Thursday, February 25, 2010

আমার ভাষার চলচ্চিত্র ১৪১৬ by পার্থ সরকার

রাজু ভাস্কর্যকে ডানে রেখে সোজা কিছুদূর এগোলেই বাংলা একাডেমীর বইমেলা। তবে তারও আগে টিএসসির তোরণে চোখ আটকাবেই। ছোট্ট কিন্তু সৌন্দর্যে ভরপুর তোরণটি জানান দিচ্ছে, টিএসসিতে চলছে চলচ্চিত্র উৎসব। আমার ভাষা, বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব।
সুস্থ চলচ্চিত্র, সুস্থ দর্শক—এই মূলমন্ত্রে এগিয়ে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে তারা আয়োজন করে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব’। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
২২ ফেব্রুয়ারি থেকে টিএসসি মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব ১৪১৭ চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১০টা, দুপুর একটা, বিকেল চারটা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা প্রতিদিন চারটি করে মোট ২৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এই উৎসবে। যার মধ্যে ১৬টি বাংলাদেশের এবং ১২টি ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র।
উৎসবের আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একেকজন একেক বিষয়ে পড়লেও সবার মধ্যেই একটা বিষয়ে প্রচণ্ড মিল। চলচ্চিত্র দেখতে এবং দেখাতে দারুণ পছন্দ করেন তাঁরা। গণযোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমটাকেই তাঁরা তুলে নিতে চান নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের (ডিইউএফএস) সদস্য রুদ্র রায়হান জানালেন, ‘আমরা এখানে শুধু চলচ্চিত্র দেখাচ্ছি না। সবার ভাবনার সলতেটাকে একটু উসকে দিতে চাচ্ছি।’ আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী জয় বললেন, ‘এত দিন ধরে ক্যাম্পাসে আছি। একটা অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব। ফেব্রুয়ারি মাস মানে একুশে ফেব্রুয়ারির নানা আয়োজন। তার মধ্যে এই উৎসবকে একটু আলাদাই লাগে।’
পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মিতু সারা দিন ল্যাবরেটরিতে কাটিয়ে টিএসসিতে এসেছেন চলচ্চিত্র দেখবেন বলে। বললেন, ‘সারা দিন পর সিনেমা দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল। কম্পিউটারে চলচ্চিত্র দেখে এই ভালো লাগাটা কখনোই পাওয়া যায় না।’
টিএসসির প্রাচীরে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন অন্তু, সুষমা, লীনা ও আসিফ। সবাই অপেক্ষা করছেন পরবর্তী প্রদর্শনীর। সঙ্গে আছে বারেক মামার চা। লীনা বললেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি প্রিয় পরিচালকের চলচ্চিত্র দেখব বলে। ডিইউএফএস এ ধরনের উত্সবের আয়োজন না করলে এসব চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ আমাদের হয় না।’
চারুকলার শিক্ষার্থী স্বপ্ন চলচ্চিত্র দেখতে সঙ্গে এনেছেন ছোট ভাই উপলকে। প্রদর্শনী শেষে বের হতেই বললেন, ‘সারা দিন তো বাসায় কার্টুন আর হিন্দি চ্যানেল দেখে। এই সুযোগে ভালো বাংলা চলচ্চিত্র দেখিয়ে নিয়ে গেলাম। বইমেলা থেকে বইও কেনা হলো বেশ কিছু।’ উপল অবশ্য তখনো চিন্তা করছে চলচ্চিত্র নিয়ে, হাতে বাংলা বই। কেমন লেগেছে জিজ্ঞেস করতেই বিজ্ঞের মতো বলল, ‘ভালো। বইমেলায় আগেও এসেছি। তবে এখানে যে সিনেমা হল আছে, জানতাম না।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আফরিন এসেছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। ভেবেছিলেন থ্রি ইডিয়টস, মাই নেম ইজ খান বা ইংরেজি অ্যাকশন ধরনের কোনো ছবি দেখবেন। তাই তো বাংলা ছবি দেখতে শুরুতে ঢুকতেই চাননি টিএসসিতে। কিন্তু ছবি দেখে বের হয়েই তাঁর মনোভাব একদম উল্টো। ‘সে রকম ধুমধাড়াক্কা কিছু নেই, প্রযুক্তির ছড়াছড়িও নেই। তার পরও গল্প, অভিনয়, সংলাপ সব মিলিয়ে দারুণ লাগল। নিজের ভাষার ছবি দেখার মজাই আলাদা।’
আমার ভাষার চলচ্চিত্র ১৪১৬ নিয়ে ডিইউএফএসের সভাপতি নাহাদ উল কাসেম বললেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা আমাদের মতো করে বাংলাতে অনুভব করি। তারই প্রতিফলন এই উৎসবে। সবাইকে ভালো ভালো ছবি দেখাতে পারছি, এটাই আমাদের জন্য বিশাল পাওনা।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া পরিচালক মুরাদ পারভেজ বলেন, ‘আমার ছবি চন্দ্রগ্রহণ প্রদর্শিত হচ্ছে এ উৎসবে। এটা আমার জন্য আরও একটা সম্মান। আমি চাই এ ধরনের উৎসব নিয়মিত হোক। আরও বেশি মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ভালো ভালো বাংলা চলচ্চিত্র দেখুক।’
উৎসবের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি, নারায়ণ ঘোষ মিতার নীল আকাশের নীচে, আবু সাইয়ীদের শঙ্খনাদ, মুরাদ পারভেজের চন্দ্রগ্রহণ, গোলাম রব্বানী বিপ্লবের বৃত্তের বাইরে, এহেতশামের পীচ ঢালা পথ, বেলাল আহমেদের নয়নের আলো, জহির রায়হানের কাচের দেয়াল, আবদুল্লাহ আল মামুনের দুই জীবন, সত্যজিত্ রায়ের নায়ক, ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণ রেখা, গৌতম ঘোষের আবার অরণ্যে, অপর্ণা সেনের পরমা, রাজা সেনের দামু, তরুণ মজুমদারের চাঁদের বাড়ি, অঞ্জন দত্তের চলো, লেটস গো ইত্যাদি।

