Tuesday, February 1, 2011

আরএকে সিরামিকসের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমালিকদের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ (এজিএম) সভা আগামী ২০ মার্চ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডে ১০ ফেব্রুয়ারি। এজিএমের ভেন্যু পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২.৮১ টাকা এবং প্রতি শেয়ারের মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২১.৩৪ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.৬৮ টাকা।

শেয়ারবাজারে আজ মূল্য সংশোধন হয়েছে

চার দিন চাঙাভাবের পর আজ সোমবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। সাধারণ সূচক কমার পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। তবে আর্থিক লেনদেন গতকালের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।বাজার সংশ্লিষ্টরা আজকের মূল্য সংশোধনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, গত দুই মাসে বাজারে বড় ধরনের দরপতনের ঘটনা ঘটে। এর পর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে চার দিন বাজারে চাঙাভাব অব্যাহত থাকে। এরই মধ্যে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। সুতরাং আজকের মূল্য সংশোধনকে বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা। কেননা, বাজার যাতে আবারও অতি মূল্যায়িত না হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মূল্য সংশোধন হওয়াও প্রয়োজন।ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ সারা দিনই সূচকের ওঠা-নামা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শুরু হলেও বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সূচক ৩৩ পয়েন্ট নেমে যায়। এর পর সূচক ৪৮ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের পর সূচকের তীর আবার নিম্নগামী হতে থাকে। দিন শেষে সাধারণ মূল্য সূচক ৮৮.৩৮ পয়েন্ট কমে ৭৪৮৪.২২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ১৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া মোট লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার ৭৭ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ৭৫ কোটি টাকা বেশি। গতকাল সেখানে এক হাজার দুই কোটি টাকার লেনদেন হয়।আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো গ্রামীণফোন, ইউসিবিএল, ডেসকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এনবিএল, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও সিএমসিকামাল।আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশবন্ধু পলিমারের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রডস, আনলিমা ইয়ার্ন, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, অ্যাম্বি ফার্মা, এইচআর টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, মারিকো বাংলাদেশ, মুন্নু সিরামিক ও মিথুন নিটিং দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।আজ সবেচেয়ে বেশি কমেছে ইসলামী ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, প্রাইম ইনস্যুরেন্স, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বিআইএফসি, প্রাইম লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইউসিবিএল ও কেয়া কসমেটিকস দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় তিন লাখ ২৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

