Wednesday, May 10, 2017

রেইনট্রিতে রুম বুকিং দেয়া হয়েছিল নাঈমের নামে

বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচিত মুখ সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। প্রায়ই রুম বুকিং করে আড্ডায় মেতে উঠতেন তারা। সাফাত ও নাঈমের সঙ্গে প্রতিবারই একাধিক তরুণী দেখেছেন হোটেলের কর্মচারীরা। তাদের আড্ডায় সচরাচর নারী ও মদ থাকতো। সন্ধ্যা থেকে সারারাত চলতো আড্ডা। আড্ডায় অংশ নিতেন এক প্রভাবশালী এমপির পুত্রও। ঘটনার দিন গত ২৮শে মার্চ তাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে চার তরুণীকে দেখেছেন হোটেলে কর্মরতরা। ৫৬ বর্গফুটের রুমটি বুকিং করা হয়েছিল নাঈম আশরাফের নামে। রাত পৌনে ৯টার দিকে একজন কর্মচারী নাঈম আশরাফকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘স্যার কোনো প্রবলেম।’ কিন্তু তারা কেউ কোনো কথা বলেননি। হোটেলে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি মঙ্গলবার রাতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার  আসমা মিলি।
সূত্রমতে, মামলা দায়েরের পর বাসাতেই ছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সোমবার যখন তার বাসায় অভিযান চালানো হয় এর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হয়ে যান সাফাত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাফাত আহমেদের বাসার সামনে পুলিশকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আসামিদের ধরতে কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে। মঙ্গলবারও সাফাত ও নাঈমের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রমতে, সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ সম্পর্কে তথ্য পেলেও এই গ্যাং র‌্যাপ মামলার তিন নম্বর আসামি সাদমান সাকিফের বাসার ঠিকানা পায়নি এখনো পুলিশ। এমনকি এই সাদমান সাকিফ যে তেজগাঁও-গুলশান লিঙ্ক রোডে অবস্থিত রেগনাম গ্রুপের পরিচালক তা জানা নেই তাদের। বিষয়টি স্বীকার করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, সাদমান সাকিফের বাসার ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে তারা যেখানে আড্ডা দিতো সেসব স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। সূত্রমতে, সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে পারে সাফাত ও তার সঙ্গীরা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের কাছে তথ্য রয়েছে সাফাত সিলেটে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা দেশ ছেড়ে পালায়নি এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। যেকোনো সময় আসামিরা গ্রেপ্তার হবে বলে আশা করছি। মঙ্গলবার মামলার বাদীর বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় তার মায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, মামলা করার পর থেকে আতঙ্কে মেয়েটা বাসায় নেই। নানা হুমকি-ধমকি, সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। কারা কি প্রস্তাব দিচ্ছে এসব জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না।
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে গেলে কথা হয় কর্মরতদের সঙ্গে। এসময় হোটেলের কর্মকর্তা ফারজান আরা রিমি মানবজমিনকে জানান, যে রুমটি নাঈম আশরাফ বুকিং করেছিলেন তা একটি সুইট রুম। সেখানে এটাস্ট বাথরুম ও বেড রয়েছে। ছোটখাটো পার্টি করা যায়। পার্টির কথা বলেই রুমটি বুক করা হয়েছিলো। সেখানে কয়েক তরুণ-তরুণী ছিলেন বলে জানান তিনি। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সম্পর্কে  রিমি বলেন, থার্টি ডে পর্যন্ত আমাদের ফুটেজ সংরক্ষণে থাকে। পরবর্তীতে আর থাকে না। ঘটনার বেশি দিন হয়ে যাওয়ায় তা আর সংরক্ষণে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোটেলের এক কর্মচারী জানান, সোমবার দুই তরুণীকে নিয়ে স্পটে যান পুলিশের কয়েক কর্মকর্তা। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  কোথায় কিভাবে দুই তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়, হুমকি দেয়া হয় এবং ধর্ষণের সময় কিভাবে, কোথায় অবস্থান করে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয় তা দেখানো হয়।
মামলার বাদী নির্যাতিতা তরুণী পুলিশকে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৮শে মার্চ সাফাত আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে দুই তরুণীকে দাওয়াত দেয়া হয়। পূর্ব পরিচিত সাদমান সাকিফের মাধ্যমেই সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে তাদের পরিচয়। তাদের বলা হয়েছিলো বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ছাদে পার্টি হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান একটি ছোট রুমে পার্টি হবে। প্রথমে তারা রুমে ঢুকতে চাননি। তারা রুফটপ ও সুইমিং পুলের পাশে বসে কথা বলছিলেন। এসময় তারা চলে আসতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ও অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ওই কক্ষে নিয়ে মামলার বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে। ওই দিন রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই রুমে আটকে রাখা হয় তাদের। সেদিন সাকিফের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই অভিযুক্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানিয়ে ওই তরুণী বলেন, পরিকল্পিতভাবে সাকিফ তাদেরকে  সেখানে ফেলে আসে।
ওই তরুণী জানিয়েছেন, বাধা দিয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। এমনকি নিজের বান্ধবীকেও সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। দুজনেই তখন কান্না করেছেন। বাধা দেয়া ও কান্নাকাটি করার কারণে মারধর করা হয়েছে তাদের। দেরিতে মামলা করার কারণ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করলে পরিবার বিব্রত হবে। সামাজিকতার কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করেননি। ধর্ষণ করার সময় সাফাতের গাড়ির ড্রাইভার বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করিয়েছে। ওই ভিডিও দিয়ে তারা জিম্মি করতে চেয়েছিলো। তারা বারবার ভোগ করতে চেয়েছিলো। তাদের এসব উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের চেহারা আড়াল করে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষকরা। তখন বাধ্য হয়েই তিনি মামলা করেছেন বলে জানান। ঘটনাটি উল্লেখ করে গত ৬ই মে বনানী থানায় মামলা করেছেন ওই তরুণী।

বাংলাদেশের পানি সঙ্কট : একটি জেন্ডার কাহিনী by নেহা থিরানি বাগরি

বিয়ের সময় খাদিজা রহমানের বয়স ছিল ১৪ বছর। শ্বশুরবাড়ি উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায়। তখনো তিনি বুঝতে পারেননি, পানির কষ্ট তার জীবনে কী দুর্ভোগটাই না নিয়ে আসছে। বিয়ের ১০ বছর পর এখন প্রতিটি দিনই এই সঙ্কট তাকে ভোগাচ্ছে।
তার গ্রামের নাম কচুখালি, সুন্দরবনের কাছে। তাকে কেবল পানির সঙ্কটেই ভোগায় না, পানির প্রাচুর্যও তাকে যন্ত্রণায় ফেলে। একদিকে খাবার এবং দৈনন্দিন কাজের পানি নেই, আবার জোয়ার কিংবা ঝড়ের সময় সাগরের নোনা পানি সবকিছু ভাসিয়ে দেয়। এমনকি সাধারণ পানির পুকুরগুলোও তখন লবণে ভরে যায়। পানির বিশাল উপস্থিতিতেই তখন পান করা আর গৃহস্থালী কাজের পানি হয়ে যায় দুর্লভ।
খাদিজা জানান, আমরা লবণাক্ত পানি পান করতে পারি না, এ দিয়ে গোসল করা যায় না। বাসন-পেয়ালা এই পানিতে ধুলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
খাবার পানির এই সঙ্কট বিশেষভাবে নারীদের ভোগায় সবচেয়ে বেশি। প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী, নারীদেরই এই পানি সংগ্রহ করতে হয়।
বর্ষাকালে একদিক থেকে কষ্টটা কম হয়। তবে বৃষ্টির সময় তাদেরকেই প্লাস্টিকের বালতি, ড্রামে পানি ধরে রাখতে হয়। কিন্তু শুষ্ক মওসুমে পানির স্তর নেমে যায়। পানির আকাল দেখা দেয় তখন। ওই সময় কখনো কখনো তাকে পানি আনতে এক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। প্রচন্ড গরমে ঘামে ভেজা পোশাক পরেই তাকে ওই সামান্য পানি সংগ্রহ করতে হয়।
ওই এলাকার ৭০ ভাগ লোক পান এবং গৃহস্থালী কাজের পানির জন্য পুকুরের ওপর নির্ভর করে থাকে। ভূগর্ভের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় তা ব্যবহার করা যায় না।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের ফেলো গোলাম রাব্বানির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানি নিয়ে প্রতিদিনকার সংগ্রাম তীব্র হয়েছে। গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশের প্রায় ২৬ ভাগ এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার ঘটেছে।
বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ নদী ও ভূগর্ভের পানিতে লবণের পরিমাণ ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে যাবে। ফলে খাবার পানির সঙ্কট আরো তীব্র হবে। এতে করে অন্তত ২৯ লাখ গরিব মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানির অভাবে ইতোমধ্যেই ২৫ লাখ লোক ভুগতে শুরু করেছে।
লবণমুক্ত পানির অভাবে যে কেবল খাদিজাদের জীবনই বিষিয়ে ওঠেছে, তা-ই নয়, ধানচাষসহ কৃষিকাজেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।
পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে অনেকে তো ঢাকামুখী রাস্তা ধরেছে। অনেকের মতো খাদিজার স্বামী হাবিবুর রহমানও শেষ পর্যন্ত রাজধানী শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি কখনো পোশাক কারখানা, কখনো রিকশা চালানো, কখনো নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। যা আয় হয়, তার একটি অংশ তিনি পাঠান খাদিজার কাছে।
প্রায় দুই দশক আগে ১৫ বছর বয়সে হাবিবুর ঢাকায় এসেছিলেন। তখনো তিনি কচুখালিতে কর্মসংস্থান করতে পারেননি।
কাজ না থাকায় হাবিবুরদের মতো আরো অনেক তরুণ শহরে পাড়ি দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় চার লাখ লোক ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে। এ ধরনের ১৬০টি বাড়িতে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের ৬৬ ভাগ ঢাকা এসেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সঙ্কটের কারণে।
আর খাদিজাদের মতো যারা থেকে গেছেন, তারা পানির কষ্ট ছাড়াও নানা ধরনের দুর্ভোগে আছেন। স্কুল, চিকিৎসা ইত্যাদি সমস্যা তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। শিশুরা পর্যন্ত নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছে। এই খাদিজার ৫ বছরে ছেলে মুত্তাকিন আমির প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রমণ করে তাকে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপকূল একটি ‘ফ্রন্ট লাইন।’ ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে যে কোটি কোটি লোক উদ্বাস্তু হবে, তাদের একটি অংশ হবে বাংলাদেশে।
এই সমস্যার সমাধান কী? বাংলাদেশ সরকার মনে করে না যে, ঘরবাড়ি ছেড়ে গেলেই সমাধান পাওয়া যাবে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুল কাদির বলেন, এসব মানুষ খুবই সংগ্রামী। তারা এখানে জন্মগ্রহণ করেছে, এখানেই বেড়ে ওঠেছে। তারা জানে কিভাবে বাঁচতে হয়। তারা অন্য কোথায় যেতে চায় না। যখন আর কোনো উপায় থাকে না, তখনই কেবল চলে যায়।
তিনি জানান, সরকার এখন চাচ্ছে তারা যেন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, তার ব্যবস্থা করা। সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে। সাগরের পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে, বৃষ্টির পানি যাতে ধরে রাখা যায় সে চেষ্টা চলছে। তাছাড়া ড্রেনেজব্যবস্থা ভালো করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে লবণাক্ত পানি পুকুরে না জমে।
তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সাময়িকভাবে কাজে লাগলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে অকার্যকর।

মধ্য আফ্রিকায় নিখোঁজ কম্বোডিয়ান ৩ শান্তিরক্ষীর লাশ উদ্ধার

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিখোঁজ তিন সদস্যের লাশ পাওয়া গেছে। এই নিয়ে দেশটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় কম্বোডিয়ার চার সৈন্য প্রাণ হারাল। বুধবার কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র একথা জানান। খবর সিনহুয়া’র। কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শুম সোচেয়াত বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সোমবারের হামলার পর নিখোঁজ তিন কম্পোডিয়ান সৈন্যের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে লাশগুলো পাওয়া যায়।’ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর আট সদস্য আহত হয়েছে। এদের একজন কম্বোডিয়ান ও সাত জন মরক্কোর সৈন্য। এই ঘটনায় এখনও মরক্কোর আরো এক সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে।

