Sunday, November 4, 2018

সৌদি যুবরাজের শাসনামল কি শেষের পথে?

এক পক্ষ বলেছেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আদেশেই সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। অন্য পক্ষ বলছেন, তার আদেশের সীমা অতিক্রম করে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধ ও খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জোর দাবি উঠেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু খাশোগির হত্যায় তুলনামূলকভাবে নীরব ফ্রান্স মন্তব্য করেছে, অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে এবং তাদের দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রয়োজনে সৌদি আরবকে দরকার। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও তাকে পছন্দ করা না করার বিষয়ে জনমত বিভক্ত। একদল মনে করেন, তিনি আর সম্পদ নন, বোঝা। অন্যদিকে মোল্লাতন্ত্রের কুক্ষিগত ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের চেষ্টা করায় দেশটির তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের কাছে এমবিএস প্রশংসিত। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে চাকরির সম্ভাবনা তৈরিতে যুবরাজের ভূমিকায় তারা খুশি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক এমন দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতির বাস্তবতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভবিষ্যৎ কী? তিনি কি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে পারবেন?
বিবিস লিখেছে, কেউ তাকে ‘বিষাক্ত’ মনে করেন, আর কেউ মনে করেন ‘নায়ক।’ তার ‘বিষাক্ত’ হওয়া না হওয়ার প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনাটি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তানবুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যা করে যুবরাজ সালমানের পাঠানো এজেন্টরা। সৌদি আরব প্রথম থেকে এ ঘটনার একাধিক পরস্পরবিরোধী বয়ান হাজির করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সমালোচনার প্রেক্ষিতে সৌদি আরব বলেছিল, হাতাহাতির ঘটনায় খাশোগির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তারা মৃত দেহ দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে জানা যায়, তার মৃতদেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। তুরস্কের তদন্তকারীরা বলেছেন, তার দেহাবশেষ এসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলা হয়েছে। সৌদি আরব অভিযুক্ত এজেন্টদের গ্রেফতার করে আটক রাখার দাবি করে বলেছে, যুবরাজ খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছিলেন, হত্যার নয়।
কাতারের সঙ্গেও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব রয়েছে। যুবরাজের নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরব কাতারকে ইরানের পক্ষভুক্ত মনে করে এবং দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ জারি করে করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র যে তার দুই মিত্রের মধ্যে এমন সম্পর্কের অবসান চায় তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মানামায় অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের দেওয়া বক্তব্য থেকে। তিনি জানিয়েছেন, কাতারে ১৭ দেশের সম্মিলিত বিমান ঘাঁটি হবে।
এ বছর কানাডার সঙ্গেও যুবরাজের মতবিরোধ হতে দেখা গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানবাধিকার প্রসঙ্গে সমালোচনা করায় সৌদি আরব পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে কানাডায় পড়তে যাওয়া সব সৌদি শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরার আদেশ দেয়।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত যুবরাজের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে সৌদি আরবের রাজপরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে তার সমালোচক আহমাদ আব্দুল আজিজকে। তাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল স্বয়ং যুবরাজকে। রাজপরিবারের যেসব সদস্য এমবিএসকে ‘বিষাক্ত’ মনে করেন, তাদের প্রত্যাশা আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ হয় যুবরাজের ক্ষমতা খর্ব করবেন, আর নয়তো যুবরাজের বিকল্প তৈরিতে সহায়তা করবেন।
