Thursday, February 4, 2010

শেয়ারবাজারে বড় পতন

পুঁজিবাজারের অর্থের প্রবাহ কমাতে ঋণ বিতরণের সীমায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের ১: ১ অনুপাতের বেশি ঋণসুবিধা দিতে পারবে না।
অর্থাত্, কোনো গ্রাহকের নিজস্ব মূলধন এক লাখ টাকা থাকলে তিনি অতিরিক্ত আরও এক লাখ টাকা ঋণসুবিধা পাবেন, এর বেশি নয়। আগামী রোববার থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আদেশ জারি করে।
সকালে লেনদেন শুরুর আগেই এসইসির এ আদেশের খবর দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর পরই বাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। দিন শেষে বড় ধরনের সূচক পতনের মধ্য দিয়েই লেনদেনের সমাপ্তি ঘটে।
এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে গত সোমবার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ঋণের সীমা ১: ২ থেকে কমিয়ে ১: ১.৫ নির্ধারণ করে দেয় এসইসি। একই সঙ্গে সংস্থাটি যেসব কোম্পানির শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই ৫০ পয়েন্ট বা এর বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিনিয়োগকারীদের ঋণসুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের পরও বাজারে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হয়। সূচকও ছাড়িয়ে যায় অতীতের সব রেকর্ড।
এসইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বাজারের এই চিত্রই বলে দেয়, তাঁদের নেওয়া আগের সিদ্ধান্তটি তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাজারে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের প্রবাহের কারণেই এমনটি ঘটেছে। এ জন্য তারল্যপ্রবাহ কমাতে ঋণ বিতরণের সীমা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ঋণ বাজারকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করতে না পারে।’
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসইসির এ সিদ্ধান্ত আপাতত বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনে দিলেও কদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তা নতুন ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আগেই বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেয়ারের বিপরীতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সীমা ছিল না। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ঋণের সীমা ১: ১ বেঁধে দেয় এসইসি। কিন্তু ২০০৮ সালের শেষ ভাগে বাজারে তারল্যপ্রবাহ কমে গেলে ঋণের অনুপাত বাড়িয়ে ১: ১.৫ করা হয়। ওই সময়ে ব্রোকার হাউসগুলো এক টাকার বিপরীতে ৬৭ পয়সা (১: ০.৬৭) ঋণ দিতে পারত। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অব্যাহত সূচকের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রোকার হাউসগুলোর ঋণের অনুপাত বাড়িয়ে ১: ২ নির্ধারণ করা হয়।
বাজার পরিস্থিতি: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৪ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৪ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১৫ হাজার ৭৪৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা।

হাড়কিপটে বোলার

৪ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ৬ রান! গতকাল ড্যানিয়েল ভেট্টোরির বোলিং বিশ্লেষণ দেখলে মনে হতে পারে, খেলাটা মারকাটারি টি-টোয়েন্টি নয়; টেস্ট! রান দেওয়ায় চরম কিপটেমির পরিচয় দিয়ে রেকর্ড করে ফেলেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। টি-টোয়েন্টিতে পুরো ৪ ওভার বোলিং করে সবচেয়ে কম রান দেওয়ার রেকর্ড এটাই। রেকর্ডটা ভেট্টোরির একার অবশ্য নয়। চার ওভারের কোটা পূরণ করে মাত্র ৬ রান দেওয়ার দৃষ্টান্ত আরও আছে। মজার ব্যাপার হলো, ওই তিনটি দৃষ্টান্ত জিম্বাবুয়ের বোলারদের—প্রসপার উতসেয়া, ক্রিস্টোফার পোফু আর রেমন্ড প্রাইস। ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর উতসেয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ রান দেন। পরদিনই কানাডার বিপক্ষে পোফু আর প্রাইস গড়েন এই কীর্তি। উমর গুলও ৬ রান দিয়েছেন একবার, কিন্তু করেছেন ৩ ওভার। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুলের ৬ রানে ৫ উইকেট সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

আইসিএলকে উকিল নোটিশ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের

টাকার জন্যই আইসিএলে গিয়েছিল সবাই। এখন কি না সেই টাকাটাই দ্বন্দ্বের কারণ দুই পক্ষে! আইসিএলে খেলা পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা বকেয়া পাওনার দাবিতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন লিগ ব্যবস্থাপকদের। খেলোয়াড়দের দাবি, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকেই আইসিএলের কাছ থেকে টাকা পাওনা তাঁদের।
খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সব চেষ্টার পরও এখনো কোনো সাড়া-শব্দ নেই। প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি। আইসিএল খেলোয়াড়দের খুব বাজে একটা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বকেয়া আদায়ের জন্য আইসিএলের উদ্দেশে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে খেলোয়াড়েরা।’ বর্তমান অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ ও অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকসহ পাকিস্তানের মোট ১৯ জন ক্রিকেটার আইসিএলে নাম লিখিয়েছিলেন।

দুই সেঞ্চুরির দিন

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৫ রানে অল আউট সিলেট দ্বিতীয় ইনিংসে করেছে ১৯৩ রান। তাতেও খুব লাভ হচ্ছে না। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় দিনেই হয়তো তাদের বিপক্ষে জয় দেখতে পাবে বরিশাল। প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩০ রান, জিততে তো দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৯ রানই লাগে বরিশালের!
তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম বা বগুড়ায় এত সহজে হচ্ছে না ম্যাচের নিষ্পত্তি। বগুড়ায় চট্টগ্রামের ৩৫০ রানের পর ঢাকা কাল শুভগত হোমের সেঞ্চুরিতে দিনশেষে ৮ উইকেটে করেছে ২৭২ রান। আর চট্টগ্রামে ৫ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে ১০০ রানের লিড নিয়েছে রাজশাহী। সেঞ্চুরি করেছেন ফরহাদ হোসেন।
ফয়সাল হোসেনের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রান করেছে চট্টগ্রাম। জবাবটা ঢাকাও দিচ্ছে পাল্টা সেঞ্চুরি দিয়েই। দলকে ২৭২ রানে নিয়ে ১১৪ রানে অপরাজিত শুভগত। ৮০ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি হয়েছে তাঁর চতুর্থ উইকেটে। ঢাকার ইনিংস এরপর অবশ্য বিপর্যয়ই দেখেছে একটা। মাত্র ৭৪ রানে পড়েছে দিনের শেষ ৫ উইকেট। চট্টগ্রামের ইলিয়াস সানি একাই ৪ উইকেট নিয়েছেন।
সেঞ্চুরি হয়েছে চট্টগ্রামেও। খুলনার পেসার জিয়াউর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৪৪ রানে প্রথম ৩ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক খালেদ মাসুদ আর সেঞ্চুরিয়ান ফরহাদ মিলেই চূড়ান্ত বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছেন রাজশাহীকে। চতুর্থ উইকেটে দুজনে যোগ করেছেন ১৮১ রান। মাসুদকে ব্যক্তিগত ৭৮ রানে ফিরিয়ে জিয়াই ভেঙেছেন খুলনার জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠা জুটিটা। জিয়ার ৫০ রানে ৪ উইকেট হয়ে গেছে কালই। ফরহাদের উইকেটটি অবশ্য নিয়েছেন মুরাদ খান। ১৩৫ রান করে তাঁর বলে কট বিহাইন্ড হয়েছেন ফরহাদ।
খুলনায় আগের দিনের ৪ উইকেটে করা ১৭০ রানের সঙ্গে কাল আর মাত্র ৬০ রান করেই অলআউট হয়ে গেছে বরিশাল। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ছিল, আর ছিল প্রতিপক্ষ সিলেটের এনামুল হক জুনিয়রের দুর্দান্ত বোলিং। ৯৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। জবাবে অবশ্য অলক কাপালির ফিফটির (৫৯) পরও ১৯৩ রানে শেষ সিলেটের দ্বিতীয় ইনিংস। ৫৫ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে অলক-রাজিন সালেহ মিলে যোগ করেন ৮৩ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে সিলেটের রান তার পরও মাত্র ২৫৮, আর বরিশালের এক ইনিংসেই ২৩০!

২২ সদস্যের কমিটির ১১ জনেরই পদত্যাগ

গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২২ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি থেকে ১১ জন পদত্যাগ করেছেন গতকাল। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় তাঁরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন। তাঁরা হলেন কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ, সদস্য আব্দুল লতিফ হাক্কানী, আনোয়ারুল কাদির, মাকছুদার রহমান, আফরোজা বেগম, নুর আলম খান, আব্দুল মতিন, ফিরোজ খান, রকিবুল ইসলাম ও সেলিম চৌধুরী। সেলিম বলেন, ‘কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে থাকা নীতিগতভাবে ঠিক নয় বলে একযোগে পদত্যাগ করেছি।’
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম ১১ সদস্যের পদত্যাগপত্র পাওয়া ও খেলা বর্জনের কথা স্বীকার করে বলেন, অর্ধেক সদস্য পদত্যাগ করায় নির্বাহী কমিটিতে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্থায়ী কমিটি গঠনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো হয়েছে।
একই অভিযোগে ক্রীড়া সংস্থাভুক্ত ১৭টি ক্লাব সংস্থার সব কার্যক্রম ও খেলা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান বলেন, ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২৫ নভেম্বর উত্তীর্ণ হয়। পরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও একটি ক্লাবের সদস্যপদ বাতিলসংক্রান্ত অভিযোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে দেয়।

মৃত্যুদুয়ার থেকে ফিরেই...

হাতপাতালের ধবধবে বিছানা। টানা ছয় দিন এখানেই জ্ঞানহীন শুয়ে ছিলেন সালভাদর কাবানাস। ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। জীবনদীপ বাঁচিয়ে রাখতে দিতে হয়েছে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস। সেই কাবানাসের জ্ঞান ফিরেছে গত শনিবার। ছয় দিন পর কথাও বলেছেন। কী বলেছেন কাবানাস? বলেছেন, তিনি খেলতে চান বিশ্বকাপে!
প্যারাগুয়ের ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত ২৫ জানুয়ারি মেক্সিকো সিটির এক পানশালায় গুলিবিদ্ধ হন। মেক্সিকোর ‘ক্লাব আমেরিকা’র হয়ে খেলেন। এই দলের হয়ে খেলেছেন ক্লাব বিশ্বকাপেও। কিন্তু আসল বিশ্বকাপে কখনোই খেলা হয়নি তাঁর। গত বিশ্বকাপের দলে থাকলেও সাইড বেঞ্চে বসেই দেখতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে প্যারাগুয়ের বিদায়।
কিন্তু এই বিশ্বকাপে দলে তাঁর জায়গা পাকাই ছিল। বাছাইপর্বে ৬ গোল করেছেন। প্যারাগুয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন। এ বছর শুরুতেই লিগে চার গোল করে ধরে রেখেছিলেন ফর্ম। নিশ্চয়ই স্বপ্ন আঁকতে শুরু করেছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপ নিয়ে। এর আগে সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কখনোই দ্বিতীয় রাউন্ডের গণ্ডি পেরোতে পারেনি প্যারাগুয়ে। গতবারসহ চারবার বাদ পড়েছে প্রথম রাউন্ডেই। কিন্তু এবার বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেওয়া প্যারাগুয়ে বড় স্বপ্নই দেখছে।
সেই স্বপ্নের অন্যতম কারিগর হতে পারতেন কাবানাস। কিন্তু বিশ্বকাপটাই অনিশ্চিত হয়ে গেল তাঁর! ফুটবল-পাগল কাবানাস জ্ঞান ফেরার পরই ফিরে যেতে চেয়েছেন তাঁর ফুটবল-জগতে। শুধু বিশ্বকাপেই খেলতে চাননি, হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে দেখতে চেয়েছেন ম্যাচ। আবদার পূরণ করতে কেবিনে বসাতে হয়েছে টিভি। সেখানেই তিনি দেখেছেন মেক্সিকান লিগে তাঁর দলের খেলা। সতীর্থরা অবশ্য ১-০ গোলের জয়ই উপহার দিয়েছে তাঁকে।
ফুটবল বেশ ভালো দাওয়াই হিসেবেই কাজ করছে। চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে তাঁর। যদিও মাথা থেকে গুলিটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। তাঁর চিকিত্সক আর্নেস্তো মার্তিনেজ অবশ্যই বলেছেন, ‘ওর অবস্থা ভালোর দিকেই। খুব সুস্থিরভাবে ম্যাচটা দেখেছে ও। টেলিভিশনে প্রায় সব ফুটবল ম্যাচ ও দেখছে। ওই সময় হূত্স্পন্দনের গতিও স্বাভাবিকই থাকে। দ্রুত ওর চেতনা ফিরছে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে। হাত-পাও নাড়াতে পারছে।’
কাবানাসের বাবা স্থানীয় এক পত্রিকাকে জানিয়েছেন, “আমরা যখন ওর ঘরে দেখা করতে গেলাম, ও আমাকে বলল, ‘বাবা, আমি বিশ্বকাপে খেলবই।” কিন্তু চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, কাবানাস বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও।
প্যারাগুয়ের কোচ জেরার্ডো মার্টিনো শিষ্যের এই আকাঙ্ক্ষায় একই সঙ্গে বিস্মিত এবং আবেগাপ্লুত। কোচ বলেছেন, কাবানাসকে অবশ্যই দলে চান তিনি। যদি মাঠে খেলতে না-ও পারেন, তার পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যেতে চান। কাবানাস যে তাঁর সতীর্থদের জন্য প্রেরণার প্রতিমূর্তি!

অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন ওয়াটসন-বলিঞ্জার

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে বিশ্রামের পর আবার অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন শেন ওয়াটসন ও ডগ বলিঞ্জার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত ১৩ সদস্যের এই দলে নেই অ্যাডাম ভোজেস। আর পিঠের ইনজুরির কারণে নেই পিটার সিডলও।
আগামী রোববার মেলবোর্নে সিরিজের প্রথম ম্যাচ, দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার অ্যাডিলেডে। নির্বাচকদের প্রধান অ্যান্ড্রু হিলডিচ মনে করেন, অনেকটা পাকিস্তান সিরিজের দলটাই রেখে দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়া দল তাদের সেই ফর্মটাই নিয়ে যেতে পারবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। ‘এই দলটা পাকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেছে। আমরা চাইছি, তারা তাদের সেই ফর্মটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ধরে রাখুক’—ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুব ভালো দলের স্বীকৃতি দিয়েই কথাগুলো বলেছেন হিলডিচ। ওয়েবসাইট।
প্রথম দুই ম্যাচের অস্ট্রেলিয়া দল: শেন ওয়াটসন, শন মার্শ, রিকি পন্টিং (অধিনায়ক), মাইকেল ক্লার্ক, ক্যামেরন হোয়াইট, মাইক হাসি, জেমস হোপস, ব্র্যাড হাডিন, মিচেল জনসন, রায়ান হ্যারিস, নাথান হরিজ, ক্লিন্ট ম্যাকে ও ডগ বলিঞ্জার।

নেপালকে দাঁড়াতে দিল না পাকিস্তান

নেপালের সঙ্গে ক্রিকেটীয় শক্তিমত্তার ব্যবধানটা বুঝিয়ে দিল পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২১ দল। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসএ গেমস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের ২ উইকেটে করা ১৭৩ রানের জবাবে ৮২ রানে অলআউট হয়ে নেপাল দল ম্যাচটা হেরেছে ৯১ রানে।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান ওপেনিং জুটিতেই তোলে ৮০ রান। ওপেনার উমর আমিন ৫৩ রান করেছেন মাত্র ৩২ বলে, আরেক ওপেনার আলী ওয়াকাস করেছেন ২৭ রান। এ ছাড়া আলী আসাদ ৪৫ ও আদিল আমিন ৩৫ রান করেন। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে নেপালের তরুণেরা তোলেন ৮২ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রান করে করেছেন প্রদীপ আইরি ও গায়েন্দ্র মাল্লা। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২১-এর কামরান হুসেন ও নায়ার আব্বাস দুটি করে উইকেট পেয়েছেন।

সেমিফাইনালে থামল বাংলাদেশ

গতকাল জিতলে রুপা নিশ্চিত করতে পারতেন তাঁরা। কিন্তু ব্যাডমিন্টনের মিশ্র দ্বৈতে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো শাপলা ও রাসেল কবির জুটিকে। উডেনফ্লোর জিমনেসিয়ামে কাল তাঁরা সেমিফাইনালে ২-০ সেটে হেরে গেছেন ভারতের অশ্বিনী পন্নাপা ও ডিজু ভেলিয়াভিতি জুটির কাছে।
ব্যাডমিন্টনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভারত। কাল ১০টি ম্যাচের সবগুলো জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। সেমিফাইনালে মেয়েদের এককে ভারতের সায়ালি গোখলে ২-০ সেটে পাকিস্তানের পালওয়াসা বশিরকে, ত্রুপ্তি মুরগান্ডে ২-০ সেটে শ্রীলঙ্কার থিলানি জয়াসিংহেকে, পুরুষ এককে চেতন আনন্দ ২-০ সেটে দিনুকা করুণারত্নেকে, গুরুসাই দত্ত পাকিস্তানের আহসান কামারকে হারিয়েছেন। পুরুষ দ্বৈতের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার রাজিথা-হাসিথা জুটিকে ভারতের চেতন-ডিজু জুটি হারিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের রিজওয়ান-কাসিফ জুটিকে হারিয়েছে ভারতের রুপেশ-সানাভ জুটি। মেয়েদের দ্বৈতে শ্রীলঙ্কার রেণু-নাদিশা জুটিকে তুলসী-অশ্বিনী জুটি এবং একই দেশের রত্নেশ্বরী-উপুলি জুটিকে হারিয়েছে তুলসী-অশ্বিনী জুটি। সবগুলো ম্যাচই নিষ্পত্তি হয়েছে ২-০ সেটে।
ভলিবলের ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তান
বাংলাদেশ লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছে আগেই। কাল সেমিফাইনালে পাকিস্তান ২৬-২৪, ২৫-২১, ২৫-১৯ পয়েন্টে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। দিনের অন্য সেমিফাইনালে ভারত ২৫-২১, ২৫-১২, ২৫-১৪ পয়েন্টে হারিয়েছে মালদ্বীপকে।
স্কোয়াশে বাংলাদেশের হার
এককের পর দলগতও হারল বাংলাদেশ। কাল পাকিস্তানের কাছে ৩-০ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ফারহান মেহবুব ১১-১, ১১-৭, ১১-৮ পয়েন্টে মাসুদ রানাকে, ফারহান জামান ১১-৫, ১১-৬, ১১-৪ পয়েন্টে শহিদকে এবং মনসুর জামান ১১-৪, ১১-৪, ১১-৪ পয়েন্টে রঞ্জন কুমারকে হারিয়েছেন। অন্য ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত।

পাকিস্তানের কাছে ভারতের হার

দুই দেশের ক্রিকেটের দ্বৈরথটাকেই সবাই এগিয়ে রাখে। কিন্তু বাস্তবতা, যে খেলাই হোক, ভারত-পাকিস্তান খেলা মানেই অন্যরকম রোমাঞ্চ। কাল যেমন ভারত- পাকিস্তান দ্বৈরথ তার রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে বসেছিল এবারের এসএ গেমসের হ্যান্ডবলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। তাতে পাকিস্তানের কাছে ৩৩-৩১ গোলে হেরেছে ভারত। ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের রোমাঞ্চের দিনে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে গেছে সেমিফাইনালে। কাল আফগানিস্তানকে ৪৮-১৮ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা।
কৌশল, চোখ ধাঁধানো সব পারফরম্যান্স—প্রথমার্ধে সবকিছুতেই ভারতকে পেছনে ফেলে পাকিস্তান। প্রথমার্ধে ভারত পিছিয়ে থাকে গোলের ব্যবধানে (৯-১৭)। সোনা জয়ের দুই ফেবারিটের লড়াইটা অবশ্য বেশি জমে বিরতির পর। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ভারত ব্যবধান কমাতে থাকে। তবে ব্যবধান কমাতে পারলেও কখনোই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলতে পারেনি। ভারত দুই গোল করে সমতার দিকে এগোয় তো পাকিস্তান গোল করে বসে আবার।
উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন ভারতের বিনু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল পাকিস্তানের মুহাম্মদ শহীদ, আজহার খান ও নাসির আহমেদের। প্রত্যেকেই করেছেন তিনটি করে গোল।
সোনার দাবিদার দুই দলের খেলা দেখেছেন বাংলাদেশের কোচ কামরুল ইসলাম। দেখে কী মনে হলো? সেমিফাইনালে ভারতকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ? ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমাদের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে অবশ্যই ভারতকে হারানো সম্ভব’—আশাবাদী বাংলাদেশের কোচ।
কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ভালোই খেলেছে বাংলাদেশ। জয় পেয়েছে ৪৮-১৮ গোলে। সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন ওয়ালিউর রহমান। খায়রুজ্জামান ও রাসেল চাকমা দুজনই করেছেন ৭টি করে গোল।

লজ্জা ঢাকতে তদন্ত ও শাস্তি

সারা দেশ মেতে আছে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমস নিয়ে। বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা সোনা জিতছেন, গোটা জাতির মুখে সোনালি হাসি ফুটছে। ওই হাসিটা ফুটিয়ে তুলতে নিরন্তর লড়ছেন দেশপ্রেমী ক্রীড়াবিদেরা। একই সঙ্গে আরেকটা লড়াই চলছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের, বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনের—লজ্জা মোচনের লড়াই!
ইম্পেরিয়াল হোটেলের লিফট দুর্ঘটনা ও সাইক্লিং-লজ্জার ব্যাপারে কাল ক্রীড়া প্রশাসনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশেই দুটি ঘটনায় প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারটা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট চূড়ান্ত করে ফেলেছে। আজ সকালেই তা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি সেনাপ্রধান জেনারেল মো. আব্দুল মুবীনের হাতে জমা পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দোষী একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
লিফট দুর্ঘটনায় ইম্পেরিয়াল হোটেলকেই দায় নিতে হচ্ছে। এ জন্য দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিত্সার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে হতে পারে তাদের। তবে এর চেয়েও হোটেলটির বড় শাস্তি, তাদের কালো তালিকাভুক্ত হয়ে পড়া।
আর সাইক্লিং-লজ্জায় সাইক্লিং ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হোসেনই মূল অপরাধী বলে চিহ্নিত হয়েছেন। ওয়ালিদ ছিলেন ইভেন্টের টার্নিং কমিশিয়ার। মোটরসাইকেলে আরেকজন আরোহীকে নিয়ে চিংবাই মারমাকে ‘ঠেলে দেওয়ার অপকর্ম’ করেছেন তিনি। তবে মিজানুর রহমান মানুর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিকেও অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তদন্ত কমিটি সবকিছু খতিয়ে দেখে মনে করছে, অপরাধ করা হয়েছে যৌথভাবেই। সাইক্লিং ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিকে হয়তো বহিষ্কারই হতে হচ্ছে এই ঘটনায়। সাইক্লিস্ট চিংবাইও সাময়িক নিষিদ্ধ হতে পারেন।

অনেক দিন পর সেই সোনালি হাসি

‘আসিফ ট্র্যাজেডির’ আগে গুলশান জাতীয় শ্যুটিং রেঞ্জে ইতিহাস ফিরে এল। ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দলগত সোনা জিতে বাংলাদেশ দল মনে করিয়ে দিল, একসময় এই ইভেন্টে দক্ষিণ এশীয় গেমসে কী দাপটই না ছিল এ দেশের শ্যুটারদের!
১৯৯৩ গেমসে নায়ক ছিলেন সাইফুল আলম রিংকি, আসবাব আলী ফয়েজ ও ফজলে এলাহী রাব্বি। ১৯৯৫ গেমসে রিংকি-ফয়েজের সঙ্গে ফিরোজ হোসেন পাখি। দুবারই দলগত সোনার সঙ্গে এসেছে ব্যক্তিগত সোনাও। দুটি ব্যক্তিগত সোনাই জিতেছিলেন রিংকি। ১৯৯৫ সালে ব্যক্তিগত সব পদকও ছিল বাংলাদেশের।
এবার আসিফ হোসেন খান, আবদুল্লাহ হেল বাকি আর শোভন চৌধুরী। বাংলাদেশের পক্ষে কাল ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে তিনজনই ঔজ্জ্বল্য ছড়ালেন। ৬০০-তে আসিফ করলেন ক্যারিয়ার-সেরা ৫৯৬। বাকির স্কোর ৫৯১ ও শোভনের ৫৮৮, যা সোনার হাসি ছড়াতে হয়ে গেল যথেষ্ট।
ভারতের ইমরান হাসান খান ৫৯৪, সত্যেন্দর সিং ৫৮৮ এবং ধীরেন্দর সিং ৫৮২ করলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ১০ মিটারে ভারত এত কম স্কোর করেনি। এ মাসেই দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস, ভারতীয়দের চোখ সেদিকেই। তাই এক নম্বর দলটিকে এখানে পাঠায়নি। বাংলাদেশের মতো হাসার দরকার নেই যে তাদের!
আসিফ-বাকিদের কৃতিত্বটা তাতে খাটো হয় না। তিনটি গেমসের পর আবার ১০ মিটারের দলগত সোনা জয় এবং ব্যক্তিগত সোনা জয়ের লড়াইয়ে আসিফের খুব কাছ থেকে ফিরে আসা—এই শ্যুটিং দল আপ্লুত এই ছবিতে, কারও মুখ আর বিষণ্ন থাকতে দেয়নি!
তবে এটা ঘটনা, আসিফ ছাড়া বাকি দুজনের স্কোর এখনকার দিনে এসএ গেমসে সোনা জেতাতে পারলেও বড় আসরে পাতে তোলার মতো নয়।
সকালে বাছাই প্রতিযোগিতাই বাংলাদেশকে চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় রাখেনি। বাংলাদেশ দলীয় সোনা জিতে গেছে, চারদিকে তখন ছড়িয়ে পড়ে এই খবর। আসিফদের নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখানোর সুযোগ ছিল না, কারণ শ্যুট অফের আগের সময়ে হইচই করা একেবারেই নিষিদ্ধ। তারপরও উচ্ছ্বাস, করদর্মন চলল।
দুপুর গড়িয়ে পড়তেই দুর্ভাগ্যের শিকার আসিফ। গোটা রেঞ্জে আক্ষেপের মধ্যেও সান্ত্বনা ছিল ‘দলীয় সোনা তো এসেছে’। আসিফদের কল্যাণে মর্যাদাও কিছুটা বাঁচল!
‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আমরা। স্কোর যা-ই হোক আমরা সোনা জিততে পারলাম। এটা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে’—ব্যক্তিগত সোনা জিততে না পারার দুঃখ সরিয়ে বলছিলেন আসিফ। বাকির কথা, ‘অনেক দিনের স্বপ্ন সাফে গোল্ড জিতব। ব্যক্তিগতভাবে পারিনি, তবে দলীয় সোনা জিতে ভালো লাগছে।’ শোভন চৌধুরীর প্রতিক্রিয়াও অনেকটা এ রকমই, ‘টিম গোল্ড জিততে পারা অবশ্যই আমাদের একটা অর্জন।’
সোনালি হাসির রেখা ঝিলিক দিয়ে গেল তিনজনের চোখে-মুখেই! পূর্বসূরি রিংকি-ফয়েজ আবেগে গা না ভাসালেও দুজনই বললেন, ‘ভালো লাগছে। এত দিন পর ওই গোল্ডটা এল!

