Thursday, February 2, 2012

গ্রাম্য সালিশ ও আত্মহত্যা by মোঃ আলী আশরাফ খান

যদিও 'গ্রাম্য সালিশ' শব্দটির মধ্যে আমাদের বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য বহন করে, আমাদের সামাজিক বন্ধনকে করে অটুট ও সুদৃঢ়। কিন্তু কালক্রমে রাজনীতির ভ্রান্তচর্চা, দুর্নীতির কালো ছায়া ও অনৈতিকতায় নিমজ্জিত হয়ে এখন এই গ্রাম্য সালিশ তথা বিচার ব্যবস্থাটি কলুষতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পেঁৗছে গেছে।

পাহাড় কেটে ময়দার মিল! by নির্মলেন্দু রায়

আমাদের দেশে পাহাড়-পর্বতের সংখ্যা এমনিতেই কম। শুধু দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোই পাহাড়বেষ্টিত। আশির দশক থেকে অনেক জেলাতেই আবার জমি নিয়ে দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি অশান্তি লেগেই আছে।

সুদিনের অপেক্ষায় থাকি by রউফুল আলম

সম্রাট শাহজাহানের কন্যার চিকিৎসার মাধ্যমে জনৈক ইংরেজ চিকিৎসক ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য ভারতবর্ষে প্রথম কুঠি স্থাপনের রাষ্ট্রীয় সম্মতি আদায় করেন (দৃষ্টিপাত-যাযাবর)। শুরু সেখান থেকেই, তারপর পলাশীর আম্রকাননে যে সূর্য অস্ত গেছে তা উদিত হয় প্রায় দুইশ' বছর পর। শুধু এই বাংলায় জন্ম নিয়েছেন মজনু শাহ, তিতুমীর, মাস্টারদা, প্রীতিলতাসহ অনেক বীর ও বীরাঙ্গনা; প্রাণ দিয়েছেন অসংখ্য। শিক্ষা নিতে হয় ইতিহাস থেকে, দৃষ্টি হতে হয় দূরদর্শী।

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ূক by মোঃ শফিকুল ইসলাম খোকন

বর্তমানে সারাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকা, টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চোখে পড়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। জনসাধারণের বৃহত্তর অংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর এই বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে না সংশিল্গষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা দিবসের ভাবনা-দুর্ভাবনা by কাজী ফারুক আহমেদ

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর 'শিক্ষা দিবস'। শরীফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে ও একটি গণমুখী শিক্ষানীতির দাবিতে নবকুমার স্কুলের ছাত্র বাবুল, বাস কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহর রক্তে স্নাত হয়ে শিক্ষার্থী এবং মেহনতি মানুষের মিলিত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর।

প্লেটভরা পোকামাকড় by শেখ রোকন

জীবনানন্দ দাশ যদিও ফড়িংয়ের জীবন পাওয়ার জন্য হাহাকার করেছেন; চীনের রাস্তায় গেলে দেখতে পেতেন তার এবং আরও অনেকের প্রিয় এ পতঙ্গ কী জীবনযাপন করে! বেশ কয়েক মাস আগে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির 'মাই শট' বিভাগে বেইজিংয়ের ফুটপাত থেকে তোলা এমন একটি আলোকচিত্র চোখে পড়েছিল।

বহু সংস্কৃতিবাদের দিন কি ফুরাল?-ইউরোপ by সেঁজুতি শুভ আহ্মেদ

আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেমন হবে। তবে আমি জানি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ কী দিয়ে হবে আর তা হলো প্রস্তর খণ্ড।'_আলবার্ট আইনস্টাইন। কোনো কিছু প্রগতির চূড়ান্ত সীমায় পেঁৗছালে তা একসময় ধ্বংস হয়ে আবার যে প্রথম থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা_ আইনস্টাইনের উক্তির মধ্যে এমন ইঙ্গিত পাই।

চুক্তি হয়নি তাই যুক্তি খোঁজা হচ্ছে কার ঘাড়ে দোষ চাপানো যায়-কালের আয়নায় by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

তিস্তা নদীর নামের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় অদ্বৈতমল্ল বর্মণের উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' পড়ার সময়। এই উপন্যাসটি যখন পড়ি, তখন আমি কিশোর। বড় হয়ে তিস্তা নদীটি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। অবশ্য তিস্তার সেই ভরা যৌবনকালের অবস্থা এখন নেই। এখনকার এই শীর্ণ তিস্তা সারা উপমহাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ এমন বৈঠকী বিতর্ক শুরু করে দিতে পারে, তা কখনও ভাবিনি।

বরিশাল মেডিকেল-চিকিৎসাসেবার সঙ্গে দায়িত্ববোধ

বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ম অনুযায়ী দিনে-রাতে দু'বার ওয়ার্ড ভিজিট বাধ্যতামূলক করে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নোটিশ জারি করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় চিকিৎসকদের পেশাগত পোশাক পরাও বাধ্যতামূলক হচ্ছে।

পদ্মা সেতু-দ্রুত শুরু হোক নির্মাণ কাজ

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নতুন গতি পেয়েছে এবং তা আশান্বিত করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষকে। বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রকল্পে ঋণ জোগানোর অঙ্গীকার করেছে এবং এ বিষয়ে চুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য স্থান ও নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যায়ের পক্ষে তর্ক নিন্দনীয় by শিরিন বেলায়েত

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। এ মানুষই শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে বিভিন্ন নিন্দনীয় কাজ করে। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়ের পক্ষে তর্ক করা ও নিন্দনীয় কাজ। অন্যায়ের পক্ষে তর্কের বিভিন্ন উদ্দেশ্য হতে পারে। যেমন বক্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে নিজেকে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা।

মোবাইল ফোনে বিয়ে by মুফতি মাহ্ফূযুল হক

বিয়ের শুদ্ধতার ওপর অনেক কিছু নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোনো বিয়ে যদি অশুদ্ধ হয় তাহলে তাদের সম্পর্ক হারাম হবে। সন্তানদের ঔরস জানা থাকা সত্ত্বেও ওদের কোনো পিতৃপরিচয় থাকবে না। ফিকাহ শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থাবলিতে বিয়ের নিয়ম-পদ্ধতি লেখা আছে। দেড় হাজার বছর ধরে মুসলমানদের ঘরে ঘরে বিয়ের আয়োজন হচ্ছে।

আল-কোরআন :মহানবীর জীবন্ত মুজিজা by আলী হাসান তৈয়ব

মানব জাতির সর্বশেষ রাসূল হিসেবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহ যে সর্বজনীন মুজিজা দান করেছেন তা-ই আল-কোরআন। পণ্ডিত, ঐতিহাসিক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা আল-কোরআনের বিস্ময়কর প্রকৃতির বিবরণ দিয়ে অসংখ্য পৃষ্ঠা রচনা করেছেন।

মসজিদে ছোটদের সঙ্গে বড়দের ব্যবহার by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

গেল শুক্রবার পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গেলে আমার জায়গা মেলে অনেক পেছনে। সেখানে বড় মুসলি্লর সংখ্যা খুব কম; ছোটদের সংখ্যাই বেশি। ইমাম সাহেব খুতবা পড়ছেন আর ধীরে ধীরে বড় মুসলি্লরা একে একে আসছেন।

এক রামে রক্ষা নাই by আসিফ আহমেদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান শ্রেণীতে ভর্তির জন্য এবারে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তির জন্য আবেদনের ফি বাড়িয়েছে। বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। বুধবার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে 'ভর্তি পরীক্ষার বর্ধিত ফি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীবৃন্দ'_ এই ব্যানারে একটি মিছিল হয়েছে।

তিস্তার পানি বণ্টন-অবাক করা, তবে অভাবিত নয় by জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরী

বাংলাদেশের মন্ত্রীরা এটাও সফরের পর বলেছেন যে, তিস্তার পানি নিয়ে চুক্তি না হলে ভারতকে 'ট্রানজিট' সুবিধা দেওয়া যাবে না। কিন্তু এই তিস্তার পানি নিয়ে যিনি আলোচনা এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিচরণ করছেন, তিনি হলেন কিছুটা অবিশ্বাস্যভাবে হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের ফলাফলের পটভূমিতে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এবং বিতর্কের সঞ্চারণ ঘটেছে,

ধর নির্ভয় গান-আমার গেলাস সদাই থাক অর্ধেক পূর্ণ by আলী যাকের

আমাদের বাংলাদেশে দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের জাঁতাকলে থেকে আমাদের মানসিকতা এমন হয়ে গেছে যে, আমরা ধরেই নিই, যে কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে দেশের নির্র্বাহী প্রধানের সম্মতিই যথেষ্ট। এর কারণ এই যে, এখনও আমরা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্বন্ধে সচেতন হইনি। ভারত একটি বিশাল দেশ এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট ক্ষমতা মধ্য ষাট বয়সে এসে আমার এই পরম আশাবাদী মনটাকে আর বদলাতে চাই না। থাকুক না সে যেমন আছে।

সুন্দরবনে বাঘ হত্যা-এ কেমন নিষ্ঠুরতা?

গত শতাব্দীর শেষপাদে এসেও শিশু-কিশোর গল্পে 'বাঘ মামার' সঙ্গে অবুঝ-দুরন্ত মনের শিহরণ জাগানিয়া দোস্তি পশুর প্রতি মানুষের সখ্য-ভালোবাসার সম্পর্ককে প্রকট করেছে। বাঘ যেখানে তার খাবারের অভাব ঘটলে বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে মানুষের মাংসে উদরপূর্তি করতে দ্বিধা করে না, সেখানে বাঘের প্রতি এহেন বন্ধুভাব গড়ে তোলার চেষ্টা পশুর প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধকেই তুলে ধরে। কিন্তু অনেকের সাধুবাক্যে অতৃপ্তি।

দুর্নীতি দমন কমিশন-নিরপেক্ষ ও তৎপর কমিশন চাই

ভারতে নাগরিক আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারের সাম্প্রতিক আন্দোলনের ঢেউ প্রতিবেশী দেশটিকে কাঁপিয়ে দিলেও তা আমাদের দেশে খুব তোলপাড় সৃষ্টি করেনি। তবে গণমাধ্যমসহ দেশের সচেতন নাগরিকরা আন্না হাজারের আন্দোলনের দিকে তীব্র নজর রাখছিলেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দেশটির পরিচালকরা নাগরিক আন্দোলনের দাবি মেনে নিয়েছেন। নাগরিক আন্দোলন ও আন্না হাজারের জয় হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে রাষ্ট্র ও জনগণ।

মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু-কিছু কেন্দ্রে পুরোনো প্রশ্নে নতুনদের পরীক্ষা

মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর দিনেই ঢাকার কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে নতুন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও এ রকম অদল-বদল প্রশ্নপত্রে কিছুক্ষণ পরীক্ষা নেওয়ার পর আবার প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন

স্কুল থেকে ফিরে বাবাকে ক্লাসে প্রথম হয়ে পাওয়া পুরস্কার দেখাবে বলে কথা দিয়েছিল ছোট্ট সিদরাতুল। কিন্তু স্কুলে সে আর পৌঁছাতে পারেনি। বাবাও আর মেয়ের সঙ্গে পুরস্কারের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেননি। তার বদলে বেদনায় বিমূঢ় হলেন বাবা, পরিবার। বাসের চাকার নিচে হারিয়ে গেল সবকিছু।

জয়ে শুরু বেইলি-অধ্যায়

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিস্ময় তিনি। ম্যাচ শেষে সেই জর্জ বেইলিই বিস্মিত, যখন ট্রফি নেওয়ার জন্য ডাকা হলো তাঁকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচেই জয়ী দলকে দেওয়া হচ্ছে ট্রফি। আলোচিত অভিষেকে বেইলি পেলেন তাই অনেক কিছুই। নিজে বড় রান না পেলেও আউট হননি, দলের জয়, সঙ্গে একটা ট্রফি! ম্যাচ শেষে অবশ্য তৃপ্তির কথা জানালেন বৃহত্তর পরিসরে, ‘পুরো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্যই সময়টা দারুণ যাচ্ছে।’

বিজেএমসির প্রতিশোধ

বিজেএমসি ৩: ১ শেখ জামাল জয়টাকে কী বলবেন, মধুর প্রতিশোধ? ম্যাচ শেষে অনিবার্য প্রশ্নটার মুখোমুখি হলেন জাকারিয়া বাবু। বিজেএমসি কোচের হাস্যোজ্জ্বল উত্তর, ‘আমি এটাকে প্রতিশোধ বলব না!’ মুখে ভদ্রলোক যা-ই বলুন না কেন, পুরো বিজেএমসি দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় রইল যেন প্রতিশোধেরই অনুবাদ।

মুক্তি পেলেন মোহাম্মদ আমির

জেল থেকে মুক্তি পেলেন ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল আমিরের। তবে জেলে নিয়মানুবর্তিতা ও ভালো আচরণের পুরস্কার হিসেবে তিন মাসের মাথাতেই মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে আইসিসি

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফরের আগে পাকিস্তানে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক পাঠাবে বাংলাদেশ। তবে এর আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থার প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বিষয়টি জানিয়েছেন।

ইরফান পাঠানকে দলে চান গাভাস্কার

সুনীল গাভাস্কার এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে ইরফান পাঠানকে দেখতে চান। তাঁর মতে, ইরফান পাঠানের অলরাউন্ডিং ক্ষমতা ক্রিকেটের ছোট ফরম্যাটে ভারতীয় দলকে উপকৃত করতে পারে। টেস্ট সিরিজে ৪-০-তে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর গতকাল অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গেছে ভারত।

আরবিআইয়ের গভর্নর-সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ খারাপ

সরকারের অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ করাকে খারাপ বলে অভিহিত করেছেন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর ডি সুব্বারাও। তিনি সরকারের ঋণ গ্রহণে তথা ঘাটতি অর্থায়নে সীমা আরোপেরও আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার মুম্বাইতে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিজনেস লাইনের।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবি-বিভিন্ন চিনিকল ও সার কারখানায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি

জাতীয় মজুরি কমিশন ঘোষণা বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে গতকাল বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে চিনিকল ও সার কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীরা সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন।
কর্মসূচি পালনকালে এসব কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করে শ্রমিকদের মূল মজুরির সঙ্গে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদানের দাবি জানান।

ডিএসইর সূচক নামল চার হাজারের নিচে

আবারও ব্যাপক দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। এই দরপতনের ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক এবার চার হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে গেল। গতকাল বুধবার দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পয়েন্টে।

চড়া সুদে বিনিয়োগ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা

দেশ এখন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ব্যাংক ঋণ দিলেও সুদের হার খুব চড়া। এভাবে চলতে থাকলে দেশে আগামীতে কোনো বিনিয়োগ হবে না। চূড়ান্তভাবে এর প্রভাব পড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ে।