এসব গেল তার বিরোধিতার প্রশ্নে চলা ঘটনাপ্রবাহ। কিন্তু তার পক্ষে সমর্থকরাও রয়েছে। গত বছর রিয়াদের রিৎজ কার্ল হোটেলে রাজপরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তিনি আটক করে রেখেছিলেন। তার দাবি, এসব ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন। পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে ছাড়া পান আটক ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় সৌদি আরবের অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা সন্তুষ্ট হয়। যুবরাজ নিজে যে ৪৫ কোটি ডলার ব্যয়ে বিলাসবহুল নৌযান কিনেছেন তাতে তাদের খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
যুবরাজ মোল্লাতন্ত্রের কুক্ষিগত ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানো বৈধ ঘোষণা করেন। তার আদেশে দেশটিতে প্রথমবারের মতো বড় বড় কয়েকটি শহরে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়। তেলনির্ভর অর্থনীতিকে হাই-টেক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে চান তিনি। এজন্য প্রস্তাব করেছেন ভিশন ২০৩০ নামের পরিকল্পনারও। নতুন প্রজন্মের সৌদি নাগরিকরা মনে করেন, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তারা সবাই চাকরি পাবেন।
খাশোগির হত্যা ও ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে যুবরাজের নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমালোচনা প্রবল হয়ে উঠলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্রান্সের একজন মন্ত্রী রয়টার্সের কাছে মন্তব্য করেছেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে হারানোর ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি শুধু অস্ত্র বিক্রির নয়। যুবরাজের প্রভাব যদি ক্ষুণ্ণ হয় তাহলে পুরো অঞ্চলটিকেই অনেক বড় মাসুল দিতে হবে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি রক্ষা করাটা ফ্রান্সের কর্মীদের চাকরির সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবিসি লিখেছে, বদ্ধ দুয়ারের পেছনে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন গুরুতর আলোচনা চালাচ্ছে সৌদি রাজপরিবার। তাকে কি নামকাওয়াস্তে কোনও পদ দেওয়া হবে যাতে তিনি কার্যত অত্যন্ত সীমিত ক্ষমতা হাতে পান? শুধু ক্ষমতা খর্ব করলেই কি মার্কিন কংগ্রেস ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলো সন্তুষ্ট হবে? তাতে কি তারা সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবে? নাকি তাকে একেবারেই ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে?
২০০১ সালে আরব বসন্তের মাত্র কয়েক মাস পরে সংশ্লিষ্টরা ধরে নিয়েছিল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ কয়েক মাসের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত হবেন। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কী হবে?

এশিয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত কোটি

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রায় অর্ধশত কোটি (৪৮ কোটি ৬০ লাখ)  মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির খাদ্য ও কৃষি সংস্থার একটি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে যাবতীয় ধারার অপুষ্টিজনিত সংকট দূর করে ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার না পূরণ করলে এশিয়ার দেশগুলো মানব সম্পদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘের ৪টি সংস্থা।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অপুষ্টিজনিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এতে বলা হয়, এসব অঞ্চলে এক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে কোনও উন্নতি নেই। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত ভালো শহর ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুরে এমন অনেক দরিদ্র পরিবার আছে যারা তাদের শিশুকে ভালো খাবার দিতে পারে না। ভালো খাদ্যের অভাবে প্রায়ই বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়ে এসব শিশু।
