Friday, January 16, 2015

৭২ ঘণ্টায় দূষণমুক্ত ফুসফুস

দূষণমুক্ত ফুসফুস! কথাটা শুনে কি একটু ঘাবড়ে গেলেন? ভাবছেন ফুসফুসের সঙ্গে রাস্তার সম্পর্ক কি? না ফুসফুসের সঙ্গে আদি অনন্ত কালেও রাস্তার কোনও সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু তাই বলে দূষণ যে কেবল রাস্তা বা পরিবেশেই হবে তেমনও কোনো কথা নেই৷ আপনি কি জানেন প্রতিনিয়ন ধূমপানের ফলে কতটা দূষিত হচ্ছে আপনার ফুসফুস? না, তাই বলে যারা ধূমপান একেবারেই করেন না তারাও কিন্তু দূষণের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কথা ভাববেন না৷ ধূমপান না করেও ফুসফুস বিগড়ে যেতে পারে, আবার অনেক সময় কেউ টানা ৪০ বছর ধরে সিগারেট, বিড়ি খেয়েও দিব্য সুস্থ থাকেন৷ তাই ধূমপান করুন আর নাই করুন ফুসফুস দূষিত হতেই পারে৷ তাই প্রতিনিয়ত পরিবেশের পাশাপাশি দূষণমুক্ত রাখতে হবে আপনার ফুসফুসটিকেও৷ কিছু উপায় রইল আপনাদের জন্য৷ এগুলি আপন করে নিলে মাত্র ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে ফুসফুস৷ ১. রাতে ঘুমোনোর আগে এক কাপ হার্বাল চা পান করুন৷ এই চায়ের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বেড়িয়ে যাবে৷ দেহে জমে থাকা টক্সিনই ফুসফুসকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে৷ ২. সকালে নাস্তার খাওয়ার আগে অনন্ত ৩০০ মিলি জলের সঙ্গে ২টি লেবুর রস মিশিয়ে সেটি পান করুন৷ ৩. আঙুর বা আনারসের রস পান করুন৷ এই দুটি ফলেই থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা শ্বাস প্রশ্বাস প্রণালীকে উন্নত করে৷ ৪. ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের মেনুতে যোগ করুন গাজরের রস৷ কারণ গাজরের রস রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে৷ ৫. লাঞ্চে কলা, নারকেলের শাঁস, পালংশাক খেতে পারেন৷ এই ধরণের খাবারে পটাশিয়াম থাকে যা দেহের বিষাক্ত টক্সিন পরিস্কার করে ফুসফুসকে আরও চাঙ্গা করতে তুলতে সক্ষম৷- ওয়েবসাইট।

বাংলাদেশের সহিংসতা থামাতে জাতিসঙ্ঘের আহ্বান

বাংলাদেশে অব্যাহত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন বলেছে, বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বিরোধ মিটমাটে ব্যর্থ হওয়ার পর যেভাবে সহিংসতা বাড়ছে, তা খুবই উদ্বেগজনক।
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সংযম প্রদর্শন এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয় এই বিবৃতিতে।
জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন বিশেষ করে যেভাবে নির্বিচারে গাড়িীতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার একটি গাড়িতে এরকম হামলায় এক শিশুসহ চারজন পুড়ে মারা যাওয়া এবং বিএনপির এক উপদেষ্টার গাড়িতে হামলার কথা উল্লেখ করা হয় এ প্রসঙ্গে।
বাংলাদেশের সর্বশেষ এই রাজনৈতিক সংঘাতের সময় যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে, তার সবগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন।
“সরকার বা সরকারের বাইরে যারাই এসব ঘটনার পেছনে থাক, আমরা চাই কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এসবের নিরপেক্ষ এবং কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ নেবে।”
বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেফতার এবং আটকের ক্ষেত্রে সরকার যেন স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় না নেয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া সব পদক্ষেপে যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লংঘন না ঘটে সেজন্যে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় বিবৃতিতে।
সূত্র : বিবিসি।

রাজনীতিবিদরা সংবিধান নিয়ে মিথ্যাচার করছেন: আইজিপি

‘হরতাল-অবরোধ অবৈধ’ এই চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক বলেছেন, “বড় বড় রাজনীতিবিদরা সংবিধানের মৌলিক অধিকার নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। সংবিধানের কোথাও অবরোধ-হরতালের কথা নেই। এটা সংবিধানবিরোধী। তাই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল এটা করতে পারে না। কিন্তু বড় বড় পলিটিশিয়ানরা মিথ্যাচার করছেন। আমার সঙ্গে চ্যালেঞ্জে আসেন। সংবিধানের কোথাও যদি হরতাল-অবরোধের কথা থাকে তাহলে আমি সারেন্ডার করবো।”   শুক্রবার জুমার নামাজের আগে রংপুরের মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ আইনশৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।   পুলিশ প্রধান বলেন,  “অনেকেই বলেন আমার বক্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য হয়ে যায়। আমিও তো মতামত দিতে পারি।  আমিও দেশের নাগরিক। আমিও ট্যাক্স দিই। আমিও মতামত দিতে পারি। এটা আমার অধিকার।”   আইজিপি বলেন, “হরতাল-অবরোধকারীরা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেই যুদ্ধে মিঠাপুকুরের মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।”   তিনি মহিলাদের ‘উপদেশ’ দিয়ে বলেন,  “এখানে বেগম রোকেয়া মেয়েদের আলোর পথে নিয়ে এসেছেন। সেই এলাকায় মহিলারা যদি মৌলবাদীদের সঙ্গে থাকেন, তাদের দোসর হয়ে যান এর চেয়ে দুঃখের কিছু নেই। কারণ তারা দেশই চায়নি। তারা এখনো পাকিস্তান চায়। তারা  ক্ষমাও চায়নি। কেন তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। আপনাদের অনুরোধ করি, আপনাদের বিবেককে জাগ্রত করুন।  তাদের কাছ থেকে সরে আসুন।”   তিনি বলেন, “আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির লেকিং আছে। সে কারণে মুক্তযুদ্ধবিরোধীরা এখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাহলে কেন আপনারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে আছেন। জনগণকেই তাদের মোকাবেলা করতে হবে।”    ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বেআইনিভাবে সমাবেশ করতে চেয়েছিলেন দাবি করে আইজিপি বলেন,  “ আপনি দুইবারের প্রধানমন্ত্রী। আর আপনি বললেন আমি সমাবেশ করবো। পুলিশ যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশ তো আইন মেনেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর আপনি  কিভাবে বেআইনিভাবে সমাবেশ করতে চান।একটা দলের প্রধান তিনি যদি বেআইনি কাজ করেন, তখন তার কাছে আর জনগণ কী চায়? কেন সমাবেশ করবেন? ৫ তারিখে সমাবেশ করবেন কেন? তাদের ষড়যন্ত্র ছিল। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল খালেদার সমাবেশে ষড়যন্ত্র করা হতো। ৫ মে মতো তারা অবস্থানের ষড়যন্ত্র করেছিল। খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে তারা জোর করে সমাবেশ করার কথা বলতেন না। সংবিধানে লেখা আছে জোর করে সমাবেশ করা যাবে না। পুলিশকে ক্ষমতা দেয়া আছে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে অনুমতি দেয়া যাবে না।”   টক শো-ওয়ালারা বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন দাবি করে পুলিশ প্রধান বলেন, “ তারা বলেন, ৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি দিলে তো আর অবরোধ হতো না। আসলে একমাস আগে আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। বিএনপি অনেক পরে সমাবেশের আবেদন করেছে। আমরা তাদের বলেছিলাম অন্য ভেন্যুতে করেন। অন্য দিনে করেন। কিন্তু তারা সেটা করলো না। একই দিনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বড় দুটি দল সমাবেশ করলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো। সংবিধান অনুযায়ী তাই আমরা অনুমতি দিইনি। সরকার দেশপ্রেমিক। সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা সমাবেশ করলো না। তারা তো সরকারি দল- যদি সমবেশ করতো তা হলে আমরা কী করতে পারতাম।”   টক শো- ওয়ালাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আরে ব্যাটা, সমাবেশের অনুমতি দিলে সেখানে যদি যুদ্ধ হতো তাহলে টক শো-ওয়ালারা, আপনারা কী করতেন। দায় তো আমার ওপর পড়তো। সরকারের ওপর পড়তো।”   আইজিপি বলেন, “এসব বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় অসত্য তথ্য পরিবেশন করা হয়। এসব কথায় কান দেবেন না। এসব কথা এজন্য বলা যে, আপনাদের অনেকেই ভুল বোঝাতে পারেন। তাদের কথায় কান দেবেন না।”   বিএনপি-জামায়াত জোটকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ভোটের অধিকার কে প্রতিরোধ করেছে?  জনগণকে আপনারাই ভোটকেন্দ্রে আসতে দেননি। সরকার সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল। আমরাও তৈরি ছিলাম নিরাপত্তা দিতে। কিন্তু আপনারাই আসতে দেননি। মানুষ পুড়িযে মেরেছেন। ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছেন। স্কুল-কলেজ -মাদরাসা জ্বালিয়ে দিয়েছেন। প্রিজাইডিং অফিসারকে মেরে ফেলেছেন।”   সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়ে আইজিপি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে সাত বছরে সাত হাজার নির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচন নিয়ে কি কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পেরেছেন? নির্বাচনের অবাধ নিরপেক্ষতা নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকতো তা হলে আপনারা নির্বাচনে অংশ নিতেন। তখন অবাধ নিরপেক্ষ না হলে বর্জন করতেন। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ও তাদের মদদেই আপনারা নির্বাচনে আসেননি। আপনারা নির্বাচনে না এসে ভুল করেছেন। এর খেসারত আপনাদেরই দিতে হবে। এর দায় কেন জনগণ নেবে। আপানারা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন তা জনগণ জানে।”   ছয় বছরে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, “২০০৮ এর পরে ছয় বছরে  দেশে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা বছর মানুষ শান্তিতে ছিল। কিন্তু আবারো অশুভ শক্তিটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আপনারা ভালো লোক দিয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি করুন।”   তিনি বলেন, “শুধু পুলিশ নয়, জনগণকেই পুলিশের ভূমিকা পালন করতে হবে। এই সরকারের আমলেই ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগ করা হবে। মিঠাপুকুরে তদন্ত কেন্দ্র করা হবে। আমরা আপনাদের পাশে আছি। অসাংবিধানিক শক্তি, জনগণের বিপক্ষের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে আর আসতে দেয়া হবে না। তাদের শক্তহাতে মোকাবেলা করা হবে।”   রংপুরের ডিসি ফরিদ আহাম্মদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহম্মেদ, বিভাগীয় কমিশনার দিলোয়ার বখত, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির।   রংপুরের এসপি আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টু মিয়া, সেক্রেটারি জাকির হোসেন সরকার, মিঠাপুকুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জায়গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তোজাম্মেল হোসেন, উপজেরা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদার রহমান প্রমুখ।   এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার, র‌্যাব-১৩ প্রধানসহ পদস্থ পুলিশ বিজিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে আইজিপি ও র‌্যাব ডিজি হেলিকপ্টারে শঠিবাড়িতে আসেন। সেখানে তারা মিঠাপুকুরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃতদের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার করে এবং আহতদের ১০ হাজার করে অনুদানের টাকা দেন। পরে তারা রংপুরে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নির্ধারিত সময়ের পরেই নির্বাচন: বেনজীর

সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের জীবন সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে আসার আহ্বান জানিয়ে  র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহম্মেদ বলেছেন, “রংপুরে ৩৫ লাখ মানুষ। এরমধ্যে ৭০ অথবা ৭০০ জন মানুষ দেশ, জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তোমাদেরকে বলছি, যুদ্ধ মানে ক্যাজুয়ালিটি। আসো জীবন হাতে নিয়ে আসো। আমাদের যা করা দরকার তাই করবো।” শুক্রবার জুমার নামাজের আগে রংপুরের মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে র‌্যাবের ডিজি এসব কথা বলেন। বিএনপি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে র‌্যাবের ডিজি বলেন, “গত দুই সপ্তাহে মিঠাপুকুরের পাঁচজনসহ সারাদেশে ২৪ জনকে খুন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের মতো একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধার করার জন্য দেশ, সমাজ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করেছে। তারা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। দেয়ার আর টেরোরিস্ট।” তিনি বলেন, “জাতিসংঘ, পৃথিবীর সব দেশের সন্ত্রাসের সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা সন্ত্রাসী, খুনি। এমন খুনিদের সন্ত্রাসীদের আমাদের দেশে সমাজে, রাষ্ট্রে, দরকার নেই। তাদের আমরা দেখতে চাই না।” র‌্যাব প্রধান বলেন, “নির্ধারিত সময়ের পরেই নির্বাচন হবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এরই বাইরে আমরা কোনো কিছুই চাই না।” তিনি বলেন, “রংপুরের ৩৫ লাখ মানুষ বাস করে। কিন্তু ৭০ অথবা ৭০০ মানুষ জনগণের বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরা ১৯৭১ সালে আয় ছিল ১৪৫ ডলার, ১৯৯৬ সালে ছিল ৮০০ ডলার, এখন ১২০০ ডলার। জাতীয় আয়কে ধ্বংস করার জন্যই এই হরতাল অবরোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আর দুই তিন বছর এই সরকার থাকলে দেশ থেকে দারিদ্র নির্মূল হয়ে যেতো।”   তিনি বলেন, “৭০০ মানুষ অন্যায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর কষ্টে আছি আমরা। এই অন্যায় যুদ্ধে যুদ্ধ করতো আসো। জীবনটাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসো। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। ২০০১৩ সালের মতোই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সন্ত্রাস ও নাশকতা দূর করবো।”

কক্সবাজারে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ নিহত ৪ : আহত ১০- গায়ে হলুদ ভেসে গেলো রক্তে

কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার বানিয়ারছড়া স্টেশন এলাকায় কক্সবাজার অভিমুখি একটি পর্যটকবাহি বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩জনসহ মোট চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে কক্সবাজার কেজি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা বেগম (৪০) তার কন্যা তাসমিয়া ইসমাঈল তাম্মি (২০) কাজের মেয়ে কহিনুর আক্তার (১৩) ও নোহা গাড়ির চালক জয়নাল আবেদীন (২৫)।   আজ সকাল সোয়া ১১টার দিকে এই দূর্ঘটনা ঘটে। আগামীকাল শনিবার তাসমিয়ার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিল। আহদের মধ্যে শিক্ষিকা তাহেরা বেগমের পুত্র রাজীব এর অবস্থা আশংকাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। অন্যদের কক্সবাজার ও চকরিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চকরিয়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের এএসআই ফয়েজুর রহমান,ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো দুইজন মারা গেছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের  উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত তাসমিয়ার মামা কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল হুদা চৌধুরী জানান, ২৪ জানুয়ারি তাসমিয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে ছিলো। চট্টগ্রাম শহরে বিয়ের অনুষ্ঠান,তাই আজ সকালে নোহা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। আগামীকাল শনিবার তাসমিয়ার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিল।

