Sunday, May 8, 2011

কাল সিএসইতে এমআই সিমেন্টের লেনদেন শুরু

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কাল রোববার থেকে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে। অনেক টানাহেঁচড়ার পর গত বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে সিএসই কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় ।
সিএসই সূত্রে জানা যায়, কাল সকাল ১০টায় মতিঝিলে ইউনূস টাওয়ারে অবস্থিত সিএসইর ঢাকার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিএসইর প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ।
তবে একই ধরনের নির্দেশনা থাকার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তি না দেওয়ায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারধারীদের অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আবেদন করে যাঁরা শেয়ার পেয়েছেন তাঁরা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
শেয়ারবাজারে ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি সরকার বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এমআই সিমেন্ট ও এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে এসইসি সরকারের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় ।
এর ধারাবাহিকতায় এমআই সিমেন্টকে কয়েক দফায় শর্ত দেয় এসইসি। কোম্পানিটি সব শর্ত মেনেই তালিকাভুক্তিতে সম্মতি দেয়। কিন্তু ডিএসই এতে আপত্তি জানায়।
সর্বশেষ তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দমূল্যের চেয়ে শেয়ারের বাজার দর কমে গেলে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকেরা ক্ষতিপূরণ দেবে, এ শর্তে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেয় এসইসি।
এসইসির নির্দেশ মেনে কোম্পানিটি ক্ষতিপূরণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৫০ লাখ শেয়ার ডিএসইতে জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির এস্ক্রো হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা জমা রাখা হয়েছে।

উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ চাই-জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একটু তড়িঘড়ি করেই নিল কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রা সহনীয় রাখতে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভবত সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হলো না।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্প-কারখানায় ও পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের যে দুটি ধরন সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়, সেই ফার্নেস তেল ও ডিজেলের দাম এখন লিটারপ্রতি দুই টাকা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪২ টাকা ও ৪৬ টাকা করা হলো। এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে, পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়বে। বিশেষত বিদ্যুৎ খাত যখন সম্প্রসারিত হচ্ছে, এবং এ খাতে জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, তখন ফার্নেস তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি সমস্যা বটে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস তেলের চাহিদা ছিল ৩৯ হাজার টন, আর এপ্রিল মাসেই চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৯১ হাজার টনের বেশি, জুলাই-আগস্ট নাগাদ আরও কয়েকটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র চালু হলে এই চাহিদা বেড়ে দেড় লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের চাহিদাও বাড়ছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাবে শিল্প উৎপাদনের ব্যয়বৃদ্ধি অর্থনীতির নানা খাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বাড়বে; বিশেষত পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
আবার এ-ও এক কঠিন বাস্তবতা যে সব ধরনের জ্বালানি তেলের ওপর সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়। বর্তমানে এক লিটার ডিজেলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয় ৩৩ টাকারও বেশি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই তেলের দাম বাড়ানোর বিকল্পও তেমন নেই। তবে যেহেতু এর প্রভাব খুব দ্রুতই জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই অতি দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রথম গুরুত্বটা দেওয়া উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে। এই খাতে জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা খুব জরুরি। আর প্রয়োজন কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ। কীভাবে অধিকসংখ্যক মানুষ কাজ পায়, কীভাবে তাদের আয় বৃদ্ধি পেতে পারে, সেসব দিকে দৃষ্টি দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বিশ্বমন্দার অনিশ্চয়তা, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যে বিপুল জনগোষ্ঠীর এই দেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিকল্প খুব বেশি নেই।

লরা বাগবোকে প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ

আইভরি কোস্টের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোকে দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। গ্রেপ্তারের পর বাগবোকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা এটাই প্রথম।
আইভরি কোস্টের উত্তরাঞ্চলীয় কোরহোগো শহরের একটি বাড়িতে রাষ্ট্রপক্ষের একজন কৌঁসুলি বাগবোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ বাড়িতেই বাগবোকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাগবোর দুই ফরাসি আইনজীবীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে আইভরি কোস্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের থাকার অনুমতি না দেওয়ায় তাঁরা বিমানবন্দর থেকেই দেশে ফিরে যান।
গতকালই রাজধানী আবিদজানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলাসেন ওয়াতারার আনুষ্ঠানিক শপথ নেওয়ার কথা। গত বছরের নভেম্বরে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন ওয়াতারা।
কিন্তু, নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকেন বাগবো। এতে দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু লোক হতাহত হয়।

সিরিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ইইউর বৈঠক

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবার মাঠে নেমেছে। তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করেছে বলে খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি। এদিকে আসাদ সরকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল এক বৈঠকে বসার কথা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ)।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিক্ষোভকারীরা জানায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানী দামেস্কের দুমাসহ হোমস, বানিয়াস ও কোয়ামিশলি শহরে দুপুরের পর বিক্ষোভ শুরু হয়। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এতে অংশ নেয়। তাদের লক্ষ্য করে গুলি করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
দুমার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগের সন্ধ্যায় তিনি একটি ট্রেনে ১৫টি সামরিক ট্যাঙ্ক হোমস শহরের দিকে যেতে দেখেছেন। উপকূলীয় শহর বানিয়াসের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ এখানে বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভের আগের দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরটি ঘিরে ট্যাঙ্কসহ সেনা মোতায়েন করা হয়।
অপর দিকে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইইউর সদস্যদেশগুলো গতকাল বৈঠকে বসার কথা। একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আসাদসহ তাঁর অনুগত ১৫ শীর্ষ কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পাকিস্তানে ড্রোন হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ১৬

পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে গতকাল শুক্রবার মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলায় সন্দেহভাজন আটজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর পাকিস্তানে এই প্রথম আরেকটি মার্কিন হামলা হলো। এদিকে ওই দিনই কোয়েটা শহরের একটি মাঠে ক্রিকেট খেলা চলাকালে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দাত্তা খেল এলাকায় মার্কিন চালকবিহীন বিমান থেকে গতকাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি এলাকা লক্ষ্য করে হামলাটি হয়। এতে আটজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত ও চারজন আহত হয়। গত সোমবার অ্যাবোটাবাদে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের পর পাকিস্তানে গতকালই প্রথম আবার মার্কিন বাহিনী হামলা চালাল। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে একেবারে অন্ধকারে রেখে অ্যাবোটাবাদে অভিযানটি চালানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান হুঁশিয়ার করে দিয়েছিল, আর কেউ এ রকম অভিযান চালালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ওয়াজিরিস্তানে হামলাটি চালাল।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা হামিদ শাকিল একটি জার্মান সংবাদ সংস্থাকে জানান, বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার শহরতলির মাঠে ক্রিকেট খেলা চলাকালে দুটি গাড়িতে করে আসা বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এতে আটজন নিহত ও ১৫ জনেরও বেশি আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজা হামিদের বরাত দিয়ে দুনিয়া টেলিভিশন জানায়, ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয়। হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্চম দফা ভোট গ্রহণ আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আজ ৭ মে শনিবার চারটি জেলার ৩৮টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এটি নির্বাচনের পঞ্চম দফার ভোট। পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনে ছয় দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে চার দফায় ২৪২টি আসনের ভোট নেওয়া হয়। আজ ৩৮টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। বাকি ১৪টি আসনের ভোট নেওয়া হবে ১০ মে। ১৩ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
আজ মেদিনীপুরের ১২, বাঁকুরার ৯, পুরুলিয়ার ৫ ও বর্ধমানের ১২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এতে অংশ নেবেন ৭৪ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩ জন ভোটার। ২৭২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫৬, বাঁকুরায় ৪৯, পুরুলিয়ায় ৩৮ ও বর্ধমানে ১২৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনে চারটি জেলায় ২১৬টি ডিজিটাল ক্যামেরা, ৪৪১টি ভিডিও ক্যামেরা ও ১৫০টি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোট নেওয়া হবে নয় হাজার ৪২৫টি বুথে। এর মধ্যে ৭১০টি ভোটকেন্দ্রকে অতি স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চার জেলায় ভোটকর্মী রয়েছেন ৪১ হাজার ২৭৬ জন। এই নির্বাচনে চার জেলায় পুলিশের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫২২ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
এবারের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুর্যকান্ত মিশ্র, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি মানস ভূঁইয়া, পুরুলিয়ার সাবেক রাজা কে পি সিংদেও। সিংদেও লড়ছেন তৃণমূলের টিকিটে।
৮৭ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা: গত মঙ্গলবারের চতুর্থ এবং আজকের পঞ্চম দফা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ৫৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও জোর করে টাকা আদায়ের মামলা। এই দুই পর্বের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ২০ জন কোটিপতি। এর মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হলেন তৃণমূলের ইকবাল আহমেদ। তাঁর সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি রুপির বেশি।

