Tuesday, September 30, 2014

ঈদ-পূজায় জ্যোতিকা জ্যোতি

ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। এরই মধ্যে একাধিক নাটকে কাজ করা হয়েছে তার। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অভিনয় ব্যস্ততাতেই কাটবে এ অভিনেত্রীর। সম্প্রতি ঈদের ছয় পর্বের দুটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে সালাউদ্দিন লাভলু পরিচালিত ‘লাঠি পাগল’ নামক ঈদ ধারাবাহিকের কাজ শেষ হয়েছে। এখানে রিয়াজের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করেছেন জ্যোতি। নাটকটি আরটিভিতে প্রচার হবে। অন্যদিকে সাজ্জাদ হোসেন দোদুলের ছয় পর্বের ধারাবাহিক ‘কাল-কোকিল’-এ অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। এটি ঈদ উপলক্ষে প্রচার হবে এশিয়ান টিভিতে। ঈদ ধারাবাহিকে কাজ প্রসঙ্গে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, এ দুটি নাটকেরই গল্প অনেক আলাদা। অনেক এনজয় করেছি কাজ করতে গিয়ে। ‘লাঠিপাগল’ নাটকে প্রথমবারের মতো কাজ করলাম রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে। এখানে সুরাইয়া চরিত্রে কাজ করেছি আমি। রিয়াজ ভাই আসলে একজন লক্ষ্মী আর্টিস্ট! অনেক কো-অপারেটিভ। আমরা সবাই মিলে কাজটা ভাল করার চেষ্টা করেছি। আশা করি ভাল লাগবে সবার। আর ‘কাক-কোকিল’ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি কাজ দোদুল ভাইয়ের। এর বাইরে ঈদের আরও বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করছেন মিষ্টি মুখের এই অভিনেত্রী। এদিকে ঈদের বাইরে সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। এর প্রধান চরিত্রেই দেখা যাবে জ্যোতিকে। নাটকের নাম ‘দুর্গা’। এটি পরিচালনা করেছেন অরুণা বিশ্বাস। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এর শুটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখানে দেবী দুর্গার বেশে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি। নাটকটি এটিএন বাংলায় প্রচার হবে। এ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, পুরো নাটকজুড়ে আমার কোন সংলাপ নেই। অভিব্যক্তি দিয়েই সব কিছু বোঝাতে হয়েছে। তবে বোবাদের মতো না।  নাটকে দুর্গা চরিত্রটি মনে মনে যা ভাবছে অথবা বলছে, সেটি অফ ভয়েস আকারে বলা হয়েছে। এক সময় দুর্গা একই গ্রামের বিত্তশালী পরিবারের এক ছেলেকেও ভালবেসে ফেলে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানভীর। এটা একেবারেই অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতা। কারণ, প্রথমবারের মতো এমন চরিত্রে কাজ করেছি। আমি নিজে অনেক এনজয় করেছি। আশা করছি ভাল লাগবে সবার।

র‌্যাবের দাবি খুনি ডিবি বলছে অন্য কথা by নুরুজ্জামান লাবু

রাজধানীর মগবাজারে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় পৃথক অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি- এরা প্রত্যেকেই মগবাজারের তিন খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির তদন্তে এদের মধ্যে অন্তত ছয় জনের বিরুদ্ধে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা মিলছে না। এমনকি এ ছয় জনের মধ্যে একজন ক্যানসার রোগী। এছাড়া ছাত্র, ডিশ ব্যবাসায়ী ও নির্বাচন কমিশনের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও রয়েছে এদের মধ্যে। একই নামে রয়েছে দু’জন। যাদের কাউকে কাউকে অন্তত মাস খানেক আগে ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। র‌্যাব-পুলিশে খোঁজ করে না পেয়ে স্বজনরা থানায় জিডি ও অপহরণ মামলা করেছেন। দীর্ঘদিন পর র‌্যাব তাদের ‘একদিন আগে’ গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। পরে তাদের তিন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আসামি গ্রহণ করলেও সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি এ ছয় জনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়নি। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, তদন্ত তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরই কেবল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, মগবাজারের তিন খুনের ঘটনায় ডিবি এখন পর্যন্ত ৯ জনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এর মধ্যে সোহেল, ফারুক, আরিফ ও জনিকে ঘটনার পরপরই ডিবি গ্রেপ্তার করে। ১৫ই সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় তিন খুনের প্রধান অভিযুক্ত শাহ আলম ওরফে কাইল্যা বাবু। এ সময় তার দুই সহযোগী আল আমীন ও রাজিবকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০শে সেপ্টেম্বর র‌্যাব ছয় জনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে হস্তান্তর করে। তারা হলো সিয়াম, রমজান, মারুফ, রুবেল, শাফিন ও আল আমীন। এদের মধ্যে সিয়াম ও মারুফ এজাহারভুক্ত আসামি। রমজান ও রুবেল কাইল্যা বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এ কারণে এ চার জনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি দু’জন আল আমীন ও শাফিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অস্ত্র মামলায় চালান দেয়া হয়। সর্বশেষ গত শনিবার আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলো সোহেল, কামাল, রাহাজুল, বিল্লাল ও অপু। র‌্যাবের দাবি, এই পাঁচজনও মগবাজারের তিন খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। শনিবার র‌্যাব ৩-এর সিপিসি-২ মগবাজার ক্যাম্পের ডিএডি শ্যামল কান্তি বিশ্বাস রমনা থানায় তাদের হস্তান্তর করে। কিন্তু ডিবি পুলিশ এই পাঁচ জনের মধ্যে কেবল এজাহারভুক্ত আসামি অপুকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে। অন্যদের কারও সঙ্গে হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ততা পায়নি। এ কারণে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৫শে সেপ্টেম্বর সিয়াম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে ঘটনার সঙ্গে নিজে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আরও কয়েকজনের নাম বলেছে। তবে এ সব নামে জাহিদুল ইসলাম সোহেল, বিল্লাল হাওলাদার, কামাল, রাহাজুল ওরফে রাজুর নাম বলেনি। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদে সে এদের চেনেও না বলে জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনেরা জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের পুরো নাম জাহিদুল ইসলাম সোহেল। সে বোনম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত। সৌদি প্রবাসী সোহেল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার চিকিৎসার জন্য দেশে চলে আসে। গত ২৯শে আগস্ট সকালে বাড্ডার স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়। এরপর দফায় দফায় স্বজনরা র‌্যাব-পুলিশের কাছে গেলেও কেউ তাকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেনি। প্রায় এক মাস পর গত শনিবার র‌্যাব-৩ এর পক্ষ থেকে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে সোহেলকে হাজির করা হয়। এ সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সোহেল মগবাজারের তিন খুনের মামলার ১০ নম্বর আসামি। তার পিতার নাম ওমর আলী খান। কিন্তু তার প্রকৃত নাম জাহিদুল ইসলাম সোহেল। পিতার নাম ইউনূস আলী। আর ঘটনার পরপরই ডিবি এজাহারভুক্ত ১০ নম্বর আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বাদী কালাচান তাকে শনাক্ত করে। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ভুল সোহেলকে বাদীর সামনে হাজির করলে বাদীও সে জড়িত নয় বলে জানান। এমনকি গতকাল আদালতে গিয়েও একই কথা বলেন বাদী কালাচান ওরফে শামীম। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। সোহেলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার সাথী ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একজন নিরপরাধ ও অসুস্থ মানুষকে এভাবে এক মাস কেন আটকে রাখা হলো? দেশটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেছে, দেশে কি কোন আইন-কানুন বলে কিছু নেই? যাকে ইচ্ছা হবে ধরে নিয়ে যাবে?’ তিনি জানান, গতকাল আদালতে অন্য একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় সোহেলের জামিন হয়নি। আগামী মঙ্গলবার জামিন হতে পারে।
গ্রেপ্তারকৃত বিল্লালের স্বজনেরা জানান, গত ২রা সেপ্টেম্বর মগবাজারের পিডাব্লিউডি কোয়ার্টার থেকে বিল্লাল হাওলাদারকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল বান্দরবানের রুমায় পোস্টিং হওয়া নির্বাচন কমিশনের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বিল্লাল। দু’দিন পর গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী বেবী আক্তার বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি অপহরণ মামলা (নং ৮) দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। এদিকে গত শনিবার সোহেলের সঙ্গে বিল্লালকেও গ্রেপ্তার দেখায় র‌্যাব। ডিবির কাছে হস্তান্তরের পর মামলার বাদী কালাচান জানায়, এই বিল্লাল এজাহারনামীয় আসল বিল্লাল নয়। ভুল বিল্লালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পরে ডিবি তাকে ৫৪  ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। অপরদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও রাহাজুল ইসলাম খান ওরফে রাজুর স্বজনরা জানায়, রাজু পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কপালবেড়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম খানের ছেলে। সে সম্প্রতি সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য সে ঢাকার সায়েদাবাদের গোপীবাগে খালার বাসায় বেড়াতে এসেছিল। সায়েদাবাদ এলাকা থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়ার পর গত শনিবার র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। তার বিরুদ্ধেও খুনের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আর কামাল ওরফে জাউড়া কামাল নামে র‌্যাব যাকে কাইল্যা বাবুর ঘনিষ্ঠ বলে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে সেই কামাল আসলে ডিশ ব্যবসায়ী। ইস্কাটনের বিয়াম গলি কানাডা প্রবাসী শামীম নামে এক ব্যক্তির ‘লাইন এরিয়া’ নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। গত ২৯শে আগস্ট ৩৩৬ নম্বর মগবাজারের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রশাসনের লোক পরিচয়ে। কামালের স্ত্রী রুনা জানান, ঘটনার পরদিনই তারা রমনা থানায় একটি জিডি করেন। এছাড়ার প্রতিদিনই স্বামীর খোঁজে র‌্যাব-পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু কেউ তাকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেনি। প্রায় এক মাস পর র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, মগবাজারের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় সে জড়িত। অথচ ঘটনার সময় সে ইস্কাটনে ছিল। ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কামালের বিরুদ্ধেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বাদী কালাচানও তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি। এ কারণে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আমরা যথেষ্ট গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করেই সাধারণত আসামিদের ধরে থাকি। আসামি ধরার পর মামলার তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা যাচাই-বাছাই করে দেখে কারা জড়িত কারা জড়িত নয়। তিনি বলেন, অপরাধীরা সবসময় অপরাধ করে লুকিয়ে থাকে। তার পরিবারের লোকজন খুঁজে না পেয়ে বলে ‘প্রশাসনের লোক’ ধরে নিয়ে গেছে। র‌্যাব কাউকে ধরে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে না।