‘রাষ্ট্র খণ্ড হলো কেন?’, প্রধানমন্ত্রীকে এমাজউদ্দীন

রাষ্ট্রের অখণ্ডতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘জাতির অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে, ঠিক আছে। কিন্তু অখণ্ড রাষ্ট্র খণ্ড হলো কেন?’ আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ প্রশ্ন রাখেন এমাজউদ্দীন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর সোনাকান্দায় সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, যেকোনো ধরনের অশুভ শক্তির মোকাবিলা এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।’
গোলটেবিল আলোচনায় আরেকজন আলোচকও প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী অখণ্ডতা রক্ষা করবে। তাহলে, এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে?’
এমাজউদ্দীন বলেন, ‘পুরো জাতি আজ বিভক্ত। ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, বিচারক, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-এমন কোনো খাত নেই যেখানে বিভক্তি নেই। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে আর দেরি হবে না। রুয়ান্ডা এভাবেই ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়েছিল। ’
এমাজউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে খুব ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে। এত খারাপ সময় যে আমার মনে হয় ১৯৭১ সালের ছায়া লক্ষ করছি। ’ তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিকেরা এর জন্য দায়ী। বিষাক্ত রাজনীতির ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান বিকৃত হয়ে গেছে। ’ এ অবস্থার অবসানে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে অবিলম্বে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকে সংলাপে বসার পরামর্শ দেন এমাজউদ্দীন আহমদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা রক্ষা করতে প্রস্তুত। তাহলে কী সে রকম অবস্থা চলছে? তার মানে দেশ দুই ভাগে বিভক্ত। কিন্তু দেশের এই করুণ পরিণতিটা কেন? ’
দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘এর থেকে বের হতে হলে সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন ভীষণ জরুরি। কিন্তু এ কথা আমি যখনই বলব, তখনই বলা হবে আমি বিএনপির লোক। ’
সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম স্টাডিজ (সিএনএস) নামের একটি সংগঠন ‘জাতি গঠনের পথে বাধা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সাদেক খান বলেন, ‘জাতি গঠন আর রাষ্ট্র গঠন এক নয়। বাংলাদেশের এখনকার সমস্যা রাষ্ট্র গঠন নিয়ে। কারণ বর্তমান সংবিধান অকেজো। এটি এখন গণতন্ত্রও না, প্রজাতন্ত্রও না। অনির্বাচিত একতন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘এখন মুক্তিযুদ্ধে চেতনার নামে এক্সক্লুসিভ ভাবনার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া এমন একপেশে ভাবনা দিয়ে কখনো রাষ্ট্র গঠন হয় না। ’
সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, ‘স্টালিন বলেছিলেন, “নো ম্যান, নো প্রবলেম”। বর্তমান সরকার জাতি গঠনে স্টালিনের এই কু-উক্তিকে গ্রহণ করেছে। যখন-তখন মানুষকে গুম, খুন ও গুলি করে মারছে। ’
গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন সিএনএসের চেয়ারম্যান ফাতেমা আনোয়ার।

চকরিয়ায় দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪

(বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দুমড়ে–মুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস। ছবি: এস এম হানিফ) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বানিয়াছড়া স্টেশনের কাছে আজ শুক্রবার সকালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে পেঁৗছেছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজার কেজি অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাহেরা বেগম (৪৮), তাঁর মেয়ে তাসমিয়া ইসমাইল (২১), গৃহকর্মী কোহিনুর আক্তার (১৭) ও মাইক্রোবাসের চালক জয়নাল আবেদিন (৩৮)। এঁরা মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকাল ১০টার দিকে চকরিয়ার বানিয়াছড়া স্টেশনের উত্তরপাশে বড়ইতলী দাখিল মাদ্রাসা সড়কের মাথা নামক এলাকায় কক্সবাজারগামী বনভোজনের বাস ও চট্টগ্রামগামী একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে তাহেরা বেগম ও জয়নাল আবেদিন নিহত হন। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে কোহিনুর আক্তার মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাসমিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার দশ মিনিট পর সে মারা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে আদনান মাহমুদ রাজিব (২৩) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তাহেরার ভাই রফিকুল হুদা চৌধুরীর ভাষ্য, তাহেরার বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়ায়। মেয়ে তাসমিয়ার বিয়ে উপলক্ষে তাঁরা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামে মেয়ের বিয়ের তারিখ ২৪ জানুয়ারি। নিহত মাইক্রোবাসের চালক জয়নালের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজারে।
চয়েজ পরিবহনের বাসটি পতেঙ্গা স্টিলমিলের ৪৫ জন কর্মচারী নিয়ে বনভোজনে কক্সবাজার যাচ্ছিল বলে জানান মিলের কর্মচারী মো. জুয়েল। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে দেওয়া তাঁর ভাষ্য, তাঁদের ভাড়া করা গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। তাঁর ১৫-২০ জন সহকর্মী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের লোহাগাড়া এবং চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
চিরিংগা মহাসড়ক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়জুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাসটির চালক ও তাঁর সহকারীকে খোঁজা হচ্ছে। বাস ও মাইক্রোবাসটি চিরিংগা মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।

ধর্মবিশ্বাসকে ব্যঙ্গ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়: পোপ

পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতারও একটা সীমা আছে। অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে আপনি হেয় করতে পারেন না। অন্যের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আপনি মশকরা করতে পারেন না। কারও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ করা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়। শ্রীলঙ্কা সফর শেষে ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে এমন মন্তব্য করেন পোপ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেনডেন্ট ও বার্তা সংস্থা এপি। এদিকে ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর সর্বশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশের প্রতিবাদে ফিলিপাইনে গতকাল প্রায় ১,৫০০ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পোপ ফ্রান্সিস বলেন, কেউ যদি আমার মাকে গালি দেয়, তাহলে তার একটি ঘুষি প্রাপ্য। উদাহরণ দেয়ার জন্য পোপ বিমানে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলবার্তো গ্যাসপারিকে দেখিয়ে বলেন, আমার ভালো বন্ধু ডক্টর গ্যাসপারি যদি আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোন অশোভন শব্দ উচ্চারণ করেন, তিনি একটি ঘুষির প্রত্যাশা করতে পারেন। এ সময় হাত মুঠো করে তাকে ঘুষি মারার ভঙ্গিও করেন পোপ। আলবার্তো গ্যাসপারি পোপের বিভিন্ন সফরের আয়োজন করে থাকেন। পোপ বলেন, এটা স্বাভাবিক। আপনি প্ররোচিত করতে পারেন না। অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে আপনি অসম্মান করতে পারেন না। অন্যের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আপনি মশকরা করতে পারেন না।
ফের কার্টুনসহ শার্লি এবদোর নতুন সংখ্যা প্রকাশিত
 ফরাসি ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদো বলছে, তাদের ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক সংখ্যার মলাটটি অমায়িক, মজার এবং ম্যাগাজিনটির নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সংখ্যাটির লক্ষ-লক্ষ কপি ছাপানো হয়েছে, যার মলাটে ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদের কান্নারত একটি কার্টুন আকা রয়েছে। শার্লি এবদোর নতুন সংখ্যার প্রচ্ছদ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে যেমন এর নিন্দা জানাচ্ছেন, আবার অনেকে পত্রিকাটির পক্ষেও রয়েছেন। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে দেখানো হয়েছে ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ 'আমিই শার্লি' নামের একটি সাইনবোর্ড হাতে ধরে আছেন। আর এই কার্টুনের ওপর লেখা রয়েছে সব ক্ষমা করা হলো। গত সপ্তাহে প্যারিসে উগ্র ইসলামপন্থীদের হাতে এই পত্রিকার ১০ জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার পর সাময়িকীটি বুধবার আবার প্রকাশিত হলো। তবে বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এর ফলে আরো হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে। এদিকে শার্লি এবদোর কর্মকর্তারা বলছেন, পত্রিকার নীতির সামঞ্জস্য রেখেই তারা এই মলাটটি তৈরি করেছেন এবং এর অর্থ সাংবাদিকরা হামলাকারী জঙ্গিদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। পত্রিকাটির প্রচ্ছদ নিয়ে প্রতিক্রিয়াও গভীরভাবে বিভক্ত। সুন্নি মুসলিমদের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষাঙ্গন আল-আজহার বলছে, এই ছবিটি মানুষের মধ্যে আরো বেশি ঘৃণা ছড়াবে। বৃটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী এড বেইজি বলেছেন, গত সপ্তাহের হামলার সঠিক জবাব হিসেবে শার্লি এবদো স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। তবে মিশরের ইসলামিক কর্তৃপক্ষ, দার আল ইফতা এই মলাটকে ‘অহেতুক প্ররোচনা’ বলে আখ্যায়িত করছে। বৃটেন মুসলিম এসোসিয়শনের প্রধান ওমার আল হামদুন বলেছেন, অপরাধের জবাবে অপরাধ করা বাকস্বাধীনতা প্রকাশ করে না। -বিবিসি

অন্তঃসত্ত্বা জানার ১ ঘণ্টার মধ্যে ১০ পাউন্ডের সন্তান প্রসব

অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে গেলো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সাউথ ওয়েইমাউথ শহরে। ২৩ বছর বয়সী ক্যাথেরিন ক্রোপাস ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আর যখন জানলেন, তার ১ ঘণ্টা পরই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলো ফুটফুটে এক নবজাতক। সদ্যোজাত মেয়ে শিশুটির ওজন ১০ পাউন্ড। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউএসএ টুডে ও মিড-ডে। পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় সাউথ শোর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় ক্যাথেরিনকে। ব্যথার কারণ জানতে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করান। প্রথমদিকে, তেমন কোন সমস্যা শনাক্ত করা যায়নি। তাই তারা আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং রিপোর্ট দেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। সন্তান প্রসব করেন ক্যাথেরিন। এ সময়টাতে তার পাশে ছিলেন তার ৪০ বছর বয়সী বয়ফ্রেন্ড ড্যান কীফ। ক্যাথেরিনের ধারণা ছিল, তার ওজন কিছুটা বেড়ে গেছে। এর বেশি কিছু নয়। তবে বিস্ময়ের ধাক্কা না কাটতেই সদ্যোজাত সন্তানকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ক্যাথেরিন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর জেনিফার অ্যাশটন জানালেন, তার পেশাগত জীবনে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা তিনি দেখেছেন। সাধারণত, স্থ’ূলকায় বা অতিরিক্ত ওজনের নারী যারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে ততোটা অবগত নন, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটতে পারে। ক্যাথেরিনের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে। এদিকে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে না পারায়, পেটে থাকা সন্তানের সঠিক পরিচর্যা হয় না। না জানার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুটি জটিল নানা শারীরিক সমস্যায় বা অপুষ্টিতে ভুগতে পারে।

‘শৈশব থেকেই অবিনাশী চেতনার বীজ বুনতে হবে’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের সুমহান ঐতিহ্য। মূল্যবান এ ঐতিহ্যকে লালন করতে শিশু-কিশোরদের মাঝে শৈশব থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার বীজ বুনতে হবে। এক্ষেত্রে কাজ করার জন্য শিশু-কিশোর সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী অবস্থার কথা তুলে ধরে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের এ বয়সে আমরা ছিলাম পরাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের না ছিল কথা বলার স্বাধীনতা, না ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতা। তোমরা আজ তা থেকে মুক্ত। তোমাদের চিস্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতা আজ সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তোমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাই তোমাদের সামনে আজ অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত। শিশুদের গ্রামে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা যারা আজ শহরে বড় হচ্ছো, তোমাদের অনেকেরই দাদা-নানার বাড়ি কিন্তু গ্রামে। ছুটি পেলে তোমরা অবশ্যই গ্রামে তাদের কাছে ছুটে যাবে। দেখবে তোমাদের পেয়ে তারা কত আনন্দিত হয়। গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে স্বাদ নিতে শিশুদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই সব না দেখলে তোমরা বঞ্চিত হবে গ্রামবাংলার প্রকৃত রূপ থেকে। তিনি  বলেন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, সুকুমার বৃত্তির চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকা-ে তাদের সম্পৃক্ত করছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি পান্না কায়সার। বক্তব্য রাখেন  বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান, খেলাঘরের সভাপতিম-লীর সদস্য নিরঞ্জন অধিকারী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সংলাপ প্রয়োজন’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ। বলেছেন, রাজনীতির দায়িত্ব সমস্যার সমাধান করা। সমস্যা সৃষ্টি করা নয়। ঐক্য সৃষ্টি করা। বিভক্তি নয়। এটা গণতন্ত্রের চর্চা। মুক্তিযোদ্ধারা এই স্বপ্নই দেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দুই দলকে সংলাপে বসতে হবে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম স্টাডিজ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যের সমালোচনা করে এমাজউদ্দিন বলেন, বিজিবি প্রধানের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যায় কেউ করলে তার দায়িত্ব হচ্ছে শাস্তি বিধান করা। এই পর্যায়ের ব্যক্তির কাছে কেউ এটা আশা করে না। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ভূমিকা বিষাক্ত রাজনীতির ফল উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশে বিষাক্ত রাজনীতি চলছে। দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিকৃতভাবে কাজ করছে। দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে বিরোধী দল দমনে কাজ করছে। গুম-খুন-অপহরণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। র‌্যাব ভাড়াটে খুনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে এটা আমরা দেখতে পেয়েছি। সংগঠনের সভাপতি ব্যারিষ্টার ফাতেমা আনোয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাদেক খান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্ণেল (অব.) জে.আর.এম আশরাফ উদ্দিন।

অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহবান- ‘আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলোকে গণশত্রুতে পরিণত করা হয়েছে’