ওসামাকে হত্যার অভিযানে ছিল স্টিলথ হেলিকপ্টার

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার অভিযানে মার্কিন সেনারা তাঁর অ্যাবোটাবাদের বাড়িতে কীভাবে পৌঁছাল, তা এখনো অনেকের কাছে বিস্ময়। হেলিকপ্টারে করে সেনারা সেখানে কেবল নির্বিঘ্নেই পৌঁছায়নি, পাকিস্তানি রাডারকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী ওসামার বাসভবনে অভিযান চালাতে সক্ষম হয়। আর তা ছিল স্টিলথ হেলিকপ্টার।
অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ওই হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের ছবি থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে বিশেষ ধরনের এই স্টিলথ হেলিকপ্টার আগে দেখা যায়নি। ধ্বংস হওয়া হেলিকপ্টারটির পেছনের অংশ অক্ষত রয়েছে। ওই অংশটিই বিমান বিশেষজ্ঞদের কাছে নানা সূত্র তুলে ধরেছে। ছবি দেখে হেলিকপ্টারের পেছনের অংশটি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে হেলিকপ্টারটি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাকহক। তবে ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে এর শব্দ অনেক কমানো হয়েছে এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও নিশ্চিত হন যে এ অভিযানেই প্রথম এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।
বিমান প্রস্তুতকারী মার্কিন কোম্পানি সিকোরস্কি এয়ারক্রাফট এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য স্টিলথ হেলিকপ্টার তৈরি করে। এটি ছিল আরএএইচ-৬৬ কমানচি। তবে এই হেলিকপ্টার তৈরির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় ২০০৪ সালে ওই প্রকল্প বাতিল করা হয়। কোনো অভিযানেই আরএএইচ-৬৬ কমানচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক সাময়িকী অ্যাভিয়েশন উইক-এর সম্পাদক বিল সুইটম্যান বলেন, ‘আমরা সত্যিই এর আগে এমন হেলিকপ্টার এভাবে ব্যবহার করতে দেখিনি।’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেলিকপ্টারবিষয়ক সাময়িকী রোটারি-এর উপসম্পাদক টনি অসবর্ন বলেন, স্টিলথ হেলিকপ্টার তৈরির ক্ষেত্রে এর আকারসহ বিভিন্ন অংশ এমনভাবে তৈরি করতে হয়, যাতে তা সহজেই রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রাডারের তরঙ্গগুলো ফিরিয়ে দিতে সক্ষম করে গড়ে তোলা হয়। এতে রাডারে ওই হেলিকপ্টারের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় হেলিকপ্টারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে রাডারের তরঙ্গ শুষে নেওয়ার মতো করে তৈরি করা হয়। অসবর্ন বলেন, ‘অ্যাবোটাবাদে ব্যবহূত হেলিকপ্টারের রোটর গিয়ারবক্স পেছনের দিকে ঢাকা ছিল, যা আমি কখনো দেখিনি। রোটরে পাঁচ থেকে ছয়টি পাখা রয়েছে। পাখার সংখ্যা বেশি হলে তা কিছুটা কম গতিতে ঘোরে। এতে শব্দও তুলনামূলক কম হয়। আর ওই হেলিকপ্টার সম্ভবত রাডারের তরঙ্গ শুষে নিতে সক্ষম ছিল।’

