Friday, May 23, 2014
বিবেকের ওপর থেকে কালো কাচ সরাও by আনিসুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুমকির মুখে গণতন্ত্র by প্রফুল বিদওয়াই
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি শটগান আর ভিআইপিকুলের দাপট by কুর্রাতুল-আইন-তাহমিনা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একরামুল হত্যায় কে জড়িত? by কাফি কামাল ও আহমেদ জামাল

নির্মম মৃত্যুর রাজনৈতিক মামলা
২০ মিনিটের কিলিং মিশনে শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয়েছেন ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক। অন্তত দুই ঘণ্টা আগে থেকেই খুনিরা অবস্থান করছিলেন স্পটে। তাদের দেখেছে ফেনী একাডেমি রোডের বাসিন্দারা। দেখেছে চলতি পথের অনেক মানুষ। হত্যাকা-ের পরপর স্থানীয় কমিশনার শিবলু, জেহাদ চৌধুরী, রুটি সোহেল, আবিদসহ কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অনেকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে শহরের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। যাদের সকলেই সরকার দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার নামে ওঠে আসে খুনিদের সহায়তা ও শেল্টার দেয়ার অভিযোগ। কিন্তু দিন শেষে মধ্যরাতে মামলা হয় উপজেলা নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এক বিএনপি নেতা ও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে। এখন মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরছে ফেনীবাসীর মুখে। কে খুন করল আর কার গায়ে লাগলো রক্তের ছিটা? এমনকি মামলা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় একরামের পরিবারও। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তারা বলছেন, এমন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। অভিযুক্তদের নাম যেমন মামলায় নেই, তেমনি তৎপরতা নেই প্রশাসনেরও। এমনকি ঘটনার দুদিন পর জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জয়নাল হাজারীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাদের। এমন পরিস্থিতিতে ফেনীবাসী বলছেন, পুরো ঘটনাটি নিয়ে চলছে ‘সিনেমার মতো সাপ-ওঝা খেলা’। পরিকল্পিত হত্যাকা-ের পর দায়ের করা হয়েছে একটি পরিকল্পিত মামলা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ফেনী আওয়ামী লীগ কি হত্যাকা-ের বিচার চায় নাকি সেটা নিয়ে রাজনীতি করতে চায়?
সিদ্ধান্ত দলের আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি: জসিম
মামলার বাদী রেজাউল করিম জসিম বলেন, ভাইয়ের মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। দলের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী আমি মামলার আবেদনে বাদী হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। এটা রাজনৈতিক মামলা। ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের নাম এজাহারে উল্লেখ না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি অত কিছু জানি-বুঝি না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা হয়েছে। একরামের ঘনিষ্ঠরা জানান, মামলা হয়েছে এমপি নিজাম হাজারীর নির্দেশে। কারণ শহরের মাস্টার পাড়ায় একরামের বাড়ি। মাস্টার পাড়াতেই স্থানীয় এমপি নিজাম হাজারীর বাড়ি। একরামের ভাইয়েরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তারা এমপির ভয়েই নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে নিজাম হাজারী মামলা ড্রাফট করেন। একরামের ভাই রেজাউল করিম জসিমের কাছ থেকে কেবল স্বাক্ষর নেয়া হয়। ফেনীর রাজনৈতিক মহল মনে করে, পরিকল্পিত হত্যাকা-ের পর পরিকল্পিতভাবেই মামলা দেয়া হয়েছে। হত্যাকা-ের ঘটনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীর নামে মামলা দেয়ার কারণে বিরোধী নেতাকর্মী দমন-পীড়ন করা যাবে। আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে মিনার চৌধুরী ছাড়া পেলেও তারা একরাম হত্যার বিচার নিয়ে তৎপরতা অব্যাহত রাখবে না। মধ্যখান দিয়ে আসল অপরাধীরা বেঁচে যাবেন। বন্ধুয়া গ্রামের শফিকুল, সালাম, বাদলসহ বেশ কয়েকজন জানান, এক গ্রুপ শহরের একাডেমি রোডে কিলিং মিশন চালিয়েছে আরেকটি গ্রুপ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ফুলগাজীতে মিনার চৌধুরীর বাড়িতে হামলা করেছে। তারা বলেন, মিনার চৌধুরী অর্থ সহযোগিতা দিতেন পারেন কিন্তু সন্ত্রাসীদের যোগান দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগেরই কিছু নেতা। তাদের ছত্রচ্ছায়া না থাকলে ফেনীতে এত কিলিং মিশনের অবস্থান ও দিন-দুপুরে এত বড় ঘটনো সম্ভব নয়। একরামের জেটাতো ভাই গিয়াসউদ্দিন বলেন, হত্যাকা-ের সময় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা মেনে নেয়া কঠিন। প্রশাসন সক্রিয় হলে অন্তত আমাদের ভাইয়ের লাশটি দেখতে পেতাম। তিনি বলেন, যাদের কথা শোনা যাচ্ছে তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কেন হয়নি জানি না। তবে আমরা সরকারের কাছে উপযুক্ত বিচার চাই। ফেনীর নানা শ্রেণী পেশার মানুষ বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো ফেনী জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরাও মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত। জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে চলাফেরাও করতে পারেন না। এমন অবস্থায় ফেনীর একাডেমি রোডের মতো ব্যস্ত জায়গায় শ’দেড়েক বিএনপি নেতাকর্মীর জড়ো হওয়া এবং সকাল থেকে কয়েকঘন্টা অবস্থান করার বিষয়টি অবিশ্বাস্য।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি
দলীয় সূত্র জানায়, ১৭ই মে বৈঠকের সময় ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যখন জেল-জালিয়াতির প্রতিবেদন নিয়ে কথা হচ্ছিল তখন একরামের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এমপি পদ হারানো ও জেলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরির পর নিজাম হাজারী জেলার দ্বিতীয় প্রভাবশালী একরামকে তার স্থান দখলের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিমের চাচাতো ভাই খায়রুল বাশার তপন নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন। তখন একরামের লোকজন তার গাড়িবহরে হামলা করে। পরে জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তারকে সেখানে নির্বাচনে আগ্রহী করে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন একরাম। বিষয়টি ভালভাবে নিতে পারেননি আলাউদ্দিন নাসিম। তিনি এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন বিরোধে না গেলেও একরামের প্রতি বিরক্ত ছিলেন। অন্যদিকে জয়নাল হাজারীর শত্রু হিসাবে খ্যাত আলাউদ্দিন নাসিমের সঙ্গে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক রয়েছে নিজাম হাজারীর। ওদিকে ফেনী আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরামর্শদাতা হিসেবে খ্যাত যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল। অভিযোগ রয়েছে, ফেনীতে তার বুদ্ধি অনুযায়ীই জয়নাল হাজারী এবং পরে নিজাম হাজারী রাজনৈতিক নৈরাজ্যের সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা ডায়াবেটিক হাসপাতালের পদ নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন একরাম। এছাড়া এমপি পদ নিয়ে আশঙ্কার পাশাপাশি ওই জেল-জালিয়াতি প্রকাশের ঘটনায় ফের ফেনীর নিজাম হাজারী গ্রুপের মধ্যে ভর করেছে জয়নাল হাজারী আতঙ্ক। অনেকেই মনে করেন, জয়নাল হাজারী ও একরাম মিলে যে কোন দিন দখলে নিতে পারে নিজামের সাম্রাজ্য এ আশঙ্কাও হতে পারে হত্যাকা-ের বড় কারণ। বর্তমানে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একরামের সাবেক এক শিষ্য আদর বর্তমানে নিজাম হাজারীর খুবই ঘনিষ্ঠ। একটি পারিবারিক ঘটনা নিয়ে তার সঙ্গে দূরত্ব ছিল একরামের। পরে তার সঙ্গে সম্পর্ক হলেও কয়েক বছর ধরে আদর পক্ষত্যাগ করে নিয়েছেন নিজাম হাজারীর আশ্রয়। এ আদরই একরামের টেন্ডার সংক্রান্ত শক্তি ও দুর্বলতার কথা জানতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
হত্যাকা-ের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ মিটার দূরে বিরিঞ্চি রেলক্রসিংয়ের পাশে বাজারে ছিলেন একরামের চাচাতো ভাই রাজু। ভাইয়ের ওপর হামলার কথা শুনে সেখানে ছুটে যান রাজু। তিনি যখন পৌঁছেন তখন কেবল আগুন জ্বলছে। রাজু অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালালে আমরা অন্তত ভাইয়ের লাশটি দেখতে পেতাম। ওদিকে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অনেকের গায়ে ফেনী কলেজের ইউনিফর্ম ছিল। স্টেডিয়াম এলাকার একজন দোকানদার বলেন, এতদিন শুনেছি র্যাবের পোশাক পরে অপরাধীরা নানা অপহরণ বা গুম-খুনের ঘটনা ঘটায়। এখন দেখছি কলেজের ইউনিফর্মও সে কাজে ব্যবহার হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অনেকের গায়ে ফেনী কলেজের ইউনিফর্ম দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, হত্যাকা-ের সময় পাশের বিল্ডিং থেকে সোহেল নামে একটি ছেলে মোবাইলে ভিডিও করেছিল। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে সেটা তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনাস্থলে স্থানীয় কাউন্সিলর শিবলু, জেহাদ চৌধুরী, রুটি সোহেল, আবেদকে দেখা গেছে। ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে যাওয়ার সময় নিজের প্রাডো গাড়িয়ে ছিলেন একরাম। পেছনেই ছিল তার উপজেলা পরিষদের গাড়ি। একরাম আক্রান্ত হলে উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক কিছুটা সামনে এগিয়ে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। কিন্তু পুলিশ আমলে না নিয়ে উল্টো দিকে চলে যায়। হত্যাকা-ের স্পট বিলাসী সিনেমা হলের উল্টো দিকের গলিতে বড় বাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বড় বাড়ির কিছু ছেলেকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বড় বাড়ির কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বিরিঞ্চি এলাকার এক দোকানদার জানান, বিগত উপজেলা নির্বাচনের আগের রাতে ফুলগাজীতে একরামের বিরুদ্ধে বহিরাগত হিসেবে তৎপরতা চালাতে যাওয়া ২৪ জনকে আটক ও মারধর করেছিল গ্রামবাসী। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন শহরে ছাত্রলীগের চিহ্নিত কর্মী। এর মধ্যে কয়েকজনকে দেখা গেছে সেদিনের কিলিং মিশনে। ফেনী শহরে গুঞ্জন ভাসছে, রোববার ফেনী পৌর ভবনে একটি বৈঠক থেকেই একরামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে সেখানে উপস্থিত একজন দূতের মাধ্যমে একরামকে সাবধানও করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে নেননি তিনি।
ফুলগাজীবাসীর চোখে জল
