তা কি?
৫. বিয়ের মুখে অর্পিতা তার কবজিতে একটি বড় আকারের ট্যাটু করিয়েছেন। সেই ট্যাটুতে সেলিম, হেলেন, সালমান, আরবাজ, সোহেল ও দীক্ষার নাম রয়েছে।
৬. অর্পিতা ও আয়ুষ- দুজনেই বিয়ে উপলক্ষে সোশ্যাল সাইট ইন্সস্টাগ্রামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। সেই অ্যাকাউন্টে তারা তাদের বিয়ের আসরের প্রত্যেকটি মুহূর্তের ছবি পোস্ট করবেন। অর্পিতা-আয়ুষের ইন্সস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হলো AA_WEDDING।

বর্তমান প্রেমিককে ছাড়াই...

বেশ কয়েকদিন ধরেই বলিউডজুড়ে ছিল একটাই আলোচনা। ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। আর তা হলো বলিউড স্টার সালমান খানের বোন অর্পিতার বিয়ের আয়োজন। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফালাকনামা প্যালেসে গতকাল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়ে গেল। এতে অন্য সব শিল্পী কলাকুশলীর মতো বলিউডের আরেক সুপারস্টার কাটরিনা কাইফও উপস্থিত ছিলেন। সালমান খানের সাবেক প্রেমিকা হিসেবে ক্যাটের নিমন্ত্রণ পাওয়াটা একটু বিশেষ কিছুই ছিল বটে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বিয়ের এ অনুষ্ঠানে তার পাশে ছিলেন না বর্তমান প্রেমিক রণবীর কাপুর। থাকবেনইবা কী করে! দাওয়াত তো পেতে হবে। খান পরিবার থেকে অন্য সব তারকাকে নিমন্ত্রণ করলেও করা হয়নি রণবীরকে। এ নিয়ে অবশ্য তার তেমন কোন আক্ষেপ নেই। কিন্তু যে মানুষটিকে ছাড়া কাটরিনা কোথাও যান না, তাকে ফেলে সালমানের বোনের বিয়েতে যাওয়াটা সত্যিই রণবীরকে অনেক কষ্ট দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সাবেক প্রেমিক সালমানের টানেই কি ক্যাটরিনা রণবীর ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে চলে গেলেন- এমন প্রশ্ন সবার। এদিকে আগামী ২১শে নভেম্বর অর্পিতা খানের বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এরই মধ্যে সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য কাটরিনা আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সেখানেও কি রণবীরকে ছাড়া তিনি একাকী চলে যাবেন?- এমন প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে বলিউডে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ফজলুর রহমান কারাগারে by আশরাফুল ইসলাম

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শহীদুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ২৩শে মার্চ অনুষ্ঠিত ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৯শে মার্চ রাতে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম কামাল হোসেনের এক নির্বাচনী পথসভায় এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিএনপি নেতা এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক কথা বলেছেন এমন অভিযোগ করে মো. আলী হোসেন নামে এক আওয়ামী লীগ সমর্থক তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ এনে ইটনা থানায় একটি জিডি (নং-৫১১, তাং-১৯/০৩/১৪) করেন। গত ১৮ই আগস্ট পুলিশ নন এফআইআর মামলা হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। মেয়ের ভর্তি এবং নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে এডভোকেট মো. ফজলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় গত ২৭শে আগস্ট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গত ২৭শে অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এডভোকেট মো. ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। গত ২৯ শে অক্টোবর হাইকোর্টের এ নির্দেশের উপর চেম্বার জজ স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তিতে গত ৬ই নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ প্রদান করেন। আপিল বিভাগের আদেশের পর ফজলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক বিচারক শহীদুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।

