Showing posts with label নীলফামারী. Show all posts
Showing posts with label নীলফামারী. Show all posts

Sunday, October 13, 2024

ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করা গণমাধ্যমের বিচার হবে

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার পক্ষে যেসব গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে, তাদের বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। আরও যাদের সম্পৃক্ততা আছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। গতকাল সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাকে নীলফামারী জেলা ও সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সৈয়দপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানান। নাহিদ ইসলাম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন নাগরিক ঐক্য কমিটির সদস্য সচিব আকতার হোসেন।

এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিম তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর সড়কপথে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য উপদেষ্টা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদকে গভীরভাবে স্মরণ করে বলেন, ‘আবু সাঈদসহ এই জুলাই বিপ্লবের সব শহীদদের স্মরণ করছি। আবু সাঈদরা যে কারণে শহীদ হয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তারা ধারণ করেছিলেন, সেই একই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার এই রক্তের বিনিমিয়ে আমরা স্বাধীনতা ভোগ করছি। এই সময়ে প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সরকারের কাজ করছি। সম্প্রতি ভারত ধর্ম ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সত্যটা তুলে ধরতে হবে। যেটা সত্য, যেটা আসলে দেশে ঘটেছে, সেই জিনিসটাই যেন তুলে ধরতে পারি। দেশের মানুষের কাছে প্রচার করতে পারি, এতটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফেসবুকে নানা গুজব রটানো হচ্ছে, ফেক আইডি খুলে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি রাজপথ থেকে পরাজিত হয়ে এখন অনলাইনে তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। আমরা যাতে সচেতন হই, কোনো মিথ্যা তথ্য বা গুজব বিশ্বাস না করি। স্থানীয় সাংবাদিকেরা রংপুর অবহেলিত জেলা কেন, জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা  বলেন, আমরা অবশ্যই মনে করি, রংপুর অবহেলিত। বাজেটগুলোতে রংপুরে অল্প পরিমাণ বাজেট দেয়া হয়। তার দ্বিগুণ, তিনগুণ বাজেট দেয়া হয় গোপালগঞ্জে। এই যে বৈষম্য, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই ছিল। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা অবশ্যই সে অনুযায়ী কাজ করছি। রংপুরের যে বৈষম্য অবহেলা, তা অবশ্যই আমরা দূর করবো। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের যা ন্যায্য প্রাপ্তি, সেই ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ হয়েছেন, সেখানে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অবহেলিত থাকবেন না, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকাত আলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন মোরশেদ হোসেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন মিজানুর রহমান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কমলেস চন্দ্র রায়, কলা অনুষদের ডিন শফিকুর রহমান, বিজনেস স্টাডিজের ডিন ফেরদৌস রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

Saturday, September 21, 2024

পিতার ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তিতে ঠাঁই মিলছে না মেয়েদের

সরিষার তেল মিল মালিক পিতার রেখে যাওয়া ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তিতে ঠাঁই মিলছে না ৮ মেয়ের। দেশের প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে ওই সম্পত্তি থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করেছে দুই ভাই। ঘটনাটি সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার সানাউল্লাহ ওয়েল মিলের মালিক মৃত সানাউল্লাহ পরিবারের। পিতার সম্পত্তির দাবিতে গত ৭ দিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তার জীবিত মেয়ে মেহেজাবিন, সুফিয়া খাতুন ও তার নাতি নাতনিরা।
সরজমিন দেখা যায়, বাবার বিলাসবহুল  বাড়ি, আছে গাড়ি এবং ওয়েল মিল। অথচ জরাজীর্ণ বারান্দায় সন্তান নাতিদের নিয়ে অসহায়ের মতো বসে আছেন মেয়ে মেহজাবীন ও সুফিয়া খাতুন। ভাইয়ের ছেলেরা অন্যান্য রুম ও টয়লেটে তালা দেয়ায় তারা এখানে অবস্থান করছেন। দুই ভাই ও আট বোনের মধ্যে সবার ছোট মেহজাবিন বলেন, ১৯৮০ সালে বাবা মারা যাওয়ায় ভাইয়েরা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, মা শাহেরবানিকেও ভালোভাবে দেখাশুনা করেনি ভাইয়েরা। মা ক্ষুধার জ্বালায় এক মুষ্টি মুড়ির জন্য ছেলেদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কপালে জোটেনি খাবার। খাবারের বদলে ছেলেদের কাছ থেকে মিলেছে তিরস্কার।
তিনি বলেন, বাবার এত সম্পত্তি থেকেও আমার মা যেখানে এত কষ্ট ভোগ করে দুনিয়া ত্যাগ করেছে। আমরা সেসব সম্পত্তির সঠিক ভাগ চাই। এ বিষয়ে কথা হয় বাড়ির দখলে থাকা মৃত সানাউল্লাহ’র নাতি মাসুদ আলম লিটনের সঙ্গে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দাদা সানাউল্লাহ তার সম্পত্তি দুই ছেলেকেই অর্থাৎ আমার বাবা ও চাচাকে লিখে দিয়েছেন। কোনো মেয়েকে লিখে দেননি। ফলে আমার ৮ ফুফুর এ সম্পত্তিতে কোনো অধিকার নাই।