‘অর্থনীতিতে সঙ্কট নেই’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে কোন সঙ্কট নেই। মিডিয়া ও সুশীলসমাজ যেভাবে সঙ্কটের কথা বলেছে তা একেবারেই ঠিক নয়। তবে বিশ্বমন্দার    পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১
কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কিছুটা মন্থর গতি রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশের অর্থনীতিতে সব সময়ই সঙ্কটে ছিল। গতকাল বুধবার সকালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন  অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি কালো ছায়ার মধ্যে রয়েছে’ বলার একদিন পর একথা বললেন অর্থমন্ত্রী। এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মঞ্জুর এলাহী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান, অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ ই সাত্তার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মাদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন মনসুর, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন, বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ডিসিসিআই সহ-সভাপতি হায়দার আহমেদ খান, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ডিএসই প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী প্রমুখ। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদ দেশের অর্থনীতি সঙ্কটের সম্মুখীন বলে মত প্রকাশ করে বলেন, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণের কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। রাজস্ব আদায় না হলে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং অর্থনীতিতে আরও সঙ্কট তৈরি করবে। তিনি ঋণের প্রবাহ ১৬ শতাংশে কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির সমালোচনা করে তা ২৫ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানান। এছাড়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দূরত্ব বাড়ছে বলেও এফবিসিসিআই সভাপতি মন্তব্য করেন। তবে অর্থমন্ত্রী  সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন,  এ নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। এর আগে যারা সরকারে ছিলেন তারাও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। গত ২২শে জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার যখন ঋণ নেয় তখন তা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু তা শোধ করা হলে সেটি বলা হচ্ছে না। সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। এটি নিয়ে সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য বড় ক্ষতি। মূল্যস্ফীতিকে সবচেয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তা কমানোর চেষ্টা করছি। মূল্যস্ফীতি সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গত বছর মুদ্রানীতি একটু বেশিই সমপ্রসরাণমূলক ছিল। এজন্য কিছু বাবল তৈরি হয়েছিল। বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবাহ ১৬-১৭ শতাংশের বেশি আশা না করার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন।
আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতিতে টানাপড়েন সব সময়ই ছিল। এবার একটু বেশি। আমেরিকা ও ইউরো জোনে যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে তার এ কারণে এ টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এটাই এ সময়ের বাস্তবতা। বিদেশী সাহায্য না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ জন্য আমার কোন ব্যর্থতা নেই। যে সব বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল সেগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ব্যবহার করতে পারেনি। এটা সব জাতির ব্যর্থতা। তিনি বলেন, পুুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দু’একটি ব্যাংক ছাড়া অন্যরা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তিনি ব্যাংকগুলোর উদ্দেশ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সরকার সভরেইন লোন নেয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বলেন, অনেকে এ ধরনের লোন নেয়ার বিরোধিতা করছেন। কিন্তু এটার দরকার আছে এবং এ ধরনের ঋণ নেয়ার এখনই ভাল সময়। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকির বিষয়ে বলেন, ভর্তুকি ভাল কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এটি ভাল নয়। ভর্তুকি কমানো অর্থনীতির জন্য খুবই প্রয়োজন। এ নিয়ে যদি বিতর্ক প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি তা করবো। সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে এতে সাধারণ লোক উপকৃত হলেও পেট্রলে যে ভর্তুকি দিচ্ছে তার সুবিধা বিত্তশালীরাই পেয়ে থাকেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। এ খাতে কোন ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে সব মাটি হয়ে যাবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মঞ্জুর এলাহী বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সঙ্কট প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এজন্য তিনি সরকারকে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়া রপ্তানি পণ্য হিসেবে তৈরী পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন তিনি। ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, বর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে টানাপড়েন দেখা দিতে পারে। যেখানে বিশ্বমন্দা চলছে তা থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন নই। তার প্রভাব আমাদের ওপরও পড়বে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, রাজস্ব ঘাটতি, রিজার্ভ কমছে। সে তুলনায় আমাদের সমস্যা ততটা প্রকট নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো চিনেছে কিনা সেটাই বিবেচ্য বিষয়। তিনি সরকারকে দ্রুত বাজেট বাস্তবায়ন, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ, অপচয় রোধ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়কৃত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বেশি অর্জন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ-ই সাত্তার বলেন, বিশ্বমন্দার জন্য আমাদের রপ্তানি কিছুটা সঙ্কুচিত হবে। শুধু তৈরী পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না থেকে আমাদের রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের ড. হোসেন মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও টাকার মূল্যমানের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বেসরকারি ঋণ প্রবাহ ১৬ শতাংশে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। সরকারকে অবশ্যই ঋণ প্রবাহ কমিয়ে আনতে হবে। কারণ এর আগে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর ফলে শেয়ারবাজার এবং আবাসন খাতে বাবল তৈরি হয়েছিল। সামষ্টিক অর্থনীতির সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারকে অবশ্যই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি তা না হয় তাহলে অর্থনীতিতে আরও কালো মেঘের ঘনঘটা তৈরি হবে। সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতি একটা আস্থার সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থার মধ্যে রয়েছে তা যেন আমরা ভুলে না যাই। তবে এটাও ঠিক মূল্যস্ফীতি ডবল ডিজিটে পৌঁছেছে। সুদের হার বেড়ে গেছে। কিন্তু এ অবস্থায় ব্যাংকের আমানতের সুদের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনলে কেউ ব্যাংকে টাকা রাখবে না। কিন্তু মূল্যস্ফীতি সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে সুদের হার কমে যাবে। ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়তে থাকলে কেউ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আসবেন না। ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা সে কথা রাখেননি। বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স সুবিধা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

নিউ ইয়র্ক রুট চালু নিয়ে বিমান অনিশ্চয়তায়

নাশরাত চৌধুরী: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিউ ইয়র্ক রুট চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ওই রুট চালুর ব্যাপারে উড়োজাহাজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি তাদের থাকলেও  সেখানে উড়োজাহাজ চলাচলের এখনও অনুমতি নেই। বিমান নানাভাবে চেষ্টা করেছে ওই রুটটি চালু করার অনুমতি নেয়ার। তবে আগামী জুনের আগে এ রুটের ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে কোন রকম ইতিবাচক সাড়া    পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৩
পাওয়া যাবে না। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিমানবন্দরের আপগ্রেডেশন কর্মকাণ্ড দেখতে বিশেষজ্ঞ দল আগামী এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে। ওই সময়ে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্পন্ন হওয়া কাজ ও গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তারপর রিপোর্ট দেবেন। সূত্র জানায়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে বিমানবন্দরের ক্যাটিগরি উন্নতির জন্য যে সব শর্ত দেয়া হয়েছিল এর প্রায় সবই পূরণ করেছে। কেবল পূরণ করতে পারেনি জনবলের শর্তটি। আইকাওয়ের পক্ষ থেকে বিমাবন্দরের ক্যাটিগরি উন্নতির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইতিমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জনবল বাড়ানোর ব্যাপারে তেমন কিছুই করতে পারেনি। এব্যাপারে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষজ্ঞ টিম এর আগে বিমানবন্দর পরিদর্শণ করে আমাদের জনবল কম বলে মত দেন এবং তা বাড়ানোর জন্য বলেন। চাইলেও আমরা জনবল বাড়াতে পারছি না। এটি সরাসরি আমরা করি না।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের ক্যাটিগরি উন্নতি করতে না পারার কারণে ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ফ্লাইট পরিচালনা করার অন্যতম শর্ত হিসেবে ক্যাটিগরির উন্নতি করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ক্যাটিগরি উন্নত না হলে বিমান কোন ভাবেই ওই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে সরকার থেকে বিমানবন্দরের ক্যাটিগরির উন্নতির কাজ শেষ না হলেও যাতে বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে সে চেষ্টাই করা হয়। কিন্তু তা করতে দেয়া হয়নি। ফলে নিউ ইয়র্ক রুট চালুর সব চেষ্টাই বিফলে যায়। একজন কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের চেয়ে কম সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরকে ক্যাটিগরি এ’তে উন্নীত করা হয়েছে। আমাদেরকে দেয়া হচ্ছে না। বি’ ক্যাটিগরিতে রাখা হয়েছে। এর পেছনে নানা হিসাব-নিকাশ রয়েছে, কিন্তু এ হিসাব-নিকাশ মেলানো কঠিন। সিভিল এভিয়েশনের একজন সদস্য বলেন, বিশেষজ্ঞ দল এপ্রিল-মে মাস নাগাদ আসার সিডিউল দিয়েছে। তারা এসে কাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর যদি মনে করেন ঠিক হয়েছে তাহলে সমস্যা হবে না। আর যদি শর্ত পূরণ যতখানি হয়েছে তা ধরে ছাড় না দেন তাহলে ক্যাটিগরি উন্নতি হবে না। তা না হলে দেখা যাবে আমরা নিউ ইয়র্ক রুটের ফ্লাইট চালু করতে পারছি না। এদিকে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ক্যাটিগরি উন্নতির জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার দরুণ দিনে দিনে বিমানের নিউ ইয়র্ক রুটের ফ্লাইট চালু করাও অনিশ্চিত রয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর (অব.) জাকিউল ইসলাম বলেন, বহরে নতুন বোয়িং যোগ হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম বহরে নতুন বোয়িং আসার পর নিউ ইয়র্ক রুট চালু করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে আমরা পরিকল্পনাও করেছিলাম। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।

ইউরোপে তীব্র শীতে আরও ৮ জনের মৃত্যু

তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতে ইউরোপের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দেশে গতকাল বুধবার আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া তীব্র ঠান্ডা ও তুষারঝড়ের কারণে ওই অঞ্চলে এর মধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে গেছে। এখনো বেশ কিছু দেশের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে।

দূতাবাসে সত্যায়ন, জনশক্তিতে ধসের আশঙ্কা

দীন ইসলাম: আত্মীয়-স্বজনের প্রচেষ্টায় বিদেশে কাজের অনুমতিপত্র পেয়েও রক্ষা নেই। সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সত্যায়ন করাতে হবে। ঘুরতে হবে দূতাবাসের বারান্দায়। সত্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হলে চাকরি নিয়ে বিদেশ যাত্রাও বন্ধ। গতকাল থেকে নতুন এ নিয়ম    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৩
কার্যকর করেছে সরকার। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) বিষয়টির খারাপ দিক তুলে ধরে সরকারকে বোঝাতে চেয়েছে। গতকাল শেষ বারের মতো এ বিষয়ে যারপরনাই চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। নতুন এ নিয়ম কার্যকরের ফলে জনশক্তি রপ্তানি খাতে ধস নামবে বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, বিদেশের শ্রম বাজার এমনিতে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এখন শুধু সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত আর সৌদি আরবে কিছুসংখ্যক শ্রমিকের নামে একক ভিসা দেয়া হচ্ছিল। সেটিও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের কারণে এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। এর ফলে দেশের জনশক্তি রপ্তানিতে চরম ধস নামতে পারে। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে হঠাৎ সার্কুলার জারি করে পাঠানোর পর থেকে রিক্রুটিং এজেন্সি ও সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওদিকে একক ভিসা প্রক্রিয়ায় দেশের ৯০ শতাংশ জনশক্তি রপ্তানি হয়ে থাকে। আগে তাদের সত্যায়ন না লাগলেও নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়বেন এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরে কাজ হাসিল করতে হবে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫১ জন বিদেশে গেছেন। তাদের ৯০ শতাংশই গেছেন একক ভিসায়। তাই নতুন নিয়মে দেশের জনশক্তি রপ্তানিতে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করতে একক ভিসার নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এর কোন খারাপ দিক পাওয়া গেলে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত রিভিউ করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, একক ভিসায় সত্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নানাবিধ সমস্যা দেখা দেবে। উদাহরণ টেনে এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব বা দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে কয়েক শতাধিক কিলোমিটার দূরে দেখা গেল কোন কোম্পানিতে এক জন বা দুই জন শ্রমিক লাগবে। এদেশ থেকে অপেক্ষমাণ যাত্রীটি কাঙ্ক্ষিত দেশে যাওয়ার জন্য দিন গুনছেন। ওই সময় দেখা গেল দূতাবাসের কর্মকর্তা ছুটিতে দেশে এসেছেন বা অন্য ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি এক মাসের বেশি সময় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে থাকলো। তখন কোম্পানিটি অন্য দেশের কোন শ্রমিককে নিয়োগ দিয়ে দেবেন। এতে মার খাবে দেশের জনশক্তি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে কাউন্সিলর (শ্রম) বা প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পক্ষে বেশি দূরত্বে গিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একক ভিসার চেয়ে দলগত ভিসায় এতদিন ঝক্কি ঝামেলা বেশি ছিল। দলগত ভিসায় দূতাবাসের সত্যায়ন থাকার পরেও দালালের হাতে প্রতারিত হওয়া, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেয়া, বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, কথা অনুযায়ী বেতন না পাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতারিত ব্যক্তিরা জনশক্তি মন্ত্রণালয় থেকে উল্লেখযোগ্য কোন সহায়তা বা প্রতিকার পান না। যারা একক ভিসায় অর্থাৎ প্রবাসী আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা প্রতিবেশীর মাধ্যমে ভিসা এনে বিদেশে যান, তাদের ক্ষেত্রে এসব প্রতারণার ঘটনার হার হাতেগোনা। একক ভিসা পাওয়ার পর কর্মী নিজের উদ্যোগে দূতাবাসের কোন সত্যায়ন ছাড়াই রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশে যেতে পারেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন তাদেরও নানা ঝক্কি-ঝামেলার মুখে পড়তে হবে। ঘাটে ঘাটে পয়সা খরচও করতে হবে। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জারি করা আদেশে বলেছে, একক ভিসার ক্ষেত্রে কর্মীর নিয়োগকর্তা, মজুরি, কাজের পরিবেশসহ নানা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, বিএমইটি এবং মন্ত্রণালয় অবহিত নয়। এ জন্য কর্মীদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দূতাবাসও এসব কর্মীর সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারছে না। এসব কর্মীর চাকরির নিরাপত্তা, প্রতিশ্রুত মজুরিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট  দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে নিয়োগসংক্রান্ত সব কাগজপত্র সত্যায়িত করাতে হবে। দূতাবাস ও হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত একক ভিসার তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটিতে জানাতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, সরকার তথ্য রাখার কথা বলে সত্যায়ন করতে চাইছে। কিন্তু এখন প্রত্যেক কর্মীকে বিদেশে যেতে স্মার্ট কার্ড নিতে হয়। তাতে ওই কর্মী কোথায় যাচ্ছেন, কার অধীনে কাজ করছেন, সব তথ্যই থাকছে। কাজেই তথ্য সংরক্ষণের জন্য সত্যায়নের যে কথা বলা হচ্ছে, তা যুক্তিতে টেকে না।

