Saturday, January 31, 2015

বল প্রয়োগ নয়, সংলাপই পরিত্রাণের পথ- বিএফইউজে ও ডিইউজের সংবাদ সম্মেলন

এমন ঘোর সঙ্কট জাতির জীবনে আর কখনো আসেনি উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েই সমাধান করতে হবে। বল প্রয়োগ নয়, সংলাপই পরিত্রাণের পথ হতে পারে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বিএফইউজে মহাসচিব এম এ আজিজ। বক্তব্য রাখেন, ডিইউজে সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি আব্দুস শহীদ, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনাক হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেরনে বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে এম এ আজিজ বলেন, ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সৃষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কট বর্তমানে তীব্র আকার ধারন করেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে দেশজুড়ে চলছে অনিদির্ষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি। অবরোধের মধ্যে আবার বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় প্রায় প্রতিদিনই হরতালও হচ্ছে। অবরোধের আজ ২৬ দিন পার হয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক সংঘাতে ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের জন্য আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় এবং দেশের প্রায় সব মহলের সোচ্চার আহবান সত্ত্বেও এ ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ নীরব। রাজনৈতিক এই সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে সরকার দমন-পীড়ন ও বর্বর আচরণের পথ বেছে নিয়েছে।
এম এ আজিজ বলেন, এভাবে আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সরকার গণমাধ্যমের উপরও চড়াও হচ্ছে। গণমাধ্যমের কন্ঠ স্তব্ধ করার জন্য নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। ভীতি প্রদর্শন ও অলিখিত সেন্সরশিপ প্রয়োগ করে গনমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হরণ ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে একতরফা প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ জায়গা থেকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ফোন করে সংবাদ প্রচারের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এছাড়া টিভি টকশো নিয়ন্ত্রনের অপচেষ্টাতো চলছেই। এর আগে সরকার ভিন্নমতের মিডিয়া হিসেবে পরিচিত দৈনিক আমার দেশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেয়। তারা পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রায় দু বছর ধরে জেলে বন্দি করে রেখেছে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার নামে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামী টেলিভিশন বন্ধ করে রেখেছে। বন্ধ করে রেখেছে চ্যানেল ওয়ান। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে ঢাকার বাইরের দু’শতাধিক পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আজ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক কর্মচারি বেকার জীবনের দুর্বিষহ অবস্থা মোকাবেলা করছেন।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সরকার সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেশের সাংবাদিক সমাজের প্রাণপ্রিয় নেতা, মেধাবী সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে উদ্দেশ্যমূলক মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ন্যাক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ পর্যন্ত চারটি মামলায় তার নাম জড়ানো হয়েছে। তিনটি যাত্রাবাড়ী থানায় এবং একটি পল্টন থানায়। পেট্রোল বোমা হামলা, আগুন, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এসব মামলা দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। আমরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের এই নেতা বলেন, সবার অংশগ্রহনমূলক, বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জাতিকে বর্তমান মহাসঙ্কট থেকে উত্তোরণে সহায়তা করতে পারে। এ ধরনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠনমূলক সংলাপই সমাধানের একমাত্র পথ। আমরা আশা করি, সরকার বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের সম্ভাব্য আরো ভয়াবহ পরিণামের কথা অনুধাবন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে।

মিরপুরে নাসিম প্লাজায় আগুন, নিহত ১৩

(ছবি:-১ রাজধানীর মিরপুরে নাসিম প্লাজায় আজ বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছবি: ফোকাস বাংলা ছবি:-২ নাসিম প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করে। ছবি: ফোকাস বাংলা) রাজধানীর মিরপুরে সনি সিনেমা হলের পেছনের নাসিম প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুনে দগ্ধ হয়ে অন্তত ১৩ জন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুর শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের প্রথম আলোকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে নিহত লোকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার পর এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ এর আগে রাত পৌনে নয়টার দিকে মিরপুর শাহ আলী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
আজ সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ওই ভবনে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে শাহ আলী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিসুর রহমান অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানান। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফরহাদুজ্জামান জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ দিকে আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংবাদদাতা জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে মিরপুরের নাসিম ভবনে অগ্নিদগ্ধ তৌহিদুল ইসলাম (২৮ শতাংশ) ও কামাল হোসেনকে (৩৫ শতাংশ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে দুজনের ও সাড়ে সাতটার দিকে আরও একজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংবাদদাতা আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ​মোট ১৩টি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

‘কিসের পরীক্ষা কিসের কী’?

(আজ শনিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলা সংলাপে উপস্থিত আলোচকেরা। বাঁ থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রওনক জাহান, আকবর হোসেন, শাহদীন মালিক ও হাফিজউদ্দিন আহমেদ।) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘কিসের পরীক্ষা, কিসের কী? আগে আইনের শাসন দরকার। প্রয়োজনে পরীক্ষা পিছিয়ে দেন।’ আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত বিবিসি সংলাপে হাফিজউদ্দিন এই মত দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ভোটের অধিকারের জন্য লড়ছে। আর আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, যারা সন্ত্রাস করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে না। এই দুই রাজনীতিবিদ ছাড়াও এবারের সংলাপে অতিথি আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। অতিরিক্ত বল প্রয়োগ চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার সমাধান কি না, সংলাপের শুরুতেই এমন প্রশ্ন তোলেন এক দর্শক। জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, নাশকতা—এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার যোগাযোগ তো আছেই। কিন্তু সেটা ৩০ ভাগ। ৭০ ভাগই রাজনৈতিক। কাজেই রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। একই মত প্রকাশ করে রওনক জাহান বলেন, রাজপথের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু যারা সন্ত্রাস করে, তাদের সঙ্গে নয়। তারা যদি নমনীয় হয়, সন্ত্রাস পরিহার করে, তাহলে আলোচনা হতে পারে। হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বল প্রয়োগ করে কখনোই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কারণ বিএনপির সঙ্গে জনগণ আছে। কোকের জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে।’ রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতির শিকার লোকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত কি না, দর্শকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে শাহদীন মালিক ও রওনক জাহান দুজনেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

খালেদা জিয়াকে হত্যার যড়যন্ত্র চলছে: এমাজউদ্দীন

বিদ্যুৎ, ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে খালেদা জিয়াকে হত্যার যড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ। সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার যড়যন্ত্র চলছে। এজন্য তার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা কোন সভ্য দেশে ঘটেনি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পর তাকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে তাকে যেভাবে অন্ধকারে রাখা হয়েছে তা কোন সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তাকে হত্যা করার যড়যন্ত্র চলছে। এই জঘন্য খেলা বন্ধ করে খালেদা জিয়ার পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয় একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় পুরোপুরি অন্ধকারে। ম্যাডাম মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে আছেন। তিনি বলেন, এখনও পুত্র শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তিনি। এরমধ্যে তার বাড়ি বিদ্যুৎ, ডিশ, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে তাকে আরও শোকাহত করেছেন। সরকারের এই আচরনে দেশবাসী ধিক্কার জানাচ্ছে।

মিরপুরে ভয়াবহ বিষ্ফোরণে ব্যাপক হতাহত : ৯ লাশ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরের একটি প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ বিষ্ফোরণে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে মৃতের সংখ্যা নয়জন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। বিষ্ফোরণে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এতে একটি একতলা ভবন ধসে গেছে। আশপাশের বেশকিছু বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আজ সন্ধ্যার দিকে মিরপুর ১ নম্বরস্থ ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এফকো ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট আওয়াজে বিষ্ফোরণ হয়। এসময় আশপাশের ভবনগুলো কেপে ওঠে। বিষ্ফোরণের পরপরই তিন তলা ওই ভবনে আগুন লেগে যায়। এর ১৫ মিনেটের মাথায় আরো ভয়াবহ বিষ্ফোরণ। এসময় ভবনের সামনে থাকা গাড়িগুলো মুহুর্তে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। বিষ্ফোরণের ভয়াবহতায় পাশের একটি একতলা ভবন ধসে যায়। আশপাশের বেশকিছু ভবনের দরজা-জানালার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে খসে পড়ে।
এদিকে, প্রথম দফার বিষ্ফোরণের পরেই খবর দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যর গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্ট অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর ভেতর থেকে লাশ বের করা হয়।
রাত ৮টা পর্যন্ত মোট নয়টি লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানিয়েছেন, লাশের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ভবনটিতে এফকো নামের একটি প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। যেখানে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের বক্সসহ নানা পণ্য তৈরি করা হয়।
ঘটনার সময় অন্তত অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রথম দফায় বিষ্ফোরণের পর এদের অনেকেই কারখানা থেকে বের হতে পারেন। তবে আগুন লেগে যাওয়ায় আবার অনেকেই আটকা পড়ে যান।
আগুনে পুরো ভবনটিই পুড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষ্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের ভবনগুলো কেপে ওঠায় অনেকেই ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো এলাকায় এসময় হুলস্থুল কাণ্ড লেগে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কারখানায় ব্যবহৃত বয়লার বিষ্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো কারণে প্রথম বয়লারটি বিষ্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে যাওয়ায় দ্বিতীয় বয়লারটিও বিষ্ফোরিত হয়ে যায়। এতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বাড়ে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ পুরো এলাকা কর্ডন করে রেখেছে।
রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা জানানো যাবে না। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই কারখানার কোনো কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারিদের স্বজনরা। নিহতদের মধ্যে অনেকেই স্বজনের লাশ খুজেঁ বেড়াচ্ছেন।

