Tuesday, November 5, 2024
প্রাণিসম্পদের প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প by মো. আল-আমিন
সূত্র জানায়, দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্টাডিটির আয় ও ব্যয় বিশ্লেষণ অধ্যায়ের টেবিলে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে দেখা যায়, প্রকল্প শেষে অর্থাৎ ৪ বছর পর পঞ্চম বছর আরও অতিরিক্ত ৩৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রকল্প থেকে আয় হবে ৬৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। একইভাবে পরবর্তী বছরগুলোতে অতিরিক্ত ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রতি বছর ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় হবে। কিন্তু এই আয় প্রকল্পের কোন কোন খাত থেকে কীভাবে হবে তার কোনো হিসাব প্রতিবেদনে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এই আয়ের জন্য প্রতি বছর অতিরিক্ত যে ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে তার সংস্থান কীভাবে হবে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সমীক্ষা প্রতিবেদনে নেই।
কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর তথ্যে থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরেও ঘাটতি থাকবে ৬২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এমন প্রেক্ষাপটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সিলিংয়ের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে কিছু উল্লেখ নেই।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের ৩টি কম্পোনেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম কম্পোনেন্টটি হলো- পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৭২ হাজার ২৭টি পরিবারকে অনুদান হিসাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী (গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ভেড়া ইত্যাদি) বিতরণ করা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্যবিমোচনের মূল ম্যান্ডেট হলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মডেলের আওতায় এই ধরনের কাজ করে থাকে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে উপকরণ সহায়তা দিয়ে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কতোখানি ফলপ্রসূ তার জন্য ক্ষুদ্রঋণ মডেলের সঙ্গে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ সমীক্ষায় উল্লেখ নেই।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পার্বত্য জেলার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে পার্বত্য জেলাগুলোর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা বা ঘাটতি এবং সরবরাহের তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্টাডি রিপোর্টে সারা দেশের দুধ, মাংস এবং ডিমের চাহিদা, উৎপাদন ও প্রাপ্যতার একটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় মাংস ও ডিমের উৎপাদন বেশি রয়েছে এবং দুধের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য এলাকার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, কবুতর ইত্যাদি বিতরণের যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয় না বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পের দ্বিতীয় কম্পোনেন্টটি হলো রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্ম আধুনিকীকরণ। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রতিষ্ঠান এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। তাই রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে করতে হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের তৃতীয় কম্পোনেন্টটি হলো বান্দরবান জেলায় একটি ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন করা। এই আইএলএসটি স্থাপনের বিষয়ে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে প্রস্তাব করা হলেও ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টের ডিমান্ড অ্যানালাইসিস অংশে বাংলাদেশ লাইভ স্টক ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে সেটি নেই। এসব ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটের চাহিদা রয়েছে, বর্তমানে প্রতি বছর কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। ফলে অসম্পূর্ণ ফিজিবিলিটি স্টাডির ভিত্তিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপিপিতে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কমিশন থেকে বেশ কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছে। ডিপিপি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে।
Monday, September 23, 2024
ধর্মঘটে অচল রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি
রাঙ্গামাটিতে সংঘর্ষে মামলা: তদন্তে কোর কমিটি
রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষে হতাহত, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কোর কমিটির মাধ্যমে তদন্ত চালানো হবে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খান। এই কোর কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এবং প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। অপরদিকে রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির নবাগত পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। এই দুইটি মামলার আলোকেই রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, যারাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদেরকে কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সকলকেই ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে খাগড়াছড়ি শহরের বেশকিছু স্থানে অটোরিকশা চলাচল করলেও রাঙ্গামাটি শহরের অভ্যন্তরেও কোনো যানবাহন চলছে না। এতে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক সড়কের যান চলাচল। খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে কাঁচামাল বহনকারী গাড়ি। আসতে পারছে না ফুয়েল চালিত গাড়িও। খাগড়াছড়ি বাজারে দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতাশূন্য দিন কাটছে অনেকের।
খাগড়াছড়ি বাজারে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবজি, মাছসহ বিভিন্ন দোকানপাট খালি পড়ে আছে। অবরোধে গাড়ি চলছে না তাই তারা কোনো মালামাল আনতে পারছেন না। খাগড়াছড়ির মাছ ব্যবসায়ী রিয়াদ বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাগড়াছড়িতে মাছ আনা হতো। অবরোধে কোনো গাড়ি চলছে না বিধায় কোনো মাছ আনা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী ভোক্তাসহ সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, খাগড়াছড়িতে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি ভরে সবজি আনা হতো। এখন সবজি আনা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অনেক কাঁচামাল পচে যাচ্ছে।
মামুন হত্যার ঘটনায় মামলা
এদিকে খাগড়াছড়িতে আলোচিত মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ১৯শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের স্ত্রী মুক্তা আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামি হলো- গাড়িচালক মো. শাকিল (২৭), মো. রফিকুল আলম (৫৬) ও মো. দিদারুল আলম (৪৮)। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ১৯শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের স্ত্রী মুক্তা আক্তার মামলাটি করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, বর্তমানে খাগড়াছড়ি অনেক শান্ত রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি মিলে শান্তি কমিটি করে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি পাহাড়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে আমরা আর সেটার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা সবাই মিলেমিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে চলতে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
পাহাড়ের ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে ৭২ ঘণ্টার এ অবরোধের ডাক দেয়া হয়। কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন নামের সংগঠন। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টও (ইউপিডিএফ) অবরোধে সমর্থন দেয়। শনিবার সকাল ৬টা থেকে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মো. আবদুল মোমিন বলেন, পরিবহন শ্রমিক, সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, তাদের কোনো গাড়ি চলাচল করছে না। এতে গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত অনেক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, অবরোধের কারণে জেলায় কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। শহরে দোকানপাট এবং গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহলে রয়েছে।

