Monday, February 7, 2011

মাশরাফি ‘আনফিট

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে যতই ১০ ওভার বল করুন আর পুরো ৫০ ওভার মাঠে থাকুন, জেমি সিডন্সের ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ এখনই পাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা। জাতীয় দলের কোচের চোখে তিনি এখনো ‘আনফিট’!
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অনুশীলনে কাল হাজির হয়েছিলেন মাশরাফিও। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মাশরাফিকে আগামীকাল থেকে অনুশীলনে আসতে বলেছেন কোচ। কিন্তু মাশরাফির জন্য সেই অনুশীলনটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হবে না, হবে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই। অনুশীলন শেষে কোচের বক্তব্যেই সেটা পরিষ্কার, ‘বিশ্বকাপের আগে যদি সে ফিট হয়, তাহলে ভালো। তবে এ মুহূর্তে তাঁর পুনর্বাসন চলছে। আমার সব চিন্তা দলে থাকা ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়েই।’
আর মাশরাফি যেহেতু এই ১৫ ক্রিকেটারের বাইরে, কোচের হিসাব-নিকাশে তিনি নেই, ‘দলে তিনজন ফাস্ট বোলার আছে। দলের বাইরে যারা আছে তাদের নিয়ে আমি চিন্তিত নই। মাশরাফি আনফিট। তাকে নিয়ে এ মুহূর্তে ভাবছি না।’ কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ কোনো সমস্যা ছাড়াই খেলে আসার পরও মাশরাফি আনফিট! কোচের ব্যাখ্যা, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ক্লাব ক্রিকেটের অনেক পার্থক্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা অন্য খেলা।’
মাশরাফি যে ম্যাচ ফিট, সে ব্যাপারে কোচের সন্দেহ থাকারই কথা। খবর তিনি পেয়েছেন লোকমুখে আর পত্রিকা পড়ে। মাশরাফির মতো একজন খেলোয়াড় ইনজুরি থেকে ফিরে দেড় মাস পর খেলতে নামলেও পরশু ফতুল্লা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন মনে করেননি জাতীয় দলের ফিজিও মাইকেল হেনরি।
তাহলে এখন কী করতে হবে মাশরাফিকে? মাশরাফির বিশ্বকাপ খেলার জন্য যে একটা পথই খোলা, সেটা আবার মনে করিয়ে দিলেন সিডন্স, ‘মাশরাফিকে পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে হবে এবং সেটা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আশা করি, সে বিশ্বকাপের আগে ফিট হবে। এরপর অপেক্ষা করতে হবে কারও রিপ্লেসমেন্ট হওয়ার জন্য।’
মাশরাফি না থাকলেও বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করে দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন সিডন্স। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে যে বড় দলগুলো আছে, সেগুলোকে যে ‘তথাকথিত ভালো দল’ই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ কোচের কাছে, ‘আমাদের বিশেষ কিছু করতে হবে। কারণ গ্রুপের অন্য দলগুলোকে আমাদের চেয়ে ভালো দল বলা হয়ে থাকে, কাজেই আমাদের ভালো খেলতে হবে।’

মোবারকবিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্যোগ by রবার্ট ফিস্ক

গত শুক্রবার তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা নতুন সামরিক বেষ্টনীর ভেতরে কাটাল। দাঙ্গাবিরোধী সৈন্য আর কাঁটাতার দিয়ে তাদের ঘিরে রাখা হলো। বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন এই ব্যবস্থাই চেয়েছিল। এর মধ্যেই হোসনি মোবারকের উচ্ছেদপ্রত্যাশী হাজার হাজার মিসরীয় প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিল। ৩০ বছরের দুর্নীতিপরায়ণ শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী গণবিক্ষোভের প্রথম রাজনৈতিক উদ্যোগ এটি।
কদিনের পথযুদ্ধে ভাঙা পাথরের টুকরো ও আবর্জনার মধ্যে নোংরা ফুটপাতে বসে তারা ২৫ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এক তালিকা তৈরি করেছে, যাঁরা নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নতুন সংবিধান তৈরির আলোচনা করবেন। তালিকায় নাম এসেছে আরব লীগের মহাসচিব আমর মুসা; নোবেলজয়ী আহমেদ জুওয়াইল (এই মিসরীয় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ছিলেন); মোহাম্মদ সেলিম আল-আওয়া (অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে বহু গ্রন্থপ্রণেতা, মুসলিম ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ) ও ওয়াফদ পার্টির সভাপতি সাইদ আল-বাদাবির। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: কায়রোর নামকড়া ব্যবসায়ী নাগিব সুয়েজ (গত সপ্তাহে মোবারকের বন্ধ করে দেওয়া মোবাইল ফোন-ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত); জাতিসংঘে মিসরীয় প্রতিনিধি নাবিল আল-আরাবি ও হার্ট সার্জন মাগদি ইয়াকুব।
এসব ব্যক্তিকে বাছাই আর তাহরির স্কয়ারের বিক্ষোভকারী ও ফেসবুক-টুইটার ‘নির্বাচকদের’ অস্থায়ী কমিটি গঠনের ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানের ঘৃণিত প্রেসিডেন্টকে উচ্ছেদের পর ভবিষ্যৎ কেমন হবে, সেই দিশার সন্ধানে এটা সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদকে রাজনৈতিক পথে পরিচালিত করার প্রথম আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রস্তাবিত কমিটির প্রথম দায়িত্ব হবে মিসরের নতুন সংবিধান তৈরি ও নির্বাচনের নতুন ব্যবস্থা খাড়া করা, যা জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে মোবারকের আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকার জোচ্চুরি থেকে রেহাই দেবে। বর্তমানের নিয়ম বদলে এমন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কোনো প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ পরপর দুই দফা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন আর প্রতি দফার মেয়াদ ছয় থেকে কমিয়ে চার বছর করা হবে।
এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সন্দেহাতীতভাবে জানে যে সাহসী এই কাজকে সুনির্দিষ্ট রাজনীতিতে নিয়ে আসতে না পারলে ভবিষ্যৎ ভীষণ অন্ধকার। তাহরির স্কয়ারে রাতের বেলা আরও কিছু অনিষ্টকর ঘটনা ঘটেছে—মারা গেছেন এক প্রকৌশলী, এক আইনজীবী ও এক তরুণ। আবারও সাদা পোশাকে পুলিশের সন্ধান মিলেছে। দিনের বেলা বিপুল সেনা উপস্থিতি সত্ত্বেও পাথর নিক্ষেপের ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটেছে। আর বেশির ভাগ বিক্ষোভকারী আতঙ্কে রয়েছে যে স্কয়ার ছেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে, তাদের পরিবারও বাদ যাবে না। মোবারকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাযন্ত্র এর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।
যেসব বিক্ষোভকারী বাড়ি ফিরে গিয়েছিল, তাদের অনেকের আর হদিস না পাওয়ার খবর আসছে। কমিটি-বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়া মিসরীয় লেখক মোহাম্মদ ফাদেল ফাহমির কথায় আতঙ্কের আভাস পাওয়া যায়, ‘যতক্ষণ এই স্কয়ার আমাদের, ততক্ষণ আমরা নিরাপদ।’ এ কথা বলে তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন, আমি যেন তাঁর নাম লিখি—তাঁর কাঙ্ক্ষিত মুক্তির প্রতীক হিসেবে: ‘এই স্কয়ার আমাদের হাতছাড়া হলে মোবারক সব বিরোধী গোষ্ঠীর ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করবেন। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়ানক পুলিশি শাসন কায়েম হবে। তাই নিজেদের জীবনের জন্যই এ লড়াই।’
কারা টেলিভিশনে ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিংবা সংবাদপত্র, ফেসবুক বা টুইটারে লিখেছেন, তাঁদের এক লম্বা তালিকা এখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পুলিশের হাতে।
বিক্ষোভকারীরা নজর রাখছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পান্ডাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান বিভক্তির ওপর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রক্ষীদের সঙ্গে তিন দিন আগে সেনাসদস্যদের গুলিবিনিময় হয়। ভূগর্ভস্থ নির্যাতনকক্ষগুলো তখনো তাদের দখলে আর রাজপথের লড়াইয়ে অক্ষত রয়ে গেছে। আমেরিকা প্রেরিত বন্দীদের এসব কক্ষেই ‘বিশেষ’ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হতো। মোবারকের অধিকতর ধর্ষকামী নির্যাতকেরা যাতে নির্বিঘ্নে বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালাতে পারে। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে মিসরীয় শাসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বস্ত’ মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
কমিটি নির্বাচনে জড়িত আরেক তরুণ বললেন, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ওমর সুলেইমানকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও অতীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে এই সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করেছেন মোবারক। সুলেইমানই সেই ব্যক্তি, যিনি পুরো সংকটের দায় বিদেশি গণমাধ্যমের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর ক্ষমতার প্রথম প্রকাশই কলুষতা ও অসততায় ভরা। তবে তাহরির স্কয়ারের বিক্ষোভকারীদের সামরিক নিরাপত্তা প্রদান করে বেশ চতুরতার সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের কৌশলে পরাভূত করলেন।
শুক্রবার সকালে আমরা যারা স্কয়ারের পশ্চিমাংশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তাদের সবাইকে স্তম্ভিত করে কালো কাচের গাড়িবহর আচমকা পার্শ্ববর্তী মিসরীয় জাদুঘরের বাগানের ভেতর থেকে আবির্ভূত হলো। ধীরগতিতে এসে আমাদের সামনে থামল। তৎক্ষণাৎ লাল টুপি পরা এলিট গার্ড আর বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী তাদের ঘিরে দাঁড়াল। নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে ধরা রাইফেল, টেলিস্কোপিক সাইট-সংবলিত। মাঝের গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন ক্ষুদ্রকায়, চশমা পরিহিত মিসরের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ হোসেন তানতাবি। তিনি মোবারকের আজীবন বন্ধু। তাঁর মাথায় হালকা সবুজ সামরিক টুপি আর কাঁধে জেনারেলের আড়াআড়ি তলোয়ারের তকমা।
তাঁর আগমন শ্বাসরুদ্ধকর। এই অসাধারণ ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে যেসব বিক্ষোভকারী সামরিক বেষ্টনীর কাছে জড়ো হয়েছিল, তাদের উদ্দেশে তিনি হাত নাড়লেন। জনতা গর্জে উঠল, ‘মিসরীয় সেনাবাহিনী আমাদের সেনাবাহিনী।’ মিলিত কণ্ঠে তারা বলতে থাকল, ‘কিন্তু মোবারক আমাদের নয়।’ বন্ধু মোবারকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা তো এটাই। কিন্তু তানতাবির এই সফরও তো শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীক। মোবারক যতই চিৎকার করুন যে তাঁর উচ্ছেদের দাবির পেছনে ‘বিদেশি শক্তির হাত’ আছে আর বিদেশি সাংবাদিকদের সম্পর্কে সুলেইমান যত মিথ্যাই প্রচার করুন না কেন, এসব ছাপিয়ে তানতাবি দেখিয়েছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি সেনাবাহিনী আন্তরিকভাবে নিয়েছে। যারা মোবারকের বিদায় চায়, তাদের ওপর সেনাবাহিনী কোনো গুলি চালাবে না, কেননা তাদের দাবি ‘বৈধ’—সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই বিবৃতিতে তানতাবির সায় আছে। তাই সেনাবাহিনীর নিষ্ঠার ব্যাপারে বিক্ষোভকারীরা নিঃসংশয়।
প্রস্তাবিত কমিটি থেকে বাদ পড়াদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ নাম জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক ও নোবেলজয়ী মোহাম্মদ এলবারাদি আর মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা। মোবারক ও ইসরায়েলিরা সব সময় যে ইসলামপন্থীদের ভূত দেখিয়ে আমেরিকানদের প্ররোচিত করতে চায় বুড়ো মোবারককে ক্ষমতাসীন রাখতে, সেটি হলো এই মুসলিম ব্রাদারহুড। মোবারকের বিদায়ের আগে কোনো আলোচনা নয়—এই হলো মুসলিম ব্রাদারহুডের অবস্থান। আর এলবারাদির প্রতি তাদের সমর্থন আছে। এসব কারণেই কার্যত এদের বাদ দেওয়া হয়। অবশ্য সুলেইমান চালাকি করে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রাদারহুডকে। তিনি তো ভালো করেই জানেন, মোবারকের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না।
কমিটিতে আল-আওয়া ও ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবী আহমেদ কামাল আবু মাগদের প্রস্তাবিত উপস্থিতি সুলেইমানের সঙ্গে আলোচনায় ব্রাদারহুডের ভাবনার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে। এসব আলোচনায় নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রসঙ্গ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে ‘প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব পালন করতে না পারার’ কারণে সুলেইমানকে সামরিকভাবে শাসনকাজ চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও।
মোবারক যদি প্রকাশ্যে বা আড়ালে কোনোভাবেই দেশের রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা না রাখার ব্যাপারে সম্মত হন, তাহলে তাঁকে দেশের ভেতর একান্ত ব্যক্তিগত জীবন যাপন করতে দেওয়া হবে।
মোবারককে এখনো প্রচণ্ড শক্ত প্রতিপক্ষ মনে করা হয়। ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকতে পারলে বিরোধীদের বিনাশ করতে তাঁর কোনো দ্বিধা থাকবে না: ‘মোবারক পুরোনো জমানার লোক। গত দুই দিনে তাঁর আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। আমাদের ওপর হামলা ও গুলি করে মারার পেছনে আসলে ওই লোকটাই।’ এ কথা বললেন প্রস্তাবিত কমিটির এক সমর্থক। এ কথার মানে মোহাম্মদ ফাহমি ভালো করেই জানেন। সাত বছর ধরে তাঁর বাবা নির্বাসনে। এককালে তিনি মোবারক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আজকের বিক্ষোভের মতোই প্রতিবাদের কথা বলেছিলেন।
ব্রিটেনের দি ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশ সাংবাদিক।

