Monday, May 2, 2016

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার ২

গ্রেপ্তার দুই ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ সুজা
(বামে) ও সারোয়ার জাহান (ডানে)।
বেসিক ব্যাংকের ৭০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ শনিবার ভোর চারটার দিকে জামালপুর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন এমারেল্ড অটোব্রিকস গ্রুপের পরিচালক সারোয়ার জাহান ও শামীম আহমেদ সুজা। জামালপুরের সুজাকান্দা ও স্টেশন রোড এলাকা থেকে দুদকের একটি দল তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ওই দলে ছিলেন উপপরিচালক ঋত্বিক সাহা, মো. ইব্রাহিম, শামসুল আলম, এস এম রফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ফজলে হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক শহীদুজ্জামান। বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৬টি মামলা করে দুদক। এর আগে এমারেল্ড গ্রুপের আরেক স্বত্বাধিকারী সৈয়দ হাসিবুল গণিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের আজ জামালপুর আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩,৬৯৩ কারখানার সেবা বন্ধ করছে বিজিএমইএ

৩ হাজার ৬৯৩ তৈরি পোশাক কারখানার সেবা বন্ধ করে দিল তৈরি পোশাকশিল্প–মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বায়োমেট্রিক ডেটাবেইসে বা তথ্যভান্ডারে যুক্ত না হওয়ার কারণেই কারখানাগুলোর সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। আগামীকাল রোববার থেকে এটি কার্যকর হবে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আজ শনিবার তথ্যভান্ডারে যুক্ত না হওয়া কারখানার সেবা বন্ধের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফারুক হাসান, এস এম মান্নান, মোহাম্মদ নাছির, ফেরদৌস পারভেজ প্রমুখ। জানতে চাইলে আজ রাতে সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রথম আলোকে বলেন, ‘তথ্যভান্ডারে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সেবা বন্ধ রাখবে বিজিএমইএ। তাই ভবিষ্যতে পোশাক রপ্তানি করতে চাইলে তথ্যভান্ডারে যুক্ত না হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’ জানা গেছে, ৬০৩টি পোশাক কারখানা আজ শনিবার পর্যন্ত তথ্যভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। বিজিএমইএর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪ হাজার ২৯৬। অর্থাৎ​, ৩ হাজার ৬৯৩ কারখানা এখনো তথ্যভান্ডারে যুক্ত হয়নি। বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ৪ হাজার ২৯৬ হলেও ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) নেয় মাত্র ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ কারখানা। তিনি আরও বলেন, তথ্যভান্ডারে যুক্ত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই সংশ্লিষ্ট কারখানার সেবা চালু করে দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, এক হাতে টাকা। অন্য হাতে সেবা। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও মালিকদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তবে তথ্যভান্ডারে যুক্ত হলে কারখানাগুলোকে আর বিমার টাকা পরিশোধ করতে হবে না। কারণ, সরকার শ্রমিক কল্যাণ তহবিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই তহবিলে প্রতিটি রপ্তানির আদেশের বিপরীতে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হবে। এখান থেকেই শ্রমিকদের বিমার প্রিমিয়ামের টাকা এবং শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সে জন্যই তথ্যভান্ডারের প্রয়োজন হবে। যাতে কিনা কারখানা অনুযায়ী পোশাকশ্রমিকদের সব ধরনের তথ্য থাকবে। জানা গেছে, শ্রম বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবির মুখে বিজিএমইএ শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার ও সার্ভিস বুক করার ঘোষণা দেয় ২০০৮ সালে। তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর দাবিটি আরও জোরালো হয়। ২০১৩ সালের ১৪ মে বিজিএমইএ সদস্যদের বলে, ১৫ জুনের মধ্যে সব কারখানার শ্রমিককে বায়োমেট্রিক ডেটাবেইসে বা তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ জন্য দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিজিএমইএর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে যুক্ত হতে প্রতিটি কারখানার শ্রমিক সংখ্যাভেদে ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সংগঠনটি দফায় দফায় তাগাদা দিয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ৩০১টি কারখানা তথ্যভান্ডারে যুক্ত করতে পারে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ পোশাকশ্রমিক তথ্যভান্ডারের আওতায় আসেন। তারপর গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর কোনো কারখানামালিক আগ্রহ দেখাননি। তখন বিজিএমইএ আবারও চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তথ্যভান্ডারে যুক্ত হতে অনুরোধ করে। তারপরও কাজের কাজ কিছু হয়নি। সবশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আজ শনিবার ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় সংগঠনটি। তখন বলা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে তথ্যভান্ডারে যুক্ত না হলে ব্যর্থ সদস্য কারখানাকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। বিজিএমইএর বায়োমেট্রিক ডেটাবেইসে পোশাকশ্রমিকের বিভিন্ন তথ্য যেমন : ছবি, আঙুলের ছাপ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, বেতন-ভাতা, কাজের ধরন, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় থাকবে। সুষ্ঠুভাবে তথ্য পূরণের পর প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য একটি স্বতন্ত্র নম্বর দেওয়া কথা আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত ছিলেন: অর্থমন্ত্রী

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত ছিলেন বলে এখনো মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ একটি তদন্ত চালাচ্ছে। আমাদের কিছু মানুষ অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িত।’ তবে এ বিষয়ে আর বেশি বলতে রাজি হননি তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের (ফেড) সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই ফেড চারটি লেনদেন অনুমোদন দিয়েছে। এ কারণে ওই অংশের জন্য তারাও (ফেড) দায়ী। তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। তারা এ সমস্যার দায় থেকে মুক্ত নয়। ফেড গত মাসে বলেছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো লেনদেনের নির্দেশনাগুলো যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করেই পাঠানো হয়েছিল। ওই নির্দেশনাগুলোয় সুইফট সিস্টেমের অনুমোদন ছিল।
এদিকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা দেশের বাইরে রয়েছেন। আর সহকারী দুই মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। এ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এখন কাজ করছেন। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত হবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এ ছাড়া রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ৭ কোটি ডলার অপরাধীরা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যায় অপরাধীরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব। বাকি অর্থ শনাক্ত করা কঠিন। অর্থমন্ত্রী ব্লুমবার্গকে বলেন, যে প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ চুরি গেছে, তাতে এর সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা খুবই কষ্টসাধ্য। অধিকাংশ অর্থই কয়েকটি ক্যাসিনো ও এগুলোর অ্যাকাউন্ট বা হিসাবে জমা হয়। নএ অপরাধকে ‘খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্মরণকালে এ ধরনের ঘটনা আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না। চুরি যাওয়া অর্থ বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অঙ্কের। এটি অর্থ লেনদেনে নিরাপত্তার বিষয়ে সারা বিশ্বের জন্যই একটি অনেক বড় সতর্কবার্তা।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হয় ও সরিয়ে দেওয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকে। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে।

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় by বিয়র্ন লোমবোর্গ

বিয়র্ন লোমবোর্গ
উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত, তা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে গবেষণা করছে কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার। অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উন্নয়নের ওপরও জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের জন্য ভিশন ২০২১ অর্জনে এই গবেষণাভিত্তিক কিছু নিবন্ধ প্রকাশ করছে প্রথম আলো। আজ প্রকাশ করা হলো বারোতম নিবন্ধটি। সংক্রামক সব রোগের ব্যাপারেই আমরা সব সময় বেশি সাবধানতা অবলম্বন করি। একটা দীর্ঘ সময় ধরে এসব রোগের কারণেই সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ প্রাণ হারাত। আমরা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবকে অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) হিসেবে পরিচিত হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৫২ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়কালে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ শতাংশ হয়েছে। বর্তমানে অসংক্রামক রোগগুলোই সবচেয়ে বড় ঘাতক। দেশে যত মানুষ মারা যাচ্ছে, তার ৫৯ শতাংশ মারা যায় নানা অসংক্রামক রোগে। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় এবং স্বাস্থ্য খাতের বাইরেও আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে এ দেশে প্রথমে কোন সমাধানের দিকে নজর দেওয়া উচিত? এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রায়োরিটিজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের সহযোগিতায় কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার গবেষণা ও পরামর্শ–বিষয়ক প্রকল্প বাংলাদেশ প্রায়োরিটিজ গঠন করে। এ প্রকল্পে বাংলাদেশ, আশপাশের অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডজন খানেক অর্থনীতিবিদ কাজ করছেন। বাংলাদেশ উন্নয়নের জন্য যে টাকাটা ব্যয় করছে, কীভাবে তার সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েই তাঁরা গবেষণা করছেন এবং পরামর্শ তুলে ধরছেন। চারজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ লিংক নামে তাঁদের লিখিত একটি নতুন গবেষণাপত্রে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাঁরা দেখেছেন যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান হলো সেগুলো, যেগুলোর লক্ষ্য উচ্চরক্তচাপ (হাইপারটেনশন) ও তামাকসেবন হ্রাস করা। বাংলাদেশজুড়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ক্লিনিক বাড়ি থেকে আধা ঘণ্টা হাঁটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত। এই বিদ্যমান অবকাঠামো অসংক্রামক রোগসমূহ মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি সাশ্রয়ী সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে হাইপারটেনশন বা অস্বাভাবিক উচ্চরক্তচাপের প্রকোপ যে শুধু ব্যাপক তা নয়, এটি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ আরও অনেক গুরুতর অসুখের জন্যও প্রাথমিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আপনি বা আপনার পরিচিত যে কারও এই রোগ থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি। ৩৫ বছরের বেশি বয়স্ক প্রতি তিনজন নারীর একজন এবং প্রতি পাঁচজন পুরুষের একজনের উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। কিন্তু এর চিকিৎসা বেশ সহজ এবং মোটামুটি সস্তা: পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের খরচসহ প্রতি ব্যক্তির ক্ষেত্রে বার্ষিক খরচ প্রায় ৭ হাজার টাকা। উচ্চরক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে এই সমাধান অনেক মানুষের জন্য অনেক বেশি সুফল বয়ে আনতে পারে। চিকিৎসাকৃত রোগীদের তিন-চতুর্থাংশ গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচার আশা করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে এই প্রচেষ্টার পেছনে ব্যয়িত প্রতি টাকা ৩৭ টাকার সুফল বয়ে আনবে। তামাকও হৃদ্রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বাংলাদেশে এ রোগটি একটি বড় ঘাতক: প্রতিবছর ৭০ হাজার মানুষ তামাক–সংশ্লিষ্ট রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে। পুরুষেরা সাধারণত বেশি তামাক সেবন করে এবং নারীরা প্রধানত ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করে। ১৫ বছরের বেশি বয়স এমন প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। অর্থাৎ এই বয়সসীমার মধ্যে প্রতি পাঁচজনের দুজন তামাক ব্যবহার করে। অনেক দেশে সিগারেটের ওপর কর আরোপ উল্লেখযোগ্যভাবে ধূমপান কমিয়ে এনেছে। গবেষকেরা সমস্ত তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আরোপ এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব করেছেন। বর্তমানে তামাকের খুচরা মূল্যের ওপর ৩৫ শতাংশ কর ধরা হয়, কিন্তু এই কর প্রায়ই আদায় করা হয় না। কঠোরভাবে আরোপিত উচ্চ কর, যা খুচরা মূল্যের ৫০ শতাংশ হবে যদি কার্যকর করা যায় তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের চাহিদা ৭ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এই কর দিয়ে যে রাজস্ব আয় হবে, তা দিয়ে এটি বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ খরচ শোধ হয়ে যাবে। আর তামাকের ব্যবহার হ্রাস পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ হাজারেরও বেশি মৃত্যু রোধ করবে। আপনি যদি এই সমস্ত সুবিধা একত্র করেন, পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে তামাকের কর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য ব্যয়িত প্রতি ১ টাকায় ৮ টাকার সমান কল্যাণ সাধন করবে। গবেষকেরা তৃতীয় যে রোগটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, তা হলো জরায়ুমুখের ক্যানসার। এটা বাংলাদেশের নারীদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ রোগগুলোর একটি। এটা প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার নারীর মৃত্যু ঘটায়। যদিও আমরা জানি এ ক্ষেত্রে কীভাবে সাহায্য করতে হবে, তবে এটা বেশ ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন যে জরায়ুমুখের ক্যানসারের টিকা, স্ক্রিনিং ও চিকিৎসায় ব্যয়িত প্রতি টাকায় অর্ধেক টাকারও কম সুফল বয়ে আনবে। এই রোগ যেমন ভয়াবহ, তেমনি আমাদের গবেষণা করে দেখতে হবে যে এর থেকে ভালো আরও অন্য কোনো ক্ষেত্র আছে কি না, যেখানে আমরা ব্যয়িত প্রতি টাকায় আরও পুরুষ ও নারীদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে পারি। যেমন ধরুন উচ্চরক্তচাপ মোকাবিলা। এই নতুন গবেষণায় যেমন দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার অনেক উপায় রয়েছে এবং এর বাইরেও অনেক সমস্যা রয়েছে, যেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। যদি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর কী হবে, সে বিষয়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে আপনি কোন ক্ষেত্রটি অর্থ ব্যয় করার জন্য বেছে নিতেন? <https://copenhagen. fbapp. io/ncdpriorities>-এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য শোনা যাক। ব্যয়িত প্রতি টাকায় বাংলাদেশ কোন সমাধানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধন করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
ড. বিয়র্ন লোমবোর্গ: কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট। টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন।