বার্সার রাতটা হলো মেসিরও

পুরো ম্যাচে মেসি ‘মেসি’র মতো খেললেন শেষ পাঁচ মিনিট। আর তাতেই ছারখার হারকিউলিস। গোলের জন্য হাহাকার করতে থাকা মেসি দুই মিনিটের (৮৭ ও ৮৯) মধ্যে পেয়ে গেলেন দুই গোল। হারকিউলিসকে তাদের মাঠে ৩-০ গোল হারিয়ে বার্সেলোনা শুধু প্রতিশোধই নিল না, এই জয় দিয়ে ছুঁয়ে ফেলল রিয়াল মাদ্রিদের স্বর্ণযুগের এক রেকর্ড। এ নিয়ে স্প্যানিশ লিগে টানা ১৫ জয় তুলে নিল বার্সেলোনা। আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর রিয়াল যে কীর্তি গড়েছিল ১৯৬০-৬১ মৌসুমে।
বার্সেলোনার সামনে এখন ডি স্টেফানোদের ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ। মাদ্রিদেরই আরেক দল অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে আগামী শনিবার তাদের পরের ম্যাচ।
হারকিউলিস অবশ্য হুংকারই ছেড়েছিল। ম্যাচের আগে নেলসন ভালদেস বলেছিলেন, বার্সেলোনাকে হারানো অবশ্যই সম্ভব। প্রথম বিভাগে নবাগত দলটির প্রেরণা ছিল গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর, যেদিন বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে এসেছিল ২-০ গোলে।
পরশু ফিরতি ম্যাচেও ভালদেস ভয়ই পাইয়ে দিয়েছিলেন বার্সাকে। একের পর এক আক্রমণ করেও বার্সা যখন হারকিউলিসের রক্ষণদেয়ালে চিড় ধরাতে পারছে না, সেই সময় আকস্মিক পাল্টা-আক্রমণে ভালদেসের হেড সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েছিলেন ডেভিড ত্রেজেগে। কিন্তু বল জালে ঢোকাতে পারেননি। সেই স্নায়ুর পরীক্ষা পেরিয়ে বার্সাকে পেদ্রো তাঁর ১২তম লিগ গোল করে এগিয়ে দেন ৪৩ মিনিটে।
তবে প্রথমার্ধটি হতাশায়ই কাটে বার্সার। সবচেয়ে হতাশার নাম ছিলেন মেসি নিজেই। যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। এমন কিছু ভুল করেছেন, যেটি মেসির সঙ্গে বেমানান। অবশ্য ভাগ্যও কিছুটা বঞ্চিত করেছে তাঁকে। মেসি নিজেও একসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। ভাষ্যকারেরাও বলছিলেন, আজকের দিনটা মেসির নয়।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষে হারকিউলিস ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঝলসে ওঠেন মেসি। বক্সের ডান প্রান্তে জটলায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে বল ঢুকিয়ে দেন জালে। হারকিউলিস ওই গোলেই হারিয়ে ফেলে সব শক্তি। তার ওপর দানি আলভেজের ক্রসে হারকিউলিসের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন মেসি।
লিগে মেসির ২১তম গোলটি ছিল কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সার ৪০১তম গোল। রিয়ালের রোনালদো মাত্র এক গোলে এগিয়ে মেসির চেয়ে। মৌসুমে অবশ্য ৩২ ম্যাচে ৩৭ গোল করে মেসিই এগিয়ে। পয়েন্ট টেবিলে রিয়ালের চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছিল বার্সাও। কাল রাতে অবশ্য রিয়াল ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ওসাসুনার বিপক্ষে।
যেটি মেসির সবচেয়ে বাজে ম্যাচের একটি হয়ে উঠতে যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত তাতে পেদ্রোকে ছাপিয়ে নায়ক তিনি। ‘মাত্র ২৩ বছর বয়সে ও ক্লাবের হয়ে ১৬৪টি গোল করল। বার্সার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ও এখনই চার নম্বরে। এভাবে খেলতে থাকলে ও তো সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেবে’—সহাস্য শংসাবাণীটি গার্দিওলার। তবে মেসির দ্বিতীয় গোলটির আগ পর্যন্ত যে আতঙ্কে ছিলেন, বার্সা কোচ সেটি অস্বীকার করতে পারেননি, ‘বিরতির আগে ১-০-তে এগিয়ে যাওয়ায় উপকার হয়েছে। কিন্তু এটা সব সময়ই বিপজ্জনক স্কোরলাইন। একটা ভুলও আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। তবে ফারিনোসের লাল কার্ড (দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটে) আমাদের অনেক কাজে দিয়েছে।’
লাল কার্ড দিয়ে অভিষেক হলো মার্কো ফন বোমেলের, তার পরও রবিনহো ও ইব্রাহিমোভিচের গোলে সিরি ‘আ’তে কাতানিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে এসি মিলান। বুন্দেসলিগায় ভেরডার ব্রেমেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তিনে উঠে এসেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