ডেঞ্জার পয়েন্টে ১৬৭ গার্মেন্ট

ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারছে না দেশের ১৬৭টি গার্মেন্ট। এসব গার্মেন্টগুলো নিয়ে শঙ্কিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে এসব কথা জানিয়ে সময়ে সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছেন তারা। দিচ্ছেন নানা পরামর্শ। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও গার্মেন্ট সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের রিপোর্টে বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের তৎপরতা সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়েছে। এসব রিপোর্টে ফেডারেশনগুলোর কোন কোন নেতা মাঠ গরমের চেষ্টা করছে তারও বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার নাম, মালিকের নাম উল্লেখ করে ওই গার্মেন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিপোর্ট অনুযায়ী আশুলিয়া এলাকার ৪৭৫টি গার্মেন্টের মধ্যে ২৯টি, টঙ্গী এলাকার ১৮৭টি গার্মেন্টের মধ্যে সাতটি, পল্লবী এলাকার ১৬৬টি গার্মেন্টের মধ্যে সাতটি, নারায়ণগঞ্জের ৩৩১টি গার্মেন্টের মধ্যে ৩৬টি, মোহাম্মদপুরের ৩৫টি গার্মেন্টের মধ্যে চারটি, দক্ষিণ খানের ৯৬টি গার্মেন্টের মধ্যে ১৬টি, মিরপুরের ১২০টি গার্মেন্টের মধ্যে ১১টি, বাড্ডা এলাকার ৬৯টি গার্মেন্টের মধ্যে ৮টি, লালবাগ এলাকার তিনটি গার্মেন্টের মধ্যে তিনটি, ক্যান্টনমেন্টের ৭৬টি গার্মেন্টের মধ্যে তিনটি, কোতোয়ালি এলাকার তিনটি গার্মেন্টের মধ্যে তিনটি, সূত্রাপুর এলাকার চারটি গার্মেন্টের মধ্যে তিনটি, তেজগাঁও এলাকার ৩৭টি গার্মেন্টের মধ্যে ৩টি, সবুজবাগ এলাকার ৭০টি গার্মেন্টের মধ্যে ২৪টি এবং সাভার এলাকার ১০৯টি গার্মেন্টের মধ্যে ৭টি গার্মেন্ট রয়েছে ডেঞ্জার পয়েন্টে। এসব গার্মেন্টে ঈদ ও পূজার আগে বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের রিপোর্টে এসব গার্মেন্ট কারখানার উপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে এসব গার্মেন্টে বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর অন্যথা হলে শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওদিকে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর ঈদ ও পূজার আগে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একই বৈঠকে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধে সহায়তা করতে ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা চান বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ দুই আহ্বান জানানো হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গার্মেন্ট মালিকদের ২৭শে সেপ্টেম্বর থেকে ৪ঠা অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঈদ-পূজায় মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে সে জন্য সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এ বৈঠকের পর পরই ডেঞ্জার পয়েন্টে থাকা গার্মেন্টগুলোর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এখন তালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম হাতে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

স্বামীর ঘরে গিয়ে সাবালিকা ডালিয়া by এমরান হাসান সোহেল

মো. নুরু মাতুব্বর। পেশায় কৃষক। ঠিকানা চর দিয়ারাকচুয়া গ্রাম। এই গ্রামের অবস্থান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বুক ফুঁড়ে জেগে ওঠা চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন। তিন মেয়ে, এক ছেলে এবং স্ত্রী জাহানারা বেগমসহ ছয় সদস্যের সংসার তাঁর। তিন মেয়ে ডালিয়া, রোজিনা ও তানু। ছেলের নাম সুজন। তিন মেয়ের কেউই স্কুলে ভর্তি হয়নি। মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়ার কারণে সংসারে তাদের বোঝা মনে করা হয়। তাই শিশু বয়সেই ডালিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডালিয়ার বয়স ১৫। এক সন্তানের জননী।

>>পটুয়াখালীর চর দিয়াকচুয়া গ্রামের আবদুস সালাম হাওলাদারের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। লেখাপড়ার দেখা পায়নি কোনো মেয়ে। গেল বছর বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে ১৪ বছরের মুক্তাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ
ডালিয়া জানায়, ৯ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারণে কোনো আয় করতে পারে না সে। তাই বাবা পাশের চর ব্যারেটের যুবক শহীদুল বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে দেন। এক বছর পর ডালিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সংসার শুরু করে। ডালিয়া বলে, 'আমি তহন স্বামী সংসার কিছুই বোঝদাম না। সাবালক অইছি ওই বাড়তে (শ্বশুরবাড়ি) যাইয়া।' তার সন্তানের বয়স ৯ মাস।
ডালিয়ার ছোট দুই বোনকে ভর্তি করা না হলেও ভাই সুজনকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। সুজন স্থানীয় দিয়ারাকচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
তিন মেয়েকে লেখাপড়া না শেখানো সম্পর্কে নুরু মাতুব্বর বলেন, 'আমরা চউরগা মানুষ। আমাগো গুরাগ্যারায় আবার কী ল্যাহাপড়া করবে। মাইয়াগো একটু বয়স অইলে-ই পরের বাড়ি (শ্বশুরবাড়ি) যাইতে অয়। অগো ল্যাহাপড়া করাইয়া কী অইবে।' অপ্রাপ্ত বয়সে ডালিয়ার বিয়ে দেওয়া সম্পর্কে বলেন, 'অরা তিনডা (ডালিয়া, রোজিনা ও তানু) বুইন (বোন) না অইয়া যদি তিনডা ভাই অইতে তাহেলে সংসারে আয় বাড়তে, অভাব কোমতে। অ্যাহন আল্লায় তিনউগা মাইয়া দেছে যত তাড়াতাড়ি পারমু বিয়া দিয়া দিমু। আমরা গরিব, আমাগো একটা ইজ্জত আছে। চরের মাইয়াগো একবার যদি কেলেঙ্কারি অইয়া যায়, তাহেলে আর বিয়া দেওন যায় না। এই লইগ্গা চরের সব মাইয়াগো কোম বয়সে বিয়া দেয় সবাই।'
পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন চর ঘুরে একই দৃশ্য দেখা গেছে। নুরু মাতুব্বরের পরিবারের মতো বৈষম্যের শিকার কন্যাসন্তানরা। চর দিয়ারাকচুয়া গ্রামের আরেক দম্পতি কৃষক ইউনুচ জোমাদ্দার ও মিনারা বেগম। ছেলে সন্তানের প্রত্যাশায় সাত কন্যাসন্তান তাঁদের। ডলি (১৭), ইরানি (১৩), রাহিমা (১১), জামিলা (১০), সুমি (৯), তানজিলা (৭) ও আছিয়া (৪)। ডলি ও ইরানিকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে শিশু বয়সে। স্কুলে ভর্তিও হয়নি।
কৃষক ইউনুচ জোমাদ্দার বলেন, 'সাতটা মাইয়া না অইয়া দুইডা পোলা অইলে কামে লাগদে। বংশের বাতি দেতে পোলা থাকলে, মাইয়ারা তো বাহের (বাবা) বাড়ির লোক না। অরা পরের বাড়ির লইগ্গা জন্মাইছে। সবাইরে তাড়াতাড়ি বিয়া দিতে পারলে বাঁচি।'
দশমিনা উপজেলার চর শাহাজালালের রেহেনা বেগমকে (২৫) স্বামী কাজেম আলী তালাক দিয়েছেন। প্রায় ১২ বছর তাঁদের বিয়ে হয়। এ সময়ের মধ্যে চারটি কন্যাসন্তানের মা হন রেহেনা। একটি ছেলে সন্তান না হওয়ায় কাজেম ক্ষুব্ধ হয়ে তালাক দেন রেহেনাকে। রেহেনা বলেন, 'একটা পোলাও আমার গর্ভে অয় নাই, হেইয়ার লইগ্যা স্বামী আমারে তালাক দিয়া দেছে। মাতারিরা প্যাডে গুরাগ্যারা থোয় এডা তো নিয়ম, হে কয় (স্বামী) ওই প্যাডে মাইয়া অইতে পারলে পোলা অইতে পারবে না কিলোইগ্গা।'
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, '২০১৩ সালে ডিসেম্বরে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক তহবিলের (ইউএনএফপি) সহায়তায় একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। প্রত্যেক উপজেলায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং দল গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে দলগঠন করে সচেতনতামূলক কাজগুলো করা হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি হলে ফলাফল সন্তোষজনক হবে।'

