Monday, February 2, 2026

নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে মনে হয়: তৌহিদ হোসেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এমআরডিআইয়ের সহযোগিতায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) সদস্যদের জন্য নির্বাচনবিষয়ক দুই দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করে।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে প্রচার চালাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বুঝে না বুঝে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন হচ্ছিল। অনেকে না বুঝেই ‘না’ ভোটের পক্ষে। সরকার চায় যে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হোক—এটা খুব স্পষ্ট। সরকার এক বছরের বেশি সময় নিয়ে বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করতে চায়। ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট নিয়ে সমস্যা যেটা ছিল জামায়াত, এনসিপি এবং আরও দু-একটি দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। একটু এম্বুগিউটি (অস্পষ্টতা) ছিল বিএনপিকে নিয়ে। দু-একজন স্থানীয় নেতা ‘না’-এর পক্ষে বলছিলেন। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলছিলেন যে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, তাঁদের কণ্ঠ জোরালো ছিল না বলে মনে হয়েছে।

‘এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে বলছি, মন্ত্রী হিসেবে নয় বা উপদেষ্টা হিসেবে নয়। কিন্তু আমার মনে হয় সেই কনফিউশনটা (বিভ্রান্তি) দূর হয়ে গেছে। কারণ, গতকাল বিএনপির সভাপতি (চেয়ারম্যান) ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে জোরালোভাবে, শক্তভাবে বলেছেন,’ বলেন উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

মানুষ চারটা শর্ত পড়ে চিন্তাভাবনা করে ভোট দিতে যাবে না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ও নেই, সুযোগও নেই। আসলে তারা ভোট দিতে যাবে পার্টি লাইনে। আমার পার্টি সমর্থন করছে “না”, কাজেই আমি দেব “না”। আমার পার্টি সমর্থন করছে, আমি ভোট দেব। প্রধান তিন চারটি দল সবাই কিন্তু “হ্যাঁ”-এর পক্ষে। কাজেই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে।’

এবার নির্বাচনে কিছু লোক ভোট দিতে যাবে না উল্লেখ করে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা সব সময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কিছু বেশি মানুষ ভোট দিতে যাবে কি না, এটা আমি বলতে পারব না। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।’

নির্বাচনের পরিবেশ নাজুক কি না, সে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের আগেই বলেছি যে কোনো নির্বাচনই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয় না। আমি আজকে সকালে ১৯৯১ সালের নির্বাচন দেখে...। আমি ভেবেছিলাম ১৯৯১ সালের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আসলে কিছু অস্থিরতা আছে। কিছু অস্থিরতা থাকবে। এটাকে একেকজন একেকভাবে দেখবে। সেটাকে আমাদের বিবেচনায় নিলে চলবে না। আমরা আমাদের মতো করে যেভাবে এগোচ্ছি নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন হবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তাঁর স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করিনি। যথারীতি তা বহাল আছে। এটা খুব অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তাঁর মেয়াদ থাকাকালে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। এটা খুবই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। মন্ত্রীরা কেউ কেউ করেছেন। এরপর তাঁদের বাইরে যাওয়ার বিষয় আছে। এখন তাঁরা পাসপোর্ট দিয়ে দিলেন, যাতে তাঁদের ভিসা নিতে সহজ হয়।’

নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি দেশেরই ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কিছু ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে যায়। ভারতে যেমন একধরনের ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে গেছে। এখানেও এমন আছে। এটা কালচারের অংশ হয়ে গেছে যে এখানে যাঁরা কূটনৈতিক কমিউনিটি আছেন, তাঁরা এটা নিয়ে কথাবার্তা বলেন। এখানকার সমাজেরও একটি বড় অংশ চায় যে তাঁরা (কূটনীতিক) কথা বলুক। কাজেই তিনি তাঁদের (কূটনীতিক) দোষ দিতে পারেন না। এটা সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘...সমাধানের চেষ্টা করছি। যতটুকু সম্ভব, তা নিরসনের চেষ্টা করে যাব।’

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নিরাপদ নির্বাচনের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা খুবই জরুরি। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিসরে নারী প্রার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জোর দেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আজ রোববার ঢাকায় এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আজ রোববার ঢাকায় এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে। ছবি: প্রথম আলো

চীনের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ভাঙন, এরপর কী? by জি ইয়াং

গত বছরের অক্টোবরেই বলেছিলাম, চীনের মিলিটারি কমিশনের তৎকালীন সহ-সভাপতিকে অপসারণের পর যদি আর জ্যেষ্ঠ কাউকে সরানো হয়, তাহলে তা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ভেতরে একটি গভীর সংকট সৃষ্টি করবে। সেই মুহূর্ত এখন এসে গেছে।