ওসাসুনার বিপক্ষে রিয়ালের হার

বেশ কয়েক দিন ধরেই গোলখরায় ভুগছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বিশেষত গঞ্জালো হিগুয়েইন ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে আক্রমণভাগ নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল ইউরোপের অন্যতম সেরা এই ক্লাবটি। গত কয়েক ম্যাচ ধরেই কোনোমতে এক গোলের ব্যবধানে একটা সাদামাটা জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। কিন্তু গতকাল তো শুধু গোলখরায় ভোগার আক্ষেপ না, লা লিগার নিচের সারির দল ওসাসুনার কাছে ১-০ গোলে হেরে রীতিমতো মাথায় হাত পড়ে গেছে রিয়াল সমর্থকদের।
গতকালের এ হারটার ফলে স্প্যানিশ লিগ শিরোপা জেতার লড়াইয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। লিগের ২১ ম্যাচ পরে বার্সেলোনা এখন এগিয়ে গেল পুরো ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে। আর এবারের মৌসুমে মেসি-জাভি-ভিয়া-ইনিয়েস্তারা যে রকম দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখাচ্ছেন, তাতে রিয়ালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করেছেন অনেকেই। অন্যদের কথা বাদই দিলাম। খোদ রিয়াল কোচ মরিনহোও স্বীকার করেছেন, এ মুহূর্তে তাঁরা কিছুটা কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছেন। গতকালের এ অঘটনের পর মরিনহো বলেছেন, ‘লা লিগায় এটা আমাদের দ্বিতীয় পরাজয়। আর প্রথম স্থানের সঙ্গে তুলনার বিচারে আমরা অনেকটাই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি।’
রিয়াল মিডফিল্ডার জাবি আলোনসো অবশ্য এত তাড়াতাড়ি শিরোপা জয়ের আশা ছাড়তে নারাজ। গতকালের হারটা খুবই দুঃখজনক স্বীকার করে তিনি বলেছেন, ‘এখনো সামনে অনেক পয়েন্টের খেলা বাকি আছে। সুতরাং আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
ওসুনিয়ার মাঠে গতকাল শুরু থেকেই বলের দখলটা রিয়ালের কাছেই ছিল। বেশ কটি গোলের সুযোগও নষ্ট করেছেন বেনজেমা, রোনালদো, জাবি আলোনসোরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের জালে বল জড়াতে কোনো ভুল হয়নি ওসাসুনার স্ট্রাইকার জাভিয়ের কামুনাসের।

শ্রীলঙ্কার জয়ের লক্ষ্য ২৪৬

বিশ্বকাপ শুরুর আগে শেষমুহূর্তের মহড়ায় সমানে সমানেই লড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর শ্রীলঙ্কা। তরুণ উইন্ডিজ ওপেনার আড্রিয়ান বারাথের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি আর রামনরেশ সারওয়ানের ৭৫ রানের ইনিংসটির সুবাদে বড় সংগ্রহের পথে বেশ ভালোমতোই এগিয়ে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শেষদিকে টানা দুই ওভারে বারাথ, সারওয়ান আর পোলার্ডের উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ফায়দা নিতে দেন নি মালিঙ্গা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানেই আটকে দিয়ে জয়ের আশা ভালোভাবেই টিকিয়ে রেখেছে শ্রীলঙ্কা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি। শুরুতেই ক্রিস গেইল আর ড্যারেন ব্রাভোর উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৬৫ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন বারাথ ও সারওয়ান। এর আগের চারটি ওয়ানডেতে বারাথের ব্যাটিং গড় ছিল ২৬.২০। আজ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তাঁর গড় দাঁড়িয়েছে ৪৬। বারাথ আর সারওয়ানের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৪৪ ওভার শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৬ রান। রানের গতি বাড়ানোর জন্য ৪৪তম ওভার থেকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পরিকল্পনা সফল করতে দেন নি মালিঙ্গা। ৪৪তম ওভারেই তিনি ফিরিয়ে দেন বারাথ (১১৫), সারওয়ান (৭৫)— দুজনকেই। পরের ওভারেই হার্ডহিটার পোলার্ডকেও সাজঘরে পাঠান এই লঙ্কান পেসার। শেষমুহূর্তে ড্যারেন সামির ২৩ ও চন্দরপলের ১৩ রানের সুবাদে ২৪৫ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

