Sunday, March 6, 2011

অতিরিক্ত বোলার খেলানোর পরিকল্পনা নেই: ধোনি

কাল আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে শিরোপাপ্রত্যাশী ভারত। অন্য সময় হলে এই খেলাটি নিয়ে কেউ মাথাও ঘামাত না। কিন্তু আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটি নিজেদের পারফরম্যান্সের গুণেই সেই সম্মানটুকু আদায় করে নিয়েছে। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে না ভেবেও কোথায় যাবে দলগুলো। মাত্র দুই দিন আগেই যে বেঙ্গালুরুতে ইংল্যান্ডের ৩২৭ রান তাড়া করে এক অবিস্মরণীয় জয় আদায় করে নিয়েছে ইউরোপের এই দেশটি।
বেঙ্গালুরুর সেই রাতের পর, আর তাঁদের অন্যতম ব্যাটসম্যান কেভিন ও’ব্রায়েনের সেই অনন্য ইনিংসের পর, আয়ারল্যান্ডকে হেলাফেলার কোনো অবকাশ নেই। কাল এই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামার আগেও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে আলাদাভাবেই ছক কষছে ভারতীয়রা। ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় ভয়টা বোধহয় নিজ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়েই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩৮ রান করেও যে দল ম্যাচ জিততে পারে না, তাঁদের বোলিং নিয়ে একটু বেশি করেই চিন্তা করতে হয়, আর যেখানে প্রতিপক্ষ সদ্যই ৩২৭ রান তাড়া করে জেতা কোনো দল।
অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন, একজন ব্যাটসম্যান কমিয়ে বোলিংয়ের দিকে একটু মনোযোগ দেওয়া। ধোনি অবশ্য পুরো ব্যাপারটিকেই রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে কম্বিনেশনে ভারত খেলেছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনাই ভারতের নেই।’
ধোনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ব্যাটিং। আমরা আমাদের শক্তির কোনো ব্যত্যয় ঘটাতে চাই না।’
ধোনি যতই ব্যাটিং শক্তির কথা বলুন না কেন, সেই শক্তির ব্যাটিং যদি কোনো দিন ‘ক্লিক’ না করে, তাহলে ভারতকে পস্তাতে হবে, এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র: কোথায় পাব তারে? by মুহাম্মদ লুৎফুল হক

ইতিহাস রচনার অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে নথি বা দলিলপত্র। দলিলের সাহায্য ছাড়া সঠিক ইতিহাস প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। ইতিহাসের উপাদান হিসেবে দলিল বলতে আমরা বুঝি সরকারি-বেসরকারি চিঠিপত্র, বই, পত্রপত্রিকা, স্মরণিকা, ছবি, মানচিত্র, স্মারক, চুক্তিপত্র, সাক্ষাৎকার, দিনপঞ্জি, রেকর্ডেড টেপ, সিডি, সিনেমা, রেজিস্টার, হিসাব খাতা ইত্যাদি।
স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় এবং বাংলাদেশ বাহিনী জন্ম নেয়। সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে। প্রবাসী বাঙালিরাও নিজ নিজ অবস্থানে থেকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে। অনেক দেশ ও জাতি এ যুদ্ধে আমাদের নিঃশর্তভাবে সহযোগিতা করে। জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাধীনতাযুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা পালন করে। অনেক দেশে আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে সে দেশের সরকারকে প্রভাবান্বিত করার জন্য সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা আন্দোলন গড়ে তোলে। অর্থাৎ, ওই সময়ের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইস্যু। ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এসব ব্যক্তি, সংস্থা, মিডিয়া, কার্যালয়, বাহিনী, সরকার ইত্যাদি তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীজুড়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের অজস্র উপকরণ বা দলিল সৃষ্টি করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনায় এসব দলিলের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এসব দলিলের সাহায্য ছাড়া রচিত ইতিহাস বিভিন্ন দোষে দুষ্ট হওয়া অবশ্যম্ভাবী।
স্বাধীনতার অব্যবহিত পর বাংলা একাডেমীর অধীন ‘জাতীয় স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা পরিষদ’ গঠিত হয়। পরিষদ দলিল সংগ্রহের কাজ শুরু করলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন গঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প’। এ প্রকল্প পূর্বের পরিষদ সংগৃহীত দলিলসহ প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠার দলিল সংগ্রহ করে এবং ১৯৮২ সালের নভেম্বর মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র নামে ১৫ হাজার পৃষ্ঠার দলিলসহ ১৫ খণ্ড বই প্রকাশ করে। এ প্রকল্প ১৯৮৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৫ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস রচনার জন্য সরকার ‘বাংলাদেশ গবেষণা কেন্দ্র’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়নি। ১৯৯৯ সালে বাংলা একাডেমী জেলাওয়ারি স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস রচনার জন্য ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: দলিল ও ইতিহাস প্রকল্প’ চালু করে কিন্তু প্রকল্পটি অসমাপ্ত থেকে যায়। ২০০১ সালের অক্টোবরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রণয়ন, দলিল সংরক্ষণ ও এসব বিষয়ে অব্যাহত গবেষণা। মন্ত্রণালয় ১৯৮২ সালে প্রকাশিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র পুনরায় প্রকাশ করে। এ ছাড়া ২০০৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস ১২ খণ্ডে প্রকাশ করা হয়। এরপর স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় আর কোনো সরকারি উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।
১৯৮২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প’-এর কাছে মোট প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠার দলিলপত্র মজুদ ছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যায় এ দলিলগুলোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়; রক্ষা পাওয়া অবশিষ্ট দলিল স্থান পায় জাতীয় জাদুঘরে। এ মুহূর্তে জাদুঘরে দলিলপত্রের এক হাজার ৫৫১টি ফাইল আছে, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা এক লাখের অধিক হবে না। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইতিমধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা স্থানচ্যুত হয়েছে।
স্বাধীনতাযুদ্ধকালে গঠিত বাংলাদেশ বাহিনীর দলিলপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর, সেনাবাহিনীর কয়েকটি জাদুঘরে লক্ষ করা যায়। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সাত খণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে। একটি খণ্ডে দলিলপত্রের উল্লেখ থাকলেও অন্যান্য খণ্ডে দলিলপত্রের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরে যেসব মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত নথি তৈরি হয়েছিল, তা পরে ভারত সরকার বাংলাদেশকে হস্তান্তর করে। দলিলগুলো সেনাবাহিনী সংরক্ষণ করছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বর্তমানে এ দলিলগুলোর অবস্থা মোটেও সন্তোষজনক নয়।
স্বাধীনতাযুদ্ধকালে বিভিন্ন ভাষায় আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় স্বাধীনতাযুদ্ধের সংবাদ নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছিল। এসব পত্রিকার কোনো সংগ্রহ কোথাও লক্ষ করা যায়নি। জাতীয় আর্কাইভস, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর, অন্য কিছু সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পত্রপত্রিকা মজুদ দেখা গেলেও তা সমগ্র পরিমাণের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। স্বাধীনতাযুদ্ধকালে দেশ-বিদেশের অনেক পেশাদার ও শৌখিন আলোকচিত্রশিল্পী ছবি তুলেছিলেন। ছবিগুলো এখন পর্যন্ত কেউ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়নি। এগুলোর বেশির ভাগই অদ্যাবধি অনাবিষ্কৃত। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর, দৃক গ্যালারি এবং জাতীয় আর্কাইভসের উদ্যোগে কিছু ছবির সন্ধান পাওয়া গেছে এবং প্রদর্শিত হচ্ছে। স্বাধীনতাযুদ্ধকালে নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের কিছু সংগ্রহ জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভস, সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেলে মজুদ থাকলেও বড় অংশ এখনো সংগৃহীত হয়নি বলেই প্রতীয়মান। সম্প্রতি পত্রিকা মারফত জানা যায়, ফিল্ম আর্কাইভসে সংরক্ষিত ফিল্মগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতাযুদ্ধকালে লিখিত ডায়েরি এবং ব্যক্তিগত চিঠিপত্রও ইতিহাসের উপাদান। ইতিহাস রচনায় এসব দলিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ দলিলগুলো বিভিন্ন ব্যক্তিসংগ্রহে আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এখনই এসব ব্যক্তিগত ডায়েরি ও চিঠিপত্র সংগ্রহ না করলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা ধ্বংস হয়ে যাবে।
বেসরকারি উদ্যোগে স্বাধীনতাযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি জাদুঘর বা সংগ্রহশালা গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সবচেয়ে সমৃদ্ধ। এদের কাছে মূলত আলোকচিত্র, ব্যক্তিগত চিঠি, ডায়েরি, পত্রিকার সংগ্রহ আছে। তবে এদের দলিলপত্রের সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাও উন্নত মানের নয়। এদের দলিলপত্রের কোনো তালিকা বা ক্যাটালগ তৈরি হয়নি এবং তা গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কোনো পেশাদারি ছাপ নেই এবং সংরক্ষণের দীনতা সর্বত্র স্পষ্ট। বেসরকারি উদ্যোগে কিছু গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এদের সংগ্রহেও কিছু দলিল আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র (ঢাকা), জেনোসাইড আর্কাইভ অ্যান্ড হিউম্যান স্টাডিজ সেন্টার (ঢাকা), বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র (চট্টগ্রাম)।
দেশের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে মজুদ স্বাধীনতাযুদ্ধের সব দলিল সংগ্রহ করতে হবে। যদি মূল দলিল না পাওয়া যায়, তবে তার ছায়াকপি, ডিজিটাল কপি বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় পুনর্মুদ্রণ বা পুনর্নির্মাণ করে জাতীয় সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তির কাছে বা তার পরিবারের সংগ্রহে দলিলপত্র মজুদ আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এ দলিলগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার অনেকে এসব দলিলের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে না বলে এর প্রতি যত্নশীলও নয়। আবার কারও কারও প্রত্যাশা, দলিলাদি পুরোনো হলে সেগুলো অনেক বেশি লাভের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিসংগ্রহে মজুদ এ ধরনের চিঠি, ব্যক্তিগত ডায়েরি, ছবি, পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন দলিলপত্র ক্ষেত্রবিশেষে মজুদকারীকে সম্মানিত করে বা অর্থ প্রদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। বিদেশে ব্যক্তি সংগ্রহে মজুদ দলিলপত্রও একই প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা যেতে পারে। স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলের একটি বড় অংশ ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় আর্কাইভস ও গবেষণাকেন্দ্রে মজুদ আছে। এসব দলিল স্বাধীনতাযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রণয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ওই সব দেশের সরকারের সঙ্গে দলিল সংগ্রহ বিষয়ে সাংস্কৃতিক চুক্তি হতে পারে।
অনতিবিলম্বে সরকারকে স্বাধীনতাযুদ্ধবিষয়ক আর্কাইভস গঠন করতে হবে। যদি পৃথক আর্কাইভস গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে জাতীয় আর্কাইভসের আওতায় একটি স্বাধীনতাযুদ্ধ সেল গঠন করা যেতে পারে। আর্কাইভসে সংগৃহীত সব দলিল পর্যায়ক্রমে ডিজিটাইজড করতে হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সমগ্র বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে প্রায় দেড় হাজার বই রচিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই দলিল-আশ্রিত নয়। ইতিহাসবিদেরা দলিলপত্রের অভাবকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা মনে করছেন। ইতিহাস নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ না হলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না, দলিলভিত্তিক ইতিহাসই একমাত্র এ মানদণ্ড অর্জন করতে সক্ষম। তাই দলিলপত্রের কোনো বিকল্প নেই।
মুহাম্মদ লুৎফুল হক: গবেষক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা।
lutful55@gmail.com