ফখরুলসহ ২৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কলাবাগান থানায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নথি ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার ধার্য তারিখে অভিযোগপত্রটি ঢাকা মহানগর হাকিম শামসুল আরেফিনের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নথি সিএমএম আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ জানান, মির্জা ফখরুলের পক্ষে ২০৫ ধারায় হাজিরা দেয়া হয়েছে। জামিনে গিয়ে পলাতক ৯ জন ছাড়া অন্যরা হাজির ছিলেন। গত ২২ অক্টোবর ফখরুলসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দু’জনকে অব্যাহতির আবেদন করেন আইনজীবী। মামলায় ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দিন দুপুরে কলাবাগান থানার পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ওই কর্মসূচি পালনকারী দলীয় সমর্থকরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য ও তাদের প্ররোচনায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে।

শফিউল হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন জ্ঞানতাপস এভাবে নিহত হবেন তা কারোরই কাম্য নয়। তিনি হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। রুয়েটের চ্যান্সেলর হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্লান প্রণয়ন করেছে। সরকারের ঘোষিত রূপকল্প ভিশন-২০২১ মূলত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। যার সফল বাস্তবায়নে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
তিনি গ্রাজুয়েটপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য হল জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন, সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে অবদান রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিজেদের গবেষণায় সম্পৃক্ত রাখতে হবে, বাড়াতে হবে গবেষণার ক্ষেত্র।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা বিশিষ্ট প্রকৌশল শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার সুফল এখনও জনগণ পায়নি। প্রকৌশল শিক্ষাকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অপ্রশিক্ষিত আমলাদের অধীনে কাজ হয়। এই অবস্থার পরিবর্তনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রুয়েট ভিসি প্রফেসর রফিকুল আলম বেগ।
সমাবর্তনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, এনামুল হক এমপি, আবদুল ওয়াদুদ এমপি, আয়েন উদ্দিন এমপি, রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও রুয়েট চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ সব গ্রাজুয়েটকে ডিগ্রি এবং কৃতী গ্রাজুয়েটদের মাঝে গোল্ড মেডেল ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। সমাবর্তনে ২ হাজার ৮৭ জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন।

পাউবোর ডিজি সহিদুরকে দুদকে তলব

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অনুসন্ধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবসরে যাওয়া মহাপরিচালক সহিদুর রহমানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি তাকে তলবি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ২০ নভেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, পাউবোর
মহাপরিচালক সহিদুর রহমান মঙ্গলবারই অবসর গ্রহণ করেন। তার এ অবসর গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে তার বিষয়ে অনুসন্ধান সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখে। ১৬ নভেম্বর তলবি নোটিশ পাঠানো হলেও তার যাতে কিছুতেই সম্মানহানি না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে গণমাধ্যমকে কোনো তথ্য দেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সহিদুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর তলবের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সূত্র মতে, মুক্তিযুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ নিয়ে পাউবোর মহাপরিচালক হিসেবে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন সহিদুর
রহমান। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে রেকর্ডপত্র হস্তগত করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এর মধ্যে ডোসিয়ার, পিডিএস (পার্সোনাল ডাটাশিট), মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাখিলকৃত সনদ, চাকরিতে যোগদানকালে পূরণকৃত ফরমের সত্যায়িত অনুলিপি, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, সার্ভিস রেকর্ড, মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের প্রমাণপত্র, নিজের নাম সংবলিত মুক্তিবার্তা (লাল বই) দুদকের হস্তগত হয়েছে। কিন্তু এসব রেকর্ডপত্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই বলে জানা গেছে। ৭ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিল-জামুকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব আবুল হাসনাতকে। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন। আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে প্রণীত তালিকা কাটাছেঁড়া করার অভিযোগ রয়েছে। সহিদুর রহমানের নামও তিনি কাটাছেঁড়া করেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে তলব করা হল সহিদুর রহমানকে। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগও অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