শুধু ঝাং ইউশিয়াই নন, পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএর চিফ অব স্টাফ লিউ ঝেনলিও পতিত হয়েছেন। দুজনের বিরুদ্ধেই আনা হয়েছে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইনি লঙ্ঘন’-এর অভিযোগ। এই সংক্ষিপ্ত সরকারি ব্যাখ্যা আগের সব শুদ্ধি অভিযানের তুলনায় আলাদা।

আগে প্রতিবারই এমন তদন্তকে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেই পরিচিত বয়ান ব্যবহার করার প্রয়োজনই বোধ করেননি। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, পিএলএর শীর্ষে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এতটাই গভীরে পৌঁছেছে যে তা আর যত্নসহকারে সাজানো দুর্নীতিবিরোধী গল্প দিয়ে ঢেকে রাখা যাচ্ছে না।

এই নাটকীয় ঘটনার পর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে এখন কার্যত মাত্র দুজন সদস্য রয়েছেন। চেয়ারম্যান সি চিন পিং এবং সহসভাপতি ঝাং শেংমিন। ঝাং শেংমিন একজন পেশাদার রাজনৈতিক কমিশার (মতাদর্শিক পণ্ডিত)। তাঁর কার্যকর যুদ্ধ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রায় নেই।

ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির অপসারণের মধ্য দিয়ে পিএলএর সেই শেষ জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররাও সরে গেলেন, যাঁরা বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে মূলত মেধার ভিত্তিতে উঠে এসেছিলেন। ফলে পিএলএর পেশাদার নেতৃত্বের কেন্দ্রটাই যেন খালি হয়ে গেল। তাঁদের পতনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ও সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় পড়তে পারেন। এর ফলে আরও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

পিএলএর নেতৃত্বে এমন অস্থিরতা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ের পর আর দেখা যায়নি। তাই একটি প্রশ্ন এখন অত্যন্ত জরুরি। ঝাং ও লিউ কেন পতিত হলেন এবং এরপর কী ঘটতে পারে।

কারণ কী?

পিএলএর অস্বচ্ছ ও গোপন কাঠামোর কারণে ঝাং ও লিউয়ের পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা কঠিন। পুরো চিত্রটি হয়তো জানেন হাতে গোনা কয়েকজনই, যাঁরা তাঁদের গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবু সি চিন পিংয়ের শৈশবের পরিচিত ঝাং ইউশিয়ার অপসারণ স্বাভাবিকভাবে বিস্ময় জাগায়। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং পিএলএর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সির বিশ্বস্ত লোকদের প্রয়োজন ছিল।

লিউ ঝেনলির অপসারণও যুক্তির বাইরে মনে হয়। তিনি একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা, প্রচারবিমুখ কর্মকর্তা। যৌথ স্টাফ বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি পিএলএর সিফোরআইএসআর সক্ষমতার দায়িত্বে ছিলেন। আধুনিক যুদ্ধে এসব সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চ পেশাগত দক্ষতা ছাড়া এগুলো পরিচালনা সম্ভব নয়। এমন একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া পিএলএর প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

নিশ্চিত তথ্যের অভাবে সম্ভাব্য কারণগুলো বাদ দেওয়ার পদ্ধতিতে দেখা যেতে পারে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আরেকটি লেখায় আমি পিএলএতে শুদ্ধি অভিযানের পাঁচটি বিশ্লেষণী দিক চিহ্নিত করেছিলাম। সেগুলো হলো দুর্নীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বয়স্ক শাসকের মানসিকতা, সীমিত সামরিক অভিজ্ঞতা এবং আগের শুদ্ধি অভিযানের সফলতা।

এরপর কী?

এখানে দুর্নীতির ব্যাখ্যাটি দুর্বল। কারণ, সরকারি ঘোষণায় সেটির উল্লেখই নেই; বরং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে জন্ম নেওয়া অবিশ্বাস, বয়সজনিত নিরাপত্তাহীনতা ও আগের শুদ্ধি অভিযানের সাফল্য সিকে আরও সাহসী করে তুলেছে বলে মনে হয়।

অর্থাৎ সি চিন পিং, ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির মধ্যকার সম্পর্ক হয়তো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখান থেকে আর ফেরার পথ ছিল না। অনেক প্রবীণ শাসকের মতোই সি হয়তো ক্রমে তাঁর চারপাশের লোকজনকে নিয়ে আরও সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠছেন। তাঁর নিজের সীমিত সামরিক অভিজ্ঞতা পেশাদার অফিসারদের প্রতি এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে যখনই পেশাদার সামরিক কর্মকর্তারা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, তা সির নিরাপত্তাহীনতাকে আরও গভীর করেছে।