প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি থেকে সাবধান! by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের দৃষ্টিতে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা মানবতাবিরোধী অত্যন্ত ঘৃণ্য ও শরিয়তগর্হিত কর্মকাণ্ড, যা সমাজ ও সভ্যতাকে কলুষিত করে। কাউকে ফাঁকি দিয়ে কোনো কিছু করাই হচ্ছে প্রতারণা। মানুষের অসততা, কুপ্রবৃত্তি ও অসৎ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে এটি খুবই নিকৃষ্ট ও মারাত্মক। যেহেতু প্রতারণা মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর, তাই এটা ক্ষমার অযোগ্য গুরুতর অপরাধ। প্রতারণা মানে ঠকানো, শঠতা, ছলনা, ধোঁকা, ফাঁকিবাজি, বিশ্বাস ভঙ্গ করা, মাপে বা ওজনে কম দেওয়া, বেশি দামের জিনিসের সঙ্গে কম দামের বস্তু বা ভেজাল মিশিয়ে দেওয়া, জাল মুদ্রা চালিয়ে দেওয়া, মিথ্যা শপথ করে অন্যের ন্যায্যপ্রাপ্য বা হক বিনষ্ট করা—এসবই মনুষ্যত্ববিধ্বংসী প্রবঞ্চনার শামিল। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী কাউকে ন্যায্যপ্রাপ্য ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করাই প্রতারণা। ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা করে থাকে। ইসলাম সামাজিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে সব বিষয়ে নানা ধরনের প্রতারণাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মানব চরিত্র থেকে প্রতারণা বর্জনের জন্য বিশেষভাবে জোরালো তাগিদ দিয়েছে।
ইসলাম সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণকে কখনোই সমর্থন করে না। মিথ্যাকে সত্যের আবরণ পরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাই হচ্ছে প্রতারণা। মিথ্যা দিয়ে যেমন বাস্তব ও প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল বা গোপন করা হয়, প্রতারণার মাধ্যমেও অনুরূপভাবে প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করে মানুষকে ঠকানো হয়। প্রতারণা প্রকারান্তরে মিথ্যারই নামান্তর; মিথ্যাবাদিতা যেমন নিকৃষ্ট, প্রতারণাও তেমনি জঘন্য। মিথ্যা ও প্রতারণা উভয়ের বৈশিষ্ট্য একই। অনেক সময় মিথ্যার চেয়ে প্রতারণায় ক্ষতি বেশি হয়। তাই প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি থেকে আমাদের সর্বাবস্থায় সাবধান থাকা জরুরি। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবজীবনে যা কিছু করণীয়, তার মধ্যে ফাঁকিবাজি ও প্রতারণার কোনো স্থান নেই। এটি সমাজদ্রোহী মহাপাপ। যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়, সে প্রকৃতপক্ষে মুমিন বান্দা নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করবে না এবং তোমরা জেনেশুনে সত্য গোপন করবে না।’ (সূরা: আল-বাকারা, আয়াত-৪২)
মুসলমানদের পারস্পরিক লেনদেন, চালচলন, আচার-ব্যবহার, জীবনাচরণ প্রভৃতি সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতারণার মাধ্যমে যে জীবিকা উপার্জন করা হয়, তা সম্পূর্ণরূপে হারাম বা নিষিদ্ধ। এসব নীতিমালা লঙ্ঘন করে ইসলামে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হারাম রুজি খেয়ে ইবাদত করলে তা কখনোই কবুল হয় না। হারাম দ্বারা পরিপুষ্ট দেহের উপযুক্ত আবাসস্থল জাহান্নাম। পক্ষান্তরে ইসলামের আলোকে সৎভাবে জীবনযাপন তথা ব্যবসা-বাণিজ্য ও হালাল রুজি অন্বেষণের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করলে জান্নাতে স্থান পাওয়া যায়। যে ধরনের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনে অজ্ঞাত বা ধোঁকাবাজি হওয়ার বা এক পক্ষ কর্তৃক অন্য পক্ষকে ক্ষতি সাধনের সুযোগ থাকে, এমন প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘পণ্যের দোষত্রুটি না জানিয়ে বিক্রয় করা অবৈধ। দোষত্রুটি জানা থাকা সত্ত্বেও তা বলে না দেওয়া বা গোপন করা অবৈধ।’
মানবজীবনে প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি একটি বিরাট অভিশাপ, যা সামাজিক শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সংহতির পথে এক দুর্লঙ্ঘ প্রতিবন্ধক। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও পণ্যসামগ্রীর দোষত্রুটি গোপন করে বিক্রয় করা তথা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা করলে আল্লাহর ঘৃণা ও ফেরেশতাদের অবিরাম অভিশাপ বর্ষিত হতে থাকে। ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতারণার মাধ্যমে কোনো পণ্যের দোষত্রুটি গোপন করার পরিণতি সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোষযুক্ত পণ্য বিক্রি করে, ক্রেতাকে দোষের কথা জানায় না, এমন ব্যক্তি সব সময় আল্লাহর ঘৃণার মধ্যে থাকবে এবং ফেরেশতারা সব সময় তাকে অভিশাপ দিতে থাকবে।’
প্রতারণা করা মুনাফিকের স্বভাব। যারা প্রতারণা করে, তারা প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। একসময় প্রতারকের মুখোশ খুলে যায়, তখন আর পালানোর পথ থাকে না। প্রতারকদের স্বরূপ উন্মোচন করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়! যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে এবং অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেওয়ার সময় কম দেয়।’ (সূরা: আল-মুতাফিফফিন, আয়াত ১-৩)।
প্রতারক কখনো ঈমানদার বা বিশ্বাসী হতে পারে না। ধর্মভীরু হতে হলে তাকে নিশ্চয়ই প্রতারণামূলক আচরণ পরিহার করতে হবে। যে লোক প্রতারণা করে, তাকে কেউ বিশ্বাস ও ভক্তি-শ্রদ্ধা করে না। এমনকি তার সঙ্গে কেউ লেনদেন বা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে উৎসাহিত হয় না। সবার কাছে সে উপেক্ষিত ও ঘৃণিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে প্রতারক ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং সে সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব হয়ে যায়। যারা প্রতারণামূলক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে, তাদের ইসলামি আদর্শের গণ্ডিবহির্ভূত বলে গণ্য করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে সে আমাদের মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম)
মানবজীবনে প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের অধিকার দারুণভাবে খর্ব হয়; নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যা মানুষের নেকআমলকে ধ্বংস করে তাকে জাহান্নামের পথে পরিচালিত করে। অথচ সমাজের সর্বত্রই মানুষের কথাবার্তায়, কাজকর্মে, লেনদেনে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, বিদেশ গমনে এমনকি হজযাত্রায়ও ট্রাভেল এজেন্সির বিভিন্নভাবে প্রতারণার অপপ্রয়াস চলছে। তাই ইহকালীন ও পারলৌকিক অনিষ্ট সৃষ্টিকারী এহেন জঘন্য অমানবিক অপকর্ম থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং একে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