হাত-পাওয়ালা ল্যাপটপ আমজাদ by এম আর আলম

মাথাটি যেন তাঁর হার্ডডিস্ক। একটা হাত-পাওয়ালা ল্যাপটপ মানুষটি। নাম আমজাদ হোসেন। কম্পিউটার-ল্যাপটপে কী থাকে না? ল্যাপটপ যেমন অজানা তথ্যের ভান্ডার, আর তেমনই দৈনন্দিন প্রতিটি কাজেরই অনুষঙ্গ। তারবিহীন ল্যাপটপ তো বহনযোগ্য। কিন্তু এর হাত-পা নেই। আমজাদ এর উল্টো। তাঁর সেই অঙ্গ দুটিও আছে। তবে চোখের আলো নিভতে বসেছে এখন।
প্রবল মেধাবী আমজাদের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গী গ্রামে। গাঁয়ের ছেলে আমজাদ ১৯৭৩ সালে সৈয়দপুর কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরে অর্থাভাবে আর পড়া হয়নি তাঁর। এ সময় পরিবারের চাপে বিয়ে করতে হয় আমজাদকে।
বিয়ে হলো, সংসার হলো। কিন্তু অনটনের সংসারে জীবন অতিবাহিত করা দায় হয়ে পড়ে আমজাদের। ফলে তিনি বাড়ির পাশের পোড়াহাট বাজারে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার ওষুধ নিয়ে একটি ফার্মেসি খুলে বসেন। সেই থেকে মানুষ তাঁকে আমজাদ ডাক্তার নামেই চেনে। ফার্মেসি ব্যবসা চালাতে গিয়ে ছোটখাটো চিকিত্সক বনে যান আমজাদ। পরে পল্লি চিকিত্সকের প্রশিক্ষণ নিয়ে সত্যি সত্যিই চিকিত্সক হন তিনি। কিন্তু বিধিবাম! আশির দশকের শেষদিকে চোখে ঝাঁপসা দেখতে শুরু করেন আমজাদ। ধীরে ধীরে তাঁর একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্য চোখটিরও আলো নিভু নিভু।
চোখের আলো কমে যাওয়ায় আমজাদ প্রচণ্ড হতাশ হয়ে পড়েন। আর বুঝি কিছুই হবে না তাঁকে দিয়ে। ঘরে তিন মেয়ে দুই ছেলে। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও বেড়ে যায় উত্কণ্ঠা। নব্বই দশকের গোড়ার কথা। একদিন সকালে আমজাদ নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করলেন। স্মৃতি হাতড়ে তিনি পেয়ে যাচ্ছিলেন অতীতের অনেক কথা, যা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। নস্টালজিয়ার সেই সাগরে তিনি দিতে থাকলেন ডুবসাঁতার। বিষয়টি ভালো ঠেকলো তাঁর কাছে। স্কুল-কলেজ জীবনের অনেক স্মৃতিকে তিনি মাথার হার্ডডিস্কে ঠাঁই দিতে শুরু করলেন। সেখানে ভর করলেন আইনস্টাইন, মার্কনি, আর্কিমিডিসসহ অনেক বিজ্ঞানী। একইভাবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি অঙ্গরাষ্ট্রের নাম আয়ত্তে আনলেন, এ যাবত্ সেখানকার সব প্রেসিডেন্টের নামও রপ্ত করলেন তিনি। গণচীনের প্রতিটি রাজ্যের নাম, সেখানকার জলবায়ু, ভৌগোলিক অবস্থা, চীনের প্রাচীর, ব্রিটিশ-কমনওয়েলথ, ভারতীয় উপমহাদেশ, এশিয়া, আফ্রিকার কী জানেন না আমজাদ? সারা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্র, তার মুদ্রা কিংবা সরকারপ্রধানের নাম, জটিল অঙ্কের সমাধান, বিজ্ঞানের নিত্য-নতুন আবিষ্কারের কথা সবই যেন আমজাদের মাথায় কিলবিল করছে।
গ্রামের কোনো ছেলেমেয়ে যদি সরকারি-বেসরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেন, সে ক্ষেত্রে আমজাদকে দরকার। চাকরিপ্রার্থীরা তাঁর কাছে জেনে নেন অনেক অজানা বিষয়। কেননা এ তল্লাটে নানা অজানাকে জানাতেই যেন আমজাদের জন্ম।
আমজাদের সঙ্গে কথা হলো। খোলা আকাশের নিচে একটি ভাঙা টেবিল-চেয়ার ও কিছু ওষুধপত্র নিয়ে বসেছিলেন তিনি। হাস্যোচ্ছ্বল আমজাদ বললেন, কেউ যদি মনে করে বিশ্বের অজানাকে আমি জানব, তাহলে সে তা পারবে। কম্পিউটার-ল্যাপটপ তো মানুষেরই আবিষ্কার। তিনি বলেন, আমি যেসব জিজ্ঞাসার সমাধান দিই, এসব কোন অলৌকিক ব্যাপার নয়। কারণ আমিও তো এসব শিখছি। যখন আমার চোখের শক্তি কমতে থাকল, তখন আমি মনের শক্তিকে বাড়ানোর চেষ্টা করলাম। মনকে প্রতিনিয়ত বিশ্বের নতুন নতুন রাজনৈতিক, সামাজিক, বিজ্ঞান, অর্থনীতির ভান্ডারে পরিপূর্ণ করলাম, সব সময় আপডেট থাকার চেষ্টা শুরু করলাম। এসব সম্ভব হলো রেডিও শুনে। তিনি বললেন, আমি চোখে দেখি না, তবে টেলিভিশনের খরবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করি। যা প্রতিনিয়ত মাথায় ধারণ করার চেষ্টা থাকে।
আমজাদের আরও গুণ রয়েছে বলে জানালেন বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান সরকার। তিনি জানান, আমজাদ এরই মধ্যে পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন। নিজের লেখা গানে নিজেই সুর তোলেন চারণ গীতিকার আমজাদ। সুরেলা কণ্ঠে তিনি গানও গাইতে পারেন। তাঁর লেখা ভাওয়াইয়া-পল্লিগীতি গেয়ে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পী নাম করেছেন। আমজাদের মতে, ভাব থেকে তিনি ভাওয়াইয়া রচনা করেন। আর মেঠো সুরের মূর্ছনায় তিনি পল্লিগীতি লিখে ফেলেন।
একটি গান গাইতে বললে সপ্তমে সুর চড়িয়ে গেয়ে উঠলেন আমজাদ, ‘নানী তুই মোর সাথে থাক/তুই থাকিলে আন্ধিম এ্যালা, ভাত আর ন্যাপা শাক।’
গ্রামীণ প্রতিভা আমজাদের এখন দুঃসময়। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গ্রামের হাটের ফার্মেসিটা উচ্ছেদ করেছে। চোখ না থাকলেও রোগীদের তিনি চিকিত্সা দেন খোলা আকাশের নিচে বসে। কিন্তু এতে তাঁর রোগী কমে যাচ্ছে। পর্দার ব্যবস্থা নেই বলে মহিলা রোগীরা আসেন না।
মাত্র আড়াই লাখ টাকার জন্য আমজাদের চোখে কর্নিয়া সংযোজন হচ্ছে না। অথচ বিনয়ী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আমজাদ কারও সহযোগিতা চান না, চান না দয়া দক্ষিণাও।
গ্রামের হাত-পাওয়ালা ল্যাপটপটি সারা বিশ্বের খবর রাখেন, অথচ তাঁর খবর জানে না হয়তো পাশের গাঁয়ের মানুষটিও।

প্রভাব, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকবে গণমাধ্যম -মিডিয়া ভাবনা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

ভারতের প্রখ্যাত কলামিস্ট কুলদীপ নায়ার সম্প্রতি ঢাকায় ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে এক বক্তৃতায় বলেছেন: ‘গণমাধ্যমের ভূমিকা হওয়া উচিত সব ধরনের প্রভাব, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকা। জনসেবায় ব্যর্থ সরকারের খোলাখুলি সমালোচনা করা। কখনোই দুষ্কর্মের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই যতটা পরিষ্কার হওয়া উচিত, বাস্তবে ততটা হয় না।’ (বক্তৃতার পূর্ণ বিবরণের জন্য দেখুন ভোরের কাগজ, ২৭ জানুয়ারি ২০১০)।
কুলদীপ নায়ারের বক্তৃতায় এমন বহু দিক রয়েছে যা বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত নিবন্ধ লেখা যায়। আমি আজ এখানে শুধু একটি দিক নিয়ে আলোকপাত করব।
‘গণমাধ্যমের ভূমিকা হওয়া উচিত সব ধরনের প্রভাব, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকা।’ এটা যে খুব নতুন একটা কথা তা নয়। তবে কথাটা আমাদের গণমাধ্যমের মালিক বা কর্মরত সাংবাদিকেরা সব সময় মনে রাখতে পারেন না। তাই কুলদীপ নায়ারের বক্তৃতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে কথাটা আবার সবার সামনে তুলে ধরার তাগিদ অনুভব করছি।
সাংবাদিকতা পেশা, সংবাদপত্র প্রকাশনা বা টিভি চ্যানেল পরিচালনা করাকে আর দশটা ব্যবসা বা পেশার মতো দেখলে হবে না। এই পেশাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সমাজ এই মর্যাদার প্রতিদানে গণমাধ্যম থেকে কিছু ব্যতিক্রমী ও সাহসী ভূমিকা আশা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু গণমাধ্যম রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের মতো সংবাদ প্রকাশ করছে। কোনো দলকে সমর্থন করা বা কোনো দলের বিরোধিতা করা এখন কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রাত্যহিক ভূমিকা হয়ে উঠেছে। সংবাদপত্রকে যে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ হতে হয় তা অনেক সংবাদপত্র ভুলেই গেছে। সংবাদপত্রটি যদি সরকার-ঘেঁষা হয় তাহলে সরকারের বা সরকারপ্রধানের গুণকীর্তনে তারা ব্যস্ত থাকে। ঘটনা যতটা বড় নয় ততটা বড় করে লেখা নিশ্চয় সাংবাদিকতা নয়। আবার সংবাদপত্রটি যদি বিরোধী দলের হয় তাহলে সরকারের একটি ভালো কাজও তাদের চোখে পড়ে না। সরকারের সবই খারাপ। সবই ব্যর্থতা।
এভাবে দলের মোসাহেবি করে কয়েকটি সংবাদপত্র আমাদের সংবাদিকতাকে দূষিত করে ফেলেছে। তারা যদি কোনো দলের ‘মুখপত্র’ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিত তাহলে আমার বলার কিছু থাকত না। কিন্তু তারা দাবি করে তারা জাতীয় দৈনিক। এখানেই যত বিপত্তি।
দলের মোসাহেবি করে কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হলে তার পক্ষে সব ধরনের প্রভাব, প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকা কি সম্ভব?
কুলদীপ নায়ার বলেছেন: ‘গনমাধ্যমের ভূমিকা হওয়া উচিত জনসেবায় ব্যর্থ সরকারের খোলাখুলি সমালোচনা করা।’ এখন প্রশ্ন হলো: কোনো সংবাদপত্র বা সাংবাদিক বা কলাম লেখক যদি সরকারের আলিঙ্গনের মধ্যে থাকে, তার পক্ষে কি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করা সম্ভব? অথচ সবাই জানেন, ক্ষমতাসীন সরকারের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা যেকোনো স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রধান কর্তব্য। কোনো সরকারই ভুলত্রুটি বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আমাদের মতো দুর্নীতিকণ্টকিত দেশে সরকারের দুর্নীতি, ভুল বা ত্রুটি-বিচ্যুতি উদ্ঘাটন করতে খুব বেশি গবেষণার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যর্থতার সামান্য অনুসন্ধান করতেও কোনো কোনো সংবাদপত্র বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। তারা ব্যস্ত বিরোধী দলের ছিদ্রান্বেষণে। বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয় থাকলে সংবাদপত্রকে অবশ্যই তা করতে হবে। কিন্তু পত্রিকার প্রথম পাতাজুড়ে শুধু বিরোধী দলের সমালোচনা ও সরকারের গুণকীর্তন থাকলে তাকে কি সংবাদপত্র বলা চলে?
আমাদের ‘দলকানা’ সংবাদপত্র ও কলাম লেখকদের প্রভাব এত দূর বেড়েছে যে তারা নিরপেক্ষ সাংবাদিক বা সাংবাদিকতা নিয়ে কটাক্ষ ও বিদ্রূপ করে। তাদের বক্তব্য এ রকম: ‘নিরপেক্ষতা হচ্ছে একরকম চক্রান্ত। কোনো দলের মোসাহেবি করাই হলো আদর্শ সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের দায়িত্ব।’ আমার ধারণা, সচেতন পাঠকসমাজ এসব ব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত হন না। দলকানা সংবাদপত্র ও নিরপেক্ষ সংবাদপত্রের মধ্যে পার্থক্য পাঠকেরা বুঝতে পারেন।
কুলদীপ নায়ার বলেছেন: ‘কখনোই দুষ্কর্মের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।’
বাংলাদেশে আমরা কী দেখি? পত্রিকাবিশেষ নানা কারণে নানা দুষ্কর্মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, সমর্থন দিচ্ছে। অথচ একটি দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের দায়িত্ব হলো দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করা। লেখালেখি তারা এখনো করছে। সেটা প্রধানত তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র মালিকের বিরুদ্ধে। কারও দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে লেখা আর কারও দুষ্কর্ম সম্পর্কে সাফাই গাওয়া কোনো ভালো সংবাদপত্রের ভূমিকা হতে পারে না।
আমাদের সংবাদপত্র জগত্টা এভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। দলকানা সংবাদপত্রের পক্ষে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা সম্ভব হয় না। তাই তো দেখি বর্তমান শাসক দলের নানা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অনাচার সব সংবাদপত্র নিষ্ঠার সঙ্গে প্রকাশ করে না। প্রকাশ না করে তারা সরকারি দলের কৃপা পাওয়ার আশা করছে। এভাবে কোনো সংবাদপত্রের ‘ব্যক্তিত্ব’ বিকশিত হয় না। সব সময় সরকার বা রাজনৈতিক দলের কৃপার ওপরই তাদের থাকতে হয়। পাঠকের শক্তিতে তারা বলীয়ান হতে পারে না।
আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো এক ধরনের ‘করণিক সাংবাদিকতা’ করে ‘টিভি সাংবাদিকতা’র একটা দুর্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। টিভি চ্যানেলগুলো প্রধানত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর অনুষ্ঠান, প্রধান বিরোধী দল, বিভিন্ন উদ্বোধন, গোলটেবিল ও নানা দুর্ঘটনার ওপরই তাদের ক্যামেরা ব্যস্ত রেখেছে। নিজেদের উদ্যোগে কোনো সরকারি ব্যর্থতার রিপোর্ট তারা সহজে তুলে ধরে না। ব্যতিক্রম খুব কম। ফলে সরকারি কর্তাদের ধারণা হয়েছে, ‘টিভি চ্যানেলগুলো খুব দেশপ্রেমিক। তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না।’ কিন্তু সরকারকে কে বোঝাবে, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো এখনো প্রকৃত টিভি সাংবাদিকতা শুরুই করেনি। ‘একুশে টিভি’র সাইমন যুগে কিছুটা চেষ্টা হয়েছিল।
কাজেই সংগত কারণে সংবাদপত্র নিয়েই সমালোচনা হচ্ছে বেশি। কুলদীপ নায়ার বাংলাদেশের সংবাদপত্র পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো জেনেশুনে এ রকম বক্তব্য দিয়েছেন, নাকি সাধারণভাবে গণমাধ্যম সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন তা আমি জানি না। তবে তাঁর এই বক্তৃতা বাংলাদেশের বর্তমান সংবাদপত্র প্রকাশনার যুগে খুব প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। বক্তৃতাটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এ দেশের সব সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিক ও প্রকাশক মনোযোগ দিয়ে পড়লে গণমাধ্যমের অনেক কিছু সম্পর্কে চিন্তা করার খোরাক পাবেন। ভোরের কাগজকে ধন্যবাদ কুলদীপ নায়ারকে আমন্ত্রণ করার জন্য।
জ্যোতি বসু ও গণমাধ্যম
সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের বামপন্থী নেতা কমরেড জ্যোতি বসুর নানা গুণাবলি উল্লেখ করে বাংলাদেশের সংবাদপত্রে কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বেশিরভাগ লেখাই চিন্তা উদ্দীপক। আমি শুধু একটা বিষয় যোগ করতে চাই।
অনেক রাজনীতিবিদের ধারণা, বড় নেতা, জনপ্রিয় নেতা বা জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) হতে হলে গণমাধ্যমের বিরাট সহায়তার প্রয়োজন হয়। সেজন্য বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ গণমাধ্যমকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেন। সাংবাদিকেরাও রাজনীতিবিদদের পেয়ে বসেছেন। কারণ, বেশিরভাগ রাজনীতিবিদের নানা দুর্বলতা রয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে কমরেড জ্যোতি বসু বা তাঁর দল সিপিএম তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো কলকাতার বড় সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের (তখন শুধু দূরদর্শন) সহায়তা পাননি। কলকাতার দুই-তিনটি বড় ও অত্যন্ত প্রভাবশালী দৈনিক সব সময় সিপিএম, বামপন্থা ও জ্যোতি বসুবিরোধী ভূমিকা পালন করে গেছে। শত শত রিপোর্ট, কলাম, সম্পাদকীয় ও কার্টুন ছাপা হয়েছে বামফ্রন্ট সরকার তথা জ্যোতি বসুর বিপক্ষে। কিন্তু তাতে তেমন বড় ক্ষতি হয়নি বামফ্রন্টের। কিংবা জ্যোতি বসুর। একটানা ২৭ বছর বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায়। প্রায় ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। গণমাধ্যমের এত বিরূপ প্রচারণার প্রভাব কোথায় গেল? গণমাধ্যম নাকি খুব শক্তিশালী?
গণমাধ্যম অবশ্যই শক্তিশালী। তবে, তারচেয়েও শক্তিশালী হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন। নেতা, রাজনৈতিক দল বা সরকার যদি তাদের কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের মন জয় করতে পারে তাহলে গণমাধ্যমের বিরূপ প্রচারণা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ও জ্যোতি বসু আমাদের সামনে এই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের রাজনৈতিক দল বা নেতারা কি কিছু শিখবেন?
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।