আমার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হলো : সুজাতা সিং

বলব না বলব না করেও ক্ষোভটা প্রকাশ্যে এনেই ফেললেন ভারতের সদ্য বরখাস্ত হওয়া ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং। অবসরের সাত্র সাত মাস বাকি থাকতে যে ভাবে তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হলো, তা নিয়ে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুললেন তিনি। বললেন, “আমার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হলো। এটার কি খুব দরকার ছিল?”
সুজাতার ক্ষোভ, গত আঠেরো মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেই সব কাজ করে গেছেন তিনি। বিনিময়ে সেখান থেকে শুধুই নেতিবাচক মন্তব্যই শুনতে হয়েছে তাকে। এটা পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেন সুজাতা। জানান, দিনের পর দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের জন্য চেষ্টা করেও সেই সুযোগ পাননি তিনি। এবং সে কারণেও সুজাতা মনে করছেন, আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করা ছিল।
পরিকল্পনা অবশ্য একটা ছিলই। সেটা এখন আর গোপন কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্য অন্য কোনো মাপকাঠিতে নয়, কূটনীতিবিদ হিসেবে যে রেকর্ড রয়েছে জয়শঙ্করের, তাতেই তিনি এই পদের ‘অটোমেটিক চয়েস’। ৩১ তারিখই তার অবসর নেয়ার কথা ছিল। তার আগেই তাকে পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগ করাটা জরুরি ছিল। সময়ের এই অঙ্ক মেলানোর চেষ্টাতেও সরতে হয়েছে সুজাতাকে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বক্তব্য, এত দিন সুজাতার কাজে কোনো সমস্যা তৈরি করা হয়নি। ব্যাকরণ মেনে তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েই আগে থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে তাকে। বরখাস্ত করা হয়নি, বরং পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আঠাশ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি সাংবাদিক বৈঠকে বসে আচমকাই বরখাস্ত করেছিলেন তখনকার পররাষ্ট্রসচিব এ পি বেঙ্কটেশ্বরনকে। সেই সংবাদ সম্মেলনে তখন খোদ সচিব উপস্থিত।
এ রকম কোনো অপমানের মধ্যে সুজাতাকে ফেলতে চাননি মোদি। আবার জয়শঙ্করের মতো দক্ষ কূটনীতিক ৩১ জানুয়ারি অবসর নিয়ে নিলে তাকে বিদেশসচিবের পদে আনার সুযোগ হাতছাড়া হতো মোদির। অতীতে যে সুযোগ মনমোহন সিংহকে হাতছাড়া করতে হয়েছিল, গান্ধি পরিবার তথা সরাসরি বললে সনিয়া গান্ধি সরকারের কাজে নাক গলানোয়। জয়শঙ্করকে দুই বছর আগেই পররাষ্ট্রসচিব পদে চেয়েছিলেন মনমোহন। জয়শঙ্করের যোগ্যতা নিয়ে মনমোহন এতটাই আস্থাবান ছিলেন যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে পররাষ্ট্রসচিব করতে যথাসাধ্য চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু সনিয়ার আপত্তিতে পেরে ওঠেননি। এত দিন পরে যোগ্যতার মাপকাঠিতেই জয়শঙ্করকে শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্রসচিবের আসনে বসালেন মোদি।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মোদি। তার সঙ্গে জয়শঙ্করের ব্যক্তিগত রসায়নের একটি ইতিহাসও রয়েছে। ২০১২ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদি যখন চীন সফরে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর তখন সেখানকার রাষ্ট্রদূত। সেখানে বেশ কিছ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আযোজনের ক্ষেত্রে জয়শঙ্করের তৎপরতায় মুগ্ধ হন মোদি। এক মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পররাষ্ট্রসচিবের এই সক্রিয়তা তখনই নজর কেড়েছিল মোদির। পরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ধীরে ধীরে তার উপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে মোদির। সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর এবং সদস্যসমাপ্ত প্রজাতন্ত্র দিবসে বারাক ওবামার সফরকে সফল করে তুলতে প্রবল সক্রিয় ছিলেন জয়শঙ্কর ও তার অফিস। মনমোহন জমানার শেষ দিকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক তলানিতে নেমেছিল। হিমঘরে চলে যাওয়া পরমাণু চুক্তি, প্রতিরক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্কের যে অভাবনীয় উন্নতি গত চার মাসে দেখা যাচ্ছে, জয়শঙ্করই তার অন্যতম রূপকার বলে মনে করছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
কিন্তু জয়শঙ্করের দীর্ঘ ছায়ায় নিজের যাবতীয় প্রয়াস আড়ালে চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাতা। সেই ক্ষোভই শুক্রবার উগরে দিয়েছেন তিনি। সুজাতার কথায়, “ওবামার সফরের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি আমরা পরিশ্রম করে তৈরি করেছি। আমার মন্ত্রণালয়ের অফিসাররা করেছেন। পরমাণু চুক্তি নিয়েও যথাসাধ্য পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সর্বদাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে।” কেন এই নেতিবাচক মনোভাব? প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক অফিসারকে সুজাতা প্রশ্নও করেছিলেন এ নিয়ে। তার কথায় “উত্তরে বলা হয়েছিল যে এটা ব্যক্তিগতভাবে নেয়ার কিছু নেই, সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই নাকি এমনটা হয়ে থাকে!” সুজাতার দাবি, গত আট মাসে পররাষ্ট্রনীতিতে মোদি যে ঝড় তুলেছেন, তার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ঢাক নিজে পেটান না বলে এবং ব্যক্তি নয় দলবদ্ধ কাজে বিশ্বাস করে এসেছেন বলে, তাকে দাম দিতে হলো।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

‘সংযোগ পুণ:স্থাপন করুন, অন্যথায় যেকোন পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে’

(বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে জ্বালানি তেল নেওয়া হচ্ছে। ছবিটি আজ শনিবার দুপুরে তোলা হয়। ছবি: প্রথম আলো) বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। বিএনপির পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অবিলম্বে বিছিন্ন বিদ্যুৎসহ সকল যোগাযোগ মাধ্যম পুণ:স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে আহবান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে অন্যথায় উদ্ভুত যেকোন পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে এবং এর পরিণতি কখনই শুভ হবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমগ্র দেশবাসী অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, ক্ষমতালিপ্সু অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা গদি রক্ষার  জন্য এবং অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার মানসে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছেন। দেশে গণতন্ত্রের নামে ‘মার্শাল ডেমোক্রেসী’ প্রবর্তন করেছেন। বর্তমানে দেশে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েমের পর একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তন করার মানসে এক ব্যক্তির ইচ্ছাকেই আইনের উৎসে পরিণত করা হচ্ছে। জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সকল অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ ও কথা বলার অধিকার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দেশের সর্ব বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল-বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ করা হয়েছে দেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। বস্তুত: সারাদেশের জনগণই আজ অবরুদ্ধ এবং বাংলাদেশ নামের এই জনপদ বিশাল কারাগারে পরিণত হয়েছে।
গতকাল গভীর রাতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আবাসস্থল দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়কে জনসভায় ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড ও ক্যাবল লাইনসহ সকল বৈদ্যুতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারী দল ঘোষণা দিয়েছে পানি, গ্যাস ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিবে। সভ্য দুনিয়ার ইতিহাসে এরকম ঘৃনিত ও জঘন্য নজির কোথাও পাওয়া যাবে না। আমরা দেশের এবং বিশ্বের সকল মানবাধিকার সংস্থা, সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছে আহবান জানাই-আপনারা আসুন, দেখুন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে কত ঘৃন্য জংলীতন্ত্র কার্যকর হয়েছে ভোটারবিহীন এই সরকারের বদৌলতে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন জানাই-আপনারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনুধাবন করে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
গতরাতে বিএনপি’র সংগ্রামী যুগ্ম মহাসচিব জনাব রুহুল কবির রিজভীকে সরকারী পেটোয়া বাহিনী র‌্যাব গেপ্তার করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময়ের সাহসী পুরুষ সংগ্রামী জননেতা রুহুল কবির রিজভীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। একই সাথে ইতোপর্বে সারাদেশ থেকে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও জোটের সকল নেতা-কর্মীর নি:শর্ত মুুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। চলমান আন্দোলনে সরকারী পেটোয়া বাহিনী কর্তৃক নিহত শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকাহত পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী, সরকারী পেটোয়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে গ্রেফতার নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের জনগণের বৈধ আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।
গণতন্ত্রকামী সংগ্রামী জনগণের আন্দোলনের দাবানল দাউদাউ করে জ্বলে উঠবে আরো তীব্র গতিতে। দেশের সকল মুক্তিকামী মানুষের বাড়ীঘরকে এখন আন্দোলনের সুতিকাগারে পরিণত করার আহবান জানাচ্ছি। প্রত্যেক ঘরে ঘরে গণতন্ত্রের মুক্তি আন্দোলন গড়ে তুলুন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট, দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও জোট, বরেণ্য নাগরিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, সাংবাদিক বন্ধুগণসহ সকল গণতন্ত্রকামী সংগ্রামী জনগণের প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানাই-অবরুদ্ধ ও বিলুপ্তপ্রায় গণতন্ত্রের মুক্তির দাবিতে মৌলিক, মানবাধিকার ও আইনের শাসন এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যান।

এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরতন্ত্র: ড. কামাল

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপিকে পেট্রলবোমা ছোড়া বন্ধ করতে হবে। আর সরকারকে ইয়াহিয়া–আইয়ুবীয় শাসন বন্ধ করতে হবে। এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরতন্ত্র। তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সাংবিধানিক শাসন নেই, আমরা জনগণের ক্ষমতায়ন চাই।’
আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তাজরীন অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধস নিয়ে লাখো শ্রমিকের বুকফাটা কান্না’ শীর্ষক বিশেষ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. কামাল হোসেন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যারা পেট্রলবোমা মারছে, তাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিচ্ছেন। এমন কথা আইয়ুব–ইয়াহিয়া বলেছিল। তারা কেউ টিকতে পারেনি।’
ড. কামাল শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আর শ্রমজীবী মানুষদের জন্য অশ্রদ্ধা। এটি হতে পারে না।’
অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান সম্পাদিত প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। তিনি বলেন, যারা রানা প্লাজা ধ্বংসে দায়ী, তাদের নানাভাবে নিষ্কৃতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকার এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিমালা করতে পারেনি। এর ফলে নিহতের পরিবার ও আহতরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পোশাকশ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দাফনের আগে নড়ে উঠলো নবজাতক

মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগে জানাজার সময় নড়ে উঠলো এক নবজাতক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর আজিমপুর কবরস্থানে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাকে ফের ঢামেক হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, এক বন্ধুর বাবার কবর যিয়ারত করতে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়েছিলেন তিনি। সাড়ে ১১টার দিকে একটি বাচ্চাকে নিয়ে কবরস্থানে আসেন কয়েকজন লোক। সেখানে ওই বাচ্চাকে জানাজা পড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। সেখানে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য কাতারে দাঁড়ান তারা। এর কিছুণ পরেই বাচ্চার খালু জোবায়ের হোসেন বাচ্চার বাবাকে ডেকে বলেন, ‘বাচ্চা তো নড়াচড়া করছে। সে মনে হয় মরেনি। চল খুলে দেখি।’
এরপর বাচ্চার বাবা জাহাঙ্গীর আলম কাফনের কাপড় খুলে দেখেন নবজাতক বাচ্চাটি নড়াচড়া করছে। মুখ হা করছে কিছু খাওয়ার জন্য। এ অবস্থা দেখে সবাই মিলে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তারা।
গতকাল রাত ৮টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী সুলতানার প্রসব বেদনা শুরু হলে ঢামেকে  ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি ছেলে বাচ্চা প্রসব করেন সুলতানা। জন্মের পরই তার নাম রাখা হয় সোহবান। প্রসবের পর বাচ্চাটিকে আইসিইউতে না রেখে ২১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। শনিবার সকাল ৯টায় সদ্যজাত সোহবান নড়াচড়া করছে না দেখে অভিভাবকরা ছুটলেন চিকিৎসকের কাছে। পরীক্ষা করে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের হাতে ধরিয়ে দেন শিশুটির ডেথ সার্টিফিকেট (মৃত্যু সনদ)।
নবজাতকের ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কোন ডাক্তার ভালো করে যাচাই না করেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বাচ্চাটি এখন ভালো আছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এর আগে আরো এক নারীকে মৃত ঘোষণা করে সমালোচিত হয়েছিল ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একাত্তরের মতো সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে : শফিউল আলম প্রধান

২০ দলীয় জোটের শরিক ও জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, একাত্তরের মতো এই সরকার নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ভাড়াটে বাহিনীর মত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এমনকি আনাসারদেরও জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। গদি রক্ষায় তাদের যা ইচ্ছা তাই করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। একাত্তরের সংগ্রাম ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।
আজ এক বিবৃতিতে একথা বলেন প্রধান।
প্রধান বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ ও ডিস, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা শতাব্দীর ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে চিহ্নিত হবে। পাকিস্তান সরকারও একাত্তরে যুদ্ধকালীন আটক শেখ মুজিবর রহমান সাহেবের প্রতিও এমন অমানবিক আচরণ করে নাই। বর্তমান সরকারের প্রশাসন খান সেনাদের বর্বরতার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এই নজিরবিহীন বর্বর আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নাই। তবে নিঃশঙ্কচিত্তে বলতে চাই এই শাসনের পাওয়ার লাইনের সঙ্কযোগ কেটে দিয়েই জনগণ এর জবাব দিবে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রিয় জনগণ অসাধারণ সাহসিকতার সাথে রাষ্ট্রীয় শ্বেত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। শোকের সাগরে ভেসেও বেগম খালেদা জিয়া এ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উপমহাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসে নিরস্ত্র জনগণের অসাধারণ সংগ্রামের নাম বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সঙ্কগ্রাম চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বিনএপি’র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