যা–ই হোক, ঝাং ও লিউ দুজনকেই শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এক অভূতপূর্ব ঘটনা, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি পরবর্তী ধাপ নিয়ে প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, পিএলএর শীর্ষ নেতৃত্ব যে প্রবল অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। বাইরের দুনিয়া যা দেখতে পাচ্ছে, তা ভেতরের আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সামান্য অংশমাত্র। লাল দেয়ালের ভেতরে যা ঘটছে, তা আরও ভয়াবহ বলেই ধরে নেওয়া যায়। শীর্ষ কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে এখন নেতিবাচক আবেগই প্রাধান্য পাচ্ছে, যা কমান্ড কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও সংহতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। একসময় এই কমিশন বিভিন্ন মত ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করত। এখন সেখানে আছেন মাত্র দুজন, যাঁদের কার্যকর যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। এই কাঠামোতে কমিশনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব।

এখন প্রশ্ন হলো সি একাই পিএলএ পরিচালনা করবেন, নাকি নতুন নিয়োগ দেবেন। অতীতে দেখা গেছে, শুদ্ধি অভিযানের পর তিনি অনেক সময় শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করেননি। যা–ই হোক, মাত্র দুই সদস্যের একটি কমিশন মানে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এবং পিএলএর একটি সমন্বিত যুদ্ধক্ষম সংগঠন হিসেবে কাজ করার সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস।

তৃতীয়ত, ঝাং ও লিউয়ের পতনের পর পিএলএর ভেতরে আরও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এমনকি বিভক্তির ঝুঁকি বেড়েছে। নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা ও জমে থাকা ক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে শীর্ষ নেতৃত্বে আরও অস্থিরতা তৈরি হবে।

উপসংহার

সবশেষে প্রশ্ন ওঠে, এর প্রভাব পিএলএর যুদ্ধক্ষমতার ওপর কী হবে? লিউ ঝেনলির অপসারণ সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শীর্ষ পদে বিশৃঙ্খলা এবং পেশাদার নেতৃত্বের কার্যত শিরশ্ছেদ স্বল্প মেয়াদে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।

তবে একেবারেই যে কোনো পদক্ষেপ হবে না, তা নয়। সীমিত পরিসরের কোনো সামরিক তৎপরতা চালানো হতে পারে, যার উদ্দেশ্য হবে বিদেশি শক্তিকে সতর্ক করা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময়ে সির জন্য জাতীয়তাবাদী সংহতি তৈরি করা।

আগামী দিনে ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আরও শুদ্ধি অভিযান চলতে পারে, যদিও তার বেশির ভাগই প্রকাশ্যে আসবে না। ২০২৬ সালের বড় একটি সময়জুড়ে পিএলএর নেতৃত্ব অস্থির থাকবে বলে ধরে নেওয়া যায়। এই দ্বন্দ্ব অভিজাত স্তরকে বিভক্ত করতে পারে এবং এমনকি প্রকাশ্য সংঘাতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

ঝাং ও লিউয়ের পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা হয়তো জানব না। তবে এটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, সি চিন পিংয়ের বয়সজনিত নিরাপত্তাহীনতা, তাঁর সীমিত সামরিক অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতা সংহত করতে শুদ্ধি অভিযানের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার সম্মিলিত ফল বলেই মনে হয়।

যা–ই হোক, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির ঘটনাবলি পিএলএর ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই মুহূর্তে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন নামমাত্র সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্থা হয়ে পড়েছে এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর এই প্রথম চিফ অব স্টাফের পদ শূন্য রয়েছে। এই অস্থিরতা পিএলএর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষমতাকে স্বল্প মেয়াদে সীমিত করবে। তবে অভ্যন্তরীণ ভাঙন ঠেকাতে ও বাইরের শক্তিকে বার্তা দিতে সীমিত সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

* ড. জি ইয়াং, চীনের সামরিক সম্পর্ক গবেষক
- দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

চীনা সামরিক বাহিনীর মহড়া
চীনা সামরিক বাহিনীর মহড়া। ছবি : রয়টার্স

জবানবন্দিতে আমান আযমী: ২ হাজার ৯০৮ দিন চাঁদ-সূর্য, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি

গুমের শিকার হওয়ার কারণে ২ হাজার ৯০৮ দিন আকাশ, চাঁদ-সূর্য ও মেঘ-বৃষ্টি দেখেননি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আটক থাকাকালে খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্য নানা বিষয়ে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এ জবানবন্দি দেন।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন সাধারণ পোশাকধারী লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নেওয়ার সময় জমটুপি পরানোর আগেই তিনি অপহরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হককে দেখতে পান এবং তাঁকে চিনতে পারেন। তাঁর জানা ছিল, মখছুরুল ডিজিএফআইয়ের (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) একজন কর্মকর্তা।

জবানবন্দিতে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আটক থাকাকালে তাঁর সেলে কোনো প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ছিল না। ২ হাজার ৯০৮ দিন তিনি আকাশ দেখেননি, চাঁদ-সূর্য দেখেননি, মেঘ-বৃষ্টি দেখেননি, গাছ-মাটি দেখেননি। সারা দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দীর্ঘদিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

আজ আবদুল্লাহিল আমান আযমীর জবানবন্দি গ্রহণ শুরুর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এ ছাড়া এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

জেআইসিতে গুম করে রাখার এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-01%2Fma7a1ydx%2FAzmi.jpg?rect=0%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে মিশে যাচ্ছে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ

প্রকাশ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ঃ সিরিয়ার কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এসডিএফকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসডিএফ জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এই সমঝোতা হয়েছে। পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের ঝটিকা হামলার ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়। এরপর বিদ্রোহীদের নেতা আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

বাশারের পতনের কয়েক সপ্তাহ পর শারার সরকার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় এসডিএফের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এ অভিযান ছিল পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত হয়। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় আছে। এর ধারাবাহিকতায় এসডিএফকে কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় সিরিয়ার সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এসডিএফের কাছ থেকে দখলে নেয়। এই দ্রুত অগ্রগতির ফলে শারার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে। সংঘাতের আগে এসডিএফের যোদ্ধা ও কুর্দি রাজনৈতিক কাঠামোকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল; কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

চুক্তির মূল দিকগুলো

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ সংঘাতের সম্মুখভাগ থেকে নিজ নিজ বাহিনী ও যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করবে। হাসাকাহ ও কামিশলি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন্দ্রীয় সরকারের সেনা ও নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে।

এসডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। এতে এসডিএফের তিনটি ব্রিগেড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শহর কোবানি (আইন আল-আরব) এলাকায় থাকা বাহিনী নিয়ে একটি আলাদা ব্রিগেড গঠন করা হবে, যা আলেপ্পো গভর্নরেটের অধীনে থাকবে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এসডিএফ পরিচালিত স্বশাসিত প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা হবে। এতে বেসামরিক কর্মীদের চাকরি ও অবস্থান বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর রয়েছে। তবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সরকার বাকি কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসডিএফ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিজেদের শেষ কয়েকটি ঘাঁটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বলেন, সিরিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে তিনি ‘খুব খুশি’।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আল-শারা ট্রাম্পকে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিরিয়ার পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও নাগরিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে সমর্থন দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র আল-শারাকেই সিরিয়ায় তাদের প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।

গত বুধবার আল-শারা মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিরিয়ায় রাশিয়ার একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই ক্রেমলিন এই বৈঠকে আগ্রহী ছিল।

চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী এসডিএফের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়
চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী এসডিএফের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। ফাইল ছবি: এএফপি

নির্বাচনের মাঠ: সংস্কারের পক্ষে–বিপক্ষে ও দোষারোপের রাজনীতি by শাহাদাৎ স্বাধীন

দেশে বহু বছর পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে দেশের অতীতের অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। একটি রক্তক্ষয়ী গণ–অভ্যুত্থান, টানা ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম, রাজপথের আন্দোলন, গুম ও খুন, দীর্ঘ ও বেদনাবিধুর পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। ফলে এই গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘিরে মানুষের মধ্যে একটি বড় আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, দেশ যেন সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করবে।

মানুষ আর গুম হবে না, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেড়াজালে সাংবাদিক ও অ্যাকটিভিস্টদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না, সাংবাদিকদের তুলে নেওয়া হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে দখলবাজি বন্ধ হবে, আন্দোলনে গুলি চলবে না—এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এই প্রত্যাশাকে আরও বেগবান করেছে জুলাই সনদ। জুলাই সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলো এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। কোন সংস্কার প্রয়োজন, কোন বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা যেতে পারে—এসব প্রশ্নে দিনের পর দিন মতবিনিময় হয়েছে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা হয়েছে।