ফিজির দিকে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন এলা

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাইক্লোন এলা বৃহস্পতিবার থেকে ফিজির দিকে অগ্রসর হয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রটির আরো কাছে চলে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস একথা জানিয়েছে। এক ক্যাটাগরির সাইক্লোনটির কেন্দ্র ফিজির তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ভানুয়াবালাভু থেকে ৬১৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে অবস্থান করছে।
খবর সিনহুয়া’র। ফিজির আবহাওয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ পূর্বাভাসকারী স্টিভেন মেকে বুধবার বলেছেন, সাইক্লোনের প্রভাবে বুধবার থেকে ফিজিতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সাইক্লোনটি হোঙ্গার বাইরে অবস্থান করছে।

ভারতীয় বাহিনীর ওপর আবার হামলা, নিহত ২

ভারতের আসাম রাজ্যে সেনাবাহিনী-পুলিশ ও এসএসবির যৌথবাহিনীর সাথে বিচ্ছিন্নতাকামী এনডিএফবির সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে। নিহতদের একজন এসএসবি সাব ইন্সপেক্টর। অপর একজন হামলাকারী। আসামের চিরাং জেলার মানস জাতীয় উদ্যানের অন্তর্গত কুকলুং রেঞ্জের ঘন জঙ্গলে এই সঙ্ঘর্ষ হয়। একজন এনডিএফবি নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
আহত সদস্যর নাম সৌম্য দে বলে জানা গিয়েছে। নিহত হামলাকারীকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ইনসাস রাইফেল উদ্ধার করে। পুলিশের কাছে খবর ছিল, ওই এলাকায় এনডিএফবির মোস্ট ওয়ান্টেড নেতা জি বিদায়ি ঘাঁটি গেড়েছে। সেই খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনী এবং এসএসবির যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির লড়াই চলে। সূত্র : এই সময়

কক্সবাজার রুটে বোয়িং চলবে বৃহস্পতি ও শনিবার

কক্সবাজার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের ফ্লাইট সপ্তাহে দু’দিন প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার চলাচল করবে। আগামী ১৮ মে থেকে বোয়িং বিমান চলাচল শুরু হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বোয়িং ফ্লাইট পরিচালনার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আজ বাংলাদেশ বিমানের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ কথা জানা গেছে। ভ্রমণ পিপাসুদের অবকাশ যাপনে সুবিধা বিবেচনায় এ রুটে প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার বোয়িং ফ্লাইট চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাশে বিমান। ত্ইা গ্রীষ্মকালীন সময়সূচির আওতায় ১৮ মে থেকে প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইট। কক্সবাজারে পৌঁছবে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিজি-৪৩৪ ছেড়ে আসবে বৃহস্পতিবার ও শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট এবং ঢাকায় এসে পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে।
এ রুটে সকল প্রকার ট্যাক্সসহ ওয়ান ওয়ে সর্বনি¤œ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ইকোনোমি ক্লাসে চার হাজার টাকা এবং বিজনেস ক্লাসে নয় হাজার টাকা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, যারা সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন কক্সবাজারে কাটাতে চান তাদের কাছে বিমানের এই সময়সূচি হবে খুবই আকর্ষণীয়। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্প বিকাশে বর্তমান সরকার কক্সবাজারকে নিয়ে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেটিকে আরও সার্থক ও গতিশীল করতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিমান বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে। শাকিল মেরাজ জানান, কক্সবাজার রুটে বিমান সপ্তাহে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এ রুটে সপ্তাহে দুই দিন বোয়িং ফ্লাইট অপারেট করার পাশাপাশি বাকি পাঁচ দিন ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দ্বারা ফ্লাইট অপারেট করা হবে। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের ২৫ মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। কক্সবাজারকে পর্যটনের লীলাভূমি বানাতে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করবে। সূত্র : বাসস

ছাত্রলীগের দাবির মুখে রমেকের এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত

পাশ না করে দিলে ছাত্রলীগ নেতাদের আত্মাহুতির হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের ঘটনায় অবশেষে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আনোয়ার হাবিব স্বাক্ষরিত এক পত্রে মঙ্গলবার রাতে এক চিঠি দিয়ে ফলাফল স্থগিতের এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. নুর নবী লাইজু। তিনি বলেন, এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে কোনো কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং নামের মধ্যে মিল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ৪১ তম ব্যাচে এমবিবিএস পরীক্ষায় মোট ২১২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে ১৫৪ জন পাশ করেছে। ১৩৪৭ সিরিয়ালটির নাম ভুল হয়ে ১৩৪৮ এর নাম চলে এসেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম গৌরাঙ্গচন্দ্র সাহা। তিনি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এই ফলাফলে তিনিসহ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ পারভেজসহ বাকীরাও সবাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা সবাই ফেল করেছেন। কিন্তু নাম ভুলের বিষয়টিকে সামনে এনে ছাত্রলীগ ওই ফলাফল বাতিল করে মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের পাশ করিয়ে না দিলে আত্মাহুতিরও হুমকি দেয় তারা। এরই প্রেক্ষিতে ওই ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করলো কর্তৃপক্ষ। ফলাফল স্থগিত করায় ছাত্রলীগ শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে। বিষয়টিকে মন্দ চোখে দেখছেন অনেকেই। কলেজের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের একটি অনৈতিক দাবির মুখে ফলাফল স্থগিত করার মাধ্যমে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেই প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে। এখন থেকে এই রেওয়াজ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে পড়বে। তারা আরও বলেন, ছাত্রনেতাদের মৌখিক পরীক্ষায় ছাড় দেওয়া হয় কিন্তু লিখিত পরীক্ষা ভালো না দিলে পাস করানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিএমএ কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি কলেজে গিয়ে আন্দোলকারী ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
কতিপয় পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ও নামের মধ্যে মিল ছিল না এটা ঠিক। তারপরেও আমি তাদের বলেছি ৬ মাস পর আবারও পরীক্ষা দেওয়া যাবে। তাই তাদেরকে ভালো করে লেখাপড়া করতে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি মনে করেন পাশের আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে। ছাত্রলীগ সেক্রেটারী গৌরাঙ্গ সাহা জানান, মোট ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলাম। প্রথমে সবাইকে পাশ দেখানো হয়েছে। আমরা বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করেছি। কিন্তু এখন দেখানো হচ্ছে আমাদের ৫৮ জন ফেল। এই ফলাফল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজের যোগসাজসে আমাদেরকে ফেল দেখানো হয়েছে। ফলাফল স্থগিত করায় আমাদের দাবির প্রাথমিকভাবে পূর্ণ হয়েছে। এখন ফলাফল সংশোধন করে প্রকাশ করা হোক। এজন্য আমরা শুক্রবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি। আমাদের দাবি না মানা না হলে পেট্রোল ঢেলে আমরা সবাই আত্মহুতি দিবো। এ ব্যপারে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার জানান, মোট ২১২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে ১৫৪ জন পাশ করেছে। ১৩৪৭ সিরিয়ালটির নাম ভুল হয়ে ১৩৪৮ এর নাম চলে এসেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম গৌরাঙ্গচন্দ্র সাহা। আসলে সে ফেল করেছে। এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফলাফল স্থগিত করেছে। দেখি তারা কি করে।

টেস্ট থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন আমির

ওয়ানডে ও টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটে গুরুত্ব দেবার তাগিদে টেস্ট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের তারকা বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তান গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বার্বাডোজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর ইতোমধ্যেই আমির এই সংক্রান্ত বিষয়ে সতীর্থ ও দলীয় ব্যবস্থাপনার সাথে আলোচনা করেছেন। একটি রিপোর্টে অবশ্য বলা হয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত এইসব আলোচনা কিভাবে সকলের সামনে আসলো এনিয়ে আমির বেশ হতাশা প্রকাশ করেছেন। সেখানে আরো বলা হয়েছে, এই ধরনের আলোচনা কিভাবে প্রকাশ পেল তা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও দলীয় ব্যবস্থাপনা তদন্ত শুরু করেছে। রিপোর্টের সূত্রমতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি টেস্টে ১১ উইকেট দখল করা আমির বিষয়টি নিয়ে সতীর্থ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বেশ স্পষ্টভাবেই আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করছেন টেস্ট ক্রিকেটে আরো বেশী শারিরীক ফিটনেস প্রয়োজন। এই মুহূর্তে তিনি ওয়ানডে ও টি২০তেই বেশী মনোযোগী হতে চান। ২৫ বছর বয়সী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ১১ উইকেট দখল করে নিজেকে বেশ ভালোই প্রমাণ করেছেন। কিন্তু সাবেক ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম মনে করেন বাঁহাতি এই পেসারের বোলিংয়ে আরো উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। স্পট ফিক্সিংয়ের কারনে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসে এ পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেললেও খুব একটা সাফল্য পাননি আমির। ওয়ানডে ও টি২০তে গুরুত্ব দেবার তাগিদে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শুধুমাত্র আমির টেস্ট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেননি। এর আগে ২০১০ সালে ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটের জন্য টেস্ট ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিয়েচিলেন পাকিস্তানী অল রাউন্ডার শহীদ আফ্রিদী।

পাকিস্তানে ভারতীয় গুপ্তচরের ফাঁসি কার্যকরে আন্তর্জাতিক আদালতের নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তানের সামরিক আদালত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত যে ভারতীয় নাগরিককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল, তার ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক আদালত। দ্য হেগ-এর ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সে ভারতীয় নাগরিক, কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে কূটনীতিকদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে ভারত আদালতের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। অন্য দেশে কোনো ব্যক্তি বন্দী হলে তার নিজের দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া এবং নিজের দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়াটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বীকৃত। ‘ভিয়েনা কনভেনশন’-এ স্বাক্ষরকারী প্রত্যেকটি দেশকে এই নিয়ম মেনে চলতে হয়। ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘিত হচ্ছে কী-না, তার বিচার করে জাতিসংঘের বিচারিক শাখা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আইসিজে। ভারত আইসিজে'র কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় কূটনীতিকরা মি. যাবদের সঙ্গে দেখা করার জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে অন্তত ১৫ বার আবেদন করা হয় যাতে তাকে আইনি সহায়তা দিতে পারেন।
কিন্তু প্রতিবারই সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। গ্রেফতার হওয়ার অনেক পরে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই খবর পাঠায় ইসলামাবাদ, সেটাও ভিয়েনা কনভেনশনের বিরোধী বলে অভিযোগ করা হয়েছিল আইসিজে'র কাছে। ভারত সরকার আরও অভিযোগ করে, মি. যাদব নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরে ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আটক করা হয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার বলেছে মি. যাদবকে সে দেশের বালুচিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইসিজে’র জারী করা বিবৃতিটিতে বলা হয়েছে, ভারতের অভিযোগের বিচার শেষ না হওয়া অবধি পাকিস্তান যেন কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি কার্যকর না করে। গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের একটি সামরিক আদালত অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর অফিসার মি. যাদবের ফাঁসির আদেশ দেয় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। তারপরেই ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ জানিয়েছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি। সূত্র: বিবিসি

এফবিআই ডিরেক্টর কোমেকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরখাস্ত করেছেন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমেকে৷ এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোমেকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হল নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হওয়া৷ ওয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, নতুন এফবিআই ডিরেক্টর খোঁজার কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে৷ মনে রাখার বিষয়, এই কোমেই তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছিল ২০১৬ সালে নির্বাচনে রাশিয়ার অনধিকার চর্চার বিষয়ে এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার ও রাশিয়ার মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে৷