এক জরিপকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, ব্যাংককে ২০১৭ সালে এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু পর্যাপ্ত খাদ্য পায়নি। অপরদিকে পাকিস্তানে মাত্র ৪ শতাংশ শিশু গ্রহণযোগ্য মাত্রার সর্বনিম্ন পর্যায়ের খাবার পেয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে, অপুষ্টির হার ২০০৫ সালের ১৮ শতাংশ থেকে ২০১৭ সালে ১১ শতাংশে হ্রাস পেলেও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে শিশুরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অঞ্চলে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭ কোটি ৯ লাখ শিশু এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এক যুক্ত বিবৃতিতে জাতিসংঘের ৪টি সংস্থা অভিযোগ করেছে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার রিপোর্ট থেকে এটাই দৃশ্যমান হয় যে গত দুই বছরে ক্ষুধা মুক্তিতে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। তারা সতর্ক করেছে,  এমন বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্তির কোনও সম্ভাবনা নাই।

আমিরাতের শ্রমবাজার ছয় বছর ধরে বন্ধ, খুলবে কবে? by সাদ্দিফ অভি

গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া একরকম বন্ধ রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বন্ধ থাকা এ শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে এ বছরের ১৮ এপ্রিল দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই এ বাজার পুরোপুরি খুলে যাবে। কিন্তু সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এই বাজারে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতের বাজার পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করতে এমাসে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাবেন তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করে ভিসা বন্ধ রেখেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় একটি ভিসা ও কনসুলার অফিস খুলে দেশটি। অফিসটি প্রতিদিন ৬০০ জনকে ভিসা দিতে সক্ষম। তখন সবাই ধারণা করেছিল— তিন বছর পর ফের নতুন করে বড় আকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটিতে। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার এবং প্রতিমাসে ১২ হাজার ভিসা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও, পরবর্তী বছরের (২০১৬) জানুয়ারি-মার্চ মেয়াদে আরব আমিরাতে লোক পাঠানোর চিত্র ছিল অত্যন্ত করুণ। ওই তিন মাসে সেদেশে লোক গেছে মাত্র ২ হাজার ১৭৩ জন। তবে ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে গিয়েছিল ৭ হাজার ১৬৬ জন।
এরপর আবারও কূটনৈতিক চ্যানেলে ব্যাপক চেষ্টার ফলে ব্যক্তিপর্যায়ে চাহিদার ভিত্তিতে ১৯ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহের কথা জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, যার ফলশ্রুতিতে এ বছরের ১৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। দেশটির মানবসম্পদ এবং এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নাসের আল হামলি’র উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি সাইফ আহমেদ আল সুআইদি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়। এই সমঝোতা স্বাক্ষরের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি গঠন করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, এখনও পর্যন্ত সেদেশে কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সমঝোতা স্বাক্ষরের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের একটি অন্যতম শ্রমবাজার।  সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের নিয়মনীতি অনুসরণ করে কর্মী পাঠাতে হবে। সুষ্ঠু অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকসহ প্রফেশনালদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।’