মানবাধিকার ও বাংলাদেশ by আব্বাস ফয়েজ

ব্রিটেনে সরকারি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ছিল এটি উত্তম সুযোগ। আমরা ছিলাম তিনজন। ব্রিটেনের লর্ডসভার লর্ড এরিক এভেবারি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রাড অ্যাডামস ও এই নিবন্ধের লেখক। গত ৩০ জানুয়ারি লন্ডনের একটি হোটেল স্যুটে আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের আলোচনা শুরু হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি যে ১৯৯৭ সালে এই চুক্তি তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের আমলেই ঘটেছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে অব্যাহতভাবে বিলম্ব ঘটছে। পার্বত্য অঞ্চল সফরে মানবাধিকার গ্রুপগুলো বিধিনিষেধের কবলে পড়ছে।
আমাদের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, তাঁর সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়নে সংকল্পবদ্ধ। তিনি এ জন্য পরামর্শ পেতে এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানালেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার যে আইনের আওতায় হবে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনজীবী সমিতির উদ্বেগের বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে। তিনি আরও বললেন, সরকার ওই সব উদ্বেগের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্দেশ্য হলো ক্ষত নিরাময়। সরকার বিচার-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের দিকে নজর রাখছে এবং আইনের শাসন নিশ্চয়ই অনুসরণ করা হবে।’ তবে ওই আইনের আওতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং জামিনের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট নয় যে সরকার এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে আইন সংশোধনে অগ্রসর হবে কি না।
আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানালাম, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং এটা যাতে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যেতে পারে, সে বিষয়ে তাঁর আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রাইফেলসের বিদ্রোহের ঘটনার সময় যে খুন-নির্যাতন হয়েছে, এর বিচার সামরিক আদালত বাদ দিয়ে বেসামরিক আদালতে করার সিদ্ধান্তকেও তারা স্বাগত জানিয়েছে।
মানবাধিকার-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে শুধু তাঁর নিজের দল আওয়ামী লীগের সদস্যরাই যে আনুকূল্য পাচ্ছে—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আমার উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশ দীর্ঘকাল এক অস্বস্তিকর উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। সেটা হলো, অপরাধবিষয়ক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিষয়ে সরকারের নমনীয় থাকা। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলাম, সম্প্রতি একটি ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ২০ জনের সাজা মওকুফ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৯ জনই কেন শুধু ক্ষমতাসীন দলভুক্ত? সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের তৎপরতার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বললাম, তাদের নিজেদের কোন্দলের পরিণতিতে মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন ঘটেছে, কিন্তু এ ঘটনাগুলো শাস্তির বাইরে থাকছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানালেন, মৃত্যুদণ্ডগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সে কারণে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মার্জনা করা হয়েছে। তাঁর এ ব্যাখ্যা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কারণ, আমি আশা করেছিলাম, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও অধিকসংখ্যক বন্দীকে মার্জনা করা হবে, সে আশ্বাস তিনি দেবেন এবং সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি বাছাইয়ে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী জানালেন, তিনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং অপরাধ করার কারণে ছাত্রলীগের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং কয়েকজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন ব্যাপক মাত্রায় অব্যাহত থাকার ব্যাপারে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চেয়েছিলাম, আওয়ামী লীগ সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নীতিমালা মেনে চলবে কি না। এসব প্রশ্নের কোনো জবাব মেলেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করি। অথচ এ হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে এবং তা বন্ধে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ২০০৪ সাল থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে এবং বললেন, গোড়া থেকেই আমি এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। তবে তিনি জানালেন, রাতারাতি এটা বন্ধ করা যাবে না। তবে সব ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। যদি কোনো কর্মকর্তা অপরাধ সংঘটন করে থাকেন, তাহলে দ্রুতই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এটা ঠিক যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেটা বন্ধ করার লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করা যেতে পারে। যখন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে আশাবাদের কথা শোনা গেছে, তখন সরকার এদিকে মনোযোগী হবে, সে আশা আমরা করতে পারি। কিন্তু এরপর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকে যখন শুনলাম, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেইনি, তখন সেই আশাবাদ ম্লান হয়ে পড়ে।
আব্বাস ফয়েজ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া গবেষক।