লক্ষ্মীপুরে গুলির আগেই পালিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

নূরুজ্জামান: লক্ষ্মীপুরে বিরোধী দলের গণমিছিলে পুলিশের গুলি চালানোর আগেই ম্যাজিস্ট্রেট পালিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতেই পুলিশ গুলি চালিয়ে দু’জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের গুলির শব্দ শুনে তিনি পুলিশ বেষ্টনীতে ফিরে আসেন। পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত পুলিশের তদন্ত টিম সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে     পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
। এদিকে চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী আবুল মৃধার স্ত্রী চাঁদপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের তদন্ত টিমের সভাপতি ও  পুলিশের চট্টগ্রাম  রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি বিশ্বাস আফজাল হোসেন বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় কখনও কখনও ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে মাঠে রেখেই নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আইনগতভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হামলাকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুরের ঘটনার সাক্ষ্যগ্রহণ  শেষ হয়েছে। গতকাল রাত থেকে চাঁদপুরে ঘটনার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ সংক্রান্তে প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পেশ করা হবে। তদন্ত কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) নূরে আলম মিনা বলেন, উদভূত পরিস্থিতির মুখে পুলিশ শটগান ব্যবহার করেছিল। এর বাইরে অন্য কোন অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়নি  তদন্তে। উল্লেখ্য, ২৯শে জানুয়ারি চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বিরোধী দলের গণমিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে ৪ জনকে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন- চাঁদপুর শহরের গোয়াখোলা এলাকার রিকশাচালক লিমন ছৈয়াল (২৫) ও বাবুরহাট এলাকার বিএনপি কর্মী ও রিকশাচালক আবুল হোসেন মৃধা (৫০) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বিদ্যুৎমিস্ত্রি মো. রুবেল (২৫) ও চরমনসা গ্রামের আবুল কাশেম (৫৫)। দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ৫ শতাধিক আহত হয়। এরপরের দিন রাজশাহী জেলায় আরও একজন জামায়াত কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলার এ দু’টি হত্যাকাণ্ড একই টিম করছে। সূত্র মতে, পুলিশের গুলি চালানোর গ্রহণযোগ্যতা খুঁজতেই তদন্ত টিম মাঠে নেমেছে। তদন্ত টিমের সদস্যরা বেছে বেছে সাক্ষী যোগাড় করে লিখিত বিবৃতি সংগ্রহ করছেন। গতকাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় প্রায় ৬০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। এর মধ্যে সাক্ষী হিসেবে ৩২ জনের জবানবন্দি নিয়েছেন। অন্যদিকে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরির পক্ষে প্রায় ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই পুলিশ গুলি চালানোর অনুমতি চেয়েছিল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতি না দিয়ে সেখান থেকে অন্যত্র গিয়েছিলেন। এরপরই পুলিশ বিরোধী দলের গণমিছিলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশসহ সরকারের উচ্চপর্যায় বিব্রত হয়ে পড়ে। সূত্র আরও জানায়, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে মারা গেলেও রাজশাহীতে গুলির ঘটনা রহস্যজনক। সেখানে সাবোটাজের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। জামায়াতের কর্মী শফিকুল ইসলামের শরীরে ক্ষুদ্রাস্ত্রের গুলির তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্ষুদ্রাস্ত্র বলতে রিভলবার কিংবা পিস্তল বোঝায়। এ ধরনের অস্ত্র  পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর কিংবা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন। পুলিশের অন্য এক সূত্র জানায়, ঢাকার গণমিছিল পণ্ড করার জন্যই ঢাকার বাইরের গণমিছিলে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে গুলি চালিয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হিসেবে প্রমাণ করার জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৫০ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা: চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, গণমিছিলে  বিএনপি কর্মী আবুল মৃধাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম মণি বাদী হয়ে  আদালতে মামলা করেছেন। গতকাল দুপুরে চাঁদপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চমন বেগম চৌধুরীর আদালতে এই মামলা করা হয়। এতে আসামি করেছেন চাঁদপুর জেলার  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) শামীমুল হক পাভেল ও সদর মডেল থানার ওসি জাকের হোসাইন এবং ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন মজুমদারসহ ১৫০ পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলকে। নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন- ডিবি’র ওসি মো. মিজানুর রহমান, মডেল থানার দায়িত্বরত সব এসআই ও এএসআইসহ ৪৬ জন পুলিশ সদস্য। এর বাইরে অজ্ঞাত হিসেবে আরও ১৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ফাতেমার আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম মিয়া বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিচারক চমন বেগম চৌধুরী নিজেই মামলাটি তদন্ত করবেন। মামলায় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রোববার শহরের হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সামনে দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছিল আবুল হোসেন মৃধা। ওই সময় বিনা উস্কানিতে আবুলকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে  লিমন ছৈয়াল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় রোববার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৫ হাজার জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করে দু’টি মামলা হয়। বিস্ফোরক ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলা ২টির বাদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার।

ফ্লোরিডার প্রাইমারিতে রমনির জয়

মানবজমিন ডেস্ক: ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান দলের প্রাইমারিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আগামী নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মিট রমনি। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, রমনি ৪৭ শতাংশ ভোটে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউট গিংরিচ পেয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রিক সান্তোরাম পেয়েছেন ১৩ শতাংশ ভোট ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা রন পল পেয়েছেন ৭ শতাংশ ভোট। এর ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেলেন রমনি। অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, ২০১২ সালের নির্বাচনী মওসুমে এটিই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নির্বাচন। জনপ্রিয়তার দৌড়ে বরাবরই গিংরিচের চেয়ে এগিয়ে রমনি। ভোটারদের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার ইস্যুই ছিল তাদের কাছে মুখ্য। তারা আশা করছেন, রমনিই তাদের সেই প্রায় ডুবে যাওয়া তরীকে তীরে ভেড়াবেন। এদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারে জয়ের মুখ দেখলেও, দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রাইমারিতে জয় নিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন নিউট গিংরিচ। একটু থমকে আবার জয়রথকে অনেকটা এগিয়ে নিলেন রমনি। তবে ফ্লোরিডায় এ পরাজয়ে হাল ছাড়বেন না গিংরিচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

লিবিয়াবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন গাদ্দাফি

মানবজমিন ডেস্ক: আফ্রিকার লৌহমানব কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তিনি লিবিয়ার জনগণের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। প্রজাদরদি এই শাসককে তার জনগণের মন থেকে মুছে ফেলতে অনেক কিছুই করা হয়েছে। গাদ্দাফির মৃতদেহকে রাতের আঁধারে মরুভূমির অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘৃণার জন্ম দিতে দেশের ভিতরে পেশিশক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করে অনেক প্রচারণাই চালানো হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুই যেন হালে পানি পাচ্ছে না। গাদ্দাফি মহানুভবতা ও প্রজা তোষণ নীতির মাধ্যমে জনগণের যে ভালবাসা কুড়িয়ে ছিলেন তা যেন সবকিছুকেই ছাপিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লিবিয়ায় ক্ষমতাসীন পশ্চিমা মদতপুষ্ট এনটিসি যোদ্ধাদের দেখানো মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে অনেক লিবিয়ানই গাদ্দাফি বন্দনায় মেতে উঠছেন। দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে লিবিয়াবাসী ততই গাদ্দাফির প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকটভাবে প্রকাশ করছে। কোন ভয় বা ক্ষতির আশঙ্কাই যেন তাদের ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রতিহত করতে পারছে না। সুযোগ পেলেই পাথরচাপা আগুনের মতো বেরিয়ে আসছে। কিছু লিবিয়াবাসী প্রাণভয়ে এনটিসি’র বিপ্লবকে মুখে সমর্থন করলেও মন দিয়ে এখনও তারা প্রয়াত নেতা গাদ্দাফিকেই ভালবাসেন। আর এনটিসিকে তারা পশ্চিমাদের দালাল এবং লিবিয়া সমাজের উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতালিপ্সু ও বিশ্বাসঘাতক অংশ বলেই মনে করেন। এক্ষেত্রে এনটিসি’র দেশ শাসনে ব্যর্থতা ও নিপীড়কের ভূমিকা লিবিয়াবাসীকে বারবার গাদ্দাফির শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ জন্য বেশির ভাগ লিবিয়াবাসীই তাদের মোবাইল ফোনে প্রিয় নেতা গাদ্দাফির ছবি ধারণ করে বেড়ান। সুযোগ পেলেই তারা গাদ্দাফির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা এলিয়ে দেন। সমপ্রতি বনি ওয়ালিদে গাদ্দাফি সমর্থকদের পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে সাধারণ লিবিয়াবাসীর মনের কথাই বেরিয়ে এসেছে। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে বিস্তীর্ণ মরুভূমির এই শহরটি গাদ্দাফি সরকারের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। সেখানকার প্রায় সব বাসিন্দাই এখনও গাদ্দাফিকে জীবন দিয়ে ভালবাসেন। তারা বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব মেনে নিলেও তাদের হৃদয় জুড়ে গাদ্দাফি অমর হয়ে আছেন। এই শহরের কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্যে তেমনটিই ফুটে উঠেছে। সালাহউদ্দিন আল ওয়ারকেলি (১৯) মুয়াম্মার গাদ্দাফি তাদের হৃদয়ে রয়েছেন বলে জানান। কেউ যদি অন্য কথা বলে সে মিথ্যা বলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই টগবগে যুবক লিবিয়া বিপ্লবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বিপ্লব কি? নতুন সরকার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ও কিছু ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। লিবিয়াবাসীর নয়।’ প্রকাশ্যে এই শহরের বাসিন্দারা ১৭ই ফেব্রুয়ারির বিপ্লবকে সমর্থন করলেও একান্তে তারা ঠিকই গাদ্দাফির শাসনকে স্মরণ করেন। কারণ সে সময়ে এই শহরের যুবকদের সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়াসহ বাসিন্দাদের বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন। এক কথায় বনিওয়ালিদের বাসিন্দারা গাদ্দাফির শাসনামলে রাজার হালেই ছিলেন। বোবকর (২৪) নামের এক আইনের ছাত্র বলেন, ‘আমরা বিপ্লব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি। তবে এখনও ৯৯ ভাগ মানুষ গাদ্দাফিকে ভালবাসেন। লিবিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাউজি আবদেলানি বনিওয়ালিদে গাদ্দাফি বাহিনীর পুনরুত্থানের খবর নাকচ করে দিলেও সেখানে গাদ্দাফির প্রতি জনগণের ভালবাসার বিষয়টি যেমন উপেক্ষা করতে পারেন নি তেমনি বিশ্ব মিডিয়ার চোখকেও অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পারেন নি। ফলে গাদ্দাফি যে লিবিয়ানদের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

ফ্লোরিডায় জিতে আরেক ধাপ এগোলেন রমনি by ইব্রাহীম চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মনোনয়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর মিট রমনি। গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত দলীয় বাছাইপর্বে (প্রাইমারি) বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি।

সাইফের সাহায্যার্থে আইসিসি’র প্রতিনিধি হতে চান আয়েশা

মানবজমিন ডেস্ক: ভাই সাইফ আল ইসলামকে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতিনিধি করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির মেয়ে আয়েশা গাদ্দাফি। মঙ্গলবার তিনি এ আহ্বান জানান। সাইফের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে হত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এখন বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া সাইফের বর্তমান হাল সম্পর্কেও তথ্য দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন আয়েশা। এ খবর দিয়েছে বিডিনিউজ। এতে বলা হয়, এদিকে সাইফ লিবিয়ায় নিরপেক্ষ বিচার পাবেন না বলে সন্দেহপ্রকাশ করেছে তার সমর্থকরা। তারা হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সাইফের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন। গত বছর নভেম্বরে সাহারা মরুভূমি থেকে বেদুইনের ছদ্মবেশে থাকা সাইফ আল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। সাইফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ লিবিয়ার আদালতে প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতে পারে। আর আইসিসিতে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে। আইসিসিকে দেয়া নথিতে আয়েশা গাদ্দাফি জানান, সাইফের হয়ে লড়তে কোন বিদেশী আইনজীবীকে অনুমতি দিতে রাজি নয় লিবিয়া। আয়েশা গাদ্দাফি তার ভাইকে রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাইফের বিরুদ্ধে এর আগে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় মামলায় সংস্থাটির প্রভাব রয়েছে। এর আগে সাইফের বিচার কোথায় হবে এ নিয়ে লিবিয়ার নতুন শাসকগোষ্ঠী ও আইসিসির মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়। আইসিসি চায় সাইফের বিচার তাদের আদালতেই হোক। কিন্তু লিবিয়া নিজ দেশের বাইরে কোন আদালতে সাইফের বিচার হতে দিতে সম্মত নয়। লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনাভিযান মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধভুক্ত করে এর সঙ্গে জড়িত থাকায় সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

রাজ্জাকের আসনে উপনির্বাচন ১৫ই মার্চ

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১৫ই মার্চ ভোটগ্রহণের দিন রেখে শরীয়তপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ বৃহস্পতিবারই প্রজ্ঞাপন আকারে এ তফসিল প্রকাশ করা হবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ রাখা হচ্ছে ১৬ই ফেব্রুয়ারি, যাচাই-বাছাই ১৯শে ফেব্রুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি। কমিশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। তফসিল ঘোষণা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন অবশ্য গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, শরীয়তপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১৫ই মার্চ ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন আকারে তা ঘোষণা করা হবে। প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, এতদিন যে সব সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই তা বন্ধ করতে হবে। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা সব ধরনের পোস্টার-ব্যানার তুলে ফেলবেন। এর ব্যত্যয় হলে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। আশা করি নতুন কমিশন সুন্দরভাবে তাদের প্রথম নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবেন। এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার সাখাওয়াত বলেন, নিবন্ধিত প্রতিটি দলের নিবন্ধনের সময় ৩ বছর পার হয়ে যাওয়ায় আসন্ন উপ-নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের সঙ্গে কমপক্ষে তিন বছর যুক্ত থাকার প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করবেন। উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রাজ্জাক।

মওদুদের মামলা স্থগিতই থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় কোন আদেশ দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর আগে মামলা বাতিলে হাইকোর্টে মওদুদের করা ওই আবেদনে গত রোববার এ মামলায় ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলাটি বাতিলের আদেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। ওই আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে আবেদন করলে আদালত ‘নো অর্ডার’ দেয়। এতে হাইকোর্টের আদেশই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালতে মওদুদের পক্ষে ছিলেন, ব্যরিস্টার রফিক-উল হক, আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো. সরওয়ার্দী। ২০০৭ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মওদুদের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার পর বর্তমানে বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির থাবা