‘যে যত বেশি খারাপ কথা বলেন হাসিনার কাছে তত বেশি প্রিয়’ by তানজির আহমেদ রাসেল

শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার পরিকল্পনা, কল্পনায় পরিণত হতে আর বেশি দেরি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন,  বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এক অশুভ শক্তি। এই অশুভ শক্তির প্রধান রং হেডেড শেখ হাসিনার কাছে দেশ কুক্ষিগত। তিনি বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নন। তার কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ কিছুই নিরাপদ নয়। তারেক রহমান  বলেন, ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনই প্রমাণ করে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। বিদেশের কাছে ধরনা দিয়েও তারা অবৈধ সরকারের বৈধতার সার্টিফিকেট আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিএনপি প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের দুরাচার-অনাচার আর গণতন্ত্রহীনতার কথা তুলে ধরছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে এটি আন্দোলন মনে হচ্ছে না। তাদের কাছে অন্দোলন মানে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করা। আওয়ামী লীগ যে বিএনপির আন্দোলন টের পাচ্ছে না এটিও বিএনপির অন্দোলনেরই অংশ। যখন টের পাওয়া শুরু করবে তখন তাদের পালানোর পথ থাকবে না। সোমবার পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি  জিয়াউর রহমান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র ফলক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নিজের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে শেখ হাসিনা এখন জিয়াউর রহমান, তার পরিবার ও বিএনপির ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অপপ্রচার চালিয়ে আর শত চেষ্টা করেও শেখ হাসিনা শিকাগোতে জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণ ঠেকাতে পারেননি। তিনি বলেন, দেশে বিদেশে জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকৃত হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের স্বীকৃতির জন্য আদালতের  রায়ের প্রয়োজন নেই। সমাবেশে তারেক রহমানের হাতে সম্প্রতি শিকাগো সিটি প্রশাসন কর্তৃক স্থাপিত অনারারী জিয়াউর রহমান ওয়ে’র একটি নাম ফলক হস্তান্তর করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনর সেক্রেটারী অব স্টেটের জেসিহোয়াইট কাউন্সিলের সদস্য ও জিয়াউর রহমান ওয়ে‘র প্রস্তাবক  শাহ মোজাম্মেল নান্টু।
তারেক রহমান বলেন, চোর, খুনি, বদমাশ, সন্ত্রাসী, ব্যাংক লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরাই শেখ হাসিনার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। যিনি যত খারাপ কথা বলবেন, শেখ হাসিনার কাছে তিনি ততই  প্রিয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘ যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে হাসিনার এমন মিথ্যাচারেরও জবাব দিয়েছে দেশগুলো। এতে হাসিনা লজ্জা না পেলেও দেশের নাগরিকরা বিব্রত। হাসিনা এখন জঙ্গি জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন। এটি হাসিনার কুটকৌশল। তার বাবাও নিজেদের ব্যর্থতা ডাকতে জনগণকে নকশালের ভয় দেখাতেন।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন বলেন, হাসিনা থাকলেই বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত করতে চায়। এবারও জাতিসংঘে গিয়ে তিনি সেটি করে এসেছেন। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। তাই বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে হলে দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅঅন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
 প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, শেখ মুজিবের হত্যাকা- ও পূর্বাপর পরিস্থিতি এবং দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে নিয়ে কথা বলেন।  তিনি বলেন, কোন একটি সরকারের নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি দুর্বল হলে এবং জনসমর্র্থন না থাকলেই সরকার আইনের  দোহাই দিয়ে বেআইনিভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রনে রাখতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আসলে এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই, তাদের একমাত্র ভরসা আইনশৃংখলাবাহিনীর পোষাকে তাদের কতিপয় দলীয় ক্যাডার। আর যুবলীগ ছাত্রলীগের নামে সরকারের দলীয় সন্ত্রাসীবাহিনী।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট  আহমদ আজম খান, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিকাগো-র জিয়াউর রহমান ওয়ে’র প্রস্তাবক শাহ মোজাম্মেল নান্টু, তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক, সিনিয়র সভাপতি আব্দুল হামিদ,  সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সহসভাপতি আব্দুল হাই,  উপদেষ্টা রফিকুল্লাহ।

আমি জামায়াতের যত বিরোধী তার থেকেও বেশি হজের বিরোধী -লতিফ সিদ্দিকী

ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ হজের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, আমি হজ ও তাবলীগের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীর যত বিরোধী তার থেকেও বেশি হজ ও তাবলীগের বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছে। এদের কোনও কাম নেই। এরা কোন প্রডাকশন দিচ্ছে না। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর  দেশের টাকা দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়েরও সমালোচনা করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। টক শো আলোচকদের গালিগালাজও করেন তিনি। লতিফ সিদ্দিকীর এ বক্তব্যের ভিডিও গতকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যমুনা টেলিভিশনে তা প্রচার করা হয়।
নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে রোববার স্থানীয় সময় বিকালে যুক্তরাষ্ট্রস্থ ‘টাঙ্গাইল জেলা সমিতি’ কর্তৃক সংবর্ধনা দেয়ার অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বক্তৃতা করেন। এটি সংবর্ধনা সভা হলেও আর কারও বক্তব্য প্রদানের সুযোগ ছিল না। মন্ত্রীর হাতেই মাইক ছিল। অনুষ্ঠানের পরিচালকও ছিলেন না। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। হজ কিভাবে এসেছে তারও এক অভিনব ব্যাখ্যা হাজির করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ (সা.) চিন্তা করলেন এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তখন একটা ব্যবস্থা করলেন যে আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে। তাবলীগ জামায়াতের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলীগ জামায়াত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোন কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে এক দর্শক প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মন্ত্রী হিসেবে সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করি আমি। টক শো আলোচকদের অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, আগে আমরা রাগ উঠলে বলতাম ... (সংবাদপত্রে প্রকাশের অযোগ্য)। এখন যারা টেলিভিশনে গিয়ে কথা বলে তাদের আমি বলি টকমারানি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বারবার উত্তেজিত হয়ে উঠেন। একজন সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, আমি কি তোমার মতো কথা বলবো? আমি আমার মতো কথা বলবো। তুমি এখানে আসলা কেন? তোমাকে কে আসতে বলেছে? এ সভার মঞ্চে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও নিউ জার্সির প্লেইন্স বরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবী, বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবী, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খান ইউসুফজয়ী সালু প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ৩৮৪, মারা গেছেন দুজন by নজরুল ইসলাম

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি। এদের খপ্পরে পড়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত চলতি মাসের ২৯ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ও চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে গত সপ্তাহে দুজন মারা গেছেন।

