Sunday, March 27, 2011

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রস্তাব নেওয়া উচিত by হামিদ মীর

১৯৭১ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে কেন ক্ষমা চাওয়া উচিত পাকিস্তানের? সেনা অভিযানের জন্য?
সম্প্রতি বাংলাদেশের মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলাকে ঘিরে এ নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্পর্শকাতর এই বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান।
ইমরান খান এ কারণে জনপ্রিয় নন যে তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতেছে। তিনি জনপ্রিয় তাঁর ক্যানসার হাসপাতালের জন্য, গ্রামীণ এলাকায় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার ভূমিকার জন্য। মোশাররফ এ জন্য ২০০৭ সালে তাঁকে জেলে পুরেছিলেন। আশ্চর্যের যে ইমরান খান ২৩ মার্চ এ বিতর্কের সূত্রপাত করেন। বাংলাদেশের খুব কম লোকই ২৩ মার্চের গুরুত্ব জানেন। এটাও কাকতালীয় যে মিরপুর স্টেডিয়াম যাঁর নামে তাঁর নামও অধিকাংশ পাকিস্তানিদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস। এ দিন সরকারি ছুটি। এবার সবাই বসে ছিলেন টেলিভিশন সেটের সামনে। ৭১ বছর আগে অভিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেরেবাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সম্মেলনে উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমির দাবিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান নামের একটি আলাদা আবাসভূমির জন্ম হয়। শেরেবাংলা ১৯৬২ সালে মারা যান। কিন্তু ইসলামাবাদের মানুষ এখনো তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত। জিয়ো টিভির কার্যালয়গুলো এবং জং গোষ্ঠীর সংবাদপত্রগুলো করাচির এ কে ফজলুল হক সড়কে অবস্থিত।
২৩ মার্চ মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলছিল। জিয়ো নিউজ বারবার শেরেবাংলার সাদাকালো ছবিটি দেখাচ্ছিল। এ ছবি পাকিস্তানের অনেক শিক্ষার্থীর কাছেও পরিচিত। কারণ, তারা এ ছবি তাদের পড়ার বইয়ে দেখে। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই ম্যাচের কয়েক মিনিট আগে জিয়ো নিউজ ও জিয়ো সুপারে প্রচারিত একটি বিশেষ সরাসরি টিভি অনুষ্ঠানে আমি ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলছিলাম। একই অনুষ্ঠানে কয়েক দিন আগে ইমরান খান আমাকে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান সহজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারবে। ২৩ মার্চ পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে। আমি এই ক্রিকেট-কিংবদন্তিকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর কী ধারণা? ইমরান খান হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তার দলে অবশ্যই তিনজন স্পিনারকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং আমরা এই ম্যাচটি সহজেই জিতব।’ আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কেন? ইমরান বললেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে বেশ দুর্বল। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানিরা সেখানে নিজেদের মাঠ বলেই মনে করবে। কারণ, বাংলাদেশি দর্শকেরা আমাদের দলকে সমর্থন করবে।’ আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন তারা আমাদের সমর্থন দেবে?’ ইমরান খান বললেন, বাংলাদেশিরা ক্রিকেটপ্রিয় জাতি এবং তিনি নিজেও ঢাকায় তাঁর ক্রিকেট খেলার সময় তাঁদের ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেব। কয়েক দিন আগেই একই স্টেডিয়ামে তারা আমাদের ভাইদের হারিয়েছে।’
ইমরান খান এটা বারবার বলেছেন, ‘তারা আমাদের ভাইবোন, তারা আমাদের সমর্থন করবে।’ আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি মনে করেন না, ১৯৭১ সালে সেনা অভিযানের সময় সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার সময়। ইমরান খান স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে অবাক করে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশিদের কাছে পাকিস্তানের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ তিনি জানতেন এটা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটা পুরোনো দাবি। তিনি আরও বললেন, তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে লাহোরের অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে ঢাকার অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের সঙ্গে একটি ম্যাচ খেলেছেন। ওই দলের তরুণ খেলোয়াড়েরা তাঁকে বলেছেন যে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি বেশ আতঙ্কজনক। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ এ সম্পর্কে অবগত নয়। এটাই ছিল তাদের সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথন। এর কয়েক মাস পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে বসে তিনি যাঁরা প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি বলেন, সেই সেনা অভিযান কেবল ঘৃণা ও বেদনা সৃষ্টি করেছে। এটা ছিল একটা অপরাধ, এটা ছিল একটা গুরুতর ভুল। ইমরান বলছিলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত, অতীত ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং বেলুচিস্তান ও আদিবাসী এলাকায় সেনা অভিযান বন্ধ করা উচিত।’
মিরপুরে ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হওয়ার সময় আমাদের এই লাইভ শো শেষ হয়। আমরা স্টুডিও থেকে বের হয়ে পড়ি এবং উভয়েই মুঠোফোনে খুদেবার্তা ও কল পেতে শুরু করলাম। অধিকাংশ পাকিস্তানি ইমরান খানের দাবিকে সমর্থন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তাঁদের অনেকে ছিলেন বিভ্রান্ত। তাঁরা জিজ্ঞেস করেছেন, ১৯৭১ সালে আসলে কী ঘটেছিল? দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানের অনেকে শেরেবাংলা সম্পর্কে জানে। তবে তারা জানে না, কেন এবং কীভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল? আল্লাহকে ধন্যবাদ এ জন্য যে টিভি চ্যানেলে ইমরান খানের ছোট একটি বক্তব্য পাকিস্তানি তরুণদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু করে দিয়েছে। পাকপ্যাশন ডট নেটসহ অধিকাংশ ব্লগে পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের সমর্থনে গঠিত সমর্থকেরা এই বিতর্ক শুরু করেছে যে কেন পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে?
অধিকাংশ পাকিস্তানি এখন অনুধাবন করছে, আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশি ভাইবোনদের কাছে সামরিক স্বৈরশাসকদের অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের চার সামরিক স্বৈরশাসকের কেউ তাঁদের অপরাধের জন্য শাস্তি পাননি। তাঁরা ১৯৭১ সালে বাঙালিদের হত্যা করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে সিন্ধুতে, ২০০৬ সালে বেলুচিস্তানে এবং তারপর ২০০৭ সালে পাখতুনে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন। পাকিস্তানের গণতন্ত্রপ্রেমী কেউ এই কসাইদের অতীত অপরাধের পক্ষে অবস্থান নেবে না। তাঁরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়েরই শত্রু। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের সময় কাটিয়ে আসা পাকিস্তানের অনেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আমলা ও সিনিয়র সাংবাদিক ইমরান খানের দাবিকে সমর্থন করছেন। সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশিরা ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত করেছে। তাদের একজন আমাকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতীয় বাঙালি লেখক শর্মিলা বসুর (সুভাষ চন্দ্র বসুর আত্মীয়) সর্বশেষ গবেষণা ইন্টারনেটে পড়ে দেখো। তিনি (শর্মিলা) ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধর্ষণের সব অভিযোগকে স্পষ্টত অস্বীকার করেছেন।’
আমি এসব লোককে অনুরোধ করেছি, এটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিষয়। এখানে একজন ভারতীয়কে টেনে আনবেন না। কেন তিনি (শর্মিলা বসু) ওয়াশিংটনের উইড্র উইলস সেন্টার (Woodrow Wilson Center) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন? কেন তিনি আমেরিকানদের পৃষ্ঠপোষকতা উপভোগ করেন? ১৯৭১ সালে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার সংখ্যা নিয়ে আমার মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সেনা অভিযানে ১৯৭১ সালে বহুসংখ্যক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে—আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না। বেলুচিস্তান ও পশতু আদিবাসী এলাকার যাদের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছি, তাদের প্রত্যেকে আমাকে বলেছে, কীভাবে তাদের প্রিয় মানুষগুলো সেনা অভিযানে নিহত হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গোলাবর্ষণে গত বছর খাইবার এলাকার তিরাহ (Tirah) উপত্যকায় ৫০ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছিল। পরের দিন আমাদের সেনাপ্রধান নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা এখনো সামরিক অভিযানের নামে গুরুতর ভুল করছি। কীভাবে আমরা ১৯৭১ সালে গুরুতর ভুলের বিষয় অস্বীকার করতে পারি?