সোলায়মান তুষার: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির থাবা পড়েছে। ফলে পিছিয়ে পড়েছে উন্নয়ন আর অগ্রগতি। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংকের চাপ রয়েছে সরকারের ওপর। দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে এক বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন অগ্রগতি দুই ভাগ কমে গেছে। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরই হিসাব। দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ১৩ ভাগ। আর ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ ভাগে। এসব    পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের  ১২৯৭ কোটি টাকা- যা মোট প্রকল্পের ৬১ ভাগ। এছাড়া প্রকল্প সাহায্য ৮২৭ কোটি টাকা- যা মোট প্রকল্প বরাদ্দের ৩৯ ভাগ। ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট অর্থ অবমুক্ত হয়েছে ৪৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা- যা মোট বরাদ্দের ২৩ ভাগ। ওইসময় পর্যন্ত অবমুক্ত অর্থের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৩৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা- যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১১ ভাগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ১৪ই নভেম্বর একটি বৈঠক হয় মন্ত্রণালয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বৈঠকে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী উল্লেখ করেন, অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি ১১ ভাগ। তিনি আরও বলেন, গত বছরের একই সময়ে অগ্রগতি ছিল ১৩ ভাগ। অর্থাৎ এবছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত অর্থবছরের চেয়ে ২ ভাগ পিছিয়ে। এ পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় যে, এ বছর এ পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় না হওয়ায় অগ্রগতি কম হয়েছে। এ পর্যায়ে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বলেন, এটা যথাযথ যুক্তি হতে পারে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২০১০-১১ অর্থবছরের চেয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রকল্পের উন্নয়ন কমে যাওয়ার খবর মোটেই সুখকর নয়। প্রকল্পের উন্নয়ন পেছানোর পেছনে কয়েকটি প্রকল্পে দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট। বিশ্বব্যাংকের অর্থ সহায়তায় ওই প্রকল্পের টাকা হরিলুট হয়েছে। এ প্রকল্পে দেয়া বিশ্বব্যাংকের ১১৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নয় ছয় হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের চাপে সরকার প্রকল্পের পরিচালক, উপ-পরিচালকসহ ৮ কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছেন। তবুও থামেনি দুর্নীতি। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ পরিচালনায় চালু হয় এ প্রকল্প। এ প্রকল্পের ৯৯১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের। বাংলাদেশ সরকারের মাত্র ১৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। প্রকল্পের শুরুতেই দুর্র্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০১০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল শূন্য ভাগ। কিন্তু টাকা ব্যয় হয়েছে ঠিকই। ভুয়া ভাউচার দিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অতিরিক্ত ইংরেজি ও গণিতের ক্লাস নেয়ার নাম করে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ৪৮টি ভুয়া স্কুলের নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভবন ছাড়াই সংস্কার কাজ বাবদ ব্যয় দেখানো হয় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন হোস্টেল ভবনের মেরামত কাজের ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু মাউশি তদন্ত করে জানতে পারে, ওই বিদ্যালয়ে আগে কোন পুরনো হোস্টেল ভবন ছিল না। রাজধানীর একমাত্র মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ইডেনেও ১০ তলা ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ তলা ছাত্রী হোস্টেলও একই ভাবে ভুল নকশা করায় দ্বিতীয়বার কাজ করতে হয়েছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনের চেয়ে ছোট বারান্দা করা হয়েছে দু’টি ভবনে। ৩০৬টি মডেল স্কুল প্রকল্পে নতুন করে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪৬৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্প চলছে। অনিয়ম ধরা পড়ায় বাতিল করা হয়েছে ১২টি উপজেলায় মডেল স্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত। অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি বিদ্যালয়বিহীন উপজেলায় একটি করে মডেল স্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। বর্তমান সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণ, নিম্নমানের কম্পিউটার ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরই একটি বৈঠকে। বর্তমানে ১০০টি মডেল স্কুল স্থাপনের কাজ চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় বলা হয় নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করায় ১০০০ কম্পিউটার বাক্সবন্দি করে রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গত বছরের ১৪ই নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। তাতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সভায় ‘৩০৬টি উপজেলা সদরে নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহকে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণকৃত কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রপাতি ইনস্টল না করে বাক্সবন্দি অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। তাছাড়া, সরবরাহকৃত কম্পিউটারগুলোর গুণগতমান যথাযথ নয় মর্মেও সভাকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জানান, তিনি বেশ কিছু বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সেগুলো যথাযথভাবে ইনস্টল করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ পর্যায়ে উপ-প্রধান (পরিকল্পনা-২)-এর নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইসিটি সেলের একজন কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সাব-কমিটি গঠন করে সরজমিন পরিদর্শনপূর্ব প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বলা হয়। এবিষয়ে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  ৩০৬টি মডেল স্কুল প্রকল্পে নিম্নমানের কম্পিউটার সরবরাহ ও ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে বলতে হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ২ ভাগ কমে যাওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে সচিব বলেন, আগামী মে মাস আসলে এটা বোঝা যাবে পিছিয়ে গেছে কিনা। তিনি বলেন, কোন প্রকল্পের টেন্ডার দিতে হয়তো দেরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবারের উপবৃত্তি এখনও দেয়া হয়নি। এটা দেয়া হলে প্রকল্পের অগ্রগতি বেড়ে যাবে।

চিংড়ি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইইউ’র

আশরাফ খান: চিংড়ি রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় রপ্তানি করা মাছ ও মাছ-জাত পণ্যের ২০ শতাংশ বাধ্যতামূলক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত আরোপ করা হয়েছিল গত বছরের ১৬ই নভেম্বর। এতে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি কমে যায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে মিঠা পানির গলদার বেশির ভাগ চালানে নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক নাইট্রোফিউরান পাওয়া যায়। ইউরোপের প্রবেশ বন্দরে রপ্তানি করা চিংড়ির চালান আটক করা হয়। এ রকম ৫৪টি গলদা চিংড়ির চালান সীমান্তে আটক করে বাংলাদেশের কাছে ‘র‌্যাপিড এলার্ট’ নোটিশ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও চিংড়িতে ক্রমাগত নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিকস পাওয়ার কারণে ইউরোপে বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণার সমূহ আশঙ্কা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশগুলোয় রপ্তানি করা মৎস্য ও মৎস্য পণ্যের ২০ শতাংশ বাধ্যতামূলক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফুড সেফটি রেগুলেশন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা জারি করে। বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। এই কড়াকড়ির ফলে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ইউরোপের বিশিষ্ট নাইট্রোফিউরান বিশেষজ্ঞ ড. গ্লেন কেনেডিকে কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করে। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা চিংড়ি নিয়ে গবেষণা চালানো হয় তাকে দিয়ে। বেলজিয়ামের একটি মাত্র গবেষণাগারে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা চিংড়ির উপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশের চিংড়ির উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এই গবেষণাগারে বাংলাদেশের চিংড়ির খোসা ও মাংস একত্রিত করে পরীক্ষা করা হয়। অথচ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোসা বাদ দিয়ে শুধু মাংস পরীক্ষা করার কথা। এখানে তা করা হয়নি। তাছাড়া বেলজিয়ামের পরীক্ষাগারের ল্যাব প্রটোকল ছিল ইউরোপে প্রচলিত ও স্বীকৃত ল্যাব প্রটোকল থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশের গলদা চিংড়ি বৃটেনের এক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। চিংড়ির খোসা ও মাংস পৃথক পৃথকভাবে পরীক্ষা করে মাংসে কোন নাইট্রোফিউরানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। খোসার উঁচুস্তরে নাইট্রোফিউরান পাওয়া যায়। পরীক্ষায় প্রতীয়মান হয় যে, গলদা চিংড়ি প্রাকৃতিকভাবেই দেহের মধ্যে নাইট্রোফিউরান তৈরি করে এবং তা খোসার মধ্যে সঞ্চিত থাকে। বিশেষজ্ঞ নাইট্রোফিউরান ড. গ্লান পরীক্ষায় একই ফল পান। নেদারল্যান্ডসের এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে গলদা, বাগদা ও কাঁকড়ার ওপর পরীক্ষা চালিয়ে একই ফল পেয়েছে। পরীক্ষার এসব ফল সম্পর্কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ইইউ সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস-এ সি ফুড ইমপোর্টার্স এলায়েন্স-এর উদ্যোগে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এই সংগঠনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র মাছ আমদানিকারক সংস্থা। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ওপর র‌্যাপিড এলার্ট জারির ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। সেমিনারে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত এতে গবেষণালব্ধ ফলের চিত্র বিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন। ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ ও পৃথকভাবে কথা বলেন। বাংলাদেশের এই তৎপরতায় ভাল ফল পাওয়া যায়। ইইউ তাদের আরোপিত র‌্যাপিড এলার্ট প্রত্যাহার করে নেয়। উল্লেখ্য, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার উপর র‌্যাপিড এলার্ট জারি রয়েছে। মিয়ানমারের ওপরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রেগুলেশন আরোপ করেছে। মিয়ানমার থেকে মাছ ও মাছ জাতপণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ থেকে গত বছর ৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকার চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ রপ্তানি করা হয়। রপ্তানির পরিমাণ ৩১ লাখ টন। রপ্তানি আয়ের ৬০ শতাংশই আসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। জোট আমলে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ টন। র‌্যাপিড এলার্ট জারি থাকার পরও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ও রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। র‌্যাপিড এলার্ট প্রত্যাহারের ফলে রপ্তানির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত বলেন, এক বছরে রপ্তানি আয় ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সিরিয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ

সিরিয়ার ব্যাপারে গত মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে রক্তপাত বন্ধ করতে এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে আরব লিগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

‘মন্ত্রীরা স্যুটে বুটে না হলেও কাজে স্মার্ট’

সংসদ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের মন্ত্রীরা স্যুটে বুটে স্মার্ট না হলেও কাজে স্মার্ট। কাজে স্মার্ট হলেই তা মানুষের কাছে বেশি গ্রহণীয়। সরকারের মন্ত্রীরা ভাল কাজ করছেন বলেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৯৩ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি আর কোন সরকার করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা বলেন। জাতীয় পার্টির সদস্য    পৃষ্ঠা ২০ কলাম
একেএম মাইদুল ইসলাম এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আর দু’একজন মন্ত্রী ছাড়া বাকি মন্ত্রীরা কাজ করতে পারছেন না। সারা দেশে যেখানে সেখানে অপরিকল্পিতভাবে ইটের ভাটা গড়ে উঠছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ ধরনের ইটের কারখানা বন্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেবে কিনা জবাবে প্রধানমন্ত্রী ওই সদস্যের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, উনার বাড়ি বানানো হয়তো শেষ হয়ে গেছে। তাই এ প্রশ্ন করেছেন। ইটের ভাটা বন্ধ করা তো সমাধান না। তা বন্ধ করে দিলে তো সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পরিবেশ নষ্ট করে ইটের ভাটা করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও যথেষ্ট তৎপর। ওই সদস্যকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে সব মন্ত্রণালয়ের কাজের একটা বিবরণ আছে। আপনি প্রেসিডেন্টের ভাষণ ভাল করে পড়লেই মন্ত্রীরা কাজ করছে কিনা তা দেখতে পাবেন। বেনজীর আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনী ওয়াদা মোতাবেক একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এই বিচার কাজ স্বাভাবিক গতিতে বেগবানও রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চাহিদা মোতাবেক আরও একটি অতিরিক্ত বেঞ্চ গঠনের কাজও দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। এই বিচার কাজে বিরোধিতা করার জন্য মহল বিশেষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তারা দেশে বিদেশে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশের মধ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টির সব রকম অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে আমরা তাদের সমস্ত হীন পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই জাতিকে দেয়া ওয়াদা পূরণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজে যারা যেখানে এবং যেভাবেই বাধা দিক না কেন আমাদের পিছু হটার কোন কারণ নেই। এদেশের প্রচলিত আইনেই সব বাধাদানকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মূলত বিচার কাজ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধাদানকারীরাই গত বছরের ১৮ই  ডিসেম্বর ভোর বেলা নগরবাসীর ঘুম ভাঙার আগেই মহানগরের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক নৈরাজ্যকর তাণ্ডবলীলা চালায়। অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙা, বোমা ছোড়া, লাঠালাঠি, মারামারি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণেই পুরো পুরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই আকস্মিক তাণ্ডবলীলার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানকারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে অধিকতর তৎপর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশবাসীর সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে শিগগিরই এদেশকে এক ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার জন্য জনগণের সহায়তা চাই। দেশবাসীকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বিরোধী দল যাতে যুদ্ধাপরাধীদের সহায়তা করতে না পারে সেজন্য জনগণকে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। সরকারি দলের ওই সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান-কি ধরনের কাজ করলে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যায় সে বিষয়ে আইনি কোন ব্যাখ্যা দেয়া হবে কিনা? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক ওভাবে বলা যায় না। কোনটা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যায়। তবে যারা করছে তারা তো বুঝে-শুনেই করছে। এটা বিরোধী দলের নেতারও বোঝা উচিত। তিনি বুঝে-শুনেই তাদের (জামায়াত) সঙ্গে আছেন। সংসদ নেতা বলেন, বিরোধী দলকে বুঝতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে গিয়ে যেন তারা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে। আমি বুঝি না কেন তিনি (খালেদা) ২ লাখ মা-বোনের যন্ত্রণা বোঝেন না। তার তো বোঝা উচিত। ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করার জন্য বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এজন্য অনেক অর্থও বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বিদেশী লবিস্ট কোম্পানিকে এই টাকা দেয়া হচ্ছে। যারা এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় খবর এসেছে। আমেরিকাতে এ ধরনের লবিস্ট ফার্ম রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও আমাদের (সরকারের) কাছে আছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, এ বিষয়ে মানিলন্ডারিং আইনেও তদন্ত হচ্ছে। কারণ, বিষয়টির সঙ্গে টাকা পাচারের ব্যাপার জড়িত। জনগণের টাকা পাচার করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে কাজ করে যাবে, তা হতে দেয়া যায় না। মো. শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১১-১৫ মেয়াদে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ উন্নীত হবে। বর্তমান সময়ের তুলনায় দারিদ্র্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। পরবর্তী পর্যায়ে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২১) মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন করে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। মুহিবুর রহমান মানিকের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি রেলপথের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ রেলপথকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন মাধ্যমে পরিণত হবে। নাছিমুল আলম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের সফল কার্যক্রম তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার ও সমসুযোগ নিশ্চিত করতে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে। গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন এবং জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এ সময় তিনি ২০১৩ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ৩১টি প্রকল্প সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন। মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে অধিকতর সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সময়ে নির্ভুল ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ইভিএম একটি আধুনিক দৃষ্টান্ত। দশম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আজ কামরুল হাসানের ২৫তম প্রয়াণ দিবস