হরতালের পথে যাবেন না by আব্দুল কাইয়ুম

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এটা গত বুধবারের ঘটনা। এর পরদিনই মুক্তাঙ্গনে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। বিমানবন্দরের নাম বদল ও ‘হামলা-মামলা’র প্রতিবাদে সমাবেশ শেষে বিএনপির মিছিল থেকে একপর্যায়ে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। তারপর পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটা। এর বিরুদ্ধে বিএনপি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা এবং হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়।
কয়েক দিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণমাধ্যম সম্পাদকদের জানিয়েছেন, তাঁরা সংসদেও থাকবেন আবার রাজপথে আন্দোলনও করবেন। বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদের ভেতরে-বাইরে আন্দোলন করবে, এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আন্দোলন মানে কী? যদি ঘন ঘন সমাবেশের নামে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়, মিছিল থেকে বাস ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, তাহলে মানুষ সেটা মেনে নেবে না। প্রতিবাদ করা মানে ভাঙচুর নয়। সাধারণ মানুষের সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। এ ব্যাপারে বিএনপি বা অন্য যেকোনো দলকে সতর্ক থাকতে হবে। আন্দোলনের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার মতো অদূরদর্শী রাজনীতি থেকে বিএনপিকে বিরত থাকতে হবে।
হরতালের ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’। এটা তো কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু অধিকার থাকলেই তা নির্বিচারে ব্যবহার করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। অধিকার থাকা আর অধিকারের প্রয়োগ এক কথা নয়। এ কথা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। বিগত বিএনপি সরকারের সময় যখন আওয়ামী লীগ হরতাল ডাকত, তখন সরকারি দল হিসেবে বিএনপিই বারবার হরতাল না করার কথা বলত। বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশের বেদম লাঠিপেটার দৃশ্যগুলোও এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অধিকার থাকা সত্ত্বেও হরতাল করা যে উচিত নয় সে কথা বিএনপিই ক্ষমতায় থাকার সময় একাধিকবার বলেছে। এখন বিরোধী দলে থাকার কারণে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানো উচিত নয়।
এটা সত্য যে, আমাদের রাজনীতিতে হরতাল নতুন ব্যাপার না। বিশেষত আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় দেশে লাগাতার হরতাল হতো। কিন্তু নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর তো সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। এখনো কেন এত হরতাল করতে হবে? এ ব্যাপারে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিরোধী দলে থাকলেই তারা নির্বিচার হরতাল দিয়ে আসছে। এতে দেশের ক্ষতি তো হচ্ছেই, বিদেশেও আমাদের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সবাই ধরে নিয়েছিল যে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে। অন্তত হিংসা-হানাহানি ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বন্ধ হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। নির্বাচনের পর রাজপথের চেয়ে সংসদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নিজেরাই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়, সংসদ হবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এমনকি তারা এও বলে, ‘ইস্যুভিত্তিক ওয়াকআউট ছাড়া কোনো দল বা জোট সংসদের সেশন বা বৈঠক বর্জন করতে পারবে না। কোনো সংসদ সদস্য সংসদের অনুমোদন ছাড়া ৩০ দিনের অধিক অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ শূন্য হবে।’ নির্বাচনের আগে ছাপার অক্ষরে লেখা কথাগুলো কি এখন কর্পূরের মতো উবে গেল? মাসের পর মাস তারা সংসদ অধিবেশন বর্জন করল। সম্প্রতি অধিবেশনে যোগ দিতে শুরু করলেও প্রায় প্রতিদিনই ওয়াকআউট চলছে। এখন আবার হরতালের হুমকি। তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু কথার কথা? নির্বাচনে বিজয়ী হলেই কেবল সেগুলো কার্যকর হবে, আর পরাজিত হলে প্রতিশ্রুতিগুলো নিজেরাই অমান্য করবে? কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল কি এই মনোভাব নিয়ে চলতে পারে? যারা লিখিত প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে কাজ করে, মানুষ কোন ভরসায় তাদের ওপর আস্থা রাখবে?
বিএনপিতে প্রাজ্ঞ রাজনীতিকের তো অভাব নেই। তাঁরা কেন বোঝেন না, বা দলীয় প্রধানকে বোঝাতে পারেন না যে সংসদই হলো প্রতিবাদের উপযুক্ত স্থান? সেখানে তাঁরা সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করবেন। যত কিছু ঝাল ঝাড়ার, সংসদের ভেতরেই ঝাড়বেন। তাতেও যদি যথেষ্ট মনে না হয়, তাহলে সংসদের বাইরেও প্রতিবাদ করবেন। তবে রাজপথ বন্ধ করা যাবে না।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিবাদের এই সৃশৃঙ্খল ধারাটি খুব ভালো বুঝতেন। সে জন্য তিনি পল্টনের মোড়ে ছোট্ট পার্কটিকে মুক্তাঙ্গন ঘোষণা করেছিলেন। যার যত বিক্ষোভ, সব ওই মাঠে করার ফরমানটি তিনিই জারি করেছিলেন। দুঃখের বিষয়, আজ সেই ছোট্ট পার্কের চত্বরটি ‘ভাড়ায় চালিত গাড়ি’ (রেন্ট-এ কার) রাখার স্থান হিসেবে বেদখল হয়ে গেছে। ফলে এখন মুক্তাঙ্গনের নামে সামনের রাজপথ দখল করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমাবেশ করে। পল্টন মোড়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হয়ে থাকে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। তারপর যখন মিছিল থেকে গাড়ি ভাঙচুর শুরু হয় এবং ছোটাছুটিতে নিরীহ পথচারীকে বাসের নিচে চাপা পড়ে জীবন দিতে হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো এ ধরনের সহিংস রাজনীতি কেন করছে?
প্রয়াত জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত মুক্তাঙ্গনটি সমাবেশের জন্য মুক্ত করার দাবিতে এখন বিএনপির সোচ্চার হওয়া উচিত। সেখানে তারা ‘সংসদের বাইরের’ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। সেটা যদি নিতান্তই ছোট মনে হয়, তাহলে পল্টন ময়দানে যেতে হবে। সেখানে সম্ভব না হলে অন্য কোনো মাঠে যেতে হবে। রাজপথ বন্ধ করে কোনো সমাবেশ না করার ব্যাপারে বিএনপির কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করি। বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা প্রবর্তনে বিএনপি যদি আজ পথপ্রদর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করে, তাহলে দেশের উপকার হবে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ যদি বিরোধী দলে যায়, তাহলে তাদেরকেও সংসদ ও মাঠের সমাবেশে আবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের জন্য ও বিএনপির জন্য সেটি হবে বিরাট এক সুসংবাদ।
রাজনীতিতে একতরফা কিছু হয় না। সবই দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপার। হরতালের পথ থেকে বিএনপিকে বিরত রাখার জন্য সরকারি দল আওয়ামী লীগকেও কিছু দিতে হবে। সংসদে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আমরা এখন এই মর্মে একটি ব্যতিক্রমী আহ্বান আশা করছি। সেটা হবে দলীয় সাংসদদের প্রতি। সংসদে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যের সময় তাদের পিনপতন নীরবতা বজায় রাখতে হবে। দেখা যায়, বিএনপির কেউ আলোচনা শুরু করলেই সরকারি দলের সাংসদেরা টেবিল চাপড়ানো শুরু করেন। এটা বন্ধ করা দরকার। সংসদে বিরোধী দলের কথা শুনতে হবে। রেডিও-বিটিভিতে তাদের কথা উপযুক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতে হবে। আর এ ব্যাপারে মাননীয় স্পিকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। সংসদে বিরোধী দল যেন কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে পরিবেশ নিশ্চিত করবেন স্পিকার।
এখন দেখা দরকার, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে হরতালে ঠেলে না দিতে কতটা আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেন, তাতে তো মনে হয় না তিনি বিরোধী দলকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে ধরে রাখতে চান। বিএনপির বিরুদ্ধে হুলফোটানো কথাগুলো তো অন্তত তাঁর কাছে কেউ আশা করে না। ক্ষমতা গ্রহণের পরপর তিনি বিএনপি সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় যতটা যত্নশীল ছিলেন, এখন আর তিনি সে অবস্থানে নেই। এটা দুঃখজনক যে তিনি বিরোধী দল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে রূঢ় মন্তব্য করেন। আসলে রাজনীতিতে সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায় সরকারি দলকেই বেশি সতর্ক থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কাছে আমরা আরও বেশি উদার মনোভাব কামনা করি।
বাংলাদেশ সম্পর্কে দেশে-বিদেশে যেমন হতাশা আছে, তেমনি আবার সম্ভাবনার কথাও আছে। গত ২৮ অক্টোবর ২০০৯, দি নিউইয়র্ক টাইমস-এ ‘মোর স্কুলস নট ট্রুপস’ (আরও স্কুল, সৈন্য নয়) নামে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। লেখক আমেরিকান সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফ। তিনি সাংবাদিকতায় দুইবার পুলিত্জার পুরস্কার পেয়েছেন। আফগানিস্তানে আমেরিকা আরও সৈন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিলে তার বিরোধিতা করে লেখা নিবন্ধে ক্রিস্টফ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে আমাদের দেশের শিক্ষায় অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, ‘নয়-এগারোর পর পাকিস্তানে মূলত সামরিক খাতে আমেরিকা দেড় হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে, আর বিনিময়ে আজ পাকিস্তান আগের চেয়ে আরও বেশি অস্থিতিশীল। এর বিপরীতে ’৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের অংশ ছিল যে বাংলাদেশ, তারা শিক্ষার ওপর এমনভাবে গুরুত্ব দিয়েছে যে...আজ সেখানে উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি। (অথচ পাকিস্তানের উপজাতি এলাকার নারীদের মাত্র তিন শতাংশ শিক্ষিত)।’ তিনি মন্তব্য করেন, এই শিক্ষার বিস্তার বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের ভিত্তি রচনা করেছে, জন্মহার কমিয়েছে এবং স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। মেয়েরা গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকের মতো এনজিওতে ভূমিকা রাখছে, একে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে যে আল-কায়েদা ভিত্তি গাড়তে পেরেছে এবং বাংলাদেশে পারেনি, এটি তার একটি কারণ, এবং এটা মনে করিয়ে দেয় যে শিক্ষা সমাজের রূপান্তর সাধন করতে পারে।
নিকোলাস ক্রিস্টফের চোখে বাংলাদেশের যেটুকু সাফল্য ধরা পড়েছে, হরতালের রাজনীতিতে তা যেন নষ্ট হয়ে না যায় সেটা বিরোধী দল ও সরকারের দেখা দরকার।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

সাজেকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না by তানভীর মোকাম্মেল

নয়টা গ্রাম পুড়েছে। ৩০০ আদিবাসী পরিবারের দেড় হাজার নারী-পুরুষ-শিশু ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। দুটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে (এর মধ্যে নারীও রয়েছেন), তবে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা সাত বলে আক্রান্ত গ্রামের লোকজন দাবি করেছেন। একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ ছয়জন নিখোঁজ! আরও ভয়াবহ সংবাদ হলো, বেতকাপা থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বটতলী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের সব বাড়িই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেরুদণ্ড দিয়ে এক শিরশিরে অনুভূতি বয়ে যায়। আমরা কি ১৯৭১-এর কোনো ঘটনা শুনছি?
না, এটা ১৯৭১-এর নয়, ২০১০ সালের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অত্যন্ত দুঃখজনক এক ঘটনা। ১৯৭১-এ রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সৈনিকেরা শান্ত বাঙালি গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে সবকিছু ছারখার করে দিত। সেটেলার বাঙালিদের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেভাবে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে আক্রমণ করে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, মানুষ মেরেছে, তাতে একাত্তরের প্রতিচ্ছায়াই সেখানে ফিরে এসেছিল বলে যদি কেউ মনে করেন, তাহলে সেটা কি খুব ভুল হবে?
আর এই ফেব্রুয়ারি মাসে? যখন একটা নিপীড়িত জাতি হিসেবে আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য একদিন আন্দোলন করেছিলাম এবং তার জন্য গর্ববোধ করি। অথচ আজ যখন আমাদের নিজেদের রাষ্ট্র হয়েছে তখন সে রাষ্ট্রশক্তির সবল হাতকে কোনো দুর্বল জাতিসত্তার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবহার করা, এ কী রকম ন্যায়বিচার?
পার্বত্য চট্টগ্রামের সহজ-সরল পাহাড়ি মানুষের প্রতি আমাদের আচরণ কখনোই গর্ব করার মতো ছিল না। ষাটের দশকে কৃত্রিমভাবে কাপ্তাই হ্রদ তৈরি করে প্রায় এক লাখ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে আমরা ভিটেমাটিছাড়া করে সর্বস্বান্ত করেছিলাম। তারপর সমত্তলের প্রায় চার-পাঁচ লাখ বুভুক্ষু বাঙালিকে এনে পাহাড়-জঙ্গলে কৃত্রিমভাবে বসিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের কেবল জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নয়, জঙ্গল ও প্রকৃতির সব বৈষয়িক ও নান্দনিক সম্পদও আমরা ধ্বংস করেছি। অনেক রক্তক্ষয়ের পর জাতি যখন আশা করেছিল যে শান্তিচুক্তির একটি সফল বাস্তবায়ন হতে চলেছে, তখন কার প্ররোচনায় এ রকম একটা নৃশংস ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারল তা গভীরভাবে তদন্ত হওয়ার দরকার। বাঙালি-পাহাড়িদের এই দ্বন্দ্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। পত্রপত্রিকায় যে খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং ঘটনার যে বাস্তবতা, তাতে এমন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক। এ ঘটনার শিকার হয়েছে সেখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে এমন হওয়ার কথা নয়। মেজার ফর মেজার নাটকে শেক্সপিয়র একটা কথা বলেছিলেন, এর অর্থ এ রকম যে, শক্তি থাকা ভালো, কিন্তু এর ব্যবহারটা মঙ্গলজনক নয়। শক্তি থাকলেই কি তা ব্যবহার করতে হবে? শক্তির যথেচ্ছা ব্যবহারের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও না। সেনাবাহিনী বাংলাদেশের জনগণের করের অর্থে চলে, সেনাবাহিনীর এমন কিছু করা কাম্য নয় যে তাদের কোনো কার্যকলাপ এ দেশের জনগণকে বিব্রত করে।
পাহাড়ি-বাঙালি সমস্যা নিয়ে ‘কর্ণফুলীর কান্না’ নামে একটা ছবি বানাতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাকে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল। অনেক সহূদয় পাহাড়ি মানুষের ঘরে আমাকে আশ্রয় নিতে হয়েছে। আজ তাঁদের বিষণ্ন ও করুণ মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমি গভীরভাবে মর্মাহত হচ্ছি, আমার মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বাঙালিরা, যারা আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি, পরমতসহিষ্ণুতা ও নিপীড়িত জাতিগুলোর প্রতি আমাদের সহমর্মিতার জন্য গর্ববোধ করি, সেই আমাদের এ কী মধ্যযুগীয় আচরণ? সংখ্যাধিক্যের বর্বরতার জোরে আমরা কি সংখ্যালঘুদের প্রতি সব ধরনের সংবেদনশীলতাকেই হারিয়ে ফেলছি?
বাঘাইছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে যেসব নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা আমাদের জন্য এক জাতীয় লজ্জা হয়ে রইল। অতীতকে ঈশ্বরও পাল্টাতে পারেন না। তবে প্রকৃত দোষীদের উপযুক্ত শাস্তিটা অবশ্যই হওয়া কাম্য। আর ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কখনোই ঘটতে না পারে সে ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী, উগ্রপন্থী পাহাড়ি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক কমান্ডারসহ সবার কাছ থেকে আমরা আরও অনেক, অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। কারণ, এ ধরনের বর্বর ও দুঃখজনক ঘটনার কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি এ দেশবাসী আর কখনোই দেখতে চায় না। আমাদের যেন কখনোই আর বলতে না হয়—‘এ তোমার, এ আমার পাপ!’
তানভীর মোকাম্মেল: চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রাবন্ধিক।