২০ বছর ঘরে তালাবদ্ধ

ব্রাজিলের এক নারী টানা ২০ বছর গৃহবন্দী ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে বাইরের বিশ্ব থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমনকি কারও সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ গত শুক্রবার জানিয়েছে, পারানা প্রদেশের ম্যারিলুজ শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই নারীকে তাঁর সঙ্গী বন্দী করে রেখেছিলেন। তাকে দিয়ে ঘরের সব কাজ করানো হয়েছে। নারীর বয়স ৪৫ বছর এবং তাঁর সঙ্গীর বয়স ৬০ বছর।

কাশ্মীরে হাজার হাজার লোকের বিক্ষোভ

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
গত শুক্রবার রাতে গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হান্দওয়ারা শহরে মঞ্জুর আহমদ মাগরে (২১) নামের ওই ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেন সেনাসদস্যরা।
টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েক হাজার মানুষ সড়কে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জে এস ব্রার জানান, এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর থামার নির্দেশ অমান্য করায় মঞ্জুর আহমদকে গুলি করা হয়।
এদিকে মঞ্জুর আহমদের স্বজনেরা সামরিক বাহিনীর এই বক্তব্য অস্বীকার করে জানান, মঞ্জুরের মৃতদেহে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর পায়ে শুধু একটি গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
হান্দওয়ারার পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আসলাম জানান, মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মুঠোফোন চার্জে রেখে পালাল চোর

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির এক বাসায় চুরি করতে গিয়েছিল এক চোর। চুরির এক ফাঁকে তার মুঠোফোন চার্জে দেয় সে। এরপর চুরির কাজে লেগে যায়। সবার অগোচরে সে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যায়। এত সতর্ক চলাচলের পরও একপর্যায়ে বাসার লোকজন তার উপস্থিতি ঠিকই টের পায়। আর যায় কোথায়! লোকজন তাকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে বেটা চোর জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে দে দৌড়।
খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে চার্জে দেওয়া ওই মুঠোফোন পাওয়া যায়। বাসার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের বুঝতে বাকি থাকে না, চোরই ওই মুঠোফোনের মালিক।
তাকে গ্রেপ্তারের একটা কৌশল হাতে নেয় পুলিশ। ওই মুঠোফোনের সূত্র ধরে চোরের এক পরিচিত ব্যক্তির নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশ জানায়, এ মুঠোফোনের মালিক একটা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, সার্বিক সহযোগিতার জন্য তার নাম ও ঠিকানা জানা দরকার।
এভাবে পুলিশ জেনে নেয় মুঠোফোনের মালিকের নাম কডি উইলকিনস (২৫)। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০টি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। উইলকিনসকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সাম্প্রতিক সময়ের এক ঝড়ে তার বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি ওই বাসায় নিজের মুঠোফোন চার্জে দিয়েছিলেন।

কংগ্রেসম্যান গিফোর্ডসের স্বামী কেলি মহাকাশ অভিযানে যাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত মার্কিন কংগ্রেসম্যান গাব্রিয়েল গিফোর্ডসের স্বামী মার্ক কেলি মহাকাশ অভিযানে যাচ্ছেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ তথ্য জানায়।
নাসা জানায়, মহাকাশযান এনডেভর এপ্রিলে অভিযানে যাচ্ছে। এ অভিযানে অংশ নিতে কাল সোমবার থেকে আবারও প্রশিক্ষণ শুরু করবেন নভোচারী মার্ক কেলি। অভিযানে কেলি এনডেভরের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন।
মার্ক কেলি জানান, তিনি মহাকাশ অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তাঁর স্ত্রীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। গিফোর্ডসের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেলি বলেন, ‘সে চিকিৎসকদের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সেরে উঠছে।’ তিনি জানান, অভিযানে অংশ নিতে তিনিসহ একটি দল ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মাঝখানে কিছুদিন প্রস্তুতি নিতে না পারলেও নাসা কর্তৃপক্ষ তাঁর ওপর আস্থা রাখায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। আগামী এপ্রিলের অভিযান হবে তাঁর চতুর্থ মহাকাশ অভিযান।
গত মাসে অ্যারিজোনার টুসনে একটি সভায় বন্দুকধারীরা গুলি চালালে কেলির স্ত্রী কংগ্রেসম্যান গিফোর্ডস আহত হন। তিনি হিউস্টনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক এক চিকিৎসককে বিয়ে করেছেন মর্মে প্রকাশিত খবরকে হালকাভাবে নেয়নি সরকার। সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে এ খবর প্রত্যাহার বা এমন খবর প্রকাশের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে সরকার।
পাকিস্তান সরকার মার্ক সেইগাল ও জং পত্রিকাকে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার কিংবা সংবাদ সম্পর্কে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছে। অন্যথায় ১০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়। ক্ষতিপূরণের অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষকে দান করা হবে বলেও জানানো হয়।
সম্প্রতি ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জারদারি তানভির জামানি (৪০) নামের ওই চিকিৎসককে বিয়ে করেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ খবর প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং এ ধরনের খবরের নিন্দা জানানো হয়। এ ছাড়া তানভির জামানিও এই খবর সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দক্ষিণ সুদানে সেনাবাহিনীর দুই পক্ষে গোলাগুলি, নিহত ২০

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ২০ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদানের আলাদা হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভক্তির জের এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে অস্ত্রশস্ত্রসহ একটি সেনা ইউনিটকে স্থানান্তরের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গেলাবিনিময় হয়। সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করে। উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র স্থানান্তর ও ভাগাভাগির বিরোধকে কেন্দ্র করে আরও সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ফিলিপ আগুয়ের জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উইলায়া রাজ্যের রাজধানী মালাকালে সেনাবাহিনীর দুই পক্ষ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২০ জনে উন্নীত হয়েছে। তবে যেকোনো সময় এই সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যাও অনেক। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক সুদানি গাড়িচালক রয়েছেন।
গত জানুয়ারিতে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ সুদানের জনগণ একটি গণভোটে সুদান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে রায় দেয়। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে দক্ষিণ সুদান পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সুদানের আলাদা হয়ে যাওয়াকে সামনে রেখে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সরঞ্জামসহ রাজস্ব এবং ঋণ কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা এখনো ঠিক করতে পারেননি উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের নেতারা। বণ্টনের প্রক্রিয়া নিয়ে পুনরায় দুই পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছে।

কঙ্গোয় যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্র

যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য প্রথম পুনর্বাসনকেন্দ্র চালু করেছে কঙ্গো। দেশটির গোলযোগপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভুতে জাতিসংঘের অর্থায়নে নির্মিত ‘সিটি অব জয়’ নামের এই পুনর্বাসনকেন্দ্র শুক্রবার থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
এই কেন্দ্রে প্রতিবছর ১৮০ জন নারীকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বাঁচতে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কেন্দ্রটির পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার স্ত্রী অলিভ লেম্বে কাবিলাও রয়েছেন।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ধর্ষণ একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসেই ওই অঞ্চলে কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও এফডিএলআর বিদ্রোহীদের হাতে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান দিতে না পারলেও জাতিসংঘ বলেছে, পূর্বাঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৬০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় পানজি হাসপাতালে যৌন নির্যাতিতদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক নেনে রুকুংঘু। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ধর্ষণ যেন প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যে কেউ এখন এটি করতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ধর্ষণকারীরা প্রায়ই বিনাবিচারে পার পেয়ে যাওয়ায় সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন ল ইয়ার্স উইদাউট বর্ডারস এ জন্য দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ও দুর্বল বিচারব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।

