Thursday, June 5, 2025

প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটে শিক্ষিকার রগরগে ছবি, অতঃপর...

কিরস্টি বুচান (৩৪) পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষিকা। পড়ান গ্লাসগোতে অবস্থিত ব্যানারম্যান হাইস্কুলে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি প্রাপ্ত বয়স্কদের একটি ওয়েবসাইটে নিজের নগ্ন ছবি পোস্ট করতেন। তার বিনিময়ে ভক্তদের কাছ থেকে মাসে উপার্জন করেন ৬০ হাজার পাউন্ড। শিক্ষিকা হয়ে এমন রগরগে ছবি পোস্ট করা নৈতিকতার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। এক পর্যায়ে কিছু ছবি চলে যায় তার শিক্ষার্থীদের হাতে। তারা বুচানের নগ্ন, রগরগে ওইসব ছবি স্কুলে পোস্ট করে। জানাজানি হয় সব। ফলে এখন শিক্ষা বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের নজরদারিতে আছেন ২৪ বছরের বুচান। এরই মধ্যে তিনি স্কুলে পড়ানো বাদ দিয়েছেন। দাবি করেছেন, অনেক দেনা হয়েছিল। সেটা শোধ করার জন্য সবেমাত্র তিনি ওই সাইটে ছবি পোস্ট শুরু করেছিলেন। বুচানের এ বিষয়ে তদন্ত করছে গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল। একই সঙ্গে তারা বিষয়টিকে জেনারেল টিচিং কাউন্সিল ফর স্কটল্যান্ডের (জিটিসিএস) কাছে হস্তান্তর করেছে। কিরস্টি বুচান এক সন্তানের মা। তাকে এখন ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের সামনে হাজির হতে হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিটিসিএস অভিযোগ করেছে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ‘জেসিকা জ্যাকরাবিটক্স’ ডাকনাম ব্যবহার করে প্রাপ্ত বয়স্কদের ওই ওয়েবসাইটে পেজ খোলেন। সেখানে তার প্রোফাইলে রগরগে ছবি ও ভিডিও বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়। নিজের জীবনীতে লিখেছেন- ‘গুড টিচার গোন ব্যাড, রিয়েলি ব্যাড’। অর্থাৎ খুবই ভাল শিক্ষিকা খারাপ হয়ে গেছেন, খুবই খারাপ। প্রতিদিন এতে ছবি পোস্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন। ওই প্রাপ্ত বয়স্কদের ওয়েবসাইটে তার এসব ছবি যারা দেখেছেন তাদের সবার বয়স ১৮ বছরে ওপরে নয়। ফলে এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮ বছর বয়সের আগে যৌন বিষয়ে কোনো বালক বা বালিকার এমন যৌনতায় জড়িত হওয়া আইন অনুমোদন করে না। ল্যাঙ্কাশায়ারের কোটব্রিজের বাসিন্দা মিস বুচান। তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি খবরের কাগজে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তখনও তিনি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত। এ সময়েই তিনি ওই ওয়েবসাইটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জিটিসিএস দাবি করেছে, তিনি যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন তাতে সততায় ঘাটতি ছিল। জবাবে মিস বুচান বলেন, চাইলে আপনি আমাকে ঘৃণা করতে পারেন। আমি সংকীর্ণমনা মানুষদের পছন্দ করি না। এসব মানুষ প্রকৃত সত্য না জেনে বিচার করে। একজন সাধারণ নারীর মতোই আমার শরীর আছে। আমার ত্রুটিগুলো দেখিয়ে দিলে মনে কিছু করবো না। আমি সারাবিশ্বের দিকে তাকাবো না। আমি আমার সন্তানের চাহিদা পূরণ করতে পারছি কিনা, দেখবো সেটা। তিনি আরও বলেছেন, ২০২২ সালে ওই ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়েছেন। কারণ, স্কুলে তিনি কম বেতন পেতেন। তার বাড়তি অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই চাহিদা পূরণ করতে এ কাজ করেছেন। এর আগে তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন।

mzamin

খোলা ট্রাক-পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

আর মাত্র দুদিন পরেই কোরবানির ঈদ। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাসের ছাদসহ ট্রাক ও পিকআপভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কে নেই চিরচেনা সেই যানজট।

বুধবার (০৪ জুন) ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কে বাসের চেয়ে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলেই বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