বাংলা পরিভাষা: নতুন কোনো নির্মাণ নেই -আমার ভাষা আমার একুশ by সৌরভ সিকদার

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের কৃষিকাজের জন্য ‘গভীর নলকূপ’ ব্যবহার করে। এই গভীর নলকূপটি যে ইংরেজি ‘ডিপটিউবওয়েল’ থেকে এসেছে, পরিভাষা হিসেবে তা তারা জানে না। বাংলা ভাষার ভান্ডারে নতুন শব্দ এল, বাংলা ভাষাভাষী মানুষ তা গ্রহণও করল। এভাবে পরিভাষা তৈরি হয়, ভাষা সমৃদ্ধ হয়। একসময় বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগসূত্র কম ছিল, তাই জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র ছাড়া পরিভাষা তৈরির প্রয়োজন ও সুযোগ ছিল না। একালে বিশ্বায়নের (গ্লোবালাইজেশনের পরিভাষা) ফলে পৃথিবীর তাবত্ প্রযুক্তি, জ্ঞানশাখা, ভোগ্যপণ্য রাতারাতি চলে আসছে আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু ভাষার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং বাংলাভাষী সাধারণ মানুষের মাঝে তা বোধগম্য করে ছাড়িয়ে দিতে যথেষ্ঠ পরিভাষা তৈরি হচ্ছে না। অথচ আমরা চাই আমাদের মাতৃভাষা জ্ঞানবিজ্ঞানের নতুন নতুন বই থেকে শুরু করে প্রযুুক্তির ব্যবহার, কথাবার্তায় এমনকি দৈনন্দিন কাজকর্মে সর্বস্তরে প্রসারিত হোক। ১৯৩৩ সালে রাজশেখর বসু বলেছিলেন, ‘পরিভাষার একমাত্র উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিদ্যার চর্চা এবং শিক্ষার বিস্তারের জন্য ভাষার প্রকাশশক্তি বর্ধন। পরিভাষা যাতে অল্পায়াসে বোধগম্য হয়, তাও দেখতে হবে।’
আমাদের অফিসে অফিসে ফাইলের সঙ্গে ‘নথি’ চলে কিন্তু নোটের সঙ্গে কী চলবে? কেউ লিখছেন ‘টোকা’, কেউ বা ‘চোথা’। উপযুক্ত শব্দ বা পরিভাষার অভাবে থমকে যেতে হচ্ছে। পরিভাষা যথাযথ না হলে যেমন বিভ্রান্তির শিকার হতে হয়, তেমনি সাধারণ মানুষ তা ব্যবহারও করে না। যেমন উনিশ শতকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের পরিভাষা করা হয়েছিল অম্লজান ও উদ্জান—ওগুলো চলেনি। তেমনি পাকিস্তান আমলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত ইংরেজ চিকিত্সক বার্নাড প্রথম সফলভাবে ‘হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশন’ করলে তখনকার দৈনিক পাকিস্তান-এর প্রথম পৃষ্ঠায় বড় হরফে খবরটি লেখা হয়েছিল ‘হূদয়-বদল’ শিরোনামে। সংবাদপত্রে এমন একটি যুগান্তকারী সংবাদ বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য শুধু লাগসই পরিভাষার অভাবে প্রণয়ঘটিত ব্যাপারে রূপান্তরিত হয়েছে।
কাজেই উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাবে বাংলায় যে সবকিছু স্পষ্ট করা যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। আমাদের বাংলা সাহিত্য অর্থাত্ গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক হয়তো পরিভাষার মুখাপেক্ষী নয় (অবশ্য অনুবাদ সাহিত্যের প্রয়োজন আছে)। কিন্তু বিজ্ঞান, বাণিজ্য, দর্শন, চিকিত্সা, প্রকৌশল বিদ্যা, আইন শাস্ত্র তথা বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে বাংলা ভাষার প্রয়োগ করতে গেলে পরিভাষার সমস্যা আসবেই। সে কারণেই প্রয়োজন উপযুক্ত পরিভাষা। প্রয়োজনটা যাদের, তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। যদিও পরিভাষা তৈরিতে সাধারণ মানুষ অনেক আগেই অবদান রেখেছে। ভাষা বিশারদ মুহাম্মদ এনামুল হক এ প্রসঙ্গে তিন যুগ আগে লিখেছেন—‘দেশের গণমানব বাংলা মুদ্রাক্ষর যন্ত্রের খবর রাখে না, বাংলা পরিভাষা তৈরিরও তোয়াক্কা করে না। প্রকৃতপক্ষে তারাই বাংলা ভাষার মূল ধারক ও বাহক। তাদের কাজ চালানোর মতো প্রয়োজনীয় পরিভাষা তারা নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছে ও নিচ্ছে’ (মনীষা-মঞ্জুষা; ১৯৭৬) তিনি এগুলোকে লৌকিক পারিভাষিক শব্দ উল্লেখ করে কিছু দৃষ্টান্তও দিয়েছেন: অ্যারোপ্লেন>উড়োজাহাজ, রেডিও>বেতার, কন্ট্রাক্টর>ঠিকাদার, বোম্ব>বোমা, ইঞ্জিন>ইঞ্জিল, ভোটিং>ভোটাভুটি, জেনারেল>জাঁদরেল প্রভৃতি। মুহাম্মদ এনামুল হক পরিভাষা নিয়ে তেমনি অভিযোগও করেছেন, ‘আর শিক্ষিত লোকেরা কোনো বিদেশি বৈজ্ঞানিক শব্দের কোনো বাংলা শব্দ তৈরি না করে শুধু ইংরেজি তথা বিদেশি ভাষাকে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেছেন।’ প্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ একে অন্যভাবে বলেছেন, ‘কত টাকা জমলে বাংলাকে ঘৃণা করতে ইচ্ছে হয়।’ বাংলাদেশে পরিভাষা নিয়ে কাজ করেছেন ভাষাবিজ্ঞানী মনসুর মুসা। তিনি বাংলায় পরিভাষার সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে জানান, ‘বাংলা পরিভাষা পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয় সম্বন্ধে বলতে গেলে তিনটি পর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। একটি হচ্ছে পরিভাষা বা পরিশব্দ সৃষ্টি পরিস্থিতি, দ্বিতীয়টি হলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পরিশব্দ প্রচার-পরিস্থিতি, তৃতীয়তটি হলো পরিভাষা ব্যবহারকারীর আগ্রহ।
প্রথমত. বাংলা একাডেমী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যা পরিভাষা বা পরিশব্দ সৃষ্টি করেছে তা জ্ঞানচর্চার জন্য যথেষ্ট নয়। সব শব্দ এক দিনে সৃষ্টি করা যায় না। কিন্তু যা সৃষ্টি হয়েছে তার যথাযথ বিতরণ ও ব্যবহারও হচ্ছে না। ফলে পরিভাষা পরিস্থিতি যতটা স্বভাবমুখী হওয়া উচিত ছিল, ততটা স্বভাবমুখী না হয়ে বিভাষামুখী হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিভাষা কমিটিগুলোতে আমাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব কিংবা অংশীদারি নেই। এমনকি ভাষিক এলাকা হিসেবে উপমহাদেশের পরিভাষা পরিস্থিতি খুব সন্তোষজনক নয়। সার্ক অঞ্চলে একটি পরিভাষা সমতা কমিটি গঠন একান্ত প্রয়োজন।
উনিশ ও বিশ শতকে পরিভাষা প্রণয়নে ব্যক্তিপর্যায়ে অক্ষয়কুমার দত্ত, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ এরং প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সাহিত্য পরিষত্ পত্রিকা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমী প্রভৃতির অবদান অস্বীকার্য। বিশেষ করে—সাহিত্য পরিষত্ পত্রিকা। এই পত্রিকায় ১৯০১ সাল থেকে প্রায় ত্রিশ বছরে ৬৭টি পরিভাষা বিষয়ক লেখা এবং নানা জ্ঞানশাখার পরিভাষা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ একুশ শতকে এসে আমাদের পরিভাষা প্রণয়ন প্রচেষ্টা থমকে গেছে যেন।
একুশের চেতনাকে সমুন্নত করে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে হলে আমাদের পরিভাষা তৈরির বিকল্প নেই। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যেমন বাংলা একাডেমী নিতে পারে, তেমনি যাঁরা যে শাস্ত্রের বা জ্ঞানশাখায় পণ্ডিত, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। আসতে হবে বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষকদেরও। আর এ ক্ষেত্রে ভাষিক সৌন্দর্য ও শুদ্ধাশুদ্ধির জন্য সহায়তা প্রয়োজন হবে ভাষাবিজ্ঞানীদের। নতুন পরিভাষা না হলে ভাষা সমৃদ্ধ হবে না। জ্ঞান শাখার বিস্তার ঘটবে না। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। ভাষার প্রতি দায়িত্ব পালন না করে কেবল ফেব্রুয়ারি এলে, ‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’ আউড়ে কী লাভ?
সৌরভ সিকদার: অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সাতক্ষীরার ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব -বেআইনি ভূমি ইজারায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চল ভূমিদস্যু বনাম ভূমিহীনদের সংঘাতে মাঝেমধ্যেই অশান্ত হয়ে উঠছে। সোমবারের প্রথম আলো জানাচ্ছে, পুলিশ-র্যাবসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েক শ সন্ত্রাসী সাতক্ষীরার দুটি গ্রামে ভূমিহীন পল্লিতে হামলা চালিয়ে ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়। পুলিশের ভাষ্য হচ্ছে, তারা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। কিন্তু ঘরবাড়ি ভেঙে বসতি উচ্ছেদ করার সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারের কী সম্পর্ক? উচ্ছেদ করা পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভূমিদস্যুদের দখল সহজ করতেই প্রশাসন-পুলিশ ও মাস্তান চক্র একযোগে তাদের উচ্ছেদ করেছে। কাজটি স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসমূলক, বেআইনি ও ভূমিদস্যুতার নজির। সরকারের উচিত, অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দীর্ঘদিন থেকে চলতে থাকা সমস্যার স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধান করা।
সাতক্ষীরায় প্রায় ৫৯ হাজার একর খাসজমি রয়েছে। এসব জমির দখল নিয়ে মাঝেমধ্যেই চিংড়িঘেরের মালিক ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে সংঘাত হচ্ছে ও রক্ত ঝরছে। ১৯৯৮ সালে ভূমিহীনদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হলে একজন নারী নিহত হন এবং শত শত দরিদ্র ভূমিহীন আহত হয়। নিয়মিতভাবে সেখানে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন, হামলাসহ হয়রানিও চলছে। গত ডিসেম্বর মাসে সাতক্ষীরার জনপ্রিয় ভূমিহীন নেতা এবং কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি সাইফুল্লাহ লস্করকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ভূমিদস্যুদের মদদে এবং পুলিশের সহযোগিতায়—এ জন্যই তদন্তে গড়িমসি চলছে। গত রোববারের ‘উচ্ছেদ অভিযান’ এই দ্বন্দ্বের সর্বশেষ সংযোজন। প্রশ্ন হলো, কৃষি খাসজমিকে ‘বিশেষ চিংড়ি ঘের’ হিসেবে দেখিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি নয়? গোষ্ঠীস্বার্থের কাছে পুলিশ ও প্রশাসনের এই নতজানু হওয়াকে সরকারের অবশ্যই আমলে নিতে হবে; কেননা সমস্যার গোড়া সেখানেই।
১৯৮৪ সালের খাসজমি বণ্টন নীতিমালা অনুসারে খাসজমির ওপর অধিকার ভূমিহীনদের। এর জন্য সরকারিভাবে কমিটি গঠন করে জমি বিতরণের কর্মপদ্ধতিও ঠিক করা আছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও ভূমিহীনদের ভূমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। ১৯৯৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় এসে ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের জন্য নির্বাহী আদেশও দেন। সুতরাং চিংড়িঘের বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমিহীনদের অধিকারে থাকা খাসজমি ইজারা দেওয়াকে ভূমিদস্যুতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। বলা বাহুল্য, প্রশাসনের পক্ষপাত, দুর্নীতি এবং ভূমিদস্যুদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ছাড়া এই অন্যায় সম্ভব ছিল না।
আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে সাইফুল্লাহ লস্করের হত্যাকারীসহ ভূমিহীন পল্লিতে হামলার হোতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আর যাতে রক্ত না ঝরে এবং উচ্ছেদ হওয়া ভূমিহীনেরা আর অবিচারের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করে সরকার আইনের শাসনের ওয়াদা পূরণ করবে।