>>অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় অচেতন এক ব্যক্তি। গতকালই তাঁকে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় এই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি l প্রথম আলো
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে অজ্ঞান পার্টির ১২টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। ঈদ ও দুর্গাপূজা সামনে রেখে নগদ টাকা বহন এবং এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও বেড়েছে। তবে কারও মৃত্যু না হলে এসব ঘটনায় মামলা তেমন হয় না বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলেছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে ডিবির চারটি দল। গত কয়েক দিনে ১১ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার এক সভায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা চলতি মাসে বেড়েছে। প্রতিদিনই কয়েকজন করে এমন রোগী আসছে। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত চলতি মাসের ২৯ দিনে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছে ৩৮৪ জন। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর গোলাপবাগে ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে মারা যান কলেজছাত্র মো. সোহাগ (১৯)। আর ২৪ সেপ্টেম্বর প্রাণ হারান ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের মেইল ট্রেনের চালক সোলেমান খান (৫০)। সেদিন শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসা থেকে বের হওয়ার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁকে মগবাজার থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন এক পথচারী। রাতে তিনি মারা যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নয়জন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গুলিস্তান থেকে উদ্ধার হওয়া কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ইব্রাহিম, মতিঝিলে বাসযাত্রী সাইফুল, যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী আবদুর রহিম। অন্যরা হলেন মনির হোসেন, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, মো. কালাম ও আলমগীর হোসেন।
২৫ সেপ্টেম্বর এমন চক্রের কবলে পড়াদের মধ্যে আছেন কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তদার কামরুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়ার ব্যবসায়ী পলাশ আহমেদ, রায়েরবাগের প্রসাধনী ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দীন ও মুগদাপাড়ার আবদুল্লাহ আল ফাহিম। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া কয়েকজন গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল দুপুরে অচেতন সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালক আবুল শেখকে (৪০) ভর্তি করা হয়। তাঁর স্ত্রী নুরুন্নাহার জানান, তাঁদের বাসা আজিমপুরের রসুলবাগে। তাঁর স্বামী সকাল আটটায় অটোরিকশা নিয়ে বের হন। বেলা ১১টার দিকে আজিমপুর বটতলায় তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাঁকে অজ্ঞান করে অটোরিকশা নিয়ে গেছে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর শাহবাগে গরু ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে সাত লাখ টাকা খুইয়েছেন। একই দিন যাত্রাবাড়ীতে সৌদিপ্রবাসী মুজিবুর রহমান খুইয়েছেন চার লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী, তাঁদের স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা সাধারণত মামলা করেন না। কেউ মারা গেলে মামলা হয়। যেমন সোলেমান খানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার ২৫ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় মামলা করেছেন। রোববার প্রথম আলোকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে পুলিশ এত দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারল না।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান গতকাল বলেন, সোলেমান খানের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে থানায় মামলা না করেই বাড়ি চলে যান। তাঁদের স্বজনেরাও মামলা করেন না।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা না হওয়ায় তদন্তও হয় না। কেউ গ্রেপ্তারও হয় না। তাঁরা অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তার করেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা ও ওষুধের ভিত্তিতে দস্যুতা ও মাদক আইনে মামলা করা হয়।
অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া রোগীদের ওপর সম্প্রতি গবেষণা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের সূত্র জানায়, গবেষণায় দেখা গেছে, এমন রোগীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ‘ডায়াজিপিন’ ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ সেবন করানো হয়েছে। এসব ওষুধ ডায়াবেটিস ও লিভারে সমস্যাগ্রস্ত রোগীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা এখন ‘লারগেটিল’ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে। এজাতীয় ওষুধের পাঁচ মিলিগ্রামই মানুষকে অচেতন করতে পারে। অথচ অজ্ঞান পার্টি কারও কারও ক্ষেত্রে ১০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত প্রয়োগ করে। তিনি জানান, এমন রোগীদের কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডিএমপির কমিশনার গত রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতার বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবার এরা আগেভাগেই তৎপর হয়েছে। এমন প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এদের খপ্পর থেকে বাঁচতে তিনি মানুষকে সতর্ক থাকার এবং ভাসমান দোকান ও ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে কিছু কিনে না খাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতার বিষয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে।
ডিবির সূত্র জানায়, রাজধানীতে ডিবির চার বিভাগে চারজন অতিরিক্ত উপকমিশনারের তত্ত্বাবধানে গঠন হওয়া চারটি দল অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন ও মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ধরা পড়া দুর্বৃত্তরা বলেছে, তারা উচ্চক্ষমতার ঘুমের বড়ি পানিতে গুলে বা চা, শরবত, ডাবের পানি, ভাত, জুসের প্যাকেট, শসা, কোমলপানীয়, পান, ঝালমুড়ি, ক্রিম দেওয়া বিস্কুটে মিশিয়ে কৌশলে মানুষকে খাইয়ে অজ্ঞান করে সব লুটে নেয়।
ডিবির কর্মকর্তারা জানান, অজ্ঞান পার্টির ১২টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রে সদস্য আছে ৩০০ জন। একেক এলাকায় একেকটি চক্র সক্রিয়। গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের জীবনবৃত্তান্ত ডিবি কার্যালয়ে আছে। দলনেতারা গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে এসে তারা কিংবা তাদের সহযোগীরা আবার তৎপরতা শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আমি হজ ও তাবলিগের বিরোধী : মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী by শওকত ওসমান রচি

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের।

রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ‘টকশো’রও সমালোচনা করেন।
মন্ত্রী পবিত্র হজের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য রাখার পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও এই মন্ত্রী একাধিকবার অসংলগ্ন কথা বলেছেন। তাকে এখনো মন্ত্রিসভায় রাখায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে বিস্মিত হন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। সভাস্থলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফর করছেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের’। তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নেই। এদের কোনো প্রডাকশন  নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটি ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।
তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন প্রবাসী মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি কোন পর্যায়ে। আমরা জানতে পেরেছি এ ব্যাপারে জয় ভাই ইন্টারনেট কানেকশনের কাজ করছেন। এ সময় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে দেখা যায় মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে। তিনি এ সময় বলেন, জয় ভাই কে? পাশ থেকে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলে উঠেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’। মন্ত্রী বলে উঠেন, সে করার কে? এ সময় প্রশ্নকর্তা বলেন, তার তো এ ব্যাপারে প্ল্যান রয়েছে। মন্ত্রী এবার বলেন, ও সেটা বলেন, ওনার একটা প্ল্যান আছে। এ সময় মন্ত্রী তার ডান পাশে উপবিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সভাপতি এবং একজন প্রবাসীকে দেখিয়ে বলেন, এ ধরনের প্ল্যান সিদ্দিকুর রহমান করতে পারে, সে-ও করতে পারে। জয় কম্পিউটার বা ইনফরমেশন টেকনোলজি সায়েন্টিস্ট। তার নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সরকার জনগণের। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি তার মায়ের তথ্য উপদেষ্টা। এটাও ঠিক আছে। তিনি শিক্ষক সেটাও ঠিক আছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কার্যকর করেন মন্ত্রী। ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় যা কিছু তার দায় মন্ত্রীর। বর্তমান মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দায়িত্ব। এখানে জয়ের কিছু নেই। মন্ত্রী বলেন, একজন একটি বই লিখেছেন। সে বইয়ের লেখকের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। যিনি পড়াচ্ছেন এবং পড়ছেন দায়দায়িত্ব তাদের। প্রবাসীদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন।
মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সব সময় কামলাই দেবেন। রাজনীতি করার দরকার কি? টিভির টকশোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা রাগ করলে দেশে একটা গালি দেই চু...নি (অশ্রাব্য একটি গালি)। এ সময় হলভর্তি বিস্মিত প্রবাসীদের পিনপতন নীরবতা। মন্ত্রী ওই গালির সাথে মিল রেখে টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘টক মারানি’ বলে আখ্যায়িত করেন। মন্ত্রী বলেন, ওয়ান-ইলিভেনের পর আমি যাদের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। এক লাখ পেয়েছি। তাদের কোনো তদবির আমি এখন রক্ষা করি না।

আমি হজ ও তাবলিগের বিরোধী : মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী by শওকত ওসমান রচি