Saturday, September 21, 2024
অশান্ত পাহাড়, নিহত ৪
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানিয়েছেন- খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালির সংঘর্ষের রেশ রাঙ্গামাটি শহরেও ছড়িয়েছে। এর জেরে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল সকালে আগাম ঘোষণা ছাড়াই কয়েক হাজার পাহাড়ি যুবক বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের জিমনেসিয়াম হয়ে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপা বাজারে এসে মসজিদ, পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে থাকে। এতে শহর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাঙালিরা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে পাহাড়িরা পিছু হটে। রাস্তায় চলাচলকারী বাস, ট্রাক ও ট্যাক্সিতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। শহরের হ্যাপির মোড়কে কেন্দ্র করে এর দু’দিকে অবস্থান নেয় পাহাড়ি ও বাঙালিরা। পরে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়পক্ষ শহরের বনরূপা, হ্যাপির মোড়, কালিন্দিপুর, রাজবাড়ী, স্টেডিয়াম এলাকা, কল্যাণপুর, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অন্তত ৩০টি যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তার নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। আহতদের মধ্যে বাঙ্গালিদের বেশ কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়িরা মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০-১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সাদিয়া আক্তার। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল উদ্দিন জানান, সকালে পাহাড়িদের একটি মিছিল বনরূপায় এসে ফিরে যাওয়ার সময় বাঙালিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপরই বাঙালি ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের পাল্টা ধাওয়া দেয়।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্ত কর্র্তৃক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লারমা স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি’র সদস্যরা টহলে রয়েছে। বর্তমানে দীঘিনালায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে: বুধবার খাগড়াছড়িতে চোর সন্দেহে বাঙালি যুবক মোহাম্মদ মামুন (৩০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মামুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। পূর্বনির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আসা সাধারণ বাঙালি শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। এতে আন্দোলনকারী সাধারণ বাঙালি শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন বাঙালি শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে বোয়ালখালী বাজার এলাকা ও আশপাশ এলাকা থেকে বাঙালি লোকজন জড়ো হয় বাসটার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্তে। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি লোকজনও জড়ো হতে থাকে লারমা স্কয়ারে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন লারমা স্কয়ার থেকে বাঙালিদের দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম আতঙ্ক এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আর তা ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা জুড়ে। কিছুক্ষণ পরেই দুর্বৃত্তরা লারমা স্কয়ারে সড়ক ও জনপদের জায়গায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দোকানপাটে আগুন দেয়। পরে পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় যখন বেসামাল অবস্থা, তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামেন। ততক্ষণে মার্কেটের প্রায় সকল দোকানপাট পুড়ে যায়। মার্কেটটিতে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়পক্ষের দোকানপাট ছিল। তাদের মধ্যে সখ্যতাও ছিল বেশ।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতভর জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সদরসহ পুরো জেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০)। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের নারানখখাইয়া, স্বনির্ভর এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরমধ্যে ধনঞ্জয় চাকমা দীঘিনালায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে মারা যান। অপর ২ জনকে আহত অবস্থায় রাতে খাগড়াছড়ি সদর থেকে হাসপাতালে আনা হয়। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ১৬ জনকে আনা হয়। তারা বেশির ভাগই সদর উপজেলা থেকে এসেছেন। এরমধ্যে ৩ জন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। বর্তমানে হাসপাতালে আরও ৯ জন চিকিৎসাধীন। রাতেই ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন। আহত বাকি ৯ পাহাড়িকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে আগুন লাগার ঘটনাস্থল লারমা স্কয়ার থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব ছিল মাত্র ৫০০ মিটারের কাছাকাছি। খুব কাছে থেকেও ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে না পৌঁছায় আগুনে আরও কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঙালি ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বেশ কিছু ফেসবুক আইডি থেকে দীঘিনালায় সংঘাত ঘটানোর উগ্রতা ছড়ানো হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এ ছাড়া যদি সমন্বিত কোনো সভা বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হতো তাহলে অবশ্যই এই সংঘাত ও ক্ষতি এড়ানো যেতো। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় পরস্পর পরস্পরকে দুষছেন। দীঘিনালা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. নুরুল হক বলেন, ‘দীঘিনালায় একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। যা কখনো কাম্য নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষ মতবিনিময় সভা: গতকাল বিকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে এতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার, মারমা প্রতিনিধি ম্রাসাথোয়াই মারমা, চাকমা প্রতিনিধি অনিমেষ চাকমা এবং ত্রিপুরা প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময়ে বক্তারা ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হতাহতের ঘটনায় খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের উপর জোর দেন। সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, আপনারা কেউ আতঙ্কিত হবেন না, গুজবে কান দিবেন না। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে দীঘিনালায় আমরা উভয় পক্ষের ৪০ জন সদস্যকে নিয়ে একটি শান্তি কমিটি গঠন করেছি। আশা করি পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা সরকারি সহায়তার আওতায় আনবো।
রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, প্রশাসন যৌথবাহিনী কাজ করছে। এ ছাড়া স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা করা হয়েছে। সকলে মিলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। সেনাবাহিনী সবসময় জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন্ন রাখতে আমরা কাজ করছি। ফেসবুক গুজব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আপনারা গুজবে পা দেবেন না। গুজব থেকে দূরে থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
Friday, August 23, 2019
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা টহলে হামলা: সন্দেহের তীর কোন দিকে