হামাসের নতুন প্রধানকে অভিনন্দন জানালেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নতুন প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। ইসমাইল হানিয়াকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অভিনন্দন জানান জারিফ। একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি ইরানের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন। গত শনিবার হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা খালেদ মাশআলের জায়গায় নিযুক্ত হন ইসমাইল হানিয়া। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় হামাস।
পরে হামাস ও ফাতাহ আন্দোলনের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হামাসের নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেন। সেই থেকে হামাস গাজা উপত্যকায় শাসন পরিচালনা করে আসছে। গত ১ মে হামাস তার নীতি থেকে কিছুটা সরে গিয়ে ১৯৬৭ সালের সীমানা মেনে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে। তবে তাদের সশস্ত্র আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও ঘোষণা করেছে। এরপর গত শনিবার ইসমাইল হানিয়াকে হামাসের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

শপথ নিলেন দ. কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন মুন জে ইন। তিনি বুধবার সিউলের পার্লামেন্টে দেশটির ১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ নেয়ার পরই উত্তর কোরিয়া সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইকে ইমিপিচের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ফলে দেশটির আগাম নির্বাচন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার শরণার্থীর সন্তান মুন জে ইন ১৯৯০ সালে দেশটির সামরিক শাসক পার্ক চুং হির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। ফলে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট পার্কের বাবা ছিলেন চুং হি। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তিনি নমনীয় নীতি নিবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়ত ভালো হবে বলেই অনেকেই মনে করছেন।

আসামে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত বোর্ড তুলে দেয়ার পরিকল্পনা

রাজ্য থেকে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত শিক্ষা পরিচালন বোর্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতের আসাম রাজ্য সরকার। অাসাম বিধানসভায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্ম্মা জানিয়েছেন, ‘আমরা মাদ্রাসা ও সংস্কৃত শিক্ষাঙ্গনগুলোকে মূল ধারার আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আনতে চাই। তাই ওই বোর্ডগুলি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, মাদ্রাসাগুলোকে আসাম বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের আওতায় আনা হবে এবং সংস্কৃত টোলগুলোকে পাঠানো হতে পারে কুমার ভাস্কর ভার্মা সংস্কৃত অ্যান্ড অ্যানসিয়েন্ট স্টাডিস ইউনিভার্সিটির অধীনে।শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পঞ্চম শ্রেণী থেকে সবকটি স্কুলে বাধ্যতামূলক করা হবে পরীক্ষা। উল্লেখ্য, অাসামে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয় না। সূত্র: জি নিউজ

মার্কিন পরমাণু বর্জ্য মজুদ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ ধসে পড়েছে : জরুরি অবস্থা জারি

মার্কিন অঙ্গরাজ্য ওয়াশিংটনের পরমাণু বর্জ্য মজুদ করার একটি সুড়ঙ্গের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বোঝাই ট্রেনের অনেক বগি রয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলেছে, গতকাল ভোরের দুর্ঘটনার পর হ্যানফোর্ড নিউক্লিয়ার রিজার্ভেশনের শত শত কর্মীকে সরিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া, দূরবর্তী কর্মীদেরকে ঘরের ভেতর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, মার্কিন জ্বালানি দফতর বলেছে, ওই এলাকায় জরুরি তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পরিবেশ বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোনো আভাষ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, দুর্ঘটনার সময়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে কোনো কর্মী ছিলেন না। বিশাল এলাকা জুড়ে স্থাপিত হ্যান্ডফোর্ড কেন্দ্রে বহু দশক ধরে পরমাণু বোমায় ব্যবহার উপযোগী প্লুটোনিয়াম তৈরি করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে এখানে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে এটি পরমাণু বর্জ্য জমা করার সর্ববৃহৎ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রে পাঁচ কোটি ৬০ লক্ষ্য গ্যালন পরমাণু বর্জ্য রয়েছে। এ সব বর্জ্যকে তেজস্ক্রিয়তা মুক্ত করতে হবে। এখানে তেজস্ক্রিয়তা মুক্ত করার কর্মসূচি ১৯৮৯ সালে গ্রহণ করা হয়।

কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা অফিসারের বুলেটবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতীয় এক সেনা অফিসারের বুলেটবিদ্ধ লাশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান থেকে উদ্ধার করা হয় ওই সেনা অফিসারের লাশ। লাশ শনাক্তকরণের পর দেখা গেছে সেটি লেফটেন্যান্ট উমর ফৈয়াজের। দেশটির একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধায় উমরকে অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘উমর কিছুদিন আগেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। গতকাল তিনি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।’ জানা গেছে, মাস পাঁচেক আগেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন উমর। তিনি গত কয়েকদিন ছুটিতে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি কুলগামে এক আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। বুধবার সকালে তার মাথায় ও পেটে বুলেটবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

পরীক্ষার্থীকে অন্তর্বাস খুলতে বলায় ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

ভারতে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার দিন ‘অ্যান্টি চিটিং ড্রেস কোডে’র কথা বলে পরীক্ষা হলে ঢোকার আগে এনইইটি পরীক্ষার্থী ১৭ বছরেরে এক কিশোরীকে অন্তর্বাস খুলতে বলার ঘটনায় কেরলের চার স্কুলশিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।  রোববার হওয়া ওই পরীক্ষায় প্রায় ১১ লাখ ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছিল। কান্নুর জেলার একটি কলেজে রবিবার পরীক্ষার সিট পড়েছিল ওই ছাত্রীর। পরে কয়েকজন সাংবাদিককে খবর দিয়ে পরীক্ষার হলের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি জানান যে যখন হলে ঢুকতে যাচ্ছিলেন, তখন মেটাল ডিটেক্টরে ধরা পড়ে যে তার শরীরে কোনো ধাতব জিনিস রয়েছে। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের তদারককারী কর্মীকে জানান যে, ওটা তার অন্তর্বাসের সঙ্গে থাকা ধাতব ক্লিপ। তখনই তাকে অন্তর্বাস খুলে ফেলে ভেতরে যেতে বলা হয় বলে ওই ছাত্রীর অভিযোগ। সামনে কোনো টয়লেট না থাকায় এক নারীকর্মীর সামনেই তিনি তাড়াতাড়ি অন্তর্বাস খুলে নেন।কানের দুল বা অন্য কোনও গয়না, পোশাকে বড় মাপের ধাতব বোতাম, পেন-পেন্সিল, জুতো, গাঢ় রঙের পোশাক, ফুল হাতা জামা - এসব ওই পরীক্ষার হলে নিষিদ্ধ। বিগত বছরগুলোতে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যাপক হারে নকলবাজীর ঘটনার পর থেকে গত দুবছর এই নিষেধাজ্ঞা চালু হয়েছে। আর ওই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে এবছর সারা দেশ থেকেই অনেক অভিযোগ এসেছে। কাউকে ফুলহাতা জামা কেটে হাফ হাতা করে নিতে হয়েছে, কাউকে জুতো খুলে অভিভাবকের চপ্পল পায়ে দিয়ে যেতে হয়েছে।

মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলের কৃষকদের কলাচাষে অভাব জয়

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন কলাবাগান। ফি বছর নদী ভাঙন আর ফসলহানী ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। বালু মাটিতে বাদাম, গম, কালাই ছাড়া লাভজনক ফসলাদী কল্পনা করতে পারতো না তারা। তাই চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষকেই তাড়িয়ে বেড়াতো অভাব। সেই বালুমাটিতে ফসল ঘাটতি পূরণ করে রীতিমতো ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন এখানকার কৃষকরা। সুতালড়ী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক সাইদ (৫৫)। দশ বছর বিদেশ থেকে দেশের মাটির টানে ফিরে এসে দীর্ঘদিন বেকার ছিলের। তখন তার মাথায় আসে সৌদি আরবে পাথর ও বালুর মাটির মধ্যে সফলভাবে বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়, আর বাংলাদেশের মাটি তো সোনার চেয়ে খাটি। ইচ্ছা করলেই যে কোন ফসল চাষ করা যাবে। তাই তিনি কোনো চাকরি কিংবা ব্যবসার পেছনে না ঘুরে কলা চাষের কাজে মনোনিবেশ করেন। পদ্মার চরের ৫০ শতক জমিতে শুরু করেন কলা বাগান। প্রথমে শ’খানেক স্থানীয় জাতের সবরি কলার চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন তিনি। তাতে ভালো ফলন পান। উৎসাহিত হয়ে তিনি কলার বাগানকে সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৫০০টি সবরি ও কবরি দুটি জাতের কলার চারা রোপণ করেন তিনি। কিন্তু রোগ ও বন্যার পানির কারণে তেমন লাভবান হতে পারেননি।
তবে হাল ছাড়ার পাত্র নন কৃষক কৃষক সাইদ। তিনি ২০১৬ সালে আবার এক হাজার কলার চারা রোপণ করেন। এবার তিনি সফলতা লাভ করেন। চলতি বছরে তিনি কলা বাগানে ৫ বিঘা (৩৩ শতক ১ বিঘা) জমিতে দুই সহ¯্রাধীক স্থানীয় জাতের সবরি, কবরি, মদনা, জাতি কলার রোপণ করেন। বালু চরে এখন সবুজ কলাবাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। তার দেখাদেখি চরাঞ্চলের অন্য কৃষকরাও কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চরাঞ্চলে বিশেষ করে হালুয়াঘাট, মেহেন্দেীপুর, নটাখোলা, হরিহরদিয়া চরে প্রায় ৬০০ একর পতিত জমি রয়েছে। এসব পতিত জমিতে এলাকার কৃষকরা তাই কলা চাষের উদ্যোগ নেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক সাইদ বলেন, ‘আমার কলাচাষ দেখে এলাকার অনেক কৃষক আমার কাছ থেকে কলা চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘১০০ কলা গাছ চাষ করতে কলা বিক্রি পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। কলা বিক্রি থেকে আয় হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আগে আমি অন্যেও কাজ করতাম আর এখন আমার কলা বাগানে ৮/১০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন।’ ইতোমধ্যে বসন্তপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেন, পাটগ্রাম চরের মো: শহিদুল, হরিহরদিয়া গ্রামের রাসেল এবং নটাখোলা গ্রামের ফয়সাল, লিটন, রবিউল এসব ছাত্র ও যুবক কলাচাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নটাখোলা গ্রামের যুবক ফয়সাল হোসেন ৭ বিঘা জমিতে দুই সহস্রাধিক স্থানীয় জাতের কলা চাষ করেছেন। চাষীরা কলার চারা ঝিটকা, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। ক্রয় থেকে শুরু করে পরিবহন খরচসহ চারাপ্রতি মূল্য খরচ পড়ে ১৫-২০ টাকা। কলা চাষ সম্পর্কে চরাঞ্চলের কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার জন্য স্থানীয় কৃষি অফিস, বেসরকারী কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকসহ বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে। কলাচাষীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, আলোচনা সভা,
অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। এই প্রসঙ্গে নটাখোলা গ্রামের যুবক কৃষক ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘কলাচাষে আমাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে আমাদের অভিজ্ঞ কৃষকের কাছে যেতে হয়। কলাচাষের বিষয়ে আমরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চাই।’ হরিহরদিয়া গ্রামের কলাচাষী রাসেল বলেন, অর্থ সংকটের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু করতে পারছি না। স্বল্প সুদে সরকারি বেসরকারি যে কোনো ব্যাংক, বীমা, এনজিও বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেলে আমার কৃষি খামার প্রসারিত করতে পারবো। বেসরকারী কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বারসিকের হরিরামপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন সাহা জানান, কৃষকরা কলা বাগানের সাথে সাথী ফসল হিসেবে করলা, ঝিংগা, শশা, মিষ্টি কুমড়া চাষ করছেন। অনেক কৃষক কলা বাগানের সাথে পেঁপের বাগানও করেছেন। এতে কৃষকরা দুইভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে অন্যান্য ফসলের মতো কলাচাষে নানান রোগ দেখা দেয়। এসব রোগ নিরাময়ে স্থানীয় কৃষি অফিস এবং বারসিকের মাঠকর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছেন। মানিকগঞ্জ জেলা উপসহকারী কৃিষ কর্মকর্তা গুরুদাস সরকার জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে দেশীয় সবরি, সাগর ও আনাজ কলার চাষ করেছেন কয়েক হাজার কৃষক। তিনি আরো জানান, চরাঞ্চলের বালু মাচিতে সাধারণত তেমন লাভজনক ফসলাদী হয় না। তাই এখানকার কৃষকরা অল্প খরচে অধিক আয়ের কারনেই দিন দিন কলা চাষের দিকে ঝুঁকছে।