অপরাধ কন্যাসন্তান জন্মদান -আমরা কোন যুগে বাস করছি

পরিবারের সদস্যের দ্বারা নির্যাতিত নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গত সোমবার পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি আইনে পরিণত হলে পারিবারিক পরিসরে নারীর আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটবে, এমন আশা আমাদের রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল আইন প্রণয়নই যে যথেষ্ট নয়, এর প্রমাণ পাওয়া গেল তৃতীয়বারের মতো কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এক মায়ের করুণ পরিণতির সংবাদে। নারীর প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও সহিংসতার মূলে আছে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মনোভাব। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা না গেলে শুধু আইন দিয়ে এ ধরনের আচরণ ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না।
সামাজিকভাবে লোকজন দিন দিন সচেতন হলেও ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ ও নারীদের উত্ত্যক্তের মতো নানা নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। এখনো কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে প্রাণ দিতে হয় মাকে। বাস্তবে নারীর অসহায়ত্ব যে কতটা ব্যাপক, তা আবারও স্পষ্ট হলো ‘তৃতীয়বারও মেয়ে হওয়ায় মরতে হলো সাহেরাকে’ শীর্ষক সংবাদে। পারিবারিক সহিংসতা আইনের নীতিগত অনুমোদনের খবর যেদিন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সেই মঙ্গলবারের প্রথম আলোতেই প্রকাশিত এই সংবাদটি দেশের সামাজিক পরিস্থিতির একটি দিক তুলে ধরে। যে দেশে এখনো কন্যাশিশু জন্ম দেওয়ার জন্য মাকে জীবন দিতে হয়, সেখানে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষার কাজটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে—এ উপলব্ধি নিয়ে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সাহেরার ওপর নির্যাতন ও তাঁকে হত্যার শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিনিয়ত নানাভাবে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বহু নারীকে। কিন্তু সাহেরাকে যে মানসিকতার বলি হতে হয়েছে, সেই মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে এখনো।
নারীর এই অসহায়ত্ব কোনো ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণীর গণ্ডি মানে না। তাই নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে পুরুষের মানসিকতায় ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রয়োজন শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি। নারী নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো নারীর ক্ষমতায়ন। পরিবারসহ সব জায়গায় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করা হলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ কাজ কঠিন, কিন্তু সবার জন্য একটি মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে এতে আমাদের সফল হতেই হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

খুন এখন এত সস্তা হয়ে গেছে যে মাত্র কয়েক হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে প্রতিপক্ষ যে-কাউকে অনায়াসে মেরে ফেলা যায়। রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নাজুক। সোমবার ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক পোশাকশ্রমিক মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের দিন মোহাম্মদপুর ও মতিঝিল এলাকা থেকে পুলিশ এক শিশু ও এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে। কয়েক দিন আগে খুন হয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা ফারুক হোসেন ও বিএনপির নেতা আহাম্মদ হোসেন। রাজধানীর নাগরিকেরা বিপন্ন বোধ না করে পারেন না, কারণ, সকালে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণটুকু নিয়ে ঘরে ফেরার যে নিশ্চয়তা নেই!
ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে আটটি করে ডাকাতি ও ৩৭টি করে দস্যুতার মামলা হয়েছে। একই সময়ে ২৭টি করে খুন ও ৪৮টি করে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিল। কিন্তু এখন আবার সেই আগের মতো অবস্থা।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন। সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় যে ৩২১টি খুনের মামলা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৭টি খুনের ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহূত হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন, অনেক সন্ত্রাসী এখন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। সীমান্ত থেকে ছোট আকারের অস্ত্র আসছে বলে তাঁরা বলছেন। তাঁদের মতে, অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোনো তত্পরতা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন ওঠে, পুলিশের কাজ কী? আইনশৃঙ্খলার অবনতির মুখে তারা কি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাবে? অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কার্যক্রম কি বন্ধ রাখা হয়েছে? যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে কেন এত অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি? অসুখ ধরা পড়েছে, ওষুধও জানা, তাহলে কেন দেরি? কোনো অবস্থায়ই অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত অপরাধীদের অবাধ বিচরণ চলতে দেওয়া যায় না। পুলিশের কাছে কেউ খুনখারাবির ব্যাখ্যা চায় না, প্রতিকার চায়। তাই অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করা দরকার।
ঢাকা মহানগরে সোয়া এক কোটি মানুষের জন্য আছে মাত্র ২৪ হাজার ৪০৬ জন পুলিশ সদস্য, এর মাত্র অর্ধেক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পুলিশের বাকি সদস্যরা মন্ত্রী-নেতাদের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় ব্যস্ত। এত কম পুলিশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। সরকারের উচিত তথাকথিত ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করে যতটা সম্ভব কাটছাঁট করা এবং পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো।
কিন্তু এটাও দেখতে হবে, যত সংখ্যক পুলিশ রাজধানীর রাস্তায় টহলে থাকে, তারা কতটা দক্ষতা ও মনোযোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করে। কাজে অবহেলার জন্য কয়জন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তি হয়? পুলিশের সামনেই ছিনতাই ও খুনের ঘটনা তো কম নয়।
নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য যা কিছু করা দরকার, তা করতে হবে। এখানে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

লটারি জিতে বেকায়দায়

ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের দক্ষিণাঞ্চলে নাগুইয়েন ভান হেট নামের ৯৭ বছরের এক গরিব বৃদ্ধ লটারিতে চার লাখ ডলার জিতে বেকায়দায় পড়েছেন। লটারি পাওয়ার খবর জানতে পেরে স্বজনেরা ও স্বজন পরিচয়ে আরও অনেকে বৃদ্ধের বাড়িতে ওই অর্থের ভাগ পেতে ভিড় জমায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় থান নিয়েন পত্রিকার খবরে এ কথা জানানো হয়।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে কিছু অর্থ স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। একপর্যায়ে একজন প্রতিবেশী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃদ্ধের বাড়িতে ভিড় করা আত্মীয়স্বজনকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা বেঁচে যাওয়া অর্থ ব্যাংকে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। বৃদ্ধ নাগুইয়েন নতুন চান্দ্রবর্ষের প্রাক্কালে এক লাখ দং (পাঁচ ডলারের কিছু বেশি) দিয়ে একটি লটারির টিকিট কেনেন। তিনি ওই লটারিতে ৭৬০ কোটি দং জেতেন (চার লাখ ডলার)। দেশটির বার্ষিক মাথাপিছু আয় যেখানে এক হাজার ডলার, সেখানে লটারির চার লাখ ডলার অনেক বড় অঙ্কের অর্থ।
সরকারের সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ফাদারল্যান্ড ফ্রন্টের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শুধু জানি, বৃদ্ধ বড় অঙ্কের অর্থ লটারিতে জিতেছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাড়িতে নাগুইয়েন ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী বাস করেন। আমরা পরিস্থিতি শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এরপর টাকা নিয়ে বৃদ্ধ কী করতে চান তা জানতে চাইব। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করায় বৃদ্ধ ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ আর্থিক সুবিধাও পেয়ে আসছেন।’

তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টা অর্ধশতাধিক গ্রেপ্তার

তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে দেশটির সাবেক বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান এবং দুই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৫১ জনকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে গতকাল মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এটি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের গ্রেপ্তারের ঘটনা। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদপ্রার্থী তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির সঙ্গে সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে বিগত বছরে সরকার উৎখাতে কয়েক দফা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে দেশটির সেনাবাহিনী।
তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান ইব্রাহিম ফিরতিনা, নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ওজদেন ওরনেক এবং সাবেক ডেপুটি চিফ অব দ্য জেনারেল এরজিন সায়গুনসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সে দেশের ইংরেজি ভাষার টু ডেজ জামান পত্রিকা গতকাল জানায়, সরকার অভ্যুত্থান পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিয়ো টেলিভিশনের সাংবাদিক হামিদ মীর বলেছেন, বাংলাদেশে ১৯৫২ সালের কৃতকর্মের জন্য পাকিস্তানের লজ্জিত হওয়া এবং বাংলাদেশের ও বাঙালিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় গত রোববার তিনি ব্যক্তিগত এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় রোববার সকালে, হাইকমিশন ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিশুশিল্পীরা একুশের গান পরিবেশন করে। শেষে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আয়োজিত মাতৃভাষা বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানের সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও ইসলামাবাদের রুটস স্কুলের শিশুরা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

‘বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত’

ইরান বিমান হামলা এড়াতে পর্বতের অভ্যন্তরে নতুন দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া ততটা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও আন্তর্জাতিক নেতারা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে ইরান তার আচরণ না বদলালে তাকে কঠোর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রস হুঁশিয়ারি দেওয়ার এক দিন পর গত সোমবার তেহরানের পরমাণুবিষয়ক প্রধান আলী আকবর সালেহি নতুন দুটি পরমাণু কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক গতকাল মঙ্গলবার ইরানের পরমাণু কার্যক্রম প্রতিহত এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। সেখানে তিনি আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শান্তিদূত জর্জ মিশেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাঁচ দিনের ওই সফরে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ইসরায়েলের সামরিক রেডিও গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।
গত সোমবার ইরানের পরমাণুবিষয়ক প্রধান সালেহি বলেন, নতুন দুুটি কেন্দ্রের সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা নাতাঞ্জ শহরের পরমাণু কেন্দ্রের মতো হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন দুটি কেন্দ্রে উন্নততর সেনট্রিফিউজ ব্যবহার করা হবে, যা সুপারসনিক গতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। এ ছাড়া যে কোনো হামলা এড়াতে কেন্দ্র দুটি পর্বতের অভ্যন্তরে তৈরি করা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র গিবস বলেন, ইরানের ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে থাকা চীনও চতুর্থ দফায় অবরোধ আরোপের অনুমোদন দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরান তার অবস্থান থেকে সরে না এলে তাকে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
ইরানের ঘোষণায় ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
দুবাই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
দুবাইয়ে ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসের নেতা মাহমুদ আল মাবুর হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। তারা আরও বলেছে, দুবাই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নজির।
সুন্নি নেতা রিগি গ্রেপ্তার
ইরানে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ ও বহু হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী সুন্নি বিদ্রোহী নেতা আবদুল্লাহ মালেক রিগিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একটি সংবাদ চ্যানেল গতকাল এ খবর জানিয়েছে। তারা বলেছে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে দুই সহযোগীসহ রিগিকে আটক করা হয়। সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে জুনদুল্লাহ নামে রিগির নেতৃত্বাধীন একটি বিদ্রোহী সংগঠন রয়েছে।

ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান বিমান হামলা এড়াতে পর্বতের অভ্যন্তরে নতুন দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া ততটা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও আন্তর্জাতিক নেতারা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে ইরান তার আচরণ না বদলালে তাকে কঠোর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রস হুঁশিয়ারি দেওয়ার এক দিন পর গত সোমবার তেহরানের পরমাণুবিষয়ক প্রধান আলী আকবর সালেহি নতুন দুটি পরমাণু কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক গতকাল মঙ্গলবার ইরানের পরমাণু কার্যক্রম প্রতিহত এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। সেখানে তিনি আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শান্তিদূত জর্জ মিশেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাঁচ দিনের ওই সফরে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ইসরায়েলের সামরিক রেডিও গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।
গত সোমবার ইরানের পরমাণুবিষয়ক প্রধান সালেহি বলেন, নতুন দুুটি কেন্দ্রের সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা নাতাঞ্জ শহরের পরমাণু কেন্দ্রের মতো হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন দুটি কেন্দ্রে উন্নততর সেনট্রিফিউজ ব্যবহার করা হবে, যা সুপারসনিক গতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। এ ছাড়া যে কোনো হামলা এড়াতে কেন্দ্র দুটি পর্বতের অভ্যন্তরে তৈরি করা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র গিবস বলেন, ইরানের ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে থাকা চীনও চতুর্থ দফায় অবরোধ আরোপের অনুমোদন দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরান তার অবস্থান থেকে সরে না এলে তাকে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
ইরানের ঘোষণায় ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
দুবাই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
দুবাইয়ে ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসের নেতা মাহমুদ আল মাবুর হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। তারা আরও বলেছে, দুবাই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নজির।
সুন্নি নেতা রিগি গ্রেপ্তার
ইরানে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ ও বহু হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী সুন্নি বিদ্রোহী নেতা আবদুল্লাহ মালেক রিগিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একটি সংবাদ চ্যানেল গতকাল এ খবর জানিয়েছে। তারা বলেছে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে দুই সহযোগীসহ রিগিকে আটক করা হয়। সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে জুনদুল্লাহ নামে রিগির নেতৃত্বাধীন একটি বিদ্রোহী সংগঠন রয়েছে।

উচ্চ দ্রব্যমূল্য নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের লোকসভা

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন ভারতের লোকসভা উত্তপ্ত করে তোলে দেশের বিরোধী দল। এ অবস্থায় শেষমেশ লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদেরা অভিযোগ করেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এর দায়িত্ব সরকারকে স্বীকার করতে হবে। এ ব্যাপারে বিতর্ক হওয়া জরুরি। বিজেপির এমপিরা চিত্কার-চেঁচামেচির মুখে খোদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান উপেক্ষা করে বিরোধীদলীয় এমপিরা তাঁদের বাক্যবাণ অব্যাহত রাখেন।
কংগ্রেস দলের মুখপাত্র অভিষেক মানু সিংভি বলেন, এ কথা সত্য যে খাদ্যদ্রব্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মুখে স্পিকার মীরা কুমার নিম্নকক্ষের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। একই কারণে উচ্চকক্ষের অধিবেশনও মুলতবি করা হয়।
বিরোধী দলের এমপি জয়া পান্ডা সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীন কংগ্রেস ও এর শরিক বাম দল দেশটির অর্থনীতি সংস্কারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অথচ অর্থনীতি সংস্কার না করা হলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।

পটুয়াখালী শহরে সদর রোডের নতুন বাজারে ব্র্যাক

 ব্যাংক লিমিটেডের একটি শাখা খোলা হয়েছে। এ শাখায় ২৪ ঘণ্টা এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে।
শাখাটির উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মূহায়মেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী বলেন, বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অবস্থিত পটুয়াখালী মত্স্য সম্পদ-সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। সে জন্য এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্রুত বাণিজ্যিক প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংক আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করবে।
মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী আরও বলেন, পটুয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণ করতে ২৪ ঘণ্ট এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এই শাখার কার্যক্রম শুরু করা হলো। ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো সেবা প্রদানে সব সময় প্রস্তুত। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় পটুয়াখালীবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার পাশে ফের লাতিন দেশগুলো

ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে ব্রিটিশ সরকারের তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে আর্জেন্টিনার আপত্তির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ক্যারিবীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার নেতারা। মেক্সিকোর অবকাশযাপন কেন্দ্র প্লায়া দে কারমেনে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলনে গত সোমবার এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিরা এ কথা জানান। লাতিন আমেরিকার ৩২টি দেশ নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্দেশ্যে দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ক্যালদেরনকে উদ্ধৃত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রপ্রধানেরা ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার বৈধ দাবির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’ তবে প্রেসিডেন্ট ক্যালদেরন সরাসরি এ ব্যাপারে কিছু বলেননি।
স্প্যানিশ ভাষায় ফকল্যান্ডের নাম লাস মালভিনাস। এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ১৯৮২ সালে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধ হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মালিকানার বিষয়টির মীমাংসা হয়নি।
এদিকে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ডিজায়ার পেট্রোলিয়াম সোমবার জানিয়েছে, তারা ফকল্যান্ডর উপকূল থেকে ৬০ মাইল উত্তরে তেল অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে। এ জন্য কূপ খনন করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিন এই খননকাজ চলতে পারে।
এ ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ ঘটনায় তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সব দেশেরই শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। ব্রিটেনের নৌযান আটকে রাখার বা সেগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়ার ইচ্ছা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অবরোধের মতো কোনো পন্থায় বিশ্বাসী নই।’
এর আগে এ ঘটনায় সাপ্তাহিক টিভি অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথকে উদ্দেশ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেন, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনাকে ফেরত দিন।’ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রোববার মেক্সিকো পৌঁছে তিনি আবার এ দাবি জানান। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের শ্যাভেজ বলেন, আর্জেন্টিনার সরকার ও জনগণের আপত্তির প্রতি আমরা নিঃশর্তভাবে সমর্থন দিচ্ছি।
সোমবার সম্মেলন চলার সময় কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান উত্তেজনা দুই দেশের প্রেসিডেন্টের আচরণে প্রকাশ পায়। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলভারো ইউরাইভ শাভেজকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মানুষ হও।’ পাল্টা জবাবে শাভেজ বলেন, ‘জাহান্নামে যাও।’ কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে দুই নেতাই পরস্পরের উদ্দেশে বাক্যবাণ ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে শাভেজ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাঁকে থামান।

ভারত-পাকিস্তান বৈঠক কাল

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিকে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আসন্ন পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গসহ সব দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করতে চায় পাকিস্তান।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সংলাপ স্থগিত করে দেয় ভারত। মুম্বাই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামি জঙ্গিদের দায়ী করে আসছে নয়াদিল্লি।
ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তানে তত্পর বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা আবার আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আলোচনায় বসার জন্য বহির্বিশ্বের, বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়। কারণ, দেশ দুটির সীমান্তবর্তী দেশ আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী যুদ্ধে নতুন করে বেশ কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা কে সি সিং বলেন, এটাকে আন্তর্জাতিক চাপ বা বন্ধুত্বপূর্ণ আহ্বান, যা খুশি বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে গঠিত ভারত-পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন তিনি।
পাকিস্তান অবশ্য এ সংলাপ আবার শুরু করতে সহায়তা করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেছেন, আসন্ন পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গসহ সব দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করতে চায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, ভারত যদি সংলাপকে ‘সংকীর্ণ আলোচ্যসূচিতে’ সীমাবদ্ধ রাখে, তাহলে যথেষ্ট অগ্রগতি হবে না। গতকাল মঙ্গলবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক সংলাপ-প্রক্রিয়া নিকট ভবিষ্যতে শুরু হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পাকিস্তান সরকার ঐকান্তিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মতো প্রধান ইস্যুসহ বিরাজমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় পাকিস্তান।
চীনের গবেষণা সংস্থা চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ‘পাকিস্তানস চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আওয়ার রেসপন্স’ শীর্ষক এক বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৪ মাস পর ভারত আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে। সংলাপের জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। আমরা সংলাপ চাই, তবে ওই সংলাপ হতে হবে অর্থপূর্ণ।’
পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংলাপ যাতে অর্থপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়, সে জন্য তাঁরা চান, সব ইস্যুই আলোচনার টেবিলে তোলা হোক। কোরেশি আরও বলেন, ভারত যদি আলোচ্যসূচি সীমাবদ্ধ করে, কিংবা নিজেদের তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সংলাপকে সংকীর্ণ করার চেষ্টা করে, তাহলে যথেষ্ট অগ্রগতি হবে না।

দেশীয় চরমপন্থীদের হুমকিতে অস্ট্রেলিয়া

দেশীয় ধর্মীয় চরমপন্থীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির আশঙ্কায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল মঙ্গলবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সন্ত্রাসবিরোধী হামলার ছক প্রকাশকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড এ কথা বলেন।
এর ফলে বিশ্বের দশটি দেশের নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান কেভিন রাড। তবে কোন কোন দেশকে এ তালিকায় রাখা হয়েছে সেটি জানাননি তিনি।
বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী বিমানে এক নাইজেরীয় ব্যক্তি হামলা চালানোর চেষ্টা করার পরপরই পশ্চিমা দেশগুলোর বিমানবন্দরে বায়োমেট্রিক চেকিং পদ্ধতি চালু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার মোট তেল রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ২০০৯ সালে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
গত সোমবার ভেনেজুয়েলান আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার শুধু তেল রপ্তানির আয় দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ৭১২ কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ভেনেজুয়েলার জাতীয় তেল প্রতিষ্ঠান পেট্রোলস ডি ভেনিজুয়েলার মাধ্যমে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোয় তাদের রপ্তানি ধাপে ধাপে বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশবাদী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বামপন্থী নেতা হুগো শাভেজ।

