Showing posts with label বাজারসুবিধা. Show all posts
Showing posts with label বাজারসুবিধা. Show all posts

Sunday, August 18, 2024

বেড়েই চলেছে ডিএসই’র বাজার মূলধন

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় ছিল। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৫৮ হাজার কোটি টাকার উপরে বেড়ে যায়। আর প্রধান মূল্য সূচক বাড়ে প্রায় ৭০০ পয়েন্ট। সরকার পতনের পর শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন হলেও নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম সপ্তাহটি বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। উল্লম্ফনের পর গত সপ্তাহ জুড়ে শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে এই দরপতনের পরও বেড়েছে বাজার মূলধন। সেই সঙ্গে গড় লেনদেনও বেড়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পড়ে গত ৫ই আগস্ট পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ থেকে চলে যান। এরপর ৬ই আগস্ট থেকে আবার সরকারি- বেসরকারি সব অফিস খুলে দেয়া হয়। ফলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন চালু হয়।

এরপর সেই সপ্তাহে লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম সপ্তাহটি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি।

গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৫টির স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭৮টির। আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৩ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৫১ কোটি টাকা বা ০.৭২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ৫০ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা বা ৭.৭৪ শতাংশ।

এদিকে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে কমেছে ২০.৯৭ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫৯০.৮৭ পয়েন্ট বা ১১.০৮ শতাংশ। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক। গত সপ্তাহে সূচকটি কমেছে ১০.১৯ পয়েন্ট বা ০.৮০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১০৯.৫৩ পয়েন্ট বা ৯.৪০ শতাংশ।

তবে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহেও বেড়েছে। গত সপ্তাহ জুড়ে এই সূচকটি বেড়েছে ৪৬.৬২ পয়েন্ট বা ২.১৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৩১.৮৮ পয়েন্ট বা ১২.২০ শতাংশ। মূল্যসূচক মিশ্র থাকলেও লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৮২ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৩৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৪৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ৫৩.৫৭ শতাংশ।

সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১০০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রবি, আইএফআইসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, টেকনো ড্রাগস, ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার এবং এবি ব্যাংক।

Thursday, June 10, 2010

বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা -মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যুক্তি যথার্থ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধার দাবি জানিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষত, দেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক থাকায় যাঁরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করছেন, তাঁদের আমদানি ব্যয় বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি পোশাকের দামও বাজারে বেড়ে যায়। এটা সংগত কারণেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। কোনো রকম যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে। ফলে গড়ে বাংলাদেশি পণ্যকে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিয়ে সে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশের ক্ষেত্রে গড়ে এই শুল্কহার ১ শতাংশেরও কম।
অথচ গত বৃহস্পতিবার দেশের একটি বাণিজ্য সংগঠনের এক সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলে বসলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলে বাংলাদেশ লাভবান হবে না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর থেকে আরও জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অবশ্য মরিয়ার্টির এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা বিভ্রান্তিকর, হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রতিষ্ঠিত যে শুল্ক অব্যাহতি পেলে বাংলাদেশের রপ্তানি অন্তত কয়েক কোটি ডলার বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ও ১২৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়, যার বিপরীতে যথাক্রমে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ও ২১ কোটি ডলার শুল্ক প্রদান করতে হয়েছে। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে যথাক্রমে দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার ও তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় ক্ষেত্রেই আদায় করেছে মাত্র ১৮ কোটি ডলারের শুল্ক।
বস্তুত, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য থেকে এমনই আভাস মেলে যে তাঁরা বাংলাদেশি পণ্যকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিতে আগ্রহী নন। অথচ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। তা ছাড়া এটা বাজারসুবিধাও নয়। বরং বলা দরকার, প্রতিযোগিতার সুষমতা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় সব ধনী দেশ বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র।