ময়মনসিংহে ইমামকে হত্যাচেষ্টায় আসামি ৩ জন

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ইমাম মোস্তাফিজুর রহমানকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান জানান, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হাজারী আল মুনির মঙ্গলবার রাতে এই মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সময় জনতার হাতে আটক আব্দুল আহাদ মোহাম্মদ উল্লাহ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উপজেলার কানপুর গাংপাড়া গ্রামের আহমদিয়া মসজিদের ইমাম মোস্তাফিজুরকে সোমবার রাতে কুপিয়ে জখম করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোমবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে আহাদকে আটকের পর মারধর করে পুলিশে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা। আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা মজনুর জীবন

১০ বছর ধরে মানষিক প্রতিবন্ধী মজনুকে (২১) শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধি না হলেও মাথায় আঘাত পেয়ে মস্তিক বিকৃতি হওয়ায় তার এ করুণ অবস্থা। এদিকে হতদরিদ্র বাবা-মা ঝাঁড়-ফুক ছাড়া অর্থভাবে মজনুকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি। তারা উন্নত চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন করেছেন। মজনু সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সরাতৈল গ্রামের দিনমুজুর সুলতান শেখের ছেলে। সরেজমিনে জানা যায়, সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়া মজনু ছোটবেলায় সারাক্ষণ হাঁসি খুশি দিন কাটাতেন। পরিবারের সবার প্রিয় ছিল সে। কিন্তু হঠাৎ করে এক বছর বয়সে তার মাথায় সামান্য একটু আঘাত লাগে। তখন দিনমুজুর বাবা-মা গ্রামের কবিরাজী ওষুধ ও ঝাঁড়-ফুক দিয়ে সুস্থতার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু বহুদিন পেড়িয়ে গেলেও সুস্থ না হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মজনু। অভাবের সংসারে দিনমুজুর বাবা সুলতান অর্থের অভাবে প্রিয় সন্তানকে আর উন্নত চিকিৎসা দিতে পারেনি। তখন থেকে বস্ত্রহীন হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বেড়ায়, পানিতে পড়ে থাকে, ছোট ছেলে-মেয়েদের মারধর করে এবং কুকুরসহ গরু-ছাগলের মুখে হাত দিয়ে খেলা করে। এজন্য প্রায় ১০ বছর ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে খোলা একটি ছাপড়া ঘরের মাটির মেঝেতে ময়লা ছেড়া কাঁথা দিয়ে রেখেছে তার পরিবার। তার নিকট কেউ যেতে চায় না। পাশ দিয়ে যাবার সময় পাগল বলে হাসি-তামাশা করেন সবাই। মানসিক প্রতিবন্ধী মজনুর মা মমতা বেগম জানান,
‘শ্বশুরের কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি পেয়েছি। তার উপর একটা দোচালা ঘর তুলে বসবাস করছি। দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ভাই-বোনের মধ্যে মজনু তৃতীয়। আমরা সারাদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলে। টাকা-পয়সা না থাকার কারণে বড় কোনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারিনি। ভালো কোনো খাবার কিংবা পোশাক কিনে দিতে পারিনি কোনোদিন। স্থানীয় একাধিক কবিরাজ ও ওঁঝা দিয়ে ঝাঁড়ফুক দিয়েছি, তাতে কোনো উপকার হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের খুটির সাথে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি মা হয়ে ছেলেকে বেঁধে রাখা কত যে যন্ত্রণার তা শুধু আমি আর আল্লাহই জানে।’ তিনি আরো বলেন, যাদি ছেড়ে দেই তাহলে বহুদূর হারিয়ে যাবে। অথবা কারও ক্ষতি করতে পারে এই ভয়ে এবং লোকজনের মারধরের হাত থেকে রক্ষায় তাকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে ১০ বছর ধরে। আগে একটু ভালো ছিলো এখন সাথে কাপড়ও রাখতে চায় না। আমার ছেলেকে সুস্থ করতে দেশের বিত্তবান ও মানব দরদীদের নিকট সাহায্যের আবেদন করছি। এদিকে প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিবন্ধী যুবক মজনুকে অনেক কষ্ট করে জীবন কাটাতে হচ্ছে। দিনমুজুর বাবা অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। উন্নত চিকিৎসা দিলে যুবক মজনু ভালো হয়ে যাবে। এলাকা থেকে আমরা সাধ্যমতো সাহায্য করব, সেই সাথে দেশের হৃদয়বানদের নিকট মজনুর জীবনে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা কামনা করছি।

সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিএনপির ত্রাণ বিতরণ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সেখানকার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ত্রাণ বিতরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী। আরো ছিলেন সিলেট বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন,
বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমসহ সুনামগঞ্জ ও দিরাই উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল, তেল সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রসঙ্গত, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতিমধ্যে বিএনপির একাধিক প্রতিনিধি দল ত্রাণ বিতরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

ট্রেনের ধাক্কায় আকিজের ২ শ্রমিক নিহত

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ট্রেনের ইঞ্জিন আকিজ জুট মিলের শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসে ধাক্কা দিলে দুই শ্রমিক নিহত হন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩০ জন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার তালতলা রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খুলনা ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের নূরজাহান ও কদ বানু।

শিথিল আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড

আওয়ামী লীগের তৃণমূল বেসামাল হয়ে পড়েছে। সঙ্ঘাত, মারামারি, সংঘর্ষ ও খুনোখুনি লেগেই আছে তৃণমূলে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না হাইকমান্ড, বরং এতে দলের চেইন অব কমান্ড ক্রমেই শিথিল হয়ে পড়ছে। ঢাকায় ডেকে এনে অনুনয়-বিনয় কিংবা ধমক দিয়েও তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাগে আনতে পারছে না দলটি। সোমবারও নরসিংদীর রায়পুরায় প্রতিপক্ষের হাতে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ওই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী নিহত হন। এতে গত এক মাসে ক্ষমতাসীন এই দলের ১০ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক নেতার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের শ্রীপুরে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রেরÑ আসকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হয়েছে ৩৫টি। ওই সংঘর্ষে ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫৭৬ জন। আওয়ামী লীগ-যুবলীগের মধ্যে একটি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তিনটি। এতে আহত হয়েছেন ৩১ জন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত তিন মাসে সারা দেশে চারটি সংঘর্ষে দু’জন নেতাকর্মীকে হারিয়েছে ছাত্রলীগ। গত ২০১৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতে দেশে ১৭৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগেরই ৮৩ জন। আর ২০১৫ সালে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতে প্রাণহানি হয়েছে ১৫৩ জনের। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মধ্যে সঙ্ঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৩ জন।
২০১৪ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪৭। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৪ জন। সূত্রে জানা গেছে, সোমবার নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঁশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হক এবং সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজনগর গ্রামের জয়নাল মিয়া ও সোবহানপুর গ্রামের আরশ আলী নিহত হন। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল একই এলাকায় উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দু’জন নিহত হন। সোমবার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। একই দিনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে কিশোর মজিবুর রহমান জাবু নিহত হয়। সে পালংখালী উচ্চবিদ্যালয় স্কুল কমিটি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। একই দিন রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিজ বাড়ির সামনে করেরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি গোলাম মোস্তফার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। গত ৭ মে পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা গ্রামে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন সাকিব হাওলাদার। গত ২ মে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ৩০ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথায় আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাসান খান সোহাগের বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এতে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন প্রবাসী জিয়াউর রহমান জিয়া। ১৮ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ এবং আলাউদ্দিন আনিস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও সাইদুর নিহত হন। একই দিনে ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ১৬ এপ্রিল শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এর আগে গত বছর ২০ জুলাই শরীয়তপুরের নড়িয়ার জবসা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শওকত আলীর সমর্থকেরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে রক্তয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত হন আরো ২০ জন। এর আগের রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধের জের ধরে বড়মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাইয়ুম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপরে নেতাকর্মীরা। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে সিট ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এর আগে ১০ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ সিকদার এবং সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হোসেন খাঁ নিহত হন। গত ৩ জানুয়ারি বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চালায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর আগের দিন কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইয়াবার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত হন এক প্রবীণ শিক্ষক। নতুন বছরের শুরুতেই গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে ল্য করে প্রতিপক্ষ গুলি করলে ল্যভ্রষ্ট হয়ে এক পথচারী নারী নিহত হন। এ ঘটনায় জেড এ মাহমুদ অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে ৩১ জুলাই খুলনায় ছাত্রলীগ নেতা সৈকতকে খুন করে প্রতিপরে নেতাকর্মীরা। এ দিকে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে আনুষ্ঠানিকভাবে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও নীলফামারীর নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিটি বৈঠকে তিনি কোন্দল নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের তাগিদ দেন। এ ছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদের ডেকে এনে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এত বড় দলের তৃণমূল পর্যায়ে ছোটখাটো কিছু মতদ্বৈধতা থাকতেই পারে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু টানা দুইবার ক্ষমতায় আছে, সেহেতু আমাদের দলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অনুপ্রবেশ করেছে বলে আমরা মনে করি। ওই মহলই এসব কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এখন এক ধরনের সুবিধাবাদিতা কাজ করছে। সিনিয়রদের পাশাপাশি জুনিয়ররাও আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, আর্থিক সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর ভাগ বসাতে চায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে। নেতাকর্মীরা ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষ ও মারামারি করছে। প্রকৃতপক্ষে ধীরে ধীরে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাচ্ছে। বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক গোলাম মওলা রনি বলেন, এটা সুযোগসন্ধানীদের কাজ। যারা এসব করছে তারা হলো দলীয় সুবিধাভোগী অথবা সুবিধা ভোগপ্রত্যাশী। কেউ ভোগ করছে। আবার এসব ভোগ প্রত্যাশীরা ভাগ বসাতে গিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

রাজধানীতে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে দগ্ধ ২

রাজধানীর বড় মগবাজার বাজার রেলগেট এলাকার একটি বাসার পাশে বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে দুই ভাই দগ্ধ হয়েছে। এরা হলো, সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি (১২) ও সাবিদ হোসেন আবির (৭)। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ বিস্ফোরণ হয়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ দুই ভাইয়ের চাচা সিদ্দিক মিয়া জানান, তারা রেলগেট সংলগ্ন ৬০২/৬ নম্বর ছয়তলা বাসার চতুর্থ তলায় থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই ভাই বারান্দায় খেলছিল। হঠাৎ বাসার পাশের বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে তারা দগ্ধ হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাতক্ষীরায় ২০ দশমিক ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাইজদীকোর্ট ও খুলনায় ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ১০-১৫ কি.মি. যা অস্থায়ীভাবে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়ায় ঘন্টায় ৩০-৪০ কি.মি. পর্যন্ত। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯০%। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে। আগামী ৭২ ঘন্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

জাকার্তার সেই খ্রিস্টান গভর্নরের কারাদণ্ড

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার সাবেক গভর্নর বাসুকি জাহাজা পুরনামার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেয়া ও কোরআন অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ব্লাসফেমি আইনের আওতায় ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে চীনা বংশোদ্ভূত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এ রাজনীতিককে। অশোক নামে পরিচিত বিদায়ী এ গভর্নরের বিরুদ্ধে গত বছর নির্বাচনী প্রচারণায় কোরআনের বাণী নিয়ে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আপিল করার পরিকল্পনার কথা জানান পুরনামা। খবর বিবিসির। পুরনামার বিরুদ্ধে এ অভিযোগে তার সাজা দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম নেতারা। পরে সেই আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননার দায়ে ব্লাসফেমি আইনে মামলা করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ মামলা এগিয়ে নেয়ার আদেশ দেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জার্কাতার প্রথম খ্রিস্টান গভর্নর পুরনামার বিরুদ্ধে ২ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে পুরনামার পক্ষের প্রতিবাদকারী ও তার বিরোধীরা জাকার্তায় সর্বোচ্চ আদালতের বাইরে জড়ো হয়। একপক্ষ তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার ও অপরপক্ষ তাকে লম্বা সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেয়ার দাবি জানাচ্ছিল।
অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারা তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। সাঁজোয়া যান নিয়ে দাঙ্গা পুলিশ দুইপক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে তাদের আলাদা করে রেখেছিল। রায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছে দেশটির সরকার। জোরদার করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্ট এলাকাসহ পুরো রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ। তবে আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরনামা। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর জাকার্তার ১৭তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন পুরনামা। চীনা বংশোদ্ভূত এ খ্রিস্টান রাজনীতিক শুরুতে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু ধর্ম অবমাননার অভিযোগের জেরে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে। এ কারণে সাম্প্রতিক গভর্নর নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে মুসলিম প্রার্থী আনিস বাস্বেদানের কাছে হেরে যান তিনি। আনিস এখনও দায়িত্ব নেননি।