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, এ বছরের এপ্রিলের পর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমিরাতে কর্মী গেছেন মাত্র ১ হাজার ৪০৪ জন। প্রতিমাসে গড়ে যাচ্ছেন ২০০ জন, অথচ শ্রমবাজার খোলা থাকার সময় সর্বোচ্চ শ্রমিক গিয়েছে ২০০৮ সালে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন।   
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের আগস্ট থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটি নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ সরকারের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও গত ছয় বছরেও পুরোপুরি খোলেনি আমিরাতের শ্রমবাজার। নিরাপত্তা ও বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়ে দুদেশ চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রেখেছে আমিরাত সরকার। বাংলাদেশিদের সম্পর্কে আমিরাতের নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা করেও মেলেনি কোনও সুসংবাদ। পরবর্তীতে, ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ দুবাইকে প্রথম দফায় ভোট না দেওয়ার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এটি সহজভাবে নেয়নি আরব আমিরাত। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সিদ্ধান্ত হয় প্রথম দফায় রাশিয়াকে ভোট দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে আমিরাতকে সমর্থন দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে সমঝোতা স্বাক্ষরের মুহূর্ত থেকে কর্মী প্রেরণ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি। সমঝোতা স্মারকটিতে বাংলাদেশ থেকে ১৯টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগের বিধান, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়োগ চুক্তির বিধান ও পৃথক একটি বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, নভেম্বর মাসে আমিরাতের বাজার পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করতে সেদেশে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন— মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও প্রশাসন ) আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মরনকুমার চক্রবর্তী ও ডিজিএম আরিফুল হক।
আমিরাতের শ্রমবাজার অফিসিয়ালি বন্ধ নয় দাবি করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমিরাতের বাজারে বর্তমানে আমাদের অনেক কর্মী আছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মীদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে মনে হয় না। আমাদের কর্মীরা মূলত কনস্ট্রাকশন কাজে ওইসব দেশে যায়। আইসিটিসহ অন্যান্য সেক্টরে চাহিদা বেশি ভারতীয়দের। একটা রাষ্ট্র কত আর বিল্ডিং বানাবে? একসময় তো প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। আমার ধারণা, আধ্যাত্মিক কিছু না ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মীর চাহিদা বাড়বে না।’
অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দুবাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা যাবো। আরব আমিরাতের সরকারের সঙ্গে আমাদের এই মুহূর্তে দর কষাকষির কিছু নেই। কারণ, যখন সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, যা আলোচনা করার তা হয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে মূলত আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি, ব্যবসায়ী এবং কর্মীদের কাছ থেকে ধারণা নেবো আমিরাতের বাজার সম্পর্কে। কারণ, তারা এ সম্পর্কে ভালো জানেন। আমরা তাদের পরামর্শ নেবো, কোন সেক্টরে কীভাবে কী করা যায়। আমরা আমাদের লোকজনের সঙ্গে বেশি আলাপ করবো এবার। তারা কী বলছে, তাদের কথা শুনে দেখবো।’
তবে আমিরাতের বাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমিরাতের বাজার অনেক দিন ধরেই বন্ধ। আরব আমিরাতে কর্মীর চাহিদা এত বেশি যে, আমি দুবাই গিয়ে দেখেছি অন্য দেশের পাসপোর্ট করে বিভিন্ন জায়গায় কাজ নিচ্ছে বাঙালিরা। আরব আমিরাতে আমাদের প্রচুর লোকের চাহিদা আছে। আমি মনে করি, আমাদের স্কিলড লোক তৈরি করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে লোক পাঠানোর চিন্তা না করে আমাদের দক্ষ লোক তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।  একলাখ অদক্ষ লোক গেলে যে রেমিট্যান্স আসবে,  ১০ হাজার দক্ষ লোক গেলে তার চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। কাজেই আমাদের সংখ্যার দিকে না যেয়ে, মানের দিকে নজর দেওয়া উচিত।’

সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু ভাবাবেগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না: আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু ভাবাবেগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিশ্বাস, ভাবনা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক নয় বরং এখানে কেবলমাত্র ইনসাফ।
আরএসএস নেতা সুরেশ ভাইয়াজি যোশীর মন্তব্যের পাল্টা জবাবে ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ওই মন্তব্য করেছেন। 
অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের রায় দিতে দেরী হওয়ায় গতকাল (শুক্রবার) আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক ও সঙ্ঘের দ্বিতীয় প্রধান সুরেশ ভাইয়াজি যোশী বলেন, ‘এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত শুনানিতে অগ্রাধিকার নয়। এতে হিন্দুরা অপমানিত বোধ করেছেন। শীর্ষ আদালতের উচিত ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিচার করা।’
শ্রী যোশি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ১৯৯২ সালের গণ আন্দোলনের পুনরাবৃত্তিও হতে পারে!
আরএসএসের ওই নেতা বলেন,  ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু হিন্দুদের ভাবাবেগের বিষয়টিও যেন মাথায় রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত ২৯ অক্টোবর বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে আমরা ভেবেছিলাম হিন্দুরা দীপাবলির আগেই সুখবরটা পাবেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ফের ওই মামলার শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে।’
আরএসএস নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করে কংগ্রেসের নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বলেছেন, ‘এসব লোকেরা হিন্দুদের ভাবনার ঠিকা নিয়ে রেখেছে, সঙ্ঘ ও বিজেপি নিজেদের ব্যর্থতার দায় যেন সুপ্রিম কোর্টের উপরে না চাপায়।’
জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী বলেছেন, ‘আরএসএস এবং বিজেপির কিছু নেতা অবশ্যই একনাগাড়ে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের অবস্থান স্পষ্ট যে মন্দির নির্মাণে দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং দ্বিতীয়ত, সংলাপ এছাড়া  কোনো উপায় নেই।’
তাঁরা রাম মন্দির নির্মাণ ইস্যুতে সংসদে আইন আনার পক্ষে নন এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত বলেও কে সি ত্যাগী বলেন।
বাবরী মসজিদ-রাম জন্মভূমি সংক্রান্ত বিতর্কিত জমি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট জানায় ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে ওই মামলার শুনানি হবে।

ট্রাভেলগ: কালের সাক্ষী বিউটি বোর্ডিং by নাকিবুল আহসান নিশাদ

পুরান ঢাকার বংশাল মোড়ের যানজট পেরিয়ে খানিকটা এগোলেই ভিক্টোরিয়া পার্ক। এর পাশের সড়ক ধরে কিছুদূর সামনে গেলে পড়বে শ্রীশদাস লেন। এই লেনের এক নম্বর বাড়ির নাম ‘বিউটি বোর্ডিং’। পুরান ঢাকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এখান থেকেই মোড় ঘুরে গিয়েছিল একটি দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির। আড্ডাবাজ একদল মানুষের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছিল অন্য এক জাতিসত্ত্বা।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্পী, সাহিত্যিকদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বহু সুনাম রয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থানের। তাদের মধ্যে উল্লেখেযোগ্য শামসুর রহমান, জিয়া আনসারী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, দেবদাস চক্রবর্তী, নিতুন কুণ্ড, সমুদ্র গুপ্ত, সন্তোষ গুপ্ত, ফজল শাহাবুদ্দিন, কবি ইমরুল চৌধুরী, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ফয়েজ আহমদসহ অনেকে। টিভি ব্যক্তিত্ব ফজলে লোহানী, শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচকেও দেখা যেতো বিউটি বোর্ডিংয়ের আড্ডায়।