Saturday, November 15, 2025
দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর ভারতে আবার ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, কাশ্মীরে চলছে ধরপাকড়
প্যাম্ফলেটের ভাষা ছিল হুমকিতে পূর্ণ। সেখানে কাশ্মীরে অবস্থানরত ভারতীয় সরকারি বাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
প্যাম্ফলেটে লেখা ছিল, ‘স্থানীয় মানুষের মধ্যে যারা এই সতর্কবার্তা মেনে চলবে না, তাদের বিরদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
এতে শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যবর্তী মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী দোকানদারদেরও সতর্ক করা হয়েছিল। সরকারি বাহিনীগুলোকে আশ্রয় দিলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
একসময় এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়াটা সাধারণ ঘটনা ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কাশ্মীরে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল এবং স্থানীয় ও পাকিস্তান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাত তখন এ ধরনের ঘটনা দেখা যেত।
২০১৯ সালের আগস্টে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। রাজ্য হিসেবে এটির স্বীকৃতি বাতিল করে এবং এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে এমন পোস্টার দেখা যাওয়ার ঘটনা অনেকটাই বিরল হয়ে গিয়েছিল। সশস্ত্র সহিংসতাও কমেছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় হামলা নিয়ে কাজ করা সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সশস্ত্র হামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৭। আর ২০২৫ সালে তা ১৪৫-এ নেমে আসে।
সম্প্রতি নওগামে নতুন করে প্যাম্ফলেট দেখা যাওয়ার পর তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তে বলা হয়েছিল, একাধিক ব্যক্তি হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এর মধ্যে উমর নবী নামের এক চিকিৎসকও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার নয়াদিল্লিতে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় এবং ভারতের অনেক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাবের নতুন ঢেউ তৈরি করেছে।
নওগামে প্যাম্ফলেটের উৎস খুঁজতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে মনোযোগ দেন। ফুটেজে যা দেখা যায়, তার ভিত্তিতে তাঁরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেন। এর মধ্যে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার এক ইসলামী চিন্তাবিদও আছেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে এ তথ্য দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা তাঁর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
আটক ২৪ বছর বয়সী ইসলামী চিন্তাবিদের নামে ইরফান আহমেদ। তিনি শ্রীনগরের একটি স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম। আর ওই শ্রীনগরেই পোস্টারগুলো দেখা গিয়েছিল।
ইরফানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিশের সামনে আসে আরেকটি নাম: আদিল রাঠোর। তিনি কুলগামের ওয়ানপোরা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামটি শ্রীনগর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
পুলিশ রাঠোরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পায়নি। পরে তাঁকে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করছিলেন।
পুলিশ দাবি করেছে, তারা জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে রাঠোরের লকারে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল পেয়েছে। রাঠোর ওই কলেজে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
এদিকে রাঠোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে আরেক সহযোগীর নাম। তিনি হলেন, আরেক কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গণাই। তিনি দিল্লির কাছে ফরিদাবাদের অবস্থিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
ভারতীয় পুলিশের দাবি, তারা ফরিদাবাদে গণাইয়ের নামে ভাড়া নেওয়া দুটি বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে সেখান থেকে ২ হাজার ৯০০ কেজি দাহ্য রাসায়নিক ও অস্ত্র উদ্ধার করেন।
কাশ্মীরে মোতায়েন ভারতীয় পুলিশ দাবি করছে, এ গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা এমন একটি ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’–কে উন্মোচন করতে পেরেছে–যারা জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে যুক্ত। এজিইউএইচ হল একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, যা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
২০১৯ সালের মে মাসে সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত স্থানীয় কমান্ডার জাকির রশিদ কাশ্মীরে এজিইউএইচ নামের সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তবে ভারতীয় পুলিশের দাবি, প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে আসা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলটি আবার সক্রিয় হয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান তদন্তের সময় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক গণাই ও রাঠোর, ইসলামী চিন্তাবিদ ইরফান আহমেদ এবং আরও চারজন।
এই চারজনের মধ্যে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরের এক নারীও রয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত করতে করতে উমর নবী নামে এক কাশ্মীরি চিকিৎসক সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছিলেন তাঁরা।
তবে নবীকে গ্রেপ্তার করার আগেই গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীরা বলছেন, ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক উমর নবীই বিস্ফোরকভর্তি ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
‘কাশ্মীরে ব্যাপক অভিযান’