যুক্তরাজ্যের গোপন পরমাণু কর্মসূচি রাশিয়াকে জানাবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র তার অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যের গোপন পরমাণু কর্মসূচি-সম্পর্কিত তথ্য রাশিয়াকে জানিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে এই তথ্য জানা গেছে। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
উইকিলিকসের ফাঁস করা নথিতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে একটি অস্ত্র চুক্তি হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ-সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে মস্কোকে তথ্য দেবে ওয়াশিংটন। টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনমতে, এই চুক্তিতে রাশিয়াকে রাজি করাতে ব্রিটেনের ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রের তথ্য দেওয়ার বিষয়টিকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি হয়তো ব্রিটেনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় দেখা যায়, ব্রিটেনের অস্ত্রের বিষয়টি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র নতুন স্টার্ট চুক্তির ক্ষেত্রে কতটা ‘গুরুত্বপূর্ণ’। ওই তারবার্তায় দেখা যায়, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুক্তরাজ্যের ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চায়। এসব তথ্য রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে অনুমতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে সেই অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। এর পরও ওয়াশিংটন যুক্তরাজ্যের কাছে তার হস্তান্তর করা ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমিক নম্বর দিতে রাজি হয়।
ব্রিটিশ সিকিউরিটি পলিসি অ্যাট দ্য রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক ম্যালকম চালমার্স অবশ্য বলেন, যুক্তরাজ্য যদি তাঁর ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কখনো প্রকাশ করে, রাশিয়া তখনই শুধু ক্রমিক নম্বর দিয়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাবে। এ ছাড়া মস্কোর পক্ষে এ ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য জানা সম্ভব নয়।
প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকেরা দাবি করেন, এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ব্রিটেন এখন তার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রকাশ না-ও করতে পারে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ গত বছর জানান, ব্রিটেনের মজুদ পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ১৬০টিরও বেশি। এসব ওয়ারহেড যেকোনো সময় ব্যবহারের উপযোগী। কিন্তু তিনি মোট মজুদ পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যাপারে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো প্রায় ৮০০ তারবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব তারবার্তায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র তার বিভিন্ন দূতাবাসে কূটনীতিকদের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত সম্পর্কের ওপর বিশেষ নজরদারি করে।

দৈনিক ক্ষতি ৩১ কোটি ডলার

চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মিসরের দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৩১ কোটি ডলার। ফ্রান্সভিত্তিক ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ব্যাংকের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্যাংকটির অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মোবারকবিরোধী এ বিক্ষোভের কারণে চলতি বছর মিসরের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৩ থেকে কমে ৩ দশমিক ৭ হতে পারে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গত ১২ দিন ধরে দেশটির নানা স্থানে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের কারণে দেশটির ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বেশ কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া প্রধান শহরগুলোর অনেক শিল্প-কারখানাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্যও বৃদ্ধি পাবে। তা ছাড়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশটির পর্যটন খাত। মিসরে পর্যটন মৌসুমের এখন মাঝামাঝি সময়। আগামী মে মাস পর্যন্ত এ মৌসুম স্থায়ী হবে। সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটিতে অবস্থানরত অনেক পর্যটকই ইতিমধ্যে মিসর ছেড়ে গেছেন। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের মিসর ভ্রমণের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছে। এ ছাড়া চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী মিসরে তাঁদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন। ফলে প্রতিদিনই মিসরকে গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি।

ভারতে ১৭ ব্যক্তিকে নোটিশ

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বলেছেন, বিদেশের ব্যাংকে কালো অর্থ রাখার অভিযোগে ১৭ ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে তিনি তাদের নাম প্রকাশ করেননি।
ভারতের ১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সুইজারল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী দেশ লিখটেনস্টাইনের এলজিটি ব্যাংকে জমা আছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হওয়ার এক দিন পর গতকাল শনিবার কলকাতায় প্রণব মুখার্জি এ কথা বলেন।
প্রণব মুখার্জি বলেন, ‘আমরা কয়েকজনের নাম পেয়েছি। ইতিমধ্যে ১৭ জনের নামে নোটিশ পাঠিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
প্রণব মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানি শুরু হলে আমরা কেবল আদালতের সামনেই বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারব।’
জার্মান সরকার এলজিটি ব্যাংকের কাছ থেকে এসব গোপন হিসাবের তথ্য ভারতকে দিয়েছে।
ভারত বলছে, জার্মানির সঙ্গে তথ্যবিনিময় চুক্তির শর্ত অনুসারে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা যাবে না। তাই তারা নামগুলো কেবল সুপ্রিম কোর্টকেই জানিয়েছে।
তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, ওই ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হোক। এদিকে ভারতের আদালতগুলো ওই টাকা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে চাপ দিচ্ছেন।
গত মাসের শেষের দিকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রণব মুখার্জি কালো অর্থ পাচাররোধে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানান।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো আস্থা সেভাবে ফিরে আসেনি। তাঁরা পুঁজি হারানোর শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই বাজারদর একটু বাড়লেই শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। আবার একটু কমলেই পুঁজি হারানোর ভয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
গোটা সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক, বেশির ভাগ শেয়ারের দাম, লেনদেনের পরিমাণ ও বাজার মূলধন অনেক কমেছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক ২৬০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। তার মানে, এ সময় প্রতিদিন গড়ে সূচক কমেছে ৫২ পয়েন্ট হারে। বর্তমানে মোট বাজার মূলধন তিন লাখ ১৪ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার কিছু বেশি, যা গত সপ্তাহের বাজার মূলধন তিন লাখ ২১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকার কিছু বেশির চেয়ে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কম।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৬৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১২টির দাম কমেছে আর মাত্র ৪৮টির দাম বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক কমে দাঁড়ায় সাত হাজার ১২৫ পয়েন্টে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল সাত হাজার ৩৮৬ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাই এই আস্থাহীনতার বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক সংস্থা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে চাইলেও অন্য সংস্থার নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না বলেও মনে করেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বাজারে তারল্যসংকটের চেয়ে বড় সমস্যা এই আস্থাহীনতা। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বড় বড় বিনিয়োগকারী এখন সক্রিয় নন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সঠিকভাবে বাজারে অংশ নিচ্ছে না। এর প্রভাবে শেয়ারের দর ও সূচক কমে যাচ্ছে।
বড় বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে না এলে বাজারে সংকট কাটবে না এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না বলে তাঁরা মনে করছেন।
অন্যদিকে গত বছর ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় একটা অংশ এসেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে। তার পরও এবার তাদের অংশগ্রহণ একেবারেই নেই। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুঁজিবাজার থেকে অর্জিত মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া যাবে না। এতে অনেক ব্যাংকই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবার বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মতো বড় বিনিয়োগকারীরাও এক ধরনের আস্থাহীনতায় ভুগছেন। তাই লোকসান দিয়ে হলেও অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেক বিনিয়োগকারীর ক্রয়ক্ষমতা থাকলেও নতুন করে শেয়ার কিনছেন না। তাই লেনদেনের পরিমাণও অনেক কমে গেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: ইউসিবিএল, এনবিএল, গ্রামীণফোন, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, ডেসকো, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও ম্যাকসন স্পিনিং।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: ইসলামি ইনস্যুরেন্স, মুন্নু জুটেক্স, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স, মেঘনা পেট, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও খুলনা পাওয়ার লিমিটেড।

ইউনিপেটুইউর ১১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ বহাল

ইউনিপেটুইউর ১১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ বহাল রয়েছে। ব্যাংক হিসাব জব্দ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা রিটটি খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলাতাফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ব্যাংক হিসাব জব্দের বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ করে রায় দিয়েছেন আদালত। ফলে ইউনিপেটুইউর ১১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ বহাল থাকল।
জানা যায়, গত বছরের ৬ জুলাই নিম্ন আদালতের এক আদেশে ইউনিপেটুইউর ১১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মুনতাসির হোসেন ও শহীদুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ আদালত তা খারিজ করে রায় দেন। পাশাপাশি এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও দুদকের পক্ষে আনিসুল হক ও এম এ আজিজ খান মামলাটি পরিচালনা করেন।

২৬ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

সরকারি মালিকানাধীন ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার যথাসময়ে ছাড়ার আবারও তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ রোববার সকালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে আবারও একটি সভা করে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের পদত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘদিন তাঁরা পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়তে পারেননি। সুতরাং তাঁদের বাজারে আসতেই হবে।
এদিকে, শেয়ারবাজারের কারসাজির তদন্তে গঠিত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