২০ দল ষোঘিত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ তথা বাক, সমাবেশ, চলাচলের স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকার পূণরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনকে দমাতে বর্তমান অবৈধ সরকার জনগণের টাকায় পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক ‘প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে বিজিবি’ বলে যে হুমকি দিয়েছেন সেটি নজীরবিহীন, অমানবিক ও আতংকজনক। বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোকদের বসিয়ে এই সমস্ত বাহিনীগুলোকে গণশত্রুতে পরিণত করা হয়েছে। বিজিবি’র দায়িত্ব সীমান্ত পাহারা দেয়া। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের দেশের লোককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীর লাশ যখন কাঁটাতারের ওপর ঝোলে তখন এই ধরণের মহাপরিচালকরা নিশ্চুপ থাকে। কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতে এরা দ্রুত তৎপরতা দেখায়।
দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি সাক্ষরিত বিবৃতিতে রিজভী আহমেদ বলেন, যৌথবাহিনীর নামে গ্রামে-গঞ্জে নিরীহ জনগণের ওপর চালানো হচ্ছে আক্রমণ। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী মানুষ হত্যার নির্দেশনা নিয়ে চলমান আন্দোলনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ৭২-৭৫ এর রক্ষীবাহিনীর প্রেতাত্মা নিয়ে এই যৌথবাহিনী গ্রামে-গঞ্জে বিভৎস তান্ডব চালাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ-কানসাটের কয়েকটি গ্রামে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, বাড়ীঘর ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। আতংকে দিশেহারা মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এই পৈশাচিক তান্ডব চলছে শিবগঞ্জ-কানসাটসহ সারা বাংলাদেশে। বাপকে ধরতে গিয়ে ছেলেকে কিংবা ছেলেকে ধরতে গিয়ে পিতাকে অথবা ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবারের মা-বোনদের সাথে করা হচ্ছে ভয়ংকর অসদাচরণ।
রিজভী বলেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে বারবার বলেছিলাম, বর্তমান আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন আর জনগণের বাহিনী নয়, এটি দলীয় ক্যাডারে সাজানো আওয়ামী রক্ষাকারী বাহিনী, যদিও জনগণের টাকায় তারা বেতন পায়। তিনি বলেন, শতকরা ৫ ভাগ ভোট নিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা এই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মসনদ থেকে অবতরণ করতে এতো অনিহা কেন? কারণ এই ভোটারবিহীন সরকার এতোই অনাচার করেছে যে, জনগণের ক্রোধের ভয়ে দলীয় লোকদের দিয়ে গঠিত আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রহরায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। তাই সংকট নিরসন করতে তারা ভয় পা্েচ্ছ।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না এবং ক্ষমতায় গেলে কারও প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া ও একটি অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্যই আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে লাগাতার এই আন্দোলনে রত আছি। এই অবৈধ সরকার এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। আবারও আহবান জানাচ্ছি, একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এই মূহুর্তে কার্যকর সংলাপের ব্যবস্থা করুন। উৎপীড়ণ, পরিকল্পিত নাশকতা, প্রকাশ্য গুলি করে অবরোধকারীদের হত্যা আর ধরপাকড়ের পথ থেকে সরে আসুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয় অর্জিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ডালিম যেভাবে ফোটে : সেইসব মূর্খ ও মূকের জীবনী

‘কবিতাকেও, জগতের সেইসব কথিত শেষ সঙ্গতির সাথে অনিবার্য যুদ্ধে জয়ী হতে হয়; এই যেমন ধরুন স্বাতীর দেয়া হাতঘড়িটির কথা; তার তিনটি কাঁটাই থেমে পড়েছে এখন, তবু সময় চলছে...’
কবিতাকে জগতের সেইসব কথিত শেষ সঙ্গতির সাথে অনিবার্য যুদ্ধে জয়ী হতে হয়। এটি কবি সজল সমুদ্র’র স্বীকারোক্তি। তার স্বীকারোক্তির রেশ টেনেই বলছি, বস্তুত এই যুদ্ধটা করতে হয় কবিকে। কবিতা তার তলোয়ার; ঢাল, বর্ম, অশ্বক্সসবকিছু। সেই শেষ অনিবার্য যুদ্ধের সমস্ত সরঞ্জাম কবিতা এবং এই যুদ্ধের ময়দানে জয়ী হতে হয় এসব যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে আসা পদাতিক, কবিকে।
‘এত প্রান্ত বদল করি, এত ভঙ্গি ভাঙি রাতজুড়েক্স/ তবু হয় না নদীর মতো শুয়ে পড়া।’ এই প্রান্ত বদল আর রাতজুড়ে ভঙ্গি ভাঙার যুদ্ধ করতে করতেই কেটে যায় কবির এক জীবনক্সযে জীবনে মানুষ জড়িয়ে পড়ে পারস্পরিক ঝগড়ায়, কালো পিঁপড়েদের মতো।
সজল সমুদ্র খুব ছোট দৈর্ঘ্যরে কবিতা লেখেন। অন্তত ‘ডালিম যেভাবে ফোটে’ বইয়ের সবগুলো কবিতার দিকে তাকালে তেমনই দেখা যায়। কোনো একটি দীর্ঘ কবিতাও নেই এ বইয়ে। তবে এই সীমিত দৈর্ঘ্যরে কবিতাতেই তিনি ধরতে চেয়েছেন সমূহ ব্যাপ্তিকে। পেরেছেনও। সামগ্রিক অর্থে কবিতাকে এটাই পারতে হয়। ক্ষুদ্রের মধ্য দিয়ে সমগ্রকে ধরা।
‘বলো উটপাখি, কবে, কোথায় হারিয়েছো ডানা; তবুক্স/অজস ধূলিঝড়, এতটা নিরুত্তর কীভাবে পার হয়ে এলে!’ সজল সমুদ্র তার ‘মূক’ কবিতার সেই উটপাখি, যে অজস ধূলিঝড় পার হয়ে আজ এখানে এসেছে; তবে মূক নয়, নিরুত্তরও নয়।
‘ডালিম যেভাবে ফোটে’ বইটি হাতে নিলেই একটি প্রশ্ন আসে, ডালিম আবার কীভাবে ফোটে? নাম কবিতাটির দিকে তাকাইক্স
‘তুমি দিচ্ছ হাততালি, ডালিম যেভাবে ফেটে লিখে রাখে রক্তবর্ণনা...’
এখানেও তো ডালিম ফোটার কোনো অস্তিত্ব নেই। তখনই অনুভব করি, ডালিম কোনো ফল হয়ে আর নেই এখানে; হয়তো কোনো নারী কিংবা সমগ্র জীবন। কোনো এক মুহূর্তে এসে আমরা প্রত্যেকেই তাদের সশব্দে ফুটে ওঠার শব্দ শুনতে পাই।
‘ডালিম যেভাবে ফোটে’ কবির দ্বিতীয় বই। প্রথম বই ‘পত্রে রচিত ভোর’। একটি কবিতাকে অনেক কিছু অতিক্রম করতে হয়ক্সরাস্তা, রাত, মরুভূমি, গম্বুজ, একটি জীবনক্সসামগ্রিক অর্থে মহাকাল। স্বভাবতই কবিকেই এসব কিছু অতিক্রম করতে হয়। তবে যে কোনো কবির জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করা। সজল সমুদ্র আক্ষরিক অর্থেই সেটা পেরেছেন। পত্রে রচিত ভোর এবং ডালিম যেভাবে ফোটে পাশাপাশি রাখলেই সেটা প্রমাণিত হবে।
সজল সমুদ্র ঠিক কীভাবে কবিতা লেখেন? দেখা যাকক্স
‘এত ঘন কুয়াশার ভেতরে, ময়ূরের পেখমে তাকিয়ে এখন কি দাঁড়িয়ে থাকা যায়!’ সজল সমুদ্র দাঁড়িয়ে থাকেনঙ্ঘনঘোর কুয়াশার ভেতরে, গম্বুজের মতো তুমুল ধৈর্যে। সেখান থেকে একসময় তার কাছে স্পষ্ট হতে শুরু করে দৃশ্যপট; ব্যথা-বেদনা, স্বাতীর দেয়া হাতঘড়ির তিনটি কাঁটা, যারা এই মুহূর্তে থেমে আছে, হরিণ, ফড়িং, হলঘরক্সকাচবান্ধব হিরার পৃথিবী। সবার গোচরে কিংবা অগোচরে মুঠোভর্তি করে তিনি সেসব তুলে আনেন কবিতায়। কখনও আমাদের আঙুল ধরে হাঁটতে হাঁটতে নিয়ে যান সুড়ঙ্গের ওপারেক্সযেখানে তার সঙ্গে সঙ্গে আমরাও দেখতে পাই কীটের হাততালি, গভীর গর্ত থেকে উড়ে আসা আপাত বিলুপ্ত মার্বল্ড বিড়াল। তার হাত শুশ্রূষায় পারদর্শী; আবার সেই হাতেই ছুরি চালিয়ে হাসতে হাসতে বের করে আনেন দীর্ঘশ্বাস, ঈর্ষা এবং দূরদিশাহীন গোপন হাসিক্সপুঞ্জীভূত আদিম আবেগ। আর এটাই সজল সমুদ্রের বৈশিষ্ট্য।
শব্দব্যবহারে যথেষ্ট সচেতনতা দেখিয়েছেন সজল। যে কোনো কবিতার যে কোনো পঙ্ক্তির যে কোনো শব্দই এই চিহ্ন বহন করে যাচ্ছে। যদিও ‘ধান-ভাবনা’, ‘ভাষাপ্রান্তর’, কিংবা ‘যেটুকু মানান আজ সই’ক্সএমন দুয়েকটি উপাদান ঠিক অসংলগ্ন নয়, তবে মানানসই মনে হয়নি। পারদর্শিতার প্রমাণ সজল তার প্রথম বইয়েই দিয়েছেন। কিন্তু কবিতায় তার চেয়েও যেটা গুরুত্বপূর্ণক্সদৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর জীবনবোধক্সতার উপস্থিতি সজল সমুদ্রের কবিতায় যত্রতত্র। ‘কাটা আপেলের টুকরো, প্রতিদিন তারই শ্বাস ফেলে চলি’; ‘বুঝিনি, আধপোড়া মোম গন্ধই ছড়ায় বেশি আলো ও উজ্জ্বলতার চেয়ে’; ‘বিউগল হাতে যাকে মৃত ভেবে যাও, লোকে তারই ডাকে আজও যুদ্ধে যায়, জাহাজ ভাসায়’; ‘দংশনে ভীত লোক, জেগে উঠবো জাদুকর পেলে’; ‘গ্রহণের যোগ্য চাঁদ প্রতিদিন আকাশে ওঠে না’ক্সএমন অজস্র পঙ্ক্তি ছড়িয়ে আছে বইয়ে। সজল সমুদ্র সেসব পঙ্ক্তিকে কুড়িয়ে এনে গেঁথেছেন গুল্মে, সুচারু হাতে।
সম্পূর্ণ সরিষার ক্ষেতে একা যে বাদাম গাছ, তার অনর্থ সমস্ত গল্পের জীবনী সজল সমুদ্র উদ্ধৃত করেছেন সযত্নে। ‘ডালিম যেভাবে ফোটে’ সেইসব মূর্খ ও মূকের জীবনী পাঠের আনন্দ দেবে, আনন্দ দেবে অস্পৃশ্য বোধকে স্পর্শের। হ রাসেল আহমেদ
বই
ডালিম যেভাবে ফোটে
সজল সমুদ্র

গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল ও বার্ডম্যান এগিয়ে

চলছে অস্কার মনোনয়ন। পর্দায় ভেসে উঠল সেরা
অভিনেত্রী বিভাগে পাঁচজনের নাম। ছবি: এএফপি
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৮৭তম আসরের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের অস্কারে বার্ডম্যান ও দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল চলচ্চিত্র দুটির মধ্যে জোর লড়াই হবে। এ দুটি চলচ্চিত্রই সেরা পরিচালকসহ নয়টি করে বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসের স্যামুয়েল গোল্ডউইন থিয়েটারে গতকাল বৃহস্পতিবার এই মনোনয়ন ঘোষণা করেন গতবারের সেরা পরিচালকের খেতাবজয়ী আলফনসো কুয়ারন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন অভিনেতা ক্রিস পাইন, পরিচালক জে জে আব্রামস ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের সভাপতি শেরিল বুন ইসাকস। খবর বিবিসি, এএফপি ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের। বার্ডম্যান ও দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল ছাড়াও অন্তত ছয়টি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া চলচ্চিত্রগুলো হলো দ্য লিমিটেশন গেম, বয়হুড ও আমেরিকান স্নাইপার। দ্য লিমিটেশন গেম আটটি বিভাগে এবং বয়হুড ও আমেরিকান স্নাইপার ছয়টি করে বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া মোট আটটি চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লিখিত পাঁচটি চলচ্চিত্রই স্থান পেয়েছে। অন্য তিনটি চলচ্চিত্র হলো: সেলমা, দ্য থিওরি অব এভরিথিং ও হুইপ্লাশ।
এবার সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েছেন স্টিভ ক্যারেল (ফক্সক্যাচার), ব্র্যাডলি কুপার (আমেরিকান স্নাইপার), বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ (দ্য ইমিটেশন গেম), মাইকেল কিটন (বার্ডম্যান) এবং এ ডি রেডমেইন (দ্য থিওরি অব এভরিথিং)। আর সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন ম্যারিয়ন কটিলার্ড (টু ডেজ ওয়ান নাইট), ফেলিসিটি জোন্স (দ্য থিওরি অব এভরিথিং), জুলিয়ান মুর (স্টিল অ্যালিস), রোসামুন্ড পাইকি (গন গার্ল) এবং রিজ উইদারস্পুন (ওয়াইল্ড)। সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়েস অ্যান্ডারসন (দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল), রিচার্ড লিঙ্কলেটার (বয়হুড), আলেজান্দ্রো জি ইনারিতু (বার্ডম্যান), মর্টেন টিলডাম (দ্য ইমিটেশন গেম) ও বেনেট মিলার (ফক্সক্যাচার)। সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ইডা (পোল্যান্ড), লেভিয়াথান (রাশিয়া), ট্যাঙ্গারিন্স (এস্তোনিয়া), টিমবুকটু (মৌরিতানিয়া) এবং ওয়াইল্ড টেলস (আর্জেন্টিনা)। প্রতিবছরের মতো এবারও সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রীসহ মোট ২৪টি বিভাগে অস্কার পুরস্কার দেওয়া হবে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে হলিউড অ্যান্ড হাইল্যান্ড সেন্টারের ডলবি থিয়েটারে জমকালো আয়োজনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা নিল প্যাট্রিক হ্যারিস।

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের প্রশ্নে সব সরকারই কৃপণ : চাষী নজরুল ইসলাম by হাসান হাফিজ

বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত প্রথম ছবি ‘ওরা ১১ জন’। সেটি স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র। একইসঙ্গে স্বাধীন দেশের প্রথম চলচ্চিত্রও। ‘ওরা ১১ জন’ সম্পর্কে তিনি স্মৃতিচারণ করলেন এভাবে- একাত্তরে যুদ্ধের সময় ভেবেছিলাম যদি দেশ স্বাধীন হয়, কোনো ছবি করি, তাহলে যুদ্ধের ওপর ছবি বানাব। উত্তাল সেই সময়ে দেখেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত অনেক সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র। রাশিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড- বহু দেশের ছবি। তখনই মনের নিভৃতে লালন শুরু করি, আমিও একদিন আমাদের দেশের মুক্তি সংগ্রামের, রক্তাক্ত যুদ্ধের ছবি তৈরি করব। লাখো শহীদের চূড়ান্ত ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হল। স্বাধীনতার পর ভাবলাম, এবার যুদ্ধের ছবি বানানোর কাজে নেমে পড়তে হবে। সবার আগে টাকার প্রশ্ন। স্টার ফিল্ম কর্পোরেশন তখন এগিয়ে এলো। নতুন এ অভিযাত্রায় শরিক হল তারা। ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে অর্থ যোগান দেয়ার অঙ্গীকার করল স্টার। কাজী আজিজ আহমদ আমাদের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান একজন পরিচালক, গীতিকার। তিনি চিত্রনাট্যও করেছেন অনেক। মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণ প্রসঙ্গে তার সঙ্গে আলাপ করলাম। তাকে বললাম, সম্মিলিত যুদ্ধ দেখাতে চাই। নাম ‘ওরা ১১ জন’ দিলে কেমন হয়? তিনি বললেন, এটা কেমন নাম হল? তখন তাকে বলি, আমার পরিকল্পনা হচ্ছে ১১ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এ ছবিতে অভিনয় করবেন। ১১ দফা ছিল আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম অনুপ্রেরণা। ১১ দফা আন্দোলনের ছবি ভেসে উঠছে আমার মনে। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরে বিভক্ত ছিল দেশ। এসব কথা শুনে তিনি বললেন, বেশ তো ভালো আইডিয়া। মুক্তিযোদ্ধা খসরুকে আমন্ত্রণ জানান হল। খসরু অনেক সাহায্য-সহায়তা করেছেন। মাসুদ পারভেজও করেছেন। এলেন মুরাদ, নান্টু, ফিরোজ রশীদ। তারা সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আমিও এমনটাই চাইছিলাম।
তারপর গল্পের লাইনআপ করা হল। এ ছবির মুক্তিযোদ্ধারা আগে কেউ কখনও ছবিতে অভিনয় করেননি। আরও কাস্টিং করলাম রাজ্জাক, শাবানা, সুমিতা দেবী, খলিল, রাজু আহমেদ প্রমুখকে। ‘ওরা ১১ জন’ ছবির সম্পাদনা করেছেন বশীর হোসেন, ক্যামেরায় ছিলেন এমএ সামাদ। সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন খোন্দকার নূরুল আলম। ছবিটির কাজ দ্রুতই সুসম্পন্ন হল। মুক্তি পেল ১৯৭২ সালের ১৩ কি ১৪ আগস্ট। ‘ওরা ১১ জন’ ছিল প্রচণ্ড ব্যবসাসফল ছবি। এ সাফল্য এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার।
এক প্রশ্নের উত্তরে চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৩ সালে আমি মুক্তিযুদ্ধের ওপর আরেকটা ছবি নির্মাণ করি। সেটার নাম ‘সংগ্রাম’। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অবদান ছিল এ ছবির মূল বিষয়। প্রথমে চেয়েছিলাম শহীদ জিয়াউর রহমানের ওপর ছবিটা করব। তাকে সেটা বলার পর তিনি বললেন, আমার যুদ্ধের গল্পটা তত রোমাঞ্চকর নয়। আপনি বরং এক কাজ করুন। খালেদ মোশারফের গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণ করুন। শহীদ জিয়ার পরামর্শ মোতাবেক আমি তাই করলাম। ‘সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রের সর্বশেষ সিকোয়েন্স ছাড়া পুরোটাই খালেদ মোশাররফের ডায়রির ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছে।
চাষী নজরুল আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমি মোট পাঁচটি ছবি তৈরি করেছি। বাকিগুলো হচ্ছে- হাঙর নদী গ্রেনেড, মেঘের পর মেঘ এবং ধ্র“বতারা। একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছি শহীদ সালাউদ্দিন মমতাজ বীর উত্তমের ওপর। দেড় ঘণ্টার এ প্রামাণ্যচিত্র শুটিং করা হয়েছিল কামালপুর বিওপিতে। এ প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক ছিল ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট।
নতুন করে কি আবার মুক্তিযুদ্ধের ছবি করতে চান? জানতে চাইলে চাষী নজরুল বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একুশে ফেব্র“য়ারি নিয়ে একটা ছবি করার স্বপ্ন মনের মধ্যে নিভৃতে লালন করি। কারণ, ৫২’র ভাষা আন্দোলনেই তো সূচনা। ওই লড়াই থেকে আন্দোলনের নানা পর্যায় পার হয়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। আশা করছি, এ ছবিটির কাজ ২০১১ সাল নাগাদ শুরু করতে পারব। এ ছবি নির্মাণ অবশ্যই একটি কঠিন কাজ। তবে, এতে একটা সুবিধেও আছে। একটু দূর থেকে দেখলে আসল সত্যিটা তুলে আনা যায়। নির্মোহ, নিরাসক্ত মূল্যায়ন করা তাহলে সম্ভবপর হয়। এ সময়ে যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি করি, কার পক্ষে বলব? একপক্ষ খুশি, তো অন্যপক্ষ নারাজ। এসব সমস্যার কারণেও মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণের ব্যাপারে অনেকে নিস্পৃহ, অনাগ্রহী। এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ছবি যা হয়েছে, তা অবশ্যই অপ্রতুল। প্রত্যাশিত পরিমাণের ছবি বানানো হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা ভুলে বসে আছি। একাত্তরে লড়াই হয়েছিল শোষক ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে। এখনকার বাংলাদেশে তো ভাই, ২২ হাজার পরিবার দাঁড়িয়ে গেছে। আমাদের মধ্যে সামগ্রিক বিচারে, দেশপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক- সব ক্ষেত্রেই অবক্ষয়। সব ক্ষেত্রেই ধস নেমেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কি? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একাত্তরের মতো আবার জাগতে হবে আমাদের। সত্যিকারের ঐকমত্য হতে হবে দেশের কল্যাণ ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে।
টিভি নাটকে, টেলিফিল্মে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি কেমন এসেছে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, টিভিতে যা এসেছে, সেগুলো পূর্ণাঙ্গ ক্যানভাস তো নয়। খণ্ডিতভাবে এসব নাটক ও টেলিফিল্মে উপস্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে। নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন পরিচালক সম্ভাবনার পরিচয় দিয়েছেন এক্ষেত্রে। নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়তে হলে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের অবহেলা, ঔদাসীন্যও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণের ব্যাপারে। সব সরকারই এ ব্যাপারে এক। মুখে বড় বড় কথা বলে তারা। মাত্র ৩০ লাখ টাকা অনুদানে কোনো ভালো ছবি তৈরি করা কি সম্ভব? আপনিই বলুন। এ বাজারে সেটা কোনোমতেই সম্ভব না। যিনিই সরকারে আসছেন, তিনিই দলীয়করণ করছেন। কার্পণ্য করছেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর এতগুলো বছর পার হয়ে গেল। সরকারের উদ্যোগে, পৃষ্ঠপোষকতায় অন্তত ৫০টি ছবি নির্মিত হওয়া উচিত ছিল এ সময় পরিধিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি সত্যিই হতাশ। খুব শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেও আমার মনে হয় না।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে চাষী নজরুল ইসলাম একটি শ্রদ্ধেয় নাম। মুক্তিযুদ্ধের ছবি সম্পর্কে তার সঙ্গে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে বিস্তারিত আলাপচারিতা হয়েছিল কবি হাসান হাফিজের সঙ্গে। সেই আলাপের অংশবিশেষ পত্রস্থ হল- বি.স.