যাত্রীরা পরিবহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। গণপরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক-পিকআপ ও বাসের ছাদে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়কে সার্বিক নিরাপত্তায় ও ঈদযাত্রা স্বস্তি দায়ক করতে জেলা পুলিশের প্রায় ৬ শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে।

মিরপুর থেকে আসা বাসের যাত্রী সুমন খান এবং আবিদ খান বলেন, মিরপুর থেকে চন্দ্রা আসতেই ৪ ঘণ্টা লেগে গেছে। আবার চন্দ্রা থেকে থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত যানজট। এই যানজটে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। তবে মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইলে আসতে কোনো যানজটে পড়তে হয় নাই।

জসীমউদ্দীন নামে আরেক যাত্রী বলেন, চন্দ্রা থেকে আগে টাঙ্গাইল আসতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাগতো। আজকে চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল আসলাম ২০০ টাকা দিয়ে। তাছাড়া অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকে বাস পেয়েছি।

আরেক যাত্রী কামরুল হাসান বলেন, টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাসে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। কোনো গাড়ি থামছে না। আমি নিজ এলাকায় বগুড়া যাব। গাড়ি থামলেও ভাড়া বেশি চাচ্ছে। আগে বগুড়া যেতাম ২০০ টাকা দিয়ে আজ ৪০০ টাকা চাইতেছে।

সিরাজগঞ্জের আবুল কালাম আজাদ এবং বগুড়া আব্দুল লতিফ বলেন, বাস না পেয়ে ট্রাকে করে যাচ্ছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারব এটাই বড় আনন্দ। অনেকেই বাস না পেয়ে ট্রাক ও পিকআপে করে যাচ্ছে। বাসে দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে। এইজন্য ট্রাকে করে যাইতেছি।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, এখন পর্যন্ত ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ বাড়ি যেতে পারছে। তবে আগের তুলনায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। 

ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে খোলা ট্রাকে করে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। ছবি : কালবেলা
ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে খোলা ট্রাকে করে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। ছবি : কালবেলা

সুদানে গৃহযুদ্ধের প্রকোপে দেশ ছেড়েছেন ৪০ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

সুদানে গৃহযুদ্ধের প্রকোপে দেশ ছেড়েছেন ৪০ লাখের বেশি মানুষ। তারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক মুখপাত্র ইউজিন বায়ুন। বলেছেন, দেশটিতে তহবিলের ঘাটতি থাকায় বেঁচে থাকা মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউজিনকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সুদানের গৃহযুদ্ধ এখন তৃতীয় বছর পার করছে। দেশটিতে চল্লিশ লাখের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটের একটি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও হাজার হাজার মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

ইউজিন বলেছেন, সুদানের সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। আট লাখের বেশি সুদানি পার্শ্ববর্তী দেশ চাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সেখানে শরণার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা।  প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সুদান। এরপর থেকে দেশটির সঙ্গে সীমান্ত থাকা দেশগুলোতে পালাতে শুরু করে সেদেশের মানুষ। যা বর্তমানে চল্লিশ লাখ ছাড়িয়েছে। সুদানের সীমান্তবর্তী দেশগুলো হলো- চাদ, দক্ষিণ সুদান, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং লিবিয়া।

mzamin

গাজায় ফ্লোটিলার ত্রাণবাহী জাহাজ ঢুকতে দেবে না ইসরায়েল

গাজার অভুক্ত মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) ত্রাণবাহী জাহাজ নিজেদের জলসীমায় প্রবেশ করতে দেবে না ইসরায়েল। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এ হুমকি দিয়েছে।

রোববার ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে এফএফসির ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলানে’ চড়ে রওনা হয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গসহ ১১ মানবাধিকারকর্মী। পুরো কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে এফএফসি। আগামী শনিবার জাহাজটি গাজা উপকূলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণবাহী কোনো ট্রাক প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েল। এতে গাজায় ওষুধ, খাবার, পানিসহ জরুরি পণ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। মারাত্মক মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে গাজার অভুক্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এফএফসি।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রিডম ফ্লোটিলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, ‘ইসরায়েলের সামুদ্রিক অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষার জন্য নৌবাহিনী দিনরাত কাজ করছে। এ ক্ষেত্রেও আমরা প্রস্তুত। গত কয়েক বছরে আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং সে অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেব।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি তিনি।