জুলাই সনদ এখন গণভোটের মুখোমুখি; অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে জুলাই সনদের একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হবে। মোটাদাগে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; একমাত্র জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

কিন্তু বিস্ময়করভাবে, একটি প্রায় মীমাংসিত বিষয়কেই এখন ভোটের মাঠে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, “বিএনপি আসলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নয়”, “বিএনপি সংস্কারবিরোধী”। বাস্তবে এটি সংস্কার বিতর্ক নয়; এটি প্রোপাগান্ডা ও ন্যারেটিভ পলিটিকস।

রাজনীতির ভাষায়, ন্যারেটিভ পলিটিকস বা বয়াননির্ভর রাজনীতি হলো এমন একটি কৌশল, যেখানে বাস্তবতার নির্বাচিত অংশ, অতিরঞ্জন এবং কখনো সরাসরি মিথ্যার সমন্বয়ে একটি গল্প তৈরি করা হয়। এরপর সেই গল্পকে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক ভাষণের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হয়, যেন সেটিই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সত্যের চেয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাস্তবতা নয়; বরং কার গল্প বেশি গ্রহণযোগ্য, রাজনীতি তখন সেই লড়াইয়ে পরিণত হয়।

বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ বলে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে প্রথম দিককার উদ্যোগগুলোর একটি নিয়েছিল বিএনপি। জুলাই সনদের অনেক প্রস্তাবে দলটির দ্বিমত থাকলেও, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিএনপি তা মেনে নিয়ে রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

বিএনপির ৩১ দফায় বলা হয়েছিল, পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না; তবে এক টার্ম বিরতি দিয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে। ফলে যখন জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সরাসরি ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিএনপি তা মানবে না। কারণ, আওয়ামী লীগের পতনের পর রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই বিএনপির জন্য উন্মুক্ত। দলটি বর্তমানে জনপ্রিয় এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বয়স প্রায় ৬০ বছর। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে আরও অন্তত ২০ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে, এমন ধারণাও প্রচলিত।

তবু অনুকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় থেকেও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উদারতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

এ ছাড়া কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জুলাই সনদবিষয়ক গণভোটের চারটি ধারার মধ্যে দুটিতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চকক্ষে পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি। গণভোটের দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা হবে এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাবেও বিএনপির আপত্তি ছিল। এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে গণভোটের ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এত বড় আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাস্তবতা হলো, জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে আগামী সংসদ গঠিত হবে। সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। যেসব সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেও দলটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রয়েছে।

বিএনপির সংস্কার ভাবনা নতুন নয়। ২০১৬ সাল থেকেই দলটি রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে আসছে। বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতেই ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই ভিশনের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়।

এই ভিশনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলা যেখানে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে এবং একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হবে।

বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিএনপি তিনটি ‘জি’র—ভালো রাজনীতি, ভালো শাসনব্যবস্থা ও ভালো সরকার—সমন্বয় ঘটাতে চায়। তিনি মনে করতেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি করে। তাই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন।

ভিশন ২০৩০–এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করা, যেখানে উচ্চকক্ষে অভিজ্ঞ পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা থাকবেন। একই সঙ্গে প্রতিহিংসা ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করা হয়।

২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০ পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় রূপ নেয়। সেখানে সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়। নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার সুসমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, উচ্চকক্ষ চালু করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার—সবই সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ফলে জুলাই সনদে আলোচিত বহু সংস্কারের ধারণা বিএনপি এক দশক আগেই প্রকাশ করেছিল। আজকের জুলাই সনদের যে আকাঙ্ক্ষা, তার বীজ বপন হয়েছিল ২০১৬ সালেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা রাজনৈতিক বাস্তবতার বিকৃতি এবং জাতীয় সংহতির জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দমন-পীড়ন ও আস্থাহীনতার পর রাষ্ট্রসংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি দল বা জোটের বিষয় নয়, এটি সমগ্র জাতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশের প্রশ্ন।

এই প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য স্বাভাবিক; ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, থাকবে দ্বিমতও। কিন্তু সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে যদি দোষারোপ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভে পরিণত করা হয়, তাহলে সেই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হয়।

রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে যদি সংস্কারকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন হিসেবে দেখা যায়, তবেই গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেতে পারে। অন্যথায় সংস্কার নিজেই আরেকটি বিভাজনের রাজনীতির শিকার হয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

* শাহাদাৎ স্বাধীন, কলামিস্ট ও গবেষক। দ্য ডিপ্লোমেট, ইন্ডিয়া আউটলুকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্যুতে লেখেন।
- মতামত লেখকের নিজস্ব

