Friday, November 21, 2025

গাজার ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি আসলে কারা চালাচ্ছে

আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনারঃ যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা থেকে গত বৃহস্পতিবার সকালে ১৫৩ জন ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি চার্টার্ড উড়োজাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। তাঁদের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল না, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ‘হতভম্ব’ করে দিয়েছিল।

প্রায় ১২ ঘণ্টা চেষ্টার পর স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে ওই ফিলিস্তিনি যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এসেছে। কর্মীরা অভিযোগ করছেন, এর মাধ্যমে ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, তারা ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়ার’ কাজে সমন্বয় করে থাকে। গাজার এই ফিলিস্তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে তারা মোটা অঙ্কের অর্থও নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত এই দলটির যাত্রা এবং ‘আল-মাজদ ইউরোপ’-এর পেছনে কারা আছে, সে সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

দক্ষিণ আফ্রিকায় কী ঘটেছিল

দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল। কারণ, ফিলিস্তিনি যাত্রীরা গাজা ছাড়ার সময় তাঁদের পাসপোর্টে বহির্গমন সিল (এক্সিট স্ট্যাম্প) বা স্লিপ ছিল না। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা কোথায় থাকবেন বা কতদিন দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতে চান—সে সম্পর্কেও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এরপর স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ‘গিফট অব দ্য গিভার্স’ তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিলে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার তাঁদের উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসার অনুমতি দেয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৩ জন ফিলিস্তিনি পরে অন্য দেশে চলে গেছেন। এর বাইরে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত শুক্রবার বলেন, ‘এরা গাজার মানুষ। তাঁরা রহস্যজনকভাবে একটি উড়োজাহাজে করে কেনিয়ার নাইরোবি হয়ে এখানে এসেছেন।’

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে তাঁদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা সংস্থা এই ঘটনাটির তদন্ত করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়েছে কোন প্রতিষ্ঠান

এই ফ্লাইটের পেছনে রয়েছে ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামের ওই সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজ গত রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংস্থাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন টোমার জানার লিন্ড নামের একজন ইসরায়েলি-এস্তোনিয়ান দ্বৈত নাগরিক। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিটের সঙ্গে লিন্ড এমন বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছেন।

এই ইউনিটের নাম ‘স্বেচ্ছাসেবী অভিবাসন ব্যুরো’। ফিলিস্তিনিদের তাঁদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করার নীতি কার্যকর করতে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ইউনিট গঠন করা হয়েছিল।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিন্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার কথা অস্বীকার করেননি। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

রামাল্লার বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও শরণার্থী অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক ওরুব আল-আবেদ আল–জাজিরাকে বলেছেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়।

আল–আবেদ বলেন, এটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক পদ্ধতির একটি অংশ। ইসরায়েলিরা সুসংগঠিতভাবে আদিবাসী ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে। তারা বহুমাত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমিকে তার আদিবাসী মানুষশূন্য করতে চায়।

আল-মাজদ ইউরোপ সম্পর্কে কী জানা গেল

আল–মাজদ ইউরোপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি ২০১০ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর হোমপেজে একটি সতর্কবার্তা রয়েছে, যে কেউ তাদের এজেন্ট সেজে প্রতারণা করতে পারে। সেখানে ‘বৈধ প্রতিনিধিদের’ ফোন নম্বর দেওয়া আছে।

তবে ওয়েবসাইটে সংস্থাটির কোনো ঠিকানা বা ফোন নম্বর নেই। কেবল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহতে একটি অবস্থান দেখানো হয়েছে। যদিও আল–জাজিরা সেখানে কোনো অফিস খুঁজে পায়নি।

আলমাজদইউরোপ ডট ওআরজি (almajdeurope.org) নামের ওয়েবসাইটটির ডোমেইন মাত্র এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিবন্ধন করা হয়েছে। সাইটের বেশ কিছু লিঙ্ক কাজ করে না। সাইটে দেওয়া ই–মেইল ঠিকানা (info@almajdeurope.org) থেকেও স্বয়ংক্রিয় বার্তা আসছে, ঠিকানাটি অস্তিত্বহীন।

নেমচিপ নামের যে প্রতিষ্ঠান ডোমেইনটি নিবন্ধন করেছে, সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রতিবেদনে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনায় তাদের নাম এসেছে। কারণ, তাদের সাইন-আপ প্রক্রিয়া সহজ ও খরচ কম।

আল–জাজিরা আরও জানতে পেরেছে, অনেক ব্যক্তিকে সংস্থার ব্যাংক হিসাবে নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।

ওয়েবসাইটটি মাত্র ১০ মাস আগে নিবন্ধন করা হলেও সেখানে আলেপ্পোর (সিরিয়া) ২৯ বছর বয়সী ‘মোনা’ সম্পর্কে একটি পোস্ট রয়েছে, যার তারিখ দেওয়া আছে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ। মোনার জবানিতে লেখা সেই গল্পে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে লেবাননে পালিয়ে যাওয়ার পর যখন তাঁরা বিপদে পড়েছিলেন, তখন আল–মাজদ তাঁকে এবং তাঁর মাকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করেছিল। এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তবে ছবিতে যাঁকে দেখানো হয়েছে, সেই মানুষটির নাম আসলে আবির খায়াত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লেবাননের ত্রিপোলিতে সাংবাদিক ম্যাডেলিন অ্যাডওয়ার্ডস যখন ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৩। মিডল ইস্ট আইয়ের জন্য তিনি ওই ছবিটি তুলেছিলেন।

অনলাইন ফর্মে লেখা আছে—বর্তমানে শুধু গাজা উপত্যকার ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের জন্য—‘আপনি কি ভ্রমণ করে নতুন জীবন শুরু করতে চান? আমরা আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

মানুষ কীভাবে সেই ফ্লাইটে উঠল

ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো প্রত্যেক শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য আল-মাজদকে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ডলার দিয়ে ফ্লাইটে উঠেছিলেন। তবে তাঁদের চূড়ান্ত গন্তব্য জানা ছিল না। এই যাত্রীদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ফ্লাইটে ওঠা লোয় আবু সাইফ গত শুক্রবার আল–জাজিরাকে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আল-মাজদের কথা জানতে পারেন।

সাইফ বলেন, তাঁদের গাজা থেকে কখন বের হতে হবে, তা তিনি মাত্র এক দিন আগে জানতে পেরেছিলেন। সে সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, যাত্রীরা শুধু একটি ছোট ব্যাগ, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা নিতে পারবেন।

যাত্রীদের গাজার দক্ষিণে অবস্থিত রাফা থেকে বাসে করে কারেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে (ইসরায়েলে যা কেরেম শালোম নামে পরিচিত) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের তল্লাশি করে। এরপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণ নথিতে কোনো স্ট্যাম্প না দিয়েই ইসরায়েলের রামোন বিমানবন্দরে স্থানান্তর করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক যাত্রী আল–জাজিরাকে বলেন, আবেদনকারীকে (একটি ছোট) পরিবার হতে হবে। তারপর নামগুলো নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। একবার তা শেষ হলে এবং পরিবার অনুমোদিত হলে, তাঁদের অর্থ জমা দিতে বলা হয়।

ওই ফিলিস্তিনি যাত্রী বলেন, বাসগুলো রাফায় প্রবেশের জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করেছিল। প্রক্রিয়াটি ছিল কেবল রুটিনমাফিক।

ফিলিস্তিনি এই দলটি রোমানিয়ান একটি উড়োজাহাজে রামোন থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ইসরায়েল থেকে কেনিয়ার নাইরোবিতে উড়োজাহাজটি যাত্রাবিরতি করে। পরে সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গিয়ে অবতরণ করে।

আগেও কি এমন ফ্লাইট হয়েছে

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, গত ২৭ মে অনুরূপ একটি ফ্লাইট হয়েছিল। প্রায় ৫৭ জন ফিলিস্তিনিকে বাসে করে প্রথমে কারেম আবু সালেম ক্রসিংয়ের মাধ্যমে রামোন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

হারেৎজের মতে, এরপর দলটি ফ্লাই লিলি পরিচালিত একটি রোমানিয়ান চার্টার্ড উড়োজাহাজে ওঠে। উড়োজাহাজটি বুদাপেস্টে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে তারা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।

আল-মাজদের ওয়েবসাইটে আরও দাবি করা হয়েছে, তারা ‘গাজা উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে কর্মরত একদল চিকিৎসকের’ জন্য বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তাদেরকে ‘আরও পড়াশোনা ও উন্নত চিকিৎসা প্রশিক্ষণের জন্য’ ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। যদিও পোস্টটির তারিখ দেওয়া আছে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল।

আল–জাজিরা এই পোস্ট ও ছবিটির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।

‘গিফট অব দ্য গিভার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমতিয়াজ সলিম্যান অভিযোগ করেছেন, আল-মাজদ ইসরায়েলের ‘একটি গুপ্তচর বা ছায়া সংস্থা’। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা দ্বিতীয় বিমান।

ইমতিয়াজ আরও বলেন, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ১৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিয়ে আরেকটি উড়োজাহাজ এসেছিল, তবে কর্তৃপক্ষ সেবার তা ঘোষণা করেনি।

কী বলছে ফিলিস্তিন

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি ‘অনিবন্ধিত ও বিভ্রান্তিকর’ সংস্থার মাধ্যমে এই ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গাজার জনগণের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়েছে সংস্থাটি। তারা পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং একটি অনিয়মিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উপায়ে তাদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনিদের বিশেষ করে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের এমন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যারা ইসরায়েলের স্বার্থ অনুযায়ী তাঁদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে চায়।

জোহানেসবার্গের কাছে অবতরণ করা উড়োজাহাজে ফিলিস্তিনি যাত্রীদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হানান জারার। ১৩ নভেম্বর ২০২৫, জোহানেসবার্গ
জোহানেসবার্গের কাছে অবতরণ করা উড়োজাহাজে ফিলিস্তিনি যাত্রীদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হানান জারার। ১৩ নভেম্বর ২০২৫, জোহানেসবার্গ। ছবি: রয়টার্স

মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার দণ্ড, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা

বিবিসির বিশ্লেষণঃ শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্ক কৌশলগতভাবে মূল্যবান হলেও রাজনৈতিকভাবে তা ছিল ব্যয়বহুল। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন হাসিনা দিল্লির সঙ্গে এমন স্থিতিশীলতা ও যোগাযোগের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন যা চীনের বিপরীতে ভারতকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। এখন তিনি ভারতে আছেন। কিন্তু বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যেই দমন নীতিই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।

২০২৪ সালের আন্দোলনে তিনি দেশ ছাড়েন। অন্তর্বর্তী সরকারে আসেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক সঙ্কট চলছে। হাসিনাকে ফেরত চাইছে ঢাকা। তবে দিল্লি তাতে রাজি নয়। ফলে হাসিনাকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন করা কার্যত অসম্ভব।