উনের চেয়ে ট্রাম্পকে ভয় পান দ.কোরীয়রা

গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের উচ্চাশার জেরে বর্ধিষ্ণু আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হয়েছেন বামপন্থী প্রার্থী মুন জায়ে ইন। সাবেক মানবাধিকার আইনজীবী ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক সেনা কর্মকর্তা তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী মুনের সাবেক সহকর্মী আন চিএল সু। মুন জায়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও উষ্ণ করার কথা বলে আসছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রতি দক্ষিণের যে কঠোর অবস্থান তা নরম করতে এবং একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান মুন জায়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবসায় অংশীদার হচ্ছে চীন। পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির গতি আরও ত্বরান্বিত করেন। পরমাণু সক্ষমতা আরও বাড়াতে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। ফলে দক্ষিণের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড বা টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড ডিফেন্স মোতায়েন করে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের এক চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়। তবে এ চুক্তি বাতিল করতে চীনের পক্ষ থেকে অব্যাহত চাপের মুখে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এ ক্ষেত্রে মুন জায়ে ঠিক কী পদক্ষেপ নেবেন, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। অবশ্য নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বলেছেন, থাড মোতায়েন বাতিল করবেন তিনি।
তবে এ ক্ষেত্রে চীনের চাপ বাড়তে থাকলে তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন, চীন সিউলের ওপর ‘অতিরিক্ত চাপ’ প্রয়োগ করছে এবং একপর্যায়ে ঘোষণা দেন- দক্ষিণ কোরিয়ার থাড মোতায়েনের সিদ্ধান্তে চীনের নাক গলানোর দরকার নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থাডের বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থ দাবি করলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সিউলের পক্ষ থেকে বলা হয়, থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটনকে এক পয়সাও দেবে না। মুন জায়েও পার্ক জিউনের প্রশাসন ও মার্কিন কর্তাদের থাড মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। থাড ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনকালে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দক্ষিণ কোরীয়রা বর্তমানে কিম জনের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যাপারে বেশি শঙ্কিত। প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার হুমকি ধামকির ব্যাপারে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির নিরাপত্তার অজুহাতে তার জনগণের ওপর নিজের মতামত চাপিয়ে দিচ্ছেন। দেশটির ভোটাররা এ বিষয়টা বেশ অবগত। তাই তারা এমন একজনকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, যিনি মূলত এ সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতির দায়িত্ব নিতে পারেন। সিউলের অধিবাসী কিম জিউং সুক নামের একজন ভোটার বলেন, আমি এমন একজনকে ভোট দিয়েছি, যিনি আগামী পাঁচ বছর দেশ ও জাতির জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। তিনি মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মুন জায়ে ইনকে ভোট দিয়েছেন। কারণ তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং সম্ভবত দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাবেন।

বুদ্ধের বাণী আজও কত প্রাসঙ্গিক

আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। ২৫৬১ বুদ্ধাব্দ শুরু হল। দিনটি মানব বিশ্বের ইতিহাসে এক পরম পবিত্রতম তিথি। এ দিনেই মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয় খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে কপিলাবস্তুর নিকটবর্তী লুম্বিনী উদ্যানে। ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৮ অব্দে বুদ্ধত্ব লাভ করেন গয়ার বোধিবৃক্ষ মূলে। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারের পর ৮০ বছর বয়সে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন (খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৩ অব্দে) কুশিনগরের মল্ল রাজাদের শালবনে। বুদ্ধ জীবনের মহান এ তিনটি প্রধান ঘটনাই মানব বিশ্বের ইতিহাসে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ নামে অভিহিত। এদিন সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধরা এবং মানবতাবাদী দার্শনিক চিন্তাবিদরা বুদ্ধের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রমণ ও গৃহীরা শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞাচর্চা করেন। বিশ্বের বৌদ্ধরা এ দিনটি অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেন। আজ এ শুভ তিথিতে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানবগোষ্ঠীকে জানাই বুদ্ধ পূর্ণিমার মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহামানব বুদ্ধ ছিলেন অহিংস, ন্যায় ও সাম্যনীতির এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ। তার প্রতিটি বাণী ছিল অহিংস ও সাম্যনীতির পক্ষে। তার অনুশাসনও ছিল আত্মজয় ও আত্মপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাই তার ধর্মে কোনো অলৌকিকত্ব নেই, নেই কোনো ঈশ্বরস্তুতি কিংবা ভক্তিবাদ। আছে শুধু বুদ্ধি ও বিবেকশাণিত যুক্তি ও আত্মজিজ্ঞাসা। আছে নিজকে দেখার,
জানার ও বিচার করার পরম শিক্ষা। এটাই বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা। গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবকালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল রাজতান্ত্রিক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজতান্ত্রিক পরিবেশে বিভিন্ন পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। যেমন- একনায়কতন্ত্র, বংশগত রাজতন্ত্র, মনোনীত রাজতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র, গণতন্ত্র ইত্যাদি। বুদ্ধযুগে ভারতবর্ষের ১৬টি স্বতন্ত্র রাজ্যর পরিচয়ও পাওয়া যায়, যেখানে ওইসব রাজ্যে এসব শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। বুদ্ধ ছিলেন একজন রাজপুত্র। সেই সূত্রে পার্শ্ববর্তী সব রাষ্ট্রের শাসকদের মধ্যে তার অনেক কদর ছিল। বিশেষত ভারতবর্ষের রাজারা যখন আপন আপন রাজ্য বিস্তারের আশায় উন্মুখ, ঠিক তেমন এক সময়ে যুবরাজ সিদ্ধার্থ রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করলেন, ত্যাগ করলেন তার রাজ্যসুখ ও বিশাল সাম্রাজ্যও। ওই সময়ে রাজা, শ্রেষ্ঠী তথা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা কিংবা তাদের উত্তরসূরিরা যেখানে ধন-জন, মান ও রাজ্য বিস্তারে, এমনকি ভোগ-বিলাসে মত্ত- সে সময় রাজকুমারের গৃহত্যাগ সত্যিই এক অভাবনীয় ঘটনা। বিশেষ করে জাত-পাত এবং বর্ণবৈষম্যপূর্ণ সমাজে এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব ও অলৌকিক। বলতে গেলে সে সময়কার মানবতা ও মূল্যবোধহীন অসচেতন সমাজে রাজ্য ত্যাগ ছিল এক অকল্পনীয় ঘটনাও। তাই রাজকুমারের সংসার ত্যাগের পরপরই সব রাজার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল রাজকুমার সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগের বার্তাটি। সে সময় ভারতবর্ষের রাজারা রাজকুমার সিদ্ধার্থের সংসার ত্যাগের কথা শুনে প্রথমে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকাল পর তিনি যখন বুদ্ধত্ব লাভ করে এসে ভারতবর্ষের আনাচে-কানাচে মানবতা ও সর্বজনীন সাম্য ও অহিংসার বাণী প্রচার করেন এবং আর্ত-পীড়িত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখনই রাজন্যবর্গের চৈতন্যে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হল। পরে তারাও বুদ্ধের প্রতি আকৃষ্ট হলেন। কিন্তু এক সময় আবার তারা বুদ্ধের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন- যখন বুদ্ধ সর্বশ্রেণীর মানুষের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন। এতে বুদ্ধ সামান্যও বিচলিত হননি। কারণ তার দর্শন ছিল মানুষের নিরঙ্কুশ অধিকার, সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ এবং সর্বপ্রাণীর নিরাপদ বিশ্ব সৃষ্টি করা। তিনি শ্রেণী চেতনায় যেমন আকৃষ্ট হননি, তেমনি প্রচলিত জাতিভেদ প্রথায়ও আবদ্ধ হননি। তার মতে কোনো মানুষেই জন্মের কারণে উঁচু-নীচু শ্রেণী বিভাজনে আবদ্ধ হতে পারেন না। মানুষের মর্যাদা চিহ্নিত হবে কর্মে ও যোগ্যতায়; জন্ম বা বংশ মর্যাদা দিয়ে নয়।
সে সময় এ ধরনের বাণী প্রচার করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। একমাত্র তার পক্ষেই সেটি সম্ভব হয়েছিল। ধর্ম প্রচারের প্রথম থেকেই তিনি এভাবে মানুষের মূল্যবোধকে জাগ্রত করার প্রচেষ্টায় নিবেদিত হলেন। বুদ্ধ বসলসূত্রে বলেছেন, ‘জন্মের দ্বারা কেউ ব্রাহ্মণ হয় না, কেউ অব্রাহ্মণও হয় না; কর্মের দ্বারাই ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ হয়।’ এ বাণীর মাধ্যমেই তিনি তার ধর্মানুরাগী শিষ্যদের কাছে সৃষ্টি করলেন স্বাধীন চিন্তা-চেতনার ভিত্তিভূমি। তিনি মানুষের নিজস্ব চিন্তা ও স্বাধীনতার দ্বার খুলে দিলেন সেদিনের কঠোর রুদ্ধদ্বার সমাজে। শুধু তাই নয়, এমনকি স্বাধীনভাবে নিজেকে উপলব্ধি করা এবং মুক্তচিত্তে তাদের স্ব স্ব মতপ্রকাশ করতেও মানুষকে উজ্জীবিত করলেন। আবার এটাও বলে দিলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা যেন স্বেচ্ছাচারিতায় পর্যবসিত না হয় এবং প্রত্যেক মানুষ যেন আপন বিবেকের বিবেচনায় নিয়ন্ত্রিত থাকে। বৌদ্ধ পরিভাষায় একেই বলা হয় ‘গৃহী বিনয়’। এ নীতিতে একজন সাধারণ মানুষ সমাজের যে কোনো জায়গায় যেমন সদস্য হতে পারবেন এবং সবার সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক রাখতে পারবেন; তেমনি পারবেন এর মাধ্যমে বেঁচে থাকার এক অপূর্ব জীবন শিক্ষাও। তিনি গৃহী বিনয়ের মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের, বিশেষ করে ক্ষমতাধর শাসক-প্রশাসক, রাজা, শ্রেষ্ঠী, ধনী, এমনকি রাজভৃত্য, রাজ দাস-দাসী ও রাজ কর্মচারীর জীবন কীভাবে পরিচালিত হতে পারে তাও উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, সর্বশ্রেণীর গৃহীর জন্য বুদ্ধ প্রবর্তন করেছেন পঞ্চশীল নীতি; যেখানে বলা আছে, প্রাণী হত্যা বা নিধন না করা, পরদ্রব্য অপহরণ বা চৌর্যবৃত্তি না করা, অবৈধ এবং কোনো ধরনের অসামাজিক যৌনাচারে লিপ্ত না থাকা, কোনো প্রকারের অসত্য ও মিথ্যা কথা বা বাক্য না বলা এবং যে কোনো নেশাপান থেকে বিরত থাকা। মঙ্গলসূত্রে তিনি আরও বলেছেন, অজ্ঞানী বা মূর্খ লোকের সংস্পর্শে না থাকা, জ্ঞানী বা পণ্ডিত লোকের সান্নিধ্যে থাকা এবং সম্মানীয় ও পূজনীয় ব্যক্তিদের পূজা করাই উত্তম মঙ্গল। একই সূত্রে তিনি অন্যত্র উল্লেখ করেছেন- গৌরবনীয় ব্যক্তির গৌরব করা,
তাদের প্রতি বিনয় প্রদর্শন করা, প্রাপ্ত বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকা, উপকারীর উপকার স্বীকার করা উত্তম মঙ্গল কর্ম। এ ছাড়া মাতা-পিতার সেবা করা, স্ত্রী-পুত্রের ভরণ-পোষণ ও উপকার করা, নিষ্পাপ ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা ইত্যাদি গৃহী জীবনের উত্তম কর্ম। আজ সমগ্র বিশ্বে সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি ও কল্যাণময় জীবনযাপনের প্রধান অন্তরায় বা বাধা হল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক ও বৈশ্বিক ত্রাস সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই চিন্তা করা উচিত মানুষ কেন সন্ত্রাসী হবে। এর জন্য কি শুধু অর্থনৈতিক অবস্থাই দায়ী, নাকি আমাদের চারিত্রিক অধঃপতনও। বর্তমান পত্রপত্রিকার দিকে দৃষ্টি দিলেই প্রথমে যা অনায়াসে ধরা পড়ে তা হল আমাদের চারিত্রিক অধঃপতনের কথা। সব শ্রেণীর মধ্যে এর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। নৈতিক ও মূল্যবোধের আজ এত অবক্ষয় যে তা পৃথিবীর সব স্তরকে দূষণ করে ফেলেছে। এজন্য সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের সব জায়গা যেন আজ কলুষিত ও ক্ষতবিক্ষত। তাই বুদ্ধ আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে সুস্থ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যক্তি চরিত্র শুদ্ধিতার প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তার এ শিক্ষার গুরুত্ব তদানীন্তন সমাজের ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। তখন বুদ্ধের এ শিক্ষা প্রাচীন ভারতবর্ষের জনজীবনের সব স্তরে বিস্তৃত হয়েছিল। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও সদিচ্ছা ছাড়া কখনই কারও একার পক্ষে সুন্দর, সুস্থ, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একমাত্র আত্মচরিত্র সংশোধন এবং সচেতনভাবে নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এটি সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই আশা করা যায় সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা।
আমাদের জাতীয় জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহে এবং আনুপূর্বিক বিচারে এ হতাশা জাগা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও মনে করি, শুভদিনের সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। মেঘের আবরণে সূর্যের আলো যেমন অন্ধকারেই ফিরে আসে, তেমনি ঘাত-প্রতিঘাত ও বাধা-বিপত্তির মধ্যেও আমাদের দীর্ঘ প্রত্যাশিত সেই শান্তি ও নিরাপদ আশ্রয় একদিন আসবেই। এর জন্য চাই প্রকৃত শিক্ষা, সুশিক্ষা, স্বশিক্ষা এবং প্রকৃত ধর্মবোধে জাগ্রত ও উদ্বুদ্ধ হওয়া। এতে জাতি, সম্প্রদায়, দেশ ও বিশ্ব উপকৃত হবে। এর জন্য প্রয়োজন দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য ও আত্মীয়তাবোধ। আরও প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্কতা, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক চেতনার উদ্বোধন এবং নাগরিকদের স্বাধীনতা ও যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সর্বোপরি ত্যাগে, উদারতায় ও মহত্ত্বে উন্নত জীবন এবং সব ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতামুক্ত সমাজ এবং বিশ্বজনীন শান্তি ও সুখময় জীবন। চলুন আজ আমরা সেই দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করি। সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু- জগতের সকল জীব সুখী হোক। বুদ্ধ পূর্ণিমা সফল হোক। বাংলাদেশ সমৃদ্ধময় হোক, বিশ্বে শান্তি বিরাজ করুক।
প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া : সাবেক চেয়ারম্যান, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন- বাংলাদেশ চ্যাপ্টার
skbaruadu@gmail.com

উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত গণতন্ত্র অপরিহার্য

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার আয়োজিত (আইজিসি) এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, তার একটি হচ্ছে সুষ্ঠু ও কার্যকর গণতন্ত্র। এ গণতন্ত্র মানে শুধু মেয়াদ শেষের নির্বাচন নয়, সব অধিকার সমুন্নত রাখা। তিনি বলেন, শুধু উন্নয়ন নয়, উন্নত গণতন্ত্রও অপরিহার্য। উন্নত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সহিংস জঙ্গিবাদ দমনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো দূর করার ওপরও জোর দেন তিনি (প্রথম আলো, ২৮ এপ্রিল)। এটা ঠিক, এসব বিষয়ে বিশ্বে বিরাজমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি তার বক্তব্য রেখেছেন, তবে বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন ক্যামেরন তার বক্তব্য রাখছিলেন, তখন এসব বিষয়ে বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিও যে তার মনের কোণে উঁকি দিচ্ছিল, তা অনেকটা জোর দিয়েই বলা যায়। রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নত গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সব মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা; যে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মসূচি পালনের পরিবেশ বজায় থাকা, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের পূর্ণ স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সুশাসন ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে অনেক গণতান্ত্রিক দেশে এর অনেক শর্তই অনুপস্থিত। যে দেশের এক মহান প্রেসিডেন্ট স্বল্প কথায় গণতন্ত্রের সর্বোৎকৃষ্ট সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন, সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উন্নত গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত সহঅবস্থানের নীতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে সেখানে ‘ইসলামী জঙ্গিবাদের’ ধোঁয়া তুলে মুসলমানদের নানাভাবে হয়রান করা হচ্ছে। ইউরোপের দেশে দেশে কর্মস্থলে মুসলমান মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের দাবিদার নেহেরু-ইন্দিরা গান্ধীর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে উঠেপড়ে লেগেছে ক্ষমতাসীন দল। মুসলমানদের তাদের ধর্মমত অনুসারে খাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গরুর মাংস খাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন মুসলমানকে ইতিমধ্যে জীবন দিতে হয়েছে। ভারতে মুসলমানদের মৃতদেহ কবর দেয়ার পরিবর্তে দাহ করার হুমকি দিয়েছেন শাসক দলের এক সংসদ সদস্য। মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে, তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোসহ তাদের জোরপূর্বক দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং হচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, মিয়ানমারে সামরিক জান্তার শাসনামলে শুরু হওয়া এসব অন্যায় অত্যাচারের কোনো প্রতিকার ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারও করছে না। ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছে। আর যারা মাটি কামড়ে পড়ে আছে, তারা ইসরাইলি বর্বরতার শিকার হয়ে সর্বদা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বসবাস করছে। এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন জনগণ দেখেছিলেন, তাদের সেই স্বপ্ন স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকেও পূরণ হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশ বাস্তব রূপ পরিগ্রহের পর তিন বছর পার হতে না হতেই আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের জায়গায় প্রতিষ্ঠা করে একদলীয় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রায় এক যুগ দু’জন সেনাপ্রধান পরপর সামরিক ও বেসামরিক পোশাকে দেশ শাসন করেন। সামরিক শক্তির প্রতাপের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে গণতন্ত্র। নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল হলে এবং চতুর্থ সংশোধনীতে হৃত গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেলে জনগণ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ব্যাপারে আশান্বিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। বড় দু’দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘাতমূলক রাজনীতির কারণে ১৯৯১-২০১৩ সময়কালে তাদের প্রায় পালাক্রমিক শাসনামলে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় গণপ্রত্যাশার কেন্দ্রস্থল জাতীয় সংসদ বহুলাংশে অকার্যকর থেকে যায়। জাতীয় সংসদের অকার্যকারিতা এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সহিংস রাজনীতি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটসহ নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে ২৮টি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানালেও সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অটল থাকে। প্রায় একদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করে আবার সরকার গঠন করে।
এটা অনস্বীকার্য, বিগত প্রায় সাড়ে আট বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে বেশ কয়েকটি বৃহৎ আকারের ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা এর আগের সরকারগুলোর কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প। তাছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, সড়কপথে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও দ্রুত গতিসম্পন্ন করতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের যানজটপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল অংশকে চার লেনে উন্নীতকরণ, এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং ঢাকা মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসনে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অগ্রগতি সাধিত হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতগুলোতে। আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য চাল উৎপাদনে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কমেছে দারিদ্র্যের হার, যদিও সরকারি হিসাবে এখনও চার কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিস্তারে অনেকটা সাফল্য এসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত (২০০৯-১৩) মেয়াদে এবং চলতি মেয়াদের সাড়ে তিন বছরে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও জনগণের বহু কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ২৮টি দল ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করায় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের ১৫৩টিতে সরকারি ও তাদের সহযোগী গুটিকয়েক দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্যপদ লাভ করেন। বিশ্বে গণতন্ত্রের ইতিহাসে পার্লামেন্টের মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি^তায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো নজির নেই। ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের পর ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পচে গেছে’ বলে বিদেশের কোনো কোনো পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়। ৭ জানুয়ারি (২০১৪) দেশে একটি দৈনিকের (মানবজমিন) প্রধান শিরোনাম ছিল ‘জিতেছে আওয়ামী লীগ, হেরেছে গণতন্ত্র’। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রয়েছে। আমাদের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।
সরকারি দল আওয়ামী লীগ সারা দেশে যেখানে ইচ্ছা সেখানে মহাসমাবেশ, সমাবেশ করলেও মাঠে বিরোধী দল বিএনপিকে রাজধানীতে কোথাও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এতে গণতন্ত্র বিকাশের পথ দুর্গম হয়ে উঠছে। ‘আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র’-এ তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে ওঠার মাধ্যমে শাসক দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিকাশ ও উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ অবস্থা অবলোকন করেই হয়তো যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে বলতে হয়েছে, ‘শুধু উন্নয়ন নয়, উন্নত গণতন্ত্রও অপরিহার্য।’ আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদে (২০০৯-২০১৩) গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সূচনা হয়। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকার এ জঘন্য অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার করছে বলে প্রকাশ্য অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুসারে ৩ বছরে গুম হয়েছেন ১৯৬ জন। আর মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের শুরু থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত গুম হয়েছেন ৩৪ জন। এ হিসাবে ৪ বছরে গুম হয়েছেন ২৩০ জন। বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছেই। দেশের খোদ প্রধান বিচারপতি তাই বলেছেন, দেশে পূর্ণ আইনের শাসন নেই। ডেভিড ক্যামেরনও তাই রুটিন নির্বাচনের সঙ্গে ‘সব অধিকার সমুন্নত রাখা’র ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রথমবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। পরবর্তী চার বছর বিএনপি আমলে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতি সূচকে শীর্ষে অবস্থান করে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পাঁচ বছর বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষস্থানে না থাকলেও সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাতারে রয়েছে। দেশে দুর্নীতি কী ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বিভিন্ন সার্ভেসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫৮৫ কোটি ডলার বা ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রায় দুই অর্থবছরের বাজেট তৈরি করতে পারতেন। সবশেষে যা বলতে চাই তা হল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে আগ্রহী হতে হবে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র যে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে সে শিক্ষা উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে নিতে হবে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন দশম সংসদ নির্বাচনের কলঙ্ক মুছে ফেলুক। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কাতারে শামিল হোক।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com

আশুলিয়ায় গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

আশুলিয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে মানছুরা আক্তার লিপি নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী শাকিল মিজি পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুরগাঁও নতুনপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূ জামগড়া চিত্রশাইল এলাকার হাজী মো. মনছুর আলীর মেয়ে। পলাতক স্বামী শাকিল মিজি কুরগাঁও এলাকার নজরুল ইসলাম মিজির ছেলে। নিহতের বাবা মনছুর আলীর অভিযোগ, চার বছর আগে মেয়ে লিপির সঙ্গে শাকিলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তবে শাকিল নিজের পায়ে দাঁড়াবে এমন অজুহাতে লিপিকে নিজের বাসায় রাখত না। মাঝেমধ্যেই টেলিভিশন, ফ্রিজ ও নানা আসবাবপত্রসহ ব্যবসার জন্য যৌতুক দাবি করতো শাকিল। বিভিন্ন সময় তা পূরণ করাও হয়েছিল। কয়েক মাস আগে লিপি এক প্রকার জোরপূর্বক শাকিলের বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকে শাকিল ব্যবসার টাকার জন্য নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতো লিপির ওপর।
সর্বশেষ দেড় লাখ টাকার জন্য মঙ্গলবার রাতে শাকিল ও তার পরিবার লিপিকে মারধর করে। পরে ওই রাতেই শাকিলের পরিবার মোবাইলফোনে লিপি অসুস্থ বলে তাদের জানায়। ফোন পেয়ে তারা লিপিকে দেখতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার পর দড়ি দিয়ে লিপিকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। আর এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে শাকিল। নিহত লিপির পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া গার্মেন্ট শ্রমিক মঞ্জু বেগম জানান, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন কারণে শাকিল তার স্ত্রী লিপিকে মারধর করতো। মঙ্গলবার রাতেও লিপিকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ হাসান  জানান, নিহতের স্বজনদের খবরে কুরগাঁও এলাকায় নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। পলাতক শাকিলকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এসআই।

ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্র নিহত

নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সুজাত মিয়া (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে একই পরিবারের চারজন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ফয়জুল্লাহ স্থানীয় বিবিয়ানা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজাত বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও একই এলাকার অফর মিয়ার ছেলে। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে একটি জমিতে ফয়জুল্লাহর বেঁধে রাখা ষাঁড়ের সঙ্গে আরেকটি ষাঁড় নিয়ে লড়াই শুরু করে। এ খবর পেয়ে ষাঁড়ের মালিক ফয়জুল্লাহর লোকজন ওই ছেলেটিকে বাধা দেয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সামান্য মারাপিটও হয়। এ নিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফয়জুল্লাহ স্থানীয় বিবিয়ানা বাজারে যাওয়ার পথে আব্দুল খালেকের লোকজন ওঁৎ পেতে তার ওপর হামলা করে। এ খবর পেয়ে ফয়জুল্লাহ স্বজনরা এগিয়ে  এসে তাদের ওপরও অতর্কিত আক্রমণ করেন। এতে ছাত্র সুজাত মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজাত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান বলেন, এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

সংসদে বসে সন্তানকে স্তন্যদান

সংসদে নিজের সন্তানকে বুকের দুধ পান করালেন অস্ট্রেলিয়ার এক নারী সিনেট সদস্য। লারিসা ওয়াটারস নামের ওই সিনেট সদস্য বামপন্থী গ্রিনস পার্টির একজন সদস্য। দেশটিতে তিনিই প্রথম সংসদে বসে সন্তানকে স্তন্যদান করে ইতিহাস গড়লেন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই মাস বয়সের মেয়ে আলিয়া জয়কে সঙ্গে নিয়ে আসেন লারিসা। সেখানে তিনি বুকের দুধ পান করান। এক প্রতিক্রিয়ায় লারিসা বলেন, ‘পার্লামেন্টে নারী ও মা-বাবার অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। আমাদের সবার জন্য পরিবার-বন্ধুভাবাপন্ন কর্মস্থল ও সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র দরকার।’ এ বিষয়ে আরেকজন সিনেট সদস্য কেটি গালাগহার বলেন,
‘বিশ্বের বিভিন্ন পার্লামেন্টে নারীরা এটা করছে।’ তিনি এ মুহূর্তটির স্বীকৃতি দাবি করেন। গত বছর পার্লামেন্টে স্তন্যদান করা যাবে-এমন আইন পাস করেছিল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। আইন পাস করার পরও এত দিন স্তন্যপান করানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি দেশটির পার্লামেন্টে। তবে এবার পার্লামেন্ট চলাকালে সন্তানকে বুকের দুধ পান করালেন নামের অস্ট্রেলিয়ার এক নারী সিনেট সদস্য। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে স্পেনের পার্লামেন্ট সদস্য ক্যারোলাইনা বাসকানসা দেশটির পার্লামেন্টে স্তন্যদান করার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে স্তন্যদানের বিষয়টি বিবেচনায় আনার জন্য পরামর্শ দেন রাজনীতিকরা।

ইরাকে অপহৃত সুশীল সমাজের ৭ নাগরিক উদ্ধার

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে অপহৃত সুশীল সমাজের ৭ নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত আর  কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এএফপিকে মঙ্গলবার জানায়, বাগদাদের কেন্দ্রস্থল থেকে দুর্নীতি বিরোধী ৭ কর্মীকে অস্ত্রধারীরা অপহরণ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সোমবার তাদের অপহরণ করা হয়। তবে অপহরণকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। অপহরকারীরা বাগদাদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল। এই অপহরণকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থামিয়ে দেয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার মনে করছেন অনেক কর্মী। প্রতি সপ্তাহেই বাগদাদে দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশ হচ্ছে। এসব সমাবেশের একটি জায়গা থেকেই তাদের অপহরণ করা হয়।

এফবিআই প্রধানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেট-এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের সুস্পষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করেন। সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইলের বিষয়ে তদন্তকে কেন্দ্র করে জেমস কোমিকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রসাশন। তবে ড্রেমোক্রেটরা বলছে, হিলারির ই-মেইল নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের বিষয়ে একটি তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কোমিকে লেখা এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে তিনি একমত যে কোমি এফবিআইকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নন এবং সেখানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের কিছুদিন আগে হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন। কয়েকদিন আগে দেয়া এক বক্তব্যে ওই কারণে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য মি. কোমিকে দায়ি করেছিলেন মিসেস ক্লিনটন। ৫৬ বছর বয়সী কোমিকে চার বছর আগে এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এবং তার মেয়াদ শেষ হতে আরও ৬ বছর বাকি ছিল।

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রধানের যাবজ্জীবন

মিসরে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বাদি এবং অপর দুই নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং এক আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার। সোমবার মিসরের গিজা অপরাধ আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০১৩ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংস হামলা চালানোর অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বাদি, দলের মুখপাত্র মাহমুদ গোজলান এবং দলের গাইডেন্স ব্যুরোর সদস্য হোসাম আবুবকরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে জুলাইয়ে এক অভ্যুত্থানে মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। পাবলিক প্রসিকিউটর দফতর জানিয়েছে, তখন গিজা ও নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ করা হয় বাদিসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট রাজধানী কায়রোর রাবা এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মুসলিম ব্রাদারহুড। সেখানে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালালে কয়েকশ’ মানুষ নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় মুসলিম ব্রাদারহুডের অপর মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের যৌথ নাগরিক মোহাম্মদ সুলতান, তার বাবা সালাহ সুলতান এবং আহমেদ আরেফকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ সুলতানকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠালেও তার বাবা এখনও কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে ওই মামলায় মোহাম্মদ বাদিসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে ওই মামলাটি পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। সোমবার গিজা আদালত ফাঁসির রায় বাতিল করে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২১ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর মুসলিম ব্রাদারহুডের আইনজীবী আবদেল মাকসুদ জানিয়েছেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে সব অভিযুক্তরাই আপিল করবেন।’

ওবামার সতর্কবার্তা শোনেননি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পদে মাইকেল ফ্লিনের নিয়োগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগাম সতর্ক করেছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু ওবামার পরামর্শ উপেক্ষা করে ফ্লিনকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। সোমবার সিনেট প্যানেল শুনানিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। পরে হোয়াইট হাউসও এর সত্যতা স্বীকার করে। শুনানিতে ওবামা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, গত নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ওভাল অফিসে এক সাক্ষাতে ট্রাম্পকে ফ্লিনের ব্যাপারে সতর্ক করেন ওবামা। তবে সোমবারের শুনানিতে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসাজশের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। শুনানির পর ট্রাম্প টুইট করেন, রাশিয়া ও ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই। রুশ ও ট্রাম্প যোগসাজশের গল্পটি পুরোটাই ধাপ্পাবাজি। খবর বিবিসি ও এএফপির। মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ফ্লিনকে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেন ট্রাম্প। পরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ফোনে কথা বলার অভিযোগ উঠে ফ্লিনের বিরুদ্ধে। সেই আলাপের ব্যাপারে ভাইস প্রেসিডেন্টকে ভুল তথ্য দেয়ার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পদে ছিলেন। সোমবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা স্বীকার করেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার। তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে ট্রাম্পকে ওবামা বলেছিলেন, তিনি ফ্লিনকে খুব একটা পছন্দ করেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা মোটেও বিস্মিত হইনি। কারণ তিনি ওবামা প্রশাসনেও কাজ করেছেন। পরে ওবামার সঙ্গে বিষোদ্গার সৃষ্টি হলে তিনি অপসারিত হন।’ এছাড়া স্পাইসার, ওবামার প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘সত্যিই যদি ফ্লিনের ব্যপারে তিনি এতই উতলা থাকতেন, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কেন আরও কয়েক মাস আগেই সতর্ক করলেন না?’ এর আগে ওবামা প্রশাসন ২০১৪ সালে ফ্লিনকে আমেরিকার ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর থেকে ওবামার কঠোর সমালোচকে পরিণত হন ফ্লিন। তবে তাকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পকে বারবার সতর্ক করেন। তখনও রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফ্লিনের গোপন যোগসাজশের বিষয়টি প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু দুইবারের অভিজ্ঞ প্রেসিডেন্টের পরামর্শ উপেক্ষা করার মাশুল শেষপর্যন্ত গুনতে হল অনভিজ্ঞ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এছাড়া রুশ কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে, সেই তথ্য গোপন করার অভিযোগও উঠে ফ্লিনের বিরুদ্ধে। খোদ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ তোলা হয়।
ফ্লিন এ অভিযোগও স্বীকার করেন। তার দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য রাশিয়া সরকারি অর্থে পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল রাশিয়া টুডে এবং দেশটির ভলগা-নেপর এয়ারলাইনস থেকে অর্থ নেন তিনি। ফ্লিনের রুশ যোগসাজশের বিষয়ে সোমবার প্রায় তিন ঘণ্টার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ খোলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেলি ইয়াটস। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ওবামা প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া শেলিকে বরখাস্ত করেন। ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যাওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। সিনেট শুনানিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জেমস ক্লাপারের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শেলি। তিনি বলেন, ‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট না জেনে জনগণের সামনে ভুল তথ্য দিয়েছেন। এটা নিশ্চিত যে, ফ্লিন মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।’ শেলি আরও বলেন, ‘আমরা ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্যদের মতো এটা জানতাম না যে, জনগণের সামনে যে তথ্য দিচ্ছেন তা একেবারেই মিথ্যা। রাশিয়াও এ ব্যাপারে অবহিত ছিল।’ তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন জটিল রূপ নিয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাশিয়ার ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয়েছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে ফ্লিনের যোগসাজশের বিষয়ে তদন্ত করছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটি। চলমান তদন্তে ওবামার সতর্কতার তথ্য নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউস নিয়ে থ্রিলার লিখছেন বিল ক্লিনটন