মার্চের পর এ সরকার টিকবে না : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, অবৈধ দখলদাররা আরও চার বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু চার মাসের বেশি এ সরকার টিকবে না। আজকে দেশের সর্বত্র জনগণের মাঝে একটাই জল্পনা কাজ করছে, আগামী জানুয়ারি-ফেব্র“য়ারি-মার্চের পর এ সরকার আর নাই।
গয়েশ্বর রায় বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় বলে বিএনপির নাকি আন্দোলন করার ক্ষমতা নাই তাহলে এত ভয় করেন কেন? কারণ যে কোনো মুহূর্তে আপনাদের কাচের ঘর ভেঙে যেতে পারে। জনগণ ফুঁসে উঠছে। আপনাদের আর বেশিদিন সময় নাই। তিনি বলেন, বর্তমানটা আপনাদের, আর ভবিষ্যৎটা আমাদের। আজকে আপনারা আমাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছেন ভবিষ্যতে আমরা যদি সেই পথ অবলম্বন করি, তাহলে আপনাদের পরিণতি কী হবে তা ভেবেই আপনারা ভীত হয়ে পড়ছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কর্মজীবী দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে সংগঠনটি এ সভার আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাজী লিটনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবেদিন ফারুক, গৌতম চক্রবর্তী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন সরদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
গয়েশ্বর বলেন, মওলানা ভাসানী ক্ষমতায় আসেননি; তেমনি তারেক রহমান ক্ষমতায় আসলেন কি আসলেন না, এটা বড় কথা নয়। তিনি স্বার্থক। তিনি রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত। এটাই বড়। তারেক রহমানকে ভাইয়া না বলে নেতা বলার জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পরাজয়ের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই। বিজয় হবেই।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ছোট ভাইয়ের পর এবার বড় ভাইকে হত্যা

ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার পাঁচ মাস পর সেই মামলার বাদী বড় ভাইকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাইঘড় নোয়াপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে।
গত জুন মাসের ২ তারিখ রাতে উপজেলার নাইঘড় নোয়াপাড়া গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে কসাই কাশেমকে কে বা কারা চাপাতি দিয়ে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এর পরদিন তার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের কবির, হুমায়ুন, সবুজ, মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের মনির, নন্দিপাড়া গ্রামের সোহেল মিয়াজী ও দুলালপুর গ্রামের কাউছার আহমেদকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। ওই মামলার কোনো আসামিকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
কাসেম হত্যার ৫ মাস পর মঙ্গলবার ভোরে ওই মামলার বাদী তার বড় ভাই জাকিরের গলাকাটা লাশ বাড়ির পাশে ডিপ মেশিনের ড্রেন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, কাশেম হত্যা মামলার আসামিরাই তার স্বামীকে হত্যা করেছে।
ব্রহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মফজল আহমেদ জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে তার গলাকাটা এবং বুকের ডান পাশে দুটি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা কেন যৌক্তিক by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সময়পোযোগী নয়। কারণ ওই সিদ্ধান্তের ফলে একটি প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ ছাড়াই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের নামে একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অধিকার কর্তৃপক্ষের নেই।
আসন শূন্য থাকা এবং ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ করা হলেও এর ফলে সেই উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ওই ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই দায়ী না হওয়ায় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা বন্ধের নামে তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। বস্তুত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির গলদের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ফলে আমরা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ না করে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করতে পারি। কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায়ভার শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া নিঃসন্দেহে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার ঢাকতে একটি ব্যাচকে বঞ্চিত করার অধিকার কর্তৃপক্ষের আছে কি?
শিক্ষার্থীরা ভালো বিষয়ে পড়ার আশায় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বলে অনেক আসন শূন্য হয়ে যায়। বর্তমান সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আসন শূন্য থাকার সম্ভাবনা কমে আসবে, এ দাবি অনেকাংশে সত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৮ ভাগই প্রায় এক বছর ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করে দ্বিতীয়বার কাক্সিক্ষত বিষয়ে সুযোগ পায়। ইংরেজি ও অর্থনীতি ছাড়া কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রায় সব বিষয়ে এবং চাকরির বাজারে কম চাহিদার বিজ্ঞান অনুষদের অনেক বিষয়ে বহু আসন শূন্য হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অন্য বিষয়ে চলে যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে যথাক্রমে ৪২৯, ৪১৬ ও ৪২১ আসন শূন্য হয়েছে। ঢাবির একটি আসন অনেক মূলবান হওয়ায় ভালো বিষয়ে পড়ার অজুহাতে এত আসন শূন্য থাকা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তবে এর দায়ভার কোনোক্রমেই ২০১৪ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নয়।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ ছাড়া দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার কারণে প্রতিবছর আসন শূন্য থাকার প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখেছি, আমার বিভাগে প্রতিবছর ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও বছর শেষে গড়ে ২০ জন অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাচের ক্ষেত্রে ওই হার অনেক বেশি। তাই বর্তমান সিদ্ধান্ত আসনশূন্য রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও এর বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে তা কার্যকর করা হলে একটি প্রজম্ম (২০১৪ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা) ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হঠাৎ সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তন ও নতুন পাঠ্যবই প্রণয়ন করে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কলংকের কালিমা এঁকে দিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ওদের বহুবার মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করেছে।
এবার ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে নতুন নিয়মে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের অপমৃত্যু হলে এ শিক্ষার্থীদের অনেকে হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলে তার দায় কে নেবে? এমনিতে অন্য বছরের তুলনায় এবার ভর্তি পরীক্ষা কয়েক মাস আগে হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি। ফলে ২০১৩ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা করে তারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ ৪৫ হাজার ৫৩ জনের মধ্যে ২১ হাজার ৪৯৩ জনই বিগত বছরের পরীক্ষার্র্থী, যা এর বড় প্রমাণ। ফলে হঠাৎ করে ভর্তি পরীক্ষা থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হলে ২০১৪ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া থেকে বঞ্চিত হবে।
‘দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যাবে না’ এমন সিদ্ধান্ত ভর্তি পরীক্ষার আগে জানালেও তারা বিকল্প চিন্তা করতে পারত। অনেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টাও করেনি। ইতিমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবির মতো ‘একবার পরীক্ষা নীতি’ গ্রহণ করায় এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজে পড়া ছাড়া উপায় থাকছে না।
এই সিদ্ধান্ত কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না করলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পোয়াবারো হবে। অন্যত্র ভর্তি হওয়ার সব সুযোগ শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হবে। কিন্তু যাদের আর্থিক অবস্থা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপযুক্ত নয়, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে। এ ক্ষেত্রে গ্রামের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ শহুরে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দ্বিতীয়বার গ্রামের শিক্ষার্থীরা বেশি ভালো করে। গ্রামের মধ্যবিত্ত-নিুমধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক-মজুরের সন্তানদের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।
কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে কার্যকর করা। বিভাগীয় চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যে নিয়ম চালু আছে, তা বন্ধ করা হলে ঢাবিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আর আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না, যা আসন শূন্য হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করবে। আর ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনই ঘোষণা করা হলে ২০১৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিকল্প চিন্তা করার এবং উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য যথেষ্ট সময় পাবে।
বাইরের কেন্দ্রগুলোয় ভর্তি পরীক্ষায় যে অনিয়ম হয়, তা রোধ করা কঠিন নয়। ঢাকা বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতি কক্ষে ২-৫ জন শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। তাই ভেতরে একজন বা প্রয়োজনে দু’জন শিক্ষককে দায়িত্বে রেখে বাকি শিক্ষকদের বাইরের কেন্দ্রগুলোয় পাঠানো যায় এবং কয়েকটি কক্ষ মিলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে নজরদারিতে নিয়োজিত করা হলে বাইরের কেন্দ্রগুলোর শিক্ষকদের দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগে জালিয়াতি করার সুযোগ বন্ধ হবে। ভর্তি পরীক্ষার আগে বাইরের কেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষক ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে সক্ষম তা যাচাইপূর্বক প্রতি কক্ষে কমপক্ষে দু’জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবে এমন অনুপাত হিসাব করে এবং প্রকৃত আসন সংখ্যা যাচাই করে সেই অনুপাতে পরীক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হলে দুর্নীতি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। ভর্তি পরীক্ষার এক ঘণ্টা মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হলে মোবাইল ও ব্লুটুথের মাধ্যমে উত্তর পাঠানো বন্ধ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা জালিয়াতিমুক্ত করার অজুহাতে অথবা আসন শূন্য থাকার দোহাই দিয়ে একটি প্রজন্মকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ঢাবিতে ভর্তি না হওয়া ২০১৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণদের দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দিয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘একবার পরীক্ষানীতি’ চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামছে দুদক