এ নিষ্ঠুর আচরণে আমি স্তম্ভিত : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকারের এ নিষ্ঠুর আচরণে আমি স্তম্ভিত।’ গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট-ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় গুলশান কার্যালয়ের সামনে শনিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল সোহেল সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‘গতকাল রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর বেগম জিয়া কিশোরী দ্ইু নাতনিকে নিয়ে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, এটা সরকারের নিকৃষ্ট ধরণের নিষ্ঠুর আচরণ। এর প্রতিক্রিয়া জানানোর কোনো ভাষা আমার কাছে নেই। আমি স্তম্ভিত।’’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ সকল ইউলিটি সেবা বন্ধ করে দেয়া একটা নজিরবিহীন ব্যাপার ও শিষ্ঠাচার বর্হিভুত আচরণ। কোনো সভ্য সরকার এরকম আচরণ করতে পারে না। সভ্য জগতে এটা কল্পনাতীত।’
বিনা নোটিশের নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেয়াকে আইন পরিপন্থি অভিহিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।’ শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর শনিবার সকালে খালেদার কার্যালয়ের ইন্টারনেট ও ডিশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া।

কুতুবদিয়ায় জসিম উদ্দীন হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা by হাছান কুতুবী

দক্ষ জনগোষ্টি সৃষ্টি না হলে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে ঠিকে থাকা সম্ভব হবেনা। এ জন্য নিয়মিত পড়ালেখার প্রতি অধিক মনযোগী হওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধূরী। কবি জসিম উদ্দীন হাই স্কুলের ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা-দোয়া মাহফিল, কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরুস্কার বিতরণ ও নবাগতদের বরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিদ্যালয়ের সফল প্রধান শিক্ষক আনিচুর রহমানের সভাপতিত্বে শনিবার অনুষ্টিত সভায় উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ ছাফা, সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, কুতুবদিয়া হাই স্কুলের প্রবীণ প্রধান শিক্ষক আক্কাস উদ্দিন (ভা.প্রা.), সতরুদ্দীন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শুক্কু আলম আযাদ, লেমশীখালী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু ইউছুফ, কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, কুতুবদিয়া হাই স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হাজী রেজা খাঁন, প্রবীণ শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মধু, মুক্তিযোদ্ধা পুলিন বিহারী শীল, হাজী আখতার কামাল, আবদুল খালেক, মাষ্টার আবু ছৈয়দ, মাষ্টার আমীর উদ্দিন কুতুবী, মাষ্টার মোস্তাক আহমদসহ বহু গন্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ বিশেষ অতিথি ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় মাষ্টার মোশারফ হোছাইনসহ বিদায়ী ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এতে বক্তব্য রাখেন।
(৩১-জানুয়ারী)

'টৈটং এরশাদ আলী চৌঃ উচ্চ বিদ্যালয়' এর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ২০১৫

পেকুয়ায় প্রস্থাবিত 'টৈটং এরশাদ আলী চৌঃ উচ্চ বিদ্যালয়' এর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ২০১৫এ টৈটংএর জনসাধারন প্রিন্সিপ্যাল ড. সানাউল্লাহকে পেয়ে আনন্দে মাতওয়ারা...

















‘খালেদার বাসার বিদ্যুত লাইন বিচ্ছিন্ন করা রাজনৈতিক কলঙ্ক’

সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দাজা চৌধুরী বলেছেন, খালেদার বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া অত্যন্ত জঘন্য ও নিকৃষ্ট কাজ। এটা আমাদের রাজনৈতিক কলঙ্ক। পৃথিবীর কোন দেশে এমন উদাহরণ নেই। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গুড গভর্নেন্স ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে কার্যকর সংলাপই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তিনি যদি পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্ত করতে সন্তু লারমার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন, তবে দেশের চরম সংকটে এখন সংলাপে বসতে পারবেন না কেন? চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি বন্ধ করার জন্য সংলাপসহ সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকার ও বিএনপিকে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের এ অবস্থায় যদি জনগণ  জেগে উঠে, তবে এর সমাধান হবে। কিন্তু মানুষ রাজপথে নামছে না বুলেটের ভয়ে। তাই অনশন ও প্রতিবাদের মাধ্যমে সমাধান চাইতে হবে দেশবাসীকে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরবে এমন গ্যারান্টি নেই। অবরোধের একমাস  পেরিয়ে গেলেও সংলাপের কোন লক্ষণ নেই। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাধানের জন্য বসুন, কথা বলুন এবং সংলাপ করুন। আর যদি না করেন তবে যে কোন ধরণের অসাংবিধানিক পরিণতির জন্য অপেক্ষা করুন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি সিকদার মকবুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক মন্ত্রী ড. মিজানুর রহমান শেলী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ঢাবি অধ্যাপক সুকমল বড়ুয়া প্রমুখ।

বইমেলার ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’ by সৌমিত্র শেখর

আর মাত্র কয়েক দিন। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বাঙালির প্রাণের মেলা—অমর একুশের বইমেলা। ইতিমধ্যে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই বইমেলার সংবাদ পৌঁছে গেছে। ২০১১ সালে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন: ‘বইমেলা আর অমর্ত্য সেন আসবেন, তাই রক্তের টান বাদ দিয়ে প্রাণের টানে এসেছি।’ এই প্রাণের টান কেবল প্রধানমন্ত্রীর নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের। এবার এই আন্তর্জাতিকতার ব্যাপারে আর এক ধাপ অগ্রসরতার সংবাদ এসেছে এবং সেটা হলো: এবার বইমেলায় থাকছে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। আটটি দেশের সাহিত্যিকেরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। শুধু সংবাদের মাধ্যমে নয়, অমর একুশের বইমেলাকে প্রকৃতভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। আগে এটি বাংলা একাডেমির আঙিনায় ছিল, এখন সেটি বাইরে এসেছে। এতে লাভ হয়েছে সবার। বইমেলাকেও সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে লাভবান হবে সবাই। অমর একুশে বইমেলায় আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এর আকর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং তাঁদের মাধ্যমে এই বইমেলাকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জ্ঞানচর্চাকারীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ঘটে। অমর একুশের বইমেলাকে আমাদের অনেকেই শুধু বাংলা ও বাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার পক্ষপাতী। তাঁরা মনে করেন, একুশে ফেব্রুয়ারি যেহেতু বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া হয়েছিল, সেহেতু এই দিন আর কারও নয়—শুধু বাংলা এবং বাঙালির। এ ধরনের চেতনা থেকে তাঁরা অমর একুশের বইমেলায় শুধু বাংলাদেশের প্রকাশকদের বই বিক্রির পক্ষে। তাঁদের এ চিন্তাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন করেন আমাদের দেশের কতিপয় প্রকাশক। এই প্রস্তাব সমর্থন করার সময় আমাদের দেশের প্রকাশকেরা অতিমাত্রায় দেশপ্রেমের কথাও বলেন। প্রকাশকদের বক্তব্যকে শ্রদ্ধা জানিয়েই এখন ভাবার সময় এসেছে, কী করে একুশের বইমেলাকে আন্তর্জাতিক করা যায়! কারণ, একুশে আজ আর শুধু বাঙালির নয়, সারা বিশ্বের। একুশে যে বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেল (১৯৯৮), উচিত ছিল সে বছর থেকেই একুশের বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরম্ভ করা। তা হয়নি। অমর্ত্য সেনকে অতিথি করে আনার মাধ্যমে তা আরম্ভ হয়েছে। এ বছর বইমেলায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আশা করব, এখন থেকে বিশ্ববিখ্যাত অন্তত একজন ব্যক্তিত্বকে প্রতিবছর বইমেলায় অতিথি করে আনা হবে, সঙ্গে অতিথি হিসেবে থাকবেন একজন দেশি প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব। শুধু তাই নয়, বইমেলার একটি প্রান্তে বিদেশি বই বিক্রির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। মেলার বিভিন্ন অংশের নামকরণ হয় যেমন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শহীদুল্লাহ, রোকেয়া, মুনীর চৌধুরী প্রমুখ বাঙালি মনীষীর নামে। এখানে থাকে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গন। আবার লিটল ম্যাগাজিন বিক্রির স্থানও আলাদা। শেক্সপিয়ার, তলস্তয়, গ্যেটে প্রমুখ বিশ্ববিখ্যাত বিদেশি মনীষীদের মধ্যে প্রতিবছর যেকোনো একজনের নামে একটি অঙ্গন নির্দিষ্ট করে সেখানে বইমেলার ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’ স্থাপন করা যায়। আমাদের বইমেলায় ইংরেজি বই যে বিক্রি হয় না, তা কিন্তু নয়। এ দেশের হাতে গোনা দু-একটি প্রকাশক কিছু ইংরেজি বই মেলায় বিক্রি করেন। অতএব মেলায় ইংরেজি বই বিক্রি হচ্ছেই। মেলায় ইংরেজি বই বিক্রি করা যাবে না—এমন বাধা যৌক্তিক নয়। মনে রাখতে হবে, এ দেশের বৌদ্ধিক বিকাশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক জ্ঞানরাজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেকে পঠন-পাঠনের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট প্রসঙ্গ তুলবেন। কিন্তু ভাবতে হবে, ইন্টারনেট কাগজের বইয়ের বিকল্প নয়। এ দেশে পাইরেট বই পাওয়া যায় বটে, তবে শুধু জনপ্রিয় বইগুলোই পাইরেসি করেন ব্যবসায়ীরা। আধুনিক জ্ঞানরাজ্যের সাম্প্রতিক ও প্রয়োজনীয় (হয়তো প্রচলিতভাবে সেগুলো অজনপ্রিয়ও) বই পেতে হলে তাই মূল প্রকাশকদের দ্বারস্থই হতে হবে। এ ধরনের বই পাঠ এবং অনুবাদ হলে এ দেশের লেখক ও পাঠককুল উভয়ই সমৃদ্ধ হবেন—জ্ঞানরাজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভালো বই না পড়লে ভালো বই লেখা যায় না—এ কথা স্বীকার করতে হবে। বইমেলার ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’ হলে সেখানে বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকদের আগমন নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু দূতাবাসের সরকারি ‘নিউজ লেটার’ বিনা মূল্যে পাওয়ার জন্য বইমেলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’ চাই না। বইমেলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’ হতে হবে সত্যিকার অর্থেই বিদেশি সাম্প্রতিক ও দরকারি বইয়ের প্রাপ্তি ও সন্ধানস্থল। দেশি প্রকাশক ও বিক্রেতাদের ‘আবদার’ বিবেচনায় রেখে ‘ইন্টারন্যাশনাল কর্নার’-এ বিদেশে মুদ্রিত বাংলা বই বিক্রি রহিত করা যেতে পারে। কিন্তু ইংরেজি ও অন্য ভাষার বিদেশি বইয়ের ক্ষেত্রে একুশের বইমেলা উন্মুক্ত করার সময় এখনই।
ড. সৌমিত্র শেখর: নজরুল-অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
143soumitra@gmail.com

মিসরে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গি হামলায় নিহত ৩০- সিসি'র বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত

উত্তর সিনাইয়ের প্রাদেশিক রাজধানী আল-আরিশে বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে গাড়িবোমার বিস্টেম্ফারণ ও রকেট হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া গাজার কাছে রাফাহ ও শেখ জুবাইয়েদ শহরেও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে ইথিওপিয়ায় অবস্থান করছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলায় মিসর সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে তারা। খবর : বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা।
ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠন আনসার বেইত আল-মাকদিস দাবি করেছে, তারাই একযোগে এ হামলা চালিয়েছে। টুইটারে সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৩ সালে মিসরের ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি দেশটিতে ২০ জনের বেশি কিক্ষোভকারী নিহত হয়। এ ঘটনায় দেশটিতে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন নেতা হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ও তাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়। তবে ব্রাদারহুড জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে নয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, আল-আরিশে পুলিশের বেশ কয়েকটি কার্যালয়, একটি সামরিক ঘাঁটি ও একটি সামরিক হোটেল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়। এরপর সামরিক ঘাঁটির গেটে একটি গাড়িবোমার বিস্টেম্ফারণ ঘটানো হয়। নগরীর বিভিন্ন সেনা চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করেও হামলা হয়েছে। হামলায় আল-আহরাম পত্রিকার আল-আরিশের কার্যালয় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। পত্রিকাটির কার্যালয় সামরিক হোটেল ও ঘাঁটির বিপরীতে অবস্থিত।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, আল-আরিশের বাইরে একটি চেকপয়েন্টে হামলায় চার সেনা আহত হয়েছেন এবং রাফায় একটি চেকপয়েন্টে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীর এক মেজর নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে একটি চেকপয়েন্টে হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে উত্তর সিনাইয়ে জরুরি কারফিউ বলবৎ রয়েছে।
সেনাবাহিনী এ অঞ্চলে সহিংসতা দমনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন আনসার বেইত আল-মাকদিস এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।

অবরোধ-হরতালে বিচার কাজে বিঘ্ন- বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ by ওয়াকিল আহমেদ হিরন

টানা অবরোধ-হরতালের কারণে উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দেশব্যাপী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক বিচারপ্রার্থী মামলার শুনানির পূর্বনির্ধারিত ধার্য দিনে ঢাকায় এসে হাজিরা দিতে পারছেন না। অনেক মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও একটি পক্ষ আদালতে আসতে না পারায় রায়ের দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিচার বিঘি্নত ও বিলম্বিত হচ্ছে। সময়মতো শুনানি না হওয়ায় আদালতে মামলার জট আরও বাড়ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে গত ৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী টানা অবরোধ শুরু হয়। এর সঙ্গে থেমে থেমে চলছে হরতালও।হরতাল-অবরোধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত ৫০টি বেঞ্চ সচল রাখা যাচ্ছে না। প্রতি হরতালে ৫০টির মধ্যে ৪-৫টি বেঞ্চে বিচার কাজ হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, অনেক বিচারপতি নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে এ সময়ে আদালতে আসতে পারছেন না। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামে-গঞ্জে থাকা অসহায় বিচারপ্রার্থীরা।
ঢাকার নিম্ন আদালতের চিত্রও এক। সেখানকার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে জেলা জজ আদালত ও সিএমএম আদালতে বিচারাধীন মামলার সাক্ষী ও আসামিকে যথাসময়ে হাজির করা যাচ্ছে না। ফলে বিচারকরা মামলার শুনানির তারিখ পেছাতে বাধ্য হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুলস অনুযায়ী সরকার ঘোষিত সাপ্তাহিকদু'দিন ছুটি, সরকারি ছুটি, আদালতের বার্ষিক ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ চলতি বছর সুপ্রিম কোর্টে ছুটি রয়েছে মোট ১৭৮ দিন। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৩টি বেঞ্চ রয়েছে। নতুন বছরে ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৩ দিন হরতাল-অবরোধ হয়েছে। জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগে ৫৩টি বেঞ্চে প্রতিদিন গড়ে নতুন-পুরনো ৪-৫ হাজার মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। গত ২০ দিন টানা অবরোধ থাকায় কাঙ্ক্ষিত হারে মামলার বিচার কাজ হয়নি। এর মধ্যে ৫ দিন হরতাল পালিত হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চে এ সময়ে প্রায় এক লাখ নতুন-পুরনো মামলার বিচার কার্যক্রম হতো। হরতাল-অবরোধের কারণে নির্ধারিত রায়, আদেশ ও শুনানির দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে নিয়মিতভাবে বিচারকাজ হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের ৪-৫টি বেঞ্চে বিচার কাজ হয়েছে। এদিন হাইকোর্টের ২৪ নম্বর বেঞ্চে পিলখানা বিডিআর হত্যা মামলার আপিল শুনানি হয়নি। সোমবার হরতাল চলাকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পৃথক দুটি বেঞ্চ বসলেও হাইকোর্টে মাত্র ৫টি বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম চলে। এগুলো হচ্ছে হাইকোর্টের ৩, ৪, ১১, ২৪ ও ৩৩ নম্বর বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে এক নম্বর বেঞ্চে ওইদিন তালিকাভুক্ত প্রায় দুইশ' মামলার শুনানি নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে একটি আদেশেই একশ' মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।অবরোধে গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীরা গ্রেফতারের ভয়ে ঢাকা এসে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনের জন্য আবেদন ও শুনানি করতে পারছেন না। বিচারপ্রার্থীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর এবং ঢাকায় এসে আইনজীবীর সঙ্গে মামলার বিষয়ে শলাপরামর্শও করতে পারছেন না।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সমকালকে বলেন, হরতাল-অবরোধে আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও কোনো পক্ষ উপস্থিত হতে না পারলে মামলার নতুন তারিখ ধার্য হচ্ছে। তবে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে যেন বিলম্ব না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সমকালকে বলেন, অবরোধ-হরতালের কারণে আদালতে বিচার কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হরতালে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা ভয়ে আদালতে আসতে পারেন না। তিনি বলেন, অবরোধে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ বসে। হরতালে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চ বসলেও সব বেঞ্চ বসে না। হরতালে নিম্ন আদালতে মামলার সাক্ষী ও আসামিদের আদালতে হাজির করা যায় না। গত প্রায় এক মাসে দেশের সব আদালতে বিচার কাজ ঠিকভাবে না চলায় ভবিষ্যতে মামলাজট আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে ন্যায় বিচার ব্যবস্থা। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ন্যায় বিচার তো দূরের কথা গোটা বিচার ব্যবস্থাকেই অনেকটা অচল করে তুলেছে। অথচ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মসূচিতে বিচার ব্যবস্থার কোনো দায় ছিল না। আন্দোলনের নামে সহিংসতার খেসারত দিতে হচ্ছে অসহায় বিচারপ্রার্থীদের।বর্তমানে উচ্চ আদালতসহ সারাদেশের বিভিন্ন আদালতে সাড়ে ২৮ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

প্রায় অচল সড়কপথ, ট্রেন ধুঁকছে সময়সূচি নিয়ে by আনোয়ার হোসেন

চলমান অবরোধ ও হরতালের কারণে মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৬০ শতাংশ কমে গেছে। নাশকতা এড়াতে গতি কমানোয় ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়েছে এবং যাত্রী ও আয় কমে গেছে। এখন পর্যন্ত কেবল লঞ্চ চলাচলই স্বাভাবিক আছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূরপাল্লার যে ৪০ শতাংশ যানবাহন চলছে, সেগুলো কেবল কাছাকাছি দূরত্বে। আর নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ পাহারায় ৪০-৪৫ শতাংশ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সচল থাকা রেলওয়ের সময়সূচিও ভেঙে পড়েছে। আগে ৮০ ভাগ আন্তনগর ট্রেন সময় মেনে চললেও এখন মাত্র ৪০ শতাংশ সময় মেনে চলতে পারছে। রেলওয়ের হিসাবে, জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনের তুলনায় পরবর্তী ১০ দিনে শুধু রেলের ঢাকা বিভাগীয় এলাকার ২১টি স্টেশনে যাত্রী কমে যায় ১ লাখ ৪০ হাজার। আর আয় কমেছে ৪২ লাখ টাকা। সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অন্তত ২৫টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। সাধারণত কোনো ট্রেনের যাত্রা ২৪ ঘণ্টা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রা বাতিল করা হয়। অবরোধে একমাত্র লঞ্চ চলাচলই স্বাভাবিক আছে। কিন্তু লঞ্চের কেবিনে যাত্রী সেজে উঠে আগুন দেওয়ার চারটি ঘটনার পর সেখানেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এখন কেবিনের যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করা হয়। যাত্রীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। লঞ্চমালিকেরা জানিয়েছেন, চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও লঞ্চে যাত্রী কমে যাচ্ছে। আতঙ্কের পাশাপাশি অবরোধ-হরতালের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে না পারা এর একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আবার সড়কপথের অনেক যাত্রীও যেখানে সম্ভব নৌপথ ব্যবহার করছেন।
সড়ক যোগাযোগ ৪০ ভাগ সচল: উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগের প্রধান পথ বঙ্গবন্ধু সেতু। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে যানবাহন চলাচল কমে গেছে ৫ হাজার ২১০টি। আয় কমেছে গড়ে ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা। র্যাব ঢাকা-চট্টগ্রামসহ চারটি মহাসড়কের ২১৬টি স্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর হাইওয়ে পুলিশ সারা দেশের ৯৯৩টি স্থানকে চিহ্নিত করেছে স্পর্শকাতর হিসেবে। গত বৃহস্পতিবার আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই ৯৯৩টি স্থানে প্রায় ১২ হাজার আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে ২১৬টি স্থানে আনসার মোতায়েন করা হবে। টানা অবরোধে ঢাকা ও এর আশপাশের যোগাযোগ অনেকটাই স্বাভাবিক আছে। কিন্তু দূরপাল্লার যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগে স্থবিরতা নেমে আসছে। ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ শুরু হলেও আগের দিন ৫ জানুয়ারিই সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। ৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যান চলাচল করেছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭১৯টি। এ সময় দৈনিক গড়ে যান চলেছে ৭ হাজার ৩৯৬টি। অথচ ১ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে ১২ হাজার ৬০৬টি।
সেতু বিভাগের হিসাবে, ৫ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ২২ দিনে টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দৈনিক গড়ে আয় ৫৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। আর ১ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি ৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ অবরোধের কারণে টোল আদায় ও যানবাহনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। সূত্র জানায়, অবরোধের সময় যেসব যানবাহন চলেছে, এর বেশির ভাগই মালবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত কার। যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা খুব কম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজাটি কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় সেখানকার যানবাহন চলাচল ও আয়ের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, উত্তরবঙ্গের পথে বিভিন্ন কোম্পানির দূরপাল্লার বাস প্রায় বন্ধ। কিছু লোকাল বাস চলাচল করে ঝুঁকি নিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের চৌদ্দগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানেও একই অবস্থা।
ধুঁকছে রেল: রেলের দৈনন্দিন সময়সূচি অনুসারে, ৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তনগর ট্রেনের মাত্র ৪৪ শতাংশ সময় মেনে চলতে পেরেছে। বাকি ট্রেনের বেশির ভাগই ৩ থেকে ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলেছে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ট্রেন সময় মেনে চলেছিল। ওই সময় কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়নি। ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের সপ্তাহে এক দিন যাত্রাবিরতি আছে। মূলত যাত্রাবিরতির পরদিনই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময় মেনে চলতে পারছে। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাতিল হওয়া ২৫টি ট্রেনের যাত্রীদের বেশির ভাগই টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে গেছেন। কেউ কেউ পরের দিনের সময়সূচি অনুসারে যে ট্রেনটি চলেছে, সেটিতে চড়েছেন। ২৭ জানুয়ারি দিনাজপুরগামী দ্রুতযান ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের ১৬ ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়। লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুধবার ছেড়ে যায় ১৪ ঘণ্টা দেরিতে। রংপুর এক্সপ্রেস ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ও চট্টগ্রামের পথের মহানগর প্রভাতী ট্রেনটি চলেছে নির্ধারিত সময়ের সোয়া তিন ঘণ্টা দেরি করে। রেলের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি মাসে বরাবরই যাত্রী বেশি হয়। এবারও জানুয়ারির প্রথম ১০ দিন যাত্রী এবং আয় ভালো ছিল। কিন্তু সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে পরবর্তী ১০ দিন যাত্রী কমতে থাকে। যাত্রী কমা ও আয় হ্রাসের ধারা এখনো অব্যাহত আছে। রেলের প্রতিটি বিভাগীয় বাণিজ্যিক কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে ১০ দিন অন্তর যাত্রী ও আয়ের হিসাব পাঠানো হয়। এ থেকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীন কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ২১ স্টেশনের যাত্রী ও আয়ের হিসাব পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ২১ স্টেশন থেকে যাত্রী পরিবহন হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ জন। এ সময় আয় হয় প্রায় ছয় কোটি টাকা। অন্যদিকে ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ স্টেশন থেকে যাত্রী পরিবহন করেছিল ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৮ জন। এ সময় আয় হয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনের তুলনায় পরের ১০ দিনে যাত্রী কমে যায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। আর আয় কমে প্রায় ৪২ লাখ টাকা। রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার দফা নাশকতা ও অবরোধে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কারণে রেলের সময়সূচি বিপর্যয় হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় সব ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ব্রডগেজ ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত আছে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। আর মিটারগেজে সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার। এ ছাড়া রাতের ট্রেনগুলো চালানোর আগে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে এক ইঞ্জিন ও এক বগির (পাইলট ট্রেন) একটি ট্রেন নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। এরপরই যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়। এতে ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে বাড়তি সময় অপেক্ষায় রাখতে হয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই তাঁরা সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ জন্য সময়সূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যেকোনো মূল্যে ট্রেন চালু রাখাই মূল চিন্তা।