দর্শকদের ‘দুয়ো’ নিয়ে ভাবেন না ক্লার্ক

সমর্থকদের দুয়োধ্বনিতে একেবারেই বিচলিত নন অস্ট্রেলীয় ওয়ানডে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। গতকাল ব্রিসবেনের চতুর্থ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে মাঠে নামার সময় দর্শকদের কাছ থেকে খুব বাজে ধরনের সম্ভাষন পান ক্লার্ক। তবে সেই সম্ভাষনের জবাব তিনি শেষ অবধি দিয়েছেন খুব চমত্কারভাবেই। ৫৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে মাইকেল ক্লার্ক গতকালকের ম্যাচে রেখেছেন দুর্দান্ত অবদান।
‘সত্যি কথা বলতে কি আমি দর্শকদের এ ধরনের আচরন নিয়ে একেবারেই বিচলিত কিংবা চিন্তিত নই। অবশ্যই সবাই চাইবে দর্শকেরা তাঁদের পক্ষে থাকুক।’ ব্রিসবেনে দর্শকদের দুয়োধ্বনির পর এটাই ছিল মাইকেল ক্লার্কের প্রতিক্রিয়া।
যেকোনো খেলোয়াড়ই যদি ক্রমাগত বাজে পারফর্ম করে যেতে থাকে, তাহলে দর্শকরা ক্ষুব্ধ হতেই পারে বলে তিনি মনে করেন। ‘দেখুন আমি গত কয়েক ম্যাচ ধরেই বাজে খেলছিলাম। আমার প্রতি তাই দর্শকদের ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক।’ ক্লার্কের সরল স্বীকারোক্তি। শেষ পর্যন্ত মাইকেল ক্লার্ক আনন্দ বোধ করছেন প্রত্যাশিত ফর্মে প্রত্যাবর্তন করায়। ‘অবশেষে দলের জয়ের দারুণ একটি ভূমিকা রাখতে পেরে চমত্কার লাগছে।’ বললেন ক্লার্ক।
বর্তমান ফর্ম যাই হোক নিজের অধিনায়কত্বের রেকর্ড নিয়ে গর্ব করতেই পারেন মাইকেল ক্লার্ক। ১৭ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে হারের স্বাদ পেয়েছেন মাত্র ৬টিতে। তারপরেও সাম্প্রতিককালে ফর্মহীনতা কুড়ে খাচ্ছিল তাঁকে। অ্যাশেজের পাঁচটি টেস্টে মাত্র ২১ দশমিক ৪৪ গড়ে ১৯৩ রান, আর যাই হোক মাইকেল ক্লার্কের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজের বাজে ফর্মের কারণে কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি।
অনেকদিন ধরেই বাজে ফর্মে থাকলেও নিজের ব্যাটিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসীই ছিলেন ক্লার্ক। বলেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ফর্ম খারাপ গেলেও আমি জানতাম, ফর্মে ফেরাটা আমার জন্য সময়ের ব্যাপার।’

প্রথম ওয়ানডেতে জয়ী বৃষ্টি

বৃষ্টির কবল থেকে বেরিয়ে আসা যাচ্ছে না কিছুতেই। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু টেস্ট সিরিজের প্রতিটি ম্যাচে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তা আর মাঠে গড়ায়নি। ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত করে দেশে ফিরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচ কমিয়ে সিরিজ করা হয় তিন ম্যাচের। আজ মাঠে গড়িয়েছিল সেই সংক্ষিপ্ত সিরিজ। কিন্তু ফল আগের মতোই—শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বৃষ্টি!
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল ভালোভাবেই। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বাঁধে পুরোনো বিপত্তি, শুরু হয় বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় বৃষ্টিই।উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আড্রিয়ান বারাথের অভিষেক ওয়ানডে সেঞ্চুরি (১১৩) আর রামনরেশ সারওয়ানের ৭৫ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পায়নি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

দেশে ফিরলেন তিউনিসিয়ার নির্বাসিত নেতা

তিউনিসিয়ার ইসলামি নেতা রাশেদ ঘানুচি লন্ডনে ২০ বছরেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর গতকাল রোববার দেশে ফিরেছেন। স্বৈরশাসক জয়নুল আবেদিন বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরলেন।
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক শাসনামলে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এখনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তবে সম্প্রতি তিউনিসিয়ায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনজনিত সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাসিত অন্যদের মতো তিনিও দেশে ফিরতে সক্ষম হলেন।
বেন আলী ১৯৮৭ সালে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পরপর ঘানুচি (৬৯) দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এদিকে নতুন সরকার দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার যে খসড়া তৈরি করেছে, তা এখনো পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘানুচির দল এন্নাদাহ মুভমেন্টরকে বেন আলীর আমলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ঘানুচি ১৯৮১ সালে এন্নাদাহ দল গঠন করেন।