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অনুসন্ধানে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা বন্দরে বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এসব প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নথিপত্র চেয়েছেন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপিএম পদ্ধতিতে সাইফ পাওয়ারটেককে অবৈধভাবে কাজ দেয়া, তিনটি পুরনো জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। এসব প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্তে দুদকের একজন উপ-পরিচালককে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। শিগগিরই দুদকের একটি দল সরেজমিন পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বন্দরে যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র সরবরাহ করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেয়া হবে। নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
সূত্র আরও জানায়, মোবাইল স্ক্যানার ক্রয়ে অনিয়ম, অ্যাম্বুলেন্স শিপ ক্রয়ের দুর্নীতি, ট্রেনিং সিমুলেটর ক্রয়, ১০টি ক্রেন ক্রয়ে অনিয়ম, হাসপাতাল নির্মাণ, অরূপ এন্টারপ্রাইজের গোপন চুক্তি, বার্থ অপারেটর ও টার্মিনাল অপারেটর কার্যাদেশ প্রদান, বন্দরের ঢাকাস্থ রেস্ট হাউসের জায়গা ক্রয় ও নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুদক।

দেশে থাকতে হলে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলতে হবে

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন বলেছেন, দেশে থাকতে হলে একবার হলেও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলতে হবে। তাহলে মৃত্যুর পরেও মানুষ আপনাদের মনে রাখবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বললে দেশে থাকতে পারবেন, না হলে দেশে থাকতে পারবেন না। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের হলরুমে বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা লীগ আয়োজিত স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রমোদ মানকিন বলেন, যারা জয় বাংলা না বলে এখনও জিন্দাবাদের মধ্যে আছেন তাদের জন্য এটা দুর্ভাগ্য। অন্তত একবার জয় বাংলা বলুন। যারা আজকে জয় বাংলা বলে না তাদের সবাইকে একদিন তা বলতে হবে। বলতে বাধ্য হতে হবে। তা না হলে এ দেশে থাকতে পারবেন না। কারণ এ দেশ থাকবে, জয় বাংলা থাকবে, জিন্দাবাদ একদিন থাকবে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার কারণে মৃত্যুর পরও এক খারাপ ব্যক্তির মুখ পচেনি। তাই আপনারা (বিএনপিকে উদ্দেশ করে) একবার হলেও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলুন। তাহলে মৃত্যুর পরেও মানুষ আপনাদের মনে রাখবে। তাহলেই দেশে থাকতে পারবেন, না হলে দেশে থাকতে পারবেন না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. কায়সার-ই আলম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুজাউল করিম চৌধুরী বাবুল।

দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ অনৈতিক ও ক্ষতিকর by আবদুল লতিফ মন্ডল