স্টাফ রিপোর্টার: কামরুল হাসানকে কোন সীমাবদ্ধতায় ধারণ করা সম্ভব নয়। তার ব্যাপ্তি ও কর্মপরিধি ছিল অসাধারণ। তিনি একাধারে সংগঠক, কার্টুনিস্ট, ব্রতচারী, প্রচারক, রাজনীতিক ও এক অসাধারণ শিল্পী। স্বল্প পরিসরে তার মূল্যায়ন সম্ভব নয়। সর্বশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একক চরিত্রের মহান শিল্পী। আজ তার ২৫তম প্রয়াণ দিবস। কামরুল হাসান তার সুদীর্ঘ জীবনে বাংলার শিল্পরূপ অন্বেষণ করেছেন এবং সেই অন্বেষাজাত উপলব্ধির সৃজনশীল প্রকাশ দ্বারা আমাদের শিল্পাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেন। সামাজিক অঙ্গীকারবদ্ধ পটুয়া কামরুল হাসান আজীবন বাঙালি জাতির অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। দেশভাগ পরবর্তী তমসাচ্ছন্ন দিনে তৎকালীন পূর্ববাংলায় শিল্প-শিক্ষার প্রসারে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ছিল অনন্য ভূমিকা। নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী সরকারের আর্ট ও ডিজাইন বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব। পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গেও ছিলেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে পটুয়া কামরুল হাসান নিরলস ও নির্ভীকভাবে গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেছেন। পটুয়া কামরুল হাসানের শিল্পকর্ম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বহুবার তাকে অন্যতম বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

স্কারলেটের নতুন সঙ্গী

বিনোদন ডেস্ক: হলিউডি অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসেন সাবেক স্বামী রায়ান রেইনোল্ডস ও তার বর্তমান প্রেমিকা ব্ল্যাক লাভলিকে এড়িয়ে চলার জন্যই নিউ ইয়র্ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন সঙ্গী নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে লন্ডনেই থিতু হওয়ার চিন্তা করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বৃটিশ ট্যাবলয়েড মিরর জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী এ তারকা গত সপ্তাহে লন্ডনে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য এক এজেন্টের অফিসে গিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিউ ইয়র্কে রায়ান ও ব্ল্যাকের সঙ্গে যে কোন ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চান স্কারলেট। স্কারলেট এখন ‘আন্ডার দ্য স্কিন ইন স্কটল্যান্ড’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এদিকে তার লন্ডন প্রীতির বিষয়টি প্রচার হওয়ার কিছুদিন আগেই বন্ড তারকা ড্যানিয়েল ক্রেইগ-এর প্রতি বিশেষ দুর্বলতার কথাও প্রকাশ করেছেন স্কারলেট। ড্যানিয়েলের সঙ্গে তার সম্পর্কও বেশ ঘনিস্ট এখন। নিজেদের এই ঘনিস্ট সম্পর্কের কথা স্বীকার না করলেও ইতিমধ্যে তাদের বিভিন্ন স্পটে ডেটিং করতে দেখা গেছে। ধারনা করা হচ্ছে সাবেক স্বামী রায়নকে ভুলে গিয়ে ড্যানিয়েলের সঙ্গেই ভবিষ্যতে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন স্কারলেট। তবে নতুন এই সঙ্গীকে নিয়ে তিনি কতটা পথ পারি দিতে পারেন সেটা সময়ই বলে দেবে।

ন্যাটো চলে গেলে ক্ষমতায় আসবে তালেবান

মানবজমিন ডেস্ক: মার্কিন সেনাবাহিনীর এক গোপন প্রতিবেদনে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহার করা হলে তালেবানরা আফগানিস্তান আবারও দখল করে নেবে বলে দাবি করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স আইএসআই বিদেশী সৈন্যদের ওপর হামলা চালাতে তালেবানদের সহায়তা করে বলেও উল্লেখ রয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ২০১৪ সালে সর্বশেষ ন্যাটো সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাক-মার্কিন সম্পর্কও নতুন করে জটিলতায় পড়েছে। এছাড়া, রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থি তালেবানদের যে অংশ মার্কিন ও কারজাই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে। লন্ডনের দ্য টাইমসের দেয়া ওই প্রতিবেদনে ২০১১ সালে তালেবানরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলেও তাদের শক্তি-সামর্থ্য অক্ষুণ্নই রয়ে গেছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক আফগান নাগরিকও তালেবানদের আসন্ন প্রত্যাবর্তনকে মেনে নিতে প্রস্তুত হয়ে আছেন। তালেবান-আইএসআই সখ্যের বিষয়টি আফগানিস্তানের বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে আটক ৪ হাজারের বেশি তালেবান ও আল কায়েদা সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব বন্দি পাকিস্তানের সরকার তালেবানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বলে জানায়। আইএসআই তালেবানের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও দলটির নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এমনকি তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আইএসআই’র কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠকও করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর এমন প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া জবাব দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত একে অসার বর্ণনা করে তার সরকার আফগানিস্তানের ব্যাপারে নাক না গলাতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তানের বারবার এমন দাবি সত্ত্বেও পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আর এমন ত্রিমুখী সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে। এ লক্ষ্যে তারা সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও কারজাই সরকারকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ফলে তালেবানদের বিভিন্ন উপদল দোহা, রিয়াদ ও কাবুলে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজিও হয়েছে।



ন্যাটো’র গোপন রিপোর্ট: তালেবানকে সহায়তা করছে পাকিস্তান

মানবজমিন ডেস্ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি তালেবানদের সহায়তার অভিযোগ এনেছে ন্যাটো। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তালেবান নেতাদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন তালেবান নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে জানে বলেও ন্যাটোর ফাঁস হওয়া একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৪ হাজারেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা, জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সদস্য, বিদেশী যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। ২৭ হাজারেরও বেশি প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে ন্যাটো। বহুদিন ধরে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ আনা হলেও পাকিস্তান বরাবরই এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। এদিকে এসব জঙ্গি গোষ্ঠী পরিচালিত হামলাগুলো সম্পর্কে পাকিস্তান আগে থেকেই জানে বলে অভিযোগ এনেছে ন্যাটো। এদিকে তালেবানরা আফগান জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জন কিরবি বলেছেন, রিপোর্টটি এখনও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে আসেনি। তিনি বলেন, আমরা বহু আগে থেকেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সঙ্গে কয়েকটি চরমপন্থি সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে তালেবানকে সহায়তা দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।

অপি’র কৃতিত্ব

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের টিভি মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ অপি করিম। তবে বর্তমানে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত এ অভিনেত্রী। এর কারণ পড়াশোনার জন্য বছর দু’য়েক আগে জার্মানি পাড়ি জমান অপি। ২০১০ সালের ১লা অক্টোবর জার্মানির ব্যানবুর্গে অ্যানহাল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। অভিনয়ের মতো সেখানে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব দেখালেন অপি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষের পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য ব্যানবুর্গে অ্যানহাল্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অপিকে সমপ্রতি ‘অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সামপ্লরি পারফরমেন্স’-এ ভূষিত করেছে। গেল মাসের ৩০ তারিখ বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আইনার ক্রেজলার আনুষ্ঠানিকভাবে অপি করিমের হাতে এ পুরস্কারটি তুলে দেন। এদিকে অপির অর্জন করা ‘অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সামপ্লরি পারফরমেন্স’ পুরস্কারটির মূল্যমান হলো ১০০০ ইউরো। ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়াশোনার আগে ইংরেজি সাহিত্যের একটি কোর্সেও অপি করিম অনেক ভাল ফলাফল করেছিলেন। অপি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন বলেও জানা গেছে। অপির এ ধারাবাহিক ভাল ফলাফলের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করলো।

আসিফের নিমন্ত্রণ

স্টাফ রিপোর্টার: পল্টনস্থ হোটেল ভিক্টোরিতে ১৬ই মার্চ ২০১০ সালে সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে গান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেন আসিফ আকবর। সবাইকে তাক লাগানো সেই নিমন্ত্রণে আসিফ দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠেই জানান, গানের সংসারে তিনি আর থাকছেন না। এমনকি বিনোদন পাতাতেও নিজের সংবাদ কিংবা ছবি প্রকাশের অনিচ্ছা প্রকাশ করেন সেই সাংবাদিক নিমন্ত্রণে। মাঝখানে দুই বছর পার করে আবারও সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন আসিফ। এবার আর হোটেলে নয়, আজ দুপুরে রাজারবাগস্থ নিজ অফিসে বিনোদন সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। উদ্দেশ্য, ফের গানে ফেরা এবং গান নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা শেয়ার করা। আসিফ বলেন, আনুষ্ঠানিক-ভাবে বছর দুই আগে গান থেকে দূরে ছিলাম। মাঝখানে দুই বছরের বিস্তর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এবং নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি গানে-স্টেজে ফেরার। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনাও নিয়েছি। কাজ শুরু করেছি নতুন এককের। কথা চলছে দেশ-বিদেশের বেশ কিছু স্টেজ শো’র। সব মিলিয়ে আমি আমার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চাই বিনোদন সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে। কারণ দুই বছর আগে তাদের সঙ্গে আলাপ করেই গান থেকে সরে দাঁড়াই। আবার ফিরবো যখন, তখন তাদের সঙ্গে আলাপ করেই ফিরতে চাই। সে জন্যই আজ দুপুরে এ নিমন্ত্রণ।

ন্যাটোর প্রতিবেদন ফাঁস-পশ্চিমাদের বিদায়ের পর ক্ষমতায় ফিরতে আশাবাদী তালেবান

আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা মনে করে, পশ্চিমা সেনা প্রত্যাহারের পরই তাদের দেশটির ক্ষমতায় ফিরে আসা অবশ্যম্ভাবী। বিবিসি ও টাইমস পত্রিকায় গতকাল বুধবার ফাঁস করে দেওয়া ন্যাটোর এক গোপন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, আফগান সরকার ও পশ্চিমা সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত তালেবানকে সক্রিয় সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান।

বিয়ে করছেন রিমা সেন

বিনোদন ডেস্ক: চলতি বছরটি যেন বলিউড তারকাদের বিয়ের বছরেই পরিণত হতে যাচ্ছে। আর দু’দিন বাদেই অভিনেতা হৃতেশ দেশমুখের সঙ্গে বিয়ে হতে যাচ্ছে অভিনেত্রী জেনেলিয়া দিসুজার। মাস খানেকের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর। এবার নতুন সংবাদ হচ্ছে বিয়ে করতে যাচ্ছেন আরেক বলিউড অভিনেত্রী রিমা সেনও। মার্চের ৩১ তারিখ দিল্লির রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী শিবকরণ সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন রিমা। এর আগে দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করেন রিমা ও শিব। যার পরিণতি হিসেবেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। দিল্লিতে শিবকরণের ফার্ম হাউসেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। আর তার আগেই ফেব্রুয়ারির আগে বেশ কিছু পার্টি রাখা হবে তাদের বিয়ে উপলক্ষে, যাতে অংশ নেবেন বলিউড তারকাসহ ভারতের অনেক রাজনৈতিক নেতা। এদিকে গত দুই বছর ধরেই কাজ করা কমিয়ে দিয়েছেন রিমা সেন। নিজের বিয়ে সম্পর্কে রিমা সেন বলেন, দুই বছর সম্পর্কের পর এবার বিয়ে করতে যাচ্ছি আমরা, স্বাভাবিকভাবেই অনেক ভাল লাগছে। আর দিল্লিতে বিয়ের মজাই আলাদা। আশা করছি খুব ভালভাবেই বিয়েটি সম্পন্ন হবে। সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ভারতের ছবি ‘চিত্রম’-এর মাধ্যমে ২০০০ সালে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর একাধিক হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও বাংলা ছবিতে অভিনয় করে অভিনেত্রী হিসেবে বেশ ভালভাবেই প্রতিষ্ঠিত হন তিনি। বলিউডে তার উল্লেখযোগ্য অভিনীত ছবির মধ্যে রয়েছে হাম হোগেয়ে আপকে, আন, মালামাল উইকলি, চল চলা চল, আক্রোশ প্রভৃতি।

‘ভালবাসার রংধনু’ নিয়ে নাবিল আশরাফ

স্টাফ রিপোর্টার: বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা সৈয়দ নাবিল আশরাফ এবার ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মাণ করছেন নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালবাসার রংধনু’। এ চলচ্চিত্রের প্রধান ৩টি চরিত্রে অভিনয় করছেন- এ্যানি খান, নাঈম সোবহান ও আঁচল। ইতিমধ্যেই ছবির ৩টি গানের চিত্রায়ণ সম্পন্ন করেছেন পরিচালক। গানের শুটিং করা হয় সিলেট, বান্দরবান ও সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। পরিচালক বলেন, ইতিপূর্বে এমন মনোমুগ্ধকর লোকেশানে কোন ছবির শুটিং হয়নি। গানগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ফিরোজ কবীর ডলারের কাহিনী ও আবিদ রনির সংগীত পরিচালনায় গানের কথা লিখেছেন কবির বকুল, প্রদীপ সাহা, লুবনা ও নাদিরা ইয়াসমিন। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন নাভিদ খান চৌধুরী। নৃত্য পরিচালনায় আব্রাহাম এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে জাকিরুল ইসলাম সুমন, বিজ্ঞাপনী সংস্থা সিজি ওয়ার্ল্ড লি: এর ব্যানারে নির্মিত এ চলচ্চিত্রের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন মঈনুল ইসলাম। ছবির কাহিনী সম্পর্কে পরিচালক নাবিল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শহরের এক যুবক ট্রেনের যাত্রী। পাশাপাশি বসা সুন্দরী তরুণী। সময় গড়িয়ে যায়। ট্রেন শহরের দিকে এগিয়ে চলে। মেয়েটির জন্য অন্যরকম ভাল লাগা তৈরি হয় যুবকের। অথচ শহরে তারই অপেক্ষায় তার প্রিয় বান্ধবী। তার জন্যও মনটা কেঁদে ওঠে যুবকের। পরোক্ষণেই পাশের মেয়েটির দিকে তাকায়। ভুলে যায় প্রিয় বান্ধবীকে। ভোর বেলা ট্রেন থেকে দ্রুত নেমে যায় মেয়েটি। পিছু নেয় যুবক। পরিচালক নাবিল আশরাফ বলেন, অসংখ্য বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে এসেছি। অনেক চিন্তা-ভাবনা আর যত্ন করে ‘ভালবাসার রংধনু’ নির্মাণ করছি। আমার বিশ্বাস, সকল শ্রেণীর দর্শকের জন্য নির্মিত ত্রিভুজ প্রেমের এই ছবিটি সবার ভাল লাগবে।