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের।

রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ‘টকশো’রও সমালোচনা করেন।
মন্ত্রী পবিত্র হজের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য রাখার পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও এই মন্ত্রী একাধিকবার অসংলগ্ন কথা বলেছেন। তাকে এখনো মন্ত্রিসভায় রাখায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে বিস্মিত হন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। সভাস্থলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফর করছেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের’। তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নেই। এদের কোনো প্রডাকশন  নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটি ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।
তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন প্রবাসী মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি কোন পর্যায়ে। আমরা জানতে পেরেছি এ ব্যাপারে জয় ভাই ইন্টারনেট কানেকশনের কাজ করছেন। এ সময় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে দেখা যায় মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে। তিনি এ সময় বলেন, জয় ভাই কে? পাশ থেকে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলে উঠেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’। মন্ত্রী বলে উঠেন, সে করার কে? এ সময় প্রশ্নকর্তা বলেন, তার তো এ ব্যাপারে প্ল্যান রয়েছে। মন্ত্রী এবার বলেন, ও সেটা বলেন, ওনার একটা প্ল্যান আছে। এ সময় মন্ত্রী তার ডান পাশে উপবিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সভাপতি এবং একজন প্রবাসীকে দেখিয়ে বলেন, এ ধরনের প্ল্যান সিদ্দিকুর রহমান করতে পারে, সে-ও করতে পারে। জয় কম্পিউটার বা ইনফরমেশন টেকনোলজি সায়েন্টিস্ট। তার নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সরকার জনগণের। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি তার মায়ের তথ্য উপদেষ্টা। এটাও ঠিক আছে। তিনি শিক্ষক সেটাও ঠিক আছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কার্যকর করেন মন্ত্রী। ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় যা কিছু তার দায় মন্ত্রীর। বর্তমান মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দায়িত্ব। এখানে জয়ের কিছু নেই। মন্ত্রী বলেন, একজন একটি বই লিখেছেন। সে বইয়ের লেখকের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। যিনি পড়াচ্ছেন এবং পড়ছেন দায়দায়িত্ব তাদের। প্রবাসীদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন।
মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সব সময় কামলাই দেবেন। রাজনীতি করার দরকার কি? টিভির টকশোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা রাগ করলে দেশে একটা গালি দেই চু...নি (অশ্রাব্য একটি গালি)। এ সময় হলভর্তি বিস্মিত প্রবাসীদের পিনপতন নীরবতা। মন্ত্রী ওই গালির সাথে মিল রেখে টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘টক মারানি’ বলে আখ্যায়িত করেন। মন্ত্রী বলেন, ওয়ান-ইলিভেনের পর আমি যাদের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। এক লাখ পেয়েছি। তাদের কোনো তদবির আমি এখন রক্ষা করি না।

সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ ওবামার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো বটেই, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পর মোদির এটাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে গতকাল সোমবার রাতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল মোদির। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে। কিন্তু এশিয়ায় চীনের প্রভাব সীমিত রাখতে ভারত ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়া বিকল্প কৌশল ওয়াশিংটনের হাতে নেই বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। এ কারণেই মোদির এই সফরে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ ওয়াশিংটনের নেওয়া উচিত বলেন মনে করেন তাঁরা। ওবামা প্রশাসন কখনোই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়নি। নয়াদিল্লির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কৌশলও ছিল না ওয়াশিংটনের। বর্তমানেও ভারতের বিষয়ে মার্কিন কৌশল যেন লক্ষ্যহীন। সত্যি কথা বলতে, ওবামা প্রশাসন এখন আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও রাশিয়া নিয়েই বেশি সময় ব্যয় করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক শীতল হওয়ার অন্যতম কারণ কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে ভিসা জালিয়াতি ও গৃহপরিচারিকার মজুরির ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য উল্লেখের অভিযোগ ওঠে। দেবযানীকে গ্রেপ্তার ও হেনস্তা করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান দেবযানী। ওই সময় নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। ভারত সরকার দেবযানীর সমমর্যাদার একজন মার্কিন কূটনীতিককে নয়াদিল্লি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর আগে গুজরাটে দাঙ্গার পর তো যুক্তরাষ্ট্র মোদিকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাঙ্গা দমনে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। যদিও মোদি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মোদি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ভিসার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে মোদির মাথায় একটা প্রশ্ন অবশ্যই আসার কথা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এশিয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে কি না। অনেক ভারতীয় আশঙ্কা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যে পর্যায়েই নিয়ে যাক না কেন, শেষ পর্যন্ত কৌশলগত রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পৃক্ততা সীমিত পর্যায়েই রাখবে। এর কারণ হলো ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে ওয়াশিংটন। মোদি ক্ষমতায় আসার পর স্পষ্ট আভাস দেন, তিনি জাপানের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদার জোরদারে আগ্রহী। যেটা এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গেও মিলে যায়। ওবামা জানেন, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পৃক্ততার সব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাঁর পূর্বসূরিরা কী করেছেন। ওয়াশিংটনের বিবেচনায়, ভারত মাঝেমধ্যে কঠিন ও বিতর্কিত বন্ধু হয়ে ওঠে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের এমন জটিলতা থাকলেও ভবিষ্যতে তাদের কৌশলগত সম্পৃক্ততার বিষয়টিও অনেকটা স্পষ্ট। ভারত যে যুক্তরাষ্ট্রের একুশ শতকের অন্যতম অংশীদার হতে পারে—সে বিষয়ে কিন্তু মার্কিন ডেমোক্রেটিক বা রিপাবলিক নেতাদেরও মতৈক্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের এটাই সময় ওবামার।

আইএসের হুমকি খাটো করে দেখেছিল সংস্থাগুলো: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, জঙ্গি ইসলামি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খাটো করে দেখেছিল। সিবিএস টেলিভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির। গত রোববার সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিট’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, সিরিয়া জঙ্গিদের একটা উৎসস্থল (গ্রাউন্ড জিরো) হয়ে পড়েছে। দেশটির সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওবামা খোলামেলা ভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরাকে মার্কিন বাহিনীর কাছে আল-কায়েদা পরাজিত হয়েছিল। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ায় ইসলামি জঙ্গিরা সে দেশের রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নেয়। এর ফলেই সেখানে আইএসের জন্ম হয়। ওবামা বলেন, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে শাসনব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে।
সেই সুযোগে জঙ্গিরা সংঘবদ্ধ হয়। আর এর মাধ্যমেই তারা তাদের জিহাদে বিদেশি যোদ্ধাদের আকর্ষণ করে। ওবামা বলেন, ইসলামি জঙ্গিদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করাটা সমস্যা সমাধানের একটি দিক মাত্র। সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানও জরুরি। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সেনাবাহিনীর সম্পদ আইএস জঙ্গিদের সামরিকভাবে সক্ষম হতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন ওবামা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার স্বীকার করেছেন যে সিরিয়ায় জঙ্গিদের উত্থানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র খাটো করে দেখেছে। ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে কি তবে যুক্তরাষ্ট্র বেশি প্রত্যাশা করেছিল? সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন: ঠিক। একেবারে তাই।

গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনে হংকংয়ে অচলাবস্থা

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের পরিকল্পনার প্রতিবাদে হংকংয়ে কয়েক দিন ধরে
বিক্ষোভ করছেন গণতন্ত্রপন্থীরা। গতকাল সন্ধ্যায় শহরের প্রাণকেন্দ্র
অ্যাডমিরালিটি এলাকায় বিক্ষোভ করেন তাঁরা। ছবি: এএফপি
গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান নেওয়ায় গতকাল সোমবারও বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র হংকং একেবারে অচল হয়ে পড়ে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার পরও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান ছেড়ে যায়নি। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন গতকাল আরও তীব্র রূপ নেয়। খবর গার্ডিয়ান ও বিবিসির। বিক্ষোভকারীদের অব্যাহত প্রতিবাদের ফলে হংকংয়ের মূল রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ। তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর ফলে আরও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মূল শহর ছাড়িয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কাউলুনের কসওয়ে বে ও মংককে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে হঠাৎ করে দাঙ্গা পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পরে চীনা সরকারের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাস্তায় তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা শান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে দাঙ্গা পুলিশ উঠিয়ে নেওয়া হলো। বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দাঙ্গা পুলিশ প্রত্যাহারের পর বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে। এক দেশ, দুই ব্যবস্থার হংকংয়ে একধরনের স্বায়ত্তশাসন আছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের জন্য ২০১৭ সালে সেখানে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার। এর মধ্যে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে প্রধান নির্বাহী নির্বাচন করার দাবিকে অগ্রাহ্য করে জানায়, কেবল সরকারের মনোনীত দু-তিনজন প্রার্থীর মধ্য থেকেই প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। অর্থাৎ চীন সরকার চায়, তাদের প্রতি অনুগতরাই কেবল ওই নির্বাচনে প্রার্থী হোক। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে হংকংবাসী। কিন্তু চীন সরকার মনে করছে, এখন হংকংয়ের এই দাবি মেনে নিলে ক্রমান্বয়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন পুরো চীনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের একজন স্থানীয় ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিকোলা চিয়াং বলেন, সেন্ট্রাল অ্যাডমিরালিটি জেলায় বিক্ষোভকারীরা এক হয়েছে। তারা পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংয়ে ১৯৯৭ সালে চীনা কর্তৃপক্ষের অধীনে যাওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। চলমান আন্দোলন নিয়ে জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাং-হো-ফং বলেন, ‘আগের বিক্ষোভগুলো পুলিশের অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠিত হতো। এবার মানুষ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছে। তারা প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করছে। এবার আরও কিছু ধ্বংসাত্মক দিক আছে। আগের বিক্ষোভ চলাকালে জনজীবনে কোনো প্রভাব পড়ত না।
এবার বিক্ষোভকারীরা বেপরোয়া। হংকংয়ের ইতিহাসে এমন বিক্ষোভ দেখিনি।’ ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে তীব্র বিক্ষোভের পর হংকংয়ের এই বিক্ষোভ সবচেয়ে বড়। চলমান বিক্ষোভ চীনা কর্তৃপক্ষকে বেশ ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। টেলিভিশনে হংকংয়ের বিক্ষোভের চিত্র আশপাশের অনেক দেশেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণতান্ত্রিক তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জিয়ো আল-জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাওয়ানের জনগণ হংকংয়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে লক্ষ করছে। এদিকে হংকংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেট জেনারেল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সবাইকে নতুন কোনো গোলযোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বিৃবতি চীন সরকারকে বেশ ক্ষুব্ধ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের এভাবে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি চীন আমলে নিয়েছে বলে গতকাল সকালে জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব দেশ হংকং নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে ভেবেচিন্ত করবে। আমাদের প্রত্যাশা, তারা কোনো ভুল বার্তা দেবে না। হুয়া আরও বলেন, ‘চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো দেশের হস্তক্ষেপকে আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি।’

আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আশরাফ গনি l ছবি: রয়টার্স
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল সোমবার শপথ নিয়েছেন গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী আশরাফ গনি। এর ফলে নির্বাচনের ফল জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে টানা ছয় মাসের অচলাবস্থার অবসান হলো। এটাই দেশটিতে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর। খবর রয়টার্স ও বিবিসির। গত ৫ এপ্রিল আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর গনির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ জালিয়াতির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই প্রার্থী সম্প্রতি ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছান। চুক্তি অনুযায়ী, গনি প্রেসিডেন্ট হলেন এবং আবদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের পছন্দের একজনকে মনোনীত করতে পারবেন।
জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান ওই চুক্তিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চস্থ করা ধোঁকাবাজি’ বলে আখ্যায়িত করলেও গনি এটাকে ‘বিরাট বিজয়’ আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে ১০০ জনের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। শপথ নেওয়ার পর গনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর চুক্তি অনুযায়ী নতুন তৈরি করা পদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব নেওয়া আবদুল্লাহ বলেছেন, গনিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বস্ততা ও সততা’র সঙ্গে কাজ করবেন। রাজধানী কাবুলে গতকালের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের ভাষণের মধ্য দিয়ে। ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে তালেবান সরকারের পতনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্টের পদে থাকা কারজাই এ সময় নতুন সরকারকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। কাবুলে বিবিসির সাংবাদিক ডেভিড লয়ান জানিয়েছেন,
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কাবুলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না পাওয়া গেলেও বিমানবন্দরগামী একটি সড়কে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর বাইরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাতাকিয়ায় গতকাল একটি সরকারি ভবনে জঙ্গি হামলার খবর দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এর আগে গত শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় আরেক প্রদেশ গজনির একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এসব ঘটনা গনি ও তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীকে যেসব বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এগুলো তার সামান্য কয়েকটি নিদর্শন।

জামিন চাইলেন জয়ললিতা

পান্নিরসেলভাম। আইএএনএস
ভারতের কর্নাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গতকাল সোমবার কর্নাটক হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন রাজ্যের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতা। আর তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী পান্নিরসেলভাম গতকাল রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। খবর পিটিআই ও এনডিটিভির। তিন বছরের বেশি সাজা হওয়ায় জয়ললিতার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন একমাত্র উচ্চ আদালত। তাই দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত রদ করার আরজি জানিয়ে জয়ললিতার আইনজীবী হাইকোর্টে দুটি আবেদন দাখিল করেন।
কিন্তু হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উৎসব দশেরার কারণে গতকাল থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত কর্নাটক হাইকোর্টের সব কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। সে ক্ষেত্রে ‘অবকাশকালীন বেঞ্চ’ তৈরি করে আজ মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের দায়ে গত শনিবার জয়ললিতার চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০০ কোটি রুপি জরিমানা করেন আদালত। টাইমস অব ইন্ডিয়া গতকাল জানায়, এ রায় শোনার পর রাজ্যজুড়ে তাঁর অন্তত ১৬ কর্মী-সমর্থক আত্মহত্যা কিংবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

জয়ললিতা এখন কয়েদি নম্বর ৭৪০২

জয়ললিতা এখন কয়েদি নম্বর ৭৪০২
কারাগারে প্রথম রাত কাটিয়েছেন জয়রাম জয়ললিতা। দুর্নীতির দায়ে সাজা পাওয়া ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ঠিকানা এখন বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রাহারা কেন্দ্রীয় কারাগার। নিয়ম অনুযায়ী একটি কয়েদি নম্বরও পেয়েছেন তিনি। তা হচ্ছে ৭৪০২। খবর এনডিটিভির। দণ্ডিত হওয়ার পর কারাগারে গিয়ে গত শনিবার দুপুরের খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানান জয়ললিতা। এ সময় শুধু কয়েক গ্লাস পানি পান করেন তিনি। রাতের খাবারও খাননি। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জয়ললিতা তাঁকে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি দণ্ডিত। তাঁকে কারাবিধি মানতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন না হলে কারা চিকিৎসকেরাই তাঁকে সেবা দেবেন। কড়া নিরাপত্তার পারাপ্পানা আগ্রাহারা কারাগারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) জন্য কোনো আলাদা কক্ষ নেই। সাধারণ কয়েদিদের মতোই তাঁদের সাজা ভোগ করতে হয়। জয়ললিতাকেও তাই করতে হচ্ছে।
জয়ললিতার আইনজীবীরা বলেছেন, কারাগারে তাঁর জীবন হুমকিতে রয়েছে। কিন্তু এতেও কারা কর্তৃপক্ষ বিধি ভেঙে কিছু করতে নারাজ। পান্নিরসেলভাম নতুন মুখ্যমন্ত্রী: এদিকে জয়ললিতার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন পান্নিরসেলভাম। গতকাল রোববার খোদ জয়ললিতা তাঁর ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে মনোনীত করেন। অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) দলের সাধারণ সম্পাদক জয়ললিতার সঙ্গে তাঁর উত্তরাধিকারী নিয়ে কথা বলতে গতকাল সকালে দেখা করেন পান্নিরসেলভামসহ দলের চার শীর্ষ নেতা। চেন্নাইয়ে গতকাল বিকেলে এআইএডিএমকের সদর দপ্তরে দলের সভায় পান্নিরসেলভামকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতা নির্বাচিত করা হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছর এক আদেশে বলেছিলেন, কোনো আইনপ্রণেতা দুই বছর বা ততোধিক সময়ের জন্য কারাদণ্ড হয় এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পদের জন্য অযোগ্য হবেন।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিল হংকং পুলিশ

হংকংয়ে গতকাল গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে
মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় দাঙ্গা পুলিশ। ছাতা মেলে ধরে
তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। রয়টার্স
হংকংয়ের সরকারি দপ্তরের বাইরে গতকাল রোববার গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। পুলিশ কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষের পরও রাতে কয়েক শ বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছিল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। চীনের অধীন আধা স্বায়ত্তশাসিত এ ভূখণ্ডে নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিধিনিষেধ বাতিল করার দাবিতে গণতন্ত্রপন্থীরা আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। হংকংয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিওয়াই লিউং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পাশাপাশি তিনি ‘অবৈধ’ বিক্ষোভে অংশ না নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে নির্ধারিত সময়েই হংকংয়ের নতুন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্বাচন হবে। চীনের হংকং ও ম্যাকাও-সংক্রান্ত দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, হংকংয়ের সরকার আইন অনুযায়ী যেভাবে সেখানকার বিক্ষোভ মোকাবিলা করছে, তাতে চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

নতুন আইএসআই প্রধান কি পারবেন নিরাপত্তা ফেরাতে?