রাজনৈতিক কারণে ফুলগাজীবাসীর প্রিয়-অপ্রিয় দুই ছিলেন একরামুল হক। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকা- ও রাজনৈতিক সহনশীলতার কারণে তাকে পছন্দ করতেন বেশিরভাগ মানুষ। হত্যাকা-ের ঘটনায় ফেনীর পরিবেশ থমথমে হলেও বেদনাবিধুর ফুলগাজীর পরিবেশ। গতকাল সেখানে হরতাল চলাকালে ফেনী থেকে একরামের গ্রামের বাড়ি ফুলগাজীর বন্ধুয়া গ্রামে যেতে অন্তত ১০টি স্থানে পিকেটারদের বাধার মুখে পড়তে হয়। একরামের বাড়ির কাছে যে বেইলি ব্রিজটি বিক্ষুব্ধ জনতা উপড়ে ফেলেছিল সেখানে দেখা যায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থানে। তার গ্রামের বাড়িতে রাজ্যের নীরবতা। বন্ধুয়া গ্রামের মসজিদের ইমাম বৃদ্ধ কারী মাহমুদুল্লাহ বলেন, ফেনী থাকলেই প্রতিদিন আমার সঙ্গে কথা বলতেন একরাম। সপরিবারে ওমরাহ করতে যাওয়ার জন্য তিনি পাসপোর্টও জমা দিয়েছেন। তার এমন মৃত্যু সইতে পারছি না। বন্ধুয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, একরামকে হত্যার মধ্য দিয়ে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেই হত্যা করা হলো। এখন আর কেউ কোন্দলপ্রবণ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঝুঁকি নিতে সাহস পাবে না। নিজের ইমেজ রক্ষার জন্য তিনি ভাইবেরাদরদের পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে যেতে দিতেন না। বন্ধুয়া গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা গেছে তাদের চোখে অশ্রু টলমল। তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, একরামের হত্যাকা-ের পর জেলা আওয়ামী লীগ বড় ধরনের কোন প্রতিবাদ করেনি। অভিযুক্তদের নাম বাদ দিয়ে পুরনো শত্রুতাকে টেনে এনে বিরোধী দলের নেতার নামে দায়ের করা হয়েছে একটি রাজনৈতিক মামলা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- জেলা আওয়ামী লীগ আদৌ একরাম হত্যার বিচার চায় কিনা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাসুদ পথিকের কবিতা সুন্দরের সহজিয়া আবাহন
বাগ্বিস্তারে কবিতা এক উন্মুক্ত রক্তস্বর বা অবারিত হাহাকার। এই হাহাকার, এই আকুতি প্রতিটি জন্মে, প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি ঋতুতে, প্রতিটি অঞ্চলে, প্রতিটি সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ত পরিবর্তিত হয়। পথিকের কবিতায় এই বদলে যাওয়ার প্রণালি কী সুন্দর অসামান্য স্বকীয়তায় উদ্ভাসিত হয়েছে দেখুন : যারা খুব কোলাহল করো, তারা কি জানো প্রতিটি বর্ষের ছায়ায় কী রূপে/বিপুল ইমোশনের জন্ম দিয়ে হারিয়ে যায় কেনো বুনোফুলের পাপড়ি/বুনোফুল বর্ষের দোল... অথবা ...অনাদিকালের চাষবিজ্ঞানে নিজেকেই...আবিষ্কার করে যাই/প্রবহমান ঘটনার ডানায় অচেনা অনেক অনেক উপমা বয়ে আসবেই...।
একাকী জমিন শিরোনামের কবিতাটি স্মরণ করা যেতে পারে। আখ্যানের আবডালে আলুথালু সংলাপের সহজিয়া ঢঙে এতদঞ্চলের দলিত ও কৃষিজীবী মেহনতি মানুষের বাণী পরম্পরাকে কবি এখানে তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ নতুনরূপে। নতুনত্বের এই রূপশৈলী কিংবা বলা যেতে পারে বুঝশৈলী এখানে যতটা না আঙ্গিকানুগ, তার চাইতে ঢের বেশি হার্দ্য ও প্রাণানুগ- যা কিনা প্রহরের চূড়ান্তে এসে, হয়ে পড়ে মা ও মায়া বা প্রেমিকা অবলম্বনহীন একাকী জমিন বা একাকী জীবন। একাকীত্বের এই কষ্ট-কল্পদ্রুম বড়ই মর্মস্পর্শী, বড়ই অথবা যে কোন ধরনের এবং প্রাণবিদারক।
কবিতা কোনো কিছুর মতো নয়। কবিতা আদপে প্রত্যেক কবির নিজের মতোই। প্রতিটি ভোর যেমন নব নব মহিমায় দিনমান সময়ের ইশারা দিয়ে যায়, তেমনি কবিতা বেলাতেও একজন অতিচেতন-সংবেদন মনের কবি তার জীয়ন-অস্তিত্বের প্রগাঢ়-উপলব্ধির নতুনতরো ব্যঞ্জনা, নতুন সুরের অভিযোজনায় চির অবিনাশী উচ্চারণে উৎকীর্ণ করে যায়। কাব্য তো রসোত্তীর্ণ বাক্যই। তাই বলে প্রতিটি বাক্য কিন্তু কাব্যের উষ্ণকমলটি ধারণ করতে পারে না। এতদ্কালের কাব্যের ইতিহাস কিন্তু আমাদের তা-ই জানান দেয়। পথিকের কবিতা পাঠ পাঠককে সেই রসোত্তীর্ণতার সুবাদে অনন্য এক নতুন সঞ্চারণায় নিয়ে যায় : ...সন্ধান করি শব্দের জন্মভূমি/ বাক্যের দেশের করি ভূমি জরিপ/ ঘুমন্ত কাহিনির খোলা পিঠে লিখে দেই/যে দিনগুলি হারিয়েছি তার হিসাব/বাক্যগর্ভে বাঁধিয়ে গোল ব্যাকরণের ভ্রুণ হত্যা করি/ যে বাক্যে ঢুকেছে দ্বিধার অরণ্যযাপন উপত্যকা/ আর আছে ইতিহাসের বন্ধুর ইতিকথা, ভাবি/ কবে কালো প্রজাতির রক্ত ঢুকেছিল দানববাক্যের গর্ভে...। অথবা ...কতদূর যাবে, যায়! আছি, মুক্ত হবো শব্দগর্ভে ধ্বনিত উপমায়/ বাক্যের পথে মৃত্যু আসুক, আসুক অমোঘ জীবন, পৌঁছাবো ধীরে সমুদ্র মোহনায়/ মিশে যাবে, যাবেই, লক্ষ বাধা দলিত করে যাকে পাই প্রসূতিসদনের ইশারা-ভাষায়...।
পথিকের কবিতায় প্রযুক্তিগত বিশ্বায়নের অতিপ্রচল শব্দসমবায়ের সঙ্গে এ দেশের আদিম শ্রমজীবী সমাজের চিরায়ত কৌম-ভাষারীতির অনায়াস-প্রয়োগ লক্ষ করার মতো। নিত্য নতুন উদ্ভাবিত ও চলিষ্ণু ভাষাভঙ্গি কিংবা প্রাত্যহিকতার গ্রামীণ-মেজাজের স্বরকথনে তিনি যে দ্যোতনা, যে রসবোধ, সৌন্দর্যের যে আনন্দঘন পরিচর্যা দেখিয়েছেন, সমকালীন বাংলা কবিতার চর্চাবলয়ে তা অবশ্যই প্রাগ্রসর আধুনিক ও অভিনব। বোধগম্যতার সহজার্থে এখানে কিছু কিছু কবিতার শিরোনাম অথবা শব্দবন্ধ বা নবযুক্ততার উদাহরণ দেখা যেতে পারে : বিপুল ইমোশন, সুরেলা অব্যয়ভাব, জীবনের হাইফেন, মৃতুর মনতাজ, শূন্যতার ফিল, মৌন বুদ্বুদ, যৌন-তৃণঝুর, বহুজাতিক ইশারা, হাইব্রিড ইশারা, চোরারোদ, শব্দের চুপিচুপি ডুব, গোলার ডামি, আউশ-আমনের ভঙ্গিমা, গুরুবক, বাক্যবিহঙ্গ, ইরি-ইউরিয়ার খামে নবান্ন, রাষ্ট্র কি ভেরো ভাজে, ঢেঁকির শুলুক, কামনিরালা, সৌরগামলা, কসমো-বিতর্ক, র-রিয়ালিজমের ছুরি, সিভিলায়জেশন প্রহর, ধর্ষিত ধান, বর্ণমালার গৃহস্থালি, আবহ স্তনমান, যোনিচিত্র, টোটেম গ্লানি, জবাচিন্তা ঘুঘু, আলবাক্য, শব্দবীথি ও শিল্পপ্রহর ইত্যাদি। শব্দ বা চয়নবিন্যাসে তিনি তার নিজস্ব কাব্যস্বর বা কবিতাপ্রতিমায় শনাক্ত হয়ে উঠেছেন।
কবিতারাষ্ট্রে সিদ্ধি ও প্রসিদ্ধি বলে একটা কথার চল্ আছে। কবি মাসুদ পথিকের কাব্য-প্রাণসত্তার শৈল্পিক অভিযাত্রা কোন্ মহাসত্যের সৌন্দর্যের সন্ধানে, সময়-ই তার রায় দেবে। আমরা সেই সহজিয়া আবাহন-পানে নিরন্তর তাকিয়ে রইলাম।
কুতুব হিলালী
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির রূপকার by রাজীব সরকার
নজরুলের প্রকৃত পরিচয় অনুধাবন করতে হলে বাঙালি সংস্কৃতির বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে তাকে বিবেচনা করতে হবে। বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। এ অঞ্চলের জীবনাচরণে, সঙ্গীতে, সাহিত্যে, চিত্রকলায়, ভাস্কর্যে, নাটকে বাঙালি সংস্কৃতির উজ্জ্বল্য প্রতিফলিত। বাঙালি সংস্কৃতির ধারা গত কয়কশ বছরে বিশেষ কোনো ছকে রূপান্তরিত হয়েছে এমন বলা যাবে না। বিভিন্ন মত-পথ-পন্থা, তান্ত্রিকতা, সুফিবাদ ও মূলধর্মগুলোর আদর্শগত দ্বন্দ্ব-বিরোধ এবং কেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে বিশাল গ্রামীণ জনপদে গ্রহণ বর্জন সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে একটি মৌলিক ধারা ও পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। এ সংস্কৃতির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর সমন্বয়ধর্মী ধারা। শুধু সমন্বয়ধর্মী নয়, মানবতাবাদীও। বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ইসলাম ধর্ম এখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতে শুরু করে। দেশজ সংস্কৃতি ও ইসলাম পরস্পরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। পাঠান রাজত্বেও এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষকতা পায়। সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের শাসনামলে এ দেশের ভাষা, সাহিত্য সমাদৃত হয় এবং দেশীয় পণ্ডিত-কবিবৃন্দ ও পৃষ্ঠপোষকতা অর্জনে সক্ষম হন। এ সময় যথার্থ অর্থেই একটি সমন্বয়ধর্মী সংস্কৃতির উত্থান ঘটে। একদিকে শ্রীচৈতন্যের ভক্তিবাদ ও ভালোবাসার বাণী এবং অন্যদিকে সুফি সাধকদের মানবতাবাদী মতবাদ- এই দুইয়ের সংমিশ্রণে এক অসামান্য সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটে।
এভাবে আমাদের সংস্কৃতিতে সব ধর্মের ও নানা লোকচর্চার সমন্বয়ে চিন্তা-চেতনা মানবিক অন্তঃসারযুক্ত হওয়াতে এ ধারাটি প্রাণবন্ত ও গতিশীল হয়ে ওঠে। এ ধারাটির প্রকাশবাহন হয়ে ওঠে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বুলি- আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। সমাজজীবন ও ভাষার এ মেলবন্ধনের মধ্যেই বাঙালির স্বকীয় জীবনঘনিষ্ঠ ও গভীরভাবে মানবিক এক সংস্কৃতি বিরাজমান। এ সংস্কৃতি বাঙালি হিন্দুর নয়, বৌদ্ধের নয়, খ্রিস্টানের নয়, মুসলমানের নয়- এ সংস্কৃতি বাঙালির সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির ভিত্তি আমাদের মাতৃভাষা বাংলা।
বাঙালি সংস্কৃতির এ সমন্বয়বাদিতা ও লৌকিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পেয়েছে বহু শাস্ত্র বিশারদ মনীষী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী বিনয় সরকারের মূল্যায়নে। বাঙালিরা আদিতে হিন্দু ছিল, পরে সেই হিন্দু বাঙালিদের থেকেই অনেকে বৌদ্ধ, মুসলমান বা খ্রিস্টান হয়েছে- প্রচলিত এ ধারণা তিনি সমর্থন করতেন না। তার মতে বাঙালির আসল ধর্ম হচ্ছে বাঙালি ধর্ম। এ বাঙালি ধর্ম মানে বাঙালি সংস্কৃতির অন্তঃসারের সমন্বয় তথা লৌকিক ঐতিহ্য।
বিনয় সরকারের মতো প্রখর মনীষীর দীপ্তি তথা পঠিত অনেক বুদ্ধিজীবীরই নেই। বাঙালি ধর্মের তাৎপর্যটি বুঝে উঠতে পারেন না বলে ওই শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা নজরুলকেও বুঝতে পারেন না। এমনই একজন লেখক-বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন আজাদ। আমার অবিশ্বাস বইয়ে তিনি নজরুলকে অভিহিত করেছেন বাঙলা ভাষার বিভ্রান্ত কুসংস্কার-উদ্দীপ্ত লেখকদের মধ্যে প্রধান হিসেবে। একাধিক ধর্মের প্রতি নজরুলের প্রীতির নিদর্শন উদ্ধৃত করে হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন-
“নজরুলের বিশ্বাসও সন্দেহজনক, মনে হয় তিনি এক বিশ্বাসের সঙ্গে আরেক বিশ্বাসের পার্থক্য বোঝেন না। বিধিবদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো কঠোর, একটি মানলে আরেকটি মানা যায় না, ইসলাম মানলে হিন্দু ধর্ম মানা যায় না, একই সঙ্গে কেউ হতে পারে না মুসলমান ও হিন্দু; কিন্তু নজরুল তার এক বিশ্বাস থেকে আরেক বিশ্বাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আগের বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে। আমি বিস্মিত হই যিনি লেখেন আল্লাহ আমর প্রভু, আমার নাহি ভয়।/আমার নবী মোহাম্মদ, যাহার তারিফ জগৎময়, তিনি কী করে লিখতে পারেন কালী কালী মন্ত্র জপি বসে লোকের ঘোর শ্মশানে; বল রে জবা বল্! কোন সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল... এমন বহু পৌত্তলিক পদ। তিনি কি একই সঙ্গে হতে পারেন খাঁটি মুসলমান আর কালীভক্ত?”