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসিকে বলেন, তিনি এই হামলার ঘটনায় হতভম্ব হয়েছেন।
“শান্তি প্রক্রিয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরণের হামলার কথা আমি শুনিনি…হঠাৎ করে এই অ্যামবুশ,” বলেন ব্রিগেডিয়ার হোসেন যিনি নব্বইয়ের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন ব্রিগেড কম্যান্ডার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সেনাবাহিনীর ওপর বড় কোন হামলার কথা শোনা যায়নি।
তবে, গত প্রায় বছর-খানেক যাবত পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে পরপর বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের জুনে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং তার পরদিনই আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর গত কয়েক মাসে পরপর আরো কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেসবের পেছনে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইকেই দায়ী করা হয়।
ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এখন কারা কোন উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করলো?
রোববারের ঘটনা সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক লাইনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে কাউকেই সন্দেহ করা হয়নি।
তবে বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে একাধিক পর্যবেক্ষক অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন আরাকান আর্মি নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি রোববারের হামলা সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি হাতে পেয়েছেন যা দেখে তার মনে হয়েছে হামলাকারীরা দেশের বাইরে থেকে আসা।
“তাদের (হামলাকারীদের) হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল যেগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের হাতে দেখা যায়, তাদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল, এবং গড়ন দেখে মনে হয়না যে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কোনো একটি সদস্য।”
রাঙ্গামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহি বলেন, রাজস্থলী নামে যে এলাকায় এই হামলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা কেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল।
বিবিসিকে মি. এলাহি বলেন, “বছর দুই আগে রাজস্থলী উপজেলা থেকেই আরাকান আর্মির অন্যতম শীর্ষ নেতা রেনিন সোয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবং সেখানে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুয়েকটি দলের উপস্থিতির কথা আমরা জানি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মগ লিবারেশন পার্টি নামে নতুন একটি দলের নামও শোনা যাচ্ছে।”
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, আরকান আর্মি তাদের হয়ে লড়াই করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা থেকে ‘রিক্রুট’ করার চেষ্টা করছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, আরাকানের বৌদ্ধদের সাথে পার্বত্য এলাকার কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর চেহারা এবং গড়নে অনেক মিল রয়েছে। “অনেক সময় তাদের দেখে আলাদা করা কঠিন।”
কিন্তু যোদ্ধা রিক্রুট করার সন্দেহ যদি সঠিকও হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করার কারণ কী থাকতে পারে?
ব্রিগেডিয়ার হোসেন মনে করেন, এটা ইচ্ছাকৃত উস্কানি হতে পারে।
“উস্কানি দিলে যদি সেনাবাহিনী বড় কোনো অভিযান শুরু করে তাহলে এই এলাকা থেকে স্থানীয় যুবকদের রিক্রুট করা তাদের (আরাকান আর্মির) জন্য সুবিধা হবে।
তবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্রিগেডিয়ার হোসেন। “কিছুদিন আগে আরাকান আর্মির কিছু সদস্যকে ধরে মিয়ানমারের হাতে তুলে দেওযা হয়েছিল, তার বদলা হিসাবেও এই হামলা হতে পারে।”
সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, যদি এটা উস্কানি হয় এবং সেনাবাহিনী যদি সেই উস্কানিতে সাড়া দেয় তাহরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন না হলেও উৎকণ্ঠার অনেক কারণ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল করেছে। এই ঘটনার পর তারা যদি আবার শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে আরেক ধরণের সমস্যা হতে পারে।
রোববারের হামলার পর সম্পৃক্তদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হতে পারে এমন আশংকায় রাজস্থলী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ ছিল সোমবার।
রাজস্থলী উপজেলার চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বিবিসিকে বলেছেন, ভয়ে অনেক লোক গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।
“এলাকায় ভয়ভীতি বিরাজ করছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পালিয়ে আছে তারা। এখন অশক্ত বয়স্ক মানুষেরাই কেবল আছে এলাকায়।”
Friday, June 15, 2018
কল্পনা চাকমা ইস্যুতে রহস্যময় আচরণ by কাজী সোহাগ
সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১লা আগস্ট সে যোগাযোগ করেছিল। কল্পনা চাকমার অপহরণ ঘটনা নিয়ে মামলায় বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ১১ই জুন রাত একটায় লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসের নেতৃত্বে একদল সৈনিক কল্পনা চাকমাসহ তার দুই ভাইকে অপহরণ করে। তার ভাইয়েরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ২৩ বছর বয়সী কল্পনা চাকমাকে গুম করা হয়েছে। কালিন্দী কুমার চাকমা ঘটনার পরদিন ১২ই জুন বাঘাইছড়ি থানায় যে মামলা করে (মামলা নং-২/৯৬১, তারিখ-১২.০৬.১৯৯৬ ইং, ধারা-৩৪৬) সেখানে কিছু অপরিচিত লোকের কথা থাকলেও সেনাবাহিনী এবং গোলাগুলির কথা বলা হয়নি। অথচ বিশেষ ওই মহলের ইন্ধনে ১৩ই জুন লালবিহারি চাকমা দাবি করেন যে, রাতের আঁধারে কিংবা টর্চ লাইটের আলোয় লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসসহ তিনজন সেনা সদস্যকে চিনতে পেরেছে। মামলায় এসব কথা যোগ করা হলে কয়েক দফা তদন্তে এর সত্যতা পায়নি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মানবজমিনকে জানান, লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস ঘটনার দিন সকালে নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য উগলছড়ি ক্যাম্পে আসেন। যা কল্পনা চাকমার বাড়ির কাছেই ছিল। আর সেই ক্যাম্পে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস একা নয়, ক্যাম্পে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন মেজরসহ আরো দু’জন অফিসার এবং প্রায় ৯০ জন সৈনিক ছিল। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার জ্ঞানময় চাকমা, পুলিশের সুবেদার ইদ্রিস আলীসহ ৬ জন পুলিশ কনস্টেবল ওইদিন উগলছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাত যাপন করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এতজন লোকের মাঝে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস কয়েকজন সৈনিক নিয়ে একটা অপহরণের ঘটনা ঘটালো, গোলাগুলি করলো অথচ কেউ গোলাগুলির শব্দ শুনলো না বা চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শুনলো না? অথচ কে না জানে পার্বত্য এলাকার রাতের নিস্তব্ধ নিরিবিলি পরিবেশে এ ধরনের শব্দ অনেকদূর পর্যন্ত শুনতে পাওয়ার কথা। বলা হয়, কল্পনা চাকমার ভাইদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।
সেক্ষেত্রে কারও গায়ে গুলির আঁচড় পর্যন্ত নেই কেন? তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশ্ন আসতে পারে, সেনা ক্যাম্পে বেশ কয়েকজন অফিসার থাকতে কেন লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসকে নিয়ে এই অপপ্রচার। আসলে লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস-এর ওপরে শান্তিবাহিনীর ক্ষোভ অনেক পুরনো। সে সময়ে বাঘাইছড়ি এলাকায় অনেক সফল অভিযানের নায়ক তিনি। একারণেই তার ওপরে প্রতিশোধ নিতেই এ অপহরণ নাটকের দৃশ্যায়ন করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কল্পনা চাকমা ইস্যুতে বছরের পর বছর লাভবান হচ্ছেন এমন পাহাড়ি সংগঠনগুলো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আড়াল ও সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাদের এ প্রচেষ্টা।
Tuesday, May 29, 2018
পাহাড়ে ফের ব্রাশ ফায়ার, নিহত ৩ by আলমগীর মানিক