শান্তি আন্দোলনের নেতা আলী আকসাদ by জেসমিনা শান্তা

আলী আকসাদ
আজ পয়লা মে, বিশ্বশান্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী আকসাদের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। সৌভাগ্যক্রমে আমি তাঁর মেয়ে। জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তিনি তাঁর কাজের জায়গাটি প্রসারিত করেছিলেন এবং জনগণের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। সততা, নির্ভীকতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে করে তুলেছিল বিশেষ এক বামপন্থী রাজনীতিবিদ। কিশোর বয়সেই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হওয়ার কারণে রাজবন্দী হিসেবে আলী আকসাদকে কারাগারে যেতে হয়। দুই পর্যায়ে মোট আট বছর তিনি জেল খাটেন। জেলখানায় থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কমিউনিস্ট নেতা সরদার ফজলুল করিম ও অনিল মুখার্জির কাছ থেকে তিনি দর্শনের কঠিন অধ্যায়গুলো আত্মস্থ করেন।  বাবা হিসেবেও তিনি অনবদ্য। পেশাগত জীবনে আলী আকসাদ ছিলেন সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন ইত্তেফাক-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদ-এ তিনি ছিলেন বার্তা সম্পাদক। সংবাদ-এ তাঁর রাজনৈতিক কলাম ‘দীপঙ্কর’ জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে মোনায়েম খানের প্ররোচনায় যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকেরা সোচ্চার হন। ইত্তেফাক অফিসে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে পূর্ব পাকিস্তান দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। আলী আকসাদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। সরকার নয়জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তাঁদের আটক করে। আইয়ুব খানের শাসনামলে শহীদুল্লা কায়সার, আলী আকসাদসহ অনেক বুদ্ধিজীবী ও বামপন্থী নেতাকে আটক করা হয়। এ পর্বে আলী আকসাদ দুই বছর জেলখানায় ছিলেন। আলী আকসাদ পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে বেগম সুফিয়া কামাল ও প্রফেসর মুহম্মদ হবিবুল্লাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক মৈত্রী ও সংহতি আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। সে বছরই তিনি আতাউর রহমান খানের সঙ্গে সোভিয়েত পাকিস্তান মৈত্রী সংস্থার আমন্ত্রণে প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আলী আকসাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে দেশ যখন বিপন্ন, তখন আলী আকসাদ বিশ্বশান্তি পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরেন। তৎকালীন বিশ্বশান্তি পরিষদের (ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিল) মহাসচিব ছিলেন শ্রী রমেশ চন্দ্র। আলী আকসাদ যুদ্ধপীড়িত জাতির জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি, সমর্থন ও সাহায্য লাভে সচেষ্ট থাকেন। ১৯৭২ সালের ২৫ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ঘোষণার দিনে তিনি বেসরকারি প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম মস্কোয় যান। স্বাধীনতার পর আলী আকসাদ বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সভাপতি এবং ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বের দরবারে একজন শান্তিকামী নেতা হিসেবে তুলে ​ধরতে উদ্যোগ নেন এবং বিশ্ব শান্তি পরিষদে তঁাকে জুলিও কুরি মেডেল দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়। এ উপ​লক্ষে অায়ে​াজিত সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন আলী আকসাদ। বহু দেশি-বিদেশি গুণীজনের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুকে সোনার মেডেলটি পরিয়ে দেন বিশ্বশান্তি পরিষদের মহাসচিব শ্রী রমেশ চন্দ্র। পাশেই ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল আলী আকসাদ। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। শেখ মুজিবুর রহমান পেলেন জুলিও কুরি শান্তি পদক। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটিতে যুক্তর​াষ্ট্রের অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ডিন রিড প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলী আকসাদ ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের সমর্থনে দেশের ভেতরে ও বাইরে জনমত গড়ে তোলেন। আশির দশকে ঢাকায় দায়িত্বরত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আহমেদ রাজ্জাক ছিলেন তাঁর বন্ধু। ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গেও তাঁর বন্ধুত্ব ছিল। ইয়াসির আরাফাতের সই করা ডায়েরি এখনো আমাদের বাসায় আছে। এ সময় ঢাকায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বহু সভা হয়। আলী আকসাদ শান্তি আন্দোলন করতে গিয়ে বহু বিশ্ববরেণ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। সারা জীবন তিনি দেশে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ছিলেন। ৬ মার্চ ২০০৯ সালে তিনি মারা যান। তাঁর  জীবন-দর্শন আমাদের নিয়ত অনুপ্রাণিত করে।
জেসমিনা শান্তা: আলী আকসাদের মেয়ে। নির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ।
jshanta @gmail.com