ভাটির দেশ ও আমাদের চিরায়ত সাহিত্য by নজরুল ইসলাম সৃজন

পাল রাজত্ব বা চর্যাপদের উদ্ভবকাল থেকে শুরু করে ভাটিরাজ্যের পরিবেশ প্রকৃতি বাংলাসাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। সম্ভবত অষ্টম শতকের শুরুতেই এখানে কোচ, হাজং, গারো ও অন্যান্য নিুবর্ণের মানুষের বসত গড়ে ওঠে। কবি অনন্তরাম দত্তের পরিচয় জ্ঞাপক শ্লোকে এসব বসতির প্রমাণ মেলে। আমাদের প্রাচীন সাহিত্য যেন সেই অভাবতাড়িত মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়। সময়ের বিবর্তনে এসব এলাকা বিরানভূমিতে পরিণত হয়। জন্ম হয় হাওর-নদী ও খাল-বিলকে ঘিরে এক নতুন কৃষ্টির। মানুষের জীবনবোধ ও নদীর শাশ্বত ধারায় বয়ে চলে। শুরু হয় অস্তিত্বের সংগ্রাম। এ বিচিত্র ও সংগ্রামমুখর জীবনে চড়াও হয় জমিদার-মহাজন এবং দেওয়ানরা। তাদের প্রচণ্ড অহংবোধ ও প্রতারণা মানুষের সেই গতি থামাতে পারে না। রাখালিয়া বাঁশি ও মাঝি-মাল্লার ভাটিয়ালি সুর ক্ষণিকের সান্ত্বনা দেয়। হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে এক গভীর অনুভূতি। মূর্ত হয়ে উঠে যুবতী প্রেম আর নারী জীবনের দুঃখ-দুর্দশা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সর্বস্ব সমর্পণের অপরূপ মাহিমা। তাইতো, প্রেমের আকুল মিনতি কুমারী মেয়ের মনকে উতলা করে। এক মহিমান্বিত ত্যাগের মধ্য দিয়ে চিরভাস্বর হয়ে তাদের প্রেমানুভূতি। সতী বেহুলা মৃত স্বামী লক্ষ্মীন্দরকে নিয়ে নদীতে ভেলা ভাসায়। মনসার মন জয় করে ফিরিয়ে আনে মৃতের জীবন। স্ত্রী-দেবতা মনসাকে নিয়ে কাহিনীকাব্য এখানকার মানুষের চেতনায় ঠাঁই পায়। মনসার গানে মুগ্ধ হয় মানুষ। মনসামঙ্গলের প্রধান কবি দ্বীজবংশীদাসের জন্ম কিশোরগঞ্জের পাটোয়ারী গ্রামে। তিনি গ্রামে গ্রামে মনসার গান গেয়ে বেড়াতেন। মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ণ দেবের জন্ম তাড়াইল থানার বোর গ্রামে। তিনি সংস্কৃত পুরাণের কাহিনী শুনে চাঁদ সওদাগরের উপাখ্যানাদি অবলম্বনে পদ্মপুরাণ রচনা করেন। তার কাব্যের সুর এতই শ্রুতিমধুর হয়ে উঠে যে, লক্ষ্মীন্দরের খেদোক্তি, বেহুলার বিলাপ, ধনাই-মনাইয়ের লালসা-লোলুপ দৃষ্টি হতে বেহুলার আত্মরক্ষার কাহিনী শুনলে এক পাষাণ হৃদয়ও করুণায় আর্দ্র হয়ে ওঠে। শুধু মনসা নয়, রাধাকৃষ্ণের কল্পিত কাহিনীকে ঘিরে গড়ে ওঠা পদাবলী সাহিত্যও জনমানসে বিস্তার লাভ করেছিল। এখানকার কবি মাধবাচার্য শ্রী চৈতন্যদেবের সমসাময়িক ও শিষ্য ছিলেন। তার রচিত প্রধান দুটি কাব্যগ্রন্থ চন্ডীকাব্য ও শ্রীকৃষ্ণ বিজয়। ড. দীনেশ চন্দ্র সেন মাধবাচার্যপকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুকুন্দরামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কবি বলে বর্ণনা করেছেন। এখানকার কবি কৃষ্ণদাস বিষ্ণুভক্তি রতœাবলীর পদ্যানুবাদে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। কটিয়াদী থানার ভিটাদিয়া গ্রামের বৈদ্য রঘুনাথ দাস ও কবি নিত্যানন্দ দাস শ্রী চৈতন্যদেবের সমসাময়িক কবি। বৈদ্য রঘুনাথ দাসের বিখ্যাত গ্রন্থ স্বরূপচরিত। এ কাব্যে শ্রী চৈতন্যদেবের কিশোরগঞ্জ জেলায় আগমনসহ প্রাচীন তত্ত্বের সন্ধান পাওয়া যায়।
এছাড়া মধ্যযুগে অনুবাদ সাহিত্য ব্যাপক গতি লাভ করেছিল। বাজিতপুর থানার সাহাপুরের কবি অনন্তরামদত্ত প্রাচীন কবিদের মধ্যে, বিশেষ করে অনুবাদ কাব্যে প্রাতঃস্মরণীয়। এ পথে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাসাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। তিনি এলাকার স্বল্প শিক্ষিত লোকের উপযোগী করে রামায়ণের অংশমাত্র রচনা করেছিলেন। কটিয়াদীর কবি রামেশ্বর নন্দী ও কবি সঞ্জয় বাংলাভাষায় মাহাভারত রচনা করেছিলেন। সঞ্জয়ের মহাভারত অধিকতর সরল ভাষায় লিখিত বলে বেশি প্রচার লাভ করেছিল। কবি গঙ্গানারায়ণের সমসাময়িকক কবি ছিলেন জগন্নাথ দাস। উভয়ের জন্মস্থান নিকলী থানার ধারিশ্বরে। সাধক জগন্নাথ দাস দুর্গাপুরাণ রচনা করেছিলেন। তবে চন্দ্রাবতীর রচনায় রামায়ণের কোনো পুঁথি পাওয়া যায়নি। মহিলা কণ্ঠ থেকে সংগৃহীত হয়েই তা আমাদের পূর্ববঙ্গ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কবি চন্দ্রাবতী বাল্যকাল থেকে কবিতা রচনায় মনোযোগী হয়ে ওঠলেও রামায়ণ রচনার উদ্দেশ্য স্বতঃস্ফূর্ত নয়। চন্দ্রাবতী পরমা সুন্দরী ছিলেন। নয়ান ঘোষের বর্ণনায়, তার রূপ ও গুণের খ্যাতি শুনে অনেক সম্ভ্রান্ত ব্যক্ত তার পানি গ্রহণে ইচ্ছুক হতো। চন্দ্রার প্রার্থেব প্রেমিক ছিলেন ছেলেবেলার সঙ্গী পার্শ্ববর্তী গ্রামের জয়ানন্দ নামক এক ব্রাহ্মণ যুবক। চন্দ্রা ও জয়ানন্দের বিবাহ প্রস্তাবে সম্মত হয়ে কবি দ্বীজবংশীদাস বিবাহের যাবতীয় আয়োজনে মন দেন। এরই মাঝে ঘটে যায় আরেক ঘটনা। জয়ানন্দ মুসলিম রমণী কমলার প্রেমে ধর্মান্তরিত হয়ে ঘর বাঁধেন। এতে চন্দ্রাবতী দারুণভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি ফুলেশ্বরী নদীর তীরে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা ও চিরকুমারী থাকার প্রার্থনা জানালে পিতা তার দুটি ইচ্ছাই মেনে নিলেন। উপরন্তু চন্দ্রাবতী যাতে নিদারুণ আঘাতে একেবারে মুষড়ে না পড়েন সেজন্য তার মনকে অন্যদিকে নির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে রামায়ণ রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জয়ানন্দ তার ভুল বুঝতে পেরে চন্দ্রাকে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। অভিমানী চন্দ্রা তার শেষ ইচ্ছা পূরণে অসম্মতির কথা লিখে জানান। পত্র পাঠে জয়ানন্দ পাগলপারা হয়ে মন্দিরের কাছে উপস্থিত হন। চন্দ্রা তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেন। হতভাগা জয়ানন্দ রুদ্ধদ্বার মন্দিরের আঙ্গিনায় সদ্যফোটা সন্ধ্যামালতী ফুলের রস নিংড়িয়ে কপাটের ওপর চারছত্র কবিতা লিখে যান।
শৈশবকালের সঙ্গী তুমি যৌবনকালের সাথী।
অপরাধ ক্ষমা কর তুমি চন্দ্রাবতী।
পাপিষ্ঠ জানিয়া মোরে না হইলে সম্মত
বিদায় মাগি চন্দ্রাবতী জনমের মত।
চন্দ্রাবতী এ লেখা দেখে তা ধুয়ে-মুছে ফেলার জন্য নদীর ঘাটে জল আনতে
পা বাড়ান। সেখানেও চারছত্র কবিতা তার চোখে পড়ে।
জলে গেল চন্দ্রাবতী চক্ষে বহে পানি।
হেনকালে দেখে নদী ধরিছে উজানী।
একেলা জলের ঘাটে সঙ্গে নাহি কেহ।
জলের উপরে ভাসে জয়ানন্দের দেহ।
কবি চন্দ্রাবতীর জীবনেতিহাস বড়ই করুণ ও এক বিয়োগান্ত কাহিনী বলে নয়ান ঘোষ উল্লেখ করেন। নিঃসঙ্গ কবিকে জীবনভর নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের ভার বয়ে বেড়াতে হয়। সে কারণেই হয়তো তার হাতে রামায়ণ রচনা বেশি দূর এগোয়নি। তিনি সীতার বনবাস পর্যন্ত লিখেছিলেন। রামায়ণ ছাড়াও তিনি মৈমনসিংহ গীতিকার দস্যু কেনারাম ও মলুয়া পালাটি রচনা করেছেন। অথচ তার ব্যক্তিজীবনও চন্দ্রাবতীর পালা নামে ভাটি এলাকার বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিল। চন্দ্রাবতী পালায় প্রেমিকের মৃত্যুর ইঙ্গিত যেন অসংখ্য আখ্যানকাব্যে মূর্ত হয়ে ওঠে। শুধু পরিণতি নয়, জলের ঘাটে সুন্দরী মেয়ের স্বাভাবিক আসা-যাওয়া প্রেমিকের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। তাইতো প্রণয়ী প্রেমিকের আকুতি-মিনতি কুমারী মেয়ের মনকে আন্দলিত করে। সে সমাজের অনেক কিছুকেই তুচ্ছ ভেবে আবেদনে সাড়া দেয়।
এমন সুন্দরী কইন্যা জলের ঘাটে আইছে নয়ন পাগল কইরাছে....॥
জলের ঘাটে বাঁশি বাজে গো কমলা আমরা জলে যাই.....॥
জলের ঘাটের প্রেম নিবেদনের এই সুরটি আজও এখানকার অসংখ্য লোক শিল্পীর কণ্ঠে শোভা পায়। ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত চুয়াল্লিশটি গীতিকার মধ্যে ত্রিশটি গীতিকা-ই পূর্ব মৈমনসিংহ গীতিকা হতে সংগৃহীত। এসব কাহিনী বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও বি.বাড়িয়া জেলার মধ্যস্থিত বিল-হাওর ও নদ-নদী প্লাবিত বিস্তৃত ভাটি অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ প্রণয়গাথা হিসেবে সারাবিশ্বে প্রশংসিত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীনেশ চন্দ্র সেনকে লিখেছেন, বাংলা প্রাচীন বাংলাসাহিত্যে মঙ্গলকাব্য প্রভৃতি কাব্যগুলো ধনীদের ফরমাসে ও খরচে খনন করা পুষ্করিণী, কিন্তু ময়মনসিংহ গীতিকা বাংলা পল্লী হৃদয়ের গভীর স্তর থেকে স্বতঃউচ্ছ্বসিত উৎস, অকৃত্রিম বেদনার স্বচ্ছধারা। বাংলাসাহিত্যে এমন আত্মবিস্মৃত রস সৃষ্টি আর কখনও হয়নি। এ মাটির এ লোক ঐতিহ্য বাংলাসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। যে কেউ এখানে এলে হয়তো মনে পড়ে মৈমনসিংহ গীতিকার সেই মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাজল রেখা বা সখিদের কথা। প্রখ্যাত গবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকী একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবে এসে এ কথাই ভেবেছিলেন। এখানকার আদিবাসীদের মনেও সেসব গীতিকার কথা দোলা দেয় যখন বছরের কোনো এক সময় অচেনা বেদে বহর পাড়াগাঁ সুর হাঁকিয়ে বেড়ায়-
আমরা সাপের খেলা দেখাই,
দাঁতের পোক ফেলাই,
মাজার বিষ নামাই।
বেদেনীর সুরে ভাসে মহুয়ার মুখ। তারপর মনে পড়ে ভাটির প্রত্যন্ত হাওরে নির্বাসিত কাজল রেখার কথা। ক্রমে ক্রমে অনেক কথা হয়তো মনে পড়ে। সাহিত্যের সেই অক্ষত ধারাকে বুকে-পিঠে লালন করেছেন এখানকার লোককবিরা। তাদের কথা ও সুুরে চিরভাস্বর হয়ে ওঠে প্রেম-সৌন্দর্য ও নিঃস্বর্গের এদেশ। এ ধারার বাইরেও অনেক স্বনামধন্য কবির আবির্ভাব হয়েছিল। তাদের মধ্যে গচিহাটার কবি রামকুমার নন্দী, জঙ্গলবাড়ির কবি পূর্ণচন্দ্র রায় ও বাজিতপুর থানার বালিগাঁও-এর কবি অপূর্ব কৃষ্ণ ঘোষ অন্যতম। কিন্তু মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনীগুলো বাস্তব ও মর্মস্পর্শী বলে এর আবেদন সর্বাধিক। চরিত্রগুলো একান্তই ভাটির নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় ও খাল-বিল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সত্তাকেজুড়ে রয়েছে। লোকসাহিত্যের প্রখ্যাত গবেষক ড. আশুতোষ ভট্টাচার্যের বাড়ি এ মাটিরই বকজোড়কান্দি গ্রামে। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য মনে করেন, পূর্ব মৈমনসিংহ গীতিকাগুলো প্রধানত পরিণত বয়স্কা কুমারীর স্বাধীন প্রেমের অধিকার ও ব্যক্তিগত হৃদয় বেদনা লইয়াই রচিত। এসব গীতিকায় নারীরা এক প্রেম শক্তির অধিকারিণী। তারা প্রেম, নারীত্ব, সতীধর্মে অবিচল। কাহিনীর এ ধারা আমাদের লোককবিদের হাতে মাধুর্য লাভ করেছে।
১৯৪৬-৪৮ সালে বাংলাসাহিত্যের অমর কথাশিল্পী অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা আখ্যানকাব্যে সেভাব নবরূপে ফুটে উঠে। এ কাব্যে তিনি ভাটির নিভৃতে মানুষের একান্ত ভাষাকে শিল্পমণ্ডিত করে নিবিড়ভাব সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। তার জন্ম ভাটিরাজ্যের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণঘাট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিুবর্ণের মালো বা জেলে পরিবারের একজন জেলে-নমঃশূদ্র। চরম অবহেলা ও দুঃখ-কষ্টের ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠা কবির জীবন বিয়োগের পর তার বিখ্যাত উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম সিনেমা পর্দায় দেখে, দেশ-বিদেশের সাহিত্যসেবীরা থমকে দাঁড়ায়। প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিমলমিত্র লিখেছেন, অদ্বৈত বাবু হয়তো চলে গেলেন, কিন্তু বাংলাসাহিত্যের একটি অক্ষয় স্বাক্ষর রেখে গেলেন তার তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোক হিসেবে তিনি নিরীহ ও বিপন্ন মানুষের জীবনবোধকে স্বচক্ষে অবলোকন করেছেন। চরিত্র নির্মাণে তার হৃদয়ের অকৃত্রিম দরদ সিক্ত হয়ে উঠেছে। তাই অদ্বৈতের লেখা যেমন নিুবর্ণের হিন্দুদের সাহিত্যসেবার গৌরব অর্জন করল, তেমনিভাবে তাদের জীবনবোধও বাংলাসাহিত্যে ঠাঁই করে নিল। স্বভাবতই অদ্বৈতের লেখা এখানকার পরিবেশ-প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় হয়ে উঠেছে। তিনি মাসিক মোহাম্মদীর ১৩ বর্ষ, ৮ম সংখ্যায় হীরামতিনামক আখ্যানকাব্যটি ছদ্মনামে প্রকাশ করেন। গীতিকাগুলোর মধ্যে মহুয়া পালাটিতে মৈমনসিংহ গীতিকার চমৎকার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এক অপরূপ সুন্দরী বেদের মেয়ে মহুয়ার সঙ্গে বামনকান্দার ব্রাহ্মণ জামিদার নদের চাঁদের দুর্জয় প্রণয়কাহিনী অবলম্বনে রচিত। অন্যদিকে অদ্বৈতের আখ্যানকাব্যটি গড়ে ওঠেছে গাঁওয়ের পরধান মদন সরকারের ছেলে ফটিকচান্দের সঙ্গে তাঁতিঘরের মেয়ে হীরামতির প্রেমকাহিনী নিয়ে। হীরামতি ও এক অপরূপা সুন্দরী। উভয়কাব্যে প্রেমের আবেদন ও কাহিনীর বর্ণনায় অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অদ্বৈতের ভাষায়-
পরমা সুন্দরী কন্যা বিন্দা তাঁতির মাইয়া।
হাইট্যা যাইতে পথের মানুষ বারেক থাকে চাইয়া॥
এই না গুণের হীরামতি কিনা কাম করিল।
জলের ঘাটে গিয়া সেই দিন পিরিতে মজিল॥
জলের ঘাটেই প্রেমিক-প্রেমিকার দেখা হয়। প্রেমিক নানান কথাবার্তায় প্রেমিকার মন ভুলাতে চাই। মৈমনসিংহ গীতিকায় নায়কের প্রেমানুভূতি প্রকাশ পায় এভাবে-
জল ভর সুন্দরী কইন্যা জলে দিছ ঢেউ।
হাসি মুখে কওনা কথা সঙ্গে নাই মোর কেউ॥
অদ্বৈতের ভাষায় সেই প্রেমানুভূতির বর্ণনাটি এসেছে-
জল যে ভর ওলো ছেমড়ি শুনো আমার কথা।
আঁখি তুইল্যা রাও না কর, খাও আমার মাথা॥
উত্তরে হীরামতি বলে,
তুমি যে রে পরের ছাইলা আমি পরের মাইয়া।
কেমনে করি রাও তোমার পানে চাইয়া॥
প্রেমের সরাসরি আবেদন হীরামতির মনে লজ্জাবোধ হয়। মহুয়া ও হীরামতির চেয়ে কঠোর ভাষায় জবাব দেয়-
লজ্জা নাই নির্লজ্জ ঠাকুর, লজ্জা নাইরে তর।
গলায় কলসি বাইন্ধ্যা জলে ডুইব্যা মর॥
এভাবে সংলাপমুখরতার ভেতর দিয়ে কাহিনী কাব্য পরিণতি লাভ করে। কাহিনী কাব্য দুটির পরিণতি ভিন্ন হলেও কথা ও ভাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মিল রয়েছে। হীরামতি কাব্যে হীরামতিকে বড় বউ এর মুখে কঠোর তিরস্কার শুনতে হয়-
লইজ্যা নাই নিলইজ্যা মাইয়া লইজ্যা নাইলো তোর।
ভাঙ্গা কলসি গলায় বাইন্ধ্যা সায়রে ডুইব্যা মর॥
কাহিনীর মিল-অমিল সত্ত্বেও অদ্বৈত মল্লবর্মণ এখানকার পরিবেশ-প্রাকৃতিকে অক্ষয় প্রেমের সংলাপে নিবিড় ও মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলেছেন। তাইতো তার প্রেমের আকুতি-মিনতি ফুটে ওঠে নানা উপমায়-
বড়ভাগ্যে হইলো কন্যা জলের ঘাটে দেখা॥
জলে থাকে জলকুম্ভীর আকাশে থাকে চিল।
এইবার সুন্দরী আমার মন কইরা দে মিল॥
আড়ায় থাকে দোয়েলরে কোয়েল থাকে গাছে।
তোমারে না দেখলে আমার পরাণ নাহি বাঁচে॥
বনে থাকে বনরুইত মায়দানে চরে গরু।
এই বার পরাইয়া দে কন্যা শ্যামপিরিতের খাড়–॥
হাওর এলাকার কুড়া ও ডাহুক দুটি অতি পরিচিত পাখি। ড. দীনেশ চন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকায় কুড়া পাখির ডাকে কাব্যনায়ক চাঁদ বিনোদের ঘুম ভেঙে যাওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। চাঁদ বিনোদ কুড়া শিকারে ভিনদেশে গিয়েছিল। ক্লান্ত বিনোদ ঘুমিয়ে পড়লে মলুয়া তাকে দেখতে পায়। অদ্বৈতের কাব্যে ডাহুকের বর্ণনা এসেছে। শিকারি ডাহুক দিয়ে বন্য ডাহুক ধরা হয় বলে ডাহুক শিকারি আড়ালে ওঁৎপেতে থাকে। পালিত ডাহুকের ডাক যেন বন্য ডাহুকের মরণ ফাঁদ। সে কারণে কাব্যপ্রেমিকের মন ডাহুকের ডাকে মুগ্ধ নয়।
নদীর কিনারে গেলাম পার হইবার আশে।
নাও আছে কাণ্ডারি নাই, শুধু ডিঙ্গা ভাসে॥
এই ত ভাদর মাসে ডাহুক করে রাও।
যেই দেশে নাই ডাহুক ডুম্বুর সে দেশ চইল্যা যাও॥
ডাহুক মারুম ডুম্বুর মারুম পাইড়া ভাঙ্গুম বাসা।
তুই বন্ধুর লাগিয়া আমার তরুতলে বাসা॥
এসব আখ্যানকাব্যে ভাটির দেশের বর্ণনা নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। আর এখানকার লোককবিদের হাতে রচিত কাব্যিক প্রেমের পরিণতিও যেন ত্যাগের মহিমায় চির উজ্জ্বল হয়ে আছে।
মহুয়ার জীবন বিসর্জন, ভাটির নির্জন হাওরে কাজল রেখার নির্বাসন, দীর্ঘ দুঃখ-কষ্ট সয়ে মদিনার মৃত্যু, ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণায় কাতর চন্দ্রাবতী ও তার প্রেমিকের জীবন বিয়োগ সবকিছুই জলে ডুবে মরার শামিল। আধুনিক যুগের কবি অদ্বৈত মল্লবর্মণের কাব্যে সেই সুরের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তার ভাষায়-
লোকাচারের বিয়া নিয়া সুখে বাস করে।
মনে-প্রাণের বিয়া নিয়া জলে ডুইব্যা মরে॥
কয়েকশ বছর পথ পরিক্রমার পরও সেই ভাব, কথা ও সুর জনমানসে সমাদৃত। তাইতো এখানকার সাধারণ মানুষ গানের দল বেঁধে গ্রামে গ্রামে এসব গেয়ে বেড়ায়। তারা গান গেয়ে মনে প্রশান্তি লাভ করে। নাট্যগুণেসমৃদ্ধ এসব গানের দলগুলোর মধ্যে- আলোমতি প্রেমকুমার, গুণাই, রূপবান, বেদের মেয়ে জোৎস্না, কাজল রেখা, অরুণ শান্তি, আপন দুলাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের লোকনাট্য দলের উদ্যোগে মহুয়া, মলুয়া, কাজল রেখাসহ বিভিন্ন পালা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রচার করতে দেখা যায়। আজকের দিনেও এসব বিচিত্র প্রেমকাহিনী সাধারণ মানুষের মনে সমান আবেদন সৃষ্টি করে। চিরন্তন প্রেমের এ ধারা দেশের অসংখ্য সাহিত্যসেবী মানুষের মনকেও আলোড়িত করে।