গতকাল সকাল ৭টার দিকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্যদের ওপর অতর্কিতে ব্রাশ ফায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলেই স্মৃতি চাকমা (৫০), অতল চাকমা (৩০) ও সঞ্জীব চাকমা (৩০) নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সঞ্জীব চাকমা গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সদস্য। এই ঘটনায় কানন চাকমা নামে আরো এক ইউপিডিএফ কর্মী আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল সকালে উভয়পক্ষের মাঝে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আনোয়ার জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূল ইউপিডিএফ এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ভোর রাত ৪টার দিকে উভয়পক্ষের মাঝে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সকালে গোলাগুলির ঘটনায় মূল ইউপিডিএফ’র তিন কর্মী নিহত হয় এবং কানন চাকমা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিরণ চাকমা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তারা এ ঘটনার জন্য সংস্কারপন্থি (এমএন লারমা গ্রুপ) জেএসএস এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে (বর্মা গ্রুপ) দায়ী করেছে।
প্রসীদপন্থি ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র মাইকেল চাকমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করে ইউপিডিএফ-কে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। গঠনলগ্ন থেকেই ইউপিডিএফ’র উপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো অপশক্তিই ইউপিডিএফ’র অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইউপিডিএফ তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’র (বর্মা গ্রুপ) মুখপাত্র লিটন চাকমা। তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের নির্মম ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।
এদিকে জেএসএস সংস্কার’র (এমএন লারমা গ্রুপ) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ইউপিডিএফ গত ছয় মাস ধরে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর যে নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আজকের ঘটনা তাদের কর্মের ফল। এটা তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরা কাউকে প্রত্যাঘাত করেনি। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যৌথবাহিনী এলাকা ঘিরে রেখেছে।
Saturday, May 26, 2018
রাঙ্গামাটিতে পাচার হচ্ছে বনের চারাগাছ by আলমগীর মানিক

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের এই সময়টাতে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় মানিকছড়িতে নৌ-যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে কয়েকমাস পর্যন্ত উক্ত এলাকা থেকে জ্বালানি কাঠভর্তি কোনো গাড়ি যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারপরও মানিকছড়ি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪৫টি পর্যন্ত জ্বালানি কাঠভর্তি গাড়ি রাঙ্গুনিয়া-রাউজানের ইটের ভাটাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টির খোঁজ নিতে গিয়ে কেঁচু খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা। এলাকাবাসীরে সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে মানিকছড়ির ৫ থেকে সাতজনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অধীনস্থ কুতুকছড়ি-ঘিলাছড়ির বনাঞ্চলের চারা গাছগুলো কেটে জ্বালানি কাঠের নাম করে পাচার করা হচ্ছে অবাধে।
সরজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র পরিলক্ষিত করা গেছে। বেলা ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সময়ে কুতুকছড়ির নিকটস্থ খামার পাড়া, বোধিপুর ও কেসিং এই তিন এলাকা থেকে কাঠ ভর্তি করে একের একের জিপ গাড়ি মানিকছড়ির মুখে অবস্থান করে। পরে সেখান থেকে টিপি প্রদর্শন করে অন্তত দুইশো ফুট জ্বালানি কাঠভর্তি প্রতিটি জিপ গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে ইটভাটার গন্তব্যে। এই ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, আমরা বনবিভাগ থেকে বৈধভাবে টিপি সংগ্রহ করে সেটির মাধ্যমেই ব্যবসা করছি। বৈধ ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানিয়েছেন, সদর রেঞ্জের অথরিটিতে এই রুট থেকে জ্বালানি কাঠ ভর্তি জিপ গাড়ি ছাড়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ চারাগাছ কর্তন করে জ্বালানি কাঠ হিসেবে পাচার করা হচ্ছে বৈধ দেখিয়ে। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা বিসিক শিল্পনগরী মাঠ থেকে জ্বালানি কাঠ পরিবহনের জন্য টিপি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি জানান, আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি টিপি দিয়েছি। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি টিপির বিপরীতে জ্বালানি কাঠ নেয়ার নিয়ম রয়েছে ৮০ সিএফটি। কিন্তু মানিকছড়ি চেকপোস্ট দিয়ে অতিক্রম করা জিপগুলোতে ১৭০ থেকে ২শ’ ফুট পর্যন্ত জ্বালানি কাঠ ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি হচ্ছে কয়েকটি রুটের অন্তস্থল। এই রুটটি দিয়ে পাচার হওয়া জ্বালানি কাঠবাহী জিপ গাড়িগুলো থেকে প্রতিরাতে আদায় করা হয় অন্তত ৪ হাজার ৬ শত টাকা করে। সংশ্লিষ্টদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে চলা ৭ জনের সিন্ডিকেট চক্র এসব ক্ষুদ্র জ্বালানি কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি এই টাকাটি আদায় করে। তাদের হিসাবমতে আদায়কৃত এই টাকার একটি বড় অংশই (১৮০০/১০০০) আঞ্চলিক প্রধান দুটি দলকে দিতে হয়। এ ছাড়াও আরো অন্তত সাতটি খাতে যথাক্রমে, ৫০০, ১০০, ৩০০, ৫০০, ১০০, ১০০, ২০০ টাকা মিলে সর্বমোট ১৮শ টাকা। এই বিষয়ে জানতে সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রিটন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। অপরদিকে মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইউছুপ বলেন, আমাদের পুলিশের কেউ এই ধরনের টাকা-পয়সার ব্যাপারে জড়িত নয়। এই বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোনো তথ্যও নেই। এদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্র
জানিয়েছে, কুতুকছড়ির কেসিং, খামার পাড়া, বোধিপুরসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মণ চারাগাছ মজুদ করে রেখেছে সেই একই সিন্ডিকেট চক্র। জানাগেছে, স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্র কর্তৃক অবৈধভাবে জ্বালানি কাঠ মজুদ করে রাখলে সেখানে বনবিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে সেসব কাঠ পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বনবিভাগ বিশেষ কাগজ টিপি ইস্যু করে। এই টিপির মাধ্যমেই প্রতিটি জিপ বা চাঁদের গাড়িতে করে সর্বোচ্চ ৮০ সিএফটি জ্বালানি কাঠ পরিবহন করতে পারে সংশ্লিষ্ট টিপি বহনকারী ব্যবসায়ী। কিন্তু বর্তমানে মানিকছড়ির বিসিক এলাকাকে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টিপির বিপরীতে উক্ত এলাকায় সরজমিনে গিয়ে কোনো কাঠের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেখা গেছে সেই খামার পাড়া, বোধিপুর ও কেসিং এলাকা থেকে এই ১৭০ থেকে ২২০ সিএফটি কাঠ ভর্তি জিপ গাড়িগুলো তথাকথিত টিপি প্রদর্শন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই অত্রাঞ্চলের পাহাড়গুলো ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হবে।
Tuesday, May 8, 2018
পাহাড়ে আরো হানাহানির শঙ্কা by কাজী সোহাগ