রিজওয়ান আখতার
পাকিস্তানের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিজওয়ান আখতার। সন্ত্রাস দমন অভিযানের অভিজ্ঞতা আছে। পরিচিতি আছে পেশাদার সেনা বলে। তবে সংকটের ঘূর্ণিপাকে হাবুডুবু খাওয়া পাকিস্তানে তিনি কতটা নিরাপত্তা ফেরাতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রিজওয়ান আখতার কেবল ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধানই নন, পাকিস্তানের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কার্যত সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ১৯৮২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফ্রন্টিয়ার ফোর্সে (এফএফ) কমিশন পেয়েছিলেন রিজওয়ান আখতার। তিনি পদাতিক বাহিনী থেকে নিয়োগ পাওয়া আইএসআইয়ের টানা ষষ্ঠ প্রধান। রিজওয়ান আখতার কোয়েটার কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ইসলামাবাদের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির স্নাতক ডিগ্রিধারী।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার কার্লাইলের ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ থেকেও যুদ্ধবিদ্যার কোর্স করেছেন তিনি। জেনারেল আখতার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতীয় এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগর করাচিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে সাফল্য দেখিয়েছেন। এ কারণে অনেকের ধারণা, সন্ত্রাস দমনে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের উপযুক্ত মিশ্রণ ঘটেছে তঁার মধ্যে। আইএসআই প্রধান হিসেবে রিজওয়ানের নিয়োগকে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। একটি সংবাদপত্র বলেছে, ‘তিনি একজন পেশাদার যোদ্ধা।’ আরেক পত্রিকা বলেছে, ‘তিনি খুবই উঁচুমানের সেনা এবং কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ তাঁর নেই।’ বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইএসআই প্রধানের ভাবমূর্তি যত উজ্জ্বলই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে, দেশটা পাকিস্তান। এর রয়েছে সেনা অভ্যুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে তাদের প্রচ্ছন্ন প্রভাবের ধারাবাহিক ইতিহাস। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কখনোই পা দেবেন না—কোনো সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে এ ধরনের ধারণা বাস্তবে শুধু প্রত্যাশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

ক্যামেরনের আহ্বান

ডেভিড ক্যামেরন
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সমস্যার দিকে না তাকিয়ে পেছনে ফেলে তাঁর দলের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রক্ষণশীল দল সম্প্রতি কেলেঙ্কারি এবং দলত্যাগের ঘটনায় সংকটে পড়েছে।
গতকাল রোববার বার্মিংহাম শহরে অনুষ্ঠিত আগামী বছরের নির্বাচনের আগে সর্বশেষ দলীয় সম্মেলনে ক্যামেরন এই আহ্বান জানান। রক্ষণশীল দলের সভাপতি গ্র্যান্ট স্যাপস দলের সাম্প্রতিক সমস্যাকে ‘সাময়িক এবং গুরুত্বহীন’ আখ্যা দেন। গত শনিবার দলটির এক আইনপ্রণেতা ‘ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেনডেন্স পার্টি’তে যোগ দেন। এ ছাড়া এক মন্ত্রী যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। রয়টার্স

আইএসের ওপর হামলা জোরদার

ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী বিমান হামলা সম্প্রসারিত করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। সিরিয়ায় তুরস্কের সীমান্তবর্তী কুর্দি-অধ্যুষিত এলাকা কোবানিতে গত শনিবার আইএসের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এই হামলার কথা জানায়। এদিকে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী আল-নুসরা ফ্রন্ট পশ্চিমা দেশ ও তাদের সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। খবর বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের। পেন্টাগন জানায়, জোট বাহিনী শনিবার কোবানিতে প্রথমবারের মতো হামলা চালায়। এতে জঙ্গিদের দুটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়। এই এলাকায় সপ্তাহজুড়ে আইএস ব্যাপক হামলা চালায়। তাদের হুমকির মুখে এই কোবানি থেকেই কমপক্ষে দেড় লাখ উদ্বাস্তু সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এর মাধ্যমে দৃশ্যত সিরিয়ায় হামলার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো মার্কিন বাহিনীর জন্য। এদিন আইএসের প্রধান ঘাঁটি বলে কথিত রাকায়ও বিমান হামলা চলে। সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তের কয়েক শ গজের ভেতরে ওই মাঝারি ধরনের হামলা হয়।
তুরস্ক অংশে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সেখানকার কুর্দিরা এই হামলার দৃশ্য দেখে। পাহাড়ের ওপর থেকে কুর্দি যোদ্ধারাও আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ভারী মেশিনগানের গুলি বর্ষণ করে। কুর্দি যোদ্ধা মুস্তাফা এবদি বলেন, আইএসের কমান্ড পোস্ট, একটি ট্যাংক ও একটি কামান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলার পর আইএসের নিক্ষিপ্ত গোলায় কোবানির প্রধান শহরে দুজন নিহত হয়। মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান বাহিনীর সহায়তায় শনিবারের ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রতিটি বিমান অক্ষত ছিল বলে জানানো হয়। তিনটি সুন্নি প্রধান দেশই হামলায় অংশ নেয়—এ বিষয়টি জানান দিতেই এভাবে তিন আরব রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্ট মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলাকে ‘ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আল-নুসরা এক অনলাইন বিবৃতিতে পশ্চিমা ও যেসব আরব রাষ্ট্র সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ‘জিহাদিদের’ আহ্বান জানিয়েছে। উভয়েই কট্টরপন্থী হলেও আল-নুসরার সঙ্গে আইএসের বিরোধ আছে। সম্প্রতি দুটি গোষ্ঠী সংঘাতেও জড়িয়েছে। তবে শনিবার প্রথমবারের মতো আল-নুসরার মুখপাত্র আবু ফিরাস আল-সুরি সিরিয়ায় হামলার বিরোধিতা করে বিবৃতি দিলেন। আবু ফিরাস বলেন, যেসব রাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে, তারা বিশ্বব্যাপী জিহাদিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো আল-নুসরাকে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এমন কথা বলেনি। তবে আল-নুসরার সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত খোরাসান গ্রুপ নামের একটি স্বল্প পরিচিত তবে আরও ভয়ংকর হিসেবে কথিত জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে শনিবার সিরিয়ার মধ্যপন্থী বিরোধীদের জোট ফ্রি সিরিয়ান আর্মি আইএসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলাকে সমর্থন দিয়েছে। তবে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার বিরোধিতা করেছে তারা। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির হুসাম আল-মারি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধেও হামলা চালানো। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস ও একনায়কমুক্ত সিরিয়া চাই। একনায়কের শাসন ও আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে আমাদের বিশ্বের অন্যান্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা উভয় শক্তির বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছি।’ আইএসের ওপর অব্যাহত বিমান হামলার আসলে কী ফল হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, চলমান হামলায় আইএস এর নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। সমর কৌশলবিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস বলেছেন, কেবল বিমান হামলায় আইএসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন, শুধু বিমান হামলায় হয়তো কিছুদিন আইএসকে নিশ্চুপ রাখা যাবে, তবে তাদের প্রভাবাধীন এলাকায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সমন্বিত স্থল অভিযান।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘হস্তক্ষেপ’ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টাইনমেয়ার গত শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই অভিযোগ করেন। এদিন ভাষণ দেওয়া ইউরোপের অন্য কয়েকজন নেতাও ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত হস্তক্ষেপ এবং সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানে বিশ্বব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর জাতিসংঘ ওয়েবসাইটের। জাতিসংঘে শনিবার অন্যান্যের মধ্যে চীন, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রিস ও কিউবার নেতারা ভাষণ দেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টাইনমেয়ার বলেন, ‘অনেকেই মনে করতে পারেন, ইউক্রেন সংকট একটি আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব মাত্র। কিন্তু আমি মনে করি, এই সংকট আমাদের সবার ওপরই প্রভাব ফেলবে। রাশিয়া শুধু একটি দেশ নয়, তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যও বটে। তারা ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে নিজের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। একতরফাভাবে ইউরোপের মানচিত্র বদলে ফেলেছে এবং এটা করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।’ জার্মানির মন্ত্রী এই ‘বিপজ্জনক সংকেতের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই পূর্ব-পশ্চিমের পুরোনো বিভক্তিকে সমর্থন দেব না।’ তিনি এই সংকটকে শুধু ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচনা না করে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইরাক, সিরিয়া ও আফ্রিকায় চলমান পরিস্থিতিও নিছক আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব নয় বলে মন্তব্য করেন স্টাইনমেয়ার। অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান কুর্জও বলেন, ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত পরিবর্তন হয়েছে। এসবই ইউরোপের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। ...কোনোভাবেই স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতায় ফিরে যাওয়া যাবে না। রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে স্থিতিশীল অখণ্ড ইউক্রেন নিশ্চিত করতে হবে।’স্যান মেরিনোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাসকুয়েলি ভ্যালেন্টিনি সিরিয়ায় মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নিন্দা জানান। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই দিনে দেওয়া ভাষণে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউক্রেনে তাদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় পশ্চিমা হামলার নিন্দা জানান। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে লাভরভ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় চলমান সহিংসতার তদন্ত করা। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারার আহমাদ ওসমানী সহিংসতার মধ্যেও তাঁর দেশের নানা অর্জনের কথা তুলে ধরেন। এসব অর্জন ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা তাঁর ভাষণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মূলনীতি রক্ষার জন্যই সংস্কার প্রয়োজন, যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্বশান্তির নিশ্চয়তা দেবেন।