শুভ জন্মদিন, কমরেড! by মশিউল আলম

শুভ জন্মদিন, কমরেড!’ ‘আরে কিসের জন্মদিন? কৃষকের পোলার আবার জন্মদিন কী?’ প্রতিবছর পয়লা মে সরদার ফজলুল করিমের সঙ্গে আমার এ রকম সংলাপের পুনরাবৃত্তি হতো। জন্মদিন পালন করা নিয়ে তাঁর কুণ্ঠার শেষ ছিল না।
যে কৃষকের ‘পোলা’ বলে তিনি নিজের পরিচয় ব্যক্ত করতেন, তিনি ছিলেন বরিশালের বানারীপাড়ার আটিপাড়া নামে অজপাড়াগাঁয়ের এক মধ্যবিত্ত মুসলমান নিরক্ষর কৃষক। গত শতকের তিরিশের দশকে তিনি তাঁর এই ‘পোলা’টাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন। পোলা পড়তে পড়তে বরিশাল জিলা স্কুলের চৌকাঠ পার হয়ে চলে এসেছিলেন ঢাকায়। ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দর্শনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু সরদার ফজলুল করিম, আটিপাড়ার সেই মধ্যবিত্ত মুসলমান কৃষকের সন্তান, লেখাপড়া করে শুধু ‘মানুষ’ হননি, সারা পৃথিবীর মেহনতি মানুষকে যুগ-যুগান্তরের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করার দীক্ষাও নিয়েছেন, হয়েছেন আগাপাছতলা এক কমিউনিস্ট। এর মধ্যে ভারত ভেঙে দুই টুকরা, পূর্ব বাংলা পড়েছে পাকিস্তানের মধ্যে, যে পাকিস্তানের শাসকেরা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্টদের ধরে ধরে জেলে পুরতে শুরু করেছে। একদিন কমিউনিস্ট পার্টি তাঁকে বলল, ‘পুলিশ তোমাকে খুঁজছে। তুমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাও।’ সরদার ফজলুল করিম কৃষক বাবার স্বপ্ন ভেঙে টুকরো টুকরো করে পার্টির নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেলেন। তারও আগে, তখনো ভারত বিভক্ত হয়নি, ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কমনওয়েলথ বৃত্তি দিয়ে বিলেত নিয়ে যেতে চেয়েছিল। সরদার সেই বৃত্তির কাগজ নিয়ে হাজির হলেন কলকাতার ৮ নম্বর ডেকার্স লেনে কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। কমরেড মুজাফফর আহমদ প্রমুখ নেতাদের তিনি বললেন, ‘আমি তো বিলেত যাচ্ছি।’ নেতারা তাঁকে রসিকতা করে বললেন, ‘আপনি বিলেত যাবেন আর আমরা এখানে বসে ভেরেন্ডা ভাজব?’ সরদার জানতে চাইলেন ‘আমাকে কী করতে হবে?’ নেতারা তাঁকে বললেন, ‘কাঁথা-কম্বল নিয়ে পার্টি অফিসে চলে আসেন।’ সরদার বৃত্তির কাগজটা ফড়ফড় করে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ঢাকায় সন্তোষ গুপ্তের বাড়িতে পার্টির গোপন সভা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন। ১৯৫৪ সালে কারারুদ্ধ অবস্থায় পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে চার দফায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে কাটিয়েছেন দীর্ঘ ১১ বছর। ৫৮ দিনের টানা অনশন ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন; শুধু লবণপানি খেয়ে কাটিয়েছেন দিনের পর দিন, পানিশূন্যতায় উন্মাদ হয়ে যেতে দেখেছেন সহরাজবন্দীদের, ফোর্স ফিডিংয়ের সময় দেখেছেন বন্দীদের দাঁত ভেঙে ফেলার দৃশ্য। ভুগেছেন প্রাণান্তকর হাঁপানিতে ও খোসপাঁচড়ায়। বরিশাল জিলা স্কুলে পড়ার সময় তিনি থাকতেন বেল ইসলামিয়া ছাত্রাবাসে। রাত ১০টায় সব ঘরের বাতি নিভিয়ে দেওয়া হলে তিনি বই নিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যেতেন, জাহাজঘাটায় স্ট্রিটল্যাম্পের নিচে বসে বই পড়তেন। ওখানেই এক বন্ধু তাঁকে গোপনে পড়তে দিয়েছিল শরৎচন্দ্রের উপন্যাস পথের দাবি। রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহের শুরু ছিল সেটাই। অনেক পড়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়তে পড়তে ঝুঁকেছিলেন সাম্যবাদী ভাবাদর্শের প্রতি। আমি তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনি প্লেটো-অ্যারিস্টটল পড়তে পড়তে কমিউনিস্ট হয়েছিলেন কীভাবে?’ সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি আমাকে এই গল্প বলেছিলেন, ‘তেতাল্লিশ সালে খুব বড় একটা দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। বাংলায় পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষ বলে ওটাকে। আমি তখন সক্রেটিস, প্লেটো, হেগেল ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। একদিন এক কমরেড এসে বলল, এই, তুমি এত কী লেখাপড়া করো? হেগেল তোমাকে কোন স্বর্গে নিয়ে যাবে? তোমার মা-বোনেরা না খেয়ে মারা যাচ্ছে, আর তুমি হেগেল পড়ে কী করবে? তুমি নয়াবাজারে গিয়ে লঙ্গরখানায় ডিউটি করো। দেখো গিয়ে সেখানে তোমার মা-বোনেরা এসে হাজির হয়েছে। আমি আর হেগেলের কাছে থাকতে পারলাম না। পরদিন সিরাজউদ্দৌলা পার্কে গেলাম রিলিফের কাজ করতে।’ অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী এই মানুষটির জ্ঞান অর্জন করা ও তা বিতরণ করার প্রতিও প্রবল ঝোঁক ছিল। ১৯৬৪ সালে যোগ দিয়েছিলেন বাংলা একাডেমির অনুবাদ বিভাগে। সে সময় অনুবাদ করেছেন প্লেটোর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ, তাঁর মহাগ্রন্থ রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিকস। সরল বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে গ্রিক দর্শনকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনিই প্রথম পৌঁছে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর আবার যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবার দর্শন নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক তাঁকে বলেছিলেন, ‘সরদার, আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছেলেমেয়েদের আপনি একটু দর্শন পড়াবেন।’ তারপর তিনি রুশোর সোশ্যাল কন্ট্র্যাক্ট অনুবাদ করেছেন, কনফেশনস-এরও একটা বড় অংশ অনুবাদ করে আমি রুশো বলছি নামে একটা বই প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যার্জন ও রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে কোনো বিরোধ তিনি কখনোই দেখেননি। বহু বছর ধরে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ তাঁর ছিল না। কিন্তু শোষণ-বঞ্চনার অবসান সব সময়ই দেখেছেন, কখনো হতাশা প্রকাশ করেননি। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলোপের পর বামপন্থী দলগুলোর ক্ষয়িষ্ণু দশা নিয়ে আলাপ তুললে তিনি বলতেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টি বলে আমার কাছে কোনো ব্যাপার নাই। পৃথিবীতে যত সৎ মানুষ আছে, মানুষের জন্য যার বুকে ভালোবাসা আছে, তাকেই আমি কমিউনিস্ট বলি।’ আজ তাঁর ৯১তম জন্মদিন। দুবছর হলো তিনি প্রয়াত। কিন্তু চোখের আড়াল হলেই মানুষ মনের আড়ালে চলে যায়—এই আপ্তবাক্য সরদার ফজলুল করিমের বেলায় সত্য নয়। তাঁর সান্নিধ্য যিনি পেয়েছেন, তাঁর পক্ষে তাঁকে ভুলে যাওয়া কখনো সম্ভব নয় বলে আমার বিশ্বাস। আর তিনি এমনই স্নেহময় একজন মানুষ ছিলেন যে, তাঁর স্নেহের ভাগ যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই মনে হবে, তিনি বুঝি আমাকেই সবচেয়ে বেশি স্নেহ করতেন।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