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম তাদের বলেছেন, রাজনীতি করার কারণে তোমাদের সময় কম, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে তাই আমাদের উচিত ছাত্রলীগের পাশে দাঁড়ানো। তাই তোমরা বিভিন্ন চাকরির লিখিত পরীক্ষা একটু ভালো করে দাও, বাকিটা আমরা দেখব। গত ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এইচটি ইমাম আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তোমাদের সঙ্গে আগেও ছিলাম, এখনও আছি। এখনও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখনই কারও বায়োডাটা নিয়ে যাই, তখনই তিনি জিজ্ঞেস করেন, সে কি ছাত্রলীগ করেছে? কোথায় করেছে? কোন পদে ছিল? তোমাদের চাকরি দিতে প্রধানমন্ত্রী ও আমি কম চেষ্টা করি না।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে দলীয় পরিচয়ে কাউকে সরকারি চাকরিতে (সরকারি চাকরি বলতে স্বশাসিত, আধা-স্বশাসিত সংস্থা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিকেও বোঝাবে) নিয়োগে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস বা প্রতিশ্র“তি দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষ বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের কোনো অনগ্রসর অংশের প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ, কোনো ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে ওই ধর্মাবলম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ অথবা কোনো কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তা নারী বা পুরুষের জন্য সংরক্ষণ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে এবং নিয়োগ হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে।
স্বাধীনতার পরপরই দলীয় বিবেচনায় সরকারি চাকরিতে লোক নিয়োগ দেয়া শুরু হলেও তা ছিল সীমিত। ১৯৯১-২০০৬ সময়কালে দেশের দুটি বড় দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পালাক্রমে দেশ শাসনের দায়িত্বে থাকাকালে দলীয় বিবেচনায় সরকারি চাকরিতে লোক নিয়োগের প্রসার ঘটতে থাকে। ২০০৭-২০০৮ সময়কালে নির্দলীয় সরকারের আমলে এ অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং বর্তমানে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীন দলের লোক না হলে অথবা ক্ষমতাসীন দলের কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির সক্রিয় সহযোগিতা না পেলে অথবা মোটা অংকের ঘুষ না দিলে যে সরকারি চাকরি হতে পারে, জনগণ তা বিশ্বাস করতেই ভুলে গেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শাসনামলে (২০০১-২০০৬) অভিযোগ ছিল যে, বিসিএস ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুপারিশ সংবলিত তালিকা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে প্রেরণ করা হতো। ওই শাসনামলে (২০০৫ সালে) বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৫০ জনকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান মুখরোচক আলোচনায় পরিণত হয়েছিল। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রদান অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মহাজোট সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দেশের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় সৃষ্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১৩৫০০টি পদ শুধু আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের প্রার্থীদের দিয়েই পূরণ করা হবে। তার এই ঘোষণায় জনগণ বিস্মিত হয়েছিলেন। ওই আমলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও নির্বাচনে জয়ী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছিলেন, দল আমাকে নির্বাচিত করেছে, মেয়র হিসেবে দলের লোকদের নিয়োগ তো দেবই। তিনি আরও বলেছিলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তিনি তার দলের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন এবং তাদের অনেককে স্থায়ীও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা এইচটি ইমাম কোনো রকম রাখঢাক না করে ১২ নভেম্বর ছাত্রলীগের প্রার্থীদের চাকরি প্রদানে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করে দিয়েছেন। ১৭ নভেম্বর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এইচটি ইমাম অবশ্য দাবি করেছেন, ১২ নভেম্বর ছাত্রলীগের উদ্দেশে দেয়া তার বক্তব্য গণমাধ্যমে বিকৃত ও খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এইচটি ইমামের এ দাবি কতটা সত্য, গণমাধ্যম তার জবাব দেবে বলে আশা করা যায়।