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও নজরুল যে বাঙালি সংস্কৃতির সমন্বয়বাদী নির্যাসটুকু তার চৈতন্যে ধারণ করেছিলেন তা দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে অনেকেরই আবার জেনেশুনে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চাননি অনেকেই। বাল্যকালেই লেটো গানে হাতেখড়ি হয় নজরুলের। বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রকরণ লেটো লোককবিতা সমন্বয়ধর্মী বাঙালি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের ধারক। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে তিনি লেটোর জন্য যেমন লিখেছেন কারবালার শোকাতুর ঘটনা নিয়ে পালা, তেমনি লিখেছেন রামায়ণভিত্তিক মেঘনাদবধ পালা। ইসলামী ঐতিহ্য ও হিন্দুপুরাণ উভয় উৎস থেকেই নজরুল সৃষ্টির উপকরণ গ্রহণ করেছেন বাল্যকাল থেকেই।
গ্রহণ ও আত্মীয়করণের ক্ষমতা বাঙালি সংস্কৃতির অসামান্য। বিদেশি ভাষার বহুশব্দ ও সাংস্কৃতিক উপকরণ বাঙালি সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করেছে। উত্তর ভারতে সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণ-মহাভারত ও পুরাণ থেকে রাম-সীতা, রাধা-কৃষ্ণের মতো চরিত্র বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে। আরব-পারস্যের কাহিনী ঐতিহ্য ও সমাদৃত হয়েছে দোভাষী পুঁজিতে যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লাইলি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা, শিরি-ফরহাদ বাঙালি সংস্কৃতিতে মর্যাদা পেয়েছে ঘরের মানুষের মতো।
বাঙালি সংস্কৃতির এ আত্মীকরণের গুণটি নজরুল সাহিত্যে যেভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, সেভাবে আর কারও সাহিত্যে সম্ভব হয়নি। অপ্রতিম নৈপুণ্যে তিনি আরবি-ফার্সি শব্দের সমাবেশ ঘটিয়েছেন তার রচনায়। একই সঙ্গে শ্যামা সঙ্গীত, বৈষ্ণবপদ ও হামদ-নাত, ইসলামী সঙ্গীত রচনায় যে পারদর্শিতা নজরুল দেখিয়েছেন তা এক কথায় নজিরবিহীন। নজরুলের এ অদ্বিতীয় প্রতিভার তাৎপর্য হুমায়ুন আজাদ অনুধাবন করতে না পারলেও তার আদর্শিক গুরু বহুমাত্রিক লেখক বুদ্ধদেব বসু কিন্তু অনুধাবন করতে পেরেছিলেন ঠিকই। রবীন্দ্র প্রভাবমুক্ত হওয়ার আপ্রাণ প্রয়াসে লিপ্ত তিরিশের আধুনিক কবিদের দলপতি বুদ্ধদেব বসু লক্ষ্য করেছেন- “... সত্যেন্দ্রনাথকে মনে হয় রবীন্দ্রনাথেরই সংলগ্ন, কিংবা অন্তর্গত, আর নজরুল ইসলামকে মনে হয় রবীন্দ্রনাথের পরে অন্য একজন কবি- ক্ষুদ্রতর নিশ্চয়ই, কিন্তু নতুন।...কবিতার যে আদর্শ নিয়ে সত্যেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, নজরুলও তা-ই, কিন্তু নজরুল বৈশিষ্ট্য পেয়েছিলেন তার জীবনের পটভূমিকার ভিন্নতায়। মুসলমান তিনি, সেই সঙ্গে হিন্দু মানসও আপন করে নিয়েছিলেন- চেষ্টার দ্বারা নয়, স্বভাবতই। তার বাল্য-কৈশোর কেটেছে শহরে নয়, মফস্বলে; স্কুল-কলেজে ভদ্রলোক হওয়ার চেষ্টায় নয়, যাত্রাগান লেটোগানের আসরে; বাড়ি থেকে পালিয়ে রুটির দোকানে, তারপর সৈনিক হয়ে। এই যেগুলো সামাজিক দিক থেকে তার অসুবিধে ছিল, এগুলোই সুবিধা হয়ে উঠল যখন তিনি কবিতা লেখায় হাত দিলেন। যেহেতু তার পরিবেশ ছিল ভিন্ন এবং একটু বন্য ধরনের আর যেহেতু সেই পরিবেশ তাকে পীড়িত না করে উল্টো আরও সবল করেছিল তার সহজাত বৃত্তিগুলোকে, সেই জন্য, কোনোরকম সাহিত্যিক প্রস্তুতি না- নিয়েও শুধু আপন স্বভাবের জোরেই রবীন্দ্রনাথের মুঠো থেকে পালাতে পারলেন তিনি, বাংলা কবিতায় নতুন রক্ত আনতে পারলেন।”
বাংলা কবিতায় নতুন রক্তের ধারা নজরুল বইয়ে দিতে পেরেছিলেন বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি ধর্মের প্রকৃত মর্মটি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই। আবহমান বাংলা ছিল তার চৈতন্যে। বাংলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, বাঙালির বাইরে আদিবাসী সম্প্রদায় যারা যুগ যুগ ধরে এ বাংলারই অধিবাসী তাদের কাছ থেকেও তিনি সাহিত্য সৃষ্টির প্রেরণা ও উপকরণ পেয়েছেন। এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির যোগ্যতম রূপকার। বাংলার নবজাগরণের ও সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ ফসল রবীন্দ্রনাথ। তিনি শুধু বাঙালির নন, সমগ্র বিশ্বের। সেই বিবেচনায় নজরুলই ধারণ করেছিলেন অখণ্ড বাঙালি সংস্কৃতিকে এর সমন্বয়বাদিতাকে একটুও ক্ষুণ্ন না করে। পরম আবেগে উচ্চারণ করেছিলেন- বাঙলা বাঙালির হোক! বাংলার জয় হোক! বাঙালির জয় হোক! নজরুলের প্রকৃত পরিচয় তাই খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতির আঁধারে, বাঙালি সংস্কৃতির অবয়বে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নজরুলের সমসাময়িকতা by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ধরা যাক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ব্যাপারটা। ব্রিটিশের পরাধীনতার সেকালে স্বাধীনতার জন্য অনেকেই লিখেছেন, কিন্তু নজরুল যে স্বাধীনতার কথা বলেছেন সেটা পূর্ণ স্বাধীনতা। তার মন্তব্য ছিল এই রকম যে সরাজ-টরাজের আপসকামিতা ও ধোঁকাবাজিতে কাজ হবে না। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ণ স্বাধীনতা, যার অর্থ ভারতবর্ষের এক কণাও ব্রিটিশের অধীনে থাকবে না। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের অনেকেই এরকম কথা বলতেন না। তবে সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত বিপ্লবীরা পূর্ণ স্বাধীণতাই চাইতেন এবং সে জন্যই সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এদের অবস্থানের পরিষ্কার ছবি পাই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবি উপন্যাসে। সেখানে বিপ্লবী সব্যসাচি বলছেন যে তিনি বিপ্লব চান। এই বিপ্লবের অর্থ পূর্ণ স্বাধীনতা, কিন্তু সব্যসাচি সামাজিক বিপ্লব চান না। তার বিপ্লব ভদ্রলোকের বিপ্লব। সশস্ত্র বিপ্লবীরাও ওইরকম স্বাধীনতারই স্বপ্ন দেখতেন। তারা বিপ্লবে বিশ্বাস করতেন ঠিকই কিন্তু ওই বিপ্লব ছিল রাজনৈতিক প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা, যার অর্থ ক্ষমতা হস্তান্তর। তারা সামাজিক বিপ্লবের বিরোধী ছিলেন। যে বিরোধিতার কথাটা সব্যসাচি বেশ সুন্দরভাবেই বলেছেন। তার মতো পরাধীন ভারতের শিক্ষিত ভদ্রলোক শ্রেণীই ছিল সবচেয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত। এই বিপ্লবে তিনি কৃষককে সঙ্গে নিতে চাননি কারণ কৃষক অগ্রগামী নয়, অথচ কৃষকের তুলনায় শোষিত শ্রেণী ভারতবর্ষে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। করুণ সত্য এটাও, কৃষক শোষিত হতো ভদ্রলোক শ্রেণীর দ্বারা। পথের দাবিতে শোষী নামে যে চরিত্রটি আছে সে কবি। সব্যসাচি তাকেই নিজের দলে আনতে চাচ্ছেন। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে শষী আসতে প্রস্তুত নয়। এই শষীর ভেতর নজরুল আছেন।
নজরুল যে স্বাধীনতার কথা বলতেন সেটা কেবল সাম্রাজ্যবাদবিরোধীই নয়, সামন্তবাদবিরোধীও বটে। সাম্রাজ্যবাদের অভ্যন্তরে কার্যকর থাকে পুঁজিবাদ। অল্প বয়সেই নজরুল সেটা বুঝে ফেলেছেন। তার সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা ছিল পুঁজিবাদবিরোধিতা, একই সঙ্গে তিনি সামন্তবাদবিরোধীও ছিলেন। কৃষকের ওপরে জমিদার ও ভদ্রলোকের যে শোষণ তার বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন। স্বাধীনতার প্রশ্নে শরৎচন্দ্র ছিলেন একেবারেই আপসহীন। এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথকেও ছাড়িয়ে গেছেন কিন্তু সামন্তবাদের সমালোচনা করে তার নিপীড়নমূলক চরিত্র নিজের লেখার মধ্যে উন্মোচিত করা সত্ত্বেও সামন্তবাদী সংস্কৃতির প্রতি তার ছিল একটা গোপন ভালোবাসার টান। কিন্তু সব্যসাচির সাক্ষ্য থেকে বোঝা যায় তিনি শ্রেণীর যে সীমা সেটা অতিক্রম করতে পারেন নাই। সেকালে শ্রেণী এবং সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কযুক্ত হয়ে পড়েছিল। কৃষক শ্রেণীর অধিকাংশই ছিল মুসলমান। আর জমিদার ও শিক্ষিত বা অধিকাংশ ছিল হিন্দু।