রহস্যময় সেই বার্তাবাহক

ওসামা বিন লাদেন হত্যা নিয়ে এখনো জনমনে অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে ঘটনাস্থলের খুঁটিনাটি এবং বিন লাদেনের শেষ সময়ের সঙ্গীদের পরিচয় নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। যেসব প্রশ্ন লোকমুখে বেশি ফিরছে তার একটি হলো, যাঁকে অনুসরণ করে অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়, লাদেনের সেই বার্তাবাহকের পরিচয় আসলেই কী। অপরটি প্রশ্ন: এত বড় বাড়িটির মালিকই বা কে ছিলেন?
মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই বার্তাবাহকের নাম আবু আহমাদ আল-কুয়েতি। তিনি বিন লাদেনের বিশ্বস্ত বার্তাবাহক। কুয়েতি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক। বাড়িটার মালিকও তিনিই। ২ মে বিন লাদেনকে আটক বা হত্যার অভিযানে তিনিও নিহত হন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের কথায়, ২০০২ সাল থেকে আল-কুয়েতিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল সিআইএ। অবশেষে গত বছরের আগস্টে আরেক আল-কায়েদা সদস্যের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। একপর্যায়ে মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, বার্তাবাহক কুয়েতি অ্যাবোটাবাদের উঁচু প্রাচীরঘেরা বাড়িতে থাকেন।
প্রতিবেশীরা অবশ্য আল-কুয়েতিকে চিনতেন আরশাদ খান নামে। তিরিশের শেষে চল্লিশের শুরুর দিকে তাঁর বয়স। লম্বাচওড়া মানুষটির সঙ্গে কচিৎ দেখা হতো তাঁদের। বেশি কথা বলতেন না।
আরশাদ খান হিসেবে পরিচিত কথিত এই আল-কুয়েতি সম্পর্কে কেউ ভাবতেন, তিনি মুদ্রা কেনাবেচার ব্যবসা করেন। কারও ধারণা গাড়ির যন্ত্রাংশের কালোবাজারি তিনি। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কমান্ডো হামলার পর থেকেই এলাকায় আরশাদকে আর দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিহত কয়েকজন ব্যক্তির যে রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করেছে, সেখানে আরশাদের লাশ রয়েছে

লাদেনের ওই বাড়িতে মাত্র একজন অস্ত্রধারী ছিলেন

আল-কায়েদার শীর্ষনেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর থেকে ওই অভিযান নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানান, ওসামাকে হত্যার অভিযানে নিহত অন্য চারজনের মধ্যে মাত্র একজন ব্যক্তি অস্ত্রধারী ছিলেন। তিনি মার্কিন কমান্ডোদের লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়েন। পরে কমান্ডোদের পাল্টা গুলিতে তিনি মারা যান। অস্ত্রধারী ওই একমাত্র ব্যক্তি হলেন ওসামার বার্তাবাহক আবু আহমেদ আল কুয়েতি।
গত বৃহস্পতিবার এসব তথ্য দিতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন তথ্য দেওয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ তিনি নন। তাই নাম প্রকাশ করতে চান না। তিনি বলেন, ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ওসামাকে হত্যার অভিযানের বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা প্রকাশ করা উচিত। ওসামাকে খুঁজতে ওই বাড়ির একতলা থেকে অন্য তলায় যাওয়া, তাঁর সহযোগীদের প্রতিরোধ ও তাঁকে হত্যার বর্ণনা দেওয়া উচিত।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, ওসামার বার্তাবাহক আবু আহমেদ অ্যাবোটাবাদের বাড়িটির অতিথি কক্ষে ছিলেন। মার্কিন কমান্ডোরা বাড়ির চত্বরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আবু আহমেদ তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। কমান্ডোদের পাল্টা গুলিতে আবু আহমেদ মারা যান। তাঁর সঙ্গে একজন নারীও নিহত হন। ওই কর্মকর্তা জানান, আবু আহমেদের সঙ্গে কমান্ডোদের গুলিবিনিময়ের সময় ক্রসফায়ারে ওই নারী নিহত হন।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বাধা পাওয়ার আগে কমান্ডোরা কখনোই গুলি ছোড়েনি। ওসামার কক্ষে পৌঁছার আগে বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন কমান্ডোরা। এরপর তাঁরা ওপরে ওঠার সিঁড়িতে ওসামার এক ছেলেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, কমান্ডোরা ওসামার কক্ষে পৌঁছালে তিনি অস্ত্র নেওয়ার জন্য চিৎকার দেন। এর পরপর তাঁকে গুলি করা হয়।
ওসামাকে হত্যার পর থেকে হোয়াইট হাউস, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে তা হলো, কমান্ডোদের সঙ্গে ওসামা ও তাঁর সহযোগীদের প্রায় ৪০ মিনিট গুলিবিনিময় চলে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নে গত মঙ্গলবার বলেন, অভিযানের সময় ওই বাড়িতে অনেক অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছিলেন। এর আগে সোমবার প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, অভিযানের বেশির ভাগ সময়ই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলে।
তবে পরে এসব তথ্য সংশোধন করে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জন ব্রেননান বলেন, ওসামা নিরস্ত্র ছিলেন। তবে তাঁর কক্ষে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।
মার্কিন প্রশাসন জানায়, অভিযানে ওসামা, তাঁর এক ছেলে, বার্তাবাহক আবু আহমেদ, আবু আহমেদের এক ভাই ও একজন নারী নিহত হন।