দলত্যাগী জঙ্গিদের নিরাপত্তা -এই হত্যাকাণ্ড চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট

জঙ্গি তত্পরতা রোধে সরকার কথায় যতটা কঠোর, কাজেও সে রকম হলে রাজধানীর উত্তরায় রাশিদুল ইসলাম প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হতেন না। স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী রাশিদুলের ‘অপরাধ’, তিনি উগ্র ধর্মীয় সংগঠন নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংস্রব ত্যাগ করে ধর্মের নামে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মানুষ তাঁর সাহায্যে ছুটে এলে হত্যাকারীরা বোমা ফাটিয়ে চলে যায়।
নিহত রাশিদুল জেএমবির সদস্য ছিলেন এবং জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত থাকার কারণে একবার গ্রেপ্তারও হন। তিনি পুলিশের অস্ত্র লুট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তাঁর স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে এক বছর আগে জেএমবি ছেড়ে দেন এবং মসজিদে খুতবায় ও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে জেএমবির বিরুদ্ধে কথা বলতেন—এমনকি দলের অন্যদেরও সুপথে ফিরে আসার আহ্বান জানাতেন। এতে জেএমবির সদস্যরা রাশিদুলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বলে তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন। এ বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে, দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাটিকে রক্ষা করবে কে? প্রথমত, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে যাচ্ছেন, পুলিশ তাঁর খবরও রাখে না, তাদের ভাষায় তিনি ‘পলাতক’। দ্বিতীয়ত, তিনি যে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, গোয়েন্দারা সেই খবরটুকু রাখলেও তো তাঁর নিরাপত্তার উদ্যোগ এবং এখনো কারা এই তত্পরতার সঙ্গে জড়িত, সে খবর বের করতে পারতেন। আর তৃতীয়ত, প্রকাশ্যে রাজপথে যদি এভাবে হামলা চালিয়ে খুনিরা সদম্ভে চলে যেতে পারে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা কোথায় রইল?
সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তত্পরতা দমনে র্যাব ও পুলিশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। মহানগর পুলিশের অধীনে গঠিত হয়েছে ‘সোয়াত’ (স্পেশাল ওয়েপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স) নামে বিশেষায়িত বাহিনী। প্রচলিত প্রথায় যথাযথ চুক্তির আওতায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এর সুফল পেতে যদি দেরি হয়, তাহলে লাভ কী? এটা ঠিক যে উন্নত প্রশিক্ষণ সবেমাত্র শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্রও অপ্রতুল। কিন্তু প্রাথমিক তত্পরতা শুরু করতে বাধা কোথায়? জঙ্গিদের হাতে দলত্যাগী জঙ্গি খুন হওয়ার পর পুলিশের চোখ খুলে যাওয়া উচিত।
শুধু বক্তৃতা-বিবৃতিতে জঙ্গি তত্পরতা বন্ধ করা যাবে না। পুলিশ যেমন এদের সহিংস তত্পরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তেমনি যারা জঙ্গিবাদ ত্যাগ করে সুস্থ জীবনধারায় ফিরে আসতে চায় তাদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। বিশেষত, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠিত অপরাধ দমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাক্ষীদের নিরাপত্তা কর্মসূচি (উইটনেস প্রোটেকশন প্রোগ্রাম) থাকে, আইন থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে সুপথে ফিরে আসা অপরাধীদের পুনর্বাসনের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে এ আইনের প্রয়োগ এত দুর্বল যে, নেই বললেই চলে। জঙ্গিদের বিষয়টি একটু ভিন্ন হলেও, যারা জঙ্গিবাদী তত্পরতা থেকে ফিরে আসতে চায়, তাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা দরকার।
যে জঙ্গিরা রাশিদুলকে হত্যা করেছে, তাদের গ্রেপ্তার, বিচার ও আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। কাজটি বিলম্বিত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামী মাসে সপরিবারে তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ইন্দোনেশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া যাবেন বলেও সোমবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে।
গত বছর সিঙ্গাপুরে ওবামা বলেন, তিনি শৈশবের প্রিয় স্থান ইন্দোনেশিয়া সফর করার অপেক্ষায় রয়েছেন। বারাক ওবামা ১৯৬০-এর দশকে তাঁর মা আন ডানহামের সঙ্গে জাকার্তায় বসবাস করেন। সেখানে তিনি ‘লিটল ব্যারি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওবামা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাংয়ের আমন্ত্রণে জাকার্তা সফরে যাচ্ছেন। উভয় পক্ষ বলছে, জাকার্তার সঙ্গে ওবামার শৈশব-বন্ধন কাজে লাগিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আবার জোরদারের চেষ্টা করবেন তাঁরা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, সফরকালে সরকারি সূচির বাইরে ওবামা স্ত্রী মিশেল ও দুই মেয়েকে জাকার্তায় তাঁর চেনাজানা প্রতিবেশী ও কিছু স্কুলবন্ধুর সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন।
ওবামার বাবার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মা ডানহাম এক ইন্দোনেশীয়কে বিয়ে করেন। সে সুবাদে ওবামার মা জাকার্তায় বসবাস শুরু করেন। ওবামাও মায়ের সঙ্গে জাকার্তায় তাঁর শৈশবের কয়েকটি বছর কাটান। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সেখানকার এক প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন।
গিবস বলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরকালে ওবামা গ্রিন এনার্জি, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অস্ত্রবিস্তার রোধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গিবস আরও বলেন, এশিয়ার পক্ষে ওবামা গুয়ামে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করবেন। মতামত গ্রহণের পর এশিয়ায় ওবামার এটি দ্বিতীয় সফর।

ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে ব্লেয়ার মন্ত্রিসভাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল

ব্রিটেনের সাবেক আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী ক্লেয়ার শর্ট বলেছেন, ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভাকে ‘বিভ্রান্ত’ করা হয়েছিল। ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি তদন্ত কমিশনের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
ক্লেয়ার শর্ট বলেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ নিয়ে সরকারের শীর্ষ আইন উপদেষ্টা মন্ত্রিসভাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, ইরাকে হামলার আগে অন্যের ওপর নির্ভর করে মত পরিবর্তন করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল লর্ড গোল্ডস্মিথ।
২০০৩ সালে ইরাক অভিযান শুরুর দুই মাস পর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ক্লেয়ার শর্ট। ইরাক যুদ্ধ তদন্ত কমিশনের সামনে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা ‘সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারী সংস্থা’ ছিল না। পার্লামেন্টকে ‘রাবার স্টাম্প’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
ইরাক যুদ্ধের সবুজ সংকেত দেওয়ার আগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল গোল্ডস্মিথ প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারকে বলেছিলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নতুন করে কোনো প্রস্তাব ছাড়া ইরাক অভিযান বেআইনি হতে পারে।
কিন্তু মার্কিন সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত স্যার জেরেমি গ্রিনস্টকের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করেন।

তালাকের আবেদন প্রত্যাহার

সৌদি আরবে ১২ বছরের এক কিশোরী তার তালাকের আবেদন অপ্রত্যাশিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিশোরীর বাবা ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তাকে যৌতুকের বিনিময়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার পর আদালতে তালাক চেয়ে আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার সৌদি সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রচার করে।
মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ও শিশু কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টাদের সহায়তা সত্ত্বেও কিশোরী ও তার মা আল কাশিম প্রদেশের বুরিয়াদাহর আদালত থেকে তালাকের আবেদনপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। মূলত তারাই এই তালাকের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। কিশোরী আদালতকে বলে, তার সম্মতিতেই ওই লোকটির সঙ্গে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়।
ওকাজ পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কিশোরীর বাবা ২২ হাজার ৬৬৭ ডলার যৌতুকের বিনিময়ে ৮০ বছর বয়স্ক এক লোকের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়।
জানুয়ারির প্রথম দিকে আল রিয়াদ পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে হইচই পড়ে যায়।

নির্যাতনের অভিযোগ করলেন পাকিস্তানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক

ইন্টারনেটে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানে আটক পাঁচ মার্কিন মঙ্গলবার পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
পাকিস্তানের আদালতে তাঁরা এ অভিযোগের পাশাপাশি তাঁদের মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
তাঁদের আইনজীবী তারিক আসাদ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা এ-ও বলেছেন যে তাঁদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া এই মার্কিনদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে তাঁরা জানান, তাঁরা শুধু তাঁদের মুসলিম ভাইয়ের জন্য চিকিত্সা এবং আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেয়েছিলেন।
পুলিশ ভ্যানে করে তাঁদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা টিস্যু পেপারে লেখা একটি চিঠি সাংবাদিকদের উদ্দেশে ছুড়ে মারেন। সেখানে তাঁরা লেখেন, গ্রেপ্তারের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, এফবিআই ও পাকিস্তানের পুলিশ তাঁদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
তাঁরা আরও লেখেন, ‘তারা আমাদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। আমরা নিরপরাধ। তারা আমাদের জনগণ, প্রচারমাধ্যম, আমাদের পরিবার ও আইনজীবীর কাছ থেকেও দূরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের বাঁচান।’
এ পাঁচ মার্কিনকে রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরের শহর সারগোধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

সু চি নির্বাচনের সময় মুক্তি পেতে পারেন

মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চিকে আগামী নির্বাচনের সময় মুক্তি দেওয়া হতে পারে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিত পিরোমায়া গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
সু চি কখন মুক্তি পেতে পারেন জানতে চাইলে কাসিত পিরোমায়া বলেন, ‘সম্ভবত নির্বাচনী দিনক্ষণ ঘোষণার পর অথবা নির্বাচনের সময়।’
সু চির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির জান্তা সরকার।
নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিত পিরোমায়া জানিয়েছেন, নির্বাচন সম্ভবত চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আসিয়ান সম্মেলনের সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, এ বছরেই নির্বাচন হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কাজেই বলা যায়, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধেই নির্বাচন হবে।’
এ বছর নির্বাচন হলে সেটি হবে মিয়ানমারের গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম নির্বাচন। এর আগে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বড় ব্যবধানে জিতেছিল। কিন্তু সামরিক জান্তা এনএলডির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।

ম্যান্ডেলার মুক্তির সংবাদ ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি স্মরণ করেছে দ. আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় কালোদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের দায়ে কারারুদ্ধ নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির সংবাদ ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ১৯৯০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক এক ভাষণে বর্ণবাদবিরোধী নেতা ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ঐতিহাসিক ওই ঘোষণার মাধ্যমেই দেশটিতে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
দিনটির স্মরণে গতকাল এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক ফাউন্ডেশন একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে ডি ক্লার্ক তাঁর ওই ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে বক্তৃতা করেন। ১৯৯০ সালের এই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ডি ক্লার্ক দেশটির জন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বী সব দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং ম্যান্ডেলাসহ সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ওই ভাষণের দশ দিন পর ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ২৭ বছরের কারাবাস কাটিয়ে মুক্তি পান ম্যান্ডেলা।
সম্মেলনের আয়োজকেরা বলেন, ডি ক্লার্কের ওই ভাষণ দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক রূপান্তর ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন ডি ক্লার্ক। ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি ঐতিহাসিক ওই ভাষণ দিয়েছিলেন।

অমর সিং ও জয়া প্রদাকে সমাজবাদী পার্টি থেকে বহিষ্কার

ভারতের সমাজবাদী পার্টির নেতা অমর সিং ও জয়া প্রদাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন দলীয় প্রধান মুলায়ম সিং যাদব। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাবেক বলিউড অভিনেত্রী জয়া প্রদা উত্তর প্রদেশের রামপুর এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদ। অমর সিং দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে গত মাসে পদত্যাগ করেছেন। মুলায়ম সিংয়ের সঙ্গে রেষারেষি সত্ত্বেও দল ছাড়বেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানান।
জয়া প্রদা সম্প্রতি জানান, অমর সিংয়ের সংকটের সময় তিনি তাঁর পাশে থাকবেন। কেননা, তিনিই তাঁকে দলে এনেছিলেন। এ ছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচনে রামপুর থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সময় দলের অন্য নেতারা যখন তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন, তখন অমর সিং তাঁর পাশে ছিলেন।
অমর সিং ও মুলায়ম সিংকে একসময় অবিচ্ছেদ্য মনে করা হতো। কিন্তু মুলায়ম সিংয়ের পরিবার বিশেষ করে তাঁর ছেলে অখিলেশ প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করায় তা মেনে নিতে পারছিলেন না অমর। এ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে তিনি গত মাসে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন।
জয়া প্রদার মনোনয়ন নিয়ে দলের সঙ্গে অমর সিংয়ের ফারাক সৃষ্টি হয়েছিল। এর ওপর গত নভেম্বরে ফিরোজাবাদে উপনির্বাচন নিয়ে এই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। অখিলেশ ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য, কিন্তু তিনি কন্নোজ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরোজাবাদ ছেড়ে দেন। এরপর সেখানে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল। ডিম্পলের বিপরীতে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন অভিনেতা রাজ বাব্বর। ডিম্পল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় সেটা দল এবং দলীয় নেতাদের জন্য বিব্রতকর হয়। এই পরাজয়ের জন্য অমর সিংকেই দায়ী করে মুলায়মের পরিবার। জবাবে অমর বলেন, মুলায়মের পরিবার অতিমাত্রায় আস্থাশীল, এ জন্য তাঁদের পরাজয় হয়েছে।
অমর সিংকে বহিষ্কারের পর দলে তাঁর অনুগত জয়া বচ্চন বা অন্যদেরও বহিষ্কার করা হয় কি না, সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন বিশ্লেষকেরা।

শ্রীলঙ্কায় নির্বাচনোত্তর দমনপীড়নের নিন্দায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো

শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ধরপাকড়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরকারের দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে তারা। তামিল গেরিলা সন্দেহে হাজার হাজার মানুষকে বন্দী করে রাখার ঘটনারও সমালোচনা করেছে সংস্থাগুলো। খবর এএফপির।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর দমনপীড়ন চলছে। সংস্থাটির এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপরিচালক মাধু মালহোত্রা বলেন, তামিল গেরিলাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক নির্যাতন বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার পরিবর্তে সেখানে বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
অ্যামনেস্টি বলেছে, শ্রীলঙ্কায় নির্বাচনের পর বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি খ্যাতনামা পত্রিকার সম্পাদককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের হয়রানি করা তো আছেই।
নির্বাচনের পরে বিরোধী দলের সমর্থক একটি পত্রিকা অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে। বিরোধী নেতা শরত্ ফনসেকাকে সমর্থনকারী কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দুই দিন আগে লঙ্কা ই-নিউজ ওয়েবসাইটের লেখক প্রজিত্ একনালিগোদা নিখোঁজ হন।
শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা অ্যামনেস্টিকে জানিয়েছেন, সে দেশের ৫৬ জন সাংবাদিক হুমকির মুখে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্স নামে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নির্বাচনোত্তর ৮৫টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুই ব্যক্তিকে হত্যা এবং কয়েকটি হামলার ঘটনা রয়েছে। তা ছাড়া বিরোধী দলের সমর্থক ১৩ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
মালহোত্রা বলেন, ‘হুমকি, মারধর ও গ্রেপ্তারের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে শ্রীলঙ্কার মানবাধিকারকর্মীরা তাঁদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে হুমকির মুখে রয়েছেন।’
সরকারের অভিযোগ, সাবেক সেনাপ্রধান ফনসেকা ও তাঁর সমর্থকেরা সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁয়তারা করছেন। গত সোমবার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি’ মনে করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মালহোত্রা বলেন, প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে নির্বাচনোত্তর ধরপাকড় বন্ধ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেননা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাই শ্রীলঙ্কাকে অচল করে দিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রতি তামিল গেরিলা সন্দেহে আটক ১১ হাজার ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সরকার বলেছে, গত বছর গৃহযুদ্ধ অবসানের প্রাক্কালে তিন লাখ তামিল এলাকা ছাড়ার সময় ওই ১১ হাজার লোক আত্মসমর্পণ করে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সংস্থাটির আশঙ্কা, আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এইচআরডব্লিউর এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডাম বলেন, ‘সরকার ১১ হাজার ব্যক্তিকে মাসের পর মাস আটকে রেখেছে। এখন সময় হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা সত্যিকার অর্থে নিরাপত্তার জন্য হুমকি তাদের চিহ্নিত করার এবং বাকিদের ছেড়ে দেওয়ার।’

মাওবাদী দমনে বুদ্ধদেব আন্তরিক: নারায়ণন

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী দমনের রূপরেখা তৈরি করলেন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন। গতকাল মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নারায়ণনের এটাই প্রথম বৈঠক। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার সম্পর্কে তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া যে ইতিবাচক, সে কথাও প্রধানমন্ত্রীকে এদিন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল।
নারায়ণনকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পেছনে কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য—গোয়েন্দাপ্রধান হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে মাওবাদী দমনে কাজে লাগানো। সেই লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বুদ্ধদেবের সরকারের আগ্রহ এবং তার প্রতি সরকারের প্রাথমিক মনোভাবে নারায়ণন সন্তুষ্ট। বস্তুত বুদ্ধদেবের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, মাওবাদী দমনে মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহ রয়েছে, এ কাজে তাঁর সক্রিয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া রূপরেখায় মাওবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর বিপক্ষেই সওয়াল করেন নারায়ণন। তাঁর যুক্তি, মাওবাদীদের সঙ্গে এখন আলোচনায় বসলে তাদের শর্ত মানতে হবে, অনেকটা নতিস্বীকার করতে হবে। তাঁর প্রস্তাব, আগে মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে জোরদার অভিযান হোক। মাওবাদীদের দুর্বল করে আলোচনায় বসলে তাদের শান্তির পথে ফিরতে রাজি করানো সহজ হবে।
সেদিক থেকে দেখতে গেলে তৃণমূল নেত্রী ও রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদী সমস্যা নিয়ে যে পথে চলতে চাইছিলেন, তাকে আপাতত উপেক্ষাই করছে কেন্দ্রীয় সরকার। অতিসম্প্রতি ঝাড়গ্রামের জনসভায় মাওবাদীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা। তার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষনেতা কিষেণজি অস্ত্র না ছাড়া, যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার ও দলিলপুর চকের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা—এই তিন শর্তে আলোচনায় বসতে চেয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন মমতাকে। কিন্তু সেই শর্ত মানতে কেন্দ্র নারাজ।
এদিকে মাওবাদী দমনে পশ্চিমবঙ্গের লাগোয়া তিনটি রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ৯ ফেব্রুয়ারি মহাকরণে বৈঠক ডেকেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। এত দিন সমস্যা ছিল ঝাড়খন্ড নিয়ে। বুদ্ধদেব বারবার অভিযোগ করছিলেন, মাওবাদীরা এ রাজ্যে অপারেশন চালিয়ে ঝাড়খন্ডে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু সে রাজ্যে নির্বাচিত সরকার না থাকায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে অভিযান চালানো যাচ্ছিল না। আবার শিবু সরেন মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মাওবাদীদের বিষয়ে নরম মনোভাব নেন। এই অবস্থায় গত সপ্তাহে শিবু সরেনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে চাপ দেন চিদাম্ব্বরম। চাপ দেয় তাঁর জোট শরিক বিজেপিও। এর পরই কেন্দ্রীয় অভিযানে সহায়তা দিতে এবং অন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে রাজি হয়েছেন শিবু সরেন।
চিদাম্বরম এদিন বলেন, ‘মাঝেমধ্যে মাওবাদী দমন অভিযানের অগ্রগতির দিকগুলো খতিয়ে দেখা দরকার। ২২ জানুয়ারি রায়পুরে চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছিল। এবার অন্য এলাকায় অভিযানের অগ্রগতি এবং সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখব।’
মমতা অবশ্য মনে করেন, মহাকরণে চিদাম্ব্বরমের বৈঠকে লাভ বিশেষ কিছু হবে না। কারণ, রাজ্যে মাওবাদী সমস্যা মূলত সিপিএমের তৈরি। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধিই করতে চাইছে রাজ্যের প্রধান শাসক দল। তৃণমূল নেত্রীর মতে, কেন্দ্রের উচিত সামগ্রিকভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া। তাঁর দলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী শিশির অধিকারী এদিন বলেন, চিদাম্বরমের উচিত রাজ্যে গিয়ে মাওবাদী সমস্যার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলা। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়, ৯ ফেব্রুয়ারির আলোচ্যসূচিতে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নেই। কারণ, সেটি রাজ্যের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এমনকি ৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ডাকা মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকেও (যেখানে বুদ্ধদেবের বদলে সূর্যকান্ত মিশ্রের থাকার কথা) কথা হবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নয়।

নিরপরাধ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় হত্যাকারী আল-কায়েদা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, বিশ্বে নিরপরাধ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় হত্যাকারী হচ্ছে আল-কায়েদা। গত সোমবার ইন্টারনেটে ভিডিও এবং ছবি আদান-প্রদানের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ইউ টিউব’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা খুবই সুনির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত। আল-কায়েদা ও এর উগ্রপন্থী সহযোগীরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তারা আমাদের ও আমাদের সহযোগীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাঁটি ও দূতাবাসের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, পটভূমি ও ধর্মের কথা বিবেচনা না করেই তারা নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইউ টিউবকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাত্কারে বারাক ওবামা আরও বলেন, ‘আল-কায়েদা সম্ভবত বিশ্বে নিরপরাধ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় হত্যাকারী। সুতরাং সেটা আমাদের লক্ষ্যবস্তু এবং সেটাই আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তারা এখন সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করছে। তবে কারা আমাদের লক্ষ্যবস্তু, সে বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সব ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় খুবই সুনির্দিষ্ট পন্থায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। যেখানে তারা এখনো লুকিয়ে আছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের মতো জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। ওই সব এলাকায় তাদের অভিযানের সুযোগ সীমিত করতে ও তাদের নির্মূলের চেষ্টায় আমরা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’
ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হবে। ইয়েমেনের মতো দরিদ্র রাষ্ট্রে তরুণদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে কাজ করতে হবে। পাকিস্তানের মতো জায়গায়ও এ কাজ করতে হবে।

ওবামা ও বাইডেনের সঙ্গে ইরাকি ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক

ইরাকের ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল-হাশিমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। এ সময় তাঁরা ইরাকের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
প্রথম দিকে বাইডেনের সঙ্গে আল-হাশিমির বৈঠক করার সূচি ঠিক করা ছিল। কিন্তু পরে ওবামাও তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা ইরাকের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সবার অংশ গ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচনের গুরুত্ব এবং ইরাকের শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দুবাইয়ে হামাস নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গত জানুয়ারি মাসে দুবাইয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যার জন্য চিরশত্রু ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। ওই হত্যাকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবেও অভিহিত করেছে তেহরান।
গত ২০ জানুয়ারি হামাস নেতা মাহমুদ আল-মাবহুহকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ট সাংবাদিকদের বলেন, এটা আরেকটা নিদর্শন, যা ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। ইসরায়েলের দ্বারা অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনেরও নিদর্শন এটা। তিনি আরও বলেন, এ সম্পর্কে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা আশ্চর্যজনক।
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের নির্বাচনে হামাসের জয়ের পর থেকে ইরান হামাসের একনিষ্ঠ সমর্থক। ইসরায়েলের অভিযোগ ইরান হামাসের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং হামাস সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিন্তু ইরান বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আরও সতর্কতার সঙ্গে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলি সরকারের হুমকির বিরুদ্ধে পরিকল্পনা নেওয়ার জন্যও ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেহমানপারাস্ট।
মাবহুহ হত্যাকাণ্ডের জন্য হামাসও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে গোষ্ঠীটি।

ওবামা ও বাইডেনের সঙ্গে ইরাকি ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক

ইরাকের ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল-হাশিমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। এ সময় তাঁরা ইরাকের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
প্রথম দিকে বাইডেনের সঙ্গে আল-হাশিমির বৈঠক করার সূচি ঠিক করা ছিল। কিন্তু পরে ওবামাও তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা ইরাকের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সবার অংশ গ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচনের গুরুত্ব এবং ইরাকের শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। রাডারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মার্কিন সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়। সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র গত সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এজেন্সির (ডিএমএ) মুখপাত্র রিক লেহনার জানান, মার্শাল দ্বীপে গত রোববার ওই পরীক্ষা চালানো হয়। তবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মাঝপথে বিধ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয় সেনারা। তিনি বলেন, ইরান কিংবা উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে তা আকাশে বিধ্বংস করার লক্ষ্যেই এ পরীক্ষা চালানো হয়।
ডিএমএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রটি ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ বিমানঘাঁটি থেকে উেক্ষপণ করা হয়। এটি স্বাভাবিক গতিতেই ছোটে। কিন্তু সাগরভিত্তিক এক্স-ব্যান্ড রাডার প্রত্যাশিতভাবে কাজ করেনি। ফলে এই পরীক্ষা সফল হয়নি।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

দালাই লামার সঙ্গে ওবামার সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে চীনের হুঁশিয়ারি

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করলে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা হুমকির মুখে পড়বে। চীন আরও বলেছে, তিব্বতের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দালাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের সর্বশেষ বৈঠকে কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলেও চীন জানিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ইউনাইটেড ফ্রন্ট ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের উপমন্ত্রী ঝু ওয়েকুন গতকাল মঙ্গলবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন। দালাই লামার সঙ্গে চীন সরকারের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করে এই ডিপার্টমেন্ট।
দালাই লামার এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এ বৈঠক সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ঝু ওয়েকুন বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও দালাই লামার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ‘রাজনৈতিক সম্পর্কে মারাত্মক প্রভাব’ ফেলবে। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করলে বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার বিশ্বাস ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘দালাই লামার অজুহাতে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বেইজিং।’
চীনা সরকারের এই বক্তব্যে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রিসংক্রান্ত কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
তিব্বত ইস্যুতে দালাই লামাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ ও ‘গোলযোগ সৃষ্টিকারী’ অভিহিত করে ঝু ওয়েকুন বলেন, পাহাড়ি ভূখণ্ডে (তিব্বত) চীনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সৃষ্ট সমালোচনার জন্য তিনিই (দালাই লামা) দায়ী। ঝু বলেন, দালাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে চীন সরকারের সর্বশেষ আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। আগের মতোই এবারের আলোচনাতেও দুই পক্ষ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল। বিস্তর ফারাক ছিল দুই পক্ষের অবস্থানে। তিনি বলেন, চীনবিরোধী অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের ভাবমূর্তি নষ্টে দালাই লামা লিপ্ত থাকলে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি অর্জিত হবে না।
গত ২৫ জানুয়ারি দালাই লামার প্রতিনিধিদল চীন পৌঁছায়। চীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত সোমবার ভারতের ধর্মশালায় ফিরে আসে তারা। চীন ও দালাই লামার প্রতিনিধিদের মধ্যে গত ১৪ মাসের মধ্যে এ ধরনের আলোচনা ছিল এটিই প্রথম।
তিব্বত ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক বছর ধরে থেমে থেমে আলোচনা চলছে। দালাই লামা তিব্বতের জন্য ‘কার্যকর স্বায়ত্তশাসন’ দাবি করে আসছেন। কিন্তু বেইজিং বলছে, তিব্বত চীনেরই অংশ। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়।a

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সাহায্য বাড়াতে চাচ্ছে ওবামা প্রশাসন

ওবামা প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য প্রস্তাবিত ৩০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের বাজেটে দেশ দুটিকে সাহায্যের জন্য চাওয়া হয়েছে ৭১০ কোটি ডলার।
২০১১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩১০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১৯০ কোটি ডলার দেওয়া হবে সামরিক সাহায্য এবং বাকি ১২০ কোটি ডলার বেসামরিক সাহায্য। এর আগের অর্থবছরে পাকিস্তানের জন্য সব মিলিয়ে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৯০ কোটি ডলার।
নতুন বাজেটে আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৪০০ কোটি ডলার।
হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশ দুটির মানুষের জন্য কার্যকর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা পরবর্তী বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিভাগের উপমন্ত্রী জ্যাকব লিউ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির সরকার তাদের নাগরিক সেবার মান বাড়াতে পারবে।
দেশ দুটিকে দেওয়া সামরিক সাহায্যের বড় অংশ ব্যয় করা হবে আল-কায়েদা ও জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে।