বিতর্কের মুখে সানি লিওন

‘রাগিনি এমএমএস-২’ ছবি দিয়ে গত বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলেন সানি লিওন। একতা কাপুর প্রযোজিত এ ছবির একাধিক রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। তবে চলতি নতুন বছরে আরও একাধিক চমক নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন সানি। শুধু তাই নয়, এ বছর বলিউডের মধ্যে সর্বাধিক ছবির নায়িকা হয়ে আসছেন তিনি। বছরের বিভিন্ন সময় পাঁচ পাঁচটি ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার। চমকদার বিষয় হলো, এই সবক’টি ছবির প্রধান চরিত্রই হলেন সানি। সব মিলিয়ে ২০১৫-তে ভাগ্যদেবী যেন ভর করেছে এই তারকার ওপর। তার অভিনীত এ পাঁচটি ছবি হলো- ‘কুচ কুচ লোচা হে’, ‘মাস্তিজাদে’, ‘লীলা’, ‘টিনা এন্ড লোলো’ এবং ‘বেইমান লাভ’। এ পাঁচ ছবিতেই সেক্সসিম্বল ইমেজে পর্দায় আবির্ভূত হবেন তিনি। তবে সম্প্রতি ‘মাস্তিজাদে’ ছবির পোস্টারের জন্য পোজ দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন এ অভিনেত্রী। দুটি পোস্টারের একটিতে পুরোপুরি নগ্ন হয়ে পোজ দিয়েছেন তিনি। শুধু হাত দিয়ে নিজের গোপন অঙ্গ ঢেকে রেখেছেন। অবশ্য তীব্র সমালোচনার মুখে সেই পোস্টারটি বাতিল করা হয়েছে। তবে ‘মাস্তিজাদে’র বর্তমান পোস্টারের মাধ্যমেও বিতর্কের মুখে পড়েছেন সানি। এ পোস্টারে ব্যাপক খোলামেলা হয়ে দুই হাতে দুটি কলা নিয়ে চোখ মেরে অশ্লীল পোজ দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক হচ্ছে বলিউডপাড়া থেকে শুরু করে বিশ্ব মিডিয়ায়। তবে এ পোস্টারটি পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছেন পরিচালক মিলাপ জাভেরি। ‘মাস্তিজাদে’ ছবিতে তুষার কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করছেন সানি। এদিকে এ ছবির চলতি পোস্টার বিতর্ক নিয়ে সানি লিওন বলেন, আমার মনে হয় ছবির নাম, গল্পের সঙ্গে পোস্টারটি পুরোপুরি যায়। সুতরাং এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। আর হলেও সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। এ ছবিটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। আশা করছি ‘মাস্তিজাদে’সহ আমার অভিনীত চলতি বছরের পাঁচটি ছবি দর্শকদের আনন্দ দেবে।

সন্ত্রাসের বিকৃত আদর্শকে হারাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন
সন্ত্রাসবাদের ‘বিকৃত ভাবাদর্শ’কে পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ওয়াশিংটনে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বৈঠকের আগে দুই পুরোনো মিত্রদেশের নেতারা ওই যৌথ ঘোষণা দেন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির। ডেভিড ক্যামেরন দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল ওয়াশিংটনে পৌঁছান। বারাক ওবামার সঙ্গে গতকাল এক নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। এরপর আজ শুক্রবার আরও বৈঠক করবেন তাঁরা। দুই নেতার একটি মন্তব্যধর্মী নিবন্ধ গতকাল টাইমস অব লন্ডন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এটি বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওবামা ও ক্যামেরন দুই দিনব্যাপী শীর্ষ বৈঠকের আগে ইঙ্গ-মার্কিন মিত্রতার মূল্যবোধগুলোর একটা রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের প্যারিসে বিতর্কিত রম্য সাপ্তাহিক পত্রিকা শার্লি এবদোর কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ওবামা ও ক্যামেরন বলেছেন, চরমপন্থীরা কখনোই বাক্স্বাধীনতা হরণ করতে পারবে না।
দুই নেতা লিখেছেন, ‘আমরা আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট বা বোকো হারামের মতো একক কোনো ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি হই আর না হই, চরমপন্থীদের ভয়ে কখনোই আতঙ্কিত হব না। আমরা এ বর্বর হত্যকারী ও তাদের বিকৃত ভাবাদর্শকে পরাজিত করবই।’ ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন’র বিরুদ্ধেও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ওবামা ও ক্যামেরন। মস্কোর বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা। লিখেছেন, ‘আমরা যদি এভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে দিতে থাকি, তাহলে সেখান থেকে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, তাতে সবাইকেই ভুগতে হবে। আমাদের শক্ত ও ঐক্যবদ্ধ জবাব এ অব্যর্থ বার্তাই দিয়েছে যে ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করার রুশ প্রচেষ্টার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বসে থাকবে না।’ ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী (ইইউ) বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর দেশটির স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়াসহ রুশ ভাষাভাষী বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। মার্চ মাসে ক্রিমিয়াকে নিজেদের অংশ করে নেয় রাশিয়া। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে। যুক্তরাজ্যে আগামী মে মাসের সাধারণ নির্বাচনের আগে এটাই ক্যামেরনের শেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে তিনি কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বন্দী থাকা সর্বশেষ ব্রিটিশ নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য ওবামার কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন সরকারি একটি সূত্র ও ওই বন্দীর আইনজীবী। এ ছাড়া সফরকালে ক্যামেরন ইউরোজোন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং একটি পরিকল্পিত মার্কিন-ইইউ চুক্তি নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরে আলোকপাত করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

গঙ্গায় ভাসছে শতাধিক লাশ

ভারতের গঙ্গায় ভেসে উঠছে একের পর এক লাশ। বুধবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (৫.১৬ মিনিট) ১০৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি, জিনিউজ। ভারতে সৎকার করার পরিবর্তে লাশ গঙ্গায় ফেলে দেয়ার চল রয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের কানপুর এবং উন্নাও শহর দুটির মধ্যবর্তী এলাকা পারিয়ার ঘাটের কাছে বেশকিছু লাশ ভেসে ওঠে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মুহূর্তে আলোড়ন পড়ে যায় গোটা ভারতে। এ অঞ্চলে গঙ্গায় সে াত কম থাকায় লাশগুলো এখানে আটকে যায়।
আর জলস্তর কমায় লাশগুলো ভেসে উঠেছে। এ সম্পর্কে উত্তর প্রদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক সতীশ গণেশ বলেন, উন্নাও জেলার সফিপুর এলাকা থেকে বুধবার লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘নাবালক-নাবালিকা, অবিবাহিত নারীদের লাশ দাহ করার পরিবর্তে তাদের স্বজনরা এগুলো গঙ্গায় ভাসিয়ে দেন।’ পরে নদীর জল কমে আসায় লাশগুলো পারিয়ার ঘাটের কাছে ভেসে উঠেছে। লাশগুলোর বেশিরভাগই পচে গেছে। অনেকগুলো এমনভাবে পচেছে যে, সেগুলো নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এসব লাশের সঙ্গে অপরাধী ঘটনার কোনো সংযোগ নেই। তারপরও পুলিশ এ ঘটনা খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রশাসনের ধারণা, পাপমোচনের উদ্দেশে ওই লাশগুলো নদীতে ডোবানো হয়।

পাক-ভারত সফরে কেরিকাণ্ড

ভারত-পাকিস্তান সফরে এসে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। থাকা-খাওয়া বিষয়ক দুই দেশের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির নিরাপত্তায় ‘তিন হোটেলে তিন বেলা’ কৌশল নিয়েছিল গুজরাট পুলিশ। কেরির অবস্থানের জন্য একই সঙ্গে তিনটি হোটেল বুকিং দেয় পুলিশ। কেউই জানতেন না শেষ পর্যন্ত কোন হোটেলে তিনি উঠবেন। পুলিশের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, ‘কেবল জন কেরির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাই জানতেন তিনি কোন হোটেল থাকবেন। এমনকি হোটেলের কর্মচারীরাও কেরির পৌঁছানোর এক মিনিট আগেও কোনো তথ্য জানতো না।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কেরি একটা হোটেলে সকালে নাস্তা করেছিলেন, দুপুরে লাঞ্চ করেছিলেন আরেকটিতে এবং তৃতীয়টিতে রাতে ঘুমিয়েছিলেন।’ একই ধরনের কৌশল নেয়া হয়েছিল জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের ক্ষেত্রেও।
নিরাপত্তার কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গুজরাট ভাইব্রাস্ট সম্মেলনের অতিথিদের নিরাপত্তায় ২০টি বুলেট প্র“ফ গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে যোগ দেন জন কেরি, বান কি মুন ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সেরিং তোগে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতার পর ভারতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এদিকে পাকিস্তান সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দেশটির স্থানীয় ঐতিহ্যের খাবারের পরিবর্তে আমেরিকান খাবার ‘লিটল স্লাইস’ দিয়ে সকালের নাস্তা করেছেন। ‘ডানকিন ডোনাটস’ নামের একটি হোটেলে তিনি নাস্তা করে তার ছবি তুলে টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। টুইটারে নিজের সেলফি দিয়ে জন কেরি লেখেন, ‘ইসলামাবাদের ডানকিন ডোনাটসে বাড়ির খাবার লিটল স্লাইস খেয়ে দিন শুরু করলাম।’ ছবিতে দেখা যায়, ৭১ বছর বয়সী ধূসর চুলের কেরি নীল জামা পরে আছেন। এই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম মজার মন্তব্য করেছেন ব্যবহারকারীরা। রেডিও পাকিস্তান এক মন্তব্যে বলেছে, স্থানীয় বেকারি পরিদর্শনের মাধ্যমে দিন শুরু করেছেন কেরি।’ এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এই ছবি নিয়ে ডানকিন ডোনাটসে যাও। তারা তোমাকে মার্কিন ভিসার খরচ দেবে।’ শাহরিয়ার মির্জা নামে একজন লিখেছেন, ‘ডানকিনে বসে আছে কেরি, একলা বসে নওয়াজ খায় হালুয়া পুরি।’

রাজাপাকসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

শ্রীলংকার মার্কসবাদী বিরোধী দল দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেছে। একইসঙ্গে তাদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার মুখপাত্র এ কথা জানান। জেভিপি বা পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট রাজাপাকসে, তার আইনপ্রণেতা ছেলে নমাল এবং দুই ভাই বাসিল ও গোতাভায়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করে। সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রশাসনে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের নির্বাচনে রাজাপাকসের দলের ভরাডুবি হয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই রাজাপাকসের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আÍসাতের অভিযোগ তোলা হয়। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের ১০ বছরের শাসনামলে তার পরিবার ব্যাপকভাবে সরকারি অর্থ আÍসাৎ করে এমন কথা বলা হয়। জেভিপির আইনপ্রণেতা সুনীল হ্যান্ডুনেতি এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের এ অভিযোগ দায়েরের প্রধান লক্ষ্য রাজাপাকসের পরিবারকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাই।’ এএফপি।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি : বিশ্ব উদ্বিগ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ক্রমান্বয়ে কমে আসা, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও অস্থিরতা, ব্যাপক হতাহতের ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর গুলিবর্ষণ এবং রংপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে আগুনে পুড়ে যাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনায় পশ্চিমা কূটনীতিকেরা তাদের উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউরোপীয় দেশগুলোর মিশন প্রতিনিধিদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বিদেশী কূটনীতিকেরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও ব্রিটিশ হাইকমিশন পৃথকভাবে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর এই প্রথমবারের মতো পশ্চিমা কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে সমন্বিতভাবে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা জানালেন। গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপির অনির্দিষ্টকালের অবরোধকে কেন্দ্র করে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে বিদেশী কূটনীতিকদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। ধারাবাহিক ব্রিফিংয়ের প্রথম দিন ইউরোপীয় কূটনীতিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বক্তব্যের পর ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতেরা বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। কূটনীতিকেরা দেশে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষতিতে তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানান। এর মধ্যে মঙ্গলবার রিয়াজ রহমানের ওপর আক্রমণ ও গতকাল বুধবার রংপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার অজুহাতে সমাবেশ, চলাচল ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থেকে প্রকৃত সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর : অন্য দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপমুখপাত্র মারি হার্ফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমানের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্তম্ভিত ও মর্মাহত। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন গর্হিত ও কাপুরুষোচিত কাজের কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতার আমরা নিন্দা জানাই। এ ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের খুঁজে বের করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সব পক্ষে সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে হার্ফ বলেন, আমরা সব দলকে সংযত আচরণ করতে এবং সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাই। একইসাথে স্বাধীনভাবে জনগণের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মার্কিন দূতাবাস : এ ছাড়া ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশব্যাপী হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষের সহিংসতাকেই নিন্দা জানায়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার : ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন অপর এক বিবৃতিতে রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা এবং রংপুরে যাত্রীবাহী বাসে আক্রমণের ফলে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।  গিবসন বলেন, এসব অপরাধের যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যুক্তরাজ্য সব পক্ষকে সংযত থাকা, পরিমিতিবোধের চর্চা করা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহিংসতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘœ সৃষ্টির পুনরাবৃত্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছে।
রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে : ইউরোপীয় কূটনীতিকদের দেয়া ব্রিফিংয়ে রিয়াজ রহমানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করবে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রিয়াজ রহমান বা তার পরিবারের কেউ ঘটনার ব্যাপারে মামলা করতে সম্মত হননি। তাই পুলিশ বাদি হয়ে এ ব্যাপারে মামলা করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পথ থেকে দূরে থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার দায়িত্বশীলতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

বিপর্যস্ত দেশ : ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা by আবু সালেহ আকন