নয়াদিল্লির ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ। এতে এক তরুণকে কালো মুখোশ পরে একটি গাড়ি নিয়ে দিল্লির টোল বুথ পার হতে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, একই গাড়ি ধীরে ধীরে যানজটে ভরা চৌরাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পরই স্ক্রিনে হলুদ আলোর ঝলকানি দেখা যায়।
বিস্ফোরণের পর দেশব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়। কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। ১২ নভেম্বর শ্রীনগরের রাস্তায় রাস্তায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে তারা।
শুধু দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলাতেই নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। বারামুল্লা, পুলওয়ামা ও অবন্তীপুরেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।
দিল্লিতে বিস্ফোরিত গাড়ির চালক উমর নবীর পরিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার কোইল গ্রামে থাকে।
নবীর ভাবী মুজামিল আখতার বলেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ আমার দেবরকে নিয়ে গেল এবং পরে আমার স্বামীকেও। সংবাদমাধ্যম ও পুলিশকে এখানে দেখে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কিছুই জানতাম না।’
মুজামিল আখতার বলেন, পুলিশ নবীর মাকেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে।
মুজামিল আখতার, ‘আমাদের পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমি শুক্রবার উমরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে স্বাভাবিক ছিল এবং বলেছিল তিন দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে। আমরা সবাই তাঁর আসার খবর নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলাম। আমরা এরকম কিছু আশা করিনি।’
স্বজনেরা বলছেন, শ্রীনগরে স্কুল ও মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় নবী অসাধারণ ছাত্র ছিলেন। পরিবারের মানুষেরা উমরের কৃতিত্বের জন্য গর্ববোধ করতেন।
নবীর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারও কম দূরত্বে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক চিকিৎসক গণাইয়ের বাড়ির অবস্থান। সেখানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
মুজাম্মিল গণাইয়ের বাবা শাকিল গণাই আল–জাজিরাকে বলেন, গত মঙ্গলবার পুলিশ বলেছে, তাঁদের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদাবাদ থেকে কাশ্মীরে এনেছে।
শাকিল গণাই বলেন, ‘কী ঘটছে আমরা জানতাম না। এমন কিছু ঘটতে পারে বলে আমাদের ধারণাই ছিল না।’
শাকিল গণাই বলেন, মুজাম্মিল কোইল গ্রামের স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মির ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিসিনে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি পরে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি দুই বছর ধরে কাজ করছিলেন।
বাবা শাকিল গণাই বলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তার অন্য ছেলেকেও আটক করেছে।
তবে তদন্ত চলার মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামবিদ্বেষ ও কাশ্মীরবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১২ নভেম্বর ভারতের গুরুগাঁও শহরের পুলিশ হাউজিং সোসাইটিগুলোকে ডেকে কাশ্মীরি বাসিন্দাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেয়। এতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও সম্প্রতি কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ দিল্লি ও নয়ডার মতো শহরে বসবাসকারী কাশ্মীরি ভাড়াটিয়াদের বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কাশ্মীরি ছাত্র এবং অধিকারকর্মী নাসির খুয়েহামি বলেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কাশ্মীরি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের বর্তমান উদ্বেগ মূলত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়াদিল্লির বিস্ফোরণ এবং এ ঘটনার তদন্তের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ও সশস্ত্র গোষ্ঠী মোকাবিলায় ভারতের নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এখন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহীরা’ নতুন করে আর সদস্য নিয়োগ দিচ্ছে না। পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কাশ্মীরে সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত সব যোদ্ধা বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
তবে এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক।
নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের কার্যনির্বাহী পরিচালক অজয় সাহনি বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এমনটা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। এই চিকিৎসকেরা সহকর্মী ছিলেন। তাদের চিন্তাভাবনা হয়তো এক রকম ছিল বা তাঁরা হযতো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে উঠেছিল। আমি এটিকে নিয়োগ বলব না, বরং সংগঠিত করা বলব।’
![]() |
| দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণ স্থলে কাজ করছেন ফরেনসিক দলের সদস্য। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তান কি আরও স্বৈরশাসনের পথে হাঁটছে by মালিহা লোধি
উদ্যোগটি হলো সংবিধানের নতুন সংশোধনী। এটি ২৭তম সংশোধনী। পার্লামেন্টে ইতিমধ্যেই এটি পেশ করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যাচ্ছে, ২৭তম সংশোধনী পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে। আর সেই বদল দেশটির শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
গত বছর ২৬তম সংশোধনী গৃহীত হয়েছিল রাতের আঁধারে। ওই সময় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নিশ্চিত করতে সরকার যে চাপ প্রয়োগ করেছিল, তা প্রক্রিয়াটির বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে বিতর্কিত সংশোধনীটি পাস হয়। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের অধীন হয় এবং তা আইনের শাসনকে দুর্বল করে ফেলে। এর ফলে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত প্রতিটি মামলায় সরকার জয়লাভ করে।