জন্মদিনে তেভেজের হ্যাটট্রিক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কাল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক লড়াই দেখল ঘুরে দাঁড়ানোর। দেখাল নিউক্যাসল ইউনাইটেড। রবিন ফন পার্সির জোড়া গোলের সঙ্গে ওয়ালকট ও জোরুর গোল মিলিয়ে মাত্র ২৬ মিনিটের মধ্যে ৪-০ করে ফেলা আর্সেনালকে জয় নিয়ে ফিরতে দেয়নি নিউক্যাসল, শেষ পর্যন্ত বাধ্য করেছে ড্র করতে (৪-৪)। দ্বিতীয়ার্ধের গোড়ায় আর্সেনাল ১০ জনের দল হয়ে পড়ার একটু সুবিধা অবশ্য পেয়েছে স্বাগতিক দলটি। এই ড্রতে শীর্ষে থাকা ম্যানইউর সঙ্গে চার পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ায় শিরোপা-স্বপ্ন বড় একটা আঘাতই পেল গানারদের। কাল গভীর রাতে ম্যানইউ উলভসের সঙ্গে জিতে থাকলে ব্যবধান হয়ে গেছে সাত পয়েন্টের।
কাল ছিল কার্লোস তেভেজের জন্মদিন। জন্মদিনে ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার নিজেই নিজেকে দিলেন উপহার—হ্যাটট্রিক। দুটি পেনাল্টি গোল নিয়ে পূর্ণ হওয়া তাঁর হ্যাটট্রিকেই ওয়েস্ট ব্রমউইচকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানইউর নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

টিকিট বিতরণের সময় পেছাল

বিশ্বকাপের টিকিট প্রত্যাশীদের অপেক্ষার মেয়াদ কদিন বাড়ল। টিকিটের জন্য ব্যাংক থেকে যাঁরা ভাউচার কিনেছেন, আগামীকাল থেকে তাঁদের হাতে টিকিট তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে টিকিট বিতরণের সময় পিছিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটি। তবে অচিরেই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

সেই আকরামের আফ্রিদি-স্তুতি

সময় বদলায়। বদলায় মানুষের ধারণাও। শহীদ আফ্রিদির অধিনায়কত্ব যে কজনের কাছে ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, তাঁদেরই একজন ওয়াসিম আকরাম। যদিও বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের পক্ষে তিনি কথা বলেননি। অনেক কালক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত আফ্রিদিকেই বিশ্বকাপের অধিনায়ক করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অধিনায়ক আফ্রিদির পিঠেই আস্থার হাত রাখলেন ওয়াসিম আকরাম।
সমালোচনার পাতা উল্টো চাপা দিয়ে আকরাম বললেন, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আফ্রিদিই সঠিক ব্যক্তি। ‘অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিদিকে বেছে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে পাকিস্তান বোর্ড। আমি খুশি, দায়িত্বটির জন্য শেষ পর্যন্ত তারা যোগ্য লোককেই বেছে নিয়েছে’—বলেছেন একসময়ের সমালোচক আকরাম।
যুক্তিহীন কথা বলার মানুষ আকরাম নন। অধিনায়ক হিসেবে এবার আফ্রিদিকেই যোগ্যতম ভাবার পেছনে পাকিস্তান কিংবদন্তির যুক্তি, ‘আফ্রিদি বেশ কিছুদিন দলের নেতৃত্বে। অধিনায়কত্বের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তাই তার জানা। ক্রিকেটে, নিখুঁত অধিনায়কত্বের জন্য আপনার অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় প্রয়োজন। আর এ কারণেই আমি মনে করি, সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে আফ্রিদিই সেরা পছন্দ।’
পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা এবং বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্বে দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, দল এখন নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়েই টুর্নামেন্টের সামনের দিকে এগোনোর পথ খুঁজে পাবে। আফ্রিদির স্তুতি করতে গিয়ে আকরাম প্রশংসায় ভাসিয়েছেন একসময়ের সতীর্থ আবদুল রাজ্জাক এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তরুণ আহমেদ শেহজাদকেও। রাজ্জাককে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার দাবি করে আকরাম বলছেন, ‘সে ম্যাচ উইনার। রাজ্জাকের লক্ষ্য হওয়া উচিত টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া।’ রাজ্জাক কি শুনতে পেয়েছেন? উমর গুলকে দলের প্রধান বোলার দাবি করলেও আকরাম আস্থা রাখছেন ফিট শোয়েব আখতারের ওপরও।

হেরেও শিরোপা আবাহনীর

ম্যাচের ১৪ ওভার বাকি। ৭৪ রানের মধ্যে ফেলতে হবে মোহামেডানের ৫টি উইকেট। আবাহনী জিতবে কি হারবে বোঝার উপায় ছিল না তখনো। অথচ শিরোপা জয়ের উৎসব শুরু হয়ে গেল! ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম নেচে উঠল ‘আবাহনী...আবাহনী’ জয়ধ্বনিতে!
নিজেদের খেলা ফতুল্লায়, কিন্তু আবাহনীর শিরোপা জয়ের খবর এল বিকেএসপি থেকে! ওখানে বিমানের কাছে গাজী ট্যাঙ্কের ১৫ রানের হারই আসলে নিশ্চিত করে দেয় এক বছর পর আবাহনীর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার। ফতুল্লায় চরম উত্তেজনার ম্যাচে ৩ বল বাকি থাকতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ১ উইকেটে হেরে যাওয়ার পরও পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে (২৪) থাকায় চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। তবে বিমানের কাছে গাজীর হার এবং আবাহনীকে হারানোয় ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। ২২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় গাজী ট্যাঙ্ক।
মোহামেডানের বিপক্ষে জিতলে তো কথাই নেই, হারলেও আবাহনীর শিরোপা সম্ভাবনা লুকিয়ে ছিল গাজীর হারে। ঝুঁকিমুক্ত থাকতে তাই মনেপ্রাণে নিজেদের জয়ের সঙ্গে গাজীর পরাজয়ও কামনা করছিল আবাহনী। ফতুল্লা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে দেখতেই আবাহনীর কর্মকর্তারা টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন বিমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ম্যাচের পরিস্থিতি জেনে মাঝে মধ্যে বিমানের জন্য টিপসও যাচ্ছিল ফতুল্লা থেকে। এ যেন এক সঙ্গে দুই ম্যাচ খেলা! শেষ পর্যন্ত নিজেরা না জিতলেও বিমানের সফল উড্ডয়নে সাফল্যের হাসি হেসেছেন আবাহনীর কর্তারা।
মাঠের বাইরের এই খেলার সঙ্গে মাঠের খেলাও জমল বেশ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চিরায়ত লড়াইয়ে বাড়তি আকর্ষণ ছিলেন ইনজুরিতে পড়ার ঠিক দেড় মাস পর খেলায় ফেরা মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৬-০-৩৩-০, ৩-০-১৬-১ এবং ১-০-৬-০—তিন স্পেলের এই বিশ্লেষণে মাশরাফির বোলিংটা সাদামাটা মনে হলেও ইনজুরি থেকে ফেরা কোনো পেসারের জন্য যথেষ্টই ভালো। মাঠের বাইরে থেকে বলের গতি কিছুটা কম মনে হয়েছে, বল করার সময় দৌড়টাও ঠিক মাশরাফিসুলভ ছিল না। তবে সবচেয়ে বড় কথা, নতুন বলে একটানা ছয় ওভার বল করেছেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। বলের লাইন-লেন্থও ছিল একেবারে নিখুঁত। সঙ্গে ফিটনেস প্রমাণের জন্য বাড়তি উদাহরণ হয়ে থাকল স্লিপ ও মিড উইকেটে নেওয়া তাঁর দু-দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ।
মাশরাফির ফেরার দিনে অবশ্য আবাহনীর বোলিং নায়ক আবুল হাসান। আকাশি-হলুদ ক্লাবটা যে ২৩০ রান করেও দর্শকদের জমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিল, সেটা তরুণ এই পেসারের কৃতিত্বে। মোহামেডানের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া হাসান কাল নিলেন ৩১ রানে ৬ উইকেট, লিগে তার মোট উইকেট দাঁড়াল ২০টি। হাসানের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পরও মোহামেডানকে শেষ পর্যন্ত জয় দেখিয়েছেন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ফয়সাল হোসেন ও শামসুর রহমান।
মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে শামসুর-খালেদ মাসুদের ৬৬ রানের জুটিটা ছিল বিপর্যয়ে প্রতিরোধ। তবে মোহামেডানকে ম্যাচে ফেরায় শামসুরের সঙ্গে ফয়সালের ৭৮ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। ৯০ বলে ২ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ৬৫ রান শামসুরের, চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬৭ বলে ৬৫ রান করেছেন ফয়সাল। হাসানের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আজহার মেহমুদের সঙ্গে ৪৮ রানের আরেকটি জুটি গড়ে ফয়সালই জয়ের মূল কাণ্ডারি। টেল এন্ডারদের নিয়ে ‘ফিনিশিং টাচ’টা দিয়েছেন আজহার। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান। হাসানের প্রথম বলে এনামুল নেন ১, পরের দুই বলে দুই বাউন্ডারি মেরে দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আজহার।
আনামুল-রনির ৮৭ রানের ওপেনিং জুটিতে শুরুটা ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত আবাহনী বড় স্কোর গড়তে পারেনি মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় এবং কিছুটা মন্থর ব্যাটিংয়ের করণে। মিডল অর্ডারে যখন দ্রুত রান তোলা জরুরি ছিল, ভারতীয় ব্যাটসম্যান রেশমি রঞ্জন পারিদা ওই সময়ে করেন ৩০ বলে ১৮ ও রজত ভাটিয়া ৬২ বলে ৪৫!
আবাহনীকে শিরোপা ‘উপহার’ দেওয়া গাজী ট্যাঙ্কের প্রথম লিগ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বিমানের কাছে হেরে। বিকেএসপিতে জয়ের লক্ষ্য ছিল ২১৪ রান, ৪৭.৫ ওভারে তারা অলআউট ১৯৮ রানেই।
সং ক্ষি প্ত স্কো র
আবাহনী: ৫০ ওভারে ২৩০/৮ (আনামুল ৪৬, রজত ৪৫, রনি ৩৮, ফরহাদ ৩২, সগীর ২১*; এনামুল ২/৩৩, শোয়েব ২/৩৬, তারেক ২/৪৩, মুক্তার ১/৮, নূর ১/৪৫)। মোহামেডান: ৪৯.৩ ওভারে ২৩১/৯ (শামসুর ৬৫, ফয়সাল ৬৫, আজহার ৩৪*, মাসুদ ২৭; আবুল হাসান ৬/৩১, রজত ১/১৮, মাশরাফি ১/৫৫)।
ফল: মোহামেডান ১ উইকেটে জয়ী।
বিমান: ৫০ ওভারে ২১৩/৯ (জহুরুল ৫৭, তুষার ৩৪, লতিফ ২৫, মোশারফ ২৩; নাসির ৩/৪১, আজমত ২/২২, কামরুল ১/২২, সাব্বির ১/২৪, শাকের ১/২৯, সানজামুল ১/৩৭)। গাজী: ৪৭.৫ ওভারে ১৯৮ (নাসির ৩৪, অলক ৩৩, সাজ্জাদ ৩২, মিঠুন ২৭, আজমত ২৪; সানোয়ার ২/২০, শরীফউল্লাহ ২/৩৮, ইলিয়াস ১/২২, মোশারফ ১/৩২, মনোয়ার ১/৩৩)।
ফল: বিমান ১৫ রানে জয়ী।