সরকার সমালোচনাকে দেখছে বিরোধিতা হিসেবে : সুলতানা কামাল by সোহরাব হাসান

সুলতানা কামাল
সুলতানা কামালের জন্ম ১৯৫০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন। এরপর হল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্স করেন। তিনি ষাটের দশকে ছাত্র ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বর্তমানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সভাপতি। কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান
প্রথম আলো : সম্প্রতি আপনি বিআইডিএসের এক সেমিনারে বলেছেন স্বাধীনতা না থাকলে প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন দিয়ে কী করব? বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন কি?
সুলতানা কামাল : বাংলাদেশের বহুমাত্রিক উন্নয়ন নিয়ে অহংকার করার মতো অবস্থানে পৌঁছেছি আমরা। এর মধ্যে প্রবৃদ্ধি অন্যতম। তর্ক উঠেছিল উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও সুশাসন নিয়ে। আমি সুশাসন বলতে মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার বুঝি। আমি বলেছি, মানুষের সার্বিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে প্রবৃদ্ধির উপযোগিতাটা কী? সুশাসন ছাড়া বা সুশাসনকে উপেক্ষা করে প্রবৃদ্ধি দিয়ে কী করব?
প্রথম আলো : একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আপনি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
সুলতানা কামাল : মানবাধিকারের প্রথম শর্তই হলো অন্যের ক্ষতি না করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন করা। কেউ যদি আমার অধিকার ক্ষুণ্ন করে তাহলে তার প্রতিকার বা ন্যায়বিচার পাওয়া।কিন্তু এখন জরিপ করলে অধিকাংশ মানুষই বলবে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি না। যেমনটি বলেছিলেন জঙ্গিবাদীদের হাতে নিহত ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সম্প্রতি কলাবাগানের জোড়া খুনের শিকার তনয়ের স্বজনেরা বললেন, আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তো বিচার করার কথা নয়। এর অর্থ হলো আমাদের যে বিচারব্যবস্থা আছে, সেটি তেমন কার্যকর বলা যাচ্ছে না। মানবাধিকার থাকলে মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেটিও প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। এখন নিজের ঘরেই মানুষ বেশি অনিরাপদ বোধ করছে।
প্রথম আলো : এর দায় কার?
সুলতানা কামাল : মানবাধিকারের দৃষ্টিতে দেখলে দায়টা প্রধানত রাষ্ট্রের। জনগণ তাদের সব দায় রাষ্ট্র তথা সরকারের কাছে সমর্পণ করে এবং তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই।
প্রথম আলো : সরকার কি সেই দায়িত্ব পালন করছে?
সুলতানা কামাল : বর্তমানে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে বলা যায় সরকার করছে না, বা করতে পারছে না। দুটোই উদ্বেগের বিষয়। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যদি সরকার সেটি করতে না পারে, বলব, তা গোটা জাতিরই অক্ষমতা।
প্রথম আলো : সরকার তো জনগণকে নিয়েই। যেকোনো সংকট মোকাবিলাও করতে হয় জনগণকে সঙ্গে নিয়েই। সেটা কি হচ্ছে?
সলতানা কামাল : সেখানে একটি বড় ফাঁক রয়ে গেছে। যাঁরা সরকারে থাকেন, তাঁরা ভাবেন সবকিছু করার কর্তৃত্ব ও এখতিয়ার তাঁদেরই। তাঁরা দায়দায়িত্বের চেয়ে ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দেন। তাঁরা মনে করেন, ‘যা করার আমরাই করব। অন্যদের কিছু করার নেই।’
প্রথম আলো : এই ধারণাটা কতটা গণতান্ত্রিক?
সুলতানা কামাল : গণতন্ত্রের চিরায়ত ধারণার সঙ্গে অবশ্যই সাংঘর্ষিক। গণতন্ত্র হলো জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন। রাষ্ট্র পরিচালনায় সেই জনগণই যদি উপেক্ষিত থাকে তাকে আমরা জনগণের শাসন বলতে পারি না।
প্রথম আলো : সামরিক শাসনামলেও নাগরিক সমাজ যতটুকু ভূমিকা পালন করছে, সেটি কি এখন তারা পারছে?
সুলতানা কামাল : সামরিক শাসনের সঙ্গে তুলনা চলে না। সেটি অন্তর্নিহিতভাবেই অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য। সেখানে যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নাগরিক সমাজ ভূমিকা পালন করেও থাকে, তা ‘বাই ডিফল্ট’। অর্থাৎ তাদের দুর্বলতার কারণে।
প্রথম আলো : কিন্তু গণতান্ত্রিক শাসনামলে সেই ভূমিকা পালনে বাধা আসছে কেন?
সুলতানা কামাল : বাধা আসবে না, সেটাই একান্ত প্রত্যাশা ছিল। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে স্বাধীনতার পর যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়, নানা বিচ্যুতি সত্ত্বেও তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিধৃত করেছিল। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘদিন সামরিক শাসন চেপে বসে এবং শাসকেরা সেই চেতনা পুরোপুরি অস্বীকার করে। আগেরটি ছিল বিচ্যুতি, পরেরটি অস্বীকার। সে সময়ে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক ধ্যানধারণায় ধর্মনিরপেক্ষতাকে সরিয়ে সম্প্রদায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা চলে। এমনকি তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় শরিক করে। এরপর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হলেও সামাজিক অধোগতি ঠেকানো যায়নি, সামাজিক ক্ষতগুলো রয়েই গেছে।
প্রথম আলো : কিন্তু স্বৈরাচারের পতনের পর?
সুলতানা কামাল : স্বৈরাচারের পতনের সময়ে তিন জোটের যে রূপরেখা প্রণীত হয়েছিল, সেটি হতে পারত গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে সময়ে যাঁরা রূপরেখা তৈরি করলেন, পরবর্তীকালে তাঁরা সেটি মানেননি। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।
প্রথম আলো : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যখন আপনি দেখলেন একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তখন পদত্যাগ করে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
সুলতানা কামাল : রাজনৈতিক দলগুলোয় গণতন্ত্রচর্চার ঘাটতি আছে। আগে যেটি ছিল ‘গণতান্ত্রিক বিচ্যুতি’, পঁচাত্তরের পর সেটিই নিয়মে পরিণত হলো। আমরা যাকে গণতন্ত্র বলে চালাচ্ছি, সেটি গণতন্ত্র নয়। একইভাবে ধর্মের নামে যা হচ্ছে, সেটিও ধর্মের আসল রূপ নয়। এই যে তনয়ের স্বজনেরা বললেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিচার হবে, না চাইলে হবে না। এ ধারণাই বা কেন আসবে? একা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী কেন পারছেন না, তা-ও বিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের সবাইকে করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বঙ্গবন্ধু যে অবিসংবাদিত নেতা হলেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলো, দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল বলেই। তখন তারা এই বার্তাই দিয়েছিল যে ‘আমরা স্বাধীনতা চাই।’ কিন্তু আজ কি জনগণের মধ্য থেকে আদৌ এই বার্তা দেওয়া হয় যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে থাকলে তাদের সঙ্গে থাকব না। দেওয়া হয় না। বরং এই বার্তাই দেওয়া হয় যত বেশি বিপরীত কথা বলব, যত বেশি ধর্মের কথা বলব, তত বেশি ভোট পাব।
প্রথম আলো : ১৫ বছরের দায় আমরা ২৫ বছরেও কেন শোধ করতে পারলাম না?
সুলতানা কামাল : কীভাবে পারব? সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল পঁচাত্তর থেকে, সেটাই বিরাট মহিরুহ হয়ে কুফল দিতে শুরু করেছে। সমাজের ভেতর থেকে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখতে পাই না। তাহলে সামাজিক শক্তির দায় অস্বীকার করব কীভাবে? পঁচাত্তরের পরে যাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরা তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবেন না। সেই কাজটি করতে পারতেন ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। আমি শুধু আওয়ামী লীগের কথা বলছি না, সেই সময়ের সব প্রগতিশীল শক্তির কথা বলছি। কিন্তু পঁচাত্তর-নব্বই পর্বে ক্ষমতাসীনেরা আমাদের রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতিতে এমন আঘাত করেছে যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটিও ক্ষমতায় এসে সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ছবিটি ফিরিয়ে আনতে পারছে না। সে কারণেই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি রাষ্ট্রধর্মও বহাল আছে।
প্রথম আলো : আপনি যে বাংলাদেশের ছবি পুনরুদ্ধারের কথা বললেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা, অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিও সেটি চায়। কিন্তু সরকার কি তাদের সহায়তা চাইছে?
সুলতানা কামাল : না, চাইছে না। তারা আগের চেতনায় নেই। সেটিই দুঃখের ব্যাপার। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক জিয়া হায়দার রহমান তাঁর বই ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো-এ লিখেছেন, স্যালামান্ডার হলো সেই প্রাণী যে রূপান্তরিত হয়ে তার প্রকৃত রূপে পৌঁছাতে পারে না। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাও সেই পর্যায়ে এসেছে। আমরা যা হতে চেয়েছিলাম বা হতে যাচ্ছিলাম, তা না হয়ে অন্য কিছু হয়েছি।
প্রথম আলো : বাংলাদেশে পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণার মানুষ যেমন আছে, তেমনি সামনে চিন্তা করার মানুষও তো আছে, তাদের কী ভূমিকা পালন করতে দেওয়া হচ্ছে?
সুলতানা কামাল : যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের কিন্তু নিজস্ব কিছু হিসাব-নিকাশ থাকে। আওয়ামী লীগ নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের দল বলে দাবি করছে। কিন্তু কাজে তার প্রতিফলন কতটা? নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়াই রাজনৈতিক দলের একমাত্র উদ্দেশ্য ও আদর্শ হতে পারে না। সমাজে রাজনৈতিক ভাবাদর্শ তৈরি করাও তার কাজ। সেটি করতে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
প্রথম আলো : ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারবে না কেন?
সুলতানা কামাল : আমি তো এর কোনোটাই সমর্থন করছি না। এটা নীতিহীন রাজনীতি।
প্রথম আলো : আপনি যে হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য লড়াই করছেন, সেখানে সরকারের ভূমিকা কী?
সুলতানা কামাল : সেখানে সরকার যে খুব সহায়ক ভূমিকা রাখছে, তা বলা যায় না। সমালোচনাকে তারা বিরোধিতা হিসেবে দেখছে। এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে বুঝতে হবে তাদের আসল মিত্র কারা হতে পারে। আওয়ামী লীগ অনেক সময় ভুল করে বলেই তো গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রথম আলো : নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতাকারী হেফাজতের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি?
সুলতানা কামাল : আমি বলব অনেক ক্ষেত্রেই আপসকামিতা আওয়ামী লীগকে গ্রাস করছে। এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হলো জনগণের ভেতর থেকে তাদের রাজনৈতিক সহযোগী ও মিত্রকে খুঁজে নেওয়া এবং ক্ষমতার ভিত্তিটা জনগণের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা।
প্রথম আলো : ২০১৪ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
সুলতানা কামাল : নির্বাচন যদি কৌশলের খেলা হয়ে থাকে সেটি সব সময় সততা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয় না। তাতে আপসকামিতা ও সুবিধাবাদ থাকে।
প্রথম আলো : ২০১৪-এর আগের ও পরের আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ফারাক দেখেন কি?
সুলতানা কামাল : ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তরুণ প্রজন্মের বিপুল সমর্থন তারা পেয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগটি ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
প্রথম আলো : আপনি কি মনে করেন না মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে?
সুলতানা কামাল : মত প্রকাশের অধিকার এ কারণেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে যে মত প্রকাশ করলেই তার ওপর আঘাত আসছে। রাষ্ট্র থেকে আসুক বা বাইরের শক্তি থেকে আসুক, রাষ্ট্র তাকে সে রকম সুরক্ষা দিচ্ছে না। বরং রাষ্ট্র থেকে মানুষকে কথা বলা ও আচরণের ব্যাপারে সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম আলো : এতে কারা উৎসাহিত হচ্ছে?
সুলতানা কামাল : এতে তারাই উৎসাহিত হচ্ছে, যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী। যারা সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের মত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমতাসীনদের এককভাবে দায়ী করলে হবে না। বিরোধী দলেরও দায় আছে। কিন্তু তারা একদম সে দায়িত্ব পালন করছে না। বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচারের যেমন বিরোধিতা করছে, তেমনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারেও নিশ্চুপ। তারা দায়িত্ব পালন করলে হয়তো সংকট এত ঘনীভূত হতো না।
প্রথম আলো : সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী?
সুলতানা কামাল : রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শুদ্ধতা নিয়ে আসা। সত্যিকার অর্থে জনগণের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানো। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক সচেতন নাগরিককেও সোচ্চার হতে হবে।
প্রথম আলো : তারা কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে?
সুলতানা কামাল : পারছে না বলেই চাইতে হবে। সোচ্চার হতে হবে। যদি মনে করি সরকার বা ধর্মান্ধ শক্তির কাছ থেকে আঘাত আসবে, আমরা কি সেটি মেনে নেব? না মেনে নেব না। রাষ্ট্রকে যেমন বারবার বলতে হবে, তেমনি নিজের শক্তিও সঞ্চয় করতে হবে।
প্রথম আলো : বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে দেশের ভেতরে-বাইরে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না।
সুলতানা কামাল : বন্ধ হচ্ছে না বলেই আমাদের বলে যেতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। আমার মা (সুফিয়া কামাল) একটি কথা বলতেন, তুমি কাজ করলেই ফলের আশা করতে পারো। না করলে সেই আশাও করতে পারো না। আমি যদি লক্ষ্য স্থির করি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে শহীদ মিনারে যাব। পথে অনেক বাধা এলেও আমি উল্টো দিকে যেতে পারি না। সব বাধা পেরিয়ে আমাকে শহীদ মিনারেই পৌঁছাতে হবে।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
সুলতানা কামাল : আপনাকেও ধন্যবাদ।

এ কেমন দল নিয়ে কোপায় যাচ্ছে ব্রাজিল!

ব্রাজিলের কোপা দলে নেই তাঁরা তিনজন।
বিশ্বকাপে সেই কামড়কাণ্ডের পর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এরপর ক্লাব দলে ফিরলেও জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার লুইস সুয়ারেজের বড় আসরে খেলার অপেক্ষাও শেষ হতে যাচ্ছে, কোপা আমেরিকার জন্য ৪০ জনের উরুগুয়ে দলে সুয়ারেজকে রেখেছেন কোচ অস্কার তাবারেজ। তাবারেজের দলে সে রকম কোনো চমক নেই, তবে দুঙ্গার ব্রাজিলে ভালো চমকই আছে। থিয়াগো সিলভা, ডেভিড লুইজ, মার্সেলো—গত বিশ্বকাপের ব্রাজিলের রক্ষণের তিনজন এবার ৪০ জনের দলেই নেই। থিয়াগো সিলভা অবশ্য অনেক দিন ধরেই দলে নেই। গত কোপা আমেরিকার পর দুঙ্গা আর ডাকেননি পিএসজির এই ডিফেন্ডারকে। তবে তাঁর পিএসজি-সতীর্থ ডেভিড লুইজ দুঙ্গার অধীনে নিয়মিতই খেলেছেন। এমনকি দুটি ম্যাচে অধিনায়কও ছিলেন। কিন্তু তাঁরও জায়গা হয়নি। লুইজ-সিলভার ক্ষেত্রে ফর্মটারই প্রভাব ফেলার কথা, তবে মার্সেলোর ক্ষেত্রে অন্য একটা ব্যাপার প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর দুঙ্গার অধীনে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের লেফটব্যাক। কিন্তু অনুশীলনে যোগ দেওয়া নিয়ে দুঙ্গার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর সুযোগ পাননি। এবার কোপাতেও দর্শক হয়ে থাকতে হবে। ও হ্যাঁ, নেইমারও ৩৫ জনের দলে নেই। তবে সেটা প্রত্যাশিতই ছিল, বার্সেলোনা আগেই জানিয়েছিল কোপায় নেইমারকে তারা ছাড়বে না। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনও সেটি গত শুক্রবারই নিশ্চিত করেছিল। এবারের কোপা আমেরিকাকে ব্রাজিল বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে না, অথচ এবারের কোপা বিশেষ এক আসর। শতবর্ষ পূরণ হওয়ায় কোপা হবে দুই মহাদেশ জুড়ে, উত্তর আমেরিকার দলগুলোও খেলবে। আকার-আয়তন সবই বাড়ছে, আসর বসবেও যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ব্রাজিলের কাছে কোপার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অলিম্পিক ফুটবল। নিজেদের এত এত অর্জনের মধ্যে এখনো যে অলিম্পিক সোনাটি নেই। নিজেদের দেশে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিকে এবারই এই পদকটি তাদের চাই-ই চাই। গোলডটকম।

বার্সা-রিয়াল-অ্যাটলেটিকোর হিসাবটা এখন কী?