স্বাধীনতা বলতে নজরুল কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা বুঝতেন না, তার স্বাধীনতা ছিল জনগণের মুক্তির ধারণা পর্যন্ত প্রসারিত। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমাজ বিপ্লবী, তার অবস্থানটা দাঁড়িয়েছিল সমাজতান্ত্রিক। সেদিনের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয়তাবাদীরাও ছিলেন, সমাজতন্ত্রীরাও ছিলেন। সমাজতন্ত্রীরা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক এবং সমাজ বিপ্লবী। জাতীয়তাবাদীরা সাম্প্রদায়িকতাকে এড়াতে পারেননি, যার জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িকতায় পর্যবসিত হয়েছিল। আবার এই সাম্প্রদায়িক বিরোধের কারণে ৪৭ সালে স্বাধীনতার নামে আমরা যা পেয়েছি তা ক্ষমতা হস্তান্তর আর দেশ ভাগের চেয়ে বেশি কিছু নয়। ক্ষমতা হস্তান্তর জনগণের মুক্তি আনেনি, দেশ ভাগ সাম্প্রদায়িকতার অবসানও ঘটায়নি। উপরন্তু প্রাণহানি ও জন্মভূমি থেকে উৎপাটন এবং অর্থনীতি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিপদ ডেকে এনেছে, যা থেকে আমরা এখনও মুক্ত হতে পারিনি। সাম্প্রদায়িকতারও অবসান ঘটেনি। পুঁজিবাদীদের নিষ্পেষণ ও আনুকূল্যে ধর্মীয় মৌলবাদ বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ধর্মীয় মৌলবাদ একটি সমস্যা বটে, কিন্তু ভারতের জন্য এই সমস্যা যে আরও গভীর ও প্রকট তার প্রমাণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অবিশ্বাস্য বিজয়। এই পার্টি ধর্মীয় পুনর্জ্জীবনবাদী। কেবল তা-ই নয়, এর কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।
নজরুল মূল সত্যকে জানতেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার যে অবস্থান সেটা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মকে তিনি রাজনীতিতে আনার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন। এবং এই সাম্প্রদায়িকতা যে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দ্বারা তুষ্ট এটা তিনি স্বচ্ছভাবে দেখতে পেয়েছেন। যে জন্য তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল সাম্রাজ্যবাদ। সাম্প্রদায়িকতাকে এভাবে শনাক্ত করা তার কালে কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। তিনি জানতেন যে পুঁজিবাদের দুঃশাসন কায়েম থাকলে সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটবে না এবং শ্রেণী শোষণ অব্যাহত থাকবে। সে অবস্থায় স্বাধীনতা এলে সে স্বাধীনতা মানুষের মুক্তি আনবে না।
৪৭-এ নজরুল সুস্থ ছিলেন না। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। নইলে দেশভাগ তার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হতো। কিন্তু কেবল দেশভাগ নয়, সাম্প্রদায়িকতার নৃশংসতা এবং মৌলবাদের অব্যাহত বিকাশ তাকে সহ্য করতে হতো। নজরুল নিজেকে ভবিষ্যতের নবী বলেননি, কিন্তু ভবিষ্যৎকে তিনি পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল যে, পুঁজিবাদকে যদি পরাভূত করতে না পারা যায় তা হলে মানুষের মুক্তি আসবে না। সাম্প্রদায়িকতা টিকে থাকবে এবং শ্রেণী শোষণ নির্মম আকার ধারণ করবে। তার এই আশঙ্কা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। নজরুলের কালে যারা আধুনিক বলে পরিচিত ছিলেন সেই মানুষেরা রুচিতে আধুনিক হলেও দৃষ্টিভঙ্গিতে আধুনিক ছিলেন না। তারা ছিলেন সমসাময়িক। যদিও সাম্রাজবাদটা ছিল আধুনিকতার। তার কালে প্রবীণ কবি ও সমালোচক বুদ্ধদেব বসু আধুনিক বলে পরিচিত। তার সেই আধুনিকতা ছিল সমসায়িকতার নামান্তর। তিনি সাহিত্যের ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিকাশের সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন, সেই বিকাশের সঙ্গে সংহতি রেখে সাহিত্যে চর্চা করেছেন। ওই সমসাময়িকতার সাতিত্যিক উপাদানগুলো ছিল নিঃসঙ্গতা, আÍকেন্দ্রিকতা, ক্ষোভ ও যৌনতা। বুদ্ধদেবসহ তিরিশের অধিকাংশ কবিই সমসাময়িকতার এই উপাদান দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন। নজরুল ছিলেন ব্যতিক্রম। তার কাছে কেবল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নয় রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবও ছিল সমসাময়িক। কিন্তু তিনি সমসাময়িক থাকতে সম্মত হননি, যে জন্য বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী হতাশা নির্বেদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা তাকে আক্রমণ করতে পারেনি। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের যে ভবিষ্যৎ যাত্রা তার আধুনিকতাকে তিনি নিজের সৃষ্টির মধ্যে নিয়ে এসেছেন। নজরুল সাম্যের গান গাইতেন। তার কাছে শ্রেণী ও সম্প্রদায়ের বিভাজন এবং অসাম্য ছিল সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সেই সঙ্গে তিনি নারী-পুরুষের ভেতর যে সামাজিক বৈষম্য তার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তিনি যে বলেছেন তার চোখে পুরুষ ও নারীতে ভেদাভেদ নেই, সেটা কোনো তাৎক্ষণিক উক্তি নয়, এটা তার মনোজগতে গভীরভাবে প্রথিত। সে কালের আধুনিকেরা অনেকেই নারীকে কেবল প্রেমিকা হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন। নজরুল নারীকে দেখেছেন মানুষ হিসেবে। এই পার্থক্যটা সামান্য নয়।
পুঁজিবাদ নারীকে মর্যাদাদানের কথা বলে কিন্তু তাকে নানাভাব বৈষম্যের বেষ্টনীতে আবদ্ধ রাখে, এমনকি পণ্যেও পরিণত করে। নজরুল এই ব্যবস্থাটাকে ভাঙতে পেরেছেন। আজকের দিনে এই বাংলাদেশেও দেখছি যে মেয়েরা অনেক এগিয়েছে কিন্তু তাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়নি। এর কারণ পুঁজিবাদ। নজরুল উচ্চশিক্ষিত ছিলেন না কিন্তু উচ্চশিক্ষিত মানুষরা যা বোঝেনি নজরুল তা হৃদয় ও বুদ্ধি দিয়ে বুঝে নিয়েছেন, সে জন্য তিনি ছিলেন সামাজিক বিপ্লবের পক্ষে। নজরুল গানের কবি ছিলেন, তার কবিতায় গান আছে, গানে কবিতা রয়েছে কিন্তু এ গায়ক যে গান গেয়েছেন সেটা মূলত সাম্যের। মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা ও আনন্দের কথা তার কবিতা ও গানে রয়েছে। বেদনা ব্যক্তিগত কারণে ঘটে- শোকে বিচ্ছেদে বিপদে মানুষ বেদনার্থ হয়। কিন্তু বেদনায় সামাজিক কারণও রয়েছে। আনন্দও ব্যক্তিগত কিন্তু ব্যক্তির আনন্দ বিঘ্নিত এবং সীমাবদ্ধ হয়ে যায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কারণে। নজরুল ব্যক্তিগত বেদনা ও আনন্দের পেছনে যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে তাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এখানেও তিনি একাধারে আধুনিক, সমসাময়িক ও চিরকালীন।
নজরুল তাই আমাদের সমসাময়িক হয়েই থাকবেন। যে সমস্যা ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন সেগুলো এখনও বিদ্যমান। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি আধুনিক। কেননা ওই ব্যবস্থার কাছে তিনি আÍসমর্পণ করেননি, ভাঙতে চেয়েছেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুঠোফোনে নিঃশ্বাসের শব্দ by স্বপ্না রেজা
অফিসের ছোট্ট টেবিলটার কোলঘেঁষেই বসেন বখতিয়ার সাহেব। শুভর প্রতি তার কৌতূহল প্রচুর; কারণে অকারণে, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ওই কৌতূহল।
কী হল আপনার? মন খারাপ? বখতিয়ার সাহেবের প্রশ্ন। সুযোগ পেলেই প্রশ্ন করার অভ্যাস মানুষটার। উত্তর পাক আর না পাক। বিরক্ত ধেই ধেই করে বেড়ে যায় শুভর। বয়স পঞ্চাশ পার হওয়া বখতিয়ার সাহেব দিন দিন পরজীবী উদ্ভিদের মতো বেড়ে উঠছেন। কাছে কাউকে পেলেই ধরে বসেন। গায়ে পড়ে কথা বলেন। প্রাসঙ্গিকতা নেই। তারপরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা। হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। যেন শুভর হৃৎপিণ্ডটাও বেজে উঠল। বখতিয়ার সাহেবের চোখ দুটো বৃত্তের মতো গোল হয়ে উঠেছে। সরে যায় শুভ।
হ্যালো! জমে থাকা আবেগ কাঁপিয়ে দিচ্ছে শরীর। নিশ্চল নদীতে ঢেউয়ের পর ঢেউ। ওপাশ থেকে ভেসে আসে অসম্ভব রকম চাওয়া সেই কণ্ঠস্বর। কেমন আছ শুভ? শান্ত আর সাবলীল প্রশ্ন অর্নার। অবাক হয় শুভ। চোখ ভিজে ওঠে। ঝাপসা হয় দৃষ্টি। উত্তর খুঁজে পায় না।
কাঁদছ? না দেখেও অর্নার বুঝতে পারার ক্ষমতা অনেক। অর্নার প্রশ্নে শুভর কান্নার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
উফ্! একটুতেই তুমি কাঁদো! তোমার চোখের পানি বড্ড বেশি সস্তা!