কেনেডির ঘাতকের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাই রবার্ট এফ কেনেডির ঘাতক শিরহানের প্যারোলে মুক্তির আবেদন গত বুধবার নাকচ করে দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বোর্ড। এখন পরবর্তী আবেদনের জন্য তাঁকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কেনেডিকে ১৯৬৮ সালে হত্যা করেন শিরহান। এ জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে ১৯৭২ সালে তাঁর সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়।
এর আগে ২০০৬ সালে শিরহানের প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় আদালতে শুনানির জন্য তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি। তবে এবার তাঁর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে আইনজীবী বিল পেপারকে নিয়োগ দেন শিরহান। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রানসিসকোর মাঝামাঝি কোলিঙ্গায় প্লিজেন্ট ভ্যালি কারাগারে তাঁর প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শিরহানের আবেদন নাকচ করে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যালিফোর্নিয়া সংশোধন ও পুনর্বাসন বিভাগের প্যারোল শুনানির বোর্ড প্লিজেন্ট ভ্যালি কারাগারের বন্দী শিরহানের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। পরবর্তী আবেদনের জন্য তাঁকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’
শুনানির সময় ৬৬ বছর বয়সী শিরহান বোর্ডের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কেনেডিকে হত্যার জন্য অনুশোচনা করেন। শিরহান বলেন, ‘এখন প্রতিদিন আমার অনুশোচনা হয়। প্রতিটি দিন আমি বিবেকের দংশনে ভুগি।’
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শিরহান গুলি করে কেনেডিকে হত্যা করেন। কেনেডি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য প্রাথমিক নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিজয়ী হওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রবার্ট কেনেডির ভাই প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

আহমাদিনেজাদের সেই গাড়ি ১৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পিজো ৫০৪ মডেলের পুরোনো গাড়িটি নিলামে ১৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। স্বল্প আয়ের লোকজনের জন্য বাড়ি নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ৩৪ বছরের পুরোনো ওই গাড়িটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ আটটি দেশের নাগরিকেরা ওই নিলামে অংশ নেন। স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দাম হেঁকে গাড়িটি কিনে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির এক আইনজীবী জানান, গাড়ি প্রদর্শনের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আহমাদিনেজাদের প্রতি ব্যক্তিগত আকর্ষণ থেকে তাঁর মক্কেল এই গাড়িটি কিনেছেন।
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আহমাদিনেজাদ গাড়িটি ব্যবহার করতেন। স্থানীয় বাজারে গাড়িটির প্রকৃত মূল্য মাত্র এক হাজার পাউন্ড।

ভারতে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার প্রধানের নিয়োগ বাতিল

ভারতের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা সিভিল ভিজিলেন্স কমিশনের প্রধান পি জে টমাসের নিয়োগ বাতিল করেছেন সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। টমাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেন।
এ ঘটনায় দেশটির সরকারের ওপর আরেক দফা খড়্গ নেমে এল। এমনিতেই বিভিন্ন মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখে ভাবমূর্তি-সংকটে রয়েছে ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এখন টমাসের নিয়োগ বাতিলের আদেশে নতুন করে বেকায়দায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কারণ, এ নিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
নব্বইয়ের দশকে কেরালা রাজ্যে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের সময় টমাস মালয়েশিয়া থেকে পামওয়েল আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গত সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতা সুষমা স্বরাজ। সুষমা স্বরাজের আপত্তি উপেক্ষা করেই তখন টমাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের পর থেকেই বিজেপি টমাসের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে টমাস পদত্যাগের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি। কিন্তু গতকাল সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের পরপরই টমাস পদত্যাগ করেন।

ক্রাইস্টচার্চ নগর পুনর্গঠনে ১০ বছর লাগবে

শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগর পুনর্গঠনে লাগবে অন্তত ১০ বছর। এ ছাড়া নগরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ক্রাইস্টচার্চ নগরে কমপক্ষে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিভিল ডিফেন্স বিভাগের প্রধান জন হ্যামিলটন জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের মধ্যে আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। ভূমিকম্প আঘাত হানার পরদিন এক ব্যক্তিকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ডেভিড কার্টার বলেছেন, শহর পুনর্গঠনের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। তবে এটা হবে একটা বৃহৎ প্রকল্প। এ শহরের পুনর্গঠনে অন্তত ১০ বছর লেগে যাবে।
ক্রাইস্টচার্চের মেয়র বব পার্কার সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত ব্যাপক যে এখানে এখনই জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে না। তবে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ক্রাইস্টচার্চে রাগবি বিশ্বকাপ ম্যাচের আয়োজন করা হবে।

পাকিস্তানে তিন দিনের শোক ঘোষণা

পাকিস্তানের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির মৃত্যুতে দেশটিতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি সরকার দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটিতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। এ তিন দিন তিনি দেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিকের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে গিলানি এ হত্যাকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিরোধী কুচক্রী শক্তি এভাবেই তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে তৎপর রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারকে অবশ্যই দেশের উন্নয়নে সব দেশবাসী ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
শাহবাজ ভাট্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী দল জানায়, তারা হত্যাকারী সন্দেভাজন জঙ্গিদের খুঁজছে। তদন্ত দলের এক কর্মকর্তা জানান, ভাট্টির দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত নিরাপত্তা দলের মধ্যেও হত্যাকারী থাকতে পারে। কারণ এর আগে ভাট্টির মতোই ব্লাসফেমি আইনের বিরোধী পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে তাঁর এক দেহরক্ষীই গুলি করে হত্যা করেন।
পাকিস্তানের বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনের কট্টর সমালোচক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকে গত বুধবার আততায়ীরা গুলি করে হত্যা করে। এর আগে তিনি গত জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, কট্টর ইসলামপন্থীরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এরপর তাঁর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে বুধবার তিনি কোনো দেহরক্ষী ছাড়াই ইসলামাবাদের বাড়ি থেকে দাপ্তরিক কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এ সময় অপর একটি গাড়িতে করে আসা কয়েকজন আততায়ী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ফ্রাঙ্কফুর্টে হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর দুই সেনা নিহত