লিগ শিরোপা কে জিতবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ
জমে উঠেছে লা লিগা। এক মাস আগেও বার্সেলোনাকেই চ্যাম্পিয়ন ধরে নিয়েছিল সবাই। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল বার্সা। আর রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তো একপর্যায়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় সেই এক ঘোড়ার দৌড় রূপান্তরিত হয়েছে জমজমাট ত্রিমুখী লড়াইয়ে। এখন শিরোপা নিষ্পত্তির জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ মে, লা লিগার শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ৩৬ ম্যাচ শেষে লা লিগায় শীর্ষে এখন বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির পয়েন্ট ৩৬ ম্যাচে ৮৫। তাদের পরে থাকা অ্যাটলেটিকোর পয়েন্টও ৮৫। কিন্তু বার্সেলোনার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয়স্থানেই থাকতে হচ্ছে ডিয়েগো সিমিওনের দলকে। আর ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগে আর বাকি মাত্র দুই রাউন্ড। দুই রাউন্ডে তিন দলের ছয় ম্যাচেই নির্ধারিত হবে স্পেনে এবার শিরোপা উৎসব করবে কারা। তিন দলের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বার্সা। একমাত্র বার্সেলোনাকেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা কী করছে, সেটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। নিজেদের দুটি ম্যাচ জিতলেই সরাসরি লিগ শিরোপা কাতালানদের। দুই ম্যাচেই সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে তারা। ৮ মে নিজেদের মাঠে এস্পানিওল। নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা বার্সাকে সব সময় চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পছন্দ করে, কিন্তু এবার লিগে ভালো করছে না এস্পানিওল। লিগ টেবিলে ১৫তম স্থানে আছে তারা। শেষ ম্যাচেও সহজ প্রতিপক্ষ বার্সেলোনার। ১৫ তারিখ তারা খেলবে গ্রানাডার মাঠে। গ্রানাডাও কোনোভাবেই শক্ত কোনো প্রতিপক্ষ নয়, লিগে ১৬তম দল তারা। তাই খুব খারাপ কোনো দিন না কাটালে বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগ শিরোপা এক প্রকার নিশ্চিত। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাজটি একটু কঠিন। নিজেদের ম্যাচ দুটি শুধু জিতলেই হবে না, অন্তত এক ম্যাচে যেন বার্সেলোনা হোঁচট খায়, সে আশাও করতে হবে তাদের। লিগে অ্যাটলেটিকোর পরবর্তী ম্যাচ লিগের তলানিতে থাকা লেভান্তের সঙ্গে। সে ম্যাচটি লেভান্তের মাঠে খেলতে হলেও এ ম্যাচ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয় রোজি ব্লাঙ্কোদের। কিন্তু লিগের শেষ ম্যাচটি সিমিওনের জন্য ভালোই দুশ্চিন্তা জাগানোর কথা। সেদিন সেল্টা ভিগোর সঙ্গে খেলবে অ্যাটলেটিকো, সেল্টা কিন্তু আছে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। সেদিন বড় এক পরীক্ষাই দিতে হবে অ্যাটলেটিকোকে। সে তুলনায় রিয়ালের কাজটি আরও কঠিন। নিজেদের ম্যাচ দুটি তো জিততেই হবে, সে সঙ্গে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর অমঙ্গলও চাইতে হবে তাদের। লিগে লস ব্লাঙ্কোদের পরের ম্যাচ ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে, যারা লিগে ৮ম স্থানে আছে। তবে ম্যাচটি বার্নাব্যুতে হওয়ায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে রিয়াল। পরের ম্যাচটি অবশ্য প্রতিপক্ষের মাঠেই খেলতে হবে রিয়ালকে। সেদিন দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার মাঠে গিয়ে খেলবে রিয়াল। এই মাঠেই বার্সেলোনা দেপোর্তিভোকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে কদিন আগে। রিয়ালের জন্য প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি কঠিন পয়েন্টের সমীকরণ। লা লিগায় পরবর্তী রাউন্ডের খেলা হবে ৮ মে। শেষ রাউন্ড খেলা হবে ১৫ মে। দুই রাউন্ডের খেলাই হবে বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায়। নিয়ম অনুযায়ী শেষ দুই রাউন্ডের সবগুলো ম্যাচ একই সময়ে শুরু হবে।

যুক্তরাজ্যের ভিসা পাবেন না আমির-আসিফ-বাটরা?

বাঁ থেকে মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ ও সালমান বাট
বেশি দিন আগের কথা নয়। এই জানুয়ারিতেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নিউজিল্যান্ড সফরের আগে সামনে এসেছিল বিষয়টা। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ইংল্যান্ডে জেল খাটা পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমিরকে ভিসা দিতে চাইছিল না নিউজিল্যান্ড। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সুরাহা হয় ব্যাপারটার। ভিসা পেয়ে দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড আসেন আমির। সেই পাকিস্তান এবার যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। নিশ্চিতভাবেই দলে থাকছেন আমির। আর আমিরকে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়ানো সাবেক অধিনায়ক সালমান বাটেরও দলে ফেরার সম্ভাবনা আছে। নাম আসছে তৃতীয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আসিফেরও। কিন্তু আমির-বাটরা-আসিফরা কি যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আদৌ অনুমতি পাবেন? প্রশ্নটা উঠে গেছে, কারণ তাঁরা অপরাধ করেছিলেন ইংল্যান্ডেই। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) তাই আমির-বাটদের ভিসা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানও স্বীকার করেছেন এই ক্রিকেটারদের ভিসা দিতে কয়েকটি দেশের অনিচ্ছার কথা, ‘আমরা জানি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড চায় না এই ক্রিকেটাররা ওদের দেশ সফর করুক। ওরা আমিরকে ক্ষমা করতে রাজি আছে, কিন্তু অন্য দুজনকে নয়।’ তবে শাহরিয়ার এটাও বলেছেন, আগে বাট-আসিফরা দলে ঢুকুক, তারপর ভিসা পাওয়ার প্রশ্ন, ‘ওদের আগে দলে ঢুকতে হবে। আগে দেখি নির্বাচকেরা তাদের দলে নেয় কি না। যদি তারা দলে আসে, তবেই সমস্যার সমাধানের প্রশ্ন আসবে।’ আমির এখন পাকিস্তান দলে নিয়মিত। পাকিস্তানের সাবেক কোচ ওয়াকার ইউনিস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে নিতে চেয়েছিলেন বাটকেও। কিন্তু অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির চাননি বাটের প্রত্যাবর্তন। তাই শেষ পর্যন্ত দলে এসেছিলেন আহমেদ শেহজাদ। দলটির টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের অবশ্য কোনো সমস্যা নেই বাটের দলে ফেরা নিয়ে। সপ্তাহ দু-এক আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাট ফিরলে ফিরতেও পারেন, ‘ব্যাটিং লাইনআপের তিন থেকে সাত নম্বরে কারা ব্যাট করবেন সেটা জানাই। কিন্তু সমস্যা হলো ওপেনিং নিয়ে। ওই পজিশনে কেউ ধারাবাহিক ব্যাট করতে পারছে না। ব্যাপারটা আমাদের ভাবাচ্ছে। বিকল্প হিসাবে আমাদের শান মাসুদ ও সালমান বাটকেও ভাবতে হচ্ছে।’ আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইংল্যান্ড সফরে চারটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান। তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

রিয়ালের গোপন খবর চলে যাচ্ছে সিটির কাছে!

রোনালদো খেলবেন না আগেই জানতেন পেলেগ্রিনি?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে খেলবেন না, এই তথ্য আগেই জানতেন ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি! ম্যানচেস্টার সিটি কোচের দাবি, রিয়াল মাদ্রিদের অনেক গোপন খবর চলে আসছে তাঁর কাছে! চিলিয়ান এই কোচের দাবি সত্যি হলে বিষয়টি রিয়ালের জন্য অবশ্যই দুশ্চিন্তার। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফিরতি লেগে রিয়ালের মাঠে গিয়ে খেলার আগে গিয়ে পেলেগ্রিনির এমন দাবি মনস্তাত্ত্বিক চালও হতে পারে। রিয়ালের সাবেক এই কোচ মিররকে বলেছেন, ‘স্পেনে আমার অনেক বন্ধু আছে। প্রত্যেক ম্যাচের আগেই চেষ্টা করি প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যত বেশি তথ্য পাওয়া যায় তা সংগ্রহ করতে। মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের (সেমিফাইনালের প্রথম লেগে) দিন সকালের মিটিংয়েই বলেছিলাম রোনালদো খেলবে না। রিয়ালে কী হচ্ছে না হচ্ছে আমি সেটা বুঝি, ক্রিস্টিয়ানোর চোট সম্পর্কেও আমার ধারণা আছে।’ তাহলে কেন খেলছেন না রোনালদো? পরের লেগে কি খেলবেন? এর উত্তরও আছে পেলেগ্রিনির কাছে, ‘ওর চোট হয়তো বড় কিছু নয়, কিন্তু রিয়ালের জন্যও ওকে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া কঠিন। কারণ এমনও হতে পারে, ও মাত্র মিনিট পাঁচেক খেলে আবারও চোট নিয়ে পুরো মৌসুমের জন্যই বেরিয়ে গেল। আগামী চার দিনের পরিস্থিতি দেখে ওরা সিদ্ধান্ত নেবে। রোনালদোর খেলার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলেও তারা সেটা নেবে।’

আগামী মৌসুমেও ফন গালই ইউনাইটেডে!