৩রা মে জেএসএস (সংস্কার) সমর্থিত নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে প্রকাশ্যে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয় আরো ৫ জনকে। নিহতরা হলেন- ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা, জেএসএস (সংস্কার) এর সদস্য প্রিয় চাকমা, সুজন চাকমা, সেতু লাল চাকমা, বাঙালি মাইক্রোবাস চালক সজীব হাওলাদার। ওই ঘটনায় ৮ জন গুরুতর আহত হন। আরো খুনের শঙ্কা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মূলত খুন হয়েছেন দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। ওই ঘটনার পর অপর শীর্ষ নেতারা নিজেদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন। কেউ বা আবার নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় হানাহানির শিকার হতে পারেন পাহাড়ি সংগঠনের মাঠের নেতাকর্মীরা।
শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ও এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গ্রুপগুলোর মধ্যে হানাহানির শঙ্কা বেড়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আরো সংঘাতের শঙ্কার কারণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশিসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ১৫ই নভেম্বর ইউপিডিএফ দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর মূলত পাহাড়ে হানাহানি বেড়ে যায়। এর মূল উদ্দেশ্য চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার আর জাতীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে রাঙামাটিতে জেএসএস সংস্কার নেতা শক্তিমান চাকমা সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। এই আঙ্গিকে বিচার করলে নানিয়ারচরের আলোচিত দুই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল রহস্য সমাধানে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। নানিয়ারচরের সামপ্রতিক দুই হত্যাকাণ্ডের পরপরই জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের পক্ষ থেকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপকে দায়ী করা হয়। পার্বত্য জেলা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন জানিয়েছে, পাহাড়ে কোনো রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটলে টক-শো থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কেউ কেউ বলে থাকেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আসলে এটা ঠিক নয়। শান্তিচুক্তি ছিল দুই পক্ষের চুক্তি। তাই এটা বাস্তবায়ন শুধু সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। বলা হয়, জেএসএস অস্ত্র জমা দিয়েছে। তাহলে এখন যেসব অস্ত্র দিয়ে খুনোখুনি হচ্ছে এসব কোথা থেকে এলো। প্রায় প্রতিদিনই হাজার হাজার রাউন্ড গোলাগুলি হচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এসবের আসলে সোর্স কি? কারা জড়িত? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর সন্তু লারমার কাছে নেই। আর এ ধরনের প্রশ্নও তাকে কেউ কখনও করে না। তাহলে কি তারা সব অস্ত্র জমা দেয়নি? সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে হবে। যুক্তি তুলে ধরে তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময় এখানে প্রার্থী পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ইউপিডিএফ, জেএসএস রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত করেনি। তারা আসলে পার্বত্য এলাকায় বিরাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানো না হলে এখানে টার্গেট কিলিং চলতেই থাকবে। এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তিন পার্বত্য জেলায় উপজাতি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাছে তিন হাজারের বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে এম-১৬ (আমেরিকা ও চাইনিজ), একে-৪৭, একে-২২, লাইট মেশিনগান, এম-৪, একে-৫৬, একে-৮১, এম-৩৩সহ স্নাইপার রাইফেলও রয়েছে। সংগঠনগুলোতে রয়েছে আর্ম ক্যাডার ও সেমি আর্ম ক্যাডার বাহিনী। এর মধ্যে আর্ম ক্যাডারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। অন্যদিকে সেমি আর্ম ক্যাডারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। সেমি আর্ম ক্যাডাররা অস্ত্র প্রশিক্ষিত। তারা ভবিষ্যতে সংগঠনগুলোর জন্য কাজে লাগে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীসহ অন্য বাহিনীর ক্যাম্পগুলো সরিয়ে নেয়ার পর থেকে পার্বত্য জেলাগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পার্বত্য চুক্তির আগে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের ৫৫২টি ক্যাম্প ছিল। বর্তমানে রয়েছে ২১৮টি ক্যাম্প।
Monday, May 7, 2018
নানিয়ারচর মার্ডার: চারদিনেও মামলা হয়নি ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু আজ by আলমগীর মানিক

রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম রেঞ্জের জিওসি। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল রেকি করাসহ স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়েছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
পক্ষান্তরে সোম ও মঙ্গলবার পার্বত্য তিন জেলায় ৪৮ ঘণ্টার টানা হরতাল কর্মসূচির সমর্থনে গতকাল, ঝটিকা মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। তারা অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারসহ অপহৃত তিন বাঙালি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেও কোনো মামলা না হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে এখন পর্যন্ত কেন মামলা হচ্ছে না’ বিষয়টি বোধগম্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, মামলার ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হবে কি না? প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।
তার আগে, শনিবার নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, পরপর দুটি ঘটনায় নিহত নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা গ্রুপ) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ নিহত অন্যদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মামলা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু তারা মামলা দায়ের করবে কি না এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, শনিবারের মধ্যে যদি ভিকটিমদের পরিবার মামলা না করে তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। দুদিনে ৬ জনকে হত্যার পর সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। তবে পুরো নানিয়ারচর এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে গত ৩রা এপ্রিল নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা চেয়্যারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতি। মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটিতে কোনো মামলা করা হলে সেই আসামিদের পক্ষে রাঙ্গামাটি বারের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবে না।
পাহাড়ের অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাজাজি, গুম-খুন, অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী আঞ্চলিক দল জেএসএস, ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। এর আগে বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে রোববার পার্বত্য চট্টগ্রামে কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে, বিকালে রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই হরতাল কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমধিকার আন্দোলন। দলটির জেলা সভাপতি ইউনুছ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর মোল্লার নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসাইন সাকিব বলেন, বাঙালি গাড়ি চালক সজীব হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মানিকছড়ি থেকে অপহৃত তিন বাঙালিকে উদ্ধার ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী আঞ্চলিক দল জেএসএস-ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ এই তিন দফা দাবিতে সোমবার পাহাড়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে বাঙালি ছাত্র পরিষদ।
এদিকে পাহাড়ের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উদ্যোগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটিরর কেন্দ্রীয় কমিটি সংবাদমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও জনগণকে শান্ত থেকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলাপূর্বক পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
Saturday, May 5, 2018
পাহাড় অশান্ত, ব্রাশফায়ার, নিহত ৫: শেষকৃত্যে যাচ্ছিলেন ওরা

বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এ সময় তাকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শক্তিমানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গতকাল দুপুরে ব্রাশফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। বিভুরঞ্জন চাকমা বলেন, শক্তিমানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মী খাগড়াছড়ি থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে রাঙামাটির নানিয়ারচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে বেতছড়ি এলাকায় তাদের গাড়িতে ‘ব্রাশফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফের গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা (৪৮), জনসংহতি সমিতির সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির (এমএন লারমা) মহালছড়ি শাখার সভাপতি সুজন চাকমা (৩২) এবং সদস্য তনয় চাকমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। মাইক্রোবাসের চালক মো. সজীব (৩৬) এবং যুব সমিতির (এমএন লারমা) সদস্য রবিন চাকমা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তপন জ্যোতি চাকমাকে বহন করা মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে গুলি করলে চালক গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় বিভক্ত আরো দু’অস্ত্রধারী হামলাকারী গ্রুপ সে গাড়ি লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এ সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। হাসপাতালে নেয়া পথে মারা যায় আরো ২ জন। এ ঘটনার জন্য সংগঠনটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করছে।
রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল লতিফ ও খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো জানান, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে এক মাইক্রোচালক ও ১ জন উপজাতীয় ব্যক্তির লাশ আনা হয়েছে। এ সময় আহত আরো ৩ জনকে খাগড়াছড়িতে এবং গুরুতর আরো ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, হতাহতদের ব্যাপারে সরজমিনে দেখতে রাঙামাটি সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপি মো. জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওয়ানা দিয়েছে। তারা ফিরে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।
ওদিকে ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির বেশ কয়েকটি এলাকায় পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফসহ সংস্কারপন্থি জেএসএস(এমএন) এর ব্যাপক বন্দুকযুদ্বের ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তা বাহিনী-গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে পাহাড়ের অনেকগুলো স্থানে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
Friday, May 4, 2018
রাঙ্গামাটিতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটার সময় নিহত চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুইটি গাড়ি দিয়ে পাহারার মাধ্যমে লাশটি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান নিহতকে একনজর দেখার জন্য। এসময় অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার একমাত্র মেয়ে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মেঘা চাকমাকে তার সহকর্মীরা নিয়ে আসলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ছদ্মবেশী তিন পাহাড়ি যুবক হাতে তিনটি ব্যাগ নিয়ে উপজেলা পরিষদের নিচে অবস্থান নেয়। এসময় বেলা এগারোটার সময় নিজ বাসা থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে আসলে সহকর্মীসহ চেয়ারম্যানের ওপর গুলি চালায় ছদ্মবেশী তিন যুবক। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সাধারণের কাতারে মিশে সটকে পড়ে উক্ত তিন যুবক। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাকে বহন করা মোটরসাইকেল চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে পুরো শরীরে অন্তত ২০টি বুলেট বিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমানকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপরজনকে প্রাথমিক সাপোর্ট দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Friday, April 13, 2018
রাঙ্গামাটিতে বিজু উৎসব by আলমগীর মানিক

Saturday, March 31, 2018
কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে অভাবনীয় সাফল্য by আলমগীর মানিক

