Wednesday, November 6, 2019

চুরি যাওয়া সৌদি যুবরাজের গহনার রহস্য: রক্তাক্ত এক অধ্যায়

সৌদি রাজপ্রাসাদ থেকে চুরি গিয়েছিল সোনা-গহনা ও অমূল্য হীরার বিরাট সম্ভার। এই চুরির পর শুরু হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়। চুরির ঘটনার প্রায় তিন দশকের পর নিজের মুখেই সেই চুরির কাহিনী জানিয়েছেন ক্রিয়াংক্রাই তেচামং।
সময়টা ১৯৮৯ সাল। স্ত্রীকে নিয়ে মাস তিনেকের জন্য ছুটিতে গিয়েছিলেন সৌদি বাদশাহ ফাহদের পুত্র যুবরাজ ফয়সাল। এই সুযোগেই বহু অমূল্য গয়না নিয়ে পালানোর ফন্দি আঁটেন প্রাসাদের বিশ্বস্ত কর্মচারী ক্রিয়াংক্রাই তেচামং।
প্রাসাদ পরিষ্কার রাখার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে প্রাসাদের প্রতিটি কোণ একেবারে স্পষ্টভাবে চিনতেন তেচামং। তাছাড়া যুবরাজ যে প্রায়ই তার সিন্দুকের তালা খোলা রেখেই চলে যান, সে কথাও তিনি ভালই জানেন।
যুবরাজের গয়না-গাঁটি চুরির ফলে জেলে বন্দী জীবন কাটাতে হতে পারে- একথা জানার পরেও তিনি চুরির ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
১৯৮৯ সালে সৌদি যুবরাজের ২০ মিলিয়ন মূল্যের গহনা চুরি করেছিলেন ক্রিয়াংক্রাই তেচামং
একদিন সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে এলে কোনো এক কায়দায় প্রাসাদে ঢুকে পড়েন তেচামং। অন্য সব ব্যক্তিরা চলে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। তারপর সুযোগ বুঝে ঢুকে যান যুবরাজের শয়নকক্ষে।
ঘর ঢুকে বেশ কিছু গয়না-গাঁটি নিজের শরীরের সাথে স্কচটেপ দিয় ভালোভাবে বেঁধে নেন। তাছাড়া ঘর পরিষ্কার করার যন্ত্র ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ভেতরে করেও নিয়ে আসেন অনেক অলঙ্কার।
তেচামং যত স্বর্ণালংকার ও গহনা চুরি করেছিলেন তার ওজন প্রায় ৩০ কেজি, যার অর্থ মূল্য দু'কেটি মার্কিন ডলার।
পরবর্তীতে সৌদি কর্তাব্যক্তিরা জানান যে, চুরি যাওয়া সেই সম্পদের মধ্যে ছিল বেশ কিছু স্বর্ণের ঘড়ি ও রুবি পাথরও।
এর মধ্যে একটি ছিল অত্যন্ত দামী হীরা। ৫০ ক্যারেট ওজনের একটি নীল হীরা, যার আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো।
হীরা বিশেষজ্ঞ অ্যালান হার্ট বলছেন, ১০ হাজার হীরার মধ্যে এরকম নীল হীরা মাত্র একটি পাওয়া যায়। এ ধরনের নীল উপাদান তৈরি হতে পারে মাটির ছয়শো কিলোমিটার নীচে থাকার কারণে। ফলে এ ধরনের হীরা অত্যন্ত বিরল।
উদ্ধার করা গহনা দেখাচ্ছে পুলিশ, পাশেই হাতকড়া পরা ক্রিয়াংক্রাই
বিশ্বের অনেক নীল হীরা এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেটোরিয়ার খনি থেকে। কিন্তু সৌদি নীল হীরাটি কোথাকার তা কারো জানা নেই।
চুরি করা সকল সম্পদ সেই রাতে প্রাসাদের ভেতরেই নানা জায়গায় লুকিয়ে রাখেন তেচামং। পরবর্তীতে মাস খানেকের বেশি সময় ধরে সেগুলোকে একটু-একটু করে কার্গোতে স্থানান্তরিত করা হয় থাইল্যান্ডে পাঠানোর জন্য।
এই মহাচুরির খবর যখন জানাজানি হয় ততদিনে ক্রিয়াংক্রাই তেচামং নিজের দেশ থাইল্যান্ডে পাড়ি দিয়েছেন।
তবে বিপুল স্বর্ণালঙ্কার সমেত কার্গো পাঠাতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন তিনি। কেননা থাই শুল্ক বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই বিরাট চালান ঠিকঠাক ভাবে পৌঁছানোটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সমস্যারও একটা সমাধান বের করেন তেচামং।
চুরি যাওয়া গহনার নথিপত্র দেখাচ্ছেন মোহাম্মদ সাইদ খোজা