হরতাল অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। এক দিকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি-টিয়ার শেল। সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। পুলিশি পাহারায় হাইওয়েতে যানবাহন চালানোর কথা বললেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এ দিকে রেলযোগাযোগ পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। নৌযান কিছু চলাচল করলেও বাড়তি চাপে হিমশিম অবস্থা। পণ্য পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে এরই মধ্যে মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। ১০ দিন ধরে দেশে টানা অবরোধ ও হরতাল চলছে। ২০ দলীয় জোটের আহ্বানে এ অবরোধ কর্মসূচি ও হরতাল পালিত হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটকে সমাবেশ করতে না দেয়া এবং বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে ৬ জানুয়ারি থেকে এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির পাশাপাশি চলছে হরতাল। এরই মধ্যে গত ১০ দিনে এই অবরোধ ও হরতালকে ঘিরে ২৪ জনের প্রাণ গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি ও অবরোধকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। বাকি ১১ জন নিহত হয়েছেন আগুনে। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে। আহতদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানও রয়েছেন। ফেনীতে বোমায় আহত হয়েছেন তিন বিচারক। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিচারকদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ককটেল হামলা, দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় থেকে ককটেল উদ্ধারসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। এমনকি রাস্তায় যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কোনো কোনো এলাকায় যানবাহনে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তার পরও পাঁচ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরিবহন সেক্টরের মালিক শ্রমিক নেতারা বলেছেন, যেভাবে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী খান বলেছেন ওই নিরাপত্তা দিয়ে পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব নয়। এই নিরাপত্তার মধ্যেও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলছে। ১৭২টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক যানবাহন। ১১ জন শ্রমিক এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে এক লাখ ২৭ হাজার পণ্য পরিবাহী গাড়ি রয়েছে। তা বসে থাকলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয় প্রতিদিন। রুস্তুম আলী খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে চরম মূল্য দিচ্ছি আমরা। তিনি বলেন, এ অবস্থায় পণ্য পরিবহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সদস্যসচিব মাহমুদুল আলম মন্টু বলেন, আমার নিজের বিরুদ্ধেও গাড়ি পোড়ানো মামলা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি একটি মামলা ও ১০ জানুয়ারি আরেকটি মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবহন সেক্টর সচল রাখতে যে নিরাপত্তা দিচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে ভয়ে অনেকেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছেন না।
পরিবহনের মধ্যে একমাত্র নৌযান সেক্টর এখনো মোটামুটি সচল রয়েছে। তবে এখানে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাস-কোচ বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌযান। কিন্তু সেখানে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে মানুষকে। ভুক্তভোগীরা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকায় আসতে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা; কিন্তু অতিরিক্ত চাপে তাদের বসার জন্য ডেকের সিট কিনতে হচ্ছে। একজনের সিট বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। সূত্র জানায়, এতে অনেক অসহায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। এ ব্যাপারে মালিক কর্তৃপক্ষের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, হরতাল-অবরোধে নৌ সেক্টরে কোনো প্রভাব পড়েনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় অবরোধ ও হরতালে সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে রেল সেক্টরে। চার স্থানে এরই মধ্যে রেলের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় কোনো কোনো অঞ্চলে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজকে সকালের টিকিট কেটে পরদিন সন্ধ্যায় রওনা দিতে হচ্ছে কোনো কোনো এলাকা থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের কিছু করার নেই। এমন এমন এলাকা আছে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেল চালাতে গিয়ে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। যানমালের নিরাপত্তার জন্য রেলের গতি কমানো হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার গতিতে রেল চালাতে হচ্ছে, যা মানুষ পায়ে হেঁটেই চলতে পারে।
এক দিকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, অন্য দিকে পুলিশের গুলি-টিয়ার শেল ও আটক-গ্রেফতার। এসব কারণেও মানুষ চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। রাজধানীর আরামবাগের ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, কোনোভাবেই স্বস্তি পাচ্ছেন না। গাড়িতে উঠতে ভয় লাগে, রাস্তায় যেকোনো স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কবলে পড়তে পারেন। আবার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবেন যেকোনো স্থানে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, বিনা কারণে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল নাশকতা রোধে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ যদি পুলিশকে সহায়তা করে তবে পুলিশ সহজে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারবে। অন্য দিকে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রয়োজনে বিজিবি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করবে।

নির্বাচন ছাড়া পিছু হটবে না বিএনপি by মঈন উদ্দিন খান

নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার থেকে আলোচনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না পাওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি। নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো ইস্যুতে আলোচনায়ও বসবে না দলটি। দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে অবরোধ আরো কঠোর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী রোববার দ্বিতীয় দফার ইজতেমা শেষে অবরোধের পাশাপাশি নতুন কর্মসূচির ডাক দেয়া হতে পারে। ঢাকায় আন্দোলন কার্যকর পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া নয়া দিগন্তকে দলের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন। যতণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে না নেয়া হবে, ততণ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলবে। দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, আন্দোলন পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে চলছে। সরকারের গ্রেফতার নীতির কারণে প্রকাশ্যে না এলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সব নেতা কার্যকর ভূমিকা রেখে চলছেন। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন খালেদা জিয়া। সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাদের আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। ২০ দলের শীর্ষ নেতাদেরকে  সাথেও জোট প্রধান কথা বলে নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। আন্দোলন প্রসঙ্গে দলের কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছে দলের স্থায়ী কমিটিও। এক বিবৃতিতে দলের নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন লাগাতারভাবে চলবে। অবৈধ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে সাময়িক কষ্ট স্বীকারের জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন, গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আন্দোলন স্থগিত না করে লাগাতারভাবে চালিয়ে গেলে আরো অনেক আগেই সফলতা আসত। তাই, এবার সরকার সরাসরি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের  কোনো পরিকল্পনা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেই। লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাফল্য আসবে বলে মনে করছে দলের হাইকমান্ড।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বর্তমান সঙ্কট উত্তরণের জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, তাদের দাবি স্পষ্ট; নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সংলাপে বসতে চায় তবেই তারা আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবেন, অন্যথায় নয়।
জানা গেছে, দলের তৃণমূল পর্যায় থেকেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলাপর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন, আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে। ঢাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান শামীম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির আন্দোলনের ফলে তৃণমূলে সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। আন্দোলনে বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফেরার সুযোগ নেই।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার ইজতেমা শেষে রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। দলের চেয়ারপারসন ঢাকায় আন্দোলন জোরদারে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার নির্দেশনা পেয়ে গতকাল মাঠে নেমেছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারাও ঐক্যবদ্ধভাবে মিছিল নিয়ে মাঠে নামতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, ইজতেমার পরে আন্দোলনের গতি বাড়াতে অবরোধের পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হরতাল-অসহযোগের ডাক দিতে পারেন খালেদা জিয়া। রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক তৎপরতার সাথে যুক্ত শমসের মোবিন চৌধুরীকে গ্রেফতার, রিয়াজ রহমান গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দলের শীর্ষ পর্যায়ে আরো কয়েকজনকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের বাসায় কয়েকটি দেশের ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কূটনীতিকেরা বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার চিন্তা by জাকির হোসেন লিটন

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে আপাতত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে ‘সেফ এক্সিট’ (আন্দোলন থেকে সম্মানে সরে আসা) দেয়ার চিন্তা করছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে জোটকে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। হরতাল-অবরোধে দেশব্যাপী নাশকতা ঠেকাতেই এমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপিকে কোনোভাবেই ইজতেমার মধ্যে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থান এ মুহূর্তে সরকারের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকে দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন খালেদা জিয়া। হরতাল অবরোধসহ সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন সরাসরি মনিটর করছেন তিনি। সে জন্যই এবারের আন্দোলনে গতি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সরকারবিরোধীরা। জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর ও হতাহতসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। টানা অবরোধ ও হরতালে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের অর্থনীতি। এ অবস্থায় সরকারের ওপর দেশ-বিদেশ থেকে চাপও বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের ওপর চাপ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি বিএনপি জোটকে ‘সেফ এক্সিট’ দেয়ার কথাও ভাবছে আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারক মহল।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে বিএনপি জোটের টানা আন্দোলন মোকাবেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির সমাবেশ ঠেকাতে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হলে তিনি যে সেখানেই অনড় অবস্থান নেবেন এমন কোনো তথ্য ছিল না সরকারের কাছে। গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থান এখন সরকারের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে জন্য চলমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে খালেদা জিয়াকে ঘরে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা একাধিকবার বলেছেন, খালেদা জিয়া ইচ্ছা করলে ‘বাসায়’ যেতে পারেন, তাকে কোনো বাধা দেয়া হবে না।
জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে তার বাসভবনে ফেরানোর কৌশল হিসেবে সভা-সমাবেশের অনুমতি দিয়ে আপাতত ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায় সরকার। তিনি রাজধানীর কোথাও সমাবেশে যোগ দিলে সেখান থেকে খালেদা জিয়াকে আর গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি বাসায় পৌঁছে দিতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাকে সেখানেই অবরুদ্ধ করে রাখা হতে পারে। সেখানে কোনো নেতাকর্মীকেই আর খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার সুযোগ দেয়া হবে না। এতে সারা দেশে নেতাকর্মীদের সাথে খালেদা জিয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। আর তাতে চলমান আন্দোলনও স্তিমিত করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই মুখে যত কঠোর অবস্থানের কথাই বলা হোক না কেন বিএনপি চাইলে এখন তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে সমাবেশ করতে দেয়া হলে সরকারবিরোধীরা সারা দেশ থেকে এসে রাজধানীতে টানা অবস্থান এবং বিশৃঙ্খলা শুরু করে কি না সেই ব্যাপারটি নিয়েও ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। এ রকম কোনো আশঙ্কা থাকলে অনুমতি না-ও দেয়া হতে পারে।
এ ব্যাপারে নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি যদি সমাবেশের আবেদন করে তবে তা ভেবে দেখা হবে।
অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করাকে সরকার অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সমাবেশের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে কৌশলে সেটি করা সম্ভব না হলে রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জোর করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
তবে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা হলেও ইজতেমার মধ্যে সে রকম কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। বিশেষ করে রোববার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন হওয়ায় সেদিন কোনোভাবেই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। কারণ ওই দিন সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলে আখেরি মুনাজাতের নাম করে সারা দেশ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে চলে আসতে পারে এবং ইজতেমার পর রাজধানীতে টানা অবস্থান ছাড়াও বড় ধরনের ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করতে পারে বলে সরকারের কাছে তথ্য দিয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, তারা নাকি সমাবেশ করতে চায়। তবে তাদেরকে ১৮ তারিখ রোববার কোনোভাবেই রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। কারণ, তারা আখেরি মুনাজাতের নাম করে ঢাকায় অবস্থান নিতে পারে। এ সুযোগ সরকার দেবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি এ ব্যাপারে নয়া দিগন্তকে বলেন, সমাবেশের অনুমতি দেবে প্রশাসন। কারণ বিএনপির কারণে আমরা ৫ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে পারিনি। আমরা সরকারি দল হওয়া সত্ত্বেও ১২ জানুয়ারি ১১টি শর্তে আমাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়। তাই বিএনপির সমাবেশে নাশকতা হবে কি না তা বিবেচনা করে প্রশাসনই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।

প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন লতিফ সিদ্দিকী!

আবারো আলোচনায় আসছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। কারাগার থেকে জনসমক্ষে আসতে চাচ্ছেন তিনি। তাও আবার জাতীয় সংসদে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও পবিত্র হজ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে সম্প্রতি ঝড় তোলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ‘বেফাঁস মন্তব্যকারী’ হিসেবে পরিচিত এ সাবেক মন্ত্রী নিজের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বেফাঁস মন্তব্যের কারণে বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ। একই কারণে তিনি মন্ত্রিত্ব হারালেও এখনো বহাল রয়েছে তার সংসদ সদস্য পদ। এ প্রেক্ষাপটে দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের তারিখ ঘোষণার পরপরই তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। এ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে।
সাবেক এ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর চিঠি কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার পর মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মুহূর্তে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ারই চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। পঞ্চম অধিবেশন চলাকালে পুরো সময়জুড়েই তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তবে এ মুহূর্তে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তাকে মুক্তি দেয়া হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ। এ পরিস্থিতিতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ গ্রহণের প্রস্তাব এসেছে। এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা জানান, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। ওপরের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে ইসলামের অন্যতম বিধান হজ, মহানবী সা: সম্পর্কে চরম আপত্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বসেন লতিফ সিদ্দিকী। আর এতে চরম বেকায়দায় পড়েন নিজে। সরকার ও দলকেও ফেলেন বিব্রতকর অবস্থায়। পরিণতিতে মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পাশাপাশি নিজ দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী এবং দলের প্রাথমিক সদস্য পদ হারান। প্রায় দুই মাস বিদেশ বিভূঁইয়ে ফেরারি জীবন শেষে প্রায় দুই ডজন মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে ২৩ নভেম্বর রাতে গোপনে দেশে ফিরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর এখন কারাগারে রয়েছেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক রেস্টুরেন্টে নিউ ইয়র্কের টাঙ্গাইলবাসীর সাথে এক অনুষ্ঠানে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হজ, মহানবী ও তাবলিগ জামাতের কড়া সমালোচনা করে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেন। টেলিভিশনের টক শোর সমালোচনা করেও অশালীন মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়।
মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে টাঙ্গাইল-৪ আসন (কালিহাতী) থেকে নির্বাচিত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নবম সংসদে তিনি পাটমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীরও সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই।

