Monday, August 4, 2025

গাজায় অর্ধমৃত জিম্মির ভিডিও নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দা, রেডক্রসের হস্তক্ষেপ দাবি

ইসরাইলি জিম্মিদের হাড়জিরজিরে ও দুর্বল অবস্থায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমা নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রেডক্রস বাকি জিম্মিদের কাছে পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, প্রচারের উদ্দেশ্যে জিম্মিদের এভাবে দেখানো জঘন্য। তাদের নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ বৃহস্পতিবার ২১ বছর বয়সী রোম ব্রাসলাভস্কির একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাতে তাকে কান্নারত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর শনিবার হামাস এভিয়াতার ডেভিড নামে ২৪ বছর বয়সী এক বন্দির ভিডিও প্রকাশ করে। তিনি অতি দুর্বল ও শীর্ণ। তার শরীরের সবটা হাড় ভেসে উঠেছে। পেট লেগে গেছে পিঠের সঙ্গে।

ইসরাইলি নেতারা অভিযোগ করেন, হামাস জিম্মিদের না খাইয়ে রাখছে। এর জবাবে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল কাসাম ব্রিগেডস দাবি করে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অনাহারে রাখে না। তারা যা খায়, বন্দিদেরও তাই দেয়। কারণ গাজায় তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। গাজা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার খাদ্যসাহায্য নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর দু’টি স্থানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ২৭ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ব্রাসলাভস্কি ও ডেভিড উভয়কেই ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে অপহরণ করে হামাস। তাদের ভিডিও প্রকাশের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, সব জিম্মিকে ফেরত আনার চেষ্টা অবিরাম চলবে। তিনি রোববার রেডক্রস কমিটির আঞ্চলিক প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন। খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহে জরুরি হস্তক্ষেপ চান। রেডক্রস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ভীষণভাবে মর্মাহত এই ভিডিওগুলো দেখে, যেগুলো জিম্মিদের ভয়াবহ ও প্রাণসংহারী অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ। তারা আবারও জিম্মিদের কাছে যাওয়ার সুযোগ, চিকিৎসা সহায়তা এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা  দেয়ার দাবি জানায়।

আল কাসাম ব্রিগেডস জানায়, যদি নিয়মিত ও স্থায়ী মানবিক করিডোর খোলা হয় এবং সাহায্য পৌঁছানোর সময় বোমাবর্ষণ বন্ধ থাকে, তাহলে তারা রেডক্রসকে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর অনুমতি দেবে। ওদিকে তেল আবিবে সাপ্তাহিক বিক্ষোভে আবারও জিম্মিদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে জিম্মিদের মুক্তির জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানায়। ডেভিড ও ব্রাসলাভস্কির পরিবার শনিবারের এক সমাবেশে বলে, এই নরকের আগুন থেকে সবাইকে এখনই বের করে আনতে হবে। ভিডিওতে ব্রাসলাভস্কিকে দেখা যায় কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, আমার খাবার ও পানি শেষ। সারাদিনে তিনটা ফালাফেলের টুকরো খেয়েছি। দাঁড়াতে বা হাঁটতেও পারি না। আমি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। অন্য ভিডিওতে ডেভিড বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে কিছুই খাইনি। পানি পর্যন্ত ঠিকমতো পাই না। এ সময় তাকে নিজের কবর খুঁড়তে দেখা যায়।

mzamin

কাঠগড়ায় প্রধান বিচারপতি: হাসিনার বিচার বিভাগ ধ্বংসের পরিণতি by কামাল আহমেদ

একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির দুই হাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরানো এবং তাঁকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন দৃশ্য যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্যই অস্বস্তিকর। তবে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আরেকজন প্রধান বিচারপতির পালিয়ে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া কিংবা সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা আরেকজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে সর্বশেষ এ ঘটনার চেয়ে মোটেও কম ভয়ংকর বলা যাবে না।