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে আড্ডা দিতে আসতেন গাজীউল হক, কমরেড আ. মতিন, অলি আহাদ, সাইফুদ্দীন মানিক প্রমুখ। চলচ্চিত্র শিল্পের কিংবদন্তি আব্দুল জব্বার খান বিউটি বোর্ডিংয়ে বসেই লেখেন বাংলার প্রথম সবাক ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর চিত্রনাট্য। প্রখ্যাত সুরকার সমর দাস বহু কালজয়ী বাংলা গানের সুর সৃষ্টি করেছিলেন এখানে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে। বুলবুল চৌধুরী তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অতলের কথকতা’য় তার বন্ধু সম্পর্কে লিখেছেন, ‘কায়েস আহমেদই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল বিউটি বোর্ডিংয়ে জড়ো হওয়া কয়েকজন তরুণ সাহিত্যিকের সামনে। বিউটি বোর্ডিংয়ে সমবেত হতে পারার মাধ্যমে দেশের অনেক নবীন-প্রবীণ সাহিত্যিকের কাছাকাছি হতে পেরেছিলাম।’
বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে শত বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিউটি বোর্ডিং। এর সাইনবোর্ড দেখে ভেতরে ঢুকতেই সামনে পড়বে একটুকরো বাগান। সেখানে ফুটে আছে নানান রঙের ফুল। বাগান থেকে চোখ ফেরাতেই দেখা যাবে হলুদ রঙা বিরাট একটি বাড়ি। এটি অনেকটা ‘এল’ আকৃতির। পুরোপুরি আড্ডার উপযোগী জায়গা। পাশে শোবার ঘর। পেছনে সিঁড়িঘর। সবই পুরনো বাড়ির রূপকথার গল্পের মতো সাজানো।
ভবনের নিচতলার একটি অংশে খাবার ঘর। সেখানে ছোট ছোট টেবিল আর চেয়ার পাতা। একসময় এই জায়গায় পিঁড়িতে বসে মেঝেতে থালা রেখে খাওয়ানো হতো। এখানে থালা, গ্লাস, জগ, বাটিসহ সব বাসন স্টিলের।
বিউটি বোর্ডিংয়ে বিভিন্ন রকমের সবজি বিক্রি হয়। এখানে প্রতিদিনকার মেন্যুতে থাকে বেগুন ভাজি, করলা ভাজি, কচু শাক, লাল শাক, কলা ভর্তা, শিম ভর্তা আর ধনেপাতার ভর্তা। সকালে একসময় আটার রুটির রেওয়াজ ছিল। এখন সকালের রুটির জায়গা নিয়েছে ভাত, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি আর ডাল। রাতের রান্না সীমিত আকারের। এক পদের মাছ, সবজি আর ডাল। তবে দধি এখানে তিন বেলাই পাওয়া যায়। বিউটি বোর্ডিংয়ের দধির খুব চাহিদা। সব খাবারই বেশ তৃপ্তিদায়ক। সেই তুলনায় বিল যে খুব বেশি আসবে তা নয়।
বিউটি বোর্ডিংয়ে বসে ইলিশের স্বাদ নিতে চাইলে খরচ করতে হবে ১৮০ টাকা। মুরগি ও খাসির মাংস ১০০ টাকা, খিচুড়ি প্রতি প্লেট ৪০ টাকা, পোলাও ৫০ টাকা, সবজি ৩০ টাকা, বড়া ১০ টাকা, চচ্চড়ি ৩০ টাকা আর একবাটি মুড়িঘণ্ট মিলবে ৭০ টাকায়, ভাজি ২০ টাকা। এখানে বিভিন্ন ধরনের ভর্তার দাম পড়বে ১৫-২০ টাকার মধ্যে।
বিউটি বোর্ডিংয়ের বর্তমান দুই মালিকের মধ্যে একজন তারক সাহা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার বাবা প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা ও চাচা নলিনী কান্ত সাহা মিলে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ আরও কয়েকজনের সঙ্গে শহীদ হন প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা। শহীদদের স্মরণে এখানে ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন কবি শামসুর রাহমান। 
তারক সাহা বলেন, ‘এই জায়গা ছিল বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির গুণী মানুষদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। সমমনা মানুষদের নির্জলা আড্ডা চলতো দিনরাত। পঞ্চাশ, ষাট আর সত্তরের দশক ছিল বিউটি বোর্ডিংয়ের যৌবনকাল। তখন আড্ডা দিতে আসতেন সেই সময়ের প্রথিতযশা সাহিত্যিকেরা।’
১৯৭২ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলে দুই ছেলে তারক সাহা ও সমর সাহাকে নিয়ে ফিরে আসেন প্রহ্লাদ সাহার সহধর্মিণী প্রতিভা সাহা। আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হয় বোর্ডিংয়ের কার্যক্রম। এখনও তাদের পরিচালনায় চলছে এটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে আড্ডা জমানোর জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেন কবি বেলাল চৌধুরী ও শহীদ কাদরী। এরপর একে একে আসেন আরও অনেকে। বিউটি বোর্ডিংকে কেন্দ্র করেই দেশের শিল্প-সংস্কৃতির রেনেসাঁ ঘটে। এখন অবশ্য পুরনো দিনের মতো আর আড্ডা বসে না বিউটি বোর্ডিংয়ে। 