তুমি ফোন করা ছেড়ে দিয়েছ! শুভর অভিমান।
মিথ্যা বলো না। কম কথা হয় এটা সত্য। অর্না ভুল ধরিয়ে দেয়। শুভর অভিমান জোরালো হয়।
তোমার আমার সম্পর্কের মূল সেতু তো এই ফোন অর্না!
মানে? বজ পাতের মতো শোনায়। অর্না জ্বলে ওঠে। দ্যাখো শুভ সম্পর্ককে কোনো কিছুর সঙ্গে জুড়ে দিও না! ফোন না থাকলে কি আমাদের সম্পর্ক থাকবে না?
হয়তো থাকবে যোগাযোগহীনভাবে। আমিতো তোমাকে এখনও দেখতে পাইনি অর্না! কথার যোগসূত্রেই কাছে থাকা। তোমার ছবি আঁকা। না দেখলে, না কথা বললে সম্পর্ক বাঁচে কী করে?
অর্না নিরুত্তর। ছোট ছোট শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পায় শুভ। যেন স্তব্ধতার মাঝ থেকেই অনেক পাওয়ার ইঙ্গিত। ভ্রম কিনা তা যাচাই করতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই শুভর। স্বপ্নের ছকে ফেলে নিজেকে খোঁজার আনন্দ অনেক। যদিও এই আনন্দ এখন অশ্র“ভেজা।
কিছু বলছ না যে, অর্না?
ভাবছি সম্পর্কটা বাঁচা-মরার প্রশ্নে এসে ঠেকেছে। ভালো শুভ। অর্নার কথায় অন্যরকম সুর। অধীর হয় শুভ।
তুমি একবার দেখা দাও অর্না!
হবে। খুব শিগগিরই হবে।
টেবিলে ফিরে আসে শুভ। কপাল ভরা বিন্দু বিন্দু ঘাম। বখতিয়ার সাহেবের দৃষ্টি অবিকল রয়ে গেছে। সিগারেটে পুড়ে যাওয়া ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করা।
মন ভালো হল? শুভর বিরক্তি সীমা ছাড়ায়। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই বখতিয়ার সাহেবের। টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু বের করে শুভর দিকে এগিয়ে দেয়।
কপালের ঘাম মুছে নিন। এত্ত ঘামলে হয়? নাছোড়বান্দা এই মানুষটির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হল তার কথা শোনা। টিস্যু নিয়ে কপালের ঘাম মুছে ফেলে শুভ। কাজে মন বসাতে চেষ্টা করে। ফাইলে ঠাসা নোটগুলো শুয়োপোকার মতো হেঁটে বেড়ায়। শরীর শিরশির করে ওঠে। মোবাইলে ম্যাসেজ আসে। অর্না লিখেছে, কাল সকাল এগারোটায় দেখা হবে। বেইলি রোডের পিৎজা হাটে। মন উড়ে যায় কাজ থেকে। সম্ভব নয় কোনোভাবেই মনকে আর ধরে রাখা। বখতিয়ার সাহেবের দৃষ্টি শুভর মোবাইল ফোনে। শুভ মোবাইল ফোন প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে।
রুমের দেয়ালে লেপ্টে থাকা কলিংবেল কর্কশ স্বরে বেজে ওঠে। বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনের হুইসেল যেন। ইন্টারকম ফোন থাকতে এ ধরনের তলব-সংস্কৃতি ভালো লাগে না শুভর। বেশ কবার এ নিয়ে কথা বললেও কাজ হয়নি। বখতিয়ার সাহেব পড়িমরি করে দৌড় দিলেন। আর শুভ বের হয়ে আসে অফিস থেকে।
বাসে চড়ে সোজা গাউছিয়া মার্কেট। অর্নাকে প্রথম দেখার দিন কাল। খালি হাতে কোনোভাবেই নয়। সামর্থ্যরে নাগালে একটা শাড়ি অর্নার হাতে দেয়া চাই। পাঁচটি বছর সম্পর্ক চলছে মোবাইল ফোনে। কথা শুনে, নিঃশ্বাসের শব্দ গুনে মেয়েটির একটি ছবি শুভর হৃদয়ে আঁকা হয়ে আছে। চোখ, ভ্রু, ঠোঁট, চুল সবকিছুই যেন শুভর অতিচেনা। অদেখার মাঝে দেখার এত তীব্রতা শুভর ভালোবাসার বয়স বাড়িয়েছে কেবল। পকেটে নগদ তিন হাজার টাকা। মাসের বাকি দিনগুলো চালিয়ে নেয়ার অবলম্বন। হিসাবের বাইরে এখন শুভ। তাগাদা নেই জীবন যাপনের প্রয়োজনের মুখোমুখি হওয়ার। একটাই প্রয়োজন, অর্নাকে দেখার ছোট্ট এক আয়োজন। মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। বখতিয়ার সাহেব খুঁজছে শুভকে। কপাল ভরা বিরক্ত নিয়ে ফোন কানে তোলে শুভ।
কী ব্যাপার?
কই গেলেন? বস খোঁজে আপনাকে। বখতিয়ার সাহেবের কণ্ঠে ঠাট্টার আভাস।
ব্যক্তিগত কাজে বের হয়ে গেছি। আপনি চালিয়ে নিন।
আরে ভাই একজনার প্রয়োজন কি আরেকজনকে দিয়ে পূরণ হয়? তারপর হে হে করে হাসি। গাড়ির শব্দে আরও বিকট শোনায়। হাসি থামিয়ে আবার কথা, আপনি বড্ড অস্থির যুবক! এবার সত্যি মেজাজ বিগড়ে যায় শুভর।
ফোনটা রাখবেন দয়া করে?
জ্বি রাখব। দরদাম করে কিনবেন, যাই-ই কিনুন।
আশ্চর্য কী করে বখতিয়ার জানল শুভ মার্কেটে। লোকটি জিন না তো?
জেগে রাতটা পার হল। অর্নার সঙ্গে শুভর পরিচয়ের পর থেকে রাত জাগা শুরু। অর্নাকে দেখার অপেক্ষায় নির্ঘুমকে কাছে পাওয়া। তবে প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে অর্না ও শুভ দুজন দুজনকে সুন্দর কথা লেখে মোবাইল ফোনের ম্যাসেজ বক্সে। সারা দিনের অবসাদ, ক্লান্তি দূর করার এ এক নিবিড় স্পর্শ যেন। অনুভবের মাঝে একমাত্র বসবাসকারী অর্নার ম্যাসেজ না পেলে ঘুম আসে না শুভর। অপ্রচলিত এ চর্চা অপ্রচলিত হয়ে গেল শেষঅব্দি। অর্নার বোধে এমন চর্চার আর জায়গা থাকল না। জ্ঞান বা অজ্ঞানতাবশত কোনো ভুল হলেও তার ক্ষমা চেয়েও ফেরাতে পারেনি শুভ অর্নাকে সেই অনাবিল সুখ চর্চা থেকে। অর্না থেমে গেলেও শুভ থামেনি। নিজের এমন পরিবর্তন চায় না শুভ। অর্নাকে ভালোবাসার অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু নয়।
বিছানার লাবণ্য গাঢ় হয় অর্নার ফোন কলে। অনেকদিন পর আবার হল। অর্নার ফোন। জানালায় ঝুলে থাকা পর্দার ফাঁক দিয়ে সূর্যের হাসি ঘরে ঢোকে। ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভাব নেই।
হ্যালো! কেমন আছ? অর্নার প্রশ্ন শত সহস কিলোমিটার দীর্ঘ।
তারপরও শুভ বলে,
তোমার অপেক্ষায় আছি! দেখা আর স্পর্শ করার অপেক্ষায়! তোমার গন্ধ নেয়ার অপেক্ষায়!
প্রেমিকের মতো কথা বলছ কেন?
সম্পর্কের একটি দৃশ্যমান অভিব্যক্তি জরুরি অর্না! দিশেহারার মতো কথা বোঝাতে চায় শুভ। আচ্ছা প্রেম করলে প্রেমিক, প্রেমিকা হয়। আর ভালোবাসলে?
হুম। বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে আছ।
হওয়ার কারণ আছে? তুমি হচ্ছ না? জানতে চায় শুভ।
না। অর্না বেশ সাবলীলভাবে জবাব দেয়। সম্পর্কের শুরুতে এ রকম প্রশ্নের উত্তর অসমাপ্ত থেকে যেত। অনেক কথা বলেও অর্না ক্ষান্ত হতো না। সেই অর্না এখন এ রকম প্রশ্নের উত্তর করে না। আজ যেহেতু একটা বিশেষ দিন তাই শুভ পরিবেশ মধুর রাখতে সচেষ্ট।
জানো অর্না! এতদিন তোমাকে ভেবে আমি অনেক কবিতা লিখেছি। কবিতা ছেড়ে আমার ভাবনায় তুমি আজ মর্ত্যে আসবে! আমার দৃষ্টির কানায় কানায় তুমি ভরে উঠবে! উফ্! ভাবতেও ভালো লাগছে!
অর্না নিরুত্তর।
কী পরে আসবে তুমি?
কেন?
তোমায় চিনে নেব।
নাই-ই যদি বলি। দেখব চিনতে পার কি না। অর্না শুভর হৃদয়ে লেপ্টে থাকা ছায়া। চিনতে ভুল হওয়ার কথা নয়। দেখা হওয়ার আকুল বাসনা জানিয়ে, অফুরান সুখ পাওয়ার আভাস ছড়িয়ে শুভ ফোনের কথা শেষ করে।
দুহাজার তিনশ টাকা দিয়ে অর্নার জন্য একটা শাড়ি আর একশ পঞ্চাশ টাকা দিয়ে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে নিজের জন্য একটা নতুন শার্ট কেনে শুভ। ফুটপাতে ঝোলানো সারি সারি শার্ট থেকে একটি বেছে নেয় অর্নার পছন্দটা মাথায় রেখে। অভ্যাস না থাকলেও আজ মোটামুটি দামি সেলুনে ঢোকে। চুল কাটা, সেভ করা বাবদ আড়াইশ টাকা বের করে দেয়। নিজেকে পরিপাটি করা যেন শতভাগ। অর্নার পাশে নিজেকে মানানসই করার চেষ্টা। অন্যান্য দিনের মতো দ্বিধা, সংশয় বা সংকোচ নেই। নেই কৃপণতা। ঘড়ির কাঁটাকে দৃষ্টির আড়াল হতে না দেয়ার চেষ্টা শুভর। বেইলি রোডের পিৎজা হাট বেশ বড়। বুকের ভেতর অদ্ভুত অন্য রকম এক অনুভূতি নিয়ে শুভ পৌঁছায় পিৎজা হাটের দোরগোড়ায়। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই আসা। মোবাইলে কোনো তথ্য নেই। হয়তো অর্না রাস্তার জ্যামে। পিৎজা হাটের ভেতরে বসে শুভ। চারিদিক অনুসন্ধানী চোখ। বেশ কজনকে অর্না বলে মনে হলেও মনে হওয়াটা বেশিদূর গড়ায় না। মোবাইল নিশ্চুপ, হাতঘড়িও। কল্পনায় নিয়ে আসে অর্নাকে। ইশ্! এত অপরূপ! দেহের ভেতর এঁটে থাকা হৃৎপিণ্ডের ছোট্ট ছোট্ট শব্দ ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমশ। ধ্যানে বিভোর শুভ কেঁপে ওঠে। এক স্পর্শ, এক গন্ধ শুভকে ছুঁয়ে যায়। চোখ মেলে শুভ। শ্বাস আটকে যায়। সংস্পর্শে দাঁড়িয়ে নীল শাড়ি পরা এক নারী মোবাইলে ব্যস্ত। শুভর মোবাইল কেঁপে ওঠে। স্ক্রিনে ক্ষুদ্রবার্তা, এলাম। তারপর মুখোমুখি অর্না আর শুভ। অপলক দৃষ্টি। শুকনো মাটি যেন অঝোর বৃষ্টি শুষে নিচ্ছে চাহিদামতো। এক রত্তি সময় ব্যয় হয়নি চিনে নিতে কেউ কাউকে। দুজনই নির্বাক। কথা খুঁজে না পাওয়ার নদীতে ভাসছে। শুভ অবাক হয় অর্নার সৌন্দর্যে বিধাতার এতটা বাড়াবাড়ি দেখে।
তুমি অনেক সুন্দর! বিধাতা নিজ হাতে তোমায় এঁকেছেন!