ভারত যেটিকে মানবিক আশ্রয় ভেবেছিল সেটি এখন কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। পুরনো মিত্রের জন্য ভারত কতদূর যাবে এবং কতটা কূটনৈতিক মূলধন খরচ করবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পর্যবেক্ষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের সামনে চারটি অপ্রত্যাশিত বিকল্প রয়েছে। তারা হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে। অথবা বর্তমান অবস্থায় থাকা, তবে সামনে নির্বাচিত সরকার এলে ভারতের জন্য এটা ঝুঁকি তৈরি করবে। আরেকটি দিক হলো- হাসিনাকে চুপ থাকতে বলা। যদিও তিনি এটা মানবেন না। আবার দিল্লিও এ বিষয়ে জোর করবে না।  সর্বশেষ বিকল্প হচ্ছে- হাসিনাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো। তবে এখানে আইনগত ঝামেলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি আছে। এক্ষেত্রে খুব কম দেশই এমন একজনকে গ্রহণ করতে রাজি হবে।

হাসিনার প্রত্যর্পণ ভারতীয় রাজনীতিতে অকল্পনীয়। ক্ষমতাসীন অথবা বিরোধী পক্ষই তাকে বন্ধু মনে করে। ভারত গর্ব করে যে তারা বন্ধুদের বিপক্ষে যায় না। দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও অসমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কারণ এই সম্পর্কের জন্ম ভারতের ভূমিকার মধ্যেই।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারতও বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার। বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে থাকে এবং ভারতীয় কাঁচামাল, জ্বালানি ও ট্রানজিটের ওপর নির্ভরশীল। ভারত গত এক দশকে ৮–১০ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পসুদের ঋণ দিয়েছে। রেল সংযোগ, বিদ্যুৎ, তেল ও এলএনজি সরবরাহ করেছে। এমন সম্পর্ক কোনো পক্ষই সহজে ছাড়তে পারবে না।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভারতদ্বাজ বলেন, দুই দেশ পানি, বিদ্যুৎসহ বহু ক্ষেত্রে পরস্পরনির্ভরশীল। ভারতের সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে চলা কঠিন। অনেকে মনে করেন, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এখন দ্রুত তাদের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠন করছে।

সিঙ্গাপুরের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারের প্রথম দিকের কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিল ‘ডি-ইন্ডিয়ানাইজেশন’। আগে যে সরকার ভারতকে সব ফোরামে অগ্রাধিকার দিত। সেক্ষেত্রে এখন তারা বিচার বিভাগীয় আদান–প্রদান বাতিল করছে, ভারতীয় জ্বালানি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে, সংযোগ প্রকল্প ধীর করছে। পাশাপাশি চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে।

বার্তাটি স্পষ্ট। বাংলাদেশ এখন কৌশলগতভাবে ভিন্ন দিকে সরে যাচ্ছে। জনমতেও এই পরিবর্তন ধরা পড়েছে। ঢাকার একটি জরিপ বলছে—৭৫ শতাংশ মানুষ চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখে। যা ভারতের ক্ষেত্রে মাত্র ১১ শতাংশ। অনেকে মনে করেন, দিল্লি হাসিনার শেষ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনকে সমর্থন করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক বদলালেও বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া–সম্পর্ক সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। বিএনপি–জামায়াত সরকারের সময়েও দুই দেশের বাণিজ্য বেড়েছিল। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাসিত এক মিত্রকে সামলানো নয়, বরং এমন এক প্রতিবেশীকে ধরে রাখা যা তাদের নিরাপত্তার কেন্দ্র। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলে প্রবেশাধিকারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ৪০৯৬ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ অস্থির হলে বাস্তুচ্যুতি বা চরমপন্থা বাড়তে পারে। লন্ডনের এসওএএসের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ভারতকে এখন তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ঢাকার সকল রাজনৈতিক পক্ষ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে নীরব ও ধৈর্যশীল কূটনীতি প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, আগামী ১২–১৮ মাস সম্পর্ক অস্থির থাকবে। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে সম্পর্কের গতি কোন পথে। যদি অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে পারে এবং নতুন সরকার আসে তবে সম্পর্ক পুনরায় গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দিল্লি এখন শুধু তাৎক্ষণিক কৌশল নয় বরং বড় নীতি নিয়ে ভাবছে। কীভাবে মিত্রদের আশ্বস্ত করবে যে ভারত পাশে থাকবে কিন্তু মানবাধিকার বিতর্কে জড়াবে না। পালিওয়াল বলেন, এ সমস্যার সহজ সমাধান নেই। মূল প্রশ্ন হলো ভারত কেন এমন পরিস্থিতিতে পড়ল? দিল্লি কি হাসিনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর হয়ে ভুল করেছে?