তিনি জানতেন, থাই শুল্ক কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের ঘুষের টাকা ফেরাতে পারবে না। তাই কার্গোর ভেতরে একটি খামে বেশ কিছু নগদ টাকা ও একটি চিরকুট লিখে রেখে দেন। চিরকুটটিতে লেখা ছিল: এই কার্গোতে পর্নগ্রাফি বা যৌনতা সম্পৃক্ত বস্তু রয়েছে। তাই সার্চ না করলে ভালো হয়।
তার পরিকল্পনা খুব নিপুণভাবে কাজে আসে। হয়তো সে জেল-জরিমানাও এড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ১৯৯০-এর জানুয়ারি মাসে সে গ্রেফতার হয়ে যায়।
থাই ও সৌদি পুলিশের উদ্যোগে অনুসন্ধান অভিযান চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সকল স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। এমনকি যেগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল সেগুলোও সংগ্রহ করে পাঠানো হয় সৌদি প্রাসাদের ঠিকানায়।
কিন্তু বহুমূল্য এই স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পাঠানোর সময় ঘটে আরেকটি গুরুতর অপরাধ। সোনা-দানা হাতে পেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি যাওয়া গয়না-গাঁটির ৮০ শতাংশই উধাও। যেগুলোও বা ফেরত এসেছে সেগুলোর অধিকাংশই নকল।
তারপর হঠাৎ করেই এক কাণ্ড ঘটে। উচ্চ পর্যায়ের থাই এক কর্মকর্তার স্ত্রীর গলায় এমন একটি অমূল্য হার দেখা যায় যেটি দেখতে অবিকল প্রাসাদ থেকে চুরি যাওয়া হীরের হারের মতন।
সেটি ছিল প্রায় ডিমের সমান বড়, ৫০ ক্যারেটের অমূল্য দুষ্প্রাপ্য নীল হীরক।
নিজের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিয়াংক্রাই তেচামং
খুব অল্প কয়েক বছর জেল খাটার মধ্য দিয়েই হয়তো ক্রিয়াংক্রাই তেচামঙের এই চুরি কাহিনীর সমাপ্তি হতে পারতো। কিন্তু তা না হয়ে পুরো কাহিনীটাই হয়ে উঠলো এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি দূতাবাসের ভিসা বিভাগের দু'জন কর্মকর্তা থাই কম্পাউন্ডের দিকে যাচ্ছিলো। কিন্তু সেখানে যাবার আগেই তাদের উপর আক্রমণ চালানো হয় এবং তাদের হত্যা করা হয়।
নিহত কর্মকর্তাদের আরেক সহকর্মীর বাসায়ও একই সময়ে হামলা হয় এবং তাকেও হত্যা করা হয়।
এ সমস্ত ঘটনার সপ্তাহ কয়েক পর, ঘটনার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়ে মোহাম্মদ আল-রুয়াইলি নামের এক ব্যবসায়ীকে থাইল্যান্ডে পাঠায় সৌদি আরব। তাকেও অপহরণ করা হয় এবং তিনি আর কোনো দিন ফিরে আসেননি। মনে করা হয় যে, তাকেও খুন করা হয়েছে।
এসমস্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। তবে ২০১০ সালে কূটনৈতিক এক গোপন নথিতে ব্যাংককের মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি প্রধান জানান যে, এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসলে আছে 'হেজবুল্লাহ'।
সেখানে লেবানিজ শিয়া মুসলিম জঙ্গি গ্রুপের কথা বলা হয়। জানানো হয়, সৌদিদের সাথে শত্রুতার জেরেই এত খুন-খারাপি। এই নথিই পরে উইকিলিকস ফাঁস করেছিল।
ঘটনার তদন্ত করতে পরবর্তীতে মোহাম্মদ সাইদ খোজাকে ব্যাংককে পাঠায় সৌদি আরব। মাত্র মাস তিনেক থাইল্যান্ডের থাকার জন্যে এসে পরবর্তীতে তিনি থেকে যান কয়েক বছর। তিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন না। ছিলেন শার্জ দা এফেয়ার্স-এর মতন একজন কর্মকর্তা।
এসময় সৌদি ও থাই সম্পর্ক একেবারে তলানিতে নেমে আসে। থাই অভিবাসী শ্রমিকেরা যারা সৌদি আরবে কাজ করতো তাদের সংখ্যা দুই লাখ থেকে কমে মোটে ১৫ হাজারে নেমে আসে। এর একটা বড় ধরনের প্রভাব পরে থাই অর্থনীতিতেও।