তবুও চীনকে ভালোবাসি বললেন দালাই লামা

তিব্বতের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা দালাই লামা বলেছেন, তাঁর মাতৃভূমির ওপর বেইজিংয়ের সাংস্কৃতিক ‘দমনপীড়ন’ নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর হূদয়ে চীনের জন্য ভালোবাসা অনুভব করেন। সিএনএনের টক-শো উপস্থাপক ল্যারি কিংয়ের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। গত সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
তবে সাক্ষাৎকারে দালাই লামা এটাও স্বীকার করেন যে কিছু কট্টরপন্থী নির্মম নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করেন, যা তাঁর মনে কষ্ট দেয়।
১৯৫৯ সালে দালাই লামা তিব্বত থেকে পালিয়ে যান। তারপর থেকে তিনি ভারতে বসবাস করছেন। তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে চীনের নানামুখী চেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী জনসমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হন দালাই লামা।
চীনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দালাই লামাকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বৈঠকের প্রতিবাদে বেইজিংয়ে মার্কিন দূতকে ডেকে পাঠায় চীন।
দালাই লামাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে বেইজিং। কিন্তু দালাই লামা বলে আসছেন, তিনি তিব্বতের স্বাধীনতা চান না। চীনা শাসনের ভেতরে থেকে তিব্বতিদের জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন চান তিনি।

ডিক চেনি হাসপাতালে

হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে গত সোমবার সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে হূদযন্ত্রের অসুখে ভুগছেন।
ওয়াশিংটনের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পূর্ণ বিশ্রামে রেখে চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। ডিক চেনির অফিস সূত্র এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এনবিসি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্টের অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে।
বিতর্কিত এই রিপাবলিকান ব্যক্তিত্ব মাসখানেক ধরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তৃতা দিয়ে আসছেন।
এনবিসি টেলিভিশন জানিয়েছে, ৬৯ বছর বয়সী ডিক চেনির এনজিওগ্রাম পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাঁর আরও চিকিৎসা প্রয়োজন।
১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত চেনি চারবার হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০১ সালে তাঁর বুকে পেসমেকার স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালে পেসমেকারের ব্যাটারি বদল এবং এরও পরে পুরো যন্ত্র নতুন করে লাগানো হয়।

ন্যাটো মস্কোর জন্য হুমকি নয়

মতবিরোধ সত্ত্বেও নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনকে (ন্যাটো) আরও বেশি করে সহায়তা দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, এই জোট মস্কোর জন্য মোটেই হুমকি নয়।
একুশ শতকের উপযোগী করে ন্যাটোকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণী এক বক্তৃতায় গত সোমবার শীর্ষ এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, রাশিয়ার নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টিকারীদের মধ্যে ন্যাটো নেই। আমরা ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক চাই, যা ন্যাটো ও রাশিয়াকে আরও কাছাকাছি আনবে।’
রাশিয়ার সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সম্পর্কে হঠাৎ টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব কমিয়ে আনতে কাজ করলেও মস্কোর সন্দেহ এখনো কাটেনি। তারা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও ন্যাটোর কলেবর বৃদ্ধি নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র জর্জিয়া ও ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ায় রাশিয়ার উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
হিলারি ক্লিনটন রাশিয়ার উত্থাপিত একটি নতুন ইউরোপীয় সিকিউরিটি এবং রাশিয়া-ন্যাটো চুক্তির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি গঠনমূলক চিন্তা। তিনি বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তায় বিদ্যমান অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ এবং ন্যাটো-রাশিয়া কাউন্সিলের (এনআরসি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট ছিল। সাংবাদিকদের কাছে হিলারি বলেন, ‘আর যেসব বিষয়ে আমরা সহজে একমত হতে পারব না, সেসব বিষয়ে মুক্ত আলোচনার একটি ফোরাম হিসেবে আমরা এনআরসিকে ব্যবহার করতে চাই।’
জর্জিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দক্ষিণ ওশেতিয়া ও আবখাজিয়ার প্রতি সমর্থন দেওয়ায় ২০০৮ সালের আগস্টে রাশিয়ার সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় জর্জিয়া।
ন্যাটোর সম্প্রসারণকে সমর্থন জানিয়ে হিলারি বলেন, ‘ন্যাটো-রাশিয়া কাউন্সিলকে আমরা পারস্পরিক নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে চাই।’

বেসামরিক আফগানদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ

ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক আফগানদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনীর অধিনায়ক মার্কিন জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল। গতকাল মঙ্গলবার ন্যাটো এ কথা জানায়। এ নিয়ে একই সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ম্যাকক্রিস্টাল। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন সোমবার আফগান অভিযানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এএফপি, রয়টার্স অনলাইন।
এরই মধ্যে গতকাল হেলমান্দ প্রদেশের লস্কর গাহ সাইকেল-বোমা হামলায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছে। হেলমান্দের গভর্নরের কার্যালয়ের মুখপাত্র দাউদ আহমাদি বলেন, লস্কর গাহতে সাইকেলে রাখা একটি বোমার বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছে।
গত রোববার কান্দাহার অভিমুখী তিনটি গাড়িতে ন্যাটোর বিমান হামলায় চার নারী ও এক শিশুসহ কমপক্ষে ৩৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়। ন্যাটো জানিয়েছে, ওই গাড়িগুলোতে চড়ে সশস্ত্র তালেবান জঙ্গিরা বিদেশি সেনাদের ঘাঁটিতে হামালা চালাতে যাচ্ছিল, এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে ওই বিমান হামলা চালানো হয়। জেনারেল ম্যাকক্রিস্টালের দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া বক্তব্য স্থানীয় দারি ও পশতু ভাষায় অনুবাদ করে আফগান টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। এর আগে আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক অভিযান শুরুর পর ন্যাটো বাহিনীর রকেট হামলায় নয়জন সাধারণ আফগান নিহত হয়। ওই ঘটনায়ও দুঃখ প্রকাশ করেন ম্যাকক্রিস্টাল।
এক মিনিটের ওই ভিডিওবার্তায় ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, ‘বিদেশি সেনারা সাধারণ আফগানদের রক্ষায় কাজ করছে। রোববারের ঘটনায় ভুলবশত কয়েকজন সাধারণ আফগান নাগরিক মারা গেছেন। এ জন্য আমি আফগান জনগণ ও তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সাধারণ আফগানদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের কাছে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেও চিঠি দিয়েছেন মার্কিন জেনারেল। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ খবর নিশ্চিত করেন।
এর আগে ওয়াশিংটনে সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সামরিক অভিযান শান্তির পথটাকে আরও বিলম্বিত করছে। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন ও ন্যাটোর কমান্ডারদের বরাত দিয়ে গেটস সাংবাদিকদের বলেন, ‘যতটা আশা করা হয়েছিল, অভিযানের গতি এর চেয়ে ধীর হলেও আমি এমন কিছু দেখছি না, যা ভবিষ্যত্ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।’
বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় হামিদ কারজাইয়ের কাছে টেলিফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব রাসমুসেন। পাশাপাশি তিনি আফগান অভিযানের পক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে বলেন, ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
ম্যাকক্রিস্টালের দুঃখ প্রকাশের এই ক্ষণে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছায়। ইনডিপেনডেন্ট আইক্যাজুয়ালিটি ডট অর্গ নামের একটি ওয়েবসাইট এ সংখ্যা জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাবে, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬৬১ জন বিদেশি সেনার মৃত্যু হয়েছে।

নিউইয়র্কে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল নাজিবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ভয়াবহ বোমা হামলা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন আল-কায়েদা জঙ্গি নাজিবুল্লাহ জাজি। নিউইয়র্ক নগরের পাতালরেলে গত সেপ্টেম্বরে বোমা হামলার প্রস্তুতি ছিল তাঁর। আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারির প্রতিবাদে তিনি ওই আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা চালাতে চেয়েছিলেন।
ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে গত সোমবার স্বেচ্ছা জবানবন্দি দিয়েছেন নাজিবুল্লাহ জাজি (২৫)। বিচারক রেমন্ড ডিয়ারির আদালতে দাঁড়িয়ে জঙ্গি নাজিবুল্লাহ তাঁর হামলা পরিকল্পনার বর্ণনা দেন। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে সরকারপক্ষের সঙ্গে বিচারিক সমঝোতা অনুযায়ী নাজিবুল্লাহ ওই জবানবন্দি দিলেন।
আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান নাজিবুল্লাহ। একসময় নিউইয়র্কে বসবাস করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে নাজিবুল্লাহর পরিবার কলোরাডো নগরের ডেনভার শহরে স্থানান্তরিত হয়। তিনি বিমানবন্দরের বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগেও নিউইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের কাছাকাছি তৈরি খাবার বিক্রি করতেন। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাজিবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। বোমা তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে এ সময় তিনি নিউইয়র্ক আসার পথে তল্লাশির মুখোমুখি হন। পুলিশের নজরদারি টের পেয়ে বোমা তৈরির আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেন। হামলা পরিকল্পনা নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেন সহযোগীদের সঙ্গে।
নাজিবুল্লাহকে গ্রেপ্তারের জের ধরে পুলিশ একজন মসজিদের ইমামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর নাজিবুল্লাহ কোনো জঙ্গিবাদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রথম দফা অস্বীকার করলেন। মার্কিন গোয়েন্দাদের ব্যাপক তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ানক সব তথ্য। নাজিবুল্লাহর জঙ্গি পরিকল্পনার দায়ে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও আইনের খড়্গ নেমে আসে। একপর্যায়ে নাজিবুল্লাহ স্বেচ্ছা জবানবন্দি দিয়ে সরকার পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় সম্মত হন।
গত সোমবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নাজিবুল্লাহ বলেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য ২০০৮ সালে তিনি পাকিস্তান সফর করেন। তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার লক্ষ্য ছিল তাঁর। পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্রেই আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ঘটে। আল-কায়েদার পক্ষ থেকে তাঁকে জেহাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাজারে সহজলভ্য রাসায়নিক দ্রব্য সংগ্রহ করে শক্তিশালী বোমা তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি। এ সংক্রান্ত তথ্য তাঁর কম্পিউটারে পাওয়া গেছে। নাজিবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসব রাসায়নিক দ্রব্য সংগ্রহ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করেন।
নাজিবুল্লাহর গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর জের ধরে আরও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সরকারি মহল থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। আদালতে দাঁড়িয়ে নাজিবুল্লাহ অবলীলায় স্বীকার করেন, আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে নিজের জীবন উত্সর্গ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘১১ সেপ্টেম্বরের’ ঘটনার পর নাজিবুল্লাহর হামলা পরিকল্পনাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বিত তত্পরতায় এ হামলাটি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। নাজিবুল্লাহর জঙ্গি পরিকল্পনাটি ছিল একটি সত্যিকারের পরিকল্পনা, যার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারত।
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেছেন, নাজিবুল্লাহর জঙ্গি হামলা পরিকল্পনা কোনো হালকা বিষয় ছিল না। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর নাজিবুল্লাহর আইনজীবী উইলিয়াম স্টেমপার বলেছেন, জবানবন্দিতেই মামলার বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে। জবানবন্দি অনুযায়ী আগামী জুন মাসে নাজিবুল্লাহর দণ্ড ঘোষণা করবেন আদালত। চূড়ান্ত দণ্ডে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

