Wednesday, April 30, 2014

পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’ by আলী ইমাম মজুমদার

রবীন্দ্রনাথ আমাদের সত্তায় এমনভাবে বিরাজমান যে এ থেকে বের হয়ে আসা কঠিন। তিনি রয়েছেন আমাদের আনন্দ, বেদনা, মিলন, বিরহ আর সংকটে। তাঁর বাণী আমাদের ভাবনাকে করে জাগ্রত। শাণিত হয় ভাষা। আর এরই জন্য বারবার আমরা ছুটে যাই রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির কাছে। তাঁর একটি ছোট্ট কবিতা ‘ভক্তিভাজন’। এ কবিতা থেকেই শিরোনামটির উদ্ধৃতি। প্রসঙ্গ পরে আলোচনায় আসবে।

তাজউদ্দীন কন্যার চোখে তখন জল

মেয়ে হিসেবে বাবা সম্পর্কে লেখা ভীষণ কষ্টের। বিশেষ করে যে বাবাকে হারাতে হয়েছে আমার কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে। ফলে ভাবাবেগ তো চলেই আসবে। তার মধ্যেও আমি ইতিহাসকে উপস্থাপনা করার প্রয়াস নিয়েছি। সেখানে ঐতিহাসিক তথ্যে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি একনিবিষ্ট হতে। পয়েন্ট অব রেফারেন্স টানতে। ভুলত্রুটি হতেই পারে কিন্তু আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’

শুকিয়ে যাচ্ছে তিস্তা সেচ প্রকল্প
রবীন্দ্রনাথ আমাদের সত্তায় এমনভাবে বিরাজমান যে এ থেকে বের হয়ে আসা কঠিন। তিনি রয়েছেন আমাদের আনন্দ, বেদনা, মিলন, বিরহ আর সংকটে। তাঁর বাণী আমাদের ভাবনাকে করে জাগ্রত। শাণিত হয় ভাষা। আর এরই জন্য বারবার আমরা ছুটে যাই রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির কাছে। তাঁর একটি ছোট্ট কবিতা ‘ভক্তিভাজন’। এ কবিতা থেকেই শিরোনামটির উদ্ধৃতি। প্রসঙ্গ পরে আলোচনায় আসবে। এ নিবন্ধে মূল আলোচ্য বিষয় তিস্তা। নদীটি দেশের উত্তরাঞ্চলের বাঁকে বাঁকে চললেও ছোট নয় মোটেই। আর বৈশাখ মাসে এতে হাঁটুজল থাকত না। পার হতে পারত না গরু আর গাড়ি। খরায় কিছুটা ক্ষীণস্রোতা হলেও প্রমত্তা ছিল এ নদী। হিমালয়ের একটি হিমবাহ এর উৎস। উৎসের ঠিকানা ভারতের সিকিম রাজ্য। সে রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ৩০০ কিলোমিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের এ নদীটি সব অর্থেই আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর আর বগুড়া জেলার প্রায় আড়াই কোটি লোক এর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ পথযাত্রা শেষ করে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে চিলমারী বন্দরের কাছে। এ নদীটিকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি সুন্দর সেচব্যবস্থা। গত বছর সেচ দেওয়া হয়েছিল ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর এবার ২৫ হাজার হেক্টরে থেমে গেছে সেচের আওতাধীন জমির পরিমাণ। অবশ্য সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে অনুরূপ আরেকটি সেচ প্রকল্প রয়েছে। জানা যায়, সিকিমে নির্মিত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
কিন্তু দুটো দেশ কী পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি এখন পর্যন্ত। ফলে উজানের দেশ ইচ্ছেমতো পানি প্রত্যাহারের সুযোগ পাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে ভাটির দেশ বাংলাদেশ। আর সে বঞ্চনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা মাঝেমধ্যে লক্ষণীয় হলেও তা তিমিরে মিলিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করতে সক্ষম হয়। সেবার তিস্তা নিয়ে কোনো চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ও পরের সরকারগুলোর এ বিষয়ে প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় এলে জনগণ বিশ্বাস করতে থাকে যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে। বিশ্বাস যৌক্তিক ছিল। এ সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা বিধানে ভারত সরকারকে সার্বিক নৈতিক ও বৈষয়িক সহায়তা দিয়ে চলেছে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের পণ্য আনা-নেওয়া করতে বাংলাদেশের স্থল ও নৌপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে উদারভাবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। এর কারণও সবারই জানা। ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হতে গিয়েও হয়নি। প্রস্তাবিত চুক্তি আপাতত হিমাগারে। চলমান লোকসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার

মোদি-হাওয়া কি বাংলাদেশেও ঝড় তুলবে?

জরিপ বলছে, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবার বিজেপি জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। অবশ্য বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে কংগ্রেসের পক্ষে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও কেউ কেউ বলছেন। তবে বিজেপির দিকেই পাল্লা ভারী। বলা হয়, ভারতে এখন ‘মোদি-হাওয়া’ চলছে। এটা উদ্বেগের, কারণ বিজেপির গায়ে একটা কালো দাগ আছে। তারা, এককথায় একটি সাম্প্রদায়িক দল। ‘পুশব্যাকের’ কথা তারা বেশ জোরেশোরেই বলছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি নিজের রাজ্য গুজরাটে চরম সাম্প্রদায়িক তৎপরতায় মূল ইন্ধনদাতারূপে চিহ্নিত। এখন প্রশ্ন হলো, ভারতের মতো অসাম্প্রদায়িক একটি দেশে যদি মোদি-হাওয়া স্থান করে নেয়, তাহলে কি তার ধাক্কা বাংলাদেশেও পড়তে পারে? যদিও আমাদের দেশে নির্বাচন একটা হয়ে গেছে এবং যেহেতু সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই বলা যায়, সামনে আবার নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও কি মোদি-হাওয়ার মতো ভবিষ্যতে ‘জামায়াতি-হাওয়া’ উঠতে পারে? এককথায় এর উত্তর হলো, না। ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। এ বিষয়ে একটু পরেই আসছি।
ভারতে মোদির প্রতি ঝোঁক ক্রমেই বাড়ছে। এটা বোঝা যায়, যখন দেখি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সৎভাই দলজিৎ সিং কোহলিও মোদির হাত ধরে দাঁড়িয়ে গেছেন। গত শুক্রবার অমৃতসরে তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস ভেতর থেকে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। এর আগের দিন আসামে ভোট দেওয়ার পর মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘মোদি-হওয়া’ বলে কিছু নেই, এটা গণমাধ্যমের সৃষ্টি। ভাইয়ের দলত্যাগে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। কিন্তু দলজিৎ বলছেন, কংগ্রেস তাঁর ভাই মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে যে ‘আচরণ’ করেছে, তাতে বিরক্ত হয়ে তিনি বিজেপিতে গেছেন। তবে দলজিৎ মুখে যা-ই বলুন, আদর্শিক কারণেই তিনি বিজেপিতে গেছেন। তিনি বিজেপির নেতা অনুপ জেটলির দর্শন পছন্দ করেন। এই আদর্শগত বিশ্বাস তাঁকে টেনে নিয়ে গেছে মোদির পাশে। কংগ্রেসের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ছেড়ে তিনি একটি সাম্প্রদায়িক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গণতন্ত্রমনা যে কেউ এতে দুশ্চিন্তায় পড়বেন। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম। যদিও আদালতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত হননি, কিন্তু মানুষের ধারণায় সব দায় তাঁর ওপরই বর্তায়। আরএসএসের সদস্য থাকার সময় থেকে মোদির খুব কাছের বন্ধু, গুজরাটের সাবেক মন্ত্রী অমিত শাহ সপ্তাহ দুয়েক আগে উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাংশে মোজাফফরনগরে নির্বাচনী জনসভায় হিন্দুদের ‘প্রতিশোধ’ গ্রহণের জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেখানে হিন্দু-মুসলিম রায়টে ৪০ জনের প্রাণহানির ঘটনার প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এভাবে উসকানি দেন। এ জন্য অবশ্য নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মোদির নির্বাচনী প্রচারের সাম্প্রদায়িক দিকটি প্রকটভাবেই সবার চোখে পড়ে। অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মোদি-ঝড় উঠল কেন? হয়তো ১০ বছর ধরে কংগ্রেস ক্ষমতায়, তাই তাদের ভুলত্রুটি, ব্যর্থতায় বিরক্ত হয়ে ভোটাররা বিরোধীদের দিকে ঝুঁকছেন। সেটা একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর ৬৭ বছরের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তাহলে আজ কেন সেখানে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? বিজেপি আগেও পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তখন নেতৃত্বে ছিলেন বাজপেয়ি, এল কে আদভানি প্রমুখ। তাঁরা বিজেপির মধ্যে অনেকটা উদারপন্থী ছিলেন। আর আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় এসেছে। কংগ্রেস সরকারের কিছু বড় ব্যর্থতা মোদির উত্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। ভারতের ভোটাররা দক্ষ অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংয়ের ওপর আস্থা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কী পেলেন তাঁরা? কংগ্রেস জোটের ১০ বছরে প্রবৃদ্ধি অর্ধেক কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ, চাকরির সুযোগ কমে গেছে। উপরন্তু রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা।