নির্বাচনের মাঠ: সংস্কারের পক্ষে–বিপক্ষে ও দোষারোপের রাজনীতি

ইসরায়েলের কাছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, সৌদির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের কাছে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলকে শক্তিশালী এবং সদাপ্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা তৈরি ও বজায় রাখতে সহায়তা করা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি এই উদ্দেশ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় আরও রয়েছে ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ (আধুনিক সাঁজোয়া ও বহুমুখী হালকা সামরিক যান)। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যা মূলত বিক্রির চেয়ে সরাসরি সহায়তা হিসেবেই দেওয়া হয়।

একই সময়ে সৌদি আরবের জন্য ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত আকাশপথে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল, যা গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের গতি কমিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করেছে।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। অন্যদিকে নিজ দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি ও হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

ইরানের মিত্র না হলেও দেশটির ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অস্থিরতা তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের কারণে রিয়াদের সঙ্গে তেল আবিবের ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়াটিও বর্তমানে অনেকটা থমকে আছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এরপর গাজায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। ছবি: রয়টার্স

১০টি ছবিতে অজানা গ্রিনল্যান্ডকে চিনে নিন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যেই বিশ্বরাজনীতিতে গ্রিনল্যান্ড এখন আলোচিত। বরফে ঢাকা এই বিশাল দ্বীপকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনেকেরই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড লুকিয়ে রেখেছে সাড়ে চার হাজার বছরের মানব ইতিহাস, নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি, আলাদা জীবনযাপন আর এমন সব বাস্তবতা, যা আমাদের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে মেলে না। গ্রিনল্যান্ডকে নতুন করে চিনতে, বরফের আড়ালের এ দেশের অজানা ১০টি দিক তুলে ধরা হলো ছবির গল্পে।
১ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ
গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ
গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

মৌলিক তথ্য দিয়ে শুরু করা যাক। গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর প্রায় ৮০ শতাংশই বরফে ঢাকা। তবে যে অংশে বরফ নেই, সেটার আয়তনও কম নয়, সুইডেনের কাছাকাছি। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের মতো। তাই এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম জনঘনত্বের জায়গাগুলোর একটি।

২ একসময় সত্যিই সবুজ ছিল গ্রিনল্যান্ড
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গ্রিনল্যান্ড সত্যিই সবুজ ছিল
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গ্রিনল্যান্ড সত্যিই সবুজ ছিল
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

আজকের গ্রিনল্যান্ড বরফে মোড়া। তাহলে নামের মধ্যে ‘গ্রিন’ বা সবুজ এল কোথা থেকে? নামকরণের কৃতিত্ব ভাইকিং নেতা এরিক দ্য রেডের। আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত হয়ে এসে তিনি জায়গাটির নাম দেন ‘গ্রিনল্যান্ড’; নতুন বসতি গড়তে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্যই মূলত নামটি দিয়েছিলেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গ্রিনল্যান্ড সত্যিই সবুজ ছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে লাখ লাখ বছরের প্রাচীন মাটি।

৩ গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকার অংশ হলেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত প্রায় এক হাজার বছর ধরে। ১৭২১ সাল থেকে ডেনমার্ক এখানে উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৯৫৩ সালে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হয়। পরে ১৯৭৯ সালে পায় ‘হোম রুল’ এবং ২০০৯ সালে আরও বিস্তৃত ‘সেলফ রুল’। ধীরে ধীরে আরও বেশি দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিচ্ছে গ্রিনল্যান্ড সরকার।

৪ সাড়ে চার হাজার বছরের মানব ইতিহাস
ইতিহাসবিদদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসতি শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে
ইতিহাসবিদদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসতি শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

ইতিহাসবিদদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসতি শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এখানে এসেছে, আবার হারিয়েও গেছে। দশম শতকে আইসল্যান্ড থেকে আসা নর্সরা দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে বসতি গড়লেও ১৫ শতকের শেষ দিকে তারা বিলুপ্ত হয়। ১৩ শতকে এশিয়া থেকে আসা ইনুইটরা এখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। আজকের গ্রিনল্যান্ডের ইনুইটরা তাঁদেরই সরাসরি বংশধর। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসবাস সাড়ে চার হাজার বছরের বেশি সময় ধরে।

৫ ‘এস্কিমো’ নয়, ইনুইট
আজ গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ ইনুইট, অধিকাংশই কালাল্লিত বা ডেনিশ-ইনুইট মিশ্র বংশোদ্ভূত
আজ গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ ইনুইট, অধিকাংশই কালাল্লিত বা ডেনিশ-ইনুইট মিশ্র বংশোদ্ভূত
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