আরবরা স্বৈরশাসকদের উৎখাত করবে

জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা হাম্মাম সাইদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মিসরের উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে আরবরা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব স্বৈরশাসকদের উৎখাত করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সমির রিফাইকে পদত্যাগে বাধ্য করার আন্দোলন জোরদার করতে জর্ডানের সরকারি দপ্তরগুলোর বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে।
রাজধানী আম্মানে মিসরীয় দূতাবাসের বাইরে গত শনিবার প্রায় ১০০ বামপন্থী কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করেন হাম্মাম সাইদ। এ সময় তিনি বলেন, আরবরা ইরাক ও আফগানিস্তানে তাদের তেলসম্পদ ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর মার্কিন কর্তৃত্বের কারণে ক্ষুব্ধ। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলের স্বেচ্ছাচারী নেতাদের প্রতি মার্কিনিদের সমর্থনের বিষয়টিও তারা মেনে নিতে পারছে না। সাইদ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে বলেন, তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন খাতে সংস্কারের কথা বলেছেন।
এদিকে গত শনিবার জর্ডানের সরকারি দপ্তরগুলোর বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সমির রিফাইকে পদত্যাগে বাধ্য করার আন্দোলন জোরদার করতে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে সমবেত হন। তাঁরা ‘আমাদের সরকার হলো চোরদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁরা ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধাকে না বলুন’ লেখা ব্যানার বহন করেন।
শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ সুনাইদ বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী রিফাইকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানাতে আম্মানের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছি। আমরা এই সরকারের উৎখাত চাই। কারণ, তারা দরিদ্রদের পথে বসিয়েছে। আমরা চাই সরকার শুধু ধনীদের নয়, সবার জন্য কাজ করবে।’

মিসরের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে

মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকা ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিমত্তার খোলস খসে পড়ছে। ওই সব এলাকায় জনরোষ থেকে মিত্রদের রক্ষা করার ক্ষমতা যে যুক্তরাষ্ট্র হারিয়ে ফেলছে, ক্রমশ তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ মনে করেন, ১৯৯০-এর দশকে ইরাকের সেনাবাহিনী কুয়েত দখল করার পর মার্কিন বাহিনী তাদের যেভাবে কুয়েত থেকে বিতাড়িত করেছিল এবং আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছিল, সেই দাপট এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ৯/১১-এর ঘটনার জের ধরে ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা করার পর থেকেই ওয়াশিংটনের শক্তিমত্তা কমতে থাকে। যতই দিন যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব ততই কমছে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিউনিসিয়া, মিসর, ইয়েমেন ও জর্ডানের সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনগণ। এ চার দেশের সরকারপ্রধানই ওয়াশিংটনের সমর্থনপুষ্ট। অন্য দিকে ইরান ও সিরিয়াপন্থীদের অনাস্থার কারণে লেবাননে মার্কিনপন্থী সরকার ভেঙে গেছে।
গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন কাজ করে আসছে। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ফিলিস্তিন এ বিষয়ে এক পা-ও এগোনোর সাহস করেনি। অথচ গত বছর শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ বিষয়কেও বিশ্লেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার একটি বড় ধরনের লক্ষণ বলে মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ শিবলি তেলহামি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমার ফলে সেখানে যে কর্তৃত্বশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো তা পূরণ করার চেষ্টা করছে। এসব দেশ সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তেলহামি বলেন, ৯/১১-এর পর দৃশ্যপট দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনার প্রাণহানি ঘটে এবং কোটি কোটি ডলার ব্যয় হয়। জনবল ও অর্থবল কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকা-বিদ্বেষ। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাসীর নৈতিক সমর্থন হারিয়ে ফেলে। আর এ সুযোগ সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে ইরান। ইরানের ব্যাপারে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরাক ও আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ব্যাপারে ইরানের বড় ধরনের হস্তক্ষেপ রয়েছে। লেবাননের সরকারবিরোধী হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে ইরান মদদ জুগিয়ে যাচ্ছে।
কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক ম্যারিনা ওয়াট্টাওয়ে বলেন, তিনি মনে করেন, এ মুহূর্তে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের যতটা প্রভাব আছে, ইরানের ঠিক ততটাই রয়েছে।
ওয়াট্টাওয়ে বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রদর্শনের জন্য লেবানন থেকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী তাড়িয়েছিলেন। তাঁর মতে, ওই ঘটনা সেখানকার পরিস্থিতিকে এখনো জটিল করে রেখেছে। সিরিয়া আবার লেবাননের এলাকা দখল করা চেষ্টা চালাচ্ছে।
১২ জানুয়ারি ইরানপন্থী হিজবুল্লাহ ও কয়েকটি দল অনাস্থা দেওয়ার কারণে লেবাননের মার্কিনপন্থী সাদ হারিরির সরকার ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রে নিজের মিত্রকে রক্ষা করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ার সাবেক মধ্যস্থতাকারী ডেভিড মিলার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া নিজেদের অনুকূলে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র মিসরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে সব সময়ই কাজে লাগিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ দেওয়ার কথা। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, মিসরে যা ঘটছে, তার মূল নিয়ন্তা যুক্তরাষ্ট্র নয়। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা সম্পর্কে জনমনে যে বিশাল ধারণা রয়েছে, ধীরে ধীরে তা খর্ব হচ্ছে। বিশ্ববাসীর কাছে ওয়াশিংটনের দুর্বলতা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