শিক্ষক কেন শিক্ষার্থীকে মারবেন?

৮ এপ্রিল প্রথম আলোর বিশাল বাংলা পাতায় প্রকাশিত ‘বেত্রাঘাতে ১৬ শিক্ষার্থী আহত’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বগুড়া শহর, শেরপুর উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও সদরে চারটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পিটুনিতে ১৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।’ কারণ অতি নগণ্য! ঠাকুরগাঁওয়ে টাকার জন্য স্কুল ইউনিফর্ম কিনতে না পারায় শিক্ষক এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে আহত করেছেন। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সম্রাট হোসেনকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত করেছেন খণ্ডকালীন এক শিক্ষক! সম্রাটের দোষ, ‘খণ্ডকালীন শিক্ষক’কে গল্পগুজব না করে পাঠদান করার জন্য অনুরোধ করেছিল সে। বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বিশ্বা দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় এবং কল্যাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষকেরা কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেন? এই একুশ শতকেও কেন বিদ্যালয়ে বেত থাকে? এ রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের মাথায় ইট মারা, শিকল দিয়ে মারা, চুল কেটে দেওয়া, বিবস্ত্র করা ইত্যাদি। নির্যাতনকারী শিক্ষকদের মধ্যে স্বয়ং প্রধান শিক্ষকও থাকেন। অথচ তাঁর দায়িত্ব হলো, কোনো শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে জখম না করেন, শাস্তি না দেন, তা দেখা এবং শিক্ষকদের সব কার্যক্রম শ্রেণীকক্ষে পাঠদান, অ্যাসেমব্লি, খেলাধুলা তত্ত্বাবধান করা। অথচ বগুড়ার ঘটনায় উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
বগুড়ার শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। সারা দেশেই কমবেশি তা ঘটে চলেছে। স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষকদের নির্মম নির্যাতনের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে পার্থক্য নেই। ছেলে শিক্ষার্থীদের মতো মেয়ে শিক্ষার্থীদেরও নির্যাতন করা হয়। সরকার বিদ্যালয়ে শাস্তি কমানোর জন্য বিধিবিধান করেছে। তার প্রয়োগ কতখানি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কতখানি সুফল পাচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো নজরদারি আছে কি? যদি তা না থাকে, তাহলে কেন নেই? তাহলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিধিবিধান করার কী অর্থ হয়? এ কথা সত্য যে কিছু কিছু শিক্ষার্থী খুব দুষ্টু ও চঞ্চলপ্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা শ্রেণীব্যবস্থাপনার কাজে বিঘ্ন ঘটায়, যে কারণে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু সে জন্য তাদের শারীরিক নির্যাতন করা কোনো কাজের কথা নয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শিক্ষকদের জানতে হবে, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। নির্যাতন ছাড়াই তাদের নেতিবাচক আচরণ থেকে নিবৃত্ত করার উপায় শিক্ষকদের জানতে হবে। শিক্ষককে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, কেন কোনো শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পরে আসে না বা পরতে পারে না, কেন সে খেলাধুলা করে না, কেন মনমরা, কেন অসুস্থ, কেন অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ভালোভাবে মেশে না বা মিশতে পারে না, কেন শ্রেণীর কাজে অংশ নিচ্ছে না, পরীক্ষায় ভালো ফল করছে না ইত্যাদি। যে শিক্ষকের নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তিনি কী করে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করবেন? যে শিক্ষক বেত্রাঘাত করে শিক্ষার্থীদের