খাসিয়াপুঞ্জির বাসিন্দাদের ক্ষোভ- দুই সহস্রাধিক গাছ কাটার প্রস্তুতি by কল্যাণ প্রসূন

(ঝিমাই খাসিয়াপুঞ্জে কাটার জন্য লাল কালি দিয়ে গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে l ছবি: প্রথম আলো) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই খাসিয়াপুঞ্জি (গ্রাম) থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দুই সহস্রাধিক গাছ কেটে ফেলার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় ঝিমাই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক কোটি টাকায় এসব গাছ এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে ইতিমধ্যে বিক্রিও করা হয়েছে। গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থানীয় আদিবাসীদের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার কুলাউড়া উপজেলা সদরে মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম বলেন, ‘ঝিমাইপুঞ্জিতে গিয়েছি। সেখানে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংসের পরিকল্পনা চলছে। একই সঙ্গে আদিবাসী খাসিয়াদের উচ্ছেদেরও পরিকল্পনা চলছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে গাছ কাটার অনুমোদন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
ঝিমাই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চা-বাগানের নামে সরকারের কাছ থেকে ৬৮৬ একর জায়গা ইজারা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ একর জায়গায় চা চাষ হচ্ছে। চা চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাগানের ইজারাভুক্ত জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পরিপক্ব দুই হাজার ৯৬টি গাছ কাটতে বাগান কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। সম্প্রতি গাছ কাটার অনুমোদন পায় তারা। এসব গাছ প্রায় এক কোটি টাকায় শ্রীমঙ্গলের কাঠ ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
ঝিমাইপুঞ্জি এলাকার লোকজন জানান, তাঁদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ৭২টি আদিবাসী খাসিয়া পরিবার বসবাস করছে। পান চাষ করে তাঁদের জীবিকা চলে। সাত-আট দিন আগে বন বিভাগ ও চা-বাগানের লোকজন পান জুমে (পান চাষ এলাকা) ঢুকে কাটার জন্য বেশ কিছু গাছে চিহ্ন দিয়ে যান। গত বুধবার চা-বাগানের লোকজন জুমে ঢুকে ৩০-৪০টি পানগাছের গোড়া কেটে ফেলেন। এ সময় তাঁরা গাছ পাহারার জন্য দুটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণেরও চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে আদিবাসীরা সেখানে ছুটে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
গত বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ঝিমাইপুঞ্জির জুমের ভেতর কড়ই, চাপালিশ, জাম, সুন্দি, বনাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছে লাল কালিতে নম্বর দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ গাছের গোড়া থেকে পানগাছ লতিয়ে ওপরের দিকে উঠেছে। গাছ থেকে আদিবাসীরা পান সংগ্রহ করছেন। পান সংগ্রহে ব্যস্ত পুঞ্জির বাসিন্দা ফ্রাংকসনি খাসিয়া বলেন, ‘চা-বাগান আমরারে তাড়াই দিতে চায়। পান না থাকলে আমরা কী করি খাইমু-বাঁচমু।’
পুঞ্জির মন্ত্রী (প্রধান) রানা সুরং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পুলিশের এক কর্মকর্তা তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে জুমে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে বাধা না দিতে বলেন। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ অবস্থায় তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। ঝিমাই চা-বাগানের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, খাসিয়ারা বাগানের ইজারাভুক্ত জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। চা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, চা চাষ সম্প্রসারণে ইজারাভুক্ত জায়গা থেকে পরিপক্ব গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চা চাষ সম্প্রসারণ না করলে চা বোর্ড বাগানকে জরিমানা করবে। তবে আদিবাসী খাসিয়া ও গারোদের আন্তপুঞ্জি সংগঠন ‘কুবরাজ’-এর সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং বলেন, আদিবাসীরা পাহাড়েই থাকেন। ভূমির মালিকানা তাঁদের ঐতিহ্যগত অধিকার।
বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রভাত কুসুম আচার্য বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার অনুমোদন পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের পর গাছ কাটার কাজ শুরু হবে। কুলাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, বিষয়টি মিটমাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব পরিস্থিতিতে সব কিছু গ্রহণযোগ্য নয় by এবনে গোলাম সামাদ

সব পরিস্থিতিতে সব কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। শোক প্রকাশও নয়। বিশেষ করে শোকের প্রাণহীন সমারোহ। যাতে থাকে না কোনো আবেগের প্রণোদনা। কেবলই থাকে আনুষ্ঠানিকতার প্রগলভতা। একজনের পুত্র মারা গেলেন। মা তার পুত্রশোকে হয়ে পড়েছেন প্রায় বাকহীন। এ অবস্থায় আরেকজন তাকে সমবেদনা জানাতে যেতেই পারেন। এভাবেই চলেছে আমাদের সমাজজীবন। মৃত্যু সব পরিবারেই আসে। এক পরিবার আরেক পরিবারকে জানাতে চায় সমবেদনা। সমবেদনা দুঃখকে করে তোলে সহনীয়। কিন্তু এটা সাধারণ জীবনে খাটলেও রাজনীতিকদের জীবনে যে খাটে, তা বলা যায় না। বিশেষ করে যাদের মধ্যে চলেছে আদর্শিক ও মতার দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্ব বিরোধিতার স্তর ছেড়ে পৌঁছেছে প্রায় শত্র“তার মাত্রায়। বেগম জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান অকালেই মারা গেলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে কিছু না জানিয়েই ছুটে গেলেন সমবেদনা জানাতে। কিন্তু বেগম জিয়া চাইলেন না অথবা পারলেন না এই আনুষ্ঠানিকতাকে গ্রহণ করতে। আমরা দেখলাম, এক দিকে শেখ হাসিনা ছুটে গেলেন শোক প্রকাশ করতে, অন্য দিকে একই সাথে শুনলাম তার দলের নেতাদের খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার কথা বলতে। কেবল দলের নেতারাই নয়, উচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও বলতে দেখা গেল, প্রমাণ মিললেই খালেদাকে গ্রেফতার করা হবে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এভাবে রাজনৈতিক ধাঁচে কথা বলতে পারেন বলে মনে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে পারেন। গণতন্ত্রে আমরা জানি, রাষ্ট্র ও সরকারকে এক করে ফেলা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে হচ্ছে। রাষ্ট্র একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো দল অথবা জোট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার লাভ করে থাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। চিরকালের জন্য নয়। এছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ, যথা আইনসভা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে চেষ্টা করা হয় পরস্পরের থেকে পৃথক রাখার। যাতে করে, এদের একটি বিভাগ আর একটি বিভাগের মতার অপব্যবহারকে প্রশমিত করতে পারে। গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের ধারণা অতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে এ েেত্র খুবই ঘাটতি। গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্যে প্রয়োজন হয় জনমত, রাজনৈতিক দল এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু জনমত গঠনের েেত্র সৃষ্টি করা হচ্ছে বাধা। বিরোধী দলের পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনকে দেয়া হচ্ছে বন্ধ করে। দেয়া হচ্ছে না, রাজনৈতিক দল গড়ার অবাধ সুযোগ। আর অবাধ নিরপে নির্বাচন এ দেশে হতে পারছে না। তাই দেশে শুরু হয়েছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছেন এই আন্দোলনের প্রতীক। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক নন। তাই তার পুত্রের মৃত্যুতে শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করতে যাওয়াকে মনে হতে পেরেছে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর এই কারণেই হতে পারেনি খালেদা জিয়ার সাথে শেখ হাসিনা সাাৎকার। এটা নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। ইতিহাসে এটা বিরল ব্যাপারও নয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সভায় কে বা কাহারা করেছিল গ্রেনেড হামলা। এতে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মহিলা। যার মধ্যে ছিলেন জিল্লুর রহমানের (পরে রাষ্ট্রপতি) স্ত্রী আইভী রহমান। বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজে শেখ হাসিনা কিছু দিনের জন্য হয়ে পড়েছিলেন বধির। খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে চান। কিন্তু শেখ হাসিনা তার সাথে দেখা করতে জানান অস্বীকৃতি। বেগম জিয়া জিল্লুর রহমানের সাথে দেখা করতে চাইলে, জিল্লুর রহমান আপত্তি করেন না। এই জন্য জিল্লুর রহমানকে আওয়ামী লীগের মধ্যে হতে হয়েছিল সমালোচিত। ল করার বিষয়, জিল্লুর রহমানের সাথে সাাতের আগে খালেদা জিয়া নিয়েছিলেন তার যথাযথ সম্মতি। হঠাৎ করেই তিনি ছুটে যাননি তার কাছে। খালেদা জিয়া বজায় রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা করেননি। তিনি জানতে চাননি, শোকসন্তপ্ত খালেদা জিয়া তার সাথে সাাৎ করবেন কি না। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা যদি দুইজনেই হতেন সাধারণ মহিলা, তাহলে দুইজনের মধ্যে সমবেদনা সহজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারত। কিন্তু রাজনীতির প্রাচীর সেটা হতে দেয়নি।
রাজনীতি আর সমাজনীতি এক নয়। প্রখ্যাত ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক মন্তব্য করেছেন (বাংলাদেশে প্রতিদিন, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৫) হেলায় সুযোগ নষ্ট করল বিএনপি। কিন্তু কিসের সুযোগ? শেখ হাসিনা কোনো আপসরফা করতে যে গিয়েছিলেন, তা ভাবার কারণ নেই। তিনি তারেক রহমানকে বিলাত থেকে ফেরত এনে বিচার করতে চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে তারেক রহমানের প্রাণদণ্ড। ব্রিটেন তারেক রহমানকে ফেরত দেবে কি না বলা যাচ্ছে না। কেননা, বিলাতের আইনে এখন আর প্রাণদণ্ড নেই। প্রাণদণ্ড হতে পারে এমন কাউকে তারা ফেরত দিতে রাজি নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে সমবেদনার প্রশ্ন বিশেষভাবেই অবান্তর। তবে অনেক বুদ্ধিজীবীই মনে করছেন, খালেদা জিয়া দিয়েছেন ধৃষ্টতার পরিচয়। এসব বুদ্ধিজীবী রাজনীতির ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞাত নন। ব্রিটেন নেপোলিয়নকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বন্দী করে রাখে। প্রাণদণ্ড প্রদান করে না। কিন্তু খাদ্যের সাথে অল্প অল্প আর্সেনিক মিশিয়ে তাকে খেতে দিয়ে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে। নেপোলিয়নের চুল কাটতেন যে নাপিত, তিনি তার কোনো বন্ধুকে নেপোলিয়নের কিছু চুল উপহার দিয়েছিলেন। তার এই চুল নিয়ে অনেক পরে হয়েছিল গবেষণা। আর তার এই চুলের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল আর্সেনিকের পরিচয়। খাদ্যের মধ্যে আর্সেনিক থাকলে তা চুলে গিয়ে জমতে পারে। অনেক কিছুই ঘটে রাজনীতির কারণে। নেপোলিয়নকে বিষ প্রয়োগ করেন মারার ঘটনাও এর মধ্যে একটি। বলা হচ্ছে, বিএনপি নেত্রীর হুকুমে তার অনুসারীরা যাত্রীবাহী বাসে ছুড়ে মারছে পেট্রলবোমা। খালেদা জিয়া এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তার ওপর চাপানো হচ্ছে বিশেষ অভিযোগ। মানুষ পুড়িয়ে মারা কেউ সমর্থন করে না। কিন্তু এ কথাও ঠিক যে, যুদ্ধের আইন আর শান্তির আইন এক নয়। তা যদি হতো, তবে জাপানের ওপর পরমাণু বোমা নিপেকে বিবেচনা করা হতো একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। পারমাণবিক অস্ত্র যারা বানিয়েছেন তাদের মধ্যে আটজন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কিন্তু তাদের বিবেকে বাধেনি এ রকম নরঘাতী অস্ত্র নির্মাণে। সাধারণ পটকা ফুটালে তাকে ধরা হচ্ছে সন্ত্রাসী হিসেবে; কিন্তু পরমাণু বোমা নিপেকে কেউ সন্ত্রাসবাদী কর্ম বলে চিহ্নিত করতে চাচ্ছে না। আক্রান্ত হলে মানুষের মধ্যে দুই রকম প্রেরণা দেখা দিতে পারে। কেউ ভয়ে পালানোর উদ্যোগ নিতে চাই, আবার কেউ চায় মরণপণ লড়াই করতে। তাদের সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করা যায় না। এ দুনিয়ায় শান্তিপূর্ণ যুদ্ধ বলে কিছু হওয়া সম্ভব নয়। আমি আমার ছাত্রজীবনে ধর্মঘটের ওপর লেখা একটি বই পড়েছিলাম। তাতে বলা হয়েছিল, ধর্মঘটে কারো-না-কারো তি হবেই। যে ধর্মঘটে কারও তি হয় না, সে ধর্মঘট সফল হয় না। এ হলো ধর্মঘটের দর্শন।
আমরা শান্তি চাই। কিন্তু অশান্তির কারণগুলোকে বজায় রেখে শান্তি আসতে পারে না। শান্তি আসতে হলে আওয়ামী লীগকে আসতে হবে আলোচনার টেবিলে। আজকের বাস্তবতা এই কথাই বলে। ঢাকায় থাকি না। টেলিভিশনে দেখলাম আরাফাতের নামাজে জানাজা হতে। যে বিরাট জনসমাগম এই নামাজে জানাজায় হতে পেরেছে, তাকে বলা চলে না ভাড়া করে আনা। মানুষের ঢল নেমেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এটাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অনেক পত্রিকায় লেখা হচ্ছে, দেশের লোক নাকি বিএনপির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বহু মানুষ বিএনপিকে সমর্থন করছে। আর বিএনপি একটি জনসমর্থনহীন দল নয়।
অনেক পত্রপত্রিকায় বলা হচ্ছে, ঢাকার বাইরে বারোটি জেলায় জামায়াতে ইসলামী করছে আন্দোলন। কিন্তু ঢাকাতে আরাফাত রহমানের নামাজে জানাজায় যে জনসমাগম হতে দেখলাম, তা কি কেবলই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক? তা যদি হয়, তবে বলতে হবে খালেদা জিয়া শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেও আন্দোলন মাঝপথে থেমে যাবে না। জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বে তা হতে থাকবে পরিচালিত। আর তাই আওয়ামী লীগকে শেষ পর্যন্ত একটা সমঝোতায় আসতে হবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে। তাদের রাজাকার বলে দূরে সরিয়ে রেখে কোনো রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আসবে না। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে হবে রাজনৈতিকভাবেই।
দেশে ঠিক কী হতে যাচ্ছে আমরা তা জানি না। কিছু দিন আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। অনেক ব্রিটিশ এমপি মনে করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক গোলযোগ চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেনাশাসন এসে যেতে পারে। সেনাশাসন এলে, এ দেশে বর্তমান দুই নেত্রীর রাজনীতিতে ছেদ পড়া সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে ঠিক কী চায় তা আন্দাজ করা যাচ্ছে না। তবে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্কিন সিনেটে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যথাযথ হয়নি। এতে প্রতিফলন ঘটেনি জনমতের। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে প্রকৃত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। মাত্র ক’দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা এসেছিলেন ভারত সফরে। তিনি কেন ভারত সফরে এসেছিলেন আমরা তা জানি না। তবে একটি মত হলো, তিনি ভারতে এসেছিলেন চীনকে সংযত করার ল্েয। চীন ও ভারতের মধ্যে অরুণাচল নিয়ে একটি যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। সেটাকে ঠেকানোই হলো ওবামার ভারত সফরের ল্য। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমনই যে, চীন ভারত কোনো যুদ্ধ শুরু হলে সে-ও জড়িয়ে পড়তে পারে এই যুদ্ধের মধ্যে। বাংলাদেশে যদি একটি জাতীয় নির্বাচন হয়, তবে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আর তার পে অনেক সহজ হবে এই জটিল পরিস্থিতিতে যথেষ্ট মনোবল নিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। জাতিক এবং আন্তর্জাতিক উভয় কারণেই এখন বাংলাদেশে হওয়া উচিত কোনো দলনিরপে সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও নিরপে নির্বাচন।
লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বলে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিদ্যুত সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডেসকোর এক লাইনম্যা মকসূদ আলী এসে গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এসময় তাঁর সঙ্গে গুলশান থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ছিলেন। দিদার জানান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ সম্পর্ক ডেসকোর ওই লাইনম্যান বলেছেন, তিনি কিছুই জানেনা না। গুলশান থানার নির্দেশে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এসেছেন। তবে আপাতত সাময়িককভাবে জেনারেটর চালু করে কার্যালয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দিদার জানান। কার্যালয়ের ভেতরে খালেদা জিয়া ছাড়াও বর্তমানে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তাঁদের দুই মেয়ে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, প্রেস উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ সেখানে অবস্থান করছেন। এর বাইরে সেখানে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাদলের সদস্য ও কার্যালয়ের কর্মচারীরা রয়েছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেয়ার হুমকি দেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের সমাবেশে এ হুমকি দেয়া হয়। এরপর মধ্যরাতে ওই কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো।