আমি মনে করি, সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানির উচিত সরকারের কাছে চিঠি লেখা যে ২৩ মার্চ মিরপুরে যাঁরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সমর্থন দিয়ে আমাদের হূদয়-মন জয় করেছেন, তাঁদের কাছে পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। এ ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আমাদের দুর্বল করবে না; বরং আমাদের শক্তিশালী করবে।
৩০ মার্চ যখন আমাদের ক্রিকেট দল মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে, তখন আমরা বাংলাদেশি সমর্থকদের অনুভব করব। এখনই সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য করা। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে আমরা অনেক কিছু করতে প্রস্তুত। সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবও ভুলে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে কেবল ক্ষমাসূচক কিছু শব্দ দাবি করা হয়েছে। যা এক ভাইয়ের কাছে আরেক ভাইয়ের ক্ষমা চাওয়ার মতো। তারা এখনো আমাদের ভালোবাসে। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অবশ্যই একটি প্রস্তাব পাস করা উচিত। আজ ২৬ মার্চ যারা স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে, এ প্রস্তাব তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় করবে। আমার বাংলাদেশি ভাইবোনদের প্রতি রইল স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। ৩০ মার্চ ভারতে তোমাদের অভাব অনুভব করব আমরা।
ইংরেজি থেকে অনূদিত সাইফুল সামিন এবং এ এইচ এম ইয়াসিন।
হামিদ মীর: পাকিস্তানের জিয়ো নিউজের নির্বাহী সম্পাদক।

বাংলাদেশের ইতি-নেতি by জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

আমরা স্বাধীনতার ৪০ বছর উদ্যাপন করছি। এই মুহূর্তে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার প্রয়োজন যে আমরা কী করতে পারিনি, কী করতে পেরেছি। গত ৪০ বছরে নানা ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু অর্জন আছে। শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এসেছে। বহির্বিশ্বে আমাদের পদচারণ বেড়েছে। বাঙালির জন্য বাইরের দরজা খুলে গেছে। তারা নিজেদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও পরিপুষ্ট করছে। এসবই স্বাধীনতার সুফল।
কিন্তু ১৯৭১ থেকে ২০১১—এই ৪০ বছরে আরেকটি নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করলাম, সেটি হলো নৈতিকতার অধঃপতন। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের রাজনীতি, সমাজ, শিক্ষাঙ্গন—সর্বত্র নৈতিকতার সর্বগ্রাসী অবক্ষয় লক্ষ করা গেছে। স্বাধীনতার সময়ে আমাদের মনে উত্তুঙ্গ আশা ছিল দেশটি নতুন করে গড়ার। যেভাবে আমরা গড়তে চেয়েছি, সেভাবে গড়তে পারিনি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য-ব্যর্থতা কিংবা কতটা দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণে আমি যাব না। এ ক্ষেত্রে ইতি-নেতি দুটোই আছে। কিন্তু একটি বিষয়ের ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাই না—সেটি হলো নীতি-নৈতিকতার সমূহ পতন কেন ঘটল?
আমরা দেখেছি, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের যে অভিঘাত আমাদের সমাজে পড়েছিল, তা নৈতিকতাকে অনেকখানি নাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর সাতচল্লিশের দেশভাগ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও আরেকবার অভিঘাত সৃষ্টি করে। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তো ছিল নৈতিক মানদণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর কেন আমরা নৈতিকতার যুদ্ধে হেরে যাব?