রাইডারের ব্যাটে কিউইদের সান্ত্বনা

দুই বছরেরও বেশি সময় পর একটা ট্রফি জয়, পাকিস্তানিদের উল্লাসটা তবু যেন ঠিক স্বতঃস্ফূর্ত হলো না। সিরিজ জিতলেও শেষটা যে ভালো হলো না! সিরিজ হারলেও বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচটা ৫৭ রানে জিতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
মিডল-অর্ডার ‘পরীক্ষা’র পর আবার ওপেনিংয়ে ফেরা ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে দ্রুত ফিরিয়ে শুরুটা খারাপ হয়নি পাকিস্তানের। কিন্তু সব এলোমেলো করে দেন জেসি রাইডার। আগের ম্যাচে কোনো বল না খেলেই রানআউট হওয়ার খেদ মিটিয়েছেন কাল পাকিস্তানিদের তুলোধোনা করে। শুরুতে কিছুটা রয়ে-সয়ে খেলেছেন, হাত খোলেন সোহেল তানভিরের এক ওভারে তিন ছয় মেরে। ফিফটি পেয়ে যান ৩৪ বলে, শোয়েব আখতারকে ফাইন লেগ বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৮২ বলে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। রাইডারের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও রাজ্জাক-হাফিজের বোলিংয়ে ১৯০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। তিন শ পেরোয় তারা স্টাইরিস-ম্যাককালামের ঝড়ে। ৪৪ বলে ৫৮ করেন স্টাইরিস, ৫০ বলে ৬৫ নাথান ম্যাককালাম। শেষ ৫ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ৭২ রান!
৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও পাকিস্তান ম্যাচে ছিল কামরান আকমল (৮৪ বলে ৮৯) ও আফ্রিদির ব্যাটিংয়ে। কিন্তু এক ওভারে কামরান-রাজ্জাককে তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। ৩৫ বলে ৪৪ রান করা আফ্রিদিকে আউট করে পাকিস্তানের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন হামিশ বেনেট। তথ্যসূত্র: নিও ক্রিকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩১১/৭ (গাপটিল ৪৪, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ১২, রাইডার ১০৭, টেলর ৫, ফ্রাঙ্কলিন ৮, স্টাইরিস ৫৮*, নাথান ম্যাককালাম ৬৪, মিলস ০*; রাজ্জাক ২/২৩, হাফিজ ২/৫৭, শোয়েব ১/৩৮, তানভির ১/৭৮)। পাকিস্তান: ৪৪.১ ওভারে ২৫৪ (হাফিজ ২১, শেহজাদ ৬, কামরান ৮৯, ইউনুস ১৬, শফিক ২৬, উমর ৮, আফ্রিদি ৪৪, রাজ্জাক ৮, তানভির ৩০, গুল ১, শোয়েব ২*; বেনেট ৪/৪৬, ফ্রাঙ্কলিন ৩/৫০, মিলস ১/৩০)। সিরিজ: পাকিস্তান ৩-২-এ জয়ী।

নিষিদ্ধ পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটার

লোভের ফাঁদে পা দেওয়ার ফল পেলেন সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির। এই তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে যথাক্রমে দশ, সাত ও পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। গত ইংল্যান্ড সফরে বাজিকরের টাকা খেয়ে ইচ্ছাকৃত নো বল করেছিলেন দুই পেসার আসিফ ও আমির। ওই টেস্টে তাঁদের অধিনায়ক বাটের প্ররোচনায় এই অনৈতিক কাজ করেছিলেন দুই পেসার।
গত মাসে প্রথম দফায় শুনানি হলেও তখন রায় ঘোষণা করা হয়নি। সেই রায় এল কাল। কাতারের রাজধানী দোহায় আইসিসি ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে তিন অভিযুক্ত ক্রিকেটারের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
বাটই সবচেয়ে বেশি শাস্তি পেলেন। অবশ্য তাঁর ১০ বছরের শাস্তির মধ্যে পাঁচ বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। প্রথম পাঁচ বছর সাজা ভোগ করতে হবে তাঁকে। এ সময় এ ধরনের অন্যায় না করলে শেষ পাঁচ বছরের সাজা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আসিফের সাত বছরের মধ্যে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দুই বছর। আমির স্থগিত নিষেধাজ্ঞার সুবিধা পাননি। সেদিক দিয়ে দেখলে তিনজনই আসলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন। বয়সের কারণে বাট-আসিফের ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হয়ে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ১৮ বছর বয়সী আমির ভুল শুধরে ফিরে আসতে পারবেন।
অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন নিষিদ্ধত্রয়ী। কাল আমিরের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা আবেদন করার কথাই ভাবছেন।

মাশরাফির আত্মবিশ্বাস ফেরানোর ম্যাচ

অনুশীলনে পুরো রানআপে বল করেছেন সমস্যা ছাড়াই। বাকি ছিল শুধু নিজেকে ম্যাচ ফিট প্রমাণ করা। কাল ফতুল্লায় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে ১০ ওভার বল করে সেটাও করে দেখালেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাচ শেষে তাঁর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসী সুর, চোখমুখে নিজেকে ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি।
১০ ওভার বল করে ৫৫ রান দিয়ে ১ উইকেট—দেড় মাস পর মাঠে ফিরে একেবারে খারাপ বোলিং নয় এটা। সঙ্গে পুরো ৫০ ওভার ফিল্ডিং করতে পারাটাও মাশরাফির আত্মবিশ্বাসে বাড়তি সঞ্জীবনী, ‘যতটুকু আশা করেছিলাম তার চেয়ে ভালো হয়েছে ফেরাটা। আমার জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ডাইভ দেওয়া। ফিল্ডিংয়ের সময় তাতেও কোনো সমস্যা হয়নি। আমার মনে হয়, পুরো ম্যাচটা শেষ করতে পারাই প্রথম ম্যাচ হিসেবে অনেক বড় ব্যাপার।’ এই ‘বড় ব্যাপার’টা ঘটিয়ে ফেলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘ইনজুরিতে আছি—এই চিন্তা মাথায় নিয়ে খেলতে নামিনি। আর আমি পুরোপুরি জানি আমার সমস্যাটা কী। কাজেই কোনো ঝুঁকি নিতেই সমস্যা হয়নি।’
৬ ওভারের প্রথম স্পেলে ছন্দে একটু সমস্যা হলেও শেষ দিকে সেটা ফিরে পেয়েছেন মাশরাফি। তাতে আত্মবিশ্বাসী যেমন মনে হয়েছে, একটা আফসোসও শোনা গেছে কথায়, ‘অনেক দিন না খেললে সাধারণত পরের স্পেলে সমস্যা হয়। আমারও মনে হচ্ছিল, পরের স্পেলে হয়তো বা বলের গতি আরও কমে যাবে। কিন্তু শেষে এসে আমি আরও বেশি ছন্দে বল করেছি। আত্মবিশ্বাস এখন বেড়েছে। মনে হচ্ছে, আরও একটি দুটি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো।’
সে সুযোগ যখন পানইনি, লিগের শেষ ম্যাচটাতেই নিজেকে উজাড় করে দিতে চেয়েছেন মাশরাফি, ‘প্রথম স্পেলে মনের অজান্তেই হয়তো কিছু জিনিসের অভাব থেকে যাচ্ছিল। তবে আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি শতভাগ দিয়েছি।’ গত জিম্বাবুয়ে সিরিজে যেমন বোলিং করেছিলেন, মাশরাফির কাছে কালকের বোলিংটাকেও তেমনই মনে হয়েছে। তবে বলেছেন, ‘এ ধরনের উইকেটে বোলিংয়ে আরও বেশি বৈচিত্র্যের দরকার। আমি সেসব করিনি, কারণ আমি বুঝতে চেয়েছি আমার মূল পেসে আমি কী করছি। শেষ দিকে কিছু বাউন্সার দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেজন্যই বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাইনি।’

জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ২৭৮

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের সপক্ষে শ্রীলঙ্কার পুরো ইনিংসে কোনো সমর্থন মিলল না। শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা অনেকটা হেসে-খেলেই ক্যারিবীয় বোলারদের সামলিয়ে তুলে নিলেন ২৭৭ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার এই সংগ্রহে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মহেলা জয়বর্ধনে। সাঙ্গাকারা ৭৫ রানে ও জয়বর্ধনে ৪৪ রানে ফিরে না গেলে এই সংগ্রহটা আরো বাড়তে পারতো। সাঙ্গাকারা ও জয়বর্ধনের পাশাপাশি থারাঙ্গা, দিলশান ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নাতি-দীর্ঘ তিনটি ইনিংস বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল আরো বহুগুণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশিরভাগ বোলারই অধিনায়ক স্যামির আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে পারেন নি। স্পিনার সুলিমনি বেন ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান সংগ্রহে কিছুটা লাগাম টেনে ধরলেও রবি রামপাল, ডোয়াইন ব্রাভো, ড্যারেন স্যামিরা ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ। ব্রাভো ২ উইকেট নিলেও রান দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বেশ উদারহস্ত। ১০ ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ৫৮ রান। ক্রিস গেইল নিজের ১০ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র ৩৪ রান দেওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং লাইন আপে তিনি ছিলেন চমত্কার এক ব্যতিক্রম।

আবারও আপিল করবেন বাট-আমির

অসতর্ক লোভের বলি হয়ে এক অর্থে ক্রিকেট-ক্যারিয়ারই বিসর্জন দিয়েছেন সালমান বাট। ১০ বছরের বহিষ্কারাদেশ পেরিয়ে ক্রিকেটে ফেরার যে আর কোনো আশা নেই, সেটা মানেন বাটও। তার পরও আইসিসির এই সিদ্ধান্ত একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বরাবরের মতো নিজেকে নির্দোষ দাবিও করে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার কথা ভাবছেন তিনি।
নতুন এই লড়াইয়ে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন পাঁচ বছরের বহিষ্কারাদেশ পাওয়া মোহাম্মদ আমিরকে। তিনিও আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী আমির সবেই আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন ক্রিকেট বিশ্বে। কেউ কেউ তাঁর মধ্যে ওয়াসিম আকরামের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষণিকের লোভ সবকিছুই শেষ করে দিয়েছে।
দোহায় স্পট ফিক্সিং মামলার শুনানি শেষে আজই পাকিস্তানে ফিরে গেছেন সালমান বাট। বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো সত্যি নয়। আমি নির্দোষ। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না। আমার মনে হয় না আমাদের পক্ষের যুক্তিগুলোর দিকে ভালোভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য।’
তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমিরও গলা মিলিয়েছেন সালমান বাটের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘আমি নির্দোষ। আর আমরা বিশ্বাস করি, আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। আমরা এখন আইসিসির এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণীর জন্য অপেক্ষা করছি। এটা পাওয়ার পরই আমরা আবার আপিল করার প্রস্তুতি নেব।’ মোহাম্মদ আমির নিষিদ্ধ হয়েছেন পাঁচ বছরের জন্য।
এদিকে, এই রায় ঘোষণার পর পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাট আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘নিষিদ্ধ ত্রয়ী এখন যে পদক্ষেপই নিতে চায়, সেটা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেই নিতে হবে। তাঁদের সঙ্গে এখন পিসিবির আর কোনো সম্পর্ক নেই।’

ম্যানইউকে মাটিতে নামাল উলভস

২৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নতুন রেকর্ড গড়েছিল ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পুরো মৌসুমই এভাবে হারের মুখ না দেখে পার করার স্বপ্নও দেখা শুরু করেছিল ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী এই ক্লাবটি। কিন্তু গতকাল উড়তে থাকা ম্যানইউকে মাটিতে নামিয়েছে পয়েন্ট তালিকার একবারে নিচের ক্লাব উলভস। ২-১ গোলের অঘটন ঘটিয়ে ম্যানইউকে দিয়েছে মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ। প্রিমিয়ার লিগের অপর খেলায় আর্সেনালকে বিস্ময়করভাবে রুখে দিয়েছে নিউক্যাসেল ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচ শেষে ৪-৪ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে গানারদের।
গতকাল শুরুটা বেশ ভালোমতোই করেছিল ম্যান ইউ। খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় রেড ডেভিলদের এগিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ স্ট্রাইকার নানি। কিন্তু এই গোল উদযাপনের আনন্দ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৭ মিনিট পরই খেলায় সমতা ফেরান উলভস স্ট্রাইকার জর্জ এলকোবি। ৪০ মিনিটের মাথায় আরেকটি গোল করে খেলায় নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেন কেভিন ডয়েল। ২-১ এ পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ম্যান ইউ। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা করেন ফার্গুসন-শিষ্যরা। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ম্যাচ শেষে হতাশাটা লুকাতে পারেননি ফার্গুসন। এমইউটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘এটা খুবই হতাশাজনক। বিশেষত খেলায় শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর এই হারটা অপ্রত্যাশিত। অনেক জায়গায়ই আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’
শুধু ম্যান ইউ-ই না, গতকাল অঘটনের শিকার হয়েছে আর্সেনালও। প্রথমার্ধের ২৬ মিনিটের মধ্যেই নিউক্যাসেলের জালে চারবার বল জড়িয়ে আর্সেনালের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন থিও ওয়ালকট (১ মি.), জোহাস দজোরু (৩ মি.) ও রবিন ভন পারসি (১০ ও ২৬ মি.)। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরিই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডার আবু ডিয়াবু লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্সেনাল। এই সুযোগে গানারদের গোলমুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিউক্যাসেল স্ট্রাইকাররা। ৬৮, ৭৫, ৮৩ ও ৮৭ মিনিটে চারটি গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে খেলায় সমতা ফেরান জয়ি বারটন, লিয়ন বেস্ট ও ইসমায়েল চিক টিওটে। এর মধ্যে ৬৮ ও ৮৩ মিনিটে বারটনের গোল দুুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে।
শুধু বড় এই দুইটি অঘটনই না, গতকালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রায় সব কটি ম্যাচই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। গতকালের আটটি খেলা থেকে এসেছে মোট ৪১টি গোল, যা তৈরি করেছে প্রিমিয়ার লিগের একদিনে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড। এভারটন ৫-৩ গোলে হারিয়েছে ব্লাকপুলকে। ব্লাকবার্নের বিপক্ষে উইগান পেয়েছে ৪-৩ গোলের জয়।

‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বিরাট ক্ষতি’