বরগুনায় মাইকিং করে করাতি হাঙর বিক্রি

(বরগুনার মাছের বাজারে বৃহস্পতিবার বিক্রির জন্য তোলা করাতি হাঙর l ছবি: প্রথম আলো) বঙ্গোপসাগরে গত মঙ্গলবার একদল জেলে বিরল প্রজাতির ১২ মণ ওজনের একটি হাঙর শিকার করে। পরে হাঙরটি চার লাখ টাকায় কেনেন স্থানীয় এক মৎস্য আড়তদার। গত বৃহস্পতিবার বরগুনা বাজারে মাইকিং করে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে তা বিক্রি করা হয়। অথচ বন্য প্রাণী আইন, ২০১২-এর তফসিল-১ অনুযায়ী, করাতি হাঙর সংরক্ষিত বন্য প্রাণী ও বিরল প্রজাতির। এই হাঙর শিকার ও কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, এই হাঙর নিধন করা হলে সর্বোচ্চ তিন বছর বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ক্রেতাকেও সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ১৫ ফুট লম্বা হাঙরটির ওজন ১২ মণ। মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে পিরোজপুরের পাড়েরহাট এলাকার মনির হোসেনের ট্রলারের জেলেদের জালে হাঙরটি আটকা পড়ে। বুধবার সকালে হাঙরটি বরগুনা মাছ বাজারে আনা হয়। স্থানীয় আড়তদার পান্না মাতুব্বর সেটি কেনেন। বৃহস্পতিবার সকালে হাঙরটি দেখার জন্য শত শত মানুষ বাজারে ভিড় করেন। পরে হাঙরটি কেটে টুকরো টুকরো করে প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। পান্না মাতুব্বর বলেন, ‘মুঠোফোনে আমাকে জানালে আমি হাঙরটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি। বুধবার সকালে মাছটি আমার আড়তে আনার পর চার লাখ টাকায় কিনি ও পরে বিক্রি করি।’ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বঙ্কিম চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, করাতি হাঙর বিরল প্রজাতির। তবে মৎস্য আইনে এটি নিধন করলে কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও জ্যেষ্ঠ গবেষক জাহাঙ্গীর আলম গতকাল দুপুরে বলেন, এ ধরনের হাঙর কোনো ক্রমেই ধরা ও বিক্রি করা যাবে না। কারণ, বন্য প্রাণী আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এই হাঙরকে সংরক্ষিত প্রাণী ঘোষণা করা হয়েছে। বন বিভাগের বরগুনা-পটুয়াখালী জেলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দো বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে আগে কেউ জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেলে বলেন, সুন্দরবন থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের ৩০ বাম এলাকায় হাঙরটি শিকার করা হয়।

চাদের সেনা অভিযানে বোকো হারামের ১২৩ জঙ্গি নিহত

আফ্রিকার দেশ চাদের পরিচালিত সেনা অভিযানে পার্শ্ববর্তী দেশ ক্যামেরুনে কট্টরপন্থী সংগঠন বোকো হারামের ১২৩ সদস্য নিহত হয়েছে। আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এদিকে, ক্যামেরুনে চাদের মোতায়েনকৃত একটি সেনাদলের ওপর বোকো হারামের হামলায় ৩ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্র ও শনিবার উত্তর ক্যামেরুনের সীমান্ত-সংলগ্ন ফোটোকল শহরতলিতে চালানো বোকো হারামের ওই হামলায় আহত হয়েছেন ১২ সেনা সদস্য। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া চাদের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। গত ১৭ই জানুয়ারি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ক্যামেরুনে বোকো হারামের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় সেনা ও সামরিক গাড়িবহর পাঠায় চাদ। এতে বোকো হারামের ১২৩ সদস্য নিহত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে চাদের সেনাদের ওপর হামলা চালায় বোকো হারাম সদস্যরা। ওই অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহের প্রতি জোট গড়ার মাধ্যমে বোকো হারামকে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে চাদ। এরই মধ্যে দেশটির সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং ক্যামেরুনেও বোকো হারামকে মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে। নাইজেরিয়া থেকে বোকো হারাম ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী ক্যামেরুন, চাদ ও নাইজারে। ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারামের হামলায় ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

শিশুদের নিয়ে এই নির্লজ্জ আচরণ কেন? সাংসদের জন্মদিন বিলাস!