মুক্তির লড়াই দীর্ঘজীবী হোক by কাজল ঘোষ

স্কটল্যান্ডের গণভোটের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দু’টি ছবি তামাম দুনিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। একটি হাসি আর অন্যটি কান্নার। দু’টি ছবি মূর্ত হয়ে আছে পত্র-পত্রিকার পাতায় পাতায়। খুউব সঙ্গত কারণেই আমি কান্নার পক্ষে। আমার চেতনায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি। আমার জন্ম একাত্তরের পরে। এটাই বড় দুঃখ যে, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী চর্মচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি। অবশ্য যারা দেখেছেন বা যারা দেশের নেতৃত্বে আছেন অথবা যারাই যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তারা প্রত্যেক্যেই যেভাবে নিজেদের পক্ষে যায় এমনভাবে ইতিহাস রচনার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তাতে নিজের অবস্থান কি হতো তা নিয়ে প্রায়ই ভাবনার মধ্যে পড়ে যাই। বৃটেনের গণভোটের চিত্র প্রকাশের পরপরই এক বন্ধুর ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস আমার চিন্তা জগতে নানা জিজ্ঞাসার উদ্রেক করলো। স্ট্যাটাসটিতে তিনি লিখেছেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ আর বৃটেনের পক্ষে থাকতে চেয়ে ভোট দিয়েছে ৫৫ শতাংশ। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো সেখানে ৫৫ ভাগই রাজাকার। কারণ তারা তো দেশের স্বাধীনতা চায় না। এই রায় ঘোষণার পরপরই বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন স্কটিশদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই বলে, প্রজন্মের জন্য বিষয়টি সুরাহা হলো। অন্যদিকে স্কটিশ স্বাধীনতার পক্ষের দলনেতা স্যামন্ড ভোটের রায় শেষে বলেছেন, স্কটল্যান্ডের জন্য ক্যাম্পেইন শেষ হয়ে যায়নি। স্বাধীনতার স্বপ্নের কখনও মৃত্যু নেই। তারা তো কিন্তু রাজপথে সুবিধা আদায়ের আশায় পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে লড়াইয়ে নামেনি। অথচ আমাদের এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ আর মুক্তিযুদ্ধের নামে সুবিধা আদায়ের একটা নিরঙ্কুশ লড়াই চলছে গত চার দশক ধরেই। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভুয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটে সচিব হয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেয়ার তালিকা দেখলেই এটা টের পাওয়া যায়। তারচেয়ে দুঃখজনক অপরাধী চিহ্নিত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাই যখন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে যুক্ত হন। দেশে ফিরে দম্ভোক্তি করে নিজের ভালমানুষির সাফাই গাইতে থাকেন।
আমাদের এখানে খুব পুরনো কথা, এটা সব সম্ভবের দেশ। আসলেই তাই। এখানে রাজাকাররা গাড়িতে পতাকা ওড়াতে পারেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পদে বসতে পারেন। ফিরে যাই অনেক পেছনে। শ’ শ’ বছর পেছনে। যেখানে উইলিয়াম ওয়ালেস বৃটেনের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দেননি। মৃত্যুমুখে পতিত হয়েও ফ্রিডম বলে চিৎকার করেছেন। ১৯৯৫ সালে মেল গিবসনের ‘ব্রেভহার্ট’ ছবিটি মুক্তি পেলে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা না পাওয়ার যন্ত্রণা বিশ্বজুড়েই হইচই ফেলে দেয়। মুক্তির পক্ষে, স্কটিশদের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা অকুতোভয় সেই সেনাকে যেভাবে বৃটিশ রাজন্যবর্গ হত্যা করেছিল তা বিশ্বব্যাপী মুক্তির পক্ষের মানুষদের প্রতিবাদে শামিল করেছে। বলা হয়ে থাকে, স্কটল্যান্ডের গণভোটের এই ব্যবস্থার পেছনে মেল গিবসনের ‘ব্রেভহার্ট’ বড় রকমের ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকায় ছবিটি এলে তারুণ্যের ঢেউ লেগেছিল এই ছবিটি দেখতে। মধুমিতায় লাইন দিয়ে টিকিট নিতে বেগ পেতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা দলে দলে ছবিটি দেখতে হলমুখো হয়েছিল। মনে পড়ে, মল্লিকা হলে ছবিটির শেষ দৃশ্যে যখন উইলিয়াম ওয়ালেসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছিল তখন উইলিয়ামের ‘ফ্রিডম’ চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে এক যুবক ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠেছিল।
স্কটল্যান্ডের গণভোটের পর আবারও সেই দৃশ্যগুলো দেখছিলাম কি তীব্র মুক্তি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়েছিল উইলিয়ামের নেতৃত্বে একদল স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ। স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও ফলকার্কে তখন বিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতার দাবি তীব্র হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যা দেখা দেয় নেতৃত্বে সেখানে উইলিয়াম ওয়ালেস তার উদাত্ত আহ্বান নিয়ে এগিয়ে আসে মুক্তির সংগ্রামে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই শুরু করে। ফলকার্কের ময়দানে সেই লড়াইয়ে উইলিয়াম আহ্বান রেখেছিল এই বলে-
I see a whole army of my countrymen
here in difience of tyranny.
you come to fight of free men.
and freemen you are...
for one chance... just one chance...
come back here and tell our enemies
that they may take our lives,
but you will never take our freedom!
ফলকার্কের শেষ যুদ্ধ পরাজয় বরণ করে মুক্তিপ্রেমী স্কটিশ যোদ্ধারা। বৃটিশ সেনারা আটক করে উইলিয়ামকে এবং শেষ বিচারের মুখোমুখি করে। শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত উইলিয়াম পরাজয় মেনে নেয়নি। তার ফ্রিডম ফ্রিডম বলে চিৎকার স্কটল্যান্ডের আকাশে-বাতাসে আজও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
স্কটল্যান্ড আইন সংশোধন করে ইংল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ৩৬০ বছর পর স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটে গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এই গণভোট নিয়ে লিখেছে, স্বাধীনতার পথে যাওয়ার বিতর্ক ও ভোটাভুটির পুরোটাই ছিল সভ্য, শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক আলাপ- আলোচনার মধ্যে সীমিত। আর আমাদের এখানে যে কোন বিষয়ে গালমন্দ আর রাজপথের ভাঙচুরই যেন সমাধান। স্বাধীনতার চার দশকেও আমরা একটি সঠিক তালিকা করতে পারিনি কারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। ঠিক যেমনটি আমাদের এখানে কারা ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী তারও তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আর সার্টিফিকেটে যে দেশের মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারিত হয় তা কতটা দেশাত্মবোধের চেতনা থেকে যুদ্ধ অথবা স্বাধীনতা অর্জনের পর সুবিধা প্রাপ্তির আশা এটা বড় করে দেখা দেয়। বিপ্লবী চে গুয়েভারা ছিলেন জাত বিপ্লবী। কোনও সুবিধা প্রাপ্তি বা মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তির জন্য বিপ্লব করেননি। যেখানে যে দেশে পরাধীনতা সেখানেই লড়তে ছুটে গেছেন। যেভাবে উইলিয়াম ওয়ালেস। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। দেশের প্রশ্নে, স্বাধীনতা প্রশ্নে, মানুষের মুক্তির প্রশ্নে কারও কাছে নিজেদের বিকিয়ে দেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় যাদের পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে তাদের মানুষ ছুঁয়ে দেখে পবিত্র বলে। আর আমাদের এখানে প্রতিদিনই নতুন নতুন পদ্ধতিতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। সুবিধাভোগীরা সব আমলেই এক রকম। পাকিস্তান আমলেও সুবিধা নিয়েছে তারা। এখনও যুক্ত আছে সুবিধা নেয়ার ধান্দায়। এ দেশে যেন ধান্দারই জয়। ধান্ধাবাজেরাই যেন সব।
২৯শে সেপ্টেম্বর