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দীর্ঘদিনের জন্য ক্রিকেট অঙ্গন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। গতকাল শনিবার নয় ঘণ্টার শুনানি শেষে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট বাটকে ১০, আসিফকে সাত ও আমিরকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। কেউ কেউ এটাকে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের জন্য একটা ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ কেউ আইসিসির এই সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তরুণ ক্রিকেট-ত্রয়ীর ক্রিকেট অঙ্গন থেকে এভাবে ছিটকে পড়ার ঘটনাটা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্যই একটা বিশাল ক্ষতি, সেটা একবাক্যে স্বীকার করেছেন সবাই।
সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের মতে, এই শাস্তি একটা নজির সৃষ্টি করবে, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এ পথে পা না বাড়ায়। তিনি বলেছেন, ‘এটা শুধু পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্যই না, গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার জন্যই একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। আমি আশা করছি, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পুরো ক্রিকেট দুনিয়াকেই দুর্নীতির বাইরে রাখতে সাহায্য করবে।’ নিজে ছিলেন ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। তাই আইসিসির এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে দুজন পেসার ঝরে যাওয়ায় কষ্টটা তীর-ধনুকের মতোই বিঁধছে ওয়াসিম আকরামের বুকে।
পাকিস্তানের সাবেক বাঁ-হাতি স্পিনার ইকবাল কাশিম আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, ‘এই তিনজনই ছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ তারকা। এটা খুবই হতাশাজনক। তিনজনেরই সামনে খুব উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়েছে। পরে আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আশা করছি এই শাস্তিটা ভবিষ্যত্ ক্রিকেটারদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেই কাজ করবে। তরুণ ক্রিকেটাররা আরও দায়িত্বশীল হবে।’ তবে পুরো ব্যাপারে পিসিবির ভূমিকার ভালোই সমালোচনা করেছেন কাশিম। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটে এসব বাজে ব্যাপারগুলো ঘটলেও পিসিবি জেনে-বুঝেই চুপ করে থেকেছে। এতে পাকিস্তানের ক্রিকেটেরই ক্ষতি হয়েছে। আশা করছি পিসিবি এমন ব্যাপারগুলোতে যত্নশীল ও দায়িত্ববান হবে।’
পাকিস্তানের সাবেক বোলিং তারকা সরফরাজ নেওয়াজ আমির ও আসিফকে বর্তমান সময়ের সেরা বোলিং জুটি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমির ও আসিফের বহিষ্কারে পাকিস্তানের প্রচণ্ড ক্ষতি হয়ে গেল। আগামী বিশ্বকাপেও তাঁদের অনুপস্থিতি ভালোভাবেই টের পাবে পাকিস্তান।’
সাবেক তারকারা যা-ই বলুন না কেন, সাধারণ পাকিস্তানিরা আইসিসির এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। অনেকে একে পাকিস্তানের ক্রিকেটকে কোণঠাসা করার অভিপ্রায়ে আইসিসির ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ এক কাঠি এগিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান যেন বিশ্বকাপ জিততে না পারে, সেজন্য আইসিসি দলের তিন প্রধান খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করেছে।

হেইডেন একজন ‘ক্ষুদ্র-হূদয়’ ক্রিকেটার: হরভজন

ক্রিকেটের পাশাপাশি লেখা-টেখার কাজগুলো অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা বেশ ভালোই পারেন। আর পারেন বলেই একাধারে প্রায় সব অসি ক্রিকেটারেরই রয়েছে আত্মজীবনীর প্রকাশনা। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে এই সেদিন পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই একে একে আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন। এই দলে সর্বশেষ সংযোজন ড্যাশিং ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন। তবে, অন্যদের আত্মজীবনীর চেয়ে হেইডেনেরটা বিতর্কের ডালপালা বেশ ভালোমতোই ছড়িয়েছে। হেইডেন তাঁর বইয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল, হরভজন সিং, শচীন টেন্ডুলকারকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা পছন্দ হয়নি অনেক ভারতীয় ক্রিকেটবোদ্ধারই। হেইডেনের আত্মজীবনীর বিভিন্ন অংশের সারাসরি জবাব না দিলেও কিছু ব্যাপারে যে তাঁরা প্রচণ্ড বিরক্ত, তা ফুটে উঠেছে অফ-স্পিনার হরভজন সিং ও সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর কথাতেই।
হরভজন সিং ম্যাথু হেইডেনের এই বই পড়েছেন কি না, তা জানা না গেলেও ‘ভাজ্জি’ যে তাঁর ব্যাপারে বেশ ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট হয়েছে একটি কথাতেই। ‘আমার ক্যারিয়ারে দেখা সবচেয়ে ক্ষুদ্র-হূদয়ের ক্রিকেটার হচ্ছে এই হেইডেন।’ একটি বাক্যেই হেইডেন সম্পর্কে নিজের মনোভাব জানিয়ে দিলেন হরভজন।
২০০৪ সালে নাগপুর টেস্টে সবুজ ঘাসে মোড়া উইকেট দেখে হরভজন ভয়ে আর খেলেননি বলে হেইডেন তাঁর ‘স্ট্যান্ডিং মাই গ্রাউন্ড’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। হরভজন এটিকে ‘নিতান্তই ফালতু কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি জানি না অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা কেন এসব করে। এরা ফালতু কথাবার্তা লিখে নিজেদের বই বিক্রি করার ধান্ধা করে। এমনকি কিছুদিন আগে রিকি পন্টিংও একই রকম কিছু কথাবার্তায় নিজের বই বোঝাই করেছিল। হরভজন আরও বলেন, ‘ভারতীয় দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন থেকে শুরু করে সবাই জানে, অসুস্থতার কারণেই আমি নাগপুর টেস্টে দল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম।’
এর পরপরই হেইডেনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছেন হরভজন সিং। তিনি বলেছেন, ‘আমার ক্রিকেটজীবন নিয়ে কথা বলার অনেক মানুষ আছে। হেইডেনকে এ ব্যাপারে নাক না গলালেও চলবে। আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে চাই, সাহস থাকে তো সে আমার বল মোকাবিলা করুক। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই আমি তাঁকে বল করতে চাই।’

মেসির হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার রেকর্ড জয়

স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষস্থানটা গতকাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে কেড়ে নিলেন লিওনেল মেসি। আর সেই সঙ্গে মৌসুমের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকেও নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়। নিজেদের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কাতালানরা গড়ে ফেলেছে টানা ১৬ ম্যাচ জয়ের নতুন রেকর্ড। পেছনে ফেলেছে ১৯৬০ মৌসুমের আলফ্রেডো পি স্টেফানোর দুর্দান্ত রিয়াল মাদ্রিদকে। সেই মৌসুমে টানা ১৫টি জয় পেয়ে ৫০ বছর এই রেকর্ডটা নিজেদের দখলে রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
ন্যু ক্যাম্পে গতকাল মেসি ম্যাজিকের প্রথম ঝলকটা দেখা যায় প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটের মাথায়। মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে বল পেয়ে অ্যাটলেটিকোর বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। দ্বিতীয় গোলটি আসে ৯ মিনিট পরেই। এবার ডেভিড ভিয়ার পাস থেকে গোল করেন মেসি। প্রথম দুটি গোল তাড়াতাড়ি পেলেও হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার জন্য মেসিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত। রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অ্যাটলেটিকোর জালে তৃতীয়বারের মতো বল পাঠান ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
গতকাল বার্সেলোনার এই টানা জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ার পরও স্বভাবসুলভভাবে মাটিতেই পা রেখেছেন মেসি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এই মুহূর্তে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি। গতকাল ৩-০ গোলের এই জয়ের পর স্প্যানিশ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মেসি বলেছেন, ‘অ্যাটলেটিকোর মতো একটা কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিততে পেরে আমি খুবই খুশি। তবে এই মুহূর্তে আমি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কথা মোটেই ভাবছি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। রিয়াল মাদ্রিদ আমাদের খুব কাছাকাছিই আছে। আর আমরা জানি, শিরোপার জন্য তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

বাহাত্তরের সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাধা কোথায়? by অজয় রায়

ই প্রশ্নটি আমাকে কিছু দিন ধরে কুরে কুরে খাচ্ছে। মাস কয়েক আগে দেশের উচ্চতম আদালত থেকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় '৭২-এর সংবিধান স্বতঃভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শীর্ষ আদালত সরকারকে '৭২-এর সংবিধান পুনর্মুদ্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে উচ্চতর আদালতের কিছু প্রত্যক্ষণ বা মন্তব্য রয়েছে। যেমন_ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ 'বাংলাদেশি' শব্দটি অক্ষুণ্ন রাখা 'বাঙালি' শব্দের স্থানে।

ড.ইউনূসের দুঃখবোধ এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা by ড. তারেক শামসুর রেহমান

ধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুঃখ পেয়েছেন। ডেনমার্কের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা টম হাইনেমানের প্রচারিত প্রতিবেদনটি নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক চলে, তাতে তিনি দুঃখ পেয়েছেন। কষ্টও পেয়েছেন। তবে তিনি লড়াই করতে চান না। ঢাকায় ফিরে এসে গত ১২ ডিসেম্বর তিনি সাংবাদিকদের ডেকে জানালেন, অভিযোগটি অসত্য। বলেছেন, এ অপপ্রচারে কারো উৎসাহ থাকতে পারে, যদিও তিনি খোলাসা করে বলেননি