নাঃগঞ্জে ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন আগামীকাল

দেশে সুতা ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
এই সমিতির নির্বাচন ঘিরে দেশে রং ও সুতা ব্যবসার বৃহত্তম কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের টানবাজার মুখর হয়ে উঠেছে।
এবারের নির্বাচনে সাধারণ গ্রুপে ১২টি সদস্যপদের বিপরীতে ২৪ জন ও সহযোগী গ্রুপে ছয়টি পদের জন্য সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ গ্রুপে দুটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
সমিতির নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। এবারে সাধারণ গ্রুপে ৫৭৮ জন ও সহযোগী গ্রুপে ১৪৫ জন ভোটার হয়েছেন।
সাধারণ গ্রুপের ১২ জন ও সহযোগী গ্রুপে ছয়জন সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচন করবেন।
সাধারণ গ্রুপে একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি এম সোলায়মান। তাঁর প্যানেলের নাম সম্মিলিত সুতা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ। অন্য প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সভাপতি ও শহর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। এ প্যানেলের নাম ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ।
সম্মিলিত সুতা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের অন্য প্রার্থীরা হলেন জিয়াউর রহমান, ইসমাইল হোসেন, সেলিম রেজা, আবদুল্লাহ আল নোমান, জীবন চন্দ্র সাহা, মিন্টু চন্দ্র সাহা, সুব্রত পোদ্দার, শফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, স্বরজ কুমার সাহা ও সিরাজুল ইসলাম।
ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রাম রতন সাহা, বিকাশ চন্দ্র রায়, অশোক কুমার সাহা, লিটন সাহা, ফারুক হোসেন, নাসির আহমেদ, গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, এম এ খালেক, শিব শংকর তালুকদার, সোনা মিয়া ও মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।
সহযোগী গ্রুপের ছয়টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্যানেল নির্বাচন করছে। এ প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন ননীগোপাল সাহা, আবুল হোসেন, উত্তম কুমার সাহা, খায়রুল কবির ও জামান মিয়া। এ গ্রুপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আয়নাল হক।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহার নেতৃত্বে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা চালু

পটুয়াখালী শহরে সদর রোডের নতুন বাজারে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের একটি শাখা খোলা হয়েছে। এ শাখায় ২৪ ঘণ্টা এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে।
শাখাটির উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মূহায়মেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী বলেন, বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অবস্থিত পটুয়াখালী মত্স্য সম্পদ-সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। সে জন্য এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্রুত বাণিজ্যিক প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংক আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করবে।
মোহাম্মদ এ. (রুমি) আলী আরও বলেন, পটুয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণ করতে ২৪ ঘণ্ট এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এই শাখার কার্যক্রম শুরু করা হলো। ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো সেবা প্রদানে সব সময় প্রস্তুত। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় পটুয়াখালীবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশে ভিসা প্লাটিনাম কার্ড আনল ইবিএল

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক সুবিধাসংবলিত ভিসা প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড হলো আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড—ভিসার বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ডের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড।
ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রেজা ইফতেখার গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কার্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ এবং হেড অব কার্ডস নাজিম আনোয়ার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ইবিএল ভিসা প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুবিধা দিচ্ছে। এই কার্ডধারীরা পৃথিবীর ১০০ দেশের ৬০০টি বিমানবন্দরে ফি প্রদান সাপেক্ষে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন এবং বিশ্বের সাড়ে তিন হাজারের বেশি হোটেলে মূল্যহ্রাস সুবিধা ভোগ করবেন।
ইবিএল ভিসা প্লাটিনাম কার্ডে সব লেনদেনের ওপর সুদের হার মাসিক দুই দশমিক ১৭ শতাংশ। এ কার্ডধারীরা দেশে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা সুবিধাসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভিসার আন্তর্জাতিক গ্রাহক সুবিধা কেন্দ্রের সহযোগিতা পাবেন।
ইবিএল ভিসা প্লাটিনাম কার্ডসংক্রান্ত বিশদ তথ্য www.visaplatinum.com এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

পণ্য পরিবহনের ট্রাক খাতে প্রতিযোগিতার অভাব আছে

দেশে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক খাত এবং ভোজ্যতেল খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অভাব রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ দুটি খাতে নতুন প্রতিযোগীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে রাখা হয়েছে।
এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে রপ্তানি ও আমদানি পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রপ্তানি পণ্য প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি থাকছে।
এ অবস্থায় রপ্তানি-সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার কার্যকর করতে এসব খাতের প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো: ভোজ্যতেল ও ট্রাক (পরিবহন) খাতের ওপর সমীক্ষা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বিনিয়োগ পরিবেশবিষয়ক তহবিল বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ফান্ডের (বিআইসিএফ) সহযোগিতায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। বিআইসিএফের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দ আখতার মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
সেমিনারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো পরিচালিত যথাক্রমে ট্রাক খাত ও ভোজ্যতেল খাতের ওপর দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
উন্নয়ন সমন্বয় পরিচালিত গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রায়হান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর গবেষণাটি উপস্থান করেন একই বিভাগের অধ্যাপক এম এ তসলিম।
সেলিম রায়হান তাঁর গবেষণায় দেখান, বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পরিবহনে ট্রাক খাত একটি অপরিহার্য বিষয়। একই সঙ্গে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে এ খাতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাঁর মতে, এ খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নেই।
এতে বলা হয়, নতুন ট্রাকমালিকেরা এ খাতে প্রবেশ করতে গেলে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। অবশ্য বিভিন্ন রুটে এ প্রতিযোগিতার ধরন ভিন্ন। এ ছাড়া এ খাতে চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। দেশের চারটি প্রধান রুটের ট্রাকমালিকদের সমিতি ও পরিবহন ব্যবহারকারীদের ওপর ২০০৮ সালে চালানো এক জরিপের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশে প্রতি টন পণ্য পরিবহনে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হয় দুই টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ছয় টাকার মতো, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। গবেষণার এ তথ্য তুলে ধরে সেলিম রায়হান বলেন, ‘এর ফলে রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে। রেল ও নৌপথে পণ্য পরিবহন এর চেয়ে সস্তা হলেও পরিবহন ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির কারণে সড়কপথে ট্রাককেই বেশি পছন্দ করেন।’
এ জন্য ক্ষুদ্র ট্রাকমালিকদের ঋণসুবিধাসহ নীতিগত সহায়তা দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এম এ তসলিমের গবেষণায় দেখানো হয়, ভোজ্যতেলের বাজার অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করেন। ভোজ্যতেলের স্থানীয় বাজারমূল্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সম্পর্কও রয়েছে। কিন্তু এ থেকে প্রমাণিত হয় না যে, ভোজ্যতেল আমদানিকারকেরা জোট বেঁধে বা সিন্ডিকেট করে মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রকৃতপক্ষে, তেলের বাজারে সিন্ডিকেটের ভূমিকা স্পষ্ট নয়।
তসলিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম বাড়ে। তবে কমলে সেই অনুপাতে কমে না। এর একটা বড় কারণ হতে পারে মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা। তা ছাড়া আগের ক্রয়মূল্য ও বিক্রেতাদের সুবিধাবাদও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি প্রতিযোগিতা আইন চালু ও তা প্রয়োগের ওপর জোর দেন।
তবে সেমিনারে উপস্থিত বেশির ভাগ বক্তাই সিন্ডিকেটের অনুপস্থিতির ব্যাপারে এম এ তসলিমের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাঁরা বলেন, পরিশোধনাগার রয়েছে এমন মাত্র নয়জন আমদানিকারক তেল আমদানি করে থাকেন। ফলে এখানে সিন্ডিকেটের বড় ধরনের সুযোগ রয়ে গেছে। এ ছাড়া সরবরাহ আদেশ (ডিও) নিয়েও বড় ধরনের কারসাজি হয়।
এর আগে সেলিম রায়হানের গবেষণার সূত্র ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি রয়েছে এটা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার জানার আগ্রহ চাঁদাবাজির কারণে পণ্যমূল্যে কতটুকু প্রভাব পড়ছে। এটা যদি বোঝা যায় তাহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু গবেষণায় সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। একইভাবে ট্রাকমালিকদের ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা হয়, সেটিও উল্লেখ করা হয়নি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মোট কতগুলো ট্রাক রয়েছে, আরও কত ট্রাক দরকার, সে ব্যাপারেও গবেষণায় কিছু বলা হয়নি।