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বাসে গত বুধবার বন্দুকধারীর হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর দুজন সেনা নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। জার্মানির নিরাপত্তা বাহিনী এ কথা জানিয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির কেন্দ্রীয় অপরাধ দপ্তরের তদন্তকারীরা ২১ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারীর পরিচয় পেয়েছেন। তিনি কসোভোর নাগরিক। অনেক দিন ধরে তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টে বসবাস করছেন। কট্টরপন্থী মুসলমানদের সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।
হামলার পরই বন্দুকধারীকে ২ নম্বর টার্মিনালের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে ‘নিষ্ঠুর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনায় অযথা সময় নষ্ট না করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো হামলাকারী বিচারের ঊর্ধ্বে নয়।
খবরে বলা হয়, ওই তরুণের ফেসবুকের সঙ্গে মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় ব্যবহূত ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মার্কিন সেনাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশের মুখপাত্র ম্যানফ্রিড ফুয়েলহার্থ বলেন, নিহতদের একজন ওই বাসের চালক, অপরজন যাত্রী। আহত দুজনের একজন সামান্য আহত হলেও অপরজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

মার্কিন নাগরিকের বিচার চালিয়ে যেতে আদালতের নির্দেশ

পাকিস্তানে দুই নাগরিককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক রেমন্ড ডেভিসের মুক্তির বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি আদালত। লাহোরের কোট লাখপাট জেলখানায় বসানো বিশেষ আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র রেমন্ড ডেভিসকে তাঁদের একজন কূটনীতিক বলে দাবি করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ডেভিসের কূটনৈতিক রক্ষাকবচ (ডিপ্লোম্যাটিক ইম্যুনিটি) রয়েছে। এ কারণে পাকিস্তান নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিচার হতে পারে। তবে গতকাল পাকিস্তানের ওই নিম্ন আদালত বলেছেন, ডেভিস নিজেকে কূটনৈতিক রক্ষাকবচধারী কর্মকর্তা বলে দাবি করলেও তিনি তাঁর দাবির সমর্থনে উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি।
পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলারে নিয়োজিত রেমন্ড ডেভিস গত ২৭ জানুয়ারি লাহোরের একটি জনাকীর্ণ রাজপথে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যা করেন। তাঁকে সাহায্য করতে তাঁর সহকর্মীরা একটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। ডেভিসকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় ওই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে আরও এক পাকিস্তানির মৃত্যু হয়। ডেভিসের দাবি, তাঁর গুলিতে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁরা দুজনই ডাকাত ছিলেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি গুলি চালাতে বাধ্য হন। এ ঘটনার পর থেকেই ডেভিসকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর চাপ দিয়ে আসছে। ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিস আসলে পাকিস্তানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন।
ডেভিসের দাবি, তাঁর কূটনৈতিক রক্ষাকবচ রয়েছে। এ দাবি করে তিনি আদালতে পিটিশনও করেছেন। সত্যিই তাঁর সে রক্ষাকবচ আছে কি না, পাকিস্তানের উচ্চ আদালত সে বিষয়ে আগামী ১৪ মার্চ রায় দেবেন।
লাহোরের আদালত গতকাল মামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত বিচারকাজ মুলতবি ঘোষণা করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আসাদ মঞ্জুর বাট এএফপিকে বলেন, রক্ষাকবচ থাকার দাবি করলেও দাবির স্বপক্ষে ডেভিস প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাই আদালত তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

লিবিয়ার সম্পদ ও অর্থের পরিমাণ বিশ্বে সর্বোচ্চ

বিশ্বের মধ্যে লিবিয়ার সম্পদ ও নগদ অর্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। গত বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। উচ্চমানসম্পন্ন অশোধিত তেলের মজুদ লিবিয়াকে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ ২০০৩ সালে লিবিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর দেশটির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ছয় হাজার কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের মধ্যে লিবিয়ার বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের (এলআইএ) তহবিলের পরিমাণ সর্বোচ্চ। এ ছাড়া লিবিয়া তার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক ব্যাংকের মাধ্যমেও বিনিয়োগ করে থাকে।
গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে লিবিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে তিন হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার জমা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ চলতি সপ্তাহের শুরুতে লিবিয়ার এসব অর্থ জব্দ করার ঘোষণা দেয়।
সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক লেহম্যান ব্রাদার্সে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে লিবিয়া। ব্যাংকটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর লিবিয়া ক্ষতিপূরণের জন্য আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
২০০৯ সালে কানাডার তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ভেরানেক্স এনার্জি ৩২ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নেয় লিবিয়া।
ইতালির বিভিন্ন কোম্পানি যেমন: তেল কোম্পানি ইনি, প্রতিরক্ষাবিষয়ক কাজের জন্য বিশেষ প্রতিষ্ঠান ফিনমেক্কানিকা ও ইউনিক্রেডিট এবং ইতালির বৃহত্তম ব্যাংকে এলআইএর বিনিয়োগ রয়েছে। ইতালির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব জুভেন্টাসের সাড়ে সাত শতাংশ মালিকানা এলআইএর। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কোম্পানি পিয়ারসন ও ব্রিটিশ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইনের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মালিকানা রয়েছে আইএলএর।

বিভিন্ন সেবা খাতের ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহারের দাবি

দেশীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁর সেবা এবং কুরিয়ারসহ সেবা খাতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই দাবি জানানো হয়।
গতকাল দুটি আলোচনা হয়। প্রথম সভায় সেবা খাত এবং দ্বিতীয় সভায় বন্ড সুবিধাবহির্ভূত খাতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এনবিআর। দুটি সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি জানান, দেশীয় হোটেল-রেস্তোরাঁর সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থের ৪০ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপিত আছে। নিট মূসকের হার দাঁড়ায় ৬ শতাংশ। কিন্তু দেশি রেস্তোরাঁয় মাছ-মাংস, চাল-ডাল, তেল-লবণসহ সবকিছু মূসক পরিশোধ করেই বাজারে আসে। তাই দেশি রেস্তোরাঁর সেবার ওপর মূসক প্রত্যাহার করা উচিত।
ওসমান গনি আরও জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন সব ধরনের রেস্তোরাঁর ওপর সমাহারে মূসক আরোপিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়, এমন রেস্তোরাঁর ওপর মূল্য সংকোচনের ভিত্তিতে মূসক আরোপ করা উচিত।
কুরিয়ার সার্ভিস সমিতির প্রতিনিধি সন্তোষ চন্দ তাঁদের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূস কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন।
একই হারে মূসক আরোপের দাবি জানান বাংলাদেশ কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) প্রতিনিধি এম এ হামিদ জানান, বায়রার সদস্যদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তনের বিধান রহিত করা উচিত।
বন্ডের আওতাবহির্ভূত খাতগুলোর মধ্যে ফুল রপ্তানিকারক ও উৎপাদকেরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে ফুল উৎপাদনের জন্য শেড নেট ও সিরিন ক্লথ (বাগানের ওপর দেওয়ার জাল) ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাগানে এই জাল ব্যবহার করা হয়। এই জাল শুল্ক ছাড়াই আমদানি করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সমিতির সভাপতি আহসান উল্লাহ জানান, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ফুল রপ্তানি হচ্ছে। তাই এই সম্ভাবনাময় শিল্পের জন্য করমুক্ত সুবিধা দেওয়া উচিত।
এ প্রসঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি মোহসীনা বেগম জানান, ফুল চাষ করতে প্রয়োজনীয় আমদানীকৃত পণ্যের এইচএস কোড সুবিন্যাসিত হয়নি। ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে গবেষণা করছে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, এনবিআর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি করবান্ধব। এনবিআরের আইনগুলো যুগোপযুগী করা হচ্ছে। মূল সমস্যা হলো আইনের ব্যবহারে অদক্ষতা।