উদ্বেগের কথা হলো, গত আট বছরে এর সব ঘটনাই বাংলাদেশে ঘটেছে। এটি এমন এক করুণ ঘটনাক্রম, যেখানে দেখা যায়, একচ্ছত্র ক্ষমতাধর শাসক হয়ে ওঠা শেখ হাসিনা কীভাবে ঠান্ডা মাথায় ধাপে ধাপে দেশের বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

এই ধ্বংসের অন্যতম মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ছিল সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা। এই সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এর ফলে শেখ হাসিনা টানা তিনটি একতরফা নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছেন এবং ক্ষমতায় নিজের অবস্থান শক্ত সংহত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই সংশোধনী নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উন্মুক্ত আদালতে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত আদেশ পরে পাল্টে দেন এবং অবসর নেওয়ার ১৬ মাস পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধু বিচারিক অসদাচরণ নয় বরং এটি ছিল প্রতারণা বা জালিয়াতির মতো কিছু।

এ ধরনের আচরণ বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও সততার যেই মান থাকা উচিত, তার বড় বিচ্যুতি। এতে বিচার বিভাগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। অনেকে সন্দেহ করেন, পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে ইচ্ছা করে দেরি করা হয়েছিল, যাতে শেখ হাসিনা ওই সংক্ষিপ্ত আদেশ এড়িয়ে আইন পাস করতে পারেন। কারণ, সংক্ষিপ্ত আদেশে আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হতো। এ সুযোগটাই হাসিনা কাজে লাগান। সংসদের একটি কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে দুই মেয়াদে বহাল রাখার সুপারিশ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে সেটি পুরোপুরি বাতিল করে দেন।

তার চেয়েও চিন্তার বিষয় হলো তৎকালীন বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল যে যখন তাঁর বেঞ্চে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু মামলা চলছিল, সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। এমন কাজ বিচারিক নৈতিকতার দিক থেকে একটি বড় আপস বা দুর্বলতাকেই সামনে আনে।

সমালোচকেরা আরও বলেন, খায়রুল হক অবসরের পরও অনেক বছর আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে গেছেন। এই পদে তাঁর নিয়োগ বারবার বাড়ানো হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতন পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তিনি নিজে রায় দিয়েছিলেন—বিচারপতিরা অবসর নেওয়ার পর লাভজনক কোনো রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজেই ঠিক সেই কাজ করেছেন। তিনি এমন একটি সরকারের অধীনে চাকরি করেছেন, যে সরকার তাঁর বিচারিক রায়েই সবচেয়ে বড় সুবিধা পেয়েছিল।

তবে খায়রুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারক হওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। শেখ হাসিনার সরকার ২০১৫ ও ২০২০ সালে তাঁকে দুবার প্রার্থী করেছিল। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবল আপত্তি এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থনের অভাবে শেষ পর্যন্ত উভয়বারই তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সম্প্রতি খায়রুল হকের গ্রেপ্তার নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অস্বস্তি বোধ করছেন, কারণ যেসব অভিযোগ বা বিচারিক অসদাচরণের কথা আগেই বলা হচ্ছিল, সেসবের কোনোটিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তাঁকে আটক করা হয়েছে হত্যার অভিযোগে করা মামলায়, যা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

দুঃখের বিষয় হলো, যাদের সরকার জেলে পাঠাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এখনো মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম, একনায়কতন্ত্র শেষ হলে এসবও শেষ হবে। কিন্তু তা হয়নি। দেখা যাচ্ছে, এখনো এটি একটি জনপ্রিয় কৌশল হিসেবে টিকে আছে।

অনেকেই অনেক দিন ধরে বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাঁর কারণেই শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে রাজনীতির হাতিয়ার বানাতে পেরেছিলেন। তাঁরা এখন তাঁর গ্রেপ্তারে একধরনের স্বস্তি বা প্রতিশোধের অনুভূতি পাচ্ছেন। তাঁদের মতে, খায়রুল হক এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন, যা বিরোধী দলের বহু মানুষকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি অনেক সময় তাদের ওপর সরকারি নির্যাতনেও ভূমিকা রেখেছে। তাই তাঁরা মনে করেন, খায়রুল হকের বিচারও সেই অনুযায়ী হওয়া উচিত।

তবে এখানেই যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে, সেটি হলো: তাহলে কেন খায়রুল হককে তাঁর ত্রয়োদশ সংশোধনী রায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো না?