তুমিও।
ধ্যাৎ! আমি নই। আমি একটু চিৎকার করি? ইয়েয়য়য়য়! শুভর পাগলামির সুইচ অন হয়ে গেছে।
গলা বাড়িয়ে, শব্দ করে শুভ বলে, আমি আজ দারুণ সুখী! ওহ্ খোদা! শাড়ির প্যাকেট এগিয়ে দেয় শুভ। তোমার জন্য অর্না! আমি পছন্দ করেছি। তুমি পছন্দ করবে তো? শুভ হাঁপাচ্ছে।
একটু স্থির হও শুভ! অর্না বেশ শান্ত।
শুভ নিজের অস্থিরতায় কিছুটা লজ্জিত হয়। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে মুঠোফোনে প্রতিদিন নিঃশ্বাসের শব্দ গোনা মানুষটিকে অপরিচিত মনে হয়। মানব প্রকৃতির কী বিচিত্রতা। প্যাকেট খুলে শাড়ি দেখে অর্না।
সুন্দর!
সত্যি?
হ্যাঁ। তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে শুভ।
আজ বাদ দাও না! আজ শুধু তোমাকে দেখি!
না-এর একটা মস্ত ঢেউ বুকে করে অর্না তীরে ওঠে। শুভ খেয়াল করে পাশের চেয়ারে এসে বসে এক পুরুষ। চওড়া দৃষ্টি।
ঠোঁট কাঁপানো হাসি। পুরুষটিকে দেখে অর্নার চেহারায় অন্য রোদের আভাস ফোটে।
এই তোমার সেই মানুষ, যে তোমাকে ভাবায়? পুরুষটির বিগলিত কণ্ঠ, গলিত লাশের মতো। এই পুরুষটি কী হয় অর্নার?
শুভ, উনি হচ্ছেন আমার স্বামী সায়মন।
শুভর সমস্ত শরীরে তিরতির করে বইতে শুরু করে হিম লোহিত ধারা। জটলা বেঁধে গেছে আবেগের। অর্না বলে চলছে,
সায়মনের সঙ্গে আমার দূরত্ব তোমার কাছে আমাকে পৌঁছে দিয়েছিল। সে দূরত্ব এখন ঘুচে গেছে। কিন্তু তোমাকে আমি ভালোবাসি। ভালোবাসব শুভ যতদিন বাঁচি।
শুভ জীবনপূর্ণ বিস্ময় নিয়ে চেয়ে থাকে। কেন বলেনি এতদিন অর্না! পাঁচ বছর ধরে দেখার যে অপেক্ষার ঘর শুভর বুকে তা অবিশ্বাসের রিখটার স্কেলে হেলে পড়ল। সুখের ধ্বংসস্তূপে ভর করল দিগন্তছোঁয়া কষ্ট। শুভ বুঝে উঠতে পারে না কী বলা যায়। কী বলা উচিত। মন, শরীরের কোনো অংশে অবস্থান করছে এ মুহূর্তে বোঝা মুশকিল। সে চেষ্টাও বৃথা। তারপরও শুভ টেনে টেনে বলে।
শুভকামনা অর্না! প্রেমের পরিণতি পরিণয়। আর ভালোবাসার পরিণতি, কষ্ট। একান্ত আমার হয়ে থাকুক সে কষ্ট।
সায়মন মোবাইলে কথা বলার অজুহাতে একটু দূরে সরে যায়। অর্নার চোখ থেকে অশ্র“ গড়িয়ে পড়ে।
আমি কি তোমাকে একটু স্পর্শ করতে পারি শুভ?
জানি তোমার স্পর্শ আমাকে দেয়ার জন্য নয়, আমার স্পর্শ নেয়ার জন্য হলে হয়তো পারো।
তুমি আমাকে চাও না?
চেয়েছিলাম।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আম্মার লেখায় মুজিব কাকুর অসন্তুষ্টি

১৯৭১-এ ভারত ও বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭২-এর ১৫ মার্চ বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার হয়। আব্বুর উদ্যোগে সূচিত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চুক্তি এবং সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে ঐ চুক্তির প্রতি ভারতীয় সরকারের শ্রদ্ধা প্রদর্শন সারা বিশ্বের জন্যই ছিল গৌরবোজ্জ্বল এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি লিখেছেন, কাঁচা আমের মৌসুমে আমরা দরদরিয়া গ্রামে গেলাম আব্বু ও আম্মার সঙ্গে। আমাদের নিয়ে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করল দরদরিয়া প্রাইমারি স্কুলের খেলার মাঠে। আমাদের বরণ করতে এসেছে অগণিত মানুষ। হেলিকপ্টার থেকে নামতেই রিমি, আমি দৌড়ে গেলাম বাড়ির দিকে। পশ্চিমের কোঠাবাড়ি, যেখানে আব্বুর জন্ম, হানাদার বাহিনী সেটা পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের প্রপিতামহের সময়ের গজারি কাঠ ও এঁটেল লাল মাটির মিলনে গঠিত কাঠের বারন্দা দিয়ে ঘেরা এই দোতলা বাড়িটির জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে কঙ্কাল পোড়ামাটি। মানুষজন আগ্রহভরে বললেন যে, দেশ স্বাধীন হয়েছে এখন আর চিন্তা নেই। ঐ পোড়া-ভিটায় আবারো বাড়ি উঠবে। আব্বু উত্তর দিলেন, যত দিন বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা না হবে তত দিন ঐ ভিটায় বাড়ি উঠবে না। (আব্বু বেঁচে থাকতে ঐ ভিটায় বাড়ি ওঠেনি। মফিজ কাকুর পরিবার বহু পরে একটি সাধারণ ঘর তুলেছিলেন।) এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আব্বু বললেন যে, তিনি তো শুধু তাঁর এলাকার মন্ত্রী নন, তিনি সারা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। উন্নয়ন শুরু করতে হবে সারা বাংলাদেশেই, সমানভাবে। তাঁর এলাকাকে প্রাধান্য দিলে তা হবে স্বার্থপরের মতো কাজ। এ প্রসঙ্গে আব্বু এক সহজ সুন্দর উদাহরণ টানলেন। বললেন, আমাদের দেশের রীতি হলো মেহমানকে আদর-যতœ করে ভালো ভালো খাবার খাইয়ে তারপর যা থাকে নিজেরা ভাগ করে খাওয়া। সুতরাং এলাকাবাসীকেও চিন্তা করতে হবে সামগ্রিকভাবে। সারা বাংলাদেশকে আদর-যতœ করে গড়ার কথা ভাবনায় রাখতে হবে। আমরা একনিষ্ঠভাবে আব্বুর কথা শুনছি, হƒদয়ে গেঁথে নিচ্ছি তাঁর প্রতিটি কথা। প্রত্যক্ষ করছি তাঁর কাজের মাঝে কথার অসামান্য প্রতিফলনকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বর্বরতার বর্ণনার পাশাপাশি এক পাকিস্তানি অফিসারের মানবিকতারও বর্ণনা দিয়েছেন শারমিন আহমদ। তিনি লিখেছেন, বিজয়ের মাত্র ক’দিন আগেই বড় মামু ও তাঁর পরিবার প্রাণে বেঁচে যান এক পাকিস্তানি সেনা অফিসারের বদান্যতায়। বিজয়ের চার মাস আগে বড় মামুর পাশের হিন্দু প্রতিবেশীর বাড়িটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দখল করে নেয় এবং সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে। বাড়ির মালিক তার আগেই পরিবারসহ আত্মগোপন করেছেন। ক্যাম্প স্থাপনের পর ক্যাম্পের মেজর বোখারী নামের এই অফিসার বড় মামুর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। তাঁর ব্যবহার খুব ভালো। তিনি জানান যে পরিবার থেকে এতদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর আর ভালো লাগছে না। ঘরের খাবার, ঘরোয়া পরিবেশ ইত্যাদি তিনি খুব মিস করছেন। অতিথিপরায়ণ, উদারচিত্ত বড় মামু তাঁকে প্রায়ই মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজে ডেকে নিতেন। অফিসার বড় মামির রান্নার খুব প্রশংসা করতেন এবং বড় মামুকে সম্বোধন করতেন ‘ভাই’ বলে। ১৩ ডিসেম্বর সকালে কারফিউ ওঠার পর বড় মামু বাজার নিয়ে ঘরে ফেরেন। তার কিছুক্ষণ পরই সেই অফিসার ঘরে ঢুকে বড় মামুকে নিভৃতে কিছু কথা বলে বেরিয়ে যান। বড় মামু মামিকে বলেন যে অতিসত্বর ছেলেমেয়ে নিয়ে তিনি যেন গাড়িতে ওঠেন। গোটা বাজার রান্নাঘরে যেখানে আছে তেমনই থাকুক। ঘটনা গুরুত্বর। গাড়িতে উঠে বড় মামু ঘটনা খুলে বলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে ঐ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছিল বড় মামুর ওপর নজর রাখতে। তারা জানত যে জোহরা তাজউদ্দীন তাঁর বোন। বোনের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না সে সম্বন্ধে তথ্য আদায়ের জন্য তিনি বড় মামুর সঙ্গে ভাব করেন। ক’মাস মেলামেশার পর বুঝতে পারেন যে বোনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নেই। ঘর-সংসারের দায়িত্ব পালনেই এই ব্যক্তি ব্যস্ত। এরই মধ্যে ব্যক্তিগতভাবেও বড় মামুকে তাঁর ভালো লেগে যায়। সেইদিন তিনি খবর পেয়েছেন যে আজ কিবরিয়া সাহেবের (বড় মামু) বাড়ির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সংকেতটি গুরুত্বর। তিনি যেহেতু তাঁকে ভাই সম্বোধন করেছেন সেই কারণে ভাই হিসেবে তিনি এসেছেন তাঁকে সতর্ক করতে। অবিলম্বে কিবরিয়া ভাই যেন পরিবারসহ গৃহ ত্যাগ করেন। অফিসারের সতর্কবাণী অনুসারে বড় মামু তাঁর পরিবারকে নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করলেন ধানমন্ডি থেকে অনেক দূরে গোপীবাগে তাঁর বন্ধুর বাড়িতে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা মুক্ত হওয়ার পর বিজয়ের আনন্দমুখর পরিবেশে ফিরে এলেন নিজ গৃহে। ফিরে এসে বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে শুনলেন যে তিনি গৃহত্যাগ করার পর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবাঙালি, বাঙালি রাজাকার ও পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়। তারা যে ট্রাকে করে এসেছিল সেই ট্রাকের মধ্যে কালো কাপড়ে চোখ ও মুখ বাঁধা বেশ কিছু তরুণ ও মধ্যবয়সীকেও সে দেখতে পায়। তাদের কারো কারো আচরণে মনে হয় যে তারা যেন পিতা ও পুত্র বা নিকট আত্মীয়। কুখ্যাত বদরবাহিনী বুদ্ধিজীবীদের অনেককে তো এভাবেই কালো কাপড়ে চোখমুখ বেঁধে হত্যা করে বিজয়ের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত। বড় মামু ও তাঁর পরিবারকে যে অফিসার বাঁচিয়েছিলেন তার খোঁজ বড় মামু স্বাধীনতার পর পান বহু কষ্টে। ঢাকা সেনানিবাসে তিনি ছিলেন অন্য যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে। বড় মামুকে দেখে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ভারতে এ চ.ঙ.