যেভাবে যাবেন
ঢাকার বাইরে থেকে বাস,ট্রেন,লঞ্চ যেকোনও বাহনে আসা যাবে। বাসে এলে মহাখালী থেকে আজমেরী পরিবহন ও স্কাই লাইন বাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসে। সেখান থেকে রিকশায় চড়ে যাওয়া যায়। গাবতলী থেকে ৭ নম্বর ও সাভার পরিবহন বাস আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তারপর রিকশায় চড়ে যেতে হবে। সায়দাবাদ থেকে বেছে নিতে পারেন রিকশা বা উবার। ট্রেনে এলে কমলাপুর থেকে উবার বা রিকশা করে যাওয়া যায়। লঞ্চে এলে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে বিউটি বোর্ডিং।
যেখানে থাকবেন
বিউটি বোর্ডিংয়ে চাইলে থাকা যাবে। এখানে সব মিলিয়ে ২৭টি থাকার ঘর আছে। এর মধ্যে ১৭টি সিঙ্গেল বেড ও ১০টি ডাবল বেড। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ২০০ টাকা আর ডাবল রুম ৪০০ টাকা। বিউটি বোর্ডিং ছাড়াও পুরান ঢাকার অলিগলিতে বিভিন্ন মানের অসংখ্য হোটেল রয়েছে। এগুলোতে মিলবে এসি ও নন-এসি সিঙ্গেল আর ডাবল রুম। উন্নত হোটেলের রুমে পরিপাটি সজ্জা, টেবিল-চেয়ার, ইন্টারকম, টেলিফোন, টেলিভিশন আর বাথরুমে তোয়ালে, সাবান, শ্যাম্পু, গিজার, টুথব্রাশ ও পেস্ট প্রভৃতি পাওয়া যাবে। তবে সাধারণ হোটেলের রুমে থাকে শুধু বিছানা, চেয়ার-টেবিল, ফ্যান ও লাইট। এসব হোটেলে নগদ প্রদানের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

তাদের একমাত্র ভরসা প্রশাসন : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের [ওসমান পরিবার] একমাত্র ভরসা প্রশাসন। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েই তারা কেন্দ্রগুলো দখল করেছে। গোগনগর ইউনিয়নের বিষয়টি আমি কম বেশি জানতাম। কার নির্দেশে? কার প্রয়োজনে? আমরা সকলেই জানি। আজকে সেই এমপির মঞ্চে উঠে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ বক্তব্য দেয়।
জাতীয় চার নেতার স্মরণে শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে এ কথা বলেন আইভী।
শুরুতেই জেল হত্যা দিবস প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আজ জেল হত্যা দিবস। যে দিনটিতে আমাদের জাতীয় চার নেতাকে জেলখানার মতো নিরাপদ স্থানে হত্যা করা হয়েছিলো। বাঙালি জাতির জীবনে এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। আজকের দিনটি নিয়ে আমার পূর্ববর্তী বক্তারা অনেকেই অনেক কথা বলে গেছেন। আমি সে প্রসঙ্গে আর কিছু বলবো না। আমি শুধু একটি বিষয় যুক্ত করতে চাই। জেলখানার মতো একটি নিরাপদ স্থানে তাদের হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মেজর ডালিম বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁদের হত্যা করার পূর্বে খন্দকার মোশতাক এই নেতাদের বলেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য। কিন্তু তারা জাতির সাথে বেঈমানি করেননি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরে যাননি। তারা কিন্তু এক বাক্যে বলেছিলেন আমরা এই মন্ত্রী পরিষদে যাবো না। আমি এ কথাগুলো বললাম তাদের সেই সততাটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আজকে আমরা যারা দল করি, তারা কিন্তু প্রতি মুহূর্তে হিসাব নিকাশ করি, কথায় কথায় বেঁকে বসি। সারাক্ষণ ভাবি কী পেলাম কী পেলাম না। তাহলে সেই নেতাদের আদর্শ দেখুন আর আজকে আমাদের আদর্শ দেখুন। আমরা যদি আমাদের এই স্বভাবটি বদলাতে না পারি, তবে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না বলে আমি মনে করি।’
আইভী আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতৃবৃন্দই বলেন সামনে বিপদ সামনে বিপদ। দল ক্ষমতায় না এলে কী হবে না হবে। দল ক্ষমতায় আসতেই হবে। আর সেটা নির্ভর করছে আমাদের মতো অনেক নেতাকর্মীদের উপর। আমাদের ব্যবহার, আমাদের কথা বলার ধরণ, আমাদের সততা, আমাদের মানুষের প্রতি ভালোবাসা; এই বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করছে মানুষ আওয়ামীলীগে ভোট দিবে নাকী দিবে না। সে কারণেই আমাদের নেত্রী বারবার বলেন, মাঠে যে জনপ্রিয় আমি তাকেই মনোনয়ন দিবো। একবার ভেবে দেখেছেন তিনি এই কথাটা কেনো বলেন!’