মামলা দুটির একটিতে অভিযোগ ছিল, তিনি সংক্ষিপ্ত আদেশ থেকে রায় পাল্টে দিয়ে জালিয়াতি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা নারায়ণগঞ্জে দায়ের হয়েছিল রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে। (হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের দুদিন পর তাঁকে রায় জালিয়াতির মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।)

কিছু আইনবিশেষজ্ঞ মনে করেন, জুডিশিয়াল ইমিউনিটি বা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় করা কাজের জন্য তাঁদের যে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়, সেটি ওই দুই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানোর কারণ হতে পারে। কিন্তু অন্য আইনজ্ঞরা বলছেন, ১৮৫০ সালের জুডিশিয়াল অফিসার্স প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বিচারকদের যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা আছে, তা বিচারক অবসরে যাওয়ার পর, বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক অবস্থায় কোনো ভুল বা অপরাধ করলে তা আর তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।

অন্যদিকে বিচারপতি এস কে সিনহা, যিনি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন (যে সংশোধনীটি বহাল থাকলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হতো), তিনি নিজেই লিখে জানিয়েছেন, কীভাবে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তারা তাঁকে আদালতের ভেতরে হেনস্তা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।

এস কে সিনহার এই অভিজ্ঞতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে দমন করার ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। বলা যায়, এস কে সিনহাই ছিলেন প্রথম এবং একমাত্র প্রধান বিচারপতি, যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরকারের দ্বারা প্রকাশ্যে নিগৃহীত হন।

এখন বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি এমন বিচারব্যবস্থা, যা নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকবে এবং যেখানে কাজ চলবে স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। সে ধরনের ব্যবস্থাই এমন অবস্থা নিশ্চিত করতে পারে, যেখানে কোনো বিচারপতিকে আর অপমানজনক মামলায় ফাঁসানো হবে না কিংবা দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

[ইংরেজি থেকে অনূদিত। লেখাটি গত ৩০ জুলাই ডেইলি স্টারে ছাপা হয়েছিল]

কামাল আহমেদ, সাংবাদিক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে। ছবি : প্রথম আলো

মিমাংসা ছাড়াই সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বন্ধ করছে ইসরাইল

কোনো তদন্ত ছাড়াই ইসরাইলি সেনাদারে যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অমিমাংসিত এসব তদন্তের মধ্যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রাণপ্রার্থী ১১২ জন ফিলিস্তিনির হত্যার বিষয়টিও রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা ১০টি অভিযোগের ৯টির তদন্তই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিকদের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক সহিংস ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাকশন অন আর্মড ভায়োলেন্সের (এওএভি)।

এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে রাফার একটি তাবুতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি সেনারা। এছাড়া গত জুনে রাফার একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রেও নির্বিচারে গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। যাতে ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ বিষয়েও কোনো মিমাংসা ছাড়াই তদন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জুনে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জুনের হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে তা অসত্য বলে দাবি করেছে। তারপরেও এ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমটিকে জানিয়েছে আইডিএফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো মিমাংসা ছাড়া বা কোনো দোষ খুঁজে না পেয়ে তদন্তগুলো বন্ধ করেছে ইসরাইল। যার মধ্যে তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিকদের বিরুদ্ধে চালানো নৃশংসতার বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।
আইডিএফের দাবি, গাজায় অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রম ঘটনাগুলোর বিষয়ে তদন্ত করবে তারা। বিশেষ করে যেসব ঘটনায় আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অক্ষুণ্ন রেখে ইসরাইলি আইনকে প্রধান্য দেয়া হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীনভাবে যুদ্ধপরাধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। ইসরাইলি পুলিশের তথ্য অনুসন্ধানী ফলাফলের ভিত্তিতে এসব তদন্ত পরিচালিত হবে।
তদন্তমূলক এবং আইনি দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম সময়ের ব্যবধানের ফলে অন্যান্য অমীমাংসিত মামলাগুলোর বিচার হতে পারে। তবে আইডিএফের তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ওই সংস্থা। তারা বলছে, গাজায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর তদন্ত আরও অস্বচ্ছ এবং ধীর গতির হয়ে উঠেছে।