প্রশ্ন উঠতে পারে, দলীয় পরিচয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ অনৈতিক ও প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর কেন?
এক. ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা আমরা পেয়েছি উত্তরাধিকার সূত্রে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এ শাসনব্যবস্থার নীতি হল, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগদান। আরেকটি নিয়ম হল, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরিতে বহালের কোনো সম্পর্ক না থাকা এবং তাদের দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ডের সুফল বিভিন্ন মতাবলম্বী মানুষের কাছে পৌঁছাতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই।
কেউ কেউ যোগ্যতার প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় পরিচয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সমর্থনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পয়েলস সিস্টেমের (spoils system) উদাহরণ টানেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্পয়েলস সিস্টেমের সীমিত প্রচলন আছে। এ পদ্ধতির সারবত্তা হল, ক্ষমতা লাভকারী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের যোগ্যতা বিচার না করে পুরস্কারস্বরূপ সরকারি চাকরি প্রদান। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সপ্তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্র– জ্যাকসনের সময় (১৮২৯-৩৪) এ পদ্ধতি চালু হয়। সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতা অবহেলিত হওয়ায় স্পয়েলস সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য আইন পাসের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠন করা হয়। স্পয়েলস সিস্টেম বর্তমানে মূলত ফেডারেল সরকারের উচ্চ পদগুলোতে নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
দুই. উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না করে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ প্রদান অনৈতিক। কারণ এতে যেসব মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে অনৈতিক কাজ স্বীকৃতি পায়, যা সমাজে নানা অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
তিন. মেধাবী ও যোগ্য লোক চাকরি না পেলে রাষ্ট্র তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এতে রাষ্ট্রের সব স্তরে অদক্ষতা ও স্থবিরতা দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখেছেন, আলোচ্য উপদেষ্টা ছাত্রলীগের সভায় বেপরোয়াভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে যে কথা বলেছেন তা হল- লিখিত পরীক্ষায় যদি তারা পাস করে তাহলে মৌখিক পরীক্ষায় তাদের কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না। সরকার তাদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ তারা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে সরকারি চাকরিতে ঢোকা প্রায় অসম্ভব। এটা বলা নিষ্প্রয়োজন যে, ছাত্রলীগের এ নেতাকর্মীরা মেধাশূন্য। সর্বত্র যেভাবে কারচুপি চলছে তাতে লিখিত পরীক্ষায় পাস করাও তাদের পক্ষে কোনো অসুবিধার ব্যাপার বা কঠিন নয়। এভাবে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে মৌখিক পরীক্ষায় সরকারের সহায়তা লাভ করে যারা চাকরিতে যোগদান করবে, প্রশাসন তারাই পরিচালনা করবে এবং এর ফলে প্রশাসন হবে মেধাশূন্য। ক্ষমতা ও মেধাশূন্যতা যে দুর্নীতির জনক হবে এটা স্বাভাবিক। (যুগান্তর, ১৬ নভেম্বর)।
চার. গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা রকম চাপের সম্মুখীন হতে হয়। দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষেই এসব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। ১৯৯১-২০০৮ সময়কালে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্যে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক দলীয় স্বার্থে প্রশাসনকে ব্যবহারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সরকারি কর্মকর্তাদের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্রের অগ্রগতি।
সবশেষে যা বলা দরকার তা হল, মার্কিন ইতিহাস প্রমাণ করে যে, জনগণ রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য লোক নিয়োগের পরিবর্তে কোনোভাবেই দলীয় পরিচয়ে লোক নিয়োগ পছন্দ করে না। দেশের ক্ষমতাসীন সরকার এবং ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতাসীন হবে, তারা এ সত্যটি যত শিগগির উপলব্ধি করবে, ততই মঙ্গল।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