এফএফসি ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে। ওই বছর তুরস্ক থেকে ত্রাণ নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন ফ্রিডম ফ্লোটিলার কর্মীরা। মাভি মারমারা নামের ওই জাহাজে একপর্যায়ে হামলা চালিয়েছিলেন ইসরায়েলি সেনারা। তাতে ১০ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছিলেন। এবার ‘ম্যাডলানে’ নামের ছোট একটি জাহাজে গাজাবাসীর জন্য ফলের রস, দুধ, চাল, টিনজাত খাবার ও আমিষজাত খাবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন লিখেছে, ‘আমরা একসঙ্গে গাজার জন্য একটি সামুদ্রিক করিডর খুলে দিতে পারি।’

গত মাসের শুরুতে মানবিক সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজার অভিমুখে থাকা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের একটি জাহাজে ড্রোন দিয়ে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। মাল্টা উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ হামলা চালানো হয়। হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছিল।

গাজায় জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত বিতর্কিত সহায়তা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) গাজায় তাদের সহায়তাকেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আজ বুধবার এ ঘোষণা দেয় তারা। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলোর পথে যাওয়া রাস্তাগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে ত্রাণ আনতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হওয়ার কয়েকটি ঘটনার পর বিতরণকেন্দ্রগুলো বন্ধের ঘোষণা দিল জিএইচএফ। গত কয়েক দিনে তাদের পরিচালিত সহায়তাকেন্দ্রের আশপাশে হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনা ঘটে। প্রাণহানির এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সমালোচনার মধ্যেই আজ ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার গাজা সরকারের জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ত্রাণ নিতে গিয়ে আট দিনে ইসরায়েলের হামলায় ১০২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘে ভোটাভুটি

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণসহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আজ একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তবে এতে ভেটো দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

গত রোববার ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে এফএফসির ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলানে’ চড়ে রওনা হয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গসহ ১১ মানবাধিকারকর্মী।
গত রোববার ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে এফএফসির ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলানে’ চড়ে রওনা হয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গসহ ১১ মানবাধিকারকর্মী। ছবি: রয়টার্স

৬০০ দিন যুদ্ধের পরও গাজায় ইসরায়েল কেন বিজয়ী হতে পারেনি by সাইয়েদ মার্কোস তেনোরিও

গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার ৬০০ দিন পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তারপরও গাজার মানুষ মনোবল হারাননি। এ নিয়ে মিডল ইস্ট মনিটরে লিখেছেন ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সাইয়েদ মার্কোস তেনোরিও। ১ জুন লেখাটি মিডল ইস্ট মনিটরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

আমি ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের অনেক বিশ্লেষকের লেখা পড়ছি, যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন—এত দিন ধরে গাজায় নির্বিচার ব্যাপক বিমান ও স্থল হামলা চালানোর পরও কেন ইসরায়েল সফল হতে পারছে না?

নেতানিয়াহুর ‘নাৎসিসদৃশ’ জায়নবাদী সরকার যুদ্ধের যে তিন মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি। যেসব প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে, তা হলো ‘ইসরায়েল এখনো হামাসকে ধ্বংস করতে পারছে না কেন?’ ‘এ অবস্থার কারণ কী?’ ‘হামাস এত সাহস পায় কোথা থেকে আর তারা কি ভাঙার মতো নয়?’

এসব প্রশ্ন থেকেই বোঝা যায়, অনেকে বুঝতে পারছেন না যে হামাস হলো এক কঠিন প্রতিপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা নিজেদের ভূমি ছেড়ে যাবেন না এবং নিজেদের শেষ পর্যন্ত রক্ষা করবেন।

গাজায় ইসরায়েলে অব্যাহত নৃশংস হামলায় অনেক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, প্রতিরোধ নেতাদের কেউ কেউ নিহত হয়েছেন। তারপরও ইসরায়েল গাজায় বিজয় অর্জন করতে পারেনি। হামাস এখনো টিকে আছে, লড়ছে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বারবার একই এলাকায় ফিরে যেতে বাধ্য করছে।

প্রাথমিক যে উপসংহার আমরা টানতে পারি, সেটা হলো জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের ‘যুদ্ধযন্ত্র’ ব্যর্থ হয়েছে। তারা গাজায় একধরনের ‘অবসাদ ও ক্ষয়যুদ্ধের’ মধ্যে আটকা পড়েছে। ফলে ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, ইসরায়েলি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, সেনাবাহিনী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, প্রচুর সেনা মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং আত্মহত্যার হার বেড়ে গেছে। এসব কারণে অনেক সেনাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হচ্ছে। ইসরায়েলের জানা দরকার, তারা প্রতিটি যুদ্ধে জয়ী হতে পারে, কিন্তু পুরো যুদ্ধে তারা হারছে।