গত ৪০ বছরে বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেক অর্জন আছে। ওষুধশিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতে আমাদের অগ্রগতিও বিশাল। বিদেশে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক সমাদৃত। এর পাশাপাশি আমরা সাহিত্য, নাটক, চিত্রকলাও দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। ক্রিকেট নিয়ে আমাদের গর্বের সীমা নেই। আমাদের ক্রিকেট দল যখন জয়ী হয় তখন সারা দেশ আনন্দে ভাসে, যখন পরাজিত হয়, দুঃখ-কষ্টের শেষ থাকে না। এই আবেগ আমরা জাতির চিন্তা-চেতনা তথা মানস গঠনেও কাজে লাগাতে পারি।
আমার একটা বিষয় মনে হয়, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি উন্নত মানের হতেন, তাহলে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। গত ৪০ বছরে সে ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমরা পাইনি।
শিক্ষার মানেরও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষাই হলো প্রধান শক্তি। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে মধ্যবিত্ত বাঙালি যে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পেরেছিল, তা তো শিক্ষার কারণেই।
আরেকটি কথা, স্বাধীনতার পর আমাদের মধ্যবিত্তের চিত্তের প্রসার না ঘটলেও বিত্তের প্রসার ঘটেছে। এই যে রাতারাতি কিছু মানুষ অনেক বিত্তের মালিক হয়েছেন। তাঁরা কীভাবে ধনসম্পদ বাড়ালেন, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। আর এভাবে যাঁরা ধনী হন, তাঁরা প্রচণ্ডভাবে ভোগবাদী হন, দেশ ও সমাজের কথা ভাবেন না।
নতুন প্রজন্মকে আমি খুব কাছ থেকে জানি না। তবু তাদের ব্যাপারে আশাবাদী। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যদি এই ধারণা দেওয়া যায়—ভবিষ্যতে তারাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে, তারা সুনাগরিক হিসেবে তৈরি হলে দেশ বদলাবে—তাহলে তারা নিশ্চয়ই এগিয়ে আসবে। সুশিক্ষা ও নৈতিক শক্তিই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে। মানুষ কতটা মানুষ, তাও নির্ভর করে এই নৈতিকতার ওপর।
প্রশ্ন হলো কোথায় তারা এই শিক্ষাটি পাবে। একটি হতে পারে বিদ্যায়ন, আরেকটি বিদ্যায়নের বাইরে। একসময় শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার ছিল। আমরা যেন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করি, যাতে তরুণ প্রজন্ম বই ও জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়। তাদের হাতে প্রচুর বই পৌঁছে দিতে হবে। বই মানুষকে আত্মশক্তি জোগায়। পাড়ায় পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তোলা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কাজ হয়নি। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে হবে।
বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে লজ্জাজনকভাবে দলীয়করণ হচ্ছে। এ থেকে পিছিয়ে আসতে হলে শিক্ষক নিয়োগ থেকে প্রশাসন পরিচালনা—সর্বক্ষেত্রে মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষককেই নিয়োগ করতে হবে, যিনি মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে সক্ষম। শিক্ষাঙ্গন হয়তো রাজনীতিমুক্ত করা যাবে না। তবে সেই রাজনীতি হবে নীতি ও আদর্শের। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে যাতে শিক্ষাঙ্গন ব্যবহূত না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে। সব গণতান্ত্রিক সমাজেই সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের একটি বড় ভূমিকা থাকে। তারা জাতিকে দিকনির্দেশনা দেবে। কারও প্রতি তাদের পক্ষপাত থাকবে না। সবকিছু নির্লিপ্ত ও নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখবে এবং সাহস করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশকে নিয়ে আমি এখনো স্বপ্ন দেখি। বাংলাদেশ যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসবে—এটিই আমার প্রত্যাশা। আমরা যে যেখানে আছি, সেখান থেকেই দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কিছু কিছু মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার, যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে। সেই দৃষ্টান্ত সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।
যাঁরা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেসব কর্মবীরের চেতনা এবং প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে অন্যরাও গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে। কাদায় পড়া দেশটাও আবার দাঁড়িয়ে যাবে।
>>>জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী: শিক্ষাবিদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

স্বাধীনতা-উত্তর রূপান্তর সিরাজুল ইসলাম



বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর। তার আগে পাকিস্তান আমল ধরলে আমরা স্বাধীনতা দিবসের উৎসব পালন করে যাচ্ছি গত ৬৩ বছর যাবৎ। একসময় ছিল, জগতে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হতো না। কেননা তখন রাজ্য ছিল, সাম্রাজ্য ছিল, কিন্তু স্বাধীনতা ছিল না। স্বাধীন ছিল শুধু রাজা নিজে। ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে রাজা রাজ্য শাসন করত, প্রজারা তার গুণকীর্তন করত, কেননা তাদের মধ্যে বিশ্বাস জাগানো হতো এ মর্মে, রাজা-বাদশা ঈশ্বরেরই ছায়া। রাজা-বাদশা ঈশ্বরের ছায়া—এ তত্ত্ব প্রথম চ্যালেঞ্জ করল মার্কিনরা। ব্রিটিশদের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে মার্কিনরা প্রথম দীর্ঘ যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল ৪ জুলাই, ১৭৭৬। স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন তখন থেকেই শুরু। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে ২৬ মার্চ।
স্বাধীনতা সুযোগ এনে দেয় অধীনতাকে উচ্ছেদ করে নিজেকে মেলে ধরার, নিজের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালে। তখন অঞ্চলটি ছিল ক্রীতদাসনির্ভর একটি সামন্ত সমাজ। ২০ বছরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় মানবিক অধিকার। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মালয়েশিয়া মুক্ত হয় ১৯৫৭ সালে। স্বাধীনতার ৩৫ বছরের মধ্যে দেশটি মূলত জঙ্গল-রাষ্ট্র থেকে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা ও অর্থনীতিতে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকের নাগপাশ থেকে সিঙ্গাপুর মুক্ত হয় ১৯৬৫ সালে। তখন এটি ছিল নেহাতই একটি মৎস্যবন্দর মাত্র। স্বাধীনতার ২০ বছরের মধ্যে এ মৎস্যবন্দর সিঙ্গাপুর বিশ্বের একটি বিস্ময়কর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটানা ২০ বছর যুদ্ধ করে ভিয়েতনাম স্বাধীন হয় ১৯৭৫ সালে। এর পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যেই ভিয়েতনাম বিশ্বের একটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়।
স্বাধীনতা-উত্তর এ ধরনের রূপান্তরের উপমা আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। মোদ্দা কথা, প্রকৃত স্বাধীনতা মানুষের মানবিক গুণাবলি ও আত্মপ্রত্যয় বাড়িয়ে দেয়, বাড়িয়ে দেয় কর্মস্পৃহা ও সৃষ্টিশীলতা। তাত্ত্বিকভাবে অধীনতা মানুষকে নিষ্ক্রিয়-নিষ্প্রভ করে তোলে, কেড়ে নেয় জীবন ও আত্মসম্মানবোধ। এর অবশ্যম্ভাবী ফল দারিদ্র্য, পরনির্ভরশীলতা ও তোষামোদী মনোভাব।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছরেও বাঙালির জীবনধারায় কোনো লক্ষণীয় রূপান্তর আসেনি। মার্কিন মুলুক থেকে শুরু করে পৃথিবীর সব দেশ স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। এ ব্যতিক্রমের কারণ সমাজবিজ্ঞানীরা উদ্ঘাটন করতে পারেন। আমাদের মনে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে আসলে শ্রেণীবিশেষের জন্য, আপামর জনসাধারণের জন্য নয়। যদি তা-ই হতো, তাহলে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের মতো বাংলাদেশও একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হতে পারত। স্বাভাবিক কারণেই স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। যাদের শিক্ষা নেই, চাকরি নেই, রুজি-রোজগার নেই, চিকিৎসা নেই, আবাসন নেই, নিরাপত্তা নেই, অভাব ছাড়া কিছুই নেই—তারা যে পরাধীন, পরমুখাপেক্ষী, পরনির্ভর। প্রকৃত স্বাধীনতার অভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি তারা। সমাজ এখন অসম দুটি ভাগে বিভক্ত—বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্রতর ধনী শ্রেণী। এ দুই শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব কমছে না, দিন দিন বরং বাড়ছে। যাঁরা স্বাধীনতা দিবসের উৎসবাদী ও স্লোগানবাজিতে ব্যস্ত, তাঁরা যেন মনে রাখেন, সমাজকে সমভাবে উন্নয়নের পথে ধাবিত না করতে, সমভাবে মানবিক উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে এ স্বাধীনতা শক্তিহীন, আরও অর্থহীন হয়ে উঠবে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশ হয়তো নতুন কোনো রাজনৈতিক সত্তার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