শহীদ-রুমি’র অট্টহাসি

মাহমুদ মানজুর: দিনভর দলছুটের খবর। শুধু কি তাই? সঙ্গে রয়েছে তিরিশ লক্ষ্য টাকা ক্ষতিপূরণ শীর্ষক সাধারণ ডায়রিসহ ‘দা-কুমড়া’ ঘরানার নানা উপাদান। সোমবার এমন খবর দিনভর টিভি অনুষ্ঠান হয়ে পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে ফলাও করে। অথচ সবাইকে চমকে দিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের একটি বর্ণিল আয়োজনে হাজির হন দু’জনে। হাতে হাত রেখে হাস্যোজ্জ্বল দু’জনে গল্পে মেতে ওঠেন উপস্থিত শিল্পী-সাংবাদিকদের সঙ্গে। দিনভর ভাঙনের গল্প প্রসঙ্গে দু’জনেই বলেন সমস্বরে, ভাঙনের গুজবটাকে আমরা জয় করতে চাই। এই জামানায় শাক দিয়ে হয়তো মাছটা ঢেকে রাখা যায় কিন্তু সম্পর্কটা ঢেকে রাখা মুশকিল। আজ দিনভর টিভি আর সংবাদপত্রে যা লেখা হয়েছে, যে ভয়ঙ্কর সব তথ্য ছাপা হয়েছে- এর পরেতো এখানে এভাবে আমাদের পাশাপাশি থাকার কথা ছিল না। আমরা দু’জনেই বিষয়টি নিয়ে দারুণ বিব্রত। তবে বিস্মিত নই। সফলতার সূচক ঊর্ধ্ব গতিতে থাকলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। প্রসঙ্গ চলতি সময়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় সংগীত জুটি শহীদ-আরফিন রুমি। গেল ক’বছর দু’জন জুটি হয়ে কাজ করছেন। যার সর্বশেষ জ্বলজ্বলে স্বাক্ষর মিলেছে আরফিন রুমির সুর-সংগীতে শহীদ-শুভমিতার ‘এক জীবনে এত প্রেম পাবো কোথায়’ গানটির মধ্য দিয়ে। শহীদ-রুমি’র সফল একক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি কাজী শুভ-আইয়ুব শাহরিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ব্যান্ড ‘দূরবীন’ নিয়েও বেশ স্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছেন দু’জনে। গেল সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন হয়ে বেশ ক’টি অনলাইন নিউজ এজেন্সি এবং দু’একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পেয়েছে ‘দূরবীন’ ব্যান্ড থেকে বের করে দেয়া হয়েছে আরফিন রুমিকে। উক্ত সংবাদে আরও প্রকাশ পায়, ২০১১ সালে আরফিন রুমির সংগীতায়োজনে দূরবীন ব্যান্ডের প্রধান শহীদ ও শুভমিতার দ্বৈতকণ্ঠে ‘এক জীবনে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শহীদের এই সাফল্যের পর আরফিন রুমি ‘দূরবীন’ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া শুরু করেন। ব্যান্ডের প্র্যাকটিস ও কনসার্টে রুমি হয়ে যান অনিয়মিত। সেই সূত্র ধরে সমপ্রতি ব্যান্ড প্রধান শহীদ ‘দূরবীন’ থেকে আরফিন রুমিকে বাদ দিয়ে দেন এবং রুমির কাছে স্টুডিও ও অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার বাবদ ত্রিশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। উক্ত সংবাদে আরও প্রকাশ পায়, শহীদের এমন সিদ্ধান্তের পর আরফিন রুমি সমর্থকরা ব্যান্ডের প্রধান শহীদকে ফোনে গান ছেড়ে দেয়ার হুমকি এবং ফেসবুকে বিভিন্ন অর্ধনগ্ন নারীর সঙ্গে শহীদের ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হয়রানির শিকার করে। এক পর্যায়ে শহীদ বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেন। সোমবার দিনভর এমন সংবাদ কিংবা গুঞ্জনের পুরো বিপরীত চিত্র ঘটে এদিন সন্ধ্যায়। শহীদ-রুমি, দু’জনেই এমন সংবাদের সত্যতা জানতে চাইলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে। হাসতে হাসতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন। ছবি তোলা শেষে রুমি নিজে থেকেই বলেন, আসলে ঘটনাটা হচ্ছে শহীদ ভাইর কাঁধে বন্দুক রেখে আমাকে গুলি করার চেষ্টা চলছে। আবার কেউ কেউ আমার কাঁধে বন্দুক রেখে শহীদ ভাইকে ঘায়েল করতে চাইছে। এই হলো পুরো ঘটনার সারমর্ম। রুমি’র রেশ ধরে শহীদ বলেন, আমি যে থানায় জিডি করেছি, সেটা রুমির সঙ্গে আলাপ করেই করেছি। তাকে জানিয়েছি ফোনে এবং ফেইসবুকে আমাকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে চলছে। তখন রুমি নিজেই আমাকে বললো, একটা জিডি করে রাখতে। আমিও জিডি করলাম। ব্যাস এটুকুই। এদিকে শহীদ-রুমি দু’জনেই হাসতে হাসতে খানিকটা হুমকির সুরে বললেন, আগামীকাল (আজ রাত) আরটিভি ফোনো লাইভে ‘দূরবীন’ পারফর্ম করবে। দু’জনেই গাইবো গলা ছেড়ে- পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। গানের ফাঁকে ফাঁকে কিছু কথাও বলবো। দোয়া চাইবো সবার কাছে, যেন চলমান বন্দুকওয়ালাদের কাছ থেকে উপরওয়ালা আমাদের রক্ষা করেন। সে সঙ্গে এখন আমরা আমাদের কাঁধটাকেও সামলে রাখতে শিখেছি। যেন যে কেউ আমাদের কাঁধে বন্দুকটা না রাখতে পারে। শহীদ-রুমি’র কাছে শেষ জিজ্ঞাসা ছিল, যাহা রটে তাহা কিছু না কিছুতো বটে- কি বলবেন আপনারা? দু’জনেই বলেন, আমরা গনক নই। তাই আগামীর কথা বলতে পারবো না। তবে আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের মাঝে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি, যার বিপরীতে এমন রটনা রটতে পারে। এটা আমাদের জন্য, সংগীতের জন্য এবং গণমাধ্যমের জন্য সত্যিই বিপদজনক প্রপাগান্ডা।

প্রেক্ষাগৃহে পূর্ণিমা

স্টাফ রিপোর্টার: আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে পূর্ণিমা অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আই লাভ ইউ’। বলা যায়, এ ছবি দিয়েই পূর্ণিমার এ বছরের শুরু। একইসঙ্গে পূর্ণিমা ভক্তদের জন্য সুখবর এ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যেই পূর্ণিমা অভিনীত ছবি প্রায় একবছর পর প্রেক্ষাগৃহে আসছে। এতে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয়ে আছেন শাকিব খান। এছাড়াও আরও অভিনয়ে আছেন নীরব, রেসী, মিশা সওদাগর প্রমুখ। পূর্ণিমা বলেন, এ ছবিটি দিয়েই বলা যায় অনেকদিন পর ভিন্নধরনের চরিত্র নিয়ে আসছি দর্শক সম্মুখে। আশা করছি, অনেকদিন পর আমার আর শাকিবের অভিনয়ে ছবি দর্শকের কাছে ভাল লাগবে। শাকিব খান ও পূর্ণিমা অভিনীত ‘আই লাভ ইউ’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মুশফিকুর রহমান গুলজার। পূর্ণিমা অভিনীত ছবি ধারাবাহিকতায় মুক্তি অপেক্ষায় আছে মোট চারটি। এগুলো হলো্‌- গাজী মাহবুবের পরিচালনায় ‘রাজা সূর্য খাঁ’। ছবিতে পূর্ণিমার সঙ্গে অভিনয়ে আছেন নীরব এবং কাজী মারুফ এবং সিনিয়ার শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা, কবরী, ববিতা, আনিস, টেলিসামাদসহ আরও অনেকেই। সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘আমার স্বামী আমার অহংকার’ ছবিতে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয়ে আছেন আমিন খান এবং রিয়াজ। এফআই মানিকের পরিচালনায় ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’ ছবিতে পূর্ণিমার নায়ক হিসেবে আছেন শাকিব খান। এছাড়াও আরও অভিনয়ে আছেন নায়করাজ রাজ্জাক, সোহেল রানা, আলমগীর, সুচরিতা, মিশা সওদাগর প্রমুখ। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে ইফতেখার আহমেদ ফাহমীর পরিচালনায় ‘টু বি কন্টিনিউড’ ছবিতে পূর্ণিমার নায়ক হিসেবে আছেন সংগীত তারকা তাহসান। পূর্ণিমা বলেন, সবক’টি ছবিই একটি থেকে অন্যটি এক্সক্লুসিভ। সঙ্গে বড় বড় তারকাতো আছেনই। এ সবক’টি ছবিই এবছর মুক্তি পাবে। আশা করছি ‘আই লাভ ইউ’ মুক্তির পর তার ধারাবাহিকতা রেখেই প্রতিটি ছবিই দর্শক গ্রহণ করবে।

শেখ জামালকে হারিয়ে বিজেএমসি’র প্রতিশোধ

স্পোর্টস রিপোর্টার: গ্রামীণফোন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে প্রায় তিন দশক পর ফুটবলে ফেরা টিম বিজেএমসি। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নদের ৩-১ গোলে হারিয়ে মওসুমে প্রথম শিরোপা হারানোর প্রতিশোধ নিলো তারা। যদিও এটাকে প্রতিশোধ বলতে নারাজ টিম বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবু। গতকাল ম্যাচের শুরুতেই এক গোল হজম করে টিম বিজেএমসি। কেস্টার গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর একেএকে টিম বিজেএমসির হয়ে তিন গোল করেন ইকাঙ্গা, খোকন দাস ও ইসমাইল বাঙ্গুরা। গতকাল পেশাদার লীগের উদ্বোধনী ম্যাচেই দুই অধিনায়ককে ছাড়া মাঠে নামে শেখ জামাল ও টিম বিজেএমসি। অনুশীলনে ঘাড়ে ব্যথা পান আমিনুল আর জাকারিয়া বাবুর ট্রামকার্ড হিসেবে মাঠের বাইরে থাকেন আলফাজ। ফেডারেশন কাপের দুই ফাইনালিস্টদের এই ম্যাচে ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় আগমনে লীগ শিরোপা  জেতা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। বাঁপ্রান্ত থেকে ফেমির অরুনিমির ফ্রিকিকে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড কেস্টার হেডে বল জালে জড়ান (১-০)। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে শেখ জামাল। এর ফলোশ্রুতিতে ২৮ মিনিটেই সমতায় ফেরে ফেডারেশন কাপের রানার্সআপ টিম বিজেএমসি। ২৮ মিনিটে আজাগুন আব্দুর রশিদের কর্নারে ইসমাইল বাঙ্গুরার পুশ ফিরে এলে জিয়ান জুলস ইকাঙ্গা বল জালে জড়াতে ভুল করেননি। ইকাঙ্গার গোলে ম্যাচে ফিরে বিজেএমসি (১-১)। ৪৩ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হলো বিজেএমসি। আগুয়ান গোলরক্ষক পিরুকে কাটিয়ে ফাঁকা বারে বল ঠেলেছিলেন ইসমাইল বাঙ্গুরা। কিন্তু তার শট শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করেন মিশু। ৫১ মিনিটে ইসমাইল বাঙ্গুরাকে ডি-বক্সে ফেলে দেন ইউসুফ ইশা। পেনাল্টি পায় বিজেএমসি। অথচ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ বাঙ্গুরা। তার সেট পিস বামদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন আমিনুলের পরিবর্তে খেলতে নামা  গোলরক্ষক পিয়ারুজ্জামান পিরু। ৬১ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে বিজেএমসিকে এগিয়ে নেন খোকন দাস। আজাগুনের ব্যাকপাস আয়ত্তে এনে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের বাঁকানো শট পিরুর গ্লাভস ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় দ্বিতীয় জালে (২-১)। ৬৫ মিনিটে অ্যাসোগবা অ্যালেনকে লালকার্ড দেখতে হয় বেবেককে ডি-বক্সের ভেতরে অফ দ্য বল ফাউল করার অভিযোগে। ৭৫ মিনিটে বেবেক লং পাস দেন ইসমাইল বাঙ্গুরার কাছে। আগুয়ান গোলরক্ষক পিরুর পাশ দিয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে বিজেএমসিকে ফের এগিয়ে নেন বাঙ্গুরা (৩-১)। শেষ তিন মিনিটে সহজ দুটি সুযোগ হেলায় হারালে ৩-১ এর ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টিম বিজেএমসিকে। এদিকে ম্যাচে হেরে নাখোশ শেখ জামালের কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, এই ম্যাচে আমরা সব ডিপার্টমেন্টেই খারাপ খেলেছি। শুরুতে এগিয়ে থাকাবস্থায় ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল। কিন্তু এরপর থেকে ছেলেরা চাপ নিয়ে খেলতে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ ওদের দিয়ে দেয়। এই সুুযোগটা কাজে লাগিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টিম বিজেএমসি। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে এই শেখ জামালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল বিজেএমসি। গতকাল তাদের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে জাকারিয়া বাবুর শিষ্যরা। তারপরেও এই জয়কে  প্রতিশোধ বলতে চান না তিনি। ‘এটাকে প্রতিশোধ বলবো না। ফাইনালে আমাদের ছেলেরা সুযোগ মিস করেছিল। আজ সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে বলেই জয় এসেছে। আমি সবসময় বলে এসেছিল প্রতিটি ম্যাচেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এখানেই তাই হয়েছে- বললেন জাকারিয়া বাবু’। আলফাজকে না খেলানোর প্রসঙ্গে বাবু বলেন, আলফাজ আমার ট্রাম্পকার্ড। লীগের যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে আমি তাকে ব্যবহার করবো। শেখ জামাল: পিরু, ইউসুফ, মিশু, ফেমি, রাজু (সোহেল রানা), অ্যালেন, কোমল (মিন্টু), শরীফ (সবুজ), কেস্টার, ইউসুফ ইসা ও রায়হান। টিম বিজেএমসি: হিমেল, জনি, আবুল (বিপ্লব), রনি (আলফাজ), খোকন দাস (মোকলেস), জিয়ান জুলস ইকাঙ্গা, বেবেক, সাইফ, আজাগুল আব্দুর রশিদ, আশরাফুল ও ইসমাইল বাঙ্গুরা।

আসামি ধরে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা

ঢাকার ধামরাই থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) আটজন জনতার হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বারিল্লা গ্রাম থেকে আসামি ধরে থানায় ফেরার পথে গত মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ফাঁকা গুলি করে পুলিশ সেখান থেকে নিরাপদে সরে আসে।

টি-২০তেও ভারতের হার

স্পোর্টস ডেস্ক: টি-২০ ম্যাচেও জিততে পারেনি ভারত। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ভারত হেরে গেছে ৩১ রানে। টস জেতা ভারত অস্ট্রেলিয়ার করা ১৭১/৪ এর জবাবে ১৪০ রান করে ৬ উইকেট হারিয়ে। স্বাগতিকদের ম্যাথু ওয়েড সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন। তিনি ৪৩ বলে এ রান করার পথে তিনটি ছক্কা ও ৫টি চারের মার মারেন। এছাড়া ডেভিড হাসি ৩০ বলে ৪২ ও ওয়ার্নার ১৪ বলে ২৫ রান করেন। এরা যথাক্রমে তিনটি ও দুটি ছক্কা হাঁকান। অভিষেক ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া জর্জ বেইলি অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। অসিদের ইনিংসে ছক্কা ও চারের সংখ্যা ছিল সমান নয়টি। ভারতের বোলারদের মধ্যে কেউই তেমন সমীহ আদায় করতে পারেননি। প্রথম ওভারেই ব্রেট লির বলে ওপেনার বীরেন্দর সেওয়াগ আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় ভারত। এরপর গম্ভীর ও কোহলি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরপর তিন ওভারে গম্ভীর, কোহলি ও অভিষেক হওয়া রোহিত শর্মা আউট হলে চরম বিপর্যয় নেমে আসে ভারতের। পরে অধিনায়ক ধোনি একা লড়াই চালিয়ে গেলেও তা যথেষ্ট হয়নি। ধোনি সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন ৪৩ বলে। তিনি তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। শুক্রবার দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০টি অনুষ্ঠিত হবে। 
টস : ভারত (ফিল্ডিং)
অস্ট্রেলিয়া: ১৭১/৪ (২০ ওভার) ম্যাথু ওয়েড ৭২, ডেভিড হাসি ৪২, ডেভিড ওয়ার্নার ২৫, বিনয় কুমার ১/২৮, রায়না ১/২২।
ভারত: ১৪০/৬ (২০ ওভার) ধোনি ৪৮*, কোহলি ২২, হাসি ২/৪ ক্রিস্টিয়ান ২/৩৫।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: ম্যাথু ওয়েড