মরিনহোর কৌশলে জিদানেরও আপত্তি

সমালোচনার পর সমালোচনা শুনেই দিন কাটছে হোসে মরিনহোর। শত্রুপক্ষ তো বটেই, ‘এল ক্লাসিকো’তে মরিনহোর ট্যাকটিকস নিয়ে ঘরের লোকেরাই সমালোচনা করছেন বেশি। রিয়ালের সাবেক তারকা আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, সাবেক সভাপতি র্যামন কালদেরনের পর এবার জিনেদিন জিদানের কাঠগড়ায় মরিনহো।
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতির ব্যক্তিগত উপদেষ্টাও সমালোচনা করেছেন মরিনহোর কৌশলের। রিয়াল মাদ্রিদকে ২০০১-০২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার অসন্তুষ্ট মরিনহোর একাদশ নির্বাচন নিয়েও। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে কেন এক মিনিটের জন্যও করিম বেনজেমাকে নামানো হলো না, এই হিসাবটা কিছুতেই মেলাতে পারছেন জিদান।
জিদান মনে করেন, অন্তত দ্বিতীয় লেগে অবশ্যই বেনজেমাকে নামানো উচিত ছিল। মরিনহোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ আইতর কারাঙ্কা। তিনজন খেলোয়াড় বদলের সুযোগ থাকলেও তিনি বদল করেন দুজন, হিগুয়েইনের পরিবর্তে নামান আদেবায়োরকে ও কাকার জায়গায় মেসুত ওজিলকে।

নড়েচড়ে বসছে ফিফা

পাতানো খেলার বিষবাষ্প আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে ফুটবলকে। সম্প্রতি তিন মহাদেশজুড়ে তিন শর বেশি ম্যাচের ফল গড়ে দিয়েছে জুয়াড়িরা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে এই আতঙ্কজনক খবরটি। তদন্তে আরও জানা গেছে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হচ্ছে জুয়াড়িদের প্রধান ঘাঁটি।
ফিফার সন্দেহ, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও ইউরোপিয়ান ক্লাব ম্যাচ পাতানোর জন্য ম্যাচ পরিচালনাকারীদের কমপক্ষে ১০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। এই ম্যাচগুলো নিয়ে এশিয়ার বাজির জগতে কয়েক শ কোটি ডলারের বাজি ধরা হয়ে থাকে। ব্যাপারটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ফিফার নিরাপত্তা শাখার প্রধান ক্রিস ইটন ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, ‘বৈশ্বিক খেলাটির সুনামের জন্য ম্যাচ পাতানোটা অনেক বড় হুমকি।’ এ নিয়ে তদন্ত করার সময় বাজিকরদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্টারপোলের সাবেক কর্মকর্তা, ‘এর সঙ্গে জড়িতরা আমাদের বলেছে বাজিকরেরা একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে ৩ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করে এবং এটা তারা করে বিপুল পরিমাণ লাভের আশায়।’ ইটনের বিশ্বাস, বাজিকরেরা ম্যাচ পাতিয়ে ‘কোটি কোটি ডলার’ কামিয়ে নিয়েছে।
ছয়টি দেশের ফুটবল সংস্থার কর্মচারীরা এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই চক্রের প্রধান ঘাঁটি হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। ফিফার সন্দেহের তালিকায় আছে জার্মানি ও ফিনল্যান্ডের ক্লাব ফুটবল, ইউরোপা লিগ এবং যেসব প্রীতি ম্যাচে কুয়েত, জর্ডান, বলিভিয়া, লাটভিয়া, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, মালয়েশিয়া ও জিম্বাবুয়ে জড়িত সেসব ম্যাচ। বাহরাইন ও টোগোর একটি ম্যাচ নিয়ে চলছে তদন্ত। মূল দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানো টোগোর কিছু শৌখিন খেলোয়াড় খেলেছিলেন ওই ম্যাচে।

মরগানে আস্থা হোয়াটমোরের, সাকিব কি আজ খেলবেন?