এওএভি জানিয়েছে, ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে এমন ৫২টি ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে; যেখানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা গাজা বা পশ্চিম তীরে তাদের বাহিনী কর্তৃক অন্যায়ের অভিযোগ তদন্ত করেছে বা করবে। এর মধ্যে মাত্র ১৩০৩ নিহত ও ১৮৮০ আহত ফিলিস্তিনির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরাইলের নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মাত্র একজন ইসরাইলি সৈন্যের জেল হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগে দেশটির একটি সামরিক আদালত তাকে মাত্র সাত মাসের জেল দেয়। এছাড়া আরেক সেনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

mzamin

ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে আইসিসিতে নেতানিয়াহুর মামলা স্থগিত

হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান বিচারকের মামলা স্থগিত করতে বাধ্য করা হয়েছে। বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইসিসি’র প্রধান বিচারক করিম খানের ওপর চাপ দেয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে লন্ডন ভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই। প্রতিবেদনে বলা হয়, হেগ থেকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় তা প্রত্যাহার করতে করিম খানকে চাপ দিয়েছে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র।

এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার দায়ে কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্তের সময় আইসিসি বৃটিশ নাগরিক করিম খানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার হুমকি এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এ সম্পর্কে মিডলইস্ট আইয়ের খবরে উঠে এসেছ নতুন তথ্য।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আইসিসি এবং করিম খানকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে যদি তারা ওই মামলার তদন্ত অব্যাহত রাখে তাহলে তাদের ‘ধ্বংস’ করে দেয়া হবে। শুক্রবার প্রকাশিত মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর। ২০২৪ সালের এপ্রিলে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেয়া হয়। আইসিসি ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের বিচার অব্যাহত রাখলে তহবিল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হবে। পরে নভেম্বরে সেই হুমকি বাস্তবায়ন করে তারা।

২০২৪ সালের মে মাসে মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামও করিম খানকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দেন। নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার রায় চূড়ান্ত করলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এরপর করিম খানসহ আইসিসি’র আরও চার বিচারকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, করিমকে একটি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে সতর্ক করা হয়, হেগে অবস্থিত আইসিসির সদর দপ্তরে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সক্রিয়। যা তার জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি।
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে আছেন করিম খান। পরিচয় উল্লেখ না করে অভিযোগকারী এক নারীর বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে,  এখানে একটি খেলা চলছে। তাকে এমন খেলার অংশ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে যাতে তিনি অংশ নিতে চাননি। এক্ষেত্রে ওই নারী সাক্ষী দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় করিম খানের মামলার তদন্ত বন্ধ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের পৃথক আরেকটি তদন্ত রয়েছে। এদিকে সকল অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন করিম।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ বছরের মে মাসে ছুটিতে পাঠানোর দুই সপ্তাহ আগে করিম খান ইসরাইল বংশোদ্ভূত বৃটিশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক আইনজীবী নিকোলাস কৌফম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইসরাইলের অপরাধের তদন্তের বিষয়ে জানতেই ছিল ওই সাক্ষাত। আইসিসি’র এক নথি থেকে জানা যায়, ওই সাক্ষাতে নিকোলাস করিমকে বলেন, নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্টের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন প্রত্যাহার না করলে তারা আপনাকে এবং আদালতকে ধ্বংস করে দেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আইসিসি’র কয়েকজন আইনজীবী।