মিসরের আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র প্রতিবাদ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরসংলগ্ন এলাকায় মিসরীয় অভিবাসীদের প্রতিবাদ-সমাবেশ ছিল জনাকীর্ণ। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সকাল থেকে নারী-পুরুষেরা সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেন। সমাবেশে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানো হয়।
মিসর পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে মিসরীয় প্রবাসীরা বক্তব্য দেন।
নিউইয়র্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ২০টি নগরে সমাবেশ থেকে বলা হয়, ‘মিসরের রাজপথের আন্দোলন, আমাদের আন্দোলন।’ সমবেত জনতা থেমে থেমে স্লোগান ধরেন, ‘হেই হেই হো হো, মোবারক মাস্ট গো।’
মিসরে ইন্টারনেট ও মুঠোফোন লাইন বন্ধ করে দেওয়ায় প্রবাসী মিসরীয়রা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। উৎকণ্ঠিত মিসরীয়রা বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার আয়োজিত প্রতিবাদ-সমাবেশে যোগদানের জন্য সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমাবেশে যোগ দিয়ে কী স্লোগান দিতে হবে কিংবা কী ধরনের প্লাকার্ড বহন করতে হবে তার নির্দেশনা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গি বিমান তৈরি করছে না ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমান তৈরির (জেএসএফ) কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার বা পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান (এফজিএফএ) এফ-৩৫ লাইটনিং-২ কেনার কোনো পরিকল্পনা ভারতের নেই। এমনকি এফ-৩৫ সাফল্যের সঙ্গে চালু হলেও তারা কিনবে না।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এফজিএফএর কোনো কিছুর সঙ্গে থাকতে পারছি না। আমরা গত মাসে রাশিয়ার সঙ্গে ২৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক নকশা চুক্তি (আইপিডিসি) করেছি এবং ইতিমধ্যে আমাদের এফজিএফএ নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিনলে বা তাদের সহযোগিতায় ভারতের মাটিতে তৈরি করলে বিমানের খরচ অনেক বেশি পড়বে। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কম খরচে রাশিয়ার সহযোগিতায় ওই ধরনের বিমান তৈরি করবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই ধরনের কিছু বিমান কেনার বিষয়টিও ওই কর্মকর্তা নাকচ করে দেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শনিবার হোয়াইট হাউসে ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত বছরের নভেম্বরে ওবামার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলোর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে মেনন দুই দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া

দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের টুটিং এলাকায় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মের বিরুদ্ধে ‘ফতোয়া’ জারি করে কিছু পোস্টার লাগানো হয়েছে। ওই পোস্টারে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকজন মুসলিম কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাকে ‘আটক, অপহরণ ও অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা এ খবর প্রকাশ করেছে।
খবরে বলা হয়, টুটিং এলাকার বিভিন্ন দেয়ালে ‘একে ধরিয়ে দিন’ ঘোষণার আদলে ছাপানো পোস্টার লাগানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।
ইনডিপেনডেন্ট-এর খবরে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ফতোয়া’ বলতে কখনো কখনো (সব সময় নয়) কাউকে হত্যার আহ্বান বোঝানো হতে পারে।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, ‘টুটিং এলাকায় বেশ কিছু পোস্টার লাগানোর কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। পোস্টারগুলো তুলে ফেলতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
টুটিং এলাকার এমপি সাদিক খান বলেন, ‘পোস্টারগুলো অশালীন, আক্রমণাত্মক ও বিভেদ সৃষ্টিকারী।’
খুন ও বর্ণবিদ্বেষে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের ধর্মীয় নেতা আবু হামজাকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ উদ্যোগের বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন হামজা।

দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হচ্ছে ৯ জুলাই?