তিন বছর একটি বৌদ্ধ মন্দিরে কাটিয়েছে ক্রিয়াংক্রাই তেচামং
মি. খোঁজা এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে দাবী করেন, চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারগুলো উদ্ধারের পর থাই পুলিশই সেগুলো আবার চুরি করেছিল।
থাই পুলিশের ক্ষমতা বোঝাতে গিয়ে ১৯৯৪ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. খোঁজা মন্তব্য করেন, "থাই পুলিশ এখানে সরকারের চেয়েও বড়।"
এরকম আরো অনেক সাক্ষাৎকার তিনি দিয়েছেন। তবে এই সাক্ষাৎকারটি দেয়া হয়েছিল বিশেষ আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর।
ক্রিয়াংক্রাই তেচামঙ থাইল্যান্ডে ফিরে আসার পর তার আনা স্বর্ণালঙ্কার একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আওতায় বেচা-কেনার কাজকর্ম চলছিল।
মনে করা হয় যে, চোরাই স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পর পুলিশ যে সেগুলো আবার হাতিয়ে নিয়েছিল এবং নকল গয়না বানিয়ে সৌদিতে পাঠিয়েছিল এই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন সেই স্বর্ণব্যবসায়ী।
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তার স্ত্রী ও ছেলে নিখোঁজ হয় যায় এবং ব্যাংককের বাইরে একটা মার্সিডিজের ভেতর তাদের লাশ পাওয়া যায়।
মি. খোঁজার কথাই সঠিক ছিল। পরবর্তী জানা যায়, চোরাই গয়না খুঁজে বের করার দায়িত্ব পাবার পর পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ঠিকই। কিন্তু সেখান থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার তারা নিজেরাই হাতিয়ে নেয়।
এই ঘটনা চেপে রাখতে সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পুলিশ চাপ দেয় এবং তার স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা করা হয়। এর দায়ে সেই সময়ের পুলিশ প্রধান, চেলোর কারর্থিস, যিনি ছিলেন মূল অনুসন্ধানী দলের প্রধান অধিকর্তা তার ২০ বছরের জেল হয়।
বৌদ্ধ মন্দিরে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ প্রধান চেলোর কারর্থিস
ক্রিয়াংক্রাই তেচামঙ জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৮ বছর আগে। যুবরাজের স্বর্ণালঙ্কার চুরির সেই ঘটনার প্রায় তিন দশক পর তার সন্ধান খুঁজে বের করে।
বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় আছেন। তার প্রথমে ৫ বছরের সাজা হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে দুই বছর সাত মাস করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেফতার হবার পর তার দিনগুলো ছিল ভীষণ কষ্টের। তখন দিনের পর দিন এমনকি সপ্তাহও তিনি না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। তিনি খুব ভয়াক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং সব কিছুতেই ভীত-সন্ত্রস্ত বোধ করতেন।
জেল থেকে ছাড়া পাবার পর তিনি নিজের নাম পাল্টে নেন। কারণ তিনি চাননি তার জন্য নিজের ছেলে বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাক।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষু হবার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন তিনি ভিক্ষু হিসেবে আছেন। ভিক্ষু হিসেবে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে নিজের বক্তব্যে ক্রিয়াংক্রাই তেচামঙ বলেন, 'জীবন থেকে সৌদি হীরকের শাপ মোচনের জন্যই' তিনি এই ভিক্ষুর জীবন বেছে নিয়েছেন।

পানি আয়রনমুক্ত করতে বালু-কয়লা ‘থেরাপি’ by জনি সাহা

দুপুরের কাঠফাটা রোদে ক্লান্ত শরীর জুড়াতে চায়ের দোকানে খানিক জিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। একপর্যায়ে ফাঁকা টেবিলে সুযোগ বুঝে গা এলিয়ে দেওয়া হলো। তন্দ্রা আসতেই বৃষ্টির পানির টুপটুপ আওয়াজ কানে এলো। বাইরে তাকিয়ে যে বৃষ্টি খোঁজার চেষ্টা তা মূলত পেছনে আবিষ্কার করা গেলো!
দোকনদার সুবির সরকার চায়ের জন্য পানি আয়রনমুক্ত করছেন। একটি বড় লোহার স্ট্যান্ডের উপর দুই ধাপে দু’টি মাটির পাত্র থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে। তৃতীয় ধাপে একটি বালতিতে যে পানিটা পড়ছে তা আয়রনমুক্ত।
কিন্তু কিভাবে কি? রাজধানী ঢাকায় তো ফিল্টারের মাধ্যমেই পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এটা আবার কি পদ্ধতি?
জানা গেলো সুবির সরকারের কাছেই। তিনি জানান, বালু, খোয়া, কয়লার মিশ্রণ তৈরি করে দুই ধাপে রাখা মাটির পাত্রে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের উপর সেগুলো মিলিয়ে দেওয়া হয়। পাত্র দু’টির তলার দিকে একটি করে ফুটো করে দেওয়া আছে। এরপর পাত্রের আকার অনুযায়ী এরমধ্যে পানি দেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে পানি খানিকটা আয়রনমুক্ত হয়ে দ্বিতীয় ধাপে রাখা পাত্রে পড়ে। এরপর একই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে তৃতীয় পাত্রে যে পানিটা সংগ্রহ করা হয় তা আনেকটা আয়রনমুক্ত বলে জানান সুবির।
পানি আয়রনমুক্ত করতে বালু-কয়লা ‘থেরাপি’
পরে এ পানি কেটলিতে নিয়ে গরম করে তা দিয়ে চা তৈরি করা হয়। পানি আয়রনমুক্তের এ যন্ত্র নিজেই তৈরি করছেন জানিয়ে সুবির বলেন, একবারে ২০-৩০ লিটার পানি আয়রনমুক্ত করা যায়। এতে আধঘণ্টা সময় লাগে।
তবে এটি তৈরির আগে এর উপকরণ বালু, খোয়া, কয়লা পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে পানি আয়রনমুক্ত করা  হয় ঠিকই, তবে এটি নিয়মিত পরিচর্যা না করলে আয়রন জমে উল্টো এর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি মাসে অন্তত দু’বার যন্ত্রটি পরিষ্কার করার কথা বলেন তিনি।
সুবির জানান, আয়রনমুক্ত পানি গরম করে চা বানানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। আর গরম না করা পানি দিয়ে দোকানের চায়ের কাপ-প্লেট পরিষ্কার করা হয়।
তবে যে টিউবয়েলের পানি আয়রনমুক্ত করা হচ্ছে পাশেই তার অবস্থা খুবই নাজুক। পানি পড়ে এর শরীরে এতো আয়রন জমেছে যে, টিউবয়েলটি নিজেই আয়রনে জর্জরিত। তাই টিউবয়েলটিই সংস্কারের প্রয়োজন বলে জানান সুবির।