নেতানিয়াহুর আকঙ্ক্ষা ছিল, গাজার ২১ লাখ ফিলিস্তিনিকে বোমা মেরে ও অনাহারে রেখে ধ্বংস করে দেওয়া। তিনি প্রতিদিনই নির্মম ও বর্বর উপায়ে তা করে যাচ্ছেন। অথচ পশ্চিমা শক্তিগুলো এ গণহত্যা বন্ধে শুধু কথার বুলি শুনিয়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইসরায়েলকে শ্রদ্ধা দেখাতে বাধ্য করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গাজা খালি করার পরিকল্পনাও দিনের পর দিন ব্যর্থ হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতাদের ফ্যাসিবাদী বক্তব্যের পরও যাঁদের গাজা থেকে জোর করে তাড়ানো হয়েছিল বা ভুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরানো হয়েছিল, তাঁরা সাম্প্রতিক অস্ত্রবিরতির পর গাজায় ফিরেছেন। অবশ্য তাঁদের ঘরবাড়ি কিছুই অবশিষ্ট নেই।

এই ৬০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এমন এক ভয়ঙ্কর শক্তি প্রয়োগ করেছে, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১৫ টন বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভিয়েতনাম যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১৯ বছর। ওই যুদ্ধে ৯ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি ভিয়েতনামের নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৭৫ টন বোমা ফেলেছে, যা ভিয়েতনামের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।

ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে থেকে যাওয়ার এবং প্রয়োজনে নিজেদের ভূমিতে মরার দৃঢ় সংকল্প এবং বিশ্বব্যাপী জনমত যেভাবে দ্রুত ইসরায়েলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এই দুটি বিষয় ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুঝে রাখা দরকার, এই বৈশ্বিক সমর্থন এখন শুধু বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই নয়, মধ্যপন্থী ও ডানপন্থীদের মধ্যেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

গণহত্যার যৌক্তিক সমালোচনাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ বলে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা আগের মতো আর কাজ করছে না। এ ‘রুপালি গুলি’ ইসরায়েল ইতিমধ্যেই খরচ করে ফেলেছে।

ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে গিয়ে তারা এখন পুরো পৃথিবীকে ফিলিস্তিন বানিয়ে ফেলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও শহরের রাস্তায় কোটি কোটি মানুষ এখন ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নেমে এসেছেন।

গাজার মানুষকে অবরুদ্ধ করতে গিয়েও এখন জায়নবাদী শাসন নিজেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি ইউভাল নোয়াহ হারারির মতো জায়নবাদী ইতিহাসবিদও এখন বলছেন, জায়নবাদের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে।

ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে। সেখানে তারা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমাসহ সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালেও নির্বিচার বোমা ফেলা হচ্ছে।

তবুও ইসরায়েলি সরকার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে ধ্বংস করার তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং পারবেও না।

ইসরায়েল কেবল অর্জন করতে পেরেছে যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নিধন, শিশু ও নারী হত্যা, অবকাঠামো ধ্বংস, গাজা উপত্যকার মানুষের জীবনের সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জনগণ দেখাচ্ছেন ধৈর্য, প্রতিরোধ, দেশপ্রেম, মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং তাঁদের প্রতিরোধের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন।

মধ্য গাজায় একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে মানুষের ভিড়। ২ জুন, নুসেইরাত
মধ্য গাজায় একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে মানুষের ভিড়। ২ জুন, নুসেইরাত। ছবি: এএফপি

গাজায় নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরায়েল: ম্যাথু মিলার ও জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাথু মিলার বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে—এ নিয়ে তাঁর মনে কোনো সন্দেহ নেই।

স্কাই নিউজের এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক এই মুখপাত্র। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ‘ট্রাম্প ১০০’ শীর্ষক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে বাইডেন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, টানাপোড়েন ও নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন মিলার।

২০২৩ সাল থেকে বাইডেনের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিসেবে মিলার দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তাঁর কাজ ছিল ইউক্রেন থেকে শুরু করে গাজাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা ও প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা।

গাজায় গণহত্যার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিলার বলেন, ‘আমি মনে করি না এটা গণহত্যা। কিন্তু ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