হরতাল-অবরোধে স্থবির দেশ, নিহত ১

একদিকে অবরোধ, অন্যদিকে হরতাল। ২০ দলের এ দুই কর্মসূচির কারণে গতকাল স্থবির হয়ে পড়ে সারা দেশের জনজীবন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতেও হরতাল পালিত হয়েছে দেশব্যাপী। দেশের কোথাও থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ঘুমন্ত বাস হেলপার। বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার মহেশবাথান এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে ভেতরে থাকা ওই হেলপার মারা যান। হবিগঞ্জে ককটেল হামলায় ঝলসে গেছে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ ও গোলাগুলোতে আহত হয়েছেন ২০ জন। সংঘর্ষ হয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এদিকে হরতাল ও টানা অবরোধের ১০ম দিন গতকালও ৪০টির বেশি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে ১২-১৪টি, ফেনীতে ৭টি, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, ধামরাইয়ে ২টি করে, জয়পুরহাট ও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৩টি করে যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর, মৌলভীবাজারের জুড়ি, নাটোরের বড়াইগ্রাম, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, খুলনা ও নরসিংদীর মাধবদীতে ১টি করে যানবাহনে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানে এদিনও গণগ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন ৬ শতাধিক নেতাকর্মী। বিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে অনেক এলাকায়। কিছু কিছু এলাকায় বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
দেশজুড়ে গণগ্রেপ্তার
অবরোধ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গতকালও দেশজুড়ে গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুর দেড়টার দিকে পল্টন কালভার্ট রোড থেকে তাকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। আটকের সময় তিনি তার বাসা থেকে কালভার্ট রোডের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া রাজধানীতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু, কলেজ ছাত্রদলের সহসম্পাদক সাইফুল হাবীব, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন, নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সভাপতি ওমর ফারুক, খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন তালুকদার, বেনাপোল পৌর জামায়াতের সভাপতি আইয়ুব হোসেন ও সুলতান আহম্মেদ, হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ঝলকসহ খুলনায় ৬৭ জন, যশোরে ৫৫ জন, সাতক্ষীরায় ৬১ জন, রংপুরে ২৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১৯ জন, মৌলভীবাজারে ২০ জন, নড়াইলে ২২ জন, পাবনায় ২৯ জন, কুমিল্লায় ১৫ জন, মেহেরপুরে ১৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৬ জন, নোয়াখালী ২৭ জন, মানিকগঞ্জে ৬ জন, কক্সবাজারে ১০ জন, দিনাজপুরে ১৪ জনসহ সারা দেশে ৬ শতাধিক ২০ দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ
ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের রাজধানীতে পালিত হয়েছে ২০ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। ভোর থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের ব্যাপক তৎপতার কারণে রাজপথে পিকেটিং করতে পারেনি বিরোধী নেতাকর্মীরা। তবে সকাল থেকে নগরীতে গাড়ি চলাচল ছিল কম। তবে থেকেই খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। এদিকে হরতালের সমর্থনে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে রাজধানীর বেইলী রোড এলাকায় মিছিল করেছে মহানগর বিএনপি। মিছিলটি বেইলী রোড থেকে শুরু হয়ে ভিকারুননিসা স্কুল প্রদক্ষিণ করে রমনায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় মিছিলকারীরা হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মিছিলে যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুসহ মহানগর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা অংশ নেন। মাদারটেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা শিবির। শান্তিনগর-পুরান ঢাকার বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের সামনে মিছিল করেছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এছাড়া হরতালের সমর্থনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, পলাশী, মালিবাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ধোলাই খাল, ফার্মগেট, বনানী ও বারিধারা প্রগতি সরণী এলাকায় মিছিল করেছে ছাত্রদল। ওদিকে চট্টগ্রাম শহরে ঝটিকা মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। বিকালে তিনটার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর এলাকায় চবি ছাত্রদলের সম্পাদক সাইফুদ্দীন সালাম মিঠুর নেতৃত্বে মিছিলটি হয়। এদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা ও চলমান আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে না পারায় বিলুপ্ত করা হয়েছে ওয়ারী থানা স্বেচ্ছাসেবক  দল। গতকাল সহ-দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
রাজধানীতে ৮ যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ: পুলিশসহ আহত ৪
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও  সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ছিল থমেথমে অবস্থা। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন পুলিশ-আনসারসহ সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে ছয়টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। অর্নিদিষ্টকালের চলমান অবরোধের মধ্যে এই হরতালে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। আতঙ্কে প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যাননি কেউ। হরতালের শুরুতেই বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গাড়ি ভাঙচুরের দায়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিকাল ৪টার পর রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি ট্রাক ও দুটি প্রাইভেটকারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম থেকে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে  মতিঝিলের ইসলামি ব্যাংকের পাশে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রায় একই সময়ে শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনি এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাত পৌনে আটটার দিকে পোস্তগোলার শনির আখড়া এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। রাত আটটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ীর রায়ের বাগে শ্রাবন পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা ৩টি বাস ভাঙচুরও করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। আগুন দেয়ার কিছুক্ষণ পরে আশপাশের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। খিলক্ষেত থানাধীন বটতলা এলাকায় টহলরত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশের আহত হন, এসআই আবুল কালাম,  আনসার সদস্য (ব্যাটালিয়ন) হেলাল খান, পথচারী মঞ্জুর আলী, রিকশাচালক আবদুুল লতিফ। রাজধানীর শান্তিনগর, পুরান ঢাকার বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, খিলগাঁও, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়, গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে হরতাল সমর্থনকারীরা। এ সময় মিছিলকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে, হরতালে গাড়ি ভাঙচুর করায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, সহ বিজ্ঞান সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও মিজানুর রহমানকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে গাড়ি ভাঙচুরের সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম নাসরিন সুলতানা তাদের এই সাজা দেন।
সুনশান গুলশান
অবরুদ্ধ অবস্থায় গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৩তম দিন পার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হরতালকে কেন্দ্র করে রাতে তার কার্যালয়ের উত্তর পাশে রাস্তায় মোতায়েন করা হয় রায়ট কার। তবে ভোরে তা সরিয়ে নেয়া হয়। তবে কার্যালয়ের মূল ফটকের দু’পাশের সড়কে পুলিশের পিকআপ ও জলকামান রেখে তৈরি করা হয় প্রতিবন্ধকতা। ফলে অন্যান্য দিনের মতো  গতকালও খালেদা জিয়?ার কার্যালয় ঘিরে ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সকাল থেকে এ সড়কে চলাচলে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এমনকি ওই সড়কে প্রবেশের মুখে সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তবে হরতালকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সকাল থেকে কোন নেতাকর্মীও সাক্ষাৎ করতে যাননি। ফলে অনেকটাই সুনসান ছিল গুলশান। তবে সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব এর একটি প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ছিল সুনসান। সকাল থেকে নয়া পল্টন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার আতঙ্কে নয়া পল্টনমুখী হননি নেতাকর্মীরা।
ঢাবি লাইব্রেরি থেকে ৪টি ককটেল উদ্ধার
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স লাইব্রেরির ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪টি ককটেল উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গতকাল বিকালে এই ঘটনা ঘটে। ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে লাইব্রেরি ছেড়ে চলে যান। জানা যায়, লাইব্রেরির বাথরুমে ককটেলগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এক শিক্ষার্থী। তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদকে জানান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বলেন, কে বা কারা ককটেলগুলো রেখেছে তা শনাক্ত করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সকালে শাহবাগে একটি মিছিল করে ছাত্রদল।
সিলেট অফিস জানান, বৃহস্পতিবারের হরতাল-অবরোধ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার তেতলী নামক স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এদিকে সিলেটে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল ও শিবির নেতাসহ ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিলেট নগরী ও জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ। বুধবার রাত  থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, সিলেট মহানগরীতে ২৫ জন এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুলিয়ারচর প্রতিনিধি জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বাজরা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পার্শ্বে রাস্তা অবরোধ করে ২টি ট্রাক ও ১টি কভার ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে দুষ্কৃতকারীরা। অগ্নিসংযোগে নেত্রকোনা থেকে ভৈরবগামী ঢাকা দু’টি ট্রাক ও কটিয়াদী থেকে ভৈরবগামী ঢাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় গাড়ি ছাড়েনি। বরিশাল-পটুয়াখালী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানান, রাতের বেলা চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্ধ্যা ৭টার পর অভ্যন্তরীণ রুটে গাড়ি চালাবেন না। এদিকে, ২০দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ৯ম দিন এবং আজকের হরতাল সফল করায় বরিশালবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল মহানগর জামায়াত।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ধামইরহাটে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বিএনপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ২০ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে মহড়া দেওয়াকালে ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এরই জের ধরে ১০ মিনিটের ব্যবধানে ৫/৭ জনের ছাত্রলীগ কর্মী আমাই তাড়ায় মহড়া দিতে গেলে অবরোধকারীদের কবলে পড়ে। অবরোধকারী  ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া করার একপর্যায়ে এম এম ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রবেশ করে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরসহ ৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। দুপুর ১২টার দিকে আমাইতাড়ায় ২০ দলের নেতাকর্মী সমাবেশ করতে চাইলে প্রশাসন ও পুলিশি বাধায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। সমাবেশের নেতাকর্মী ঘরে ফেরাকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপি অফিস এর চেয়ার টেবিল ভাঙচুর সহ দুই স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী থেকে জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী এরশাদনগর এলাকায় বর্ডার গার্ড বিজিবির গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টায় হরতাল সমর্থকরা হরতালের সমর্থনে স্থানীয় খাঁ পাড়া রোড থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্থানীয় এশিয়া পেট্রল পাম্পের সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করার সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় টহলরত বডার গার্ডের (বিজিবি) গাড়ি লক্ষ করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ২০ দলের কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পিকেটাররা পালিয়ে যায়।
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মুন্সীগঞ্জ শহরে রাতে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় পেট্রল ঢেলে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এক সঙ্গে ১২-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণে শহর প্রকম্পিত হয়ে উঠে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের প্রধান সড়কের দর্পণা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, বুধবার মধ্যরাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মহেশবাথান এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা হেলপার তোফাজ্জল হোসেন (১৮) দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহত হেলপার সুনামগঞ্জ সদর থানার নারায়ণতলা গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছোট ছেলে। সে তার বোন, বড় ভাই ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে গাজীপুর সদরের আমবাগ শুক্কুরচালা এলাকার মোবারকের বাসায় ভাড়া থাকতো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানা থেকে প্রায় ৩শ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা আদ্র এন্টারপ্রাইজ নামের ওই বাসটিতে আগুন দেয়। এ সময় হেলপারের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসেন। এসে দেখতে পায় বাসটি দাউদাউ করে জ্বলছে। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আর জীবিত নেই তোফাজ্জল। বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় অগ্নিদগ্ধ নিহত তোফাজ্জলকে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লায় বিএনপির সঙ্গে পুলিশ-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি বিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ও বিজিবির সহায়তায় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কান্দিরপাড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে কান্দিরপাড়স্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিএনপি-ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ। এতে ডিবি’র কনস্টেবল কামরুল, বিএনপি নেতা সফিউল আলম রায়হান, যুবদল নেতা মোমেন, ছাত্রদল নেতা হোসেন, সময় টিভির বাহার রায়হানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে বুধবার গভীর রাতে মহাসড়কে চলাচলকৃত ২টি পন্যবাহী ট্রাকে আগুণ দিয়েছে পিকেটাররা। রাত পৌনে একটার দিকে সিরাজগঞ্জ-হাটিকুমরুল মহাসড়কের সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের শুকতাহার এলাকায় বুধবার মধ্যরাতে ২টি ট্রাক ও একটি প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ১টি কয়লা বোঝাই, ১টি মাছের পোনাবাহী ও একটি প্রাইভেট কার রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে জানান, মৌলভীবাজারে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পশ্চিমবাজার, শমসের নগর রোডসহ কয়েকটি স্থানে রাস্থায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ করে ও খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে হরতালকারীরা। দুপুরে শহরের চৌমুহনা এলাকা থেকে জেলা ২০ দলের ব্যানারে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়ে হামিদীয়া পয়েন্টে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশের পরপরই ধরপাকড় চালিয়ে পুলিশ ওই স্থান থেকে বিএনপির এক কর্মীকে আটক করে। অপরদিকে বুধবার দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার শহরে মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের আরও ১৪জন কর্মীকে আটক করেছে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ভুয়াই বাজারে একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিংয়ের সময় দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই সময়ে শহরের মিয়ার রাস্তার মাথা এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এদিকে ভোররাতে চন্দ্রগঞ্জের আন্ডারঘর এলাকায় একটি পিকআপ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে মুক্তিগঞ্জ এলাকায় দু’টি ট্রাক, এলজিইডি অফিস এলাকায় ৩টি সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন স্থানে ১০টি ছোটবড় যানবাহন ভাঙচুর করে হরতালকারীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ৩৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের আহম্মেদপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আগুনে এবং দুর্বৃত্তদের মারপিটে ট্রাকের চালক অজয় দাস ও হেলপার রাসেল হোসেন গুরুতর আহত হন।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান: ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হকসহ বিএনপি-জামায়াতের ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ১১টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরে বিএনপি-জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীসহ ৫৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতভর জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপির তিনজন ও জামায়াতের আট নেতাকর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে বিএনপি-জামায়াত দাবি করেছে আটকদের মধ্যে প্রায় সবই তাদের লোক। এদিকে আরও একটি মামলায় নতুন করে ৫১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ২ জামায়াত-শিবির ও ৬ জন বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে অবরোধ ও হরতালে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক চললেও দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। দোকানপাট, মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে হরতাল অবরোধে রপ্তানিকৃত একটি সিমেন্টের ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা আরও ৭টি ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান ভাঙচুর করে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি-জামায়াতের ৭ জনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ফেনী-বিলোনিয়া সড়কের মুন্সির হাট এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধের সময় ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানিকৃত ‘শাহ সিমেন্ট কোম্পনির’ সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের পিছনের অংশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলে কয়েক বস্তা সিমেন্ট পুড়ে যায়। একই সময় দুর্বৃত্তরা রপ্তানিকারী ৫টি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক ও ২টি পাথর বোঝাই ট্রাক ভাঙচুর করে। এদিকে সকাল থেকে ফুলগাজী উপজেলায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অপরদিকে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের গ্রিন টাওয়ার সামনে পিকেটাররা পিকেটিং’র চেষ্টা করলে পুলিশ এক যুবককে আটক করে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল হরতালের সমর্থনে শহরের ছাত্রদল মিছিল করেছে। এদিকে পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, জেলার বিভিন্নস্থান থেকে ৪জন বিএনপি-জামায়াত কর্মীসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে পিকেটিংয়ের সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম (৪৫) পিকেটারকে আটক করেন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। শহরে স্বল্প সংখ্যক হালকা যানবাহন চলাচল করলেও দূর পাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। পুলিশ মদন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রুহুল আমিন, পূর্বধলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আবদুল করিম খানসহ বিভিন্নস্থান থেকে ১০ বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে বুধবার রাতে বিএনপি-জামায়াতের ১৩কর্মী-সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সদর থানা ৪জন, মুজিবনর থানা ৩ জন ও গাংনী থানার অভিযানে বিএনপির ৫ এবং জামায়াতের এক সমর্থককে আটক করা হয়েছে। পুলিশি প্রহরায় কয়েকটি পরিবহন চলাচল করলেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল করছে না।
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ধামরাইয়ের জয়পুরা ও কালামপুর ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বুধবার রাতে একটি যাত্রী ও গার্মেন্টের শ্রমিকবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় লাফিয়ে নামতে গিয়ে কমপক্ষে ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদিকে গতকাল সকাল ৯টা দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদের পিতা মির্জা ইয়ার হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্দেহে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার দিনে উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ী, কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, পৌরসভা, বারৈয়াঢালাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই দিনমজুর, কাঠুরে ও কৃষি কাজে জড়িত।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, বৃহস্পতিাবর সকাল পর্যন্ত পুলিশ জেলার বিভিন্নস্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ ৪৪জনকে আটক করেছে। সকালে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন ও ২টি সিএনজি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বুধবার রাত ৮টার দিকে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের করালিয়া এলাকায় ২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এদিকে মাইজদীর জজকোর্ট এলাকায় জেলা শ্রমিকদলের সমাবেশ থেকে শহর শ্রমিকদলের সভাপতি ওমর ফারুককে আটক করে পুলিশ।
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইল সদর ও নড়াগাতিতে বিএনপির ৮ নেতাকর্মীসহ ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে সদর থানায় ১০, লোহাগড়ায় ৩, কালিয়ায় ৪ ও নড়াগাতিতে ৫ জন।