ভুতুড়ে এক শহরে রূপার খোঁজে ২২ বছর

ক্যালিফোর্নিয়ার এক ভুতুড়ে শহর শেরো গর্ডোর একমাত্র বাসিন্দা রবার্ট লুইস ডেমারাইস।
হারিয়ে যাওয়া রূপার এক খনির খোঁজে গত ২২ বছর যাবত একাই রয়ে গেছেন এই পাহাড়ি শহরটিতে।
স্প্যানিশ ভাষায় শেরো গর্ডো শব্দের মানে সমতল পাহাড়। এই পাহাড়েই এক সময় ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় রূপার খনিগুলো।
ডেমারাইস ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক, ক্লাসে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে এসে খুঁজতেন এ গুহা, সে গুহা।
কিন্তু পরে চাকরী ছেড়ে দিয়ে একেবারে স্থায়ীভাবে চলে এসেছেন, তার বিশ্বাস এখনো কোন পাথরের খাঁজে লুকিয়ে আছে বিপুল রূপার মজুদ।
শেরো গর্ডোতে রবার্ট লুইস ডেমারাইস এর বাড়ি
এজন্য খালি হাতে কেবল হাতুড়ি, বাটাল আর শাবল দিয়ে আটশো ফুট জায়গা খুঁড়েছেন নিজ হাতে। একদিন তিনি রূপার খোঁজ পাবেন, এই বিশ্বাস তার অটল।
একেবারে কিছুই পাননি তিনি, তাও নয়।
বিভিন্ন সময় এক ঠেলাগাড়ি সমপরিমাণ ছোট ছোট রূপার টুকরো পেয়েছেন, যা সেখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে তিনি বিক্রি করেন।
ছোট ছোট টুকরোগুলো পাঁচ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত দামে বিকোয়।

থাকার কী ব্যবস্থা

শহরের এখানে সেখানে কয়েক বছর কাটিয়ে দেবার পর ডেমারাইসকে একজন পাহাড়ের উঁচুতে একটি পরিত্যক্ত কেবিনে থাকতে দেন।
সেটি ছিলো উইলিয়াম হান্টার নামে এক খনি শ্রমিকের বাড়ি।
বাড়িটা এত উঁচুতে যে, সেখান থেকে পুরো শহরটা দেখা যায়।
উচ্চতার জন্য ডেমারাইসের স্ত্রী তাকে ছেড়ে নেভাডা চলে গেছেন।
ডেমারাইসের বাড়ি থেকে পুরো শহরটা দেখা যায়
তবে শেরো গর্ডোতে যারা বেড়াতে আসেন, তাদের আগ্রহ নিয়েই চারপাশ ঘুরিয়ে দেখান ডেমারাইস।
এমনকি পর্যটকদের তিনি খনির ভেতরেও নিয়ে যেতে আগ্রহী।
কিন্তু শহরের মালিক লস এঞ্জেলসের ব্যবসায়ী ব্রেন্ট আন্ডারউড এবং জন বায়ের সে অনুমতি একেবারেই দেন না।

শহরটি কিনেছেন ব্রেন্ট আর জন

গত জুলাইতে প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলার দিয়ে ভুতুড়ে শহর শেরো গর্ডো কিনেছেন ব্রেন্ট আর জন।
ডেমারাইসের মত তাদেরও ধারণা এখানকার খনিতে এখনো বিপুল পরিমাণ রূপা আছে। আর একদিন হারানো রূপার খনি খুঁজে পাবার ক্ষেত্রেও তাদের বিশ্বাস অভিন্ন।
শহরের নতুন মালিকেরা ভুতুড়ে শহরটিতে প্রাণ ফেরাতে রাতে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
শহরের পুরনো সিনেমা হলটি নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করছেন ব্রেন্ট।
এছাড়া নতুন করে গাছ লাগিয়ে, বিশেষ করে শহরে হঠাৎ করে আগুন লেগে যাওয়া ঠেকাতে বেশি করে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা নতুন মালিকদের।
রবার্ট লুইস ডেমারাইস
শেরো গর্ডোর পুরনো মালিক শহরটি দেখে রাখতে বলেছিলেন ডেমারাইসকে, তিনি খুশিমনেই বিনা পারিশ্রমিকে সেটা করতেন।
কিন্তু নতুন মালিকেরা তাকে শহরের কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেছেন।

পাহাড়ে ডেমারাইসের জীবন

রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঠ কাটতে যান ডেমারাইস।
পাহাড়ে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু পানি নেই। তাই রোজ পার্শ্ববর্তী শহর থেকে এক লরি পানি আনতে হয়।
শেরো গর্ডো থেকে ১৫ মাইল দূরের আরেক শহর থেকে খাবার, ও অন্যান্য গৃহস্থালি জিনিস কিনতে হয়।
লোন পাইন নামে ওই শহরে দোকানপাট, ক্যাফে, হোটেল আর বার আছে।
ডেমারাইস যেদিন সেখানে বাজার করতে যান, হাতে খানিক সময় নিয়ে যান, আর ক্যাফে বা বারে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আসেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই তার।
এখনো রাতে পাহাড়ে শুয়ে তারা জ্বলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা তার প্রিয় অবকাশ।
পাহাড়ের জন্তু জানোয়ার আর সেখানকার অনিশ্চিত জীবনই ডেমারাইসের পছন্দের।
তারা জ্বলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ডেমারাইসের প্রিয় অবকাশ