(নিজের নির্বাচনী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাতুয়াইল কনকর্ড সিটি মাঠে গতকাল নিজের ৭৭তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করলেন রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার সরকারদলীয় সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা l ছবি: প্রথম আলো) রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার জন্মদিনকে ‘রাজকীয়’ করতে এলাকার শত শত শিশুকে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ জন্য বিভিন্ন স্কুল থেকে তাদের নিয়ে আসা হয়েছে সাংসদের জন্মদিন পালনের প্যান্ডেলে। আমাদের সাংসদেরা কি এতই অজনপ্রিয় যে তাঁদের সংবর্ধনার জন্য স্কুলের শিশুদের ধরে বেঁধে নিয়ে আসতে হয়? প্রশ্ন জাগে, ৭৭ বছর বয়সী এই সাংসদ কীভাবে কোমলমতি শিশুদের এ রকম পেরেশানি দিতে পারলেন? শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার কেবল অন্যায়ই নয়, এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই আইন মানার প্রয়োজন বোধ করেন না এই আইনপ্রণেতা। অনেক সময় শিক্ষকেরাও বাধ্য হন সাংসদদের এ ধরনের ব্যক্তিগত ইচ্ছে পূরণের সহযোগী হতে। কেননা, স্থানীয় সাংসদ নিজে কিংবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তিরা এলাকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে আসীন। কিন্তু তাই বলে তিনি অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। যখন দেশ মহাদুর্যোগে পতিত, তখন তিনি সাড়ম্বরে জন্মদিন পালন করার মতো বিলাসিতা দেখালেন! আমরা সাংসদের এই আচরণের নিন্দা জানাই। এ বিষয়ে প্রথম আলোর মঙ্গলবারের সংবাদে যে প্রধান শিক্ষকেরা সাফাই গেয়েছেন, তাও অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। আগেকার যুগের রাজরাজড়ারা তাঁদের নাম স্থায়ী করতে মূর্তি, স্তম্ভ ইত্যাদি নির্মাণ করতেন। এখনকার সাংসদেরা অস্থায়ী রাজন্য হিসেবে বিভিন্ন উপলক্ষে শিশুদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে কিংবা জনসমাবেশে নিয়ে এসে রাজকীয় আনন্দ উপভোগ করেন। জনপ্রতিনিধিরা এভাবে জনগণকে না পেয়ে শিশুদের জনতা সাজিয়ে হাজির করে নিজেদের দেউলিয়াপনাই প্রদর্শন করেন। বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-সাংসদ-মন্ত্রীরা শিশুদের দিয়ে এমন ‘বাহাদুরি’ করে আসছেন। নিরেট নির্লজ্জ না হলে কেউই এ রকম কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন না। এ জন্য সাংসদ ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো উচিত। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সবাই তো একই গোত্রের!
শিক্ষার্থীদের হাজির করে সাংসদের ‘রাজকীয়’ জন্মদিন পালন > জানুয়ারি ২৮, ২০১৫
ক্লাস বন্ধ রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকার অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে হাজির করে নিজের ৭৭তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান করলেন রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার সরকারদলীয় সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা। মঙ্গলবার মাতুয়াইল কনকর্ড সিটি মাঠে প্যান্ডেল করে এই অনুষ্ঠান করা হয়। জন্মদিন উদ্যাপন কমিটির নামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে  শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর্ণমালা আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্র প্রথম আলোকেবলে, তারা আসতে চায়নি, কিন্তু বাধ্য করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ভূঁইয়া আবদুর রহমান দাবি করেন, সকালের পালায় যাদের ক্লাস ছিল, তাদের ক্লাস শেষ করে অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। দুপুরের পালার ক্লাস হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, মূলত শিক্ষকেরাই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কমবেশি ওই এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই কিছু কিছু করে শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত থাকলেও শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে। এ কে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গতকাল তাঁর সন্তানের ক্লাস হয়নি। জানতে চাইলে সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা প্রথম আলোকেবলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা গান গাইতে পারে, তারা এসেছিল। সাধারণ মানুষও এসেছিল। ‘পোলাপাইন’ চাইল বলে এই অনুষ্ঠান করেছেন বলে জানান সাংসদ।