পাকিস্তানকে বড় ধরনের যুদ্ধের হুমকি দিল তালেবান

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে বড় ধরনের যুদ্ধ হবে বলে পাকিস্তান সরকারকে হুমকি দিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। খবর পিটিআইয়ের।
সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা এক পুস্তিকায় উত্তর ওয়াজিরস্থানে সক্রিয় তালেবান শুরা ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদীন অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান সরকার শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এতে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হলে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাসিন্দারা যেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের কাছে আশ্রয় চায়। জঙ্গিদের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসআইটিই এসব কথা জানিয়েছে।
পুস্তিকায় বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী এখানে আরেকটি হামলা চালালে মুজাহিদীনরা বড় ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হবে। স্থানীয় জনগণকে বলা হচ্ছে, তারা যেন তখন এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে এবং প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দেখা করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য আবেদন জানায়।
পুস্তিকায় বলা হয়, যদিও কারজাই নিজেই একজন ‘কাফের’, কিন্তু শান্তিচুক্তির পর এখনো তিনি পাকিস্তানিদের চেয়ে ভালো আছেন। এতে আরও বলা হয়, ভাইদের এই সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে, যাতে কথাটি পাকিস্তানি জনগণের কানে পৌঁছায়।
শুরা ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদীন অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান সরকার পরিস্থিতির সুবিধা নিতে চাইছে। তারা বিভিন্ন গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বেশ কিছু জঙ্গি ও বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে।
এতে বলা হয়, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী জানিখেল ও বাক্কাখেল আদিবাসী এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে বলে সরকার রাজি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির পর তারা আরও বেশিসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রথম সামরিক অভিযান চালায় এনডব্লিউএফপিতে। এর পর তারা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে অভিযান চালায়। মনে করা হচ্ছে তারা এখন উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানের তালেবান নেতা হাফিজ গুল বাহাদর, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের প্রধান মুল্লাহ নাজির ও পাকিস্তানের তালেবান আন্দোলনের নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদকে নিয়ে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাউন্সিল অব মুজাহিদীন প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত পাকিস্তানি তালেবান ফ্রন্ট গঠনের জন্য মোল্লাহ ওমর ও ওসামা বিন লাদেনের পক্ষে জোট গঠন করে তারা।

ডিবিআইয়ের ডিপ্লোমা কোর্সের নবীনবরণ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের বিজনেস ইনস্টিটিউট (ডিবিআই) সম্প্রতি ‘ডিপ্লোমা অন মডিউলার লার্নিং সিস্টেম ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট (এমএলএস-এসসিএম)’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কোর্সের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ও কৌশলগত ক্রয়দক্ষতার বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম শাহজাহান খান, ডিবিআইয়ের নির্বাহী প্রধান মো. হোসেন আলী, এমএলএস-এসসিএমের প্রশিক্ষক ও বিওসির প্রকিউরমেন্ট প্রধান সৈয়দ আসগর আলী এবং ব্র্যাকের প্রকিউরমেন্ট প্রধান মোহাম্মদ আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এমএলএস-এসসিএমের ৩৯ জন শিক্ষার্থী ও কর্মশালার ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী যোগ দেন।
মো. হোসেন আলী জানান, ডিপ্লোমা কোর্সটিতে ১৮টি মডিউল পড়ানো হয়, যা বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে স্বীকৃত।

শীতে মিরসরাইয়ে পানচাষিরা বিপাকে

ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতের কারণে বরজের পান ঝরে যাওয়ায় মিরসরাই উপজেলার পানচাষিরা এবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার প্রায় ২০ একর জমিতে পান চাষ হয়েছে। পান চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে উপজেলার প্রায় ৫০০ পরিবার। উপজেলার পান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বরজে পানের লতা মরে শুকিয়ে যাওয়ায় পানপাতাও ঝরে পড়ছে। এ কারণে পানচাষিরা প্রতি বিড়া পান মাত্র ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৪০ থেকে ৮০ টাকা।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পানচাষি অরুণ দে জানান, এবার ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে পান চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মিরসরাইয়ের ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের পানচাষি কমল দে জানান, একদিকে বরজ (পানখেত) সরঞ্জামের উচ্চমূল্য, অন্যদিকে শীতের কারণে পান ঝরে যাচ্ছে, ফলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে এবার।

ঢাকায় মাসব্যাপী পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল মঙ্গলবার থেকে মাসব্যাপী পর্যটন উৎসব শুরু হয়েছে। ঢাকায় চলমান ১১তম দক্ষিণ এশিয়ান গেমস উপলক্ষে এ উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলা একাডেমীর বইমেলার বিপরীত দিকে মন্দিরের পাশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ মেলা। প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা চলবে।
মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার এবং পর্যটন উত্সবের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের সহকারী জনসংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক রাশেদ হাসান।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া ঢাকা ও কক্সবাজারে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত আটটায় সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশের সাইটস অ্যান্ড সাউন্ডসের ওপর কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন, প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শেরাটন হোটেলে ফ্যাশন শো এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রিজেন্সি হোটেলে দেশীয় খাদ্য উত্সব অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া কক্সবাজারে ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি হোটেল শৈবালে সামুদ্রিক খাদ্য উত্সব, ১২ ফেব্রুয়ারি সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে আদিবাসী মেলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি সুগন্ধা সৈকতে বালু ভাস্কর্য প্রদর্শনী, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচ ফুটবল ও কনসার্ট, ২৭ ফেব্রুয়ারি সামুদ্রিক খাদ্য উত্সব এবং ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
সাইবার ক্যাফে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্টলে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বাংলাদেশের সুন্দরবনের পক্ষে বিনা মূল্যে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

লেনদেনে আবার রেকর্ড

তারল্য প্রবাহের রাশ টেনে ধরতে এসইসির নেওয়া পদক্ষেপের পরও গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৯০ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের রেকর্ড লেনদেনের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি। এমনকি এ দিন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ঘটনায় প্রমাণ করে, বাজারে প্রচুর নগদ অর্থের প্রবাহ রয়েছে। কেবল ঋণের ওপর নির্ভর করেই লেনদেন ও সূচক বাড়ছে না। তাই ঋণসুবিধা কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়েই রয়েছে সংশয়। তাঁদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাকি শেয়ারগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাজারে ছাড়তে হবে।
এসইসি গত সোমবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই ৫০ পয়েন্ট বা এর বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে বিনিয়োগকারীদের ঋণসুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের মূলধনের সর্বোচ্চ দেড়গুণ বা ১: ১.৫ অনুপাতের বেশি ঋণ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কিন্তু এ নির্দেশের ফলে বেশির ভাগ অতিমূল্যায়িত শেয়ারের দাম কমলেও সূচক কমাতে পারেনি। বরং পিই কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় সূচক বেড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে শিগগিরই বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা কমে যাবে। তখন সামগ্রিক বাজার বড় ধরনের পতনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৫০৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার পয়েন্টে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি থাকবে

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি থাকবে। তাই এ বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকার পাশাপাশি সঠিক বিবেচনা ও বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রশিক্ষণ একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে না, তারা আসলে ঝুঁকি নিতে চায় না। যারা ঝুঁকি নিতে ভয় পায়, শেয়ারবাজার তাদের জন্য নয়।’
ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার। এ সময় ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি শাকিল রিজভী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতিপতী মৈত্রসহ পরিচালনা পর্যদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মসিউর রহমান বলেন, সাধারণত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই লাভ পেতে চায়। তাই শেয়ারের দাম কমলে তাদের সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরতে দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে, বিচার-বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়া যায়। আর যারা না বুঝে লোভে পড়ে শেয়ারে বিনিয়োগ করে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের নিজেদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
জিয়াউল হক খোন্দকার বলেন, পুঁজিবাজারে দিন দিন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। এসব বিনিয়োগকারীর বেশির ভাগই শিক্ষিত তরুণ। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারের প্রতি এ আগ্রহ ধরে রাখতে হবে। শেয়ারবাজারের এ সফলতা ধরে রাখা না গেলে দেশের অর্থনীতিই ভেঙে পড়বে। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার একটি সূক্ষ্ম জায়গা। এখানে বিনিয়োগ করতে হবে দেখে-শুনে, কোম্পানির অবস্থা বুঝে।
রকিবুর রহমান বলেন, বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারের গতিশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে অর্থমন্ত্রীর রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এর আগেও সরকারের হাতে থাকা শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক, তা বাজারে আসতে পারেনি।’

পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হচ্ছে তিনটি সীমান্ত হাট

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে সীমান্ত হাট। হাটের বাংলাদেশ অংশে যতটুকু জায়গায় বাজার থাকবে, ভারতের অংশেও থাকবে ঠিক ততটুকুই।
তবে হাটগুলো বসবে উভয় দেশের তুলনামূলক দুর্গম এলাকায়। পণ্য কেনাবেচা হবে শুল্কমুক্তভাবে। এতে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো থাকবে না। বাজারের আয়তন হবে কমপক্ষে ৭৫ বর্গমিটার।
গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্রর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহুল আমিন সরকার এবং ভারতীয় দূতাবাসের প্রথম সচিব সুশীল সিংহল উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পক্ষ থেকে ২২টি হাটের প্রস্তাব থাকলেও পরীক্ষামূলকভাবে তিনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট ও ভারতের লিংখাট; সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউয়ারঘর ও ভারতের কালিয়া চর এবং কুড়িগ্রামের বাজিতপুর উপজেলার বালিয়াবাড়ি ও ভারতের নলিকাতা সীমান্ত।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যে যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়েছে, তার ৩২ থেকে ৩৮ অনুচ্ছেদে থাকা উভয় দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এসব ঘোষণা বাস্তবায়নে পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে উভয় দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে সভা করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। আর চুক্তি করা হবে উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে।
সূত্র জানায়, উভয় দেশের মধ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা কমিয়ে আনার ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে হাইকমিশনার একমত পোষণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত বাংলাদেশকে প্রথম সীমান্ত হাটের প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ তখন এ বিষয়ে ভারতকে একটি ধারণাপত্র দিতে অনুরোধ জানায়। ভারত ধারণাপত্রটি পাঠায় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল। পরে এ ধারণাপত্রের ওপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের মতামত চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তবে তখন হাট স্থাপনে ‘নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে আরও পরীক্ষার দরকার রয়েছে’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও ট্যারিফ কমিশন অবশ্য ওই ধারণাপত্রের কিছু সংশোধন সাপেক্ষে সীমান্ত হাট স্থাপনের পক্ষেই মতামত দেয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে (২০০৮ সালের ২৩ আগস্ট) এসব মতামত নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাল্টা ধারণাপত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই)।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুর দিক থেকেই বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বিএফটিআই এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তসংলগ্ন বালাট এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও মেঘালয় রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষেও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে উল্লিখিত তিনটি স্থানেই সীমান্ত হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর বাংলাদেশ দল সীমান্ত হাটের সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, যাতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। প্রতিনিধিদল খোঁজ নিয়ে দেখে, ২২টি সম্ভাব্য বাজারের মধ্যে ১০টিই হলো মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলায়। বাকি ১২টি অন্য পাঁচ জেলার সীমান্তে।
জানা গেছে, সীমান্ত হাটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা চানাচুর, চিপস, আলু, তৈরি পোশাক, মাছ, শুঁটকি, মুরগি, ডিম, সাবান, শিম, সবজি, গামছা ও তোয়ালে, কাঠের টেবিল ও চেয়ার, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহূত লোহার তৈরি পণ্য নিয়ে বসাবেন। আর ভারতীয়রা ওই হাটে নিয়ে আসবেন ফল, সবজি, মসলা, মরিচ, হলুদ, পান, সুপারি, আলু, মধু, বাঁশ ইত্যাদি পণ্য।
প্রসঙ্গত, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারত ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে আর বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য।

আফ্রিদির প্রশংসায় মালিক

শহিদ আফ্রিদির পাশে দাঁড়িয়েছেন শোয়েব মালিক। না, আফ্রিদির বল টেম্পারিংকে সমর্থন দেননি। তবে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তাঁর অধিনায়কত্বের। যে ম্যাচেই বল টেম্পারিং করেছেন, সেই ম্যাচে অধিনায়কও ছিলেন আফ্রিদি। পাঁচটি ওয়ানডের মধ্যে একমাত্র ওই ম্যাচটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছিল পাকিস্তান।
‘আফ্রিদি দলের খেলোয়াড়দের খুব ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন। অধিনায়ক যদি প্রাণশক্তিতে ভরপুর থাকেন, তাহলে দলও বাড়তি প্রেরণা খু্ঁজে পায়, আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এক ম্যাচের জন্য দায়িত্ব পেয়েই আফ্রিদি আমাদের জাগিয়ে তুলেছিলেন’—একটি ওয়েবসাইটকে বলেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মালিক। তবে আফ্রিদির অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়কত্ব ঢাকা পড়ে গেছে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায়। ঘরে-বাইরে অব্যাহত আছে তাঁর সমালোচনা। সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল হক যেমন আফ্রিদি-কাণ্ডকে বলেছেন অগ্রহণযোগ্য, ‘আফ্রিদি যা করেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। এটা খুবই বাজে ব্যাপার যে অধিনায়ক হয়ে সে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করেছে। ওর ভাগ্য ভালো, ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে দয়া করে ওকে মাত্র দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শাস্তিটা আরও বড় হতে পারত।’
আফ্রিদির জন্য খারাপ খবর আছে আরও। ‘সব দলই বল টেম্পারিং করে’—তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবী করতে পারে আইসিসি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন কোচ গিবসন

ইংল্যান্ডের বোলিং কোচের লোভনীয় চাকরিটা ছাড়ার পর সবাই অবাকই হয়েছিল। কাল জানা গেল আরও বড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই ইংল্যান্ড ছেড়েছেন ওটিস গিবসন। নিজ দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১টি টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু হবে গিবসনের। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার জন ডাইসনকে বরখাস্ত করার পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল কোচের পদটি শূন্য হয়ে আছে। তবে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব চালাচ্ছেন ডেভিড উইলিয়ামস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজে দায়িত্বে থাকবেন উইলিয়ামসই।
২ টেস্ট ও ১৫ ওয়ানডে খেলা গিবসন ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