আয়ুর্বেদিকেই আছে সমাধান

ক্লান্তি কাটাতে আয়ুর্বেদিক
ব্যস্ত জীবনে অবসর নেই, নিজের যত্ন নেওয়ার মতো সময়ও বের করতে পারি না অনেকে। আর এই অবহেলার ছাপ পড়ে আমাদের ত্বকে, মনে, শরীরে। এই সব সমস্যার সমাধানই কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে আয়ুর্বেদিকে।

শত শত বছর ধরে ভারতের গোয়া ও কেরালায় মানুষ শরীরিক ও মানসিক সমস্যার সমাধানের জন্য নির্ভর করে আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আয়ুর্বেদ শুধু বাইরের দিকে কাজ করে তা নয়, শরীরের ভেতরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, সঠিক রক্ত সঞ্চালনের জন্যও কাজ করে।

দাগহীন ত্বক পেতে
ত্বকে জমে থাকা মেল, ময়লা ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা শসার রস মিশিয়ে নিন। ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
১ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল ও সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তেরি করে নিন। প্যাক মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, এবার ধুয়ে নিন। ব্রণের দাগ সারাতে ও ত্বক উজ্জ্বল করতে এই প্যাক চমৎকার কাজ করে।

হজম শক্তি বাড়াতে
আয়ুর্বেদিক বিদ্যায় একটি শব্দ আছে অগ্নি, যা পাচক অগ্নি হিসেবেও পরিচিত। সবচেয়ে ভালো হয়, সকালে ঘুম থেকে উঠে একগ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে। এর সঙ্গে আপনি লেবু বা মধু মেশাতে পারেন। এটি আমাদের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

অনিয়মিত পিরিয়ডে
অনেক নারীর অনিয়মিত পিরিয়ডের পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, কোমরে ব্যথা, অ্যাকনে, অবসাদের সমস্যা দেখা দেয়। মঞ্জিষ্ঠা পাউডার ও অ্যালোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। 

আবার পিরিয়ডের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সমস্যায় যারা ভোগেন। তারা নিয়মিত হরতকী খেলে এই সমস্যায় উপকার পাবেন।

ক্লান্তি কাটাতে আয়ুর্বেদিক
ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হলে প্রশান্তি পেতে মেথি-কালোজিরা-আমলকি-নারকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে ১০ মিনিট ধরে মাথায় ম্যাসাজ করুন। মাথার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়েও ম্যাসাজ করুন, দ্রুত ক্লান্তি দূর করতে। এই ম্যাসাজ কিন্তু শুধু ক্লান্তিই দূর করে না। চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করে।

নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের যত দর্শনীয় স্থান by জুনাইদ আল হাবিব