প্রবৃদ্ধি ৫.৮ শতাংশের বেশি হবে না

বিনিয়োগ বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং সুশাসন অর্জন—এই পাঁচটি এখন দেশের অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে বিশ্বমন্দায় শুধু রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বলা হয়ে থাকে। এতে সমাজের ওপর কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে, তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি।
এই বাস্তবতায় চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ শতাংশ ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) যৌথ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব পর্যালোচনা ও অভিমত প্রকাশ পেয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি এসব চ্যালেঞ্জের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে।
বাজারে চালের দাম অহেতুক বাড়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা সিন্ডিকেটের (মুষ্টিমেয় লোক) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সরবরাহের অভাব না থাকা সত্ত্বেও বাজারে সব ধরনের চালের দাম বাড়ছে, যার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী ও গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান এতে যৌথভাবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হক ছিলেন সেমিনারের সঞ্চালক।
প্রবন্ধের সারকথা: মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্বমন্দা, ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার আঘাতের প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট—এসব বিবেচনায় চলতি অর্থবছরটি অন্য সব বারের তুলনায় একটু আলাদা। পাশাপাশি রয়েছে বিনিয়োগে মন্দা, রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা, বড় আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইত্যাদি।
এতে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি খারাপ। জ্বালানি-সংকট এর অন্যতম কারণ। তবে ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগটি ভালো।
এতে বলা হয়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এ অঞ্চলের কোনো উন্নতিই হচ্ছে না। বিআইডিএস পরিচালিত এক জরিপের ফল উদ্ধৃত করে বলা হয়, এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে।
প্রবন্ধে তিনটি বিষয়কে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—প্রথমত, বিশ্বমন্দার কারণে অসুবিধা তৈরির পাশাপাশি যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগানো যাচ্ছে কি না, তা জানা। দ্বিতীয়ত, যদি সুযোগ কাজে লাগানো হয়, তাহলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে কীভাবে যাওয়া যায়, তা জানা।
চালের ৫৫ শতাংশ বোরো থেকে পাওয়া গেলেও এবার বোরোর পরিবর্তে আমনের ওপর নির্ভর করতে হবে বলে মূল প্রবন্ধে আশঙ্কা করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সামনে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ, যা সইতে হলে মুদ্রানীতি ও এর বাইরের অন্য নীতিগুলো জনকল্যাণমুখী হওয়া দরকার।
আলোচনা: বিআইডিএস চিহ্নিত পাঁচ চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকেও আরেকটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় এবং অধিক পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহের পরামর্শও চান।
কৃষিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেচের পানির জন্য বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ কৃষক বলছেন, ভর্তুকির দরকার নেই। কৃষিমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের সঙ্গে জ্বালানির সম্পর্ক রয়েছে। তবে সংকট থেকে মুক্তি পেতে দরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি। আয়বৈষম্য বাড়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির দিকে নজর দিলেই এ থেকে খানিকটা উত্তরণ সম্ভব।
ব্যাপক দুঃশাসন থাকা সত্ত্বেও দেশটি দেউলিয়া হয়ে যায়নি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানের ২৪ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য দরকার ৯৫০ কোটি ডলার।
মশিউর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি শুধু দেশীয় কারণ অর্থাৎ সরকারের ত্রুটির জন্যই হয় না। আন্তর্জাতিক বাজারে সার ও তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। এ জন্য সরকারকে দোষারোপ করা হলে নীতিনির্ধারণে প্রভাব পড়ে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, অতি দরিদ্রদের বিনা মূল্যে খাদ্য বিতরণের প্রতি জোর দিয়ে বিআইডিএসের এযাবৎকালের সুপারিশ বা পরামর্শগুলো কতটা সত্য হয়েছে, তার একটি মূল্যায়ন করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
ফারুক খান বলেন, মন্দার মধ্যে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে রপ্তানি খাতকে সহযোগিতা করা হয়েছে। রপ্তানির বাজারের জন্য নতুন নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতি কেমন—বর্তমানে তা নির্ধারিত হয় অর্থনীতির মাধ্যমে। তাই অর্থনীতি ভালো রাখার জন্য কাজ করে যাবে সরকার।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির নানা দিক তুলে ধরা হলেও মূল প্রবন্ধে উপেক্ষা করা হয়েছে ব্যাংকিং খাতকে। সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা আনা দরকার।
সাইদুজ্জামান আরও বলেন, ‘সরকার প্রায়ই বলে থাকে যে, ব্যাংকের সেবা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। আদতেই কাজটা জরুরি। তবে তার আগে তদারক ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার।’ এ জন্য ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকের মতো বেসরকারি সংস্থা থেকে শিক্ষণীয় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান, এম হাফিজউদ্দিন খান, বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক শহিদুল হক, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশে সিডান গাড়ি সংযোজনের প্রস্তাব দিল জাপানের মিৎসুবিশি

জাপানের মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশন বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাদের সিডান গাড়ি সংযোজনের (অ্যাসেম্বলিং) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ছাড়া জাপানি কোম্পানিটি বাংলাদেশে মোটরগাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপনেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
বাংলাদেশে সফররত মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশনের এশিয়া অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক কাজুহিদি ওগাতার নেতৃত্বে কোম্পানিটির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বৈঠককালে যৌথভাবে মোটরগাড়ি সংযোজনের এ প্রস্তাব দেন। খবর তথ্য বিবরণীর।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসেন, অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার চেয়ারম্যান আবু হাফিজ, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী ও মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশনের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসাসি সিচিদা উপস্থিত ছিলেন।
এ বৈঠকে মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মিত্সুবিশি মডেলের সিডান গাড়ি ল্যান্সার ইএক্স ও পাজেরো স্পোর্টস জিপ সংযোজনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিডান গাড়ি সংযোজনের বিষয়ে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ভবিষ্যতে মিৎসুবিশি মোটরস করপোরেশনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

আফ্রিদির আকুতি, এবার ক্ষান্তি দিন!

ভুল করেছেন। ক্ষমাও চেয়েছেন। তার পরও বল বিকৃত করার দায়ে থেকে থেকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হচ্ছে তাঁকে। সমালোচকদের কাছে তাই শহীদ আফ্রিদির আকুল আবেদন—এবার ক্ষান্তি দিন।
ক্ষান্তি দেওয়া কি উচিত নয় সমালোচকদের? একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দায় নিয়ে টাইগার উডস যদি ক্ষমা চেয়ে আবার গলফে ফিরতে পারেন, তাহলে তাঁরও ক্ষমা পাওয়া উচিত। এমনটাই মনে করেন আফ্রিদি, ‘টাইগার উডসের দিকে দেখুন, তিনি ভুল করেছেন, সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন এবং এই অধ্যায়টা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে।’ কিন্তু তাঁর বল টেম্পারিং অধ্যায় শেষ না হওয়ার জন্য আফ্রিদি দুষছেন তাঁর সমালোচকদের, ‘কিছু লোক যারা আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চায়, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় ক্যারিয়ার, তারাই বল টেম্পারিংয়ের ঘটনাটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে তুলেছে।’
অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বলে কামড়েছিলেন আফ্রিদি। এই ঘটনার পর দেশে এবং দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। আজীবন যাকে আদর্শ হিসেবে মেনে এসেছেন আফ্রিদি, সেই ইমরান খানও ঘটনার পর বলেছেন, ‘বল টেম্পারিংয়ের ইতিহাস অনেক পুরোনো। তবে আফ্রিদি সীমা লঙ্ঘন করেছে।’ আফ্রিদি অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ম্যাচের সময় বলে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে আমি বড় একটা ভুল করেছি। কিন্তু এটাও সত্যি আমি ভুল স্বীকার করেছি এবং ম্যাচ রেফারির দেওয়া দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মাথা পেতে নিয়েছি।’ এখানেই ঘটনাটার শেষ হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘আমার বিপক্ষে আইসিসির ম্যাচ অফিসিয়ালদের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরপরই এটি শেষ হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করি আমি। কিন্তু কেউ কেউ ব্যাপারটিকে এখনো খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করছে যেন আমি বড় অপরাধ করে ফেলেছি এবং দেশকে কলঙ্কিত করেছি। আমি আগেও বলেছি, অতীতে এমনটা করেও পার পেয়ে গেছে কেউ কেউ।’
আফ্রিদির ওই কাণ্ডের আগে দুটি টেস্টসহ টানা চারটি ওয়ানডে ম্যাচে হারে পাকিস্তান। আফ্রিদি মনে করেন একটা হতাশাই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় ওই ঘটনার দিকে। তা ঘটুক, তবে ওই ‘ঘটনা’র পরও আফ্রিদিকে সব ফরম্যাটের ক্রিকেটেই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক করার সুপারিশ করেছেন কিংবদন্তি বোলার ওয়াসিম আকরাম। আর সতীর্থ শোয়েব মালিক, যার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে পাকিস্তান, বলছেন, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের জন্য আফ্রিদিই যোগ্যতম ব্যক্তি।

আজও নাটক গোয়ালিয়রে

এখন পর্যন্ত ২৯৬১টি ওয়ানডে হয়েছে। প্রায় হাজার তিনেক ওয়ানডের মধ্যে জয়পুরের গত ম্যাচটার মতো রোমাঞ্চ দেখেছে মাত্র ২৪টি ম্যাচ। আজও কি এমন নখ কামড়ানো উত্তেজনায় ঠাসা কোনো ম্যাচ উপহার দিতে চলেছে গোয়ালিয়র?
এই প্রশ্নের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো খুঁজে ফিরছে গত ম্যাচে রেখে যাওয়া বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর। ওই ম্যাচে ২০টি অতিরিক্ত রান দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৩টি ওয়াইড। শুধু ১৩টি রানই আসেনি, অতিরিক্ত আরও দু ওভার বলও করতে হয়েছে। মাত্র এক রানে হেরে যাওয়া বলে এসব এখন বেশি করে পোড়াচ্ছে তাদের। প্রশ্ন আছে শেষ মুহূর্তে বাউন্ডারি লাইনে ঝাঁপিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের পড়ে চার বাঁচানো নিয়েও।
একটা রানের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার এমন আক্ষেপের কারণ তিন ম্যাচের সিরিজ বলে আজ জিততেই হবে তাদের। হেরে গেলে র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর জায়গাটি থেকে যাবে ভারতের কাছে। আইসিসি ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপের জন্য বরাদ্দ ৭৫ হাজার ডলারও ঢুকবে পকেটে।
সিরিজে ফিরে আসার এই লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফিরিয়ে আনতে চায় হাশিম আমলাকে। টেস্ট সিরিজে রানের ফোয়ারা ছোটানো এই ব্যাটসম্যানকে দলে জায়গা দিতে তাই বাদ পড়তে পারেন লুটস বসম্যান। আবার গত ম্যাচে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটিও এনে দিয়েছিলেন বসম্যান-গিবস। সেই জুটি না ভেঙে আমলাকে দলে নেওয়া যায় কি না—এই ভাবনাও আছে তাদের পরিকল্পনায়। সে ক্ষেত্রে আমলাকে জায়গা দিতে বাদ পড়তে পারেন অ্যালবি মরকেল।
ভারতও একটা পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। একটি মেডেন ওভার করার পরও ৯ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে ফেলা শ্রীশান্তকে বসিয়ে সুদীপ তিয়াগিকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখতে চায় তারা। এমনিতে গোয়ালিয়রের মাঠ ভারতের জন্য খুবই পয়মন্ত। এখানে খেলা ৯টি ওয়ানডের সাতটিই জিতেছে তারা। এর মধ্যে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ওয়ানডেতে ৩৮ রানের জয়ও।