প্রথম ‘ফার্স্ট জেন্টল’ হিসেবে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় সে স্বপ্ন পূরণ হল না। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার লেখক পরিচয়ে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন তিনি। সাদামাটা আত্মজীবনী কিংবা প্রবন্ধের বইয়ের লেখক নয়, রহস্য-রোমাঞ্চে পূর্ণ রীতিমতো উপন্যাস রচনা করছেন দুই বারের এই প্রেসিডেন্ট। সোমবার তার প্রকাশক এ খবর জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন লেখক জেমস প্যাটারসনের সঙ্গে যৌথভাবে এ থ্রিলার লিখবেন বিল ক্লিনটন। বইটির নাম হবে ‘দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’। ২০১৮ সালের জুনে বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশক হিসেবে রয়েছে আলফ্রেড এ নফ অ্যান্ড লিটল ও ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি। প্রকাশকরা বলেছেন, ‘বইটি ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে পর্দার পেছনে কী ধরনের ঘটনা ঘটে এবং সেই বিষয়ক রোমাঞ্চ ও টান টান উত্তেজনার কথা পাঠকদের জানাবে। শুধু প্রেসিডেন্টরা জানেন এমন কিছু প্রক্রিয়া সম্পর্কেও জানতে পারবেন পাঠকরা।’ ৭০ বছর বয়সী ক্লিনটনের লেখক পরিচয় এবারই প্রথম নয়।
২০০৪ সালে ‘মাই লাইফ’ নামে একটি আত্মজীবনী লিখেছিলেন তিনি। ওই বছর বেস্টসেলার হয়েছিল বইটি। এবারের থ্রিলারের মূল লেখক জেমস প্যাটারসন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ জনপ্রিয়। ফোর্বসের বিচারে অন্যতম ধনী লেখক তিনি। তার লেখা ‘কিস দ্য গার্লস’ ও ‘অ্যালং কেম এ স্পাইডার’ লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। এমনকি বই বিক্রির ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ডও আছে তার। নিউইয়র্ক টাইমসের করা সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের তালিকায় জেমসের লেখা কয়েকটি বই আছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এটি তার জীবনের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ ঘটনা। জেমস বলেন, ‘বিলের অভিজ্ঞতা খুব কাজে দেবে। গল্প বলাই আমার কাজ। সাবেক প্রেসিডেন্টের অন্তর্দৃষ্টি একে আরও আকর্ষণীয় করবে। উপন্যাস লেখার ব্যাপারে বিল ক্লিনটন বলেন, ‘জিমের (জেমস প্যাটারসন) সঙ্গে কাজ করাটা দারুণ হবে। বইটি একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের জীবনাচরণ ও কাজ সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি, সেগুলোই লিখব। কিভাবে কাজ হয়, সে ব্যাপারে পাঠকরা একটি ধারণা পাবেন। এটি খুব মজার কাজ হবে।’

ফ্রান্সের প্রেমিক প্রেসিডেন্টদের গল্প

হাইস্কুলের ড্রামা শিক্ষিকা ছাত্রের হাত ধরে এখন ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মনে ধরে তারই শিক্ষিকা ব্রিজিত ত্রগনিয়ক্সকে। বয়সে ২৫ বছরের বড়। নির্বাচনের আগে অসম বয়সী দু’জন মানুষের প্রেম ও বিয়ের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্টদের এমন জটিল প্রেমের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। দেশটির আরও অনেক প্রেসিডেন্ট এমন প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েই সুখে সংসার করেছেন। ব্যতিক্রমী প্রেমে ম্যাক্রোঁ-ব্রিজিত: ব্লন্ড চুল ও নীল চোখের ম্যাক্রোঁকে কাছের মানুষ ‘মানু’ নামেই ডাকেন। স্কুলে পড়ার সময় বরাবরই ক্লাস থেকে দেরি করে বেরোতেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকের সঙ্গে গল্প করা। ফরাসি সাহিত্য ও নাট্যকলার শিক্ষক ব্রিজিত প্যারিসের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন। স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য ড্রামা রচনার কাজে মানু তার শিক্ষকের সঙ্গে কাজটি করেন। একপর্যায়ে ম্যাক্রোঁ তার চেয়ে বয়সে ২৫ বছরের বড় ব্রিজিতকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা নাকচ করেন। তবে তাতে দমে যাননি ম্যাক্রোঁ। প্রেম জিইয়ে রইল সবুজ পাতার মতো। আর এ প্রেমের টানে পরিণত বয়সে সেই শিক্ষিকাকেই বিয়ে করেন ম্যাক্রোঁ। বর্তমানে ৩৯ বছরের ম্যাক্রোঁ দেশের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং ৬৪ বছরের ব্রিজিত দেশের ফার্স্ট লেডি। ‘সব নারীর প্রেমিক’ ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ : বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের চার সন্তান সেজোলেন রয়াল নামে এক রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর গর্ভে জন্ম নেয়া। তবে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে বান্ধবী ভ্যালেরিয়ে থ্রিয়েরউয়েলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। পরে তিনি ফরাসি মডেল জুলি গায়েটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। প্যারিসে মোটরবাইকে করে ওই তরুণীর অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার সময় এক ট্যাবলয়েড পত্রিকার ক্যামেরায় ধরা পড়েন ওলান্দ। প্রেমের কোনো ঘটনায় একজন প্রেসিডেন্ট রাস্তায় মোটরবাইক দাবড়ে বেড়াচ্ছেন, ভাবা যায়!
অথচ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে মনিকা লিউনস্কির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বিরাট কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়। অথচ ওলান্দের ক্ষেত্রে কিছুই ঘটেনি। গোপন প্রেমে ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ : ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁর প্রেম ছিল অ্যান প্যাজোঁ নামে এক নারীর সঙ্গে। মিতেরাঁর কাছ থেকে তিনি ১ হাজার ২১৮টি প্রেমপত্র পান। তাদের সম্পর্ক নিয়ে ‘লেটারস টু অ্যানি : ১৯৬২-৯৫’ এবং ‘ডায়েরি ফর অ্যানি : ১৯৬৪-৭০’ নামে দুটি বইও প্রকাশ পায়। ১৯৬৩ সালে অ্যান-মিতেরাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন অ্যানের বয়স ছিল ২০ বছর। আর মিতেরাঁ ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী সিনেটর। তিনি ছিলেন বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। স্ত্রীর নাম দানিয়েলি। মিতেরাঁ তার এ প্রেমের সম্পর্ক গোপন রাখতেন। প্রেমিকা অ্যানের গর্ভে মাজারিন নামে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। গত মাসে সিএনএন ফ্রান্সের মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মতামত নেয়। এতে দেখা যায়, ফ্রান্সের লোকজন কম বয়সী পুরুষ ও বেশি বয়সী নারীর প্রেমের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বদনাম বা কেলেঙ্কারিকে মোটেও আমল দেয়নি। নিকোলাস সারকোজির বহু প্রেম : প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি নির্বাচিত হওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। পরে তিনি ২০০৮ সালে মডেল ও পপ তারকা কার্লা ব্রুনিকে বিয়ে করেন। ব্রুনি তার তৃতীয় স্ত্রী। এর আগে ১৯৯৬ সালে সিলিয়া আতিয়াস ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০০৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। প্রথম স্ত্রী ম্যারি ডমিনিক কুলিওলির সঙ্গে সারকোজির দাম্পত্য জীবন ছিল ১৯৮২-৯৬ সাল পর্যন্ত।

ফিরে এলো ৩৩ বছর আগের সৈকত

প্রকৃতি যা কেড়ে নেয়, তা আবার ফিরিয়েও দিতে পারে। আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে ৩৩ বছর আগে ভয়ংকর এক ঝড়ে যে সমুদ্র সৈকত বিলীন হয়ে গিয়েছিল তা ফের জেগে উঠেছে। এ যেন চুরি যাওয়া কোনো সৈকতের বিস্ময়কর ফিরে আসা! খবর সিএনএনের সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে শীতকালের এক ঝড়ো বাতাসে কাউন্টি মায়োর অ্যাকিল দ্বীপের ডুয়াগ সৈকতের বালুর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। সেখানে শুধু পাথর আর শিলার খাঁজ দেখা যেত। কিন্তু এ বছরের এপ্রিলের কয়েক দিনে আটলান্টিকের বড় ঢেউ থেকে আসা হাজার হাজার টন বালু আবার ভরিয়ে দিয়েছে সৈকতটি। ৩০০ মিটার সুবর্ণ তীরভূমি আবারও দৃশ্যমান। অ্যাকিল ট্যুরিজম অফিসের কর্মকর্তা শন মলয় জানান, জনপ্রিয় এ সৈকত একসময় চারটি হোটেল ও অনেক গেস্ট হাউসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পশ্চিম উপকূলের এ দ্বীপটিতে ২ হাজার ৬০০ লোকের বাস। অ্যাকিলে পাঁচটির বৈশি সৈকত আছে। নতুন এই সৈকতটি হলে সেখানে এর সংখ্যা ছয়ে দাঁড়াবে। মলয় বলেন, ১৯৮৪ সালের ঝড়ে সৈকতের সব বালু উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত মাসে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উত্তরের শক্তিশালী বাতাস আবার ফিরিয়ে দিল সৈকত। অচিল পর্যটন কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, একসময় এ সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসতেন বহু পর্যটক। তাদের কাছেও যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল এ সৈকত। সেখানে ছিল চারটি হোটেল এবং অনেকগুলো গেস্ট হাউস। এ দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ২ হাজার ৬০০ লোকের বাস।

উপহারে অনিয়মের মামলায় খালাস পেলেন এরশাদ

রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পাওয়া বিভিন্ন উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খালাস পেয়েছেন। বিচারিক আদালতের তিন বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির করা আপিল দীর্ঘ ২৫ বছর পর মঞ্জুর করে এ রায় দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বেলা ১১টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু করে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে পৌনে ৪টা পর্যন্ত রায় ঘোষণা চলে। রায়ে এ মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া তিন বছরের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে সরকারের করা আপিল খারিজ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় এক সাক্ষীর (তাজুল ইসলাম চৌধুরী) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আরেকটি আপিলও খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি জব্দ করা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের করা ‘মানি স্যুট’ ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর সাবেক এ রাষ্ট্রপতির আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্ট উপহারসামগ্রী গ্রহণের মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে খালাস দিয়েছেন। দণ্ড দিয়ে বিচারিক আদালতের দেয়া রায় খারিজ করে দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হল, সাবেক এ রাষ্ট্রপতি নির্দোষ ছিলেন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি, কোনো দুর্নীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন না। আরও প্রমাণিত হল, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার শাসনামলে দেশে অনেক ভালো কাজ করেছেন, তারপরও তার নামে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বেও তিনি অনেক মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন, আজও খালাস পেলেন। রায়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানি স্যুটের ব্যাপারে আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১ কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকা ফেরতের দাবিতে মানি স্যুটটি করেছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। সরকার যেহেতু টাকাটা নিয়ে গিয়েছিল, সে জন্য সরকারের কাছ থেকে ফেরতের দাবিতে এ মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার একটি আদালতে বিচারাধীন। এ মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এরশাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলাটি করে। এতে অভিযোগ করা হয়, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পাওয়া বিভিন্ন উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেননি। মামলায় আয়বহির্ভূতভাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকা অর্জনসহ দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৫ টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার রায়ে ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এরশাদের তিন বছরের সাজা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯২ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন এরশাদ।
আর তার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে ওই বছরই আপিল করে সরকার। একই মামলায় এরশাদের পক্ষে দেয়া এক সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সরকার আরেকটি আপিল করে। দীর্ঘদিন পর এসে ২০১১ সালে দুদক সরকারের আপিলে পক্ষভুক্ত হয়। এরপর সরকার ও দুদকের তিনটি আপিলের মধ্যে এরশাদের করা আপিলের ওপর গত বছরের ৩০ নভেম্বর শুনানি শুরু হয়ে এ বছরের ৯ মার্চ শেষ হয়। এর ওপর ২৩ মার্চ রায়ের দিন রেখেছিলেন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক বেঞ্চ। সেদিন নথি পর্যালোচনা করে সরকারের অনিষ্পন্ন থাকা দুই আপিল ও এসবের একসঙ্গে শুনানির জন্য ইতিপূর্বের আদেশ থাকায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে তিন আপিলের নথি পাঠিয়ে দেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। এরপর প্রধান বিচারপতি তিনটি আপিলেরই একসঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চকে দায়িত্ব দেন। এরপর শুনানি নিয়ে গত ১২ এপ্রিল রায়ের জন্য ৯ মে দিন ধার্য করেন। রায়ের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি পদ থেকে এরশাদ পদত্যাগ করেন। পরে তিনি গ্রেফতার হন। আর মামলা হয়েছে ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে। যখন মামলা হয়েছে তখন তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। তখন তিনি পাবলিক অফিস হোল্ড করতেন না। যেহেতু পাবলিক অফিস হোল্ড করেন না, সেহেতু তিনি পাবলিক সার্ভেন্ট (প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী) ছিলেন না। সে কারণে তাকে আইনের ৫(২) ধারায় সাজা দেয়া যায় না। ৫(২) ধারায় শুধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সাজা দিতে হয়। কিন্তু নিন্ম আদালত থেকে তাকে ৫(২) ধারায় তিন বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। এ কারণে হাইকোর্ট সাজা থেকে খালাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রায়ের ব্যাপারে দুদককে জানানো হয়েছে এবং হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরামর্শ দিয়েছি।