ড ক্যাম্পে না যাওয়া পর্যন্ত বড় মামু এই যুদ্ধবন্দির খোঁজখবর নিতেন। কখনো তিনি তাঁর জন্য নিয়ে যেতেন শীতের কাপড়, খাবারদাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সীমা লঙ্ঘন, নিষ্ঠুরতা ও নিমর্মতার মধ্যেও মানবিকতার স্পর্শ যেন নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়। আবার একই মানবজাতির মধ্যে দানবীয় আচার ও আচরণ প্রত্যক্ষ করে আমার ঐ নবীন বয়সেই মনে প্রশ্ন উদিত হয় নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যা, গণহত্যা ও যুদ্ধের প্রকৃত কারণ কী ! প্রশ্নটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই পার হয়ে যায় জীবনের অনেকগুলো অধ্যায়। পৃথিবীর যাবতীয় আধ্যাত্মিক দর্শন বলে যে অন্যায়, অবিচার, নিষ্ঠুরতা, হত্যা, গণহত্যা, যুদ্ধ প্রভৃতি মানবতাবিরোধী আচরণের মূল কারণ হলো অহংবোধ (বমড় বা নাফস আল-আম্মারা) যা মানুষকে অজ্ঞ করে রাখে তার মানবজীবনের প্রকৃত লক্ষ্য সম্বন্ধে। অহংবোধে আচ্ছন্ন মানুষ বিস্মৃত হয় যে তার পৃথিবীতে জš§ানোর মূল কারণ ও লক্ষ্য হলো উচ্চ-সত্যের (উচ্চ-সত্যকে অভিহিত করা হয় আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বর, গড এবং আদি আমেরিকানদের ভাষায় ‘গ্রেট স্পিরিট’ ইত্যাদি নানা নামে) সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। সংযোগ স্থাপনের মূল দুটি উপাদান হলো প্রেম ও জ্ঞান। যেকোনো সভ্য সমাজের প্রাণশক্তি হিসেবে ঐ দুটি উপাদানের প্রয়োগ যখন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় তখনই সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বৃদ্ধি পায় অন্যায়-অবিচার, নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, লোভ ও লালসা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘটিত গণহত্যার কারণ খুঁজতে ও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পার হয়ে যায় কয়েক যুগ। বসন্তের প্রভাত অজান্তেই মিলে যায় হেমন্তের সন্ধ্যায়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধরে নাও চিরদিনের জন্যই যাচ্ছি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আব্বু চিন্তিত মুজিব কাকু আমলেই নিলেন না
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মুজিব কাকু সরে গিয়েছিলেন অনেক দূরে’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুজিব কাকু বললেন ‘তাজউদ্দীন, আমি কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হব’
১২ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় আম্মাসহ আমরা বঙ্গভবনে গেলাম। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আব্বু মুজিব কাকুর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার সমর্পণ করলেন। উদ্দীপ্ত ঝলমলে হাসিভরা মুখে আব্বু বললেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। নেতার অনুপস্থিতিতে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত থেকে দেশকে স্বাধীন করেছি। আবার নেতাকে মুক্ত করে তারই হাতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার তুলে দিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। অন্তত ইতিহাসের পাতার এক কোনায় আমার নামটা লেখা থাকবে।‘ আম্মার পাশে বসে আব্বুর হাসিভরা গৌরবদীপ্ত মুখ, মুজিব কাকুর আত্মপ্রত্যয়ী অভিব্যক্তি ও চারদিকের আনন্দঘন পরিবেশ দেখে সেদিন মনে হয়েছিল আর শঙ্কা নেই। বাংলাদেশের সুদিন বুঝি ফিরে এলো।
বইয়ের অপর এক অংশে শারমিন আহমদ পিতা তাজউদ্দীন আহমেদের হতাশার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, আমার নবীন কৈশোরে যখন উম্মিলিত হচ্ছে নতুন স্বপ্ন, নতুন জগৎ ও জিজ্ঞাসা, আব্বু তখন মহাব্যস্ত স্বাধীনতার জ্যোতির্ময় স্বপ্ন, সাম্যবাদী ন্যায়বিচার-ভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে। ওই সংগ্রামে আব্বু ক্রমশই একা হয়ে পড়েছিলেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মুজিব কাকু কখনোই আব্বুর কাছে জানতে চাননি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের ঘটনাবলি। কখনোই জানতে চাননি যে তার অবর্তমানে আব্বু কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন; তাঁকে কি ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল; কারা ছিল স্বাধীনতার শত্রু, কারা মিত্র। রহস্যজনকভাবেই বিষয়টি জানতে চাওয়া সম্পর্কে তিনি নীরবতা পালন করেছেন। মুজিব কাকুর উদাসীনতায় আবু হয়েছেন আহত, মর্মাহত তবু হাল ছাড়েননি। অবিরাম চেষ্টা করেছেন মুজিব কাকুকে সামনে রেখেই নবজাত বাংলাদেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়েও মুজিবনগর সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। এ বিষয়ে এ নিয়ে একাধিকবার মুজিব কাকুর সঙ্গে কথাও বলেছেন। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তাজউদ্দীন আহমদ দেশ পরিচালনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ন্যায়বিচার ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন তা উল্লেখ করে শারমিন লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের মতোই হানাদারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশেও আব্বু সৃষ্টি করেছেন ন্যায়বিচার, ত্যাগ, সততা, সংযম ও সুদক্ষ নেতৃত্বের অপূর্ব দৃষ্টান্ত। দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি বিলীন করেছেন ব্যক্তিস্বার্থ বা অন্ধ ক্ষোভ। ’৭১-এর মার্চ মাসের এক কালরাতে আশ্রয়প্রার্থী আম্মাকে, তাঁর শিশুপুত্র ও কন্যাসহ কারফিউয়ের মধ্যে ঘর থেকে বিতাড়িত করেছিলেন যে আয়কর কর্মকর্তা তার পদোন্নতির অনুমোদন আব্বু করেছেন হাসিমুখে। আম্মাকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন নির্দ্বিধায়। যোগ্য জীবনসঙ্গীর মতোই আম্মাও সেই সিদ্ধান্তে সহমত জ্ঞাপন করেছেন। অনুমোদনের ফাইলে আব্বু তাঁর শিশিরবিন্দুর মতো হস্তাক্ষরে লিখেছেন, ‘আমি তাঁর এসিআর-গুলো দেখলাম। চাকরিজীবনের রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর পদোন্নতি পাওয়া উচিত। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। কারও প্রতি সন্দেহবশত কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে বলে আমি মনে করি না। যদি তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকে তবে তা আলাদাভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেহেতু নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ এখানে দেখানো হয়নি বা কোন প্রমাণও নেই, তাই আমি বিষয়টিকে বিবেচনার মধ্যে না এনে তাঁর এই পদোন্নতি অনুমোদন করলাম।’২৮
আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আব্বু চেয়েছিলেন যে যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান সেনাদের বিচার হোক আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে। যুদ্ধাপরাধী যদি বাঙালি হয়ে থাকে তাহলে তাকে নাগরিকত্ব থেকে বিচ্যুত না করে তার বিচার যেন হয় দেশের মাটিতে ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী। পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বনকারী এজেডএম শামসুল আলম- যিনি ছয় দফা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচুর লেখালেখি করেছিলেন- ওয়াশিংটনে ট্রেনিংয়ে থাকার সময় তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। অনুতপ্ত ওই ব্যক্তি দেশে তাঁর পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন এবং বিচারের সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত এই মর্মে আবেদন করেছিলেন।
শামসুল আলমের বাংলাদেশ-বিরোধী কার্যকলাপে প্রচ- ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও আব্বু তাঁর নাগরিকত্ব বহাল রেখে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। তারপর রাষ্ট্র যদি মনে করে তার বিচার করা উচিত তাহলে তাঁর বিচার হবে এই মত প্রকাশ করেন। বিষয়টিকে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানের বরাত দিয়ে মুজিব কাকুর কাছে উত্থাপন করেন। ক’দিন পর মুজিব কাকু আব্বুকে তাঁর অফিসে ফোন করেন- বিষয়, শামসুল আলমের নাগরিকত্ব বাতিল সম্পর্কে আব্বুর মতামত। আব্বু মুজিব কাকুকে বলেন, ‘মুজিব ভাই, এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা বলার ছিল। আজকে শামসুল আলমের দরখাস্তের কারণে বলার সুযোগ হলো। প্রথম কথা, আমাদের কোনো অধিকার নেই যে মানুষটা বাংলাদেশে জন্মেছে তাকে দেশের নাগরিকত্ব থেকে বহিষ্কার করার। এটা অন্যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অন্যায় সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করা উচিত। দ্বিতীয় কথা, আমি শামসুল আলমের দরখাস্ত পাঠিয়েছি যেটা এখন আপনার কাছে আছে। সেটা দেখেন এবং সে যে অন্যায় করেছে এই কারণে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করার ব্যবস্থা করেন।’ আব্বুর যুক্তি ছিল যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়নি। জার্মান নাগরিক হিসেবেই তাদের সমুচিত বিচার হয়েছে।
মুজিব কাকুকে তিনি বললেন, ‘গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এইসব লোক বিদেশে থাকলে তাদের শাস্তি তো হলো না, এই দেশের মানুষ তো জানতেই পারল না যে, তারা কি জঘন্য অপরাধ করেছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়। সুতরাং দেশে তাদের আসতে হবে। দেশে ফিরে আসার পর তাদের বিচার করতে হবে এবং বিচারে যে শাস্তি হবে সেই শাস্তি তাদের দেয়া হবে। যদি কেউ বেকসুর খালাস পায় সেটা সে পাবে।’
ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ঘৃণা ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে আইনের শাসনের প্রতি আব্বুর গভীর শ্রদ্ধা এবং নিজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রয়োগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আব্বুকে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। ওই একই কারণে তাকে পদে পদে প্রচ- বাধার সম্মুখীনও হতে হয়েছিল। বাধা এসেছিল মূলত তাঁর নিজ দলের উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেই। তাঁদের সামন্ততান্ত্রিক চিন্তাধারা ও স্বৈরাচারী কার্যকলাপ নবজাত বাংলাদেশের প্রগতির পথে হয়ে দাঁড়িয়েছিল পর্বতসমান অন্তরায়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাকশাল গঠনে সায় ছিল না তাজউদ্দীনের