নিঝুম দ্বীপ
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী জেলা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর। প্রাচীন নদী ভুলুয়া আর বর্তমানের খরস্রোতা মেঘনার মায়া জড়ানো বিশাল আয়তনের এই জনপদ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতি অনেক সংগ্রামের। ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তবে এর মাঝেও রয়েছে বহু সম্ভাবনা। সেসব চিত্র পাওয়া যায় এই দুই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে।
শুরুতে নোয়াখালীর গল্প বলা যাক। এ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম নিঝুম দ্বীপ, মুছাপুর ক্লোজার, বজরা শাহী মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী।
নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ
নোয়াখালীর সর্বদক্ষিণের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে উঠেছে একটি দ্বীপ। চারটি প্রধান দ্বীপ আর কয়েকটি চরের সমষ্টি নিয়ে গঠিত এটি। এর নামই নিঝুম দ্বীপ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। কেওড়ার বন, বন্য হরিণ আর প্রকৃতি অনিন্দ্যসুন্দর হওয়ায় নিঝুম দ্বীপ অনায়াসে সবার মন কেড়ে নেয়।
মুছাপুর ক্লোজার
মুছাপুর ক্লোজার
মুছাপুর ক্লোজার
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার মুছাপুর গ্রামে অবস্থিত মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য মনমাতানো একটি জায়গা। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ও ফেনী নদীর পাশে অবস্থিত এটি। সমুদ্র সৈকতের অপরূপ প্রকৃতিতে চোখ ফেরালে দেখা মেলে পাখির ঝাঁক, বন্যপ্রাণীসহ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মুছাপুর ক্লোজার ও মুছাপুর ফরেষ্ট বাগান দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে একজন শহীদ মো. রুহুল আমিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির সন্তান। তাঁর গ্রামে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ২০০৮ সালের ২০ জুলাই এটি স্থাপন করা হয়। এতে একটি সুপরিসর ও সুসজ্জিত পাঠ-কক্ষ ছাড়াও আছে অভ্যর্থনা কক্ষ। তত্ত্ববধায়ক ও লাইব্রেরিয়ানের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ।
বজরা শাহী মসজিদ
বজরা শাহী মসজিদ
বজরা শাহী মসজিদ
নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত বজরা শাহী মসজিদ। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল এটি। জনশ্রুতি আছে, দিল্লির সম্রাট বাহাদুর শাহ বেগমগঞ্জের বজরা অঞ্চলের জমিদারি দান করেছিলেন দুই সহোদর আমান উল্যা ও ছানা উল্যাকে। তারা একটি দীঘি খনন ও মসজিদ নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমির বন্দোবস্ত দেন। বজরা শাহী মসজিদের সম্মুখভাগেই সেই দীঘি। মার্বেল পাথরের তৈরি মসজিদটির প্রধান ফটকের দুই পাশে আছে দুটি দেয়ালঘড়ি।
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। জেলা সদর মাইজদী কোর্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশেই এর অবস্থান। তৎকালীন জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে এটি স্থাপিত হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষভাগে সারা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব নোয়াখালীতে পড়ে। সেই থেকে ইতিহাসে গান্ধী আশ্রমের গুরুত্ব অনেক।
অন্যান্য
সোনাপুরে লুর্দের রানীর গির্জা, নোয়াখালীর উপকূলে নতুন জেগে ওঠা চরে বন বিভাগের সৃজনকৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, মাইজদী শহরে অবস্থিত নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ, নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মাইজদী বড় দীঘি, কমলা রানীর দীঘি ভ্রমণপ্রেমীদের ভালোলাগার জায়গা।
এবার জানা যাক লক্ষ্মীপুর জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর কথা। বহু সংকটের আড়ালে নানান সম্ভাবনায় ঘেরা জেলা এটি। এখানে রয়েছে বেশকিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, রায়পুরের জিনের মসজিদ, কামানখোলা জমিদার বাড়ি। এছাড়াও প্রকৃতির মায়া জড়ানো বেশকিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতিরহাট মেঘনার তীর, আলেকজান্ডার মেঘনার তীর, তেগাছিয়া স্লুইস গেট ও বিশাল ঝাউবন।
দালাল বাজার জমিদার বাড়ি
দালাল বাজার জমিদার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের অন্যতম ও ঐতিহাসিক স্থান। জেলা সদরের পশ্চিম-লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে এর অবস্থান। জমিদার রাজা লক্ষ্মী নারায়ণের বাড়িটির স্থাপত্যশৈলীতে প্রাচীন যুগের নিপুণতার ছোঁয়া রয়েছে। এটি দেখতে প্রতিনিয়ত জ্ঞানপিপাসুদের আসতে দেখা যায়। বাড়িটি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। তবে সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন এর জৌলুসে ভাটা পড়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, জঙ্গল তৈরি হওয়ায় বিবর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি।