দিনের পর দিন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেই চলেছেন এউইন মরগান। কিন্তু নেট ফলাফল শূন্য। এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছুই করতে পারেননি তিনি। অথচ একটি ম্যাচে খারাপ বোলিং করার ‘কোপ’ কিন্তু ঠিকই পড়েছে বাংলাদেশ-দলপতি সাকিব আল হাসানের ওপর। টানা তিন ম্যাচ বসিয়ে রাখা হলো তাঁকে। মায়ের অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে গেলে সন্দেহবাতিকেরা অনেকেই এটিকে তাঁর অভিমান হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। অনেকেই বলছিলেন, তিনি আর কলকাতা ফিরবেন না। ৭ উইকেট দখল করে বল হাতে তিনি নিজেকে এবারের আইপিএলের অন্যতম পারফর্মার হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। ব্যাট হাতে তো সুযোগই পাচ্ছিলেন না তিনি। অনেকেই মরগানকে বসিয়ে সাকিবকে একটু ওপরের দিকে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সেই ভাবনার হালে খুব একটা হাওয়া লাগেনি।
কোচির বিপক্ষে পরাজয়ের পর আবারও মরগানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুভূত হচ্ছে সাকিবের প্রয়োজনীয়তা। সাকিব সব জল্পনা-কল্পনাকে পেছনে ফেলে ফিরে গেছেন কলকাতা। আজ শনিবার চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ইডেনে সাকিবকে দেখা যাবে কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়।
এদিকে, কোচ ডেভ হোয়াটমোর মরগানকে নিয়ে এখনো আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘মরগান প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। যদিও সে এখনো বলার মতো কিছু করতে পারেননি। তবে আমরা আশাবাদী।
মরগানকে নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও হোয়াটমোর আশাবাদী হতে পারেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের পুরো দায়িত্ব যাঁকে কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়, এক ম্যাচে খারাপ করলেই পরের ৩ ম্যাচ তাঁকে ডাগ-আউটে বসে থাকতে হয়। ডাচ ব্যাটসম্যান ডেসকাটের ওপরও আস্থা রাখতে পারেন হোয়াটমোর, কিন্তু সাকিবে তাঁর আস্থা কম।
এটাই বোধহয় আইপিএলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিয়তি!

আইসিসির আচরণে বিস্মিত এহসান মানি

কিছুদিন আগেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ম্যাচপাতানো নিয়ে এক বোমা ফাটানো মন্তব্য করেছেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক হাশান তিলকারত্নে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯২ সাল থেকেই লঙ্কান ক্রিকেটাররা ম্যাচপাতানোর সঙ্গে জড়িত। তবে কয়েক দিন পর অবশ্য খোলাখুলি সবার সামনে বিষয়গুলো বলতে অসম্মতি জানান তিলকারত্নে। তাঁর এই আচরণটা অনেককেই অবাক করেছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি যে রকম নীরব আচরণ করছে, তাতেই বরং বেশি অবাক হয়েছেন আইসিসির সাবেক প্রধান এহসান মানি।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আইসিসি প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন মানি। সম্প্রতি এই ব্যাপারটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘তিলকারত্নের অভিযোগ খুবই গুরুতর। আইসিসির বিষয়টা সেভাবেই বিবেচনা করা উচিত। এ রকম বিষয়গুলোতে আইসিসির একটা পরিষ্কার অবস্থান থাকা উচিত। তাদের এই নীরবতা দুর্নীতি বন্ধ করতে কোনোই ভূমিকা রাখবে না। তাদের এখন বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তাদের এই চুপ থাকার উদ্দেশ্য আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না।’
সবার সামনে না বললেও আইসিসির সামনে সব কথা বলবেন বলে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন তিলকারত্নে। আইসিসিকে খুব দ্রুতই তিলকারত্নের সঙ্গে যোগাযোগ করার তাগিদ দিয়েছেন মানি। তিনি বলেছেন, ‘যদি এখনো আইসিসির দুর্নীতি-বিরোধী ইউনিট তিলকারত্নের সঙ্গে যোগাযোগ না করে থাকে, তাহলে তাদের খুব দ্রুতই সেটা করা উচিত।’