আজ গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ ইনুইট, অধিকাংশই কালাল্লিত বা ডেনিশ-ইনুইট মিশ্র বংশোদ্ভূত। বাকি ১২ শতাংশ মূলত ইউরোপীয়, বেশির ভাগই ডেনিশ। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গ্রিনল্যান্ডবাসীরা ‘এস্কিমো’ শব্দটি পছন্দ করেন না। সঠিক নাম ইনুইট বা কালাল্লিত। ‘কালাল্লিত’ শব্দের অর্থই হলো গ্রিনল্যান্ডের মানুষ।

৬ বহু ভাষার দেশ
গ্রিনল্যান্ডে মানুষ সাধারণত গ্রিনল্যান্ডিক (কালাল্লিসুত) ও ডেনিশ—দুই ভাষাতেই কথা বলেন
গ্রিনল্যান্ডে মানুষ সাধারণত গ্রিনল্যান্ডিক (কালাল্লিসুত) ও ডেনিশ—দুই ভাষাতেই কথা বলেন
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে মানুষ সাধারণত গ্রিনল্যান্ডিক (কালাল্লিসুত) ও ডেনিশ—দুই ভাষাতেই কথা বলেন। ১৯৭৯ সালে স্বায়ত্তশাসন চালুর পর থেকেই এই দুটি ভাষা সরকারি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম স্কুলে ইংরেজিও শেখে। মজার তথ্য হলো, ‘কায়াক’ আর ‘ইগলু’ শব্দ দুটি গ্রিনল্যান্ডিক ভাষা থেকেই বিশ্বের অন্য ভাষায় ছড়িয়ে গেছে।

৭ শহর থেকে শহরে যাওয়ার রাস্তা নেই
গ্রিনল্যান্ডের এত বড় ভূখণ্ড, কিন্তু এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার কোনো সড়ক বা রেললাইন নেই
গ্রিনল্যান্ডের এত বড় ভূখণ্ড, কিন্তু এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার কোনো সড়ক বা রেললাইন নেই
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

এত বড় ভূখণ্ড, কিন্তু এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার কোনো সড়ক বা রেললাইন নেই। শহরের ভেতরে কিছু রাস্তা থাকলেও সেসব শহরের সীমানা পেরোয় না। শহর থেকে শহরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয় প্লেন, নৌকা, হেলিকপ্টার, স্নোমোবাইল বা কুকুরের টানা স্লেজ। গ্রীষ্মে নৌকাই সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন।

৮ মাছ ধরা ও তিমি শিকার
গ্রিনল্যান্ডের প্রধান আয়ের উৎস মৎস্যশিল্প
গ্রিনল্যান্ডের প্রধান আয়ের উৎস মৎস্যশিল্প
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডের প্রধান আয়ের উৎস মৎস্যশিল্প। মাছ, সামুদ্রিক খাবার আর স্থানীয়ভাবে শিকার করা প্রাণী (যেমন তিমি ও সিল) ছাড়া প্রায় সবকিছুই আমদানি করতে হয়। অতিরিক্ত শিকার ঠেকাতে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট কোটা আছে। নীল তিমির মতো কিছু প্রজাতি পুরোপুরি সুরক্ষিত। তিমি ও সিলের মাংস রপ্তানি করা যায় না, শুধু স্থানীয়ভাবেই খাওয়া হয়।

৯ প্রাণবন্ত রাজধানী নুক
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক আকারে ছোট হলেও বেশ প্রাণবন্ত শহর
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক আকারে ছোট হলেও বেশ প্রাণবন্ত শহর
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ বাস করে রাজধানী নুকে। আকারে ছোট হলেও শহরটি বেশ প্রাণবন্ত। এখানে আছে জাদুঘর, আধুনিক ক্যাফে, ফ্যাশন বুটিক। গ্রিনল্যান্ডকে বুঝতে চাইলে ঘুরে দেখা যায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম, কাটুয়াক কালচারাল হাউস আর নুক আর্ট মিউজিয়াম। পাহাড় আর হিমবাহ দ্বারা গঠিত সমুদ্র খাঁড়ি বা বিশাল ফিয়র্ডে ঘেরা শহরটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও দারুণ।