সরকারে থাকাকালে কেন এ কথা বলেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক এই মুখপাত্র বলেন, ‘যখন আপনি মঞ্চে (সরকারি মুখপাত্র হিসেবে) থাকেন, তখন আপনি ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন না। আপনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই সিদ্ধান্তে আসেনি যে তারা (ইসরায়েল) যুদ্ধাপরাধ করেছে। এখনো সে সিদ্ধান্তে আসেনি।’

নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিলার বলেন, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। একটি হলো যদি কোনো রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধাপরাধের নীতি অনুসরণ করে; কিংবা এমনভাবে বেপরোয়া আচরণ করে, যা যুদ্ধাপরাধকে সহায়তা ও প্ররোচনা দেয়। তখন প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্র নিজেই কি যুদ্ধাপরাধ করছে?

সাবেক বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি মনে করেন, কিছু নির্দিষ্ট ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে। ইসরায়েলি সেনা ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এই যুদ্ধাপরাধ করেছেন।

গাজানীতি নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ‘ছোট-বড়’ মতবিরোধ ছিল।

মিলার বলেন, নীতি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই মতবিরোধ ছিল। কিছু ছিল বড় ধরনের মতবিরোধ, কিছু ছোট।

তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গাজা ও ইউক্রেননীতির বিষয়ে বাইডেনের ওপর বিরক্ত ছিলেন—এমন গুজব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিলার সেই টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত দেন।

গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধ: জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেছেন, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি গাজায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

ফলকার টুর্ক বলেন, টানা তিন দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে মানুষ নিহত হচ্ছেন। এ ঘটনায় দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, গাজায় স্বল্প পরিমাণ খাদ্যসাহায্য নিতে আসা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অকল্পনীয় ও অমানবিক।

ফলকার টুর্ক বলেন, বেসামরিক জনগণের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ও এটি একটি যুদ্ধাপরাধ।

টুর্ক আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের সামনে এখন সবচেয়ে ভয়াবহ দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে—হয় অনাহারে মৃত্যুবরণ, না হয় সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সহায়তাব্যবস্থার মাধ্যমে যে সামান্য খাবার দেওয়া হয়, তা নিতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারানো।  

টুর্ক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।

ফলকার টুর্ক আরও বলেন, ক্ষুধার হুমকি, ২০ মাস ধরে বেসামরিক মানুষের হত্যাযজ্ঞ, ব্যাপক ধ্বংস, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, অবমাননাকর ও অমানবিক ভাষা এবং গাজা উপত্যকাকে জনশূন্য করার হুমকি—ইসরায়েলি নেতৃত্বের এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মুখপাত্র ম্যাথু মিলার
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গাজায় ত্রাণকেন্দ্রে আবার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত

গাজায় আবার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসভাবে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আজ মঙ্গলবার আবার একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে তাদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, রাফার একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে নির্ধারিত চলাচলের পথ ছেড়ে চলে যাওয়া কিছু লোককে লক্ষ্য করে তারা গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।

এর আগে গত রোববার ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে কমপক্ষে ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার আরও তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আসে।

আজ মঙ্গলবার ত্রাণকেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের হতাহতের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল জানিয়েছিল, উত্তর গাজায় লড়াই চলাকালে তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।

হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার ও নৃশংসভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হামলায় ইতিমধ্যে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

রয়টার্স স্বাধীনভাবে উত্তর ও দক্ষিণ গাজার এসব প্রতিবেদন যাচাই করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) গত সপ্তাহে তাদের প্রথম ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু করেছে। যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজার বেশির ভাগ মানুষই ইতিমধ্যে নিজের ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

জিএইচএফ জাতিসংঘসহ সেখানে কাজ করা আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে পাশ কাটিয়ে গাজায় ত্রাণ বিতরণ করছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত সাহায্য সংস্থাগুলো তাদের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা অনুযায়ী নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত এই বেসরকারি গোষ্ঠী বলেছে, তারা মঙ্গলবার সকালেই ২১টি ট্রাকে করে খাবার বিতরণ করেছে এবং এ বিতরণকাজ ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে’ হয়েছে।

তবে রাফা এলাকায় ত্রাণ নেওয়ার জন্য ভিড় করার সময় আবারও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ত্রাণ নিতে আসা সাধারণ মানুষের ওপর লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি। গত রোববারের হত্যাকাণ্ডকে তারা ‘হামাসের পাতানো গল্প’ বলে দাবি করেছে।