mzamin
আইসিসি’র প্রধান বিচারক করিম খান

নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছেন ইসরাইলি এক জিম্মি

নিজের কবর নিজেকেই খুড়তে দেখা গেলো ইসরাইলি এক জিম্মিকে। এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। অনাহারক্লিষ্ট শরীর। অশক্ত শরীরে হাতে ধরা একটি বেলচা। তা দিয়ে মাটি খুঁড়ে চলেছেন ইভাতার ডেভিড (২৪) নামে ওই জিম্মি। ভিডিওতে তাঁকে বেশ রুগ্ন দেখা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, গাজায় খাদ্য সংকট থাকায় নিয়মিত খেতে পাচ্ছেন না। এতে তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। হামাসের বানানো কোনও এক সুড়ঙ্গে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বেলচা দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ডেভিড বলছেন, ‘‘আমি এখন নিজের কবর খুঁড়ছি। প্রতিদিন একটু একটু করে দুর্বল হচ্ছি। মনে হচ্ছে এবার কবরেই যেতে হবে। এটাই সেই কবর। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কবে মুক্তি পাব জানি না। কবে পরিবারের সঙ্গে ঘুমোত পারব জানি না।’’ তার পরই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ডেভিডকে। ইসরাইল অবশ্য বলছে, কীভাবে বন্দিদের অনাহারে রাখা হচ্ছে, তাঁদের পরিস্থিতি কেমন— এই দৃশ্য দেখিয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল নিচ্ছে হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে তাকে মুক্ত না করায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দোষারোপ করেছেন ডেভিড। ওই ইসরাইলি জিম্মির কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে , এটি গত ২৭ জুলাইয়ের ভিডিও। তিনি জানান, জুলাইয়ের বেশিরভাগ দিন তিনি শুধুমাত্র ডাল খেয়ে থেকেছেন। কোনোদিন সেটুকুও জোটেনি। টানা তিনদিনও অভুক্ত থেকেছেন। এই নিয়ে দ্বিতীয় বন্দির ভিডিও প্রকাশ করল হামাস। যে ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বন্দিদের পরিবার এবং আমজনতার ক্ষোভ বাড়ছে। হামাসের হাতে এখনও ৪৯ জন বন্দি রয়েছে । ডেভিড তাদের মধ্যে একজন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, ডেভিডের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। বন্দিদের যাতে সশরীরে ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
mzamin

সিডনির হারবার ব্রিজে ফিলিস্তিনের পক্ষে ইতিহাসের বৃহত্তম মিছিল, অংশ নেন বাংলাদেশিরাও

সিডনির আকাশ সকাল থেকেই মুখ গোমড়া করে ছিল। টিপটিপ বৃষ্টি আর কনকনে ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে লাখো মানুষের স্রোত যখন শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই বোঝা যাচ্ছিল, আজকের দিনটি সাধারণ কোনো দিন হবে না। রোববার সিডনির ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে চলেছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে আজ সিডনির আইকনিক হারবার ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে গেল এক অবিস্মরণীয় জনসমুদ্র। আয়োজকদের দাবি, এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দুই থেকে তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যা এই শহরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশিও অংশগ্রহণ করেছেন।

উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি

মিছিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকে এক সপ্তাহ ধরে সিডনিজুড়ে বিরাজ করছিল চরম উত্তেজনা। নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিন্স ও পুলিশ প্রশাসন এই মিছিলের অনুমতি দিতে নারাজ ছিল। তারা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মিছিলটি বন্ধ করার জন্য রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার আদালত পুলিশের আবেদন খারিজ করে দিয়ে মিছিলের পক্ষে রায় দেয়। এই আইনি লড়াই এবং সরকারের সরাসরি বিরোধিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্টো একধরনের জেদ তৈরি করে। আদালতের রায়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল। সবাই যেন পণ করেছিলেন, সব বাধা উপেক্ষা করে হারবার ব্রিজে তাঁরা যাবেনই।