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ক্ষমতায় যারা থাকে, যারা বন্ধুসুলভ, তাদের সঙ্গেই কাজ করা হয়। পররাষ্ট্রনীতি জনমত বা নৈতিকতায় চলে না। ভারতের পক্ষেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ভারত এই রাজনৈতিক ফাটল মেরামত করতে পারবে কি না তা অনিশ্চিত। অনেক কিছু নির্ভর করছে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের ওপর। নতুন সরকার হাসিনা ইস্যুকে কতটা প্রভাব ফেলতে দেবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। যদি সম্পর্ক জিম্মি হয় অগ্রগতি কঠিন হবে।

mzamin

রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা নাভালনির শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল: স্ত্রীর দাবি

রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া বলেছেন, দুটি বিদেশি পরীক্ষাগারে তাঁর স্বামীর শরীর থেকে সংগৃহীত জৈবিক নমুনা পরীক্ষা করে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁর শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

রাশিয়ায় ভ্লাদিমির পুতিনবিরোধী নেতা নাভালনি ৪৭ বছর বয়সে ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক সার্কেলে একটি কারাগারে আকস্মিকভাবে মারা যান।

নাভালনির স্ত্রী নাভালনায়া বারবার তাঁর স্বামীকে হত্যার জন্য পুতিন সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। অবশ্য ক্রেমলিন এই অভিযোগকে ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, নাভালনির মৃত্যুর আগে পশ্চিমাদের সঙ্গে বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

নাভালনায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে নাভালনির শরীর থেকে গোপনে জৈবিক নমুনা বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। দুটি পরীক্ষাগার সেই নমুনা পরীক্ষা করেছে। এতে প্রমাণ পাওয়া গেছে, নাভালনিকে হত্যা করা হয়েছিল।

নাভালনায়া বলেন, দুটি ভিন্ন দেশের পরীক্ষাগারগুলো একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, অ্যালেক্সিকে হত্যা করা হয়েছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

নাভালনায়া পরীক্ষাগারগুলোকে এই ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান। তবে নাভালনির শরীরে কী ধরনের বিষ পাওয়া গেছে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

নাভালনায়া বলেন, ‘এসব ফলাফল জনগুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই প্রকাশ করা উচিত। আমাদের সবার সত্যিটা জানার অধিকার আছে।’

নাভালনায়ার এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমি তাঁর এসব মন্তব্য সম্পর্কে কিছুই জানি না। এ বিষয়ে কিছু বলতেও পারব না।’

ক্রেমলিন নাভালনির রাজনৈতিক মিত্রদের ‘বিপজ্জনক চরমপন্থী’ হিসেবে দেখে থাকে, যাঁরা পশ্চিমাদের হয়ে রাশিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চান। ক্রেমলিনের দাবি, সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যে পুতিনের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নাভালনি পুতিনের রাশিয়াকে ‘চোর, চাটুকার ও গুপ্তচরদের দ্বারা পরিচালিত একটি ভঙ্গুর অপরাধী রাষ্ট্র’ বলে বর্ণনা করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রাশিয়া বিপ্লবসহ বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে।

নাভালনি ২০২৩ সালে তাঁর শেষ লেখাগুলোর একটিতে দুর্নীতির জন্য রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশকে সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করায় তিনি তাঁদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন।

আর্কটিকে মৃত্যু

অ্যালেক্সি নাভালনি ২০২১ সালে জার্মানি থেকে স্বেচ্ছায় রাশিয়ায় ফিরে আসার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। এর আগে সাইবেরিয়ায় তাঁকে নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলে তিনি জার্মানিতে চিকিৎসা নেন। পশ্চিমা পরীক্ষাগারগুলোর পরীক্ষায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

রাশিয়ায় ফেরার পরেই নাভালনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর পর থেকে তিনি জালিয়াতি, চরমপন্থা এবং অন্যান্য অভিযোগে সাজা ভোগ করছিলেন। তাঁকে চুপ করিয়ে দিতে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত বছর রুশ তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছিল, নাভালনি ‘বিভিন্ন রোগের সম্মিলিত প্রভাবে’ মারা গেছেন। নাভালনায়া অবশ্য তাঁদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, পুতিন নাভালনিকে হত্যার নির্দেশ দেননি।

নিজের ভিডিওতে নাভালনায়া তাঁর স্বামীর শেষ মুহূর্তগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নাভালনি একটি ছোট্ট ব্যায়াম কক্ষে অসুস্থ বোধ করেন এবং ব্যথায় মাটিতে গুটিসুটি মেরে বসে ছিলেন। অথচ সেখান থেকে তাঁকে একটি শাস্তির কক্ষে রাখা হয়।

নাভালনায়া বলেন, নাভালনি মেঝেতে শুয়ে পেটের কাছে হাঁটু টেনে আনেন এবং যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর বুক ও পেট জ্বলে যাচ্ছিল। তারপর তিনি বমি করতে শুরু করেন।

নাভালনায়া ওই কক্ষের একটি ছবি দেখান, যেখানে মেঝেতে বমি দেখা যাচ্ছিল।

রাশিয়ার প্রয়াত পুতিনবিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মস্কো
রাশিয়ার প্রয়াত পুতিনবিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মস্কো। ফাইল ছবি: রয়টার্স

জম্মুতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে উগ্রপন্থী বজরং দল ও ভিএইচপির বিক্ষোভ

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসঃ ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এবার জম্মুর মেডিকেল কলেজ থেকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে। জম্মু অঞ্চলে সংঘ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন কাটরাভিত্তিক শ্রীমাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ভর্তির তালিকা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। তাদের মূল দাবি, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মুসলিম এবং তাঁরা কাশ্মীরের বাসিন্দা।

বিজেপির বিধায়ক আর এস পাঠানিয়া এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে রয়েছে ভিএইচপি এবং বজরং দল। তাঁর প্রধান যুক্তি হলো, বৈষ্ণদেবী মন্দিরের দান করা অর্থ দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়েছে, সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের আধিপত্য থাকা উচিত নয় এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বৈষ্ণদেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। তাই বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সেখানে হিন্দুদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।

ভর্তির তালিকা ও বিক্ষোভের কারণ

জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অব প্রফেশনাল এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস (জেকেবিওপিইই) বৈষ্ণদেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের জন্য ৫০ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশের পরই এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