আর্থিক খাতের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ

গ্লোবাল করপোরেট গভর্নেন্স ফোরামের (জিসিজিএফ) ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস রিকভারি প্রজেক্ট (এফএমআরপি বা আর্থিক বাজার পুনরুদ্ধার প্রকল্প) এবার বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে বিশেষত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে এই প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ইয়ান ক্রসবি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গিসিগিএফের ঊর্ধ্বতন প্রকল্প কর্মকর্তা ইউনেজন এসপিরো, পরামর্শক ম্যারি জো লারসেন ও অ্যানি মুলিনাক্স এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী সভাপতি আবদুল হান্নান জোয়ারদার।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট ফারুক সোবহান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।
আজ থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষেই অনেক ভুয়া ভোটার

দেশের শিল্পমালিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন তৈরি পোশাক মালিক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের দুটি পক্ষ—সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম—ব্যাপকসংখ্যক ভুয়া ভোটার তৈরি করেছে। বছরের পর বছর ধরে এই সংগঠনের আওতাভুক্ত রুগ্ণ শিল্প নিয়ে চলেছে নির্বাচনী ‘রাজনীতি’।
যে পক্ষটি রুগ্ণ শিল্পের নামে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের পক্ষে ভোটার বানাতে সক্ষম হয়েছে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সে পক্ষের জন্য তত সহজ হয়েছে। এবারের আসন্ন নির্বাচনে বিষয়টি বিবাদের পর্যায়ে গিয়ে ঠেকায়, তা প্রকাশ পেয়ে গেছে।
ইতিমধ্যেই এক দফা নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। আগামী ২০ মার্চ নতুনভাবে নির্বাচন ঘোষণা করা হলেও তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন বোর্ডের সচিবের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, খামখেয়ালি ও একগুঁয়েমির অভিযোগ এনেছে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিজিএমইএর নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ দুটিকে ডেকে ২৫ থেকে ৪০ ভাগ ভুয়া ভোটার রয়েছে বলে উল্লেখ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু সেই সমঝোতা না মেনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খামখেয়ালি ও একগুঁয়েমির অভিযোগ এনেছে ফোরাম। নির্বাচন কমিশন সমঝোতা ভেঙে পুরো ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই না করে বিজিএমইএর দেওয়া ৯০০ কারখানার তালিকা ও ফাইল দেখে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করায় ফোরাম গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ আনে।
তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ও আপিল বোর্ড প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে নিয়ে বৈঠক করে ১০০ ভাগ ফাইল পুরোপুরি খুঁটিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে এই পর্বের খুঁটিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে।
অনুসন্ধানে বিজিএমইএর ২০১১-১২ সময়ের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক ভুয়া ভোটার থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভুয়া ভোটার হওয়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি এক যুগের বেশি সময় ধরে কারখানার অস্তিত্ব নেই, কারখানার স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে—এমন শিল্পের নামে ভোটার হওয়ারও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে ২১ জন আবেদনকারী তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে, ভোটার তালিকায় ছবি পাল্টিয়ে ভুয়া ভোটার হওয়ার অভিযোগ এনেছেন। আর অন্য সূত্রগুলো বলছে, শত শত এমনকি হাজারের ওপরে ভুয়া ভোটার রয়েছে বিজিএমইএর ভোটার তালিকায়। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের সমঝোতা বৈঠকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২৫ থেকে ৪০ ভাগ ভোটারের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে গরমিলের তথ্য জানায়।
ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় পাওয়া গেছে নানা বিস্ময়কর তথ্য। যেমন, মাহমুদুর রহমান তালিকা অনুসারে তিনটি কোম্পানির পক্ষে ভোটার হয়েছেন। এই তিনটি কোম্পানি হলো, ঢাকা ট্যাগ লিমিটেড (ভোটার আইডি ৬১৬), জেম অ্যাপারেলস লিমিটেড (ভোটার আইডি ৯১১) ও কেকেকে গার্মেন্টস লিমিটেড (ভোটার আইডি ১১৮৯)। কিন্তু বিজিএমইএর নির্বাচন কমিশনের কাছে কেকেকে গার্মেন্টসের প্রকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএম নুরুল আজিম আবেদন করে জানিয়েছেন, তাঁর অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর জাল করে এবং ছবি পরিবর্তন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকটি নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান ফোরামের সমর্থক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাহমুদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তার নম্বরটি ধরেন মার্চেনডাইজিং ম্যানেজার আরিফুর রহমান। তিনি জানান, উনি চীনে আছেন।
অন্যদিকে মাসুদ কাদের মনা দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভোটার হয়েছেন। এর একটা হলো তিভোলি অ্যাপারেলস্ লিমিডেট (ভোটার ২৪৩৮) এবং লাপিন ড্রেস লিমিটেড (ভোটার আইডি ১৩৭৮)। মাসুদ কাদের সম্মিলিত পরিষদের সমর্থক হিসেবে বিগত নির্বাচনগুলোতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, লাপিনের এমডি তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে ভোটার করেছেন। কিন্তু বিজিএমইএ নির্বাচনে ভোটারের শর্ত হিসেবে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে মাসুদ কাদেরের নাম নেই।
আবার মোহাম্মদ আলী ব্লু বার্ড গার্মেন্টস লিমিটেড ও মডার্ন গার্মেন্টস লিমিটেডের পক্ষে ভোটার হয়েছেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানে তাঁর ভোটার আইডি হলো যথাক্রমে ৩৯২ ও ১৪৫৭। মোহাম্মদ আলী জানান, ব্লু বার্ড তিনি কিনেছেন। কিন্তু কোম্পানির পরিচালক হিসেবে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে তাঁর নাম নেই ঠিকই, তবে তাঁকে কোম্পানি এমডি প্রতিনিধি হিসেবে ভোটার করেছে। তিনি সম্মিলিত পরিষদের সমর্থক।
বিজিএমইএ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাধারণ সভায় ছয় আসল মালিক ও ভুয়া ভোটার এবং তাঁদের রঙিন ছবিসংবলিত পরিচয় প্রোজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। ওপরে উল্লিখিত মাহমুদুর রহমান ছাড়া অন্যরা হলেন: এরডোওর অ্যাপারেলস্ সোর্সিং লিমিটেডের আসল মালিক সাখাওয়াত হোসেন, কিন্তু ভুয়া ভোটার হয়েছেন চৌধুরী আনোয়ারুল আজিম। ভোটার আইডি সংখ্যা ২১৭। দেওয়ান ফ্যাশনস্ ওয়্যার লিমিটেডের প্রকৃত মালিক মাহমুদা চৌধুরী, কিন্তু ভুয়া ভোটার হয়েছেন কামরুর রহমান। ভোটার আইডি সংখ্যা ৬০৯। দেওয়ান টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের আসল মালিক হলেন মো. দেওয়ান ফারুক দেওয়ান, কিন্তু ভুয়া ভোটার হয়েছেন গুইয়াম রাসেল, যাঁর ভোটার আইডি সংখ্যা ৬১০। দি চিক ওয়্যার লিমিটেডের আসল মালিক হলেন এহতেশাম চৌধুরী, কিন্তু ভুয়া ভোটার হয়েছে জহুর চৌধুরী, যাঁর ভোটার আইডি ২২৯৫। ইরান টেক্সটাইল লিমিটেডের আসল মালিক হচ্ছেন মো. মনির হোসেন, কিন্তু ভুয়া ভোটার হয়েছেন কবীর হোসেন মোল্লা, যাঁর ভোটার আইডি ১০৬২।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১ জন আসল মালিক অভিযোগ করেছেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে ছবি বদলিয়ে ভুয়া ভোটার হয়েছে। এসব আবেদন ধরেই এবারের নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ পরিষ্কার হয়ে পড়ে।
বিজিএমইএ নির্বাচন এলে প্রতিবারই রুগ্ণ শিল্প ইস্যু নিয়ে বেশ তৎপর থাকে দুই পক্ষ। এটা নির্বাচনী রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু নয়। বছরের পর বছর যেসব শিল্পের একটি টাকারও রপ্তানি নেই, কিংবা শিল্পকারখানা পরিদর্শকের প্রতিবেদন অনুসারে শিল্পের অস্তিত্ব নেই, তাঁদের ভোটার হতে দেখা যায়। জানা যায়, আসলে এসব রুগ্ণ শিল্পের ভোটার হওয়ার অর্থ জোগান দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রুপ নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একটি বড় শিল্প গ্রুপের মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, পোশাক শিল্পমালিকদের আরেকটি সংগঠন বিকেএমইএ নিয়ম চালু করেছে, বছরে একটা চালান রপ্তানি না থাকলে তিনি ভোটার হতে পারবেন না। তিনি দাবি করেন, বিজিএমইএতেও এই ব্যবস্থা চালু করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, রুগ্ণ শিল্পের রাজনীতি থেকে বিজিএমইএকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহ

বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে। আর এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটে সূচক সামান্য বাড়লেও পরে তা ১৮০ পয়েন্টের মতো কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের আগের দিনের মতো বড় ধরনের আশঙ্কা পেয়ে বসে। ফলে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
তবে এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক বাড়তে শুরু করে। এরপর একাধিকবার উত্থান-পতন দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেনের সমাপ্তি ঘটে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ১৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪২৮ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মূল্যসূচক ৩৬৮ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩২৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ঋণ সমন্বয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে বিক্রি বা ফোর্সড সেল না করার দাবির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ানোর সুপারিশের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।
তবে এর আগে অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের দোদুল্যমানতাও ছিল। সম্ভবত সেই কারণেই শুরুতে সূচক কিছুটা বাড়লেও পরে কমতে শুরু করে। কিন্তু আইসিবি সমর্থন দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আস্থা ফিরে পান। এতেই আবার সূচক বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গতকাল সূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অন্য দিনগুলোর মতো একসঙ্গে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতা বা ক্রেতাশূন্য হয়ে না পড়াটা ছিল ভালো লক্ষণ। এভাবে কিছুদিন চললে বাজার আবার স্বাভাবিক গতিধারা ফিরে পাবে বলে তাঁরা মনে করেন।
ডিএসইতে গতকাল মোট ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৫টির, কমেছে ৪৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের। আর লেনদেন হয়েছে ৫০৩ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ৮৮ কোটি টাকা কম।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৪টির, কমেছে ৪২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট ৭৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

স্বপ্নপূরণের পথে আবাহনী

সাত মিনিটের এক প্রামাণ্যচিত্র বড় পর্দায় তুলে ধরল ক্রীড়াসংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজসেবী শেখ কামালকে। আবাহনীর প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতার দুই বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা সেলুলয়েডের দিকে তাকিয়ে স্মৃতিকাতর হলেন, অশ্রুসিক্ত হলেন। আবাহনী ক্লাবে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের আগের ঘটনা এটি।
উদ্যোগটা অনেক আগেই নিয়েছিল আবাহনী। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালের নামে একটি অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি নানা কারণে। শেষ পর্যন্ত সেটি হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কাল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন শেখ কামালের ছোট বোন শেখ রেহানা। ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আবাহনী ক্লাব ভবন, সামনের ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ এবং সামনের জিমনেসিয়ামসহ প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হবে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স। প্রশাসনিক ভবন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ডরমিটরি, সুইমিংপুল, কনভেনশন সেন্টার, টেনিস কোর্ট, ফুটবল, ক্রিকেট মাঠসহ সব সুযোগ-সুবিধা রেখে একটি অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরিই আবাহনীর লক্ষ্য। কর্মকর্তাদের আশাবাদ, টানা ৭ মাস কাজ করলে এটি আলোর মুখ দেখবে।

কেমন হবে উইকেট

আইসিসির পরামর্শ, বিশ্বকাপের জন্য বানাতে হবে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট। বোলারদের দীর্ঘশ্বাস পড়ুক, উইকেট যেন ব্যাটসম্যানদের হয়ে কথা বলে বেশি। কিন্তু গত দুই ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট হলো দুই রকম। এক ম্যাচের উইকেট দেখাল রানবন্যা, আরেক ম্যাচের উইকেট ব্যাটিং-দুরূহ। এর মানে এমন না যে উইকেটটা বোলারদের ছিল। ওই উইকেট আসলে কাদের দিকে হাত বাড়াল সেটাই বোঝা যায়নি। ব্যাটসম্যানরা রান পেলেন না, স্পিনাররা পেলেন না প্রত্যাশিত টার্ন।
বাংলাদেশ দলের মূল শক্তি যেহেতু স্পিন, উইকেট থেকে টার্ন না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ কোচ জেমি সিডন্স। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজকের ম্যাচের আগে তাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ‘উইকেট কেমন হবে’ প্রশ্নটা। এ ব্যাপারে মাঠের কিউরেটর বদিউল আলম কিছু না বললেও জানা গেছে, উইকেট যাতে স্পিনারদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ায়, সে ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। সাকিব-রাজ্জাকদের কথা ভেবে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের তিন নম্বর উইকেটটাকে লো-টার্নিং বানানোর চেষ্টা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের জন্য। আগে ব্যাট করলে ২৫০ রানকে ধরা হচ্ছে জয়ের জন্য আদর্শ।
এসবই অনুমান। উইকেট সম্পর্কে শেষ কথাটা সম্ভবত বলতে পারেন না উইকেটের কিউরেটরও।

‘আইরিশ শিক্ষা’য় সতর্ক স্যামি

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এটা পরশু রাতের ঘটনা। কাল দিনভর সবখানেই চলল ওই ম্যাচ নিয়ে কাটাছেঁড়া। আয়ারল্যান্ডের জয় কি কোনো বার্তা দিল?
বার্তা তো অবশ্যই। ড্যারেন স্যামিও তা-ই মনে করেন। এটা যে তাঁকে উজ্জীবিত করেছে, সেটি কাল সংবাদ সম্মেলনে বোঝালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক, ‘এই অঘটন প্রমাণ করে ক্রিকেট একটা নির্দিষ্ট দিনের খেলা। এটা সবার জন্যই একটা শিক্ষা। ভালো ক্রিকেট যারাই খেলবে, জয় তাদেরই। কাজেই আপনি কোনো দলের বিপক্ষেই জয়টাকে প্রাপ্য বলে ধরে নিতে পারেন না।’
আপাতদৃষ্টিতে হয়তো ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য করেই কথাটা বলেছেন স্যামি। কিন্তু পরোক্ষে আঙুলটা কি বাংলাদেশের দিকে তুললেন না? আজ যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। তবে এই ফেবারিট তত্ত্বে একমত নন স্যামি। ফেবারিট তত্ত্বটা মাঠের বাইরেই আছড়ে ফেললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
তবে বাংলাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানতে দ্বিধা নেই তাঁর। সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দুঃস্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার পর গলার স্বরটা যথাসম্ভব নিচুই রইল তাঁর, ‘আমরা বাংলাদেশের দুটি ম্যাচই দেখেছি। অবশ্যই তারা লড়াকু দল। বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে, আমাদের অবশ্যই তাদের সিরিয়াসলি নিতে হবে।’
কিন্তু বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ! ওটা সামলাবে কীভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? স্যামিকে এবার নড়েচড়ে বসতে হলো, ‘অবশ্যই তারা নির্ভর করবে স্পিনের ওপর। ব্যাটিংয়েও দলটি আত্মবিশ্বাসী। তবে যেভাবে খেলা দরকার, সেভাবেই আমরা খেলব। স্পিন হোক আর পেস, আমাদের সিরিয়াসলি নিতে হবে।’
প্রসঙ্গ পাল্টায়। স্যামির চোখেমুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। গত ম্যাচে হল্যান্ডকে ২১৫ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রাভো না থেকেও দলের জন্য প্রেরণা হয়ে আছেন। সেই প্রেরণা, গত ম্যাচের পারফরম্যান্স, সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক তাকাচ্ছেন সামনে, ‘হল্যান্ড ম্যাচটা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’
স্যামির হাতে ক্রিস গেইলের মতো একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান আছেন। গেইলের কাছে তাঁর প্রত্যাশাও অনেক, ‘তার ওপর আমার পুরো আস্থা আছে। সে উইকেটে থাকলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। শেষ ম্যাচে সে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছে।’ প্রশংসা করেছেন আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা পেসার কেমার রোচেরও।
উইকেট নিয়ে কোনো চিন্তা? স্যামির উত্তর, ‘না’, কেননা উইকেটকে তাঁর ‘ভালোই মনে হয়েছে’।

নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের ‘বড়’ ম্যাচ

ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, না রেমন্ড প্রাইস—কে বড় মাপের স্পিনার? ভেট্টোরি অনেক দিন ধরেই বিশ্বের সেরা স্পিনারদের একজন। তাঁর সঙ্গে প্রাইসের তুলনা চলে? চলে। পরিসংখ্যান, মানকে দূরে ঠেলে কখনো কখনো ‘বর্তমান’ বড় হয়ে উঠে। বর্তমান শুধু তুলনাই টেনে আনছে না, আজ আহমেদাবাদে যখন মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে, ভেট্টোরির চেয়ে বরং প্রাইসই এক ধাপ এগিয়ে।
সমান দুই ম্যাচে প্রাইস নিয়েছেন ৪ উইকেট, ভেট্টোরি উইকেট পাননি একটিও। তার চেয়েও বড় কথা, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা দুই ম্যাচেই প্রাইস এক প্রান্তে বোলিং সূচনা করেছেন। এবং সফল। ভেট্টোরি তাই ধরেই নিয়েছেন আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই স্পিনের মুখোমুখি হতে হবে তাঁদের। ভেট্টোরি-প্রাইসের তুলনা টানার কারণ, দুজনের ওপরই নির্ভর করছে নিজ নিজ দলের ভাগ্য।
দুই দলেরই পয়েন্ট ২। এমনও হতে পারে এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ওপরই নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ড, নাকি জিম্বাবুয়ে—কে উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। ভেট্টোরি নিজেই ম্যাচটির গায়ে সেঁটে দিয়েছেন ‘জিততেই হবে’ তকমা।
প্রাইস, ক্রেমার, উতসেয়া—তিন স্পিনারই জিম্বাবুয়ের বোলিং ভরসা। ভেট্টোরি ভেবেই রেখেছেন জিম্বাবুয়ে তাদের জন্য স্পিনের পসরা সাজিয়ে রাখবে, ‘অস্ট্রেলিয়া আমাদের আক্রমণ করেছিল পেস দিয়ে। এই ম্যাচে প্রচুর স্পিন দেখতে যাচ্ছি আমরা। প্রাইস শুরুতে ভালো করছে। আমরাও এর জন্য প্রস্তুত।’ শিষ্যদের প্রতি কোচ জন রাইটের উপদেশ, ৩৫ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেটের বেশি হারানো যাবে না কিছুতেই। সেটা পারলে স্কোর ২৮০-৩০০ হওয়া সম্ভব।
শুরুতেই স্পিন দিয়ে সাজানো জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। প্রস্তুত প্রাইসও, ‘আমি সব সময়ই বল করতে উন্মুখ। শুরুতে না শেষে, সেটা কোনো বিষয় নয়। এটা হবে আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বড় শট খেলে।’
প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড, প্রস্তুত জিম্বাবুয়েও। যদিও ইতিহাস জিম্বাবুয়েকে আশাবাদী করে না। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৫ সাক্ষাতের ৪টিতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড, একবার হয়েছে টাই। জিম্বাবুয়ে কি পারবে ইতিহাস বদলে দিতে? এএফপি, ওয়েবসাইট।

ম্যাচের আগে অনেক হিসাব

আউটডোরের নেটে ব্যাট করে ইনডোরে যাচ্ছেন বোলিং মেশিনের সামনে দাঁড়াতে। প্র্যাকটিসে এত যাঁর ক্ষুধা, সেই তামিম ইকবাল নাকি কালও ব্যাটিংয়ের সময় হাতে ব্যথা অনুভব করেছেন! অবিশ্বাস করার উপায় নেই। মাঠের বাইরে থাকার প্রায় পুরো সময়টাই তো চোটের জায়গায় চেপে রাখছেন আইসব্যাগ!
অনুশীলন শেষ করে দুপুরে টিম বাসে ওঠার সময়ও একই দৃশ্য, হাতে আইসব্যাগ চেপে ধরা। কিন্তু মুখে আত্মবিশ্বাস, ‘খেলতে সমস্যা হবে না আশা করি।’ টিম ম্যানেজমেন্ট তামিমের কথায় পুরো আস্থা রাখছে বলে মনে হচ্ছে না। কোচ জেমি সিডন্স নইলে কেন প্রস্তুত থাকতে বলবেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীসকে! আজ সকালে যদি তামিমের খেলার মতো অবস্থা না থাকে, তাহলে দলে ঢুকে যাবেন শাহরিয়ার। তবে ওপেনার হিসেবে নয়, তিন নম্বরে। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে নামবেন জুনায়েদ সিদ্দিক। টপ অর্ডারে এই অদল-বদলটা প্রয়োজন হবে না তামিম খেললে। যত দূর জানা গেছে, খুব বেশি সমস্যা না হলে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটা খেলে ফেলতে পারেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
দলে এই একটা অদল-বদলই ঘটতে পারে আজ। নইলে সাত নম্বরে মোহাম্মদ আশরাফুলকে রেখেই করা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের একাদশ। কাল সংবাদ সম্মেলনে সাকিব অবশ্য ১২ জনের দল জানালেন। ১২তম খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ। ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আছেন কয়েকজন। যদি ওনাকে (মাহমুদউল্লাহ) নিই, উনি হয়তো পাওয়ার প্লেতে বল করতে পারেন। তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি’—সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তামিমের সমস্যাটুকু বাদ দিলে আজকের ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ ছাড়া আর কিছু নিয়েই ভাবছে না বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য পূরণে যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটা! যদিও সাকিব বলেছেন, ‘এমন না যে ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের ভালো খেলতে হবে। জিতলে সেটা হবে খুবই ভালো। তাতে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে।’
মিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছে না বলে হতাশা আছে কোচ জেমি সিডন্সের। তবে সাকিবের দর্শন এখানে ভিন্ন, ‘উইকেট নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে। আমি চাই না এত বেশি আলোচনা হোক। উইকেট যেমনই হোক, সেটা দুই দলের জন্যই সমান। এমন না যে আমাদের সময় বল বেশি ঘুরবে, ওদের সময় ঘুরবে না। কাজেই এ নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে মনে হয় না।’
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক ধাপ ওপরে বাংলাদেশ। দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হওয়ার স্মৃতিটাও বাংলাদেশের জন্য সুখপ্রদ। নিজেদের মাঠের বিশ্বকাপ ম্যাচে, তাই বাংলাদেশকে ফেবারিটও বলে দেওয়া যেতে পারে। সাকিব অবশ্য ২০০৯-এর সিরিজ জয়ের সঙ্গে মেলাতে চাচ্ছেন না আজকের ম্যাচটিকে, ‘ওদের দলে এখন কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় আছে যারা ওই সিরিজে ছিল না। তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার সম্মিলনে ওরা ভালো দলই। জিততে হলে আমাদের সেরা খেলাই খেলতে হবে।’ তবে মনের কোণে ২০০৯ যে একেবারেই নেই তা নয়, ‘... যতই ওদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা আসুক, মনে কিন্তু ব্যাপারটা আসে যে গত সিরিজে আমরা ওদের দেশে গিয়ে ওদের হারিয়ে এসেছি। সিনিয়ররা ফিরে আসায় দলটা হয়তো এখন শক্তিশালী, তবে এবার আমাদের হোম কন্ডিশনে খেলা...এই জিনিসটাই অন্য সব পার্থক্য ঘুচিয়ে দেবে আশা করি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের পর ‘বি’ গ্রুপের পরিস্থিতিটা কী দাঁড়াল, সাকিব এখনই মাথা ঘামাতে রাজি নন সেটা নিয়েও, ‘আয়ারল্যান্ডের জয় “বি” গ্রুপের লাইনআপ বদলে দিয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের সুযোগ এখন সবার জন্যই সমান হয়ে গেছে। তবে আমি বলব, আমাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডের জয় আর কীভাবে আমাদের সাহায্য করবে, আমি জানি না।’
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একটা বিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে সাকিবের দল। বিশ্বাসটা নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি। অন্যের ব্যর্থতার ছিদ্রপথ দিয়ে আসা সাফল্যের আলো দেখার চেয়ে আলোটা জ্বালাতে চান নিজেরাই। আয়ারল্যান্ডের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও জ্বলবে সেই আলো?