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাজউদ্দীনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল মুজিব বাহিনী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলি করে পুড়িয়ে হত্যার ভিডিওচিত্র দেখে চারজনকে শনাক্ত by গোলাম মর্তুজা ও আবু তাহের
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শামীমের সহায়তায় পালান নূর হোসেন? by কামরুল হাসান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিবেকের ওপর থেকে কালো কাচ সরাও
পত্রিকায় পড়লাম, কোন গাড়িতে নারায়ণগঞ্জের গুমকৃতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পুলিশ তা জেনে ফেলেছে৷ পুলিশ যে গুমকারীদের ধরতে পারে না, তার পেছনের রুইকাতলাদের ধরে না, নাটের গুরু পালিয়ে যায়, তার কারণ এই নয় যে তারা কালো কাচে ঢাকা গাড়িতে যায়৷ তা এ জন্য যে পুলিশের চোখে একটা কালো কাচ লাগিয়ে দেওয়া হয়! কাজেই নাগরিকদের আর্তি, নিজের চোখের কালো কাচ সরান৷ রাস্তার নিরীহ নাগরিকদের কালো আবরণ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দেখতে হবে না৷ কালো কাচওয়ালা বা কাচে আবরণ-লাগানো গাড়ি ধরতে ও তাদের জরিমানা করতে পুলিশের উৎসাহ গত কয়েক দিনে ছিল দেখার মতো৷ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট৷ সার্জেন্টদের মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখা৷ সঙ্গে একটা করে রেকার৷ যে গাড়িওয়ালা কথা শুনবেন না, তাঁর গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়া হবে৷ গাড়িওয়ালা যদি বলেন, আমার কালো কাচ অরিজিনাল, তখন পুলিশ খঁুচিয়ে দেখে, সত্যি তা-ই কি না৷ আইনের রক্ষক তারা৷ আইন হয়েছে, তারা তো রক্ষা করবেই৷ তবু রবীন্দ্রনাথের কবিতারই শরণ নিতে হয়: নিজের দুটি চরণ ঢাকো তবে ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে৷
এখন অবশ্য বিষয়টি বিচারাধীন৷ দুই সপ্তাহের স্থিতাদেশ পাওয়া গেছে, এই দুই সপ্তাহ গাড়ির জানালার কাচে কালো আবরণ নিয়েও চলা যাবে৷ গাড়ির জানালার কাচে কালো আবরণ থাকবে কি থাকবে না, এটা আসলে খুব বড় বিষয় নয়৷ খুলে ফেললেই হলো৷ একটু রোদ লাগবে, কিংবা গাড়িতে শুয়ে পড়ে ঘুম দিতে পারা যাবে না, এতটুকুনই সমস্যা৷ নায়ক-নায়িকাদের লোকে রাস্তাঘাটে চিনে ফেলবে, সেটা তাঁরা কোনো প্রকারে সামলে নেবেন৷ নেতাদেরও আমরা চিনে ফেলব, সেটা অবশ্য তাঁদের জন্য কোনো সমস্যা নয়, কারণ তাঁরা নিজেদের রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই চলাচল করেন৷ আর বহু নেতা আছেন, যাঁরা নিজের এলাকায় যেতে পারেন না৷ যেতে হলে আগে-পিছে পাহারা নিয়ে যান৷ সমস্যা হবে যাঁদের গাড়িতে অরিজিনাল কালো কাচ আছে৷ পাঁচ মিনিট পর পর তাঁদের পুলিশ থামাবে: গাড়ি সাইডে দাঁড় করান৷ তাঁদের উদ্দেশে আমরা কী বলব? প্রার্থনা করব, আপনার চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হোক৷
দুই. গুরুতর প্রসঙ্গে আসার আগে একটা কৌতুক বলে নিই৷ এই কৌতুকটা ‘ব্লন্ড’ বা স্বর্ণকেশিনীদের নিয়ে৷ ব্লন্ডরা খুব বোকা হয়, কৌতুকগুলোয় সাধারণত তা-ই প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়৷ একজন স্বর্ণকেশী নারীর মনে হলো, এখন বড়লোক হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুম করা৷ কাউকে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ আদায় করা৷ সে চলে গেল একটা স্কুলের সামনে৷ সামনে যে বাচ্চাটাকে পেল, তাকেই সে জাপটে ধরে গাড়িতে তুলে বাড়ি নিয়ে এল৷ তারপর একটা চিঠি লিখল: ‘আপনার ছেলেকে অপহরণ করেছি৷ মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ ডলার একটা বাদামি খামে ভরে স্কুলের আপেলগাছের নিচে পুঁতে রাখবেন আগামীকাল সকালের মধ্যে৷ ইতি—একজন স্বর্ণকেশিনী৷’ তারপর সেই চিঠিটা বাচ্চাটার জামায় গেঁথে দিয়ে তাকে নামিয়ে দিয়ে গেল তার বাড়ির সামনে৷ পরের দিন সে গেল আপেলগাছের নিচে৷ দেখল, সত্যি একটা জায়গার মাটির নিচে একটা বাদামি খাম৷ তার ভেতরে এক লাখ ডলার৷ আর একটা চিঠি: ‘একজন স্বর্ণকেশিনী হয়ে তুমি আরেকজন স্বর্ণকেশিনীর এত বড় ক্ষতি কীভাবে করতে পারলে!’ এটা নিতান্তই কৌতুক৷ মানেটা হলো, দুই ব্লন্ডই খুব বোকা৷ কিন্তু এই বাংলাদেশে এই কৌতুক শুনে হাসার উপায় নেই৷ যদি আজকে আপনার বাচ্চাকে কেউ তুলে নিয়ে যায়—আল্লাহ না করুন—এবং কয়েক ঘণ্টা পরে এই রকম একটা চিঠিসমেত ফেরত দিয়ে যায়, আপনি কী করবেন? আমার ধারণা, আমাদের অনেকেই নির্ধারিত জায়গায় মুক্তিপণের টাকা রেখে আসতে চাইব৷ অথবা বউ-বাচ্চা নিয়ে এলাকা ত্যাগ করব৷ এই বাংলাদেশ এখন এমনি রকম সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে৷ এখানে কৌতুকের বিষয় আর কৌতুকের বিষয় নেই, আমাদের জন্য জীবনমরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা বরং ইশপের গল্পের ভেকগণের মতো করে বলতে পারি, ওহে বালকগণ, তোমাদের জন্য যা ছেলেখেলা, আমাদের জন্য তা জীবনমরণ সমস্যা!
তিন. সময়টা খুব খারাপ৷ একটার পর একটা বাজে ঘটনা ঘটে যাচ্ছে৷ গুমের পর গুম৷ খুনের পর খুন৷ ফেনীতে যেভাবে গুলি করে গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, সেই নৃশংসতার কোনো তুলনা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না৷ নারায়ণগঞ্জের নৃশংসতা ভয়াবহতম, নজিরবিহীন৷ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে৷ ওয়েব পেজে প্রশ্নপত্র আগেই ছড়িয়ে পড়ছে, পরীক্ষার পরে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, আসলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে, তবু কারও বিকার নেই৷ পর পর দুটো লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটল৷ কত কত মানুষ মারা পড়ল৷ কিন্তু এ নিয়েও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই৷ কেউ শোক প্রকাশ করল না৷ পতাকা অর্ধনমিত হলো না৷ আমরা ধরেই নিয়েছি, গুম হবে, মানুষ মারা পড়বে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে, লঞ্চ ডুববে, মানুষ মারা যাবে৷ অনিয়মই এখানে নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে৷ আমি যখন পুলিশ ও প্রশাসনকে বলছি, চোখের ওপর থেকে কালো কাচ সরিয়ে নিন, তখন মনে হচ্ছে, আগে নিজেকে বলতে হবে, বিবেকের ওপর থেকে কালো কাচটা সরাও৷ আমরা এত অনুভূতিহীন, বিকারহীন, অসাড় হয়ে পড়ছি কেন? কেন আমরা বলছি না—না, এভাবে গুম চলতে পারে না, এটা থামাও?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক৷
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপহরণ মুক্তিপণ বিরাট জুলুম
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপহরণ মুক্তিপণ বিরাট জুলুম
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডে ক্ষমতায় সেনাবাহিনী
![]() |
| সেনাপ্রধান ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় সেনাসদস্যরা অবস্থান নেন। |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
![]() |
| নওয়াজ শরিফ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারাস্যুটে একা ১১ মাসের শিশু!
![]() |
| প্যারাস্যুট থেকে নামার পর মায়ের সঙ্গে শিশু নিয়া নিজাম। ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়ার সৌজনে্য |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা হারাচ্ছেন রবার্ট ভদ্র
| রবার্ট ভদ্র |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অশান্ত হয়ে উঠছে ফেনী by তোহুর আহমদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
May
(496)
-
▼
May 23
(25)
- বিবেকের ওপর থেকে কালো কাচ সরাও by আনিসুল হক
- হুমকির মুখে গণতন্ত্র by প্রফুল বিদওয়াই
- একটি শটগান আর ভিআইপিকুলের দাপট by কুর্রাতুল-আইন-তা...
- একরামুল হত্যায় কে জড়িত? by কাফি কামাল ও আহমেদ জামাল
- মাসুদ পথিকের কবিতা সুন্দরের সহজিয়া আবাহন
- চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির রূপকার by রাজীব সরকার
- নজরুলের সমসাময়িকতা by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
- মুঠোফোনে নিঃশ্বাসের শব্দ by স্বপ্না রেজা
- আম্মার লেখায় মুজিব কাকুর অসন্তুষ্টি
- ধরে নাও চিরদিনের জন্যই যাচ্ছি
- আব্বু চিন্তিত মুজিব কাকু আমলেই নিলেন না
- ‘মুজিব কাকু সরে গিয়েছিলেন অনেক দূরে’
- মুজিব কাকু বললেন ‘তাজউদ্দীন, আমি কিন্তু প্রধানমন্ত...
- বাকশাল গঠনে সায় ছিল না তাজউদ্দীনের
- তাজউদ্দীনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল মুজিব বাহিনী
- গুলি করে পুড়িয়ে হত্যার ভিডিওচিত্র দেখে চারজনকে শনা...
- শামীমের সহায়তায় পালান নূর হোসেন? by কামরুল হাসান
- বিবেকের ওপর থেকে কালো কাচ সরাও
- অপহরণ মুক্তিপণ বিরাট জুলুম
- অপহরণ মুক্তিপণ বিরাট জুলুম
- থাইল্যান্ডে ক্ষমতায় সেনাবাহিনী
- নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
- প্যারাস্যুটে একা ১১ মাসের শিশু!
- বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা হারাচ্ছেন রবার্ট ভদ্র
- অশান্ত হয়ে উঠছে ফেনী by তোহুর আহমদ
-
▼
May 23
(25)
-
▼
May
(496)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