প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে জনসমুদ্র

বেলা প্রায় দুইটার দিকে নর্থ সিডনি থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই রেলস্টেশনগুলো, বিশেষ করে উইনিয়ার্ড ও নর্থ সিডনি স্টেশন লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। এ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা, ব্যানার আর ফেস্টুনে চারপাশ ছেয়ে যায়। কালো, সাদা, সবুজ ও লাল—এই চার রঙে যেন পুরো শহর ঢেকে গিয়েছিল। বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে হুইলচেয়ারে বসা বয়োবৃদ্ধ মানুষ, সব বয়স, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এক হয়েছিলেন এক দাবিতে। পুলিশের মতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৯০ হাজারের বেশি; কিন্তু আয়োজকদের দাবি, এই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এই বিশাল জনস্রোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিও অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া সম্মানে ভূষিত সাবেক সিটি কাউন্সিলর ও সমাজকর্মী সাবরিন ফারুকী। তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এটা এক অভূতপূর্ব আর আবেগঘন দৃশ্য ছিল। সংখ্যা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এটা ছিল সত্যিকারের জনসমুদ্র। মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে, হুইলচেয়ারে করে এসেছে, বয়স্করা এসেছেন, বাচ্চারা এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমার মনে হয়েছে, এই জনস্রোতের ৯০ শতাংশই অমুসলিম। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বা জাতির প্রতিবাদ ছিল না, এটা ছিল মানবতার জন্য কান্না। এই দৃশ্য ভোলার নয়।’

বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্লোগানের জোরও বাড়ছিল। ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’, ‘ইন আওয়ার মিলিয়নস, উই আর অল প্যালেস্টাইনিয়ানস’, স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছিল হারবার ব্রিজ ও তার আশপাশের এলাকা। যত দূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। মাথার ওপর পুলিশের হেলিকপ্টার চক্কর কাটছে, কিন্তু নিচের জনসমুদ্র তাতে নির্বিকার।

হারবার ব্রিজ এলাকার পরিবেশে একধরনের উৎসবের আমেজ থাকলেও এর পেছনে ছিল গভীর বেদনা আর ক্ষোভের ছাপ। গত মাসে পুলিশের হাতে ও চোখে মারাত্মক আঘাত পাওয়া আন্দোলনকর্মী হান্না থমাসও ছিলেন এই প্রতিবাদ মিছিলে। ফিলিস্তিনি পতাকার রঙের একটি আইপ্যাচ পরে তিনি মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিউ সাউথ ওয়েলসের দীর্ঘদিনের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বব কারসহ বহু মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব মিছিলে যোগ দেন।

পুলিশের উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা

আয়োজকদের অনুমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ আসায় পুলিশ একপর্যায়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে। নিউ সাউথ ওয়েল পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ‘পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। আমরা ভিড়ের চাপে মানুষের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য ভয় পাচ্ছিলাম।’ তবে বিক্ষোভকারীরা শেষ পর্যন্ত পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

ঐতিহাসিক মিছিলের পর

বিকেল পাঁচটার কিছু পর হারবার ব্রিজ যান চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের কেন্দ্রস্থলে তখনো হাজার হাজার মানুষ। ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপের অন্যতম সংগঠক জশ লিস দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক এবং স্মরণীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি ছিল গণতন্ত্রের এক বিশাল প্রদর্শনী। লাখ লাখ মানুষ তাঁদের প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন।’

বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় মানুষ যখন ধীরে ধীরে বাড়ির পথ ধরছিলেন, তখনও তাঁদের মুখে ছিল প্রতিবাদের স্লোগান।

সিডনির হারবার ব্রিজে ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐতিহাসিক মিছিলে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রদর্শন করেছেন। ৩ আগস্ট, ২০২৫
সিডনির হারবার ব্রিজে ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐতিহাসিক মিছিলে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রদর্শন করেছেন। ৩ আগস্ট, ২০২৫ ছবি: প্রথম আলো