পাকিস্তানকে গোল-বন্যায় ভাসিয়ে সেমিতে ভারত

তখন মাত্র ৮ বছর বয়স তাঁর। একদিন কাবুলের রাস্তায় একটি কলম পড়ে থাকতে দেখে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রটি তা হাতে তুলে নেয়। কলমটির ওপরের ক্লিপে চাপ দিতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। উড়ে যায় বাঁ হাতের চারটি আঙুল। আঘাত লাগে চোখ, পা, মুখ ও মাথায়ও। তারপর হাসপাতালের শয্যায়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া সেই শিশুটি এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অধিনায়ক ইস্রাফিল। তাঁর প্রেরণায় উজ্জীবিত দলটি এখন স্বপ্ন দেখছে এসএ গেমসে সোনা জেতার।
সেই পথে এখনো তাঁরা ভালোই হাঁটছেন। আগের ম্যাচে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা আফগানরা গতকাল শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন। একই গ্রুপ থেকে সেমির টিকিট পেয়েছে ভারত। তারা কাল শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৫-১ গোলে। কপাল পুড়ল শ্রীলঙ্কার। তিন ম্যাচে সমান চার পয়েন্ট নিয়েও গোল গড়ে তারা ভারতের পেছনে।
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে গতকাল শুরু থেকেই আধিপত্য করা আফগানিস্তান ২৫ মিনিটেই গোল আদায় করে নেয়। ইস্রাফিলের বাড়িয়ে দেওয়া বলে গোল করেন বেলাল আরজু। দ্বিতীয় গোলটিও বেলালের, পেনাল্টি থেকে ৫১ মিনিটে। তিন ম্যাচে আফগানিস্তানের করা পাঁচটি গোলই এই বেলালের পা থেকে। আর এর মধ্যে দুটির জোগানদাতা ছিলেন অধিনায়ক ইস্রাফিল।
আফগানিস্তানের জয় ভারতকে সেমিতে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। খাদের কিনারা থেকে উঠে সেমিতে পৌঁছালেও ভারতও কিন্তু সোনার স্বপ্নে বিভোর। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল না-পাওয়া ভারত সব গোল যেন জমিয়ে রেখেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য। ৫ গোলের তিনটি অধিনায়ক জেজে লালপেকুলার। অথচ ম্যাচের তিন মিনিটে গোল করে কিন্তু এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানই!
বাংলাদেশকে যেমন এড়াতে চাইছে আফগানিস্তান, তেমনি স্বাগতিকেরাও এড়াতে চাইছে এবার এসএ গেমসে দুর্দান্ত খেলা দলটিকে। সেই চাওয়া পূরণ করতে হলে আজ গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করলেই চলবে বাংলাদেশের। এই দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও গোল-ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত।

সোনার দাবি পাকিস্তানেরও

হ্যান্ডবলে শ্রীলঙ্কা যেন গোল-উৎসবের উপলক্ষ প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছে! পরশু ভারত ৫৮ গোল দিয়েছে তাদের। আর কাল পাকিস্তান দিল ৫৯ গোল। শ্রীলঙ্কাকে ৫৯-১৪ গোলে হারিয়ে ভারতের মতো পাকিস্তানও হ্যান্ডবলে সোনার দাবি জানিয়ে রাখল জোরেশোরে। দিনের আরেক ম্যাচে নেপাল ৩৩-২৩ গোলে হারিয়েছে আফগানিস্তানকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরে পাকিস্তান। প্রথমার্ধে ২৮-৩ গোলে এগিয়ে থাকে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। এ অর্ধে গোলও ৩টি বেশি পায় তারা। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৩ গোল করেছেন মুহাম্মদ নাদিম। ইজাহার-উল-হক করেছেন ৯ গোল। মুহাম্মদ শহীদ ও মুহাম্মদ শোয়েবের গোল আটটি করে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছেন পাহান।
নেপাল-আফগানিস্তান ম্যাচে নেপালের মোট গোলের প্রায় অর্ধেকই করেছেন একজন—অমর শ্রেষ্ঠা। ১৬ গোল করেছেন তিনি। এ ছাড়া ৫টি করে গোল পেয়েছেন দিনেশ বিস্ট ও বীরেন্দ্র চাঁদ। আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ গোল আবদুর রহমানের।

শেষ দিনে দুর্ঘটনা আর দুর্ভাগ্য by শেখ আবু হাসান,

আগের দিন এক অতি উত্সাহীর কারণে কলঙ্কিত হয়েছে বাংলাদেশের সাইক্লিং। এসএ গেমসের এই ইভেন্টে কালও ঘটল অনেক ঘটনা। দুর্ঘটনায় পড়েছেন তিন সাইক্লিস্ট। আর সাইকেলের চেইন পড়ে যাওয়ায় দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের রিপন কুমার।
তবে পদকের হিসাবে সাইক্লিং ইভেন্টের শেষ দিনে বাজিমাত করেছে শ্রীলঙ্কা। পুরুষদের ১৭০ কিলোমিটার রোড রেস ম্যাস স্টার্ট ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার জানাকা হেমন্ত গোনাগালেগে সোনা জিতেছেন। রুপা এবং ব্রোঞ্জ পদক উঠেছে যথাক্রমে ভারতের রাজেন্দর বিষ্ণু ও পাকিস্তানের নেসার আহমেদের গলায়। তিনজনই ৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড করে সময় নেওয়ায় পদকের নিষ্পত্তি হয়েছে ফটোফিনিশিংয়ে। আর বাংলাদেশের রিপনের সাইকেলের তো পথে চেইনই পড়ে গেল! চেইন পড়ায় পিছিয়ে যাওয়া রিপন চার ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ষষ্ঠ হয়েছেন।
খুলনার বটিয়াঘাটার ‘জিরো পয়ন্টে’ থেকে কাল সকাল নয়টায় শুরু হয় প্রতিযোগিতা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বড়াশুর এলাকা ঘুরে আবার খুলনায় এসে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। প্রতিযোগিতায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ৫ জন করে, নেপালের ৪ জন ও আফগানিস্তানের ২ জন সাইক্লিস্ট অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে পদক বিতরণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, নৌবাহিনীর কমোডর কমান্ডিং কে টি জামান (এনডিসিপিএসসি) ও খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাহিদ হোসেন।
চার দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার চারটি ইভেন্ট শেষে তিনটি সোনা, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে সাইক্লিংয়ে শীর্ষস্থান ভারতের। দ্বিতীয় হওয়া শ্রীলঙ্কা পেয়েছে একটি সোনা, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ। পাকিস্তান দুটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ নিয়ে তৃতীয়। বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক। নেপাল ও আফগানিস্তান কোনো পদক পায়নি।
দুর্ঘটনায় আহত ৩: সাইক্লিংয়ে কাল দুর্ঘটনাও ঘটেছে। নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার দুই সাইক্লিস্ট ডান স্টেভ লুগারা ও প্রেমাচন্দ্র সুয়ারিশ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রেমাচন্দ্রকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। লুগারার আঘাত গুরুতর মনে হওয়ায় কিছু পরীক্ষা করার পর ছাড়া হয়েছে তাকে। একই দিনে বাংলাদেশের সাইক্লিস্ট ইখতিয়ার উদ্দিন রাস্তায় পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত পান।

জয় দিয়ে শুরু হার দিয়ে শেষ

সোনা নয়, ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের লড়াইটা রুপার জন্যই। একদিন আগে পুরুষ ও মহিলা দলগততে জেতা ব্রোঞ্জই যাদের ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে প্রথম পদক, তারা এর চেয়ে বেশি আশা করেই বা কী করে! কাল শুরু হয়েছে ব্যাডমিন্টনের একক ও দ্বৈতের খেলা। রুপার এ লড়াই জয়-পরাজয়ের মিশ্র অনুভূতি নিয়েই শুরু করেছে বাংলাদেশ। কাল দশটি ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। এর মধ্যে চারটিতে জয়, হেরেছে ৬টিতেই।
দিনের শুরুটা জয় দিয়েই হয়েছিল বাংলাদেশের। মিশ্র দ্বৈতের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের শাপলা আখতার ও রাসেল কবির জুটি নেপালের সারা দেবী তামাং ও বিকাশ শ্রেষ্ঠাকে হারিয়েছে সরাসরি সেটে (২১-১৬ ও ২১-১৬)। মিশ্র দ্বৈতের আরেক ম্যাচে জয় পেয়েছে কনিকা রানী ও আহসান হাবিব জুটি। শ্রীলঙ্কার হেটিয়ারাচিঙে ও করুণারত্নেকে ২-১ (২১-১৯, ১৭-২১ ও ২১-১১) সেটে হারিয়েছেন তাঁরা। পুরষ এককে জয় পেয়েছেন রাইস উদ্দিন। নেপালের রত্নজিত্ তামাঙের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি ২১-১৭, ১৬-২১ ও ২১-১৬ পয়েন্টে। বাংলাদেশের অন্য জয় পুরুষ দ্বৈতে। জামিল আহমেদ ও আনামুল হক সরাসরি সেটে (২১-১৮ ও ২১-১২) হারিয়েছেন নেপালের বিশাল প্রধান ও বিকাশ শ্রেষ্ঠা জুটিকে।
মহিলা এককে পাকিস্তানের পালাশা বশিরের কাছে রোজিনা আখতারের হার দিয়ে শুরু হয় পরাজয়ের পালা (২১-৯ ও ২১-১২)। শ্রীলঙ্কার থিলিনি জয়াসিংহের কাছে হেরে যান এলিনা সুলতানা (২১-১৬ও ২১-১২)। এরপর বাংলাদেশ একে একে হেরেছে দুটি পুরুষ একক, একটি পুরুষ একক ও একটি মহিলা দ্বৈতে।
স্কোয়াশে ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার: দলগত স্কোয়াশের প্রথম দিনে জয় পেয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম খেলায় ভারতের বিকাশ, রবি ও সন্দীপের কাছে হেরেছে বাংলাদেশের শহীদ, রাজস ও স্বপন। আর শ্রীলঙ্কার এরাঙা, বিরম্ননা ও সামারাসিংহে হারিয়েছেন নেপালের তিলিজা, সুদীপ ও হিরাকে।

ব্রোঞ্জ নিশ্চিত, বেঁচে আছে সোনার স্বপ্নও

গেমস শুরুর আগে যে কুড়িটি সোনার স্বপ্ন বাংলাদেশের কর্তারা দেখিয়েছেন, সেই তালিকায় আছে মহিলা ফুটবলও। কাল ফারহানা খাতুনের একমাত্র গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেই স্বপ্নের পথে আরেকটু এগিয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা। ভারত আর নেপালকে পেছনে ফেলে সোনা জিততে যদি নাও পারে, বাংলাদেশের ফুটবলের মেয়েরা পদকশূন্য থাকছে না। কালই নিশ্চিত হয়ে গেছে ব্রোঞ্জ।
লিগ শেষে পাঁচ দলের মধ্যে উপরের দুটি দল লড়বে সোনার জন্য। দুই দলের মধ্যে থাকার লড়াইয়ের বর্তমান অবস্থাটা এ রকম—ভারতের ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট, নেপালেরও তাই। বাংলাদেশের পয়েন্টও ৬, তবে স্বাগতিকেরা ম্যাচ খেলেছে একটি বেশি। অন্য দুই দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ৩টি করে ম্যাচ খেলেও কোনো পয়েন্টই অর্জন করতে পারেনি।
পয়েন্টে সমান থাকলেও ম্যাচ বেশি খেলার বিষয়টি হিসাবে রাখলে বাংলাদেশই আছে পিছিয়ে। তবে বাংলাদেশের মহিলা দলের কোচ শহীদুর রহমানের বিশ্বাস, তাঁর দলের সোনা জয়ের আশা এখনো আছে, ‘আমি তো বলব এখনো আশা আছে আমাদের। পরের ম্যাচটা ভারতের সঙ্গে। এই ম্যাচে জিততে পারলে কাজটা আরও সহজ হবে।’
সোনা জয়ের স্বপ্ন নেপালও হয়তো দেখছে। চারদিকে পরাজয় আর হাহাকার দেখা নেপাল মহিলা ফুটবল এগিয়ে চলছে দারুণভাবে। কাল শ্রীলঙ্কাকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে নেপালকে ১-০ গোলে জেতানো যমুনা কুরাং কাল পেয়েছেন হ্যাটট্রিক। অনু লামা করেছেন জোড়া গোল।

শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশের হার by দুলাল আব্দুল্লাহ,

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়া-মের গ্যালারি ছিল দর্শকে ঠাসা। কিন্তু কাল হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর এসএ গেমস ক্রিকেটে দ্বিতীয় ম্যাচেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার কাছে কাল তারা হেরেছে ১৮ রানে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২১ উড়ন্ত সূচনা করে দুই ওপেনার দিলশান মুনাবীরা ও দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটে। ১৭ বলে ২৪ রান করেন দিলশান, ২৪ বলে ইনিংসের সর্বোচ্চ্চ ৩৪ চান্দিমালের। ৫ ওভারেই ৫০ রান তোলেন দুজন। বড় স্কোর গড়তে পারেননি শ্রীলঙ্কার কেউই, তবে ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস আছে। মাত্র ৮ বলে ৩ ছয়ে ২১ করেছেন জাতীয় দলের হয়ে গত মাসে ঢাকায় খেলে যাওয়া থিসারা পেরেরা। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ২ উইকেট পেয়েছেন শুভাষিশ রায়, তবে ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ৪৩।
প্রথম তিন বলে একটি করে ছয় ও চার মেরে ঝোড়ো সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রনি তালুকদার। কিন্তু পরের ১০ বলেই বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। ১৩ রানের মধ্যেই আউট রনি, আসিফ আহমেদ ও মোহাম্মদ মিঠুন, বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে বসে আসলে সেখানেই। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়েছিলেন আনামুল হক ও নাসির হোসেন, কিন্তু এরপর আবার নিয়মিত বিরতিতে পড়েছে উইকেট। ৪০ বলে সর্বোচ্চ ৪২ আনামুলের, ২১ বলে ২৮ নাসিরের। ক্রিকেটে বাংলাদেশের সোনার আশা অবশ্য শেষ হয়ে যায়নি এখনো, লিগ পর্বে ম্যাচ বাকি আছে এখনো দুটি।