বছরে ৪ লাখ প্রিম্যাচিউর বেবি জন্মগ্রহণ করে

আসমা বেগম বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। করজোড় করে বলছিলেন, আমার নাতিকে বাঁচান। আল্লাহর ওয়াস্তে বাচ্চাটাকে ভর্তি করান। কর্তব্যরত ডাক্তার সাফ জানিয়ে দিলেন, এ শিশুর (প্রিম্যাচিউর বেবি) মতো অনেক শিশুই ভেতরে রয়েছে, যাদের অভিভাবক সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন। এমনটা শুনে আসমা আরও বিলাপ শুরু করেন। একপর্যায়ে নার্সরা তাকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেন। এটি রোববার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক শিশু ওয়ার্ডের ঘটনা। আসমা জানান, তার একমাত্র ছেলে অপুর প্রথম সন্তান এটি। ৪ দিন হল তার জন্ম। মা অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই হাসপাতাল থেকেই রেফার করা হয়েছে শিশুটিকে। তার ওজন মাত্র সাড়ে ৬০০ গ্রাম। ২ দিন ধরে শিশুটিকে নিয়ে আসছেন, ডাক্তার বলে দিচ্ছেন, সিট নেই।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা যুগান্তরকে জানান, দেশের প্রতিটি জেলা তথা রাজধানীর বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রিম্যাচিউর শিশু এ হাসপাতালে আসছে। ২১১ বিশিষ্ট নবজাতক শিশু ওয়ার্ডটিতে সবসময় রোগী পরিপূর্ণ থাকে। ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশই প্রিম্যাচিউর বেবি। এমনই পরিস্থিতিতে ১৭ নভেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব প্রিম্যাচিউরিটি দিবস পালিত হয়েছে। প্রতিবছর ক্যালেন্ডার ধরে দিনটি আসে, নানা আঙ্গিকে আলোচনা হয়। তারপর যেমন চলার, তেমনই চলে। বাংলাদেশ শিশুচিকিৎসক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ডা. একেএম আমিরুল মোরশেদ খসরু যুগান্তরকে জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিশু প্রিম্যাচিউর জন্মগ্রহণ করছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশুমৃত্যুর ৪৫ শতাংশই ঘটছে শুধু প্রিম্যাচিউর বেবির ক্ষেত্রে। প্রিম্যাচিউর শিশুদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকে তারাও পরে নানা অসুখে ভোগে। পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্বের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গর্ভধারণকালে মায়ের মধ্যে অপুষ্টি দেখা দিলে ভ্রুণের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে গড়ে প্রতিদিন ১০০ শিশুর ১০ জন প্রিম্যাচিউর জন্মায়। বাংলাদেশে প্রতি ১০০ বেবির ১৪ জন প্রিম্যাচিউর। প্রিম্যাচিউর শিশু জন্মানোর তালিকায় ৫ নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্তানসম্ভবা মায়েদের পুষ্টি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব লাভের ক্ষেত্রে পুষ্টিশিক্ষা বিশেষভাবে সাহায্য করে। পুষ্টিশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক হল- অতি দামি মানেই অতি পুষ্টিযুক্ত খাদ্য নয়। গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত স্বল্পমূল্যের দানাশস্য থেকেই পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। দানাশস্য, শাকসবজি, দুধ, ডিম, চিংড়ি এবং ছোট মাছ থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যায়।
৩৭ সপ্তাহ বা ২৫৯ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম নেয়া শিশুকে প্রিম্যাচিউর বেবি বলা হয়।

নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চল ছেয়ে গেছে বরফে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল বরফে ঢাকা পড়েছে। অঙ্গরাজ্যটির বাফেলো নগরসহ আশপাশের জনপদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রায় ছয় ফুট বরফের স্তূপ জমা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় কোনো কোনো স্থানে প্রায় ৪৮ ইঞ্চি বরফের স্তূপ জমতে পারে।
প্রতি ঘণ্টায় তিন-চার ইঞ্চি তুষারপাতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ঘণ্টায় ৪০ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইছে। এর মধ্যে অবিরাম তুষারপাতে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাফেলোতে বসবাসরত প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি নিরাপদে আছেন। সেখান থেকে প্রবাসী নুরুল মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, নগরের দক্ষিণে তুষারপাতের পরিমাণ বেশি।
কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জরুরি বিভাগ ছাড়া নগরের স্কুল-কলেজসহ সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাফেলোমুখী মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কোমো। সড়কে বরফে আটকে পড়া যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আটকে পড়া লোকজনের জন্য জরুরি শীতবস্ত্র, খাদ্য ও পানীয় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কসহ আশপাশের রাজ্যগুলোতে গতকাল সকাল থেকে তাপমাত্রা দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। নিউইয়র্কে সদ্য আসা প্রবাসী বাংলাদেশি শাহীনা বেগম বলেন, তীব্র ঠান্ডায় একদম কাবু হয়ে গেছেন তিনি।