আইভী বলেন, ‘আমরা আজকে বলছি যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফেল করেছেন। আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কী তখন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম? আমি তো অন্তত যাইনি। আমাকে কেউ বলেওনি। যদিও আমার পদ পদবির কারণে আমার যাওয়া নিষেধ। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগ তো পাশে গিয়ে দাঁড়ায়নি। তাদের কেন ফেল করানো হয়! কে ফেল করাল? জনপ্রিয় প্রার্থীদেরও কীভাবে ফেইল করানো হলো? তাদের একমাত্র ভরসা প্রশাসন। তার মানে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে কাজ করে। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েই তারা কেন্দ্রগুলো দখল করেছে।
গোগনগর ইউনিয়নের বিষয়টি আমি কম বেশি জানতাম। সেখানে পুলিশ নৌকার ব্যাচও খুলে ফেলেছে। কার নির্দেশে? কার প্রয়োজনে? আমরা সকলেই জানি। আজকে সেই এমপির মঞ্চে উঠে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ বক্তব্য দেয়। আমি ঠিক জানি না তারা কেমন ভালোবাসে এই দলকে, আর নেত্রীকে। এত সুবিধাবাদী হলে তো চলবে না। আমরা যেমন নেত্রীর সাথে বেঈমানি করবো না। তেমনি শেষ পর্যন্ত নৌকার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবো।
তিনি আরো বলেন, গতকালকে জাতীর পার্টির স্টেজে গিয়ে যে সমস্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে ভোট চেয়েছেন লাঙ্গলের জন্য তাদেরকে আমি ধিক্কার জানাই। যদি এ আসনে নেত্রী তাকে দেয় মহাজোট থেকে অবশ্যই আমরা তার জন্য খাটবো কিন্তু না দেয়া পর্যন্ত আমরা নৌকার কথাই বলবো এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী যাকে দেবেন তাকেই আমরা মেনে নেব এটা সত্য দলের স্বার্থে দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বার্থে আমাদেরকে মেনে নিতে হবে এটাই আপনারা মাথায় রাখেন কিন্তু তার আগে তো আমরা দলের প্রচার ছাড়া অন্য প্রচার করতে পারিনা।
মেয়র আরো বলেন, ‘আপনারা যে নৌকার দাবি তোলেন সেটি কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানেন। সে জন্যেই আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জে আসতে চেয়েছিলেন। উনি একটি কর্মসূচি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেনো তাকে এখানে আসতে দেয়া হলো না? আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেদিন ওবায়দুল কাদের যদি আসতেন তবে এই নারায়ণগঞ্জে নৌকায় নৌকায় একাকার হয়ে যেতো। এই ভয়ে তাকে আসতে দেয়া হয়নি। আসলে গন্ডগোল হবে। আসলে এই হবে। শহরে এক সমস্যা। শ্রমিকলীগের ফতুল্লাতে সমস্যা। তাই তাকে আসতে দেয়া হয়নি। এই শহরকে যারা জুজুর ভয় দেখায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একত্রিত হওয়া উচিৎ। ভয় কিসের, মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাহলে আমরা মৃত্যুকে কেন ভয় পাবো।
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন হকার উচ্ছেদে আমরা যখন গিয়েছি আমরা ফুটপাতে হাঁটছিলাম। ঐদিন যারা ছিল আমার সাথে সকলেই আমার ভাই। নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাহস এমনই এই পিস্তলকে সরিয়ে তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তাহলে এই শহরের মানুষের সাহস আছে শুধু নেতৃত্বের কারণে তারা পিছিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, আমি বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনসহ এই ৫টি আসনেই নেত্রী আমাদের নৌকা প্রতীক দিবেন। যতই ঝামেলা হোক আমি আপনাদের পাশে আছি। নারায়ণগঞ্জে যেখানে আমি বা অন্যান্য যারা আছে ৫ আসনে সেখানে দেখেন কিভাবে এতজন প্রার্থী সকলেই নৌকার ও শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রচার করে যাচ্ছে একে অপরের সাথে সম্পর্ক রেখে।’
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য বাখেন আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, আসাদুজ্জামান আসাদ, মরিয়ম কল্পনা প্রমুখ।