আঁধার by ওয়াসি আহমেদ

পাহড়ের এ জায়গাটা খুব উঁচুতে না হলেও খোলামেলা। দৃষ্টি কিছুটা কাত করে ঢেলে দিলে কত দূরে যে চলে যায়, গুটিয়ে আনাই যেন মুশকিল। দিনের পর দিন ঝোপঝাড়ের আড়ালে কাছিমের খোলের মতো তার নিজের ছোট কুঠুরিতে থেকে থেকে সে যেদিন এ জায়গাটা আবিষ্কার করল, ভাবল মাঝেমধ্যে এসে বসা যাবে। আসাটাসা হয়নি। প্রথম যেদিন এসেছিল, তারপর এই দ্বিতীয়বার এখানে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের স্মৃতিই তার মনে জাগল। তাকিয়ে থাকলে চোখজোড়া যে কত দূরে চলে যায়! পাহাড়জুড়ে যখন রাবার-বাগান হবে, তখন গাছ-ফাছ ধুমসে কেটে সাফ করার পর হয়তো চোখজোড়াকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার কথা কেউ ভাববে না। আবার ভাবতেও পারে। সে আগেভাগে কী করে জানে ভাববে না! তবে এই যে এখন তাকিয়ে কূলকিনারা পাচ্ছে না আর এমনও যে মনে হচ্ছে একবার চোখ খুলে নজরটাকে ছড়িয়ে বিছিয়ে দিলে আবার গুটিয়ে আনা মুশকিল, এ নিশ্চয় কারও মাথায় খেলবে না। প্রায় দুই বছর হয়ে গেল সে এখানে। যারা তাকে বসিয়েছে, তারা তাকে পরখ করে জানতে চেয়েছিল, পারবে তো? সে হেসেছিল। এমন একটা জায়গা তার দরকার ছিল। আশপাশে জনমানুষ নেই, পাহাড়িদের বসতিগুলোও দূরে দূরে, ছাড়া-ছাড়া। বসতির দিকে সে যায় না। সপ্তাহে একটা হাট বসে, সে-ও ম্যালা দূরে। তবে দরকারি জিনিসপাতি মেলে। তেল-পেঁয়াজ-নুন, জাত-বেজাতের পাহাড়ি আলু, সবজির মধ্যে কাঁচকলা, কাঁকরোল। এত কাঁকরোল যে কেন এখানে ফলে, এ এক রহস্য। পারবে কি না, জানতে চাওয়ার জবাবে তার হাসিটুকু ওদের পছন্দ হয়েছিল। মনে মনে তারা নিশ্চয় বলেছিল, না পারলেও পারতে হবে। এমন জায়গায় তাকে কেউ খুঁজে পাবে না। আসল কথা, তার যে এরকম জায়গাই দরকার এটা সে যেমন জানত, ওরাও জানত।
আসার সময় সঙ্গে আনার মধ্যে এনেছিল গামছায় পেঁচানো পুরোনো, দু-এক জায়গায় জংধরা রামদা। অন্য কিছুর কথা ভাবেনি; এত বড় পাহাড়-জঙ্গল, তবে বাঘ-ভালুক যখন নেই, দরকারের হাতিয়ার দরকারই জোগাবে। দূরে, চোখের জ্যোতিটা যেখানে গিয়ে আর পারছে না, নিস্তেজ হয়ে পড়ছে, সেদিকে ঢালু দৃষ্টিটাকে স্থির রেখে তার মনে হলো ঝাপসা টলোমলো টানা লম্বা রেখার মতো একটা কিছু এই ধরা পড়ছে, এই না। নদী িক? ভাবামাত্র সে বুঝল আবোলতাবোল চিন্তা করছে, এখানে নদী আসবে কী করতে! নাটাইয়ে সুতা গোটানোর মতো সে একটু একটু করে তার নজরটাকে আস্তে আস্তে টেনে তুলতে লাগল। খেলাটা ভালো লাগছে। যত টানছে, নতুন নতুন জিনিস তাজা-টাটকা ধরা পড়ছে। ছোট-বড় ঝোপঝাড়, লাল মাটির ন্যাড়া টিলা, পাতা খসা একটা দেবদারুগাছের মাথায় কুচকুচে কলপ দেওয়া এক পাল ময়না। টেনে টেনে দৃষ্টিকে আঁটো করতে গিয়ে মনে হলো ঢাল থেকে চড়াই ভেঙে চোখ দুটোর উঠে আসতে কিছুটা যেন মেহনত করতে হচ্ছে। নাটাইয়ের কাছাকাছি ঘুড়ি চলে এসেছে এমন সময় তার নজরে অন্য রকম কিছু ধরা দিল। গাছপালা না, পশুপাখি না, একটা মানুষ। কোনো ভুল নেই মানুষই। সে যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে বড়জোর ২০ কদম ঢালুতে একটা কাঁটাঝোপের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। দেখামাত্র তার প্রাথমিক যে প্রতিক্রিয়া হলো, সেটা তার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক—এখনি কেটে পড়া উচিত। কিন্তু একটা খটকাও মগজে তোড়পাড় জুড়ল। এমন জায়গায় লোকটা এল কী করে! মেরেই বা কারা রাখল! টাটকা লাশ, গলা-পচা গন্ধ নেই। কেটে পড়বে ভেবেও সে কী ভেবে ঢাল ভাঙতে নিচের দিকে পা বাড়াল। একনজর দেখা যেতে পারে, এর বেশি সে চিন্তা করেনি।
এতক্ষণ তাকে অনামা রাখলেও এবার তার একটা নাম দেওয়া যেতে পারে। আসল নাম গোপন রেখে ধরা যাক তার নাম সুরুজ। সাবধানে নামতে গিয়েও ঢালে পা রাখতে সুরুজের প্রায় গড়িয়ে পড়ার দশা হলো। উপুড় লোকটা যে পুরোপুরি মাটিতে পড়ে আছে তা না। নিচু একটা গাছের মাটি ছুঁই ছুঁই ডালে তার বুক-পিঠ আটকে আছে, কোমর থেকে নিচটা মাটিতে। ওপর থেকে দেখে সুরুজ এত কিছু ঠাওর করতে পারেনি। লোকটার পরনে মেটে রঙের ফুল প্যান্ট, পায়ে ভারী বুট, গায়ে গাঢ় লাল গেঞ্জি। উপুড় অবস্থায় যতটা নজরে পড়ে, গায়ে রক্তের দাগ-টাগ নেই। সুরুজ এ সময় অনেকটা যেন না চাইতেই কাজটা করে ফেলল। দুই পা সামনে এগিয়ে ডালে আটকানো বুক-পিঠ ছাড়িয়ে লাশটাকে চিত করে শোয়াতেই সে চমকালো। মরা-ঠান্ডা লাশ না, গা গরম, শ্বাস-প্রশ্বাসে বুক-পেটের ওঠা-নামা মৃদু হলেও বোঝা যাচ্ছে। লোকটার কপালে জখম, বাঁ চোখের ওপরে কালচে কাড়ি-বাঁধা রক্ত। গুলির কথা মনে হলেও সুরুজ সঙ্গে সঙ্গে উড়িয়ে দিল। গুলি খাওয়া কপালে রক্ত অনেক বেশি ঝরত, এর তো সারা শরীরে, এমনকি নাকেমুখেও রক্তের ছিটেফোঁটা নেই। বাঁ ভ্রুর ওপরে ইঞ্চি তিনেক মাত্র জায়গায় ছেতরানো শুকনা রক্ত। সুরুজ যা বোঝার বুঝল। ছুটতে গিয়ে গাছে ঠোকর খেয়েছে? আরও যা আন্দাজ করল, এমনি এমনি ছুটবে কেন, ধাওয়া খেয়ে জান নিয়ে পালাতে গিয়ে...। কিন্তু সুরুজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছে? লাশ হলে কথা ছিল, একনজর দেখতে ইচ্ছা হয়েছিল।
এ যে জ্যান্ত, মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলে এতক্ষণে চোখ খুলত। ঠান্ডা পানির দরকার হলো না, চিত করে শোয়ানোয় শ্বাস টানার সুবিধা পেয়েই হয়তো লাল গেঞ্জির মুখ দিয়ে একটা কাতরানোর আওয়াজ উঠল। সুরুজ নড়তে চাইলেও কেন যেন পারল না। বরং যা সে একদমই ভাবেনি তা-ই করে বসল। মাটিতে বসে লোকটার মাথা কোলে তুলে হাত দিয়ে, যেন হাতটা অন্য কারও, বুকে আস্তে আস্তে চাপ দিতে লাগল। অল্প কিছুক্ষণ, লোকটা চোখ খুলল। খুব যে চমকে উঠল খুলে তা-না। সুরুজ দেখল, বয়সে তারই কাছাকাছি—চল্লিশ-বিয়াল্লিশ হবে। চোখ বন্ধ অবস্থায় মনে হয়েছিল অনেক কম। বার কয়েক সুরুজের চোখে তাকিয়ে সে কোল থেকে মাথা তুলে বুকে হাত চেপে উঠে বসতে চাইল। ইচ্ছাটা জোরালো, যেন পারলে শরীর ঝাঁকিয়ে এক লাফে উঠে সুরুজের গলা চেপে ধরে! বুকে হাত চেপে সে উঠতে পারল না, সুরুজ তখন পিঠের দিক থেকে ঠেলা দিতে কাজ কিছুটা হলো। উঠে বসল বটে, কিন্তু পরপরই সুরুজের গায়ে নিজের ভর ঠেকিয়ে এলিয়ে পড়ে রইল। সুরুজ তখন পরিষ্কার খেয়াল করল লাল গেঞ্জির চোখে-মুখে ভয়। পারল না যে উঠতে তা শরীরের ব্যথা-বেদনার চেয়ে ভয়ের কারণেই। সারাটা সকাল লাল গেঞ্জিকে নিয়ে সুরুজের গেল। সুরুজ কিছু জানতে না চাইতেই সে জানিয়েছে আগের রাতে জঙ্গলে ছুটতে ছুটতে তার আর কিছু মনে নেই।
কুঠুরি পর্যন্ত দূরত্ব কম না, তাও যদি পাশাপাশি পা ফেলে দুজন হাঁটতে পারত! কাঁধে ফেলে বয়ে নিতে হয়নি, তবু ধরে ধরে থেমে থেমে এগোতে গিয়ে সুরুজের মনে হচ্ছিল পথ ফুরাবে না। শেষ পর্যন্ত কুঠুরিতে যখন পৌঁছা গেল, লোকটাকে সুরুজ তার নিজ হাতে গড়া চার পায়ায় শুইয়ে ঘড়াভর্তি পানি দিয়েছিল খেতে। কপালের রক্ত মুছতে গিয়ে সুরুজ তার আগের ধারণায়ই অটল রইল। ঠোকর। অন্ধকারে গাছের সঙ্গে কপালের আন্ধা ঠোকর। লোকটার কপাল—সুরুজ ভাবল, না হলে সকাল-সকাল সে যাবেই বা কেন ওখানে। ঘুরতে ঘুরতে চলে গিয়েছিল। আর চোখজোড়াকে চরিয়ে–ফিরিয়ে এমন যে খেলাচ্ছিল, তাজা-টাটকা লাশ ভেবে এই লাল গেঞ্জির খোঁজ পেতেই! তো লাশটা যখন আর লাশ না, পুরো ঘড়া পানি গিলে অনেকটা তরতাজা, তারপর নেতানো একটা সিগারেট টেনেটুনে সোজা করে মুখে দিয়ে যেই আগুন চাইল, সুরুজ জানল নিজের বিপদ মানুষ এভাবেই ডেকে আনে। তবে এখনো পারে, গামছার পট্টি খুলে রামদার এক কোপে শেষ করে কুঠুরির পেছনের গর্তে ফেলে ধীরেসুস্থে বেলচা মারা। দুই দিন কেটে যেতে লোকটা নিজে থেকেই জানাল যাদের তাড়া খেয়ে জঙ্গলে ঢুকে গাছের সঙ্গে ঢুস খেয়েছে, তাদের একজন এখনো এই জঙ্গলেই আছে। নিশ্চয় আছে, সে জোর দিয়ে বলল, থাকতে তাকে হবেই, কারণ... কারণটা শুনতে সুরুজ কৌতূহলী হলো না। তাহলে সে কেন জঙ্গল পাহারার নামে ঘাপটি মেরে আছে, সে কারণও এসে পড়বে। গোড়াতে পরনের লাল গেঞ্জির কারণে সুরুজ লোকটাকে লাল গেঞ্জি বলে চালিয়ে দিলেও সে নিজে থেকে গায়ে পড়ে বলেছে তার নাম রনি।
আরও বলেছে, যে তাকে এই জঙ্গলে খুঁজে ফিরছে তার হাতে অস্ত্র আছে, বাঁটে নম্বর বসানো সার্ভিস রিভলবার—পুলিশের কোমরে শিকল দিয়ে আটকানো থাকে। সুরুজ তার পরও কৌতূহল দেখায়নি, পুলিশের অস্ত্র কবজা করার কাহিনি জানতে চায়নি। তাহলে তার নিজের বিষয়ও না এসে পারবে না। সে যা-ই হোক, লোকটা, মানে রনি কি তাকে উসকে দিতেই নিজের কথা বলছে, এ কথা ভেবে সুরুজ আরও সাবধান হয়েছে। যদিও সে জানে, রনি তাকে যদু-মধু ভাবছে না। রিভলবারের কথা শুনে সুরুজ মনে মনে হেসেছে, ভয় দেখানো খেলনা, পাকা হাত না হলে পনেরো-বিশ গজ দূরেও টিপ খাটে না। ট্রিগার টেপামাত্র নলটা যে লাফ দেয়, একে বশে আনা যার তার কাজ না। তবে রনির খোঁজে রিভলবারধারী যদি এই কুঠুরির পাত্তা পেয়ে চোরের মতো পা টিপে টিপে দুই-তিন হাত দূর থেকে বুকে তাক করে তাহলে... নিজে সেধে রনিকে তার ডেরায় এনে তুলেছে ঘটনাটা নিজের কাছে যত অবিশ্বাস্যই লাগুক, সুরুজের মনে হয় হয়তো সে ভেতরে ভেতরে একা হয়ে পড়েছিল, নিজের মনের মতিগতিই সে বুঝতে পারেনি। রনির পকেটে টাকা আছে। সেই টাকায় সুরুজ হাট থেকে মুরগি কেনে, খুঁজে খুঁজে গরমমসলা কেনে। রান্নাটা করে রনি। সুগন্ধ-সুবাসে সুরুজের কাছিম খোলের একচালা কুঠুরি কেঁপে কেঁপে ওঠে। মোমবাতির আলোয় মুখোমুখি বসে দুজন পেট ঠেসে খায়। ওঠার মুখে যে প্রশ্নটা রনির আরও আগেই করা উচিত ছিল, করে, ‘তোমার ঘটনা কী?’
শুনতে পায়নি এমনভাবে মুখে ঘড়া উপুড় করে পানি খেতে খেতে সুরুজ জবাবটা নিয়ে ভাবে। রনি যেন তাকে সময় দিতে বলে, ‘তুমি না থাকলে এই খাওয়াটা কপালে থাকত না। বিছরাইয়া পায় নাই, না অইলে তুমিও পাইতা না, পাইতা লাশখান। আইচ্ছা, তুমি কী কামে ওই দিকে গেছিলা? দূর তো কম না।’ জবাবটা বুঝি রনিই তার মুখে তুলে দেয়। ‘আর কাম! লাকড়ি টুকাইতে...’ শোনামাত্র রনি বিষম খায়। হেঁচকি তুলে কাশতে থাকে, আবার সুরুজের জবাবে এমন হাসির খোরাক বরবাদ না করে হাসতে গিয়ে হেঁচকি আর হাসির টক্কর সামলাতে না পেরে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায়ও গলায় তার টিটকারি, ‘লাকড়ি...!’ এতটা সুরুজ ভাবেনি। মুহূর্তেই সে টের পায় তার মাথা ঝাঁ ঝাঁ করছে। সে সময় নষ্ট করে না, এক লাফে রনির বুকে চড়ে ঘড়ঘড়ে গলায় শাসায়, ‘হাসোস ক্যান? গলার রগ ছিঁড়া ফালামু।’ বলে এঁটো হাতে রনির গলা চেপে ধরতে যায়। রনি যেন এর জন্য পুরো প্রস্তুত, অবিশ্বাস্য দ্রুততায় শরীর মুচড়ে হাতের ধাক্কায় সুরুজকে ছিটকে ফেলে কুঠুরির এক কোণে সরে যায়। সুরুজ কিছুটা হতভম্ব হলেও দেরি করে না, মুরগি কাটা বড়সড় ছুরিটা পড়ে ছিল মেঝেতে। নিমেষে ছুরি তুলে সে এক পা এগিয়েছে কি এগোয়নি, তাজ্জব হয়ে দেখে রনির হাতে তার নিজের সেই রামদা। গামছার আব্রুহীন, এমনকি সদ্য সদ্য পাথরে ঘষে শাণ দেওয়া, জং-এর চিহ্নটিহ্ন নেই। সুরুজকে বাজারে পাঠিয়ে রনি কুঠুরি তন্ন তন্ন করে খুঁজে রামদাটা বের করেছে, শাণও দিয়ে রেখেছে। পেল কী করে? চারপায়ার ভেতরের দিকের তক্তায় পেরেক মেরে আটকে রেখেছিল। রনির গলায় হেঁচকি নেই, তবে মুখে হাসিটা আছে, খিঁ খিঁ ইতরামি হাসি। তাজ্জব হলেও সুরুজ কী করবে! ভরসা একটাই, কুঠুরির নিচু এইটুকু জায়গায় তিন হাত লম্বা রামদা দিয়ে সুবিধা করতে পারবে না রনি। তার চেয়ে তার নিজের হাতের ছুরিটা কাজের। হাত চারেক তফাতে দুজন দাঁড়িয়ে। অপেক্ষা করছে কে আগ বেড়ে এগোয়। নিজের ওপর রাগে-ক্ষোভেই হবে সুরুজ এক দলা থুতু ফেলে।
রনি একচুলও নড়ে না। সে নিজেও বুঝতে পারছে এইটুকু জায়গায় রামদার কেরামতি কেবল সুযোগ বুঝে কোপ বসানোয়—যেখানেই হোক, ঘাড়-গলা-মাথায় না হলেও চলবে। কিন্তু নিজে উদ্যোগী না হয়ে ওকে আগ বাড়তে দেওয়াই বুদ্ধির কাজ। হাতে ধরা যার যার হাতিয়ার, কিন্তু চোখগুলো পলকহীন একে অন্যেকে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখছে। এমন সময় দূরে বাঁশ ফাটার মতো আওয়াজে দুজনই দুলে উঠল। যেন একই আওয়াজ দুজনকে যার যার মতো নাড়িয়ে দিল। এই ফাঁকে চোখগুলোয় পলক পড়ল, আবার ফের তাকাতে চোখে চোখ, তবে ধার খুইয়ে কিছুটা নড়বড়ে। রনি রামদা ফেলে দিল, যেন ইচ্ছা করলে সুরুজই তাকে মারুক। সার্ভিস রিভলবারের গুলি খেয়ে মরার চেয়ে এই ভালো। এদিকে সুরুজ নিশ্চিত, অবিকল বাঁশ-ফাটা আওয়াজটা রাইফেলের। সে-ও হাত ঝেড়ে ছুরি ফেলে দিল। কয়েক মুহূর্ত দুজন ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। হাত খালি, চোখগুলো মুখোমুখি তাক করা হলেও একে অন্যকে দেখছে বলে মনে হচ্ছে না। সুরুজ এক ফাঁকে ঘাড় এপাশ-ওপাশ করে তার দুই বছরের সংসার দেখল। একটা নিঃশ্বাস লুটোপুটি খেয়ে নাক পর্যন্ত ধেয়ে আসতে সে বাধা দিল না। নিঝুম কুঠুরিতে নিঃশ্বাসের আওয়াজটা পড়েই মিলিয়ে গেল না, যেন গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে আশপাশের সবকিছুকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেল। তখন আবার বাঁশ-ফাটা আওয়াজ। সুরুজ জানে রাইফেল। রনি ভাবছে রিভলবার। যার জন্য যা। দুজন যখন কুঠুরি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল, চারদিকে ঘোরঘুট্টি অন্ধকার। যত অন্ধকারই হোক, সুরুজ জানে কোন দিক দিয়ে বেরোতে কম ঝামেলা। খাওয়াটা বেশি হয়ে গেছে। এ শালা রাঁধে মারাত্মক। রাতভর হাঁটতে পারলে আপাতত হয়তো ফাঁড়াটা কাটানো যাবে। খুব কষ্ট হওয়ার কথা না, তারা নিচের দিকে যাবে। এগোতে এগোতে একসময় সুরুজ খেয়াল করল, রনি দুই হাতে তার কনুই চেপে হাঁটছে। রাতকানা নাকি? ভূতভূতে অন্ধকারে চোখ দিয়ে কী হবে, পা চললেই হলো।