কামান খোলা জমিদার বাড়ি
জেলা সদরের পশ্চিম-লক্ষ্মীপুর গ্রামের কামাল খোলা বাজারের আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত হরেন্দ্র বাবুর বাড়িটি। প্রাচীন জমিদার বাড়ি হিসেবে এর পরিচিতি আছে। এটিই কামান খোলা জমিদার বাড়ি। দুইশ’ বছরের পুরনো বাড়িটির সামনে একটি দ্বিতল ঠাকুরঘর। সুরক্ষিত প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতরে গেলে চোখে পড়বে রাজপ্রাসাদ। এমন সুন্দর বাড়ি দেখতে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।
রায়পুরের জিনের মসজিদ
জনশ্রুতি আছে, ৩০ বছরের আগে জিনেরা রাতের আঁধারে মসজিদটি নির্মাণ করেছে। মসজিদটি তৈরিতে টাকার যোগান দিয়েছে তারাই! এরপর কয়েক বছর ইবাদতও করেছে জিনেরা! গভীর রাতে তাদের জিকিরের আওয়াজ ভেসে আসতো। এর নাম মসজিদ-ই-আবদুল্লাহ। ১৮৮৮ সালে রায়পুর শহরের দেনায়েতপুর এলাকায় ৫৭ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় মসজিদটি। এর দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট ও প্রস্থ ৭০ ফুট। এতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার।
এবার লক্ষ্মীপুর জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো বেশকিছু দর্শনীয় স্থানের কথা। লক্ষ্মীপুরের উপকূলে মেঘনাপাড়ের বেশকিছু জায়গায় আছে সৈকতের আমেজ, যেখানে পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যা নামার মুহূর্তটা উপভোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে তেগাছিয়া স্লুইস গেট, ঝাউবন, আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়, মতিরহাট মেঘনাতীর, দ্বীপ রমণীমোহন মেঘনাপাড়, মাতাব্বরহাট মেঘনাতীর। বিকেল গড়ানোর পর এসব স্থানে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ালে প্রশান্তি পেতে পারে মন।
তেগাছিয়া স্লুইস গেট ও বিশাল ঝাউবন
জেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ রামগতির দক্ষিণ-পূর্বে তেগাছিয়া বাজার পেরিয়ে মেঘনার কূলেই স্লুইস গেট। এখানে রয়েছে বেশ প্রশস্ত বিশাল ঝাউবন। সূর্যাস্তে মেঘনাতীর একদিকে যেমন অনিন্দ্যসুন্দর, তেমনই সারি সারি ঝাউগাছের মাঝে বিকেলের সূর্যের উঁকি মন ছুঁয়ে যায়। তবে এতদিন এখানকার তেমন পরিচিতি ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুসংখ্যক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে তেগাছিয়াকে তুলে ধরায় ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করেছে।
নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের দর্শনীয় কয়েকটি স্থান
নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের দর্শনীয় কয়েকটি স্থান
আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়
নদী রক্ষা বাঁধ থেকে দর্শনীয় স্থানটির শুরু। এখানে মেঘনাতীরে বিকেলবেলায় পশ্চিম থেকে হেলে পড়া সূর্যাস্তের চিকচিক আলো আর নদীর বুকে জোয়ার-ভাটার ঢেউ খেলা জলের নিবিড় সখ্য নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। নদী রক্ষা বাঁধ আঁকা-বাঁকা হওয়াতে পূর্ব দিক থেকে সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্যের মাঝে হারিয়ে যান অনেকে। এটি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম একটি। বিভিন্ন উৎসবে এখানে হাজার হাজার পর্যটকের হৃদয়ের জানালা খুলে দেয় এমন দৃশ্য।
মতিরহাট মেঘনাতীর ও দ্বীপ রমণীমোহনের চর শামছুদ্দিন
জেলার কমলনগর উপজেলার মতিরহাট বাজার। বলতে গেলে মেঘনার কোলেই জেগে আছে মতিরহাট। বাজারের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্তে মেঘনার জলের সঙ্গে মিশে থাকা তীরকে অনেকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে। এখানে বিকেলবেলার সূর্যরশ্মির সঙ্গে জোয়ার-ভাটার দৃশ্য বেশ ঝলমলে। এখানকার দৃশ্যটা অন্য স্থানগুলোর তুলনায় একটু ব্যতিক্রম। এছাড়া মাত্র পাঁচ মিনিটের নদী পেরিয়ে পা রাখা যায় দ্বীপ রমণীমোহনের চর শামছুদ্দিনে। বিকেলবেলায় সেখানে বেশ চমৎকার দৃশ্য চোখে পড়ে।
মাতব্বরহাট মেঘনাতীর
আলেকজান্ডার নদীতীরের মতোই এর গল্প। নদী ভাঙন থেকে কমলনগরকে রক্ষার জন্য এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর এই স্থানও পর্যটকদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যটন কেন্দ্রটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। তাই গোধূলিতে এখানে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা জমে ওঠে।
>>>ছবি: লেখক