দক্ষিণ সুদানের ঐতিহাসিক গণভোটের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে স্বাধীনতার পক্ষে ৯৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ সুদান ভেঙে আরেকটি স্বাধীন দেশের আত্মপ্রকাশ এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি গণভোটের ফলাফল মেনে নেবেন। তাঁর এই প্রতিশ্রুতি ঠিক থাকলে দক্ষিণ সুদান আগামী ৯ জুলাই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব অনুসারে দক্ষিণ সুদান হবে বিশ্বের ১৯৫তম স্বাধীন দেশ। ইতিমধ্যে এর জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত নির্ধারণ শেষ হয়েছে। তবে দেশ হিসেবে এর নাম কী হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।
মুসলমান অধ্যুষিত উত্তর ও খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদানের মধ্যে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানের জন্য জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০০৫ সালে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুসারে এ বছর ৯ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল গণভোট-সংক্রান্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মোট ভোট পড়েছে ৩৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৮টি। দক্ষিণ সুদানের ১০টি প্রদেশের মধ্যে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে স্বাধীনতার পক্ষে পড়েছে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। আর পশ্চিমাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে স্বাধীনতার পক্ষে পড়েছে ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।
গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের পরপরই দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবাতে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, কূটনীতিক ও সাধারণ জনতা স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা জন গ্রাংয়ের কবরের পাশে জড়ো হয়ে তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে শান্তিচুক্তির কয়েক দিনের মাথায় এই নেতা বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

‘মিসরে ইসলামি শাসন পশ্চিমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না’

নিষিদ্ধঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতা বলেছেন, মিসরে ইসলামি শাসন কায়েম হলে সেটা পশ্চিমাদের জন্য কোনো হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ এই শাসনব্যবস্থা আরও বেশি গণতান্ত্রিক এবং প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের একনায়কতন্ত্রের চেয়ে অনেক ভালো।
লন্ডনে গত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাদারহুডের প্রভাবশালী নেতা কামেল এল-হেলবাউয়ি এ কথা বলেন। ১৯৯৪ সাল থেকে লন্ডনে বসবাসকারী এই নেতা বলেন, মোবারকের পতন হলে ১৯৭৮ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি নিয়ে ভাবারও কোনো অবকাশ নেই। মোবারক-পরবর্তী মিসরেও এ চুক্তি নিরাপদেই থাকবে।
কামেল এল-হেলবাউয়ি বলেন, মিসরে ইসলাম যুগের নবসূচনা হচ্ছে—এমন ভাবনা তাঁর কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা, ইসলামপন্থীরা একা মিসর শাসন করতে পারবে না। গণতন্ত্রপন্থী, সমাজবাদী, কমিউনিস্টসহ সবার সহযোগিতা নিয়েই তাদের মিসর চালাতে হবে।
কামেল এল-হেলবাউয়ি বলেন, মোবারকের মতো স্বৈরশাসকেরা সব সময় ইমলামপন্থীদের ব্যাপারে পশ্চিমাদের ভুল বুঝিয়েছে। তারা পশ্চিমা বিশ্বকে এমন ধারণা দিয়েছে, ব্রাদারহুডের মতো দলগুলোই সন্ত্রাসী সংগঠন, অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল।
সাক্ষাৎকারে কামেল এল-হেলবাউয়ি উল্লেখ করেন, ‘ব্রাদারহুডের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। তারা মনে করছে, ব্রাদারহুড ক্ষমতায় এলে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি হবে। কিন্তু আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, ব্রাদারহুড পূর্ণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা সব সময় গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখবে।