Monday, August 3, 2020
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সামরিক প্রশিক্ষণকে কীভাবে চিরতরে বদলে দিয়েছিল
![]() |
| দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর মার্কিন মেরিন সদস্যরা পতাকা উত্তোলন করছে। |
হত্যার অনুপাত
![]() |
| দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনা ট্রিগার-চাপতে কি লজ্জা পেতেন? |
![]() |
| মার্শালের গবেষণা সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করার পদ্ধতি পরিবর্তন করেছিল। |
![]() |
| গবেষণা দাবি করেছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সেনারা তাদের অস্ত্র বেশি ব্যবহার করেছে। |
মেথোডলজি
![]() |
| কিছু মার্কিন সেনা মার্শালের সাথে তাদের সাক্ষাৎকারের কিছু বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। |
প্রশিক্ষণ কৌশল
![]() |
| প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্শালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে |
বিতর্ক
![]() |
| ১৯৪০-এর দশকে মার্কিন সেনারা বুলস আই-এর মতো সাধারণ টার্গেট ব্যবহার করত |
![]() |
| মার্শালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগ গবেষণা সন্দেহজনক। |
![]() |
| আগ্রাসী বেয়নেট আক্রমণ এখনও মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণে শেখানো হয় |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্ষপূর্তি বিশেষ: উইকিলিকস-এর আলোচিত ফাঁসগুলো by মিছবাহ পাটওয়ারী

২০১০ সালের ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে উইকিলিকস। এতে দেখা যায়, ওই হামলায় কীভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এক ব্যক্তি সবাইকে জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ করে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা একটি গাড়িতেও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় নিজ সহকারীসহ নিহত হন রয়টার্সের একজন ফটোগ্রাফার। ওই হামলায় মোট ১৮ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। এই ভিডিও আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের একটি প্রামাণ্য দলিল।
আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ৭৫ হাজার নথি
২০১০ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ৭৫ হাজার গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার নথি ফাঁস করে দেওয়া হয়। এছাড়া তালেবানের ক্রমবর্ধমান হামলা ও দেশটির অস্থিরতার নেপথ্যে পাকিস্তান ও ইরানের যোগসাজশের কথাও উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ লাখ কূটনৈতিক নথি ফাঁস
২০১০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৩৮টি কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস। প্রতিষ্ঠানটি এর নাম দেয় ক্যাবলগেট। দুনিয়া কাঁপানো ওইসব তথ্য ছিল মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের। আকারের দিক থেকে এটি ছিল ১ দশমিক ৭৩ গিগাবাইট। এর আগের সবচেয়ে বড় ফাঁসের চেয়ে এর ডাটার পরিমাণ ছিল প্রায় শতগুণ বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭৪টি দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে এসব সংগ্রহ করা হয়।
গুয়ানতানামো বে কারাগার
২০১১ সালের এপ্রিলে উইকিলিকসের ফাঁস করা গোয়েন্দা নথিতে উঠে আসে কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারে মার্কিন বাহিনীর হাতে জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের বিষয়টি। সেখানে ১৪ থেকে ৮৯ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের ৮০০ বন্দির ওপর মার্কিন নিপীড়নের নথি ফাঁস করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
সৌদি-যুক্তরাজ্য যোগসাজশ
২০১৫ সালের জুনে প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদ পেতে গোপন ভোটবাণিজ্যে মেতেছিল সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফাঁস হওয়া নথি থেকে ওই তথ্য পায় উইকিলিকস।
ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির ই-মেইল
২০১৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির ১৯ হাজার ২৫২টি ই-মেইল এবং আট হাজার ৩৪টি অ্যাটাচমেন্ট ফাঁস করে উইকিলিকস। এতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ওই ঘটনার জেরে এর সঙ্গে যুক্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা পদত্যাগ করেন।
দুনিয়াজুড়ে সিআইএ’র নজরদারি
২০১৭ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিআইএ’র হ্যাকিং কৌশল নিয়ে ‘ভল্ট সেভেন’ নামে বেশ কিছু নথি প্রকাশ করে উইকিলিকস। এতে দেখা যায়, দুনিয়াজুড়ে লোকজনের গাড়ি, স্মার্টফোন, স্মার্ট টেলিভিশন, ওয়েব ব্রাউজার ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে নজরদারি চালায় সিআইএ। আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ, স্যামসাং টেলিভিশন কিছুই এ নজরদারি তালিকার বাইরে নয়। এর মধ্য দিয়ে সিআইএ এসব ডিভাইস হ্যাক করে তথ্য হাতিয়ে নেয়। গোয়েন্দা সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় আকারের নথি ফাঁসের ঘটনা।
সূত্র: উইকিলিকস-এর ওয়েবসাইট।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাতৃদুগ্ধের প্রসার বাড়াতে যা করণীয় by মো. রহমত উল্লাহ

বুকের দুধে বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান সঠিক মাত্রায় বিদ্যমান, পাশাপাশি বুকের দুধ সর্বাধিক নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশুকে প্রক্রিয়াজাত দুধ খাওয়াতে মাকে খাবার তৈরি করতে যেমন কষ্ট পোহানোর দরকার পড়ে বুকের দুধ খাওয়াতে তেমনি কষ্টের কোনো বালাই থাকে না। এতে করে মায়ের কষ্ট ও সময় উভয় যেমন বাঁচে তেমনভাবে শিশু তার উপযুক্ত খাবার পেয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শিশুকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে নানা সূচক জড়িত। এর মধ্যে অন্যতম হলো জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো এবং ছয় মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো। বিশ্বব্যাপী জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানোর (Early Initiation of Breastfeeding) হার ৪৪ শতাংশ এবং ইউনিসেফ গ্লোবাল ডাটাবেজ ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশে এ হার ৫০.৮ শতাংশ। ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর (Exclusive Breastfeeding) হার ৪০ শতাংশ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন-এর রিপোর্ট অনুয়ায়ী ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এ হার ৫৫ শতাংশ। ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী মাত্র ২৩টি দেশ ৬০ শতাংশের ওপর এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং বা ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে পেরেছে। বুকের দুধ খাওয়ানোর বৈশ্বিক সূচকের চেয়ে দৃশ্যত বাংলাদেশ খানিকটা এগিয়ে থাকলেও এসব সূচকে আরো উন্নতি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
দ্য কস্ট অফ নট ব্রেস্টফিডিং শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে বিশ্ব জুড়ে প্রতিবছর ৬৯৪৩২২ মৃত্যুর পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত নিয়মে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা না করা। আর্থিক হিসেবে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউনিসেফের তথ্য বলছে এদের মধ্যে ৫৯৫৩৭৯টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে। ৯৮২৪৩ নারীর মৃত্যু ঘটে সঠিক উপায়ে সন্তানকে দুধ না খাওয়ানোর কারণে স্তন, জরায়ু ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায়। বিশ্বব্যাপী শিশু স্থূলতার পেছনে সবচেয়ে বড়ো কারণ মাতৃদুগ্ধ না খাওয়ানো। ইউনিসেফের মতে ৯৭৪৯৫৬টি স্থূলতার ঘটনার পেছনে দায়ী সঠিক উপায়ে বুকের দুধ না খাওয়ানো।
ল্যানসেট ব্রেস্টফিডিং সিরিজের এক গবেষণায় দেখা গেছে সঠিক উপায়ে বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা শুরু করতে পারলে প্রতিবছর বিশ্বে ৮২৩০০০ শিশুমৃত্যু এবং ২০০০০ মাতৃমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। অ্যালাইভ এন্ড থ্রাইভের গবেষণা বলছে সঠিক নিয়মে বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫৯৪৮টি শিশু এবং ৬১০ জন মায়ের মৃত্যু রোধ করতে সক্ষম। তাদের হিসেবে আরো বলছে বাংলাদেশে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাবার কিনতে অভিভাবকদের বার্ষিক খরচ ৫৩৪ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্যখাতে বুকের দুধ না খাওয়ানোজনিত রোগের চিকিত্সায় সরকারের ব্যয় প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার।
বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়ানোর দায়িত্ব শুধুমাত্র মায়ের ওপর বর্তায় না। এটি একটি সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বিশ্বব্যাংকের ফ্রেমওয়ার্ক ফর নিউট্রিশন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর হারকে প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জন করতে হলে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার কমিউনিটি পর্যায়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাতৃদুগ্ধের প্রসার বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এটি একটি মাইলফলক হিসেবে হাতছানি দিবে।
>>>লেখক :শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চা-চিত্র: লঙ্কা চায়ের মানবীয় ভূগোল by ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
শ্রীলংকা চায়ের গল্প আসলে মানুষেরই গল্প। এর আনসাঙ হিরোরা হলো শ্রীলংকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাগান-কর্মীরা। এসব নারী-পুরুষকে ১৮৩০-১৮৮০ সময়কালে তালাইমানারের নর্থ ওয়েস্টারমসি বন্দরে জাহাজযোগে আনা হয়েছিল। সেখান থেকে তারা ঘন জঙ্গল দিয়ে পায়ে হেঁটে সদ্য বন কেটে ক্যান্ডি, নওয়ারা ইলিয়া ও তালাওয়াকেলের মতো স্থানে তৈরি করা বাগানে পৌঁছেছিল। অনেক শ্রমিক পথেই মারা পড়েছিল। অন্যরা প্রাণ হারিয়েছিল ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ রোগে।
বর্তমানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সব বাগান-কর্মীকে শ্রীলংকার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা দ্বীপদেশটির বহুমুখী সামাজিক আবরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
![]() |
| সংগ্রহ করা চায়ের পাতা জমা দিচ্ছে শ্রমিকরা |
চা-বাগান ১৯৯০-এর দশক থেকে পুরোপুরি স্থানীয় মালিকানায় চলে এলেও বাগানের সাথে জড়িত দাস-শ্রমিকদের উপনিবেশ সম্পৃক্ততা এখনো রয়ে গেছে। আবার চা তোলার কাজ প্রায় পুরোপুরি নারীদের হাতে থাকায় এটি নারীদের সংগ্রামের কাহিনীও।
স্বাদে ও গন্ধে শ্রীলংকার চা অতুলনীয়। এ চা ভারতীয় ও কেনিয়ান চায়ের সাথে পাল্লা দেয়। অবশ্য বর্তমানে শ্রমিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় শ্রীলংকার চায়ের সেই সুনাম হুমকির মুখে পড়েছে।
তাদের না-বলা কাহিনী ভাসে চাপের কাপে
চল্লিশ বছরের রানি। ক্ষিপ্র পায়ে চা-বাগান দিয়ে হাঁটছেন। দূর থেকে মনে হবে, তিনি সবুজ কার্পেটের উপর দিয়ে চলছেন। সকালের রোদে চা-পাতা ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই পাতাই তার জীবিকা ছিল। কেবল তার নয়, তার পূর্বপুরুষদেরও রুটি-রুজির উৎস ছিল এই চা পাতা। এখন অবশ্য আয়া হিসেবে কাজ করেন।
বয়স যখন ছিল ১৮, তখন থেকেই তিনি চা-বাগানে কাজ করেন। কোনো রকমে নাম লিখতে পারেন তিনি। আসলে তাদের পড়াশোনা করার মতো কোনো ব্যবস্থাও তার শৈশবে ছিল না। ফলে পড়াশোনা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন ব্যাপারেও পরিণত হয়েছিল।
তবে নিজে পড়াশোনা করতে না পারলেও তিনি তার সন্তানদের পড়াচ্ছেন। তিনি চান তার সন্তানরা যেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হন। এখন অবশ্য তার আয় বাড়ায় তিনি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে পারছেন। তার সময়ে তেমনটি করা সম্ভব ছিল না।
তবে তা কেবল তার একার আয় দিয়ে হচ্ছে না। তার স্বামী কাজ করেন কলম্বোতে একটি দোকান সহকারী হিসেবে। এতেই তার পক্ষে অনেক কাজ সহজ হয়ে গিয়েছে।
![]() |
| নতুন একটি সড়কে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন রানি |
তিনি জানান, আয়ার কাজে তিনি মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা আয় করেন। পরিশ্রমও খুব নয়। চা-শ্রমিক হিসেবেও তার আয় প্রায় একই ছিল। তবে তা ছিল অনেক বেশি পরিশ্রমের। তখন তাকে পোকামাকড়ের কামড় খেতে হতো, জোঁক ধরত, ঠাণ্ডায় ভুগতে হতো। ছুটিছাটাও তেমন পাওয়া যেত না। তাছাড়া থাকতে হতো ঘিঞ্চি মেসে। মালিকদের সাথে চা-শ্রমিকদের সম্পর্কও সবসময় মধুর থাকে না।
দুনিয়া যে ছোট নয়, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি চা-বাগান থেকে সরে গেছেন। তার মেয়ে পড়াশোনা করছে কাছের একটি চার্চে। ইংরেজিতেই হয় পড়াশোনা। এ নিয়ে তার গর্বও কম নয়।
এই রানিই বলে দিচ্ছে, চা-শ্রমিকদের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা চা শিল্পে নিয়োজিত থাকলেও পরবর্তী প্রজন্ম সম্ভবত এই পেশায় থাকবে না। তাহলে চা-শিল্পের কী হবে? শ্রমিক না থাকলেও তো চা-বাগানও থাকবে না। এ নিয়ে চা-শ্রমিকরা কী ভাবছে?
রানিই জানালেন, চা-পাতা কে তুলবে, তা আমার কাজ নয়। আমাদের সবার দিন-রাতের ভাবনা হলো, আমাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করা। বাগানে বন্দি থাকার নিয়তি আমরা মেনে নিতে পারি না। তারা আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় না, আমরা কেন তাদের দিকে তাকাব।
তার প্রকাশভঙ্গি ও স্বরই বলে দিচ্ছে, তারা এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভাবছেন।
চা-বাগানটির কাছাকাছি থাকা ছোট একটি গির্জায় দুই তরুণ নানকে দেখা গেল। তারাও এখন পড়াশোনার কথাই ভাবছে। তাদের মাথায় ভর করে আছে বিজ্ঞান, গণিত আর ইংরেজি।
সবুজ দিগন্ত
তবে চা বাগানের মালিকদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। ক্যান্ডি জেলার গালাসার একটি চা-বাগানের কথাই ধরা যাক। সেখানকার বেশির ভাগ শ্রমিকের বয়স ৫০ বছরের বেশি। নতুন শ্রমিক পাওয়া কঠিন। এমনকি স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাগানে কাজ করবে এমন কাউকেও পাওয়া যায় না।
বাগান-মালিক জানান, ১০ বছর পর চা তুলবে কে? তবে তিনি যতটা হতাশ, তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তার মেয়ে ততটা নন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলে ব্যাপক পরিবর্তন আনবেন বলে পরিকল্পনা করছেন। তিনি একদিকে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া শ্রমিকদের জুতার মতো সামগ্রীও দেওয়ার কথা ভাবছেন। ফলে কম শ্রমিকেও বেশি উৎপাদন হবে।
কিন্তু তাতে তো খরচ বেড়ে যাবে অনেক। এখনই দামের কারণে চা-শিল্প বেশ সঙ্কটে পড়েছে। দাম আরো বেড়ে গেলে বাজার পাওয়া কঠিন হবে বৈকি।
তবে তারা পরিবর্তন আনুন বা না আনুন, শ্রীলংকার চা-শিল্পে ইতোমধ্যেই পরিবর্তনের ঢেউ লেগে গেছে। অবশ্য তা হচ্ছে ধীরে ধীরে।

চা-বাগানেও একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। বাগানের আকার ও মালিকানায় নতুনত্ব আসছে। অনেক চা-শ্রমিক পর্যন্ত এখন যৌথভাবে বাগান কিনছে। অবশ্য এসবের আয়তন বেশ ছোট। এমন একটি উদাহরণ হলো ৩৫ বছরের রাতনাভেলি। তিনি পূর্বসুরীদের থেকে পাওয়া তার বিশাল বাগানের একটি অংশ বেশ কম দামে শ্রমিদের কাছে বিক্রি করেছেন। তারা এখন যৌথভাবে এটি পরিচালনা করছে। নিজের জমিতে কাজ করতে হওয়ায় এসব শ্রমিক পারিশ্রমিক নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান না।
ছোট চা-বাগান মালিক-শ্রমিকদের বিষয়টি তদারকির জন্য গড়ে ওঠেছে টি স্মল হোল্ডার্স অথোরিটি। এসব বাগান যাতে লাভজনক হয়, তা-ই দেখা এই সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব। রাতনাভেলি একসময় শিক্ষকতা করতেন কাছের একটি স্কুলে। এখন তিনি চা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, যে ফসলটিকে একসময় দাসত্বের প্রতীক বিবেচনা করা হতো, তা এখন মুক্তির বার্তা বয়ে আনছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