এ অভিমত মিথ্যা প্রমাণিত হোক, এটাই আমাদের কাম্য।
ড. সিরাজুল ইসলাম: সভাপতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।

নিরাপদ ব্যক্তির’ হাতে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি সালেহ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ শর্তাধীনে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি। তিনি তাঁকে উৎখাতের চেষ্টা প্রতিহতের অঙ্গীকার করে বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে ‘নিরাপদ কোনো ব্যক্তির’ হাতে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান। গতকাল রাজধানী সানায় কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে সালেহর পদত্যাগ দাবিতে গতকাল শুক্রবার সানায় জুমার নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। সালেহর সমর্থকদের হাতে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর বিরোধীরা এই বিক্ষোভের ডাক দেয়। সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্টের বিরোধীরা। গতকাল তাঁদের এই বিক্ষোভস্থলের পাশেই প্রেসিডেন্টের অনুগতরা তাঁর পক্ষে স্লোগান দেন। তাঁরা ‘জনগণ আলী আবদুল্লাহকে চায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালেহ বলেন, ‘যেকোনোভাবে হোক, আমরা ইয়েমেনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে রক্ষার সব চেষ্টা করবেন বলে জানান।

‘নিরাপদ ব্যক্তির’ হাতে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি সালেহ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ শর্তাধীনে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি। তিনি তাঁকে উৎখাতের চেষ্টা প্রতিহতের অঙ্গীকার করে বলেছেন, রক্তপাত এড়াতে ‘নিরাপদ কোনো ব্যক্তির’ হাতে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান। গতকাল রাজধানী সানায় কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে সালেহর পদত্যাগ দাবিতে গতকাল শুক্রবার সানায় জুমার নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। সালেহর সমর্থকদের হাতে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর বিরোধীরা এই বিক্ষোভের ডাক দেয়। সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্টের বিরোধীরা। গতকাল তাঁদের এই বিক্ষোভস্থলের পাশেই প্রেসিডেন্টের অনুগতরা তাঁর পক্ষে স্লোগান দেন। তাঁরা ‘জনগণ আলী আবদুল্লাহকে চায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালেহ বলেন, ‘যেকোনোভাবে হোক, আমরা ইয়েমেনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে রক্ষার সব চেষ্টা করবেন বলে জানান।

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সমাহিত হলেন এলিজাবেথ টেলর

ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সমাহিত করা হয়েছে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরকে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের বাইরে গ্ল্যানডেলের ফরেস্ট লন সিমেট্রিতে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
খুব স্বল্প পরিসরেই টেলরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও বেশ কজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে টেলরের কফিনটি নানা রঙের ফুলে ছেয়ে যায়।
হলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীদের অনেকেই সমাহিত আছেন ফরেস্ট লন সিমেট্রিতে। টেলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রয়াত পপতারকা মাইকেল জ্যাকসনও সমাহিত আছেন সেখানে।
টেলরের মুখপাত্র জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান বেলা দুইটার দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি শুরু হয় ১৫ মিনিট দেরিতে। ঘণ্টাব্যাপী টেলরের অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতি নানাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেড ম্যানলি হপকিনসের কবিতা ‘দ্য লিডিং ইকো, দ্য গোল্ডেন ইকো’ পাঠ করেন টেলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কলিন প্যারেল। এ ছাড়া আরও একটি কবিতা পড়েন টেলরের পরিবারের কজন সদস্য।