সিলেট রয়্যালসের টাইটেল স্পন্সর গ্লোবাল নিউওয়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিপিএল’র দল সিলেট রয়্যালস পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এসেছে বিদেশী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল নিউওয়ে। আগামী এক বছর সব কর্মকাণ্ডে সিলেট রয়্যালসের পাশে থাকতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টাইটেল স্পন্সর হিসেবে এ সময়ে ১০ কোটি টাকা দিবে গ্লোবাল নিউওয়ে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট রয়্যালস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও গ্লোবাল নিউওয়ের চেয়ারম্যান নবরত্নম শ্রী নারায়ানথা চুক্তিপত্র বিনিময় করেন। এসময় মিজানুর রহমান বলেছেন, চ্যাম্পিয়নশিপ বড় নয়, তারা দেশের মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্যই চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে বিপিএল যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সে চেষ্টা করবেন তারা। জাতি হিসেবে আমরা আজ কষ্টে আছি। আমরা যুব সমাজকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমার বিশ্বাস বিপিএল জমাতে পারলে অনেক যুবক-তরুণ মাদকের ছোবল থেকে বাঁচতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আগামী ছয় বছরের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব স্টেডিয়াম এবং জুনের মধ্যে একাডেমী নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সিলেট রয়্যালস। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রয়্যালস-এর চেয়ারম্যান নাফিসা কামাল, ভাইস চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর কাসফি কামাল, গ্লোবাল নিউওয়ের চেয়ারম্যান নবরত্নম শ্রী নারায়ানথা, এমডি মুরালি শ্রী নারায়ণান, সিলেট রয়্যালস-এর খেলোয়াড় ইমরুল কায়েস, পাকিস্তানের কামরান আকমল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান আরও বলেন, ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক মজবুত। গ্লোবাল নিউওয়ে স্পন্সরশিপ প্রমাণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। এ লক্ষ্যে চলতি বছরে ৮ থেকে ১০টি ইভেন্ট হতে পারে। ইমরুল কায়েস, সিলেট সমর্থকদের দোয়া চেয়েছেন যাতে তারা ভাল ফল করতে পারে। কামরান আকমলও সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

মানিকগঞ্জের একটি খামারে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ-প্রায় ১৩ হাজার মুরগি ও ১০ হাজার ডিম ধ্বংস

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত একটি খামারের কমপক্ষে ১৩ হাজার মুরগি নিধন এবং ১০ হাজার ডিম ধ্বংস করা হয়েছে। বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় ডিম ও মুরগিগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের জয়রা এলাকায় অবস্থিত ‘এম এস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি’র তিন শতাধিক মুরগি মারা যায়।

গ্যাবন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন

স্পোর্টস ডেস্ক: আফ্রিকান নেশনস কাপে সি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো সহ-আয়োজক গ্যাবন। ৩১শে জানুয়ারি গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ১-০ গোলে হারায় তারা। পিয়েরে-ইমারিক আয়ুবামিয়াং ৬২ মিনিটে দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন। আগেই কোয়ার্টার নিশ্চিত করা গ্যাবন তিন খেলায় সবক’টিতে জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠে গেল। অন্য ম্যাচে মরক্কো ১-০ গোলে নাইজারকে হারিয়ে অন্তত একটা জয়ের সান্ত্বনা নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। খেলা শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে ইউনিস বেলহান্দা দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন। দু’দল আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় এটা ছিল গ্রুপ শীর্ষস্থান অর্জনের লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল স্বাগতিক গ্যাবন। আগের ম্যাচগুলোর মতো আবারও আয়ুবামিয়াং পথ দেখাল দলকে। প্রথম একাদশের আটজনকে বাইরে রেখে দল গড়ে তিউনিসিয়া। গ্যাবন ম্যাচে বেশক’টি সুযোগ পায়। ৬২ মিনিটে এমনই একটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দলকে এগিয়ে দেন আয়ুবামিয়াং। খেলার বাকি সময়ে দু’দলের কেউই গোল করতে না পারায় ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক গ্যাবন। তিন খেলায় নয় পয়েন্ট নিয়ে গ্যাবন শীর্ষে এবং সমানসংখ্যক খেলায় ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিউনিসিয়া দ্বিতীয় স্থান নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে গেল। কোয়ার্টার ফাইনালে গ্যাবন ডি গ্রুপ রানারআপ এবং তিউনিসিয়া ডি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে। সি গ্রুপে নাইজার-মরক্কো ম্যাচ ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। দুটি করে ম্যাচে হেরে উভয় দলই আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। গুরুত্বহীন এ ম্যাচে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে অধিকাংশ সময় পার হলেও কোনোপক্ষই গোল করতে পারেনি। অবশেষে খেলা শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে ইউনিস বেলহান্দা গোল করে খেলায় কিছুটা প্রাণসঞ্চার করেন। ম্যাচে মরক্কো প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করলেও গোলের জন্য খেলার শেষ অবধি অপেক্ষা করতে হয়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে নাইজার গোলের সুযোগ পেলেও পোস্টে লেগে তা প্রতিহত হয়। বিরতির পর আবদুল করিম লাঞ্চিনার শট মরক্কোর গোলরক্ষক মোহাম্মদ আমসিফ অপূর্ব দক্ষতায় প্রতিহত করেন। অবশেষে ৮৯ মিনিটে দেয়া গোলটিই হার-জিত নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায়।

পুরান রাজা নতুন রানী

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে কোন পরিবর্তন না হলেও মেয়েদের বিভাগে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি ওজনিয়াকি। কোন গ্র্যান্ডস্লাম জিততে না পারা ওজনিয়াকি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনাল  থেকেই বিদায় নেন। ফলে তিনি নেমে গেছেন চার নম্বরে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা তিন নম্বর থেকে উঠে এসেছেন এক নম্বরে। ফাইনালে হেরে যাওয়া মারিয়া শারাপোভা চার থেকে তিনে উঠে এসেছেন। ফাইনালে উঠতে না পারলেও দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছেন পেত্রা কেভিতোভা। সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিং নিচে দেয়া হলো:
পুরুষ একক
১.জকোভিচসার্বিয়া১৩৬৩০
২.রাফা নাদালস্পেন১০৪৩৫
৩.ফেদেরারসুইজারল্যান্ড৮০১০
৪.অ্যান্ডি মারেইংল্যান্ড৬৯০০
৫.ডেভিড ফেরারস্পেন৪৫৬৫
৬.সোঙ্গাফ্রান্স৪৩২৫
৭.টমাস বারদিচচেক প্রজা.৩৭০০
৮.মার্ডি ফিসযুক্তরাষ্ট্র২৯৬৫
৯.টিপসারেভিচসার্বিয়া২৭০০
১০.দেল পোর্তোআর্জেন্টিনা২৬৩০
মহিলা একক
১.আজারেঙ্কাবেলারুশ৮৫৮৫
২.কেভিতোভাচেক প্রজা.৭৬৯০
৩.শারাপোভারাশিয়া৭৫৬০
৪.ওজনিয়াকিডেনমার্ক৭০৮৫
৫স্টোসুরঅস্ট্রেলিয়া৫৪৩০
৬.রাদওয়াস্কাপোল্যান্ড৫৩৩০
৭.বারতোলিফ্রান্স৪৭৭০
৮.ভোনারেভারাশিয়া৪৬৯৫
৯.লি নাচীন৪৪৫০
১০পেতকোভিচজার্মানি৪০০০

নাটক পাড়ায় নতুন আতঙ্ক...

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রাবন্তী, তিন্নী, সারিকার পর নাটক পাড়ায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে ধরা দিয়েছে লাক্স সুন্দরী মাশিয়াত ও অর্ষা। নতুন অভিয়ে আসা শিল্পীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত শিডিউল ফাঁসানোর তালিকায় এই দু’জন ইতিমধ্যে বেশ নাম করেছেন বলে জানা যায়। আর এতে পরিচালকরাও ভুগছেন নিয়মিত। আজ মন ভাল নেই, কাল আসতে একটু দেরি হবে, পরশু আবার ফোন ধরছেন না, আবার কখনো বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন বন্ধ। আবার শুটিং হাউজে উপস্থিত হচ্ছেন অনেকটা বেলা করেই। আর তার পরতো এসেই এটা চাই, ওটা চাই আবদার। ইউনিট সম্পর্কিত এ ধরনের অসংখ্য আবদার ও অভিযোগ তো থাকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচালকের তথ্যমতে, অর্ষার বড় দোষ- উনি একটু ড্যামকেয়ার। খুব সহজে কাউকে পাত্তা দিতে চায় না। মর্জি যা হয় তা-ই তিনি করেন। যেখানে-সেখানে সিনিয়র জুনিয়র না দেখেই সিগারেট ধরিয়ে বসেন! অবশ্য, অতি সমপ্রতি নাটক পাড়ার তরুণী নায়িকাদের মধ্যে সিগারেট পান করার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে মাশিয়াতের যেন ঘুমই ভাঙতে চায় না। দেরি করে শুটিং লোকেশনে আসেন নিয়মিত। এসেই যে কোন বিষয়ে হুলস্থুল করে বসেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নাটকের সহ-অভিনেতারাও তাদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেছেন। তবে দু’জনই খুব ভাল অভিনয়শিল্পী। এ বিষয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তারা। তাই সব জেনেশুনেও এতদিন তাদের কাস্টিং করছেন  পরিচালকরা। এ বিষয়ে মাশিয়াত ও অর্ষার কাছ থেকে তাদের বক্তব্য জানার জন্য বারবার যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন প্রতিবেদক। দু’জনার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার রিং হলেও ধরেননি তারা। তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক এবং ব্যাক্তিগত কিছু সমস্যার কারণেই তারা কাউকে সহজভাবে নিতে পারেন না এবং স্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন না। মন যখন যা চায় তাই তারা করে ফেলেন। এজন্য চাহিদাসম্পন্ন এ দুই সুন্দরীকে পিছনে ফেলে ইদানীং নির্মাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছেন সমসাময়িক মিডিয়ায় আসা অন্য সুন্দরীরা। মৌসুমী, হাসিন, রাখীসহ আরও কয়েকজন ইতিমধ্যেই একের পর এক অভিনয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। পরিচালকরাও তাদের নিয়ে নতুন করে ভাবছেন অর্ষা-মাশিয়াতদের পাশ কেটে।

নির্মাণের দেড় বছরেই মেঝে ধসে ৯ ফুট নিচে, স্কুলে যাচ্ছে না শিশুরা by জুয়েল খান

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের দেড় বছরের মাথায় শ্রেণীকক্ষ ও বারান্দার মেঝে ধসে প্রায় নয় ফুট গভীর হয়ে গেছে। ভয়ে শিশুরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন।

৫০০ কোটি ডলারের শেয়ার ছাড়বে ফেসবুক

মানবজমিন ডেস্ক: ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫০০ কোটি ডলারের প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মার্ক জুফারবার্গের প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার কথা ছিল। ফেসবুক তাদের এই বিশাল অঙ্কের আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ব্যবসা পরিচালনার লক্ষ্যে মরগান স্টেনলির নেতৃত্বে ৫ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ দিয়েছে। অন্য চারজন হলেন- গোল্ডম্যান সাচ, মেরিল লিনচ, বার্কলেস ক্যাপিটাল ও জেপি মরগান। প্রয়োজনে এই সিন্ডিকেটের সংখ্যা ও আইপিও’র অঙ্ক আরও বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি নগরী সিলিকন ভেলি থেকে কেউই এর আগে এতো বিশাল বাজেটের প্রাথমিক শেয়ার বাজারে ছাড়েনি। তবে গুগল ইনকরপোরেশন এর আগে ২০০ কোটি ডলারের আইপিও বাজারে ছেড়েছিল। ফলে ফেসবুকই সবচেয়ে বেশি বাজেটের আইপিও সর্বপ্রথম বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবসা পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরাও বেশ অভিজ্ঞ বলেই পরিচিত। তাই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বাজারে ছাড়ার খবরে অনেকেই নড়েচড়ে বসছেন।