নির্বাচিত ৫০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জন কাশ্মীরের এবং ৮ জন জম্মুর। কাশ্মীর থেকে ইতিমধ্যে ৩৬ জন এবং জম্মু থেকে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

উগ্র হিন্দু্ত্ববাদী ভিএইচপি ও বজরং দল কাটরা ইনস্টিটিউটের বাইরে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে এবং বৈষ্ণদেবী মন্দির বোর্ডের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।

ভিএইচপির জম্মু ও কাশ্মীর শাখার সভাপতি রাজেশ গুপ্তা দাবি করেছেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি স্থগিত রাখতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের ‘ভুল সংশোধন’ করে পরবর্তী ব্যাচে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এবারের ৫০ জনের তালিকাটিকে ‘মেডিকেল কলেজটিকে ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বজরং দলের জম্মু ও কাশ্মীর শাখার সভাপতি রাকেশ বজরঙ্গি জেকেবিওপিইইর তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, মন্দির বোর্ড যেহেতু সারা দেশের ভক্তদের দানে চলছে, তাই কলেজটির উচিত ছিল কেন্দ্রীয় এনইইটি পুল থেকে সারা ভারতের প্রার্থীদের ভর্তি করা।

বিজেপির বিধায়ক পাঠানিয়া যুক্তি দেন, ‘যেহেতু এই প্রতিষ্ঠান সরকারের থেকে এক পয়সাও অনুদান নেয় না এবং সম্পূর্ণরূপে তীর্থযাত্রীদের দানে চলে, তাই এখানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা উচিত।’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বিধিমালা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের (এনএমসি) নির্দেশিকা অনুযায়ী ভর্তিপ্রক্রিয়া হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ বৈধ। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী—

জম্মু ও কাশ্মীরের ১৩টি মেডিকেল কলেজের ১ হাজার ৬৮৫টি আসনে এনইইটির তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি করতে হবে।

৮৫ শতাংশ আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং ১৫ শতাংশ আসন দেশের বাকি অংশের প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জেকেবিওপিইইর কাজ হচ্ছে এনইইটি র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরকারি কলেজগুলোতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের কোটা এবং বেসরকারি কলেজগুলোর সব আসনের জন্য তালিকা তৈরি করা।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, এই প্রবণতা নতুন নয়। যদিও জম্মু অঞ্চলে কাশ্মীরের তুলনায় বেশি মেডিকেল আসন (জম্মুতে ৯০০, কাশ্মীরে ৬৭৫) রয়েছে, তবু কয়েক বছর ধরে কাশ্মীরের শিক্ষার্থীরাই বেশির ভাগ আসনে ভর্তি হচ্ছেন। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং আসনগুলোর ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা যায়। সেখানে জম্মুর শিক্ষার্থীরা বেশি ভর্তি হন।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিক্রিয়া

ন্যাশনাল কনফারেন্সের জম্মু প্রদেশের সভাপতি রতন লাল গুপ্ত এই পরিস্থিতির জন্য কলেজ পরিচালনাকারী শ্রীমাতা বৈষ্ণদেবী বোর্ডকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য এনএমসিতে আবেদন করার সময় তাঁদের সংখ্যালঘু মর্যাদার জন্যও আবেদন করা উচিত ছিল।

যেহেতু মন্দির বোর্ড সংখ্যালঘু মর্যাদার জন্য আবেদন করেনি, তাই জেকেবিওপিইইর কাছে এনইইটি-এ পাওয়া মেধার ভিত্তিতে ছাত্র নির্বাচন করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। গুপ্ত বলেন, উচ্চ মেধার অধিকারী বেশির ভাগ শিক্ষার্থী কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ভুক্ত (মুসলিম) ছিলেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-20%2F9kd8fxk5%2FUntitled-5.jpg?rect=3%2C0%2C1743%2C1162&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কাটরাভিত্তিক শ্রীমাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের বাইরে উগ্রপন্থী বজরং দলের কর্মীদের বিক্ষোভ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ও অস্ত্র ছাড়ের চাপ

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে, যেখানে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতে হবে এবং সামরিক শক্তি কমাতে হবে। বুধবার প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খসড়া প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত একাধিক অজ্ঞাতনামা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, পরিকল্পনাটি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রস্তুত করা হয়েছে। মস্কো অবশ্য নতুন কোনো শান্তি প্রস্তাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এ ধরনের তথ্য ফাঁস ইউক্রেনের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে একের পর এক এলাকা হারাতে থাকা এবং বাড়তি সামরিক সহায়তার জন্য জরুরি আহ্বান জানানো ইউক্রেনের জন্য এটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি রাশিয়ার পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেন, প্রস্তাবের শর্তগুলো রাশিয়ার দাবির সঙ্গে প্রায় সমান। ফলে উল্লেখযোগ্য সংশোধন ছাড়া এটি কিয়েভের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব কার্যকর ও শক্তিশালী থাকতে হবে। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, রক্তপাত বন্ধ করতে এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি, এক্ষেত্রে মার্কিন নেতৃত্বের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এই ২৮ দফা প্রস্তাব মায়ামিতে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভকে হস্তান্তর করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের অবশিষ্ট অংশ ত্যাগ করতে হবে এবং সামরিক বাহিনীর আকার অর্ধেকে নামাতে হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একই কথা জানিয়েছে। প্রস্তাবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ছোট করার শর্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু অস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেনকে বিরত থাকতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে। ইউক্রেনে রুশ ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া এবং রুশ অর্থডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও কোনো নতুন শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য তারা পায়নি।
গত জুলাইয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের পর কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়নি। তবে সে বৈঠকের ফলে কিছু বন্দি বিনিময় হয়েছিল। রোববার জেলেনস্কি জানান, তিনি বন্দি বিনিময় পুনরায় শুরু হওয়ায় আশাবাদী। উমেরভ জানান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