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিগত বছরের চেয়ে অন্তত এককোটি টাকা বেশি অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি বিএফডিসিতে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদের ইতিহাসে রাজস্ব আয়ের এই হার হবে গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। মৎস্য ব্যবস্থাপনায় বিএফডিসি কর্তৃক বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে হ্রদের মৎস্য উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই বিগত কয়েক বছরের অতীত রেকর্ড অতিক্রম করেছে কাপ্তাই হ্রদের সার্বিক চিত্র।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএফডিসি ব্যবস্থাপনায় মৎস্য প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও পাচার রোধ, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তি এবং অভয়াশ্রমে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। অথচ হ্রদ সৃষ্টির পর প্রথম কয়েক বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করে বিগত কয়েক বছর এই হ্রদে মৎস্য উৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছিল স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্যজীবী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল। সূত্র মতে, এ বছর সাফল্যের যে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হতো যদি বিগত মওসুমে পাহাড়ধসের মতো বিপর্যয় বা কাপ্তাই বাঁধে পানি অপসারণের হার নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি না হতো।
মৎস্যজীবীরা জানান, পাহাড়ধসের কারণে হ্রদের পানিতে যে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা দেখা দিয়েছে; তথা জেলেদের জাল প্রক্ষেপণে স্রোতের যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাতে সবাই মনে করেছিলেন এবার মাছ ব্যবসা লাটে উঠবে। কিন্তু সবার ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো বেশি ওজনের কার্প জাতীয় মাছের আমদানি বৃদ্ধি এবং বিপণন ব্যবস্থায় দুর্নীতি অপনোদন।
বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদের বিগত বছরগুলোর তুলনায় বিপুল পরিমাণ মাছ আহরিত হচ্ছে। কারণ হিসেবে জেলেরা জানিয়েছেন, বিগত বছরে গণহারে সৃষ্ট অবৈধ ঝাঁক অপসারণ, কঠোর নজরদারি, ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধি করায় তদুপরি তাদের সার্বিক সহযোগিতার ফলে মাছ আহরণ বন্ধ মৌসুমে মা মাছ নির্ঝঞ্ঝাটে ডিম ছেড়েছে কাপ্তাই হ্রদে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি পরিমাণে বড় মাছ বিশেষ করে রুই, কাতাল, মৃগেল, কালিবাউস, চিতল, বোয়াল, বাচা-পাবদাসহ ছয় ইঞ্চিরও বেশি পরিমাপের চাপিলা মাছ ধরা পড়ছে জালে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিএফডিসি’র সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টন মাছ আহরিত হলেও রাঙ্গামাটি বিএফডিসি তথা মৎস্য অবতরণ ঘাটে মাছ আসছে গড়ে ১৮ থেকে ২০ টন। বাকি মাছগুলো স্থানীয় বাজারসহ নানা স্থান দিয়ে অন্যত্র পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বল্পমূল্যে মাছ সংগ্রহ করতে পারছেন এবং এ অঞ্চলে আগত পর্যটকরাও কাপ্তাই হ্রদের মাছগুলোর স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন সাধ্যের মধ্যেই।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)র রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নৌ-বাহিনীর কমান্ডার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এছর রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে অন্যান্য বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সময়োগযোগী পদক্ষেপের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, আমাদের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে অন্তত দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। কারণ হিসেবে কমান্ডার আসাদ উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা দেশের সমতল এলাকা থেকে কার্প জাতীয় মাছের পোনা সংগ্রহ করে রাঙ্গামাটিতে এনে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করতাম। এতে করে প্রায় সময় পোনার একটি অংশ পরিবহনেই মারা যেত, আবার আরেকটি অংশ হ্রদের পানিতে অবমুক্তের কয়েকদিনের মধ্যেই মরে ভেসে উঠতো। সেই বিষয়টি সার্বিকভাবে অনুধাবন করেই সরকার রাঙ্গামাটিতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ দেশি প্রযুক্তিতে পোনা উৎপাদন কেন্দ্র তথা পূর্ণাঙ্গ হ্যাচারি স্থাপন করেছে। জেলার লংগদু উপজেলাধীন মারিশ্যাচর এলাকায় স্থাপিত এই হ্যাচারিতে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদনে ইতিমধ্যেই আমরা আশানুরূপ সফলতা অর্জন করেছি। এই হ্যাচারির মাধ্যমেই আমরা বর্তমানে বছরে ৬০ টন মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারছি। তিনি বলেন, আমরা বাহির থেকে ক্রয় করে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টন পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করলেও এ বছর আমাদের নিজস্ব হ্যাচারিতে উৎপাদিত আগের ক্রয় করার চেয়ে দ্বিগুণ মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করবো ইন্শাআল্লাহ।
Thursday, December 7, 2017
রাঙ্গামাটিতে চলছে যুবলীগের ডাকা হরতাল

Wednesday, December 6, 2017
রাঙ্গামাটির গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত : চলছে হরতাল

Saturday, June 17, 2017
লণ্ডভণ্ড রাঙ্গামাটিকে পুনর্গঠনে প্রাণপণ চেষ্টা

বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যেও জেলা প্রশাসনের ত্রাণ অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে ত্রাণ সহায়তা। অপরদিকে, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতির কারণে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হওয়া রাঙ্গামাটির বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান গতকাল শহরের সব বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন। তাদের বলা হয়েছে, মানবিক বিপর্যয়ের এই পরিস্থিতিতে কোনো বাজারে কেউ যদি কোনো পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসককে আশ্বাস দিয়েছেন। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই শহরের বাজারগুলোতে মোবাইল কোর্টের অভিযান শুরু করেছে। এতে করে শহরে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হু হু করে বাড়তে থাকা দামের গতিও কমে আসে। ফলে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটিবাসী উচ্চমূল্যের ছোবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। অন্যদিকে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাঙ্গামাটির সাথে চট্টগ্রামসহ বাইরের জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকল্প উপায়ে চালু করার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া শহরের পানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে একটি বড় জেনারেটরের ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। এই জেনারেটর এলে শহরে আংশিকভাবে পানি সরবরাহ চালু করা যাবে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে। এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঢাকা থেকে আরেকটি বড় জেনারেটর রাঙ্গামাটি পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি জানিয়েছেন, এই দু’টি বড় জেনারেটর রাঙ্গামাটি আসার পর চালু করা সম্ভব হলেই পানি সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে। তবে আপাতত পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, উন্নয়ন বোর্ড এবং সওজ’র পানির ভাউচারগুলো দিয়ে শহরের পানি সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কপথ বিচ্ছিন্ন থাকায় ৫৭ বছর আগে কর্ণফুলী নদী হয়ে কাপ্তাই থেকে চলাচলের নৌপথটি গতকাল আবার চালু করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই এই রুটে লঞ্চ চলবে। চট্টগ্রাম থেকে মানুষ সড়কপথে কাপ্তাই আসছে এবং সেখান থেকে লঞ্চে করে আসতে পারছে রাঙ্গামাটি। আবার একইভাবে রাঙ্গামাটি থেকে লঞ্চে কাপ্তাই যাচ্ছে এবং সেখান থেকে বাসে বা অন্য কোনো উপায়ে যেতে পারছে চট্টগ্রাম।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানিয়েছেন, সড়ক পথ চালু না হওয়া পর্যন্ত স্থবির হয়ে যাওয়া জনজীবনকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে আমরা রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের উক্ত রুটে আপাতত দৈনিক দুইটি যাত্রীবাহী লঞ্চ চালু করার জন্যে বলে দিয়েছি। সকাল নয়টায় একটি এবং বিকেল তিনটায় রাঙ্গামাটি থেকে এবং একই সময়ে কাপ্তাই থেকেও ছেড়ে আসবে দুইটি লঞ্চ। পুলিশ সুপার বলেন, এতে করে নৌ পথ ব্যবহার করে হলেও অত্রাঞ্চলের জনসাধারণ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারবে। আশা করছি, এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। এদিকে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া দুর্গত লোকজনের খাদ্য সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ, ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মতো সংগঠনগুলোসহ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসেছে। গতকালও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিশু একাডেমী ও পুলিশ লাইন এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া অন্তত সাড়ে তিনশ’ দুর্গতের মাঝে রাতের ও সেহ্রির খাবার বিতরণ করা হয়। অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আ্বদুল জব্বার সুজনের নেতৃত্বে পুলিশ লাইন স্কুল ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অবস্থান নেয়া দুর্গতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতের খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের ভেদভেদী, শহীদ আবদুল আলী একাডেমি স্কুলসহ শিশু একাডেমি ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক পৃথক সময়ে খাবার সামগ্রী বিতরণ করছে তরুণ যুবকদের সংগঠন প্রিয় রাঙ্গামাটি’র সদস্যরা। এছাড়াও ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও রাতের বেলায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
Friday, June 16, 2017
পাহাড়ে মানবিক সংকট by আলমগীর মানিক