নবীগঞ্জে শোকের মাতম একই গ্রামে ৭ লাশ

এমএ বাছিত/নূরুল ইসলাম মনি, বাহুবল থেকে: শোকের মাতম পশ্চিম জয়পুরে। গ্রাম জুড়ে স্বজনদের আহাজারি, কান্না। শোকাভিভূত এলাকার মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন একই গ্রামের ৬ জনসহ ৭ জন। নিহতদের ৬ জনের বাড়িই বাহুবলের পশ্চিম জয়পুর গ্রামে। দুর্ঘটনার পর নিহতদের লাশ গ্রামে পৌঁছলে পুরো এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসার জন্য সিলেট যাচ্ছিলেন হতভাগ্যরা। পথিমধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী বাজারের কাছে ঘটে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় নিহত বাহুবলের পশ্চিম জয়পুর গ্রামের এক পরিবারের ৪ জনকে গতকাল বিকাল ৪টায় পাশাপাশি কবরে, অন্য ২ জনকে স্ব স্ব পারিবারিক কবরস্থানে এবং অন্যজনকে তার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম জয়পুর গ্রামে এক সঙ্গে ৬ জনের জানাজা হয় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। পার্শ্ববর্তী আবদুল্লাহপুর মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় অপর ব্যক্তির জানাজা। জানাজায় হবিগঞ্জের জেলা পরিষদ প্রশাসক ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ূন কবীর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী শেখ ফিরোজ মিয়া, বাহুবল মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আলী ফরিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজন চৌধুরী, বাহুবল থানা বিএনপি’র সভাপতি আকদ্দছ মিয়া বাবুল, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল ও হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনুসহ সহস্রাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। প্র্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামের আবদুল মতিনের স্ত্রী রহিমা আক্তার বেশ কিছু দিন ধরে আলসার রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশ্যে একই গ্রামের আবদুল গফফারের পুত্র আবুল কালামের একটি মাইক্রোবাসে রওনা হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী বাজারের কাছে পৌঁছে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বিআরটিসি’র একটি পিকনিক বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের ৫ যাত্রী নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও ২ জন। ভৈরবের জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেট থেকে পিকনিক শেষে ফেরা ‘বিআরটিসি’ বাসের ছাত্র-শিক্ষকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতরা হলো- বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামের আবদুল মতিন (৬৫), তার স্ত্রী রহিমা আক্তার (৫০), তাদের কন্যা তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তার (৩০), অবিবাহিত কন্যা ইয়াছমিন আক্তার (২০), জামাতা উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের মাওলানা আলাউদ্দিন (৩৫), পশ্চিম জয়পুর গ্রামের আমির হোসেনের পুত্র ফিরোজ আলী (৩২) এবং একই গ্রামের মাইক্রোবাস চালক ও মালিক আবদুল গফফারের পুত্র আবুল কালাম (২৬)। পশ্চিম জয়পুরে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আবদুল মতিনের বাড়িতে সারিবদ্ধভাবে স্বামী-স্ত্রী ও দুই কন্যার লাশ রাখা হয়েছে। গ্রামের অপর ২ জনের লাশ স্ব স্ব বাড়িতে রাখা হয়েছে। বাড়িগুলোতে শ’ শ’ দর্শনার্থী ও স্বজনদের ভিড়। লাশগুলোকে ঘিরে তাদের কান্নায় এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। নিহত আবদুল মতিনের কোন পুত্র সন্তান নেই। ৫ কন্যার মধ্যে ওই দুর্ঘটনায় ২ জন মারা গেছে। জীবিত ৩ কন্যার প্রত্যেকেই বিবাহিত। নিহত আবদুল মতিন গ্রামের দরিদ্র কৃষক। এদিকে, দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতদের লাশ বাহুবল উপজেলার মিরপুর চৌমুহনায় নিয়ে এলে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে শ’ শ’ যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গলের র‌্যাব ৯-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে লোকজনকে মিরপুর চৌমুহনায় আসার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে চৌমুহনায় এলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ূন কবীর, মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আলী ফরিদ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনু ও আবদুল আওয়ালসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। র‌্যাব-পুলিশের লাঠিচার্জে স্থানীয় সাংবাদিক ছিদ্দিকুর রহমান মাসুম (২৮), কুতুব উদ্দিন (৩০) ও আবদুল হাই (৩২) সহ অন্তত ২০ জন আহত হন। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ূন কবীর জানান, নিহত দরিদ্র কৃষক আবদুল মতিনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আলী ফরিদ জানান, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক ।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা-ট্রেনে আগুন ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া জরুরি

যেকোনো ঘটনায় ট্রেনে আগুন লাগানো ও ভাঙচুরের পেছনে একটা স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত রয়েছে। এই গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। গতকাল বুধবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এ দাবি জানান। তাঁরা বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

সন্তানঘাতী এশা ক্ষমা চায়

তোহুর আহমদ: জেলখানা থেকে আদালতের কাঠগড়ায় নেয়ার পথে আজমের সঙ্গে এশার আবেগঘন কথোপকথন। এশা বলেছে, পরকীয়ার মোহ ভেঙেছে। আমি সংসার করতে চাই। বুঝেছি স্বামী কি জিনিস। সব অপরাধ ক্ষমা করে ঘরে তুলে নেয়ার আকুতি তার। আয়েশা হুমায়রা এশা প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সন্তানকে হত্যার অভিযোগে প্রায় দু’বছর ধরে জেল খাটছে। আদাবরের চাঞ্চল্যকর সামিউল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এশার প্রেমিক সামসুজ্জামান বাক্কুও আছে কারাগারে। গতকাল আদালতে হাজির করে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পাঁচ বছর বয়সী সামিউল তার মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে  ফেলায় ২০১০ সালের ২৩শে জুন রাতে তাকে হত্যা করা হয়। সামিউলকে অপহরণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের পাশে বস্তাবন্দি করে লাশ  ফেলে রাখা হয়। গতকাল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার  থেকে নিহত সামিউলের মা আয়েশা হুমায়রা এশা ও তার প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কু ওরফে আরিফকে পৃথকভাবে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা সামিউলের বাবা কে আর আজমকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে এশা। পরে আদালতের বারান্দা দিয়ে যাওয়ার সময় আজমকে সে বলে, সব অপরাধ ক্ষমা করে দাও। আমি আবার তোমার সংসার করতে চাই। প্রয়োজনে তুমিই আমাকে শাস্তি দাও, কিন্তু জেলখানায় আর রেখো না। এশার এসব কথা শুনে মুখ ঘুরিয়ে নেন কে আর আজম। গতকাল তিনি বলেন, তার পাপের কঠোর শাস্তি হোক এটাই চাই। সে মা জাতির কলঙ্ক। তার কোন ক্ষমা নেই। আজম বলেন, আমার ফুটফুটে সন্তানকে আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারি না। সবসময় তার স্মৃতি আমাকে তাড়া করে ফেরে। আজ বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো আট। আজম বলেন, এশা এর আগেও জেল থেকে বেরিয়ে আসা দু’জন নারীর মাধ্যমে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বলেছে, সে আবার আমার সংসার করতে চায়। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার বাবা-মা, ভাই কেউই তাকে আর মেনে নিতে পারবে না। সমাজ তাকে গ্রহণ করবে না। কঠোর শাস্তিই তার একমাত্র পাওনা। আজম বলেন, আমরা সামিউলের নামে কিছু একটা করতে চাই। তার জন্য একটা এতিমখানা বা মাদরাসা করার চিন্তা আছে। তিনি বলেন, এশা যখন যা চেয়েছে তাই তাকে দিয়েছি। গহনার পর গহনা দিয়েছি। যখন যে ড্রেস পছন্দ হয়েছে কিনে দিয়েছি। কিন্তু তাতে তার মন ভরেনি। অন্য ছেলের সঙ্গে সে পরকীয়ায় জড়িয়েছে। ২০১০ সালের ২৩শে জুন আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে সামিউলের লাশ উদ্ধার করার পর হত্যাকাণ্ডের ক্লু খুঁজতে থাকে পুলিশ। এ ঘটনায় মায়ের প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কুকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। বাক্কু ঘটনা আড়াল করতে চতুরতার আশ্রয় নেয়। বলে, আমাদের অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় তাকে এশা ও আমি মিলে হত্যা করেছি। কিন্তু পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর বাক্কু স্বীকার করে, সামিউল তাদের সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ২২শে জুন বাসার সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন তাকে অচেতন করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয় নবোদয় হাউজিংয়ে তাদের বাসার সামনে। মামলার তদারক কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনের তৎকালীন উপ-কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর কোন পরিবারে না ঘটে। গতকাল আদালতে হাজির করে এশা ও বাক্কুকে তাদের বিরুদ্ধে শিশু সামিউলকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা এবং শহিদুল ইসলাম জুয়েল জানান, এর আগে বিভিন্ন কারণে আট বার এ মামলার অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার তৎকালীন এসআই কাজী শাহান হক গত বছরের ২৫শে অক্টোবর ওই দু’জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র  দেন। গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক জেসমিন আনোয়ার অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১লা মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। সন্তানকে হত্যার অভিযোগে সামিউলের পিতা কে. আর. আজম আদাবর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে এশা ও তার প্রেমিক বাক্কুর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ৭৩৪৫ পরীক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ছিল ৭৩৪৫ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় বহিষ্কার করা হয়েছে ৩৮ শিক্ষার্থী ও ২ শিক্ষককে। গতকাল বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা  শুরু হয়। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১০৪০, রাজশাহী বোর্ডে ৫৬০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২২৫, কুমিল্লা বোর্ডে ৪২৩, বরিশাল বোর্ডে ১৩৭, দিনাজপুর বোর্ডে ৩৩৭, সিলেট বোর্ডে ১০৮, যশোর বোর্ডে ৪৯৭, মাদরাসা বোর্ডে সর্বোচ্চ৩৩৯০ ও কারিগরি বোর্ডে ৬২৮ জন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে একজন, রাজশাহী বোর্ডে ১ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ১ জন, কারিগরি বোর্ডে ৭ জন এবং মাদরাসা বোর্ডে সর্বোচ্চ ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২ জন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ দু’জনই মাদরাসা বোর্ডের। এসএসসি, দাখিল সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৪ লাখ ২০ হাজার ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেয়ার কথা। এ সংখ্যা গতবারের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫ বেশি। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২২৯ জন, ছাত্রী ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ জন। এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৮টি সাধারণ বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১৫ হাজার ৯৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ২০ হাজার ১৫১ জন, ছাত্রী ৫ লাখ ৩২ হাজার ৮১৮ জন। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৮ জন, ছাত্রী ১ লাখ ২৭ হাজার ৫২ জন। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ১৭২৫টি প্রতিষ্ঠানের ৯১ হাজার ১৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে পরীক্ষায়। এদের মধ্যে ছাত্র ৬৬ হাজার ২০০ জন, ছাত্রী ২৪ হাজার ৯৫৮ জন। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ২৪৬৪টি কেন্দ্রে গতকাল থেকে ৪ঠা মার্চ পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা হবে। এবার ২৬ হাজার ৮৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেদ্দা, রিয়াদ, আবু ধাবি, দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও ত্রিপলি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা হবে। বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭৪। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অতিরিক্ত সময় ১৫ মিনিট থেকে বাড়িয়ে ২০ মিনিট করা হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্রুতি লেখককে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন ঢাকা বধির স্কুলে ৪৬ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া ২১টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। ২০১০ সালে ২টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। গত বছর ১০টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। এবার এসএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি ১ম ও দ্বিতীয় পত্র এবং গণিত ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে সংঘাতময়, বিশৃঙ্খল কর্মসূচি না দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আশা করি, আমাদের রাজনীতিবিদদের বুদ্ধি বিবেক আছে। যারা পরীক্ষা দিচ্ছে, তারা আমাদেরই সন্তান। আপনারা এমন কর্মসূচি দেবেন না যাতে পরীক্ষার রুটিন ব্যাহত হয়, পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষা এখন আর কোন ভীতি নয়। তারা এরই মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে দু’টি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তারা উৎসবের মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বাংলা ও ইংরেজি ছাড়া অন্য সব বিষয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে, যা বিশ্বমানের। তিনি আরও বলেন, প্রথম বারের মতো সব বোর্ডের মধ্যে অনলাইন যোগাযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষা চলার সময় সব খবর তৎক্ষণাৎ পাওয়া সম্ভব হবে। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. নোমান-উর-রশিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাহিমা খাতুন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কাসেম উপস্থিত ছিলেন।

মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: বিকাল পাঁচটা পাঁচ। প্রধানমন্ত্রী গোলাপে আবৃত লাল ফিতা কাটলেন। হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাংলা একাডেমী। পর্দা ওঠে বছরের সেরা এক সাংস্কৃতিক উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলার। গতকাল দুপুর থেকেই একাডেমীর গেটের বাইরে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে গেলে দর্শনার্থীরা   পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৩
মেলা স্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন ।
প্রথম দিনে ছিল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মেলায় ঢোকার ভিড়। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে শুরু হয় মেলা চত্বরে ঢোকার হুড়োহুড়ি। এরই মাঝে প্রকাশকরা বই সাজাতে থাকেন। বিদ্যা প্রকাশের মজিবুর রহমান খোকা বললেন, মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ভাল। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। দু’-একদিনের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
মেলার টুকিটাকি: মেলাকে ঘিরে একাডেমী চত্ব্বরকে এবার ৯টি স্পটে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- রবীন্দ্র চত্বর, নজরুল চত্বর, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চত্বর,  বেগম রোকেয়া চত্বর এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত চত্বর এবং পাঁচ ভাষাশহীদ চত্বর (সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত ও শফিউরও।

ই-তথ্য কেন্দ্র থাকছে বরাবরের মতো

অনলাইন সেবা দিতে মেলায় এবারও থাকছে ই-তথ্য কেন্দ্র। মেলা প্রাঙ্গণের মূল ফটকের পাশেই স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ই-তথ্যকেন্দ্র। এখান থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতারা জেনে নিতে পারবেন যে কোন তথ্য। কোন লেখকের কতটি বই মেলায় এসেছে বা পুরাতন কোন লেখকের বই মেলায় আসবে কিনা ইত্যাদি তথ্য এখান থেকে জানা যাবে। ই-তথ্য কেন্দ্রে গেলে পাওয়া যাবে লেখক-কবিদের বিস্তারিত জীবনীও। গ্রন্থবদ্ধ বইয়ের পাশাপাশি মেলায় এবার প্রকাশ হচ্ছে ছোটদের জন্য এনিমেশন লার্নিং ভিডিও সিডি। পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন সফটওয়্যার লার্নিং বা টিউটোরিয়াল সিডি, আউটসোর্সিং বিষয়ক সিডি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও  দেশের গান, বাংলা সাহিত্য সম্ভার, দেশীয় সংস্কৃতির ই-বুক, বাংলা ডিজিটাল বিশ্বকোষ।

চলছে স্টল নির্মাণের কাজ: মেলা শুরু হয়ে গেলেও প্রকাশকরা শেষ করতে পারেননি স্টল নির্মাণ ও সাজানোর কাজ। গতকাল মেলা শুরু হওয়ার পরও বহু স্টলের নির্মাণকাজ চলছিল। বাংলা একাডেমীর রাস্তায় বরাদ্দ পাওয়া বেশির ভাগ প্রকাশনীই প্রথম দিন স্টলে বই ওঠাতে পারেনি। হাতুড়ির ঠুকঠাক শব্দ আর এবড়ো-থেবড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাঠের গুঁড়ো যেন মেলার আবেদনকে বিশৃঙ্খলায় বেঁধে রাখতে চায়। আরও আছে ধুলো-বালির যন্ত্রণা। প্রতিবারের মতো এবারও ধুলোর বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে দর্শনার্থীদের। প্রকাশকরা প্রস্তুতি শেষ না হওয়ার জন্য একাডেমী কর্তৃপক্ষের একদম শেষের দিকে এসে স্টল বরাদ্দ দেয়াকে দায়ী করেন। দু’-একদিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।  প্রতিদিন বিকাল ৩টা  থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে ছুটির দিনগুলোয় মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। ২১শে  ফেব্রুয়ারিতে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত  মেলা চলবে বলে জানান, একাডেমী কর্তৃপক্ষ।
গতকাল আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে  শুরু হলো বাংলাভাষী বাংলাদেশী লেখক-সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের চির আকাঙ্ক্ষিত ২৯ দিনের পথচলা। এ চলা সৃষ্টিশীল পথে, ক্রমোৎকর্ষের দিকে।

বিল বাকি পড়ায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন-মোহাম্মদপুরে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের আটটি ভবন ১৬ দিন পানিশূন্য by মুসা আহমেদ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন ডি-টাইপ ফ্ল্যাটের আটটি ভবনে ১৬ দিন ধরে পানি নেই। বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ায় নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  পানির কষ্টে ভবনগুলোতে বসবাসকারী ২৮৮টি পরিবার চরম দুর্ভোগে আছে। দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।