বুধবার জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরদোগান জানান, উভয় পক্ষকে আবার ইস্তাম্বুলে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা জোর দিয়ে বলেছি- প্রক্রিয়া বাস্তববাদী ও ফলপ্রসূ দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
এসব আলোচনার মধ্যেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

mzamin

ঢাকার আদালতে ভারতের সখিনা বেগম, জামিন হয়নি শুনে অঝোরে কাঁদলেন মেয়ে

পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত সংলগ্ন হাজতখানার সামনে তখন বেশ কিছু মানুষের ভিড়। সকলেই হাজতে থাকা আসামিদের স্বজন। অনেকে গেটের ফাঁক দিয়ে উকিঝুঁকি মেরে ভেতরে দেখার চেষ্টা করছিলেন।

গত ১০ই নভেম্বর সোমবার দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানার সামনে এমন চিত্রই দেখা যায়।

এর মধ্যেই দুপুরের দিকে হঠাৎ গেট খুলে যায়। দেখা যায় কয়েকজন নারী পুলিশ একজন বৃদ্ধাকে ঘিরে ধরে নিয়ে আসছেন। সামনে-পেছনে আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেলো।
এই বৃদ্ধাই সখিনা বেগম যাকে কয়েকমাস আগে ভারতের আসাম থেকে ধরে নিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতের সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএএসএফ।
হাজতখানার গেট দিয়ে যখন সখিনা বেগমকে বের করা হচ্ছিল, তখন তিনি ছিলেন একেবারেই চুপচাপ। দুজন নারী পুলিশ সদস্য তার হাত ধরে ছিলেন। বৃদ্ধার দৃষ্টিতে অসহায়ত্ব। ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকালেন।

বাইরে বের হতেই মানুষের হইচই আর টিভি ক্যামেরা দেখে কিছুটা যেন হতবিহ্বলও মনে হলো তাকে।
কেমন আছেন এমন প্রশ্নে দুর্বল ক্ষীণ কণ্ঠে অসমীয়া ভাষায় জানালেন, “অসুস্থ হয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি।”
বাকি কথা আর শোনা গেলো না।
ততক্ষণে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে আড়াল করে ফেলেছেন।
সখিনা বেগমকে এদিন আদালতে আনা হয়েছিলো জামিন শুনানির জন্য। দিনটা ছিল ১০ই নভেম্বর সোমবার।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার, অতঃপর কারাজীবন
সখিনা বেগমকে সাড়ে পাঁচ মাস আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আটক করেছিল ভারতের আসাম পুলিশ। তখন তাকে আসামের নলবাড়ি জেলার বরকুড়া গ্রামের বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে যায়। এরপর তাকে হস্তান্তর করা হয় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে। কিন্তু পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সখিনা বেগমকে বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরে খুঁজে পায় বিবিসি। আটষট্টি বছরের এই বৃদ্ধা তখন জানিয়েছিলেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে।
বৃদ্ধার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী ভারতে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী আসামে গিয়ে সখিনা বেগমের পরিবারকে খুঁজে পান।
ভিডিওকলে সখিনা বেগমের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা কথা বললে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কিন্তু সখিনা বেগমের ঘটনা পুলিশ জানতে পারলে তারা বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। সখিনা বেগমকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় মিরপুরের ভাষানটেক থানা পুলিশ।
যেহেতু পাসপোর্ট কিংবা বৈধভাবে প্রবেশের কোনো নথিপত্র ছিল না সখিনা বেগমের কাছে, তাই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দেয় পুলিশ। পরদিন আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। শুরু হয় সখিনা বেগমের জেল জীবন।
সখিনা বেগমকে ঢাকায় মিরপুরের রাস্তায় অসহায় অবস্থায় পাওয়ার পর আশ্রয় দিয়েছিল মিরপুরের একটি পরিবার। সেই পরিবারের সদস্য ক্লান্তি আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, পুলিশ যখন ঐ বৃদ্ধাকে নিয়ে যায় তখন বৃদ্ধা তাদের ছাড়তে চাচ্ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘উনি (সখিনা বেগম) কোনোভাবেই যেতে চান নাই। উনি ভয় পাচ্ছিলেন। আমাদের জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছেন। পরে অনেক বুঝিয়ে তাকে পুলিশ সঙ্গে নিতে পেরেছিল।’