আফ্রিদির বিশ্ব রেকর্ডে পাকিস্তানের স্বস্তি

চাইলে কূটনীতির আড়ালে চাপা দিতে পারতেন। কিন্তু সাকিব আল হাসানের মতো না হলেও মনের কথাগুলো বেশির ভাগ সময় বলে ফেলেন শহীদ আফ্রিদিও। কাল যেমন স্বীকার করলেন, ১৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর গত বিশ্বকাপের আয়ারল্যান্ড ম্যাচটার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল তাঁর। কানাডা কাল এমনই কাঁপিয়ে দিয়েছিল তাঁদের!
কী বলা যায় একে? গত বিশ্বকাপের আয়ারল্যান্ড, গত পরশুর আয়ারল্যান্ড, সব মিলিয়ে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হচ্ছে ‘আয়ারল্যান্ড-প্রভাব’। প্রথম দুই ম্যাচে যাচ্ছেতাইভাবে হারল যে দল, যাদের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার ম্যাচের আগের দিন প্রকাশ্যে বলেন, দলের মনোবল একদম ভেঙে গেছে, ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে পাওয়া চোটে খেলতে পারলেন না সেই ক্রিকেটারও। সেই দলটিই কিনা রাতারাতি বদলে গেল!
হ্যাঁ, রাতারাতিই। আগের রাতে আয়ারল্যান্ড প্রতিবেশীদের বিপক্ষে যেভাবে ফায়ারল্যান্ড (অগ্নিভূমি) হয়ে গেল, তাতে উদ্বুদ্ধ না হয়ে উপায় আছে! ম্যাচের তিন ভাগজুড়েই মনে হচ্ছিল আয়ারল্যান্ড-প্রভাবের তোড়ে পাকিস্তানকে ভাসিয়ে দেবে কানাডা। কিন্তু বহুজাতিক দলটি খেই হারিয়ে ফেলল আসল সময়েই। এক ভাগ জিতেই ম্যাচ ৪৬ রানে জিতে নিল পাকিস্তান। জেতালেন আসলে আফ্রিদি। আগের দু ম্যাচে ৫ ও ৪ উইকেট, কাল আবার ৫ উইকেট। ছুঁয়েছেন টানা তিন ম্যাচে ৪ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বরেকর্ডে সঙ্গী আরও ছয়জন, আফ্রিদির কোচ ওয়াকার ইউনুস নিয়েছেন তিনবার। তবে বিশ্বকাপে এই কীর্তি একমাত্র আফ্রিদিরই!
কালকের ১৮৪ সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তানের এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। সর্বনিম্ন? আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩২! শুধু আফ্রিদির নয়, আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা তাই পাকিস্তান দলের সবারই মনে পড়ে যাওয়ার কথা। যোগ্য নেতার মতোই সবার ভয় দূর করলেন আফ্রিদি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের কনিষ্ঠতম উদ্বোধনী জুটিকে (নিতীশ ১৬ বছর, ১৯ গুনাসেকেরা!) ১৬ রানের মধ্যে হারানোর পর জুবিন সুরকারিকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছিলেন আশিস বাগাই। প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আফ্রিদি।
এরপর সুরকারি জিমি হান্সরাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৬০ রানের জুটি, জয় যেন দেখতে পাচ্ছিল কানাডা। পাকিস্তানের বোলিং ফিল্ডিংকেও যেন মনে হচ্ছিল একটু এলোমেলো। আবারও ত্রাতা হয়ে আফ্রিদি! সুরকারিকে আউট করে জুটিটা ভাঙেন সাঈদ আজমল। বাকি কাজটা বলতে গেলে একা সেরেছেন আফ্রিদি। টানা তিন ওভারে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাঁর গতিসমৃদ্ধ বলগুলোর জবাব ছিল না কানাডিয়ানদের। কোটার ১০ ওভার শেষ হওয়ার পর সরাসরি থ্রোতে রান আউট করছেন বালাজি রাওকে। ৩ উইকেটে ১০৪ থেকে কানাডা শেষ ১৩৮ রানেই।
ম্যাচের শুরুতে কানাডার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল কলম্বোর আকাশ আর প্রেমাদাসার উইকেট। কিন্তু ওদিকে যে জয়ের ক্ষুধা নিয়ে ছিলেন একজন আফ্রিদি!

জিম্বাবুয়ের অনুপ্রেরণা আয়ারল্যান্ড

সদ্যই কথাবার্তা উঠছিল সহযোগী দেশগুলোকে ছাড়াই বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর আয়োজনের। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছিল নানামুখী বিতর্ক। এর মধ্যেই হটফেভারিট ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে বিতর্কটাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আয়ারল্যান্ড। ছোট দলগুলোও যে বিশ্বকাপে উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়াতে পারে, সেটা আইরিশরা বেশ ভালো মতোই প্রমাণ করেছে। শুধু তা-ই না, তারা চরমভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বিশ্বকাপের ‘চুনোপুঁটিদের’। তার প্রমাণও পাওয়া গেল গতকালের পাকিস্তান-কানাডা ম্যাচে।
যে কানাডা প্রথম দুই ম্যাচে বিশাল ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল, তাদের বিপক্ষে জয় পেতেও রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে পাকিস্তানকে। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বল হাতে জ্বলে না উঠলে হয়তো আরও একটা স্মরণীয় অঘটনের সাক্ষী হতো এবারের বিশ্বকাপ। শুধু কানাডা বা হল্যান্ডই না, আয়ারল্যান্ড বীরত্বে উজ্জীবিত হয়েছে টেস্ট খেলুড়ে জিম্বাবুয়েও। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তারাও শক্তি নিচ্ছে আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে।
জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ডকে হারালে সেটা অঘটন বলে গণ্য হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। তবে এটা সত্যি যে হিথ স্ট্রিক, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্রান্ড ফ্লাওয়ার আমলের সেই লড়াকু জিম্বাবুয়ে এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে গেছে। দলে উল্লেখযোগ্য কোনো তারকা ক্রিকেটারও এখন আর নেই। বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয় পেতে এখন জিম্বাবুয়ের দরকার অতি-অসাধারণ কোনো পারফরমেন্স। আর সে জন্য কেভিন ও ব্রায়েন, জন মুনিদের বীরোচিত কীর্তিগুলো স্মরণ করেই আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা বলেছেন, ‘ক্রিকেটে, খেলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসলে কিছুই বলা যায় না। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আইরিশ খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত লড়াইটা দেখে আমাদের খুবই ভালো লেগেছে। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’
আয়ারল্যান্ডের পারফরমেন্স দাগ কেটেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের মনেও। এমনিতেও হয়তো জিম্বাবুয়েকে খুব হেলাফেলা করত না কিউইরা। কিন্তু এখন তারা আরও গুরুত্ব দিয়েই দেখছে জিম্বাবুয়েকে। কিউই সহ-অধিনায়ক রস টেলর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘গত রাতে, আমরা আয়ারল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখেছি। তারা যেকোনো বড় দলের বিপক্ষে অঘটন ঘটাতে পারে। আমি জিম্বাবুয়েকে মোটেই দুর্বল দল হিসেবে দেখি না। তাদেরকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

‘কমপক্ষে ২৫০ রান প্রয়োজন

শুরুতেই বাংলাদেশের চার উইকেট নেই। তামিম, ইমরুল, মুশফিকুর, ও জুনায়েদ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত গেছেন। এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দল কতটুকু কি করতে পারবে সেটা নিয়ে দর্শকদের মনে শঙ্কা থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার কিন্তু এখনই হতাশ হতে চান না। তিনি বলেন সাম্প্রতিক সময়ে শুরুতে উইকেট পড়লেও বাংলাদেশ ভালো স্কোর করে দেখিয়েছে। তাই আমি আশাবাদী ইনিংস শেষে বাংলাদেশ একটি লড়িয়ে স্কোরই দাঁড় করাবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কাবু করতে হলে এই উইকেটে কমপক্ষে ২৫০ রান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। হাবিবুল বাশার মনে করেন, প্রাথমিক বিপর্যয়ের পরেও এই রান স্কোর বোর্ডে তোলা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে সাকিবের ওপর দায়িত্ব অনেক। আশা করি সাকিব, রকিবুল ও অন্যান্যরা মিলে বাংলাদেশের বিপর্যয় সামাল দিয়ে একটি ভালো সংগ্রহের দিকে দলকে নিয়ে যেতে পারবে।