মজুত কমে আসায় প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়। শহরের ভেদভেদী নতুন পাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, মাটি ধসে আমার ঘরের কিছুই নেই। আমরা কোনো রকমে বেঁচে আছি। গত দু’দিনে শুধু শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করেছি। মঙ্গলবার সকালে বাজারে আলু কিনতে গিয়ে শুধু দুই কেজি চাল কিনে বাসায় ফিরে এসেছি। তিনি জানান, আলু প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। চাল কিনেছি ৫০ টাকা কেজি ধরে। তিনি জানান, একমুঠো লাউ শাক কিনেছি ৪০ টাকায়। ভেদভেদী এলাকার অন্যরাও জানালেন বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারের দোকানগুলোতে ৫ টাকার মোমবাতি বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। এ ব্যাপারে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব রাঙ্গামাটি জেলার সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বলেন, রাঙ্গামাটির চরম এই দুর্যোগের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা অর্জনের প্রবৃত্তি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুততার সঙ্গে দুর্যোগে থাকা রাঙ্গামাটিবাসীর এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। দুর্যোগের চারদিন পরও বিদ্যুৎ পানির মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবা সমূহ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাকে অবর্ণনীয় বলে অবিহিত করেন এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রাঙ্গামাটিবাসীকে প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশে পুনর্বাসনের দাবি জানান।
এদিকে, রাঙ্গামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে, আহত হয়েছেন দুইশতাধিক এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৫ জন। জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে ৫ সেনা সদস্যসহ ৬১ জন, কাউখালী উপজেলায় ২৩ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি ৪ জন ও বিলাইছড়িতে ২ জন রয়েছে। এর মধ্যে শিশু হচ্ছে ৩৪ জন, মহিলা ৩২ জন পুরুষ ৩৯ জন। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছে ৭৭ জন। ৩৪ জনের মতো রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২০ পরিবারে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর বাড়ির মধ্যে রাঙ্গামাটি সদরে ৯০, কাউখালী-১৯০, নানিয়ারচর-৩০ বরকল-৭০, চিংমরং, ওয়াগ্গার রাইখালী ৩৪০। অন্যদিকে, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, রাঙ্গামাটি- কাপ্তাই সড়ক, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীন রুটে রাজারহাট লিচু বাগান, কারিগরপাড়া পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের একটানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বেড়ে যাওযায় নিম্নাঞ্চলে জেলার বিলাইছড়ির ফারুয়া, কাউখালী, জুরাছড়ি এবং বরকলের ভুষণছড়ার নিম্নাঞ্চল বন্যায় পাবিত হয়েছে। জুরাছড়িতে ৩৩ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে দমকল বাহিনী: ১৩ই জুন রাঙ্গামাটিতে ভূমিধসের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার ব্রিগেডের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। ফায়ার ব্রিগেডের রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই স্টেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্রিগেডের উদ্ধারকারী দলের অভিজ্ঞ সদস্যরা অংশ নেন। দুর্যোগের পর মুহূর্ত থেকে টানা তিনদিন ভূমিধসে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালন করে দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সোমবার ভারি বর্ষণে ভূমিধ্বসের শুরুতেই রাঙ্গামাটি সেদরের ভেদভেদী এরাকার যুব উন্নয়ন কার্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ে প্রথম উদ্ধার অভিয়ান শুরু করে দমকল বাহিনী। সেখানে ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকে শহরের একাধিক স্থানে চলমান থাকে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম। দুর্ঘনটনাস্থল থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি আহতদের দ্রুততার সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও করে তারা।
ফায়ার ব্রিগেডের পরিচালক অপারেশন একেএম শাকিল নেওয়াজ এর নেতৃত্বে ফায়ার ব্রিগেডের উদ্ধার কাজের দক্ষ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে ১৪৫ জন ফায়ার ব্রিগেড কর্মী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে ১২০ জন এবং কাপ্তাই উপজেলায় ২৫ জন উদ্ধার কর্মী কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির ৫টি স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই দিন উদ্ধারকারী দল মানিকছড়ি ভূমিধসের দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ সৈনিক আজিজসহ আরো ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
Sunday, April 23, 2017
রাঙ্গামাটিতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ

Wednesday, April 19, 2017
রাঙ্গামাটিতে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলছে

রাঙ্গামাটিতে শান্তিপূর্ণ হরতাল চলছে

BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1536)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...