আগামী মৌসুমেও ইউনাইটেডের দায়িত্বে থাকছেন ফন গাল
লিডস ইউনাইটেডের প্রস্তাবটা এবার বোধ হয় বিবেচনা করতেই পারেন হোসে মরিনহো। পছন্দের চাকরিটা তো মনে হয় না পাওয়া হচ্ছে তাঁর! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মরিনহোকে জড়িয়ে অনেক গুঞ্জন ছড়িয়েছে। মনে মনে অনেকেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের ডাগ আউটে মরিনহোকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব গল্পগুজবে বাদ সাধলেন লুই ফন গাল। ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মৌসুমেও তিনিই থাকছেন ‘রেড ডেভিল’দের দায়িত্বে। ডেভিড ময়েসের পর ইউনাইটেডের দায়িত্ব পেয়েছেন ফন গাল। গত দুই মৌসুমে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি। এই ডাচ কোচের অধীনে ইউনাইটেডের খেলার সবচেয়ে বড় সমালোচনা, অনাকর্ষণীয় ফুটবল। সেই সঙ্গে কোনো শিরোপা না জেতার ব্যর্থতা তো আছেই। গত মৌসুমে লিগে চতুর্থ হয়েছিল ‘রেড ডেভিল’রা। এবারও আছে পঞ্চম স্থানে। এই অবস্থা চললে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে ইউনাইটেডের। মৌসুমের মাঝপথ থেকেই তাই ‘চাকরি হারাচ্ছেন ফন গাল’ গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু ফন গাল জানালেন, আগামী মৌসুমেও তিনি থাকছেন এবং সেটি ইউনাইটেডের ইচ্ছার কারণেই, ‘ছয় মাস ধরেই প্রতি সপ্তাহে আমাকে বরখাস্ত করেছেন আপনারা (মিডিয়া), কিন্তু আমি এখনো আছি। ক্লাবই আমার সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে, আমি নই। আমি চেয়েছিলাম দুই বছরের চুক্তি করতে।’ তিন বছরের চুক্তি কেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফন গাল, ‘আমরা জানতাম, এই প্রক্রিয়া পূর্ণতা পেতে তিন বছর লাগবে। আমি যে ক্লাবেই গিয়েছি, সবখানেই তা–ই হয়েছে। মিডিয়া কিংবা পথেঘাটে মানুষ কী ভাবছে, তার সঙ্গে আসল পরিস্থিতির অনেক তফাত। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটি দেখুন, এদের বয়স খেয়াল করুন। তারপর তুলনা করুন।’ এরপরও যদি ফন গালের ইউনাইটেড ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে তা উড়িয়ে দিলেন এক কথায়, ‘আগামী মৌসুমেও আমিই থাকছি।’

ফ্যালকাওয়ের দিকে রিয়ালের চোখ

এবার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের দিকে চোখ পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। ইউরোপা লিগের এক মৌসুমের ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের গোলের রেকর্ড ভাঙা পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর স্ট্রাইকারকে পেতে আড়াই কোটি ইউরো পর্যন্ত খরচ করার কথা ভাবছে ক্লাবটি। ইন্টার মিলানের ডাচ মিডফিল্ডার ওয়েসলি স্নাইডারকে কিনতে চাইছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওয়েবসাইট।
রিয়াল ফ্যালকাওয়ের পেছনে ছুটবে না-ই বা কেন! বার্সা-রিয়াল দ্বৈরথের বাইরে গত দুই সপ্তাহে ফুটবল-বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন তো ২৫ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান ফুটবলার। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৫ গোল করে চলে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়।
ফ্যালকাও এ মৌসুমের ইউরোপা লিগে মোট ১৬ গোল করে ভেঙেছেন ক্লিন্সমানের ১৫ গোলের রেকর্ড। অসাধারণ এই নৈপুণ্যের জন্যই রিয়াল চাইছে এই মৌসুম শেষে তাঁকে দলে নিতে। অবশ্য এ জন্য তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ম্যান সিটি থেকে ধারে নিয়ে আসা স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োরকে রাখবে কি রাখবে না।
পর্তুগালের ও জোগো পত্রিকা জানিয়েছে, ৩ কোটি ইউরোর বাই আউট শর্ত থাকলেও পোর্তো আড়াই কোটি ইউরো পেলেই ছেড়ে দেবে তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে। যদিও পোর্তোর সঙ্গে বর্তমান চুক্তিটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত। আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট থেকে ২০০৯ সালে পোর্তোতে আসার পর ৮২ ম্যাচে ৭০ গোল করেছেন ফ্যালকাও। এবার ১৪ গোল করে জিতিয়েছেন লিগ।
এই গ্রীষ্মের দলবদলে ইন্টার মিলানের ডাচ তারকা ওয়েসলি স্নাইডার হলেন অ্যালেক্স ফার্গুসনের লক্ষ্য। ম্যানইউর মালিক পক্ষ গ্লেজার পরিবারকে বিষয়টি তিনি অবহিতও করেছেন বলে জানিয়েছে ক্লাবের ভেতরের একটি সূত্র। মালিকপক্ষ সম্মত হলেই স্নাইডারকে দেখা যেতে পারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। এ মৌসুম শেষে অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন পল স্কোলস, আর তাঁর পরিবর্তেই ২৬ বছর বয়সী স্নাইডারকে চাইছেন ফার্গুসন।
ম্যারাডোনার জামাই আর্জেন্টাইন সার্জিও আগুয়েরো উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছাড়ার গুজবকে। ২০১৪ সালে চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত মাদ্রিদেই থাকতে চান এই স্ট্রাইকার। শোনা গিয়েছিল চেলসি, জুভেন্টাস ও ম্যানইউ আগ্রহী তাঁর ব্যাপারে।

ছুঁয়ে গেল ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ by মনজুর কাদের

মেরিল-প্রথম পুরস্কার ২০১৫ তে পাঁচটি বিভাগে সেরার পুরস্কার
জয়ের পর ছুঁয়ে দিলে মন ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৫
‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে। ছবিটি বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে বিদেশের বাজারেও। এবার ছবিটি মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপের পাশাপাশি সমালোচকদেরও মন ছুঁয়েছে। সাতটি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ছবিটি পাঁচটি পুরস্কার জিতেছে। মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি সাতটি বিভাগে মনোনয়ন পায়। এমনটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে আগে কখনো ঘটেনি। মনোনয়নের দিক দিয়ে শুধু রেকর্ড গড়ে থেমে থাকেনি, পুরস্কার জয়ের দিক থেকেও রেকর্ড করে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৫ আসরে তারকা জরিপে তিনটি বিভাগে এবং সমালোচকদের রায়ে দুটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে শিহাব শাহীন পরিচালিত ছবিটি। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা আরিফিন শুভ, অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম এবং সেরা গায়ক তাহসান নির্বাচিত হন। আর সমালোচকদের রায়ে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেওয়ার পাশাপাশি সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন জাকিয়া বারী মম। ছবিতে আরিফিন শুভর চরিত্রের নাম আবির। আর মম অভিনয় করেছেন নীলা চরিত্রে। হৃদয়পুরের বাসিন্দা আবির এলাকার বড় ভাইয়ের প্রেমে সাহায্য করতে গিয়ে তরুণী নীলার সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই বয়সেই দুজনের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। কিন্তু এরপরই ঘটে যায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আবির ও নীলা আলাদা হয়ে যায়। দুজন দুজনের কাছ থেকে অনেক দূরে। এক যুগ পর দুজনের আবার দেখা হয়ে যায়। কিন্তু তত দিনে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। এই পাল্টে যাওয়া ব্যাপারগুলো নিজেদের আয়ত্বে আনার চেষ্টা করে আবির, আর তাতে লুকিয়ে লুকিয়ে সাহায্য করে নীলা। এখান থেকেই শুরু হয় ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমার গল্প। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে নীলা চরিত্রে অভিনয় করা মম নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। অভিনয় দিয়ে এগিয়ে থাকা মম যে গ্ল্যামারাসও কম না, সেটা এই ছবিতে চোখে পড়ে। এই ছবিতে মম নিজেকে পুরোপুরি ভেঙে নিজের সৌন্দর্যের সঙ্গে চমৎকার অভিনয় দিয়ে সিনেমাটায় দাপটের সঙ্গে এগিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, আবির চরিত্রের আরিফিন শুভ এই ছবিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমানতালে অভিনয় করে গেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে সফলতার খরায় থাকা শুভ এই ছবিতে নাচ, অভিনয় আর অ্যাকশন নিয়ে দারুণভাবে হাজির হয়েছেন। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ধ্বনিচিত্র ও মনফডিং। শুভ ও মম ছাড়া এই ছবির অন্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন মিশা সওদাগর, ইরেশ যাকের, আলীরাজ, সুষমা প্রমুখ।

‘আজহার’ নিয়ে খুশি নন সংগীতা বিজলানি?

সঙ্গীতা বিজলানি
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আজহারউদ্দিনের জীবন নিয়ে বলিউডে তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘আজহার’। এখানে আজহারউদ্দিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি। বলা হয়ে থাকে, আজহারউদ্দিন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বিতর্কিত অধিনায়ক। তাঁকে নিয়ে যে ছবি বানানো হয়েছে এখন সেটি নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। আজহারের সাবেক স্ত্রী ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানি দাবী করেছেন, এই ছবিতে তাঁকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এজন্য ছবির নির্মাতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভেবেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রী নওরিনের সঙ্গে নয় বছরের সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর আজহার ঘর বেঁধেছিলেন বিজলানির সঙ্গে। তাঁর সেই বিয়ে টিকেছিল ২০০০ সাল পর্যন্ত। এ ছবিতে প্রাচী দেশাই অভিনয় করছেন আজহারের প্রথম স্ত্রী নওরিন হিসেবে আর নার্গিস ফাখরি অভিনয় করেছেন সঙ্গীতা বিজলানির ভূমিকায়। যদিও ‘আজহার’ এখনও মুক্তি পায়নি তবে ছবির ট্রেলার দেখে সঙ্গীতার মনে হয়েছে এখানে তাঁকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিতে বোঝানো হয়েছে আজহার আর নওরিনের সংসার ভাঙার জন্য সঙ্গীতাই দায়ী। ‘আজহার’-এর নির্মাতা টনি ডি’সুজার বিরুদ্ধে এজন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন সাবেক এই মডেল ও অভিনেত্রী। তবে, তাঁর আগে পুরো ছবিটি মুক্তির আগেই একবার দেখে নিতে চান।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আজহারউদ্দিনের জীবন নিয়ে বলিউডে
তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘আজহার’। ‘আজহার’ সিনেমার পোস্টার
আর এই ব্যাপারে ছবির নির্মাতাকে নাকি জানিয়েওছেন। এদিকে, ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয় আজহারউদ্দিনকে। কিন্তু তাঁর সাবেক সহকর্মীদের অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন এই ছবিতে আজহারকে ভুল না দেখিয়ে পরিস্থিতির স্বীকার দেখানো হয়েছে। অথচ অন্য অনেক চরিত্রকে অহেতুক ভুলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাই মুক্তির আগেই এই ছবি নিয়ে ভালোই বেগ পেতে হচ্ছে নির্মাতাকে।

নতুন নায়ক রোশান

রোশান
আবারও চলচ্চিত্রে নতুন নায়ক নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। যৌথভাবে জাজ ও এসকে মুভিজের পরবর্তী ছবি রক্ত নির্মাণ করা হবে। ছবিতে নতুন নায়ক হিসেবে অভিনয় করবেন রোশান। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠানে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় রোশানকে। অনুষ্ঠানে জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজ বলেন, ‘বলা হয়, চলচ্চিত্রশিল্পই নায়কনির্ভর। কিন্তু আমাদের এখানে নায়কের সংকটই বেশি। সেই দিক বিবেচনা করেই নতুন নায়ক তৈরির চেষ্টা করছি।’ অনুষ্ঠানে রোশান বলেন, ‘তিন মাস ধরে নাচ, অভিনয়, মারামারি—সব প্রস্তুতিই নিয়েছি।’ রক্ত ছবির পরিচালক মালেক আফসারী বলেন, ‘১০ মে থেকে কক্সবাজারের লোকেশনে ছবিটির শুটিং শুরুর কথা আছে।’ রক্ত ছবিতে রোশানের বিপরীতে অভিনয় করছেন পরীমনি। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ভালোবাসার রং ছবিটির মধ্য দিয়ে নতুন জুটি বাপ্পি-মাহিকে উপস্থাপন করেছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। এরপর দেশা—দ্য লিডার ছবিতে শিপন।