মনে হচ্ছে প্রস্তাবিত ২৭তম সংশোধনী একই পথে হাঁটছে। সংবিধানবিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘বিচার বিভাগের ওপর রাষ্ট্রীয় দখল’ বলে আখ্যায়িত করছেন। বিরোধী নেতারা একে ‘প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ক্ষমতা দখলের পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। অনেকে একে গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি ও ‘বিচার ও রাজনীতির পৃথকতার নীতির ওপর আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সিনেটে উপস্থাপিত ২৭তম সংশোধনীতে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১. একটি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠা; ২. উচ্চ আদালতের বিচারকদের এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তরের ক্ষমতা এবং ৩. সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব–সংক্রান্ত সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন।
২৬তম সংশোধনীর সময়ও সরকার একটি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তীব্র বিরোধিতার মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। এর বদলে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করা হয়। তবে সেটিও সমালোচিত হয়। কারণ, বেঞ্চের সদস্য কারা হবেন, তা নির্ধারণে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ছিল। এতে সরকার ইচ্ছেমতো বিচারক বেছে নিয়ে নিজেদের স্বার্থসম্পর্কিত সাংবিধানিক মামলা নির্দিষ্ট বিচারকদের মাধ্যমে শুনানি করাতে পারে।
একটি সাংবিধানিক আদালত গঠনের বিরোধিতা করার যথেষ্ট যুক্তি আছে। কারণ, এতে সরকারের বেছে নেওয়া বিচারকদের দিয়ে এমন একটি আদালত তৈরি হবে, যা কার্যত সরকারের অধীনই কাজ করবে। এতে সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত মামলার এখতিয়ার হারাবে।
অন্যদিকে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের বিচারকদের এক আদালত থেকে অন্য আদালতে তাঁদের সম্মতি ছাড়াই স্থানান্তর করা যাবে। এতে সরকার বিচার কমিশনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে স্বাধীনচেতা বিচারকদের সরিয়ে দিতে পারবে।
সংবিধানের যে ২৪৩ অনুচ্ছেদ সরকারের হাতে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের ক্ষমতা দেয়, নতুন সংশোধনীতে তাতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, আধুনিক যুদ্ধের ধরন পাল্টে গেছে, তাই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কাঠামোতেও পরিবর্তন দরকার এবং ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদটির সাংবিধানিক স্বীকৃতি জরুরি।
এই সংশোধনীর ফলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব আরও বেশি সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে যে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিতেন, তা বাতিল করা হবে। এর বদলে সৃষ্টি হবে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস নামের পদ। আর এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেনাপ্রধানের হাতে।
এ ছাড়া ফিল্ড মার্শাল, মার্শাল অব দ্য এয়ারফোর্স এবং অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট—এই তিনজনকেই রাষ্ট্রপতির মতো আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হবে। তাঁদের কেবল ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণ করা যাবে। তাঁরা আজীবন ইউনিফর্ম পরার অধিকার রাখবেন এবং একই মর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করবেন। সব মিলিয়ে এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো, বেসামরিক ব্যবস্থার হাত থেকে ক্ষমতা আরও বেশি করে সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে যে গণতন্ত্রের ক্ষয় ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, তার পটভূমিতে ২৭তম সংশোধনী গণতন্ত্রের ওপর আরও একটি আঘাত হিসেবে এসেছে। এটি একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেবে।
আসলে পাকিস্তানে ‘পার্লামেন্ট আজ রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হয়েছে, জনসমাবেশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোকে দমন করা হয়েছে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে এবং বেসামরিক-সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তা পুরোপুরি সেনাবাহিনীর পক্ষে ঝুঁকে গেছে। এসব কিছু হয়েছে এমন একটি শাসক জোটের মাধ্যমে, যারা নিজেরাই সামরিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ‘অংশীদার’ হয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করে।
* মালিহা লোধি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত
- ডন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত
![]() |
| পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোহরান কোয়ামে মামদানি নামের অর্থ কী, কেন এত তাৎপর্য
৩৪ বছর বয়সী মামদানি ১৮৯২ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হচ্ছেন। স্বল্পপরিচিত একজন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার পর তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পান। নিউইয়র্কবাসীর সাশ্রয়ী জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে প্রচার চালান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, ফ্রি বাস ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা। এ কারণে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
অভিবাসী পটভূমি থেকে নিউইয়র্কে আসা অনেক মানুষের জন্যও এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন জোহরান মামদানি।
গত জুনে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিতর্কে জোহরান মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিকবার তাঁর নামের ভুল উচ্চারণ করেছিলেন।
‘নাম হলো মামদানি, এম–এ–এম–ডি–এ–এন–আই, আপনাকে এটি ঠিকভাবে উচ্চারণ করা শিখতে হবে। কারণ, আমাদের শুদ্ধ করে বলতে হবে,’ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিতর্কে কুমোকে বলেন মামদানি।
কিন্তু মামদানি নামের অর্থ এবং জোহরান কোয়ামে মামদানির পুরো নামের তাৎপর্য কী?
কোথা থেকে এসেছেন জোহরান মামদানি
জোহরান মামদানি উগান্ডায় ভারতীয় মা–বাবার সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। উগান্ডা ও যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক তাঁরা।
জোহরানের জন্ম উগান্ডায়। শিশু মামদানি বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে। সাত বছর বয়সে মা–বাবার হাত ধরে তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন। বাবার নাম মাহমুদ মামদানি। তিনি ভারতে জন্ম নেওয়া উগান্ডার শিক্ষাবিদ ও নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। জোহরানের মা মিরা নায়ার বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা। জোহরানের বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন তাঁর পরিবার উগান্ডা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যায়। সেখান থেকে নিউইয়র্ক।
২০১৮ সালের মধ্যে জোহরান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু উগান্ডার নাগরিকত্বও রাখেন। তিনি এখনো নিয়মিতভাবে তাঁর পরিবারসহ উগান্ডা সফর করেন। অতিসম্প্রতি, জুলাইয়ে রমা দুওয়াজির সঙ্গে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান উদ্যাপন করতে উগান্ডায় গিয়েছিলেন।
মামদানির নামের অর্থ
জোহরান কোয়ামে মামদানি—নামটি নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরানের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে প্রতিফলিত করে।
জোহরানের বংশনাম ‘মামদানি’। এটি একটি সাধারণ গুজরাটি নাম, যা মুসলিমদের একটি সম্প্রদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ইসলামি নাম।
ব্যুৎপত্তিগতভাবে মামদানি প্রায় ‘মোহাম্মাদান’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর অনুসারীদের বহুল ব্যবহৃত একটি নাম। মামদানির প্রথম নাম ‘জোহরান’ আরবি ও ফারসি উভয় উৎস থেকে আসা। এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, যেমন ‘আলো’, ‘জ্যোতি’, ‘ফুল ফোটা’।
জোহরানের মধ্যনাম কোয়ামে। এটি আকা জনগোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। আকা জনগোষ্ঠী মূলত ঘানায় বাস করে এবং পশ্চিম আফ্রিকার আইভরিকোস্ট ও টোগোর কিছু অংশেও দেখা যায়।
মামদানির বাবা ঘানার মুক্তিযোদ্ধা কোয়ামে নক্রুমাহকে খুব পছন্দ করেন। নক্রুমাহ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই পরিচালনা করেছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে ঘানার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন।
মধ্যনাম কোয়ামের তাৎপর্য
আকা জনগোষ্ঠীর ভাষায় কোয়ামে নামের অর্থ ‘শনিবারে জন্ম নেওয়া’। এটি ‘জ্ঞান’ ও ‘নেতৃত্ব’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ অর্থের বাইরে কোয়ামে নামটি ঘানার বিপ্লবী কোয়ামে নক্রুমাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ১৯৫৭ সালের মার্চে ব্রিটিশ শাসনের অধীন থাকা সাব-সাহারা আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে ঘানা স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কোয়ামে নক্রুমাহ। তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। তবে ১৯৬৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁকে উৎখাত করা হয়।
কোয়ামে নক্রুমাহ আফ্রিকা মহাদেশে প্যান-আফ্রিকানিজমের একজন প্রভাবশালী প্রচারক ছিলেন। এ মতবাদ আফ্রিকার দেশগুলোর ঐক্য ও আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে সংহতি বজায় রাখতে উৎসাহিত করে, যা ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনকালে আফ্রিকাকে ভাগ করার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
১৯৬৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর নক্রুমাহ নির্বাসনে জীবন কাটিয়েছিলেন এবং গিনিতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
![]() |
| নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটের আগে যে ‘বিজয়’ দরকার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির by এ কে এম জাকারিয়া
অন্তর্বর্তী সরকার তারপরও দলগুলোকে ঐকমত্যে আসার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল সম্ভবত কৌশলগত কারণে। সরকার এখন অন্তত বলতে পারবে যে তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে আসার সুযোগ দিয়েছিল। আর রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেরা এই ‘সুযোগ’ নেয়নি সম্ভবত কৌশলগত বিবেচনা থেকেই।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগেই একটি ‘বিজয়’ পেতে চায় রাজনৈতিক দলগুলো। এর ওপর ভর করে তারা নির্বাচনের মাঠে নামে। এই পুঁজি ছাড়া দলগুলো ভরসা পায় না।