জামিন শুনানির কী হলো?
গত সোমবার যখন ভারতীয় ঐ বৃদ্ধাকে আদালতে তোলা হয় জামিন আবেদন শুনানির জন্য তখন আদালতে এসেছিলেন ক্লান্তি আক্তার। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঐ বৃদ্ধার সঙ্গে কথাও বলতে পারেন।
‘উনাকে দেখে একটু অসুস্থ মনে হচ্ছে। মাঝখানে তার মুখে ঘা হয়ে যায়, জ্বরও ছিল। সেগুলো এখন ভালো হয়েছে। তবে একটু দুর্বল মনে হলো। উনি আশা করে আছেন যে আজকে উনার জামিন হবে। আমরাও অনেক আশা নিয়ে এসেছি,’ বলেন ক্লান্তি আক্তার।
দুপুর একটার পরে মহানগর হাকিম আদালতে শুনানি শুরু হয়। প্রায় বিশ মিনিট শুনানি শেষে সখিনা বেগমকে আবারো নিয়ে যাওয়া হয় হাজতখানায়।
তবে শুনানি শেষ হলেও আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি।
সখিনা বেগমের আইনজীবী রহমাতুল্যাহ সিদ্দিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আদালত সব শুনেছেন। কিছু প্রশ্নও করেছেন। আমরা জামিন চেয়েছি। আর যদি জামিন সম্ভব নাও হয়, সেক্ষেত্রে তাকে যেন সরকারি কোনো সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যেহেতু তিনি বয়স্ক, বৃদ্ধা নারী- এটা আদালতে বলেছি। আদালত পরে আদেশ দেবেন।”
শেষপর্যন্ত ঘণ্টাদুয়েক পরে আদেশ হয়। আদেশে জামিন নাকচের কথা বলা হয় বলে জানান, সখিনা বেগমের পক্ষের আরেক আইনজীবী শরীফুল ইসলাম।
“উনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আনা হয়েছে যে, উনি ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া অবস্থান করার যে অপরাধ এটা জামিনযোগ্য,” বলেন সখিনা বেগমের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম।
কিন্তু তাহলে জামিন হলো না কেন এমন প্রশ্নে আদালতের যুক্তি তুলে ধরেন মি. ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত এখানে যুক্তি দিয়েছেন যে, যদি আসামিকে জামিন দেয়া হয়, আসামি তো ভারত থেকে এসেছে। সে যদি ভারতে চলে যায় তাহলে তার মামলা চলছে, এটার ট্রায়াল প্রসিডিউর কী হবে?’

জামিন হয়নি শুনে ভারতে অঝোরে কাঁদলেন সখিনা বেগমের মেয়ে
ঢাকায় যখন শুনানি চলছিলো, তখন এর ফল জানার আশায় ভারতের আসামে নিজ বাড়িতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন সখিনা বেগমের মেয়ে রাসিয়া বেগম।
একইসঙ্গে মাকে দেখার আকুতি থেকে ‘আবদার’ করেছিলেন, মায়ের একখানা ছবি বা ভিডিও পাঠানোর জন্য। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে আদালতের ভিডিও পাঠানো হয়। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো সখিনা বেগমকে পুলিশ সদস্যরা কোর্টে নিয়ে যাচ্ছেন।
বৃদ্ধা মা’কে ভিনদেশের পুলিশের হাতে আটক অবস্থার দৃশ্য দেখে রাসিয়া বেগমের কান্না যেন থামছিলো না।
ভিডিওতে কেমন আছেন এমন প্রশ্নে সখিনা বেগম যখন বলেছিলেন, ‘অসুস্থ হয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি।” তার মেয়ে রাসিয়া বেগম এই বাক্যটি শুনে চোখ মুছতে থাকেন।
‘ওহ... মা অসুস্থ হয়েছিলো? যাক এখন ঠিক আছে জেনে নিশ্চিন্ত হলাম।’
বললেন, মায়ের মৃত্যুর আগের এই শেষ সময়টায় তার সেবা করার সুযোগ চান।
‘এই বৃদ্ধ বয়সে যদি উনার সেবাযত্ন করতে না পারি, তাহলে এই কষ্ট কোথায় রাখবো? আমরা দুই সরকারকে অনুরোধ করছি, তারা যেন যেভাবেই হোক, আমার মাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। আমি হাতজোড় করে দুই সরকারকে অনুরোধ করছি, তার এই শেষ বয়সে যেন তার সেবাযত্ন করতে পারি। মা ছাড়া তো আমাদের আর কেউ নেই।’
হাত জোড় করে বলছিলেন রাসিয়া বেগম। তবে তিনি এটাও জানান, ভারতে মামলা চালানো বা বাংলাদেশে মামলার খরচ করার মতো সামর্থ্য তার নেই।
তবে সখিনা বেগমকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে আসামের বড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকার সংখ্যলঘু মুসলিম ছাত্রদের একটি সংগঠন অল বিটিসি মাইনরিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের আদালতে মামলা করবেন তারা।
সংগঠনিটর প্রেসিডেন্ট টাইসন হোসেইন বিবিসিকে জানিয়েছেন মামলার সকল প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন।
‘সখিনা বেগমের বিষয়টি, কী করে তাকে আসামে তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি আমরা নিয়ে ফেলেছি। আমরা তার পরিবারকে দিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টে হিবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করাবো। সেখানে যদি আশানুরূপ রায় না পাই, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। সখিনা বেগমের মামলা নিয়ে দরকার পড়লে আমরা আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত যাব।’ বলেন টাইসন হোসেইন।
এদিকে বাংলাদেশের আইনজীবীও জানিয়েছেন, সখিনা বেগমের জামিন আবেদন নিয়ে এখন তারা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নতুন করে আবেদন করবেন।
ততদিনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সখিনা বেগমকেও থাকতে হচ্ছে ভিনদেশের কারাগারে অচেনা পরিবেশে।
এমনকি জামিন যদি হয়েও যায় তারপরও তিনি কবে দেশে কবে ফিরতে পারবেন সেটাও নিশ্চিত নয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

mzamin

রাজধানীতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুই ভবনের মাঝ থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বাড্ডায় বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুই ভবনের মাঝ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুশফিকুজ্জামান (২০) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়তেন। পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় বিকেলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলার ছাদে ওঠেন।

বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ড. ফরাশ উদ্দিন ভবন ও মূল ভবনের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে থেকে মুশফিকুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা বা না অন্য কিছু, তদন্ত শেষে ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ছুটে আসেন মুশফিকুজ্জামানের বাবা বি এম মুখলেছুজ্জামান ও চাচা মনিরুজ্জামান মনির। মুখলেছুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তিন চার দিন আগে পড়াশোনা নিয়ে কয়েক সহপাঠীর সঙ্গে মুশফিকুজ্জামানের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি তার মায়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন। ছেলে বলেছিল, তারা তাকে ছাদে নিয়ে যেতে চাইতো। এরই মধ্যে আজ এমন ঘটনা ঘটল।

মনিরুজ্জামান মনির প্রথম আলোকে বলেন, মুশফিক তাঁর মা-বাবার সঙ্গে খিলগাঁওয়ে ব্লকে থাকতেন। প্রতিদিনের মতো আজ সকালে মুশফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মর্গে এসেছেন। মুশফিক এক ভাই, এক বোনের মধ্যে বড়।

তবে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে মুশফিকুজ্জামানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলার ছাদে উঠতে দেখা গেছে। সেখানে অন্য কেউ ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছে, মুশফিকুজ্জামান ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2023-09%2Fcde1e604-9c5b-40a3-a9ad-a9d94bd91f88%2Fdeath.jpg?rect=0%2C4%2C3239%2C2159&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মরদেহ উদ্ধার। প্রতীকী ছবি

যেকোনো ভবিষ্যৎ আগ্রাসনে কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান

ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির। তিনি রোববার প্রেসিডেন্ট হাউসে জর্ডানের বাদশাহ  দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আল হুসেইনের সম্মানে দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে ডেইলি জাং-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আকাশের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘পাকিস্তানকে আমি বিজয় এনে দিইনি, আল্লাহ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে মে মাসে পাকিস্তানের শত্রু পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আল্লাহর বাহিনী, এর সেনারা আল্লাহর নামে লড়াই করেন।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

এতে আরও বলা হয়, মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশের সংঘর্ষে ভারত ৫ ও ৬ মে রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এরপর পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। ভারতের এই হামলা চালায় জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর। পেহেলগাম হামলায় ২৮ জন নিহত হন। নয়াদিল্লি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ না দিয়েই পাকিস্তানকে দায়ী করে। পাকিস্তান অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

পরে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’ নামে বৃহৎ পাল্টা হামলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ২০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এ দুই পরমাণুসজ্জিত দেশের যুদ্ধ ১০ মে শেষ হয়।

যুদ্ধের পরপরই সংঘর্ষকালীন নেতৃত্বের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জেনারেল মুনিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। এদিকে সেনাপ্রধান আবারও পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বলেন, আগ্রাসন হলে পাকিস্তান দৃঢ় জবাব দেবে, যেমনটি মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে দিয়েছিল। পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঈমান থাকলে মুমিনরা শত্রুর শক্তির তোয়াক্কা না করেই বিজয় অর্জন করতে পারে- এ প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন। পাকিস্তান মে মাসে সেটিই প্রমাণ করেছে। সভায় উপস্থিতরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলে তিনি বলেন, পাকিস্তানের উন্নতির জন্য দোয়া করুন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি শেষ পর্যন্ত পালন করবেন।

উল্লেখ, ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর ফলে তার মেয়াদ নতুনভাবে শুরু হবে। ১৩ নভেম্বর জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সিডিএফের মেয়াদ নিয়োগের তারিখ থেকে পাঁচ বছর হবে। সিনেট ও জাতীয় পরিষদ গৃহীত সেনাবাহিনী আইন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেনাপ্রধান, যিনি একই সঙ্গে সিডিএফ, তার মেয়াদও ওই পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকেই গণনা করা হবে।

পাকিস্তান-জর্ডান সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তারের অঙ্গীকার

পাকিস্তান ও জর্ডান সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তারের অঙ্গীকার করেছে। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ রোববার পাকিস্তানি সেনাদের কার্যকর সক্ষমতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব হাশেমি রাজতন্ত্রের সঙ্গে সামরিক-সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

দুই দিনের সফরে পাকিস্তানে থাকা বাদশাহ আবদুল্লাহ দিনটি অত্যন্ত ব্যস্তভাবে কাটান। তিনি গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ডিফেন্স সল্যুশনস (জিআইডিএস), টিলা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জেস এবং আইওয়ান-এ-সদর পরিদর্শন করেন। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেন। জিআইডিএসে পৌঁছালে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। তার সঙ্গে ছিলেন প্রিন্সেস সালমা বিনতে আবদুল্লাহ এবং জর্ডানের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

সফরকালে বাদশাহকে জিআইডিএসের কাঠামো, সক্ষমতা ও পণ্যের পোর্টফোলিও সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। এতে পাকিস্তানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য নতুন পথ তুলে ধরা হয় বলে সামরিক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পরে আইএসপিআর জানায়, বাদশাহ আবদুল্লাহ টিলা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জও পরিদর্শন করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও আজারবাইজানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভুগার মুসতাফায়েভ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা একটি যৌথ ফায়ার ও ম্যানুভার মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। আইএসপিআর জানায়, মহড়ায় বহুবিধ ক্ষেত্রের সমন্বিত অপারেশন, প্রচলিত ও আকাশ-অগ্নিশক্তি, সমন্বিত ম্যানুভার এবং ড্রোনসমর্থিত স্পেকট্রাম যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়।

https://mzamin.com/uploads/news/main/189897_Abul-1.webp