শেষের দিন গুনতে শুরু করেছেন রোনালদো

মাত্র এক বছর। এরপর আর মাঠের সবুজে খুঁজে পাওয়া যাবে না বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রোনালদোকে। আগামী বছরের ডিসেম্বরে বুট জোড়া তুলে রাখবেন বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
বছর দেড়েক ধরেই ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভেবে আসছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৫ গোল)। কিন্তু বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার ও এসি মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার ফুটবল ছাড়েননি। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নটাই হয়তো করিন্থিয়ানসের জার্সি গায়ে এখনো তাঁর মাঠে নামার প্রেরণা। রোনালদো ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বকাপ প্রসঙ্গটা উঠেছেও। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্রাজিলের হয়ে ৯৭ ম্যাচে ৬২ গোল করা রোনালদো বলেছেন, ‘দেখি কী হয়। এবারের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা এখনো আছে আমার। কিন্তু ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব।’
আরেকটা বিশ্বকাপ খেলা ছাড়াও একটা স্বপ্ন আছে ক্লাব ফুটবলে দুশর বেশি গোল করা স্ট্রাইকারের। করিন্থিয়ানসের হয়ে একটা শিরোপা জিততে চান। সেটা কোপা লিবার্তোদোরেস কাপ। আর এ জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে চান ‘দ্য ফেনোমেনোন’, ‘আমি করিন্থিয়ানসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ দু বছর বাড়িয়েছি। আর নয়, এখানেই ক্যারিয়ারের ইতি টানব। আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চাই এবং ক্যারিয়ারটা বড় কিছু অর্জন দিয়েই শেষ করতে চাই।’

স্টিভ ওয়াহর আরেক কীর্তি ছুঁলেন পন্টিং

সেই দলে ছিলেন দুই ওয়াহ, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্নরা। এক পন্টিং ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এই দলে সেই অর্থে কোনো গ্রেট নেই। তার পরও পূর্বসূরিদের অসাধারণ এক কীর্তি ছুঁল অস্ট্রেলিয়া, পুরো গ্রীষ্মেই অপরাজিত! ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্মের পর যে কীর্তি তারা গড়তে পেরেছিল এর আগে কেবল ২০০০-০১ মৌসুমেই। ওই গ্রীষ্মে স্টিভ ওয়াহর দলের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। সেবার অনিশ্চয়তায় ভরা খেলার সবচেয়ে অনিশ্চিত সংস্করণ টি-টোয়েন্টিও ছিল না, পন্টিংয়ের দলের কৃতিত্ব তাই একটু বেশিই বলা যায়।
কালকের ম্যাচটা ছিল ওয়ার্নার ও ওয়াটসনের। ১৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে কেমার রোচের প্রথম ওভারেই ২৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া, তিন ছক্কা এক চারে ৪ বলে ২২ ওয়ার্নার। একপর্যায়ে ওয়ার্নার ৯ বলে ৩৯, যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে ফিফটির রেকর্ড ভাঙা তখন খুবই সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। লেগেছে আরও নয় বল, তবে ১৮ বলে ফিফটিও টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় দ্রুততম। আউট হয়েছেন ২৯ বলে পাঁচ চার ও সাত ছয়ে ৬৯ রান করে। কম যাননি ওয়াটসনও, ৩৩ বলে ৬২ রান করে অপরাজিত, চার-ছয় সমান চারটি করে।
ক্রিস গেইলের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিল অব্যাহত ছিল এ ম্যাচেও। শেষ পর্যন্ত রানটা মোটামুটি একটু ভদ্রস্থ চেহারা পায় শেষ ৩.৩ ওভারে দিওনারায়ণ-স্যামির ৪০ রানের জুটিতে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৩৮/৭ (দিওনারায়ণ ৩৬*, ডাওলিন ৩১, স্যামি ২৬*। হ্যারিস ২/২৭, ক্রিস্টিয়ান ২/২৯, ওয়াটসন ১/১৫, টেইট ১/২৭)। অস্ট্রেলিয়া: ১১.৪ ওভারে ১৪২/২ (ওয়ার্নার ৬৭, ওয়াটসন ৬২*। মিলার ২/৫৬)।

ইউসেবিওকে প্লাতিনির সম্মাননা

দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিলটা হলো, তাঁরা কখনোই বিশ্বকাপ না-জেতা সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। পর্তুগালের সর্বকালের অবিসংবাদিত সেরা খেলোয়াড় ইউসেবিওর হাতে ‘উয়েফা সভাপতি পদক’ তুলে দিলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। কাল লিসবনে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগের বেনফিকা বনাম হার্থা বার্লিন ম্যাচের আগে উয়েফা সভাপতি প্লাতিনি এই পুরস্কার তুলে দেন ৬৮ বছর বয়সী ইউসেবিওর হাতে।
এই বেনফিকার হয়েই ১৯৬০ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত কত কীর্তি তাঁর। ১১ বার জিতেছেন লিগ শিরোপা। দুবার ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগ)। পর্তুগালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ সাফল্য তৃতীয় স্থান এসেছে তাঁরই হাত ধরে। ১৯৬৬-এর ওই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ইউসেবিওই। ১৯৭৮ সালে অবসর নেওয়ার সময় পেছনে রেখে এসেছেন বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার। ৭২৭ ম্যাচে ৭১৫ গোল!
ইউসেবিওকে উয়েফা প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড দিতে পেরে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটিই যে গর্বিত, সেটি জানাতে ভোলেননি প্লাতিনি, ‘ইউসেবিওকে এই পুরস্কারটি দিতে পারা আমার জন্য বিরাট পাওয়া। সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার, ফুটবলের দূত। এই খেলাটির জন্য তিনি বড় মাপের এক ব্যক্তিত্ব। মূল্যবোধ, আত্মনিবেদন, সততার সঙ্গে খেলা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান—ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই গুণগুলো ছিল তাঁর। মাঠে এবং মাঠের বাইরেও। আগামী প্রজন্মের জন্য তাই তিনি অনন্য আদর্শ।’
ইউসেবিওর মতোই বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার সান্ত্বনা নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করা প্লাতিনি ২০০৭ সালে উয়েফা সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো এবং গত বছর ববি চার্লটন পেয়েছিলেন উয়েফা সভাপতির এই বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার।

ঢাকায় লন্ডন টাইগার্স

প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে ঢাকায় এসেছে লন্ডনভিত্তিক আধা পেশাদার ফুটবল ক্লাব লন্ডন টাইগার্স। বাংলাদেশে তারা ৪টি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ খেলবে। বাঙালি ও বিদেশিদের নিয়ে গড়া এই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা অবশ্য ঢাকা আসেননি।
আজ তারা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডানের বিপক্ষে খেলবে প্রথম ম্যাচ। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়ামে শুকতারা যুব সংসদের বিপক্ষে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের বিয়ানীবাজারের এবং ৩ মার্চ গাজীপুর স্টেডিয়ামে গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলো খেলবে লন্ডন টাইগার্স।

দৌড়ে এগিয়ে ওয়াকার

চূড়ান্ত ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি ছিলেন দলের ফিল্ডিং ও বোলিং কোচ। ফিল্ডিংটা জঘন্য হলেও অস্ট্রেলিয়ায় বোলিংয়ে খারাপ করেনি পাকিস্তান। এর পুরস্কারও হয়তো পেয়ে যাচ্ছেন ওয়াকার ইউনুস। পাকিস্তানের মূল কোচের দায়িত্বটা সম্ভবত পেয়ে যাচ্ছেন সাবেক ফাস্ট বোলার। সিদ্ধান্তটা নাকি হয়েই গেছে, চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে এ সপ্তাহেই।
শোনা যাচ্ছে, ওয়াকারকে মূল কোচ হিসেবে পেতে সবচেয়ে আগ্রহী পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ইজাজ বাট। গত সপ্তাহে লাহোরে দু দফা বৈঠকের পর দুবাইয়েও ওয়াকারের সঙ্গে কথা বলেছেন বাট, মৌখিক প্রস্তাবও দিয়েছেন।

বোর্ডকে পাশে পাচ্ছেন না আশরাফুল-রকিবুল

যারা পারফরম করছে না, জাতীয় দলে তাদের জায়গা নেই। সুযোগ দিতে হবে পারফরমারদেরই—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাহী কমিটির সভায় ডেকে কাল এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে রফিকুল আলমের নির্বাচক কমিটিকে।
জাতীয় দলের দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল ও রকিবুল হাসানের ধারাবাহিক ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছে না বোর্ড। নির্বাচক কমিটিকে সে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইংল্যান্ড সিরিজের দলে বোর্ড এই দুজনকে আশা করছে না। বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস কোনো ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ না করেই বলেছেন, ‘যারা পারফরম করছে না দলে তাদের জায়গা নেই। যথাযথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে পারফরম করে তাদের আবার দলে ফিরতে হবে। আর যারা ভালো খেলছে, দলে নিতে হবে তাদের। নির্বাচকদের বোর্ডের পক্ষ থেকে সেটাই জানানো হয়েছে।’
নির্বাচকেরা ছাড়াও কালকের বোর্ডসভায় পালা করে হাজির হয়েছেন জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও এসএ গেমসের দলের অধিনায়ক ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্স সম্পর্কে জাতীয় দলের পক্ষ থেকে সফরে অনুশীলন ম্যাচ না খেলা এবং অনুশীলন-সুবিধার অপ্রতুলতার কথা বলা হয়েছে। বোর্ড ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ক্রিকেট পরিচালনা কমিটিকে। নিউজিল্যান্ডে ভালো খেলা সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলামের প্রশংসা করা হয়েছে। এ ছাড়া এসএ গেমসে সোনাজয়ী দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে জিপি-বিসিবি একাডেমির পক্ষ থেকে এ বছর মেধার ভিত্তিতে ৩০টি বৃত্তি দেওয়ার।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে আগামী ৩১ মার্চের পর জাতীয় দলের ম্যানেজার শফিকুল হক ও একাডেমির কোচ (বর্তমানে জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ) রুয়ান কালপেগের চুক্তি নবায়ন না করা, জাতীয় দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে একাডেমির কোচ করা ও ক্রিকেটারদের জন্য একজন ক্রীড়া মনোবিদ নিয়োগ করা। বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকের চুক্তি নবায়ন হবে কি না, জাতীয় দলের পরবর্তী ফিল্ডিং কোচ কে হবেন—অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর কোচ জেমি সিডন্সের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক হবে সেসব। সভায় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মুশফিকুর রহমানকে পিঠের ইনজুরির চিকিত্সার জন্য এক লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার নিয়োগ সম্পর্কে আরও একবার জানানো হয়েছে, ‘বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন আছে।’ প্রধান হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে অবশ্য এর মধ্যে একজনকে নিয়োগও দিয়েছিল বিসিবি। মাত্র এক মাস কাজ করেই বিদায় নিয়েছেন তিনি।