নব্বইয়ের পরের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসা দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চায় না, ক্ষমতা ধরে রাখতে তারা নানা ফন্দিফিকির করে। নির্বাচনে কারচুপির কৌশল নেয়। আন্দোলন করে বিরোধী পক্ষকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নিতে হয়। আর সেই বিজয় নিয়ে মাঠে নামে বিরোধী পক্ষগুলো। ইতিহাস বলে, নির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষেই গেছে।
২০১৪ থেকে ২০২৪—এই ১০ বছরের ইতিহাস অবশ্য ভিন্ন। কর্তৃত্ববাদ থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের এই সময়ে নির্বাচন বলে কিছুই আর কার্যকর ছিল না। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য এ দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আবারও দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অনেক রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। পরাজিত পক্ষ পালিয়েছে এবং তাদের দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করছে এবং সে অনুযায়ী দেশ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তির বিপরীতে বিজয়ী পক্ষ অনেকগুলো। এই বিজয়ী পক্ষগুলোই লড়বে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার হটানোর যে ‘বিজয়’, সব প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলই এর অংশীদার। তাই নির্বাচনের আগে দলগুলোর নতুন বিজয় দরকার। রাজনীতিতে এখন যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও পাল্টাপাল্টি, তার পেছনে আসলে কাজ করছে নির্বাচনের আগের বিজয় অর্জনের লড়াই।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের ধারাবাহিকতায় তিনটি দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সেভাবেই বিবেচনা করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে এই রাজনৈতিক দল তিনটি এখন নির্বাচনপূর্ব ‘বিজয়’ এর হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত।
বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট। জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে দলটি যেসব ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারেও তারা অটল থাকতে চায়। জামায়াত চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট। তারা সংসদের দুই কক্ষেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক বা পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছে। তবে নিম্নকক্ষে না হলেও উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে তারা কোনোভাবেই পিআরের দাবি ছাড়তে রাজি নয়।
অন্যদিকে গণভোটের তারিখ নিয়ে এনসিপির অবস্থান তেমন কঠোর নয়। তারা জাতীয় নির্বাচনের দিন বা আগে যেকোনো সময়েই গণভোট অনুষ্ঠানে সম্মত আছে। তারাও উচ্চকক্ষে পিআর এবং নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়। এনসিপি অবশ্য এখনো জুলাই সনদে সই করেনি। তবে দলটির জোরালো দাবি হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে।
জামায়াতসহ আট দল এসব দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। আজ এই দলগুলোর ঢাকায় একটি সমাবেশ হওয়ার কথা আছে। বিএনপি নির্বাচনী সমাবেশ ও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও সম্ভবত তাদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি না করার কৌশল নিয়েছে। এনসিপিও এই ইস্যুতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে না। তবে নেতাদের মুখে গরম-গরম কথা থেমে নেই।
সবকিছু মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তিনটি দলের এই বিরোধপূর্ণ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও অনেকের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে একমত হওয়ার জন্য যে সাত দিন সময় দিয়েছিল, তা গতকাল শেষ হয়ছে। ঘোষণা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা একমত হতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই এখন এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকার তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এই তিন দলের কোনোটির দাবি একেবারে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারবে?
অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিন সময় দিয়েছিল ঠিকই, তবে সরকার একেবারে হাত গুটিয়ে বসে ছিল, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমরা জানি যে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নিয়ে দর-কষাকষি ও আলোচনা চালিয়ে গেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব বা কোন দল কোন ক্ষেত্রে কতটুকু ছাড় দিতে চায় বা পারে, তা বিবেচনায় নিয়েই সম্ভবত সরকার তাদের সিদ্ধান্ত নেবে।
আগেই বলেছি, নির্বাচনের আগে এই দলগুলোর কোনো না কোনো ইস্যুতে বিজয় দরকার। সরকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সব দলকেই একসঙ্গে ‘বিজয়ী’ করা। কিন্তু দলগুলোর চাওয়া ও দাবি মধ্যে যেহেতু পরস্পর বিরোধিতা রয়েছে, তাই এক দলের বিজয় মানে আরেক দলের পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। এই বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য পথ হচ্ছে সব দলেরই কিছু মানা এবং কিছু না মানা। এর সঙ্গে জনমত ও সাধারণভাবে যৌক্তিক কিছু বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার দাবিটি অবাস্তব ও অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আয়োজনের দিক দিয়ে গণভোট জাতীয় নির্বাচনের মতোই বিস্তৃত। অল্প সময়ের মধ্যে এই গণভোট করার চেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তা ছাড়া অন্য ঝুঁকিও আছে।
সম্প্রতি এক লেখায় লিখেছিলাম, ‘গণভোটে এমনিতেই উপস্থিতির হার খুব কম থাকে, কোনো রাজনৈতিক পক্ষের বর্জনের ডাক পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলতে পারে’ (সংবিধান সংস্কারে জগাখিচুড়ির গণভোট, প্রথম আলো, ৩০ অক্টোবর ২০২৫)। জাতীয় নির্বাচনের আগে কম ভোটারের অংশগ্রহণে যদি কোনো গণভোট হয়, তা এক বড় বিপর্যয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এই বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের আয়োজন হবে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। অন্তর্বর্তী সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাতে বিএনপির বিজয় হবে, কিন্তু হারবে জামায়াত। জামায়াতকে বিজয়ী করার পথ হচ্ছে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
বিএনপির উচ্চকক্ষে পিআরের বিরোধিতা করার পেছনে যে দলের সংকীর্ণ স্বার্থ কাজ করছে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, উচ্চকক্ষে পিআর না হলে উচ্চকক্ষ করার কোনো যৌক্তিকতাই থাকে না। সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর নিশ্চিত করা গেলে শুধু জামায়াত নয়; এনসিপিকেও ‘বিজয়ী’ করা যাবে। এনসিপি অবশ্য শাপলা কলি প্রতীক আদায় করে এরই মধ্যে একটি ‘বিজয়’ অর্জন করে ফেলেছে। সব পক্ষের একটি মূল দাবি মেনে নিয়ে এভাবেই একটা ‘উইন উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা যায়।
রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু নিজেরা সমঝোতায় আসতে পারেনি, তাই সরকারের সিদ্ধান্তকেই এখন মেনে নিতে হবে। আর সরকারের দায়িত্ব হলো গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যা সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশকে নির্বাচনমুখী করে তুলবে।
* এ কে এম জাকারিয়া, প্রথম আলোর উপসম্পাদক
- akmzakaria@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন উমরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী আজ শুক্রবার বলেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার ভোরের মধ্যে সন্দেহভাজন চালক উমরের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে।
দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত চলার মধ্যে কাশ্মীর, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের একাধিক সংস্থা তথ্যের সূত্রগুলো মেলাতে কাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের একজন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং একজন ছাত্রসহ আরও দুজনকে উত্তর প্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মোদি সরকার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সব নথিপত্রের ফরেনসিক নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের দাবি, লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কাজ করতেন।
দিল্লি পুলিশ লাল কেলার কাছে বিস্ফোরিত হওয়া গাড়িটির চালক উমর নবীর শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তাঁর গতিবিধি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এমনকি কেন্দ্রীয় মোদি সরকার নানা অজুহাতে মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন মুসলিমদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার।
![]() |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পয়লা অগ্রহায়ণে ‘আদি নববর্ষ’ উদ্যাপন করবে ডাকসু
চারুকলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্য ও ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ‘আদি নববর্ষ’ উদ্যাপন করা হবে। অনুষ্ঠানটি চারটি পর্বে সেদিন রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম পর্বে হবে রংতুলিতে নবান্ন। দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং চারুকলার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাই ও নবান্ন থিমে ছবি আঁকা হবে। মোট ১৫ জন শিল্পী এই পর্বে ছবি আঁকবেন। পর্বটি শুরু হবে সকাল ১০টায়। দ্বিতীয় পর্বে হবে আদি নববর্ষ আনন্দযাত্রা। উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব এটি। চারুকলার সহযোগিতায় আনন্দযাত্রার জন্য তিনটি মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে। একটি মোটিফ জুলাই নিয়ে। একটি মোটিফ জেলেজীবন নিয়ে এবং অন্যটি কৃষিজীবন নিয়ে। এ ছাড়া গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের উপস্থাপনা থাকবে এতে। তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময়। বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের সদস্য বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে এই পর্বে থাকবে আবৃত্তি, নাচ, গান ও জাদু পরিবেশনা। আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে থাকবে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও পালাগান।
এ উদ্যাপনের কারণ তুলে ধরে মুসাদ্দিক বলেন, দেশজ সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নববর্ষ উদ্যাপন, যা বর্তমানে পয়লা বৈশাখ হলেও এককালে ছিল পয়লা অগ্রহায়ণ। বাংলা সনের পঞ্জিকায় যে ১২টি মাস আছে, তার মধ্যে ১১টিই নক্ষত্রের নামে। এ ক্ষেত্রে ‘বৈশাখ’ বিশাখা নক্ষত্রের নামে, ‘জ্যৈষ্ঠ’ জ্যাষ্ঠা নক্ষত্রের নামে, ‘আষাঢ়’ আষাঢ়ার নামে এবং এভাবে শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র যথাক্রমে শ্রবণা, পূর্বভাদ্রপদা, অশ্বিনী, কৃত্তিকা, পৌষী, মঘা, ফাল্গুনী ও চিত্রার নামে। যে মাসটি নক্ষত্রের নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেটি হচ্ছে অগ্রহায়ণ; আর এই নামের সঙ্গে মিশে আছে বাংলার কিছু ইতিহাস, কিছু স্মৃতি এবং কিছু বিস্মৃত হয়ে যাওয়া তথ্য।
মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, প্রায় প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলে নববর্ষের উৎসব উদ্যাপিত হতো। নববর্ষের আদি অনুষ্ঠান হিসেবে ‘আমানি’ উৎসব বা ‘নবান্ন’ উৎসবের কথা বলেছেন ঐতিহাসিকেরা, যা পয়লা অগ্রহায়ণে অনুষ্ঠিত হতো। এটি ছিল মূলত কৃষকের উৎসব। সম্রাট আকবরের সময় থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ‘বৈশাখ’ মাসকে বাংলা বছরের প্রথম মাস হিসেবে প্রচলন করা হয়। কিন্তু বৈশাখকে বছর শুরুর মাস আর পয়লা বৈশাখকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে বাংলার মানুষ উদ্যাপন করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের সূচনা হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। পরে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের ব্যবস্থা করেন। কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারেও এভাবে ধীরে ধীরে পয়লা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু উৎসাহ-উদ্দীপনার খবরাদি পাওয়া যায়। ১৯৬৭ সালে এই বংলায় প্রথম পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাকিস্তানি শাসকেরা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করায় পাকিস্তানবিরোধী মানসিকতার বাঙালির কাছে পয়লা বৈশাখ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মুসাদ্দিক বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম আজ ভুলতে বসেছে, এককালে পয়লা অগ্রহায়ণই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নববর্ষ। প্রজন্মকে সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা নবান্ন উৎসবকে আদি নববর্ষ উৎসব নামে উদ্যাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি যুবায়ের, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মৃন্ময় মিজান উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ। আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 15
(6)
- দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর ভারতে আবার ইসলামবিদ্বেষ ছড়া...
- পাকিস্তান কি আরও স্বৈরশাসনের পথে হাঁটছে by মালিহা ...
- জোহরান কোয়ামে মামদানি নামের অর্থ কী, কেন এত তাৎপর্য
- ভোটের আগে যে ‘বিজয়’ দরকার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি...
- দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন উমরের বাড়ি গুঁ...
- পয়লা অগ্রহায়ণে ‘আদি নববর্ষ’ উদ্যাপন করবে ডাকসু
-
▼
Nov 15
(6)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