আনুশকা যখন কুস্তিগির

সুলতান ছবির দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে কুস্তিগির আনুশকা
এবার জোঁকের মতো লেগে থাকা আলোকচিত্রীদের খবর আছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ধাম করে আনুশকা শর্মা মেরে দেবেন কুস্তির এক প্যাঁচ। নতুন ছবি সুলতান-এর জন্য বেশ ট্রেনিং নিয়ে কুস্তি শিখেছেন আখড়ার ওস্তাদদের কাছ থেকে। নানা কৌশলের মধ্যে আনুশকা সবচেয়ে ভালো শিখেছেন ‘ধোবি পাছাড়’ প্যাঁচটাই। ধোপা যেভাবে শূন্যে একটা পাক খাইয়ে কাপড় ধোলাই করেন, সেই ‘ধোলাই’ কিন্তু দিতে শিখে গেছেন আনুশকাও! বলিউডের মিস পারফেকশনিস্ট নাম কিছুদিনের মধ্যেই পেতে চলেছেন আনুশকা। শুধু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, গল্প নিয়ে পরীক্ষা করার সাহসের কারণেই নয়, যেকোনো চরিত্র একেবারে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টার কমতিও নেই। সালমান খানের নতুন ছবিতে কুস্তিিগরের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে আনুশকা যেন সত্যি সত্যিই হয়ে উঠেছেন ঝানু কুস্তিিগর। আলী আব্বাস জাফরের এই ছবিতে আনুশকাকে দেখা যাবে হরিয়ানার বাঘিনী নামে খ্যাত আরফার চরিত্রে। সেই ছবির শুটিংয়ে আনুশকা এখন উত্তর প্রদেশে। সম্প্রতি নিজের টুইটারে ছবির একটি দৃশ্যে আরফা কেমন দেখতে, সেটাই পোস্ট করেছেন আনুশকা। সুলতান মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী ঈদে। আরও দুটি ছবির কাজ চলছে আনুশকার—তাঁর নিজের প্রযোজিত ফুল্লরি আর ঐশ্বরিয়া-রণবীর কাপুরের সঙ্গে অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল।

বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর! by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

কামার আহমাদ সাইমন,ইশতিয়াক জিকো
দাড়ি-গোঁফে ঢাকা মুখ। উষ্কখুষ্ক চুল। ইশতিয়াক জিকোকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল সেদিন। সেদিন মানে গত ১৬ জানুয়ারি। ওপেন ডোরসের প্রতিনিধি পাওলো বের্তোলিন সেদিন এসেছিলেন ঢাকার গ্যেটে ইনস্টিটিউটের আলোচনায়। জিকো সেই সম্ভাবনাময় তরুণ নির্মাতা, যাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ৭২০ ডিগ্রিজ জায়গা করে নিয়েছিল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে। এখন জিকোকে আরও একবার ঠিকঠাক চিনে নেওয়ার সময়। গত ২৮ এপ্রিল ইউরোপের আরেক বড় চলচ্চিত্র উৎসব লোকার্নো ঘোষণা করেছে, ওপেন ডোরস হাবের জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রকল্পের নাম। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে ইশতিয়ার জিকোর কাহিনিচিত্র সিটি অ্যান্ড ক্যাটস। সঙ্গে আছে আরেক নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমনের ছবি ডে আফটার টুমরো। যিনি তাঁর শুনতে কি পাও ছবির সুবাদে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্মান বয়ে এনেছেন আগেই। বাংলাদেশের দুটি ছাড়াও এবারের ওপেন ডোরস হাবে জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার নানা দেশের আরও ছয়টি ছবির প্রকল্প। কামার আহমাদ সাইমন বলছিলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করার জন্য ওপেন ডোরস আমাদের নির্মাতাদের জন্য খুব ভালো একটি সুযোগ। এই সুযোগ ২০১৮ সাল পর্যন্ত থাকবে। আমি আশা করব, বিশেষভাবে আমাদের তরুণ নির্মাতারা নিজেদের প্রমাণ করার এই দারুণ সুযোগটা নেবেন।’ ওপেন ডোরসে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিজয়ী প্রকল্প পাবে ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (৪০ লাখ টাকার বেশি)। তার চেয়েও বড় কথা, এই ছবির প্রকল্পগুলো পেতে পারে ইউরোপের প্রযোজনা ও পরিবেশনা সহায়তা। বাংলাদেশের জন্য সুখবর আছে ওপেন ডোরসের আরেক শাখা ওপেন ল্যাবেও। এখানে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন (মেহেরজান), আবু শাহেদ ইমন (জালালের গল্প) ও আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁরা পাঁচ দিনের একটি বিশেষ কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। মূলত সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহায়তায় ওপেন ডোরস কার্যক্রম পরিচালনা করে সুইজারল্যান্ডের লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব। সহযোগী হিসেবে আছে একাধিক ইউরোপ ও এশীয় প্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে দেশগুলোতে বড় প্রযোজনা সংস্থার বাইরে ইনডিপেনডেন্ট বা মুক্ত ছবির চর্চা নেই বললেই চলে, সেসব দেশের সিনেমা ও নির্মাতাদের সহায়তার জন্য এখন কাজ করছে ওপেন ডোরস। ওপেন ডোরসের এ বছরের আয়োজন হবে ৪-৯ আগস্ট।

নতুন লরা ক্রফট অ্যালিসিয়া

অ্যালিসিয়া ভিকান্দার
প-নে-রো বছর! কম সময় তো নয়। সময় এসে গেছে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে লরা ক্রফটকে আবারও হাজির করানোর। ২০০১ সালে টুম্ব রাইডার ছবি দিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। অ্যালিসিয়া ভিকান্দার কি পারবেন? এবার যে লরা ক্রফট চরিত্র উপস্থাপনের ভার ২৭ বছর বয়সী এই সুইস অভিনেত্রীর কাঁধে। ছবির কাজ শুরু হচ্ছে মাত্র। মুক্তির দিনক্ষণ জানা যায়নি। তবে ‘লরা ক্রফট’ সিরিজের নতুন কোনো ছবি হবে না এটি। বরং পুরোনো সিরিজটিকে নতুন করে বানানো হচ্ছে। এর মানে টুম্ব রাইডার–এর সেই মারদাঙ্গা সুন্দরীর চরিত্রেই দেখা যাবে অ্যালিসিয়াকে। অ্যালিসিয়া এখনো হলিউডের দুনিয়ায় অনেকটাই অচেনা-আনকোরা মুখ। তবে এরই মধ্যে ড্যানিশ গার্ল, এক্স ম্যাশিনা দিয়ে নজর কেড়েছেন। ম্যাট ড্যামনের সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি জ্যাসন ব্রুইনও সবার প্রশংসা কুড়াবে বলেই শোনা যাচ্ছে। অ্যালিসিয়াই যে নতুন লরা, এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে হলিউডের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ খবর নিশ্চিত করেছে। এর আগে শোনা গিয়েছিল, লরার চরিত্রে দেখা যাবে ডেইজি রিডলিকে। জনপ্রিয় একটি ভিডিও গেম অবলম্বনে ২০০১ সালে প্রথম মুক্তি দেওয়া হয়েছিল লরা ক্রফট সিরিজের ছবি। ২০০৩ সালে এর সিক্যুয়েলও মুক্তি পেয়েছিল। ২০১৩ সালে নতুন করে আবারও ভিডিও গেমটি বাজারে ছাড়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ছবিটিও আসতে যাচ্ছে রুপালি পর্দায়। পরিচালনা করবেন রোয়া উথাগ।

নাট্য অভিযাত্রায় অনবদ্য ‘শিকারী’ by জাহীদ রেজা নূর

শিকারী পথনাটকের একটি দৃশ্য l প্রথম আলো
এত দিন পথনাটক বলতে যা দেখে এসেছি, তা থেকে একটু আলাদা কিছু দেখা গেল গতকাল চারুকলার বকুলতলায়। ৩০ বছর পর পথনাটক করতে এসে নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফ কি নতুন করে এই মাধ্যম নিয়ে ভাবতে শেখালেন? কাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় যখন বকুলতলায় পৌঁছালাম, তখনো চলছিল কিছু হাতুড়ি-পেরেকের ঠোকাঠুকি। কয়েক সারি চেয়ার, তা–ও ছিল ফাঁকা। পথনাটক বলেই মাটি আর বালুতে ঢাকা ফাঁকা জায়গাটির ঠিক পেছনে তিনটি ছবি। একটি সোহাগী জাহান তনুর, একটি কল্পনা চাকমার, অন্যটি পূর্ণিমা রানী শীলের। নাটকে সরাসরি এঁদের কথা নেই। তবু কি প্রচ্ছন্ন হয়ে নেই? নির্দেশক বলেছিলেন, ঠিক পাঁচটায় শুরু হবে নাটক। ততক্ষণে চেয়ারগুলো ভরে গেছে। পেছনে কয়েক সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন দর্শক। নাটকে চরিত্র কম। সুধা, হাসনা, কয়েকজন খেলোয়াড় আর রেফারি। এ রকম সাদামাটা কয়েকটি চরিত্রই যে কিছুক্ষণের মধ্যে কাঁপিয়ে দেবে দর্শকমন, তা কে জানত আগে! খেলোয়াড়েরা রেফারিকে একেবারেই পাত্তা দেয় না। তাদের মুখে মুখোশ! এবং তারা শুধু খেলোয়াড় নয়, শিকারিও বটে। তাদের হিংস্রতার শিকার হয় মেয়েরা। এরা মানে না মানা। এদের মধ্যে শুভবোধের উদয় হয় না। রেফারি মাঝে মাঝে এসে কিছু নীতিকথা শুনিয়ে যায় বটে, কিন্তু কে শোনে কার কথা! সুধা নামের মেয়েটি মনে করিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর নাটকের সুধাকেই। ফুলের মালায় নিজেকে সাজিয়ে পথ চলছিল সে। গাইছিল ‘ফুলে ফুলে ঢ’লে ঢ’লে’ গানটি। এ সময় শিকারিরা এসে ওকে আঘাত করে। ওকে নিয়ে উৎসব শুরু করে। শরীরী কসরত আর বাদ্যযন্ত্রের যুগলবন্দীতে সৃষ্টি হয় বিভীষিকার! আশপাশে তাকিয়ে বিহ্বল হয়ে যাই, অনেকের চোখেই পানি। নাচের মুদ্রায়, হাতের প্রতীকী ভাষায়, কোরিওগ্রাফিতে; তবলা-বাঁশি-হারমোনিয়াম আর ড্রামের সুচারু প্রয়োগে দৃশ্যগুলো শিল্প হয়ে উঠতে থাকে। খেলোয়াড়দের শরীরী খিদে বাড়তেই থাকে। তারা আরও একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে। রেফারি খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেয়, এই মেয়েটি কোন এলাকার, কার মেয়ে। খেলোয়াড় বুঝতে পারে, তার দেহের ক্ষুধার শিকার হয়েছে তারই বোন। এরপর মুখোশ আর থাকে না। কিন্তু চোখ বাঁধা থাকে কাপড়ে। মনে পড়ে যায় ইডিপাস নাটকের কথা। আত্মোপলব্ধি হয় শিকারের। সেই ৩০ বছর আগে সেলিম আল দীনের লেখা চর কাঁকড়ার ডকুমেন্টারি নামে পথনাটক করেছিলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। বহুদিন বাদে নতুন ছেলেমেয়েদের দিয়ে আবার এলেন পথনাটক নিয়ে। নতুন ছেলেমেয়েরা করলেন অনবদ্য অভিনয়, গাইলেন প্রাণখুলে। আর সবটা মিলে যা হয়ে উঠল, তা একটি সুচারু শিল্পকর্ম। দুটি বর্বর ঘটনার বয়ানের মাধ্যমে সামাজিক অনাচার ফুটে উঠল। পথনাটক শিকারী লিখেছেন মান্নান হীরা। ১৪ দিনের নিয়মিত মহড়ায় নাটকটির উদ্বোধনী পরিবেশনা ছিল গতকাল। নাটক শেষে আলোচনা করেন ড. সাদেকা হালিম, মামুনুর রশীদ, আবদুস সেলিম, আবু সাঈদ খান, হাসান আরিফ, মান্নান হীরা ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ। এটি বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের প্রথম প্রযোজনা। এটিকে ‘হত্যা ও ধর্ষণবিরোধী নাট্য অভিযাত্রা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। আজ শহীদ মিনারে আর টিএসসিতে শিকারী নাটকটির অভিনয় হবে।