আজ ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সেনারা কিছু ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে’ তাঁদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে গুলি চালিয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা নির্ধারিত পথ থেকে সরে হাঁটা শুরু করেছিল।

ইসরায়েলের দাবি, তাদের উদ্দেশে প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়। কিন্তু তারা না থামায় এরপর আরও গুলি চালানো হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল সোমবার বলেছেন, ত্রাণ নিতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি ‘অত্যন্ত মর্মাহত’। এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত স্বজনের খবর জানতে হাসপাতালের বাইরে বসে কাঁদছে এই শিশু। ৩ জুন, আল–নসর হাসপাতাল
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত স্বজনের খবর জানতে হাসপাতালের বাইরে বসে কাঁদছে এই শিশু। ৩ জুন, আল–নসর হাসপাতাল। ছবি: এএফপি

জন্ম ভারতে, মা ভারতীয়, তবু কথিত বাংলাদেশি তকমা, অবশেষে...

ভারতে জন্মেছেন। ভারতে বড় হয়েছেন। আছে সব মিলে তিন ভাইবোন। মা-ও ভারতীয়। অথচ বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে মুম্বইয়ে আটক করা হয়েছে এক কিশোরীকে। পুলিশের অভিযোগ তার পিতা বাংলাদেশি। কথিত এই অভিযোগে তার পিতাকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। অথচ তিনি কমপক্ষে ৩৭ বছর ভারতে বসবাস করছিলেন। সেখানে তার আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয় পত্র আছে। তার পরিচয়পত্র ইস্যু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তারপরও তিনি ছাড় পাননি। তাকে আটক করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে। অন্যদিকে তার ১৮ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। এ নিয়ে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস খবর প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, বোম্বে হাইকোর্ট কথিত বাংলাদেশি এক কিশোরীকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোরী পুলিশ স্টেশনের নির্ভয়া সেলে আটক ছিলেন। এর আগে তার পিতার নাগরিকত্ব যাচাই করা হয় এবং পরে তার পিতাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। মুম্বইয়ের বিচারপতি নীলা গোখলে এবং ফিরদোস পি পুনিওয়ালার অবকাশকালীন বেঞ্চ অবিলম্বে ওই কিশোরীকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তার পিতার নাগরিকত্ব তদন্তের জন্য তাকে আটক রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোরী ও তার ছোট দুই ভাইবোনের তরফে দাখিল করা পিটিশনের শুনানি করছিলেন আদালত। তার ওই দুই ভাইবোনের বয়স ১৬ বছর ও ৮ বছর।

আবেদনে বলা হয়, তাদের জন্ম ভারতে। তারা যে ভারতীয় নাগরিক তা প্রমাণের প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট আছে তাদের কাছে। তাদের পিটিশন অনুযায়ী, তাদের পিতা দাদামিয়া খান ৩৭ বছরের বেশি সময় ভারতে বসবাস করছেন। তিনি মরিয়ম খান নামে ভারতীয় এক নারীকে বিয়ে করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন ক্যাবচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের শনাক্তকরণের বিশেষ অভিযানে ওই তিন ভাইবোনকে আটক করে ম্যানখুর্দ পুলিশ। ছোট দুই ভাইবোনকে তাদের মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় হ্যাবিয়াস করপাস আবেদনের পরে।

ওদিকে এসব শিশুর পক্ষে আইনজীবী সিদ্ধ পামেছা আদালতে তাদের জন্মসনদ দাখিল করেন। তাতে বলা হয়, তারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের পিতার কথিত নাগরিকত্বের বিষয়ে তাদেরকে আটক রাখা যায় না। এমনকি দাদামিয়া খানও ভারতীয় একজন নাগরিক। তার কাছে আছে প্যান কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র। এই পরিচয়পত্র ইস্যু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এডভোকেট মনীষা জাগতাপ। তিনি বলেন, পুলিশি তদন্তে দাদামিয়া খান স্বীকার করেছেন যে- তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কারণ, তার দেশে জীবন নির্বাহ করার কোনো সোর্স ছিল না। তাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানো হলেও তার নাগরিকত্বের বিষয়ে তদন্ত চলছে ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ এর অধীনে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার এ বছর ২রা মে যে নির্দেশ দিয়েছে, তার অধীনেও তদন্ত চলছে। শুনানি শেষে বিচারকরা বলেন, ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার কোনো কারণ নেই। তাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ডাকলে তাদেরকে তাতে সাড়া দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

mzamin