১০ মধ্যরাতের সূর্য
গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবছর ২৫ মে থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সূর্য অস্ত যায় না
গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবছর ২৫ মে থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সূর্য অস্ত যায় না
ছবি: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবছর ২৫ মে থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সূর্য অস্ত যায় না। দিন-রাত মিলিয়ে সূর্য আকাশেই থাকে, এটাই ‘মিডনাইট সান’। বছরের সবচেয়ে বড় দিন ২১ জুন এখানে জাতীয় ছুটি। এ সময় মানুষজন রোদ পোহায়, প্রকৃতির মাঝে বারবিকিউ করে, সূর্য যেন তখন আর তাড়াহুড়া করে বিদায় নেয় না।

সূত্র: ভিজিট গ্রিনল্যান্ড

আইসিই সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

প্রকাশ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ঃ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসনবিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই, যা আইস নামে পরিচিত) সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মিনিয়াপোলিস শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল শুক্রবার এ বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা গতকাল ক্লাস বর্জন করেছেন।

অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে আইসিইর তিন হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করেন। এ সংখ্যা শহরের পুলিশ বিভাগের সদস্যদের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এ কর্মকর্তারা বিশেষ পোশাক পরে রাস্তায় টহল দিচ্ছেন।

সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরটিতে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।

গতকাল মিনিয়াপোলিস শহরে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আইসিই সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে শিশুরাও যোগ দিয়েছিল।

কাতিয়া কাগান নামের এক বিক্ষোভকারী ‘নো আইসিই’ লেখা পোশাক পরে মোমবাতি হাতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর মা-বাবা রুশ ইহুদি। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

কাগান বলেন, ‘আমি এখানে আছি। কারণ, আমি সেই মার্কিন স্বপ্ন পূরণের লড়াই করতে চাই, যেটার জন্য আমার মা-বাবা এখানে এসেছিলেন।’

কিম নামের ৬৫ বছর বয়সী এক যোগব্যায়ামের কোচও গতকালের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নামের শেষ অংশ প্রকাশ করতে রাজি হননি। কিম অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে ‘নাগরিকদের ওপর ফেডারেল সরকারের পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিস্ট হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মিনিয়াপোলিসের যে এলাকায় চলতি মাসে আইসিই সদস্যদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন, সেখানকার স্থানীয় স্কুলের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মী গতকাল মিছিল করেছেন। আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত ব্যক্তিরা হলেন অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনি গুড।

রকস্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিনও এ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তিনি ডাউনটাউনে গুড ও প্রেটির জন্য আয়োজিত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের মঞ্চে গিয়ে তাঁর নতুন গান ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস’ পরিবেশন করেছেন।

বিক্ষোভ শুধু মিনেসোটায় সীমিত থাকেনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২৫০টি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বড় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন। বিক্ষোভের মূল স্লোগান ছিল, ‘কোনো কাজ চলবে না, কোনো স্কুল চলবে না, কোনো কেনাকাটা চলবে না, আইসিইর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করো।’

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ হয়
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ হয়। ছবি: রয়টার্স

দুবাইতে হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘সোনায় মোড়ানো’ সড়ক

বিশ্বে প্রথমবারের মতো সোনায় মোড়ানো সড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট–এ ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নামের এই সড়ক নির্মিত হবে। দুবাই মিডিয়া অফিস মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।

‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এর উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় দুবাইয়ের অন্যতম আবাসন কোম্পানি ইথরা। সড়কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে জানানো হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক দেশটির বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার।

‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’

সোনার বাজারে আধিপত্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে এবার দুবাইতে ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’ হচ্ছে। এটিকে আরব আমিরাতের নতুন ‘হোম অব গোল্ড’ বলা হচ্ছে। এখানে সোনা ও গয়নার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের ব্যবসা ও কার্যক্রম এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি, বুলিয়ন মার্কেট (স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর বাজার) ও বিনিয়োগ—সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের কেনাকাটার স্বার্থে সেখানে এক হাজারের বেশি খুচরা দোকান থাকবে। এসব দোকানে সুগন্ধি, প্রসাধনী, সোনা এবং জীবযাপনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ পাওয়া যাবে।

ইতিমধ্যে সেখানে জাওহারা জুয়েলারি, মালবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল–রোমাইজান এবং তানিশক জুয়েলারির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর শোরুম রয়েছে।
সুপরিচিত গয়নার ব্র্যান্ড জয়–আলুক্কাস ২৪ হাজার বর্গফুটের বৃহৎ একটি শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গয়নার শোরুম।

দুবাই ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এ হবে সোনায় মোড়ানো সড়ক
দুবাই ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’–এ হবে সোনায় মোড়ানো সড়ক। ছবি: দুবাই মিডিয়া অফিসের সৌজন্যে