তৈরি হবে তাঁদের পছন্দের পোশাক

স্যার এলটন জন ও লেডি গাগা
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে গেয়েছেন স্যার এলটন জন ও লেডি গাগা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি পোশাকের ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হলেন এই দুই মার্কিন শিল্পী। তাঁদের রুচি-পছন্দ ও সংগীত ঘরানার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হবে সীমিতসংখ্যক পোশাক ও পণ্য। ‘লাভ ব্রেভারি’ সিরিজের সেসব বিক্রির ২৫ শতাংশ যাবে তাঁদের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বর্ন দিস ওয়ে’ ও ‘এলটন জন এইডস ফাউন্ডেশন’। মেসিস নামের ওই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে পোশাক তৈরিতে সহায়তা করবেন লেডি গাগার বোন নাটালি জার্মানোটা ও ডিজাইনার ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়েল। এসবের মধ্যে থাকবে সাদা-কালো স্লিভলেস টি-শার্ট, ক্রপ টপ, সুয়েট শার্ট, কি-চেন, এনামেল পিন, ক্লাচ, রোদচশমা মতো আরও বেশ কিছু পণ্য। মে মাসের ৯ তারিখ থেকে মেসিস এর প্রায় দেড় শ দোকানে এসব পণ্য পাওয়া যাবে। এলটন জনের সঙ্গে এ ধরনের একটি কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে অনেক সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন লেডি গাগা। এলটন জনও এতে যুক্ত হতে পেরে রোমাঞ্চিত।

এত চেনা তবু অচেনা

ট্রলি ভরা বিভিন্ন জিনিস। সবই সদ্য কেনা। নিজ হাতে এসব জিনিস গাড়িতে রাখছিলেন তিনি। আশপাশের লোকজন তাঁকে দেখছিল। মুখটি শুধু ওই এলাকায় নয়, সারা বিশ্বের মানুষেরই খুব চেনা। তবু তাঁকে চট করে চেনা যেন কঠিন হয়ে গিয়েছিল স্থানীয় লোকজনের। কারণ অবস্থানের গুণে তাঁর এ সময়, এভাবে, এই বেশে থাকার কথা নয়।
হ্যাঁ, সেদিন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের অ্যাঙলেসি দ্বীপের অভিজাত এক বিপণিকেন্দ্র থেকে আড়ম্বরহীন সাদামাটা বেশে কেনাকাটা করেন ডাচেস অব কেমব্রিজ ক্যাথেরিন (কেট মিডলটন)।
অনেকেই ভেবেছিলেন, বিয়ের পর সম্পূর্ণ বদলে যাবে কেটের জীবন। রাজকীয় জৌলুশের আড়ম্বরে মোড়ানো থাকবে তাঁর জাঁকালো জীবন। দূর থেকে তাঁকে দেখা যাবে, কাছে যাওয়া যাবে না। কিন্তু সপ্তাহ খানেক যেতে না যেতেই সবার সে ভুল ভেঙে দিয়েছেন তিনি। বিয়ের পর গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো বাইরের গতানুগতিক পরিবেশে দেখা যায় কেটকে।
আটপৌরে পোশাকে অ্যাঙলেসি দ্বীপের এক বিপণিকেন্দ্রে যান তিনি। হাতে ছিল সাদামাটা একটি ব্যাগ। সঙ্গে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও তাঁদের হাবভাবে রাজকীয় ঠমক ছিল না। হাতে বিয়ের আংটিটা না থাকলে হয়তো তাঁর পরিচয়ের ব্যাপারে অনেকে নিশ্চিতই হতে পারতেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিপণিকেন্দ্রে ঘুরে নিজেই কেনাকাটা করেন কেট। ট্রলি ঠেলেছেন নিজেই। কেনাকাটা শেষে গাড়িতে মালসামানা তুলে আবার নিজেই খালি ট্রলিটা যথাস্থানে রেখে আসেন। তারপর চলে যান সোজা ওয়েলসের খামারবাড়িতে। সেদিন যাঁরা কেটকে সামনে থেকে দেখেছেন তাঁদের ভাষ্য, কেটকে আগের মতোই মনে হয়েছে। সেই হাসি লেগেছিল মুখে।

ব্রাভোর ছয়ে উইন্ডিজের জয়

বারবাডোজের আকাশ তখন কাঁদতে শুরু করেছে। টানা দুটি বলে রান নিতে পারলেন না ডোয়াইন ব্রাভো। ড্রেসিংরুমে ড্যারেন স্যামি আর ওটিস গিবসনকে দেখে মনে হলো, পারলে তাঁরাও কেঁদে ফেলেন!
২৯ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ১৪৮। ডাকওয়ার্থ-লুইস আইন বলছে, ওই সময় খেলা শেষ হলে ম্যাচ ‘টাই’। ৩০তম ওভার করতে এলেন শহীদ আফ্রিদি। প্রথম দুই বল ডট, পেছনে পড়ে গেল উইন্ডিজ। তৃতীয় বলটি লং হপ, বড় ব্রাভোর পুল আশ্রয় নিল গ্যালারিতে। একসঙ্গে লাফিয়ে উঠলেন স্যামি-গিবসন। সংকেত দিলেন উইকেট ধরে রাখতে। দুই বল পরই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ। আর তা শুরু হতে পারেনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ী ১ রানে!
পুরস্কার বিতরণীতে পরিচিত সেই হাসি দিয়ে স্যামি প্রথমেই বললেন, ‘হ্যাঁ, অনেক দিন পর...!’ অনেক দিন পর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্দিষ্ট করে বললে ২৫ ম্যাচ পর, সর্বশেষটি ছিল ২০০৯ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে!
বৃষ্টি, ডাকওয়ার্থ-লুইস, পরে ব্যাটিং করার সুবিধা তো ছিলই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল লেন্ডল সিমন্সের ৭০ বলে ৭৪ রানের ইনিংসটারও। অবশ্য ব্রাভোর ছক্কা না হলে ওই ইনিংসটা বিফলেই যেত। ওই ছয়টাতে যেমন বিফলে গেছে মোহাম্মদ হাফিজের ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস। যদিও পরে একটি উইকেটও নিয়ে ম্যাচ-সেরা হাফিজই।
ডাকওয়ার্থ-লুইসের সঙ্গে উইন্ডিজের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল ওই হাফিজের কারণেই। ৫০ ওভারে ২৪৯ রানের লক্ষ্যটা বৃষ্টিতে এসে দাঁড়ায় ৩৯ ওভারে ২২৩। মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে আসা কার্ক এডওয়ার্ডস ফিরে যান ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই। ব্রায়ান লারার ৪২তম জন্মদিনে বড় কিছু করতে পারেননি ‘নতুন লারা’ ড্যারেন ব্রাভো (২১)। এর পরই তৃতীয় উইকেটে সিমন্স-সারওয়ানের ৭৫ রানের জুটি। সারওয়ানকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন হাফিজ। প্রথম স্পেলে সিমন্সের হাতে ধোলাই হওয়া (১৪ বলে ২৭) তানভির দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই প্রতিশোধ নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় ব্রাভোর ছক্কাটাই।
ওই শর্ট পিচ বলটার জন্য নয়, ম্যাচ শেষে আফ্রিদির কণ্ঠে আফসোস রানটা ২৭০-৭৫ হলো না বলে। দ্বিতীয় উইকেটে হাফিজের সঙ্গে আসাদ শফিকের ১৫৩ রানের জুটিটার পর যেটি খুবই সম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু পাগলাটে সব শট আর রান আউটে নিজেদের সর্বনাশ করেন পাকিস্তানিরা। আড়াই শর কাছাকাছি যেতে পারেন তাঁরা অভিষিক্ত পেসার তানভির আহমেদের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংসে (১২ বলে ১৮)। তিন বছর পর গত সেপ্টেম্বরে দলে ফিরে ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম ঘটানো হাফিজ পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, দুটিই এ বছর। আগামী পরশু শেষ ওয়ানডে গায়ানায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৪৮/৯ (হাফিজ ১২১, শেহজাদ ৬, শফিক ৭১, আফ্রিদি ৮, মিসবাহ ৫, হাম্মাদ ১, সালাউদ্দিন ৫, সালমান ০, তানভির ১৮, আজমল ৫*, জুনাইদ ১*; বিশু ৩/৩৭, ডোয়াইন ২/৬০, রোচ ২/৬৭)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৯.৫ ওভারে ১৫৪/৪ (সিমন্স ৭৪, এডওয়ার্ডস ০, ড্যারেন ব্রাভো ২১, সারওয়ান ২৮, স্যামুয়েলস ৮*, ডোয়াইন ব্রাভো ১১*; জুনাইদ ২/২৬, হাফিজ ১/২৬, তানভির ১/৪৫)। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ রানে জয়ী (ডি/এল)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ।